Thursday, May 7, 2015
এশিয়ার বড় বড় পতিতালয়ের দালালরা এখন নেপালে, ত্রাণকর্মীর ছদ্মবেশে যৌনকর্মী পাচার
নারী পাচার রোধে কাজ করছে কাঠমান্ডুর একটি বেসরকারি সংস্থা ‘শক্তিসমূহ’। সংস্থাটির পরিচালক সুনিতা দানুবার বলেন, দালালাদের এটাই মোক্ষম সময়। তারা উদ্ধারকারীর ছদ্মবেশে নারীদের অপহরণ করতে পারে। ত্রাণ বিতরণের টোপ দিয়ে পাচার করতে পারে। সুনিতা বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, ইতিমধ্যে কয়েক জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। উত্তর কাঠমান্ডুর পাহাড়ি এলাকা সিন্ধুপলচক গ্রামের সীতা (২০) গার্ডিয়ানকে জানান, চাচার বয়সী এক লোক তাকে চাকরি দেয়ার কথা বলে সীমান্তবর্তী ভারতের শিলিগুড়ি পতিতালয়ে বিক্রি করে দিয়েছিল। সীতার অশিক্ষিত ও কৃষক বাবা পরিবারে সচ্ছলতা ফিরবে ভেবে তাকে ‘চাকরিতে’ পাঠিয়েছিলেন। শিলিগুড়ির ওই পতিতালয়ে তাকে অত্যন্ত অমানবিক নির্যাতন করে যৌনকর্মে বাধ্য করা হয়। দিনে ২০-৩০ জন পুরুষের সঙ্গে মিলিত হতে হয় সীতাকে। ওই পতিতালয়ে পুলিশি অভিযানের পর সীতা বাড়ি ফেরার জন্য পুলিশের কাছে কান্না করে। পুলিশ তাকে এনজিও শক্তিসমূহের কাছে হস্তান্তর করে। সীতা জানে না তার বাবা-মা কী অবস্থায় আছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এখনও পরিবারের কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারেননি সীতা।
জাতিসংঘ ও স্থানীয় বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে, নেপাল থেকে বছরে ১৫ হাজার নারীকে যৌনকর্মী হিসেবে পাচার করা হয়। এদের অধিকাংশই নেয়া হয় ভারতের পতিতালয়ে। ভারতের পতিতালয়গুলোতে ১০ হাজারের বেশি নারী অত্যন্ত নির্মম পরিস্থিতিতে যৌনকর্মে নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার পতিতালয়েও পাচার করা হচ্ছে নেপালি নারীদের। গার্ডিয়ান বলছে, এ অঞ্চলের নারী পাচার ও পতিতালয় নেটওয়ার্কের এই অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করা হয় ভারত থেকে। ভারতের শিলিগুড়ি, মুম্বাই, কলকাতা, গোয়ায় পতিতাবৃত্তি বেশ রমরমা। এই দালালদের মাধ্যমেই আবার পাচার করা হয় দক্ষিণ কোরিয়ায়। ২০০৭ সালের তথ্যানুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়ার সেক্স-বাণিজ্যের পরিমাণ ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, যা দেশটির জিডিপির ১.৬ শতাংশ। টোকিও, বেইজিং, হংকংয়ের পতিতা নেটওয়ার্কের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে ভারতীয় দালালরা।
এদিকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতেই রয়েছে কয়েকশ’ বার ও ম্যাসাজ পার্লার। এখানকার নারীকর্মীদের প্রতিষ্ঠানের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে যৌনকর্মে বাধ্য করা হয়। ভূমিকম্পের পর টাকার জন্য অনেক নারী সেচ্চায় সেসব পার্লারে যাচ্ছেন বলে খবর পেয়েছে শক্তিসমূহ।
এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি দালালদের কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে। কাউকে চাকরি দেয়া, কাউকে ধনী বিদেশীর সঙ্গে বিয়ে দেয়া ইত্যাদি প্রলোভনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। অবস্থা বুঝে কাউকে সরাসরি পতিতাবৃত্তির প্রস্তাবও দিচ্ছে দালালরা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর বলছে, মানব পাচার রোধে ন্যূনতম মান বজায় রাখতে পারেনি নেপাল সরকার। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা চেষ্টা করেছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
থাইল্যান্ডে আরও ৬ মৃতদেহ উদ্ধার
থাইল্যান্ড পুলিশ জানায়, শংখলার ওই গণকবর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে ছয়টি মৃতদেহের সন্ধান পেয়েছে উদ্ধরকর্মীরা। পরে ওইসব দেহাবশেষ উদ্ধারের পর বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন। তবে এখনও মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
দেশটির জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র প্রাউত থাবর্নসিরি সাংবাদিকদের বলেন, ছয় মৃতদেহের মধ্যে দুটি পুরুষের। আর বাকি চারটি নারীর। তারা সবাই মাঝ বয়সী। মঙ্গলবার যে পাঁচটি কবরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল সেখানে গর্ত খুঁড়ে ওইসব দেহাবশেষ উত্তোলন করা হয়। আগের মৃতদেহের মতো এগুলোও বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গাদের বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে থাইল্যান্ডে মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া পুলিশি অভিযানে সেখানকার অভিবাসীদের মধ্যে হয়রানি ও ধরপাকড়ের আতংক দেখা দিয়েছে। অভিবাসীদের অভিযোগ, পুলিশ নিরীহ লোকদের হয়রানি করছে। অভিবাসীরা তাই ঘর থেকে বের হলে আতংকে থাকেন।
খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাজারে ১০ জন রোহিঙ্গা মুসলিম (বিশেষ করে মিয়ানমারের) দক্ষিণ থাইল্যান্ডে পাচার হয়েছেন। মানব পাচার রোধবিষয়ক সংগঠন ফ্রিল্যান্ড জানায়, সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানব পাচারকারীরা প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে ৩ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করে থাকে। তা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ১ হাজার ডলারে মালয়েশিয়ান কৃষকদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। এ সময় মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে তাদের ভয়াবহ নির্যাতন করে তারা। তাদের ঠিকমতো খেতে দেয়া হয় না। ফলে অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বন্দিশিবির থেকে পালানো রহিমা : থাইল্যান্ডে পাচারকারীদের বন্দিশিবির থেকে পালিয়ে আসা রহিমা খাতুন দেশটির একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মঙ্গলবার ব্যাংকক পোস্ট অনলাইন তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। রহিমা সংবাদ মাধ্যমটিকে জানান, গহিন জঙ্গলে পাচারকারীদের হাতে এখনও বহু বাংলাদেশী ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা আটক রয়েছেন। তাদের অবস্থা শোচনীয়। ঠিকমতো খাবার পান না তারা।
তিনি জানান, তাকে যে শিবির বা ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছিল সে দলে ৪০০ বন্দি রয়েছেন। তার বেশির ভাগই বাংলাদেশের নাগরিক ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা। রহিমা খাতুনের চোখেমুখে এখন আতংক। মানুষ দেখলেই চমকে উঠছেন তিনি। আবার তাকে অপহরণ করা হতে পারে এ ভয়ে তটস্থ’ রহিমা। আশ্বস্ত হওয়ার মতো কাউকে পেলে আকুতি জানাচ্ছেন তাকে বাঁচাতে। বন্দিশিবির থেকে পালিয়ে এখন জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। ফেলে এসেছেন তার ১০ বছর বয়সী মেয়েকে। তার ভাগ্যে কি ঘটেছে বলতে পারেন না রহিমা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৫ বছরের কারাদণ্ড, কাঁদলেন সালমান
বাজরাঙ্গি ভাইজান:‘এক থা টাইগার’ ছবিটির মাধ্যমে পরিচালক কবির খান ও সালমান খান জুটিবদ্ধ হন। বলিউডের পূর্বের অনেক রেকর্ড ভেঙে দেয় ছবিটি। সবচেয়ে কম সময়ে ১০০ কোটি রুপি, মুক্তির প্রথম দিন ও প্রথম সপ্তাহান্তে সর্বোচ্চ আয় করা মুভির তালিকায় শীর্ষে উঠে যায় ছবিটি। সে ছবির সফলতাই হয়তো এই জুটিকে আরেকটি ছবি নির্মাণে অগ্রসর হতে আগ্রহী করে তোলে। এরপর কবির খানের ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ ছবিতে কাজ করতে চুক্তিবদ্ধ হন সালমান। এ বছরের ঈদে ছবিটি মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু সালমানের বিরুদ্ধে সাজার আদেশে সব ঝুলে যেতে পারে।
প্রেম রতন ধান পায়ো: সালমান খান ও সুরজ বারজাটিয়ার এ ছবিটি মুক্তি পাবার কথা ছিল এ বছরের দিওয়ালিতে। এর আগেও এ দুজন মিলে উপহার দিয়েছিলেন ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ ‘হাম আপকে হ্যাঁয় কৌন’ ‘হাম সাথ সাথ হ্যাঁয়’-এর মতো ব্যবসাসফল ছবি। ‘প্রেম রতন ধান পায়ো’ ছবিটি নিয়ে বলিউডি ছবির ভক্তদের আগ্রহের কোন কমতি ছিল না। সালমানের বিপরীতে ছবিটিতে অভিনয়ের কথা ছিল অনিল কাপুর তনয়া সোনম কাপুরের। কিন্তু এ ছবির ভাগ্যও হুমকির মুখে পড়ে যেতে পারে।
শুদ্ধি: হবে হবে করেও বলিউডের বিখ্যাত প্রযোজক-পরিচালক করণ জোহরের সঙ্গে কাজ করা হয়নি সালমান খানের। অবশেষে উচ্চাবিলাসী ছবি ‘শুদ্ধি’তে কাজ করার ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হন সালমান। ছবিটিতে প্রথমে হৃতিক রোশনের অভিনয়ের কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কপালে করণ জোহরের ভাঁজ পড়ছে, এ কথা হলফ করে বলা যায়।
নো এন্ট্রি ম্যায় এন্ট্রি: ব্যবসাসফল কমেডি মুভি ‘নো এন্ট্রি’র সিক্যুয়েল এ ছবিটি নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ ছিল অনেক বেশি। ছবিটিতে কেবল অতিথি চরিত্রে কাজ করার কথা ছিল সালমানের। পরে অবশ্য মূল অভিনেতা হিসেবেই চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। কিন্তু সালমান খানের সাজা ছবিটির প্রযোজকদের জন্য ভালো খবর বয়ে আনেনি।
সুলতান: আশ্চর্য্যজনক হলেও সত্য, বলিউডের অন্যতম সফল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যশরাজ ফিল্মসের সঙ্গে ‘এক থা টাইগার’-এর আগে আর কাজ করেন নি সালমান। মুভি বাজারজাতকরণের শীর্ষ এ প্রতিষ্ঠান ও বলিউডের অন্যতম সফল এ অভিনেতার যৌথ প্রচেষ্টা বক্সঅফিসের বহু রেকর্ড তছনছ করে দেয়। অল্পের জন্য রেহাই পায় তখনকার সবচেয়ে বেশি আয় করা মুভি ‘থ্রি ইডিয়টস’। ওই ছবির সাফল্যের পর যশরাজ ফিল্মস ও সালমান খান ‘সুলতান’ ছবির ব্যাপারে একমত হন। ছবিটিতে সালমান খানের একজন বক্সারের চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল। যাই হোক, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এ ছবিটিও আটকে যাবে।
বিজ্ঞাপন: ছবির বাইরে সালমানের পেছনে কোটি কোটি রুপি লগ্নি করেছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি বিজ্ঞাপনচিত্রের জন্য ১ থেকে ২ কোটি রুপি নিয়ে থাকেন তিনি। সালমান জেলে গেলে এসব বিজ্ঞাপন চলবে না টিভিতে। এর আগের বারও সালমান কারাগারে যাবার পর তার বিজ্ঞাপনগুলো সরিয়ে নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে পণ্যের দূত হিসেবেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোটা অঙ্কের চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন তিনি। সেসবের ভবিষ্যৎ-ই বা কী হবে?
সালমানের বাড়িতে তারকারা: সালমান খানের সাজার খবর শোনার পর সঙ্গে সঙ্গে তার বাড়ি গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে ছুটে যান অভিনেত্রী জিনতা ও সোনাক্ষি সিনহা। এ দুই অভিনেত্রীর সঙ্গেই উষ্ণ সমপর্ক রয়েছে সালমানের। তারা দুজনই সালমানের মাকে সঙ্গ দেন ও সহমর্মিতা জানান। এছাড়া, তার বাড়িতে মায়ের সঙ্গে দেখা যায় ভাই সোহেল খান ও তার স্ত্রীকেও। এর আগে ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ ছবির কাজে কাশ্মীরে ছিলেন সালমান খান। ৫ই মে তিনি মুম্বইয়ে ফিরে যান। সেদিন সন্ধ্যায় তার বাড়িতে ছুটে যান আরেক বিখ্যাত বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান ও পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান। এদিকে সাজার খবরে মুম্বইয়ে সালমানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে জড়ো হতে শুরু করেন ভক্তরা। সেখানে সালমান খানের প্রতি সমর্থনসূচক বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার তুলে ধরেন তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে টুইট ও স্ট্যাটাস শুরু করেছেন ভক্তরা।
তারকাদের প্রতিক্রিয়া: এদিকে সালমানের রায়ে টুইটারে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বহু বলিউড তারকা। সেসবের বেশির ভাগই সালমান ও তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতামূলক। পরিচালক ফারাহ খান লিখেছেন, ‘আমি এখন দুবাইয়ে। কিন্তু মুম্বইয়ে সালমান ও তার পরিবারের জন্য প্রার্থনা রইলো।’ অভিনেতা বরুণ দেওয়ান লিখেছেন, সালমান খান ও তার পরিবারের জন্য প্রার্থনা। আমি জানি, তারা এদেশকে ভালোবাসেন। এ দেশের বিচারিক ব্যবস্থার প্রতিও শ্রদ্ধা পোষণ করেন। তিনি আরও বলেন, আদালতের রায় নিয়ে আমি কিছু বলবো না। কিন্তু আমি মনে করি, বলিউডে সালমান ভাই-ই সবচেয়ে বড় হৃদয়ের অধিকারী। তিনিই সবচেয়ে বেশি সাহায্যপরায়ণ। অভিনেত্রী সোনাক্ষি সিনহা লিখেছেন, ভয়াবহ দুঃসংবাদ। জানি না, কিভাবে সালমান খানের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো যায়। সে একজন ভালো মানুষ। কেউই তার কাছ থেকে তা ছিনিয়ে নিতে পারবে না। এর আগে শিল্পপতি বিজয় মাল্য মন্তব্য করেন, আশা করবো, বিচারিক বিভাগ মানুষের জীবনের অবস্থা ও গণমাধ্যম যা বলে, তার ওপর ভিত্তি করে রায় দেবে না। অভিনেত্রী পরিণীতা চোপড়া লিখেছেন, আমরা সব সময়ই তোমার পাশে থাকবো। আশা করবো, সালমান খানের ভেতর মানুষ হিসেবে যে সৌন্দর্য্যটা রয়েছে, তা বিচারকরা বিবেচনায় নেবেন। আলিয়া ভাট সালমানকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, আপনার নিজের কাউকে সাজা পেতে দেখলে কষ্ট লাগে, যদি সে ভুলও করে। আমরা তোমাকে ভালোবাসি, তোমার পাশে থাকবো। এর বাইরেও প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেছেন অভিনেতা রিতেশ দেশমুখ, সুরকার প্রীতম, গায়ক মাইকা সিং, অভিনেতা অর্জুন কাপুর, অভিনেত্রী দিয়া মির্জা, বিপাশা বসু, অভিনেতা রিতেশ কাপুর, কুনাল কোহলি, টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা সহ আরও অনেকে। এছাড়া, বহু টিভি অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও সালমান ও তার পরিবারের প্রতি সমর্থনসূচক টুইট করেছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুনির্বাচন by মাহবুব তালুকদার
আমি বললাম, চাচা! আপনার কথা শুনে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। সকাল বেলা একজনকে দিয়ে বিটিভি ক্যামেরায় মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেকর্ড করা হলো। বাসায় ফেরার সময় দুপুর বেলা তাকে পাকসেনারা গুলি করে হত্যা করে। রাতে টিভিতে যখন তিনি বলছিলেন পাকিস্তানি সেনারা এদেশের মানুষের জান ও মাল রক্ষা করছে, তখন তার লাশ নর্দমায় পড়ে আছে।
চাচা জানালেন, তোমার এ কথার অর্থ কিছুই বুঝলাম না।
আমি বলতে চাইছি, সকাল বেলা রবার্ট গিবসন যখন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে যান, তখন হয়তো পরিবেশ শান্তই ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভোটকেন্দ্রগুলোর কি অবস্থা, তা মিডিয়ার কল্যাণে নগরবাসীরা স্বচোখে দেখতে পেয়েছে।
নির্বাচনে সামান্য কিছু ঘটনা ঘটেই থাকে। সেটা তেমন কিছু নয়। এমন কি সেনাবাহিনী ডাকার মতো গুরুতর কোন ব্যাপার ছিল না। তাছাড়া, বিএনপি যে নির্বাচন বয়কট করবে তা আগেই জানা ছিল।
কি করে জানলেন?
ওরা নির্বাচনে জিততে পারবে না জেনেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। তুমি তো জানো, বিএনপি হারলে সবসময় কারচুপির কথা বলে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অভিধানে কারচুপি শব্দটাই নেই।
বিএনপি যে অভিযোগ করেছে, তাদের পোলিং এজেন্টদের নির্বাচন কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি, তা কি মিথ্যা?
অবশ্যই মিথ্যা। তাদের কোন পোলিং এজেন্টই ছিল না। যারা পোলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিল, তারা বিবেকের তাড়নায় আর ভোটকেন্দ্রে যায়নি।
কি এমন বিবেকের তাড়না?
ওদের পাড়ার মুরব্বিরা জানিয়ে দিয়েছিলেন হরতাল- অবরোধকারী ও নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে বিবেক বোধকে জাগিয়ে তোলার জন্য। তাদের বিবেক বোধ না জাগলে কি ভয়াবহ পরিণতি হবে, সেটাও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল। ফলে বিএনপি কোন পোলিং এজেন্টই পায়নি। যে কয়েকজনের বিবেক ছিল না, তাদের নাম সন্ত্রাসী হিসেবে পুলিশের ‘অজ্ঞাতনামা’ তালিকায় ছিল। পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে।
চাচা! আওয়ামী লীগ তো ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিনটি সিটি করপোরেশনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গেল।
না, না। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বলছো কেন? এবারের নির্বাচনে যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সরকারি প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের বেসরকারি প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। তবে বিএনপির নির্বাচন বর্জন ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
আওয়ামী লীগের কারচুপিও পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিযোগ আছে। অনেকগুলো কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ঢুকতেও দেয়া হয়নি। অথচ টেলিভিশনে দেখা গেল যারা ভোটার নয়, তারাও লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। ঢাকার বাইরে থেকেও ভোট দিতে এসেছে অনেকে।
বহিরাগতদের ভোট দিতে দেয়ার বিষয়টার প্রতি আমি অবশ্যই নিন্দা করি। বিএনপির প্রার্থীরাই মূলত এটা করিয়েছে। আওয়ামী লীগের কি ভোট দেয়ার লোকের অভাব ছিল যে বাইরে থেকে লোক হায়ার করে আনতে হবে? নির্বাচন বিধিভঙ্গ করে বিএনপির প্রার্থীরা ভোট কিনতে টাকা পয়সা বিতরণ করেছে এবং পুলিশের কাছে আটক হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী এমন অপরাধের জন্য আটক হয়েছে বলে জানা নেই।
চাচা! বিএনপির অভিযোগ, পাঁচ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিতে আসেনি। ব্যালট পেপারে একধারসে সিল মেরেছে ছাত্রলীগের ছেলেরা।
নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই তো এসব অভিযোগ। তবে ভোটের হার কি করে বাড়াতে হয়, নির্বাচন কমিশনের তা জানা আছে।
এ কথার অর্থ কি?
কিছু বলতে গিয়ে চাচা কথার মোড় ফিরিয়ে বললেন, মাননীয় সিইসির উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়েই নগরবাসীরা ভোট দিতে এসেছে। তিনি আহ্বান না জানালে ভোটের হার অনেক কম হতো। বিএনপির সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য নিরীহ নগরবাসী ভোটকেন্দ্রে আসতে ভয় পাচ্ছিল। সিইসি তাদের সেই ভয় ভাঙ্গিয়ে দিয়েছেন।
রাতে ভোট গণনার পর দেখা গেল তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা একচেটিয়াভাবে জিতে গেলেও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরাও প্রচুর ভোট পেয়েছে। চাচা অত্যন্ত উৎফুল্লস্বরে বললেন, দেখলে তো, যা বলেছিলাম তাই ঘটেছে।
আমি বললাম, চাচা! ভোটের ফলাফল দেখে আমি খুবই আতঙ্কিত।
তোমার আতঙ্কিত হওয়ার কারণ?
আপনার হয়তো মনে আছে, মাননীয় মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, আওয়ামী প্রার্থীকে যে করেই হোক জিততে হবে। বিএনপি প্রার্থী জিতে গেলে হরতাল, অবরোধ ও মানুষ পোড়ানোর রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।
কথাটা মনে আছে। কিন্তু বিএনপির প্রার্থীরা তো সবাই হেরে গেছে।
আমি তাদের হেরে যাওয়ার কথা বলছি না। কিন্তু তাদের প্রার্থীদের লক্ষ লক্ষ ভোট পাওয়া দেখে আমি আতঙ্কিত। বিএনপির জ্বালাও পোড়াওয়ের পরে এত লোক তাদের প্রার্থীকে ভোট দিলো কিভাবে? এর অর্থ কি বিএনপির বিরুদ্ধে সরকারের প্রচারণা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ তেমন সুফল বয়ে আনতে পারেনি? লোকে নাশকতাকারীদের কেন ভোট দিল?
চাচা বললেন, যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছে তারা সবাই সন্ত্রাসী। ওদের কথা বাদ দাও। নির্বাচনের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের এই সাফল্যের জন্য তাকে নগরবাসীর তরফ থেকে একটা নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া উচিত। কি বল?
এখন এটা করতে গেলে সবাই তার পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে সন্দেহ করতে পারে। তার চেয়ে চুপ থাকাই ভালো।
কিন্তু আমাদের জাতীয় নির্বাচনটাও যতো শিগগিরই সম্ভব সেরে নেয়া উচিত। আওয়ামী লীগের পক্ষে এখন যে গণজোয়ার দেখা যাচ্ছে, তাতে জাতীয় নির্বাচন করতে আর দেরি করা উচিত নয়।
সেটা তো মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়ে যাবে।
তাতে অসুবিধা কি? বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ ফুরাবার আগেই তা করে ফেলা দরকার। আচ্ছা, এই কমিশনকে কি আবার পাঁচ বছরের জন্য এক্সটেনশন দেয়া যায়?
আমি সেটা বলতে পারবো না। যারা আইনজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ তারা বলতে পারবেন। তবে আমি ভাবছি ভিন্ন কথা।
কি কথা, বলো।
যারা মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন, এখন থেকে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
কথাটা তুমি কি বুঝে বলেছ? নাকি, না-বুঝে বলেছ?
বুঝেই বলেছি।
শোনো। ঢাকার মেয়রের নির্বাচন পরবর্তী বক্তৃতার জন্য আমি একটা খসড়া তৈরি করেছি। কি লিখেছি শোনো: ‘প্রিয় নগরবাসী, ঢাকা মহানগরীকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য আমি আপনাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, মহানগরীর জনগণের স্বার্থে আমি তা প্রত্যাহার করছি। এর কারণ নিশ্চয়ই আপনারা জানতে চাইবেন এবং আমি আপনাদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। ঢাকাকে অধিকতর বাসযোগ্য করা হলে কি বিপর্যয় হবে, আপনারা কি তা ভেবে দেখেছেন? আমার ব্যক্তিগত গবেষণায় আমি দেখেছি, ঢাকা অধিকতর বাসযোগ্য হলে দেশের অন্যান্য স্থান থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লোক ঢাকায় বসবাস করতে ছুটে আসবে। তাতে যে মানবিক বিপর্যয় ঘটে যাবে, সে বিষয়ে আপনারা একটিবার ভেবে দেখুন।
‘আপনারা যানজটমুক্ত ঢাকা চেয়েছেন। ঢাকা শহরের যানজট সমস্যার সমাধান হলে প্রতিদিন আশেপাশের এলাকা থেকে আরো অনেকগুণ বেশি যানবাহন ঢাকায় ঢুকে পড়বে। অধিকসংখ্যক যানবাহন এলে ঢাকার রাজপথে বিপর্যয় ডেকে আনা হবে যা নাগরিক স্বার্থের পরিপন্থি। আমি নগরবাসীর স্বার্থের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে চাই না। এ অবস্থায় আপনারা আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, আমি আপনাদেরকে এসব প্রতিশ্রুতি কেন দিলাম? দিলাম এ জন্য যে, প্রতিশ্রুতি না দিলে আপনারা আমাকে ভোট দিতেন না। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। সুতরাং এই বিনিময় সমান সমান হয়েছে।’-চাচা থামলেন। বললেন, বাকিটুকু লেখা হয়নি।
আমি বললাম, চাচা! আপনি কি নবনির্বাচিত মেয়রদের জন্য এই বক্তৃতা লিখেছেন?
চাচা থতমত খেয়ে বললেন, ঠিক ওদের জন্য লিখিনি। কিন্তু আমার যে ভাগনে মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারলো না, তার জন্য এটা অগ্রিম লিখতে শুরু করেছিলাম। তোমাকে তো বলেছি, আমার ভাগনে মনোয়ার ভুল করে তার নাম মনোয়ারা লেখায় নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়। তারা মনোয়ারকে মনোয়ারা হিসেবে মানতে রাজি হয়নি। কি দুঃখজনক ব্যাপার!
আমি বললাম, চাচা! আপনার ভাগনে মেয়র নির্বাচিত হয়ে এ রকম বক্তৃতা দিলে আর রক্ষা ছিল না। তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় সে বেঁচে গেছে, আপনিও বেঁচে গেছেন।
আমাদের আলোচনার এক পর্যায়ে চাচি ঘরে ঢুকলেন। চাচাকে বললেন, তুমি কি আজ ভোট দিয়েছো?
না। চাচা জানালেন।
সে কি! আপনি ভোট দিতে যাননি? আমি সবিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করলাম।
চাচা আমতা আমতা করে বললেন, গিয়েছিলাম। কিন্তু-
কিন্তু কি? চাচির প্রশ্ন।
আমার ভোটটা আগেই দেয়া হয়ে গিয়েছিল। আসলে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো দরকার। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার করা একান্ত প্রয়োজন।
কি ধরনের সংস্কার? চাচি জানতে চাইলেন।
আমার ব্যাপারটাই তুমি উদাহরণ হিসেবে ধরতে পারো। যিনি আমার হয়ে দয়া করে ভোটটি দিয়ে দিয়েছেন, তিনি যদি আমাকে এসএমএস করে জানাতেন যে, আমার ভোট দেয়া হয়ে গেছে, তাহলে আর আমাকে কষ্ট করে ভোটকেন্দ্রে যেতে হতো না।
কিন্তু তিনি আপনাকে জানাবেন কি করে? তার কাছে তো আপনার কোন টেলিফোন নম্বর নেই।
সে জন্যই তো আমি বলছি, ভোটার লিস্টে প্রত্যেকের নামের পাশে মোবাইল ফোন নম্বর থাকা প্রয়োজন। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার করা হলে আমাকে আর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ভোগান্তিতে পড়তে হতো না। হতাশকণ্ঠে বললেন চাচা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিলিব্যান্ডকে ঘিরেই যেন ব্রিটেনের নির্বাচন! by কামাল আহমেদ
স্কটল্যান্ডে লেবার পার্টি ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরাও সেখানে কিছুটা অবস্থান ধরে রেখেছে। আর কনজারভেটিভরা বরাবরই সেখানে দুর্বল। তবে স্বাধীনতার প্রশ্নে গত বছর অনুষ্ঠিত গণভোটের পর এসব অবস্থানে বড় ধরনের রূপান্তর ঘটেছে। গণভোটে স্বাধীনতার প্রস্তাব সামান্য ব্যবধানে পরাস্ত হলেও স্কটিশ জাতীয়তাবাদীদের নাটকীয় উত্থান ঘটেছে। ফলে সেখানে লেবার পার্টি এখন কয়েক ডজন আসন হারানোর পথে। কিন্তু তাতেও কনজারভেটিভদের কোনো সুবিধা হচ্ছে না এবং এসএনপি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে লেবারকে সমর্থনের আভাস দিয়েছে। এসএনপির নীতি অনেকটাই বাম-ঘেঁষা এবং সে কারণে লেবার পার্টিকে সমর্থনের বিষয়টি তাদের পক্ষে যতটা সহজ, কনজারভেটিভদের ক্ষেত্রে তা ততটাই কঠিন। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরাও শেষ দিকে এই ভীতি ছড়ানোর প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়ে বলতে আরম্ভ করে যে তারা যদি তৃতীয় দল হিসেবে আভির্ভূত না হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে মধ্যপন্থায় ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাদের দাবি, এসএনপির সমর্থনে লেবার পার্টি সরকার গড়লে সেই সরকার বামপন্থার দিকে ঝুঁকবে, আর কনজারভেটিভরা ছোট ছোট ডানপন্থী দলের (ইউকিপ ও আলস্টার ইউনিয়নিস্ট পার্টি) সমর্থনে ক্ষমতায় এলে তারা আরও ডানপন্থার দিকে ঝুঁকবে।
২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার সময় ব্রিটেনে যে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল, তার দায় নিয়ে লেবার পার্টিকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ২০১০ সালে। এরপর মি. ক্যামেরন ও তাঁর জোট শরিক লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের নেতা নিক ক্লেগ পাঁচ বছর ধরে যে অর্থনৈতিক কৃচ্ছ্রনীতি অনুসরণ করেছেন, তার কষ্ট ও যাতনার সিংহভাগই সহ্য করতে হয়েছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে। কৃচ্ছ্রনীতির কারণে পরিসংখ্যানের হিসাবে এই সময়ে অর্থনীতি অনেকটাই চাঙা হয়েছে। তবে ওই পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত মন্দার সময় ব্রিটেনের ধনীরা যতটা সম্পদের মালিক ছিলেন, তাঁদের সেসব সম্পদ এখন দ্বিগুণ অথবা তারও বেশি হয়েছে। বিপরীতে শ্রমজীবী মানুষের মজুরি গত বছর পর্যন্ত হয় একই জায়গায় আটকে ছিল, নয়তো সংকুচিত হয়েছে। এ বছরই প্রথম তাঁদের মজুরি কিছুটা বাড়তে শুরু করে। ফলে অর্থনীতিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব দাবি করেও তাঁরা খুব একটা হালে পানি পাচ্ছেন না।
এই নির্বাচনের ভোটারদের বিচার্য বিষয় বা ইস্যুগুলো বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও মিলিব্যান্ডের ভূমিকাই প্রাধান্য পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা খাতকে (ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এনএইচএস) বেসরকারীকরণের হাত থেকে রক্ষার বিষয়টি তিনি নির্বাচনে অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে তুলে এনেছেন। এর জন্য বাড়তি যে টাকার প্রয়োজন হবে, সেটা ধনীদের করের হার বাড়ানো এবং বৃহৎ ব্যবসায়ীদের কর ফাঁকি বন্ধের মাধ্যমে পূরণের কথা বলেছেন। মি. ক্যামেরন বিষয়টি সম্পর্কে আগাম আভাস পেলেও তা মোকাবিলায় সফল হতে পারেননি। বরং তিনিও এনএইচএসকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে টাকা আসবে কোত্থেকে, তার হিসাবটা স্পষ্ট করতে পারেননি। একইভাবে মা-বাবাদের সহানুভূতি আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুকল্যাণ ভাতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করে মিলিব্যান্ড অভিযোগ করেছিলেন যে মি. ক্যামেরনের পুনর্নির্বাচনের মানে দাঁড়াবে এসব ভাতা বন্ধ হওয়া। শেষতক মি. ক্যামেরনকেও অঙ্গীকার করতে হয়েছে যে তিনি শিশুকল্যাণ ভাতায় হাত দেবেন না।
এমনিতেই লেবার পার্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে দলটি ট্রেড ইউনিয়নের হাতে জিম্মি। কেননা, ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা দলটির তহবিল জোগান দেওয়ার পাশাপাশি তার নীতিকৌশল নির্ধারণে বড় ধরনের ভূমিকা রেখে থাকেন। বিপরীতে কনজারভেটিভ পার্টি ব্যবসাবান্ধব ও রক্ষণশীল জনগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষাকারী হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। অবশ্য দেখা গেছে যে উভয় দলই যখন আদর্শিক অবস্থান কিছুটা নমনীয় করে মধ্যপন্থা গ্রহণ করেছে, তখনই তারা নির্বাচনে সফল হয়েছে। এ ক্ষেত্রে টনি ব্লেয়ারের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। লেবার পার্টি যখন একের পর এক নির্বাচনে হেরেই চলছিল, তখন মি. ব্লেয়ার বামপন্থা থেকে অনেকটাই সরে গিয়ে নিউ লেবার নামে নতুন এক ধ্যানধারণা আমদানি করেন, যেটি ছিল ব্যবসাবান্ধব এবং কখনো কখনো শ্রমিকদের প্রতি বৈরী। ফলে সে সময়ে তিনি কট্টর ডানপন্থী পত্রিকা ডেইলি সান-এর কাছ থেকেও সমর্থন আদায়ে সক্ষম হন। তবে এবার উভয় দলই নমনীয়তার বদলে দৃঢ়তার পথ বেছে নিয়েছে। মিলিব্যান্ড জোর দিয়েছেন ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো, বৃহৎ ব্যবসার কর ফাঁকি বন্ধ, ধনীদের আয়কর বাড়ানো, বিলাসবহুল আবাসিক ভবনের (ম্যানসন ট্যাক্স) কর বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ কমানোর মতো বিষয়গুলোতে। বিপরীতে, ক্যামেরন জোর দিয়েছেন ব্যবসাবান্ধব নীতিগুলোর দিকে। ক্যামেরন স্পষ্টতই জানান ট্যাক্সের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া এক নতুন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর আবির্ভাবের কারণে মি. ক্যামেরন এবার আরও বেশি করে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকেছেন। এই নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন নাইজেল ফারাজ, যাঁর ইউনাইটেড কিংডম ইনডিপেনডেন্টস পার্টি (ইউকিপ) যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনার পক্ষপাতী। গত পার্লামেন্ট ভেঙে যাওয়ার মাত্র কয়েক মাস আগে মি. ক্যামেরন তাঁর দলের দুজন এমপিকে হারান, যাঁরা দল ত্যাগ করে ইউকিপের হয়ে উপনির্বাচন করে কনজারভেটিভ পার্টিতে একধরনের অস্থিরতার জন্ম দিয়েছিলেন। সে কারণে এবারের নির্বাচনে মি. ক্যামেরন অঙ্গীকার করেছেন যে তিনি বিজয়ী হলে দুই বছরের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা না-থাকার বিষয়ে তিনি গণভোট অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করবেন। মি. মিলিব্যান্ড অবশ্য ওই ফাঁদে পা দেননি এবং বলে দিয়েছেন যে তিনি এ ধরনের কোনো গণভোটের প্রয়োজন দেখেন না। তিনি স্পষ্টতই ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষপাতী। ব্রিটেনের পত্রপত্রিকাগুলোও এই আদর্শিক অবস্থান অনুযায়ী ক্যামেরন ও মিলিব্যান্ডের প্রতি সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে। টেলিগ্রাফ, সান ও মেইল ক্যামেরনের প্রতি এবং গার্ডিয়ান ও মিরর মিলিব্যান্ডের প্রতি সমর্থন দিতে তাদের পাঠকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
মি. মিলিব্যান্ডের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষগুলো ধারণা করেছিল যে তিনি দলটির নেতৃত্বে বেশি দিন টিকবেন না। কিন্তু সে আশা পূরণ হওয়া তো দূরের কথা, কয়েক মাস ধরে তাঁর ভাবমূর্তি ক্রমশই উজ্জ্বল হয়েছে। গত ছয় মাসের জনমত জরিপগুলোর সব কটিতেই দেখা যাচ্ছে তাঁর নেতৃত্বে লেবার পার্টি কনজারভেটিভদের সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দিচ্ছে। মিলিব্যান্ডের শত্রু অবশ্য মিলিব্যান্ড নিজেই। বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তিনি গত পার্লামেন্টে অন্তত তিনটি বিষয়ে সরকারকে তাঁর নীতি অনুসরণে বাধ্য করেছিলেন। সিরিয়ায় যুদ্ধ করতে না যাওয়া, সরকার ও পুলিশের ওপর মিডিয়া সাম্রাজ্যের প্রধান রুপার্ট মারডকের প্রভাব ভেঙে দেওয়া এবং জ্বালানির বাজারে কয়েকটি কোম্পানির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটিয়ে সেখানে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, যাতে ভোক্তারা উপকৃত হন। তবে বিরোধী নেতা হিসেবে তাঁর সাফল্যই বারবার তাঁর এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি লেবার পার্টির আদর্শিক মিত্র হওয়া সত্ত্বেও সিরিয়া প্রশ্নে মিলিব্যান্ডের বিরোধিতার কারণে ওবামা প্রশাসন তাঁর প্রতি অনেকটাই নাখোশ। বৃহৎ জ্বালানি কোম্পানিগুলো তো বটেই, বড় ব্যবসায়ীরাও প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সংবাদপত্রগুলোও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই।
এই নির্বাচনের আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। সেটি হলো সংবিধানের বিষয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অহরহ সংবিধান নিয়ে আলোচনা নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু ব্রিটেনে ভোটের আগে সংবিধানবিষয়ক আলোচনা অতীতে কখনো শুনিনি। এবার কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে জনমত জরিপগুলোর যেসব ফল পাওয়া গেছে, তার পটভূমিতেই এখন চলছে সংবিধানের আলোচনা। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও একক বৃহত্তম দল হিসেবে কোনো দল সরকার গঠনের সুযোগ পেতে পারে কি না, সেটি নিয়েই এ আলোচনা। এখানেও মি. মিলিব্যান্ডকে লক্ষ্য করে মি. ক্যামেরন বলেছেন যে ভোটের হিসাবে এবং পার্লামেন্টে আসনের দিক থেকে বৃহত্তম দল না হয়েও যদি কোনো সরকার গঠন করা হয়, তাহলে তার বৈধতা থাকবে না। অথচ সেই সম্ভাবনাই এখন প্রবল যে লেবার পার্টির আসনসংখ্যা কনজারভেটিভদের থেকে কিছুটা কম হলেও এসএনপি ও ছোট ছোট দলগুলোকে সরকারে না নিয়েই সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থার ভিত্তিতে মিলিব্যান্ড প্রধানমন্ত্রী হবেন।
এবারের ব্রিটিশ নির্বাচনে বাংলাদেশিদের আগ্রহের বিষয় অবশ্য রেকর্ডসংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবং সাফল্যের সম্ভাবনায়। পাঁচজন নারী ও সাতজন পুরুষ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাঁদের বেশির ভাগই লড়ছেন লেবার পার্টি থেকে। এসব বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত প্রার্থীর মধ্যে যাঁদের জেতার সম্ভাবনা উজ্জ্বল তাঁরাও লেবার পার্টির এবং তাঁদের ভাগ্যের ওপর কিছুটা হলেও নির্ভর করছে মিলিব্যান্ডের ভবিষ্যৎ।
কামাল আহমেদ: সাংবাদিক, লন্ডন থেকে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশী কিশোরের বর্ণনায় থাইল্যান্ডের জঙ্গলে নির্মমতা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্লিপ্ত নির্বাচন কমিশন by কাজী জেবেল
অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্র দখলকারীরা অনেক প্রিসাইডিং অফিসারকে জিম্মি করে তার রুমে বসেই ব্যালটে সিল মেরেছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে ফোনে জানানো হয়েছে। ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা ‘দেখি’, ‘দেখছি’, ‘পুলিশ-র্যাব আসছে’ এসব সান্ত্বনার কথা শুনিয়ে সময় পার করেছেন বলে অভিযোগ করেন বেশ কিছু প্রিসাইডিং অফিসার। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন একাধিক কর্মকর্তা।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ভোটগ্রহণের সময় যেসব অভিযোগ পেয়েছি সেগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ভোট গণনার পর যেসব অভিযোগ এসেছে তা আমলে নেয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং কমিশন কিছুই করেনি তা বলা যাবে না। তিনি বলেন, তড়িঘড়ি করে নয়, নিয়ম মেনেই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশৃংখলার কারণে তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বাতিল করেছি। ওই তিন কেন্দ্রের কারচুপির ঘটনায় কে দায়ী, কেন ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হল তা তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি বলেন, প্রিসাইডিং অফিসারকে জিম্মি করে তার রুমে বসেই সিল মারার মতো ঘটনা সম্পর্কে ওই সময় লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নেয়া যায় না।
এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, ভোটের দিনের ঘটনাগুলো আরও শক্তভাবে মোকাবেলা করলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। ভোটের দিন নির্বাচন কমিশনকে নির্লিপ্ত দেখেছি। ভোটগ্রহণের দিন অনেক অভিযোগ পাওয়া সত্ত্বেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। সবকিছুই রিটার্নিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বলে তাদের ওপর দায় চাপিয়ে দিলেন। এখানে কমিশন অনেক ভূমিকা রাখতে পারত। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কী করা উচিত ছিল তার উদাহরণ অতীতে অনেক রয়েছে। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনে কমিশন যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেনি।
ভোটগ্রহণের আগের রাতে স্থানীয় প্রভাবশালী প্রার্থীর সমর্থক ও আত্মীয়-স্বজনরা কয়েকটি কেন্দ্রে জোর করে ঢুকে ব্যালটে সিল মেরে বক্সে ভরে রেখেছে বলে অভিযোগ আছে। বিষয়টি গোপন রাখতে তারা কর্মকর্তাদের হুমকিও দিয়েছে। ভোটগ্রহণের দিনেও তিন সিটির অনেক কেন্দ্রে ঢুকে সিল মারেন ক্ষমতাবান প্রার্থীর সমর্থক ও কর্মীরা। কেন্দ্রে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। ওই পরিস্থিতিতে দখলবাজদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা। তারা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে এসব বিষয় জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। আর নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, আইনশৃংখলা বাহিনী অসহযোগিতা এবং ক্ষমতাবানদের কেন্দ্র দখলের বিষয়টি তাৎক্ষণিক কমিশনকে জানানোর পরও কঠোর কোনো নির্দেশনা পাননি। এ কারণে তারাও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ‘হাওয়া বুঝে চলার’ পরামর্শ দেন। চাকরির স্বার্থে কোনো কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করে ভোটের দিনের ঘটনাগুলো বর্ণনা করতে চাননি।
তারা আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হলে তাৎক্ষণিক ওই কেন্দ্রে নিয়োজিত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের পুলিশ পাহারায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর শেরে বাংলা রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুরিটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের জুরাইন আশ্রাফ মাস্টার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণার পরও বিকাল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধার করেনি। ওই সময় পর্যন্ত হামলা আতংকে কর্মকর্তারা রুমের ভেতর দরজাবন্ধ করে বসে ছিলেন।
নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে ভোটগ্রহণ চলাবস্থায় ২৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ঢাকা উত্তরের বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ঢাকা দক্ষিণের একই দলের মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী। ওইসব অভিযোগে কোন কেন্দ্র কখন কীভাবে আক্রান্ত হয়েছে তাও উল্লেখ করা হয়েছিল। মির্জা আব্বাসের অভিযোগে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে সিদ্দিক মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে মির্জা আব্বাসের পোলিং এজেন্টদের সকাল ৯টায় কেন্দ্র থেকে মারধর করে বের করে দেয়া হয়। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটারা মসজিদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল সাড়ে ১০টায়, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের তরুণ সংঘ স্কুলে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে সকাল ১০টায়, ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ ফারুক সড়ক কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০টায়। ভোটের পরদিন ২৯ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ও তিন সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে অন্তত অর্ধশত প্রার্থী নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি না করে ৩০ এপ্রিল রাতেই গেজেট প্রকাশ করে ইসি। ওই গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে ওইসব অভিযোগ আমলে নেয়ার পথ ইসি নিজেই বন্ধ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হেনা বলেন, নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পরও গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত কমিশন নির্বাচনী অনিয়মের তদন্ত করতে পারে। কিন্তু গেজেট প্রকাশ করায় অনিয়ম তদন্তের বিষয়ে কমিশনের কিছুই করার নেই। এখন সংক্ষুব্ধরা আদালতে যেতে পারেন। আদালতের রায়ের ওপর সবকিছু নির্ভর করছে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, ভোটগ্রহণের পরও যেসব অভিযোগ এসেছে সেগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে পারত। কিন্তু কমিশন ওই অভিযোগ খতিয়ে না দেখেই নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ করেছে। এ অবস্থায় ওই ঘটনা তদন্তের আর কোনো সুযোগ রইল না। কমিশনের কার্যক্রমের সমালোচনা করে সাবেক এ কমিশনার বলেন, সিইসি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে- এমন বক্তব্য দিয়ে নিজের নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন।
নির্বাচনে বড় ধরনের অনিয়মের বিষয় অস্বীকার করে আসছেন ইসি। সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহ আলম সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল। কেন্দ্র দখল বা অনিয়মের বিষয়ে আমার কাছে কোনো প্রিসাইডিং বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা অভিযোগ করেননি। নির্বাচন পরিচালনায় আমি কোনো সমস্যার মুখেও পড়িনি। শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন সম্পন্ন করেছি।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গেজেট প্রকাশের আগে ও পরে নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে এ পর্যন্ত শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনে। এছাড়া নির্বাচনের দিন দায়িত্বে থাকা মেজিস্ট্রেটদের রিপোর্টেও ভোটগ্রহণে অনিয়মের তথ্য উঠে আসছে। এদিকে গেজেট প্রকাশের পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভোটগ্রহণের অনিয়ম সংক্রান্ত রিপোর্ট সংগ্রহ করছে কমিশন। কমিশনের কাছে কোন কোন কেন্দ্রের অনিয়ম ছিল, আর গণমাধ্যমে কোন কোন কেন্দ্রের অনিয়মের খবর বেরিয়েছে তা মিলিয়ে দেখতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
গেজেট প্রকাশের আগে নির্বাচন কমিশনে ৩০ এপ্রিল দিনে অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম। ভোট কারচুপির প্রমাণস্বরূপ তিনি দুটি কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের লিখিত বক্তব্য কমিশনে জমা দেন। লিখিত বক্তব্যে ৪৮ নম্বর কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন- ৪৮ নম্বর ভোট কেন্দ্রে দুপুর ১টায় হঠাৎ কিছু লোক এসে আমার কাছ থেকে নীল রংয়ের বই কেড়ে নিয়ে সিল মারতে শুরু করে। আমি প্রিসাইডিং অফিসারকে এ ব্যাপারে জানাই এবং ব্যালট বাক্স সরিয়ে ফেলি। তারা বইয়ের ০০২৬১৫৭ থেকে ০০২২৬২০০ নম্বর ব্যালটে সিল মারে। তবে ব্যালট পেপারে আমার কোনো স্বাক্ষর ছিল না। নিরাপত্তার কারণে ভোটগ্রহণ আপাতত বন্ধ রাখি। অবস্থা অনুকূলে এলে পুনরায় শুরু করব। একই ধরনের লিখিত বক্তব্য দেন ৪৭ নম্বর কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নাজনীন আরা।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক মহলের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু থেকেই কমিশনকে নির্লিপ্ত দেখা গেছে। সিটি নির্বাচনে আচরণবিধির ১১টি ধারা সুষ্পষ্টভাবে লংঘন করে প্রচার চালিয়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থীসহ খোদ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। ক্ষমতা থাকার পরও বিধি অনুযায়ী আচরণবিধি লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি নির্বাচন কমিশন। শুধু সতর্ক নোটিশ জারি করে দায় সেরেছে। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারে গেলে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে কয়েক দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি কমিশন। তখন থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে শংকা বদ্ধমূল হয়েছিল। নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা বলেন, আচরণবিধি লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার পরিণাম দেখা গেছে উপজেলা নির্বাচনে। ওই নির্বাচনের শেষ চার ধাপে যে হারে সহিংসতা হয়েছে তাতে ইসির ভাবমূর্তি দারুণভাবে নষ্ট হয়েছে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি সিটি নির্বাচনে ঘটেছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগই একমাত্র জাতীয়তাবাদী দল -সজীব ওয়াজেদ জয়
গতকাল বিকালে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন আয়োজিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্র বনাম উন্নয়ন ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জয় বলেন, আওয়ামী লীগ সেই দল, যে দল দেশের স্বার্থের জন্য বিশ্বের কারো কাছে মাথানত করে না। বিশ্বের চাপের মুখেও যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দিতে পারে। দেশের জনগণ দলটির সঙ্গে আছে বলেই আমরা এটা করতে সাহস পাই।
তিনি বলেন, কিছু লোক জয়বাংলা বলতে লজ্জা পান, কারণ তাদের অন্যরা আওয়ামী লীগ বলবে। এ জন্য তারা জয়বাংলা বলেন না। তবে এটি বাংলাদেশের স্লোগান, স্বাধীনতার স্লোগান।
গণমাধ্যমের সমালোচনা করে জয় বলেন, কিছু কিছু মিডিয়া ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত। তারা পছন্দ করে না যে কোন রাজনৈতিক দল এগিয়ে যাবে, ক্ষমতায় থাকবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি আমাদের নিরীহ কর্মীর পায়ের উপর দিয়ে তুলে দেয় আর তারপর তারা অভিযোগ করে যে আমাদের লোকেরা তাদের গাড়িবহরে হামলা করেছে। আসলে নির্বাচন নয়, তাদের চোখ ক্ষমতার দিকে। তারা চায় নিজেদের খায়েশ পূরণ করতে। ২ দিনের জন্য হলেও গাড়িতে পতাকা উড়াতে চায়। যদিও তাদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কোন ক্ষমতা নেই।
তিনি বলেন, আমি মিডিয়ার লোকদের দোষ দেব না। তাদের তো পেপার বেচতে হবে, এড নিতে হবে। তবে কিছু কিছু মিডিয়া মালিকরা নিজেদের আসল দায়িত্ব কর্তব্য ভুলে গেছে। জয় বলেন, সেদিন আমি এক সাংবাদিককে বলছিলাম আপনারা কি মানুষকে এন্টারটেইন করতে চান, নাকি খবর দিতে চান। জবাবে সে বলেছিল মানুষ সরকারের বিপক্ষে না লিখলে তা পড়তে চায় না। তখন আমি বলেছিলাম আপনারা যদি মানুষকে এন্টারটেইন করতে চান তাহলে তো এটা খবরের কাগজ না হয়ে ম্যাগাজিন অথবা ট্যাবলয়েড হওয়া দরকার ছিল। কারণ খবরের কাগজ হলে তাতে সঠিক খবর দিতে হবে। সেটা সরকারের পক্ষে যাক অথবা বিপক্ষে।
সংগঠনের পরিচালক কানতারা খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, শোকালিয়া ঈদগাঁও মাঠের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু। সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ এ আরাফাত। অনুষ্ঠানে ঢাকার দুই মেয়রও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
দেশের একটি দৈনিক পত্রিকায় ছাপা প্রতিবেদনের উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীপুত্র বলেন, ‘ইসির কাছে এক সপ্তাহে বিপুল নালিশ’ শিরোনামে আজ একটি প্রতিবেদন পড়লাম। সেখানে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে সিটি নির্বাচনের পর এক সপ্তাহে ইসির কাছে ৪০টি নালিশ জমা হয়েছে। আমি বলতে চাই এটাতো সুখবর। ২৭০১টি কেন্দ্রের মধ্যে এক সপ্তাহে মাত্র ৪০টি নালিশ জমা হয়েছে। ধরে নিলাম ৪০টি কেন্দ্র থেকে এসব নালিশ দেয়া হয়েছে। এর মানে মাত্র দেড় শতাংশ ভোটকেন্দ্র থেকে নালিশ গিয়েছে বাকি ২৬৬১টি কেন্দ্রে সুন্দর ভাবে ভোট হয়েছে।
জয় বলেন, বিশ্বের সামনে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন কেউ আমাদের মাথা নিচে নামাতে পারবে না। আওয়ামী লীগ ৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার কারণেই দেশ এগিয়ে গেছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানব পাচারে ৭৯ গডফাদার by দীন ইসলাম
টেকনাফ এলাকার মানবপাচারকারী গডফাদার যারা: টেকনাফ এলাকার মানবপাচারকারী গডফাদারের সংখ্যা ৩১ জন। তালিকায় গডফাদারদের মধ্যে রয়েছে- আবদুুর রহমান বদি (৪৩), পিতা-মৃত এজাহার মিয়া কোম্পানি, সাং-চৌধুরীপাড়া, পো:+থানা: টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; জাফর আহমদ (৫১), পিতা-মৃত সুলতান আহমদ, সাং-উত্তর লেঙ্গুর বিল, পো:+থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মৌলভী মুজিবুর রহমান (৩২), পিতা-মৃত এজাহার কোম্পানি, সাং-জালিয়াপাড়া, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. ধলু হোসেন (৫৫), পিতা-মৃত সুলতান আহমদ, সাং-বাজারপাড়া, শাহ্পরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. ইউনুছ (৪০), পিতা-মৃত, সুলতান আহমদ, সাং-বাজারপাড়া, শাহ্পরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. ইসমাইল (৩৫), পিতা-ছালে আহমদ, সাং-বাজারপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; ফিরোজ আহমদ, পিতা-মৃত আবু শামা ওরফে বাডু হাজী, সাং-ডাঙ্গরপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; দেলোয়ার (৩৮), পিতা-মৃত আবদুল মোতালেব, সাং-ডাঙ্গরপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. সাহাব মিয়া, পিতা-মৃত সুলতান আহমদ, সাং-মাঝেরপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. শরীফ হোসেন (৪০), পিতা-মৃত জালাল আহমদ, সাং-মিস্ত্রিপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; শরীফ হোসেন ভুলু (৪৫), পিতা-মৃত মো. হোসেন, সাং মিস্ত্রিপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; সাহেদুর রহমান নিপু, পিতা-আবদুর রহমান ওরফে অসি আবদুর রহমান, সাং-পুরানপাড়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; হামিদ হোসেন (৪০), পিতা-মৃত হাজী আবদুল করিম, সাং-বাজারপাড়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; জহির উদ্দিন ওরফে কানা জহির (৬০), পিতা-মৃত হোসেন আলী সিকদার, সাং-মুন্ডারডেইল, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মৌলভী আজিজ, পিতা-মৌলভী নাছির উদ্দিন, সাং-পুরানপাড়া, শামলাপুর, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; নূর হাকিম মাঝি (৫৫), পিতা-মৃত গণি মিয়া, সাং-দক্ষিণপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; নূর মোহাম্মদ মেম্বার, পিতা-নজু মিয়া, সাং-নয়াপাড়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার; মৌলভী বশির ওরফে ভাইলা, পিতা-মৃত সুলতান আহমদ, সাং-কন্ডুবুনিয়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার; নজির আহমদ ওরফে নজির ডাকাত, পিতা-আবদুর রহিম, সাং-কচুবুনিয়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার; আবদুল হামিদ (৪০), পিতা-আবদুল খালেক, সাং-কচুবুনিয়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার; গুরা মিয়া (৩২), পিতা-মৃত মোছাব্বর আহমদ, সাং-কচুবুনিয়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার; মো. কাসেম ওরফে জিমা কাসেম (৫৫), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-কচুবুনিয়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার; মো. ইসলাম ওরফে বাগু (৩২), পিতা- ফজল আহমদ, সাং-কচুবুনিয়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার; জাফর আলম (৩৫), পিতা-ফজল আহমদ, সাং-কচুবুনিয়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার; আক্তার কামাল (৩৫), পিতা-নজির আহমদ মেম্বার, সাং-আলীরডেইল, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার; শাহেদ কামাল (৩০), পিতা-নজির আহমদ মেম্বার, সাং-আলীরডেইল, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার; আবদুর গফুর (৪০), পিতা-আলু ফকির, সাং-হাদুরছড়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার; হেবজ রহমান ওরফে হেবজ মাঝি (৪২) বোহিঙ্গা, পিতা-অজ্ঞাত, সাং-খানকারডেইল, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. নুরুল হুদা, পিতা-মৃত আবুল কাসেম, সাং-পশ্চিম লেদা, হ্নীলা, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. নুরুল কবির, পিতা-মৃত আবুল কাসেম, সাং-পশ্চিম লেদা, হ্নীলা, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; আমান উল্লাহ ওরফে আনু, পিতা-মো. শফি (এম,আর,সি নং-৪৯০৭২, রুম নং-১, শেড নং-৬৯১, ব্লক-এইচ), নয়াপাড়া নিবন্ধিত শরণার্থী শিবির।
টেকনাফ এলাকার মানবপাচারকারীদের গডফাদার যারা: টেকনাফ এলাকার মানবপাচারকারীদের গডফাদার ও দালাল সংখ্যা ৪৮ জন। এ তালিকায় রয়েছে- বেলাল উদ্দিন (২২), পিতা-মো. ধলু হোসেন, সাং-বাজারপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; নূর হোসেন (৩২), পিতা-মৃত জালাল আহমদ, সাং-মিস্ত্রিপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; নুরুল আলম, পিতা-নজির আহমদ, সাং-মিস্ত্রিপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; এনায়েত উল্লাহ, পিতা-হাজী আলী হোসেন, সাং-মিস্ত্রিপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. সেলিম, পিতা-মৃত হোসেন, সাং-মিস্ত্রিপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. হোসেন, পিতা-দলিল মিয়া, সাং-মিস্ত্রিপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; জাফর আহমদ, পিতা-জোর আহমদ, সাং-মিস্ত্রিপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. শফিক, পিতা-মাহমুদুল্লাহ মাঝি, সাং-দক্ষিণপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; আবু তাহের, পিতা-আবুল কাসেম মিয়া, সাং-দক্ষিণপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. জাফর, পিতা-মৃত নূর আহমদ, সাং-দক্ষিণপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; আলী মাঝি, পিতা-অজ্ঞাত, সাং-দক্ষিণপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; সামসুল আলম, পিতা-মৃত কবির হোসেন, সাং-গোপাপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. সাব্বির আহমদ, পিতা-মৃত আব্দুল লতিফ, সাং-মাঝেরপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. কামাল হোসেন, পিতা-কাল মিয়া, সাং-সাঁঝেরপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. হাসান, পিতা-ফয়জুর রহমান, সাং-কোনারপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. কবির হোসেন, পিতা-শফি মিয়া, সাং-পশ্চিমপাড়া, শাহপরীরদ্বীপ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. কবির হোসেন, পিতা-নূর আহমদ, সাং-হারিয়াখালী, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; সাদ্দাম (৪৫), পিতা-নূর আহমদ, সাং-হারিয়াগালী, পো: সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; আবুল কালোম, পিতা-শুরা মিয়া, সাং-হারিয়াখালী, পো: সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. শরীফ, পিতা-লাল মিয়া, সাং-নয়াপাড়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. লিটন, পিতা-আবদুুল্লাহ, সাং-নয়াপাড়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. আবুল হাসেম, পিতা-মো. জালাল, সাং-নয়াপাড়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. দলিল আহমদ, পিতা-মো. হোসেন, সাং-নয়াপাড়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; সিদ্দিক আহমদ, পিতা-ইউসুফ আলী, সাং-কাটাবনিয়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; ফয়েজ, পিতা-আজিজুর রহমান, সাং-কাটাবনিয়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; নুরুল ইসলাম ওরফে কালা পুতু, পিতা-মৃত মকবুল আহমদ, সাং-কাটাবনিয়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; জাহাঙ্গীর, পিতা-আব্দুল মাজেদ, সাং-কাটাবনিয়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মীর আহমদ, পিতা-অজ্ঞাত, সাং-কাটাবনিয়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. শাকের মাঝি (৩০), পিতা-কবির আহমদ, সাং-মুন্ডারডেইল, পো: সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; নুরু মাঝি (৪০), পিতা-নাজু মিয়া, সাং-মুন্ডারডেইল, পো: সাবরাং, থানা-টেকনাফ, কক্সবাজার; হাফেজ মোক্তার, পিতা-মৌলভী আবদুল গফুর, সাং-পুরানপাড়া, সাবরাং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. সৈয়দ আলম, পিতা-মৃত দুদু মিয়া, সাং-জালিয়াপাড়া, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; আব্দুর রহিম, পিতা-মঈনুজ্জামান, সাং-কচুবুনিয়া, সদর, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; আলী আহমদ ওরফে আলী বলি, পিতা-অজ্ঞাত, সাং-মিঠাপনির ছড়া, সদর, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; নুরুল ইসলাম মাঝি, পিতা-মৃত গোলাল আহমদ, সাং-মিঠাপনির ছড়া, সদর, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; আইয়ুব আলী মাঝি, পিতা-মৃত আশরাফ আলী, সাং-ধুমপ্রাং বিল, টেকনাফ সদর, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; আল মাসুদ, পিতা-মফিজুর আলম, সাং-বাজারপাড়া, হ্নীলা, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; জাহাঙ্গীর, পিতা-রবিউল হোসেন ওরফে আনসার, সাং-বাজারপাড়া, হ্নীলা, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; সোহাগ আবদুুল্লাহ, পিতা-আবদুর রহিম, সাং-পশ্চিম লেদা, হ্নীলা, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; কবির ওরফে ডা. কবির (৫০), পিতা-অজ্ঞাত, ব্লক-এ, লেদা অনিবন্ধিত শরণার্থী শিবির, হ্নীলা, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. আলম ওরফে মাত আলম, পিতা-মৃত আমির হামজা (এমআরসি নং-৫৪৩৯৪, রুম নং-৫, ৬, শেড নং-৯৭২, ব্লক-ই), নয়াপাড়া নিবন্ধিত শরণার্থী শিবির; এনায়েত উল্লাহ, পিতা-হাফেজ আবদুর রহমান, সাং-উনছিপ্রাং, হোয়াইক্যং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; মো. শামসুল আলম, পিতা-আব্দুর রশীদ, সাং-উনছিপ্রাং, হোয়াইক্যং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার; আবদুস সালাম ওরফে আবদু কোম্পানি, পিতা-রশীদ আহমদ, সাং-নয়াপাড়া, শামলাপুর, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার ও আজিজুল ইসলাম ওরফে পুতুইয়া, পিতা-রশীদ আহমদ, সাং-নয়াপাড়া, শামলাপুর, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজারসহ আরও তিন জন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বৃটেনে ভোট আজ লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি
আজ সেখানকার প্রায় ৫০ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন প্রায় ৪ হাজার প্রার্থী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত। এজন্য বাংলাদেশী কমিউনিটিতে পড়েছে সাড়া। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিরোধী লেবারদের। কিন্তু কোনো দলই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পাবে না, এমনটিই অনুমান করছেন বেশির ভাগ পর্যবেক্ষক। সেক্ষেত্রে ২০১০ সালের মতো এবারও জোট সরকার গঠনের দিকেই এগোতে হবে দলগুলোকে। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা ও বিবিসি। এদিকে জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ছোট ছোট দলগুলোর সম্ভাবনা এবার অনেক বেশি। এর বাইরে স্কটল্যান্ডের স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টিও পেতে পারে স্কটল্যান্ডের বিপুল পরিমাণ আসন। ফলে এবারের নির্বাচনী সমীকরণ কিছুটা ভিন্ন। মোট ৬৫০টি আসনের হাউস অব কমন্সের (যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট) ৫৩৩টি আসনই পড়েছে ইংল্যান্ডের ঘরে। এছাড়া স্কটল্যান্ডে ৫৯টি, ওয়েলসে ৪০টি, উত্তর আয়ারল্যান্ডে ১৮টি আসন রয়েছে। যে কোন দলের এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ৩২৬টি আসন। সেটি কোনো দলই পাবে না বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ফলে অবধারিতভাবে জোট সরকার গঠনের বিষয়টিই সামনে চলে আসবে।
এবারের নির্বাচনী প্রচারাভিযান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এবারে প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও নেতিবাচক আক্রমণ ছিল বেশি। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন প্রথম ছুড়েছেন গোলা। লেবার দলের প্রধান এড মিলিব্যান্ডকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মিলিব্যান্ড নিজের ভাইয়ের পেছনে ছুরিকাঘাত করে লেবার নেতা হয়েছেন। এখন তিনি যুক্তরাজ্যের পেছনে ছুরিকাঘাত করে প্রধানমন্ত্রী হতে চান! এর আগে মিলিব্যান্ড নিজেও ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন। তার দাবি, লিবিয়ায় যুদ্ধপরিবর্তী সমস্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের ব্যর্থতার দরুনই লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অভিবাসীদের আগমন বাড়ছে।
এবার সরকার গঠনে জোট গঠনও অনেক জটিল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান উপ-প্রধানমন্ত্রী ও লিব-ডেম দলের প্রধান নিক ক্লেগ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সমঝোতা না হওয়ার ফলে এ বছরই আরেকটি নির্বাচন হতে পারে। তবে কনজারভেটিভদের সঙ্গে লিব-ডেমের জোট গঠনের সম্ভাবনা বেশি। লেবারদের সঙ্গেও দলটির জোটগঠনের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। এছাড়া এসএনপি’র সঙ্গেও জোট গঠন করতে পারে লেবার। যদিও স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষের এসএনপি’র সঙ্গে জোট গঠন করবে না বলে জানিয়েছে লেবার সহ ইংল্যান্ডের অন্যান্য দল। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে লেবারের সঙ্গে এসএনপির জোটগঠন অসম্ভব নয়। কেননা, দল দুটির মতাদর্শে খুব একটা পার্থক্য নেই।
তবে এসবের বাইরে এবারের নির্বাচনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি)। স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার পক্ষে গণভোটের পর দলটির জনপ্রিয়তা ব্যাপক বেড়েছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে স্কটল্যান্ডের ৬০টি আসনের মধ্যে এসএনপি পেয়েছিল মাত্র ৬টি। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এবার দলটি সর্বোচ্চ ৫০টি আসনও পেয়ে যেতে পারে। গত নির্বাচনে স্কটল্যান্ডে আধিপত্য ছিল লেবার দলের। দলটি সেখানে ৪১টি আসন পেয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। এমনকি এসএনপি নেতা নিকোলা স্টার্জিওন বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হয়েছেন। এ অবস্থায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক দলকে হটিয়ে এসএনপি হয়ে উঠতে পারে বৃটেনের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। কিন্তু স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষের এ দলটিকে নিয়ে স্বস্তিতে নেই ইংল্যান্ডের কোন দলই। এছাড়া ক্রমাগতই রক্ষণশীল ও ডানপন্থিদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে এসএনপি। ডানপন্থি বলে পরিচিত ডেইলি টেলিগ্রাফ ও ডেইলি মেইলে চলছে এসএনপি ও স্টার্জিওনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আক্রমণ। তবে এটি ইংল্যান্ডের রাজনীতিবিদদের স্কটিশ-বিরোধী মনোভাব বলে প্রতীয়মান হতে পারে স্কটিশ ভোটারদের কাছে। এছাড়া এর ফলে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এমনটিই বলছিলেন কয়েকজন পর্যবেক্ষক। এমনকি অনেক স্কটিশই এমন দাবি করে ফেলেছেন। অপরদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বিরোধী ইউকে ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টি (ইউকিপ) আগের তুলনায় কিছুটা ভাল ফল করতে পারে এবার। বিশেষ করে কনজারভেটিভদের ভোটে ভাগ বসাতে পারে দলটি।
ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভরা সরকার গঠন করলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের প্রস্থানের পথ ত্বরান্বিত হতে পারে। অপরদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লেবাররা জয় পেলে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন।
জনমত জরিপ: ইউ-গভ এর জনমত জরিপ প্রকাশিত হয়েছে সর্বশেষ। সেখানে দেখা যাচ্ছে, লেবার দল সর্বোচ্চ ২৭৬টি আসন পাবে। এর পরেই থাকবে কনজারভেটিভ দল। তাদের অনুমিত আসন সংখ্যা ২৭২টি। এসএনপি পাবে ৫২টি আসন। লিবারেল ডেমোক্রেট দল পাবে মাত্র ২৪ টি আসন। অন্যান্য দল পাবে ২৬টি আসন।
নির্বাচনে প্রধান ইস্যুগুলো কি: অর্থনীতি, ইমিগ্রেশন এবং জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা এনএইচএস- বলতে গেলে এই তিনটি ইস্যুতেই বেশি বিতর্ক চলছে এবারের নির্বাচনে। ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় বৃটিশ অর্থনীতির অবস্থা এই মুহূর্তে ভাল- কনজারভেটিভরা সেই সাফল্যের ওপর জোর দিচ্ছে। লেবার পার্টি দেখাতে চাইছে কনজারভেটিভরা আরেক দফা ক্ষমতায় গেলে বৃটেনে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে। আর ইউকিপ-এর মতো দক্ষিণপন্থি দল ইমিগ্রেশনের বিরুদ্ধে কট্টর অবস্থান নিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। সরকারি কৃচ্ছ্রসাধন ও নিউক্লিয়ার ব্যয় নিয়েও সরকারের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে।
যদি কোন দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তখন কি হবে: এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের মধ্যে শুরু হবে সরকার গঠনের লক্ষ্যে আলোচনা আর দরকষাকষি। সরকার গঠনের সম্ভাব্য দাবিদার বড় দুই দল কনজারভেটিভ আর লেবার পার্টি নেতারা জোর চেষ্টা চালাবেন ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের। ধরে নেয়া যেতে পারে ডেভিড ক্যামেরন বা এড মিলিব্যান্ড- এ দুজনের একজনই হবেন পরবর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী।
পার্লামেন্টে সবচেয়ে বড় দলটিই কি সরকার গঠনের সুযোগ পাবে: না, একদম নিশ্চিত করে এ কথা বলা যাবে না। ধরা যাক কনজারভেটিভরা তিনশ’ আসন জিতলো, তাদের এখন আরও ২৬টি আসন দরকার। সেক্ষেত্রে অন্য দলের সমর্থন তাদের দরকার হবে। তারা যদি সেই সমর্থন না পায়, তখন দ্বিতীয় বৃহত্তম দলটিও সরকারে চলে আসতে পারে অন্য ক্ষুদ্র দলগুলোর সমর্থন নিয়ে। লেবার পার্টির ক্ষেত্রে এরকম সম্ভাবনা প্রবল যদি তারা স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (এসএনপি) সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে রাজি হয়। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ডেভিড ক্যামেরনই প্রথম চেষ্টা চালাবেন তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের। যদি ব্যর্থ হন তখন তিনি পদত্যাগ করে সরে দাঁড়াবেন, সেটাই রীতি। তখন দ্বিতীয় বৃহত্তম দলের প্রধান হিসেবে এড মিলিব্যান্ড তার জোট সঙ্গীদের নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা চালাতে পারেন।
কোন দলের সঙ্গে কাদের জোট হতে পারে: বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ক্ষমতায় আছেন তাদের জোটসঙ্গী লিবারেল ডেমক্রেটিক পার্টির সমর্থনে। এখন এবারের নির্বাচনে কনজারভেটিভরা এবং লিবারেল ডেমক্রেটরা মিলে ৩২৬ বা তার চেয়ে বেশি আসনে জেতেন, তাহলে আশা করা যায়, তাদের মধ্যে আবারও জোট হতে পারে। কিন্তু আশঙ্কা হচ্ছে লিবারেল ডেমক্রেটদের আসন এবার অনেক কমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কনজারভেটিভদের জন্য আরও একটি/দুটি ক্ষুদ্র দলের সমর্থন দরকার হতে পারে। এবারের নির্বাচনে ইউকিপ বেশকিছু আসন জিতবে বলে আশা করা হয়। কিন্তু ইউকিপের মতো কট্টর রক্ষণশীলরা যদি সরকারের অংশ হয়, লিবারেল ডেমোক্রেটরা সেই সরকারে যোগ দেবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। লেবার পার্টির জন্য জোট গঠনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য দুই সহযোগী দল হচ্ছে লিবারেল ডেমোক্রেট এবং এসএনপি। অংকের হিসেবে লেবার, লিব-ডেম জোটের সম্ভাবনা কম, কারণ দুই দল মিলে ৩২৬ টি আসনের হিসাব মেলানো কষ্টকর। এর চেয়ে অনেক সহজ লেবার-এসএনপি জোট। কিন্তু এসএনপির সঙ্গে লেবার পার্টি জোট গঠনের সম্ভাবনা আগে থেকেই নাকচ করে দিচ্ছে।
যদি কোন দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারে, তখন কি হবে: সেক্ষেত্রে একমাত্র বিকল্প আরেকটি নির্বাচন। এরকম আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। লিবারেল ডেমক্রেটিক পার্টির নেতা উপ-প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগের ধারণা, নির্বাচনের কয়েক মাসের মধ্যেই এ রকম পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। সরকারকে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে পদত্যাগ করতে হয় এ বছরই ক্রিসমাসের আগে বৃটেনকে আরেক দফা নির্বাচনে যেতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজ্যসভায়ও সীমান্তচুক্তি বিল পাস by পরিতোষ পাল
সীমান্ত চুক্তিতে কী রয়েছে: সীমান্ত চুক্তিতে তিনটি অংশ রয়েছে। প্রথমটি হলো- সীমান্তের তিনটি অংশে ৬.১ কিলোমিটার অচিহ্নিত অংশ। বাংলাদেশের নীলফামারি ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশের ফেনীর মুহুরি নদী ও ভারতের ত্রিপুরার বিলোনিয়া এবং বাংলাদেশের মৌলভিবাজারের লাঠিটিলা-ডুমাবাড়ি ও ভারতের আসাম। চুক্তির দ্বিতীয় অংশ হলো- দুই দেশের ১৬২টি ছিটমহল বিনিময়। আর তৃতীয় অংশে রয়েছে ৫০০০ একর অপদখলীয় এলাকা। চুক্তি অনুয়ায়ী ভারত ১৭১৫৮ একর জমিসহ ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশকে হস্তান্তর করবে। এই ছিটমহলগুলোতে রয়েছেন ৩৭৩৬৯ জন মানুষ। বাংলাদেশের চারটি জেলায় এগুলো ছড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে ১২টি, লালমনিরহাটে ৫৯টি, নীলফামারিতে ৪টি ও পঞ্চগড়ে ৩৬টি। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভারতে হস্তান্তর করবে ৭১১০ একর জমিসহ ৫১টি ছিটমহল। এই ছিটমহলগুলোর জনসংখ্যা ১৪২১৫ জন। এগুলোর অধিকাংশই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায়। ছিটমহল পুরোপুরি হস্তান্তরের ফলে বাংলাদেশ পাবে অতিরিক্ত ১০ হাজার একর জমি। অপদখলীয় জমির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রাপ্তি হবে ২২৬৭.৬৮২ একর আর ভারতের অংশে যাবে ২৭৭৭.০৩৮ একর জমি।
চুক্তির কাঁটাময় পথ: ভারতভাগের সময় স্যার সিরিল র্যাটক্লিফ যেভাবে সীমান্ত চিহ্নিত করে রায় দিয়েছিলেন তাতে অনেক ধরনের জটিলতা ছিল। সেই জটিলতা ভারত ও পূর্ব পাকিস্তান শুরু থেকেই সমাধানের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মতপার্থক্য তীব্র হয়েছিল নানা প্রশ্নে। এই অবস্থাতেই ১৯৫৮ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ফিরোজ খান নুন প্রথম সীমান্ত চুক্তি করেছিলেন। সেই চুক্তিতে ছিটমহল ও বেরুবারির একটি অংশ বিনিময়ের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু তা কার্যকর করা হয় নি অনেকটি মামলার ফলে। তবে ভারতের সংসদে ১৯৬০ সালে ৯ম সংশোধনীর মাধ্যমে ছিটমহল বিনিময়ের কথা হলেও সেটিও শেষপর্যন্ত আর এগোয়নি। এই জটিলতা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত ১৯৭৪ সালে স্থল সীমান্ত চুক্তি করে। সেই চুক্তি বাংলাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে সংসদে অনুমোদন করলেও ভারতে তা অনুমোদনের কোন চেষ্টাই হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত চুক্তি কার্যকর করার পথে ভারত এগোয়নি। তবে মাঝে আঙুরপোতা ও দহগ্রাম বিনিময় হযেছে। তিনবিঘা করিডর লিজ দেওয়ার চুক্তি হয়েছে। তবে ২০১১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফরে গিয়ে সীমান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে একটি প্রটোকল স্বাক্ষর করেন। এরপরই আগের ইউপিএ সরকার বারবার রাজ্যসভায় সীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেস করার জন্য চেষ্টা চালায়। কিন্তু বারবার অসম গণপরিষদ, বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবল বাধার ফলে তা পেশ করা যায়নি। তবে বিলটিকে বাঁচিয়ে রাখতে ২০১৩ সালে রাজ্যসভায় বিলটি পেস করা হলেও সেটিকে পাঠিয়ে দেয়া হয় পররাষ্ট্র বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটিতে। জয়রাম রমেশের নেতৃত্বাধীন সেই কমিটি অনেক আলোচনার পর সহমতের ভিত্তিতে বিলটি দ্রুত পেশ করার জন্য মোদি সরকারের কাছে সুপারিশ করে। মোদি ক্ষমতায় আসার পরই বিজেপি সীমান্ত চুক্তি নিয়ে মত বদল করে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকলে মোদি সরকারের কাছে বিলটি কার্যকর করার আবেদন জানায়। গত বছর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, মুঝ পর ভরসা রাখিয়ে। কিন্তু সময় এগিয়ে গেলেও বিলটি গত সংসদ অধিবেশনে পেশ করা সম্ভব হয়নি। অবশ্য সময়ের অজুহাত দেয়া হয়েছিল। তবে এই সময়ের ব্যবধানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সীমান্ত চুক্তি নিয়ে বিরোধিতার পথ ছেড়ে বিলে সমর্থনের সবুজ সংকেত দেন। কিন্তু বিলটি পেশ করার সিদ্ধান্ত যখন প্রায় চূড়ান্ত তখনই আসামের বিজেপি নেতৃত্ব আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রেখে আপাতত সীমান্ত বিলে আসামকে না রাখার দাবি তোলেন। মোদি সরকারও সেই দাবি মেনে নিয়ে গত ২৯শে এপ্রিলের কেবিনেট বৈঠকে আংশিকভাবে সীমান্ত বিলের খসড়ায় অনুমোদন দেয়। তবে কংগ্রেস আংশিকভাবে আনা বিলকে সমর্থন জানাবে না ঘোষণা করায় তৈরি হয় জটিলতা। বিলটি পাস করাতে না পারলে বাংলাদেশের আস্থা যে চিড় খাবে সেটা বুঝতে পারছিল মোদি সরকার। আর তাই এই অনিশ্চয়তা কাটাতে মোদির নির্দেশে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ তড়িঘড়ি আসামের বিজেপি নেতা ও আরএসএস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সীমান্ত চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। এর পরই গত বুধবার ফের কেবিনেট কমিটির বৈঠকে সীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী ও পূর্ণাঙ্গ খসড়া অনুমোদিত হয়। সেই পথে তৈরি হয় বিলটি পা হওয়ার ঐতিহাসিক পরিস্থিতি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইছামতী এখন মৃতপ্রায় by সরোয়ার মোর্শেদ
![]() |
| ইছামতী নদীর ছবিটি ৬ মে, ২০১৫ পাবনা মধ্যশহরের বড় ব্রিজ এলাকা থেকে তোলা l প্রথম আলো |
দীর্ঘদিন ধরে নদীটি দখলমুক্ত ও খননের জন্য রাজনৈতিক বহু প্রতিশ্রুতি এলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে একসময়ের স্রোতস্বিনী নদীটি এখন জেলাবাসীর দুঃখ-কষ্টে পরিণত হয়েছে।
জেলার প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক দিকে পদ্মা, অপর দিকে যমুনার সঙ্গে মিশেছে ইছামতী। এই নদীর জন্যই পাবনা প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী হোসিয়ারিশিল্পে। একসময় নদীপথে দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীরা মালামাল আনা-নেওয়া করতেন। স্বাধীনতার পর ১০-১৫ বছর নদীটি সচল ছিল। কিন্তু দিনে দিনে শহরে লোকসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দখল হতে থাকে দুই পাড়। প্রশস্ততা কমে পরিণত হয় মরা খালে।
পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে জেলা প্রশাসন নদীর উৎসমুখ পাবনা সদর উপজেলার চর শিবরামপুর থেকে পাবনা পৌর এলাকার শালগাড়িয়া শ্মশানঘাট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট বেদখল হয়েছে বলে শনাক্ত করে। এ সময় ২৮৪ জন দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়। ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কিছু জায়গা দখলমুক্ত করা হলেও পরে তা আবার বেদখল হয়ে যায়।
পাবনা জেলা হোসিয়ারি ম্যানুফ্যাকচারিং গ্রুপের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, বর্তমানে ইছামতীর সঙ্গে সঙ্গে জেলার হোসিয়ারিশিল্প মৃতপ্রায়। স্থলপথে মালামাল বহনে ব্যয় বেশি হওয়ায় এখন আর পাইকারেরা এখান থেকে পণ্য নেন না। পাবনা শিল্প ও বণিক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ইছামতী শুকিয়ে যাওয়ায় জেলার সব ব্যবসা-বাণিজ্যই থমকে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীটি খননের দাবি করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরবাসীকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে ইছামতী। কয়েকটি ছোট ছোট ব্রিজ দুই পারের বাসিন্দাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। তবে নদীর কোনো অংশেই পানির প্রবাহ নেই। শহরের বর্জ্য নিষ্কাশনের নর্দমাগুলো এসে মিশেছে নদীতে। ফলে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে নদীর অনেক অংশ। দখল ও বর্জ্যের স্তূপে প্রশস্ততা কমে গেছে।
নদীপারের বাসিন্দারা জানান, দিনে দিনে নদীর দুই পাড়ে দখল বাড়ছে। শহরের বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, হোটেল-রেস্তোরাঁর আবর্জনা ফেলা হচ্ছে নদীতে। ময়লা-আবর্জনার গন্ধে দূষণ হচ্ছে পরিবেশ। হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
পাবনার প্রবীণ শিক্ষক ও পরিবেশবিদ শাহনেওয়াজ সালাম জানান, বর্জ্যের কারণে পুরো শহরের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। মশার উপদ্রব বাড়ছে। দিনে দিনে নিঃশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে শহরবাসীর। শহরের রাধানগর মহল্লার বাসিন্দা ফারুক হোসেন চৌধুরী বলেন, নদীটি দখলমুক্ত করে খননের জন্য এ পর্যন্ত বহু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এসেছে। কিন্তু তা কখনোই বাস্তব রূপ নেয়নি।
পাবনা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা সদিচ্ছা থেকেই বারবার নদীটি খননের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। কিন্তু পর্যাপ্ত বাজেট না পাওয়ায় প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।’
পাবনা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তাবিবুর রহমান বলেন, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নদীটি খননের জন্য সামান্য বরাদ্দ দিয়েছিল। এই বরাদ্দে নদী পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম সরকার বলেন, নদীটি খননের জন্য ২০০১ সালে ১০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়নি। বরাদ্দ পেলেই নদীটি পুনঃখননের কাজ শুরু করা হবে।
জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে নদীর দখলদার উচ্ছেদের নির্দেশনা আছে। পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইতি ঘটতে পারে সীমান্ত চুক্তির
সীমান্ত চুক্তিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে
পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের স্থল সীমান্ত চুক্তিও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির স্বার্থে মোদি সরকার সীমান্ত চুক্তির আওতা থেকে আসামকে বাদ দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে কংগ্রেস। আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈও রাজ্যের সঙ্গে কোন রকম আলোচনা না করেই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে তার আপত্তির কথা জানিয়েছেন। কংগ্রেস সূত্রে জানানো হয়েছে, মোদি সরকার আসামকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আংশিকভাবে সীমান্ত চুক্তি বিল রূপায়িত করতে চাইলে কংগ্রেস তাতে বাধা দেবে। সরকারের শীর্ষস্তরের মন্ত্রীদেরও কংগ্রেস তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছে। সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গোলাম নবী আজাদ বলেছেন, আসামের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে আপাতত এই রাজ্যকে চুক্তির আওতার বাইরে রাখার চেষ্টা করছে। কংগ্রেস কোনভাবেই বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে মধ্যে সংকীর্ণ রাজনীতির অনুপ্রবেশ মেনে নেবে না বলে আজাদ জানিয়েছেন। কয়েকদিন আগেই জানাজানি হয় যে সীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত বিলটি আংশিকভাবে সংসদে পেশ করা হবে। আসামের ভোটের কথা মাথায় রেখে এবং সেখানকার বিজেপি নেতাদের দাবি মেনে নিয়ে আসামকে বাদ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ২৯শে এপ্রিল কেবিনেট বৈঠকে বিষয়টি অনুমোদিতও হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ের সঙ্গে ভূখণ্ড বিনিময় অংশটি হুবুহু এক থাকবে। ৫ই মের পরে বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করার কথা জানিয়েছিলেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু। তবে সংসদেও বিজনেস এডভাইসরি কমিটির বৈঠকে বিলটি কবে পেশ করা হবে তা কংগ্রেসের আপত্তির মুখে চূড়ান্ত করা যায়নি বলে জানা গেছে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৭৪ সালে। ভারত এটি অনুমোদন দেয়নি। এরপর ২০১১ সালে ইউপিএ সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকা সফরে গিয়ে একটি প্রটোকল স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই মতই সীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটি রাজ্যসভায় পাস হওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত হযেছিল। সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিও বিলটি দ্রুত রূপায়ণের সুপারিশ করেছিল। তবে আসাম বিজেপির নেতারা মোদি সরকারের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে চুক্তি হলে আসামের ২৬৮ একর জমি বাংলাদেশে চলে যাবে বিনিময়ে আসাম কিছুই পাবে না বলে যে প্রচার করছে তাতে আপত্তি জানিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানিয়েছেন যে, ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত চিহ্নিতকারী রেখা নতুন করে আঁকা হলে (২০১১ সালের বিল অনুযায়ী), করিমগঞ্জ জেলার লাঠিটিলা-দুমাবড়ি সেক্টরের লাঠিটিলা এলাকায় বাংলাদেশের দখলে থাকা ৭১৪ একর বিতর্কিত জমি অসমের হাতে আসবে। বদলে বড়ইবাড়ি কালাবাড়ি এলাকায় ১৯৩.৮৫ একর জমি ও পাল্লাঠাল এলাকার ৭৪.৫৫ একর জমি পাবে বাংলাদেশ। গগৈয়ের বক্তব্য, ওই ২৬৮.৪০ একর জমি নামেই ভারতের সীমান্তভুক্ত। তা আদতে বাংলাদেশের হাতেই রয়েছে। তাই জমি বিনিময় হওয়ার পর, অসম তথা ভারত ৪৪৫.৬ একর জমি বেশি পাবে। নতুন চুক্তি হলে আখেরে লাভবান হবে আসামই। এই তথ্য বিভ্রান্তির কথা প্রধানমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন তরুণ গগৈ। ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসামে এসে জমি হস্তান্তরে রাজ্যের মানুষের সম্মতি চেয়ে বলেছিলেন, আসামের মানুষের আবেগের কথা মাথায় রেখে বলছি, এই হস্তান্তর আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতি বলে মনে হলেও, এতে আসামের লাভ হবে। বন্ধ হবে অনুপ্রবেশ। স্থলসীমান্ত চুক্তি থেকে আসামবাসীর যাতে লাভ হয়, আমরা সেই চেষ্টা করবো। কিন্তু হঠাৎ করে রাজ্যের বিজেপি নেতারা বেঁকে বসেছেন। আসাম বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, এই চুক্তিতে আসামকে শামিল করলে বিধানসভা ভোটে দলের ভরাডুবি হবে। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে আসামে ১৪টির মধ্যে ৭টিতে জিতে বিজেপি সেখানে জয়ের গন্ধ পেয়েছে। রাজ্যে পুর নির্বাচনেও ভাল ফল করেছে বিজেপি। ফলে আগামী বিধানসভা ভোটে রাজ্য দখল করাই দলের লক্ষ্য। সেদিকে তাকিয়েই দলের নেতারা এই চুক্তি নিয়ে আপত্তি তোলে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তা মেনে নেয়। আর এরই ফলে সীমান্ত চুক্তি নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মত দ্বন্দ্ব তীব্র হযেছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বিলটি। কংগ্রেসের আপত্তিতে রাজ্যসভায় বিলটি কোনভাইে পাস করানো সম্ভব হবে না।
অবশ্যই সীমান্ত চুক্তি নিয়ে রাজনীতির খেলা বন্ধ করতে হবে: টাইমস অব ইন্ডিয়ার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ভারত সরকারকে অবশ্যই সীমান্ত চুক্তি ইস্যু নিয়ে রাজনীতির খেলা বন্ধ করতে হবে। এ চুক্তি শুধু ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে তাই নয়, একইসঙ্গে নয়াদিল্লি চীনকে দেখাতে সমর্থ হবে যে, তারা দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত ইস্যু সমাধা করতে পারে। গতকাল প্রকাশিত ওই সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, সংসদের বাজেট সেশন সমাপ্ত হতে সপ্তাহখানেক বাকি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যে আইনি কাজ অসমাপ্ত রয়েছে তাহলো ভারতের পার্লামেন্টে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চুক্তির অনুমোদন। ১৬২টি ভারতীয় ও বাংলাদেশী ছিটমহল বিনিময় এবং সীমান্ত পূর্ণাঙ্গ চিহ্নিতকরণ নিয়ে সাংবিধানিক সংশোধন বিলটি ইউপিএ’র আমল থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে ঝুলে আছে। সে সময় বিজেপি বিলটির বিরোধিতা করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল এতে সংবিধানের মৌলিক বিষয়বস্তুর লঙ্ঘন হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর তারা বিপরীত অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই জোর দিয়ে বলেছেন, সীমান্ত চুক্তি দেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার স্বার্থে। তবে, সীমান্ত চুক্তিতে আসামকে বাদ রেখে সংবিধান সংশোধনী বিল প্রস্তাব করার সরকারি পরিকল্পনার সাম্প্রতিক যেসব রিপোর্ট এসেছে তা উদ্বেগজনক। আসামের অংশে রয়েছে ২৬৮ একর ভূখণ্ড। বিড়ম্বনার বিষয় হলো আসাম সরকার সীমান্ত চুক্তিতে তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছে। তবে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দলের একটি অংশের ইচ্ছার বশীভূত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দলের ওই অংশটি ২০১৬ সালের আসাম বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় থেকে সীমান্ত চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে। কিন্তু আসামকে বাদ দেয়া হলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চুক্তির প্রতি সমর্থন পুনর্বিবেচনা করতে চাপের মুখে পড়বেন। তিনি প্রথমদিকে সীমান্ত চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন। পরে তার মত পরিবর্তন করেন। আর পশ্চিমবঙ্গ যদি অবস্থান পরিবর্তন করে তাহলে তা চিরতরে সীমান্তচুক্তির সমাপ্তি টানবে। পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি যেহেতু সীমান্ত চুক্তিতে সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন দিয়েছে, সরকার তাই সহজেই বিরোধী কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাস করতে পারে। তারপরও, তারা আসামের নির্বাচনে স্বল্পমেয়াদি এবং ধারণামূলক অর্জনের জন্য ইস্যুটিকে রাজনীতিকরণ করার পথ বেছে নিয়েছে। সীমান্ত চুক্তিতে অনুসমর্থন শুধু ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে তাই নয়, এর মধ্য দিয়ে চীনকে দেখানো যাবে যে নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত ইস্যু সমাধা করতে সক্ষম। সরকারকে অবশ্যই এ নিয়ে রাজনীতি করা বন্ধ করতে হবে। আর কোন প্রকার বাদ না দিয়েই সীমান্ত চুক্তিতে সমর্থন দিতে হবে।
মোদি রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন -তরুণ গগৈ: এদিকে সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগ করে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বলেছেন, এ কারণেই চুক্তিটি নিয়ে দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছেন তিনি। গতকাল গুয়াহাটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, আসামে আগামী বছর নির্বাচন। সেই নির্বাচনে যাতে বিজেপি তার জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে পারে সে কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে বিজেপি সরকার। সীমান্ত চুক্তির বিরুদ্ধে আসামের বিজেপি নেতারাও। ফলে আসামকে এ চুক্তির অধীনে আনা হলে তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য। তাই তারা যাতে নির্বাচনে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারে সে জন্য আসামকে চুক্তি থেকে বাদ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এ খবরও প্রকাশিত হয়েছে মিডিয়ায়। সংশোধিত ওই চুক্তির বিলটি ভারতের পার্লামেন্টের চলতি অধিবেশনে তোলার কথা রয়েছে। এ অধিবেশন চলবে আরও প্রায় এক সপ্তাহ। এ সময়ের মধ্যেই বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপন করার কথা। তবে সীমান্ত চুক্তি থেকে আসামকে বাদ রাখা হলে রাজ্যসভায় এ বিলের বিরোধিতা করবে কংগ্রেস। তাদের মতে, এই চুক্তি একটি প্যাকেজ চুক্তি। এ থেকে কোন অংশ (আসাম) বাদ রাখা হলে তাতে জটিলতা সৃষ্টি হবে। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক হাই কমিশনার তারিক করিমও একই কথা বলেছেন। ভারতের মিডিয়ায়ই আভাস দেয়া হচ্ছে, এ চুক্তি নিয়ে সৃষ্টি হতে পারে জটিলতা। এমনই এক প্রেক্ষাপটে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ সংবাদ সম্মেলনে বললেন, গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন যে, এই চুক্তি আসামের স্বার্থের জন্য অনুকূলে। তরুণ গগৈ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন রাখেন- এ চুক্তি যদি আসামের জন্য শুভ হয় তাহলে এখন কেন আসামকে বাদ রাখা হচ্ছে? লোকসভা নির্বাচনের আগে আপনি এক অবস্থান নিয়েছিলেন। নির্বাচনের পরে কেন অন্য অবস্থান নিচ্ছেন? রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য এটা হলো দ্বিমুখী নীতি। কংগ্রেস নেতারা মনে করেন, সীমান্ত চুক্তিতে কোন সংশোধন আনার আগে আসাম রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের। তরুণ গগৈ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রে সহযোগিতার কথা বলেন। তবে যখন এমন একটি ইস্যুতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মোটেও পরামর্শ করা হয় নি সেখানে এটা কেমন ধরনের কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা? তবে এ চুক্তির বিষয়ে আমাদের অবস্থান আগে যা ছিল এখনও তাই। এখনও আমরা মনে করি এ চুক্তিটি আসামের অনুকূলে। আসামকে এ চুক্তিতে অঙ্গীভূত করা হলে এ রাজ্যের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে। এর প্রেক্ষিতে তরুণ গগৈ গত বছর ৩০শে নভেম্বরে নরেন্দ্র মোদির সমাবেশের কথা তুলে ধরেন। সেখানে মোদি বলেছিলেন- আমি জানি আসামের সমস্যা সম্পর্কে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে, আসামের নিরাপত্তা নিয়ে কোন আপোষ হবে না। সীমান্ত চুক্তি হবে স্থায়ী সমাধান। আমি আসামের মানুষের আবেগ সম্পর্কে জানি। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে, আমরা আসাম ও ভারতের কল্যাণের লক্ষ্যে এগিয়ে যাব।
দিল্লি যোগাযোগ করেনি: স্থল সীমান্ত চুক্তি নিয়ে দিল্লির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বাংলাদেশের সঙ্গে কোন যোগাযোগ হয়নি জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ভারতের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে স্থল সীমান্ত চুক্তির বিষয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে এটা সম্পূর্ণ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোন মতামত নেই। চুক্তির বিষয়ে কিছু অংশের খণ্ডিত বাস্তবায়নে ভারতের পক্ষ থেকে যদি কোন প্রস্তাবনা আসে বাংলাদেশ তা বিবেচনা করে দেখতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বিকালে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এতদিন পরে হলেও স্থল সীমান্ত চুক্তি ভারতীয় সংসদে উঠতে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত আশার ও খুশির খবর। বাংলাদেশ এতে আনন্দিত। যে কোন চুক্তি বাস্তবায়নে কিছু সময় লাগে উল্লেখ করে তিনি বলেন, লক্ষ্য করবেন বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর তার গেজেট প্রকাশে ৭/৮ মাস লেগে গেছে। তবে চুক্তিটি যে অচিরেই বাস্তবায়ন হবে এ নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে বিদেশী উদ্বেগের বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। জানান, এখনও কোন বিদেশী এ নিয়ে সরকারের কাছে জানতে চায়নি। তবে আন্তর্জাতিক মহলের যে কোন প্রশ্নের জবাব দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে আল কায়েদার দায় স্বীকারের বিষয়ে যে খবর প্রকাশ হয়েছে এ নিয়ে জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, ভীতি সঞ্চারের জন্য এটি করা হতে পারে। এছাড়া, কিছু দিন আগে আল কায়েদা প্রধান জাওয়াহিরির যে ভিডিও প্রকাশ হয়েছিল এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। থাইল্যান্ডের উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশীকে আশ্রয় কেন্দ্রে রাখার অনুরোধ করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস যোগাযোগ রাখছে। মন্ত্রণালয় সার্বিক বিষয় তদারকি করছে।
সোনিয়াকে ছিটমহলবাসীর চিঠি: স্থল সীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত বিলে সমর্থন দিতে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছে ছিটমহলবাসী। ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় কমিটির শীর্ষনেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত সোমবার ওই চিঠি লিখেন। স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রের খবর প্রেরক নিজেই চিঠি দেয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, বিলে সমর্থন চেয়ে আমরা সোনিয়া গান্ধীর কাছে ফ্যাক্সবার্তা পাঠিয়েছি। আশা করি তিনি আমাদের অনুরোধ রাখবেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লক্ষ্মীটি আমায় ক্ষমা করো...
প্রেমিকা র্যাকুয়েলের কাছে এমনই অনুনয়-বিনয় করে চিঠি লিখেছিল তাঁর প্রেমিক বন্ধুটি। একই চিঠি পেয়ে র্যাকুয়েল সব ভুলে গিয়ে আবার ফিরে গেছেন তাঁর প্রিয় মানুষটির কাছে। কিন্তু পাঁচ সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবারও একই কাণ্ড। আবারও গায়ে হাত তুলল প্রেমিক। পেটাতে পেটাতে প্রেমিকাকে পাঠিয়ে দিল যমের ঘরে।
এএফপির খবরে জানানো হয়, সম্প্রতি পেরুতে ‘ডোন্ট ডাই ফর মি’ নামে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মুখবন্ধ রচনা করেন নোবেলজয়ী পেরুর লেখক মারিও ভারগাস লোওসা। বইটি হচ্ছে প্রেমের চিঠি, ই-মেইল ও খুদে বার্তার সংকলন। তবে এসবই সেই সব নারীদের কাছ থেকে নেওয়া যারা তাঁদের ছেলে বন্ধুর হাতে আহত হয়েছেন। তাঁদেরই একজন র্যাকুয়েল। বইটিতে র্যাকুয়েলের জীবনে ঘটে যাওয়া এমন ২৫টি ঘটনার বিবরণ রয়েছে।
স্ত্রী বা প্রেমিকাকে মারধর করার পর ক্ষমা চেয়ে লেখা বিভিন্ন জনের চিঠিতেই ‘বিশ্বাস করো, আমি আসলে এমন নই; ’ ‘আমার এমন উদ্দেশ্য ছিল না’, ‘আমি আর কখনো এমন করব না’-—এসব কথা বারবার এসেছে।
যেসব দেশে নারীরা বেশি সহিংসতার শিকার হন, এর মধ্যে পেরু অন্যতম। দেশটির সরকারি তথ্যমতে, গত ছয় বছরে ৬৮০ জন নারী তাঁর পুরুষ সঙ্গীর হাতে খুন হয়েছেন।
নারীর ওপর সহিংসতার দিক দিয়ে পেরুর অবস্থা খারাপ। রাজধানীর বাইরের অবস্থা শোচনীয়। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নারীদের ওপর সহিংসতা নিয়ে পেরু, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, থাইল্যান্ড, ইথিওপিয়া, জাপানসহ ১০টি দেশে জরিপ চালায়।
সেই জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, পেরুতে এই হার সবচেয়ে বেশি। দেশটির অভ্যন্তরে ৬১ শতাংশ নারী তাঁর পুরুষ সঙ্গীর হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৯ শতাংশই কিল, ঘুষি, লাথির শিকার হয়ে থাকেন। এমনকি ধারালো অস্ত্র দিয়েও চলে নির্যাতন।
দুটি চিঠি
‘তুমি তো জানো আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি। যদিও আমি ভুল করেছি, তবে কথা দিচ্ছি এমনটি আর হবে না।’ —গিয়ানকারলো এই কথাগুলো চিঠি আকারে লিখেছিল স্ত্রী আঁদ্রেয়াকে। এর পর আঁদ্রেয়া সব ভুলে আবার স্বামীকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। একদিন যন্ত্রেরবাক্স দিয়ে স্ত্রীর মুখমণ্ডল থেঁতলে দিয়েছিল গিয়ানকারলো।
ভিক্টর তাঁর স্ত্রী কারলাকে লিখেছিলেন, ‘আমি শুধু জানি, তুমি আমার। অন্য কারও জন্য তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে, এটা আমি কোনোভাবেই মানতে পারছিলাম না। তাই আমি উদভ্রান্ত হয়ে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু আমি জানি, এমনটি আর হবে না।’
এক বছর পর কারলা যখন অন্তঃসত্ত্বা তখন ভিক্টর তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করেন। এতে কারলার ভ্রূণ ঝরে যায়। কারলা আর কোনোও দিন মা হতে পারবেন না।
পেরুর নারী অধিকার সংগঠন ভিদা মুজের প্রধান ক্যানসিয়ন বলেন, নারী যখন নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যান তখন তাঁরা ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’, ‘তোমাকে আমার প্রয়োজন’, ‘আমি ভালো হয়ে যাব’-এসব মধুর মধুর কথা শোনে গলে যান। কিন্তু পুরুষদের আচরণ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়ে যায়।
ডোন্ট ডাই ফর মি
দেশটিতে যেখানে নারীরা নিজেদের জীবনে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিষয়ে মুখ খোলেন না, সেখানে ‘ডোন্ট ডাই ফর মি’ বইটি তাঁদের সমস্যাগুলো ভিন্নভাবে সমাজের সামনে তুলে ধরেছে।
বইটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা সার্কাস গ্রে’র সঙ্গে যৌথভাবে সম্পাদনা করেছে পেরুর নারী অধিকার সংগঠন ভিদা মুজের। এই সংগঠনের প্রধান নেলি ক্যানসিয়ন বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও সাধারণত নারীরা কোনো অভিযোগ করেন না। তাই সেসব নারীর কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।’
দুই পর্বের এ বইটি অনলাইনে (notemueraspormi. com) পড়া যাবে। প্রথম পর্বে সাদা পৃষ্ঠার ওপরে সেই সব ঘাতক পুরুষদের লেখা প্রেমপত্রের অনুলিপি হুবহু ছাপা হয়েছে। আর দ্বিতীয় পর্বে রয়েছে এসব নারীর পরবর্তী জীবনের গল্প।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1265)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
May
(1015)
-
▼
May 07
(17)
- এশিয়ার বড় বড় পতিতালয়ের দালালরা এখন নেপালে, ত্রাণকর...
- থাইল্যান্ডে আরও ৬ মৃতদেহ উদ্ধার
- ৫ বছরের কারাদণ্ড, কাঁদলেন সালমান
- সুনির্বাচন by মাহবুব তালুকদার
- মিলিব্যান্ডকে ঘিরেই যেন ব্রিটেনের নির্বাচন! by কাম...
- বাংলাদেশী কিশোরের বর্ণনায় থাইল্যান্ডের জঙ্গলে নির্...
- নির্লিপ্ত নির্বাচন কমিশন by কাজী জেবেল
- আওয়ামী লীগই একমাত্র জাতীয়তাবাদী দল -সজীব ওয়াজেদ জয়
- মানব পাচারে ৭৯ গডফাদার by দীন ইসলাম
- বৃটেনে ভোট আজ লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি
- রাজ্যসভায়ও সীমান্তচুক্তি বিল পাস by পরিতোষ পাল
- ইছামতী এখন মৃতপ্রায় by সরোয়ার মোর্শেদ
- ইতি ঘটতে পারে সীমান্ত চুক্তির
- লক্ষ্মীটি আমায় ক্ষমা করো...
- নিখোঁজের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য–সূত্রও নেই পুলিশের কাছে
- ইটভাটায় ফসলি জমির মাটি
- কলেজশিক্ষক লাঞ্ছনা জাতির লজ্জা by পুলক চাকমা
-
▼
May 07
(17)
-
▼
May
(1015)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...













