Wednesday, May 26, 2010

দূষিত রাজনীতি ও টিভি চ্যানেল by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

সম্প্রতি চ্যানেল ওয়ান ও যমুনা টিভির পরীক্ষামূলক সম্প্রচার বন্ধ ঘোষিত হওয়ায় মিডিয়া মহলে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এর আগে একুশে টিভি ও সিএসবিও বন্ধ ঘোষিত হয়েছিল। আরও দু-একটি চ্যানেল বন্ধ হতে পারে বলে বাজারে গুজব রয়েছে। গুজবে কান দেওয়ার দরকার নেই, যা ঘটেছে তা নিয়েই আলোচনা করা যাক।
বাংলাদেশে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে বলে সরকার দাবি করে থাকে। এই দাবি যে অযৌক্তিক তা নয়। কিন্তু সরকার নানা কৌশলে তাদের বিরোধী বা সমালোচক টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে কখনো আদালত, কখনো বিটিআরসি, কখনো তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নেওয়া হয়। একজন বালকও বুঝতে পারে, কোনো টিভি চ্যানেলের ওপর সরকার অখুশি বা বিরক্ত হলে সরকার নানা অজুহাতে সেই টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিচ্ছে। বেকার হচ্ছেন শত শত সাংবাদিক, কলাকুশলী ও কর্মী। একটা বয়সের পর বেকার হয়ে যাওয়া যে কী যাতনার, তা কেবল ভুক্তভোগীরাই বুঝতে পারবেন। যাঁরা সরকার পরিচালনা করেন, এটা তাঁদের বিবেচনার বিষয় হয় না। তাঁরা বোঝেন শুধু রাজনীতি। সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতি।
বিএনপি সরকারের পরোক্ষ ইঙ্গিতে যেদিন একুশে টিভি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেদিন থেকে টিভি চ্যানেল বন্ধের এই সংস্কৃতির শুরু। বিএনপি হয়তো সেদিন ভেবেছিল, তারা চিরস্থায়ী সরকার। তাদের গায়ে কেউ আঁচড় দিতে পারবে না। কিন্তু বাস্তব খুব নির্মম। বিএনপি-সমর্থিত সিএসবিও নানা অজুহাতে বন্ধ হয়েছিল। সম্প্রতি বন্ধ হলো চ্যানেল ওয়ান।
একুশে টিভি বন্ধ করে বিএনপি সরকার আরও একটি বড় ভুল করেছিল। তা হলো বেসরকারি খাতে টেরিস্ট্রিয়াল টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স পাওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ এখন হাতছাড়া। ফলে সরকারনিয়ন্ত্রিত বিটিভি এখন মিডিয়া জগতে একচেটিয়া ব্যবসা করছে, নিম্নমানের অনুষ্ঠান দিয়েও। কোন যুক্তিতে সরকার বেসরকারি খাতে টেরিস্ট্রিয়াল টিভির লাইসেন্স দিচ্ছে না, তা স্পষ্ট নয়। এটা আমাদের বড় দুই দলের স্বেচ্ছাচারী ও অগণতান্ত্রিক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। আমাদের দুর্বল নাগরিক সমাজ ও নির্বিকার মিডিয়া ভোক্তারা এসব দাবিতে সোচ্চার নয়।
সরকার কর্তৃক দুটি টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়াটা আমি বিচ্ছিন্নভাবে দেখি না। এর জন্য আলাদা করে আমার মনে কোনো দুঃখ বা ক্ষোভও নেই। আমি মনে করি, এগুলো দেশের দূষিত ও দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির ফল। টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকেরা স্মার্ট ও সক্রিয় বলে নানাভাবে তাঁদের দাবি জনসমক্ষে তুলে ধরতে পারেন। বড় দল দুটির শাসনামলে দেশে আরও কত অবিচার, অন্যায়, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস, খুন, অপহরণ যে ঘটেছে তার ইয়ত্তা নেই। সবই হয়েছে রাজনীতির নামে। রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে। শুধু কয়েকটি উদাহরণ দিই। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দলের সরকারই গড়ে প্রায় ৩০০ জন (প্রতি আমলে) সরকারি কর্মকর্তাকে পাঁচ বছর কোনো কাজ করতে দেয়নি। অসংখ্য ছাত্র আবাসিক হলে থাকতে পারেননি। ব্যবসা করতে পারেননি অসংখ্য ব্যবসায়ী। কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাদার ঠিকাদার, কন্ট্রাক্টররা কাজ করতে পারেন না। কাজ পেলেও লাভের বড় অংশ দিয়ে দিতে হয় ছাত্রনেতাদের।
সরকার পরিচালিত বিটিভিতে দুই দলের আমলে কত শিল্পী কালো তালিকাভুক্ত হয়েছেন, তার খবর কজন জানেন? কোনো কোনো শিল্পী তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ে বিটিভিতে কোনো অনুষ্ঠান করতে পারেননি। শুধু কি কালো তালিকা? বিটিভিতে কত অশিল্পী, ছাত্র-যুব কর্মী ও দলের শিল্পী ক্যাডার বঙ্গবন্ধু ও জিয়ার নাম ভাঙিয়ে মাসের পর মাস বস্তাপচা অনুষ্ঠান করে যাচ্ছে, তাদের বিচার কে করবে? বিটিভি থেকে অনুষ্ঠানের নামে কত যে লাখ লাখ টাকা তারা আত্মসাৎ করছে, তার হিসাব কে করেছে?
এভাবেই চলছে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। সেই দূষিত রাজনীতিরই শিকার হয়েছে দুটি টিভি চ্যানেল। এটা কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়।
শুধু দুটি টিভি চ্যানেল বা তাদের সাংবাদিক ও কর্মীরাই নন, উল্লিখিত সবাই এই দূষিত ও দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির শিকার। চ্যানেল ওয়ান, একুশে টিভি বা সিএসবি কি এই দূষিত ও দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির বিরুদ্ধে কোনো অর্থপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল? তারা কি বড় দুই দলের আমলে শুধু ‘ভিন্নমতের’ কারণে বিভিন্ন সেক্টরে যাঁরা নিগৃহীত হয়েছিলেন, নির্যাতিত হয়েছিলেন তাঁদের অভাব-অভিযোগ তুলে ধরেছিল? নাকি কোনো একটি দলের সরকারের পক্ষে সাফাই গেয়েছিল সারাক্ষণ? আজ টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার পর বর্তমান সরকারের সমালোচনা করছেন অনেক টিভি সাংবাদিক। ইটিভি যখন বন্ধ হয়েছিল, তখন অন্য টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকেরা কোথায় ছিলেন? দুই দলের আমলে ‘ভিন্নমতের’ কারণে যাঁরা নিগৃহীত, নির্যাতিত বা বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের কজনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল এসব টিভি চ্যানেল?
আমাদের রাজনীতি যেমন দূষিত, তেমনি কয়েকটি গণমাধ্যমও দূষিত। তারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গণমাধ্যমের আদর্শ দ্বারা পরিচালিত হয় না। তারা একটি দল বা দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ীর (মালিক) স্বার্থ রক্ষার জন্য নিজেদের পরিচালিত করে। ‘গণমাধ্যম’ আলু-পোটল বিক্রির মতো একটি ব্যবসা নয়। যেভাবেই হোক, লাভ করার বাসনা থাকলে গণমাধ্যমের ব্যবসায় আসা উচিত নয়। একটি রাজনৈতিক দলকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়াও কোনো গণমাধ্যমের লক্ষ্য হতে পারে না। গণমাধ্যম সত্যকে তুলে ধরে নির্ভীকভাবে। কারও পক্ষে বা বিপক্ষে গণমাধ্যমের অবস্থান হতে পারে না। তাদের অবস্থান হতে পারে কেবল সত্যের পক্ষে।
যাঁরা এই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে গণমাধ্যম পরিচালনা করবেন, তাঁদের জীবনে অনেক দুর্ভোগ নেমে আসতে পারে। দূষিত রাজনীতির সরকার সেই সুযোগ গ্রহণ করবে। সেটাই স্বাভাবিক। অতীতেও করেছে, এখনো করছে, ভবিষ্যতেও করলে আমি অবাক হব না। দল ও সরকার সার্বিকভাবে গণতান্ত্রিক না হলে এ ধরনের আচরণ অপ্রত্যাশিত নয়। শুধু ভোটে পাস করলেই সেই দল বা সরকারকে ‘গণতান্ত্রিক’ বলা যায় না। বড়জোর ‘ভোটের সরকার’ বলা যেতে পারে। গণতান্ত্রিক সরকার ভিন্নমতকে দমন করে না। ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ দেয়। পরমতের প্রতি সহিষ্ণু হয়।
দুটি টিভি চ্যানেলকে সরকার নানা অজুহাতে বন্ধ করে দিয়েছে—এটা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। তার চেয়েও দুঃখজনক ও হতাশাজনক হলো, দেশে সত্যিকার অর্থে ‘গণতান্ত্রিক সরকার’ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। বড় দুটি দল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হচ্ছে না। ব্যক্তিপূজা, পরিবারতন্ত্র, দলীয় নেতৃত্বে একনায়কত্ব, মন্ত্রিসভায় একনায়কত্ব, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিয়ে বড় দুটি দলের সরকার দেশে কোনো গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে পারছে না। শুধু ‘ভোটের গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করেই বড় দল দুটি মহা আত্মতৃপ্তিতে ভুগছে। একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ‘দেশে নির্বাচিত সরকার এসেছে’—এই আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। নির্বাচিত সরকার যে তাদের আচরণে অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী, তা অনেকে দেখেও না দেখার ভান করছেন। তাঁদের ভাবখানা এমন: ‘নির্বাচিত সরকার হলেই তার সাত খুন মাপ।’ সে জন্য বর্তমান সরকারের নানা অনাচারের বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজের কণ্ঠস্বর ক্ষীণ। সুজন ও টিআইবি ছাড়া তেমন সক্রিয় ও প্রতিবাদী নাগরিক ফোরাম দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক নেতারা সরকারি নানা উচ্ছিষ্টের লোভে এখন প্রায় নীরব। বিএনপির বুদ্ধিজীবীরা দলের (সরকারের) অতীতের কর্মকাণ্ড স্মরণ করে প্রতিবাদী হতে পারছেন না।
যত দিন অগণতান্ত্রিক, দূষিত ও দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি সরকার পরিচালনায় প্রাধান্য পাবে, তত দিন টিভি চ্যানেল বন্ধ করার মতো ঘটনা ঘটতেই থাকবে। স্বাধীন গণমাধ্যমের নিশ্চয়তা চাইলে গণমাধ্যমকে আগে সত্যিকার ‘গণমাধ্যম’ হতে হবে। দলের বা ব্যক্তিবিশেষের চোঙা হলে সেটাকে ‘গণমাধ্যম’ বলা যায় না। সে রকম গণমাধ্যম থাকলেই কী আর বন্ধ হলেই বা কী! বন্ধ হলে দল বা ব্যক্তিরই শুধু ক্ষতি।
আজকাল উচ্চবেতনে অনেক টিভি সাংবাদিক ও কলাকুশলী বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে চাকরি পাচ্ছেন। খুব ভালো কথা। ছেলেমেয়েদের উন্নতি দেখলে কার না ভালো লাগে। কিন্তু চাকরি নেওয়ার আগে সবাইকে ভেবে দেখতে বলি: এটা কি ‘গণমাধ্যম’, না কোনো দল বা ব্যক্তির চোঙা? চোঙা হলে তার পরিণাম কী হতে পারে তা না বোঝার কোনো কারণ নেই। এ ছাড়া দেখা দরকার, টিভি চ্যানেলের মালিকের ব্যবসায়িক অতীত, কীভাবে লাইসেন্স পেয়েছেন ইত্যাদি। এগুলো না দেখলে একদিন দেখা যাবে যে চ্যানেলের মালিক অফিসে না এসে জেলে চলে গেছেন। শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় যাঁরা টিভির লাইসেন্স পেয়েছেন, পরবর্তী অন্য দলের সরকার এলে নানা অজুহাতে তাঁদের লাইসেন্স বাতিল করে দিতে পারে। এটাই এখনকার দূষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি। কাজেই টিভি চ্যানেলে (ব্যতিক্রম ছাড়া) যাঁরা এখন চাকরি নেবেন, তাঁরা এটাকে ‘অস্থায়ী চাকরি’ হিসেবে গ্রহণ করলে ভালো হবে। পরে মানসিক কষ্ট কম হবে।
সরকারের যেসব ব্যক্তি সম্প্রতি দুটি টিভির লাইসেন্স বাতিল করেছেন, তাঁদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই: এক মাঘে শীত যায় না। দুটির বদলে দশটির লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে। দূষিত রাজনীতিতে অজুহাতের অভাব হবে না। এখন বড় দুই দলকে ঠিক করতে হবে টিভি চ্যানেল নিয়ে কীভাবে তারা খেলবে। ‘বন্ধ বন্ধ’ খেলবে? না ‘খোলা খোলা’ খেলবে? মাঘ মাসটা বড়জোর পাঁচ বছর মেয়াদি হবে। কিন্তু আবার মাঘ মাস আসে। তথ্যমন্ত্রী কি তা জানেন?
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক।

জঙ্গি দমনে অব্যাহত নজরদারির বিকল্প নেই -রাজধানীতে জেএমবির আস্তানা

জঙ্গি তৎপরতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন সাফল্য দাবি করে আসছিল, তখনই রাজধানীতে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নতুন আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ঘটনা স্বভাবতই শান্তিপ্রিয় জনগণকে উদ্বিগ্ন করবে। জঙ্গিরা সেখানে কেবল আস্তানাই গাড়েনি, অস্ত্রশস্ত্র নিয়েও প্রস্তুত ছিল। গত রোববার রাতে দনিয়ার শাহজালাল এলাকায় পুলিশ অভিযান চালালে জঙ্গিরা তাদের ওপর বোমা হামলা চালায়। এতে পুলিশসহ ১২ জন আহত হন। আত্মঘাতী বোমা হামলায় জেএমবির কথিত সামরিক শাখার কমান্ডার শিবলীও আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একই দিন কুড়িগ্রামে জঙ্গি সন্দেহে ১৪ জনের আটক হওয়ার ঘটনাও প্রমাণ করে, জঙ্গি তৎপরতা বন্ধ হয়নি। কয়েক দিন আগে রাজধানীর মিরপুর ও টঙ্গীতেও বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে আটক করা হয়েছিল।
জঙ্গি তৎপরতার বিষয়টি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। জঙ্গিবাদ প্রচলিত আইনকানুনের তোয়াক্কা করে না। তারা সংবিধান, গণতন্ত্র, রাষ্ট্র কিছুই মানে না। যারাই তাদের মতের বিরোধী, বোমাবাজি করে তাদেরই কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে চায়। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জঙ্গিরা সারা দেশে ভয়াবহ অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, জঙ্গিরা একেবারে নিষ্ক্রিয় না হলেও বড় ধরনের হামলা পরিচালনার ক্ষমতা তাদের নেই। তাদের এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত না করেও যে কথাটি বলা প্রয়োজন তা হলো, জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই।
এ কথাও মনে রাখতে হবে, কেবল অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের নির্মূল করা যাবে না। যে রাজনৈতিক মতবাদ তাদের এই মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে প্ররোচনা জোগায়, মানুষ মারতে শেখায়, সেই রাজনীতির ভুলগুলোও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে। জঙ্গিবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণের কাজটিও করতে হবে সরকারকে, পাশাপাশি তাদের অস্ত্র ও অর্থের উৎসও বন্ধ করতে হবে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে পথ ও মতের ভিন্নতা থাকবে। কিন্তু যে অপরাজনীতি মানবতা ও সভ্যতার পরিপন্থী, তার বিরুদ্ধে দলমতনির্বিশেষে সবাইকে দাঁড়াতে হবে। দলীয় বা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে জঙ্গিবাদের ব্যবহারের আত্মঘাতী পথও পরিহার করতে হবে তাদের। বৃহত্তর সমাজের সমর্থন তথা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয় না পেলে এই অপশক্তি ধ্বংস হতে বাধ্য।

শান্ত হচ্ছে আইসল্যান্ডের এয়াকিউয়াতলুয়োকুটল আগ্নেয়গিরি

আইসল্যান্ডের আগ্নেয়গিরি এয়াকিউয়াতলুয়োকুটল শান্ত হচ্ছে। এর জ্বালামুখের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। তবে ভূবিদ্যা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আগ্নেয়গিরিটি এখনো বিপদমুক্ত নয়। যেকোনো সময় এটি আবার উদিগরণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, আগ্নেয়গিরিটির তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে। অর্থাৎ এটি থেকে এখন ধোঁয়া বের হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু লাভা বের হওয়া বন্ধ হয়েছে। তবে তাঁরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আগ্নেয়গিরির উদিগরণ পুরোপুরি শেষ হয়েছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি।
এয়াকিউয়াতলুয়োকুটল আগ্নেয়গিরি থেকে গত মাসে ছাই ও লাভা উদিগরণ শুরু হয়। এর ফলে ইউরোপের আকাশ ছাই মেঘে ঢেকে যায়। গোটা ইউরোপের বিমান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। বড় বড় বিমানবন্দর ছাই মেঘের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অচলাবস্থা চলার পর সম্প্রতি ইউরোপের বিমান যোগাযোগ আবার স্বাভাবিক হয়।
আইসল্যান্ডের আবহাওয়া কার্যালয়ের বিশেষজ্ঞ স্টেইনান জ্যাকবসদোত্তির বলেছেন, আগ্নেয়গিরিটি অল্প সময়ের জন্য সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগ্নেয়গিরিটির ইতিহাস হচ্ছে এটি শান্ত হয় এবং পরে আবার উদিগরণ হয়। এর নিচে এখনো কম্পন হচ্ছে। উদিগরণের আগে এটি যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় এখনো ফিরে আসেনি।’
আইসল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাগনাস গুডমান্ডসন গত রোববার হেলিকপ্টারে করে আগ্নেয়গিরিটির ওপর দিয়ে চক্কর দেন। তিনি বলেন, ‘তাপমাপক ক্যামেরার তথ্য-প্রমাণ এটাই ইঙ্গিত দেয়, জ্বালামুখের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে। তবে এখনোই কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। কেননা, আগ্নেয়গিরিটির সর্বশেষ উদিগরণ ১৩ মাস স্থায়ী ছিল। তাই এটা বলা খুবই মুশকিল যে, এটি কখন বন্ধ হবে। এ ব্যাপারে সময় বেঁধে দেওয়া কঠিন।’

আফগানিস্তানে প্রতিজন ন্যাটো সেনার ‘জীবনের মূল্য’ ২ হাজার ৪০০ ডলার

আফগানিস্তানে ন্যাটো সেনাদের প্রতিজনের জীবনের দাম দুই হাজার ৪০০ ডলার (প্রায় দুই লাখ পাকিস্তানি রুপি)। সেখানে তালেবান জঙ্গিরা যেকোনো একজন ন্যাটো সেনাকে হত্যা করতে পারলেই হত্যাকারীর হাতে পুরস্কার হিসেবে ওই পরিমাণ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। আফগানিস্তানের একাধিক তালেবান কমান্ডার এ কথা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছ থেকে আদায় করা নিরাপত্তা কর, আফিমচাষিদের ওপর আরোপিত কর এবং দুবাই হয়ে আসা উপসাগরীয় দেশগুলোর সাহায্য থেকে পুরস্কারের এ অর্থ সরবরাহ করা হয়।
কমান্ডাররা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি করা হয়েছে। সেনাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার জন্য তারা নিজস্ব সংবাদদাতা, গণমাধ্যমে আসা খবর ও স্থানীয় জনগণের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে। পুরস্কারের অর্থ হস্তান্তরের সময় রীতিমতো আনন্দ উৎসব ও খানাপিনার আয়োজন করা হয়। কেউ কোনো অস্ত্র উদ্ধার করে আনতে পারলে তাঁকেও পুরস্কৃত করা হয়। প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য এক হাজার মার্কিন ডলার দেওয়া হয়।

ব্রিটেনের শীর্ষ বোমা অপসারণ কর্মকর্তা সেডনের পদত্যাগ

ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় বোমা অপসারণ কর্মকর্তা কর্নেল বব সেডন পদত্যাগ করেছেন। আফগানিস্তানে তাঁর বোমা অপসারণ দলের ওপর চাপের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। গত রোববার রাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানা যায়। কর্নেল সেডন এখন রয়্যাল লজিস্টিকস কোরের গোলাবারুদবিষয়ক প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

হতাশ লুইজিয়ানাবাসী নিজেরাই তেল পরিষ্কারে নেমেছে

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার ও তেলক্ষেত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) ব্যর্থতায় হতাশ লুইজিয়ানাবাসী নিজেরাই সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা থেকে তেল পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে। গত রোববার নৌকায় করে তেলযুক্ত ঢেউ ঠেকানোর উপকরণ ‘বুম’ স্থাপনের কাজ শুরু করে তারা। এদিকে তেলক্ষেত্রের দায়িত্ব বিপির কাছ থেকে নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কাছে মেক্সিকো উপসাগরে গত ২২ এপ্রিল ওই তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণ হয়। এর পর থেকে তেলক্ষেত্রের ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ দিয়ে অনবরত তেল বেরিয়ে সাগরের পানিতে মিশছে। এতে সাগরের জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
লুইজিয়ানার উপকূলীয় প্ল্যাকুয়েমিন্জ প্যারিশের সভাপতি বিলি নানগেসার বলেন, ‘তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে আমরা ক্যাট দ্বীপে যাচ্ছি। সেখানে জলচর পাখিরা ডিম দিচ্ছে। দ্বীপের বেশ কিছু পাখির শরীরে এরই মধ্যে তেল লেগেছে। সেগুলো শরীরে তেল নিয়েই দ্বীপের আবাসস্থলে ফিরে যাচ্ছে।’ তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা চুপচাপ বসে না থেকে তেল ঠেকানোর কাজে নেমে পড়েছে। প্ল্যাকুয়েমিন্জ প্যারিশ হলো প্ল্যাকুয়েমিনজ এলাকার প্রশাসনিক পরিষদ।
ক্ষুব্ধ নানগেসার বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা তেল ঠেকানোর জন্য প্রতিরোধকারী ‘বুম’ স্থাপন করতে শুরু করেছে। উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় বিপি ও কোস্টগার্ড কেন আরও পদক্ষেপ নিচ্ছে না তা বোধগম্য হচ্ছে না।’ এদিকে পার্শ্ববর্তী জেফারসন প্যারিশের একজন জরুরি অবস্থা বিষয়ক ব্যবস্থাপক বিপির ভাড়া করা ৪০টি বুম স্থাপনকারী নৌকাকে উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় কাজে লাগিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা চরমে পৌঁছেছে। কারণ বিপি তেলক্ষেত্র থেকে তেল ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। তেলক্ষেত্রের পাইপের ছিদ্র বন্ধ করতে ‘টপ কিল’ নামের একটি কার্যক্রম গত রোববার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় লোকজন আরও ক্ষেপে উঠেছে। বাতাস ও বিপরীতমুখী স্রোত রোববার সাগরে ছড়িয়ে পড়া তেল উপকূল স্পর্শ করা ঠেকিয়ে রাখলেও লুইজিয়ানার জলাভূমিতে তেল প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এ ছাড়া সৈকতের অনেক স্থানেই বালুতে কালো রঙের তেলের প্রলেপ পড়েছে।
এদিকে তেল বেরিয়ে আসা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বিপির কাছ থেকে তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেরিয়র সেক্রেটারি কেন স্যালাজার বলেন, ‘যদি আমরা দেখতে পাই যে তাদের (বিপি) যা করণীয় তা করছে না, তাহলে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’ বারবার সময়সীমা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ায় বিপি কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
স্যালাজার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার সন্দেহ নেই, বিপি তেল বেরিয়ে আসা বন্ধ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এটা তাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। কিন্তু তাদের উদ্যোগ সফল হবে বলে আমি মনে করি না।’ লুইজিয়ানার গভর্নর ববি জিন্দাল উপকূলীয় জলাভূমি ও সৈকত রক্ষায় দ্রুততম সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ওবামাকে দুষলেন পেলিন: যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর সারাহ পেলিন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তেলক্ষেত্র বিপর্যয় নিয়ে ঢিলেমি করছেন। কারণ বড় তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজকে রিপাবলিকান দলীয় সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী পেলিন বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না কেন মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো প্রশ্ন তুলছে না, এই ঢিলেঢালা ভাব দেখানোর পেছনে ওবামা ও তাঁর প্রশাসনকে বড় তেল কোম্পানির দেওয়া চাঁদার কোনো প্রভাব রয়েছে কি না।’
তবে এই বক্তব্যের জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেছেন, ‘আমি মনে করি না, ওবামার প্রশাসনের সঙ্গে তেল কোম্পানিগুলোর ভালো সখ্য রয়েছে। ২০০৮ সালে নির্বাচনী প্রচারের সময় ওবামা তেল কেম্পানিগুলোর মুনাফার ওপর কর আরোপের প্রস্তাব করেছিলেন।

ইসরায়েলি কূটনীতিককে বহিষ্কার করছে অস্ট্রেলিয়া

পাসপোর্ট জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়া সরকার ইসরায়েলি দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন স্মিথ গতকাল সোমবার পার্লামেন্টে এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট জাল করে ইসরায়েলের গোয়েন্দারা দুবাই গিয়ে হামাস নেতা মাহমুদ আল মাবুহেক হত্যা করেন বলে তাঁদের তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন। এ কারণে তাঁরা এক কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি ওই কর্মকর্তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি।
স্টিফেন স্মিথ বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে তাঁদের দৃঢ় বন্ধুত্ব রয়েছে, কিন্তু তাই বলে কোনো দেশই তার পাসপোর্টের অপব্যবহার বরদাশত করবে না। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হবে।
তিনি বলেন, জাল পাসপোর্ট নিয়ে চার গোয়েন্দা কর্মকর্তা কীভাবে অস্ট্রেলিয়া থেকে দুবাই গেলেন, তা জানতে তাঁরা তদন্ত চালিয়েছেন। তাঁরা জানতে পেরেছেন, পাসপোর্টগুলো খুবই সূক্ষ্ম ও নিখুঁতভাবে জাল করা হয়েছে। হাতে যেসব তথ্য-প্রমাণ এসেছে, তাতে ওই ঘটনার পেছনে ইসরায়েলের যে হাত ছিল, সে ব্যাপারে তাঁদের কোনো সন্দেহ নেই।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবারই প্রথম নয়, ইসরায়েল এর আগেও এজাতীয় ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগে ইসরায়েল এজাতীয় কী কী ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
অস্ট্রেলিয়ার এ পদক্ষেপে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতাশা প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়াইগাল পালমোর বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার এ পদক্ষেপে আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। দুই দেশের সম্পর্কের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতির সঙ্গে এ পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
গত মার্চ মাসে একই অভিযোগে ব্রিটেন সে দেশ থেকে ইসরায়েলের এক কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। ব্রিটেন তার পরিচয় প্রকাশ না করলেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, বহিষ্কৃত ওই কূটনীতিক হলেন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একজন কর্মকর্তা।

সেরা পাকিস্তানে নেই বর্তমান

ক্রিকেটের প্রথম ‘লিটল মাস্টার’ হানিফ মোহাম্মদের সঙ্গে যদি ব্যাটিং ওপেন করতেন সাঈদ আনোয়ার! এই দুজনের পরই যদি আবার ব্যাট হাতে নামতেন ‘এশিয়ার ব্র্যাডম্যান’ জহির আব্বাস, ‘বড়ে মিয়াঁ’ জাভেদ মিয়াঁদাদ আর ‘মুলতানের সুলতান’ ইনজামাম-উল হক? কিংবা নতুন বলে ‘টু ডব্লু’র আগুন ঝরানোর পর যদি বোলিংয়ে আসতেন ফজল মাহমুদ ও ইমরান খান, আর বল পুরোনো হলে আবদুল কাদির! একেকজন একে যুগের, এঁদের একসঙ্গে খেলতে পারেন শুধু স্বপ্নেই।
ক্রিকইনফোর সর্বকালের সেরা পাকিস্তান একাদশকে মাঠে নামিয়ে দিলেই স্বপ্নটা বাস্তব হয়ে দেখা দিত। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর সর্বকালের সেরা একাদশ বাছাই করেছে ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইটটি। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার পর এবার তারা ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের সেরা একাদশ। ছয়টি সেরা একাদশের মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানেই নেই বর্তমান দলের কেউ। ১০ সদস্যের জুরি বোর্ডে ছিলেন ইন্তিখাব আলম, রমিজ রাজা, ওসমান সামিউদ্দিন, কামরান আব্বাসি, শাহরিয়ার খানের মতো ক্রিকেট ব্যক্তিত্বরা। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, ইমরান ও মিয়াঁদাদ পেয়েছেন সব জুরির ভোট।
দলের প্রয়োজনে নিজের আক্রমণাত্মক ধরনটা পাল্টে ফেলা ওপেনার হানিফ পাননি কেবল একজন জুরির ভোট। টেস্টে সবচেয়ে লম্বা ইনিংসের রেকর্ডটা (৯৭০ মিনিট) এখনো মোহাম্মদ ভাইদের সবচেয়ে বিখ্যাত জনের। ছয়জন জুরির আনুকূল্য পেয়েছেন আরেক ওপেনার আনোয়ার ও প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করা একমাত্র এশিয়ান জহির। হানিফের মতো নয় ভোট পেয়েছেন ইনজামামও। মাত্র চার ভোট পাওয়ায় জায়গা হয়নি মোহাম্মদ ইউসুফের। একমাত্র স্পিনারের লড়াইয়ে মুশতাক-সাকলাইন-কানেরিয়াকে পেছনে ফেলেছেন লেগ স্পিনার কাদির।
সমান ভোট পেয়েছিলেন দুই উইকেটকিপার ওয়াসিম বারি ও রশিদ লতিফ। ব্যাটিং রেকর্ড একটু ভালো হওয়ায় জায়গা পেয়েছেন লতিফ। জুরিদের একাদশের সঙ্গে পাঠকদের ভোটে সেরা একাদশের পরিবর্তন আছে দুটি, লতিফের বদলে বারি আর ফজলের জায়গায় শোয়েব আখতার

ফেদেরারের সহজ জয়

এই প্যারিসেই পূর্ণ হয়েছিল ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম। গত বছর এখানেই জিতেছিলেন অধরা ফ্রেঞ্চ ওপেন। টেনিসের বরপুত্র রজার ফেদেরার এবার নেমেছেন ১৭তম গ্র্যান্ড স্লামের অভিযানে। অভিযানের প্রথম ধাপটা ভালোভাবেই পার করলেন কাল। প্রথম রাউন্ডে ৬-৪, ৬-১, ৬-২ গেমে উড়িয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার পিটার লুসাককে। ফেদেরারের মতো জয় দিয়ে ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরু করেছেন তৃতীয় বাছাই নোভাক জোকোভিচ, টমাস বার্ডিচ। মেয়েদের বিভাগে জিতেছেন ভেনাস ও সহোদরা সেরেনা উইলিয়ামস, এলেনা দেমেন্তিয়েভা ও লি না।
এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত কোনো ক্লে-কোর্টের টুর্নামেন্টের শিরোপা হাতে তুলতে পারেননি ফেদেরার। গত সপ্তাহে মাদ্রিদ মাস্টার্সে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাফায়েল নাদালের কাছে হেরেছেন। এখানেও কি আরেকটি ফেদেরার-নাদাল দ্বৈরথ দেখবে টেনিস-বিশ্ব? টানা ৪২টি গ্র্যান্ড স্লামে খেলা ফেদেরার কিন্তু আগ থেকে কিছুই বলতে চাইছেন না, ‘ও এখন দারুণ ফর্মে আছে। তবে আমি শুধু আমার অর্ধের ড্র নিয়েই ভাবছি। ফাইনাল তো এখনো আসেনি।’
ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে প্রস্তুতিটা মনের মতো হয়নি সার্বিয়ার জোকোভিচের। কদিন আগেও ভুগছিলেন অ্যালার্জির সমস্যায়। তার পরও কাজাখস্তানের ইভগেনি কোরোলেভকে ৬-১, ৩-৬, ৬-১, ৬-৩ গেমে হারিয়ে দিলেন ২০০৮-এর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন। তবে নিজের খেলায় মোটেও খুশি হতে পারেননি চীনের মেয়ে লি না। ফ্রান্সের ১৭ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা ম্লেদেনোভিচকে ৭-৫, ৬-৩ গেমে হারিয়েও বললেন, ‘এই মৌসুমের সবচেয়ে বাজে টেনিস খেললাম আজ (গতকাল)।’ লি নার তুলনায় সেরেনার জয়টা যথেষ্টই ঘাম ঝরানো, ৭-৬ (৭/২), ৬-২ গেমে হারিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের স্টেফানি ভোয়েজেলকে। ভেনাস জিতেছেন প্যাটি স্নাইডারের বিপক্ষে (৬-৩, ৬-৩)।

তৃপ্ত-অতৃপ্ত বোল্ট

২০০ মিটারে তাঁর বিশ্ব রেকর্ডটি ১৯.১৯ সেকেন্ডের। এ মাসের গোড়ায় কিংস্টনে করেছেন নিজের মৌসুম-সেরা টাইমিং ১৯.৫৬ সেকেন্ড। কিন্তু পরশু সাংহাই ডায়মন্ড লিগে ২০০ মিটার জিততে সময় নিলেন ১৯.৭৬ সেকেন্ড। কিন্তু এতেই নাকি তৃপ্ত উসাইন বোল্ট, ‘ভালো দৌড়ই ছিল এটা। অনুভূতিটাও ছিল দারুণ। কিন্তু এটা সহজ ছিল না মোটেই। যদিও আমি সেরা অবস্থায় নেই, তবু আমি এটা উপভোগ করেছি। এবং আমি উন্মুখ হয়ে আছি পরের প্রতিযোগিতার দিকে।’ পরের লিগটা হবে অসলোয়, ৪ জুন।
কিন্তু আসলেই কি তৃপ্ত ১০০ (৯.৫৮ সে.) ও ২০০ মিটারের প্রায় ‘অতিপ্রাকৃত’ দুটি বিশ্ব রেকর্ডের মালিক! সে তো বোঝা গেল তাঁর পরের কথাতেই, ‘সত্যি বলতে, ভালো টাইমিংই করতে চেয়েছিলাম আমি। কারণ চীনে তো আর বারবার যাওয়া হয় না আমার।’ অলিম্পিকের পর এই প্রথম চীনে দৌড়ালেন এই জ্যামাইকান। চীন মানেই তো বোল্টের দুনিয়া কাঁপানো আবির্ভাব, অলিম্পিক জয়ের স্মৃতি।

যুক্তরাষ্ট্রে নিষ্প্রাণ ক্রিকেট

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের পরীক্ষা-নিরীক্ষাটা মনে হয় ব্যর্থই হলো। উত্তেজনা আর ধুমধাড়াক্কা ক্রিকেটের কথা ভেবে বাস্কেটবল-বেসবলের দেশে করা হয়েছিল টি-টোয়েন্টির আয়োজন। কিন্তু দুটি ম্যাচই হলো একতরফা, চার-ছয়ের বন্যা দূরের কথা, মন্থর উইকেটে টিকে থাকারই পরীক্ষা দিতে হয়েছে ব্যাটসম্যানদের। প্রথম ম্যাচে ১২০ রান করেও ২৮ রানে জেতা নিউজিল্যান্ড পরশু অলআউট হয়েছে নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোর ৮১ রানে। ৭ উইকেটে জিতে ২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ড্র করেছে শ্রীলঙ্কা।
পরশু ফ্লোরিডার লাউডারহিলে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ডের ৮১ রানের ৬৩-ই এসেছে নাথান ম্যাককালাম (৩৬*) ও ড্যানিয়েল ভেট্টোরির (২৭) ব্যাট থেকে। দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ রস টেলরের ৫! ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারেই ৩ উইকেট নেন নুয়ান কুলাসেকারা, ৩ উইকেট নেন লাসিথ মালিঙ্গাও। তিলকরত্নে দিলশানের অপরাজিত ৩৬ এবং জয়াবর্ধনে (১২ বলে ১৭) ও থিসারা পেরেরার (১৭ বলে ২৪) দুটি ক্যামিওতে শ্রীলঙ্কা লক্ষ্যে পৌঁছে ২৭ বল বাকি থাকতেই।

আমলা-ক্যালিসের ব্যাটে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০০

আগের ম্যাচে হাশিম আমলা ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের জোড়া সেঞ্চুরির পরও দক্ষিণ আফ্রিকা করেছিল ২৮০ রান। কাল অ্যান্টিগার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির দেখা পাননি কোনো প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানই। তবু দলের স্কোর ছুঁয়ে ফেলেছে তিন শ। টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেওয়া গ্রায়েম স্মিথের দল ৫ উইকেটে করেছে ৩০০ রান। জবাবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯ ওভারে ২ উইকেটে ৮১ রান করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই স্কোরের পেছনে বড় অবদান আমলার। সেঞ্চুরি না পেলেও আগের ম্যাচের ফর্মটাই ধরে রেখে করেছেন ৯২ রান। ৯৫ বলের এই ইনিংসে তিনি চার মেরেছেন ৭টি। আমলার পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৫ রান জ্যাক ক্যালিসের। ৮৯ বলের এই ইনিংসে আছে ৪টি চার। তবে আগের ম্যাচের আরেক সেঞ্চুরিয়ান এবি ডি ভিলিয়ার্স করেছেন ৪১ রান।
ওপেনিং জুটিতে অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ (৩৭) এবং দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ক্যালিসকে নিয়ে ৮৯ ও ৭৯ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন আমলা। এরপর ভিলিয়ার্সের ৩৫ বলে ৪১ এবং মিলারের ১৯ বলে ২৬ রানের ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকাকে তিন শ ছুঁতে সাহায্য করে।