Thursday, March 10, 2011

জন্মদিনে খুনে টেলর

এই রস টেলরকে কি আগে দেখেছে কেউ? না, ব্যাটিংয়ের কথা বলা হচ্ছে না। ওয়ানডেতে এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় ইনিংস, তবে এমন খুনে ইনিংস এর আগেও বেশ কয়েকটি খেলেছেন। কিন্তু আবেগের এমন বিস্ফোরণ? আগে কখনো দেখা যায়নি।
৯৬ থেকে শোয়েব আখতারের শর্ট বলটিকে পুল করেই বুঝেছিলেন গ্যালারিতে যাচ্ছে। দুই হাত ওপরে, বাতাসে থাবা—এ পর্যন্ত অন্য রকম কিছু ছিল না। কিন্তু এরপরই চিৎকার করে কী যেন বললেন, কাকে উদ্দেশ করে কে জানে। হয়তো সমালোচকদের উদ্দেশে, হয়তো বুকে চেপে থাকা পাষাণ ভারটা নেমে যাওয়ার স্বস্তিতে। এরপর বসে পড়লেন, ব্যাটটা ক্রমাগত ঠুকছিলেন উইকেটের ওপর, যেন মাটি চাপা দিচ্ছিলেন দুঃসময়কে!
আড়াই বছর ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি নেই। সর্বশেষ ১৩ ইনিংসে মাত্র দুটি ফিফটি, একাদশে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন, দলের প্রতি নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন, দলের দুঃসময়ের জন্য তাঁকেও দায়ী করা। এক ইনিংসই সবকিছুর জবাব দিল, আবেগের বিস্ফোরণ হয়তো এ জন্যই। তবে জন্মদিনের কথাটাও নিশ্চয়ই মাথায় ছিল। হ্যাঁ, কাল ছিল টেলরের ২৭তম জন্মদিন।
চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরিটা ওয়ানডে ইতিহাসের একটা জায়গাতেও তাঁকে বানিয়েছে চতুর্থ। ওয়ানডের ৩১২৩ ম্যাচের ইতিহাসে জন্মদিনে সেঞ্চুরি করা মাত্র চতুর্থ ব্যাটসম্যান টেলর। সঙ্গী তিনজনের মাঝে দুজনের নাম দেখে নিশ্চয়ই নিজেকে নিয়ে গর্ব হবে টেলরের। দুজনই জীবন্ত কিংবদন্তি—শচীন টেন্ডুলকার ও সনাৎ জয়াসুরিয়া! বাকিজন হতে পারতেন কিংবদন্তি, পারেননি নিজের জন্যই, টেন্ডুলকারের বাল্যবন্ধু বিনোদ কাম্বলি।
ক্যারিয়ারের দুই ওয়ানডে সেঞ্চুরির প্রথমটি করেছিলেন কাম্বলি ২১তম জন্মদিনে, ১৯৯৩ সালে জয়পুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১০০। জয়াসুরিয়ার সেঞ্চুরিটাও বিশেষ কিছু, কারণ সেটি তাঁর ৩৯তম জন্মদিনে! ২০০৮ এশিয়া কাপে করাচিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে। চিরচেনা ‘জয়াসুরিয়া ইনিংস’, ১৩০ করেছিলেন ৮৮ বলে। ১৯৯৮ সালে ২৫তম জন্মদিনে শারজায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩৪ রানে ইনিংসটি টেন্ডুলকারের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস। এখানেই একটু পেছনে পড়ে গেছেন অপরাজিত ১৩১ রান করা টেলর, জন্মদিনে সবচেয়ে বড় ইনিংসটি টেন্ডুলকারেরই থাকল!
তবে হাজারো প্রাপ্তির কাছে এই আক্ষেপ নিশ্চয়ই পাত্তা পাওয়ার কথা নয়। দুঃসময়কে পেছনে ফেলা বা সমালোচকদের জবাব দেওয়ার ব্যাপার তো আছেই। তাঁর অবিশ্বাস্য ইনিংসটা দলকে এনে দিয়েছে অবিশ্বাস্য এক রানের পুঁজি। অবিশ্বাস্য, কারণ ৪৫ ওভার শেষেও তাঁর রান ছিল ৭৫। অবিশ্বাস্য, কারণ দেশের হয়ে ওয়ানডেতে এক ওভারে সবচেয়ে বেশি রান নেওয়ার রেকর্ড ভেঙেছেন পরপর তিন ওভারের মধ্যে। ২০০৪ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দুবার ২৭ রান করে নিয়েছিলেন ক্রেইগ ম্যাকমিলান। কাল শোয়েবের করা ৪৬তম ওভার থেকে কুড়োলেন ২৮ (৩ ছয়, ২ চার, দুটি ওয়াইড), রাজ্জাকের করা ৪৮তম ওভার থেকে এল ৩০ (আবারও ৩ ছয়, ২ চার, দুটি ওয়াইড আর ১টি ডাবল)। পেছনে ফেলেছেন বিশ্বকাপ দুঃস্বপ্নকেও। আগের বিশ্বকাপে ৬ ইনিংসে রান ছিল মাত্র ১০৭, এর মধ্যে কেনিয়ার বিপক্ষেই ৮৫। এবার এর আগের একমাত্র ইনিংসে ছিল ৭।
ইনিংস শেষে ছুটে গিয়ে টেলরকে অভিনন্দন জানালেন আফ্রিদি। টেলরের উচিত ছিল তার আগেই উইকেটের পেছনে থাকা কামরান আকমলকে বিশাল এক ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে ফেলা। ০ ও ৪ রানে লোপ্পা ক্যাচ দুটি নিতে পারলে টেলরের জন্মদিন কি এমন আনন্দময় হয়?

শুরুটা ভালোভাবে করতে চান ধোনি

হল্যান্ডকে নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত থাকার কথা না স্বাগতিক ভারতের। তবে এবারের বিশ্বকাপে যেভাবে অঘটন ঘটছে, মুহূর্তেই খেলার মোড় ঘুরে যাচ্ছে, তাতে কাউকেই খুব বেশি হেলাফেলা করা যায় না। আর বিশ্বকাপের শুরুতেই ডাচরা যেভাবে ইংল্যান্ডকে নাকানি-চুবানি খাইয়েছে, তা থেকে নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় শিক্ষাটা নিয়ে নিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনিরা। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে হল্যান্ডের মতো ‘চুনোপুঁটি’দের বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি সম্পর্কে ধোনি বলেছেন, ‘আমরা কোনো ধরনের পূর্বানুমানের ওপর ভর করে এগোতে চাই না। আমরা প্রতিটা ম্যাচেই আমাদের সেরাটা খেলার চেষ্টা করব।’
ভারতের প্রথম তিনটা ম্যাচ শেষে পারফরমেন্স নিয়ে সন্তুষ্টিই প্রকাশ করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। আজ দিল্লিতে হল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুটা ভালোভাবে করতে পারলে সহজ একটা জয়ই পাওয়া যাবে বলে বিশ্বাস তাঁর। বরাবরই বোলিং আক্রমণটা ভারতের একটা প্রধান দুর্বলতা। এবারের বিশ্বকাপেও সেটা ঢেকে রাখতে পারছে না স্বাগতিকরা। ফিল্ডিংয়েও পারফরমেন্সটা আশানরূপ না। উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করলেও এক দিনেই নাটকীয়ভাবে সব পাল্টে দেওয়া সম্ভব না বলে মন্তব্য করে ধোনি বলেছেন, ‘আমাদের বোলিংয়ে আরও উন্নতি করতে হবে। সেট ব্যাটসম্যানদের তাড়াতাড়ি আউট করার চেষ্টা করতে হবে। ফিল্ডিংটাও আমাদের কিছুটা দুশ্চিন্তার জায়গা। কিন্তু হঠাত্ সবকিছু পাল্টে ফেলা বোধহয় সম্ভব না। ফিল্ডিংয়ে আমরা আগের মতোই সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আর ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে আমরা চাইব একটা ভালো সূচনা।’
হল্যান্ডের বিপক্ষে আজকের ম্যাচে রবিচন্দ্রন আশ্বিন ও আশিস নেহরা মাঠে নামতে পারেন বলে জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন ধোনি। সবাইকে যাচাই করে নেওয়ার জন্যই গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচগুলোতে তাঁদের সুযোগ করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা সবাইকে সুুযোগ করে দিতে চাই। সেই সঙ্গে আমরা ম্যাচটা জিততেও চাই। কাজেই আমরা সম্ভাব্য সেরা একাদশটাই নির্বাচন করব। বিশেষত বোলিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হবে।’ নিজেদের মাটিতে অনেকেরই নজর ছিল অফস্পিনার হরভজন সিংয়ের দিকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুব একটা জ্বলে উঠতে পারছেন না ‘ভাজ্জি’। এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ধোনি বলেছেন, ‘কে উইকেট পাচ্ছে, কে বেশি রান করছে—এটা কোনো ব্যাপার না। দল ভালো খেললেই হলো। আর একজন বোলারের ওপরই বেশি নজর দেওয়া, সে একাই উইকেট নেবে—এটা ভাবাটাও তো অন্যায্য।’
বোলিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আনলেও ব্যাটিং লাইনআপে পরিবর্তন আনার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন ধোনি। সুরেশ রায়না সুযোগ পেতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতের অধিনায়ক বলেছেন, ‘এটা খুবই কঠিন সিদ্ধান্ত। ইউসুফ পাঠান তো মিডল অর্ডারে থাকবেই। আর নিজেদের ঘরের মাঠে (দিল্লি) শেবাগ, গম্ভীর বা কোহলিকেও তো বাদ দেওয়া যায় না।’

ভারতের চোখ শেষ আটে

চার বছর আগে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়েছিল ভারত। এবার পরিবর্তিত ফরম্যাটেই নিশ্চয়তা ছিল ভারত প্রথম রাউন্ডে অন্তত বাদ পড়বে না। আজই সেটা লেখা হয়ে যেতে পারে কাগজে-কলমে।
তিন ম্যাচ খেলে দুই জয়, এক ‘টাই’—৫ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ভারত। আজ জিতলেই শেষ আট। দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় প্রতিপক্ষও অপেক্ষাকৃত সহজ, ‘বি’ গ্রুপের একমাত্র পয়েন্টবিহীন দল হল্যান্ড।
চোখ অবশ্যই কোয়ার্টার ফাইনালে। তবে হল্যান্ডকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না ভারত। ধোনিদের প্রস্তুতিতেই তার প্রমাণ। এই ম্যাচেও ভারতের দুশ্চিন্তার নাম বোলিং। দলের দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনার হরভজন সিং ও পীযূষ চাওলা জ্বলে উঠতে পারছেন না। আজ তাই স্পিন আক্রমণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পারে স্বাগতিক দল। লেগ স্পিনার চাওলার জায়গায় খেলতে পারেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়ে অধিনায়ককে চিন্তামুক্ত করেছেন যুবরাজ। ‘যুবি’র এই সাফল্যই ভারতকে দেখাচ্ছে পরিবর্তনের পথ। হল্যান্ডের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নেই। পরিকল্পনা তাদের একটাই—ভালো খেলা। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দিলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছে যথাক্রমে ২১৫ ও ২৩১ রানের বিশাল ব্যবধানে।
ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে সমীহ করলেও ডাচ অধিনায়ক পিটার বোরেনের চাওয়া ভালো করা, ‘ভারত শক্তিশালী দল। অসাধারণ তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। ভারতের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে খেলাটা আমাদের জন্য সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা আশাবাদী, দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের চেয়ে আমরা এ ম্যাচে ভালো করতে পারব।’
এর আগে দুদলের একবারই সাক্ষাৎ হয়েছে। ২০০৩ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে মাত্র ২০৪ রানে অলআউট হয়েও ভারত জিতেছিল ৬৮ রানে। টেন্ডুলকার, শেবাগ, যুবরাজ, জহির খান, হরভজনরা যেমন সেই ম্যাচের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন, তেমনই স্মৃতি আছে হল্যান্ড দলের দুই সদস্য বাস জুইডারেন্ট ও আদিল রাজার কাছে। জুইডারেন্ট, আদিল রাজা—দলীয় মিটিংয়ে প্রতিশোধের একটা বাতাস ছড়িয়েছেন নিশ্চয়ই।
ভারতের হল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে একটা প্রশ্ন, শেবাগ কি ইতিহাসের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্বিশতক করতে পারবেন? ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা টেন ডেসকাট কিন্তু শেবাগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসেছেন। তাঁর যুক্তি, ডাচদের বলে গতি নেই, এতে ওপেনারদের সমস্যাই হবে।

ইনজুরির কবলে এবার ভেট্টোরি

মাত্র দুই দিন আগেই ইনজুরির কবলে পড়ে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে ইংল্যান্ডের দুই নির্ভরশীল ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেন ও স্টুয়ার্ট ব্রডের। এবার ইনজুরির কালো ছায়া ভর করেছে নিউজিল্যান্ড শিবিরেও। গতকাল ক্যান্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ের সময় হাঁটুতে আঘাত পেয়েছেন কিউই অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি।
মিড অনে কামরান আকমলের একটা ক্যাচ নেওয়ার দুঃসাহসী প্রচেষ্টা দেখিয়েছিলেন ভেট্টোরি। সে সময়ই তিনি হাঁটুতে আঘাত পান। কিছুক্ষণ পর বাধ্য হন মাঠ ছাড়তে। তবে তাঁর এই চোট কতটা গুরুতর, তা এখনো জানা যায়নি। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের মুখপাত্র এলরি টাপিন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘তাকে প্রাথমিক কিছু চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। রাতেও তার অনেক শুশ্রূষা করা হয়েছে। তবে আমরা এই চোট সম্পর্কে এখনো কিছু বলতে পারছি না। মুম্বাইয়ে গিয়ে ফিজিওর সঙ্গে ভালোমতো আলাপ করার পর তার ইনজুরির ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। কাজেই আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।’
গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচ শেষে ছয় পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে আছে নিউজিল্যান্ড। তাদের বাকি দুটি খেলাই হবে মুম্বাইয়ে। ১৩ মার্চ কানাডা এবং ১৮ মার্চ স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

পাকিস্তানকে স্পিনার খেলানোর পরামর্শ সাবেকদের

বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোয় পাকিস্তানকে স্পিনার-নির্ভর বোলিং আক্রমণ সাজানোর পরামর্শ দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা। উপমহাদেশের কন্ডিশনে পেস বোলারদের পাশাপাশি স্পিনাররাও একটা ভালো ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন পাকিস্তানের সাবেক নির্বাচক ইকবাল কাশিম। তিনি বলেছেন, ‘আফ্রিদি খুবই ভালো বল করছে, মোহাম্মদ হাফিজের পারফরমেন্সও খুব ভালো। তবে শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আমি আবদুর রেহমানের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে সাঈদ আজমলকেও খেলানোর পক্ষাপতি।’
দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপে স্পিনারদের কার্যকারিতা বাড়তে থাকবে বলে মনে করেন ইকবাল কাশিম। তাঁর ভাষায় ‘ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে স্পিনাররা অনেক ভালো ভূমিকা রাখতে পারবেন।’ ইকবাল কাশিম মনে করেন একদিক দিয়ে স্পিনারের বল করার বিষয়টিও ভালো। এতে স্পিনারদের বলে ব্যাটসম্যানরা শট খলার চেষ্টা করবে এবং উইকেট পতনের সম্ভবনা বাড়বে।’
একই রকমের কথা বলেছেন আবদুল কাদির। তবে কোন ম্যাচের আগে সেখানকার উইকেট কন্ডিশন বিবেচনা করেই চূড়ান্ত একাদশ নির্বাচন করা উচিত্ বলে মত দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই কিংবদন্তি লেগস্পিনার। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটা ম্যাচের দিন উইকেট দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ শ্রীলঙ্কার পিচগুলো অপেক্ষাকৃত বেশি পেস-সহায়ক।’

বার্সেলোনার কাছে হেরে আর্সেনালের বিদায়

গত বছরের মতো এবারও বার্সেলোনার কাছেই শেষ হলো আর্সেনালের চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন। লন্ডনে প্রথম লেগের খেলায় ২-১ গোলের জয় পেয়ে শেষ আটে যাওয়ার পথে একধাপ এগিয়েই গিয়েছিল গানাররা। কিন্তু গতকাল ন্যু ক্যাম্পে দ্বিতীয় লেগের খেলায় ৩-১ গোলে হেরে এবারের মতো এখানেই ইউরোপ সেরার লড়াই শেষ করল আর্সেন ওয়েঙ্গারের আর্সেনাল।
গতকাল প্রায় পুরো খেলাতেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে বার্সেলোনা। শক্ত কোনো আক্রমণ শাণানোর সুযোগই পায়নি আর্সেনাল। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বার্সেলোনাকে প্রথম গোলটি এনে দেন লিওনেল মেসি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দিয়ে খেলায় সমতা ফেরান বার্সা ডিফেন্ডার সার্জিও বুসকেটস। মিনিট তিনেক পরে আর্সেনালের তারকা স্ট্রাইকার রবিন ফন পার্সি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দলটির দুর্ভাগ্যের ষোলকলা পূর্ণ হয়। ১০ জনের আর্সেনালকে পেয়ে যেন উন্মত্ত ক্ষিপ্রতায় তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন মেসি-জাভি-ভিয়া-ইনিয়েস্তারা। ৬৯ মিনিটে ভিয়ার পাস থেকে আর্সেনালের জালে বল জড়িয়ে দেন জাভি। দুই মিনিট পরেই পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বার্সার জয় নিশ্চিত করেন মেসি।

‘ভারতে খেলার মানসিক প্রস্তুতি নাও’

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান দলের বর্তমান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিকে ভারতের মাঠে কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামার মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলতে এসে ভারতের মাঠে খেলা যাবে না, এমন সব কথা প্রকাশ্যে বলা উচিত নয়।’
শহীদ আফ্রিদি সম্প্রতি বলেছিলেন যে তাঁরা গ্রুপ পর্যায়ের সবগুলো ম্যাচ জেতার চেষ্টা করবেন যেন কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের ভারতের মাটিতে খেলতে না হয়। শহীদ আফ্রিদি অবশ্য এও বলেছেন যে তাদের শ্রীলঙ্কা কিংবা বাংলাদেশের মাটিতে কোয়ার্টার ফাইনালে কোনো আপত্তি নেই।
ইমরান খান আফ্রিদির এই মন্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, এটি কোনো পেশাদারি মন্তব্য হতে পারে না। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ জিততে হলে পাকিস্তানকে কোয়ার্টার ফাইনাল অথবা সেমিফাইনালের যেকোনো একটিতে ভারতের মোকাবিলা করতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের ভারতের মাটিতেই খেলতে হবে।
ইমরান খান মনে করেন, শহীদ আফ্রিদির উচিত ভারতের মাটিতে খেলার মানসিক সুবিধাটা বোঝার চেষ্টা করা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত যদি নিজেদের মাটিতে খেলতে নামে, তাহলে তাঁরা অসম্ভব চাপে থাকে। পাকিস্তানের জন্য সেটা সুবিধার কারণ হতে পারে। ইমরান খান আরো বলেন, ‘আমি যদি পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতাম, তাহলে এখনি ভারতের মাটিতে খেলা নিয়ে কথার যুদ্ধ শুরু করতাম। বলতাম, “আমরা ভারতের মাটিতেই খেলতে চাই”।’
১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক বিরানব্বইয়ের বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘সেমিফাইনালের আগ দিয়ে আমি গণমাধ্যমে বলেছিলাম. ওয়াসিম আকরামের উচিত ওয়াইড ও নো বলের কথা চিন্তা না করে যথা সম্ভব জোরে বল করার চেষ্টা করা। পরদিন সকালে ওয়াসিম আমার কাছে এসে বলল, ইমরান ভাই আপনি এসব কি বলেছেন? তখন আমি ওয়াসিমকে বললাম, “দেখো পত্রিকায় যা পড়েছ, সেগুলো বিপক্ষ দলকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তুমি বলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বল করো।”
ইমরান খান বলেন, কোয়ার্টার ফাইনালের আগে যদি গণমাধ্যমে দলের অধিনায়ক বলে আমরা অমুক জায়গায় খেলতে চাই, তমুক জায়গায় চাই না, তাহলে সেটা প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
দলের কম্বিনেশন নিয়ে ইমরান খানের অভিমত উড়িয়ে দিয়েছেন দলের ম্যানেজার ইন্তিখাব আলম। এ ব্যাপারে ৯২’র বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক বলেন, আমি এখনো বিশ্বাস করি দল নির্বাচনে ম্যানেজমেন্টের আরো আক্রমণাত্মক হওয়া উচিত। আপনি যদি আটজন ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলেন, তাহলে তা এক ধরনের রক্ষাণাত্মক মানসিকতারই পরিচয় বহন করে। শিরোপা জিততে আসা একটি দলের জন্য এ ধরনের মনোভাব অবশ্যই কাম্য হতে পারে না।’