বাইশে শ্রাবণ, কিছু ভাবনা by নিয়ামত হোসেন

একজন মানুষ পরিশ্রম অধ্যবসায় তথা সাধনার বলে কিভাবে নিজ সমাজের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, তার এক বিশিষ্ট উদাহরণ রবীন্দ্রনাথ। তাঁর প্রতিভা ছিল বিরাট এ কথা ঠিক, কিন্তু সেই সঙ্গে ছিল তাঁর সাধনা।


নিরলস চেষ্টা, পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় তাঁকে নিয়ে গেছে বিশ্ব পরিসরে, তাঁকে তাঁর জীবৎকালেই পরিণত করেছে কিংবদন্তিতে। এমন দিন নেই যে দিন তাঁকে স্মরণ করা হয় না, তবে তার বাইরে রয়েছে বিশেষভাবে স্মরণ করার দুটি দিন একটি পঁচিশে বৈশাখ, অন্যটি বাইশে শ্রাবণ। আজ সেই বাইশে শ্রাবণ। আজ তাঁকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হবে আমাদের বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী ভারতে। বিশ্বের অন্যত্রও স্মরণ করা হবে তাঁকে, স্মরণ করা হবে তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে।
ইতিহাসে দেখা যায়, যাঁরা বড়মাপের মানুষ তাঁদের অনেককেই চলার পথে অনেক সমালোচনার কাঁটা পায়ে মাড়িয়ে আসতে হয়েছে। তাঁরা সমাজজীবনে নন্দিত হওয়ার আগে বহুবারই নানাভাবে নিন্দিতও হয়েছেন। কিন্তু সমালোচনা-নিন্দার তোয়াক্কা না করে নিজের পথে চলা অব্যাহত রাখেন বলেই এঁরা সাফল্যের স্বর্ণদ্বারে পৌঁছাতে পারেন। রবীন্দ্রনাথের বেলায় কথাটি বিশেষভাবে খাটে। শুধু সাহিত্য চর্চাই নয়, বহু রকম কাজ তিনি করেছেন। বহু ধরনের সমালোচনা হয়েছে তাঁর সাহিত্য সম্পর্কে, সেগুলো যে কিছু হচ্ছে না, এমন কথাও তাঁর লেখা সম্পর্কে শুনতে হয়েছে। তাঁর কবিতা যে তরুণদের মাথা খাচ্ছে সে সময় এমন কথাও কেউ কেউ লিখেছেন। এমনি নানা ধরনের সমালোচনা হয়েছে তাঁর জীবৎকালে। জীবৎকালেই তিনি বিশ্বখ্যাত হয়েছিলেন। তাঁর সময়ের বিশ্বের সেরা সব ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ, পরিচয় এমনকি অনেকের সঙ্গে পত্রালাপও হয়েছে। এসব বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের মধ্যে একজনের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। যেমন বিজ্ঞানী আইনস্টাইন। আইনস্টাইনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত হয়, আলোচনা হয়। আইনস্টাইনের সঙ্গে পত্রালাপও ছিল তাঁর। রবীন্দ্রনাথ জীবদ্দশায় কিংবদন্তি পুরুষ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর বই তাঁর জীবদ্দশায় বিভিন্ন ভাষায় বের হয়। ইংরেজী ভাষায় তিনি নিজেই গীতাঞ্জলি অনুবাদ করে তার নাম দিয়েছিলেন ‘সঙ অকারিং’। এটাই পেয়েছিল নোবেল পুরস্কার। কিন্তু শুধু গীতাঞ্জলি নয়, তাঁর কবিতা ও গল্প, কাব্য ও গল্পগ্রন্থ সেই আমলেই প্রকাশিত হয়। নানা ভাষায়Ñ জার্মান, ফরাসী, ইতালীয়, রুশ ইত্যাদি বহু ভাষায়।
পাশ্চাত্যের বিদগ্ধসুধী মহলে তিনি বিখ্যাত হয়ে ওঠেন সেই সময়েই। এমনকি রাজনীতিবিদ এবং বিপ্লবীদেরও কৌতূহল ছিল তাঁর লেখার প্রতি। এ প্রসঙ্গে স্মরণ করা যায় লেনিনের কথা। প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, লেনিনের ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে রবীন্দ্রনাথের বইও ছিল। আরেকটি তথ্য জানা যায়, সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের লেখা স্মৃতিকথা থেকে। রবীন্দ্রনাথ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে গেলে ইন্দোনেশিয়ার দু’জন তরুণ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতে এসেছিলেন। ওই তরুণদের দু’জনই পরে বিখ্যাত হন। ওঁদের একজন হচ্ছেন ড. সুকর্ণ। এতেই বোঝা যায়, দেশে-বিদেশে তাঁর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা এবং কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছিল সে সময়েই।
রবীন্দ্রনাথ বিশ্বের বহু দেশে গেছেন। কোন কোন দেশে দু’বার-তিনবার বা তারও বেশি বার গেছেন। তবে যেখানেই গেছেন সে দেশের লোকেরা তাঁর স্মৃতি রক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন দেশে তাঁর নামে রাস্তা রয়েছে। রাস্তা রয়েছে জার্মানিতে, রাশিয়ায়। এমনি অনেক স্থানে। হাঙ্গেরি গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে সেখানকার বিখ্যাত হ্রদ বালাতোনে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর নাম ও তাঁর স্মরণে তৈরি করা হয়েছে স্মৃতিফলক। দুনিয়ার দেশে দেশে তাঁর এত সম্মান। বেঁচে থাকতেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বব্যক্তিত্ব। কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে কম সমালোচনা শুনতে হয়নি। অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিও তাঁর লেখা সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন। এমনি নানাভাবে সমালোচিত হতে হয়েছে কবিকে। তাই নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তাঁকে সংবর্ধনা জানানোর ব্যবস্থা হলো, কলকাতা থেকে বোলপুর-শান্তিনিকেতন পর্যন্ত বিশেষ ট্রেনে করে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গেলেন তাঁকে সংবর্ধনা দিতে। তিনি তাঁর অভিভাষণে সেদিন কিছুটা ক্ষোভ বা আক্ষেপ করেছিলেন এই বলে যে, আজ বিদেশীরা যখন তাঁকে সম্মানিত করেছে তখন তাঁর জন্য তাঁর দেশের মানুষের এত সম্মাননা, এত উৎসাহ।
এসব তাঁর জীবিতাবস্থার কিছু ঘটনা। তাঁর মৃত্যুর পরেও তাঁর ভোগান্তি হয়েছেÑএটা সবাই জানে। পাকিস্তানী আমলে তাঁকে সরকারী হুকুমে বর্জনের চেষ্টা হয়েছে। এই দেশের মানুষ যাতে তাঁর সাহিত্যকর্ম পড়তে না পারে, তাঁর গান না শুনতে পারে তার নানা ব্যবস্থা সে সময় করা হয়। পাকিস্তানী আমলে সে সময়ের তথ্যমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দীন রবীন্দ্রসঙ্গীতের ব্যাপারে খড়গহস্ত হলেন। এই কবির রচনা তথা গানের সঙ্গে এদেশের মানুষের ঐতিহ্য তথা সংস্কৃতির মিল নেই, রবীন্দ্রনাথ ভিনদেশীÑএই সব কু-তর্ক সৃষ্টি করা হয়। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর আসল কথাটি ছিল, রবীন্দ্রনাথ ভারতীয়, তার ওপর হিন্দু। অতএব তিনি পরিত্যাজ্য। রবীন্দ্রনাথ যে হিন্দু ননÑএটাই তারা জানত না।
রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধ করার এ উদ্যোগ বিক্ষুব্ধ করে এদেশের মানুষকে। একষট্টি সালে দুনিয়াজুড়ে যখন তাঁর জন্মশতবর্ষ পালিত হচ্ছে, তখন সরকারীভাবে এখানে কিছুই করা হয়নি। বরং এদেশের কবি-লেখক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীরা যথাযথ মর্যাদায় শতবার্ষিকী উদযাপন করেছেন পাকিস্তানী স্বৈরশাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে। তার পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর গান সরকারী হুকুমে নিষিদ্ধ করা হলে তখনও বিক্ষুব্ধ হয় এদেশের মানুষ। রুখে দাঁড়ান কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীরা। ওই আমলে এদেশের একদল তরুণ, প্রগতিশীল লেখক-কবি পাকিস্তানী মূর্খামির প্রতিবাদ হিসাবে তাদের রক্তচক্ষু দেখে ভয় না পেয়ে সেই আমলে কবির মৃত্যুদিনে তাঁদের সংগঠন সৃজনী লেখক ও শিল্পী গোষ্ঠীর একটি প্রতিবাদ এবং কবির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসাবে ‘বাইশে শ্রাবণ’ নামে একটি অনবদ্য সঙ্কলন প্রকাশ করেন। তাতে সেই নবীন লেখক-কবিদের সঙ্গে লিখেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, রবীন্দ্রপ্রেমিক শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীও। ওই সঙ্কলনের প্রথমেই দেয়া হয়েছিল রবীন্দ্রনাথেরই গানের কয়েকটি ছত্র, যা অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ : ‘বাধা দিলে বাধবে লড়াই, মরতে হবে।’
পাকিস্তানী শাসকদের রবীন্দ্রনাথকে বর্জনের চেষ্টা তৎকালীন পূর্ববঙ্গের মানুষকে শুধু বিক্ষুব্ধ করেনি, এদেশের মানুষ তাদের সকল আন্দোলনে, পাকিস্তানী স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথকে আরও বেশি করে নিজেদের সঙ্গে রেখেছেন। তারপর চূড়ান্ত পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধে বিরাট প্রেরণা হিসাবে কাজ করেছে রবীন্দ্রনাথের রচনা, তাঁর গান। তাঁর গানই জাতীয় সঙ্গীত হয়েছে স্বাধীন দেশের। সাফল্যের এমন সব রেকর্ড রবীন্দ্রনাথের রয়েছে যা অনন্য, যে রেকর্ড দুনিয়ার আর কোন কবি বা গীতিকারের নেই, ভবিষ্যতেও হবে কি-না সন্দেহ। বাংলাদেশ ও ভারতÑ দুটি পৃথক স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত রবীন্দ্রনাথের গান। গোটা এশিয়া মহাদেশের প্রথম নোবেল পুরস্কার তিনিই পেয়েছেন। এ রেকর্ড কোনদিন ভাঙ্গা যাবে না। বাংলা ভাষার সাহিত্যে তিনি প্রথম নোবেল পান, ভবিষ্যতে হয়ত অনেকে পাবেন, তবে এখনও রবীন্দ্রনাথ এই ক্ষেত্রে একা তথা অদ্বিতীয়। শেক্সপিয়ার আমাদের, না ইংরেজদের; কিটস, বায়রন, শেলি কাদের; টলস্টয় কাদেরÑএসব কোন তর্ক পাকিস্তানী আমলে মাথামোটা তৎকালীন পাকিস্তানী সংস্কৃতির ধারকেরা তোলেননি। তাঁদের আপত্তি ছিল রবীন্দ্রনাথের ব্যাপারেই শুধু। আর সেই সঙ্গে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ছিল তাদের সমান বিদ্বেষ। বাংলা ভাষার বর্ণমালা যেন এতই দরিদ্র যে, তা দিয়ে লেখা যাবে না, মনের ভাব প্রকাশ করা যাবে না। তাই অন্যের বর্ণমালা ধার করে বাংলা লিখতে হবেÑকিছু কিছু তৎকালীন মহাপণ্ডিত এমন পরামর্শ দিয়েছিলেন। অথচ ওঁরা জানতেন না, যে কোন শব্দের উচ্চারণ অনেক বেশি নিখুঁতভাবে লেখা, উচ্চারণ করা এবং ভাব প্রকাশের যদি প্রতিযোগিতা হয় তাহলে বিশ্বের বহু ভাষাকে পেছনে ফেলে বাংলা ভাষার বর্ণমালা অনেক উঁচু আসন লাভ করবে। অথচ এই বর্ণমালা বাদ দেবার পরামর্শ পাকিস্তানী আমলে উঠেছিল।
সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানী শাসকদের বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকা রবীন্দ্রনাথের প্রতি ছিল চরম বিদ্বেষ। স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করে রবীন্দ্রসঙ্গীতকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গ্রহণ করে এদেশের মানুষ প্রমাণ দিয়েছেÑ আমাদের বাংলা ভাষা, আমাদের সংস্কৃতি, রবীন্দ্রনাথকে তারা কতখানি ভালবাসে।
এখানে আরও দু’-একটি কথা বলা দরকার। রবীন্দ্রনাথকে যত শ্রদ্ধা যত দিক থেকে যতভাবে জানানো হোক, এতে রবীন্দ্রনাথের কিছু যায়-আসে না। কারণ তিনি বহু কাল আগেই গত হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করা, তাঁকে জানা আমাদের নিজেদের জন্য দরকার। একজন মানুষ কেমন নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন, শুধু বসে বসে কবিতা আর গানই লেখেননি, কত ধরনের কাজ করেছেন, দেশ-বিদেশ ছুটে বেড়িয়েছেন। তখন এমন বিমান যোগাযোগ ছিল না অথচ জাহাজে করে বিশ্বের কোন্ প্রান্তেই না গেছেন, দুনিয়া দেখতে গেছেন, মানুষ দেখতে গেছেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, শিক্ষকতা করেছেন, পাঠ্যপুস্তক লিখেছেন, জমিদারির কাজকর্মও বাদ যায়নি। ভাবলে বিস্মিত হতে হয়, এক জীবনে কীভাবে এত কাজ সম্ভব? বিরাট এক প্রতিভাসম্পন্ন মানুষের এক উদাহরণ তিনি, একজন অধ্যবসায়ীর উদাহরণও তিনি। বাংলা সাহিত্যকে তিনি অনেক কিছু দিয়েছেন। আধুনিক রূপই শুধু নয়, আধুনিক বহু ভাবনাও। আজ ইউরোপ-আমেরিকায় মানুষের অধিকার তথা মানবাধিকার নিয়ে অনেক কথা বলা হয়। রবীন্দ্রনাথ ‘হে মোর দুর্ভাগা দেশ’ কবিতায় সেই কবে বলে গেছেন, ‘মানুষের অধিকারে বঞ্চিত করেছো যারে/সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে কোলে তবু দাও নাই স্থান/অপমান হতে হবে তাহাদের সবার সমান।’ এ কালে পরিবেশ নিয়ে ভাবনার অন্ত নেই। পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। অথচ রবীন্দ্রনাথ বৃক্ষরোপণের উৎসব করেছেন। বোলপুরের ঊষর প্রান্তরে গড়ে তুলেছেন শান্তিনিকেতন অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করে। সেজন্যই তিনি লিখতে পারেন ‘এসো নীপবনে ছায়াবীথি তলে।’ আমরা গাছ কেটে ছায়াবীথি ধ্বংস করছি যুগ যুগ ধরে। পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে শেখা দরকার।
যেহেতু রবীন্দ্রনাথকে আমাদের প্রয়োজন, সেজন্য সবার আগে প্রয়োজন তাঁকে জানা। সেজন্য দরকার রবীন্দ্রনাথের লেখা বই মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়া। এখন রবীন্দ্রনাথের বই মানে তাঁর রচনাবলী। কিন্তু কয়জন রচনাবলী কিনতে পারে? তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণ, চিঠিপত্র প্রত্যেকটি আলাদা আলাদাভাবে প্রকাশিত হওয়া দরকার। সরকারী সহায়তায় বাংলা একাডেমী এই কাজটি করতে পারে। মানুষের হাতে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের হাতে তুলে দিতে পারে। সস্তায়, সহজে এই বই পেলে সত্যিকার রবীন্দ্র চর্চা হতে পারে। এ জন্য রাজধানী শহরে একাধিক এবং অন্যান্য বড় শহরে রবীন্দ্র পাঠাগারও প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে সরকার সহায়তা করতে পারে। যেখানে রবীন্দ্রনাথের বই এবং তাঁর সম্পর্কিত বই থাকবে। লোকে সেখানে বিনা খরচে গিয়ে পড়বে। এই ব্যবস্থাটিও দরকার। শুধু গান শুনে কি রবীন্দ্রনাথকে পুরোপুরি চেনা যাবে? যাবে না। তাঁর গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, ভ্রমণ কথা অর্থাৎ সব ধরনের বই সহজে ও সস্তায় যাতে লোকের হাতে পৌঁছায়; সাধারণ মানুষ, ছাত্রছাত্রী যাতে রবীন্দ্র পাঠভবন বা রবীন্দ্র পাঠাগারে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের লেখা গল্প, উপন্যাস, নাটক, চিঠিপত্র, ভ্রমণকাহিনী সব পড়ার সহজ সুযোগ পায় সেই ব্যবস্থাটি করা জরুরী। তাহলেই রবীন্দ্রনাথকে চেনা এবং বোঝা সহজ হবে। এসব আয়োজন তথা ব্যবস্থা করতে পারলে রবীন্দ্রনাথ সহজে সবার কাছে পৌঁছাতে পারবেন। এটাই দরকার।

No comments

Powered by Blogger.