Friday, December 11, 2009

মানহানির মামলা -গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিধান বাতিলকে স্বাগত জানাই

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারা সংশোধন করে মানহানি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিধান বাতিল করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাকে আমরা স্বাগত জানাই। উল্লিখিত ধারায় যেকোনো ব্যক্তি মানহানির মামলা করলে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারতেন। ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত যেসব ফৌজদারি আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার হয়ে আসছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম। সংবাদপত্র তথা সাংবাদিক-সমাজের উদ্বেগের বাড়তি কারণ হলো, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের হাতিয়ার হিসেবে এর সর্বাধিক স্বেচ্ছাধীন প্রয়োগ।
দেখা গেছে, সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবেদন ছাপা হলে তাঁরা প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি দেওয়া ছাড়াও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ঠুকে দেন। আর এসব মামলায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সম্পাদক, প্রকাশক ও সাংবাদিকেরাই হয়রানির শিকার হন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সংবাদপত্রসেবীরা প্রতিবাদও জানিয়ে আসছিলেন। দেরিতে হলেও বর্তমান সরকারের দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিধান বাতিল করার নীতিগত সিদ্ধান্ত সংবাদপত্রসেবীদের জন্য সত্যিই স্বস্তিদায়ক খবর। তবে মন্ত্রিসভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০০৯ আইন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ভাষায় রূপান্তরের অপেক্ষায় আছে। আমরা আশা করি, অবিলম্বে এটি আইনে পরিণত হতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, যেকোনো অগণতান্ত্রিক আইন ও নিয়ন্ত্রণের প্রথম শিকার হয় সাংবাদিক-সমাজ। সংবাদ পরিবেশনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নীতিমালা আছে। সে নীতিমালা কেউ লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রেস কাউন্সিলে যেতে পারেন। সেখানে প্রতিকার না পেলে তিনি বা তাঁরা ফৌজদারি আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। অথচ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রেস কাউন্সিলকে পাস কাটিয়ে প্রায়ই ফৌজদারি মামলার আশ্রয় নেন, যা সত্ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর হস্তক্ষেপ ছাড়া কিছু নয়।
নব্বইয়ে স্বৈরাচারের পতনের পর বিশেষ ক্ষমতা আইনের সংবাদপত্রসংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বাতিল হওয়ায় গণমাধ্যমসেবীরা এই ভেবে স্বস্তি বোধ করেছিলেন—এখন আর সরকার নির্বাহী আদেশে কোনো পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দিতে পারবে না। তত্কালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ কাজটি করেছিলেন। এ জন্য সংবাদপত্রসেবীরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারা সংশোধন করা হলে সংবাদপত্রসেবীসহ সব নাগরিক অযথা হয়রানি থেকে রেহাই পাবেন। তবে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারি মনোভাবের বিষয়টিও একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখা প্রয়োজন, সাংবাদিক বা সংবাদপত্রের দায়িত্বহীন আচরণ কোনো ব্যক্তিজীবনকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলতে পারে। ফৌজদারি দণ্ডবিধি সংশোধনের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও পেশাদারি দায়বদ্ধতার ব্যাপারে আরও সচেতন থাকলে এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে আশা করি।

আমার বুকেই হচ্ছে এই অনুষ্ঠান by আখতার হুসেন

কামরুলকে ফোন করে আমি জানতে চাই, ‘কামরুল, আমাদের নাটকের সেই অনুষ্ঠানটা কবে হয়েছিল ’৬৮ না ’৬৯ সালে?’
কামরুল সোজা জানান, ‘কোনো ভুল নেই, সালটা ’৬৯।’
এবার আমার মনে পড়ে, মাসটা ফেব্রুয়ারি। একুশে ফেব্রুয়ারির আগেই হয়েছিল। কেননা, আমরা নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২১ তারিখেই করতে চাওয়ায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার একটা জরুরি কাজ আছে সেদিন। থাকতে পারব না।’
তাঁর কথা আমাদের মানতে হয়েছিল। ঢাকায় আমাদের তখন যে কয়টা পোক্ত ডেরা ছিল, এর মধ্যে চামেলীবাগ ছিল অন্যতম। কামরুল আর বদরুলদের বাসাকে ঘিরেই ১৯৬৭ সালের দিকে গড়ে উঠেছিল ‘চামেলীবাগ খেলাঘর আসর’। নেপথ্যের মূল উত্সাহদাতা ছিলেন ওদের বড় ভাই মঞ্জুরুল আহসান খান। সে পাড়াতেই থাকতেন ইত্তেফাকের নির্বাহী ও বার্তা সম্পাদক সিরাজুদ্দীন হোসেন। একবারই মাত্র গিয়েছিলাম তাঁর বাড়িতে কামরুল ও বদরুলের সঙ্গে, তাঁকে যে আমাদের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি করব, সে ব্যাপারে তাঁর সম্মতি আদায় করতে। দ্বিধা ও সংকোচ ছিল তাঁর। কিন্তু অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যে তাঁর ছেলেরা সক্রিয়ভাবে জড়িত! তাই না করতে পারেননি।
আমাদের নাটকের রিহার্সাল চলছে ধুমসে। নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছিল সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের চামেলীবাগের বাসার সামনের মাঠটিতে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সংগীত ছিল, মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের, ‘আমার সোনার বাংলা’, পরবর্তীকালে যে গান আমাদের জাতীয় সংগীত হয়। এর পরই প্রধান অতিথির ভাষণ। তিনি তাঁর ভাষণে বড় সুন্দর করে গুছিয়ে বলেছিলেন যত দূর মনে পড়ে, ঠিক এই কথাগুলো—‘উপস্থিত অভ্যাগত-অতিথিবৃন্দ, আমাদের পাড়ার মা-খালারা এবং আমার প্রাণপ্রিয় ছেলেমেয়েরা, যে মাঠে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে, সে মাঠ আমার বুকের মতো। সেই বুকেই হচ্ছে এই অনুষ্ঠান।’ এ রকম আরও কিছু বলেছিলেন। তবে মনে পড়ে, চলমান রাজনীতি-সম্পৃক্ত একটি কথাও তিনি সেদিন বলেননি। অথচ ভয়ানকভাবে রাজনীতিমনস্ক মানুষ। তার প্রমাণ আগেও পেয়েছি। পরেও পাব।
নাটকের দুই পালোয়ান চরিত্রের একটি যখন ভুল করে বলে, ‘আমাকে দেখলে বাঘের শীতে মাঘও গিয়ে পুকুরের তলায় লুকায়।’ তখন তাঁর সে কী প্রাণখোলা হাসি! অথচ সংলাপটি ছিল, ‘আমাকে দেখলে মাঘের শীতে বাঘও গিয়ে পুকুরের তলায় লুকোয়।’
পরের দিন বিকেলের দিকে অনুষ্ঠানের বিবরণসংবলিত প্রেস রিলিজ নিয়ে আমি আর মোস্তফা ওয়াহিদ খান চলে যাই ইত্তেফাক-এ। হাজির হই তাঁর দরবারে। আমি প্রেস রিলিজটা তুলে দিতেই বলেছিলেন, ‘নাটকের উপস্থাপনা এবং বক্তব্যটা খুবই ভালো লেগেছে! লিখেছেন কে?’ আমি যে লিখেছি, সেটা নিজের মুখে বলতে পারিনি। ওয়াহিদ আমাকে দেখিয়ে বলে, ‘ইনি’।
আমাকে আর কথা বলতে দেননি। মুখের দিকে ভালো করে তাকিয়ে বলেন, ‘এর আগে আপনার সঙ্গে আমার কোথাও কি দেখা হয়েছিল?’
বলি, ‘জি, হয়েছিল ১৯৬৩ সালের জানুয়ারি মাসে।’
‘কোথায় বলুন তো?’
‘আপনার এই অফিসেই। আমি এসেছিলাম রাম সাইদ ভাইয়ের সঙ্গে।’
‘আরে, হ্যাঁ, হ্যাঁ, তাই তো। রামপাঁঠাটা এখন কোথায়?’
‘সিরাজ সিকদারের দল করেন। কালেভদ্রে দেখা হয়।’
‘অথচ ও ভয়ানক সাহসী, অন্য রকমের মানুষ ছিল। সাত দিন সাত রাত তাঁকে কেন্দ্রীয় কারাগারে জেরা করেছিলেন সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা। ভয়ানক নির্যাতন চালিয়ে তাঁর মুখ থেকে একটি কথাও বের করতে পারেননি তাঁঁরা।’
কে এই রাম সাইদ? ষাটের দশকের বামপন্থী মহলে বেশ পরিচিত ছিল তাঁর নাম। সাংবাদিক শিশুসাহিত্যিক ফয়েজ আহমেদ এবং সাংবাদিক নির্মল সেনের কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সাইদের আসল নাম আর এ এম সাইদ। তার থেকে রাম সাইদ। বাইরে থেকে তিনি ছিলেন তখনকার ন্যাপের সমর্থক।
সিরাজুদ্দীন হোসেন আমার হাত থেকে প্রেস রিলিজটি নিতেই আমি বলি, ‘আমি সেবার আপনার হাতে একটা ছোটগল্প দিয়েছিলাম।’
‘হ্যাঁ, মনে আছে। আপনি লিখবেন।’ তাঁর হাত ঘুরে আমার জীবনের প্রথম ছোটগল্প ছাপা হয়েছিল ইত্তেফাক-এর সাহিত্য পাতায়। তারপর একটু থেমেই বলেছিলেন, ‘সাইদের সঙ্গে যদি দেখা হয়, বলবেন আমার সঙ্গে দেখা করতে।’
‘বলব।’
এ এম সাইদ আজ বিস্মৃত একটি নাম। অথচ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৩ সালে যে ১০-১১ জন সঙ্গীসহচরসহ আগারতলায় গিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন তাঁদের একজন। যাওয়ার আগে গফরগাঁও থেকে ঢাকায় এসে দেখা করেছিলেন অনেকের সঙ্গে। সিরাজুদ্দীন হোসেনও ছিলেন। তিনি জানতেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করার মিশনে ভারতে যাচ্ছেন। জানতেন আহমেদুর রহমানও। না হলে, ১৯৬৩ সালে যেদিন সাইদ ভাই সিরাজুদ্দীন হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন, সেদিন আমাকে একটু বাইরে যেতে বলে তাঁরা তিনজন—সিরাজুদ্দীন হোসেন, আহমেদুর রহমান ও সাইদ ভাই কী শলাপরামর্শ করেছিলেন নিজেদের মধ্যে?
সিরাজুদ্দীন হোসেনকে বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো সাদাসিধা, কারও সাতে-পাঁচে নেই। কিন্তু এ দেশের মুক্তি ও স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিটি পর্বের সঙ্গে নেপথ্য থেকে ছিল তাঁর গভীর সংযোগ সূত্র। ‘মঞ্চে নেপথ্যে’ থেকে কলাম লিখেই কেবল ক্ষান্তি দেননি।
এখনো মাঝেমধ্যে যাওয়া পড়ে চামেলীবাগে। গেলেই তাকাই সেই জায়গাটির দিকে, যেখানে সপরিবারে তিনি থাকতেন। সে বাসা থেকে জল্লাদরা আজকের এই দিনে ধরে নিয়ে গিয়েছিল মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম এই রূপকারকে। সেই মাঠজুড়ে গড়ে উঠেছে পাকা বাড়ি, যে মাঠে আমরা ঊনসত্তরে নাটক মঞ্চস্থ করেছিলাম। করেছিলাম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যার প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। তাঁর ভাষণে তিনি যে বলেছিলেন, ‘আমার বুকেই হচ্ছে এই অনুষ্ঠান।’ চামেলীবাগে গেলে, ওই জায়গাটির দিকে তাকালে আমাকে উদ্বেল করে তুলতে তুলতে বেজে চলে তাঁর বলা এই কথাটা।

জলবায়ু পরিবর্তন -ক্ষতিপূরণ ও আমাদের কীর্তিকলাপ by ফারুক মঈনউদ্দীন

সীতাকুণ্ডের ঘোড়ামারা উপকূলের সবুজবেষ্টনীর টিকে থাকা অবশিষ্ট কেওড়াগাছগুলো যে রাতে নিধন করা হয়, সেই সকালে শেষবারের মতো গাছগুলো দেখে আসার সুযোগ হয়েছিল এই পত্রকারের। দুপাশে বিশাল সব আধাভাঙা দৈত্যাকার জাহাজের মাঝখানে নিতান্ত অপরাধীর মতো টিকে থাকা একচিলতে জায়গাজুড়ে দীর্ঘকায় গাছগুলো বিরান সৈকতের দিক থেকে ধেয়ে আসা সকালের হাওয়ায় খুব কষ্টে নিঃশ্বাস নিয়ে দাঁড়িয়ে যেন মৃত্যুর প্রহর গুনছিল। তার ছায়াময় বেলাভূমিতে খেলায় মগ্ন জেলেবস্তির একদল কিশোরী তখনো জানে না, ওদের আজন্ম পরিচিত গাছগুলোর আসন্ন বিপদের কথা। ওদের কারও মা আগাম শীতের আভাসে গায়ে চাদর জড়িয়ে পথের পাশে বসে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন ভাটাপড়া সমুদ্রের হালকা নীল জলরাশির ওপারের অসীম দিগন্তের দিকে। তাঁর দৃষ্টির কিনারাঘেঁষে বিরান সৈকতের বুক খুঁড়ে ঢালাই হচ্ছে ইয়ার্ডের জন্য উইঞ্চ (ভারি বস্তু টেনে আনার জন্য শক্তিশালী যন্ত্র)। সেই সকালে জেলেপাড়ার কোনো ঘর থেকে ভেসে আসে ঢোল আর কাঁসরের শব্দ, গঙ্গাপূজা হবে হয়তো।
২০ বছর ধরে এই এলাকার উপকূল ঘিরে ১২৫ একর জায়গার ওপর যে সবুজবেষ্টনী তৈরি করেছিল বন বিভাগ, তার মূল লক্ষ্য ছিল ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাস থেকে এলাকার মানুষ ও সম্পদ রক্ষা করা। এলাকাটি একসময় যখন ভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় বিলীন হতে বসেছিল, তার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এই সবুজবেষ্টনীর প্রতি স্থানীয় কারোই কোনো দরদ না থাকার বিষয়টা রীতিমতো বিস্ময়কর। অথচ এই সবুজবেষ্টনীর কারণে কেবল যে ভাঙন রোধ হয়েছে তা নয়, জেগে উঠছিল নতুন চর, ভারসাম্য ফিরে পাচ্ছিল এলাকার জীববৈচিত্র্য, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছিল এলাকাবাসী। বনের পশুও তার আত্মরক্ষার উপায় ও কৌশল এবং তার প্রতি প্রকৃতির সহজাত সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন। সেদিন গ্রামের যেসব সহজ, হতদরিদ্র ও অশিক্ষিত মানুষ সামান্য অর্থের প্রলোভনে এরকম একটা গর্হিত কাজে নিয়োজিত হয়, তারা যদি জানত, যে কুড়াল দিয়ে তারা গাছগুলোকে হত্যা করেছে সে কুড়াল আসলে তারা মারছে নিজেরই পায়ে, তাহলে হয়তো নিধনকর্মটা এমন সহজ হতো না। তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবে, যখন ধেয়ে আসবে আরেকটি ঘূর্ণিঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাস, বৃক্ষহীন উপকূল পেরিয়ে ছুটে আসবে হার্মাদের মতো বাতাস আর নিশ্চিহ্ন বেড়িবাঁধের জায়গা ছাড়িয়ে তেড়ে আসবে উন্মত্ত জলরাশি, ভাসিয়ে নিয়ে যাবে উপকূলের গ্রামগুলো। পৃথিবীর দেশে দেশে দেখা যায়, পরিবেশের ভারসাম্যবিরোধী যেকোনো প্রকল্পের বিরোধিতা করে স্থানীয় জনগণ। শত প্রলোভন কিংবা হুমকিতে পিছপা হয় না তারা। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগা দেশ, আমরা তার দুর্ভাগা জাতি বলে এরকম কোনো প্রতিরোধ বা বিরোধিতার আলামত দেখা যায়নি সেদিন। হয়তো অন্য সব ক্ষেত্রেই এরকমই ঘটে।
জাহাজভাঙা শিল্প আমাদের অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবাতায় প্রয়োজনীয়—একথা স্বীকার করলেও পরিবেশের ভারসাম্য এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার অত্যাবশ্যকীয়তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বিশ্বের সব দেশে যেকোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশ বিনষ্ট হয়, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ হয়। এই সমর্থন ও বিরোধিতার সংশ্লেষণে নির্ধারিত হয় কোনো প্রকল্পের উপযোগিতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভবিষ্যত্ও। প্রতিবেশী দেশ ভারতের নর্মদা নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়ে সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছেন মেধা পাটকর। ব্রাজিলের আমাজন রেইন ফরেস্টের বুক চিরে তৈরি দীর্ঘ পাঁচ হাজার ৩০০ কিলোমিটার ট্রান্স আমাজন হাইওয়ের বিরুদ্ধে পরিবেশবাদীরা ছিলেন সরব, কারণ দুর্গম অরণ্যসংকুল প্রকল্পটির কারণে সেখানে ঘটেছে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়, ব্যাহত হয়েছে জীববৈচিত্র্য। সীতাকুণ্ড উপকূলের সবুজবেষ্টনীটি সে তুলনায় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র, অথচ সেটির ধ্বংসের বিরূপ প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক।
সীতাকুণ্ড উপকূলের ঘটনাটির বিষয় অবশ্য একটু ভিন্নতর। এটি কোনো সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প নয়। ব্যক্তিমালিকানাধীন জাহাজভাঙার ইয়ার্ড তৈরি করার জন্য প্রয়োজন হয় উপকূলবর্তী জমির। তার জন্য উপকূলের জায়গা ইজারা নিতে হয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। কর্তৃপক্ষ শর্তসাপেক্ষে দায়সারা একটা অনুমতি দেয়। এই শর্তটি সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। শর্তটি হচ্ছে ইয়ার্ড করা যাবে, তবে গাছ কাটা যাবে না, অথবা গাছ থাকলে সেখানে ইয়ার্ড করার অনুমতি দেওয়া যাবে না। অর্থাত্ গাছ না থাকলে অনুমতি দেওয়া হবে। আর এই শর্তটি কাজে লাগায় বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল ও আগ্রহী ইয়ার্ড মালিকেরা। এই গোলমেলে ও ছিদ্রযুক্ত শর্তটিই এভাবে বৃক্ষনিধনের অজুহাত এবং উত্সাহ জোগায়। অবৈধভাবে খাস জমির গাছ কেটে জায়গাটি কেটে সাফ করে ফেললে অনুমোদনদানকারী কর্তৃপক্ষ অম্লানবদনে বলতে পারবে, সেখানে কোনো গাছ ছিল না বলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, গাছ থাকলে কখনোই দেওয়া হতো না। এখন অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়াটি যদি বদলানো যায়, যদি সরেজমিনে তদন্ত করে, প্রভাবমুক্ত অবস্থায় স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে যদি জানা যায় নির্দিষ্ট জায়গাটিতে কখনোই কোনো বৃক্ষ ছিল না, সবুজবেষ্টনী গড়া হয়নি—তাহলেই কেবল অনুমোদন দেওয়া হবে, তাহলে এজাতীয় দুর্বৃত্তায়নের সুযোগ থাকে না। সরকারের উপকূলবর্তী যে খাস জায়গাগুলো আছে, যেগুলোতে বন বিভাগের সবুজবেষ্টনী গড়া হয়েছে সেগুলো কিংবা তার পেছনের জায়গা উপজেলা প্রশাসনের হাতে দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই, এটা অনেকটা শেয়ালের কাছে মুরগি গচ্ছিত রাখার মতো। অবশ্য বন বিভাগের হাতে জায়গাগুলো থাকলেও যে খুব একটা ইতরবিশেষ হতো তা বলা যায় না। সুন্দরবন, লাউয়াছড়া কিংবা চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা সংরক্ষিত অরণ্যে বৃক্ষদস্যুদের দৌরাত্ম্যের কথা পত্রিকার খবরেই পাওয়া যাচ্ছে। তবুও বনসৃজনের পর সেটা সত্মায়ের হাতে তুলে না দেওয়াই ভালো। সীতাকুণ্ডের ঘটনায় বন বিভাগ বনাম দুর্বৃত্তদের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনও আজ মুখোমুখি।
ইয়ার্ড তৈরি এবং ধ্বংসের ঘটনাটি এতখানি আলোড়ন তুলত না, যদি ব্যাপারটা নিয়ে কর্তৃপক্ষের চোর-পুলিশ খেলার মনোভাব না থাকত। জাহাজভাঙা শিল্পে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা এবং সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে নীতিবর্জিত মহল বারবার একই কৌশলে পার পেয়ে যাচ্ছে, আর বিবেকবান মানুষ হচ্ছে দিকভ্রান্ত ও হতাশ। পরিবেশ রক্ষা বিষয়ে জাহাজভাঙা শিল্পে দিকনির্দেশনা দেওয়া আদালতের নির্দেশ আজ পর্যন্ত প্রতিপালিত হয়নি। সীতাকুণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সহায়তা না পাওয়ায় বনমন্ত্রীর সাহায্য চাইতে হয়েছে, অথচ প্রাথমিক দায়িত্বটি ছিল আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিতদের। সেদিন পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করেনি, দায়িত্ব পালন করেনি স্থানীয় জনগণও, অথচ রাতের অন্ধকারে গাছগুলো যে কেটে নেওয়া হবে সে খবর নাকি এলাকার সব লোকই জানত। পরিবেশ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী স্থানীয় মানুষের তরফ থেকে কোনো প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ ওঠেনি, হয়তো তারা প্রভাবশালী মহলের পেশিশক্তির কাছে ছিল অসহায় কিংবা সবুজবেষ্টনী এবং পরিবেশের চেয়েও তাদের কাছে শ্রেয়তর জাহাজভাঙা শিল্পের উচ্ছিষ্টভোগী হওয়া। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে মন্ত্রী এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে হয়, ‘কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অথচ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আইনেই বলা আছে, তার জন্য মন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি বা নির্দেশ দিতে হয় না। সেদিন সীতাকুণ্ডের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রশংসনীয় ভূমিকা ছাড়া আর কারও ভূমিকা দেখা যায়নি। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো কেবল আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে, কিন্তু তাতে প্রলয় বন্ধ হয়নি।
জাহাজভাঙা শিল্পকে বন্ধ বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার কোনো অবকাশ নেই বলে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার জন্য এ শিল্পের জন্য পৃথক এলাকা চিহ্নিত করে দিতে হবে সরকারকেই। সীতাকুণ্ড-কুমিরা উপকূলে যদি জাহাজভাঙা শিল্প রাখতেই হয়, তাহলে বিচ্ছিন্নভাবে যদি দূরে দূরে তা করা যায়, তার ফাঁকে ফাঁকে রক্ষা করা যায় সবুজবেষ্টনী, তাতে কিছু মাত্রায় বজায় রাখা যাবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। আমাদের সহজাত অসচেতনতা এবং ছিদ্রযুক্ত আইনের কারণে যাতে সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রভাব প্রকৃতির ওপর না পড়ে তার জন্য স্থানীয় জনগণ, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে প্রয়োজনীয় এবং যুগোপযোগী নীতিমালা তৈরি করতে হবে। আর, সীতাকুণ্ড উপকূলে যে ঘটনা ঘটে গেছে তার সবচেয়ে যোগ্য প্রতিকার হবে যদি কেটে ফেলা গাছগুলোর জায়গায় আদৌ আর ইয়ার্ড তৈরির অনুমতি দেওয়া না হয় এবং সেখানে আবার বনসৃজন করা হয়।
আসন্ন কোপেনহেগেন সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ নাকি ৭০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চাইবে। কিন্তু যাঁদের কাছে এই সহায়তা চাওয়া হবে তাঁদের দূতরা কি আমাদের পত্রিকা পড়ে আমাদের আত্মঘাতী বননিধন, নদীভরাট এবং পরিবেশদূষণ সম্পর্কিত কীর্তিকলাপ সম্পর্কে সম্যক অবহিত নন? আমরা জানি, আল্লাহ সে জাতিকে সাহায্য করেন, যে জাতি নিজেকে নিজে সাহায্য করে। আমরা কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি যে আমরা নিজেদের সাহায্য করছি?
ফারুক মঈনউদ্দীন: ব্যাংকার।
fmainuddin@hotmail.com

জলবায়ু সম্মেলন-ব্যর্থ হলে আমাদের সন্তানেরা ক্ষমা করবে না -গর্ডন ব্রাউন

ইতিহাসজুড়ে মানবের সমস্ত প্রগতি ঘটেছে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের স্বপ্ন আর বাধা অতিক্রমের লড়াকু মানসিকতার জন্য। অনেকে তখন বলেছে, এমন স্বপ্ন আমাদের আওতার বাইরে, এসব বাধা অনতিক্রম্য। তার পরও মানুষ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছে, বাধা অতিক্রমের লড়াই চালিয়ে গেছে।
আজ আমরা এমন এক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে, কিছুদিন আগেও যার সমাধান আমাদের আওতার বাইরে বলে মনে হতো, মতে হতো তা এক অসম্ভব, ব্যয়সাপেক্ষ ও অনুপযুক্ত ব্যাপার। তবে দাসত্ব, নারী নিপীড়ন, কর্মসংস্থানহীনতা বা পারমাণবিক যুদ্ধের মতোই জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর বশে আনা অসম্ভব কোনো ব্যাপার নয়। সামনের দুই সপ্তাহজুড়ে সত্যিকারের এক বিশ্ব সম্প্রদায় হিসেবে আমরা একত্র হব—এর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য দরকারি প্রথম সিদ্ধান্তসূচক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।
আর এখন কোপেনহেগেন সমঝোতার পথে নরওয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ব্রিটেন একধাপ এগিয়ে একটি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং এর তীব্রতা কমাতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পদ সেসব দেশে স্থানান্তরের একটি কাঠামো আমরা প্রকাশ করতে যাচ্ছি।
বড় ধরনের যেসব বৈজ্ঞানিক সাক্ষ্যপ্রমাণ কোপেনহেগেন সম্মেলনের ভিত্তি, সেগুলো নিয়ে সবার সংশয় দূর হোক। ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ সারা দুনিয়ার চার হাজারেরও বেশি বিজ্ঞানীকে একসঙ্গে নিয়ে এসেছে। তাঁদের সাম্প্রতিক কাজ মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিপুল ও বৈচিত্র্যময় সাক্ষ্যকে আরও শাণিত করেছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকেন্দ্র থেকে কিছু ই-মেইল ফাঁস হওয়ায় তাঁদের কাজের যুগান্তকারী তাত্পর্যকে হেলা করা যায় না। বিপরীত দিকে, ই-মেইল নিয়ে এ ক্ষতিকর বিজ্ঞানবিরোধী বিরূপ প্রতিক্রিয়া আমাদের ঝুঁকিগুলোরই উন্মোচন ঘটিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনকে যারা অস্বীকার করতে চায় তাদের প্রচারণার উদ্দেশ্য পরিষ্কার; এই ক্ষণে এ বিরূপতা কোনো কাকতালীয় নয়। অস্থিরতা তৈরি করতে এবং কোপেনহেগেনে যেসব দেশ যোগ দিচ্ছে, তাদের প্রচেষ্টাকে ক্রমশ দুর্বল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে তা করা হয়েছে।
এর কারণ হলো, আমরা যদি দরকারি এ উচ্চাভিলাষী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারার রাজনৈতিক সদিচ্ছার সম্মিলন ঘটাতে পারি, তাহলে কোপেনহেগেন গভীর ঐতিহাসিক রূপান্তরের সূচনা করতে পারে: গত ২০০ বছর আমরা যে পথে হেঁটেছি তা উল্টে দিয়ে।
এ সময়কালে সমৃদ্ধির জন্য আমরা জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো ও গাছ কাটার ওপর নির্ভর করেছি। এখন আমাদের সম্পদ আহরণ ও জীবনমানের জন্য এমন পথে যেতে হবে, যা বায়ুমণ্ডলে কার্বনের পরিমাণ না বাড়িয়ে বরং শোষণ করবে। সোজা কথায়, আমাদের স্বল্প কার্বন অর্থনীতি (low carbon economy) গড়তে হবে। শুধু দেশের ভেতর নয়, সারা দুনিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিতে এমনটা করার লক্ষ্য আমাদের অবশ্যই থাকতে হবে।
একটা বদল জরুরি হয়ে উঠবে: শক্তির ক্ষেত্রে তেল ও জীবাশ্ম জ্বালানির বিদ্যমান একাধিপত্যের জায়গায় স্বল্প কার্বন শক্তিব্যবস্থার দক্ষতা, স্বনির্ভরতা ও নিরাপত্তার বিষয় সামনে আসবে। এমন শক্তিব্যবস্থা সামনের দশকগুলোতে অর্থনৈতিক বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
বৈশ্বিক ও জনস্বার্থে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রগতির প্রতিটি মহত্ প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনিবার্যভাবেই কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের দেখা মিলবে, যারা এসবের বিরোধিতা করতে চাইবে। আর তাই প্রগতির পথে বাধা সৃষ্টিকারী পরিবেশের ধ্বংসকামী সব বিজ্ঞানবিরোধী ও জলবায়ুবিরোধীর মোকাবিলা আমাকে সাক্ষ্যপ্রমাণ, যুক্তি ও নৈতিক ভাবাবেগ দিয়ে করতে হবে। দুই সপ্তাহব্যাপী আলোচনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আমাদের কী অর্জন করতে হবে, সে বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান পুরোপরি পরিষ্কার। আমাদের লক্ষ্য একটি সমন্বিত ও বৈশ্বিক সমঝোতা, যা অনধিক ছয় মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনত মানতে বাধ্য একটি চুক্তির রূপ নেবে। এ সমঝোতায় এমন পথ বেছে নিতে হবে, যেন বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়। অর্থাত্ ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন অন্তত অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি সবচেয়ে গরিব ও নাজুক দেশগুলোকে অবশ্যম্ভাবী জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অবশ্যই সহায়তা করতে হবে। যদিও সম্প্রতি বেশ অগ্রগতি ঘটেছে, তবুও অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে। প্রথমত, প্রতিটি রাষ্ট্রকে কার্বন নির্গমন কমানো এবং নির্গমন বৃদ্ধির হার বিষয়ে অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে তাদের আকাঙ্ক্ষা অনেক বড় রাখা দরকার। অনেক দেশের প্রস্তাব অন্য দেশের সঙ্গে শর্তযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কথা বলা যেতে পারে। ইইউ অঙ্গীকার করেছে, সার্বিকভাবে জোরদার কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো গেলে এর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নির্গমন কমাবে। অস্ট্রেলিয়া ও জাপানও এ ধরনের প্রস্তাব রেখেছে। তাই কোপেনহেগেনে সব দেশ যেন তাদের আকাঙ্ক্ষাটা অনেক বড় রাখে, সেটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে—যেন অন্য দেশও এমন পদক্ষেপ নিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, অর্থসংস্থানের বিষয়ে আমাদের একটি সমঝোতা দরকার, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে উন্নয়নশীল বিশ্বকে সহায়তা করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ও তীব্রতা হ্রাস করতে অর্থ প্রয়োজন। এ অর্থ দরকার হবে স্বল্প কার্বনশক্তি, পরিবেশের জন্য অনুকূল প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বৃষ্টিপ্রধান ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশগুলোর বন বিনষ্টি আমূল কমাতে বিনিয়োগ করার জন্য।
এ জন্যই সম্প্রতি কমনওয়েলথ সভায় আমি একটি কোপেনহেগেন লঞ্চ ফান্ড গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যেখান থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। কমনওয়েলথ এ প্রস্তাবে সায় দেয়। আমি খুব খুশি যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চুক্তিতে পৌঁছাতে সহায়তার জন্য শুধু কোপেনহেগেনেই যাচ্ছেন না; বরং এতে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কেভিন রুডের পাশাপাশি তিনি তাঁর দেশের ন্যায্য পাওনা চুকিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এ সপ্তাহে আমি পুরো ইইউকে এমন আহ্বান জানাব।
আমাদের যৌথ বিবৃতিতে যেমন বলা আছে, তেমনি কোপেনহেগেনেও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ও তীব্রতা হ্রাস করাতে সহায়তা করতে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা দরকার। বৈশ্বিক নির্গমন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নামিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার। কিন্তু এ জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আস্থার সঙ্গে নিজেদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা করতে সক্ষম হতেই হবে। তাই ‘ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে প্রদান’ করার ব্যবস্থা আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। এ ব্যবস্থায় স্বল্প কার্বন টেকসই বন রক্ষার পরিকল্পনাগুলোর নির্গমন কমানোতে যে ভূমিকা রাখবে, তার বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করা হবে।
তৃতীয়ত, আমাদের একটি ‘স্বচ্ছতার কৌশল’ তৈরি করতে হবে, যার মাধ্যমে প্রতিটি দেশ শুধু নিজের ভূখণ্ডে নয়, অন্য দেশে কী ঘটছে তা পরিষ্কারভাবে দেখতে পারবে। পারস্পরিক আকাঙ্ক্ষার এ মহত্ বৈশ্বিক প্রকল্পে আমাদের অন্য সবাইকে আস্থায় আনা দরকার।
বিশ্বনেতাদের কোপেনহেগেনে যাওয়া উচিত, এ কথা যখন আমি প্রথম তুলি, আমি নিশ্চিত করতে চেয়েছি ব্যর্থতার জায়গা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে। এখন শতাধিক নেতা অংশ নিচ্ছেন। এ সম্মেলনের শেষে আমরা যদি উচ্চাভিলাষী কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারি, তবে এর জন্য এ প্রজন্মকে আমাদের সন্তানেরা ক্ষমা করবে না। সফল করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করে যাব। কখনো ইতিহাস তার সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়। আমাদের সবার স্বার্থে ২০০৯ সালের এই সন্ধিক্ষণ সত্যিকারের হতে হবে।
দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব।
গর্ডন ব্রাউন: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী।

মানবাধিকার পরিস্থিতি -বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করতে হবে

১৯৪৮ সালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণার পর থেকে প্রতিবছর ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস পালিত হয়ে আসছে। তাতে দেশের ও বহির্বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি যে সন্তোষজনক, তা বলা যাবে না। ক্ষমতাধর দেশগুলো যখন মানবাধিকার নিয়ে হরহামেশা নসিহত করছে, তখনো ইরাক-আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে নিরস্ত্র ও নিরপরাধ মানুষ যুদ্ধের শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশেও সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট বলে দাবি করেছে। তার পরও মানবাধিকার পরিস্থিতির যে আশানুরূপ উন্নতি হয়নি, তার প্রমাণ পাওয়া গেল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্যে। সম্প্রতি তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদন পেশকালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ এবং প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁর এ দাবির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ নেই।
মুখে স্বীকার না করলেও বর্তমান সরকারের আমলে একের পর এক ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে চলেছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ১০টি ঘটনার তদন্তের ভার নিলেও তাদের নিজস্ব তদন্তকারী কর্মকর্তা নেই। শেষ পর্যন্ত তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারস্থ হতে হয়েছে। এসব তদন্ত প্রতিবেদনে মুখস্থ কথা বলা হয়েছে— ক্রসফায়ারের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ধরনের তদন্ত প্রতিবেদনে যে সত্য উদ্ঘাটিত হবে না, তা হলফ করে বলা যায়। সে ক্ষেত্রে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ারে একদল দক্ষ তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে, যাঁরা সরকার বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘পছন্দসই’ প্রতিবেদন দেবেন না।
কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলতে পারে না। অপরাধ যত গুরুতরই হোক না কেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। আদালতে আসামির শাস্তি না হওয়াকে অনেক সময় ক্রসফায়ারের পক্ষে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো হয়। মাথাব্যথার প্রতিকার নিশ্চয়ই মাথা কেটে ফেলা নয়। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি থাকলে আইনসম্মতভাবেই এর সমাধান খুঁজতে হবে, আইনবহির্ভূত কোনো ব্যবস্থায় নয়। পুলিশের দুর্বল তদন্ত প্রতিবেদনের কারণেই চিহ্নিত অপরাধীরা জামিন ও খালাস পেয়ে থাকে—সেই পথ বন্ধ করতে হবে।
আমরা চাই না, দেশে আর একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিও এভাবে ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হোক। আশা করি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

এখন সংসদে ফিরে যাওয়া উচিত -বিএনপির কাউন্সিল

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়জুড়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দিয়ে যে ঝড়ঝাপটা বয়ে গেছে, তাতে অনেকেরই ধারণা হয়েছিল যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও সংহতি ধ্বস্ত হয়েছে; হতাশা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সুবিধাবাদ, পলায়নপরতায় দেশের প্রধান বিরোধী দলটি যারপরনাই বিপর্যস্ত। কিন্তু মঙ্গলবার ঢাকায় বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে কাউন্সিল অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দলটির সাংগঠনিক সংহতির লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। এটা শুধু বিএনপির জন্যই নয়, বাংলাদেশের মূলত দুই-দলভিত্তিক গণতন্ত্রের জন্য স্বস্তিদায়ক। কার্যকর ও শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল খুব প্রয়োজন। এ কাউন্সিলের আরেকটি তাত্পর্যপূর্ণ দিক হলো, সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব (আদেশ) আইন অনুযায়ী দলটি তার গঠনতন্ত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনেছে এবং কাউন্সিল সেই পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী গঠনতন্ত্র অনুমোদন করেছে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কাউন্সিলে এক দীর্ঘ ভাষণ দিয়েছেন। তাঁর অনেক কথার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি হলো: ১. তিনি বলেছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করলে সরকারকে তাঁর দল সহযোগিতা করবে; ২. দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ বা চুক্তি করলে তাঁর দল সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবে। হুঁশিয়ারি বলি বা সাধারণ বার্তাই বলি—এ রকমই হওয়া উচিত প্রধান বিরোধী দলের যথার্থ অবস্থান। জনগণের কল্যাণের কাজে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতা অবশ্যপ্রয়োজন, এখানে বিরোধিতার প্রশ্ন থাকা উচিত নয়। একইভাবে, সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কাজেও বিরোধী দলের বিরাট ভূমিকা আছে। জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন বিরোধী দল করতেই পারে। তবে হরতাল, অবরোধ ইত্যাদি যেসব পন্থা জনজীবনে ভোগান্তি, আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ হয়, সেগুলো পরিহার করতেই হবে। বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সংসদকে কার্যকর করতেও বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করবে। এ অবস্থায় এখন বিএনপির দায়িত্ব হচ্ছে সংসদে ফিরে গিয়ে সরকারের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তাদের অবস্থান তুলে ধরা।
কোনো সংগঠনের জাতীয় কাউন্সিল থেকে প্রত্যাশা থাকে যে সেখানে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন কমিটি গঠিত হবে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত বিএনপির এই জাতীয় কাউন্সিলে তেমনটি ঘটেনি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া, আর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ নতুন নেতৃত্ব গঠনের সব ক্ষমতা এককভাবে অর্পণ করা হয়েছে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর। এটাই এ কাউন্সিলের অপূর্ণাঙ্গতার সবচেয়ে বড় দিক। কাউন্সিলে তারেক রহমানের একটি ভিডিও-ধারণকৃত ভাষণ প্রচার করা হয়েছে। দেখা গেছে, দলে তারেক রহমানের এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে অতীতের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে সমাজে তাঁর সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা রয়েছে, এটাও সত্য।
সফল কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে বিএনপি নতুনভাবে কাজ শুরু করবে, দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালনে তত্পর হবে—এটা আমরা আশা করি। খালেদা জিয়া তাঁর ভাষণে সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসকে গণতন্ত্রের শত্রু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমরা বিএনপিকে একটি উদারনৈতিক ও গণতান্ত্রিক দল হিসেবেই দেখতে চাই। এখন সবকিছুর আগে তাদের উচিত সংসদে ফিরে যাওয়া।

শতবর্ষ পালন

উপমহাদেশের নারীশিক্ষা আন্দোলনের পথিকৃত্ বেগম রোকেয়ার কলকাতা আগমনের শতবর্ষ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার কলকাতাজুড়ে পালিত হয়েছে ‘সংকল্প দিবস’।
বেগম রোকেয়া শতবর্ষ আগে ৩ ডিসেম্বর কলকাতার ৩০ নম্বর ইউরোপিয়ান অ্যাসাইলাম লেনের স্বামীর এক বন্ধুর বাড়িতে প্রথম পা রাখেন। সেই দিনটি ঘিরে পালিত হয় সংকল্প দিবস। এ উপলক্ষে এদিন বেগম রোকেয়ার গড়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। আজ ৯ ডিসেম্বর কলকাতাসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে পালিত হবে বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুদিবস।

ফিলিপাইনে মিলিশিয়াদের আত্মসমর্পণের আহ্বান

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মাগুইনদানাও প্রদেশে আমপাতুয়ান গোষ্ঠীর অনুগত মিলিশিয়া বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে ওই এলাকায় প্রচারপত্র ফেলা হয়েছে। হেলিকপ্টার ও বিমান থেকে গতকাল মঙ্গলবার এসব প্রচারপত্র ফেলা হয়।
সেনা কমান্ডার কর্নেল লিও ফেরের জানিয়েছেন, প্রদেশটিতে আমপাতুয়ান গোষ্ঠীর অনুগত অন্তত তিন হাজার যুদ্ধবাজ মিলিশিয়া রয়েছে। সেনাবাহিনী তাদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, ওই মিলিশিয়া সদস্যরা লুকিয়ে আছে বলে ধারণা করা হয় এমন প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় এর মধ্যে দুটি হেলিকপ্টার ও বিমান থেকে হাজার হাজার প্রচারপত্র ফেলা হয়েছে। এসব প্রচারপত্রে প্রদেশটির শান্তির স্বার্থে ওই মিলিশিয়াদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে

আফগানিস্তানে বাড়তি সেনা মোতায়েন শুরু হচ্ছে আগামী সপ্তাহে

আফগানিস্তানে বাড়তি সেনা মোতায়েনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন মেরিন বাহিনীর এক হাজার ৫০০ সদস্যের একটি শক্তিশালী দল আগামী সপ্তাহে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছাতে শুরু করবে। গত সোমবার পেন্টাগনের কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতিরত তরুণ মেরিন সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন জানান, মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে ইসলামপন্থী জঙ্গিদের গতিবেগ স্তব্ধ করে দিতে হবে। উত্তর ক্যারোলাইনার ক্যাম্প লিজিউনিতে মেরিন সেনাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে প্রায় ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় রয়েছে।’
মাইক মুলেন আরও বলেন, শহর ও গ্রামগুলোয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি আফগান বাহিনীর হাতে ধীরে ধীরে নিরাপত্তার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে।
মুলেন ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন বাহিনী ও ন্যাটো নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
তিন মাসের ব্যাপক পর্যালোচনার পর গত সপ্তাহে নতুন আফগান কৌশল ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আফগানিস্তানে অতিরিক্ত ৩০ হাজার সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেন তিনি। ২০১১ সালের জুলাই মাস থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের কাজ শুরুর ঘোষণাও দেওয়া হয়।
দুই বছর আগে ইরাকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর বিষয়টিকে সফলতার উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন মাইক মুলেন।
তিনি বলেন, বিদ্রোহ মোকাবিলায় কীভাবে লড়তে হয়, মার্কিন সেনাবাহিনী সেটা শিখেছে। তিনি আরও বলেন, ‘২০০৬ সালের পর থেকে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিদ্রোহবিরোধী বাহিনীতে পরিণত হয়েছি।’

রাশিয়ায় গ্যাস তুলবে ভারতের সংস্থাগুলো

রাশিয়ায় মাটির নিচ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন এবং তা আমদানির ভার পাচ্ছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সংস্থাগুলো। সেখানকার ইয়ামাল উপদ্বীপ ও তমস্ক অঞ্চলে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান আর উত্তোলনের দায়িত্ব পাচ্ছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ওএনজিসি। রাশিয়া থেকে মনমোহন সিংহের বিশেষ বিমানে ফেরার পথে পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে এ ব্যাপারে ওএনজিসির সঙ্গে রুশ সংস্থা সিস্টেমার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চীনা মন্ত্রীকে সম্মেলনে ঢুকতে বাধা

এক চীনা মন্ত্রীকে তিন তিনবার কোপেনহেগেনে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ দাবি করে গতকাল বুধবার এর তীব্র নিন্দা করেছে বেইজিং।
সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে চীনের শীর্ষ আলোচক সু উয়ে বলেন, ‘গতকাল আমি খুবই অসুখী ছিলাম। আজ আমি চূড়ান্তভাবে অসুখী। আমাদের সম্মানিত মন্ত্রীকে তৃতীয় দিনের মতো সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।’
চীনা আলোচক বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রীকে তিনবার প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। চীনে একটি প্রবাদ আছে—একটা ঘটনা একবার কিংবা দুইবার ঘটতে পারে। কিন্তু এর পরও এটা ঘটলে সেটা সহ্য করা যায় না।’ সু অবশ্য ওই মন্ত্রীর নাম প্রকাশ করেননি। ইউএন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন ফর ক্লাইমেট চেঞ্জের (ইউএনএফসিসিসি) নির্বাহী সচিব ইভো ডি বোয়ের বলেন, তিনি এই ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন। তবে তিনি বলেন, ‘আমি এটা নিশ্চিত করব যে এমনটি আর ঘটবে না।’

ইইউকে কার্বন নিঃসরণ ৩০ শতাংশ কমানোর আহ্বান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর -চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা বললেন বিল ক্লিনটন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় কোপেনহেগেনে অবশ্যই একটি সর্বসম্মত চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। আর এ চুক্তিতে পৌঁছাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে প্রতিশ্রুত মাত্রার চেয়ে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা আরও কমাতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় একটি নতুন চুক্তিতে অবশ্যই পৌঁছাতে হবে। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন চলাকালে এ দুই বিশ্বনেতা এসব কথা বলেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে বলেন, তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২০ সাল নাগাদ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৩০ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছাবে। ইইউ নেতারা ইতিমধ্যে কার্বন নিঃসরণের যে ঘোষণা দিয়েছেন তা থেকে ব্রাউন আরও ১০ শতাংশ বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানোর কথা বলেছেন।
ব্রাউন বলেন, “সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোকে আমরা এটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে তারা যা চায়, সে ব্যাপারে তারা যেন একটি কার্যকর পরিকল্পনায় পৌঁছায়। তাদের পক্ষে এটা বলা যথেষ্ট হবে না যে ‘আমি এটা করতে পারি’, ‘আমি এটা করতে পারতাম’; বরং আমাদের এই অঙ্গীকার করতে হবে, আমি এটা করবই।” তিনি বলেন, ‘আমি এমন একটা অবস্থা তৈরি করতে চাই, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৩০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমাতে উদ্বুদ্ধ হবে।’
গর্ডন ব্রাউনের অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে পারে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো। বিশেষ করে, ইতালি ও অস্ট্রিয়া এরই মধ্যে অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিপক্ষে তাদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে আরও বলেন, ‘সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হলো, কিয়েটো চুক্তির বদলে বিশ্ববাসী কোপেনহেগেনে নতুন আরেকটি চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় চলমান তত্পরতা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।’

রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা সম্মেলনে যোগ দেবেন

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের আইনপ্রণেতারা ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে চলমান জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে কঠোর অঙ্গীকার করেছেন তার প্রতি সমর্থন জানাবেন তাঁরা। এ ছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতার ব্যাপারে জলবায়ু বিজ্ঞানীরা যে ভয়াবহ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন সে বিষয়টিও তুলে ধরবেন তাঁরা। এ ব্যাপারে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার হুমকি নিয়ে বিজ্ঞানীরা অতিরঞ্জিত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের জ্বালানি ও বাণিজ্যবিষয়ক কমিটির শীর্ষ রিপাবলিকান সদস্য জো বার্টন গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি সেসব ব্যক্তির দলে নই, যাঁরা বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় হুমকি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং সেই হুমকি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। অথচ তাঁদের কথামত কঠোর পদক্ষেপ নিলেঅনেক লোক বেকার হয়ে পড়বে।’
রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের প্রতিনিধি দলটি আগামী সপ্তাহে কোপেনহেগেনে পৌঁছাবে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন জেমস সুসেনব্রেনার। তিনি বলেন, সম্ভাব্য জলবায়ু চুক্তিকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে যে করণীয় পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তার আকার আরও ছোট করা দরকার। এ ব্যাপারে সুসেনব্রেনার বলেন, ‘কিয়েটো চুক্তিতে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছিল। আল গোরের জানা উচিত ছিল, ওই সব ঘোষণা কখনোই মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদন পাবে না।’ সুসেনব্রেনার বলেন, ‘আমি আশা করি, আল গোরের মতো ভুল প্রেসিডেন্ট ওবামা করবেন না।’
গত জুনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২০২০ সাল নাগাদ ২০০৫-এর তুলনায় ১৭ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর একটি প্রস্তাব পাস হয়। কোপেনহেগেনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদিত হওয়া এই ১৭ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর ঘোষণা দিতে পারেন ওবামা।

গ্রিনহাউস গ্যাস মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর -কোপেনহেগেন সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্র সরকার বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাসকে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার ফলে সে দেশের পরিবেশ রক্ষাকারী সংস্থা মার্কিন পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার (ইপিএ) ক্ষতিকর গ্যাসের উদিগরণের মাত্রা নির্ধারণের পথ সুগম হলো। এ ছাড়া ইপিএ মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ক্ষতিকর গ্যাসের উদিগরণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।
বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, গত সোমবার কোপেনহেগেনে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনহাউস গ্যাসকে ক্ষতিকর বলে ঘোষণা দেয়। ইপিএর প্রশাসক লিসা জ্যাকসন বলেন, এ ঘোষণার পর তাদের ক্ষতিকর গ্যাস নিয়ন্ত্রণে যুক্তিসংগত উদ্যোগ নেওয়ার পথ সুগম হলো।
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই ঘোষণা ক্ষতিকর গ্যাসের উদিগরণ বন্ধে মতৈক্যে পৌঁছার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।
ইপিএর প্রশাসক লিসা জ্যাকসন আরও বলেন, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্টতই প্রমাণিত, গ্রিনহাউস গ্যাস মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং জলবায়ু পরিবর্তনে এর প্রভাব অপরিসীম। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এ ঘোষণাকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ২০০৯ সাল যুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্বের ইতিহাসে এক স্মরণীয় বছর হতে চলেছে। কারণ, এ বছরই ওবামা প্রশাসন গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্ষতির দিকগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু করেছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বেশ কিছুদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এ ঘোষণা এমন সময় দেওয়া হলো, যখন সারা বিশ্বের দৃষ্টি কোপেনহেগেনের দিকে। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে জলবায়ু সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনেক সংহত হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণাকে ইইউ ও জাতিসংঘের স্বাগত
মার্কিন সরকার গ্রিনহাউস গ্যাসকে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে যে ঘোষণা দিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘ।
ইইউর মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণা জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোভাবের ক্ষেত্রে এক ধাপ অগ্রগতি।
জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জাতিসংঘের বৈজ্ঞানিক নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র পাচৌরি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, এ সিদ্ধান্ত জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোভাবের প্রতিফলন।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের ভবিষ্যত্ রাজধানী হবে জেরুজালেম: ইইউ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মঙ্গলবার ব্রাসেলসে এক বৈঠকে বলেছেন, ইসরায়েল ও ভবিষ্যত্ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে জেরুজালেম। এ ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একমত হয়েছেন। বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে তাঁরা একটি খসড়া বিবৃতিতে এ কথা বলেন। ওই বিবৃতির পর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এর তীব্র সমালোচনা করেছে। এএফপি।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৬৭ সালের আগের সীমানায় কোনো ধরনের পরিবর্তনে ইইউ স্বীকৃতি দেবে না, অর্থাত্ ইসরায়েলের জবরদখল করা এলাকাকে তাদের বলে ইইউ মানবে না। বিবৃতিতে জেরুজালেমকে দুই দেশের ভবিষ্যত্ রাজধানী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। এর আগে সুইডিশ ইইউ প্রেসিডেন্সির পক্ষ থেকে জেরুজালেমকে ভবিষ্যত্ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী করার প্রস্তাব করা হয়। মঙ্গলবার ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সর্বসম্মতভাবে ওই প্রস্তাবে সমর্থন দেন।
খসড়া বিবৃতির পর ইসরায়েল যারপরনাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। একজন ইসরায়েলি কূটনীতিক বলেছেন, বিবৃতিতে ‘পূর্ব জেরুজালেমের’ উল্লেখ না থাকলেই বরং শান্তি-প্রক্রিয়ায় একটি অগ্রগতি হতো। জেরুজালেমের মেয়র নির বারকাত ইইউ পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান কেথেরিন অ্যাস্টনকে সতর্ক করে দিয়ে একটি চিঠিও লিখেছেন। ইসরায়েলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বৈদেশিক সম্পর্ক-বিষয়ক কমিটির আইনপ্রণেতা ও প্রভাবশালী রিপাবলিকান সদস্য ইলিয়ানা রস-লেহটিনেন বলেছেন, ‘জেরুজালেমকে ভাগ করার যেকোনো প্রয়াসই হবে আমাদের মিত্র ইসরায়েলের জন্য অবমাননাকর।’
তবে ইইউ-মন্ত্রীরা ওই প্রস্তাবে কোনো পরিবর্তন আনতে রাজি নন। এ প্রসঙ্গে লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ অ্যাসেলবর্ন খোলাখুলিই বলেন, পূর্ব জেরুজালেম ইসরায়েলের অংশ নয়, এটা পরিষ্কার।

আফগানিস্তান সফরে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

এক অঘোষিত সফরে গতকাল মঙ্গলবার আফগানিস্তানে গেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস। এ সফরে তিনি আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন বাহিনীর সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঘোষিত নতুন আফগান রণকৌশল অনুযায়ী সেখানে আরও ৩০ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়ে এ আলোচনা হবে।
কাবুলে গেটস সাংবাদিকদের বলেন, আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন সেনাদের তিনি জানাতে এসেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে জিততে চায়। পাশাপাশি আফগান কর্মকর্তাদের তিনি জানাবেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবেই তাঁদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরও সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত এবং কীভাবে তাদের মোতায়েন করা হবে, তা নিয়ে হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। এ ছাড়া আফগান নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কীভাবে আরও দক্ষ করে তোলা যায়, তা নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হবে।
গেটসকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকলে আফগানিস্তান থেকে ধীরে ধীরে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে; তখন সেখানকার নাগরিকদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, অর্থনীতি ও অন্য বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে।’
সম্প্রতি বারাক ওবামা আফগানিস্তানে আরও ৩০ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আর এতে দেশটিতে মোতায়েন মার্কিন সেনার সংখ্যা এক লাখে গিয়ে পৌঁছাবে।

হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে মহাকাশের প্রাচীন ছায়াপথ!

মহাকাশের সবচেয়ে প্রাচীন কয়েকটি ছায়াপথের সন্ধান মিলেছে। অত্যাধুনিক হাবল টেলিস্কোপে ওই ছায়াপথগুলোর ছবি ধরা পড়েছে। যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা মঙ্গলবার এ কথা বলেছেন। খবর এএফপির।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নভোচারীরা ১৯ বছরের পুরোনো হাবল টেলিস্কোপে গত মে মাসে নতুন করে অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড ক্যামেরা যুক্ত করেন। ওই ক্যামেরায় ধরা পড়ে ছায়াপথগুলো। এই ছায়াপথগুলোর ছবি নিয়ে গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এগুলো খুব সম্ভবত এযাবত্কালের আবিষ্কৃত সবচেয়ে দূরবর্তী ও প্রাচীন ছায়াপথ। এ বিশ্ব যখন শিশু অবস্থায় তখনো এর অস্তিত্ব ছিল।
হাবলে সংযুক্ত ওয়াইড ফিল্ড ক্যামেরাটি ইনফ্রারেড আলোকরশ্মি ব্যবহার করে ছবি তোলে। এভাবে উচ্চমাত্রার স্পর্শকাতর ক্যামেরাটি বহু দূরের নক্ষত্রের আলোও চিহ্নিত করতে সক্ষম, যা কি না সাধারণত মানুষের চোখে পড়ে না।
বিজ্ঞানীরা জানান, মহাকাশের আলট্রা ডিপ ফিল্ড বা অতি দূরবর্তী অঞ্চল থেকে হাবল ছবিগুলো তুলেছে। এর আগে ওই এলাকা থেকে বিজ্ঞানীরা কোনো ছবি তুলতে পারেননি। ছবিগুলো নিয়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এখন গবেষণা শুরু করেছেন।

কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছে ভেনেজুয়েলা -কলম্বিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সশস্ত্র লড়াইয়ের জন্য তাঁর সরকারের সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাশিয়ার তৈরি কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার কিনেছে ভেনেজুয়েলা। গত সোমবার টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
ভাষণে হুগো শাভেজ অভিযোগ করে বলেন, কলম্বিয়া ও ওয়াশিংটন একযোগে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক হামলার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, পূর্ব-সতর্কতা হিসেবে তাঁর সরকার আরও অস্ত্র সংগ্রহ করছে।
গত কয়েক মাস ধরে শাভেজ এই অভিযোগ করে এলেও কলম্বিয়া ও ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে আসছে।
শাভেজ বলেন, ‘কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র আসছে।’ তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। শাভেজ জানান, রাশিয়ার তৈরি ইগলা-আইএস ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেটচালিত গ্রেনেডসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে অস্ত্রসম্ভার সমৃদ্ধ করা হচ্ছে।
কয়েক মাস ধরে বোগোটা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন হুগো শাভেজ। ওই চুক্তি অনুযায়ী কলম্বিয়ার সাতটি সেনাঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো যাবে। এ বিষয়টিকে নিজ দেশের প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। কিন্তু কলম্বিয়ার দাবি, মাদকচক্র ও দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তার জন্যই কেবল ওই চুক্তি করা হয়েছে।
হুগো শাভেজ আরও বলেন, ‘আমাদের সামরিক ট্যাংক বিভাগকে শক্তিশালী করার জন্য টি-৭২ ট্যাংকসহ রাশিয়ার তৈরি আরও ট্যাংক এসে পৌঁছাবে।’ ২০০৫ সাল থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে ৪০০ কোটি ডলারেরও বেশি দামের অস্ত্র কিনেছে ভেনেজুয়েলা।

এথেন্সে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে গত সোমবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারে। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পুলিশের গুলিতে এক তরুণের নিহত হওয়ার প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভকারী তরুণরা পুলিশ এবং দোকানপাটের জানালা লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পাল্টা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। গ্রেপ্তার করা হয় ২১ তরুণকে। বিক্ষোভকারীদের অনেকেরই বয়স ১২ বছরের নিচে।
সরকারের মুখপাত্র জর্জ পেটালোটিস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যে এথেন্সসহ অন্যান্য বড় শহরগুলো প্রতিরক্ষাবিহীন নয়।’
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এর আগে একটি থানা লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক বছর আগে পুলিশের গুলিতে নিহত এলেক্সিস গ্রিগোরোপৌলোসের (১৫) প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত শোভাযাত্রা থেকে পাথর ছুড়ে মারা হয়। ওই শোভাযাত্রায় যোগ দেন কয়েক হাজার ছাত্র। পুলিশ জানায়, আরও দুটি থানা লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা আবর্জনা ছুড়ে মারে।

মুম্বাইয়ে ইউরেনিয়াম বহনের সন্দেহে তিনজন গ্রেপ্তার

ভারতের মুম্বাইয়ে নৌবাহিনীর অপরাধ শাখার গোয়েন্দারা রাসায়নিক পদার্থ বহনের সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বহন করা ওই পদার্থ ইউরেনিয়াম হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরীক্ষার জন্য ওই পদার্থ দেশটির ভবা আণবিক গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার পানভেল এলাকা থেকে ওই তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচ কেজিরও বেশি রাসায়নিক পদার্থ জব্দ করা হয়। তাত্ক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার-ঘটনার বিস্তারিত জানানো হয়নি।
জব্দ করা রাসায়নিক পদার্থ ইউরেনিয়াম হলে দেশটির নিরাপত্তার ব্যাপারে আবারও বড় ধরনের প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সে দেশের পরমাণু অস্ত্র নিরাপত্তায় পুলিশের একটি বিশেষ শাখা দায়িত্ব পালন করছে। তা ছাড়া পানভেল ঘটনার মাত্র এক দিন আগে তারাপুর পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র থেকে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ চুরি করার সময় আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাগদাদে গাড়িবোমা হামলায় নিহত ১২৭

প্রায় এক মাস শান্ত থাকার পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইরাকের রাজধানী বাগদাদ। সেখানে গতকাল মঙ্গলবার পাঁচটি শক্তিশালী গাড়িবোমা হামলায় অন্তত ১২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ছাত্র রয়েছে। পৃথক এসব হামলায় অন্তত ১৯৭ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশটির শ্রম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের কাছে দুটি গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়েছে। বাগদাদের কেন্দ্রস্থলে প্রথম বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয় স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে । এর কয়েক সেকেন্ড পর বিকট শব্দে দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে। তারও এক মিনিট পর তৃতীয় বোমা হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। আকাশে হেলিকপ্টার চক্কর দেয়। ঘটনাস্থলে দ্রুতগতিতে অ্যাম্বুলেস ছুটে যায়।
তৃতীয় হামলাটি চালানো হয় বাগদাদের দক্ষিণাঞ্চলের দোরা এলাকায়। সেখানে একটি তল্লাশি চৌকির কাছে এক আত্মঘাতী জঙ্গি ট্রাক চালিয়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ১৫ জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জনই নিকটবর্তী একটি কারিগরি মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অপর তিনজন পুলিশ। তাঁরা তল্লাশি চৌকিটিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অপর দুটি গাড়িবোমার একটি চালানো হয় পশ্চিম বাগদাদের মনসৌর এলাকার অপরাধ আদালত ভবনের কাছে এবং অপর বিস্ফোরণটি ঘটানো হয় শোরাজ এলাকার একটি বাজারে। তাত্ক্ষণিকভাবে এসব হামলার দায়দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি।
দেশটিতে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গতকালের হামলার মাত্র দুই দিন আগে ইরাকের পার্লামেন্ট একটি নির্বাচন আইন পাস করে।

মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মার্কিন নাগরিক হেডলি অভিযুক্ত by ইব্রাহীম চৌধুরী

ভারতের মুম্বাই নগরে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ডেভিড কোলম্যান হেডলির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এফবিআইয়ের হাতে আটক ডেভিড হেডলির বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনাসহ ১২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হেডলির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মার্কিনদের রক্ষায় তাঁর প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে হেডলির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলের এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ।
গত সোমবার মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যা ও সন্ত্রাসী তত্পরতা চালানোর দীর্ঘ পরিকল্পনা ছিল হেডলির। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন দেশে সফর করা তাঁর জন্য সহজ ছিল। অনেকটা সন্দেহমুক্ত অবস্থায় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর হয়ে কাজ করছিলেন তিনি। গত অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে শিকাগো থেকে এফবিআই তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বিচার বিভাগ জানায়, ওই সময় হেডলি দ্বিতীয় দফা সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ভারত সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামার পাশাপাশি আমিও বলছি, মার্কিনিদের রক্ষায় আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। আমাদের এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। আর আমাদের এ যাত্রায় আজকের দিনটি (সোমবার) গুরুত্বপূর্ণ।’
ওয়াশিংটনে জন্ম নেওয়া হেডলির আগের নাম ছিল দাউদ জিলানি। পাকিস্তানের এক সাবেক কূটনীতিবিদ তাঁর বাবা হলেও শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান মায়ের গর্ভে জন্ম তাঁর। জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও পাকিস্তানেই তাঁর কৈশোর কেটেছে। ৪৯ বছর বয়সী হেডলি অনেক আগেই তাঁর নাম পরিবর্তন করেছেন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিবাদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দীর্ঘ পরিকল্পনা থেকেই নাম পরিবর্তন করেন তিনি।
পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার খোঁজ পেয়েছে এফবিআই। কার্যত মার্কিন নাগরিক পরিচয়ে পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীর হয়ে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছিলেন হেডলি। মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার আগে কয়েক দফা ভারত সফর করেন তিনি। হামলার লক্ষ্যস্থলগুলোর ভিডিও চিত্র, কাছাকাছি নৌ ও সড়কপথের ভিডিও চিত্র গ্রহণ করেন নিছক পর্যটক হিসেবে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ মনে করে, এসব ভিডিও চিত্রের মাধ্যমেই লস্কর-ই-তাইয়েবা মুম্বাই হামলার পরিকল্পনা করে। ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ছয়জন মার্কিন নাগরিকসহ ১৬৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। সন্ত্রাসী হামলার এ ঘটনার সঙ্গে লস্কর-ই-তাইয়েবা জড়িত বলে ব্যাপকভাবে অভিযোগ ওঠে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের তদন্তে কানাডার নাগরিক তাহাউর হোসেনের নামও এসেছে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত তাহাউর হোসেন কানাডার নাগরিক হলেও যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে বসবাস করতেন। ইমিগ্রেশন সার্ভিস নামে তাঁর একটি নামসর্বস্ব ব্যবসার খোঁজ পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, তাহাউর হোসেন ইমিগ্রেশন সার্ভিসের নামে সহজে ভারত, পাকিস্তানসহ সর্বত্র যাতায়াত করতেন। সন্দেহমুক্ত অবস্থায় জঙ্গি তত্পরতা চালানোর জন্য ব্যবসার ছদ্মবেশ নিয়েছিলেন তিনি।
হেডলি ও তাহাউরের পাশাপাশি পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত এক সামরিক কর্মকর্তাকেও অভিযুক্ত করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুর রেহমান হাশিম সৈয়দসহ এ জঙ্গিগোষ্ঠী ভারতে পুনরায় হামলা চালানোর উদ্যোগ নিচ্ছিলেন। পাশাপাশি মহানবী (সা.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের জন্য ডেনমার্কের একটি পত্রিকা কার্যালয়েও হামলার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। মার্কিন কর্তৃপক্ষের হাতে হেডলি এবং তাহাউর আটক থাকলেও আব্দুর রেহমান হাশিমের অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি মার্কিন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে। ধারণা করা হচ্ছে, হাশিম পাকিস্তানি পুলিশের হেফাজতে আছেন।

প্রথম প্রান্তিকে বাজেট ঘাটতি অর্থায়ন ৮২% কমে গেছে

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাজেট ঘাটতি অর্থায়ন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে মাত্র এক হাজার ৩২০ কোটি ৩২ লাখ টাকার ঘাটতি অর্থায়ন করা হয়েছে।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল সাত হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, উন্নয়ন-ব্যয়ে গতি না আসা এবং অধিক হারে ব্যাংকঋণ ফেরত দেওয়ার কারণে ঘাটতি অর্থায়ন কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে, আলোচ্য সময়কালে সরকার যে পরিমাণ ব্যাংকঋণ নিয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ঋণ ফেরত দিয়েছে। এর ফলে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে প্রকৃত ঋণ গ্রহণ নেতিবাচক হয়ে গেছে।
এ সময়কালে সরকার নিট হিসাবে দুই হাজার ৫৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার ঋণ ফেরত দিয়েছে।
২০০৮-০৯ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সরকার তিন হাজার ৬৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ নিয়েছিল।
তবে ব্যাংক-বহির্ভূত উত্স থেকে সরকার চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দুই হাজার ৯৭৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে।
গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে এ উত্স থেকে সরকার ৯৪৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঋণ নিয়েছিল।
ব্যাংক-বহির্ভূত উেসর প্রায় পুরোটাই অবশ্য আসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে।
জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট ছয় হাজার ৭৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ৬৬ শতাংশ বেশি।
গত অর্থবছরের একই সময়ে তিন হাজার ৬৪৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।
অবশ্য চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আগে বিক্রীত সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করায় সরকারকে তিন হাজার ২৬৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের প্রকৃত বিক্রি দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার ৮১০ কোটি টাকা।
সঞ্চয়পত্রের এই প্রকৃত বিক্রি গত অর্থবছরের একই সময়কালে বিক্রীত প্রকৃত সঞ্চয়পত্রের প্রায় চার গুণ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে সঞ্চয়পত্রের প্রকৃত বিক্রির পরিমাণ ছিল ৭৫৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
ঘাটতি অর্থায়নের জন্য সরকার চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি উত্স থেকে ৮৯০ কোটি ৪১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ নিয়েছিল দুই হাজার ৯২৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, আলোচ্য সময়কালে দেশে মোট ২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সহায়তা এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৫৬ কোটি ডলারের।
আবার চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আগে নেওয়া বিদেশি ঋণের মূল বাবদ ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলার ফেরত দেওয়ায় প্রকৃত বিদেশি সাহায্য পাওয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সরকার বিদেশি ঋণের মূল বাবদ প্রায় ১৩ কোটি ২৮ লাখ ডলার ফেরত দেওয়ায় ওই সময়ে প্রকৃত বিদেশি ঋণ প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪২ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা

কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রয়োজনীয় কাঁচা পাট সরবরাহ নিশ্চিতকরণের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সরকারি তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, রপ্তানির লক্ষ্যে বন্দরে আনীত কিন্তু এখনো জাহাজীকরণ হয়নি এরূপ পাট (কাঁচা ও পাকা বেল) এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।

ভ্রমণ কোটায় বিদেশি মুদ্রা বহনের সীমা বাড়ানো হয়েছে

বিদেশে ব্যক্তিগত ভ্রমণে বৈদেশিক মুদ্রা বহনের সীমা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ভ্রমণ কোটায় বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার কিনতে পারবেন একজন প্রাপ্তবয়স্ক নিবাসী বাংলাদেশি নাগরিক। আগামী বছরের শুরু থেকে নতুন এ সীমা কার্যকর হবে।
ভ্রমণব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল মঙ্গলবার এক সার্কুলারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী দেশের সব অনুমোদিত ডিলারদের কাছে ভ্রমণ খাতে বৈদেশিক মুদ্রা বহনের নতুন সীমার সিদ্ধান্তটি পাঠিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নির্দেশে বলেছে, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সার্কভুক্ত দেশ ও মিয়ানমারে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিবাসীপ্রতি বাংলাদেশি নাগরিক বছরে দেড় হাজার মার্কিন ডলার কিনতে পারবেন। এ ছাড়া সার্কভুক্ত ও মিয়ানমার ব্যতীত অন্যান্য দেশে ভ্রমণের জন্য বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ডলার কিনতে পারবেন। তবে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের (অনধিক ১২ বছর) জন্য এর অর্ধেক পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা কেনা যাবে।

পোশাক রপ্তানিকারকদের মংলা বন্দর ব্যবহারের আহ্বান -নৌপরিবহনমন্ত্রী-বিজিএমইএ বৈঠক

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের ব্যাপকভাবে মংলা বন্দর ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও মাওয়ায় বিশেষ ফেরির ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, পোশাক রপ্তানিকারকেরা মংলা বন্দর ব্যবহার করলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমবে।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার তাঁর সচিবালয়ের কার্যালয়ে আলোচনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন বিজিএমইএর সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী। এ সময় বিজিএমইএর দ্বিতীয় সহসভাপতি মো. সফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), সহসভাপতি (অর্থ) মো. সিদ্দিকুর রহমান, পরিচালক বাদল রায় ও সাবেক পরিচালক এস এম মান্নান (কচি) এবং ভারপ্রাপ্ত নৌপরিবহনসচিব আবদুল মান্নান হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে দাবি করা হয়েছে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের স্বার্থে চলতি মাসের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন সেবা মাশুল কমানোর ব্যাপারে নৌপরিবহনমন্ত্রী নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
আলোচনাকালে বিজিএমইএর সভাপতি পোশাকশিল্পের জন্য মংলা বন্দরকে আরও আধুনিকায়ন ও কার্যকর বন্দরে রূপান্তরিত করার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও মাওয়ায় পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা গড়ে উঠলে এবং রিজার্ভ ফেরির ব্যবস্থা হলে বিজিএমইএর সদস্যরা মংলা বন্দর ব্যবহারে উত্সাহিত হবেন।
এর জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই তাঁর মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে

এইচএসবিসি আনল ‘রেঞ্জ ফরওয়ার্ড’

বিশ্বের স্থানীয় ব্যাংক হিসেবে খ্যাত দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি) তাদের করপোরেট গ্রাহকদের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নতুন পণ্যসেবা চালু করেছে।
এ সেবার আওতায় ব্যাংকটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হারের নিরাপত্তা বিধান করবে। ‘রেঞ্জ ফরওয়ার্ড’ নামের ব্যাংকিং খাতের এ পণ্যসেবাটি বিশ্বব্যাপী ‘কলার অপশন’ নামে পরিচিত।
এরই মধ্যে দেশের প্রথম সারির শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভিয়েল্লাটেক্স লিমিটেড এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক সুতা উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোস্ট বাংলাদেশকে ব্যাংকটির সঙ্গে এ সেবা নেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। কোম্পানি দুটি এইচএসবিসির সঙ্গে পৃথকভাবে মোট ১০ লাখ ডলার অপশনের চুক্তি করেছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে এইচএসবিসির বাংলাদেশ অংশের হেড অব গ্লোবাল মার্কেটস তারিক আই খান সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এ চুক্তির ফলে করপোরেট গ্রাহকেরা বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিতিশীলতার কারণে তাঁদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারবেন।’
এ সময় হেড অব করপোরেট সেলস গ্লোবাল মার্কেটস মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশনস মুস্তাফিজুর আর খান, ভিয়েল্লাটেক্সের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা রহমতউল্লাহ খন্দকার ও কোস্ট বাংলাদেশের বিশু পদ সাহা উপস্থিত ছিলেন।
অপশনের কার্যকারিতা সম্পর্কে তারিক আই খান উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ধরা যাক কোনো রপ্তানিকারক ভবিষ্যতের প্রাপ্য (রিসিভেবলস) হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা পাবে। কিন্তু বর্তমানে প্রতিটি ডলারের বিপরীতে যত টাকা পাওয়া যায় মুদ্রাবাজারে অস্থিতিশীলতার কারণে ভবিষ্যতে সেই দাম নাও থাকতে পারে। এ অবস্থায় রপ্তানিকারক নির্দিষ্ট ফি প্রদানের মাধ্যমে অপশন চুক্তি করে তার প্রাপ্য বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি কমাতে পারে।’
তারিক আই খান ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এ চুক্তির আওতায় ব্যাংক একটি নিম্ন সীমা ও উচ্চসীমার মধ্যে রপ্তানিকারককে বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকা বিনিময়ের হারের নিরাপত্তা দেবে। যেমন: বর্তমানে বাজারে হয়তো প্রতিটি ডলারের বিপরীতে ৬৮ টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু বাজারে অস্থিতিশীলতার কারণে এ বিনিময় হার বাড়তে বা কমতে পারে। যদি কমে যায় তাহলে চুক্তি অনুযায়ী গ্রাহক নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত নিরাপত্তা পাবেন। আবার বেড়ে গেলে মুনাফাও পাবেন একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত। এ নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যে অতিরিক্ত ঝুঁকি বা মুনাফা তা ব্যাংকের ঘরে জমা হবে। একই ঘটনা আমদানিকারকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।’

গরিবদের ব্যাংক ঋণ না দেওয়া নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য -নুরুল মতিন স্মারক বক্তৃতায় আকবর আলি খান

গরিবদের ব্যাংক ঋণ না দেওয়া বা অতিমাত্রায় কম ঋণ দেওয়া নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ব্যাপার। ব্যাংকগুলোকে বরং ধনিক শ্রেণীকে অতি মাত্রায় ঋণ দেওয়া থেকে বিরত থাকা দরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব আকবর আলি খান নুরুল মতিন স্মারক বক্তৃতায় গতকাল মঙ্গলবার এসব কথা বলেন।
আকবর আলি খান বলেন, ধনীদের ঋণ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণও। কারণ বড় ঋণ গ্রহীতারা তা ফেরত না দিলে ব্যাংক বিপদে পড়ে যায়। তখন ধনী আরও ধনী এবং গরিবকে আরও গরিব করে বৈষম্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে অনভিপ্রেত ভূমিকা পালন করে ব্যাংক।
আকবর আলি খান নুরুল মতিন স্মারকের সপ্তম বক্তা ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর বিমল জালানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তাঁর সঙ্গে একমত হন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগ পরিহার করা জরুরি। এসব নিয়োগে ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হয়। তাঁরা রাজনীতিকে অর্থ উপার্জনের পথ হিসেবে বেছে নেন এবং বিষয় দুটিকে গুলিয়ে ফেলেন।
আকবর আলি খান জানান, শরিয়াহিভক্তিক ব্যাংকিংয়ের কথা বলে অধিকাংশ ইসলামি ব্যাংক বিভিন্ন ফাঁকফোকরে সাধারণ ব্যাংকিং করে।
রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘ব্যাংকিংয়ে নৈতিকতা’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতায় গতকাল তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ছিলেন নুরুল মতিন স্মারকের নবম বক্তা।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক বন্দনা সাহা।
প্রসঙ্গত, ৫০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর নুরুল মতিন ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের অন্যতম পথিকৃত। প্রতিবছর এই প্রথিতযশা ব্যাংকারের স্মরণে বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।
আকবর আলি খান তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ব্যাংক ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হলো আমানতকারী তথা জনগণের আস্থা। ব্যাংক কোম্পানিকে অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে এ আস্থা অর্জন করতে হয়। সুতরাং নৈতিকতার দিকটি বিবেচনায় রাখা দরকার শুধু ব্যাংকের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে নয়, বরং ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকেও।
সাম্প্রতিক বিশ্বমন্দা, আর্থিক খাতে বিপর্যয় ও কেলেঙ্কারির নেপথ্যের চারটি কারণকে চিহ্নিত করেন আকবর আলি খান। এগুলো হচ্ছে অতিমাত্রায় ঝুঁকি গ্রহণ, অপর্যাপ্ত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা এবং বিকল্প ব্যাংকিং সুবিধার অভাব। যথাযথ নিরীক্ষা না হওয়াও এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।
আকবর আলি খান বলেন, করপোরেট সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কোম্পানির নৈতিক সংস্কৃতি। নৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠাটা আবার নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরা নৈতিকতার ব্যাপারে কোন নীতি মেনে চলেন তার ওপর।
আকবর আলি খান বলেন, করপোরেট, সমষ্টিগত ও ব্যক্তিগত—এই তিন পর্যায়েই কাজ করে ব্যাংক। এর মধ্যে অনৈতিক লোক নিয়োজিত থাকলে নৈতিক ব্যাংকিং করা দুঃসাধ্য। ব্যাংক জগতের নৈতিকতাহীনতা গোটা অর্থনীতিতেই ডেকে আনতে পারে গুরুতর বিপর্যয়।
ব্যাংক ব্যবসায় নৈতিকতার জন্য আগে ব্যাংকের পরিচালক ও শীর্ষস্থানীয় নির্বাহীদের নৈতিক মান উন্নত হওয়া দরকার বলে মনে করেন সাবেক এই উপদেষ্টা ও অর্থসচিব। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে ব্যাংক পরিচালকদের অনেকেই পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনীহ ও অনভিজ্ঞ। অনেকেই পর্ষদের সদস্য হওয়ার গুরুদায়িত্বকে হালকাভাবে নেন এবং ব্যাংককে বেছে নেন ব্যক্তিগত লাভালাভের জায়গা হিসেবে।’
আকবর আলি খানের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ব্যাংক পরিচালকদের যোগ্যতা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া। নিয়মিত ভিত্তিতে তাঁদের কর্মদক্ষতাও (পারফরম্যান্স) মূল্যায়িত হওয়া উচিত।
দেশের ব্যাংক খাতে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে এর চর্চা থাকা দরকার বলে মনে করেন আকবর আলি খান। বাইরের চর্চার মধ্যে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিলুপ্ত বিসিআইয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘এখানে আমানতকারীদের সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল। আজ পর্যন্ত একটি হায় হায় কোম্পানির উদ্যোক্তাদেরও বিচার হয়নি।’
আকবর আলি খান বলেন, অনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে নৈতিক আচরণ টেকে না। তবে এও ঠিক যে, বাংলাদেশের মতো দেশ যেখানে সমুদ্রসম অনৈতিকতায় ভরপুর, সেখানে ব্যাংক খাত কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়।
ব্যাংক খাতে নৈতিকতার জন্য কয়েকটি বিষয়ে জোর দিতে বলেন আকবর আলি খান। আমানতকারীদের আমানত বীমার মাধ্যমে সুরক্ষা করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আলাদা করে ভবিষ্যতে আমানত বীমা করপোরেশন নামে একটি সংস্থা গঠনের পরামর্শ দেন তিনি।
ক্যামেল রেটিংয়ের ফলাফল নিয়মিতভাবে প্রকাশ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে পরামর্শ দেন আকবর আলি খান। এতে মান উন্নত করতে ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক ধরনের চাপ তৈরি হবে বলে তিনি জানান।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘ব্যাংক খাত দিন দিন বড় হচ্ছে। কিন্তু খাতটিতে শৃঙ্খলার বড় অভাব দেখা যায় এখনো। এর পরিবর্তন আজ অপরিহার্য।’

সুপার লিগের ষষ্ঠ দল সিসিএস

সিসিএস-ওল্ড ডিওএইচএস দু দলেরই পয়েন্ট ১০ করে হলেও মুখোমুখি লড়াইয়ে জিতে থাকার সুবাদে সুপার লিগে গেল সিসিএস। তবে কাল কলাবাগানের কাছে লিগ পর্বের শেষ দিনে ৫৩ রানে হেরে গেছে তারা। পারটেক্সের বিপক্ষে ওল্ড ডিওএইচএস জিতেছে ১০৭ রানের বিশাল ব্যবধানে। দিনের অন্য ম্যাচে গাজী ট্যাংকও ১০ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে বিকেএসপির বিপক্ষে।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ৭৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পরও ষষ্ঠ উইকেটে জুবায়ের (৩২) ও ফরিদের (৬৯) ৮২ আর সপ্তম উইকেটে ফরিদ-আরিফুলের (৫৪) ৯৩ রানের দুটি জুটি ২৫০ রান এনে দেয় কলাবাগানকে। জবাবে ওপেনার উত্তম সরকারের সেঞ্চুরির (১০২) পরও ৯ উইকেটে ১৯৭ রান করেছে সিসিএস। ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেঞ্চুরি পেতে পেতেও পাননি ওল্ড ডিওএইচএসের ফজলে রাব্বি। তাঁর ৯১ আর ওপেনার রুমন আহমেদের ৮৬ রানের সৌজন্যে ৭ উইকেটে ২৬৮ রান করে ওল্ড ডিওএইচএস, পারটেক্স ৩৪.৩ ওভারে অলআউট ১৬১ রানে। ওল্ড ডিওএইচএসের নাজমুল ইসলাম ২৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন।
দিনের অন্য ম্যাচে পূর্ণ শক্তির দল না নামিয়েও বিকেএসপিকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে গাজী ট্যাংক। বিকেএসপির ১০৫ রানের ক্ষুদ্র সংগ্রহ গাজী ১৫.৩ ওভারে টপকে গেছে মিঠুন-মিজানুরের ওপেনিং জুটিতেই। মিঠুন ৩৫ ও মিজানুর ৬৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ওল্ড ডিওএইচএসের সঙ্গে গাজী ট্যাংক আর বিকেএসপির জন্যও এবারের লিগ কালই শেষ। আগামীকাল থেকে সুপার লিগ খেলবে মোহামেডান, আবাহনী, কলাবাগান, বিমান, ভিক্টোরিয়া ও সিসিএস। রেলিগেশন লিগের তিন দল সূর্যতরুণ, খেলাঘর ও পারটেক্স।

অস্ট্রেলিয়া সফরেও নেই ইউনুস

নিজে বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়া সফরেই ফিরতে চান, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডকে জানাননি কিছুই। অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে তাই ফেরা হয়নি ইউনুস খানের। নিউজিল্যান্ড সফরের মতো অস্ট্রেলিয়াতেও পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেবেন মোহাম্মদ ইউসুফ। সফরে ওয়ানডে দলের নেতৃত্বও এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের কাঁধে, ডেপুটি হবেন শহীদ আফ্রিদি। নিউজিল্যান্ড সফরের দল থেকে এই দলে নেই শুধু অলরাউন্ডার ইয়াসির আরাফাত ও বিকল্প উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদ।
ইউনুসের না থাকা প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক ইকবাল কাশিম সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পর ইউনুস আর ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেনি। অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য তাকে বিবেচনা করার কথা সে আমাদের জানায়নি, তাই তাকে আমরা দলে নিইনি।’ গত মাসে আবুধাবিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ওয়ানডে সিরিজে হারের পর বিশ্রাম চেয়ে দল থেকে সরে দাঁড়ান ইউনুস। ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পাকিস্তানের সর্বশেষ সফরে টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান করেছিলেন ইউনুস।
ওই সফরেই টেস্ট নেতৃত্বে হাতেখড়ি হয়েছিল ইউসুফের। প্রথম টেস্টের পর অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক ইনজুরিতে পড়লে পরের দুই টেস্টে অধিনায়কত্ব করেন তখনকার ইউসুফ ইয়োহানা। দুই টেস্টেই দল হেরেছিল, তবে তিনি মেলবোর্নে করেছিলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি।
অস্ট্রেলিয়া সফরের পাকিস্তান টেস্ট দল: মোহাম্মদ ইউসুফ (অধিনায়ক), সালমান বাট, খুররম মনজুর, ইমরান ফারহাত, শোয়েব মালিক, ফাওয়াদ আলম, ফয়সাল ইকবাল, মিসবাহ-উল-হক, কামরান আকমল, দানিশ কানেরিয়া, সাঈদ আজমল, উমর গুল, মোহাম্মদ আসিফ, মোহাম্মেদ আমির, আব্দুর রউফ, উমর আকমল।

বিশ্ব ‘দূষণ’ কাপ!

কোপেনহেগেনে চলছে জলবায়ু সম্মেলন। ১৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি একত্র হয়েছেন ধরিত্রীকে বাঁচাতে। বৈষ্ণিক উষ্ণতা নিয়ে আলোচনা করতে, কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর পথ খুঁজতে। ঠিক সেই সময় খবর এল, গত জার্মানি বিশ্বকাপের তুলনায় ২০১০ বিশ্বকাপে দূষণ হবে নয় গুণ বেশি! ‘জার্মানির চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ নয় গুণ বেশি ছাপ রেখে যাবে পৃথিবীর বুকে’—পরশু দুঃসংবাদটি শুনিয়েছেন আয়োজক দেশটির জলবায়ুবিষয়ক সংস্থার প্রধান ডোরা নিও।
এই দূষণের প্রধান কারণ হবে বিমান যাতায়াত। বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় আসা বিমানগুলোর কারণেই হবে ৮৫ শতাংশ দূষণ। শুধু আন্তর্জাতিকভাবেই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার এক ভেন্যু থেকে অন্য ভেন্যুতে যাওয়ার জন্য আঁকাবাঁকা বিমানপথও জোগান দেবে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের। আগামী বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি দর্শক আসবে ইউরোপ আর আমেরিকা মহাদেশ থেকে, আফ্রিকা থেকে যে দুটির দূরত্ব অনেক।
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির মুখপাত্র থিওডর ওবেন জানিয়েছেন, বেইজিং অলিম্পিকের তুলনায় আগামী বিশ্বকাপে দ্বিগুণেরও বেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন হবে বলে আশঙ্কা তাঁদের, ‘আমাদের আনুমানিক হিসাব মতে, এই বিশ্বকাপে সাড়ে ২৭ লাখ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস নির্গমন হবে। বেইজিং অলিম্পিকের সঙ্গে এটি তুলনা করতে পারেন আপনি, যেখানে ১১ লাখ ৮০ হাজার টন নির্গমন হয়েছিল।’
সারা বিশ্ব থেকে এবার ৪ লাখ ফুটবল-সমর্থক দক্ষিণ আফ্রিকায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আসতে এদের ৭১ লাখ কিলোমিটার বিমান-ভ্রমণ করতে হবে। যার ফলে নির্গত হবে ১৬ লাখ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড। জাতিসংঘ তাই বিমানের টিকিট কেনার সময় একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সমর্থকদের। একই আহ্বান পৌঁছে গেছে ৩২ দলের কাছেও।
এরই মধ্যে ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্রসহ ২০ দল সেই প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। বাকি দলগুলোও এখনো আপত্তি করেনি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। দল ও সমর্থক মিলে মোট ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার দরকার ক্ষতিপূরণ হিসেবে।

আম্পায়ারদের ওপর নতুন চাপ

থিয়েরি অঁরির ইচ্ছাকৃত হ্যান্ডবলের পর থেকে রেফারিংয়ে আরও বেশি প্রযুক্তি নিয়ে যখন শোরগোল চলছে, ওদিকে ক্রিকেটের আম্পায়ারিংয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলছেন, ‘রিভিউ পদ্ধতি’ লাভের চেয়ে ক্ষতিই করছে বেশি। বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফয়সালা তো টানতে পারছেই না, উল্টো এ নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে আরও।
ঘটনার শুরু কাল শেষ হওয়া অ্যাডিলেড টেস্টে। ওই টেস্টের প্রথম দিন শেষে সরে দাঁড়ান আম্পায়ার মার্ক বেনসন। তাঁর জায়গা নেন টিভি আম্পায়ার আসাদ রউফ। তখন আইসিসির তরফ থেকে বলা হয়েছিল, অসুস্থ বোধ করায় এই ইংলিশ আম্পায়ার আর দায়িত্ব পালন করেননি। কিন্তু ইংলিশ পত্রপত্রিকা জানিয়েছিল অন্য খবর। সেই ‘অন্য খবর’টা এবার স্বীকার করে নিল আইসিসিও। সংস্থাটির ক্রিকেট ম্যানেজার ডেভ রিচার্ডসন জানিয়েছেন, শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যাই বেনসনের সরে দাঁড়ানোর একমাত্র কারণ নয়। অন্য কারণটি ছিল ‘চাপ’।
অ্যাডিলেড টেস্টে বেনসনের কিছু সিদ্ধান্ত ‘রিভিউ’ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। টেস্টের প্রথম দিন শিবনারায়ণ চন্দরপলের বিপক্ষে অস্ট্রেলীয়দের কট বিহাইন্ডের জোরালো দুটি আবেদন নাকচ করে দেন বেনসন। দুবারই তাঁর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন রিকি পন্টিং। প্রথমবার টিভি আম্পায়ার বেনসনের পক্ষে রায় দিলে ডগ বলিঞ্জার ও পন্টিং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। দ্বিতীয়বার চন্দরপলের বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের আবেদনে বেনসন নট আউট বলে দিলে রিভিউ চান পন্টিং। টিভি রিপ্লেতে নিশ্চিত করে কিছু বোঝা না গেলেও টিভি আম্পায়ার আসাদ রউফ আউট দিয়ে দেন। ওয়েবসাইট।
এটাই ক্ষুব্ধ করে তোলে বেনসনকে। যে কারণে শুধু ওই ম্যাচ থেকে নয়, আম্পায়ারদের এলিট প্যানেল থেকেই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত কাল এক বিবৃতিতে পদত্যাগের গুঞ্জন নাকচ করে দেন তিনি। কেবল ‘স্বাস্থ্যগত কারণে’ই দ্বিতীয় দিন থেকে দায়িত্ব পালন করেননি বলেও জানিয়েছেন বিবৃতিতে। যদিও ওই ঘটনার পর থেকে জোরেশোরে শুরু হয়ে গেছে এই আলোচনা—রিভিউ পদ্ধতি মাঠের আম্পায়ারদের ওপর তৈরি করছে বাড়তি চাপ।
সব আম্পায়ারই এই সমস্যার মুখে। প্রতিটা সিদ্ধান্ত নিতে মানসিক চাপে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। এতে ভুল হওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়ছে। সাবেক খ্যাতিমান আম্পায়ার ডিকি বার্ড তাই মনে করেন, এই প্রযুক্তিই সব নষ্টের গোড়া। ৬৬ টেস্ট ও ৬৯টি ওয়ানডে ম্যাচ পরিচালনা করা বার্ড বলছেন, ‘আমি কখনোই এর পক্ষে নই। এটা মাঠের আম্পায়ারদের কর্তৃত্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে এবং এতে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই হচ্ছে বেশি। আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেও পানশালা কিংবা ক্লাবে আলোচনা হতো। তবে সেটা হতো আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, এটা মেনে নিয়েই।’
এদিকে অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই পক্ষই যখন রিভিউ পদ্ধতির সমালোচনায় মুখর, তখন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা দাবি করছেন, মুম্বাইয়ে শেষ টেস্টে তাঁদের পরাজয়ের বড় কারণ হলো রিভিউ পদ্ধতির সুবিধা না থাকা! এদিকে যাঁর কারণে এই বিতর্কের শুরু, সেই পন্টিং কিন্তু কাল সংবাদ সম্মেলনে আম্পায়ারদের প্রতি সমবেদনাই জানালেন। বিষয়টি নিয়ে অ্যাডিলেড টেস্টের দুই আম্পায়ার আসাদ রউফ ও ইয়ান গোল্ডের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন, ‘আমি আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলে পুরো পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি আর মতামত জানতে চাই। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কখনো কখনো নিয়ম পরিবর্তনকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমরা গুরুত্বপূর্ণ লোকদের কথাই ভুলে যাই।’

হায় ভুটান!

দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের সঙ্গে ড্র করে সংশয়ে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলা। কালকের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ভুটানকে সাত গোল দেওয়ার পর চাপটা বেড়ে গিয়েছিল আরও। সাহস জোগাচ্ছিল একটা তথ্যই—পাকিস্তান যত গোলই দিক, সেমিফাইনাল খেলার জন্য শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ড্র-ই যথেষ্ট। শেষ পর্যন্ত অবশ্য জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ।
পাকিস্তান ও ভুটানের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে জিতে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। তবে বাংলাদেশের কাছে হেরে তাদের হতে হলো গ্রুপ রানার্সআপ। ভালো খেলেও প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হারই কাল হলো পাকিস্তানের। সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হলো তাদের।
তবে পাকিস্তানের চেয়েও সহানুভূতি বেশি প্রাপ্য ভুটানের। গতবার সেমিফাইনালে খেলে চমকে দিয়েছিল সবাইকে। আর এবার তিন ম্যাচে হজম করেছে ১৭ গোল। বাংলাদেশের জালে একবার বল পাঠাতে পেরেছে—এটা কি আর সান্ত্বনা হয় নাকি!

আবার উজ্জীবিত বাংলাদেশ

খেলা শেষ। বাংলাদেশ দলের ড্রেসিং রুমেও বইছে আনন্দের ঢেউ। আমিনুল, রজনী, ওয়ালী, ফয়সালরা কমলালেবুর খোসা ছড়িয়ে মুখে দিচ্ছেন। চোখে-মুখে আত্মতৃপ্তির ছোঁয়া। উরুতে বরফ লাগাতে ব্যস্ত এমিলির মুখে নেই এতটুকু ক্লান্তির ছাপ। থাকে কী করে, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে যে সাফ ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশ।
এই জয়ে বড় অবদান স্ট্রাইকার এনামুলের। ভুটানের বিপক্ষে দুই গোলের পর কাল দুই গোল—তিন ম্যাচে করে ফেললেন চার গোল। তবে এনামুল ব্যক্তিগত লক্ষ্যের চেয়ে দলের লক্ষ্যটাই বড় করে দেখতে চাইলেন ম্যাচের পর, ‘আমার কাজ গোল করা। গোল পাচ্ছি। এতেই আমি খুশি। তবে দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে আরও ভূমিকা রাখতে চাই আমি।’
এনামুল কাল দুটি গোল করলেও অপচয় করেছেন কয়েকটি। এ কারণে কোচ সাহীদুর রহমান সান্টু পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বলে মনে হলো, ‘ওর কাছে যেমনটি আশা করছি, সেটা এখনো পাইনি। গোলের সহজ কয়েকটি সুযোগ মিস করেছেন। ওকে নিয়ে আরও কাজ করতে হবে।’
এনামুল অবশ্য গোল মিসকে খেলার অংশই দেখতে চান, ‘স্ট্রাইকার কখনো মিস করবে, আবার গোল করবে, এটাই তো খেলার অংশ।’
গত ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক খেলে ড্র করেছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু কাল মাঠে ছিল আক্রমণাত্মক এক বাংলাদেশ। সান্টু বললেন, ‘আমরা এই ম্যাচে ছক পরিবর্তন করেছি। আক্রমণাত্মক খেলেছি। এটাই জয়ের কারণ বলে মনে করি।’
দিনের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ৭-০ গোলে ভুটানকে হারানোর পর একটু চাপেই পড়ে যায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে উঠতে হলে অন্তত ড্র করতেই হতো। তবে এটা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন না সান্টু, ‘আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, কমপক্ষে ১ পয়েন্ট এই ম্যাচ থেকে পাবই। তাই কোনো রকম চাপটাপ অনুভব করিনি।’
দুই জয় নিয়ে আগেই সেমিতে উঠে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। এই ম্যাচে তাই নির্ভারই তারা। তারপরও বাংলাদেশের কাছে হারতে চায়নি। চেয়েছে এক পয়েন্ট, সেটি পেলেই হয়ে যেত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। শেষ পর্যন্ত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পেরে হতাশই মনে হলো শ্রীলঙ্কা দলকে।
ট্রেনার সুমিত ওয়ালপোলা সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, ‘আমরা আমাদের অধিনায়কসহ ছয়জন খেলোয়াড়কে মাঠে নামাতে পারিনি। জ্বরে ভুগছেন অধিনায়ক। ইনজুরি আছে আরও দু-তিনজনের। সেরা একাদশটা নামাতে পারিনি বলেই এই হার।’ তবে প্রশংসা করলেন বাংলাদেশ দলের, ‘এই ম্যাচে বাংলাদেশ চাপে ছিল। তারা নিজেদের সেরা ফুটবল খেলেই সেমিফাইনালে উঠেছে। ঘরের মাঠের সুবিধাটা বাংলাদেশ দল কাজে লাগিয়েছে।’
১১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপের সঙ্গে খেলবে ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। সেই রানার্সআপ ঠিক হবে আজ। ভারত-মালদ্বীপ ম্যাচের পরই ঠিক হবে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপ। আজ মালদ্বীপ জিতলে ভারতকে পাবে বাংলাদেশ। ড্র হলে মালদ্বীপকে পাবে।
মালদ্বীপ ভারতের কাছে এক গোলে হারলে এবং আগের ম্যাচে নেপাল আফগানিস্তানকে তিন গোলে হারালে গোলগড়ে গ্রুপ রানার্সআপ হবে নেপাল। তবে সেমিফাইনালে যে দলই আসুক, বাংলাদেশ প্রস্তুত আছে বললেন সান্টু, ‘নির্দিষ্ট কোনো দলকে সেমিফাইনালে চাই না। যে-ই আসুক, তাদের হারানোর ক্ষমতা আছে আমাদের।