Friday, June 11, 2010

নকশার মানুষ মোহাম্মদ ইদ্রিস by রাশেদুর রহমান

১৯৭২ সাল। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ। ফলে অনেক কিছুই তাঁকে শুরু করতে হয় নতুন করে। একদিকে চলে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামোর পুনর্গঠন, অন্যদিকে মুদ্রা, চিঠির খাম, ডাকটিকিট, জাতীয় প্রতীক, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামসহ নানা কিছুর পরিবর্তনের প্রয়াস। শিল্পী হিসেবে এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে মোহাম্মদ ইদ্রিসও হয়ে গেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ।
সে সময় বাংলাদেশ সরকার ডাক বিভাগের খাম ও ডাকটিকিটের জন্য নকশা আহ্বান করে। শিল্পী মোহাম্মদ ইদ্রিস তাতে সাড়া দিয়ে নকশা পাঠান। ডাক বিভাগ তাঁর পাঠানো চিঠির খামের নকশাটি নির্বাচন করে। তাঁর করা শাপলা ফুলের নকশার সেই প্রথম চিঠির খাম এখনো ব্যবহার করতে দেখা যায়। ডাকটিকিটের জন্য তিনি যে নকশা পাঠিয়েছিলেন, তাতে ব্যবহার করেছিলেন আবহমান বাংলার নকশিকাঁথার মোটিফ।
আত্মপ্রচারবিমুখ শিল্পী মোহাম্মদ ইদ্রিস তাঁর জীবনের বেশির ভাগ সময় ব্যয় করেছেন গ্রামবাংলার নানা রকম হস্তজাত শিল্পের উৎকর্ষসাধন ও তার প্রসারে। জামদানি, চামড়াজাত হস্তশিল্প ও লুপ্তপ্রায় শতরঞ্জিশিল্পের পুনরুজ্জীবনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর আমাদের জামদানিশিল্পে শুরু হয়েছিল এক গভীর সংকট। জামদানি শাড়ি তৈরি করতেন সাধারণ মুসলমান তাঁতিরা। আর তা ব্যবহার করতেন মূলত উচ্চ ও মধ্যবিত্ত হিন্দু মহিলারা। সে সময় বেশির ভাগ হিন্দু পরিবার ভারতে চলে যাওয়ায় জামদানি শাড়ির ক্রেতার অভাব দেখা দেয়। ১৯৬৩-৬৪ সালের দিকে বেশির ভাগ জামদানি তাঁতি বেকার হয়ে পড়েন। তখন শিল্পী মোহাম্মদ ইদ্রিস তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। পটুয়া কামরুল হাসানের সহায়তায় তিনি জামদানি তাঁতিদের জন্য ন্যায্যমূল্যে সুতার ব্যবস্থা করে দেন। এঁকে দেন বিভিন্ন ধরনের নকশা। বিপণনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এরপর জামদানিশিল্প ক্রমেই প্রাণ ফিরে পেতে থাকে। এই কারুশিল্পটি যে এখনো সগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে, তার পেছনে শিল্পী মোহাম্মদ ইদ্রিসের অবদান অপরিসীম।
১৯৭২ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সফরে এলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে একটি জামদানি শাড়ি উপহার দেন। সেই শাড়িটির নকশা করেছিলেন মোহাম্মদ ইদ্রিস। তাতে ছিল ময়ূরের নকশা।
আজ ২৭ বৈশাখ মোহাম্মদ ইদ্রিস ৮০ বছরে পা দিলেন। বাংলা ১৩৩৮ সনের এই দিনে রংপুরের মুন্সীপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বাবা নাসিরউদ্দীন, মা আছিয়া বেগম। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
মোহাম্মদ ইদ্রিস ছিলেন শিল্পী জয়নুল আবেদিন প্রতিষ্ঠিত আর্ট কলেজের তৃতীয় ব্যাচের ছাত্র। ১৯৫০ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে পাস করে তিনি আর্ট কলেজে ভর্তি হন। এই কলেজ থেকে পাস করে তিনি যোগ দেন তৎকালীন পাকিস্তান অবজারভার-এ। একই সময় তিনি যুক্ত ছিলেন ‘রূপায়ণ’ নামের একটি হস্তজাত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন পটুয়া কামরুল হাসান। সে সময় রূপায়ণের ছাপা শাড়ি বাজারে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রতিষ্ঠানটির ছাপা শাড়ি এখনকার উচ্চ ও মধ্যবিত্ত সমাজে বেশ সমাদৃত হয়।
১৯৬০ সালে কামরুল হাসানের আহ্বানে মোহাম্মদ ইদ্রিস যোগ দেন তখনকার ডিজাইন সেন্টারে। এই সংস্থা পরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প সংস্থার (বিসিক) সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়। ১৯৯১ সালে সেখান থেকে উপপ্রধান ডিজাইনার হিসেবে তিনি অবসর নেন।
মোহাম্মদ ইদ্রিস ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬১ সালের রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজনে এবং ছায়ানটের প্রতিষ্ঠালগ্নেও প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন। অনেক বইয়ের প্রচ্ছদও তিনি এঁকেছেন। তাঁর আঁকা উল্লেখযোগ্য প্রচ্ছদ পল্লীকবি জসিমউদ্দীনের বাংগালীর হাসির গল্প, কাজী মোহাম্মদ ইদরিসের পীত নদীর বাঁকে, হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত একুশে ফেব্রুয়ারী (দ্বিতীয় সংস্করণ) ও আলাউদ্দিন আল আজাদের তেইশ নম্বর তৈলচিত্র।
অশীতিতম জন্মবর্ষে শিল্পী মোহাম্মদ ইদ্রিসকে শুভেচ্ছা।

একটি চাঞ্চল্যকর শিশুহত্যা মামলার শুনানি by মিজানুর রহমান খান

একটি সবুজ সুপারিগাছ। ছোট্ট অর্ণব গাছটির কচি ডগা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তার পরনে চেক শার্ট, প্যান্ট। পায়ে স্কুলের জুতো। আমার কাছে অর্ণবের এটাই পরিচয়। ৫ মে ছিল তার জন্মদিন। টিয়া পাখি দেওয়ার নাম করে অর্ণবকে ডেকে নিয়েছিল মুকুল গাজী। অর্ণব ফিরেছিল লাশ হয়ে। তখন তার বয়স ছিল নয় বছর। ক্লাসে প্রথম হতো সে।
সাতক্ষীরার চম্পাফুল ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রাম। এর বাঁশবাগানের নালায় পড়ে ছিল অর্ণব দাসের লাশ। প্রতিহিংসায় ক্ষতবিক্ষত। তার ডান হাত কাঁধ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। দুই চোখ ও চোয়াল উপড়ানো। মাথার খুলি ও দাঁতগুলো ভাঙা। দুই পায়ের রগ কাটা। তার ডান হাতটি আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আমি অর্ণবকে দেখেছি ছবিতে। ১৮ জুন হবে তার গুপ্তহত্যার ১০ বছর পূর্তি। হাইকোর্টে এখন শুধু ২০০৫ সালের ডেথ রেফারেন্সের শুনানি চলছে। হাইকোর্ট ক্রমানুসারে ডেথ রেফারেন্স বা হত্যা মামলার আপিল শুনে থাকেন। প্রধান বিচারপতির আদেশ, হাইকোর্ট বেঞ্চ ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিভিশন বেঞ্চে গ্রহণযোগ্য মৃত্যুদণ্ডাদেশ কনফারমেশনের রেফারেন্স’ শুনবেন। এখানে অগ্রাধিকার মানে হলো, ২০০৫ সালের মামলা এড়িয়ে এর পরের মামলার শুনানি করা যাবে না। অনেক আইনজীবী অবশ্য কদাচিৎ এমন উদ্যোগ নেন। দু-একটি ক্ষেত্রে হাইকোর্ট তা মঞ্জুরও করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে নিয়ম ভেঙে পেপারবুক তৈরি হয়েছে বলে জানা যায় না।
২৪ নভেম্বর ২০০৯। বিচারপতি মো. আরায়েস উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ তখন মৃত্যুদণ্ডাদেশ শুনতেন। এই বিচারক ইতিমধ্যে অবসরেও গেছেন। ২৪ নভেম্বরে তিনি একটি বিরল আদেশ দেন। এতে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে অর্ণব হত্যা মামলার পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়।
অর্ণব হত্যা একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। অর্ণব হত্যার বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরায় বিরাট গণমিছিল বেরিয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. নাসিম এলাকা সফর করেছিলেন। আসামিদের প্রতি পক্ষপাত দেখানোর দায়ে ওসিসহ তিন কর্তাকে বরখাস্ত করেছিলেন। শিশু অর্ণবকে কেন খুন হতে হলো?
একটি ভাষ্যমতে, অর্ণবের বাবা ভূমিদস্যুদের চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। সাতক্ষীরার এ অঞ্চলটি সাদা সোনার জন্য প্রসিদ্ধ। অনেক রাঘববোয়াল। শত শত বিঘা খাসজমিতে তাঁরা চিংড়িঘের করেন। অর্ণবেরা সম্পন্ন গেরস্থ। তাঁর বাবা জমিজমা ভালো বোঝেন। ওই খাসজমি উদ্ধারে ভূমিহীনদের দিয়ে তিনি মামলা করান। এ ছাড়া আছে একটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনসংশ্লিষ্ট তিক্ততা। অর্ণবের বড় চাচা ১৯৯৬ সালে ইউপি চেয়ারম্যান পদে দাঁড়ান। অল্প ভোটে হারেন। সেবার চেয়ারম্যান হন মতিয়ার রহমান। তিনি চম্পাফুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
অর্ণব হত্যা মামলায় খলিলুর রহমান ওরফে খলিল ও গোলাম ফারুকের মৃত্যুদণ্ড হয়। এরাই এখন জেলে। আরও চারজন পান যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তাঁরা হলেন উল্লিখিত আওয়ামী লীগের নেতা মতিয়ার রহমান, আবদুস সাত্তার সর্দার, সুশীল কুমার রায় ও মুকুল গাজী। প্রায় ১৬ বছরের মুকুল (চুরি ও বালিকার শ্লীলতাহানির দায়ে কৈশোরেই কুখ্যাত) টিয়া পাখি দেওয়ার কথা বলে অর্ণবকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। মুকুল ধরা পড়ে। জামিনে গিয়ে রায় ঘোষণার আগেই পালিয়ে যায়। ২০০১ সালের জুলাইয়ের চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন আটজন। ২৮ নভেম্বর ২০০৭ রায় হয়। দুজন খালাস পান।
এ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিনজন কীভাবে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান এবং কীভাবে পেপারবুক তৈরি হলো, পাঠক সেটা লক্ষ করুন। ১ জুলাই ২০০৮। বিচারপতি মো. আরায়েস উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আবদুস সাত্তার সর্দারকে জামিন দেন।
নব্বইয়ের দশকেও পাঁচ-সাত বছরের বেশি কারও জেল হলে আইনজীবীরা তাঁদের জন্য জামিন চাইতে দ্বিধায় থাকতেন। দীর্ঘ সময় বন্দিদশায় না থাকলে তাঁদের জন্য পারতপক্ষে জামিন চাওয়াই হতো না। এখন রীতি আগেরটাই আছে। কিন্তু অনুশীলনে বদল ঘটেছে ভীষণ রকম। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের গণজামিন দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। বিচার বিভাগ যদিও পৃথক হয়েছে।
বিচারক আরায়েস উদ্দিন অর্ণব হত্যা মামলার রায় ঘোষণার সাত মাসের মাথায় প্রথমে ওই সাত্তারকে জামিন দেন। এবং আশ্চর্যজনকভাবে এ ঘটনার চার মাসের বিরতিতে একই বিচারকের আদেশেই জামিন পান যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং কারাগারে থাকা অন্য দুই আসামি মতিয়ার রহমান ও সুশীল কুমার রায়।
বিচারক আরায়েস উদ্দিনের বেঞ্চে দুটি জামিন আদেশে তিনজনকে মুক্ত করার পর আসামিদের বিচক্ষণ আইনজীবীরা তৃতীয়বারের মতো তাঁর কাছেই প্রতিকারের জন্য ধরনা দেন। তাঁরা আসামিদের আপিল আবেদনের চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ নেন। বিচারক আরায়েস উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পেপারবুক দাখিলের নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎগতিতে তা তামিল করা হয়। বিজি প্রেস ছেপে দেয় কাঙ্ক্ষিত পেপারবুক। এভাবে পেপারবুক তৈরির বিষয়ে একই ধরনের কিছু আদেশের কথা আমরা জানি। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট দপ্তর তা মান্য করেনি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার শুনানিতেও ক্রমিকের ব্যত্যয় ঘটানো সম্ভব হয়নি।
অর্ণব হত্যা মামলার ঘটনাপ্রবাহের পেপারবুক পর্যায় থেকে আমি নজর রাখি। ‘আপনারা এত দ্রুত পেপারবুক তৈরি করলেন, অন্য ক্ষেত্রে তো করেন না’, কর্মকর্তাদের কাছে এ প্রশ্ন করে কোনো সদুত্তর পাই না। আমাকে বলা হয়, এর সঙ্গে শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীরা রয়েছেন। ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা ধারণা পান, বিচারক আরায়েস উদ্দিন অবসরে যাওয়ার আগেই তাঁরা এর শুনানি শেষ করতে আগ্রহী। ১৮ মাসে বিচারক আরায়েস উদ্দিনের বেঞ্চ তিনবার ভেঙে যায়। যাবজ্জীবন দণ্ডিত তিন ব্যক্তি দুই দফায় জামিন নেন। এবং সবার মূল আপিলগুলোর চূড়ান্ত শুনানি শুধু তাঁর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চেই সম্পন্ন করার প্রয়াসও আমরা দেখতে পাই।
মধ্য ডিসেম্বরে হাইকোর্টের ওই বেঞ্চের আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলি। কী কারণে দুই বছর ডিঙিয়ে অর্ণব হত্যা মামলার শুনানি ঠিক হতে পারল? ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদউল্লাহ কিসলু বলেন, ‘আমরা যথারীতি এর বিরোধিতা করেছি।’ এখন ২০০৫ সালের মামলার শুনানি চলছে। ২০০৭ সালের মামলার শুনানি করতে রাষ্ট্রপক্ষ প্রস্তুত নয়। প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহ্বুবে আলমও এ কথায় সায় দেন।
১৭ ডিসেম্বর ২০০৯। বিচারপতি মো. আরায়েস উদ্দিনের বেঞ্চ। এর দৈনিক কার্যতালিকায় অর্ণব হত্যা মামলা ১ নম্বরে উল্লিখিত হিসেবে মুদ্রিত। এদিন উভয় পক্ষের শুনানি কিংবা রাষ্ট্রপক্ষের প্রবল বিরোধিতায় আদালত মামলাটি না শোনার সিদ্ধান্ত নেন। মামলাটি আউট অব লিস্ট হয়।
এরপর ধারণা হয়েছিল, অর্ণব হত্যা মামলা প্রধান বিচারপতির শর্তমতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই শুনানির জন্য আসবে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির একটি লিখিত আদেশের ফটোকপি পাই। এতে লেখা আছে, মৃত্যুদণ্ডাদেশ কনফারমেশন পেপারবুক হবে ক্রমিকানুসারে। তবে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে আদালতের আদেশের কথাও আছে। গত ৪ মার্চ অর্ণব হত্যা মামলাটি নতুন একটি বেঞ্চে হঠাৎ শুনানির জন্য আসে। এবারের পর্বে আরও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে।
বিচারক মাশুক হোসেন আহমদ ও বিচারক মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। গত ২১ মার্চে শুনানির জন্য এ বেঞ্চে মামলাটি আবার আসে। এদিনই খবর পাই, সুপ্রিম কোর্ট বারের তৎকালীন সভাপতি এ এফ এম মেসবাহউদ্দিন আহমেদ (সাবেক অতিরিক্ত বিচারক) পড়ন্ত বিকেলে আদালতে হাজির হন। তিনি মামলাটি আংশিক শ্রুত হিসেবে গণ্য করার আবেদন জানান এবং তা মঞ্জুর হয়।
উভয় পক্ষের অংশগ্রহণে শুনানি হয়। কোনো মামলার শুনানি শুরুর পর তা শেষ না হলে তা ‘আংশিক শ্রুত’ হিসেবে গণ্য হয়। কোনো মামলা একবার আংশিক শ্রুত হিসেবে চিহ্নিত হলে একটা বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। ওই বেঞ্চ ভেঙে গেলেও সংশ্লিষ্ট বিচারকদেরই সে মামলায় রায় দেওয়ার অধিকার জন্মায়।
২২ মার্চে জ্যেষ্ঠ আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়। এদিনের কার্যতালিকা দেখে অবাক হই। কারণ আংশিক শ্রুত হিসেবে অর্ণব হত্যা মামলাটি ছাপা হয়েছে। আমি কর্মকর্তাদের বলি, ‘ডিসেম্বরে বাদ দেওয়া এই মামলার শুনানি আদালত নতুন করে চাইলে নিশ্চয়ই হতে পারে। কিন্তু যার কোনো শুনানি হলো না, তা কী করে আংশিক শ্রুত বলে গণ্য হতে পারে?’ পরে শুনেছি, আইন কর্মকর্তারা বিষয়টির প্রতি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পরদিন দেখি, দৈনিক কার্যতালিকায় আংশিক শ্রুত কথাটির বিলোপ ঘটেছে। এর লিখিত কারণ নথিতে থাকাটা স্বাভাবিক। কেন ও কীভাবে আংশিক শ্রুত হলো। কেনই বা ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তা মুছে গেল? আমরা এখনো তা জানতে পারিনি।
তবে সেই থেকে প্রতিদিনের কার্যতালিকায় অর্ণব হত্যা মামলাটি মুদ্রিত হচ্ছে। গতকালও দেখেছি। গত ১৮ এপ্রিল নতুন অতিরিক্ত বিচারকেরা শপথ নেন। বেঞ্চ ভাঙে। বিচারক মাশুক আহমেদের সঙ্গে কনিষ্ঠ বিচারক হিসেবে এসেছেন অতিরিক্ত বিচারক আবদুর রব। এদিন রাষ্ট্রপক্ষ এক সপ্তাহ সময় নেয়। যদিও এ বেঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তারা আমাকে জোর দিয়ে বলেন, তাঁরা তাঁদের নীতিগত অবস্থান থেকে সরে যাননি। তাঁরা এখনো মনে করেন, ২০০৫ ও ২০০৬ সালের সব ডেথ রেফারেন্স শেষ হলেই তবে ২০০৭ সালের মামলা শুনানির জন্য আসতে পারে। আইন কর্মকর্তারা এ কথা অবশ্য আদালতেও বারবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু তাঁরা ১৮ এপ্রিল হঠাৎ আদালতের কাছ থেকে এক সপ্তাহ সময় নেন। তাই প্রকারান্তরে মামলা শুনানির প্রক্রিয়ায় ঢুকে পড়লেন কি না, সেটা আমার মনে কাঁটার মতো বিঁধছে।
অর্ণব হত্যা মামলার দণ্ডিতদের মধ্যে একটি পারিবারিক, তথাকথিত রাজনৈতিক এবং বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রভাবশালী যোগসূত্র দেখতে পাই।
প্রথমত, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম ফারুক হলেন সেই গোলাম ফারুক, যিনি জাতীয়তাবাদী একজন দাপুটে ছাত্রনেতা। খুলনার বিএল কলেজের ছাত্রদলের সাবেক নেতা। ক্যাম্পাসে শিবির কর্মী খুন ও পৃথক একটি অগ্নিসংযোগের মামলার তিনি আসামি ছিলেন। অন্যদিকে অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খলিল হলেন গোলাম ফারুকের চাচাতো ভাই। খলিল আবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও বর্তমানে জামিনে থাকা সাত্তারের ছেলে।
দ্বিতীয়ত, ৩ এপ্রিল ২০০৬ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘মূলত রাজনৈতিক কারণে হয়রানিমূলকভাবে’ দায়ের করা কালীগঞ্জ থানার অর্ণব হত্যা মামলা থেকে সাত্তার ও খলিলের নাম প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। আওয়ামী লীগের নেতা মতিয়ার তখন এ সুযোগ পাননি।
তৃতীয়ত, ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশে বিচার ঠেকে থাকে। অভিযুক্ত ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের আইনজীবীদের বুলি একই। মামলার যেসব দুর্বলতার কথা বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জামিন নেন, মামলার বিচার স্থগিত করান, দণ্ডিত হয়েও তাঁরা সেই একই কথা বলে জামিন নিয়েছেন। প্রায় একই যুক্তিতে পেপারবুক করান। জরুরি শুনানি চান। অথচ এসব কারণ হাইকোর্ট অনেক আগেই অগ্রাহ্য করেন। ২০০৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিচার স্থগিত রাখার আদেশ বাতিল করেন। এর ৯০ দিনের মধ্যে ওই দুজনের নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জোট সরকার। আমরা এই সাত্তার ও খলিলের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দেখেছি প্রয়াত বার সভাপতি ওজায়ের ফারুক ও নিজামুল হক নাসিমকে। বিচারপতি নিজামুল হক এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান। এরপর এক-এগারো। ক্ষমতার পালাবদল ঘটল। বিচারিক আদালত ২০০৬ সালের ২০ নভেম্বর দুজনের নাম প্রত্যাহারের আবেদন নাকচ করেন। জরুরি অবস্থায় হতভাগ্য অর্ণব পরিবারের কাছে এ রায় ছিল বিরাট সান্ত্বনা।
চতুর্থত, বড় দুই দলের হেভিওয়েট আইনজীবী প্যানেলের যৌথ চেষ্টা। ধারণা করা যায়, চিংড়িঘেরের ধনবান অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হিসাব কষেই বড় দুই দলকে একমঞ্চে এনেছেন। আরও একটি বিষয় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচিত বার সভাপতিকে সব সময় পছন্দ করেছেন। ২০০৮ সালের জুলাই। দণ্ডিত ওই সাত্তারের জন্য জামিন নেন টি এইচ খান (বিএনপির চেয়ারপারসনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা)। অবশ্য এর ঠিক চার মাস পর অক্টোবরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি মতিয়ার ও সুশীলের জামিন নেন তৎকালীন বার সভাপতি শফিক আহমেদ (বর্তমানে আইনমন্ত্রী) ও হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী (বর্তমানে বিচারপতি)। অর্ণব হত্যা মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের মধ্যে এরপর জেলের বাইরে রইল বাকি দুই। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের জন্য এরপর এলেন সুপ্রিম কোর্ট বারের আওয়ামীপন্থী সভাপতি এ এফ এম মেসবাহউদ্দিন। তবে তিনি একা নন। তাঁর সঙ্গে সক্রিয় আছেন সাবেক বিচারপতি টি এইচ খান চেম্বারও।
আমরা অর্ণব হত্যা মামলার স্বাভাবিক শুনানি চাই। অর্ণবের চাচা নিশান চন্দ্র দাস মামলার বাদী। তিনি ২০০৩ সালে মামলার তদবির করতে ঢাকায় এসে চাপাতির কোপ খেয়েছেন। সবশেষে আমাদের শ্রদ্ধেয় কবি বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের কথায় বলি: ‘খুন নিমখুন গুমখুন সব খুনই/ অপরাধ, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই/ রাষ্ট্র বাদী হয়ে তার কিনারা করবেই-/ না পারলে, তার মর্যাদা হবে ক্ষুণ্ন/ প্রজা ভাববে বৃথাই রবরবা, ক্ষমতা যে তার শূন্য’।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

পাহাড় কেটে প্লট -এসব বন্ধ করতে কঠোরতম পদক্ষেপ নিন

রাষ্ট্রের প্রাকৃতিক সম্পদ পাহাড়, যা কাটা বেআইনি, তা-ই কেটে কেটে ঘরবাড়ি বানানোর প্লট তৈরি করে বিক্রি করছে কিছু ভূমিদস্যু। কী মগের মুল্লুক! কার জমি কে বিক্রি করে!
আরও অদ্ভুত কথা, সরকারি পাহাড়ি ভূমি ব্যক্তির নামে নিবন্ধন করার সুযোগ বা নিয়ম নেই বলে ভূমিদস্যুরা উদ্ভাবন করেছে একটি অ্যাডহক পন্থা। তারা নিজেরাই এক ধরনের কার্ড তৈরি করে পাহাড়ি জমি হস্তান্তরের দলিল হিসেবে বিক্রি করছে সেসব কার্ড। মজার বিষয়, কিছু টাকাওয়ালা মানুষ কিনছেনও সেসব আইনি ভিত্তিহীন কাগজ। তাঁদের আশা, পাহাড় কাটা সাঙ্গ হলে ওই সব জায়গায় রাস্তাঘাট ইত্যাদি অবকাঠামো গড়ে উঠলে ওই সব প্লট হয়ে উঠবে মহামূল্য ভূসম্পত্তি। সেখানে দালানকোঠা তোলা যাবে, অথবা প্লট বিক্রি করে পাওয়া যাবে মোটা টাকা। আপাতত পাহাড় কাটা সেসব জায়গায় থাকতে দেওয়া হচ্ছে ছিন্নমূল, নিম্ন-আয়ের মানুষদের, যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। সরকারি জমি জবরদখলের এ এক উৎকৃষ্ট পন্থা। এসব ঘটছে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুরে। এ নিয়ে সচিত্র একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে গত শনিবারের প্রথম আলোয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারের ব্যাখ্যামূলক বক্তব্যটিও অদ্ভুত: অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের দ্রুত উচ্ছেদের তাগিদ দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিক চিঠি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তদবিরের কারণে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না। তার মানে দাঁড়াচ্ছে কী? এই ভূমিদস্যুরা এতই প্রভাবশালী যে সরকারের উচ্চপর্যায়ও তাদের ঘোরতর বেআইনি তৎপরতার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না?
পরিবেশ আইন অনুযায়ী পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ, অথচ বছরের পর বছর ধরে পার্বত্য জেলাগুলোতে এই বেআইনি কাজ চলেছে। শুধু সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী ও বায়েজিদ থানা অঞ্চলেই গত ১০ বছরে প্রায় আড়াই হাজার একরের পাহাড়ি এলাকা বেদখল হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সরকার, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা—সবই কি অকার্যকর?
আসলে সরকার সচেতন ও আন্তরিক হলে এগুলো বন্ধ করা কঠিন কিছু নয়। প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের কাছে দেশের পরিবেশ রক্ষা, সরকারের নিজের ভূমি রক্ষার দায়দায়িত্ববোধ নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না।
পাহাড় কাটা ও জবরদখল বন্ধ করতে অবিলম্বে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

ধর্মঘট ও জনদুর্ভোগ -আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত

শুক্রবার সকাল থেকে হঠাৎ আংশিক নৌ-ধর্মঘট শুরু হয়। রোববার থেকে শুরু হয় পেট্রলপাম্প মালিক-শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। ইতিমধ্যে পেট্রলপাম্প ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে এবং হয়তো অচিরেই নৌ-ধর্মঘটের অবসান হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের যে ভোগান্তি হবে, তা অবর্ণনীয়। এর আগে ১৬ থেকে ২০ মার্চ নৌ-ধর্মঘট হয়েছে। এরপর শ্রমিক-মালিক ও সরকারপক্ষের মধ্যে আলোচনায় একটা মীমাংসা হয়। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বেতনকাঠামো নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। মূলত মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত ছিল। আলোচনা ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা থাকতে পারে। কিন্তু সেটা হবে নিতান্তই সহায়তাকারীর ভূমিকা।
কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সরকার নিজেই মূল সিদ্ধান্তকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। নৌপরিবহনমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, শ্রমিকদের বেতন ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ, বাড়িভাড়া ১৩৩ শতাংশ ও ধোলাই-ভাতা ১৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ মজুরিকাঠামো ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং এটা পাঁচ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হবে বলে জানানো হয়েছে। শ্রমিকেরা এতে সন্তুষ্ট নন। বেতন-ভাতা এত বাড়ানোর পরও যদি সেটা যথেষ্ট না হয়ে থাকে, তাহলে আরও আলোচনা করা যেত। কিন্তু তা না করে সরকার পুলিশি ব্যবস্থা নিতে গেল কেন? সরকারি দলের সমর্থক শ্রমিকদের সাহায্যে ধর্মঘট ভাঙার চেষ্টা করে হয়তো আংশিক লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করা সম্ভব, কিন্তু এটা কোনো সমাধান নয়।
বেতন-ভাতা কত শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, সেটা বড় কথা নয়। এ বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকদের মোট প্রাপ্তি কত এবং সেটা চলতি বাজারদরে একটি পরিবারের মোটামুটি খেয়ে-পরে চলার মতো কি না, তা দেখতে হবে। এখানে বল প্রয়োগ পরিস্থিতিকে খারাপের দিকেই ঠেলে দেবে। মন্ত্রী মহোদয়ের কথায় মনে হয়, সরকার একটি পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। মন্ত্রী বলছেন, চাপ দিলে মালিকেরা ভাড়া বাড়িয়ে দেবেন, এর ফল ভোগ করতে হবে যাত্রীদের। এ ধরনের কথায় মালিকেরা ভাড়া বাড়ানোর অজুহাত পান। অযৌক্তিকভাবে ভাড়া যেন না বাড়ানো হয়, সেটা সরকারকেই দেখতে হবে। একই সঙ্গে ভাড়া কম বা আয় কম—এ ধরনের কথা বলে শ্রমিকদের যেন অযৌক্তিকভাবে কম মজুরিতে শ্রম দিতে বাধ্য করা না হয়, সেটাও সরকারকে দেখতে হবে।
বারবার ধর্মঘট শুধু যাত্রীদেরই ভোগায় না, শ্রমিকদেরও পথে বসায়। এ কথাটা শ্রমিকদের চেয়ে আর কেউ ভালো বোঝে না। তাই তাঁদের গ্রেপ্তার না করে বরং আলোচনার টেবিলে আনা দরকার। শ্রমিকদেরও বোঝা দরকার যে আলোচনার পথেই অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
পেট্রলপাম্প মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘটের ব্যাপারটাও অনেকটা সে রকম। মূলত জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন বাড়ানোর কথা বলে তাঁরা ১২ এপ্রিল বলেছিলেন, দাবি না মানলে ধর্মঘট। তাঁদের অন্য কিছু দাবিও আছে। কিন্তু সরকার এত দিন কী করল? ধর্মঘট কেন অবধারিত করে তোলা হলো? পেট্রলপাম্প বন্ধ মানে বাস-ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনের একটি বড় অংশই বন্ধ। এতে যে শুধু জনদুর্ভোগই বাড়ে তা নয়, পণ্য পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হয়। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে।
পরিবহন খাতে কোনো ধরনের ধর্মঘট কাম্য নয়। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে।

নিউইয়র্কে ব্যর্থ বোমা হামলার সঙ্গে পাকিস্তানি তালেবান জড়িত

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিখ হোল্ডার বলেছেন, নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ব্যর্থ গাড়িবোমা হামলার পেছনে হাত ছিল পাকিস্তানি তালেবানের। এ সংক্রান্ত প্রমাণ তাঁরা পেয়েছেন। গতকাল রোববার এবিসি টেলিভিশনের একটি টক শোতে তিনি এ কথা বলেন।
হোল্ডার জানান, ওই জঙ্গি সংগঠনটি বোমা হামলার ষড়যন্ত্রের পেছনে কলকাঠি নেড়েছে। সম্ভবত অর্থের জোগানদাতাও ছিল তারা। মুসলিম জঙ্গিদের দমনে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পাকিস্তানকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে—নিউইয়র্ক টাইমস-এ যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের হুঁশিয়ারির কথা প্রকাশিত হওয়ার একদিনের মাথায় হোল্ডার এ কথা বললেন। তিনি আরও বলেন, ব্যর্থ বোমা হামলার তদন্তের ব্যাপারে পাকিস্তান যেভাবে সহযোগিতা করছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা তাতে সন্তুষ্ট।

ইরানে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরান গতকাল রোববার একজন মহিলাসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। তাঁরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্য। কয়েকটি বোমা হামলায় অংশ নেওয়ার দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাঁদের এ দণ্ড কার্যকর করা হয়। দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা ইরনা এ খবর জানিয়েছে।
ইরনা জানায়, তেহরানের ইভিন জেলখানায় শিরিন আলামহাওলি নামের এক নারীসহ আরও চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বোমা হামলা চালিয়ে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কয়েকজন ইরানির সম্পত্তির ক্ষতি করায় তাঁদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

প্রিন্স হ্যারিকে আল-কায়েদার হুমকি

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা ব্রিটেনের প্রিন্স হ্যারিকে অপহরণের হুমকি দিয়েছে। তারা বলেছে, প্রিন্স হ্যারি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারে করে আফগানিস্তান গেলে তাঁকে অপহরণ করা হবে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
ব্রিটিশ পত্রিকা সানডে এক্সপ্রেসের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, আল-কায়েদা বলেছে, ‘প্রিন্স হ্যারিকে বহনকারী অ্যাপাচি হেলিকপ্টারকে ভূপাতিত করে তাঁকে অপহরণ করা হবে। হ্যারিকে অপহরণের বিষয়টা হবে দারুন।’ আল-কায়েদার আরবি ভাষার একটি ওয়েবসাইটে এ কথা বলা হয়েছে।
সংগঠনটির আরেকটি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘প্রিন্স হ্যারিকে মুজাহিদরা আটক করার বিষয়টা হবে বিশাল।’
হেলিকপ্টারে করে শত্রুপক্ষের ওপর হামলা চালানোর প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য ব্রিটিশ সেনাবাহিনী প্রিন্স হ্যারিকে অনুমোদন দিয়েছে। গত শুক্রবার তারা এ অনুমোদন দেয়।
ধারণা করা হচ্ছে, প্রিন্স হ্যারির সামরিক প্রশিক্ষণের এই উচ্চাভিলাষই আল-কায়েদাকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
আল-কায়েদার ওয়েব ফোরাম সংগঠনটির ব্রিটিশ অনুসারীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। এই অনুসারীরা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে পাকিস্তানভিত্তিক তালেবানের একজন মুখপাত্র সম্প্রতি নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ব্যর্থ গাড়িবোমা হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছেন।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ‘পরোক্ষ’ শান্তি আলোচনা শুরু

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি-প্রক্রিয়া নিয়ে পরোক্ষভাবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ গতকাল রোববার এ ঘোষণা দেয়। শান্তি-প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ ১৭ মাসের অচলাবস্থার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ আলোচনা শুরু হলো।
ফিলিস্তিনি আলোচক সায়েব এরেকাত দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জর্জ মিশেল আগামী চার মাসে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আলোচনার টেবিলে আনার কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবেন।
সায়েব এরেকাত বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন বন্ধ করাই হবে প্রত্যক্ষ আলোচনার মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইসরায়েল বসতি স্থাপন বন্ধ না করলে তিনি সরাসরি কোনো আলোচনায় অংশ নেবেন না। তবে আব্বাসের এ ঘোষণার পরপরই ইসরায়েল ফিলিস্তিনের দাবি করা ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন সাময়িকভাবে কমাতে রাজি হয়েছে।
মার্কিন দূত মিশেল চূড়ান্ত আলোচনার লক্ষ্যে গত পাঁচ দিনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে দুবার এবং ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট আব্বাসের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছেন। তিনি সর্বশেষ গতকাল ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন।

কোস্টারিকার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন চিনচিলা

মধ্য আমেরিকার দেশ কোস্টারিকার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন লায়ুরা চিনচিলা। গত শনিবার তিনি হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্য বামপন্থী দল হিসেবে পরিচিত ন্যাশনাল লিবারেশন পার্টির (পিএলএন) প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন ৫১ বছর বয়সী চিনচিলা। নির্বাচনে তিনি শতকরা ৪৭ ভাগ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ২৫ ভাগ ভোট।
রাজধানী সান হোসের একটি খোলা চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট অস্কার অ্যারিয়াস তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় বাবা-মা, স্বামী ও ১৪ বছরের ছেলে তাঁর সঙ্গে ছিলেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও জর্জিয়ার প্রেসিডেন্টসহ অন্তত ৫৬ দেশের অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
মধ্য আমেরিকার দেশ নিকারাগুয়ায় ভিওলেতা চামোরো এবং পানামার মিরেয়া মস্কোসোর পর ওই অঞ্চলে তৃতীয় নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন চিনচিলা।

ব্রাউনকে নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান লেবার এমপির

পার্লামেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর গর্ডন ব্রাউনকে লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন দলটির একজন এমপি।
ব্রিটেনে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর লেবার পার্টির কোনো এমপি এই প্রথম ব্রাউনকে এ আহ্বান জানালেন।
ইংল্যান্ডের কেন্দ্রস্থল বাসেটলরের এমপি জন মান শনিবার এক বিবৃতিতে বনে, ‘আগামী কয়েক দিন যা-ই ঘটুক না কেন, গর্ডন ব্রাউনের ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়া উচিত হবে না। তাঁর উচিত লেবার পার্টির পরবর্তী সম্মেলনের আগেই পদত্যাগ করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রচারণায় আমি দেখেছি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে লেবার পার্টির দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপক জনসমর্থন ছিল। কিন্তু গর্ডন ব্রাউনের আবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে সমর্থন ছিল খুবই কম।’
পরে চ্যানেল ফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জন মান বলেন, নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের আসল কারণ হচ্ছে, জনগণ ব্রাউনকে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেতে চায়নি।
বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি ২৫৮ আসনে জয় পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৩০৬ আসনে জয়ী হয়েছে কনজারভেটিভ পার্টি। তবে সরকার গঠনের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি তারা।
সরকার গঠন করতে হলে ৬৫০ আসনের ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ন্যূনতম ৩২৬টি আসন প্রয়োজন।
নির্বাচনে মধ্য বামপন্থী লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দল ৫৭ আসনে জয়ী হয়েছে। জোট সরকার গঠনে তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কনজারভেটিভ পার্টি।

রাশিয়ায় কুচকাওয়াজে প্রথম অংশ নিলেন ন্যাটো সেনারা

বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় উপলক্ষে রাশিয়ায় আয়োজিত বার্ষিক কুচকাওয়াজে এই প্রথম ন্যাটোভুক্ত চারটি দেশের সেনারা অংশ নিয়েছেন। গতকাল রোববার মস্কোর রেড স্কয়ারে রাশিয়ার সেনাদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, পোল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা কুচকাওয়াজ করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় দুই ডজন বিশ্বনেতা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মেরকেলও। কুচকাওয়াজে রাশিয়ার ১০ হাজার সেনাসদস্যের পাশাপাশি বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক ইত্যাদি সমরাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। ১২৭টি বিমানের ‘ফ্লাইপাস্ট’ও অনুষ্ঠিত হয়।
মস্কো থেকে বিবিসির প্রতিবেদক রিচার্ড গ্যালপিন বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এটাই ছিল রাশিয়ার সবচেয়ে বড় সমরাস্ত্র মহড়া।
অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শিক্ষা আমাদের সংহতি প্রকাশের তাগিদ দিচ্ছে। শান্তি এখনো স্থায়ী হয়নি এবং আমাদের মনে রাখা উচিত, যুদ্ধ হঠাৎ করেই শুরু হয় না ... একমাত্র সবাই মিলে কাজ করার মাধ্যমেই আমরা আধুনিক হুমকিগুলো মোকাবিলা করতে পারব।’
ফ্রান্সের নরম্যানডি-নিমেন স্কোয়াড্রন, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের একদল সেনা, পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর ৭৫ জন সদস্য এবং যুক্তরাজ্যের ৭৬ জন সেনাসদস্য এ কুচকাওয়াজে অংশ নেন।
পশ্চিমা মিত্ররা নাৎসি বাহিনীর পরাজয় বরণ দিবস ‘ইউরোপিয়ান ভিক্টরি ডে’ উদ্যাপন করে প্রতিবছরের ৮ মে। তবে রাশিয়া তা এক দিন পর উদ্যাপন করে।

একেই বলে অদম্য আগ্রহ

অদম্য আগ্রহ থাকলে বিশ্বে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। আরেকবার তা প্রমাণ করতে চাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের শেইলা র‌্যাডজিউইক। দুই হাত ছাড়াই তায়কোয়ান্দো খেলার সর্বোচ্চ খেতাব ‘ব্লাক বেল্ট’ পেতে চান তিনি। ৩২ বছর বয়সী এই নারী জন্ম থেকেই শারীরিক বিকলাঙ্গ।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর হলো, র‌্যাডজিউইক আগামী মাসেই তায়কোয়ান্দো পরীক্ষায় নামছেন। নিউইয়র্কের ব্রুস ম্যাককোরি মার্শাল আর্টস ইনস্টিটিউটে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি ওই ইনস্টিটিউটে তিন বছর ধরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। র‌্যাডজিউইকের শারীরিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
ম্যাসাচুসেটসের সালেম শহরে থাকেন র‌্যাডজিউইক। গৃহনির্যাতনের শিকার লোকজনের পক্ষে কাজ করছেন তিনি। তিনি বলেন, শারীরিক অক্ষমতার কাছে তিনি কখনোই পরাজিত হননি। পঙ্গুত্ব তাঁকে থামাতে পারেনি।
র‌্যাডজিউইক বলেন, ‘আমি বেড়ে উঠেছি এ কথা জেনে যে অসম্ভব কখনোই দীর্ঘমেয়াদের জন্য নয়।’ দুটো হাত না থাকায় আমার গুরুজনেরা কখনোই বলেননি যে আমি পারব না। সব সময় তাঁরা বলেন, আমি পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রশিক্ষকেরা সব সময় আমার দক্ষতা আমার কাছে তুলে ধরেন। খেলার যে জায়গায় আমার সমস্যা হয় সেখানেই তাঁরা ধরিয়ে দেন। পরবর্তীকালে আমি সে জায়গাতে পরিবর্তন আনি।’
র‌্যাডজিউইকের প্রশিক্ষক ম্যাককোরি বলেন, তিনি কখনোই র‌্যাডজিউইকের মতো শিষ্য দেখেননি। দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও তিনি নানচাক (আত্মরক্ষার উপায়) করতে পারেন এবং লাথি মেরে বোর্ড ভেঙে ফেলতে পারেন। তিনি বলেন, ‘র‌্যাডজিউইক আমার জন্য খুবই উদ্বুদ্ধকারী একজন মানুষ। তাঁর বেলায় কোনো অজুহাত নেই।’

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রেকর্ড সংখ্যক এশীয় এমপি

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে এবার রেকর্ডসংখ্যক এশীয় বংশোদ্ভূত সদস্যের (এমপি) প্রতিনিধিত্ব দেখা যাবে। যুক্তরাজ্যের গত বৃহস্পতিবারের সাধারণ নির্বাচনে ১৮ জন এশীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থী জিতেছেন। এদের মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত রয়েছেন আট জন। বাকি ১০ জনের মধ্যে বেশির ভাগ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। আর এবারই প্রথম কোনো এশীয় নারী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে নারী দুজন। এ ছাড়া বাকি এশীয়দের মধ্যে একজন বাংলাদেশিসহ তিনজন মুসলিম নারী রয়েছেন। নির্বাচনে এঁরা সবাই লেবার পার্টির প্রার্থী ছিলেন। আর ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই নারী এমপির মধ্যে একজন লেবার ও অন্যজন কনজারভেটিভ পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
এই আট ভারতীয় বংশোদ্ভূত জয়ী প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন কিথ ভাজ। লেস্টার ইস্ট আসন থেকে তিনি ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। আগের বারের যেকোনো বারের চেয়ে এবার বেশি ভোটও পেয়েছেন তিনি। তাঁর বোন ভ্যালেরি ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের ওয়ালসল সাউথ আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছেন। উইথহ্যাম আসনে কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছেন আরেক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী প্রীতি পাতিল। কিথ ভাজ ও ভ্যালেরি প্রথম ভাই-বোন যাঁরা একই মেয়াদে হাউস অব কমন্সে এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে গত শনিবার কিথ ভাজ বলেন, ‘লেস্টার ইস্টের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য পুনর্নির্বাচিত হওয়াটা সত্যিই একটি সম্মানের ব্যাপার। ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিদান দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব আমি। ভ্যালেরি নির্বাচিত হওয়ায় আমি খুবই খুশি। পার্লামেন্টে আমরা একসঙ্গে বিতর্কে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।’
অন্য ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে রয়েছেন ইলিং সাউথহল আসনে নির্বাচিত লেবার পার্টির বীরেন্দ্র শর্মা ও ব্র্যাডফোর্ড ওয়েস্ট আসনে নির্বাচিত একই দলের প্রার্থী মার্শা সিং, কেমব্রিজশায়ার নর্থ ওয়েস্ট আসন থেকে নির্বাচিত কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী শৈলেশ ভারা, একই দলের রেডিং ওয়েস্ট আসন থেকে নির্বাচিত প্রার্থী আওক শর্মা ও উলভারহ্যাম্পটন সাউথ ওয়েস্ট থেকে নির্বাচিত পল উপল। ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরেকজন উল্লেখযোগ্য সাবেক এমপি ও মন্ত্রী লেবার পার্টির পরমজিৎ ধন্দ এবার নিজ আসন গ্লস্টারে পরাজিত হয়েছেন।
এ ছাড়া রয়েছেন লেবার দলের বেথনাল গ্রিন ও বো আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী, বোল্টন সাউথ ইস্ট আসনে জয়ী ইয়াসমিন কোরেশি ও বার্মিংহাম লেডিউড থেকে শাবানা মাহমুদ।
হাউস অব কমন্সে (ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ) নির্বাচিত প্রথম এশীয় পুরুষ ছিলেন ভারতের দাদাভাই নওরোজী। তিনি ১৮৯২ সালে মধ্য লন্ডনের ফিন্সবারি থেকে নির্বাচিত হন। এত দিন পর একজন এশীয় নারী এমপি হলেন।
এবার বাকি এশীয় বংশোদ্ভূত নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী ও লেবার পার্টির সাদিক খান (দক্ষিণ লন্ডনের টুটিং আসনে), একই দলের খালিদ মাহমুদ (বার্মিংহ্যাম পেরি বার আসনে), আনাস আনোয়ার (গ্লাসগো সেন্ট্রাল) ও চুকা উমুন্না (স্ট্রেটহ্যাম আসনে); কনজারভেটিভ পার্টির সাজিদ জাভিদ (ব্রমসগ্রোভ আসনে), রেহমান চিস্তি (জিলিংহ্যাম আসনে) ও নাদিম জাহাবি (স্ট্র্যাফোর্ড আসনে)।

মাত্র ১৬ হাজার ভোটের খেসারত দিচ্ছে টোরিরা

যুক্তরাজ্যের গত সপ্তাহের নির্বাচনে মাত্র ২০টি আসনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি কনজারভেটিভ পার্টি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ১৯টি আসনে মাত্র ১৬ হাজার ভোট বেশি পেলে রক্ষণশীলদের এ অবস্থার মুখোমুখি হতে হতো না।
যুক্তরাজ্যে সরকার গঠনের জন্য কোনো দল বা জোটের পার্লামেন্টের ৬৫০ আসনের মধ্যে ৩২৬ আসন দরকার। বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩০৬টি আসন। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি পেয়েছে ২৫৮ আর লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ৫৭টি আসন।
ভোটের সংখ্যায় টোরিরা বড় ব্যবধানেই জয়ী হয়েছে। লেবার পার্টির চেয়ে তারা ২০ লাখেরও বেশি ভোট পেয়েছে। সানডে টাইমস-এ প্রকাশিত বিশ্লেষণে প্লিমাউথ ইউনিভার্সিটির নির্বাচনী কেন্দ্রের পরিচালক কলিন র‌্যালিংস ও মাইকেল থ্র্যাশার বলেন, ‘ডেভিড ক্যামেরন চূড়ান্ত বিজয়ের খুবই কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। হেরে যাওয়া ১৯টি আসনে টোরিরা জয়ের দ্বারপ্রান্তেই ছিল। কিন্তু মাত্র ১৬ হাজার ভোটের কারণে তা হলো না। এই ভোটগুলো টোরিরা পেলে সরকার গঠনের জন্য আমাদের আর অপেক্ষা করতে হতো না; নানা গুঞ্জনও ছড়াত না।’
বিশ্লেষক দুজন বলেছেন, ফলাফল থেকে দেখা যায়, লেবার দল অব্যাহতভাবে এক ধরনের ‘পক্ষপাতমূলক’ এই নির্বাচনী ব্যবস্থার সুবিধা পাচ্ছে। কম ভোটারের ‘ইনার সিটি’ আসন ও কম ভোট পড়েছে এমন এলাকায় ভালো করেছে তারা। বৃহস্পতিবারের ভোটে ১৯৭৪ সালের পর থেকে প্রথম ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হয়েছে যুক্তরাজ্যে। এ ঘটনায় দেশটির ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ নির্বাচনী পদ্ধতি আবার আলোচনায় উঠে আসে। এই পদ্ধতিতে একটি আসনে একটি নির্দিষ্টসংখ্যক ভোট যে আগে পাবেন, তাঁকে বিজয়ী ধরা হয়।
বিশ্লেষণে র‌্যালিংস ও থ্র্যাশার আরও বলেন, লেবার পার্টি যেসব আসনে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে, সেসব আসনের ৩৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই তারা জয়ী হয়েছে। কিন্তু একই সংখ্যক ভোট পেয়ে টোরিরা জয়ী হয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশ ক্ষেত্রে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা। তারা দেশব্যাপী শুধু ‘নষ্ট ভোট’ কুড়িয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ ভাগ ভোট পাওয়া প্রতি আট আসনের মাত্র একটিতে জয়ী হয়েছে লিভ ডেম।
এবার ৩ দশমিক ১ শতাংশ ভোটারের রায় গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিরোধী দল ইউনাইটেড কিংডম ইনডিপেন্ডেন্স পার্টিতে (ইউকেআইপি)। বিশ্লেষকদ্বয়ের মতে, এই ভোট কনজারভেটিভ পার্টি পেলে নির্বাচনের ফল অন্যরকম হতে পারত। যে ১৯টি আসনে কনজারভেটিভ পার্টি অল্পের জন্য হেরে গেছে, সেখানে ইউকেআইপির পাওয়া অর্ধেক ভোটও তারা পেলে ডেভিড ক্যামেরন অন্তত দুটি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারতেন।
দুই নির্বাচনী বিশ্লেষক আরও বলেছেন, চলমান অচলাবস্থা নিরসনে যদি নতুন করে নির্বাচন হয় এবং লেবার পার্টির ১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার তাঁদের মত পাল্টান, তাহলে কনজারভেটিভ পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে। আর ২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার মত পরিবর্তন করলে টোরিরা ২০টি আসন বেশি পাবে।

ইংলিশ কন্ডিশনে বোলিং প্র্যাকটিস

ইংলিশ কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই প্র্যাকটিস ম্যাচে মূল লক্ষ্য। সাকিব আল হাসানের বোলিং লাইনআপটা হয়তো সে কারণেই এত লম্বা। ওভালে কাল সারের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে আট বোলার ব্যবহার করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শুরুতে এতে সফল হলেও দিন শেষে আর তাঁকে সফল বলা যাবে না—১৩৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরও ইংলিশ কাউন্টি দলটি মাত্র আরেকটি উইকেট হারিয়ে ৩১৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে। দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে বিনা উইকেটে ১২ রান তুলেছে বাংলাদেশ। উইকেটে ছিলেন ইমরুল (৬) ও জহুরুল (১)।
বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সফল ইংল্যান্ড সফরেই জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়া পেসার রবিউল ইসলাম। নতুন বলে মাহবুবুল আলম আর শাহাদাত হোসেনের পর প্রথম পরিবর্ত হিসেবে এসেই উইকেট ফেলেছেন রবিউল। সারের ৩৫ রানের মাথায় বোল্ড করেছেন ওপেনার লরি ইভান্সকে। মাহবুবুল আর রুবেল দ্রুত আরও ২টি উইকেট তুলে স্বাগতিকদের ৩ উইকেটে ৮৪ করে দেন। রবিউল চতুর্থ উইকেটে টম লেন্সফিল্ড (৪৭) ও ম্যাথু স্প্রাইজেলের প্রতিরোধও ভেঙেছেন ল্যান্সফিল্ডকে জহুরুল ইসলামের ক্যাচ বানিয়ে। গ্যারি উইলসনকে ফিরিয়ে ৬৭ রানে ৩ উইকেট তাঁর। ৩০ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন রুবেল, মাহবুবুল নিয়েছেন ২৭ রানে ১টি। ১৩৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর স্প্রাইজেল (১০৮*) ও স্টুয়ার্ট মিকার (৯৪) সপ্তম উইকেটে ১৮৩ রানের জুটি গড়েছেন।
হাতের ইনজুরি পুরোপুরি সারেনি বলে সতর্ক থাকতে এ ম্যাচে খেলছেন না তামিম ইকবাল ও জুনায়েদ সিদ্দিক। কাল বোলিং করার সময় পায়ের মাংসপেশিতে টান পড়েছে রুবেলেরও। তবে দলের সঙ্গে হেড অব ডেলিগেশন হিসেবে যাওয়া জালাল ইউনুস টেলিফোনে জানিয়েছেন, সমস্যা গুরুতর নয়, ‘রুবেলের সমস্যা গুরুতর নয়। তীব্র ঠান্ডার কারণে এখানে সবারই কমবেশি সমস্যা হচ্ছে।’

রিয়াল-বার্সার রেকর্ড

প্রতিদ্বন্দ্বিতা সব সময়ই ছিল, তবে এবার তা অন্য এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা। কতটা বুঝতে পারবেন একটা তথ্যে, এক ম্যাচ বাকি থাকতে বার্সার পয়েন্ট ৯৬। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে জয়ের জন্য তিন পয়েন্টের নিয়ম হওয়ার পর লা লিগায় সর্বোচ্চ পয়েন্টের রেকর্ড এটিই। তার পরও নিশ্চিত হয়নি বার্সার শিরোপা, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্টের (৯৫) রেকর্ডটাও যে রিয়াল করে ফেলেছে এবারই! রিয়াল অবশ্য এগিয়ে গেছে আরেকটি ক্ষেত্রে। ৩৮ ম্যাচের লিগে সর্বোচ্চ ৩১ জয়ের রেকর্ড গড়েছে তারা এবারই, বার্সার জয় ৩০টি। শেষ ম্যাচে আবার ওলট-পালট হয়ে যেতে পারে দুুটি রেকর্ডই। রিয়ালের সামনে হাতছানি আছে আরেকটি রেকর্ডের, এ জন্য শেষ ম্যাচে করতে হবে ৬ গোল। এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১০১ গোল করেছে রিয়াল, ৩৮ ম্যাচের মৌসুমে সর্বোচ্চ ১০৭ গোলের রেকর্ডটি তাদেরই, ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে।

আবাহনীর জয়ের অর্ধশতক

একটা মাইলফলকে পা রাখল আবাহনী ফুটবল দল। পেশাদার ফুটবল লিগে কাল তারা পেয়েছে ৫০তম জয়। ব্রাদার্সের বিপক্ষে অনেক সুযোগ নষ্ট করেও ৪-০ ব্যবধানের জয়টা আবাহনীর হ্যাটট্রিক শিরোপা প্রায় নিশ্চিত করে দিল।
২১ ম্যাচে ৬১ পয়েন্টের মালিক আবাহনীর বাকি তিন ম্যাচে দরকার চার পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানের পয়েন্ট ৫২। সমীকরণ দাঁড়াচ্ছে, শেষ তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে শুধু শেষ ম্যাচে মোহামেডানকে হারালেই আবাহনী চ্যাম্পিয়ন।
অত অপেক্ষার দরকার হবে না, যদি মোহামেডান তাদের শেষ চার ম্যাচের প্রথম তিনটিতে চার পয়েন্ট হারায়, তাহলে শেষ তিন ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না পেলেও শিরোপা আবাহনীরই থাকবে।
আবাহনী তাই মাঠে অনেকটা নির্ভার। এবারের লিগটা এমন হচ্ছে, ছোট দলগুলোর সঙ্গে আবাহনী জিতছে হেসেখেলে। ফিরতি পর্বে তো আবাহনী ‘দুর্বার’, গোলও করছে বেশি। প্রথম পর্বের ১২ ম্যাচে গোল মাত্র ২২, খেয়েছে ১টি। ফিরতি পর্বে ৯ ম্যাচেই ৩৪ গোল, খেয়েছে ৩টি।
এই আবাহনীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারবে না ব্রাদার্স, এটাই স্বাভাবিক। আগের ম্যাচেই অবনমন এড়ানো (২০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট ছিল) নিশ্চিত করে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ঢাকঢোল এনে ‘বিজয় উৎসব’ করেছে ব্রাদার্স। এ ম্যাচ হারলেও ক্ষতি নেই—এটা ভেবেই তারা ছিল স্বস্তিতে। আর মাঠে নেমেছে যতটা সম্ভব কম গোল খেতে।
গরমের মধ্যে খেলতে নেমে কিছু সময় পরই হাঁফিয়ে উঠল ব্রাদার্স। আবাহনীকে রুখে দেওয়ার সামর্থ্য তাদের ছিল না। টেকনিক ও স্কিলে আবাহনী বুঝিয়ে দিয়েছে দুই দলের তফাৎটা।
শেরিফ, এনামুল, ইব্রাহিম—তিন স্ট্রাইকারের মধ্যে সফল শেরিফ। এদিন দুই গোল করে নিজের গোল-সংখ্যা নিয়ে গেছেন সর্বোচ্চ ১৮তে। এক গোল করা এনামুলেরও ১৮ গোল হলো। আবাহনীর বাকি গোলটি করেছেন আবুল। বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ৮০ মিনিটে ৪-০ করে দেন দলে অনিয়মিত হয়ে পড়া এই মিডফিল্ডার।
আবাহনীকে ১১ মিনিটে প্রথম গোল এনে দেন শেরিফ। গড়ানো শটে সহজ গোল। ১৮ মিনিটে প্রায় একইভাবে এনামুলের কল্যাণে ২-০। বিরতির খানিক আগে শেরিফ ৩-০ করলেন আতিকুরের ক্রসে হেড করে।
এবারের লিগে ২১ ম্যাচে আবাহনীর এটি ২০তম জয়। প্রথম পেশাদার লিগে ২০ ম্যাচের মধ্যে আবাহনী জিতেছিল ১৪ ম্যাচ। ড্র ৫, হার এক। দ্বিতীয় পেশাদার লিগে তাদের অবস্থান ছিল ১৬ জয়, ২ ড্র, ২ হার। আবাহনী টানা ৩২ ম্যাচ অপরাজিত। মোহামেডান পেশাদার লিগে ৬০ ম্যাচ খেলে জিতেছে ৪০ ম্যাচ, ড্র ১৭, হার ৩।
আবাহনীর এখন সুখের সময়। মাঠে চাপ নেই, ব্রাদার্সের বিপক্ষে একপর্যায়ে তো দুই সেরা অস্ত্র শেরিফ আর ইব্রাহিমকে তুলে নেওয়া হলো। পরশু থেকে ঢাকায় শুরু চার দলের তৃতীয় প্রেসিডেন্টস কাপ আয়োজন নিয়েছে এখন ব্যাস্ত আবাহনী।
শুকতারার ড্র: ইদ্রিসের দুই গোলে এগিয়ে যাওয়া রহমতগঞ্জকে কাল নিজেদের মাঠে রুখে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ শুকতারা (২-২)। রেজাউল আর মেহেদির দুই গোলে মূল্যবান পয়েন্ট পেয়ে লিগ টেবিলে নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠল শুকতারা। ২০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৪, সমান ম্যাচে রহমতগঞ্জের ২০।