Wednesday, April 19, 2017

রিকশা চাকায় ঘুরছে স্কুল ছাত্র দেবাশীষ’র স্বপ্ন

বড় পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজের লেখাপড়া ও সংসার পরিচালনার খরচ যোগাতে অটোরিকশা চালাচ্ছে বরিশালের উজিরপুর পৌর এলাকার দেবাশীষ ঘরামী (১৪)। সে ডব্লিউ বি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর কিশোর ছাত্র। বর্তমানে নিজের লেখাপড়ার খরচ এবং সংসারের অভাব দূর করতে টাকার অভাবে সে অটোরিকশা চালাচ্ছে। উজিরপুর পৌরসভার পুরান বাজার এলাকার মৃত রতিকান্ত ঘরামীর ছেলে দেবাশীষ ঘরামী। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। দেবাশীষের জন্মের পরপরই তার বাবা অসুস্থ্য হয়ে মারা যায়। অনেক সময় তাদেরকে অনাহারে থাকতে হয়েছে। ওই সময় দেবাশীষের বড় ভাই রঙ্গলাল ঘরামী দিনমজুরের কাজ করে সংসারের দায়িত্ব নেয়। দেবাশীষের বয়স যখন ৪ বছর তখন হঠাৎ একটি দূর্ঘটনায় বড় ভাই রঙ্গলালের এক হাত পঙ্গু হয়ে যাওয়ায় সংসারের দায়িত্বভার নেয় মেঝো ভাই আশিষ ঘরামী। সে একজন নির্মান শ্রমিক। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে এক বোনের বিবাহ হওয়ায় চার ভাই-বোন আর মা’কে নিয়ে চলে তাদের অভাবের সংসার জীবন। মেঝো ভাইয়ের সামান্য উপার্জনে চলা অভাব-অনটনের সংসারে দেবাশীষ স্বপ্ন দেখে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বড় পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার। তার স্বপ্ন পুরনে মেঝো ভাই তাকে উজিরপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। দেবাশীষ যখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র তখনই টাকার অভাবে তার লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম দেখা দেয়। কিন্তু কথায় আছে ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব হয়। তাই দেবাশীষও হাল ছাড়ার পাত্র নয়। নিজের লেখাপড়া ও সংসারের অভাব দূর করতে ৪র্থ শ্রেণীতে উর্ত্তীন হওয়ার পর থেকেই দেবাশীষ মেশিন দিয়ে ইট ভাঙা শ্রমিকের কাজে যোগ দেয়। এ পেশায় ২ বছর কাজ করে পঞ্চম শ্রেণীতে ভালো ফলাফল করে ২০১৪ সালে পৌরএলাকার সদরে ডব্লিউ বি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয় দেবাশীষ।
এরপর থেকে স্কুল ও লেখা-পড়ার পাশাপাশি অভাবের সংসারের অর্থের যোগান দিতে শুরু করে অটোরিকশা চালানো। স্কুল খোলাকালিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিনগুলোতে সারাদিন রিকশা চালায়। এরপর রাতে বাড়ি ফিরে শুরু করে আবার লেখাপড়া। এভাবেই ২০১৭ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৪০ পেয়ে সে নবম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়। দেবাশীষ জানায়, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বড় পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে শিশু বয়স থেকেই নিজ উপজেলার বিভিন্নস্থানে প্রতিবেশী সমীর দাসের ইট ভাঙা মেশিনের শ্রমিক এবং একই এলাকার জগদীশ হালদারের ভাড়ার রিকশা চালিয়ে সামান্য অর্থ উপার্জন করে নিজের লেখাপড়ার খরচের পাশাপাশি সংসার চালিয়ে আসছি। প্রতিদিন অটোরিকশা ভাড়া বাবদ দিতে হয় ২শ’ টাকা। স্কুল চলাকালীন দিনগুলোতে সে রিকশা ভাড়া দিয়ে এক থেকে দেড় শত টাকা ও ছুটির দিনগুলোতে প্রায় ৩ শত টাকা আয় করতে পারে। দেবাশীষ অভিযোগ করে জানায়, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে কোন সুবিধা দিচ্ছে না বরং অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মত তার নিকট থেকেও নির্ধারিত বেতন-ফিস আদায় করছে। কিন্তু বর্তমানে এই স্বল্প আয়ে নিজের লেখাপড়া খরচ আর অভাবের সংসার নিয়ে সে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে দেবাশীষ। তার আয়ের জন্য যে কোন একটি সু-ব্যবস্থার মাধ্যমে তার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়াসহ অভাবের পরিবারটিকে আলোর মুখ দেখাতে রিকশা চালক স্কুল ছাত্র দেবাশীষ বরিশাল জেলা প্রশাসকের নিকট সাহায্য-সহযোগীতা ও তার সু-দৃষ্টি কামনা করেছে।

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে ছাত্রলীগ সভাপতি, সম্পাদককে আসামী করে দুই মামলা

চট্টগ্রামে সুইমিং পুল নির্মাণের বিরোধিতা করে প্রকল্প এলাকায় ভাংচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আসামি করে দুটি মামলা হয়েছে। সুইমিংপুল প্রকল্প এলাকায় ভাংচুরের ঘটনায় ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম স্বপন ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এসআই মহিউদ্দিন রতন বাদী হয়ে বুধবার গভীর রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন।
কোতোয়ালি থানার এসআই রোকেয়া পারভীন জানান, দুই মামলায় ৫৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ জানান, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে দুই মামলাতেই আসামি করা হয়েছে।

রংপুরে পরিত্যক্ত তিনটি গ্রেনেড উদ্ধার

বাড়ি করার জন্য মাটি খোড়াখুড়ির সময় রংপুর মহানগরীর চরকবাজার আশরতপুর এলাকা থেকে আজ বুধবার সকালে তিনটি পরিত্যাক্ত গ্রেনেড উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেনেড তিনটি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর বলে জানিয়েছে পুলিশ। রংপুর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সাইফুর রহমান সাইফ জানিয়েছেন, আশরতপুর এলাকার তোফায়েল আহমেদ নামের এক ব্যক্তি বাড়ি করার জন্য মাটি খোড়াখুড়ি করছিলেন।
এসময় তিনটি গ্রেনেড দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে গ্রেনেড তিনটি উদ্ধার করে। তিনি জানান, ওই বাড়ি এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প ছিল। গ্রেনেড তিনটি পরিত্যাক্ত এবং সেই সময়ের বলে ধারণা করছি। এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ এবিএম জাহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেনেড তিনটি পরিত্যাক্ত ও নিষ্ক্রিয়। এগুলো থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

বেনাপোল চেকপোষ্ট থেকে ডলার ও রুপিসহ চার যাত্রী আটক

বেনাপোল চেকপোষ্ট কাষ্টমস তল্লাশি কেন্দ্র থেকে ২১ হাজার ৩ শত মার্কিন ডলার ও সাড়ে ৮ লাখ ভারতীয় রুপি সহ ৪ জন পাসপোর্টযাত্রীকে আটক করেছে কাষ্টমস শুল্ক গোয়েন্দারা। বুধবার সকাল সাড়ে ৮ টার সময় তাদের কাষ্টমস বাউন্ডারীরর ভিতর থেকে আটক করা হয়। বেনাপোল কাষ্টমস শুল্ক গোয়েন্দার সহকারী পরিচালক সাদিক হোসেন জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইন্সপেক্টর চাঁদ মাহমুদ সহ কয়েকজন কাষ্টমস কর্মকর্তার মাধ্যমে চেকপোষ্ট কাষ্টসম এর ভিতর পর্যবেক্ষন করা হয়। এ সময় ভারত থেকে এসে কাষ্টমস এর বাহিরে চারজন অপেক্ষা করায় এবং সংবাদের সাথে তাদের মিল থাকায় কাষ্টমস এর ভিতর ডেকে তাদের তল্লশি করা হয়।
তখন তাদের শরীরে থাকা বিশেষ কায়দায় লোকানো থাকা ২১ হাজার ৩ শত মার্কিন ডলার এবং সাড়ে ৮ হাজার ভারতীয় ্রুপি উদ্ধার করা হয়। যা বাংলাদেশী টাকায় ২৭ লাখ টাকা। আটককৃতরা হলো মানিকগঞ্জ জেলার দক্ষিন ভান্ডারীয়া গ্রামের মোতালেবের ছেলে জামাল হোসেন , একই জেলার শাটুরিয়া গ্রামের কাদের খানের ছেলে কবির খান , শরীয়তপুর জেলার নরিয়া গ্রামের হাবিবুরের ছেলে বরকত হোসেন ও শরিয়ত পুর জেলার নরিয়া থানার মুলপাড়া গ্রামের হাবিবুরের ছেলে উজ্জল হোসেন । আটককৃত টাকা কাষ্টমস হাউজের শুল্ক গুদামে জমা করা হবে এবং পাসপোর্ট যাত্রীদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।

রাঙ্গামাটিতে সকাল সন্ধ্যা হরতাল চলছে

রাঙ্গামাটির ঘিলাছড়িতে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক সাদিকুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবীতে রাঙ্গামাটিতে আজ বুধবার সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালন করছে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ। এ হরতালে আরো কয়েকটি বাঙ্গালী সংগঠন সমর্থন দিয়েছে। সকাল থেকে হরতালের সমর্থকরা রাস্তায় রাস্তায় পিকেটিং করে।হরতালের কারণে সড়ক ও নৌপথে দুরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ রুটে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শহরের প্রধান তিনটি বাজারে কোন দোকানপাট খুলেনি। আজ বুধবার হাট বাজারের দিন থাকলেও হরতালের কারণে বাজার মিলেনি। হরতালের সময় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য ১০ এপ্রিল খাগড়াছড়ির মহালছড়ি থেকে রাঙ্গামাটির ঘিলাছড়িতে আসার পথে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক সাদিকুল ইসলাম নিখোঁজ হয়। ঘটনার ২ দিন পর ঘিলাছড়ি এলাকায় তার ক্ষত বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থেকে নানিয়ারচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে তার পরিবার। হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবীতে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ সহ অন্য সংগঠন গুলো এ হরতালের ডাক দেয়।

বিকল্প পদ্ধতিতে পার পেয়ে যাচ্ছেন বড় ঋণখেলাপিরা

বিকল্প পদ্ধতিতে পার পেয়ে যাচ্ছেন ঋণখেলাপিরা। ব্যাংকারদের যোগসাজশে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে ঋণ সমন্বয় করার পাশাপাশি খেলাপিরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। তারা আদালতে রিট করে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নিজেদের নাম স্থাগিত করিয়ে নিচ্ছেন। এ সুবাদে তারা ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ নিয়মাচারকে পাশ কাটিয়ে অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের সুযোগ নিচ্ছেন। শুধু এটিই নয়, বছরের পর বছর শত শত কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের দায় থেকেও তারা নিজেদেরকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হচ্ছেন। এভাবে চার শতাধিক বড় ঋণ গ্রহীতা ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়া থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা যেমন কমছে, তেমনি ব্যাংকের আয় ও মূলধনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ থেকে নিষ্কৃতি পেতে ব্যাংকাররা ঋণখেলাপিদের ঋণ না দেয়ার আইন চেয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। গত সোমবার খেলাপি ঋণ বেশি এমন ২০ ব্যাংকের এমডির সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠকে ব্যাংকাররা এ দাবি জানিয়েছেন। জানা গেছে, ব্যাংকিং খাত থেকে খেলাপিঋণ দূরীভূত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৩ সালে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করে। খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে এবং নতুন করে কেউ ঋণ খেলাপি না হন সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক দু’টি পদ্ধতি গ্রহণ করে। এ দু’টি পদক্ষেপ ছিল আইনগত পদক্ষেপ এবং পদ্ধতিগত পদক্ষেপ। আইনগত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয় ব্যাংক কোম্পানি আইন ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর মাধ্যমে।
আর পদ্ধতিগত হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ব্যাংকের ঋণ নিয়মিত মনিটরিং করে। বাংলাদেশ ব্যাংক সময়ে সময়ে খেলাপি ঋণ পরিবীক্ষণ করে এবং ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজন মোতাবেক নির্দেশনা দিয়ে থাকে। আইনগত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯৩কে সংশোধন করে। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ ধারা মোতাবেক কোনো ঋণখেলাপিকে নতুন করে ঋণ দেয়া যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোন ব্যাংক থেকে কি পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, ঋণ নিয়ে ঠিক মতো পরিশোধ করা হয়েছে কি না, অথবা গ্রাহক খেলাপি কি না তার তথ্য মজুদ করে রাখে। ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য মোতাবেক গ্রাহক যদি ঋণ খেলাপি হয়ে থাকে তাহলে তাকে ঋণ প্রদান থেকে বিরত থাকে। অপর দিকে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২ এর মতে জাতীয় নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হলে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এ কারণে নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য প্রার্থী ঋণ খেলাপি হলে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করে। অনেকে একটি নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ নবায়ন করে। এ কারণে কোনো ব্যাংক গ্রাহককে ঋণ দেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঋণ খেলাপি কি না তার তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে যাচাইবাছাই করে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের ঋণ তথ্য দিয়ে ব্যাংক ও নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করে থাকে। জানা গেছে, ৫০ হাজার টাকার ওপরে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন এমন গ্রাহকের ঋণতথ্য সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাধারণত প্রতি মাসে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ১ কোটি টাকা বা এর ওপরে ঋণ গ্রহীতাদের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি সংগ্রহ করে। আর ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাদের তথ্য প্রতি তিন মাস অন্তর সংগ্রহ করা হয়। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এরকম ২০ লাখ ঋণগ্রহীতার তথ্য মজুদ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বড় বড় ঋণখেলাপিরা এখন উচ্চ আদালতে রিট করে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে সমায়িক সময়ের জন্য স্থাগিতাদেশ নিচ্ছেন।
এর ফলে ব্যাংকের ঋণ আদায় বাড়ছে না, বরং ক্ষেত্র বিশেষ খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। আবার ওই একই ব্যক্তি অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা নিচ্ছেন। এতে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের উচ্চ আদালতে যেতে প্ররোচিত করছেন। ওই সূত্র জানিয়েছে, ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে ঋণ সমন্বয় করা হচ্ছে অহরহ। যে ব্যাংকেই তদন্ত করা হচ্ছে ওই ব্যাংকেই এমন অভিযোগ প্রমাণিত হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনের পর সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এখন উদ্বেগের বিষয় হলো, গ্রাহকরা উচ্চ আদালতে গিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতে বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্বেগ প্রকাশ করে খেলাপিদের আটকাতে বিকল্প পদ্ধতি বের করার উদ্যোগ নিচ্ছে। উচ্চ আদালতে রিট করে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে সাময়িক সময়ের জন্য স্থাগিতাদেশ নিলেও তারা জন্য এ সময়ের মধ্যে অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা না নিতে পারেন তার পদ্ধতি খোঁজা হচ্ছে। গত সোমাবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে বৈঠকে ঋণখেলাপিরা যেন ঋণ না পান সেজন্য নতুন আইন চান ব্যাংকাররা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের একটি ব্যাংকের এমডি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। আবার পরিচালনা পর্ষদ মুনাফা বাড়ানোর চাপ দিচ্ছে এমডিদের ওপর। কিন্তু এমডিরা এ বিষয়ে একেবারে যে অসহায় তা কেউ বুঝতে চাইছে না। কারণ বড় বড় ঋণখেলাপির কাছ থেকে ঋণ আদায়ের জন্য পদক্ষেপ নিতে গেলেই তারা উচ্চ আদালতে রিট করছেন। আবার অনেক সময় বড় বড় ঋণখেলাপিরা রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ঋণ নবায়ন করতে বলেন। খেলাপিদের আটকাতে ব্যাংক থেকে নবায়ন না করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকে তদবির করে বড় বড় খেলাপি বিশেষ বিবেচনায় ঋণ নবায়ন করে নিচ্ছেন। এভাবে বড় বড় ঋণখেলাপির কাছ থেকে ঋণ আদায়ের হার একেবারেই শূন্যে নেমে গেছে।

বিএনপি অংশ না নিলেও নির্বাচন হবেই হবে : নাসিম

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন,ক্ষমতা পরিবর্তনের একমাত্র পথ জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন হবে ব্যালটের যুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই তা হবে। বিএনপি এ নির্বাচন অংশগ্রহণ না করলেও ঐ নির্বাচন হবেই,হবে। যে যত শ্লেগান তুলুক কাজ হবে না,এর কোন অর্থ নেই আমাদের কাছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির উদ্যোগে আজ প্রেসক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় নাসিম একথা বলেন। নাসিম আরো বলেন,আগামী নির্বাচনে ১৪দলের নেতৃত্বেই সরকার গঠিত হবে। তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারকেই ক্ষমতা আসতে হবে। জনগণও এটা চায়। তা না হলে উন্নয়ন মুখ থুবরে পড়বে, জনগণ আবারো অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। এদিকে জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন,
জঙ্গী দমনের যুদ্ধ চলছে এবং তা এখনও শেষ করা যায়নি। তবে এটা অনেক অগেই শেষ হয়ে যেতো যদি বিএনপি জঙ্গীদের আশ্রয় পশ্রয় না দিত। দেশ দু’টি যুদ্ধ চলছে। এটি হচ্ছে উন্নয়ন যুদ্ধ। অন্যটি হচ্ছে জঙ্গী দমনে যুদ্ধ। এ দুই কাজেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে অনেকের মতে ভাব রয়েছে যে যুদ্ধটা যেনো এটা প্রধানমন্ত্রীর নিজের। আসলে এটা মহাজোট,১৪ দলের সবারই যুদ্ধ। তিনি বএলন,জঙ্গিবাদ বিরোধী লড়াইকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে দুর্নীতি-দলবাজী-দখলবাজী-অন্তঃকলহ। ‘জঙ্গিবাদ বিরোধী লড়াইকে ক্ষতিগ্রস্থকারী-উন্নয়ন সাফল্যকে ম্লানকারী দুর্নীতি-দলবাজী-দখলবাজী-অন্তঃকলহ অপকর্ম ও অরাজনৈতিক কর্মকান্ড প্রতিহত কর’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক মি. দিলীপ বড়–য়া, জাতীয় পার্টি (জে-পি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহদাত হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির জাকির হোসেন, বাসদের রেজাউর রশীদ। মুল বক্তব্য পাঠ করেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার।

‘হেফাজতের সাথে আপস অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পথকেই কন্টকাকীর্ণ করবে’

সরকারের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর প্রতি ইঙ্গিত করে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, যেভাবে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে তোষামোদ করা হচ্ছে এবং তাদের কাছে নতি স্বীকার করে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তা দেশের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকেই বাধাগ্রস্ত করবে। সংসদকে পাশ কাটিয়ে কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি এদেশের একমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার দাবীকেই নস্যাৎ করে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক করা হলো বলেও তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর থেকে আজ বুধবার এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়। এতে আরো বলা হয় হেফাজতের দাবি অনুসারে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন সাধনের পর কওমী মাদ্রাসার সনদের নিঃশর্ত স্বীকৃতি অসাম্প্রদায়িক শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক চরম কুঠারাঘাত। অন্যদিকে মতাদর্শ ক্ষেত্রে হেফাজতের সাথে আপস এদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথকেই আরও কন্টাকাকীর্ণ করে তুলবে। ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত কর্তৃক শাপলা চত্বরের সমাবেশ থেকে সরকার পতনের ডাক, বায়তুল মোকাররম থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অঞ্চলে তা-ব, কোরান ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে অগ্নিসংযোগ, নারীনীতি ও নারী অধিকারের চরম বিরোধীতা রাজনৈতিক দলের অফিস আক্রমণের ঘটনাবলী স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয় তারা তাদের এই কাজে বিএনপি-জামাতের সমর্থন পায় নাই কেবল, একে কাজে লাগিয়ে ঐ গোষ্ঠীর ক্ষমতা দখলের খেলায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল।
শাপলা চত্বরের ঘটনা সম্পর্কে চরম মিথ্যা প্রচার চালিয়েছিল। সেই হেফাজতের প্রতিটি দাবি মেনে নিয়ে আপোষ ঐ অপশক্তির মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতাবিরোধী স্পর্ধা আরো বাড়িয়ে দেওয়া হলো। ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে সুপ্রীম কোর্টের সামনে স্থাপিত ভাষ্কর্য্য অপসারণ সম্পর্কে বলা হয় এর পরিণাম ফল হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্র্যসহ মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যসমূহ অপসারণের দাবি উঠবে। ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে বলা হয় গোঁজামিল দিয়ে কওমী হেফাজতী নেতাদের নিয়ে তথাকথিত কওমী শিক্ষা বোর্ড বানিয়ে সনদের স্বীকৃতির যে চেষ্টা করা হচ্ছে তাতে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন সংকট দেখা দেবে। ¯œাতক শিক্ষা অবশ্যই প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ হতে হবে। কওমী মাদ্রাসার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র আইন বিবর্জিত কোন স্বাধীন নীতি সার্বিকভাবে জাতির জন্য ক্ষতি ডেকে আনবে। জাতীয় রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শক্তি হারিয়ে যাওয়া ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা যতটুকু পুণরুদ্ধার করেছিল তা আবার মুখ থুবড়ে পড়বে। ভোটের রাজনীতির ক্ষেত্রেও এটা কার্যকরী শক্তি নয়। ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে এই তথাকথিত লোকরঞ্জনবাদী অপধারার বিরোধীতায় সকল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল, সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মী, সকল গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের সৈয়দ হুসাইন ও মোসলেম প্রধানের মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কিশোরগঞ্জের সৈয়দ মো: হুসাইন ও মোহাম্মদ মোসলেম প্রধানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আজ বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন বিচারপতি মো: শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো: সোহরাওয়ার্দী। তাদের বিরুদ্ধে থাকা ছয়টি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসামি মোসলেম প্রধানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় আনা হয়।
মোসলেম প্রধান কারাগারে থাকলেও সৈয়দ মো: হুসাইন পলাতক। হোসেন ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সৈয়দ মো: হাসান ওরফে হাছেন আলীর ছোট ভাই। এ দুজনের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৯ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় ট্রাইব্যুনালে। এক বছরের কম সময়ের মধ্যেই এই বিচার শেষে মামলাটি সিএভি রাখেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার ৬২টি, অপহরণ ও আটক ১১জনকে এবং লুটপাট ও অগ্নি সংযোগসহ বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ। আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।

সরকারের নতজানু মনোভাবে কোনা কিছু আদায় করা যায় না : মির্জা ফখরুল

সরকারের নতজানু মনোভাবে কোনা কিছু আদায় করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তিস্তার পানিসহ অভিন্ন ৫৪ টি নদীর ন্যায্য হিস্যা পেতে জাতিসংঘের সম্পৃক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, কিছু দিন আগে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়ে অনেকগুলো সমঝোতা ও চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছে। শুধু একটাই বিষয়ে যেটি আমাদের প্রাণের দাবি, যার ওপর হাজার কোটি মানুষের জীবন যীবিকা নির্ভর করে তিস্তা নদীর পানির চুক্তি তিনি করে আসতে পারেনি। আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু তিস্তার পানি নয় ৫৪ টি অভিন্ন নদীর পানি ব্যাপারেও কোনো চুক্তি করতে পারেনি প্রধানমন্ত্রী। অথচ গত কয়েক বছর ধরে তারা ক্ষমতায় আসার পরে যে বিষয়গুলো ছিল বাংলাদেশের জন্য ট্রামকার্ড, দরকসাকশির প্রধান মাধ্যম সেগুলোকে তিনি অবলিলায় ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। ট্রানজিট দিয়েছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য করছে কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত কিছুই পাইনি। তিনি ভারত থেকে ফিরে এসে বলেছেন, পানি মাংতা, ইলেকট্রিসিটি মিলা, কুচতা মিলা। আমাদের অবস্থা দাঁড়িয়ে এখন সেই কুচ মিলার জায়গায়। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের এই যে নতজানু মনোভাব। এই মনোভাব দিয়ে কোনা কিছু আদায় করা যায় না। এই সরকার ব্যর্থ হওয়ার একটিই কারণ তারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়, জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। যারা তাদেরকে ক্ষমতায় টিকে রেখেছে তাদের কাছে তারা নিজেদের, জনগণের দাবি দাওয়া গুলো তুলে ধরতে পারছে না, দাবি আদায়ও করতে পারছে না। আমাদের নিজেদের যা প্রয়োজন তা নিজেদেরই আদায় করতে হবে। তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে জাতিসংঘে এটিকে তুলে ধরতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো।
জাতিংসঘকে সম্পৃক্ত করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন। আমাদের দাবি প্রতিটি নদীর ন্যায্য হিস্যা আমাদের দিতে হবে। আমরা কোনো দয়া চাইছি না। আমাদের যেটা আইনগত ভাবে পাওনা সেটি আমরা চাই। নেত্রকোণা হাওর অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বন্যার পানিতে মানুষের সম্পদ নষ্ট হয়েছে। যেহেতু ভারতের সাথে আমাদের চুক্তি নেই, যখন তাদের ওখানে বন্যা হয় তখন ভারত তাদের বাধগুলো খুলে দেয় আর আমরা প্লাবিত হয়ে যাই। তিনি বলেন, আমরা যে আন্দোলন করছি এটি কোনো ব্যাক্তির জন্য নয়, কোনো দলের জন্য নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৗমত্ব রক্ষার আন্দোলন। সরকারকে উদ্দেশ্য করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আপনাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। আপনারা নির্বাচন দিন। সেই নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং একই সঙ্গে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে। আজকে সারা বাংলাদেশের মানুষ কারাগারের মধ্যে বন্দী হয়ে আছে। সেই কারাগার থেকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। সকল দলমত এক হয়ে জাতিয় স্বার্থে আন্দোলনের জন্য আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমদ খানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন। এতে বিএনিপর যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলাল সহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

নেত্রকোনার ৬ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন

মানবতাবিরোধী অপরাধের   মামলায় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার  আব্দুর রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচার কার্য শুরু হয়েছে। আজ বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়রুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে এই মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১২ জুন দিন ধার্য করেছন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন মুন্নী। আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী গাজী এম এইচ তানিম। এর আগে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর আদালত এই মামলায় পলাতক ৫ জনের জন্য অ্যাডভোকেট গাজী তানিমকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করেন। আসামিরা হলেন- শেখ মো. আব্দুল মজিদ ওরফে মজিদ মওলানা (৬৬),
মো. আব্দুল খালেক তালুকদার (৬৭), মো. কবির খান (৭০), আব্দুর রহমান (৭০), আব্দুস সালাম বেগ (৬৮) ও নুরউদ্দিন   (৭০)। ছয় আসামির মধ্যে ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন আব্দুর রহমান। বাকি পাঁচজন পলাতক রয়েছেন। গত বছরের ২২ মে ছয়জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন। গত বছরের ১৬ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আটজন নিরীহ মানুষকে অপহরণের পর হত্যা, তিনটি বাড়ির মালামাল লুট, আটটি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও একজনকে ধর্ষণের অভিযোগ।

আজানে আছে একটা স্বর্গীয় সৌন্দর্য : প্রিয়াঙ্কা

আজান নিয়ে ভারতের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী সনু নিগামের বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা এখন তুঙ্গে। এরই মাঝে আলোচনায় এসেছে বলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার আজান নিয়ে একটি মন্তব্য, যেখানে তিনি আজান ও আজানের ধ্বনির প্রশংসা করেছেন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘প্রতি সন্ধ্যায় আমি আজানের জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করি। কোনো দিনই আমি আজান না শুনে থাকতে পারি না। কারণ আজানে আছে একটা স্বর্গীয় সৌন্দর্য।’ সনু নিগম সোমবার আজানের শব্দ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে টুইট করেন। তবে এরপর থেকেই সনু নিগম সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন। তার এ মন্তব্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলিউডের একাধিক তারকা। সম্প্রতি ভুপালে তিনি গিয়েছিলেন একটি ছবির শুটিং করতে। সেখানকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে গিয়ে প্রিয়াংকা বলেন, ‘ভুপালে সবচেয়ে আনন্দের সময়টা আমার কাছে ছিল আজানের সময়। যেটার জন্য আমি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করি। সন্ধ্যায় আমি বারান্দায় বসি। কাজ শেষ হয়ে যায়। পুরো ভুপালে সব মসজিদ থেকে আজানের সুর আসে।
আমার বারান্দা থেকে ছয়টি মসজিদ থেকে আজান শোনা যায়। ওই পাঁচ মিনিট আমার কাছে খুব ভালো লাগে। সূর্য ডুবতে থাকে। তখন আজানের সুর ভেসে আসে। তখন বেশ শান্তির একটা পরিবেশ তৈরি হয়। ওইটাই আমার দিনের সবচেয়ে প্রিয় সময়।’ ২০০০ সালে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা জিতেন প্রিয়াংকা চোপড়া। এরপর থেকেই বলিউডের শীর্ষে আছেন ওই বিশ্ব সুন্দরী। তবে এখন কেবল বলিউড নয়, হলিউডেও ছড়িয়ে পড়েছে প্রিয়াংকার জনপ্রিয়তা। উল্লেখ্য, সোমবার ভোর বেলায় আজানের শব্দে ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ করে সনু নিগম টুইটারে একের পর এক মন্তব্য পোস্ট করতে থাকেন। সেখানে তিনি লেখেন: ‘আমি মুসলিম না। তাহলে কেন আজানের শব্দে আমার ঘুম ভাঙানো হবে?’ এরপর তিনি মসজিদে মাইক ব্যবহারের বিরুদ্ধেও কিছু মন্তব্য করে একে ‘ধর্মবোধ জোর করে চাপিয়ে দেয়া’ বলে বর্ণনা করেন।

গৃহকর্মীদের জন্য বলিউড তারকারা এতোই খারাপ!

গৃহকর্মী সরবরাহে বেশ নাম করেছে মুম্বাইয়ের ইন্টারনেট ভিত্তিক পোর্টাল বুকমাইবাই। এখন পর্যন্ত দশ হাজার বাড়িতে তারা গৃহকর্মী সরবরাহ করেছে। ব্যবসা দিন দিন বাড়ছে। বলিউডের অনেক তারকাও তাদের গ্রাহক। তবে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলিউডের তারকাদের বাড়িতে তারা গৃহকর্মী পাঠাবে না। কেন এই সিদ্ধান্ত? ব্যাখ্যা করতে প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কর্ণধার অনুপম সিংহাল ইন্টারনেটে একটি ব্লগ লিখেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, বলিউডের তারকাদের বাড়িতে গৃহকর্মী নির্যাতন, তাদের ওপর দুর্ব্যবহারের একের পর এক ঘটনার পর তাদের এই সিদ্ধান্ত। গ্রাহকদের নাম উল্লেখ না করে, মি সিংহাল হেনস্থা-নির্যাতনের পাঁচটি উদাহরণ তুলে ধরেছেন। তার একটিতে তিনি লিখেছেন - মাসে দশ হাজার টাকা মজুরিতে বিহারের একটি গ্রামের ছেলেকে নিয়োগ করেছিলেন বলিউডের এক সেলেব্রিটি। কিছুদিন পর গ্রাম থেকে তার মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষকৃত্যে অংশ নিতে বিহারে যেতে চাইছিলো সে। কিন্তু ঐ অভিনেত্রী তাকে ছাড়েননি। বুকমাইবাইকে তিনি শর্ত দেন বদলি আরেকজনকে না দিলে তিনি ঐ ছেলেকে বিহারে যেতে দেবেন না। সেই গৃহকর্মী তার মায়ের শেষকৃত্যে যেতে পারেনি। আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করে অনুপম সিংহাল লিখেছেন -- বলিউডের এক অভিনেত্রী তাদের পাঠানো গৃহকর্মীকে প্রতিদিনই পেটাতেন। তার শরীরে মারের চিহ্ন ছিল স্পষ্ট। আরেক বলিউড অভিনেত্রী, যিনি তিন কোটি টাকার গাড়িতে চড়েন, তিনি তার গৃহকর্মীকে ঠিকমতো খেতে পর্যন্ত দিতেন না। তিন-বেলা শুধু চা-রুটি দিতেন। এক সপ্তাহের বেশি কোনো গৃহকর্মী ঐ বাড়িতে থাকতে চাইতো না। বুকমাইবাইয়ের অনুপম সিংহালের দেওয়া উদাহরণগুলোর প্রত্যেকেই ছিলেন অভিনেত্রী যাদের কেউ কেউ জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন। মি সিংহাল লিখেছেন প্রতিবাদ করতে গেলে এসব সেলেব্রিটিরা পুলিশ ও আইনের ভয় দেখান। সূত্র: বিবিসি

রোনাল্ডোর হ্যাটট্রিকে সেমিতে রিয়াল

ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর হ্যাটট্রিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে পৌছে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। মঙ্গলবার রাতে তারা ৩-২ গোলে পরাজিত করেছে বায়ার্ন মিউনিখকে। মঙ্গলবার রাতে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি পর্বের ম্যাচটি ৪-২ গোলে জিতেছে রিয়াল। দুই লেগ মিলিয়ে তাদের জয় ৬-৩ ব্যবধানে। প্রথম পর্বে ২-১ গোলে জিতেছিল জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। দারুণ এই হ্যাটট্রিকে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলের সেঞ্চুরি করলেন রোনাল্ডো। গত সপ্তাহে প্রথম লেগে বায়ার্নের মাঠে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গোলের শতক করেন চারবারের বর্ষসেরা তারকা। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বায়ার্নের বিপক্ষে রিয়ালের চতুর্থ গোলটি করেন বদলি নামা মার্কো আসেনসিও। বায়ার্নের একমাত্র গোলদাতা রবের্ত লেভানদোভস্কি। প্রতিপক্ষের উপর রিয়ালের টানা আক্রমন আবার কখনও বা স্বাগতিকদের সীমানায় বায়ার্নের একচেটিয়া প্রভাব। এভাবে এগিয়ে চলা ম্যাচের ২৬তম মিনিটে দানি কারবাহালের আচমকা শটে এগিয়ে যেতে পারতো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান মানুয়েল নয়ার। দুই মিনিট পর এই অর্ধের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পায় জিদানের দল। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল দাভিদ আলাবা-মাটস হুমেলসরা বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে ফাঁকায় পেয়ে যান সের্হিও রামোস। তার জোরালো শট গোললাইনের কাছ থেকে ফেরান জেরোমে বোয়াটেং। ৩৭তম মিনিটে প্রতি-আক্রমণে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন রোনাল্ডো। বাঁ-দিকে ছিলেন করিম বেনজেমা; কিন্তু পাস না দিয়ে নয়ারের বরাবর শট মেরে বসেন পর্তুগিজ ফরোয়াড। শুরু থেকে বায়ার্ন বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণ করলেও প্রতিবারই শেষ মুহূর্তে খেই হারিয়ে ফেলে রবের্ত লেভানদোভস্কি-আরিয়েন রবেনরা। বিরতির আগে তারা মোট আটটি শট নেয়; কিন্তু তার কোনোটিই ছিল না লক্ষ্যে। প্রথমভাগের হতাশা কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে আক্রমণে উঠতে থাকে অতিথিরা। ৫০তম মিনিটে বিনা বাধায় রবেনের নেয়া হেড গোললাইন থেকে হেড করে ফেরান মার্সেলো। তিন মিনিট পরেই লেভানদোভস্কির সফল স্পট কিকে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। বাঁ-দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢোকা রবেনকে ব্রাজিলের ডিফেন্ডার কাসেমিরো ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। চোট কাটিয়ে ফেরা পোলিশ স্ট্রাইকার লেভানদোভস্কির এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটা অষ্টম গোল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৯। ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার এবারের আসরে ১১ গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন বার্সেলোনার লিওনেল মেসি। এগিয়ে গিয়ে আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বায়ার্ন। ৫৭তম মিনিটে কিছুটা কঠিন হলেও আর্তুরো ভিদাল সুযোগ পেয়েছিলেন ব্যবধান দ্বিগুণ করার। কিন্তু ক্রসবারের উপর দিয়ে বল উড়িয়ে মারেন চিলির এই মিডফিল্ডার। শুরু থেকে নিজেকে তেমন মেলে ধরতে না পারা বেনজেমাকে ৬৪তম মিনিটে তুলে নেন জিদান, নামান মার্কো আসেনসিওকে। বলতে গেলে ধারার বিপরীতেই ৭৬তম মিনিটে সমতায় ফেরে রিয়াল। ডান দিক থেকে কাসেমিরোর ক্রসে হেড করে বল জালে পাঠান রোনাল্ডো।
স্বাগতিকদের সমতায় ফেরার স্বস্তি অবশ্য এক মিনিটও স্থায়ী হয়নি। ৩৬ সেকেন্ড পরেই আত্মঘাতী গোল খেয়ে বসে তারা। ডি-বক্সের মধ্যে বল নিজেদের আয়ত্তেই নিয়ে ফেলেছিল; কিন্তু রামোসের পায়ে টোকা লেগে বল চলে যায় গোললাইন পেরিয়ে। ৮৪তম মিনিটে আসেনসিওকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ে ভিদাল। চার মিনিট পর গোলদাতা লেভানদোভস্কিকে তুলে নেন কার্লো আনচেলত্তি। অতিরিক্ত সময়ের অষ্টম মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন দগলাস কস্তা। কিন্তু তার কোনাকুনি শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে পাল্টা আক্রমণে আসেনসিওর নীচু কোনাকুনি শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান নয়ার। এর কিছুক্ষণ পরেই ফের কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোল পেয়ে যায় রিয়াল। ১০৪তম মিনিটে রামোসের উঁচু করে বাড়ানো বল বুক দিয়ে নামিয়ে নিচু হাফ-ভলিতে জালে পাঠান রোনালদো। অফসাইডের আবেদন করে বায়ার্নের খেলোয়াড়েরা; কিন্তু রেফারি গোলের বাঁশি বাজান। টিভি রিপ্লেতেও দেখা যায়, অফসাইডে ছিলেন রোনালদো। এর পাঁচ মিনিট পরেই হ্যাটট্রিক পূরণ করেন রোনাল্ডো। দুজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়া মার্সেলোর নি:স্বার্থ পাস পেয়ে ডান পায়ের শটে ফাঁকা জালে বল পাঠান তিনি। এবারের আসরে রোনাল্ডোর এটা সপ্তম এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে ১০০তম গোল। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তার এটা ১০৩তম গোল। তিন মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়িয়ে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন আসেনসিও। ডি-বক্সের মধ্যে থেকে নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন স্পেনের এই মিডফিল্ডার।

গেইল–ঝড়েই ফয়সালা

চেনা মেজাজে ফিরলেন ক্রিস গেইল। রাজকোটে গুজরাট লায়ন্সের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ফর্মে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ক্যারিবিয়ান ওপেনার। মঙ্গলবার গুজরাট লায়ন্সকে বেঙ্গালুরু হারাল ৩৮ বলে ৭৭ রান করলেন বাঁ হাতি তারকা। মারলেন ৭টি ওভারবাউন্ডারি এবং ৫টি বাউন্ডারি। গেইল–ঝড়ের সামনে কার্যত দিশাহারা দেখাচ্ছিল সুরেশ রায়নার দলের বোলারদের। গেইল সবচেয়ে বেশি নির্মম ছিলেন রবীন্দ্র জাদেজার বিরুদ্ধে। ৪ ওভারে ৫৭ রান দিয়েছেন জাদেজা। গেইলের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে চেনা ছন্দে ছিলেন অধিনায়ক বিরাট কোহলিও।
৫০ বলে ৬৪ রান করেছেন তিনি। মেরেছেন ৭টি বাউন্ডারি এবং একটি ওভার বাউন্ডারি। মূলত এঁদের দাপটেই ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান তুলেছে আরসিবি। বেঙ্গালুরুর বোলারদের মধ্যে সফলতম বাসিল থাম্পি। তিনি ৩১ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় গুজরাট। ১ রান করে ফিরে যান ডোয়েন ব্র্যাভো। উইকেটের অন্যপ্রান্তে ব্রায়ান ম্যাকালাম অবশ্য চালিয়ে খেলার চেষ্টা করেছিলেন। ৪৪ বলে ৭২ রান করেন তিনি। কিন্তু তরুণ উইকেটকিপার ‌ঈশান কিষাণ কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন ঠিকই, তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯২ রানে থামে গুজরাট। বেঙ্গালুরুর পক্ষে সফলতম বোলার যজুবেন্দ্র চাহাল। তিনি ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। প্রত্যাশিতভাবেই ম্যাচের সেরা গেইল।

সেই ‘ফেসবুক খুনীর’ আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক লাইভে বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় আলোচিত ওই খুনী আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার পুলিশের ধাওয়ার মধ্যে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সে নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। খবর সিএনএন। আলোচিত স্টিভ স্টিফেন্স গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ড শহরে গুডউইন নামের ৭৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে খুন করে ফেসবুকে লাইভ দেখান।
পরে তিনি ফেসবুকে পৃথক আরেকটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত তিনি ১৩ জনকে হত্যা করেছেন এবং আরও মানুষকে হত্যা করতে চান। ক্লিভল্যান্ডের পুলিশ প্রধান ক্যালভিন উইলিয়ামস বলেছেন, তারা একটি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে নিশ্চিত, বাদবাকি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানা নেই।

বিশ্বনাথে আ’লীগের দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে ১৪৪ধারা জারি

সিলেটের বিশ্বনাথে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব ও পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচির জের ধরে উপজেলা সদরের নতুন ও পুরাতনবাজার এলাকায় ১৪৪ধারা জারি করা হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় ওই ১৪৪ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি জানিয়ে বেলা ১১টায় সদরের নতুন ও পুরাতন বাজারে মাইকিং করা হয়েছে। ঘোষণায় বলা হয়, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবত থাকবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইনশৃংখলা রক্ষার স্বার্থে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল, সভা সমাবেশ, আগ্নেয়াস্ত্রসহ কোনো প্রকার দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শণ না করার সতর্কতা জানিয়ে এই ১৪৪ধারা জারি করা হয়েছে। এদিকে ১৪৪ ধারা জারির পাশাপাশি সদরে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ নিয়ে এলাকায় আতংক দেখা দিয়েছে। জান যায়, কয়েক দিন যাবত তথ্য প্রযুক্তি আইনে পাল্টাপাল্টি মামলার জের ধরে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী গ্রুপের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে আজ উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা পাল্টা-পাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। নতুনবাজার থেকে আনোয়রুজ্জামান গ্রুপের নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি ও সাবেক দুই বারের চেয়ারম্যান ফখরুল আহমদ মতসিনসহ নেতাকর্মীদের উপর দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করার কথা ছিল। এদিকে একই দিনে নতুনবাজর থেকে শফিক চৌধুরী গ্রুপের নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারসহ নেতাকর্মীদের উপর মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এনিয়ে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিলে প্রশাসন উপজেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করে।

একদিন মারা যাব, স্বৈরাচার হব না: এরদোগান

সংবিধান পরিবর্তনের ফলে অর্জিত ব্যাপক ক্ষমতা তাকে স্বৈরাচারী করবে না বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। মঙ্গলবার আঙ্কারার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। এটাই ছিল গণভোটে বিজয়ের পরে প্রথম কোনো সাক্ষাৎকার। এরদোগান বলেন, এটা ছিল একটা সংবিধান সংশোধনের প্যাকেজ। আমাকে নিয়ে কোনো কিছু নয়। আমি জানি আমাকে একদিন মরতে হবে। আমি থাকব না। কিন্তু এই পরিবর্তন তুর্কি রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে একটি উন্নত অবস্থায় নিয়ে যাবে। নতুন ক্ষমতা পেয়ে এরদোগান স্বৈরাচারী হয়ে যাবেন বিরোধীদের এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যেখানে স্বৈরতন্ত্র থাকে সেখানে প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতি থাকে না। এখানে ব্যালট বাক্স আছে। জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। এই পরিবর্তনকে জাতীয় ইচ্ছার প্রতিফলন বলা যায়। গণভোটে খুব সামান্য ভোটের ব্যবধানে জয়ী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ফুটবল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে ওঠে এসেছি।
খেলায় জয় জয়ই। ১-০ গোলে জিতলেও জয়, আবার ৫-০ গোলে জিতলেও জয় হিসেবেই বিবেচিত হবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ইইউ তুরস্ককে ৫৪ বছর ধরে ঝুলিয়ে রেখেছে। এটা তাদের ওয়াদা ছিল যে, তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করে নেবে। তাদের শর্ত পূরণ করতে আমরা সবকিছুই করেছি। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে কথা রাখতে। তারা কথা রাখেনি। এখন দেখতে চাই তারা কী পদক্ষেপ নেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ভবিষ্যতে একটি বৈঠকও করতে চান তুর্কির এই আধুনিক সুলতান। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে সুন্দর কথোপকোথন হয়েছে। এখন আমরা একটি মুখোমুখি বৈঠকের অপেক্ষায় আছি। গণভোটের পর ট্রাম্পের ফোনকল আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই আমরা। গত ১৬ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনের গণভোটে তুরস্কের ৫১ ভাগের বেশি জনগণ 'হ্যাঁ' ভোট দিয়ে এরদোগানের পক্ষে রায় দেন। আর 'না' ভোট দেন ৪৯ শতাংশ নাগরিক। এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে তুরস্ক সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে কার্যত প্রেসিডেন্সিয়াল শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের বন্দুকধারীর হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে দেশটির ক্যালিফোর্নিয়ায় অঙ্গরাজ্যের ফ্রেসনো এলাকায় ক্যাথলিক চ্যারিটিজের হেডকোয়ার্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, এক কৃষ্ণাঙ্গ বন্দুকধারীর গুলিতে তিন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছে। খবর বিবিসির।
এ ঘটনাটি একটি ‘বর্ণবাদী হামলা স্থানীয় পুলিশ প্রধান জেরি ডায়ার জানিয়েছেন, কোরি আলি মুহাম্মদ নামের ওই বন্দুকধারী ১৬ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করতে মাত্র ৯০ সেকেন্ড সময় নেয়। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার পর সে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করে। সে অনেক মানুষকে হত্যা করতে চেয়েছিল উল্লেখ করে পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজন ওই ঘাতক আফ্রিকান আমেরিকান। সোশ্যাল মিডিয়ায় সে শেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতো ও সরকারবিরোধী মনোভাব ব্যক্ত করতো।

উত্তর কোরিয়া নিয়ে তিন বিশ্বশক্তির প্রক্সি যুদ্ধ?

যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চলমান উত্তেজনা শুধু এ দুটি দেশের মধ্যেই আর সীমাবদ্ধ নেই, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে চীন ও রাশিয়াও। এর আগে কোরীয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র যে শতাধিক বিমানবাহী রণতরী কার্ল ভিনসন পাঠিয়েছে, তার ওপর নজর রাখতে গোয়েন্দা জাহাজ মোতায়েন করেছে চীন ও রাশিয়া। ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়া উত্তর কোরিয়া সীমান্তে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে রেখেছে। এর একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমগুলোয় ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার প্রক্সি যুদ্ধক্ষেত্র হতে পারে উত্তর কোরিয়া। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে প্রক্সি যুদ্ধের উদাহরণ হয়ে আছে সিরিয়া। সেখানে একদিকে বাশার আল আসাদের সরকারকে রক্ষায় লড়াই করছে ইরান ও রাশিয়া। অপরদিকে আসাদবিরোধীদের সমর্থন ও স্বল্প সংখ্যায় হলেও অস্ত্র দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর কোরিয়াতেও এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। দেশটিকে সব সময়ই নিজেদের মধ্যে একটি বাফার স্টেট হিসেবে বিবেচনা করে চীন ও রাশিয়া। আর এ কারণে সেখানে স্থিতিশীল একটি পরিস্থিতিও চায় বেইজিং ও মস্কো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ও কিমকে থামানো না গেলে উত্তর কোরিয়াকে ইস্যু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করবে তারা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এরই মধ্যে মন্তব্য করেছেন, বর্তমান সময়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সম্পর্ক যাচ্ছে। সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার জবাবে দেশটিতে মার্কিন প্রশাসনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক নিচে নেমে এসেছে। ফলে উত্তর কোরিয়ার পরিস্থিতি সিরিয়ার মতো হতে পারে- এমন আশঙ্কাই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে আছে জাপান। সোমবার জাপানি গণমাধ্যম ‘ইয়োমুরি শিমবুন’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে রয়েছে কমপক্ষে ৬৪ শতাংশ জাপানি। তবে এ অঞ্চলে খুব সহজে কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দিতে চাইবে না চীন।
যদিও কোরীয় দ্বীপে জঙ্গিবিমানবাহী মার্কিন রণতরী মোতায়েনকে ঘিরে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেইজিং। তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই উত্তর কোরিয়া রোববার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার চেষ্টা চালায়। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ওই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিস্ফোরিত হয়। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ব্যর্থ হলেও পিয়ংইয়ংয়ের সমরশক্তিকে খাটো করে দেখা ঠিক হবে না বলে এশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞরা মতপ্রকাশ করেছেন। তাইওয়ানের ন্যাশনাল চেংচি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ আর্থার ডিং বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া সরকার এরই মধ্যে যথেষ্ট নিবারক শক্তি অর্জন করেছে। শনিবার একটি সামরিক প্যারেডের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া বিশ্বকে দেখিয়েছে যে, এখন তাদের বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গুটিয়ে নেয়ার কোনো উপায় নেই। কারণ ভারত ও পাকিস্তানের মতো উত্তর কোরিয়াও কার্যত একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে এ বাস্তবতার অর্থ হল, উত্তর কোরিয়াকে অন্যান্য পরমাণু শক্তিধর দেশের সমান হিসেবে বিবেচনা না করলেও অন্তত সাবধানে চলতে হবে।’ বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধ শুরু হলে অন্তত ১০ লাখ মানুষ নিহত হবে। তাছাড়া যুদ্ধ হলে পতন হবে স্বৈরশাসক কিম জং উনের। তাতে সীমান্ত নিয়ে সমস্যায় পড়বে চীন। কারণ কিম চীনের মিত্র। এ কারণে দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক সব সময়ই উষ্ণ। কোরীয় উপদ্বীপে মার্কিন রণতরী মোতায়েনের পর থেকে এ অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা ঘিরে রয়েছে নানা আশঙ্কা। তার ওপর উত্তর কোরিয়ার বারবার পরমাণু হামলার হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনড় অবস্থানের কারণে কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে চীন ও রাশিয়া নিরপেক্ষ থাকবে না বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। আর এতে কিমের দেশ হয়ে উঠতে পারে চীন-রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্সি যুদ্ধক্ষেত্র।

ক্যামেরা ফেলে শিশুকে বাঁচাতে ফটোগ্রাফারের মরিয়া চেষ্টা

যে কোনো ঘটনার জীবন্ত চিত্র তুলে ধরেন ফটোসাংবাদিকরা। ২০১৫ সালে তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা আয়লানের নিথর দেহের ছবি কাঁদিয়েছিল বিশ্বকে। পরিবারের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল ছেড়ে যাচ্ছিল সে। পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে মৃত্যু হয় তার। ২০১৬ সালে সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে বোমার আঘাতে রক্তাক্ত শিশু ওমরান দাকনিশের ছবিও সারা বিশ্বে ঝড় তুলেছিল। আহত অবস্থায় একটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে বসে থাকা অবস্থায় তার ছবি তোলেন একজন ফটোসাংবাদিক। ওই ছবি তুলে ধরেছিল মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা। খবর সিএনএনের। কিন্তু এবার নিষ্ঠুর ভয়াবহতা থেকে একজন শিশুকে বাঁচাতে পেশাদারিত্বের ক্যামেরা ফেলে দৌড়ে গেলেন একজন ফটোসাংবাদিক। তিনি আবদ আল কাদের হাবাক। চলতি সপ্তাহে সিরিয়ার একটি বাসবহরে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় নিহত হন ১২৬ জন। নিহতদের মধ্যে ৬৮ জনই ছিল শিশু।
ঘটনাস্থলের কাছেই কাজ করছিলেন হাবাক। বোমা বিস্ফোরণে কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। চেতনা ফিরলেই ছুটে যান ঘটনাস্থলে। নেমে পড়েন উদ্ধারকাজে। হাবাক বলেন, ‘ওই দৃশ্য ভয়ঙ্কর ছিল। বিশেষ করে শিশুদের আর্তনাদ। তারা সবার সামনেই মারা যাচ্ছিল। তাই আমরা সহকর্মীদের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আমরা ক্যামেরা রেখে আহতদের উদ্ধার শুরু করব।’ তিনি জানান, প্রথম যে শিশুটির কাছে তিনি গিয়েছিলেন, সে ততক্ষণে মারা গেছে। এরপর গেলেন আরেক শিশুর দিকে। সে তখনও একটু একটু শ্বাস নিচ্ছে। হাবাক শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে নিরাপদ স্থানের দিকে দৌড়াতে শুরু করলেন। সে সময়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে হাবাক বলেন, ‘শিশুটি আমার হাত ধরে ছিল ও আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।’ মুহাম্মদ আলরাগেব নামের আরেক ফটোসাংবাদিক সে সময় হাবাকের ছবি তুলেছিলেন। সেখানে দেখা যায়, হাবাক কোলে শিশু ও কাঁধে ক্যামেরাটি নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সের দিকে ছুটে যাচ্ছেন।

একই রশিতে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা

নওগাঁর মান্দায় একই রশিতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে প্রেমিক ও প্রেমিকা। তারা হলেন- উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের চকরাজাপুর গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে গোলাম রাব্বানী (২২) ও মৃত মকবুল সরদারের মেয়ে তসলিমা আক্তার (১৮)। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলার চকরাজাপুর গ্রামের গোদাবিলা নামক বিলের মাঝখানে একটি আম গাছ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রেমিক গোলাম রাব্বানী উপজেলার সাতবাড়িয়া টেকনিকেল বিএম কলেজ থেকে চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আর প্রেমিকা তসলিমা আক্তার এনায়েতপুর আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রার্থী। দীর্ঘদিন থেকে তাদের দু'জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক। পরে তারা বিয়ে করতে সম্মত হয়। বিষয়টি ছেলের পরিবারকে জানানো হয়। কিন্তু মেয়ের আর্থিক অবস্থা তেমন ভাল না হওয়ায় প্রেমিক গোলাম রাব্বানীর পরিবার বিয়েতে অসম্মত হয়। এ নিয়ে দু'জনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
তাসলিমার মা জানান, তার সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর কোনো এসময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে বাড়ির পাশে গোদাবিলা নামক বিলের মাঝখানে একটি আম গাছের ডালে রশির দু’মাথায় গোলাম রাব্বানী ও তসলিমা আক্তার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। বুধবার ভোর রাতে তাসলিমার মা খোদেজা বেগম মেয়েকে খোঁজাখুজি করেন। বাড়ির বাইরে এসে দেখেন বিলের মাঝে আম গাছে দু'জনে ঝুঁলে আছে। মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মেয়ের পরিবার থেকে মেয়েকে অনত্র বিয়ে দেয়ার কথা হচ্ছিল। ক্ষোভের বসে তারা আত্মহত্যা করেছেন। সকালের স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।

পাবনায় বাস খাদে পড়ে নিহত ৩

পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাবনার আতাইকুলা থানার মধুপুর নামক স্থানে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এসময় শিশু ও নারীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তিনি হলেন- পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার হাটখালী গ্রামের আব্দুল কাদেরর ছেলে আব্দুল মমিন (৩৫)। 
আহতদের ২৬ জনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আতাইকুলা থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক জানান, কাশিনাথপুর থেকে যাত্রীবাহী উত্তরা বাসটি পাবনায় যাচ্ছিল। পথে মধুপুর নামকস্থানে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি রাস্তার পাশে উল্টে খাদে পড়ে যায়। এতে দুর্ঘটনাস্থলে একজন এবং পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর আরো দুইজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে কমপক্ষে ১০ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানান পাবনা জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

শেরপুরে সেফটিক ট্যাংকে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো একজন। বুধবার সকালে উপজেলার চান্দাইকোনা বাজারে নির্মাণাধীন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন- শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামের মৃত আয়নালের ছেলে রাজমিস্ত্রী আনোয়ার হোসেন (৩৫) ও বেটখৈর গ্রামের মৃত. শুকুর আলীর ছেলে  দিনমজুর সোলায়মান (৪৮)। শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার সোহেল রানা জানান, উপজেলার চান্দাইকোনা বাজারে রিপন সাহার বাড়ি নির্মাণের কাজ করছিলেন আনোয়ার হোসেনসহ একদল রাজমিস্ত্রী।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাজ করার জন্য সেফটিক ট্যাংকে নামলে প্রথমে মিস্ত্রী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়। তাকে উদ্ধারের জন্য দিনমজুর সোলায়মান সেফটিক ট্যাংকে নামলে সুলায়মানও মারা যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একদল কর্মী এসে তাদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত একজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান ওই স্টেশন অফিসার।

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের তাণ্ডব পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিংপুল নির্মাণ বন্ধ করতে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ। ভাংচুর করেছে দোকানপাট ও ২০-৩০টি যানবাহন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যাপক গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষে কোতোয়ালি জোনের এসি, থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ও ছাত্রলীগের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্রলীগের তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। তাণ্ডব চলাকালে স্টেডিয়াম এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কাজীর দেউড়ী, লালখানবাজার, এনায়েতবাজার মোড়সহ আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে, নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির নেতৃত্বে ছাত্রলীগ এ তাণ্ডব চালায়। এদিকে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ছাত্রলীগের একটি অংশ ওয়াসা মোড় হয়ে জিইসি মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। পথে মেয়র আ জ ম নাছির গ্রুপের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গেও তাদের সংঘর্ষ বাধে। চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগ রোববার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিংপুল নির্মাণ বন্ধ করতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয় জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে। এর আগে ১০ এপ্রিল নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী লালদীঘি পাড়ের সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সুইমিংপুল নির্মাণ বন্ধের দাবি জানান। না হলে তার ছেলেরা এটি ভেঙে দেবে বলে হুশিয়ারি দেন। আউটার স্টেডিয়ামে খেলা ও বিজয় মেলার মাঠ দখল করে সুইমিংপুল নির্মাণ করায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির নেতৃত্বে ৪শ’-৫শ’ নেতাকর্মী কাজীর দেউড়ীর আউটার স্টেডিয়ামে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পুলিশ তাদের সুশৃঙ্খলভাবে বিক্ষোভ করার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু একপর্যায়ে রনির নির্দেশে নেতাকর্মীরা নির্মাণকাজের জন্য দেয়া টিনের ঘেরা ভাংচুর করতে শুরু করে। পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ছাত্রলীগ কর্মীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। নূর আহমদ সড়ক ও কাজীর দেউড়ি মোড়ে সড়কে এলোপাতাড়ি রিকশা, ট্যাক্সি, পিকআপ, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাংচুর করে। তখন পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মীদের থামাতে একপর্যায়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলি ছোড়ে। ছাত্রলীগের ইটের আঘাতে কোতোয়ালি জোনের এসি জাহাঙ্গীর আলম, কোতোয়ালি থানার ওসি জসিম উদ্দিন, এসআই আক্তার হোসেন, মুহিবউল্লাহ ও কনস্টেবল মুনির হোসেন আহত হন। বিপরীতে গুলিবিদ্ধ হন নগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চৌধুরী বাবু, ছাত্রলীগ নেতা গোলাম সামদানি বাবু ও সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন। আহত হন আরও অন্তত ২০ নেতাকর্মী। ওসি জসিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের জন্য অনুরোধ করি। তাদের বলি, এটি সরকারি কাজ। আপনারা সরকারি দলের লোক। আমরাও সরকারের স্বার্থ রক্ষা করছি। আপনারা অনৈতিক কিছু করবেন না। কিন্তু তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করে। পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। নিরুপায় হয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে ও রাবার বুলেট ছোড়ে।’
সিএমপির ডিসি (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ছাত্রলীগ। যারা এখানে ভাংচুর চালিয়েছে তাদের ভিডিও ফুটেজ আছে। এ ঘটনায় মামলা হবে। জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। নগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, খেলার মাঠ ও বিজয় মেলার মাঠ দখল করে সিজেকেএস আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিংপুল নির্মাণ করছে। আমরা এটি বন্ধে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু এতেও কাজ বন্ধ না করায় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করি। টেন্ডার ছাড়াই এ সুইমিংপুল নির্মাণ করা হচ্ছে। সুইমিং পুল বাস্তবায়ন কমিটির সংবাদ সম্মেলন : এর আগে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকে বলা হয়, ‘খেলার মাঠ আর সুইমিং পুল বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। দুটি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। জ্ঞানের অভাবে কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন সুইমিংপুল নির্মাণের বিরোধিতা করছে।’ এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও সুইমিংপুল বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আলী আব্বাস লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, ‘সব নিয়মনীতি মেনে সিটি মেয়র ও ক্রীড়া সংগঠক আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুদানের টাকায় টেন্ডারের মাধ্যমে চট্টগ্রামে সুইমিংপুল নির্মাণের কাজ শুরু করেন। দেশের অন্য জেলাগুলোয় জেলা ক্রীড়া সংস্থার মালিকানাধীন জায়গাতেই সুইমিংপুল নির্মিত হয়েছে। অন্যের কিংবা মূল স্টেডিয়াম থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো স্থানে সুইমিংপুল নির্মাণের কোনো নজির দেশে নেই। কারণ এর রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির প্রয়োজনেই সুইমিংপুল নির্মাণের স্থান নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭০ হাজার ৩৮০ বর্গফুটের ৩০৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৩০ ফুট প্রস্থের এ আধুনিক মানের সুইমিংপুল নির্মাণ করা হচ্ছে, যা আমাদের ক্রীড়াবিদদের উৎকর্ষ সাধনে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকমানের সাঁতারু গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।’ আলী আব্বাস আরও বলেন, ‘ক্রিকেট-ফুটবল-হকি-হ্যান্ডবলের চর্চায় যেমন খেলার মাঠের প্রয়োজন, তেমনি সাঁতারচর্চার জন্যও সুইমিংপুলের প্রয়োজন। চট্টগ্রাম একটি বিভাগীয় শহর হওয়া সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও এখানে একটি সুইমিংপুল নেই, চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের সাঁতার শেখার সুযোগও নেই। এ লজ্জা আমাদের সবার। বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ছাত্রলীগ সুইমিংপুল ঘেরাও কর্মসূচির নামে আউটার স্টেডিয়ামে তাণ্ডবে মেতে ওঠে।

৩০ লাখ টাকা না পেয়ে নারী উদ্যোক্তাকে বৈদ্যুতিক শক

রিমান্ডের নামে থানা হাজতে এনে দাবি করেছিলেন ৩০ লাখ টাকা। আর তা দিতে অস্বীকার করায় বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয় স্তন ও গোপনাঙ্গে। এতে অজ্ঞান হলেও দেয়া হয় শরীরের আরও কয়েক স্থানে গরম তারের ছ্যাঁকা। এসব অভিযোগ কক্সবাজার থানার এসআই মানস বড়ুয়ার বিরুদ্ধে। নিজের ওপর ঘটে যাওয়া দুঃসহ স্মৃতি উল্লেখ করতে গিয়ে কক্সবাজারের নারী উদ্যোক্তা জীবন আরা কেঁদে ফেলেন। কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসআই মানস বড়ুয়াকে পুলিশের কলঙ্ক উল্লেখ করে জীবন আরা বলেন, কক্সবাজার শহরতলির লিংক রোডে নিজস্ব পাকা ভবনের দ্বিতীয়তলায় অন্য দিনের মতো ২ মার্চ ব্যবসায়ী স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। মাঝ রাতে পুলিশ তাদের ডেকে বাড়িতে ঢোকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাড়ি তল্লাশির কথা বলে সবাইকে চোখ বেঁধে এক কোনায় বসিয়ে রাখে। এরপর এক পুলিশ সদস্য বলে ওঠেন, স্যার ইয়াবা পাওয়া গেছে। বাড়িতে ইয়াবা পাওয়ার কথা বলে রাতেই স্বামী আলী আহমদ সওদাগর ও তাকে থানায় এনে হাজতে রাখা হয়। তাদের আনার সময় পুলিশ তার বাসা থেকে ব্যাংক চেক, স্বর্ণালঙ্কার ও একটি প্রাইভেট কারও নিয়ে যায়। কিন্তু সিজার লিস্টে গাড়িটি জব্দের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি। স্বামী-স্ত্রীকে তিন দিন থানা হাজতে রেখে মাদক মামলায় জীবন আরাকে এক নম্বর আসামি করে চালান দেয়া হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কারাগারে নেয়ার ১০ দিন পর রিমান্ডের নামে জীবন আরাকে ১৩ মার্চ থানায় এনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মানস বড়ুয়া প্রথমে তার স্বজনদের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন। সেই টাকা দিতে না চাওয়ায় তার স্তন ও গোপনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। জ্ঞান ফেরার পর দেখেন শরীরের আরও কয়েক স্থানে গরম ছ্যাঁকার ফোসকা পড়েছে। এ অবস্থায় তাকে কারাগারে আনা হয়। বিনা চিকিৎসায় থাকায় বৈদ্যুতিক শকের ক্ষতস্থান থেকে পচা গন্ধ বের হলে কারা কর্তৃপক্ষ পরে সদর হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের নথিতে বৈদ্যুতিক শকের কথা উল্লেখ করেছেন। এসব কথা উল্লেখ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য আদালতে জামিন চাওয়া হয়। আদালত নারী কর্মকর্তা দিয়ে চেকআপ করার পর তথ্যের সত্যতা পেয়ে ২৩ মার্চ জামিন দেন। ঘটনার খবর পেয়ে নারী কল্যাণ সমিতি তার পক্ষে কাজ করছে দেখে তার পরিবারের ওপর নেমে আসে পুলিশি হয়রানির খড়গ। কোথাও কোনো অভিযোগ কিংবা কিছু করা হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে কড়া নজরদারি বসায় পুলিশ। কক্সবাজার হাসপাতালে পুলিশ বারবার ডিস্টার্ব করছে দেখে জীবন আরাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চমেকে তার শারীরিক অবস্থা দেখে তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, যথাযথ চিকিৎসা না পেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন জীবন আরা। কেন এ পুলিশি হয়রানি- এমন প্রশ্ন করা হলে জীবন আরা বলেন, তিনি একজন নারী উদ্যোক্তা। নিজ ভবনে তার একটি বিউটি পার্লার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। যেখানে প্রতি তিন মাস অন্তর এক ব্যাচে ১৫ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কারও পেয়েছেন। পেয়েছেন সরকারি উদ্যোক্তা ঋণও। এ সুবাদে পরিচয় হয় ঢাকার পশ্চিম উত্তরার কামালপাড়ার সিরাজুল হকের স্ত্রী সীমা আক্তারের সঙ্গে। তিনি কক্সবাজার এসে ঢাকায় যৌথ মূলধনে একটি পার্লার করার প্রস্তাব দেন। তার কথায় বিশ্বাস এনে রাজি হয়ে চুক্তির পর চলতি বছরের শুরুর দিকে ২৩ লাখ টাকাও দেন তিনি। এটিই কাল হয়েছে তার। সীমা ব্যবসা খোলার পরিবর্তে সে টাকায় ঢাকায় বাড়ি নির্মাণ করছেন। জানতে পেরে ঢাকায় গিয়ে তিনি নোটারির মাধ্যমে ২৩ লাখ টাকার পরিবর্তে তার ব্যবহৃত একটি কার বন্ধক দেন। কথা ছিল টাকা পরিশোধ করে গাড়ি নিয়ে যাবেন। কিন্তু তা না করে ১০ লাখ টাকায় কক্সবাজার সদর থানার ওসিসহ কয়েক অফিসারের সঙ্গে চুক্তি করে জীবন আরাকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন।
এ পরিকল্পনাস্বরূপ তাকে এবং তার স্বামীকে ইয়াবা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে সীমার কারটি তাকে ফেরত দিয়েছে পুলিশ। অথচ তার সঙ্গে করা ডিট ও গাড়ির সব কাগজপত্র এখনও তার হেফাজতে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আদালতের মাধ্যমে জামিনে এলেও আটকের দিন বাড়ি থেকে নিয়ে আসা জিনিসের হদিসও দিচ্ছে না পুলিশ। সীমার দেয়া টাকা হজমের পর ব্যবসায়ী স্বামীর কাছ থেকে টাকা আদায়ে ওসিসহ অন্যরা পরিকল্পনা করে তার ওপর বর্বরতা চালান বলে উল্লেখ করেন জীবন আরা। কারাগার থেকে বের হয়ে নির্যাতনের সঠিক বিচার পেতে সহায়তার জন্য ২৬ মার্চ শহরের ঝাউতলা নারী কল্যাণ সমিতিতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে পুলিশ আবার তার ওপর হামলা চালায়। ওই সময় নুনিয়ারছড়ায় ইট দিয়ে পিটিয়ে তার দেবর জাহাঙ্গীরের পা ভেঙে দেন এসআই মানস। জীবন আরা আরও জানান, সদর থানা পুলিশের পরিকল্পনায় এসআই মানস বড়ুয়ার অমানবিক নির্যাতনের বিষয় উল্লেখ করে ২৬ মার্চ কক্সবাজারের পুলিশ সুপারসহ পুলিশ সদর দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকেও। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জীবন আরা। সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার নারী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ফাতেমা নার্গিস ডেজি, সাধারণ সম্পাদক হোসনে আরা ও অর্থ সম্পাদক রেহেনা আক্তার পাখিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। নির্যাতনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন বলে জানান নারী নেতারা। অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসআই মানস বড়ুয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগকারী আমার তদন্তাধীন মামলার আসামি। তাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতেই পারেন। এতে আমার কিছুই হবে না। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন বলেন, একজন নারীকে আমার এক এসআই নির্যাতন করেছে বলে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তদন্ত করছেন। উভয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অস্ত্র হাতে সেই আইএস জঙ্গি ফেঞ্চুগঞ্জের নবীন

দুই বছর আগে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে পড়ে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক পরিবারের ১২ সদস্য। তারা সবাই সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দেয় বলে সে সময় জানিয়েছিলেন দেশে থাকা তাদের স্বজনরা। সম্প্রতি আইএসের পক্ষ থেকে অস্ত্র হাতে যে বাংলাদেশি যুবকের ছবি প্রকাশ করা হয় তা ওই পরিবারের সদস্য নবীনের বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (গণমাধ্যম) সুজ্ঞান চাকমা যুগান্তরকে বলেন, অস্ত্র হাতে যে যুবকের ছবি ছড়ানো হয়েছে তা নিখোঁজ পরিবারটির সদস্য নবীনের বলে জানা গেছে। স্বজনরা ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেছেন। স্বজনদের কাছ থেকে জঙ্গি পরিবারটির সম্পর্কে তথ্য নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জঙ্গি পরিবারটির গ্রামের বাড়ি ও তাদের স্বজনদের আগে থেকেই নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। সুজ্ঞান চাকমা দাবি করেন, ছড়িয়ে পড়া ছবিটি সাম্প্রতিককালের নয়। কমপক্ষে এক বছর আগের। এদিকে আইএসে যোগ দেয়া পরিবারটির প্রধান আবদুল মান্নানের ছোট ভাই আবদুল লতিফ ফেঞ্চুগঞ্জে গ্রামের বাড়িতেই থাকেন। সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া অস্ত্র হাতে ছবিটি নিখোঁজ ভাতিজা নবীনের বলে তিনি আইনশৃংখলা বাহিনীকে জানিয়েছেন। তার পুরো নাম জাহিদ হোসেন নবীন। আবদুল লতিফ বলেন, যুক্তরাজ্যে থাকা আমাদের আত্মীয়ের কাছে একজন ইমেইলের মাধ্যমে ছবিটি পাঠিয়েছেন। তবে কে, কোথা থেকে ছবিটি পাঠিয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমার ভাই-ভাতিজা ২০১৫ সালের এপ্রিলে লন্ডন থেকে দেশে আসে। এক মাস পর দেশত্যাগ করে। তারা লন্ডনে গেছে কিনা তা জানার জন্য সেখানে থাকা আমার অন্য আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা আমাকে জানায়, তুরস্কে যাওয়া পর্যন্ত তাদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে।
এরপর আর ওই পরিবারের খবর মেলেনি। ব্রিটিশ পুলিশসহ স্বজনের মাধ্যমে খবর পেয়েছি, আইএস জঙ্গিদের সহায়তায় নবীনসহ পরিবারের ১২ জনই সিরিয়ায় চলে গেছে। নবীনের ছোট বোন রিজিয়ার প্ররোচনায় তারা সিরিয়ায় যায়। দেশে আসার কয়েক মাস আগে আরেকবার রাজিয়াসহ তার তিন বান্ধবী লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর হয়ে তুরস্কে যেতে চাইলে সেখানকার পুলিশ তাদের যেতে দেয়নি। সিরিয়ায় পাড়ি দেয়াদের মধ্যে নবীন ছাড়াও রয়েছে নবীনের বাবা আবদুল মান্নান, মা মিনারা বেগম, বড় ভাই সালেক হোসেন, মারিয়া বেগম, বোন রাজিয়া বেগম, তৌফিক হোসেন, আকিফ হোসেন, মান্নানের ছোট ভাই আবুল কাশেম, তার মেয়ে ফাতিমা বেগম, আবদুল মান্নানের ছেলে সালেকের স্ত্রী রওশন আরা বেগম ও তাদের এক মেয়ে। তারা যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ারের লুটন শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করত। নবীনের চাচাতো ভাই সাব্বির হোসেন বলেন, সোমবার আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়িতে এসেছিল। তারা অস্ত্র হাতে থাকা ছবিটির পরিচয় ছাড়াও আরও অনেক তথ্য জানতে চায়।

চার দিনে আস্ত নদী গায়েব

কানাডায় স্লিমস নামের একটি বড় নদী মাত্র চার দিনেই হারিয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমশৈল সরে যাওয়ায় পানিপ্রবাহ ভিন্ন ধারায় ঘুরে গিয়ে এমনটি হয়েছে। একে পরিবেশবাদীরা বলছেন নদীদস্যুতা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের ঘটনাটি ঘটেছে গত বছরের বসন্তে, মে মাসের ২৬ থেকে ২৯ মে সময়কালে। ওই সময়ে হিমবাহের বরফ গলার তীব্রতা বাড়ে। এতে স্লিমসের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে আরেকটি নদীর অনুকূলে চলে গেছে। গবেষকরা বলছেন, স্লিমসের পানি আলাস্কা উপসাগরের দিকে গেছে, যা এর মূল গন্তব্য নয়। মূল গন্তব্য ছিল এর থেকে হাজারও কিলোমিটার দূরে। শত শত বছর ধরে কানাডার ওয়োকন এলাকার কাসকাওয়ালস হিমবাহ থেকে স্লিমস নদী হিমবাহের বরফ গলা পানি উত্তর দিকের ক্লুয়েন নদীতে ফেলছে। পরে তা ইয়ুকন নদী হয়ে বেরিং সাগরে গিয়ে পড়ছে। কিন্তু ২০১৬ সালের বসন্তে মাত্র চার দিনের মধ্যেই পুরো চিত্র বদলে যায়। গবেষক দলের একজন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক জেমস বেস্ট বলেন, আমরা যথারীতি স্লিমস নদী পরিমাপের জন্য ওই অঞ্চলে গিয়েছিলাম।
কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি, নদীগর্ভ এলাকা কমবেশি শুকিয়ে গেছে। আগে যে বদ্বীপে আমাদের নৌকা করে যেতে হয়েছিল, সেখানে তখন ধূলিঝড় বইছিল। ভূদৃশ্য পরিবর্তনে এটি অবিশ্বাস্য নাটকীয় পরিবর্তন। ওয়াশিংটন টাকোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানী ড্যান শুগার বলেন, এখানকার পানিতে চলা ছিল বিপজ্জনক। পুরনো নদীগর্ভে হাঁটার সময় যেকোনো সময় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু দিনের পর দিন আমরা পানির স্তর কমে যাওয়া দেখলাম। গবেষক বেস্ট বলেন, ‘আমরা দেখলাম হিমবাহের সামনের দিক থেকে যত পানি আসত, তা দুটি ভাগে বিভক্ত হওয়ার বদলে একটিতে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে।’ গত বছরে স্লিমস ও আলাস্কার আকার তুলনামূলকভাবে প্রায় সমান থাকলেও এখন আলাস্কা ৬০ থেকে ৭০ গুণ বড় হয়ে গেছে। এ পরিবর্তন ঘটেছে হঠাৎ করেই। ওয়াইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লনি থম্পসন বলেন, পর্যবেক্ষণটির মাধ্যমে ক্রমাগত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে আকস্মিক ও প্রচণ্ড পরিবেশগত প্রভাবের বিষয় ওঠে এসেছে। কিছু প্রান্তিক মানের বিষয় আছে, যা প্রকৃতিতে চলে গেলে সবকিছু হঠাৎ পরিবর্তন হতে শুরু করে।

অধিকাংশ মামলায় হেরে যায় দুদক

অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানে সন্তোষজনক ফল মিললেই কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শুধু তাই নয়, মামলার পর তদন্তে যদি সেই অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই দেয়া হয় চার্জশিট। এত ধাপ সম্পন্ন করেও অধিকাংশ মামলায় হেরে যায় দুদক। এতে আদালতের রায় নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত হচ্ছেন ‘চিহ্নিত দুর্নীতিবাজরা’। এ তলিকায় রয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রভাবশালী ব্যক্তিও। যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্বল তদন্ত, সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত না করানো, আলামত নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং বিচারের সময় মামলার পিপিদের মনোযোগ না থাকার কারণেই মূলত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বিচারে দীর্ঘসূত্রতা এবং তদন্তের ভুলত্রুটি চিহ্নিত হওয়ার পরও তা বিচারের সময় সংশোধনের উদ্যোগ না নেয়ার কারণেও কোনো কোনো সময় মামলার রায় আসামিদের পক্ষে চলে যায়। তবে নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট না থাকায় মামলা পরিচালনায় চুক্তিতে নিয়োজিত দুদক আইনজীবীদের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। দুদক ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে ৮০ শতাংশ মামলায় হেরেছে দুদক। এছাড়া ২০১২ সালে ৬৮ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৬৩ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৫৪ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৬৩ শতাংশ ও ২০১৬ সালে ৪৬ শতাংশ মামলার রায় আসামির পক্ষে গিয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মামলায় আসামির সাজার হার কম হওয়ার বিষয়টিকে তাদের নিজেদের এক ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে মনে করছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, সাজার হার শতভাগে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৪ সালের দুদকের আইনের ৩৩ বিধিতে নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট গঠনের কথা বলা আছে। তবে দুদক থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এমনকি দুদকের প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামোতেও এ পদের বিষয়ে কিছু বলা নেই। এ প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট করার বিষয়টি আমাদের চিন্তাভাবনায় আছে। কারণ এ বিষয়টি দুদক আইনেও আছে। তবে আমাদের ভাবতে হবে আইনজীবী পাওয়া যাবে কিনা। এ ছাড়া এর সঙ্গে সরকারের আর্থিক সংশ্লিষ্টতাও আছে। এগুলো সব দেখে ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
হেরে যাওয়া কয়েকটি মামলার রায়
কেন মামলাগুলোয় দুদক হেরে যায়, তার কারণ ফুটে উঠেছে গত দুই বছরে নিষ্পত্তি হওয়া চার ধরনের দুর্নীতির কয়েকটি মামলার রায়ের কপিতে। এতে তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদক আইনজীবীদের গাফিলতির একটি চিত্রও সুস্পষ্ট হয়েছে। নিচে এসব মামলার রায় ও আদালতের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হল। বাংলাদেশ পানি উন্নয়র বোর্ডের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম আলী আজমের বিরুদ্ধে ১২ লাখ ৮০ হাজার ৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছিল দুদক। মামলা দায়েরের পর তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর আলী আজমের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর প্রায় দুই বছর পর ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল আসামির বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় চার্জ গঠন করা হয়। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি (বিচার শুরুর ৫ বছর পর) ঢাকার ৪নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আতাউর রহমান মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুদক থেকে আনীত অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থতায় আসামি আলী আজমকে খালাস দেয়া হয়। আলী আজমকে খালাস দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রায়ের পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়, দুদকের প্রসিকিউশন ৫ জন সাক্ষী আদালতে হাজির করে। এর মধ্যে দুদকের মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তাও রয়েছেন। রায় থেকে জানা যায়, আলী আজমের সঙ্গে বিরোধ ছিল সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির। তিনি ২০০৭ সালে আলী আজমের বিরুদ্ধে দুদকে একটি অভিযোগ করেন। তার অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য নিয়ে আলী আজমের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয় দুদক। তার ভিত্তিতেই মামলাটিও দায়ের করা হয়।
বিচার চলাকালে আসামিপক্ষ আদালতকে জানায়, আলী আজমের ২০০৭-০৮ করবর্ষে আয়কর নথিতে অর্জিত আয় ৩ লাখ ৯৩ হাজার ২৭৭ টাকা প্রদর্শন করলেও দুদক কর্মকর্তা তা কমিয়ে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২৭৭ টাকা দেখিয়েছেন। একইভাবে ২০০৮-০৯ করবর্ষে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৮ টাকা কম দেখিয়েছেন। এভাবে তার প্রদর্শিত বৈধ আয় ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১২২ টাকা বিবেচনায় না নিয়ে ১২ লাখ ৮০ হাজার ৩৪ টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা করেছেন। রায়ে বলা হয়, তদন্তকারী কর্মকর্তা কেন আসামির আয় কম দেখিয়েছেন, তার কোনো ব্যাখ্যা তদন্ত প্রতিবেদনে দেননি। এমনকি সাক্ষীর সাক্ষ্যেও কোনো বর্ণনা বা ব্যাখ্যা প্রদান করেননি। ফলে আসামির আয় কম দেখানো বেআইনি ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত। রায়ে আরও বলা হয়, মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য এবং তাদের প্রতিবেদনে আসামির নিট আয় দেখানো হয়েছে ৫০ লাখ ১ হাজার ৭৩৬ টাকা। অথচ তার সম্পদের পরিমাণ ৬২ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৯ টাকা। তদন্ত প্রতিবেদনে আসামির ১২ লাখ ৮০ হাজার ৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে মর্মে দুদক থেকে অভিযোগ আনা হলেও তা বিচারে প্রমাণিত হয়নি বলে বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন। রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। মামলার সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আসামি আলী আজমকে খালাস দেয়া হয়। দুদকের পক্ষে নিয়োজিত পিপি মীর আহমেদ আলী সালাম যুগান্তরকে বলেন, আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে যাব। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি মামলা প্রমাণের। তারপরও বিচারক যে রায় দিয়েছেন তা মেনে নিতে হচ্ছে। কারা অধিদফতরের উচ্চমান সহকারী আবদুল হকের বিরুদ্ধে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল। আবদুল হক কারা অধিদফতরের স্টেশনারি শাখার দায়িত্বে থাকাকালীন তেজগাঁও মুদ্রণ লেখসামগ্রী ফরম ও প্রকাশনা অধিদফতর থেকে স্টেশনারি মালামাল বুঝে নিয়ে তা কারা অধিদফতরে জমা না করে বিক্রি করে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়। দুদকের মামলার আগে আবদুল হকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়। এ সময় তাকে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য বলা হলেও তিনি তা করেননি।
দুদক তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ৮ আগস্ট আবদুল হকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ৪ লাখ ২৭ হাজার ১৩৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ‘প্রমাণিত’ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলায় বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে বিচারক ২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আবদুল হককে খালাস দেন ঢাকার ৪নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আমিনুল হক। রায় দেয়ার আগে বিচারক তিনটি বিষয়ের দিকে নজর দেন। আসামি আবদুল হক স্টেশনারি মালামালের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন কিনা, প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন কিনা এবং আসামির বিরুদ্ধে আনীত ধারায় তিনি শাস্তি পাবেন কিনা। বিচার চলাকালীন বিচারক ১২ জনের সাক্ষ্য পর্যালোচনা করেন। এর মধ্যে ৭ জনই হলেন কারা অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের অনেকেই সাক্ষ্য প্রদানকালে আবদুল হকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের কথা শুনেছেন বলে বক্তব্য দেন। তবে তারা বলেছেন, আবদুল হক চাহিদা মাফিক স্টেশনারি মালামাল অফিসে জমা করতেন। তিনি সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কেউ বলেছেন, আত্মসাতের বিষয়ে শুনলেও এর চেয়ে বেশি কিছু তারা জানেন না। বিচারক বলেন, শোনা সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে ন্যায়বিচার বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কারণ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটলে সবাই জেনে থাকেন।
আবদুল হকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হলেও আত্মসাতের অভিযোগে তাকে দায়ী করা হয়নি। বরং বেআইনিভাবে অফিসে অনুপস্থিত থাকার কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। দুদকের প্রসিকিউশনও তাদের তদন্ত কিংবা আদালতে আনা সাক্ষীদের কাছ থেকে আবদুল হকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সপক্ষে অকাট্য প্রমাণ করতে পারেনি। এমনকি তারা অভিযোগের বিষয়ে যুক্তিতর্ক শুনানির সময় সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা আদালতে দিতে পারেনি। স্টেশনারি মালামাল সম্পর্কিত স্টক রেজিস্টারের বিষয়ে আসামি আবদুল হককে দায়ী করা হলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন মর্মে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেননি। আসামির বিরুদ্ধে স্টেশনারি মালামাল উত্তোলন করে অফিসে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার ঘটনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়নি। ফলে তাকে অভিযোগের দায় থেকে খালাস দেয় হল। কমলাপুর আইসিডির ইন্সপেক্টর (প্রিভেন্টিভ শাখা) আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, ২০০৮ সালে জনৈক আমদানিকারক তাকে ২ হাজার টাকা (৫০০ টাকার চারটি নোট) ঘুষ দিতে বাধ্য হন। একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাঠপর্যায়ের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আবুল হাসেমের অফিস তল্লাসি করে মানিব্যাগ থেকে ৪ হাজার ৬৮২ টাকা উদ্ধার করেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, রাসেল নামে এক যুবকের কাছ থেকে ৬ হাজার ৫২০ টাকা ও তার অফিস কক্ষের পাশের গুদাম ঘরে পুরনো স্টিলের ফাইল কেবিনেট থেকে ৫৮ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। ওই টাকাসহ তাকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে মামলা করে দুদক। ঢাকার ২নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক হোসনে আরা বেগম ২০১৬ সালের মার্চে এ মামলার রায়ে আসামি আবুল হাসেমকে খালাস দেন। বিচারক তার রায়ে বলেন, মামলার বিচার চলাকালীন ঘুষের চারটি ৫০০ টাকার নোটের ফটোকপি সম্পর্কে মামলার বাদী কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেন। বাদী তার এজাহারের সমর্থনে বক্তব্য দিলেও আইনজীবীদের জেরায় তিনি বলেন, ২০০৮ সালের ১৪ আগস্ট তিনি কমলাপুর আইসিডির প্রিভেন্টিভ কক্ষে যাননি।
এজাহারে যে আমদানিকারকের মাধ্যমে ঘুষ প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই আমদানিকারককে তদন্তকালে খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাও আদালতে বলেছেন, মামলার বাদী ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না। রায়ে বলা হয়, জব্দ তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ ঘটনা সংবলিত নথি-৫ জব্দ করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই নথি আদালতে দাখিল বা উপস্থাপন করেননি। ঘটনার সময় উপস্থিত আইসিডির যুগ্ম কমিশনার ওয়াহিদা রহমান তার জবানবন্দিতে জব্দকৃত আলামত হিসেবে নথি ও টাকা তার জিম্মায় থাকার কথা বললেও পরে জানান ওই নথি ঢাকার কাস্টম হাউসের কমিশনার বরাবর পাঠিয়ে দেন। কিন্তু কাস্টম হাউস থেকে কোনো দালিলিক নথি সাক্ষ্য হিসেবে এ মামলায় প্রেরণ করেনি। বহিরাগত রাসেলের কাছ থেকে এবং স্টিলের ক্যাবিনেট থেকে ঘুষের টাকা উদ্ধারের বিষয়টি পরোক্ষ, মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ হয়নি। সার্বিক বিচার বিবেচনায় বিচারক আসামি আবুল হাসেমকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। এরকম অসংখ্য মামলায় দুদকের হেরে যাওয়ার রেকর্ড আছে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই তা বোঝা যায়। কিন্তু কেন ‘অকাট্য তথ্যপ্রমাণের’ ভিত্তিতে মামলা করেও দুদক হেরে যাচ্ছে- এমন প্রশ্নে দুদকের এক পিপি যুগান্তরকে বলেন, বাইরে থেকে অনেক কথাই শোনা যায়। কিন্তু আমরা যখন বিচার শুনানি করি,
তখন দেখতে পাই মামলাভেদে ক্ষেত্রবিশেষ কিছু অসংগতি থেকে যায়। আবার সাক্ষীরা এসে আদালতে সত্য প্রকাশ করতে চান না। অনেকে আবার সাক্ষ্য দিতেই আসেন না। সম্পদের মামলার ক্ষেত্রে আয়কর বিভাগ যে সম্পদ বৈধ ঘোষণা করে তার সপক্ষে আসামিপক্ষ থেকে জোরালো যুক্তি তুলে ধরা হয়। বিচার দীর্ঘায়িত হলে অনেক আলামত আবার নষ্টও হয়ে যায়। তিনি বলেন, কাউকে হয়রানির জন্য মামলা হচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর দেয়া উচিত। সেই সঙ্গে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সংজ্ঞাও ঠিক করা উচিত। বিচারিক আদালতে হেরে যাওয়া মামলার বিষয়ে দুদক কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে জানতে চাইলে দুদকের মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মঈদুল ইসলাম বলেন, আমরা এ ধরনের মামলায় ‘মেরিট’ বিবেচনায় আপিল করে থাকি। তিনি বলেন, আমরা মামলায় কেন হেরে যাচ্ছি, তার কারণ আইনজীবীদের কাছ থেকেও জানার চেষ্টা করছি। প্রাপ্ত ভুলত্রুটির যাতে পুনারাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে ভবিষ্যতে মামলা পরিচালনার জন্য তাদের বলা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, যেসব মামলায় দুদক জিতেছে, সেগুলোয়ও আবার আসামিরা আপিল করে থাকে। আমাদের সেসব মামলারও শুনানি করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুদক যেসব মামলায় বিচারিক আদালতে হেরে যায়, তার অর্ধেক মামলায় ওই রায়ের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল আপিল করে থাকে। অন্যদিকে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরাও তাদের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে থাকে। রিট, ক্রিমিনাল আপিল ও ক্রিমিনাল রিভিশনসহ বর্তমানে উচ্চ আদালতে ২ হাজার ৯৭০টি দুর্নীতি মামলার বিচার নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৮৯টি ক্রিমিনাল মিসকেস, ৯২৪টি রিট,
৩৬৭টি ক্রিমিনাল আপিল (সাজা ও খালাসের বিরুদ্ধে আপিল) ও ২৯০টি মিসকেস রয়েছে। তবে ২০০৯ সালের আপিলের নিষ্পত্তি এখনও শেষ হয়নি। দুদকের কাছে থাকা সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, আসামিরা দুদকে কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যেসব রিট মামলা করেছে, তার ৮০ ভাগ রিটে দুদক জিতেছে। অন্যদিকে বিচারিক আদালতের সাজা ও খালাসের রায় হাইকোর্টে বহাল রয়েছে ৭০ ভাগ মামলার। সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মামলা করেও দুদক কেন হেরে যাচ্ছে- এমন প্রশ্নে দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি বলব, বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুদক বেশিরভাগ মামলায় হেরে যাচ্ছে। বিচার বিলম্বিত হলে সাক্ষী খুঁজে পাওয়া যায় না, মামলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাভিডেন্স নষ্ট হয়ে যায়। যিনি অনুসন্ধান বা তদন্ত করেছেন দেখা গেল তিনি অবসরে চলে গেছেন।’ গোলাম রহমান বলেন, অনুসন্ধান ও তদন্তকারী কর্মকর্তার কাজে ফাঁকফোকর রাখা হলে এর প্রভাবও বিচারে পড়ে। হয়তো ওপরের চাপে তিনি আদালতে একটা প্রতিবেদন দেন। কিন্তু তদন্তে ত্রুটি থাকলে আসামিরা সেই সুযোগটিও পায়। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দুদকে এ মুহূর্তে প্রয়োজন ভালো আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি দক্ষ প্যানেল। তাদের দিয়ে দুর্নীতির মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলে দুদক লাভবান হবে বলে আমি মনে করি। এ ছাড়া টিআইবির ট্রাস্টির সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান যুগান্তরকে বলেন, দুদকের নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট থাকা দরকার। এটা করা হলে আইনজীবীদের জবাবদিহিতা বাড়বে। দুদক কেন তাদের মামলায় হেরে যায়, সে বিষয়টিও কমিশনকে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী ভুটানে বাণিজ্য প্রসারে চুক্তি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে যোগাযোগের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণে কয়েকটি চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশের। সহযোগিতার নতুন পথ খুঁজতে মঙ্গলবার থিম্পুর রয়াল ব্যাংকুয়েট হলে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তেসারিং তোবগের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। শীর্ষ বৈঠকের পর দ্বৈত কর প্রত্যাহার, বাংলাদেশের নৌপথ ভুটানকে ব্যবহার করতে দেয়া, কৃষি, সংস্কৃতি ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তিনটি চুক্তি ও দুটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করে প্রতিবেশী দু’দেশ। বাংলাদেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ডিজি মনোয়ার হোসেন। অন্যদিকে ভুটান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা চুক্তি ও স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এর আগে তিন দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার সকালে ভুটান যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্যারো বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী তোবগে এবং থিম্পুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জিষ্ণু রায় চৌধুরী।
এ সময় তাকে খাদার (স্কার্ফ) উপহার দেয়া হয়। ভুটান সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেন। বিমানবন্দর থেকে বর্ণাঢ্য মোটর শোভাযাত্রাসহ প্রধানমন্ত্রীকে লা মেরিডিয়ান থিম্পু হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ভুটান সফরকালে এখানেই অবস্থান করবেন। সেখানে ভুটানের রয়েল প্রিভি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান লিয়েনপো চেনকাব দর্জি তাকে অভ্যর্থনা জানান। প্যারো বিমানবন্দর থেকে ভুটানের রাজধানীর ৭০ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ এবং শিশু-কিশোর দুই দেশের পতাকা হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান। সম্মেলন উপলক্ষে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্বাগত জানিয়ে রাজধানী শহরকে বাংলাদেশ ও ভুটানের পতাকা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভুটানের রাজা ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। থিম্পুর গ্যালয়ং শংখানে শীর্ষ বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনার মধ্যে যেগুলো জোরালোভাবে উঠে এসেছে সেগুলো হল দু’দেশের কানেকটিভি ধরে ব্যবসা ও বাণিজ্য বৃদ্ধি। দু’দেশের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়ে শহীদুল হক বলেন, এই এমওইউ সইয়ের ফলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুবিধা হল। বিশেষ করে দ্বৈত করের ক্ষেত্রে। এতে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। একাত্তরে বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদাতা দেশ হিসেবে ভুটানের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব।
সেই সম্পর্ককে ধরে রাখার জন্য ভুটানের রাজা বাংলাদেশকে একখণ্ড জমি দিচ্ছেন যেখানে বাংলাদেশের দূতাবাস গড়ে তোলা হবে। সে বিষয়ে আজ একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে শহীদুল হক জানান। ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী ভুটানের সমর্থন চেয়েছেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জলবিদ্যুতে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে শেখ হাসিনার। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, হাইড্রো বিদ্যুতের যে সম্ভাবনা আছে, সেটা একটা গেম চেঞ্জার হতে পারে এ অঞ্চলে। ভুটানে তিন দেশের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে এবং এটা রিজিওনালি ট্রান্সমিট করবে। তিনি জানান, ভুটানের সরকার একটা ‘হেলথ ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করেছে স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য। এই তহবিলে সহযোগিতা চেয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশি ডাক্তারদের থিম্পুতে সরকারিভাবে চাকরির বিষয়েও দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় উঠে আসে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদেশি ডাক্তাররা এখানে চাকরি করলে মাসে তিন হাজার ডলার পর্যন্ত বেতন দেয়া হবে। বাংলাদেশি ডাক্তাররা উৎসাহী হলে তাদের চাকরির সম্ভাবনা এখানে আছে। রংপুর মেডিকেল কলেজে ভুটানি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আসন বরাদ্দের কথাও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জানান। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল নিয়ে বিবিআইএন নামে যে উপ-আঞ্চলিক জোট গঠনের কাজ চলছে তা নিয়েও দুই প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেছেন বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। শেখ হাসিনা বলেছেন, বিবিআইএন এ এলাকার কানেকটিভিটির প্রধান করিডোর। এর বাস্তবায়নে ভুটানকে তিনি তাগিদ দেন। শহীদুল হক বলেন, কুয়াকাটা ও কক্সবাজারের সঙ্গে ভুটানকে নিয়ে একটি ‘টুরিজম করিডোর’ কীভাবে তৈরি করা যায় তা খুঁজে দেখতে একটি প্রতিনিধিদল পাঠাবে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভারতের মধ্য দিয়ে ফাইবার অপটিকসের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটা প্রস্তাব ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা- এটা সবাই মিলে যৌথভাবে করতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল মিলে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে। তোগবে বলেন, বিমসটেকের একটা বড় সম্ভাবনা আছে। তারা ভাবে যে, এই বিমসটেককে কাঠামো করেই এ এলাকার উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা দানা বাঁধতে পারে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দেন ভুটানকে। দু’দেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নৈশভোজে অংশ নেন শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক, অটিজম এবং নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার বিষয়ক সরকারের জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে দ্রুক এয়ারের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। বিমানবন্দরে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
শেখ হাসিনাকে ভুটানের রাজার বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা : বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার ন্যামগিল ওয়াংচুক এবং রানী জেটসুন পেম রাজপ্রাসাদ তাশিহোডজংয়ে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দিয়েছেন। বিকালে প্রধানমন্ত্রী রাজপ্রাসাদের প্রধান ফটকে পৌঁছলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে তাকে ভুটানের একজন মন্ত্রী ও সিনিয়র কর্মকর্তারা প্রাসাদের ভেতরে নিয়ে যান। এখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী ভুটানের রাজা ও রানীর সঙ্গে দর্শকদের সামনে উপস্থিত হন। পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক ও প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী ভুটানের রাজা ও রানীর সঙ্গে কিছু সময় একান্তে কাটান। শহীদুল হক বলেন, রাজা প্রথমবারের মতো তার ১৪ মাস বয়সী শিশুকে প্রধানমন্ত্রীকে দেখান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার পুত্রের ‘দাদি’ বলে উল্লেখ করেন।
আজ অটিজম সম্মেলন শুরু : ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে আজ থেকে শুরু হওয়া অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ভুটানের রাজা ও রানীর দেয়া ভোজে যোগ দেবেন। বিকালে শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে অটিজম ও অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্ট সমস্যার যথাযথ সমাধানে সক্ষমতা অর্জন শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন। শেখ হাসিনা হেজোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করবেন।

'প্রধানমন্ত্রী ভারতকে সবকিছু অবলীলায় দিয়ে এসেছেন'

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়ে কিছুই আনতে পারেননি। সবকিছু অবলীলায় বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি একথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য নয় আমাদের আন্দোলন গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই অভিন্ন নদীর পানি কারো দয়া নয়, এটা আমাদের অধিকার। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে এ প্রসঙ্গ নিয়ে সরকারকে জাতিসংঘে যাওয়ার আহ্বান জানান। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন। আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। মুক্তিযোদ্ধা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) জয়নাল আবেদিন, সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা।

কিশোরগঞ্জের দুই রাজাকারের ফাঁসির আদেশ

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি কিশোরগঞ্জের সৈয়দ মো. হুসাইন ও মোহাম্মদ মোসলেম প্রধানের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে আনা হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় ঘোষণা করা হয়। বুধবার বেলা ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে বেলা ১১টায়  রায় পড়া শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। গত ৭ মার্চ এই দু’জনের বিরুদ্ধে শুনানি শেষে মামলার রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। আদালতে ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ। আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান। দুই আসামির মধ্যে মোসলেম প্রধানকে গ্রেফতার করা হলেও হুসাইন পলাতক। তিনি মালয়েশিয়ায় রয়েছেন বলে প্রসিকিউশন জানায়। গত বছরের ৯ মে এই দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর এই দু’জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই দু’জনের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি অভিযোগ আনা হয়। গত বছরের ৭ জুলাই এই দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
সৈয়দ মো. হুসাইন ওরফে হোসেনের জন্ম ১৯৫১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিকলী থানা এলাকায় ‘রাজাকার দারোগা’ হিসেবে পরিচিত হুসাইন কিশোরগঞ্জ মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেন বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। সৈয়দ মো. হুসাইন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার পলাতক সৈয়দ মো. হাসান আলীর ভাই। অন্যদিকে ১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার কামারহাটি গ্রামে মোসলেম প্রধানের জন্ম। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিকলি ইউনিয়নের রাজাকার কমান্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেন বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। মোসলেম পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।

কিশোরগঞ্জের দুই রাজাকারের রায় পড়া চলছে

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি কিশোরগঞ্জের সৈয়দ মো. হুসাইন ও মোহাম্মদ মোসলেম প্রধানের বিরুদ্ধে রায় পড়া শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায় পড়া শুরু করেন। এর আগে মঙ্গলবার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। গত ৭ মার্চ এই দু’জনের বিরুদ্ধে শুনানি শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। আদালতে ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ। আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান। দুই আসামির মধ্যে মোসলেম প্রধানকে গ্রেফতার করা হলেও হুসাইন পলাতক। তিনি মালয়েশিয়ায় রয়েছেন বলে প্রসিকিউশন জানায়। গত বছরের ৯ মে এই দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর এই দু’জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
এই দু’জনের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি অভিযোগ আনা হয়। গত বছরের ৭ জুলাই এই দুই রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। সৈয়দ মো. হুসাইন ওরফে হোসেনের জন্ম ১৯৫১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিকলি থানা এলাকায় ‘রাজাকার দারোগা’ হিসেবে পরিচিত হুসাইন কিশোরগঞ্জ মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেন বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। সৈয়দ মো. হুসাইন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার পলাতক সৈয়দ মো. হাসান আলীর ভাই। অন্যদিকে ১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার কামারহাটি গ্রামে মোসলেম প্রধানের জন্ম। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিকলি ইউনিয়নের রাজাকার কমান্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেন বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। মোসলেম পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।

ভুটানে অটিজম সম্মেলন উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ভুটানের থিম্পুতে অটিজম বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে শেখ হাসিনা ভুটানের রাজকীয় আপ্যায়ন হলে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারস’ শীর্ষক তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকারগুলোকে এমন নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে যাতে কেউ অবহেলিত না থাকে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোগবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পুনম ক্ষেত্রপাল সিং। সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় অটিজম বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রীকন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ। বাংলাদেশ ও ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে; কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে সূচনা ফাউন্ডেশন (সাবেক গ্লোবাল অটিজম), অ্যাবিলিটি ভুটান সোসাইটি (এবিএস) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া কার্যালয়। এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য - ‘এএসডি ও অন্যান্য নিউরো ডেভেলপমেন্টাল সমস্যায় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য কার্যকর ও টেকসই বহুমুখী কর্মসূচি’। সম্মেলন উদ্বোধনের পর হেজোতে বাংলাদেশের চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিস্থাপন করবেন শেখ হাসিনা। বিকালে তিনি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে অটিজম ও অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্ট সমস্যার যথাযথ সমাধানে সক্ষমতা অর্জন শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবার ভুটান পৌঁছান শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার তিনে দেশে ফিরবেন।

দুর্নীতির বরপুত্র রাজউকের প্রধান পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম

ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি এবং গ্রাহকদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই মধ্যে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক হেলাল উদ্দিন শরীফের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম প্রায় দুই ঘণ্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। দুদকের একটি সূত্র জানায়, রাজউকের বিদ্যমান বিতর্কিত বিশদ নগর অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) কাটছাঁট করে নিজের সুবিধামতো ভূমি ছাড়পত্র দিয়েছেন সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট। মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, বাণিজ্যিক এলাকায় আবাসিক ভবন নির্মাণে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র দিয়েছেন হরহামেশা। আর এসব অবৈধ কার্যক্রম রাজউকের বোর্ড সভা, ড্যাপ রিভিউ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিকে ভুল বুঝিয়ে অনুমোদনও করে নিয়েছেন তিনি। এতে করে ড্যাপ গঠনের উদ্দেশ্য যেমন ভেস্তে গেছে, তেমনি ক্ষুণœ হয়েছে সরকারের ইমেজ। এসব ঘটনার নিখুঁত তদন্তের স্বার্থে ড্যাপ রিভিউ সংক্রান্ত সব কাগজপত্র তলব করে ইতিমধ্যে হাতে নিয়েছে দুদক। বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে গতকাল দুদক কার্যালয়ে দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত সিরাজুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে তাকে দুদুকে হাজির হতে নোটিশ দেয়া হয়। দুদকের আরেকটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে ভয়ে কাঁপছিলেন সিরাজুল ইসলাম। তাকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। এ সময় তিনি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে এলোমেলো জবাব দেন। ৯৪নং ইন্দিরা রোডের মৃত নজরুল ইসলামকে জীবিত দেখিয়ে তার নামে ১০ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন দিয়ে দুর্নীতির রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন এই সিরাজুল ইসলাম। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নির্বাক থাকেন রাজউকের দুর্নীতির বরপুত্র সিরাজুল ইসলাম। দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট আবাসিক প্লট হলেও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদন দেয়া হয়। আর এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন রাজউকের বর্তমান প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম। এসব বিষয়েও দুদকের পক্ষ থেকে যে ক’টি প্রশ্ন করা হয় সিরাজুল ইসলাম একটিরও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। রাজউক সূত্রে জানা যায়, ড্যাপ রিভিউ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠনের পর বিদ্যমান বিতর্কিত ড্যাপের ভুল-ক্রুটি সংশোধনের জন্য প্রায় আড়াই হাজার আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্য থেকে সর্বশেষ সভায় মাত্র ১০৫টি আবেদন উত্থাপন করে রাজউক। সেগুলোর সবই প্রভাবশালী মহলের। এর মধ্যে ৫১টি আবেদন ছিল অযৌক্তিক। মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সেসব আবেদন উত্থাপন করেন আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত সিরাজুল ইসলাম। যদিও মন্ত্রিসভা কমিটি সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে মাত্র ৫০টির অনুমোদন দিয়েছে।
বাকিগুলো বাদ দেয়া হয়। এখনও রাজউকের পরিকল্পনা শাখায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের আবেদন জমা পড়ে আছে। এসব রয়েছে তার নিয়ন্ত্রণে। ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের আবেদনের সঙ্গে ঘুষ গ্রহণের সুযোগ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও সেসব থেকে দূরে রেখেছেন সিরাজুল ইসলাম। নায়েব নামের তার কম্পিউটার অপারেটরকে এসব কাজে ব্যবহার করছেন। আর তার দুর্নীতির আরেক সঙ্গী হচ্ছেন রাজউকের উপনগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগ। দুদক সিরাজুল ইসলামের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করলেও দুর্নীতির বরপুত্রের একান্ত সহযোগী কামরুল হাসান সোহাগ ও কম্পিউটার অপারেটর নায়েবের ব্যাপারে তদন্ত না করায় রাজউকের অনেকে মনে করছেন, এভাবে তদন্ত করলে সঠিক চিত্র বের করে আনা কঠিন হবে। এজন্য রাজউকের অপেক্ষাকৃত সৎ কর্মকর্তারা চান, কামরুল হাসান সোহাগ ও নায়েবের বিরুদ্ধে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের অনিয়ম নিয়ে দুদকের তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস এলাকা এবং বাংলাদেশের রাজধানী শহরের মাস্টার প্ল্যান নিয়ে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাক এটা রাজউকের বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী চান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল জানান, রাজউকের দুর্নীতির ঘটনায় যারাই জড়িত থাকবে, অনুসন্ধান ও তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে। দুদকের উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুদক কার্যালয়ে সিরাজুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া মঙ্গলবার রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফ আলী আকন্দ ও অথরাইজড অফিসার এজেডএম শফিউল হান্নানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।