Friday, August 15, 2014
স্বাধীনতা দিবসে নরেন্দ্র মোদির অন্যরকম ভাষণ
সাম্প্রতিক ধর্ষণের ঘটনাপ্রবাহ ভারতকে লজ্জায় ফেলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি পিতামাতাদের তাদের পুত্রদের কর্মকান্ডের ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পিতামাতাদের উচিত তাদের পুত্রদের অবশ্যই নৈতিক এবং অনৈতিকের মধ্যে পার্থক্য শেখানো। মোদি সবার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ভারতের প্রতিটি স্কুলে টয়লেটের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও দেন ভাষণে। মোদি বলেন, যখন আমরা এ ধর্ষণের ঘটনাগুলো সম্পর্কে শুনি, তখন লজ্জায় আমাদের মাথা কাটা যায়। ভাষণে মোদি প্রশ্ন ও পাল্টা-প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, পিতামাতারা তাদের তরুণী মেয়েদের নানা ধরনের প্রশ্ন করেন, যেমন তুমি কোথায় যাচ্ছো? কিন্তু, তারা কি তাদের পুত্রদের কাছে জানার সাহস করেন যে, তারা কোথায় যাচ্ছে? তিনি আরও বলেন, যারা ধর্ষণ করে, তারাও কারও পুত্র। পুত্ররা ভুল পথে যাওয়ার আগে তাদের আটকানো পিতামাতাদের দায়িত্ব। একই সঙ্গে মেয়ে শিশুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে ভারতীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। স্বাধীনতা দিবসে মোদির ভাষণ উপলক্ষে বেশ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। রাজধানীজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হাজার হাজার সদস্যকে। পূর্বে তৈরি কোন বক্তব্য পেশ করেননি মোদি এবং বহু বছর পর ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রী বুলেট-নিরোধক পর্দার পেছনে না দাঁড়িয়েই ভাষণ দিলেন। পূর্বের প্রধানমন্ত্রীদের মতো ঘোরতর প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোন কড়া মন্তব্য করেননি মোদি। বরং, তিনি বলেছেন, কিভাবে নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন অপরাধসমূহ তাকে লজ্জায় ফেলে দিচ্ছে। ২০১২ সালে দিল্লিতে একটি বাসে ২৩ বছর বয়সী এক মেডিকেল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর যৌন সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। মোদি তার ভাষণে প্রতিবেশীদের প্রতি সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিয়ে তার উদারনীতির প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সার্কের সবাই মিলে আমরা অন্তত দারিদ্র্য দূরীকরণের চেষ্টা করতে পারি। এই সমস্যা আমাদের সবার। নাম উল্লেখ না করে পাকিস্তানের উদ্দেশে বললেন, সংঘাতে না গিয়ে শান্তির পথে থাকাই শ্রেয়। ‘সংঘাত কেন? আমরা তো একই সঙ্গে স্বাধীনতার লড়াই লড়েছি? তিনি বলেন, আমি সবাইকে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশ চালাতে চাই। মানুষ আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন বলে নিজের ইচ্ছেমতো দেশ চালাব না। আর বলেন, আমি নিজেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী মনে করি না। মনে করি আমি দেশের প্রধান সেবক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রীতির বিয়ের ঘোষণা

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমেরিকা ইরাকে সজাগ, গাজায় অন্ধ by মো: বাকীবিল্লাহ
হিন্দুস্থান টাইমস অবলম্বনে
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চিফ হুইপকে ‘নিচে’ নামাল কে! সংবাদপত্র, নাকি তাঁর কর্মকাণ্ড?
৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের বক্তব্যে এটা মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক যে সংবাদমাধ্যমই সংসদ সদস্যদের ‘নিচে’ নামানোর জন্য দায়ী! বিষয়টি কি আসলে তাই? চিফ হুইপ ও সংসদ সদস্য হয়ে নিজের ভাতিজাকে সংসদ ভবনে ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার কাজটির সঙ্গে কি সাংবাদিক বা সংবাদপত্রের কোনো সম্পর্ক আছে? এই অনৈতিক কাজটি করেছেন তিনি নিজে এবং সংবাদপত্রের পক্ষ থেকে শুধু তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাঁর কাছে প্রশ্ন, কোনটি একজন সংসদ সদস্যকে নিচে নামাল? তাঁর কাজটি, নাকি সংবাদপত্রের প্রশ্নটি?
প্রথম আলোয় সংসদ ভবনে ক্যানটিন ব্যবসা নিয়ে যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে, তাতে এটা পরিষ্কার যে চিফ হুইপের ভাতিজা বলেই ইসতিয়াক রাব্বি পার্লামেন্টস মেম্বার্স ক্লাবটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। আর ভাতিজার ব্যবসার সুযোগ বাড়াতে তাঁর কাছ থেকেই সব খাবার কেনার এক স্বেচ্ছাচারী বিধানও করেছেন।
চিফ হুইপ একজন ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে কোনোভাবেই ‘নিচে’ নামতে চান না। তাঁর এই আকাঙ্ক্ষাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু কাজই মানুষকে নিচে নামায় বা ওপরে ওঠায়। চিফ হুইপ যদি নিজের বরাদ্দের বাইরে সাতটি বাসা দখল করে রাখেন, ক্রেস্টের বদলে প্রকাশ্যে ‘ক্যাশ’ চেয়ে বসেন বা নিজের ভাতিজাকে সংসদ ভবনে ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার মতো অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন, তবে তাঁর ‘নিচে’ নামা কেউই ঠেকাতে পারবে না!
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গড়ানো বাঁশ পাকে না by সৈয়দ আবুল মকসুদ

যদি ভারতীয় জনতা পার্টির অমিত শাহ বা রাজনাথ সিং বলতেন যে মোদি সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই, তাও বিশ্বাস করতাম। যদি সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী কিংবা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী বলতেন এ সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই এবং সরকার ব্যর্থ, তাও বিশ্বাস করা যেত। কিন্তু হুসেইন মুহম্মদ সাহেব যখন বলেন তখন মাথা চুলকাই। তিনি কি সত্যিই ব্যর্থ সরকারের পতন চাইছেন?
গণ-আন্দোলনের ফলে বিভিন্ন দেশে অনেক সরকারের পতন হয়েছে। বেশ কিছুকাল আগে ফিলিপাইনে মার্কোস সরকারের পতন হয়েছিল। জেনারেল হুসেইন মুহম্মদের সরকারেরও গণ-আন্দোলনেই পতন হয়। জেনারেল আইয়ুবের সরকারেরও। মিসরের হোসনি মোবারক ও প্রেসিডেন্ট মুরসির পতনও আন্দোলনের ফলে। সবশেষে থাইল্যান্ডের চমৎকার প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার পতনও রাজপথের আন্দোলনের ভেতর দিয়েই। সুতরাং হুসেইন মুহম্মদ সাহেবের হুমকি উড়িয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। তাঁর ঘোষণা শোনার পর মানুষের অন্তরাত্মা শুকিয়ে যায়।
অবশ্য তিনি বলেছিলেন ‘প্রয়োজনে’ রাজপথে নামবেন। কিন্তু প্রয়োজন যে এত দ্রুত দেখা দেবে, তা আমাদের মাথায় আসেনি। বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যেই প্রয়োজন দেখা দেয় এবং তিনি রাজপথে নেমে পড়েন।
প্রেসক্লাবের সামনে তাঁকে দেখা গেল রাজপথে।অবশ্য পথের মাটিতে নয়—ট্রাকে। তিনি তাঁর অঙ্গীকারের প্রতি যে সৎ, সে কথা বলেন, ‘জাতীয় পার্টির কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। ক্ষমতায় না যাওয়া পর্যন্ত [যেন তিনি ও তাঁর দল ক্ষমতায় নেই] রাস্তায় থাকব। পার্টিকে শক্তিশালী করে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাব।’
ব্যর্থ সরকারের পতন ঘটাতে যে আন্দোলন, তার জন্য দরকার একটি চত্বর—তাহরির স্কয়ারের মতো চত্বর। সে রকম চত্বর এখন রাজধানীতে একটিই আছে—শাপলা চত্বর। শাপলা চত্বরের পরিকল্পিত দিনটিতে তাঁর যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তাই ‘একটি খোলা ট্রাকে করে তিনি তোপখানা রোড থেকে শাপলা চত্বরে যান।’ এই চত্বরটি স্মৃতিবিজড়িত। সেই নিয়তি নির্ধারিত রাতের তৃতীয় প্রহরে তারা কান ধরে দৌড় না দিলে হয়তো পরদিন সকালে ওখানে হুসেইন মুহম্মদ সাহেবকে দেখা যেত নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে ভাষণ দিতে।
জীবনে বহু সরকারবিরোধী আন্দোলন দেখেছি ঢাকার রাজপথে। সেদিন তাঁর রাজপথে সরকারবিরোধী মিছিল দেখে মনে হলো, এ কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়—বিয়ের বরযাত্রী যাচ্ছে পায়ে হেঁটে। স্বয়ং বর গাড়িতে দাঁড়িয়ে। এই বরযাত্রীর বহরে শুধু ব্যান্ড পার্টি ছিল না। যেহেতু শাপলা চত্বরের দিকে কবি-রাজনীতিকের বরযাত্রা, এতে গান-বাজনার ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো—বললাম এক বরযাত্রীকে।
তিনি বললেন, কী গান?
বললাম, কবি নিজেই একটা আন্দোলনের গান লিখতে পারতেন, যেমন লিখেছিলেন গত সংসদের শেষ অধিবেশনে, তবে পুরোনো দিনের গান হলেই ভালো হয়। যেমন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কোনো গান। ধরুন ওই গানটি—
পথ পেয়েছি বলেই এবার
পথে নেমেছি।
বাঁকা পথের ধাঁধায় আমি
অনেক ঘুরেছি।
সেই বরযাত্রী বললেন, আপনি গানের কথাগুলো তো ভুল বললেন। বললাম, ওই হলো আর কি! স্মৃতি থেকে বললাম। তিনি যে শুধু দেশের মধ্যে ঘুরেছেন তা-ই নয়, দেশের বাইরেও ছোটাছুটি করেছেন। কখনো দিল্লি, কখনো নিউইয়র্ক, কখনো জেদ্দা, কখনো বেইজিং বা লন্ডন।
রাজপথে নামার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ভারত সফরে যান। খবরে জানা গেল, ‘আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যেতে মোদি সরকারের সমর্থন পেতে ভারত সফরে’ গেছেন জেনারেল এরশাদ। ‘সফরকালে বিজেপি সরকার ও দলটির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এরশাদের ঘনিষ্ঠ ও জাপার শীর্ষ কয়েকজন নেতা আমাদের সময়-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। কিছুদিন আগে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এক আলোচনা সভায় ঘোষণা করেছেন, জাপার একমাত্র লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া। জাপা চেয়ারম্যানের এই বার্তা তাঁর বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ ভারতকে জানাতেই ছেলে এরিখের স্কুলে ভর্তির নামে তিনি দেশটিতে সফরে যাচ্ছেন।’
একদিকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে পড়েছেন, আর ঘরে ফিরবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন; অন্যদিকে প্লেনে গিয়ে উঠেছেন। যে সরকারের তিনি বিশেষ দূত এবং তাঁর দলের নেতারা মন্ত্রী, সেই সরকার ভালো না—ব্যর্থ। ‘নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় পার্টির এক প্রভাবশালী নেতা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, সরকারের পরামর্শেই জাতীয় পার্টি কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে। শুনেছি এ জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’ [আলোকিত বাংলাদেশ, ৫ আগস্ট]
৫ জানুয়ারির নির্বাচনী টুর্নামেন্টের পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাপার বিপুল সফলতায় হুসেইন মুহম্মদ সাহেব ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন। কিছুদিন আগে তিনি বললেন, বিএনপি শেষ। বিএনপির জায়গা জাপা নেবে। ভারত সফরে যাওয়ার আগে বললেন, জাতীয় পার্টিকে বিএনপির মতো [বড় দল] হতে হবে। গত সাত মাসে তিনি ৪৯ রকমের কথা বলেছেন।
একবার আমাদের এলাকার এক লোক রহস্যজনক রোগে আক্রান্ত হন। এই ভালো তো এই খারাপ। কবিরাজ নরহরি গুপ্ত এলেন। তাঁকে দেখে রোগী খেপে গেলেন। অবস্থা বেসামাল দেখে কবিরাজ বললেন, এ শক্ত ব্যামো, উনপঞ্চাশ বায়ু চড়েছে। কেউ একজন বললেন, এ রোগে রোগীর জীবনাশঙ্কা আছে কি না। কবিরাজ বললেন, রোগীর নয়, বেশিক্ষণ রোগীর সামনে থাকলে জীবনাশঙ্কা চিকিৎসকের।
বিএনপি নিঃশেষ হওয়ার পর আগামী নির্বাচনী টুর্নামেন্টে জাপা যে আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক বেশি আসন পেয়ে জয়লাভ করবে, তাতে জেনারেলের যেমন সন্দেহ নেই, আমাদেরও নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিপুল আসন পাওয়ার পর জাপা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারে। সেদিন তিনি বলেছেন, জাতীয় পার্টি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
অতি জনপ্রিয় ও শক্তিশালী জাপা এরপর সরকার গঠন করবে, এই ঘোষণা শোনার পর আমার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার একটি লোকপ্রবচনের কথা মনে পড়ছে: গড়ানো বাঁশ পাকে না।
যারা কখনো গ্রামে ছিলেন এবং যাদের বাঁশঝাড় সম্পর্কে ধারণা আছে তারা জানেন, আম-কাঁঠালের মতো বাঁশ আঁটি থেকে হয় না। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে বাঁশের গোড়া থেকে কোড়ল বের হয়। ওই কোড়ল বা কচি বাঁশের কোনোটি ১০-১৫ ফুট বড় হতেই কাত হয়ে পড়ে যায়। ওগুলো আর বড়ও হয় না, পাকেও না। কোনো রাজনৈতিক সংগঠন একবার ধসে পড়লে তা আর খাড়া হয় না, পাকা তো দূরের কথা।
জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ সাহেবের কাছে রাজনীতির চেয়ে কবিতা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। রাজনীতি তাঁকে ছাড়লেও কবিতা তাঁর পিছু ছাড়বে না। রাজনীতিকে তিনি তামাশার বস্তুতে পরিণত করলেও, কবিতার ক্ষেত্রে যোগ করেছেন নতুন মাত্রা। যেদিন তিনি বলেছেন, এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই এবং সরকার পতনে রাজপথে নামবেন, সেদিনই বলেছেন, ‘আজকে নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। কয় দিন পরে হয়তো নদী নিয়ে আর কবিতা লিখতে পারব না।’ আমরা অনুরোধ করব, নদী নিয়ে এখনই কিছু কবিতা লিখে রাখা হোক। তাঁর ফর্মুলা মতো নদী নিয়ে কবিতা লিখতে গেলে চোখের সামনে নদী থাকতে হবে। যেমন প্রেমের কবিতা লিখতে গেলে সামনে বসিয়ে বা শুইয়ে রাখতে হবে একজন প্রিয়াকে। অথবা (তাঁর মতো কবির জন্য ভালো হয়) প্রিয়ার মতো সুন্দরী কোনো যুবতীকে। উদ্বেগের বিষয় হলো, বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্র গেছে, রাজনীতি গেছে, এখন যার-তার হাতে কবিতা পড়ায় তাও যাওয়ার পথে।
গৃহপালিত বিরোধী দলকেও মানুষ মেনে নেয়, যদি তারা জনগণের কল্যাণে কিছু কাজ করে। কিন্তু পাতানো বিরোধী দল হলো শোকেসে রাখা মাটির পাকা আমটির মতো। ওটা আম নয়, তাই পাকাও নয়—মাটির দলা মাত্র, কুম্ভকারের হাতে তৈরি এমন এক বস্তু, যা শুধু দর্শককে প্রতারণাই করে।
অনেক দেশেই গণতন্ত্র নেই। ভালো কথা। অনেক দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতিও নেই। তা-ই বা মন্দ কী? কিন্তু রাজনীতি নিয়ে তামাশা কোথায় আছে? রাজনীতি কি বাচ্চাদের এক্কা-দোক্কা বা কুত কুত খেলা? ষোলো কোটি মানুষের একটি রাষ্ট্র কি গরু-ছাগল-ভেড়ার হাট? গরু-ছাগলের গলায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে ব্যাপারীরা। জনগণের গলায় দড়ি, পায়ে বেড়ি ও মুখে ঠুলি দিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করেন কোন দেশের নেতারা?
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কবি শামসুর রাহমান by বিমল গুহ
কবির মানস গঠন হয়েছে কিশোর বয়সেই। তাঁর কথায়-‘আমি কিভাবে কবিতার পথে এসেছি, সেটা বলা মুশকিল। কেননা আমি কোনো প্ল্যান করে- মানে কোমর বেঁধে কবিতা লিখতে বসিনি, এটা অনেকটা হঠাৎ পেয়ে যাওয়া ধনের মতো। ...আমাদের মহল্লাতে একটি খ্রিস্টান পরিবার ছিল- তাদের একটা লাইব্রেরি ছিল। সেই লাইব্রেরিতে মহল্লার কেউ যেত না- আমিই বোধ হয় সেই লাইব্রেরিতে প্রথম বহিরাগত। সেখানে আমি পুরানো বাঁধানো ‘প্রবাসী’ দেখতে পাই এবং আরো কিছু কিছু বই পাই। আমার ক্ষুধা সে-লাইব্রেরি মেটাতে পারেনি। তখন পাটুয়াটুলির কাছে ব্রাহ্মসমাজের একটা লাইব্রেরি ছিল। সেটা হল- ‘রামমোহন লাইব্রেরি’। আমি সেই লাইব্রেরির সদস্য হয়ে গেলাম। সেখানেই আমার প্রকৃত পাঠ শুরু হল। সেখানেই আমি রবীন্দ নাথ, বঙ্কিমচন্দ , শরৎচন্দ এবং আরো দেশি-বিদেশি লেখকদের রচনা পড়ার সুযোগ পাই। এভাবেই আমার কিছু মানস গঠন হয়েছে। তারপর হঠাৎ একদিন ১৯৪৮ সালে, আমার কি মনে হল- আমি লিখে ফেললাম কিছু আর কি- একটি কবিতা’! কবিতাটি ছাপা হয়- ‘সোনার বাংলা’ নামের সাপ্তাহিক পত্রিকায়। সেই শুরু কবির যাত্রা, বাংলা ভাষার অন্যতম শীর্ষকবি শামসুর রাহমানের। করেছেন- বাঙালি জাতির স্বপ্নচৈতন্য, উত্থান ও জীবনপ্রবাহের ধারাবাহিক ঐতিহাসিক রূপায়ন। নদীর গতি যেমন প্রকৃতি অনুসারী, সাহিত্যের গতিও তেমনি সমাজ-প্রকৃতি অনুগামী। স্বাভাবিক এর পথচলা, নিরন্তর এর যাত্রা সামনের দিকে। এই পথচলায় বাংলা কবিতার বিপুল আয়তনে খরস্রোতা নদীর মতোই বিশাল রেখা টেনে এগিয়ে গেছেন কবি শামসুর রাহমান।
সাতচল্লিশের ভারত-বিভক্তির পূর্বে ঊনিশ শতকের শুরু থেকে যে-বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী বিকাশ লাভ করেছিলো, তাতে স্বভাবতই নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের সৃষ্টিতে উল্লসিত বোধ করেছে অনেকে। পাকিস্তান সৃষ্টির পরে-পরে এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জীবন ও সাহিত্যশিল্পে শুরু হয় নতুন উদ্দীপনা। সেই সময়ে ও তৎপরবর্তীকালে এই অঞ্চলে, তৎকালীন পূর্ব বাংলার কবিতায় দ্বিমুখী ধারার আর্বিভাব ঘটে। একটি ধারা ইসলামী মূল্যবোধকে লালন করে এগোতে থাকে: এঁরা পাকিস্তানি আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলা সাহিত্য ইসলামী চেতনা প্রবর্তনের জন্য উৎসাহী হয়ে উঠেছিলেন। বিভাগপূর্ব কালের ‘পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি’ ও ‘পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ’-এর আদর্শকে এঁরা বহন করেছিলেন। একই সময়কালে কারো কারো কবিতায় অসাম্প্রদায়িক ও তিরিশোত্তর নতুন কবিতার লক্ষণ প্রত্যক্ষযোগ্য হয়ে ওঠে। এভাবে দিন দিন প্রগতিশীল ধারাটি বিকশিত হতে থাকে, আর প্রগতিবিরোধী ধারাটি একসময় নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এর পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ পঞ্চাশের দশকে এ বাংলার কাব্যস্রোত আরো বেগবান হতে থাকে। কবি শামসুর রাহমান এই সময়ের কবিদের মধ্যে অগ্রসারিতে ছিলেন।
কাল-পরিক্রমণের বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা সাহিত্যের এই গতিতে কখনো শতক-দশকওয়ারী বিভাজন করলেও, তা কোন প্রকৃত কবির কাব্যযাত্রায় তেমন প্রভাব ফেলে না। দশওয়ারী বিভাজন সচেতন পাঠকের কাব্যবিচারের সুবিধার্থেই কেবল করা হয়ে থাকে। প্রকৃত কবিতার পাঠকের কাছে তার কোন আলাদা অর্থ নেই। ভালো কবি সবসময়ই ভালো কবি। সেই খণ্ডিত পরিমণ্ডল অতিক্রম করে শামসুর রাহমান উঠে এসেছেন সমগ্র বাংলা কবিতার শীর্ষ সারিতে। শামসুর রাহমানের কবিতা মানে বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বাঙালি জীবনাচরণের ধারাবাহিক ইতিহাস। তিনি তাঁর কবিতায় রূপায়ন করেছেন বাঙালি সমাজ ও সভ্যতার ইতিহাস। আমাদের জাতীয় জীবনে রবীন্দ -নজরুল যেভাবে প্রতিদিনকার জীবনযাপনের সাথে স¤পৃক্ত, শামসুর রাহমানের কবিতাও তাই। আমাদের জাতীয় জীবনের সকল আয়োজনে শামসুর রাহমানের কবিতার উজ্জ্বল উপস্থিতি থেকে তা সহজে অনুমান করা যায়। সচল কবি হিসেবেই পরিণত বয়সে জীবন অতিক্রান্ত করেছেন তিনি। লিখে গেছেন আমৃত্যুকাল্, তাঁর প্রত্যয়ও তা-ই ছিলো। জীবৎকালে,যোগ্য মর্যাদাও পেয়েছেন, নিজের অবস্থানও দেখে যেতে পেরেছেন। কম কবির এই সৌভাগ্য হয়! শামসুর রাহমান তাঁর ‘নিজ বাসভূমে’ কাব্যগ্রন্থে ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন এই বলে যে, ‘যদি বাঁচি চার দশকের বেশি/ লিখবো।/ ...যদি বেঁচে যাই একদিন আরো/ লিখবো’। হ্যাঁ তাঁর ইচ্ছা পূরণ হয়েছে, তিনি আমাদের জন্য কবিতার জগৎই শুধু সম্প্রসারণ করে যাননি, সম্প্রসারণ করেছেন সাধারণের কাছে কবিতার গ্রহণযোগ্যতা এবং কবিদের সামাজিক মর্যাদা। নিজের মর্যাদার প্রতিও তিনি ছিলেন- টান টান। তিনি সেই মর্যাদা অর্জন করেছেন এবং আমাদের দেখিয়ে গেছেন।
কবি স্বভাবে ছিলেন অতি বিনয়ী। কোন গরিমা দেখেনি কেউ- এই মাপের একজন কবির মধ্যে। ছোটবড় সবার বন্ধু। একজন অতি তরুণ কবিকেও কাছে টেনে নিতেন, উৎসাহিত করতেন লেখার ব্যাপারে। তাঁর কাছে যেতে কোন তরুণ কবির সাহস সঞ্চয় করার প্রয়োজন হয়নি। তবুও বলতে হয়- বিশাল কাব্যপরিমণ্ডল গড়ে তোলার এই কৃতি-মানুষের কাব্যবিচার করবে সময়। তবে এটুকু বলা যায় যে, শামসুর রাহমানের উচ্চারণ ছিলো হৃদয়-সংবেদী, সমাজলগ্ন ও কালজয়ী। শিল্পের সঙ্গে সাধনাকে যুক্ত করতে চেয়েছেন তিনি, যে-সাধনা অনিবার্যভাবে সৃজনশীল ও কালের প্রতিভূ হয়ে দাঁড়িয়েছে কাল-পরিক্রমায়।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দৃপ্ত অহংকার by রফিকুর রশীদ
কিসের অহংকার?
সে কথা খোলাসা করে বলেন না কোথাও। তবে এ অহংকারের কথা তিনি কখনও জোর গলায় অস্বীকারও করেননি। বরং কদম ফোটার মতো করে সারা মুখে স্মিত হাসি ছড়িয়ে বিনম্র ভঙ্গিতে তিনি বলেন, এক আধটু অহংকার থাকা ভালো। চারপাশের মানুষ হিসাব মেলাতে বসে। সবাই জানে, অহংকার পতনের মূল। মরণের ফাঁদ পাতা থাকে অহংকারের ভেতরেই। এসবই তো এতদিন সবাই শিখে এসেছে ইশকুলে কিংবা সমাজে, সর্বত্রই। অথচ সূর্যখোলা গ্রামের হুজুর স্যার দিব্যি হাসতে হাসতে বলেন- অহংকার না থাকলে মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে কী করে! অনেকেরই ভাবনা হয়, হুজুর স্যারের মুখে মাথা উঁচু করার কথা আসে কেমন করে! গ্রামের ইশকুলের ধর্মীয় শিক্ষক তিনি। ছাত্রেরা হুজুর স্যার বললেও আশপাশের দশগ্রামে তিনি মওলানা সাহেব নামে পরিচিত। তিনি বলেন, মাথা উঁচু করার কথা! দু-একজন আবার সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ মিশিয়ে উৎকট একদিকে ইঙ্গিত করে- অমুসলিম হয়েও রবীন্দ্রনাথ মাথা নত করতে বলেছেন, আমার মাথা নত করে দাও হে প্রভু... আর মওলানা হয়ে উনি কিনা বলেন...।
এসব মন্তব্য কখনও কখনও ডালপালা ছড়াতে ছড়াতে তার কানে যায়, তিনি হাসেন। তিনি বিশ্বাস করেন- সবার উপরে মানুষ সত্য এই মন্ত্রে। সৃষ্টির সেরা কাকে বলে? কোথায় সেই শ্রেষ্ঠত্ব? সেই শ্রেষ্ঠত্বের সন্ধান পেলে মাথা উঁচু না করে পারে মানুষ! ওই যে কাজী নজরুল বলেছেন, উন্নত মম শির; অহংকার না থাকলে চলে?
তাহলে কী সেই অহংকার মওলানা মুজিবুর রহমানের?
টাকা-পয়সা কি অর্থ-বিত্তের অহংকার তিনি পাবেন কোথায়? ওসব কি আদৌ তার আছে! হ্যাঁ, জন্মদাতা বাপের কাছে বিস্তর গল্প শুনেছেন এবং শৈশব-কৈশোরে তিনি নিজেও খানিক দেখেছেন- সীমান্তের ওপারে বাপ-দাদার যথেষ্ট জমি-জায়গা ছিল, সঙ্গে সামাজিক প্রতিপত্তি ছিল। দেশ ভাগের ছোবলে সেসব তলিয়ে গেছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার ছোট ভাইয়ের মৃতদেহ ওপারে ফেলে রেখে শেখ মোঃ আজিজুর রহমান রাতের অন্ধকারে জন্মভিটা ত্যাগ করে চলে আসেন এপারে সূর্যখোলা গ্রামে। দেশান্তরের এ অপমানে তিনি এতই মুহ্যমান হয়ে পড়েন যে, পাক পবিত্র এই নতুন দেশে একমাত্র পুত্র মুজিবুর রহমানকে সংসার বন্ধনে আবদ্ধ করে দেয়ার বছর খানেকের মাথায় নিজেকে গুটিয়ে নেন। বংশের পদবী ‘শেখ’-এর ব্যবহার নিয়ে মুজিবুর রহমানের অন্তরে নানা রকম দ্বিধা এবং সংশয় দানা বেঁধেছে। মক্তব মাদ্রাসায় পড়ার সুবাদে সার্টিফিকেটে শেখ মোঃ মুজিবুর রহমানই লেখা হয়েছে, কিন্তু পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর তার মনে হয়েছে- কোথায় সেই দোর্দণ্ড দাপুটে শেখ, এ দেশে তাকে কুকুর-বেড়ালও ইজ্জত দেবে না! এসব ভেবে নিজের নামের আগে শেখ ব্যবহারে একেবারেই উৎসাহ পান না। মনে মনে জিভ কাটেন আর নিজেকে শুধান- বেড়াল কখনও রাগ হয়? এ্যাঁ?
এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ মুজিবের উত্থান তিনি কখনও হৃষ্টচিত্তে মেনে নিতে পারেননি। অথচ চোখের সামনেই দেখেছেন সেই এক নেতার নামে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কথাও বিলক্ষণ শুনেছেন। হাতের মুঠোয় যুক্তি খুঁজে খুব বেশি জড়ো করতে না পারলেও তার প্রবল বিশ্বাস- শেখ মুজিবের পক্ষেই সম্ভব এই দেশ ভেঙে টুকরো করার ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দেয়া। নাহ্ নিজের নামের সঙ্গে এ দেশদ্রোহী নেতার নামের সাদৃশ্য দেখে মোটেই স্বস্তি পান না। কিন্তু অবেলায় তিনি কি-ই বা করতে পারেন- এফিডেভিট করে নিজের নাম বদলে ফেলবেন? সেও নাকি দুস্তর ঝামেলার কাজ। নিজের হাজার গণ্ডা কাজ ফেলে ওই অকাজের পেছনে সময় দেয়ার সময় কোথায় তার! এদিকে মওলানা ভাসানীর কাণ্ড দ্যাখ- এমনিতেই দেশের মানুষ ক্ষেপে আগুন, তিনি কিনা সেই স্ফূলিঙ্গে দেশলাইয়ের কাঠি ঠুকে দিতে চান। কী সাংঘাতিক কথা! একি একটা স্লোগান হল- জেলের তালা ভাঙবেন, শেখ মুজিবকে আনবেন! লুঙ্গি পাঞ্জাবি তালের টুপিতে মোড়া অত বড় নেতা, কেন মুজিবকে ছাড়া তার কি চলবে না? বাপরে বাপ! সারা দেশ অচল-টচল করে দিয়ে শেষমেশ শেখ মুজিবকে বাইরে এনে ঘটনা কী ঘটল! সে াতে ভাসা জনতার মধ্যে তোফায়েলের ঘোষণার বরাত দিয়ে তিনি হয়ে গেলেন বঙ্গবন্ধু, আর ভাসানীর কী হল! মজলুম জননেতা হয়ে তিনি ভেসে চললেন এ ঘাটে ও ঘাটে।
না, বঙ্গুবন্ধুর পিতৃপ্রদত্ত নামের সঙ্গে নিজের নামের কাকতালীয় সাদৃশ্যের কারণে সূর্যখোলার হুজুর স্যার আনন্দিত হতে পারেননি, অহংকার আসবে কোত্থেকে?
তাহলে তার অহংকারের উৎস কী!
তবে কি শহীদপুত্র হাফিজুর রহমানকে ঘিরেই তার এত অহংকার?
পর পর তিন কন্যার পর হাফিজুর এসে পিতৃবক্ষের পুত্রতৃষ্ণা নিবারণ করে। মায়ের সীমাহীন আশকারা পেয়ে মাদ্রাসা লাইন ছেড়ে জেনারেল লাইনে লেখাপড়া করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সারা দেশে তখন ছাত্রসমাজের আন্দোলন তুঙ্গে। ৬ দফার সঙ্গে ১১ দফা যুক্ত হয়ে দেশের রাজনীতিতে মাত্রা এনে দিয়েছে অভিনব- চাই মুক্তি, চাই স্বাধীনতা। আন্দোলন ধীরে ধীরে অগ্রসর হয় এক দফার দিকে- স্বাধীনতার চেয়ে আর একটুও কম কিছু নয়।
হাফিজুর সেই স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজেকে নিঃশেষে উৎসর্গ করে হুজুর স্যারকে দিয়ে যায় বীর শহীদের পিতার সম্মান। সূর্যখোলার মুজিবুর রহমানের মাথা উঁচু করা অহংকার কি তবে এই পুত্রের জন্য?
ওই বিশেষ সম্মানটুকু ছাড়া পুত্র তাকে কী দিয়েছে?
একটি মাত্র পুত্র তার। কত না নিদ্রাহীন রাতের ঐকান্তিক প্রার্থনায় তাকে পাওয়া। হাফিজুরের মা প্রতি মাসের বেশ কয়েকটি দিনে রোজা করেছে, এশার নামাজ শেষে কেঁদে কেঁদে জায়নামাজ ভিজিয়েছে ওই একই প্রার্থনায়। বড় বোনেরাও চেয়েছে তাদের যদি একটা ভাই থাকত! এত প্রত্যাশার সন্তান হাফিজুর যা চেয়েছে তা-ই দেয়া হয়েছে। মক্তবে পড়বে না, স্কুলে যাবে; তাই মেনে নিতে হয়েছে : যদিও হাফিজুরের দেওবন্দ পড়–য়া দাদু মৃত্যুর আগে ছেলের হাত ধরে অনুনয় করেছিলেন, তোমার পুত্রসন্তান হলে মক্তবে পড়তে দিয়ো। আহা, মৃত পিতার অনুনয় ভরা মুখচ্ছবি বারবারই মনে পড়েছে, তবু পুত্রের ইচ্ছায় বাদ সাধেননি। বড় হয়ে এ অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, হাফিজুর গিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশের তখন উত্তাল টালমাটাল সময়। তবু ছেলেকে তিনি বাধা দেননি। কাউকে কিছু না বলে হাফিজুর মুক্তিযুদ্ধে গেছে জানার পর খুব নিভৃতে একটি দীর্ঘশ্বাস তিনি চাপা দিয়েছেন, আবার অবুঝ স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিয়েছেন- দেশের স্বাধীনতার জন্য ওরা তো যুদ্ধে যাবেই।
এই দেশ স্বাধীন হবেই।
হাফিজুরে মা অবাক চোখে স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকেছে, তার মুখে যেন এমন কথা আশাই করেনি। তবে কিছুদিন থেকে স্বামীর কথাবার্তায় খানিকটা ওলট পালট পরিবর্তনও তার নজরে পড়েছে। হাফিজুরের যুদ্ধে যাওয়াই কি এ পরিবর্তনের কারণ? ভেবে-চিন্তে হাফিজুরের মা নির্ণয় করেছে- এ পরিবর্তন ঘটেছে আরও কিছুদিন আগে। একেবারে মার্চ মাসের গোড়ার দিকে প্রতিদিন আধাবেলা হরতাল অসহযোগ আন্দোলন সবকিছু উজিয়ে হাফিজুরের বাবা ঢাকায় গিয়েছিলেন ছেলেকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য। সে উদ্দেশ্য তার সফল হয়নি। ছেলেকে সঙ্গে না নিয়ে বহু কষ্টের পথ পেরিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন, কিন্তু চোখেমুখে তার ব্যর্থতার ছায়া পড়েনি। বরং কী একখানা যেন জগৎ উদ্ধার করে ফিরেছেন- এমনই উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে স্ত্রীকে জানিয়েছেন, সত্যিকারের শেখ মুজিবকে দেখে এলাম।
হাফিজুরের মা বিস্মিত।
সে দিন ছিল সাতই মার্চ। রেসকোর্সভরা ছাত্র-জনতা-কৃষক-শ্রমিক। আকাশ কাঁপানো স্লোগান বজ কণ্ঠ বক্তৃতা। সূর্যখোলার হুজুর স্যার মুজিবুর রহমানের চেতনায় বিদ্যুৎ ঝলসে ওঠে। মানুষের
গায়ে মানুষ ঠাসা। তবু তিনি মানুষ ঠেলে মাথা গলিয়ে সামনে যেতে চেষ্টা করেন। এক জায়গায় এসে থামতেই হয়। সেখান থেকেই দেখতে পান শেখ মুজিবকে। সাদা পাঞ্জাবির ওপরে মুজিব কোট; চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। তার ডান হাতের শাহাদৎ অঙ্গুলি যেন আকাশ ছুঁতে চায়। কী যে দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম! জয় বাংলা স্লোগানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই মুষ্টিবদ্ধ হাত ঊর্ধ্বে তুলে ধরে। এক সময় হুজুর স্যার চমকে ওঠেন, তিনিও কি হাত তুলেছেন? নইলে তার মুষ্টিবদ্ধ হাতে এত অহংকার কিসের?
পুত্রের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের পুরস্কার হিসেবে পাকিস্তানি সৈন্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায় ক্যাম্পে। মাসখানেকের অমানুষিক নির্যাতনে ডান পায়ের হাঁটুর নিচে ভেঙে যায়। পায়ের পাতা থেঁতলে দেয়; তার পর কী যে মনে হয় তাদের- বন্দির নাম শেখ মুজিবুর রহমান, একথা রাজাকারদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরও একযোগে হো হো করে হেসে ওঠে এবং সত্যি সত্যি তাকে আর্মি ক্যাম্প থেকে ছেড়ে দেয়। বিশ্বাস হয় না হুজুর সারের। ডান-পা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সামনে এগিয়ে আসেন এবং সর্বদা আতংকে থাকেন- এই বুঝি পেছন থেকে গুলি ছুড়ছে। শেখ মুজিবকে হত্যার এ সুযোগ ওরা বেহাত করে!
বাড়ি পৌঁছনোর পর সেদিন একবার খুব অহংকার হয় নিজের নামের জন্য। হাফিজুরের মা পরম মমতায় গোসল করায়, হাতে তুলে ভাত খাওয়ায়, ধীরে ধীরে নরম বিছানায় শুইয়ে দেয়। তার পরই আকাশ-পাতাল জ্বর, সারা গায়ে আগুনের হলকা, দু’চোখ ভাটা ভাটা। তারই মধ্যে প্রলাপ বকেন- আমারই নাম শেখ মুজিবুর রহমান।
একেবারে যুদ্ধের শেষ দিকে খবর আসে, সাতক্ষীরা নাকি বেনাপোল কোথায় নাকি সম্মুখ সমরে শহীদ হয়েছে হাফিজুর রহমান। এ সংবাদে মা-বাবা দু’জনেরই ভেঙে পড়ার কথা, মা ঠিকই লুটিয়ে পড়ে কান্নায়, বাবা প্রায় নির্বিকার ভঙ্গিতে জানান- না না শেখ মুজিবের সন্তান কিছুতেই মরে না, ওরা সব অমৃতের সন্তান। মরবে কেন! মাত্র মাস খানেক পরে হাফিজুরের সহযোদ্ধারা বিজয়ের পতাকা নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায়, হাফিজুরের মা তাদের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর্তনাদ করে, বোনেরা পাগলের মতো আছাড়ি-পিছাড়ি কাঁদে, বাবা কিছুই বলে না, ভাবলেশহীন তাকিয়ে থাকেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা এগিয়ে এসে তার পা ছুঁয়ে কদমবুসি করে এবং পায়ের কাছেই নামিয়ে রাখে হাফিজুরের মুক্তিযোদ্ধা আইডেনটিটি কার্ড। সেই কার্ডটি তিনি হাতে নিয়ে পাঞ্জাবির বুক পকেটে সযতেœ ঢুকিয়ে রাখেন। কাউকে দেখার সুযোগ দেন না। বিগত সাড়ে তিন বছরে জামা বদল হয়েছে যখনই, তিনি সতর্ক আঙুলে তখনই সেই কার্ড চালান করেছেন পকেটে। কেউ জানে না কী লেখা আছে সেই কার্ডে।
জগৎ সংসারে এমন অনেক ঘটনাও ঘটে, আপাতদৃষ্টিতে তার কার্যকারণ সূত্র খুঁজে পাওয়া যায় না, ঘটনার অন্তরালে পূর্বাপর যোগসূত্রটি কখন কী রচিত হয়েছে, তারও উদ্দিশ মেলে না।
সূর্যখোলার মুজিবুর রহমানের বাড়িতে সেদিন সূর্য ওঠার আগে তেমনই এক অব্যাখ্যের ঘটনার অবতারণা হয়। না, সেই প্রত্যুষের ঘটনার বিবরণ দেয়ার আগে রাতের ঘটনাটুকুও খুলে বলা দরকার। মুজিবুর রহমান এশার নামাজ শেষে সালাম ফিরিয়ে স্ত্রীকে ডেকে বলেন, দক্ষিণের জানালাটা লাগিয়ে দাও তো জাহানারা। স্ত্রী সে আদেশ পালনের সময় গজর গজর করে, এত জোরে রেডিও বাজানোর মানে হয়! তা একি রকম মানে হয়ই তো! প্রতিবেশীর সুবিধে-অসুবিধে দেখতে গেলে তাদের চলে! তাদের দরকার ফুল ভল্যুমে গান শোনা। হল্যান্ড সেট ফিলিপস রেডিওতে যত রাজ্যের স্টেশন আছে সবগুলোই ধরে। উর্দু কিংবা হিন্দি একটা কিছু হলেই হল। মুজিবুর রহমান জায়নামাজে বসেই স্ত্রীকে শোনান। এ দেশটায় দু’বার এলো স্বাধীনতা। তুমি হিসাব করেছ জাহানারা, আমরা একবার হারালাম আমাদের ছোট চাচাকে। একবার হারালাম আমাদের ছেলেকে।
জাহানারা বেগম অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। একটু ফাঁক দিয়ে বাক্য শেষ করেন মুজিবুর রহমান- আমরা কী পেলাম বল দেখি!
কাছে বসে গায়ে হাত রেখে জাহানারা বেগম শুধায়- তোমার কী হয়েছে বল তো শুনি! শরীর খারাপ?
নাহ!
তুমি কি নামাজ পড়তে বসেছ, নাকি হিসাব মেলাতে বসেছ? ভোররাতে তাহাজ্জুদের সময়েও তাহলে এ ধ্যান কর?
প্রসঙ্গ থেকে সরে গিয়ে মুজিবুর রহমান বলেন- পারলে না তো বলতে! স্বাধীনতা, আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। বলতে গিয়ে একটু হেসেও ওঠেন বুঝিবা।
সেদিন ভোরবেলা জাহানারা বেগমের ঘুম ভাঙে প্রতিবেশীর রেডিও থেকে ভেসে আসা ঘোষণায় বিশ্বাসঘাতক এক মেজর নিজের নাম উল্লেখ করেই সগর্বে জানাচ্ছে, দেশের প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে...। ভয়ার্ত কণ্ঠে আর্তনাদ করে ওঠেন জাহানারা বেগম, বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে দ্যাখেন, মেঝেতে বিছানো জায়নামাজে ডান দিকে গড়িয়ে পড়ে আছে তার স্বামীর নিথর দেহ। তার ফজরের নামাজ শেষ হয়েছে কিনা কে বলবে সে কথা!
এমন কাকতালীয়ভাবে মৃত্যুর সাদৃশ্যও ঘটে কখনও!
সারা দেশ তখন স্তব্ধ। ঘরের বাইরে বেরোনো পর্যন্ত নিষিদ্ধ। সূর্যখোলা গ্রামের শ্রাবণ আকাশ দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পর একটুখানি সরিয়ে নেয় মেঘের পর্দা, তখনই এক ঝলক রোদ এসে সবার পরিচিত হুজুর স্যারকে প্রণতি জানিয়ে যায়। সেদিন যারা সব প্রতিকূলতা ঠেলে তার জানাযায় অংশ নেয়, তারা পরস্পর বলাবলি করে লোকটির খুব অহংকার ছিল দেশের স্বাধীনতা নিয়ে। নইলে মুক্তিযোদ্ধা পুত্রের পরিচয়পত্র এভাবে বুক পকেটে কেউ আগলে রাখে!
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সম্প্রচার নীতিমালা বাতিল করুন by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
আমাদের জাতীয় সংসদের বিতর্কও একদলীয়। রাজনীতিমনস্ক মানুষ জাতীয় সংসদের বিতর্ক শুনে মোটেও আনন্দ পান না। কারণ, সেখানে নেতৃবন্দনা, স্তুতি ও বিরোধী দলের সমালোচনাই প্রাধান্য পায়। জাতীয় সংসদের বিতর্কের চেয়ে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের একাডেমিক বিতর্ক অনুষ্ঠান অনেক বেশি গঠনমূলক ও উপভোগ্য। তবে এটা ঠিক যে টিভি টক শোর কাঠামো, অতিথি নির্বাচন, বিষয়বস্তু ইত্যাদি নিয়ে আরও চিন্তাভাবনার সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই অনুষ্ঠানকে জনগণের আরও কাছাকাছি আনা যায়।
সম্প্রচার নীতিমালায় টক শো প্রসঙ্গে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে স্বাধীন ও স্বাভাবিক গতিতে টক শো করা আর সম্ভব হবে না। নীতিমালার নানা ধারা অনুযায়ী টক শোর আলোচকদের হয়রানি করার সুযোগ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভয়ে অনেক চ্যানেল-মালিক টক শোর স্পষ্টভাষী, সাহসী, সরকারের সমালোচক ও জনপ্রিয় আলোচককে আর আমন্ত্রণ জানাবেন না। (ইতিমধ্যে কয়েকজন অতিথি নিষিদ্ধ হয়েছেন।) ফলে টক শো দর্শকদের কাছে আকর্ষণ হারাবে। তাতে সরকারের লাভ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের চাপ বাড়বে চ্যানেল-মালিকদের ওপর। তাঁরা ব্যবসায়ী, রাজনীতিক নন। কাজেই তাঁদের ব্যবসার স্বার্থে তাঁরা এই চাপের কাছে হয়তো নতিস্বীকার করবেন।
টক শোতে আলোচকেরা স্বাধীনভাবে তাঁদের মতামত প্রকাশ করেন। তা অব্যাহত থাকতে দিতে হবে। মতামতের কাউন্টার মতামত থাকতে পারে। সেটা এখনো প্রতি টক শোতে দর্শক-শ্রোতারা শুনছেন। তবে খবর ও টক শোতে ভুল তথ্য দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা উচিত নয়। কেউ ভুল তথ্য দিলে এবং তার প্রতিবাদ পাওয়া গেলে তা পরদিন ঠিক একই অনুষ্ঠানে প্রচার করতে হবে। ভুল তথ্য প্রচারের জন্য আলোচক ও উপস্থাপককে ক্ষমা চাইতে হবে। তবে মতামত বা বিশ্লেষণ দেওয়ার ব্যাপারে আলোচকেরা শতভাগ স্বাধীন।
বাংলাদেশে প্রাইভেট টিভির ‘খবরও’ একটি আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান। শুধু খবরকেন্দ্রিক পাঁচ-পাঁচটি প্রাইভেট টিভি চ্যানেল রয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় তারা খবর প্রচার করে। শোনা যায়, সব টিভি চ্যানেলই খবর প্রচার থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ বেশি আয় করে থাকে। খবর টিভি চ্যানেলের কাছে সবচেয়ে লাভজনক অনুষ্ঠান। খবর নিয়ে সমালোচনা করার অনেক দিক আছে, যা আজ আলোচনা করব না। সম্প্রচার নীতিমালায় খবর সম্পর্কে এমন কিছু বিধান রাখা হয়েছে, যা অনুসরণ করতে গেলে খবরের কোনো আকর্ষণই আর থাকবে না। শুধু সরকারি সেমিনার, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান ও সরকারের উন্নয়নের খবরই প্রচার করতে হবে। অবশ্য দুর্ঘটনার খবর প্রচার করতে বাধা আসবে বলে মনে হয় না। রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, শ্রমিক সংগঠন—এদের কোনো আন্দোলনের খবর ও ছবি ‘খবরে’ আর দেখানো যাবে না। সেনা কর্মকর্তা, র্যাব, পুলিশ সদস্য—এঁদের কোনো অপকর্মের ‘খবর’ টিভিতে দেখানো যাবে না। এঁরা যে ভালো ভালো কাজ করছেন, শুধু সেগুলো দেখানো হবে। এই নীতিমালার রচয়িতারা হয়তো জানেন না ‘খবর’-এর সংজ্ঞা কী। কুকুর মানুষকে কামড়ালে তা খবর হয় না। মানুষ কুকুরকে কামড়ালে সেটাই খবর। তথ্য মন্ত্রণালয় এই নীতিমালার মাধ্যমে এ দেশের টিভি দর্শকদের একটি প্রিয় অনুষ্ঠানকে (খবর) অনাকর্ষণীয় ও অপেশাদারি করার একটা ব্যবস্থা করেছে। টিভির খবর যদি সত্যি সত্যি এ রকম পানসে হয়ে যায়, তাহলে দর্শক-শ্রোতারা আবার সত্তর-আশির দশকের মতো বাংলাদেশের খবর শোনার জন্য বিবিসি (বাংলা) ও ভয়েস অব আমেরিকার দ্বারস্থ হবেন। মানুষকে তো দেশের প্রকৃত খবর জানতে হবে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের আমলারা এই নীতিমালা করার সময় চিন্তা করেননি দেশে এখন তথ্য প্রচারের জন্য অনলাইন পত্রিকা, নিউজ পোর্টাল, ইন্টারনেট, ফেসবুক, ব্লগ, টুইটার, ইউটিউব ও নানা রকম প্রযুক্তি রয়েছে; যা ইতিমধ্যে দেশে ও বিদেশে লাখ লাখ বাংলাদেশি ব্যবহার করছেন। যার মাধ্যমে শুধু এসব তথ্য নয়, অডিও ও ভিডিও ফুটেজও প্রচারিত হচ্ছে। তথ্য মন্ত্রণালয় এই নীতিমালা করে হয়তো দেশে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে দিতে পারবে।
জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালায় এমন বহু কথা রয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয় ও বাহুল্য। এগুলো নীতিমালায় রাখার প্রয়োজন নেই। আমাদের দেশের গণমাধ্যমকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার তথ্য মন্ত্রণালয়কে শেখাতে হবে না। যদি কোনো টিভি চ্যানেল মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো অনুষ্ঠান করে, তাদের দেশের প্রচলিত আইনে দণ্ড দেওয়া যায়। বাংলাদেশের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ মান্য না করে এ দেশে কেউ গণমাধ্যম পরিচালনা করে না।
সম্প্রচার নীতিমালা ইতিমধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নীতিমালা নিয়ে দেশে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। তথ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারের অনুগ্রহভোগী বিশেষজ্ঞরা এই সমালোচনার লাগসই জবাব দিতে পারেননি। এ রকম অবস্থায় সরকার কী করবে? কয়েকটি উপায় আছে: ১. সরকার একটি সংসদীয় কমিটি করে নীতিমালাটি পর্যালোচনার জন্য পাঠাতে পারে ২. সংসদীয় কমিটি প্রকৃত বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিয়ে এর ৭৫ শতাংশ বাতিল করে ২৫ শতাংশ রেখে নতুন করে একটি সংক্ষিপ্ত নীতিমালা রচনা করতে পারে, যা গণতন্ত্রমনা ও দর্শক-শ্রোতাবান্ধব নীতিমালা হবে। ৩. জনগণের আস্থাভাজন, গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ, কোনো দলের বশংবদ বা অনুগ্রহভোগী নয়, স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্বদের নিয়ে ‘জাতীয় সম্প্রচার কমিশন’ গঠন করে তাঁদের নীতিমালা রচনার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সরকার বা দলের বশংবদ ব্যক্তিদের নিয়ে জাতীয় সম্প্রচার কমিশন গঠন করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আবার সমালোচনা শুরু হবে। তাঁদের কেউ মানবেন না।
কিন্তু সরকার গায়ের জোরে এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে চাইবে। তখন কী হবে? সরকার যদি বাস্তবতা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প তো কিছু নেই। এ ক্ষেত্রে শিল্পী, দর্শক ও শ্রোতাদের সম্মিলিত বিক্ষোভ, বয়কট, কর্মবিরতি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই নীতিমালা প্রত্যাহারে সরকারকে বাধ্য করা ছাড়া আর পথ নেই। এই নীতিমালায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন টিভির দর্শক ও শ্রোতারা। কাজেই দর্শক-শ্রোতাদের ঠিক করতে হবে তাঁরা প্রাইভেট টিভিতে কী ধরনের অনুষ্ঠান চান। তাঁরা এখনকার মতো খবর ও টক শো দেখতে চান কি চান না। নাকি তারা ‘বিটিভির’ মতো খবর ও টক শো দেখতে চান। এই সংকটটি আওয়ামী লীগ বা বিএনপির নয়; এটা দেশের সাধারণ টিভি দর্শক ও শ্রোতার সংকট। দর্শক-শ্রোতারা এই নীতিমালার বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে সরকার আরও নানা শর্ত দর্শকদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। সরকার খুব শক্তিশালী, সন্দেহ নেই। কিন্তু দর্শক-শ্রোতা অর্থাৎ সাধারণ মানুষ সরকারের চেয়েও শক্তিশালী—এ কথা প্রমাণ করার সময় এসেছে।

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: মিডিয়া ও উন্নয়নকর্মী।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাকশাল বাদ দিয়ে তাহেরের জাতীয় সরকার? by মহিউদ্দিন আহমদ
লে. কর্নেল আবু তাহের মেজর রশিদের অনুরোধে সকাল নয়টায় ঢাকা বেতারকেন্দ্রে যান। সেখানে তিনি খোন্দকার মোশতাক আহমদ, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, মেজর ডালিম ও মেজর জেনারেল খলিলুর রহমানকে দেখতে পান। তাঁর পরামর্শে ডালিমরা সশস্ত্র বাহিনীর তিন প্রধানকে বেতার ভবনে নিয়ে আসেন অভ্যুত্থানকারীদের পক্ষে বিবৃতি দেওয়ার জন্য। তিনি খোন্দকার মোশতাককে পাঁচটি প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবগুলো ছিল:
১. অবিলম্বে সংবিধান বাতিল করতে হবে;
২. সারা দেশে সামরিক আইন জারি এবং এর প্রয়োগ করতে হবে;
৩. দলনির্বিশেষে সব রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দিতে হবে;
৪. বাকশালকে বাদ দিয়ে একটি সর্বদলীয় জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে;
৫. অবিলম্বে একটি গণপরিষদ তথা পার্লামেন্টের জন্য সাধারণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
সামরিক শাসন জারির দাবি ছিল তাহেরের একান্ত নিজস্ব। এ বিষয়ে তিনি গণবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড কিংবা জাসদের পার্টি ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করেননি এবং এসব প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য পার্টি তাঁকে কোনো ম্যান্ডেট দেয়নি। প্রকৃতপক্ষে এই প্রস্তাব ছিল জাসদের মূলনীতির সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে, সামরিক আইন জারির প্রস্তাবটি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য থেকে গড়ে ওঠা যেকোনো সুস্থ রাজনৈতিক দলের জন্যই অপমানজনক এবং প্রগতিশীল রাজনীতির চেতনাবিরোধী। তাহের সব সময় শেখ মুজিবের ‘ফ্যাসিবাদী’ রাজনীতির বিরোধী ছিলেন এবং তাঁর সরকারের উৎখাত চাইতেন। জাসদও একই দাবি করেছে। কিন্তু জাসদ কখনোই দেশে সামরিক শাসন চায়নি।
সন্ধ্যায় খোন্দকার মোশতাক আহমদ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তাহের উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি মেজর খোন্দকার আবদুর রশিদসহ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ে বঙ্গভবনেই বৈঠক করেন। বৈঠকের একপর্যায়ে তিনি সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকেও ডেকে আনেন। দুই দিন পর ১৭ আগস্ট সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নঈম জাহাঙ্গীর নারায়ণগঞ্জে তাহেরের বাসায় যান পরিস্থিতি সম্পর্কে আঁচ করতে। ১৯৭১ সালে নঈম ১১ নম্বর সেক্টরে তাহেরের সহযোদ্ধা ছিলেন এবং প্রায়ই তাঁর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতেন। তাহের আক্ষেপ করে নঈমকে বললেন, ‘ওরা বড় রকমের একটা ভুল করেছে। শেখ মুজিবকে কবর দিতে অ্যালাও করা ঠিক হয়নি। এখন তো সেখানে মাজার হবে। উচিত ছিল লাশটা বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া।’
১৫ আগস্টের পর গণবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি লিফলেট প্রচার করা হয়। লিফলেটের শিরোনাম ছিল, ‘খুনি মুজিব খুন হয়েছে—অত্যাচারীর পতন অনিবার্য।’
শেখ মুজিব যখন নিহত হন, জাসদের প্রধান নেতা সিরাজুল আলম খান তখন কলকাতার ভবানীপুরে চিত্তরঞ্জন সুতারের বাড়িতে। চুয়াত্তরের ২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি হলে সিরাজুল আলম খান ভারতে চলে যান। মাঝে দুবার তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। শেষবার পঁচাত্তরের জুলাই মাসে। তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছিল। ভিসা নবায়নের জন্য তিনি কলকাতায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেন। ১২ আগস্ট তঁাকে জানানো হয়, তাঁর পাসপোর্ট বাংলাদেশ সরকার বাতিল করে দিয়েছে।
ফলে তিনি বাংলাদেশে ‘পারসন নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হয়ে যান। সচরাচর তিনি বেলা ১১টা-১২টা পর্যন্ত ঘুমান। সকাল ১০টার দিকে সুতারের স্ত্রী মঞ্জুশ্রী দেবী তাঁর ঘুম ভাঙিয়ে শেখ মুজিবের মৃত্যুসংবাদ দেন।
সিরাজুল আলম খান শেখ মুজিবকে জানতেন ১৯৬১ সাল থেকে। সুখে-দুঃখে বিপদে-আপদে তিনি শেখ মুজিবের ছায়াসঙ্গী ছিলেন ইতিহাসের একটা বিশেষ পর্বে, যখন বাংলাদেশ পাকিস্তানি উপনিবেশের জঠরে থেকে জেগে উঠছে। বেগম মুজিবও তাঁর ওপর আস্থা রাখতেন। শেখ মুজিব যখন জেলে, বিশেষ করে ১৯৬৬-৬৯ সালে, বেগম মুজিবের মাধ্যমে শেখ মুজিব ও সিরাজের যোগাযোগ হতো। সিরাজ যে কথা শেখ মুজিবকে বলতে পারতেন না, সে কথা বেগম মুজিবকে দিয়ে বলাতেন। বেগম মুজিব যে কথা স্বামীকে বলতে পারতেন না, সিরাজকে দিয়ে তা বলাতেন। খবরটা শুনে সিরাজুল আলম খান হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন।
আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের শেখ মুজিবের প্রতি আনুগত্য যতটা ছিল, ততটা ভালোবাসা ছিল না। শেখ মুজিব এটা জানতেন এবং সিরাজুল আলম খানের ওপর নির্ভর করতেন। শেখ মুজিবের কাল্ট তৈরিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন সিরাজুল আলম খান। মুজিব তাঁকে একরকম ব্লাংক চেক দিয়েছিলেন। এককথায় সিরাজ ছিলেন শেখ মুজিবের সবচেয়ে ‘আস্থাভাজন শিষ্য’। এটাই ছিল সিরাজুল আলম খানের ক্ষমতার ভিত্তি। দুজনের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ায় দুজনই দুর্বল হয়ে পড়েন।
শেখ মুজিব নিহত হওয়ার সংবাদ শুনে সিরাজুল আলম খান দুঃখ পেয়েছিলেন সন্দেহ নেই। তবে তিনি মনে করতেন, এটা ছিল অনিবার্য। মুজিব নিজেই এই পরিণতি ডেকে এনেছিলেন।
অক্টোবরে সিরাজুল আলম খান কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন। বাংলাদেশ তখন অনেকটাই বদলে গেছে।
l প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিতব্য বই জাসদের উত্থান-পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি থেকে নেওয়া অংশবিশেষ।
মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক ও গবেষক।
mohi2005@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমরা কি এই চট্টগ্রাম চেয়েছিলাম? by বিশ্বজিৎ চৌধুরী
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনের এই আত্মতৃপ্তির সঙ্গে এখানকার নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিটা কিছুতেই যেন মিলছে না। যতই উন্নয়নের ফিরিস্তি দেওয়া হোক না কেন, এই শহরটা ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে—এমন একটি উপলব্ধি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছে নগরবাসীর মধ্যে। সাধারণ মানুষকে কিছুতেই সন্তুষ্ট করা যায় না, তাঁরা দৃশ্যমান উন্নতির দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখেন ইত্যাদি নানা রকম নিন্দা-মন্দ হয়তো করা যায় ‘অকৃতজ্ঞ’ নগরবাসীকে। কিন্তু বর্তমান সরকারেরই একজন মন্ত্রী যখন এই শহরে সফরে এসে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে,’ তখন বিষয়টাকে আর সহজে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘...কয়েক বছর আগেও এমন ছিল না। যেদিকে তাকাই ময়লার স্তূপ। দুর্গন্ধের জন্য হাঁটা যায় না। বিলবোর্ডের জন্য সৌন্দর্য উপলব্ধি করা যায় না। বিলবোর্ডে ঢেকে গেছে সবুজ আর পাহাড়।’ কয়েক বছর আগে বলতে তিনি হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সময়কালের কথা। এ কথা ঠিক যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একগুঁয়েমি ও নাগরিক সমাজের দাবি উপেক্ষা করে নানা উদ্যোগ নেওয়ার কারণে মহিউদ্দিন চৌধুরীর যথেষ্ট সমালোচনা করেছি আমরা। কিন্তু অস্বীকার করা যাবে না, তাঁর সময়ে চট্টগ্রাম শহর সত্যিকার অর্থেই একটি পরিচ্ছন্ন নগরে পরিণত হয়েছিল।
যোগাযোগমন্ত্রীর বক্তব্যের পরদিনই করপোরেশনের জরুরি বৈঠকে আক্ষেপ করে মেয়র মন্জুর আলম বলেছেন, জাইকার অর্থায়নে ওয়াসা পানির পাইপ বসাতে রাস্তা কাটছে। এই কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া সিডিএর সড়ক উন্নয়ন, উড়ালসড়ক ও নালার নির্মাণকাজ চলমান থাকায় রাস্তাগুলোর অবস্থা বেহাল হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো নির্ধারিত সময়ে রাস্তা হস্তান্তর না করায় সব দায়ভার সিটি করপোরেশনকে বহন করতে হচ্ছে।
এ বক্তব্যে মেয়রের অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে। এখানেই সাবেক মেয়র মহিউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর পার্থক্য। বলা বাহুল্য, সমন্বয়হীনতা এই নগরে, এমনকি দেশের সব কটি বড় নগরে উন্নয়নকাজের সবচেয়ে বড় বাধা। যেমন সিডিএর সড়ক সম্প্রসারণ কাজের জন্য দীর্ঘদিন বিভিন্ন এলাকার মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই দুর্ভোগ তাঁরা মেনে নেন সম্প্রসারিত সড়কে নির্ঝঞ্ঝাট যাতায়াতের সুফল ভোগ করবেন ভেবে। কিন্তু সড়ক সম্প্রসারণ ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার অব্যবহিত পরই যেন ওয়াসা কর্তৃপক্ষের নতুন করে রাস্তা খোঁড়ার কথা মাথায় আসে। কখনো বিদ্যুৎ, কখনো টেলিকম কোম্পানি, কখনো বা ওয়াসার পালাক্রমে রাস্তা খোঁড়া ও মেরামতের এই চিরন্তন দৃশ্য থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর। এ কারণেই হয়তো মেয়রের নেতৃত্বে সিটি গভর্নমেন্ট গঠনের দাবি উঠেছিল একসময়। কিন্তু সে দাবি পূরণ হয়নি, সমন্বয়হীনতার দুর্ভোগ থেকেও মুক্তি মেলেনি নাগরিকদের। তবে মহিউদ্দিন চৌধুরীর আমলে তাঁর একরোখা ভাবমূর্তির কারণেই হোক বা সহজাত নেতৃত্বগুণের কারণেই হোক, উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন তিনি।
আজ বিলবোর্ডের কথা উঠেছে। যত্রতত্র বিলবোর্ডের যন্ত্রণা কী পরিমাণ অসহনীয় হয়ে উঠেছে, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ চট্টগ্রামের স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে এর প্রতিবাদে তাদের প্রথম পৃষ্ঠায় এক কলাম তিন ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা খালি রেখে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বিলবোর্ডগুলোর অধিকাংশের মালিকানা ভোগ করছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা বা ক্যাডাররা। কিন্তু বর্তমান মেয়র এখানেও অসহায়। তিনি কারও সঙ্গেই বিরোধে জড়াতে চান না কিংবা সে সামর্থ্যও হয়তো তাঁর নেই।
অন্যদিকে, সিডিএ চেয়ারম্যান আত্মতৃপ্তিতে ভুগছেন। তাঁর সময়কালে এই নগরের উন্নয়নকে ‘যুগান্তকারী’ বলতে ভালোবাসেন তিনি। বেশ কিছু রাস্তা সম্প্রসারিত হয়েছে এই সময়ে। কিন্তু সম্প্রসারিত এলাকাগুলো হকার ও ব্যবসায়ীদের দখল থেকে মুক্ত করতে না পারলে তার সামান্যই সাধারণের কাজে আসবে। ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তাঁর আমলে নির্মিত বহদ্দারহাট উড়ালসড়ককে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চান তিনি। কিন্তু সুবৃহৎ উড়ালসড়কে গুটিকয় গাড়ির চলাচল আর তার নিচেই বহদ্দারহাট মোড়ের তীব্র যানজটের চিত্রটি তাঁর দাবিকে সমর্থন করে না। অর্থাৎ পরিকল্পনায় গলদ ছিল। বিশেষজ্ঞরাও এ কথাটিই বলছেন। কিন্তু তিনি মানতে নারাজ। নারাজ বলেই নতুন উড়ালসড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। পরিকল্পনাধীন রয়েছে আরও কয়েকটি।
সমস্যা হচ্ছে, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভিন্নমত ও পরামর্শ গ্রহণ করতে কখনোই রাজি নয়। ‘ফোরাম ফর প্ল্যান্ড চিটাগং’ (এফপিসি) নামের একটি সংগঠন রয়েছে এখানে। এরা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায়। স্থপতি, প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদদের সমন্বয়ে গঠিত এই সংগঠন প্রায়ই সভা-সেমিনার ইত্যাদি করে নগর উন্নয়ন নিয়ে তাদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরে। কিন্তু তাদের গায়ে পড়া পরামর্শ কেউ কানে নেয় বলে মনে হয় না। বহদ্দারহাট উড়ালসড়ক নির্মাণের অনেক আগে থেকেই তারা এই ব্যয়বহুল প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে। ভবিষ্যতে আরও উড়ালসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাকে চমক ও অপচয় বলে অভিহিত করে এফপিসি বলছে, এর সিকি ভাগও যদি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যয় করা হয়, তাহলে এই নগর সম্পূর্ণ যানজট ুক্ত হবে। কথা হচ্ছে, হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের ডামাডোলে এফপিসির এই কম অর্থব্যয়ের পরামর্শ আদৌ কারও মনঃপূত হবে কি না। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, বেশি টাকার কাজের প্রতি বেশি আগ্রহ থাকার কারণ আছে অনেক।

বিশ্বজিৎ চৌধুরী: কবি, লেখক ও সাংবাদিক।
bishwabd@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশ: রূপক না প্রতীকাশ্রয়ী কাহিনি by উইলিয়াম বি মাইলাম
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একটি সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষে এ কথা বলা কিছুটা বিস্ময়করই বটে। বিশেষ করে যে দেশটি ৬০ বছর আগে পরাক্রমশালী সোভিয়েত শাসনের জোয়াল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য প্রবল লড়াই-সংগ্রাম করেছে। আর মুক্ত হওয়ার পর তা উদ্যাপনও করেছে বিশেষ কায়দায়: অতিসত্বর দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র কায়েম করে তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়। হ্যাঁ, আমরা এখনো জানি না হাঙ্গেরির মানুষ কী ভাবছে। অন্যদিকে, যেসব দেশ তথাকথিত ‘তৃতীয় ধাক্কায়’ ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেছিল, তারাও এখন কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠছে। প্রকৃত গণতন্ত্র আসলেই খুব কঠিন ব্যাপার। আর চার্চিলের সেই ভর্ৎসনা দুনিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো ভুলতে বসেছে: ‘গণতন্ত্র সবচেয়ে নিকৃষ্ট সরকারব্যবস্থা। তবু যত সরকারব্যবস্থা আছে, তার মধ্যে এটাই শ্রেয়।’
পূর্ব ইউরোপের এই চলমান সংকটে এই প্রবণতার নেতিবাচক দিকটি উন্মোচিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আমাকে বলেছেন, ১৯৯০-এর দশকে রাশিয়ায় আধুনিকায়ন হয়েছে, এর বাজার উন্মুক্ত হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট পুতিন ও কেজিবির সাবেক সদস্যদের হাতে পড়ে রাশিয়া আবারও কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠেছে। রাশিয়া এখন সোভিয়েত ইউনিয়নের সমার্থক হয়ে উঠেছে, যেটি ছিল কর্তৃত্বপরায়ণ রাষ্ট্রগুলোর শিরোমণি। এই কর্তৃত্বপরায়ণ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে ২৩ বছর আগে রাশিয়া সরে এসেছিল। আর রাশিয়ার বর্তমান অতি জাতীয়তাবাদের মূলে রয়েছে সেই সোভিয়েত কর্তৃত্বপরায়ণতার যুগে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত প্রাধান্য নতুন করে বিস্তার করা।
পুতিন সেই কল্পিত গৌরবময় অতীতের স্বপ্নে বিভোর। তিনি জানেন, তাঁর দেশের আশপাশে যে জায়মান গণতান্ত্রিক দেশগুলো রয়েছে, সেগুলো তার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই পূর্ব ইউরোপ এমন এক সংকটে পড়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর সময়কার সংকটের সঙ্গে তুলনীয়। বাস্তবে ১৯৩৯ সালের পর পূর্ব ইউরোপ এরূপ সংকটের মুখোমুখি হয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি যেমন নিজের দখল হওয়া ভূমি পুনরুদ্ধারে ও প্রতিশোধের নেশায় আগ্রাসী হয়ে উঠেছিল, ঠিক তেমনি এবার রাশিয়াও আগ্রাসী হয়ে উঠছে।
ইউক্রেন-সংকট সৃষ্টি আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শতবর্ষ পূর্তি প্রায় একই সময়ে ঘটল। বিতর্কিত লেখক ও অর্থনীতির ইতিহাসবিদ নিয়াল ফার্গুসনও এরূপ একটি মিল দেখতে পাচ্ছেন। প্রথম মহাযুদ্ধে প্রায় ১৭ মিলিয়ন মানুষ মারা যায়। এর কারণেই ১৯৩০-এর দশকে যুদ্ধংদেহী, অতি জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রগুলোর জন্ম হয়; যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ফার্গুসন আরও বলেছেন, মিল থাকলেও সময় অনেক পাল্টে গেছে, আবার ভিন্নতাও আছে অনেক। ইতিহাস কোনো অনিবার্যতার ব্যাপার নয়, এটা পছন্দের ব্যাপার।
আমাদের প্রশ্ন তুলতে হবে, ২০ শতকের শেষ ভাগে ‘ইতিহাসের শেষ’ দেখার পর একুশ শতকের শুরুর দিকে গণতন্ত্র আবার এমন পেছন দিকে হাঁটা শুরু করল কেন। কেউ বলবেন অর্থনীতি হোঁচট খাওয়ার কারণে সেটা হয়েছে, কেউ বলবেন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রের রোগভোগের কারণে সেটা হয়েছে। এই গণতন্ত্র সেই দেশগুলোর জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রত্যাশা ও দাবি মেটাতে পারছে না। এরা এখন আর অনুসরণ করার মতো কিছু নয়—হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী যেমনটা বলেছেন। কিন্তু রাশিয়া, চীন ও তুরস্কেও এমন কিছু হচ্ছে না। জনগণ গণতন্ত্রের দাবি করে, গরিবেরা স্বাধীনতার দাবি করে, আইনের শাসন ও সুযোগ দাবি করে।
না, উত্তরটা গণতন্ত্রের কমজোরির মধ্যে নিহিত নয়। কর্তৃত্ববাদের পথে পুনরায় হাঁটার ব্যাপারটা বেছে নেওয়ার ব্যাপার। যে দেশগুলো পিছিয়ে পড়ছে, তারা নিজেরাই গণতন্ত্র পরিহার করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়ার জোর করে ক্রিমিয়া দখলের আগ পর্যন্ত কোনো আগ্রাসী দেশ তার প্রতিবেশীর ওপর হামলে পড়েনি। তবে যে কর্তৃত্বপরায়ণ রাষ্ট্র থেকে কোনো প্রদেশ বের হয়ে যেতে চেয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রটি জোর করে প্রদেশটিকে ধরে রেখেছে, সে ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়।
কিন্তু বহু রক্ত ও সম্পদের বিনিময়ে রাষ্ট্র থেকে কোনো প্রদেশ বেরিয়ে এলেই সে গণতান্ত্রিক হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যেমন বাংলাদেশ, এটি একটি শিক্ষাও বটে। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর দেশটির সরকার একদলীয় শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা এ লক্ষ্যে তার শেষ পদক্ষেপ। এনজিওগুলো নিয়ন্ত্রণেও নতুন আইন হচ্ছে। বিরোধীদের কণ্ঠ চেপে ধরা হচ্ছে। একসময় হয়তো বেছে নেওয়ার ব্যাপারটি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে, যতক্ষণ না একটি সুসংবদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিরোধী দল না আসছে। আমরা সে লক্ষ্যের জন্য অপেক্ষা করছি।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
উইলিয়াম বি মাইলাম: বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কমিশন নয়, মিডিয়া কাউন্সিল হোক by মিজানুর রহমান খান

আর বর্তমান সরকার, যারা একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে জবরদস্তি ক্ষমতায় দীর্ঘ মেয়াদে টিকতে চাইছে, তাদের মূল অভিসন্ধি হলো সমালোচনা ও নিন্দা থেকে নিজেদের রক্ষা করা। সে জন্য তারা নীতিমালা নামের একটি বর্ম তৈরি করেছে। তবে সম্প্রচারমাধ্যম রেগুলেশনে রাষ্ট্র ও সরকারের উদ্বেগ যুক্তিসংগত ও সংবিধানসম্মত। যদিও নীতিমালার মাত্র কয়েকটি বেশ বিপজ্জনক, তবে মনে হচ্ছে এগুলো আমদানি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।সরকার মিডিয়াকে কন্ট্রোল করতে চাইছে। কিন্তু কন্ট্রোল ও রেগুলেশন এক নয়। কন্ট্রোল মানে স্বাধীনতা হরণ। আর রেগুলেশন হলো বিধি অনুসরণ।
কোনো শূন্যস্থানই অপূরণীয় থাকে না। অ্যাটকো যদি দায়িত্বশীল হতো, তাহলে তাঁরা এত দিনে অন্তত একটি যুক্তিসংগত বাধানিষেধ আরোপ করতেন। নাগরিকের বাক্স্বাধীনতা বিরাট বিপদে। কারণ, অ্যাটকো ও সরকার উভয়ই কমবেশি দায়িত্বহীন আচরণ করেছে। অ্যাটকোর উচিত ছিল স্ব-আরোপিত আচরণবিধি প্রস্তুত করতে উদ্যোগী হওয়া। কিন্তু তারা নিষ্ক্রিয় ছিল। এখন তারা কমিশন চাইছে। কিন্তু সরকারকে তারা সমষ্টিগতভাবে এটা বলতেও অনুৎসাহী বা অপারগ যে কী করে স্বাধীন কমিশন হবে। নীতিমালা বলেছে, ‘একটি স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠিত হবে।’ তার মানে দাঁড়াল, কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন হবে। দুদককেও ‘স্বাধীন ও স্বশাসিত’ লেখা হয়েছিল। আমাদের মানবাধিকার কমিশনকেও আইন বলেছে, এটি হবে সংবিধিবদ্ধ স্বাধীন সংস্থা। সরকারের করা অনুসন্ধান কমিটিই এই কমিশন করবে। এমনই কমিটি দিয়ে আমরা ইতিহাসের প্রথম নির্বাচন কমিশন পেয়েছিলাম। তাদের স্বাধীন তৎপরতা দেশবাসী হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। এর চেয়ে ভিন্ন কিছু হয়তো হবে না। কিন্তু মিডিয়াকে একটা লড়াই করতে হবে।
সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে ডামাডোলের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক মামলায় সরকারের পক্ষে রায় দিয়ে বিচারপতি মমতাজউদ্দীন আহমেদ মিডিয়ায় আলোচিত হয়েছিলেন। তিনি গত সপ্তাহে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর কাছ থেকেই জানলাম, গত ফেব্রুয়ারি থেকে প্রেস কাউন্সিল মেয়াদোত্তীর্ণ। এতে আমাদের সরকার ও মিডিয়া মোগল কারও অসুবিধা হয়নি। চেয়ারম্যানসহ ১৫ সদস্যের একটি আধা বিচারিক সংস্থা প্রেস কাউন্সিল। যে দেশে প্রেস রেগুলেটরি সংস্থাকে টানা পাঁচ মাস অস্তিত্বহীন করে রাখা যায়, সে দেশের সরকার নিজেকে মিডিয়ার অপব্যবহার থেকে নাগরিকের রক্ষী বলে দাবি করতে পারে না। এক দেশে দুই আইন চলে না। সম্প্রচার ও মুদ্রণমাধ্যমের নীতিমালা দুই রকম হতে পারে না। যা বলা যাবে না, তা লেখা যাবে, এটা হতে পারে না। প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জানালেন, তিনি প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্টে সংশোধন আনার বিষয়ে মনোযোগ দেবেন। আমি বলি, প্রস্তাবিত কমিশন গঠনের দরকার নেই। প্রেস কাউন্সিলকেই ঢেলে সাজানো যেতে পারে। কমিশনের দায়িত্ব-কর্তব্য তারাই পালন করতে পারে। খামোখা দুটি সচিবালয় নিষ্প্রয়োজন। প্রেস কাউন্সিলের নাম বদলে রাখা যেতে পারে বাংলাদেশ মিডিয়া কাউন্সিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ কমিশনারের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) রেডিও-টিভির নজরদারি করে। পাঁচ বছর মেয়াদে প্রেসিডেন্ট কমিশনারদের নিয়োগ দেন। সিনেটই যথারীতি তা নিশ্চিত করে। কোনো একটি দল থেকে অনধিক তিনজন কমিশনার হন। তবে শর্ত হলো, কমিশন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমিশনারদের কারও কোনো অর্থনৈতিক স্বার্থ থাকতে পারবে না। আমাদের প্রস্তাবিত কমিশনকে স্বাধীন বলা হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র তো গড়া হয়নি। একে আরও নষ্টভ্রষ্ট করা হয়েছে। সরকার ও সংসদকে আলাদা করা যায় না। তাই প্রশ্ন, সে কার থেকে স্বাধীন থাকবে?
২০০৩ সালে ব্রিটেনে গঠিত দি অফিস অব কমিউনিকেশনসকে সরকার থেকে স্বাধীন করলেও তাকে জবাবদিহি রাখা হয়েছে সংসদের কাছে। বাংলাদেশে যা সংসদ, তা-ই সরকার। প্রস্তাবিত কমিশনের সদস্যরা কার কাছে জবাবদিহি করবেন? রাষ্ট্রপতির কাছে? সরকার থেকে তাঁর কি কোনো আলাদা সত্তা আছে? ২০০৫ সালে গঠিত অস্ট্রেলিয়ান কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া অথরিটি একটি সরকারি সংস্থা। কিন্তু তাদের দায়িত্বের মধ্যে লেখা আছে, এই সংবিধিবদ্ধ সংস্থা রেডিও-টিভিকে সেলফ রেগুলেশনে উৎসাহিত করবে। ফ্লোর ক্রসিং-সংক্রান্ত ৭০ অনুচ্ছেদের দেশ আয়ারল্যান্ড। এই জিনিসের তুলনা কেবল এ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডেই পেলাম, তারা ২০০৯ সালে এ-সংক্রান্ত দুটি কমিশন বিলোপ করে ব্রডকাস্টিং অথরিটি অব আয়ারল্যান্ড করেছে। নয় সদস্যের এই সংস্থায় তথ্যমন্ত্রীর মনোনয়নে পাঁচজন ও সংসদের যৌথ কমিটির প্রস্তাবে চারজন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উন্নত গণতন্ত্রে মিডিয়া রেগুলেশন সরকারের প্রতি অন্যায্য সমালোচনা ঠেকাতে হয় না। সরাসরি কণ্ঠরোধে তাদের কারও কোনো এজেন্ডা নেই। এর প্রমাণ তাদের করা নীতিমালা বা বিধিবিধানে আওয়ামী লীগের বর্তমান কাণ্ডের কোনো ছাপ নেই। আসলে প্রস্তাবিত নীতিমালায় এমন কিছু বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে, যা একান্ত বাংলাদেশি শাসকগোষ্ঠীর নিজস্ব চিন্তা বা বিকারপ্রসূত। যেমন টক শোতে সব পক্ষের যুক্তি সমানভাবে তুলে ধরতে হবে। যেসব আমলার কাছে দণ্ডদানের ক্ষমতা আছে, তাঁদের কটাক্ষ করা যাবে না। অনেকেই সন্দেহ করবেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও শাসনশাস্ত্রের প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক তরিকা বদলাতে সরকার মরিয়া হয়ে উঠল কেন। বিশ্ব এতকাল কেবল আদালত অবমাননা আইন শুনেছে। বাংলাদেশ মানব-ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম আদালত অবমাননার বাইরে একটি নাটকীয় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আমলা অবমাননা আইন শুনছে। সরকারবিরোধী সম্ভাব্য আন্দোলন প্রতিহত করার অংশ হিসেবে এই নীতিমালা জারি করা হয়েছে কি? হরতাল-পিকেটিং পচিয়ে দিতে নির্বাহী হাকিমেরা যখন পাইকারি জেল-জরিমানা করবেন, তখন তা নিয়ে বঙ্কিম কটাক্ষও করা যাবে না; তাঁদের কুর্নিশ করতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা রক্ষার বর্তমান আওয়ামী আকুতি একটি অভিনব পাকিস্তানি ব্যাধি। তফাত হলো পাকিস্তান লিখেছে সংবিধানে। হাসানুল হক ইনু লিখলেন নীতির ভূর্জপত্রে। আগেই বলেছি, সরকার চাইলে এই অপবাদ থেকে মুক্ত হতে পারে। কারণ, আজগুবি বিধান, যার কোনো তুলনা তারা কোনো গণতান্ত্রিক দেশ থেকে দেখাতে পারবে না, সেগুলো তারা ছেঁটে ফেললেই পারে।
ভারত এ বিষয়ে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে, তা আমাদের জন্য বেশ প্রণিধানযোগ্য। কারণ, মনমোহন সিং এবং তাঁর তথ্যমন্ত্রী রেড্ডি প্রথমে আওয়াজ তুলেছিলেন, বিধিনিষেধ আরোপ করা দরকার। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সংসদে তাঁরা বিলও এনেছিলেন। কিন্তু তা যেকোনো মূল্যে পাস করানোর ব্রত তাঁরা নেননি। তথ্যমন্ত্রী ৩৯ অনুচ্ছেদের আওতায় নীতিমালা করার যে দাবি করেছেন, তা অসত্য ও অগ্রহণযোগ্য, তারও প্রমাণ ভারতের অভিজ্ঞতা থেকেই দেওয়া যায়। কারণ, আমাদের ৩৯ অনুচ্ছেদটি ভারতের ১৯ অনুচ্ছেদের অবিকল অনুলিপি। সেখানেও বলা আছে, আইন দিয়ে ‘যুক্তিসংগত বাধানিষেধ’ আরোপ করা যাবে। তবে বিল আনতেই ভারতের সম্প্রচার মোগলদের কানে পানি গেল। তাঁরা দ্রুততার সঙ্গে সেলফ রেগুলেশনে গেলেন। আমাদের মোগলদের ‘সেলফি’তেও অনীহা। তাঁরা তাই সরকারের কাছেই কমিশন চাইছেন। আগে নীতিমালার জন্যও ধরনা দিয়েছেন। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি জি এস ভার্মা, যিনি নামজাদা আইনবিদ হিসেবে বিশেষভাবে নন্দিত, তাঁকে চেয়ারম্যান করে তাঁরা একটি কমিশন করলেন। তাদের সুপারিশেই গঠিত হলো নয় সদস্যের নিউজ ব্রডকাস্টিং স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি (এনবিএসএ)। দিল্লি হাইকোর্ট এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টও সেলফ রেগুলেশনের পক্ষে মত দিলেন। ভারতে বর্তমানে এনবিএসএ সরকারের নিগড়মুক্ত থেকে কাজ করছে।
আমি মনে করি, বাংলাদেশে সেলফ রেগুলেশন থাকবে। আবার একটি সরকারি নজরদারিও থাকবে। সে জন্য প্রেস কাউন্সিলের কাঠামো ও তার ক্ষমতার বিন্যাস বদলানো যায়। সরকার একে অকার্যকর করে রাখছে। কারণ, তারা যখন যাকে শাস্তি দিতে হয়, তা বিভিন্ন উপায়ে দিয়ে চলছে। তাদের আটকানো যাচ্ছে না। আটকাতে হলে মিডিয়া মোগলদেরই সক্রিয় হতে হবে। স্বশাসনের সামর্থ্য তাঁদের অাছে, তার প্রমাণ দিতে হবে। নইলে আক্ষেপ করা বৃথা। এটা সুখকর যে বর্তমানের বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের ১৪ সদস্যের মধ্যে নয়জনই আসতে পারছে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে। তবে ভারতের মডেল অধিকতর গ্রহণযোগ্য। প্রসঙ্গক্রমে বলি, সবকিছুতেই অনুভব করি; দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ দরকার। সোমবার মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী অভিশংসন বিল ফের আনার কথা বলেছেন। কিন্তু এর অনুষঙ্গ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, তা নিয়ে কথা নেই। ভারতের প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান, যিনি ভারতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, লোকসভার স্পিকার এবং খোদ কাউন্সিলের এক সদস্য নিয়ে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি বাছাই করে। ভারতের প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মারকান্দি কাজু সম্প্রচার মোগলদের স্বশাসনের কট্টর সমালোচক। সরকারি খবরদারিরও বিরোধী। তিনি মিডিয়া কাউন্সিল করে ইলেকট্রনিক মিডিয়াকেও একই ছাতার নিচে আনার প্রস্তাব করেছেন। তাঁর সেই অভিমতের আলোকেই প্রস্তাবিত কমিশন না করে বাংলাদেশ মিডিয়া কাউন্সিল করার সুপারিশ করছি।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মেডিকেল শিক্ষকেরা কেমন আছেন? by মো. শফিকুল ইসলাম
আমরা চিকিৎসাশিক্ষার দিকে যদি লক্ষ করি, তাহলে দেখব, দেশে মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির সমান্তরালে শিক্ষার মান বাড়েনি। এই মান না বাড়ার পেছনে অনেক উপাদান বিদ্যমান।এই আলোচনায় সেদিকে যাব না। আলোচনা মূলত শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থানেই সীমাবদ্ধ রাখব।
আমাদের মেডিকেল শিক্ষকেরা কেমন আছেন? এ প্রশ্নের জবাবে এককথায় বলতে হয়, ভালো নেই। ভালো বলতে এখানে একজন শিক্ষকের আদর্শিক অবস্থানে থেকে সুষ্ঠু পরিবেশে শিক্ষাদান প্রক্রিয়ার কথা বোঝাতে চাইছি। একজন শিক্ষকের মূল পাওয়া তো এখানেই! ছাত্রদের প্রতি মমত্ববোধ, তাদের পাঠদান ও পাঠ গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ, আদর্শিক চেতনায় গড়ে ওঠায় সহায়তা প্রদান। মেডিকেল শিক্ষকদের প্রায় সবাই এমন একটি অবস্থানের কথা ভাবেন এবং এ ভাবনার সঙ্গে বাস্তবের ফারাক দেখে আহত বোধ করেন এবং অবচেতন মনে তাঁর এই অবস্থানকে নিয়তি হিসেবে ধরে নিয়ে আপন অসহায়ত্বে নিজের ভেতর সান্ত্বনা খোঁজেন।
২.
আমাদের মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মপরিবেশের অভাব সর্বত্রই বিদ্যমান। কোনো হায়ারার্কি নেই। বিশেষ করে, শিক্ষকদের প্রতি প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে কর্মরত কর্মচারীদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। চিকিৎসক শিক্ষকদের প্রতি তাঁদের আচরণ সুষ্ঠু কর্মপরিবেশের অনুকূল নয়। এ অবস্থা দেশের শীর্ষতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সর্বত্রই বিরাজমান। অবাক করার মতো হলেও সত্য যে দেশের শীর্ষতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (দেশের একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসক শিক্ষকেরা জোট শাসনামলে অনিশ্চিত একধরনের অবরুদ্ধ পরিবেশে কাজ করেছেন। তাঁদের নেমপ্লেটে সরকারদলীয় কর্মচারীরা অমোছনীয় কালিতে প্রতিষ্ঠানের নাম আচ্ছাদিত করেছিলেন। কর্তৃপক্ষের কাছে বলেও প্রতিকারহীন আচরণ পেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া উপায় ছিল না। শৃঙ্খলাহীন দায়বোধশূন্য এমন অদ্ভুত পরিবেশ আর কোথাও আছে কি না জানা নেই। মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুচিকিৎসার পরিবেশ শিক্ষাদান-প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এ ক্ষেত্রে সর্বস্তরের কর্মচারী ও শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতার পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সম্পর্কের ঘাটতি নিয়েই চিকিৎসক শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
৩.
মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মূলত ছাত্রদের জন্য প্রতিষ্ঠিত। এসব প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররা হাতে-কলমে শেখেন, নতুন নতুন অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়ে তাঁরা দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানী হিসেবে ছড়িয়ে পড়বেন বিভিন্ন স্থানে—দেশ, দেশান্তরে। কিন্তু মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রদের শ্রদ্ধাবোধের ঘাটতি লক্ষণীয়। ছাত্ররাজনীতির বিকৃত রূপ এ ক্ষেত্রে বহুলাংশে দায়ী। ছাত্ররাজনীতিতে পেশিশক্তি, কালোটাকার প্রভাব অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিদ্যমান। এখানেও ছাত্রনেতারা ঠিকাদার, দরপত্র নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের অবস্থান মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের সঙ্গে সখ্যসুলভ হওয়ায় শিক্ষকেরা তাঁদের ‘করুণার’ পাত্র। অপ্রিয় হলেও সত্য যে শিক্ষকেরা তাঁদের অবস্থান ও প্রমোশনের জন্য যেন ছাত্রনেতাদের মর্জির ওপর নির্ভরশীল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোন শিক্ষক থাকবেন, কোন শিক্ষক থাকবেন না; কোন শিক্ষক পক্ষের, কোন শিক্ষক বৈরী ইত্যাদি নেতাদের দ্বারা নির্ধারিত।
৪.
শিক্ষকেরা যাঁকে অভিভাবক হিসেবে ভাবেন, সেই অভিভাবক অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের প্রধান এখন আর শিক্ষকদের অভিভাবকের পর্যায়ে নেই। যদিও শিক্ষকদের ভেতর থেকেই প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, কিন্তু এই নিয়োগপদ্ধতিতে, একাডেমিক দিকসহ মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতার চেয়ে দলীয় আনুগত্যসহ অন্যান্য বিষয় অগ্রাধিকার পায়। ফলে প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদটি দলীয় প্রশাসকে রূপান্তরিত হয়ে যায় এবং এই রূপান্তরিত প্রশাসকের কাছে শিক্ষকের গুরুত্বের চেয়ে অন্যদের গুরুত্ব প্রাধান্য পায়। মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় একাডেমিক মানোন্নয়ন তাই অনুপস্থিত।
মেডিকেল শিক্ষকদের পেশার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে কোনো সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেই। মেডিকেল শিক্ষার মতো কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা কার্যত শূন্যের কোঠায়। বিশেষত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত সহায়তা শিক্ষকদের পেশাগত মান বৃদ্ধির অনুকূলে কার্যকর ভূমিকা পালন করে না। নিয়োগ থেকে শুরু করে বদলি, পদোন্নতি প্রতিটি পর্যায় যেমন অনিশ্চয়তায় ভরপুর, ঠিক তেমনি প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের বিষয়টি উপেক্ষিত। প্রতিষ্ঠানপ্রধান শিক্ষার সার্বিক পরিবেশের মানোন্নয়নের দিকে দৃষ্টিপাত করেন না। শিক্ষকদের সঙ্গে তাঁর রয়েছে একধরনের দূরত্ব। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় মিলিত হওয়ার চেয়ে ওপর থেকে আরোপিত (যা শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে নয়), প্রশাসনিক সিদ্ধান্তবলি বাস্তবায়নেই তৎপর বেশি।
৫.
আমরা এক নষ্ট সময়ের ভেতর দিয়ে পথ চলছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পবিত্র অঙ্গন ‘রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি’র শিকার। শিক্ষার জগৎটা থাকা উচিত রাজনীতির ঊর্ধ্বে। শিক্ষক তাঁর পেশার মহত্ত্বকে রাখবেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকবে আপন বিশ্বাসের ভেতর। তাকে কখনোই পেশার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে বেশ কিছুকাল ধরে আমাদের শিক্ষা খাত মেধাকে গুরুত্বহীন করে রাজনৈতিক বিশ্বাসটাকে ওপরে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। আমরা যাঁরা একাত্তরে যুদ্ধ করেছিলাম, তাঁদের অধিকাংশই এ রকমটি চাইনি। আমরা একটা নতুন দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। নিজের বিশ্বাসের জগৎটায় ধস নেমেছে। এমন এক নিদানকালে আমরা পথ চলছি।
মেডিকেল শিক্ষার সুষ্ঠু বিকাশের লক্ষ্যে এ অবস্থার নিরসন হওয়া প্রয়োজন।
অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আমি সবাইকে মেরে প্রতিশোধ নিয়েছি’ by মহিউদ্দিন আহমদ
মেজর নুর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে পিকিংপন্থী ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন। পরে তিনি সর্বহারা পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। সিরাজ শিকদারের নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। ১৫ আগস্টের কয়েক দিন পর সর্বহারা পার্টির কয়েকজন নেতা কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডের পাশে একটা বাসায় সন্ধ্যাবেলা বৈঠক করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লে. কর্নেল জিয়াউদ্দিন, আকা ফজলুল হক ও মহসীন আলী। তাঁরা নূর ও ডালিমকে ডেকে পাঠান। নূর একাই এসেছিলেন। শেখ মুজিবের পরিবারের সবাইকে হত্যা করার বিষয়ে জানতে চাইলে নূর বলেন, ‘ওরা আমার নেতাকে খুন করেছে, আমি সবাইকে মেরে প্রতিশোধ নিয়েছি।’ নূরের উদ্ধত আচরণে এবং নৃশংসতার পরিচয় পেয়ে জিয়াউদ্দিন ক্ষুব্ধ হন।
অনেক দিন পর বনানী ডিওএইচএসে কর্নেল ফারুকের বাসায় ফারুক ও রশিদের সঙ্গে আলাপ করার সময় আকা ফজলুল হককে কর্নেল রশিদ বলেছিলেন: শেখ মুজিবকে রেখে ক্যু করা যাবে কি না, তা নিয়ে আমরা অনেক ভেবেছি। কিন্তু দেখলাম তা সম্ভব নয়। রক্ষীবাহিনীর চিফ ব্রিগেডিয়ার নুরুজ্জামানকে আগেই দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত হয়। মুজিব পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। সিদ্ধান্তটি অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে নিয়েছিল।
মুজিব হত্যার পরিকল্পনায় বিমানবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে তাঁদের বাদ দিয়েই এই অপারেশন চালানো হয়। এ রকম একটা ‘অ্যাডভেঞ্চারে’ শরিক হতে না পেরে তাঁরা মনঃক্ষুণ্ন হয়েছিলেন। এর প্রকাশ ঘটেছিল নভেম্বরে।
কর্নেল তাহের সম্ভবত জানতেন না, ১৫ আগস্ট তারিখটিই অভ্যুত্থানের জন্য নির্ধারিত হয়ে আছে। তবে এ রকম একটা ঘটনা যে ঘটতে পারে, তা তাঁর অজানা থাকার কথা নয়। কোটি টাকার প্রশ্ন ছিল, কবে, কখন? শেখ মুজিবের সরকারকে উৎখাতের জন্য তাহেরের নিজস্ব পরিকল্পনা ছিল। শেখ মুজিবের প্রতি তাঁর ক্ষোভ ছিল অপরিসীম।
তাহের মনে করতেন, ‘মুজিব সরকার সেনাবাহিনীর উন্নয়নে চরম অবহেলা দেখিয়েছে এবং রক্ষীবাহিনীর মতো একটা কুখ্যাত আধা সামরিক বাহিনী তৈরি করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। যুদ্ধের সময় ভারতের সঙ্গে করা গোপন চুক্তির ব্যাপারেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
বাহাত্তর সালের নভেম্বরেই এসব ঘটেছিল এবং এ কারণেই লে. কর্নেল জিয়াউদ্দিন এবং তিনি যাঁর যাঁর রাজনৈতিক লাইন বেছে নিয়েছিলেন। অবশ্য তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করতেন।’ ছিয়াত্তরে তাহের ও অন্যদের বিচারের সময় ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে তাহের এসব কথা উল্লেখ করেন।
শেখ মুজিব সম্পর্কে কর্নেল তাহেরের মূল্যায়ন ছিল এ রকম: শেখ মুজিব জনগণের নেতা ছিলেন। এটা অস্বীকার করার অর্থ হবে সত্যকে অস্বীকার করা। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে তাঁর ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের ভার জনগণের ওপরই বর্তায়। জনগণের জন্য সঠিক পথ হবে জেগে ওঠা এবং প্রতারণার দায়ে মুজিবকে উৎখাত করা। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, যে জনগণ মুজিবকে নেতা বানিয়েছে, তারাই একদিন স্বৈরাচারী মুজিবকে ধ্বংস করবে। জনগণ কাউকে ষড়যন্ত্র করার অধিকার দেয়নি।
হুদার সঙ্গে কথাবার্তায় বাতেনের মনে হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আছে। সবাই সবটা জানেন না। যাঁরা এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাঁদের মধ্যে একটা বিষয়ে ঐকমত্য ছিল। শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে তাঁদের সবার ব্যক্তিগত ক্ষোভ ছিল।
আওয়ামী লীগ-বাকশালের বাইরে ওই সময় সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল ছিল জাসদ। জাসদের প্রধান নেতা সিরাজুল আলম খান তখন দেশে নেই। দলে একাধিক ‘কেন্দ্র’। গণবাহিনীর ইউনিটগুলো বিভিন্ন জেলায় মোটামুটি স্বাধীনভাবে কাজ করছে নিজেদের শক্তি-সামর্থে্যর ওপর নির্ভর করে। ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই হকচকিত, বিহ্বল। জাসদের মধ্যে যাঁরা ষাটের দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেন, ১৫ আগস্টের মতো একটা ঘটনা ঘটতে পারে, এটা তাঁরা কখনো চিন্তা করেননি।
১৫ আগস্ট সকালে ঢাকা নগর গণবাহিনীর অন্যতম সদস্য মীর নজরুল ইসলাম বাচ্চুর নেতৃত্বে তিতুমীর কলেজের সহসভাপতি কামালউদ্দিন আহমদ, গণবাহিনীর আবদুল্লাহ আল মামুন, ওয়াহিদুল ইসলাম সুটুল ও রতন ধানমন্ডিতে তাজউদ্দীনের বাসায় যান। কামালের বাড়ি ঢাকার কাপাসিয়া থানায়। তাঁর বড় ভাই নৌবাহিনীর প্রাক্তন লিডিং সি-ম্যান সুলতানউদ্দিন আহমদ আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন। তাজউদ্দীনের সঙ্গে তাঁর পূর্বপরিচয় ছিল এবং একই এলাকায় বাড়ি বলে তাঁদের মাঝেমধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ হতো।
তাজউদ্দীনের বাসায় গিয়ে তাঁরা শুনলেন, তিনি গোসল করছেন। তাঁরা বাইরের ঘরে অপেক্ষা করতে থাকলেন। মিনিট দশেক পর তাজউদ্দীন এলেন। পরনে একটা পায়জামা, গায়ে হাতাওয়ালা গেঞ্জি। সিলিং ফ্যানের নিচে দাঁড়িয়ে দুই হাতের আঙুল দিয়ে ব্যাকব্রাশের মতো ভঙ্গিতে চুল থেকে পানি ঝরাচ্ছিলেন। পানির ঝাপটা কামালের চোখে-মুখে এসে লাগছিল।
তাজউদ্দীন উত্তেজিত হয়ে বলতে থাকলেন, ‘বোকার দল লাল বাহিনী বানায়, নীল বাহিনী বানায়। কোনো বাহিনী তাঁকে বাঁচাতে পারল?’
বাচ্চু বললেন, ‘আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে।’ তাজউদ্দীন বললেন, ‘কোথায় যাব? কেন তোমাদের সঙ্গে যাব?’ বাচ্চু বারবার বলছিলেন, ‘যেতেই হবে।’
তাজউদ্দীন বললেন, ‘এটা কারা করল? রাইটিস্টরা না লেফটিস্টরা? লেফটিস্টরা হলে আমাকে আর জীবিত রাখবে না।’ লেফটিস্ট বলতে তিনি পিকিংপন্থীদের বোঝাচ্ছিলেন। বাচ্চুর কথার জবাবে তিনি বললেন, ‘সিরাজ কোথায়? ও যদি বলে তাহলে যেতে পারি। তাকে নিয়ে আসো।’ বাচ্চু বেরিয়ে গেলেন। আধঘণ্টা পর তিনি ফিরে এসে জানালেন, সিরাজুল আলম খান কোথায় আছেন, তা জানা যায়নি। বাচ্চু জানতেন না, তিনি দেশে নেই। অগত্যা তাজউদ্দীনকে ছাড়াই তাঁরা ফিরে এলেন।
তাজউদ্দীনকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং কেন, এটা বাচ্চু ছাড়া তাঁর অন্য সহযোগীরা জানতেন না। পঁচাত্তরের ২৬ নভেম্বরে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনে অভিযানের ঘটনায় বাচ্চু নিহত হলে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। এটা আর হয়তো কোনো দিনই জানা যাবে না, কে বাচ্চুকে পাঠিয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে।
প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিতব্য বই জাসদের উত্থান-পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি থেকে নেওয়া অংশবিশেষ।
মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক ও গবেষক।
mohi2005@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রথম এশিয়া সফরে পোপ
![]() |
| পোপ |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে ফাঁসি হচ্ছে দুই বোনের!
![]() |
| রেনুকা t ও সীমা |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওবামা–হিলারি টানাপোড়েন
![]() |
| বারাক ওবামা ও হিলারি ক্লিনটনের সম্পর্কে যখন সুসময় ছিল |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতিসংঘের জরুরি অবস্থা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1265)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
August
(332)
-
▼
Aug 15
(18)
- স্বাধীনতা দিবসে নরেন্দ্র মোদির অন্যরকম ভাষণ
- প্রীতির বিয়ের ঘোষণা
- আমেরিকা ইরাকে সজাগ, গাজায় অন্ধ by মো: বাকীবিল্লাহ
- চিফ হুইপকে ‘নিচে’ নামাল কে! সংবাদপত্র, নাকি তাঁর ক...
- গড়ানো বাঁশ পাকে না by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- কবি শামসুর রাহমান by বিমল গুহ
- দৃপ্ত অহংকার by রফিকুর রশীদ
- সম্প্রচার নীতিমালা বাতিল করুন by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
- বাকশাল বাদ দিয়ে তাহেরের জাতীয় সরকার? by মহিউদ্দিন ...
- আমরা কি এই চট্টগ্রাম চেয়েছিলাম? by বিশ্বজিৎ চৌধুরী
- বাংলাদেশ: রূপক না প্রতীকাশ্রয়ী কাহিনি by উইলিয়াম ব...
- কমিশন নয়, মিডিয়া কাউন্সিল হোক by মিজানুর রহমান খান
- মেডিকেল শিক্ষকেরা কেমন আছেন? by মো. শফিকুল ইসলাম
- ‘আমি সবাইকে মেরে প্রতিশোধ নিয়েছি’ by মহিউদ্দিন আহমদ
- প্রথম এশিয়া সফরে পোপ
- ভারতে ফাঁসি হচ্ছে দুই বোনের!
- ওবামা–হিলারি টানাপোড়েন
- জাতিসংঘের জরুরি অবস্থা
-
▼
Aug 15
(18)
-
▼
August
(332)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





