Saturday, September 13, 2014
খাদ্যের বিষ ও বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য by আনু মুহাম্মদ
১৯৯৯ সালে গৃহীত বাংলাদেশের কৃষিনীতিতে প্রধান উদ্দেশ্যাবলির মধ্যে ‘জৈবপ্রযুক্তির প্রবর্তন, ব্যবহার ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম গ্রহণ’কে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়ায় বীজ নিয়ে গত কয়েক বছরে অনেকগুলো বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে, যার আংশিক মাত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ধানবীজের ক্ষেত্রে এ ঘটনা ঘটেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ফসল উৎপাদনের উচ্চ হারের লোভ দেখিয়ে বীজ বিক্রি করা হয়েছে, কিন্তু কৃষকদের পুরো মাঠের ফসল যখন এই বীজের কারণে মার খেয়েছে, তখন এর দায়দায়িত্ব কেউ নেয়নি—না সরকার না কোম্পানি। অথচ কোনো বিচার বা ফলাফল পর্যালোচনা না করে জিএম খাদ্য প্রচলন ও হাইব্রিড বীজের ওপর কৃষি ও কৃষককে নির্ভরশীল করে তোলার সর্বব্যাপী কার্যক্রমে ব্যাপক উৎসাহ ও সংঘবদ্ধ তৎপরতা চলছে।

জিএম খাদ্য ও হাইব্রিড বীজ বর্তমানে বহুজাতিক কৃষি ও খাদ্যবাণিজ্যের অন্যতম ক্ষেত্র। বিভিন্ন দেশে এর অনেকগুলোর ভয়াবহ ফলাফল প্রমাণিত, বিশ্বব্যাপী এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিস্তার লাভ করলেও মুনাফাকেন্দ্রিক তৎপরতায় নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশে এটি চালু করার চেষ্টা বরং বিস্তৃত হয়েছে। প্রায় এক দশক আগে সরকার এই বীজ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। ভিটামিন ‘এ’যুক্ত, কীটপতঙ্গরোধক, গরিবদের পুষ্টিবর্ধক ইত্যাদি নানা প্রচারণার মাধ্যমে জিএম বীজের আধিপত্য নিশ্চিত করার চেষ্টা চলেছে। কোম্পানি কর্তৃক কৃষকদের বীজের বাজার দখলের আয়োজন এখন অনেকখানি সফল। বীজ, সার ও কীটনাশকে একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হয়েছে হাতে গোনা কিছু বহুজাতিক কোম্পানির। নীতিনির্ধারকদের ওপর তাদের প্রভাবও তাই একচেটিয়া।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের বীজবাণিজ্যের শতকরা ৬৭ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্বের ১০টি বড় কোম্পানি। এগুলোর শীর্ষে আছে মনসান্টো (যুক্তরাষ্ট্র), এরপর যথাক্রমে আছে ডুপন্ট (যুক্তরাষ্ট্র), সিনজেন্টা (সুইজারল্যান্ড), গ্রুপ লিমাগ্রেইন (ফ্রান্স), ল্যান্ড ও লেকস (যুক্তরাষ্ট্র), কেডব্লিউএজি (জার্মানি), বায়ের ক্রপ সায়েন্স (জার্মানি), সাকাতা (জাপান), ডিএলএফ (ডেনমার্ক), তাকি (জাপান)। প্রথম দুটি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিই নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্ব বীজবাণিজ্যের শতকরা ৩৮ ভাগ। সিনজেন্টাসহ এই তিনটি কোম্পানি প্রায় অর্ধেক বীজবাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক। এসব সংস্থার মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে, কিন্তু প্রায়ই তাদের নিজেদের কার্টেল তৈরি হয়। এ রকম ঘটলে বাজারের প্রতিযোগিতার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। বীজের সংকট, কৃষকনিয়ন্ত্রিত বীজের বিপর্যয়, খাদ্য-সংকট—সবই এসব সংস্থার জন্য সুখবর। কেননা, তাতে বাজারের বিস্তৃতি ও মুনাফার বৃদ্ধি সহজ হয়।
এই বাণিজ্যে নিয়োজিত বৃহৎ বহুজাতিক সংস্থাগুলো ৯০ দশক থেকে একের পর এক একীভূত হয়ে আরও বড় আকার ধারণ করছে এবং এই বাণিজ্য ক্রমেই অধিকতর একক আধিপত্যের মধ্যে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। যেমন সিবা ও স্যানডোজ মিলে নোভারটিস আবার জেনেসের সঙ্গে মিলে সিনজেন্টা। হোয়েকস্ট ও শিরিং মিলে অ্যাগ্রেভো এবং রোন পোলেনকের সঙ্গে মিলে গঠন করেছে অ্যাভেনটিস। কৃষিবাণিজ্যে সিনজেন্টা ও মনসান্টোই এখন শীর্ষে।
কয়েক দশক আগে কৃষি রাসায়নিক বাজারের সে রকম কোনো অস্তিত্বই ছিল না। সেটি এখন কমপক্ষে ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশ্ববাণিজ্য। কৃষি রাসায়নিক দ্রব্যাদি, বিশেষ করে কীটনাশক ওষুধের ক্ষেত্রে বিশ্ব উৎপাদন ও বাজার নিয়ন্ত্রণ করে বড় ১০টি কোম্পানি। এর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে আছে বেয়ার (জার্মানি): ১৯ ভাগ ও সিনজেন্টা (সুইজারল্যান্ড): ১৯ ভাগ। এরপর যথাক্রমে আছে বিএএসএফ (জার্মানি), ডো অ্যাগ্রো সায়েন্সেস (যুক্তরাষ্ট্র), মনসান্টো (যুক্তরাষ্ট্র), ডুপন্ট (যুক্তরাষ্ট্র), মাখতাশিম আগান (ইসরায়েল), নুফার্ম (অস্ট্রেলিয়া), সুমিতোমো কেমিক্যাল (জাপান), আরিস্টা লাইফ সায়েন্স (জাপান)। এদের বিশ্ববাণিজ্যের পরিমাণ এখন ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। রাসায়নিক সারের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছেই। এর বড় অংশই গেছে ‘গরিব’ দেশগুলোয়। সারের দামও বেড়েছে। ২০০৭-৮ সময়ে সারের দাম আট গুণ পর্যন্ত বেড়েছিল। সারবাণিজ্যে বড় কোম্পানিগুলো হলো পটাশকর্প (কানাডা), ইয়ারা (নরওয়ে), মোজাইক-কারগিল (যুক্তরাষ্ট্র), ইসরায়েল কেমিক্যালস (ইসরায়েল), অ্যাগ্রিয়াম (কানাডা), কে+এস গ্রুপ (জার্মানি)।
একচেটিয়া প্রভাবের কারণেই এসব ‘উন্নয়ন’সামগ্রী ব্যবহারে সামাজিক, পরিবেশগত ও উৎপাদনগত ক্ষতি নিয়ে বিস্তৃত কোনো সমীক্ষা হয় না। আংশিক সমীক্ষায় দেখা যায়, এসব সামগ্রীর প্রভাবে বিশ্বে ৪০০টি মৃত্যু অঞ্চল তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখিয়েছেন যে গত ৫০ বছরে বাজারমুখী উৎপাদন বৃদ্ধির উন্মাদনায় রাসায়নিক সার, সেচ, কীটনাশক ব্যবহার বাড়ার ফলে বিশ্বের শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ আবাদি জমির উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় খর্ব হয়েছে। স্বাদু পানির স্বাভাবিক মাছ উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাপকভাবে। জমির লবণাক্ততা বৃদ্ধিও এর একটি ফল। যান্ত্রিক সেচের আওতায় বিশ্বের যত জমি আছে, তার শতকরা প্রায় ২০ ভাগ এখন লবণাক্ততার শিকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর কৃষিশ্রমিকদের মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি এবং এর বাইরেও কমপক্ষে ৩০ লাখ মানুষ কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং কমপক্ষে দুই লাখ মানুষ এর কারণে মৃত্যুবরণ করে।
সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোয় ভর্তুকি দিয়ে বাজার ঠিক রাখার জন্য জমি পতিত রাখা, দুধ সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার বহু ঘটনা আছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন দুর্বল দেশে খাদ্য-সংকটের সুযোগে, পিএল ৪৮০-এর অধীনে খাদ্য‘সাহায্য’ তাদের আধিপত্য বিস্তারের একটি অস্ত্র হিসেবে বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করা হয়েছে। ষাটের দশক থেকে লাতিন আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে উন্নয়নের নামে বহুজাতিক সংস্থাগুলো খাদ্য আবাদের জমিতে রপ্তানিমুখী বৃক্ষরোপণ করেছে; রপ্তানিমুখী কোকো, কফি, কলার বাণিজ্যিক উৎপাদনেই তাদের প্রধান আগ্রহ। ফলে এসব অঞ্চলে খাদ্যঘাটতি ও খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। আফগানিস্তান থেকে বিশ্ব চাহিদার শতকরা ৭০ ভাগ হেরোইন সরবরাহ হয়, অথচ সেখানে শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। কলম্বিয়ায় কফি উৎপাদন হচ্ছে শতকরা প্রায় ২৬ ভাগ আবাদি জমিতে। সেখানে দারিদ্র্য, সামরিকীকরণ, সহিংসতা পাশাপাশি সহাবস্থান করছে। ভারতে জিএম বীজ ব্যবহার করতে গিয়ে কৃষকের আত্মহত্যার হার বেড়েছে।
রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও যান্ত্রিক সেচের প্রসার প্রাথমিকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি করলেও এর বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য হ্রাস পেয়েছে; এখানকার প্রাণপ্রকৃতির সঙ্গে মানানসই অনেক খাদ্য ও মৎস্য উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটেছে। ভূগর্ভস্থ পানি নির্বিচারে ক্রমাগত টেনে তোলায় ভূগর্ভে ভারসাম্য অনেকখানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর এক মহাবিপর্যয়কারী ফল হলো আর্সেনিক। বহু বছর যে টিউবওয়েলকে নিরাপদ পানির উপায় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, এবং দাবি করা হয়েছে বাংলাদেশের শতকরা ৯৮ জন মানুষ নিরাপদ পানি পান করছে, সেই টিউবওয়েলগুলোর একটি বড় অংশ এখন আর্সেনিকযুক্ত পানির প্রবাহের মাধ্যম। বাংলাদেশের সাড়ে তিন কোটি মানুষ এখন আর্সেনিক বিষের হুমকির মুখে। বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্যনীতি এই সামগ্রিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়নি। কেননা, এসব নীতি প্রণয়নে বহুজাতিক পুঁজির যত প্রভাব, তার একাংশও কৃষক বা সর্বজনের নেই।
বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন এখন প্রায় পুরোপুরি রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও যান্ত্রিক সেচনির্ভর। ধান, ফল, সবজি, মাছ, ডিম, মুরগি—সবকিছুরই উৎপাদন বেড়েছে, আকর্ষণীয় চেহারায় সেগুলো বাজারে উপস্থিত হচ্ছে; কিন্তু এর প্রায় সবই নানা মাত্রায় বিষ বহনকারী। নকল, বিষাক্ত রং ও ভেজাল কারখানা এখন বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্র। গ্রামের হাটবাজার এসব বিষের মোহনীয় বিজ্ঞাপনে ভরা। খাবারের জৌলুশ বাড়ছে, বিশ্বজোড়া মুনাফা ও বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। জিডিপি বাড়ছে। অন্যদিকে, খাদ্যনিরাপত্তার মৌলিক শর্ত নিরাপদ খাদ্য বিপন্ন, নতুন নতুন হুমকির মুখে অরক্ষিত মানুষ। এসবের মধ্য দিয়ে মানুষের বিশুদ্ধ পানির অধিকার সংকুচিত হচ্ছে, সম্প্রসারিত হচ্ছে বোতল পানির বাণিজ্য। কোমল পানীয়সহ নানা ধরনের ক্ষতিকর ‘শক্তিবর্ধক’ পানীয়তে বাজার সয়লাব। ভারতে একদল বিজ্ঞানী কোমল পানীয়তে বিষাক্ত উপাদান আবিষ্কার করার পর কোথাও কোথাও তার বিক্রি কমলেও বিজ্ঞাপনের জোরে সেগুলোর প্রতাপ এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে। বাংলাদেশে এগুলোর সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের তথাকথিত ‘শক্তিবর্ধক’ পানীয়।
জনগণের খাদ্য, পুষ্টি ও বৈচিত্র্যময় চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজন যথেষ্ট পরিমাণ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করা এবং তা সর্বজনের কাছে সুলভ করা। কিন্তু কৃষি ও খাদ্যের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণ ও মুনাফামুখী তৎপরতা একদিকে উৎপাদনক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে, অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করে দীর্ঘ মেয়াদে তা সুষম খাদ্য উৎপাদন অনিশ্চিত ও নাজুক করে তুলেছে। পাশাপাশি বিনা বিচারে গোষ্ঠীস্বার্থে ‘উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কৃষিজমি, মাটির ওপরের ও নিচের পানিসম্পদ, প্রাণবৈচিত্র্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে। বর্তমান ‘উন্নয়ন’নীতি এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে অক্ষম ও অনিচ্ছুক।
আনু মুহাম্মদ: অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
anu@juniv.edu
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হায় আশরাফুল মখলুকাত by সৈয়দ আবুল মকসুদ
টিভির পর্দায় দেখেছি লঞ্চটি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যাবে। এক নারীর কণ্ঠ, সম্ভবত তিনি তাঁর বাচ্চাকে জড়িয়ে ধরে উচ্চারণ করছেন—লা ইলাহা ইল্লালাহু...।
কলেমা শাহাদত আমি এ জীবনে লাখোবার শুনেছি। সেদিনের লঞ্চের তলা থেকে ধ্বনিত হওয়া অমনটি কখনো শুনিনি। মাস খানেক যাবৎ প্রতিদিন ওই কথাগুলোই আমার কানে বাজে। মানুষগুলো জানছে, তারা এখনই মরবে। কিন্তু এ কথা ভাবার সময় তারা পায়নি যে তাদের মরদেহ তাদের প্রিয়জনরা পাবে না দাফন করতে।
লঞ্চটির উদ্ধারকাজ সাঙ্গ করার পরদিন আমি মুন্সিগঞ্জে যাই। স্থানীয় লোকজন বলেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার হয়নি, কারণ ওর খোলের মধ্যে যে শতাধিক যাত্রীর লাশ ছিল, তা পদ্মাপাড়ে সারি সারি শুইয়ে রাখলে যে হৃদয়বিদারক দৃশ্য হতো, তা জনগণের সরকারবিরোধী আবেগ উসকে দিত। নদীর তলদেশে বিনা পয়সায় তাদের দাফন করে দিল কর্তৃপক্ষ। যেখানে জীবনের দাম নেই, সেখানে গলিত লাশের কী দাম?
লঞ্চটির ৮৫-৯০ যাত্রীর ধারণক্ষমতা ছিল। সেখানে আড়াই শ যাত্রী কীভাবে ওঠে, তা তদারকের কেউ নেই। থাকলেও তাদের কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। কর্তব্যে অবহেলার কারণে তাদের শাস্তি হয় না।
বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন চারজন, গুরুতর আহত হয়েছেন পাঁচজন। রেলের ডিজি হোসেন সাহেব বলেছেন, ‘লাইনের ওপর কেউ দাঁড়ানোর পর (মরলে) সেই দুর্ঘটনার দায়িত্ব রেল কর্তৃপক্ষ নেবে না।’
তাঁর এই বক্তব্যে তথ্যগত ভুল নেই। যা আছে, তা হলো নির্মমতা ও নির্লজ্জতা। দুর্ঘটনার দুই ঘণ্টা পরে আমি ওই জায়গায় যাই। তখন রেললাইনের ওপর ছোপ ছোপ রক্ত, যেন বঁটি দিয়ে মাছ কেটেছে ওখানে কেউ। এবং সুনসান নীরবতা।
একটি লাইন দিয়ে চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস কমলাপুর থেকে আসছিল। সেটা সবাই দেখেছিল। আর একটি ট্রেন যমুনা এক্সপ্রেস ছিল কমলাপুরগামী। ওই ট্রেনটি হুইসেল দিয়ে আসেনি। সবাই বলছিলেন, হুইসেল দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটত না। গেটম্যানও বলেছেন, ‘দুটি ট্রেন পাশাপাশি আসায় বিষয়টি অনেকে খেয়াল না করায় দুর্ঘটনা ঘটে।’
রেলপথে মুহূর্তের বিভীষিকারেলের ডিজি মহোদয়ের চেয়ে গেটম্যানের বক্তব্য অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। রেললাইনের ওপর বাজার বসায় সরকারি দলের মাস্তানেরা ‘মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে’। ওই টাকার ভাগ সবাই পায়। কে কে পায়, তাদের নাম বলতে পারব না।
দুর্ঘটনাটি ঘটে সকাল নয়টার আগে। তাই ধারণা করি, মন্ত্রী ও ডিজি তখনো প্রাতঃকৃত্য শেষ করে উঠতে পারেননি। ওই সময় এ-জাতীয় মরার খবর বিরক্তির উদ্রেক করতেই পারে। এখন মোবাইল ফোনের যুগ। পাঁচ সেকেন্ডে খবর পৌঁছে যায় সবার কাছে। ওখানে মন্ত্রীসহ সবার ছুটে যেতে আধা ঘণ্টাই খুব বেশি।
ছোটবেলায় দেখেছি, আমাদের কোনো গরু বা বাছুর অসুখে মারা গেলে বাঁশের সঙ্গে চার পা বেঁধে ঝুলিয়ে পদ্মার পাড়ে নিয়ে ফেলে আসা হতো। কারওয়ান বাজারে দুর্ঘটনার পর নিহত হতভাগ্যদের ঠিক ওইভাবে বাঁশে ঝুলিয়ে ওখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে গরু-বাছুরের মতো উলঙ্গ নয়, চটের বস্তায় জড়িয়ে। দৃশ্যটি আমার কাছে বর্বরোচিত ও বীভৎস মনে হয়েছে এই জন্য যে আমিও ওই লোকগুলোর মতোই একটি মানুষ, গরু-ছাগল বা কুকুর নই।
মাননীয় ডিজি মহোদয় ও মাননীয় রেলমন্ত্রী, যিনি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সুখের নতুন জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন, কী রকম দাপ্তরিক কর্তব্য বা নৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন? তাঁদের বিবেক, যদি আদৌ থেকে থাকে, কী বলে সেই বিবেক? কোনো দুর্ঘটনায় তাঁদের নিকটজন বা শ্বশুরবাড়ির অথবা হবু শ্বশুরবাড়ির কেউ যদি মারা যেতেন এবং লাশ বস্তায় জড়িয়ে বাঁশে ঝুলিয়ে ডোমেরা বহন করতেন, তাহলে তাঁদের কেমন লাগত?
দুর্ঘটনাটি যেখানে ঘটে, সেটি কোনো নির্জন প্রান্তর নয়। জায়গাটি নগরের সবচেয়ে জনাকীর্ণ এলাকাগুলোর একটি। ওখান থেকে যেকোনো দিকে ৫০০ গজের মধ্যে পুলিশ গিজগিজ করে। সরকার কিছু করবে না জানি, প্রাইভেট ক্লিনিক চারদিকে বহু। একটি অ্যাম্বুলেন্স বা পিকআপ কোথাও পাওয়া গেল না!
যদি আমাদের রাষ্ট্র মানুষ হতো বা চেতনাসম্পন্ন কোনো বস্তু হতো, তাকে জিজ্ঞেস করতাম: হে রাষ্ট্র মহোদয়, আপনার কাজ কী?§ আপনি যাদের আপনার ম্যানেজার বানিয়েছেন, তাদের কাজই বা কী? §আপনি যত প্রকাণ্ড অবয়ববিশিষ্টই হোন, আপনি সৃষ্টির সেরা জীব নন। কিন্তু আমরা ছোট্ট শরীরবিশিষ্ট হলেও আমরা আশরাফুল মখলুকাত। আমাদের আত্মা ও শরীর দুটোই পবিত্র। তাকে অসম্মান করার অধিকার আপনার নেই।
এই রাষ্ট্রে নিজেকে মানব পরিচয় দিতে লজ্জা ও গ্লানি বোধ করি। নিহত ব্যক্তিদের বাবা-মা, স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের কাছে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে করজোড়ে ক্ষমা চাই।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আসুন, আমরা সবাই এরশাদ হই! by সোহরাব হাসান

কয়েক দিন আগে এই সাবেক সামরিক শাসক ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিএনপি জাতীয় পার্টিতে বিলীন হয়ে যাবে। তাঁর দলই হবে প্রধান বিরোধী দল। এরপর বললেন, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নয়, আগামী নির্বাচনে তাঁর দলই ক্ষমতায় আসবে। এখন দেখা যাচ্ছে, তাঁর জাতীয় পার্টিতে গৃহদাহ শুরু হয়েছে। নেতায় নেতায় ঝগড়াঝাঁটি, গালমন্দ সমানতালে চলছে। এরশাদ সাহেবের দলে যতজন মহাসচিব ছিলেন, তাঁদের সবার ঠিকুজি খুঁজে বের করতে গবেষণার প্রয়োজন হবে। মহাসচিব আসে–যায়, চেয়ারম্যান তিনিই থাকেন।
একটি রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক নীতি ও আদর্শগতভাবে কতটা দেউলিয়া হতে পারে, কতটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় চলতে পারে, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এরশাদের জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টিতে বর্তমানে যে নেতৃত্বের সংকট, তার মূলে এরশাদের স্বৈরাচারী মনোভাব এবং ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তাঁর দ্বৈত ভূমিকা। একটি দল বা একজন নেতা নির্বাচনের ব্যাপারে পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ভালো হোক মন্দ হোক, তাঁকে একটি সিদ্ধান্তই নিতে হয়। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল এরশাদ প্রথমে বললেন, ‘আমরা নির্বাচনে যাব। তারপর বললেন, বিএনপি না গেলে সেই নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। অতএব, আমরা নির্বাচনে যাব না। আমরা নির্বাচনে নেই।’ সেই না যাওয়া নির্বাচন থেকে কীভাবে তাঁর দল ৪০টি আসন পেল, আমজনতা বুঝতে অক্ষম। এত দিন জানতাম নির্বাচনে অংশ নিলে জয়-পরাজয় আছে। কিন্তু একজন সামরিক কাম রাজনৈতিক নেতা দেখিয়ে দিলেন, নির্বাচন না করেও নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায়। সব সম্ভবের বাংলাদেশে সবই সম্ভব।
নির্বাচনের আগে এরশাদ দলের একাংশকে বললেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করো। আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি না। আরেক পক্ষকে বলা হলো, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার কোরো না। এই দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে তিনি যেমন শেখ হাসিনাকে বিপদে ফেলেছিলেন, তেমনি খালেদা জিয়াকেও এই বার্তা দিলেন যে নির্বাচন না হলে আমরা আপনার সঙ্গেই আছি। খালেদা জিয়া যদি সত্যি সত্যি নির্বাচনটি ঠেকাতে পারতেন, তাহলে এরশাদ হয়তো এখন তাঁরই বিশেষ দূত হতেন।
জাতীয় পার্টির এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মূলে হলো সুবিধাবাদ। ৫ জানুয়ারির প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রাপ্ত মুফতে সুবিধা। দলের যাঁরা সুবিধা পেয়েছেন, তাঁদের ভূমিকা একরকম। আর যাঁরা সুবিধা পাননি, এরশাদের কথায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের ভূমিকা আরেক রকম হওয়াই স্বাভাবিক। এরশাদ জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে বলেছেন। কিন্তু নিজে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত থাকবেন, এটি কেমন নৈতিকতা? এই প্রশ্নটি করেই মসিউর রহমান (রাঙ্গা) ও তাজুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর রোষের মুখে পড়েছেন।
এখন এরশাদকে ছাড়লেও তাঁরা পদ ছাড়বেন না। ফাউ খাওয়ার ও মুফতে পাওয়ার রাজনীতির পরিণাম এমনই হয়। জাতীয় পার্টিতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কেবল তিনজন নন, আরও অনেক বেশি। সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা পান। কাজী ফিরোজ রশীদ উপনেতা হলে তিনিও পাবেন। বিরোধী দলের নেতা হিসেবে রওশনের অবস্থান কেবিনেট মন্ত্রীর সমান। আর এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত।
২.
রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব তথা আদর্শ ও নীতি-নৈতিকতার সংকট কেবল সাবেক স্বৈরাচারের দলে থাকলে আশ্বস্ত হওয়া যেত। জোর গলায় বলতে পারতাম, আসুন, আমরা স্বৈরাচার ও একাত্তরের রাজাকারকে বাদ দিয়েই একটি সাচ্চা ও টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলি। কেননা, আমাদের সঙ্গে গণতন্ত্রের সংগ্রামের দুই লড়াকু নেত্রী আছেন, যাঁরা এক হয়ে স্বৈরাচারকে হটিয়েছিলেন। কিন্তু বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির করুণ ও নাজুক সাংগঠনিক অবস্থা দেখে আপসোস হয়। এত বড় দল, এত বড় নেত্রী। কিন্তু দলের অবস্থা এত করুণ ও বেহাল কেন?
অনেকে যুক্তি দেখাতে পারেন যে বিএনপি সাড়ে সাত বছর ক্ষমতার বাইরে এবং নেতা-কর্মীরা জেল-জুলুমের শিকার। এ কারণে দলের সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো, সরকারের দমনপীড়নে কোনো দল দুর্বল হয় না। দুর্বল হয় ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁদের নানা অপকর্মের কারণে। ২০০১-০৬ সালে ক্ষমতাসীনেরা যে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন, তা মানুষের স্মৃতি থেকে এখনো মুছে যায়নি। প্রতিবছর ২১ আগস্ট, ১৭ আগস্ট, ২৭ জানুয়ারি দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেয়। বিএনপি নেতা-নেত্রীরা সেসব থেকে শিক্ষা নিয়েছেন বলে মনে হয় না। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় ভুল স্বীকার করলেও প্রকাশ্যে বলেন, তারা যা করেছেন, ঠিকই করেছেন।
গত পাঁচ বছরে বিএনপির নেতারা জনগণের সমস্যা-সংকট নিয়ে কোনো আন্দোলন করেননি। তাঁদের একমাত্র দাবি বা এজেন্ডা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়া। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে কী করবেন, তা বলেন না। ইদানীং লন্ডনপ্রবাসী নেতা তারেক রহমানের বাণী ও বাচনভঙ্গিতে বোঝা যায়, আরেকবার ক্ষমতায় আসতে পারলে আওয়ামী লীগকে দেখিয়ে দেবে। এখন যেমন আওয়ামী লীগ দেখাচ্ছে। আসলে এখন শিক্ষা নেওয়ার রাজনীতিকে দূরে ঠেলে শিক্ষা দেওয়ার রাজনীতিরই মহড়া চলছে। বিএনপির কার্যক্রম এখন প্রেসক্লাব ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই সীমিত হয়ে পড়েছে। আর দলের নীতি–কৌশল থেকে শুরু করে মহানগর কিংবা ছাত্রদলের কমিটিও ঠিক হয় লন্ডনে।
৩.
দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ কীভাবে চলছে, তা কেন্দ্রীয় নেতারাও জানেন না। জিজ্ঞেস করলে বলেন, সব জানেন সভানেত্রী। সব যদি সভানেত্রীই জানবেন, আপনারা কী করছেন? দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙা রাখতে কিছুদিন পরপর গণভবনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়, সাংগঠনিক শক্তি সুসংহত করার সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু কার্যকর হয় না। ঢাকা মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি নেতৃত্বের কোন্দলের কারণে। সেখানে যাঁরা নেতা, তাঁরাই মন্ত্রী। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের অবস্থা এতটাই নাজুক যে গত জুনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আহূত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়। প্রথম আলোর শিরোনাম ছিল: কোনো কর্মী আসেননি, মলিন মুখে চলে গেলেন নেতারাও। এখানে রিপোর্টের কিছু অংশ তুলে ধরছি: ‘৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানও ছিল কর্মীশূন্য৷ গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতেও ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷ এতে সাতজন নেতা উপস্থিত হলেও কোনো কর্মী না থাকায় বক্তৃতা না করেই তাঁরা চলে যান৷ আগের দিন একই স্থানে একই রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ তাতে অল্প কজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন৷ গতকাল তাও ছিল না৷’
আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করেন, বিএনপি জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। জাতীয় পার্টি গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবে কাজ করছে। জামায়াতে ইসলামীর ভাগ্য আদালতে ঝুলছে। ১৪ দলীয় জোটের নেতারা সরকারকে নিঃশর্ত সমর্থন জুগিয়ে চলেছেন। বৃহস্পতিবার ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের সাংসদেরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সংবিধান সংশোধনে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা বিরোধী দলের বিগত আন্দোলনে বিদেশি জঙ্গিদের অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ রকম একটি লুফে নেওয়া তথ্য বাম নেতারা পেলেন, অথচ সরকারের গোয়েন্দা বিভাগের কেউ জানলেন না! একই সঙ্গে যদি তাঁরা ক্ষমতাসীন দলের যুব ও ছাত্রসংগঠনটির নানা অপকর্মের চিত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতেন, দেশবাসী কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হতে পারত। যখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতারা প্রকাশ্যে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেন, তখন দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিরর্থক বৈকি।
আসলে রাজনীতির নামে এখন চলছে নীতি ও আদর্শ বিসর্জনের মহড়া। এরশাদ তার জ্বলন্ত প্রতীক হলেও ধীরে ধীরে সব দলেই মহামারির মতো সংক্রমিত হচ্ছে। নেতা-কর্মীদের কাছে সাংগঠনিক কর্মসূচির চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত সুবিধা লাভ। আর এ জন্য সাংসদ সাংসদের বিরুদ্ধে, মন্ত্রী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে, নেতা দলের বিরুদ্ধে যেতেও দ্বিধা করছেন না।
রাজনীতির এই নষ্টামি, ভ্রষ্টামি দেখে দেখে দেশের মানুষ ত্যক্ত, বিরক্ত। অপরাজনীতির এই কালব্যাধি থেকে মুক্তি না পেলে হয়তো একদিন তারাও স্লোগান তুলবে ‘আসুন, আমরা সবাই এরশাদ হই!’
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabo3@dhaka.net
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাশ্মীরে বন্যার পর ভূমিধসে দুর্ভোগ
![]() |
| দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মিলেছে ত্রাণসামগ্রী। তাই নিয়ে বাড়ি ফেরা। প্রায় কোমরসমান পানি ঠেলে চলতে হচ্ছে, তবু চোখেমুখে স্বস্তির ছাপ। বন্যাকবলিত কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে গতকাল তোলা ছবি। এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিরিয়ায় হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র
![]() |
| বারাক ওবামা |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিপুল সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খায়রুল হক আবারও দৃশ্যপটে by সাজেদুল হক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কর্তৃত্ব ফেরাতে মরিয়া এরশাদ by নিয়াজ মাহমুদ
ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা: এদিকে বৃহস্পতিবার সংসদ লবিতে অপ্রীতকর ঘটনার জন্য পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা। গতকাল টেলিফোনে ওই দিনের ঘটনার জন্য রাঙা দুঃখ প্রকাশ করেন বলেন জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানিয়েছেন।
জাভেদ ইকবাল, রংপুর থেকে জানান: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গাকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর জেলা ও মহানগর শাখার সভাপতির পদে পুনঃবহালের দাবিতে শুক্রবার বিকালে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাঙ্গা সমর্থক জাপার অঙ্গসংগঠনের নেতারা। নতুন আহ্বায়ক কমিটির নেতারা বলেছেন এরশাদের ঘন ঘন এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের প্রতি আমরা আস্থা রাখতে পারছি না। পার্টিও চেয়ারম্যান আমাদের দায়িত্ব দিয়ে সংঘর্ষ বাধাতে চান। আবার কালকে এ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিলে তখন রংপুরে বাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। এদিকে দলীয় কার্যালয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাঙ্গার সমর্থকরা কার্যালয় দখলে রেখেছে। যে কোন মুহূর্তে সংঘর্ষের আশঙ্কায় সেখানে ব্যাপক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল বিকালের সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ঢাকায় বসে অন্যের প্ররচনায় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে মামা-ভাগ্নের সর্ম্পক নষ্ট করার অপচেষ্টা করছেন। সভা থেকে দাবি হয় তৃণমূল পর্যায়ে এসে রংপুরের নেতা-কর্মীদের উপস্থিততে যে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এরশাদের পাশে থেকে কাজ করে যাবে। কিন্তু ঢাকায় বসে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে রংপুরের নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবে না। বক্তারা পর্াটির চেয়াম্যানের কাছে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গার প্রেসিডিয়াম পদ ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। তা না হলে কাফনের কাপড় পড়ে আগামী দিনে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হমকি দেন। সমাবেশে জেলা জাপার সহসভাপতি সামসুল আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা জাপার সাবেক সহসভাপতি আবদুল লতিফ খান, জাপা নেতা শামিম সিদ্দিকী, জেলা যুব সংহতির সভাপতি আলহাজ মো. আবদুল রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক নাজিমুজ্জামান নাজিম, মহনগর যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আহমেদ, জেলা ছাত্রসমাজের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম জবা, মহানগর ছাত্র সমাজের সভাপতি রিপন, রংপুর সরকারি কলেজ ছাত্রসমাজের সভাপতি সুমন, সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু, রংপুর সদর উপজেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি মো. আতোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাসুদার রহমান মিলন জেলা মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদিকা কল্পনা প্রমুখ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গভীর জলের ফিশ by শামীমুল হক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1265)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
September
(447)
-
▼
Sep 13
(9)
- খাদ্যের বিষ ও বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য by আনু মুহাম্মদ
- হায় আশরাফুল মখলুকাত by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- আসুন, আমরা সবাই এরশাদ হই! by সোহরাব হাসান
- কাশ্মীরে বন্যার পর ভূমিধসে দুর্ভোগ
- সিরিয়ায় হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র
- বিপুল সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা
- খায়রুল হক আবারও দৃশ্যপটে by সাজেদুল হক
- কর্তৃত্ব ফেরাতে মরিয়া এরশাদ by নিয়াজ মাহমুদ
- গভীর জলের ফিশ by শামীমুল হক
-
▼
Sep 13
(9)
-
▼
September
(447)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

