Thursday, August 26, 2010

মাহে রমজানে সদাচরণ ও পরোপকারিতা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজানের রোজা পালন বা সিয়াম সাধনা মুসলমানদের পারস্পরিক ইহসান, পরোপকারিতা, সহানুভূতি ও অপরের প্রতি সহমর্মিতা ও মমত্ববোধ প্রকাশ করার শিক্ষা দেয়। ‘ইহসান’ শব্দের আভিধানিক অর্থ সুন্দর ব্যবহার, উত্তম আচরণ, ভালোভাবে সম্পাদন, কষ্ট লাঘব প্রভৃতি। ইসলামের পরিভাষায় কারও সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করা, তার উপকার সাধন করা এবং তার প্রতি উদার আচরণ করার নামই ইহসান। মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা, স্নেহ-মায়া-মমতা, ভালোবাসা, সৌজন্য, দয়া-দাক্ষিণ্য ও বদান্যতা প্রদর্শন করাকে ইহসান বা পরোপকারিতা বলা হয়। এ ছাড়া আল্লাহ তাআলার প্রতি ও তাঁর সৃষ্টির প্রতি কর্তব্য উত্তমরূপে সম্পাদন করাও ইহসান। এই ইহসান মানবচরিত্রের অমূল্য সম্পদ। ইহসান ও পরোপকারিতা মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাতের মর্যাদা দান করেছে। ইহসানের মতো মহৎ গুণ ব্যতীত প্রকৃত ঈমানদার হওয়া যায় না। ইবাদতের চূড়ান্ত পর্যায় হলো ইহসান। রমজান মাসে মাসব্যাপী রোজার প্রশিক্ষণ মানুষকে পুণ্য ও ইহসানের দিকে পরিচালিত করে। ধনী রোজাদার ব্যক্তি রোজা রাখার মধ্য দিয়ে গরিবের ক্ষুৎপিপাসার জ্বালা, দুঃখ ও বেদনা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারেন। রোজার দ্বারা গরিব, দুঃখী ও অভাবী মানুষের প্রতি ভ্রাতৃত্ব ও মমত্ববোধ সৃষ্টি হয়। ফলে প্রকৃত রোজাদার মুমিন বান্দার অন্তর বিগলিত হয়ে যায় এবং তিনি দরিদ্রের প্রতি ইহসান বা দয়া প্রদর্শন করেন।
রোজা এমন একটি বাধ্যতামূলক নিয়মতান্ত্রিক ইবাদত, যা ধনী-গরিব সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করে এবং এতে সামাজিক একতা প্রকাশ পায়। সবাই একসঙ্গে ক্ষুধা-তৃষ্ণার যন্ত্রণা অনুভব করে এবং পারস্পরিক অনুভূতির দ্বারা দয়া-মায়া ও সহানুভূতি বৃদ্ধি পায়। আর দয়া-দাক্ষিণ্য ও পরোপকারিতা থেকে মানুষের মধ্যে ন্যায়পরায়ণতা অর্জিত হয় এবং ধনী রোজাদার ব্যক্তি গরিব-দুস্থদের সাহায্য-সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পারস্পরিক স্নেহ-মমতা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার দিক থেকে ঈমানদারদের উদাহরণ হলো একটি দেহের মতো। এর একটি অঙ্গ যদি ব্যথাপ্রাপ্ত হয়, তাহলে সারা দেহ অনিদ্রা ও জ্বরে কাতর হয়ে পড়ে।’ (মুসলিম)
ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে ইহসানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। মাহে রমজানে রোজা মানুষকে পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, অতিথি, দুস্থ, এতিম সবার সঙ্গে পরোপকার, সহানুভূতি ও অপরের প্রতি মমত্ববোধ ও সৌজন্যমূলক আচরণ করার শিক্ষা দেয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ইহসান কর, কেননা আল্লাহ ইহসানকারীদের ভালোবাসেন।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৯৫) আল্লাহ তাআলা আরও সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘তোমরা পিতা-মাতার সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করবে, নিকট আত্মীয়দের, এতিম-মিসকিনদের, নিকটস্থ প্রতিবেশী ও দূরবর্তী প্রতিবেশীদের, বন্ধুবান্ধব ও পথিকদের প্রতিও সুন্দর ব্যবহার করবে।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩২)
ইহসানের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। ইহসান অবলম্বনকারী রোজাদার ব্যক্তিদের আল্লাহ পছন্দ করেন। তাই মানবজাতির সার্বিক কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইহসান ও পরোপকারিতার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব, সে জন্য মাহে রমজানের মতো অন্যান্য সময়ও স্বীয় ধন-সম্পদ, টাকা-পয়সা, জ্ঞানবুদ্ধি, শারীরিক শক্তি, মুখের কথা দ্বারা, মোটকথা যেকোনো উপায়ে মানুষ একে অন্যের প্রতি ইহসান প্রদর্শন করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে। সমাজে যদি একে অপরের প্রতি ইহসান ও দয়া প্রদর্শন করা না হয়, তাহলে অশান্তি সৃষ্টি হবে। মানবসমাজ ছাড়াও প্রাণী, উদ্ভিদ, কীট-পতঙ্গের প্রতিও ইহসান করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা পৃথিবীর অধিবাসীদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করো, তাহলে আকাশের অধিবাসী (আল্লাহ) তোমাদের প্রতি ইহসান করবেন।’ (তিরমিজি)
ইহসান ও পরোপকারিতার মাধ্যমে রোজাদার ব্যক্তির মানসিক ও নৈতিক চরিত্রের উন্নতি হয়। আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে সিয়াম সাধনার জন্য ইহসান দরকার। ইহসানই মানুষকে সৃষ্টিজগতের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে। মাহে রমজান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশা করলে অবশ্যই নিঃস্ব-নিরীহ দারিদ্র্যপীড়িত শ্রমজীবী মানুষের প্রতি ইহসান করা বাঞ্ছনীয়। তাই রমজান মাসে রোজাদারদের অধীনস্থ কর্মচারী, চাকর-বাকরদের দায়িত্ব ও কাজের বোঝা কমিয়ে দেওয়া উচিত। তাদের প্রতি সাধ্যাতীত কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া অনুচিত ও অমানবিক। কারণ এতে তাদের রোজা রাখতে কষ্ট হতে পারে। তাই কঠিন ও সাধ্যাতীত কাজের বোঝা চাপিয়ে যাতে তাদের অধিক কষ্ট দেওয়া না হয়, এ দিকটি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। রমজান মাসে অধস্তনদের প্রতি ইহসান করলে সে দয়া-মায়া প্রদর্শন কিয়ামতের দিন তার জন্য মুক্তির কারণ হবে। মাহে রমজানে ইহসান ও পরোপকারিতার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা ইহকাল ও পরকালে অশেষ কল্যাণ দান করবেন। পবিত্র কোরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘উত্তম কাজের জন্য উত্তম পুরস্কার ছাড়া আর কী হতে পারে?’ (সূরা আর-রাহমান, আয়াত: ৬০)
রমজান মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে রোজাদার ব্যক্তির মধ্যে ইহসান ও পরোপকারিতার মতো তাকওয়া, সবর, আদল প্রভৃতি সদ্গুণাবলি সৃষ্টি হয়ে থাকে। স্বভাবতই মানুষ একে অপরের স্নেহ, মায়া, মমতা ও ভালোবাসা লাভ করতে চায়। মানুষ পারস্পরিক ইহসান প্রদর্শনের মাধ্যমে অন্যের স্নেহ ও ভালোবাসা লাভ করতে পারে। পক্ষান্তরে মানুষ যদি একে অপরের প্রতি দুর্ব্যবহার, গালমন্দ, পরচর্চা, পরনিন্দা, অসদাচরণ করে, তাহলে ভালোবাসা অর্জনের পরিবর্তে তিক্ততার সৃষ্টি হয়। সামাজিক অনাচার, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা রোধে পরোপকারের কোনো বিকল্প নেই—এটাই ইসলামের মহান শিক্ষা। তাই হাদিসে বলা হয়েছে, রোজা একটি ঢালের ন্যায়। সুতরাং যে ব্যক্তি রোজা পালন করবে, ঝগড়া-বিবাদ থেকে তার বিরত থাকা উচিত। কেউ তাকে গালিগালাজ করলে বা তার সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করতে উদ্যত হলে পরিষ্কারভাবে তার বলে দেওয়া উচিত, ‘আমি রোজাদার’।
এভাবে মাহে রমজান আমাদের ইহসান ও পরোপকারিতার শিক্ষা দেয়। পরোপকার রোজাদার মুমিন বান্দার অন্যতম সৎগুণ। সে গুণটির সমাজে বড়ই অভাব দেখা যায়। রোজার বরকতে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও মমত্ববোধ এবং পারস্পরিক হূদ্যতা সৃষ্টি হয়। মাহে রমজানে পরোপকারী ও ইহসানকারী যে শুধু অপরের উপকার সাধন করেন তা-ই নয়, বরকত দ্বারা তিনি নিজেও উপকৃত হন। কেননা ইহসান করলে পরস্পরের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। সমাজে সবাই মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা যদি (অপরের প্রতি) ইহসান (উপকার) কর, তাহলে যেন তোমাদের নিজেদের প্রতিই ইহসান করলে, আর যদি তোমরা অপরের অনিষ্ট সাধন কর, তাহলে তোমাদেরও অনিষ্ট হবে।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৭)
সুতরাং মাহে রমজানে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসা লাভ এবং সমাজে সুখ-শান্তি, স্নেহ-মায়া-মমতা ও সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক ইহসান ও পরোপকারিতার মহৎ গুণটি আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার মধ্যে দান করুন। যাঁরা এ সাধনায় রত থাকেন, তাঁরা একদিকে যেমন আল্লাহর ইবাদতের স্বাদ লাভ করতে সক্ষম হন, অন্য দিকে আল্লাহর বান্দাদের প্রতিও অত্যন্ত সহানুভূতিশীল হয়ে থাকেন। রোজাদারদের যাঁর যেমন সামর্থ্য, আসুন তাই নিয়ে সাধ্যমতো এতিম-মিসকিনদের পাশে দাঁড়াই। সমাজের সহায়-সম্বলহীন বাস্তুহারা মানুষগুলোর দিকে সাহায্যের হাত বাড়াই। আমরা যাঁরা অবস্থাসম্পন্ন এবং নিরাপদে আছি চলুুন, সব রোজাদার মিলেমিশে দেশের অসহায় ছিন্নমূল হতদরিদ্র মানুষের প্রতি ইহসান ও পরোপকার করে তাদের দুর্দশা লাঘবে এগিয়ে যাই।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com

মেক্সিকোর নাভারেত নতুন ‘মিস ইউনিভার্স’

জিমেনা নাভারেত
আমি চাই গোটা বিশ্ব আমার দেশ ও দেশের মানুষের কথা জানুক’, ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় ৮২ জন প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে বিজয়মুকুট লাভের পর এ কথা বলেন মেক্সিকোর সুন্দরী জিমেনা নাভারেত। গত সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের লাসভেগাসে জাঁকালো পরিবেশে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রথম রানারআপ হন মিস জ্যামাইকা ইয়েন্দি ফিলিপস এবং দ্বিতীয় রানারআপ হন মিস অস্ট্রেলিয়া জেসিনটা ক্যাম্পবেল।
নাভারেত দ্বিতীয় মেক্সিকান যিনি মিস ইউনিভার্স হলেন। এর আগে প্রথম মেক্সিকান হিসেবে ১৯৯১ সালে লুপিতা জোনস মিস ইউনিভার্স হয়েছিলেন।
চুনি-লাল সান্ধ্যপোশাক পরা নাভারেতকে (২২) জয়ী ঘোষণা করা হলে তিনি বেশ অবাকই হয়েছিলেন। এ ব্যাপারে মেক্সিকোর গুয়াদালাজারার বাসিন্দা নাভারেত বলেন, ‘আমি তখন অবাক হয়ে যাই। একেবারে বিমূঢ় হয়ে পড়ি। আমার মনে কোনো অনুভূতি কাজ করছিল না। এটি ছিল স্রেফ বিস্ময়ের ধাক্কা।’
কালোকেশী, শ্যামাঙ্গী নাভারেতের এমনটি হওয়ারই কথা। অভিজ্ঞজনেরা কেউ তাঁকে ধর্তব্যের মধ্যেই আনেননি। তাঁরা ভেবেছিলেন, প্রতিযোগিতায় মিস আয়ারল্যান্ড, মিস ভেনেজুয়েলা বা মিস যুক্তরাষ্ট্র—এই তিনজনের মধ্যে কেউ সেরা সুন্দরীর মুকুট পরবেন। কিন্তু বাস্তব ঘটনা কল্পনাকে হার মানিয়েছে।
মিস ইউনিভার্স হওয়া পর্যন্ত এতটা পথ আসার ক্ষেত্রে উজ্জ্বল পটভূমি রয়েছে নাভারেতের। ১৫ বছর বয়স থেকে তিনি মডেলিংয়ের সঙ্গে জড়িত। কাজেই শোবিজের আলোঝলমল ভুবনের সঙ্গে ভালো করেই পরিচিত তিনি।
সেরা সুন্দরীর মুকুট জয়ের বিস্ময়ের ধাক্কা সামলে নাভারেত যখন নিজের মাঝে ফিরে আসেন, তখন তিনি বলেন, ‘আমি কল্পনায় দেখতে পাচ্ছি, মেক্সিকোয় এই মুহূর্তে সব মানুষ আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছে। নিজেকে আমি খুব গর্বিত মনে করছি। আমি নিশ্চিত, আমার দেশের মানুষও এতে গর্ববোধ করছে।’
নাভারেতের এই কৃতিত্বের ব্যাপারে অনুভূতি জানাতে গিয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ফেলিপ ক্যালদারন বলেন, ‘তাঁর এই বিজয় মেক্সিকোর সব মানুষের জন্য গর্ব ও তৃপ্তি নিয়ে এসেছে।’
মিস ইউনিভার্স হয়ে নাভারেত হিরায় খচিত মুকুট ছাড়া আরও যেসব পুরস্কার পাচ্ছেন তা হলো, নিউইয়র্ক ফিল্ম একাডেমির এক বছরের বৃত্তি এবং বিনা মূল্যে এক বছর পোশাক, জুতা ও চুলের সজ্জার বিভিন্ন উপকরণ।
জিমেনা নাভারেত ১৯৮৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মেক্সিকোর জালিসকো রাজ্যের গুয়াদালাজারায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উচ্চতা এক দশমিক ৭৪ মিটার (পাঁচ ফুট সাড়ে আট ইঞ্চি)। দেশে তিনি প্রতিষ্ঠিত জনপ্রিয় মডেল।

কঙ্গোতে জাতিসংঘ ঘাঁটির কাছে ২০০ নারী গণধর্ষণের শিকার

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর বিদ্রোহীরা হামলা চালিয়ে প্রায় ২০০ জন নারীকে গণধর্ষণ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সেখানে দায়িত্বরত সাহায্যকর্মীরা এ কথা জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের মুখপাত্র স্টেফানিয়া ট্রাসারি বলেছেন, উত্তর কিভু প্রদেশের লুভুঙ্গি শহরে গত ৩০ জুলাই রুয়ান্ডার হুতু বিদ্রোহী এফডিএলআর এবং পূর্ব কঙ্গোর মাই মাই গেরিলারা যৌথভাবে হামলা চালায়। তারা চার দিন ধরে ওই শহরের নিয়ন্ত্রণ রাখে। এ সময় তারা গণহারে নারীদের ধর্ষণ ও শিশুদের বলাৎকার করে। এলাকাটি জাতিসংঘের একটি শান্তি ঘাঁটি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে থাকা সত্ত্বেও তাঁরা আগেভাগে এ বর্বরতার খবর পাননি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চীনে আর্থিক অপরাধের দায়ে আর ফাঁসি নয়

ড় ধরনের আর্থিক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তির ব্যবস্থা করছে চীন সরকার। এই অপরাধের জন্য সেখানে আর কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে অবস্থানরত চীনের কয়েক শ সাবেক কর্মকর্তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে।
চীন সরকারের দায়ের করা দুর্নীতির মামলা থেকে রক্ষা পেতে শত শত কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমের দেশগুলোতে পালিয়ে যান। আশ্রয়দাতা দেশগুলোর সরকার ভেবেছিল, ওই কর্মকর্তারা স্বদেশে ফিরে গেলে তাঁদের ফাঁসিতে ঝোলানো হবে।
চীন সরকারের নতুন গৃহীত পদক্ষেপ বিদেশের সরকারগুলোকে নতুন করে আশ্বস্ত করেছে, ওই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আর বড় কোনো শাস্তি পেতে হবে না। মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আনতে দেশটির পার্লামেন্ট ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে একটি সংশোধনী আনছে।

ইরাকের তেলসম্পদ নিরাপত্তার সংকটে

ইরাকের তেলক্ষেত্রগুলো মারাত্মক নিরাপত্তার সংকটে পড়েছে। এ মাসের ৩১ তারিখে মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার পর তেলক্ষেত্রগুলোকে পরিপূর্ণ নিরাপত্তা দিতে দেশটির পর্যাপ্ত প্রশাসনিক ও কারিগরি ক্ষমতা নেই। গত সোমবার বাগদাদের উত্তরাঞ্চলীয় সালাহেদ্দীন প্রদেশের সাইনিয়াহ্ এলাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত একটি তেল কোম্পানির পাঁচ কর্মচারীকে হত্যা করে ওই কোম্পানির প্রায় ৪৫ কোটি ৩০ লাখ ইরাকি দিনার (প্রায় তিন লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার) লুট করে নিয়ে গেছে বন্দুকধারীরা।
সম্প্রতি তেলক্ষেত্রগুলোয় আল-কায়েদা হামলার হুমকি দেওয়ায় নতুন করে এগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ইরাকে পুলিশ বাহিনী পুনর্গঠনের দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল হামিদ ইব্রাহিম বলেছেন, ‘ইরাকে পুলিশের সদস্যসংখ্যা হওয়া উচিত ৪১ হাজার, অথচ আমাদের প্রায় ১০ হাজারের মতো লোকবলের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির জন্য তেলক্ষেত্রগুলোর নিরাপত্তা দিতে আমাদের বেসামরিক দায়িত্বে থাকা মিলিশিয়াদের ভাড়া করতে হচ্ছে। এই মিলিশিয়াদের রয়েছে মাত্র দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ।’

বন্যা নিয়ে জারদারি রাজনৈতিক সংকটে

প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সরকার নতুন করে সংকটে পড়েছে এবং বন্যা মোকাবিলায় রাজনৈতিক নেতারা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ব্রিটেনে নির্বাসিত মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টের (এমকিউএম) নেতা আলতাফ হুসেইন করাচিতে অবস্থানরত সমর্থকদের উদ্দেশে টেলিফোনে এসব কথা বলেন।
এদিকে বন্যার দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পাকিস্তানের বছরখানেক লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জারদারি। সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এ কথা বলেছেন। আইএমএফের কাছ থেকে পাকিস্তানের এক হাজার ১০০ কোটি ডলার ঋণ-সহায়তা প্যাকেজ পাওয়ার আলোচনা চলছে।
এমকিউএমের নেতা আলতাফ হুসেন বলেছেন, পাকিস্তানে জারদারির সরকার নতুন করে সংকটে পড়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সামরিক আইনের মতো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের এই দুর্যোগের দিনে যারা বন্যার কবল থেকে নিজেদের শস্য বাঁচানোর জন্য পানির গতিপথ দরিদ্র গ্রামগুলোর দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।
পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় অধিকাংশ নেতাই উত্তরাধিকারসূত্রে জমিদার। হুসেন বলেন, বন্যার অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ফরাসি বিপ্লবের আদলে নেতাদের ওই জমিগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁর এসব মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির জন্য অস্বস্তিকর, কারণ পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রধানমন্ত্রীর পিপলস পার্টিকে এমকিউএমের ২৫ জন সদস্যের সমর্থন নিতে হয়েছে।
বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ভূমিকা যেখানে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে, সেখানে জারদারি ও গিলানির সরকার ক্রমাগত সমালোচিত হচ্ছে।
পাকিস্তানে বেসরকারি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের প্রধান সাবেক জেনারেল নাদিম আহমেদ পিপিপির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতার আচরণে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নেতারা প্রথমে তাঁদের দলীয় কর্মীদের ত্রাণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করছেন।
একজন সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ হিসেবে আলতাফ হুসেইনের দুর্নাম থাকলেও তাঁর দলের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার বিষয়টি সুবিদিত। গত ১০ বছর থেকে জোটবদ্ধ হয়ে দলটি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে।
এদিকে সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেন, দেশটির অর্থনীতিতে যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা কাটিয়ে উঠতে বছরখানেক লাগবে।

চতুর্থ সন্তানের জনক হলেন ক্যামেরন

চতুর্থবারের মতো বাবা হলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কর্নওয়ালে তাঁর স্ত্রী সামান্থা ক্যামেরন কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র জানান, মেয়েশিশুটি দুই কেজি ৭০০ গ্রাম ওজন নিয়ে জন্মেছে। মা ও শিশু দুজনই ভালো আছে। শিশুর নাম এখনো রাখা হয়নি। ক্যামেরন দম্পতির ন্যান্সি (৬) ও আর্থার (৪) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। তাঁদের প্রথম সন্তান ইভান গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ছয় বছর বয়সে মারা যায়। সে সেরিব্রাল পালসিতে ভুগছিল।

‘পাকিস্তানকে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে’

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, পাকিস্তানকে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র পি জে ক্রাওলি বলেন, আফগানিস্তানের সঙ্গেও পাকিস্তানের গঠনমূলক সম্পর্ক অবশ্যই প্রয়োজন।
ক্রাওলি বলেন, হারজিৎ বা জয়-পরাজয়ের চিন্তা না করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো আরও সক্রিয়ভাবে একত্রে কাজ করলে তা সন্ত্রাস দমনেও সুফল বয়ে আনবে।
পাকিস্তানের আইএসআই ভারতকে সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করে না, কিন্তু অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে প্রধান হুমকি বলে মনে করে—সম্প্রতি গণমাধ্যমের এ ধরনের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ক্রাওলি এসব কথা বলেন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত দাবি চীনের

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় হংকংয়ের আটজন পর্যটক নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে চীন। এদিকে হংকংয়ের লোকজনকে অবিলম্বে ফিলিপাইন ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। হংকংয়ের সঙ্গে সংহতির নিদর্শন হিসেবে আজ বুধবার ফিলিপাইনে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হবে।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং জিয়েচি গতকাল মঙ্গলবার বলেন, এ ঘটনায় তাঁর সরকার ‘মর্মাহত’ এবং উদ্বেগ প্রকাশ করার জন্য তিনি ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবার্টো রোমুলোকে টেলিফোন করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে আগাগোড়া তদন্ত শুরু করার জন্য ও যত শিগগির সম্ভব চীনকে এ সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করার জন্য ফিলিপাইন সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছে চীন।
এ ঘটনায় হংকংয়ের জনগণ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফিলিপাইনের পুলিশকে ‘অযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করে পুলিশ বাহিনীর তীব্র নিন্দা করেছে গণমাধ্যমগুলো।
চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে এম-১৬ রাইফেল ও পিস্তলসজ্জিত বরখাস্তকৃত পুলিশ-কর্মী রোলান্ডো মেনডোজা (৫৫) হংকংয়ের ২১ জন পর্যটকসহ আরও কয়েক ব্যক্তিকে বহনকারী একটি বাস জিম্মি করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই বন্দুকধারীকে হত্যা করে। কিন্তু তার আগেই আট পর্যটককে গুলি করে হত্যা করেন বন্দুকধারী।
এদিকে হংকংয়ের লোকজনকে যত শিগগির সম্ভব ফিলিপাইন ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।
হংকংয়ে ফিলিপাইনের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন একদল লোক। হংকংয়ের সঙ্গে সংহতির নিদর্শন হিসেবে আজ বুধবার ফিলিপাইনে জাতীয় শোক দিবস পালনের ঘোষণা করেছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট বেনিগনো অ্যাকুইনো।

ভারতের মাওবাদীদের হিট লিস্ট, শীর্ষে চিদাম্বরম

সিপিআই মাওবাদী দলের পলিটব্যুরোর সদস্য ও দলের মুখপাত্র আজাদের মৃত্যুর বদলা নিতে এবার মাওবাদীরা ১২ জনের একটি ‘হিট লিস্ট’ তৈরি করেছে। এই হত্যার তালিকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম শীর্ষে রয়েছেন বলে ভারতের গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঝাড়খন্ডে প্রায় ৫০০ মাওবাদীর গোপন বৈঠকে এই ‘হিট লিস্ট’ তৈরি করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থা আইবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ তালিকাবিষয়ক একটি প্রতিবেদন পেশ করার পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
তালিকায় ভারতের ১২ জন শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক ও আমলার নাম রয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল এম কে নারায়ণন ও স্বরাষ্ট্র সচিব জি কে পিলাইও রয়েছেন। মাওবাদীরা ঘোষণা করেছে, এই তালিকায় থাকা কাউকে মারতে পারলে ঘাতককে ১৫ লাখ রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

‘যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত মিত্র হিসেবে ভুল দেশকে নির্বাচন করেছে’

তালেবানবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত মিত্র হিসেবে ভুল দেশকে (পাকিস্তান) নির্বাচন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এমন দেশকে নির্বাচন করেছে, যারা নিজেরাই সন্ত্রাসবাদকে লালন করছে। গত সোমবার প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে আফগানিস্তানের নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা দাদফার স্পান্তা পাকিস্তানের প্রতি ইঙ্গিত করে এ অভিযোগ করেছেন।
দাদফার স্পান্তা বলেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। ওই অঞ্চল থেকে সৃষ্ট সন্ত্রাসবাদ ভারত, ব্রিটেনসহ অন্যান্য দেশকে আক্রান্ত করছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। এদিকে দুই দিনের সফরে গতকাল মঙ্গলবার ভারতে পৌঁছানোর কথা আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জালমি রাসুলের।
মার্কিন পত্রিকাটিতে দাদফার লিখেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান অব্যাহতভাবে তালেবানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এতে আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর তালেবানবিরোধী অভিযান কার্যকর হচ্ছে না। মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে আফগানিস্তানে মোতায়েন করা হয়েছে সেখানকার চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দমনে। এই লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত মিত্র হিসেবে ভুল দেশকে নির্বাচন করেছে।
এর আগে রোববার আরেকটি প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত জানুয়ারিতে আফগান তালেবান গোষ্ঠীর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবদুল গনি বরদারকে সিআইএর সহায়তায় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই গ্রেপ্তার করে। ওই গ্রেপ্তারের মূল উদ্দেশ্য ছিল আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানের চলমান শান্তি আলোচনা থামিয়ে দেওয়া। এতে তারা সফল হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দাদফারের ওই কলাম সম্পর্কে গতকাল পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার সঙ্গে দাদফার স্পান্তার ওই মন্তব্য সংগতিপূর্ণ নয়। এটি তাঁর ব্যক্তিগত মত। তাঁর লেখায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে।

বসতি নির্মাণ বন্ধ না করলে কোনো শান্তি আলোচনা নয়

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ইসরায়েল পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণ বন্ধ না করলে তিনি আসন্ন শান্তি আলোচনা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে লেখা এক চিঠিতে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। মাহমুদ আব্বাস একই ধরনের চিঠি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ ও রাশিয়ার কাছেও পাঠিয়েছেন। ফিলিস্তিনের প্রধান আলোচক সায়েব এরাকাত গত সোমবার এ কথা জানিয়েছেন।
সায়েব এরাকাত জানান, প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাকে লেখা চিঠিতে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ইসরায়েল পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণ অব্যাহত রাখলে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয়। ওয়াশিংটনে আগামী সপ্তাহে এ আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বড় ধরনের মতৈক্য থাকলেও শান্তি আলোচনার সফলতা নিয়ে দুই পক্ষই মোটামুটি আশাবাদী।
ইসরায়েল ১০ মাস বন্ধ রাখার পর সম্প্রতি পশ্চিম তীরে আবার বসতি নির্মাণ শুরু করেছে। ইসরায়েল অবশ্য বলেছে, তারা পশ্চিম তীরে বসতি আর সম্প্রসারণ করবে না। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিরা শান্তি আলোচনা ভুণ্ডুলের চেষ্টা করছে। এ মুহূর্তে আলোচনা শুরু করাটাই বড় কথা।

২০১৩ অ্যাশেজ পর্যন্ত নিলসন

ইংল্যান্ডের মাটিতে অধিনায়ক হিসেবে অ্যাশেজ জয়ের সাধটা পূরণ করতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত খেলতে চান রিকি পন্টিং। অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, সেটা সময়ই বলবে। তবে ২০১৩ সালে ইংল্যান্ড যাওয়াটা নিশ্চিত হয়ে গেছে টিম নিলসনের। অস্ট্রেলিয়া কোচের চুক্তির মেয়াদ ২০১৩ অ্যাশেজ পর্যন্ত বাড়িয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। কুইন্সল্যান্ডে অস্ট্রেলিয়া অনুশীলন ক্যাম্পে নিলসনের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর খবরটি জানানো হলে চিৎকার করে স্বাগত জানান ক্রিকেটাররা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেললেও সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান নিলসন দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন ১০১টি। ২০০৭ বিশ্বকাপের পর জন বুকাননের কাছ থেকে অস্ট্রেলিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর সময়ে ৩৬ টেস্টের ২০টি, ৮৮ ওয়ানডের ৫৭টি ও ৩৩ টি-টোয়েন্টির ১৮টি জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয়বারের মতো জিতেছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, রানার্সআপ হয়েছে বছরের শুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। নিলসনের চুক্তি বাড়ানোকে স্বাগত জানিয়েছেন রিকি পন্টিং। আর নিলসন জানিয়েছেন নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রত্যয়। ওয়েবসাইট।

এক টেস্টের বদলে তিনটি ওয়ানডে

বিশ্বকাপের হাওয়া বেশ ভালোভাবেই বইতে শুরু করেছে ক্রিকেট বিশ্বে। সেই হাওয়ার জোর এতটাই যে, পাল্টে যাচ্ছে আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামও। অক্টোবরের বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের একমাত্র টেস্টটি বাদ দিয়ে ওয়ানডে বাড়ানো হয়েছে। দুই বোর্ডের সম্মতিতে এবার পাল্টে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সূচিও। একটি টেস্ট কমিয়ে ডিসেম্বর-জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির সিরিজে ওয়ানডে বাড়ানো হয়েছে তিনটি!
আগের সূচিতে তিনটি টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি টেস্ট এবং ওয়ানডেও ছিল তিনটি করে। এখন টেস্ট হবে দুটি, ওয়ানডে ছয়টি। ‘বক্সিং ডে’ (২৬ ডিসেম্বর) অকল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে সিরিজ। এরপর ৭ জানুয়ারি থেকে টেস্ট সিরিজ। প্রথম টেস্ট হ্যামিল্টনে, পরেরটি ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে। ওয়েলিংটনেরই আরেক স্টেডিয়াম ওয়েস্টপ্যাকে ২২ জানুয়ারি শুরু ওয়ানডে সিরিজ। কুইন্সটাউন, ক্রাইস্টচার্চ, নেপিয়ার, হ্যামিল্টন ও অকল্যান্ডে হবে বাকি ম্যাচগুলো। সিরিজ শেষ হবে ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু বিশ্বকাপ। ওয়েবসাইট।
বন্যার্তদের সাহায্যার্থে পাকিস্তান সফর করতে চায় নিউজিল্যান্ড, পিসিবির এমন দাবি অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। পিসিবির কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী জাস্টিন ভনের একটি ই-মেইলে নাকি এমন কিছুর ইঙ্গিত পেয়েছিলেন তাঁরা। তবে পাকিস্তান সফরের ইচ্ছার কথা আরও একবার জানিয়েছে জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সিরিজ আয়োজনে সবচেয়ে বড় বাধা পাকিস্তানের ঠাসা সূচি।

এবারও পেসাররা পুলের শিকলে

ক্লাব ক্রিকেটের দলবদলে বরাবরই উপেক্ষিত থাকেন পেসাররা। গতবার তাই জোরেশোরেই উঠেছিল পেসারদের পুলের বাইরে রাখার ব্যাপারটি। সিসিডিএম থেকে এমনও শোনা গিয়েছিল, পেসারদের দল পেতে সুবিধা করে দিতে এবার হয়তো তাঁদের রাখা হবে পুলের বাইরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি, পেসারদের রেখেই কাল ঘোষিত হলো ২০১০-১১ মৌসুমে পুলের ২২ ক্রিকেটারের নাম।
পেসারদের পুলের বাইরে না রাখার কারণ হিসেবে কাল সিসিডিএমের সমন্বয়ক কাজী আইনুল ইসলাম বলেছেন, ‘অনেক দলই এর মধ্যে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে ফেলেছে। মূলত দলগুলোর আপত্তির কারণেই এবারও পেসারদের পুলের বাইরে রাখা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া এবার সব প্রস্তুতি সেরে কাজ শুরু করতেও একটু দেরি হয়ে গেছে।’ এবারও প্রতিটি দল পুলের সর্বোচ্চ তিনজন ক্রিকেটারকে নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন সিসিডিএম সমন্বয়ক।
২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত যেসব ক্রিকেটার জাতীয় দলে খেলেছেন, তাঁদের নিয়েই গঠিত হয়েছে পুল।
পুলের ২২ ক্রিকেটার: মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, আবদুর রাজ্জাক, মাহমুদউল্লাহ, রুবেল হোসেন, ইমরুল কায়েস, শফিউল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম, জুনায়েদ সিদ্দিক, নাজমুল হোসেন, সৈয়দ রাসেল, ফয়সাল হোসেন, মোহাম্মদ আশরাফুল, নাঈম ইসলাম, রকিবুল হাসান, রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ সোহ্রাওয়ার্দী, শাহরিয়ার নাফীস, আফতাব আহমেদ ও শাহাদাত হোসেন।