Wednesday, July 6, 2011

এক্সনমবিলের পাইপ ফুটো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নদীতে তেল

যুক্তরাষ্ট্রের মনটানা অঙ্গরাজ্যে এক্সনমবিলের একটি পাইপলাইন ফুটো হয়ে ইয়োলোস্টোন নদীতে শত শত ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়েছে। বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রইয়োলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কের কাছে পাইপলাইন ফুটো হয়ে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এক্সনমবিল জানিয়েছে, ওই পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তেল ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি গত শনিবার ধরা পড়ার পরপরই তেল পরিষ্কার করতে লোকজন নিয়োগ করা হয়েছে।
এক্সনমবিলের মুখপাত্র পাম মালেক জানিয়েছেন, পাইপলাইনের ফুটো দিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টায় সাড়ে ৭০০ থেকে এক হাজার ব্যারেলের মতো তেল বের হয়েছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং সমাধানের চেষ্টা করছি। এ ক্ষেত্রে আমরা স্থানীয় লোকজন ও আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।’
পাইপলাইন থেকে বের হওয়া তেল কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে স্থানীয় কাউন্টির দুর্যোগ ও জরুরি সেবাবিষয়ক পরিচালক জানিয়েছেন, নদীর উজানে বেশ কিছু দূর পর্যন্ত তেল ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সিঙ্গুরের জমি দ্রুত ফেরত পাওয়া নিয়ে সংশয়ে কৃষকেরা

পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরের জমি দ্রুত ফেরত পাওয়া নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হছে।
সিঙ্গুরে টাটাকে ইজারা দেওয়া ৯৯৭ একর জমি থেকে কৃষকদের মধ্যে প্রায় ৪০০ একর জমি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এ লক্ষ্যে সরকার নতুন আইন করে। কিন্তু টাটা কর্তৃপক্ষ কলকাতা হাইকোর্ট ও ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মামলা করায় কৃষকদের মধ্যে এই সংশয়ের সৃষ্টি হয়।
জমি দিতে অনিচ্ছুক কৃষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র চেয়েছিল রাজ্য সরকার। প্রশাসনের হিসাবে দুই হাজার ৬৬৩ জন কৃষক আবেদন করেন। তবে সিঙ্গুরের কৃষি জমি রক্ষা কমিটির হিসাবে বলা হয়েছে, জমি ফেরত চেয়ে অন্তত দুই হাজার ৯০০ জন আবেদন করেছেন।
জানা গেছে, কৃষকেরা জমি ফিরিয়ে নেবেন না জমির অর্থমূল্য নেবেন, তা নিয়েও সংশয়ে আছেন। অনেকে মনে করছেন, নির্দিষ্ট জমি ফেরত নাও পেতে পারেন। কেউ মনে করছেন, জমি ফেরত পেলেও সেই জমিতে চাষাবাদ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আবার কেউ সংশয় প্রকাশ করছেন, তাঁদের তিন ফসলি জমির জায়গায় ফিরে পেতে পারেন এক ফসলি জমি।

মিসর থেকে আনা বীজে জার্মানি ও ফ্রান্সে ই. কোলাই ছড়িয়েছে!

জার্মানি ও ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়া ঘাতক ব্যাকটেরিয়া ই. কোলাই মিসর থেকে আনা বীজ থেকে ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে। ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ইসিডিসি) এই তথ্য জানিয়েছে।
ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে শুধু জার্মানিতেই চার হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়। এতে এ পর্যন্ত ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ইসিডিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জার্মানি ২০১০ সালে মিসর থেকে বীজ আমদানি করে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য ২০০৯ সালে মিসর থেকে বীজ আমদানি করে পরে তা ফ্রান্সে বিক্রি করে। এই বীজ থেকে ফ্রান্সে ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে।
যুক্তরাজ্যের থমসন অ্যান্ড মরগান কোম্পানি এসব বীজ মিসর থেকে আমদানি করে ফ্রান্সে রপ্তানি করে। কোম্পানিটি এক বিবৃতিতে মিসর থেকে বীজ আমদানি করে শুধু ফ্রান্সে তা রপ্তানি করার কথা নিশ্চিত করেছে।
ইসিডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া আরও মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর বাইরের কয়েকটি দেশের বাজারে এখনো এসব বীজ রয়েছে।

সোনিয়া-শচীনের পর এবার শীলা

কলকাতা প্রতিনিধি
ভারতের উদ্যান-বিশেষজ্ঞ হাজি কালিমুল্লা গত মে মাসে তাঁর উদ্ভাবিত নতুন জাতের আমের নাম দিয়েছিলেন ‘সোনিয়া’। এর আগে ‘শচীন’ ও ‘ঐশ্বরিয়া’র নামেও আমের নামকরণ করেছিলেন তিনি। এবার তারিক মুস্তফা নামের এক বিশেষজ্ঞ তাঁর উদ্ভাবিত আমের নাম দিয়েছেন ‘শীলা’।
তারিক মুস্তফা জানান, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতের নামে আমের ওই নামকরণ করা হয়েছে। শঙ্কর জাতের শীলা আম চারা কলম করে ফলানো হয়েছে। এ আমের রং খুবই চমৎকার। আর স্বাদও অপূর্ব।
তারিক মুস্তফার বাড়ি উত্তর প্রদেশে। তাঁর আছে আমের বাগান। শীলা আম নিয়ে তারিক এবার হাজির হয়েছেন দিল্লির আম উৎসবে। শুক্রবার থেকে শুরু হয় এ উৎসব। এতে প্রদর্শিত হচ্ছে ৪০০ রকমের আম। তবে এবারের সেরা আকর্ষণ শীলা আম।
সারা বিশ্বে বর্তমানে এক হাজার ২০০ জাতের আম রয়েছে। এর মধ্যে ভারতেই রয়েছে অন্তত এক হাজার জাতের আম।

উত্তর মেরুর জন্য সেনা ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনা রাশিয়ার

রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, উত্তর মেরু অঞ্চলের জন্য দুটি বিশেষায়িত সেনা ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
রাশিয়া উত্তর মেরু অঞ্চলে দৃঢ়ভাবে নিজ স্বার্থ রক্ষা করবে—রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের এই ঘোষণার কয়েক দিন পরই রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাঁর এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন।
রাশিয়ার বার্তা সংস্থাগুলো জানায়, মুরমানস্ক, আর্কহেঙ্গেলস্ক অথবা অন্য কোনো জায়গায় সেনা ব্রিগেডগুলোর জন্য ঘাঁটি স্থাপন করা হতে পারে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আনাতোলি সেরডইয়ুকোভ বার্তা সংস্থা ইতার তাসকে বলেন, এ ধরনের দুটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে জেনারেল স্টাফ। তিনি বলেন, সেনাসংখ্যা, অস্ত্র ও ঘাঁটির মতো সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে এখনো পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করছে মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, একটি ব্রিগেডে কয়েক হাজার সেনাও থাকতে পারে।
চলতি সপ্তাহে রুশ প্রধানমন্ত্রী পুতিন বলেছিলেন, উত্তর মেরু অঞ্চলে রাশিয়া তার উপস্থিতি বাড়াবে এবং দৃঢ় ও অনড়ভাবে নিজ স্বার্থ রক্ষা করবে। একই সঙ্গে ঝুঁকির মধ্যে থাকা ওই অঞ্চলের পরিবেশের যত্ন নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সিরিয়ার হামা শহরে সেনা মোতায়েন

ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর সিরিয়ার হামা শহরে গতকাল রোববার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে বহু লোককে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। এ দিন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ হামার গভর্নরকে বরখাস্তও করেন।
মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি আবদেল রহমান বলেন, হামার পার্শ্ববর্তী জায়গা থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ হামার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার সামরিক পন্থা অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রামি আবদেল রহমান জানান, শনিবার রাতে অন্তত ৯৭টি ট্যাংক ও সামরিক যান নিয়ে কয়েক হাজার সেনা কেফার রুম্মা গ্রামের দিকে অগ্রসর হন। এ সময় গ্রামবাসী সেখানে সেনাদের প্রবেশে বাধা দেয়।
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা বাহিনী জাবাল আল-জাওয়িইয়াহর বেশ কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালিয়েছে। এ সময় অনেক বিক্ষোভকারীর ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়। বিক্ষোভকারীদের আত্মীয়স্বজনদেরও ধরপাকড় করা হয়।

আফগানিস্তান থেকে ব্রিটিশ সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেবেন ক্যামেরন

যুক্তরাজ্য আগামী বছর আফগানিস্তান থেকে কমপক্ষে ৫০০ সেনা প্রত্যাহার করবে। এ বিষয়ে আগামী বুধবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ঘোষণা দিতে পারেন। গতকাল রোববার সানডে টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনার সংখ্যা নয় হাজারের নিচে নেমে আসতে পারে। ২০১৫ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব ব্রিটিশ সেনা প্রত্যাহার করা হবে মর্মে ক্যামেরনের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
সানডে টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী বছরের শেষ দিকে আফগানিস্তান থেকে আট শর বেশি ব্রিটিশ সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার ঘোষণা দিতে পারেন ক্যামেরন। তবে সানডে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে আফগানিস্তান থেকে ৫০০ সেনা প্রত্যাহার করা হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে কিছু সেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার বলেছেন, ২০১৫ সালের পর কোনো ব্রিটিশ সেনা আফগানিস্তানে আর যুদ্ধ করবেন না; এবং এটা সত্য যে, সামরিক বাহিনীর পরামর্শ ও আফগান নিরাপত্তা-পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা শিগগির সেনাদের দেশে ফিরিয়ে আনব।’
বর্তমানে আফগানিস্তানে নয় হাজার ৫০০ ব্রিটিশ সেনা নিয়োজিত রয়েছে। আফগানিস্তানে নিয়োজিত বিদেশি বাহিনীতে সেনা পাঠানোর দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রথম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গ্রিসের জন্যইউরো জোনের জরুরি সহায়তা অনুমোদন

ঋণে জর্জরিত গ্রিসের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জরুরি সাহায্য প্রদানের প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন ইউরো জোনের অর্থমন্ত্রীরা। গত শনিবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রীদের এক বৈঠকে ওই প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়। ফলে আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহে গ্রিসকে এক হাজার ২০০ কোটি ইউরো ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে।
ইতিমধ্যে গ্রিসকে ১১ হাজার কোটি ইউরো জরুরি ঋণ সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে ইইউ ও আইএমএফ। এ ছাড়া ২০১৪ সালের মধ্যে যাবতীয় ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রিসকে দ্বিতীয় দফায় সহায়তা প্রদানের ব্যাপারেও আলোচনা করেন ইউরো জোনের অর্থমন্ত্রীরা। ইউরোপের কূটনীতিকেরা বলেন, দ্বিতীয় দফায় গ্রিসকে ঋণ সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ১১ জুলাই ব্রাসেলসে আলোচনা হবে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য হয়তো সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ইউরো জোনের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন গ্রিসের অর্থমন্ত্রী ইভানজেলোস ভেনিজেলোস। তিনি বলেন, ‘এখন পার্লামেন্টে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন করাই হবে আমাদের জন্য কঠিন কাজ। সেটা সম্ভব হলেই আমরা ধীরে ধীরে সংকট কাটিয়ে গ্রিসের জাতীয় অর্থনীতি ও নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারব।’
চলতি সপ্তাহেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুসারে কঠোর ব্যয় সংকোচনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে গ্রিসের পার্লামেন্ট। রাজধানী এথেন্সের রাস্তায় ব্যাপক বিক্ষোভ সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ওই ব্যয় সংকোচন প্রস্তাব সমর্থন করেন পার্লামেন্টের সদস্যরা।
স্বাগত জানিয়েছে আইএমএফ: গ্রিসের অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে ইউরোপের জরুরি সহায়তার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে আইএমএফ। আইএমএফের প্রধান মুখপাত্র ক্যারোলিন অ্যাটকিনসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গ্রিসের সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার জন্য গৃহীত ইউরো গ্রুপের দায়িত্বশীল কৌশলকে আমরা স্বাগত জানাই।’ তিনি আরও বলেন, আইএমএফ এ অর্থনৈতিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। অর্থনৈতিক সাফল্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অর্জিত প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ অবদান রাখবে।

গাজা অভিমুখী জাহাজে বাধা, ক্যাপ্টেন আটক

গ্রিস থেকে ত্রাণবাহী একটি মার্কিন জাহাজকে গাজায়যেতে বাধা দিয়েছে গ্রিসের উপকূলরক্ষী বাহিনী। তারা ওই জাহাজের ক্যাপ্টেনকেও আটক করেছে। জন ক্লুসমার নামের ওই ক্যাপ্টেন একজন মার্কিন নাগরিক। গতকাল রোববার একজন আইনজীবী বলেছেন, ক্লুসমারকে ‘মানবেতর অবস্থায়’ আটক রাখা হয়েছে।
বিবিসি বলেছে, ক্লুসমারকে এথেন্সের কাছে পিরাইউস বন্দরে পুলিশ সদর দপ্তরের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া বন্দর ত্যাগ এবং যাত্রীদের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে আগামীকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অডাসিটি অব হোপ নামের জাহাজটি গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ চ্যালেঞ্জ করে সেখানে মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল।
কর্মকর্তারা বলেছেন, গত শুক্রবার গ্রিস বিনা অনুমতিতে তার উপকূল থেকে সব ধরনের জাহাজের গাজা অভিমুখে যাত্রা নিষিদ্ধ করে। তবে সে নিষেধাজ্ঞা না মেনে ওই দিন রাতে জাহাজটি রওনা হয়। এরপর পেরামা বন্দর থেকে উপকূলরক্ষীরা সেটিকে আটক করে। এটিকে এখন একটি নৌঘাঁটিতে নোঙর করে রাখা হয়েছে। জাহাজটিতে ৩৬ জন যাত্রী, চারজন ক্রু ও ১০ জন গণমাধ্যমকর্মী ছিলেন। জাহাজটি থেকে ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করে লেখা তিন হাজার চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। এটি ছাড়া আরও নয়টি ত্রাণবাহী জাহাজের গাজার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল।
কর্মকর্তারা বলেছেন, ক্যাপ্টেনকে আটক করা হলেও জাহাজে থাকা অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে রিচার্ড লেভি নামে একজন মার্কিন আইনজীবী ছিলেন।
হাজতখানায় আটক ক্যাপ্টেনকে দেখে এসে লেভি সাংবাদিকদের বলেন, ক্যাপ্টেনকে মানবেতর অবস্থায় আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর কক্ষে কোনো বিছানা বা লাগোয়া বাথরুম নেই। তাঁকে খাবার বা পানি কিছুই দেওয়া হচ্ছে না।
আটক করা জাহাজের অপর যাত্রী রবার্ট নাইম্যান বলেছেন, তাঁরা ক্যাপ্টেনের জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে তাঁদের কাছে মনে হচ্ছে, মঙ্গলবারের আগে তাঁকে জামিন দেওয়া হবে না।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ওই অঞ্চল অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েল ও মিসর। গত বছর সেখানে ত্রাণ দিতে গিয়ে একটি তুর্কি জাহাজ ইসরায়েলের সেনাদের হামলার মুখে পড়েছিল। ওই হামলায় ফিলিস্তিন সমর্থক নয়জন ত্রাণকর্মী নিহত হন।

সিলেট-আখাউড়া পথে নতুন লোকাল ট্রেন চালু হয়েছে

বাংলাদেশ রেলওয়ে সিলেট-আখাউড়া পথে গত শুক্রবার একটি নতুন যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেন চালু করেছে; যা পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন এই ট্রেনে সিলেট ও আখাউড়ার মধ্যবর্তী ২০টি স্টেশনের যাত্রীরা চলাচল করতে পারবেন। মৌলভীবাজারের শমশেরনগরসহ কয়েকটি রেলস্টেশনে গিয়ে নতুন ট্রেনের প্রতিটি বগিতেই যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যায়।
আলাপকালে রেলওয়ের শমশেরনগর স্টেশনের মাস্টার মো. শাহজাহান খান প্রথম আলোকে জানান, কয়েক বছর আগে সিলেট-আখাউড়া পথে চারটি লোকাল বা সাধারণ ট্রেন চলাচল করত। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই পথে কুশিয়ারা এক্সপ্রেস নামের একটি ট্রেন বহাল রেখে যাত্রীবাহী বাকি ট্রেনগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। সেটিও আবার রাতে চলাচল করত। যে কারণে দিনের বেলায় এই পথের অধিকাংশ রেলস্টেশন এলাকার যাত্রীরা চলাচলের ক্ষেত্রে দুর্ভোগের মুখে পড়তেন এবং বাধ্য হয়ে বাসে বেশি ভাড়া দিতেন।
রেলওয়ের শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনের মাস্টার কাজী শহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সিলেট থেকে আখাউড়া পথে ট্রেন চালুর ফলে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহন যেমন বাড়বে, রেলওয়ের রাজস্ব আয়ও অনেক বৃদ্ধি পাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সোনালী ব্যাংকের ৩টি এটিএম বুথ উদ্বোধন

সোনালী ব্যাংক লিমিটেড চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় সম্প্রতি তিনটি এটিএম বুথের কার্যক্রম শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এম আনওয়ারুল ইসলাম এটিএম বুথগুলোর উদ্বোধন করেন।
এ সময় ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মুশতাক আহমদ, চট্টগ্রামের মহাব্যবস্থাপক দিদার মো. আবদুর রব, প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক সহিদ হোসাইনসহ ব্যাংক ও বন্দরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থবছরের প্রথম কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজার চাঙা

মূল্যসূচক ও লেনদেন বৃদ্ধির গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই শুরু হলো ২০১১-১২ অর্থবছরে শেয়ারবাজারের প্রথম কর্মদিবস।
সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের শেষ কর্মদিবসের মতো গতকাল রোববারও দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই মূল্যসূচক বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও।
এদিন দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ আড়াই মাস পর আবারও হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল এক হাজার ১৩৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর আগে গত ১১ এপ্রিল সর্বশেষ এক হাজার কোটি টাকার (এক হাজার ২২৪ কোটি টাকা) বেশি লেনদেন হয়েছিল।
এর পর থেকেই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ কমতে থাকে। একপর্যায়ে তা ৩০০ কোটি টাকার নিচে নেমে আসে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে মাত্র ১০ শতাংশ কর দেওয়ার শর্তে পুঁজিবাজারে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার পর থেকেই বাজারে চাঙাভাব সৃষ্টি হয়েছে। মূলত এরই ধারাবাহিকতা দেখা গেছে গতকালের বাজারেও।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অবশ্য এও বলেন, সুযোগ দেওয়া হলেই যে বিপুল পরিমাণ কালোটাকা এসে বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি করবে, বিষয়টি হয়তো সে রকম হবে না। কিন্তু সুযোগটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বাজারের ওপর আস্থা ফেরাতে ভূমিকা রেখেছে। কারণ, এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা এক ধরনের বার্তা পেয়েছেন যে সরকার যেকোনো উপায়েই হোক, শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চায়। সে কারণে এত দিন যাঁরা বাজারের বাইরে ছিলেন, তাঁরাও আবার নতুন করে সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। ফলে লেনদেন ও সূচকই—দুই-ই বাড়ছে।
এ ছাড়া তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক পরিচালন মুনাফা ভালো হয়েছে। এটিও বাজারে এ খাতের শেয়ারের চাহিদা সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পৃথক বিষয়ে ডাকা অর্ধদিবস হরতালের মধ্যেও গতকাল যথাসময়েই শুরু হয় দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন। দুপুর ১২টার মধ্যে হরতাল শেষ হয়ে যাওয়ায় তা লেনদেনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক ৪০ পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ১৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৩৭০ পয়েন্ট বেড়ে ১৭ হাজার ২৪৭ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে।
সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২০০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫৪টির, কমেছে ৪১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল ১৩০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৭ কোটি টাকা বেশি।
আর ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের। কমেছে ৪৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল—আফতাব অটোমোবাইলস, বেক্সিমকো, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউসিবিএল, এমআই সিমেন্ট, এনবিএল, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, মালেক স্পিনিং, ওয়ান ব্যাংক ও লংকাবাংলা ফিন্যান্স।

অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় সরকারকে অভিনন্দন

২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টরস ফোরামের নেতারা।
আজ সোমবার সংগঠনটির আহ্বায়ক আবদুল মান্নান ও সদস্যসচিব রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা পুঁজিবাজারের চরম মন্দাভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য এবং বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’ তাঁরা মনে করেন, বিষয়টি পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
অপ্রদর্শিত অর্থ বন্ডে বিনিয়োগের পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগসহ ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য নানা ছাড় দেশের শিল্পোন্নয়নে গতি বৃদ্ধি করবে বলে সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে আশা প্রকাশ করা হয়।

এবার আর্জেন্টিনায় চোখ কলম্বিয়ার

লিওনেল মেসি আর রাদামেল ফ্যালকাও এক বিন্দুতে মিলে গেছেন। ক্লাবের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের অনুবাদ জাতীয় দলে করতে পারেননি একজনও। যদিও মেসির আর্জেন্টিনা আর ফ্যালকাওয়ের কলম্বিয়ার কোপা-অভিযানের শুরুটা হয়েছে দুই রকম। আর্জেন্টিনা বলিভিয়ার সঙ্গে ড্র দিয়ে শুরু করলেও কলম্বিয়া তাদের প্রথম ম্যাচে কোপার অতিথি দল কোস্টারিকাকে হারিয়েছে ১-০ গোলে।
পোর্তোর সদ্যসমাপ্ত মৌসুমে দারুণ খেলেছেন ফ্যালকাও। জিতেছেন ইউরোপা লিগ, হয়েছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিন্তু পরশু কলম্বিয়ার জার্সি গায়ে আলো ছড়াতে পারেননি। ১০ জনের কোস্টারিকাকে কলম্বিয়া হারিয়েছে জার্মানির হার্থা বার্লিনে খেলা আদ্রিয়ান রামোসের গোলে। এএফপি।
২০০১ সালের কোপা বিজয়ী কলম্বিয়ার পরের ম্যাচ ৭ জুলাই, প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। আপাতত এই ম্যাচেই চোখ ভালদেরামার দেশের। গোলদাতা রামোস বলেছেন তাঁরা ওই ম্যাচের জন্য তৈরি হচ্ছেন, ‘আমরা এখন আর্জেন্টিনা ম্যাচেই মনঃসংযোগ করছি। আমরা যে প্রস্তুত সেটি নিশ্চিত করতে কঠিন অনুশীলন করতে হবে। জয় দিয়ে শুরু করতে পারা দারুণ। আমাদের আত্মবিশ্বাসটা এতে বেড়ে গেছে।’

তামিমের জয়, হারলেন সাকিব

ইংল্যান্ডে তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসানের দুই রকমের দিন কাটল গতকাল। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ সহ-অধিনায়ক তামিমের দল নটিংহ্যামশায়ার ৬ উইকেটে জিতেছে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে। আর বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিবের উস্টারশায়ার ডারহামের কাছে হেরে গেছে ২৮ রানে।
পারফরম্যান্সেও সাকিব পিছিয়ে ছিলেন তামিমের চেয়ে। ইয়র্কশায়ারের ১৫২ রানের জবাবে ১৮.১ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তামিমের নটিংহ্যামশায়ার। অভিষেকে ১২ বলে ৮ রান করা তামিম কাল ফিরেছেন স্বরূপে। শুরুতে দেখেশুনেই খেলছিলেন, প্রথম ২৫ বলে করেছিলেন ১৯ রান। টানা দুই বলে আদিল রশিদকে চার-ছয় মেরে ঝড়ের শুরু। পরের ওভারে আজিম রফিকের ৫ বলে নিলেন ১৪। শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন ৩৭ বলে ৪৭ রান করে।
তামিম রানের দেখা পেলেও এখনো তা অধরা সাকিবের কাছে। ডারহামের বিপক্ষে কাল আউট হয়েছেন প্রথম বলেই, ফিরতি ক্যাচ দিয়েছেন পল কলিংউডকে। ১৬২ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৩৩ রানে অলআউটন হয়ে যায় উস্টারশায়ার। এর আগে বল হাতে সাকিব প্রথম ৩ ওভারে দিয়েছিলেন ১৮ রান। শেষ ওভারে প্রথম ৫ বলে ১৭ দেওয়ার পর শেষ বলে পেয়েছেন ইয়ান ব্ল্যাকওয়েলের উইকেট।

ড্রতে শেষ সব রোমাঞ্চ

টেস্ট জয়ের আশায় টেস্টের পঞ্চম দিন সকালে একটা জুয়াই খেলেছিলেন ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। প্রতিপক্ষকে ৮৩ ওভারে মাত্র ২৮১ রানের লক্ষ্য দিয়ে ঘোষণা করেন ইনিংস।
এই দুঃসাহসিক ইনিংস ঘোষণা আগের চার দিনেরই বৃষ্টিতে ম্যাড়মেড়ে টেস্টে রোমাঞ্চ জাগায় শেষবেলায়। বারবাডোজে জেগেছিল ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ের সম্ভাবনা। জয়ের স্বপ্ন জেগেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও। কিন্তু সব সম্ভাবনার যবনিকা টেনেছে বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতা। ১১.৩ ওভার বাকি থাকতেই খেলা শেষ করে দেন দুই আম্পায়ার। ম্যাচ ড্র।
খেলা যখন শেষ হলো, জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ৭৯ রান, ভারতের ৩ উইকেট। পরপর দুই ওভারে ২ উইকেট তুলে ভারতই বরং জয়ের বন্দরকে দেখছিল উজ্জ্বল।
ধোনির কণ্ঠে তাই জয় হাতছাড়া হওয়ার আফসোস, ‘তাদের অলআউট করার মতো যথেষ্ট ওভার হাতে ছিল।’ জিতলে সিরিজ জয়ের সঙ্গে ইতিহাসও গড়া হতো। তবে হতাশ নন ভারত অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামিও বলেছেন, জয়ের সুযোগ তাদেরও ছিল।
ধোনিকে জুয়ায় প্রায় জিতিয়েই দিচ্ছিলেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ ইশান্ত শর্মা। ৭ উইকেটের ৪টিই নিয়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসের ৬ উইকেট মিলিয়ে ম্যাচে ১০৮ রানে ১০ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে প্রথম ভারতীয় হিসেবে টেস্টে ১০ উইকেট নিলেন এই পেসার। আর বারবাডোজ টেস্টে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি হিসেবে ইতিহাসে ঠাঁই পাওয়া তৃতীয় বোলার তিনি। আগের দুজন দক্ষিণ আফ্রিকার আন্দ্রে নেল (১০/৮৮, ২০০৫) ও গ্রেভিল স্টিভেন্স (১০/১৯৫, ১৯৩০)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের রক্ষাকর্তা তিনজন—ব্রাভো, বাফ ও চন্দরপল। ব্রাভোর ৭৩, বাফের অপরাজিত ৪৬-এর পাশে চন্দরপলের ১২ কোনো রানই হয়তো নয়। কিন্তু ১২ রান তিনি করেছেন ৮৭ বলে!
ব্রাভোর চন্দরপলের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫৪ আর বাফের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৬৯ রানের জুটি দুটিই ভারতকে জয় পেতে দেয়নি। কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দিয়েছিল দূরতর এক জয়ের আশা। চা-বিরতির পর ৪ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগায় ভারত। কিন্তু শেষ বাধাটা দিল আলোকস্বল্পতা।

‘গেইল উদ্ধত এবং দুর্বিনীত’

আগের দিন মুখ খুলে যেভাবে বোর্ডকে ধুয়ে দিয়েছেন ক্রিস গেইল, তাতে পাল্টা জবাবটা অনুমিতই ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড (ডব্লুআইসিবি) দ্রুতই সেটি দিল। ডব্লুআইসিবির চোখে গেইলের আচরণ উদ্ধত, দুর্বিনীত।
দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দলে ফেরার আশায় গেইল উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসাতেই গত ১৫ জুন সভা ডেকেছিল ডব্লুআইসিবি। কিন্তু উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মাধ্যমে ওই সভা ভেস্তে গেলেও গেইল মোটামুটি নীরবই ছিলেন। কিন্তু গত পরশু বিশাল এক বিবৃতি দিয়ে তিনি উগরে দিয়েছেন মনের যত ক্ষোভ। প্রায় ৩ হাজার ৬০০ শব্দের আবেগময় বিবৃতিতে এ পর্যন্ত যা হয়েছে, সবকিছুর জন্য বোর্ডকে দায়ী করে গেইল বলেছেন, তাঁর সঙ্গে সঠিক আচরণ করা হয়নি। ঝামেলা মেটাতে বোর্ডের প্রচেষ্টা গেইলের বর্ণনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মানুষ এবং বিশ্ববাসীর সঙ্গে ‘ভান এবং পরিহাস’। বলেছেন, বোর্ড আসলে তাঁকে চায় না।
কিন্তু গেইলের এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছে ডব্লুআইসিবি। এক দিন পরই ডব্লুআইসিবির পাল্টা বিবৃতি, ‘ডব্লুআইসিবি নতুন করে জানাচ্ছে, মি. গেইলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সম্পর্ক রাখাটা কঠিন হয়ে পড়েছিল এবং এ বিষয়টি মীমাংসাই করতে চায় বোর্ড। কিন্তু তার সর্বশেষ বিবৃতি এবং সভায় ডব্লুআইসিবির সঙ্গে করা আচরণে নিজেকে নিষ্কলুষরূপে দেখাতে অনড় অবস্থানই প্রকাশ পেয়েছে। ডব্লুআইসিবি আবারও বলছে, গেইল যেমন আশা করছেন তাতে তার আচরণ আড়াল করে রাখার উপায় নেই।’
গেইলের বিবৃতির পরপরই ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ওটিস গিবসন বলেন, গেইলের জন্য দলের দরজা এখনো খোলা। গেইলের আচরণকে অমার্জিত দাবি করে ডব্লুআইসিবিও বলেছে, ‘দলের দরজা বন্ধ নয়।’ আসলেই কি?
গেইল যে বলেছেন অন্য কথা, ‘যখন একটা পথ বন্ধ হয়ে যায়, অন্য আরেকটা পথ ঠিকই খুলে যায়।’
ক্রিকেটের সীমানা ডিঙিয়ে বিষয়টি এখন রাষ্ট্রীয়ও। গায়ানার রাষ্ট্রপতি ভরত জাগদেও-ই যেমন বলেছেন, ক্যারিকম সরকারগুলোর উচিত গেইল এবং ডব্লুআইসিবির বিষয়টির প্রতি মনোযোগ দেওয়া। ক্যারিকম হলো ক্যারিবিয়ান রাষ্ট্রগুলোর জোট। ‘এ পরিস্থিতিতে আমি ক্যারিকম সরকারপ্রধানদের কিছু করার জন্য আবেদন করছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটারদের সাহায্য করতে হবে’—গায়ানার রাষ্ট্রপতির আহ্বান।

রোনালদো রিয়াল ছাড়বেন, যদি...

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পেতে লোভনীয় টোপ ফেলে রেখেছে ম্যানচেস্টার সিটি। রিয়াল মাদ্রিদ তারকাও জানালেন, ইংল্যান্ডে ফিরবেন তিনি। না, এতেই সিটির খুশি হওয়ার কিছু নেই। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফিরতে চাওয়ার সঙ্গে ম্যানইউর সাবেক এই খেলোয়াড় জুড়ে দিয়েছেন দুটো ‘যদি’। প্রথমত, রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা, আর দ্বিতীয়ত, কোচ হোসে মরিনহো যদি ছেড়ে যান রিয়াল।
সানডে মিররকে রোনালদো বলেছেন, ‘স্পেন ছাড়লে আমি আবার প্রিমিয়ার লিগেই ফিরব। কিন্তু সেটি এখন নয়। আমি প্রথমে চাই চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে।’ এরপর বলেছেন, ‘মরিনহো মাদ্রিদে থাকছেন, তাই আমিও এখানে থাকছি। উনি যদি চেলসিতে যান আমিও রিয়াল ছাড়ব। আমি ম্যানচেস্টার সিটিতেই যেতাম।

কুক ম্লান চান্দিমালের ব্যাটে

অধিনায়ক হয়ে ওয়ানডে দলে ফিরে যেন অপরাধই করে ফেলেছিলেন। মাঠে নামার আগে থেকেই চারদিক থেকে ধেয়ে আসছিল সমালোচনা। কাল রানআউট হয়ে ফেরার পথে সেই অ্যালিস্টার কুককেই দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাল লর্ডসের গ্যালারি। অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করে কাল দলের ইনিংসকে বলতে গেলে একাই টেনে নিলেন নতুন অধিনায়ক।
তবে কুকের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসও জেতাতে পারেনি ইংল্যান্ডকে। কারণ, আবারও ঝলসে উঠেছে জয়াবর্ধনের ব্যাট। সেই সঙ্গে দিনেশ চান্দিমালের ব্যাটও আলো ছড়িয়েছে লর্ডসে। হেডিংলিতে ওয়ানডেতে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রান করে দল জিতিয়েছিলেন, কাল জয়াবর্ধনে করেছেন ৭৭ বলে ৭৯ রান। চান্দিমাল খেলেছেন হার না মানা ১০৫ রানের ইনিংস। ১০ বল আর ৪ উইকেট হাতে রেখে শ্রীলঙ্কা পেরিয়ে গেছে ইংল্যান্ডের ৭ উইকেটে করা ২৪৬ রান।
২১ বছর বয়সী এই ডান হাতি ব্যাটসম্যান ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ওয়ানডেতেই পেয়ে গেছেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। দুবার ফিফটি পেরিয়েছেন, দুটিই পরিণত করেছেন সেঞ্চুরিতে। কাল মাত্র ২১ রানে দিলশান আউট হয়ে যাওয়ার প্রভাবটা দলের ওপর পড়তেই দেননি। ১১টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ১২৬ বলের ইনিংসটি খেলার পথে দ্বিতীয় উইকেটে জয়াবর্ধনের সঙ্গে গড়েছেন ১১২ রানের জুটি।
চান্দিমাল তাঁর প্রথম পঞ্চাশ পেরিয়েছেন ৭৩ বলে। ফিফটি পেয়েই যেন বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। পরের পঞ্চাশ করেন ৫০ বলে। ছক্কা দুটিও এ সময়েই। তবে ৩৬ রানের মধ্যে সাঙ্গাকারার পর ও কান্দাম্বিও আউট হয়ে গেলে একটু যেন দমে যান চান্দিমাল। ৪৭.২ ওভারে তাঁর দ্বিতীয় ছক্কা মারার আগের ৯ বলে শ্রীলঙ্কা রান পায়নি হয়তো এ কারণেই। ব্রেসনানকে মারা ছয়েই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, পরের ওভারে অ্যান্ডারসনকে ৪ মেরে শেষ করেন ম্যাচ। অসাধারণ ইনিংসটিতে কালির দাগ একটিই। ৯২ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন।
জয়াবর্ধনের সৌজন্যে একবার জীবন পেয়েছেন কুকও। জয়া স্লিপে সহজ ক্যাচ ফেলার সময় কুক ১৫। এর আগেই কুক হারিয়েছেন সঙ্গী কিসওয়েটারকে। মালিঙ্গার চতুর এক স্লোয়ারে কিসওয়েটার ক্যাচ দেন মিড অনে। স্বভাববিরুদ্ধ শট খেলে আউট হয়েছেন ট্রট, লাকমলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েছেন মিড অফে।
দ্রুত ২ উইকেট হারানোয় কেভিন পিটারসেনের ব্যাটিংয়ে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। সহজাত আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। সম্ভাবনাময় ইনিংসটা শেষও হয়েছে অতি আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে। জীবন মেন্ডিসের বলে মিড উইকেট সীমানায় ‘জীবন’ হারান। সিরিজের তিন ম্যাচেই মেন্ডিসের লেগ স্পিনে আউট হলেন পিটারসেন।

জিদানের বার্সেলোনা-প্রশংসা

বার্সেলোনার প্রশংসা এখন কে না করে! জিনেদিন জিদানও বর্তমান বার্সেলোনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তবে কাতালান ক্লাবটির ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে ফরাসি কিংবদন্তি বড় করে দেখছেন বার্সেলোনার যুব প্রকল্প ‘লা মেসিয়ার’ অবদানকে। বলেছেন, বার্সেলোনার সৌভাগ্য, যুব খেলোয়াড়দের ‘এক ব্যতিক্রমী প্রজন্ম’ পেয়েছে।
বার্সেলোনার বর্তমান শীর্ষ তারকারাই যুব একাডেমি ‘লা মেসিয়া’ থেকে উঠে এসেছে। লিওনেল মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তাসহ এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে বার্সেলোনার প্রথম একাদশের ৮ জনই ছিল এই ‘লা মেসিয়া’র ফসল! জিদান বলছেন, এমন একটা দল একটা ক্লাবের জীবনে একবারই আসে। ‘বার্সেলোনার সৌভাগ্য, যুব প্রকল্প থেকে উঠে আসা সাত থেকে আটজন খেলোয়াড়ের একটা ‘ব্যতিক্রমী প্রজন্ম’ আছে। কিন্তু আপনি এ রকম প্রজন্ম বেশি দেখবেন না’—বলেছেন ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক।
৩৯ বছর বয়সী এই ফরাসি খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষ করেছেন বার্সেলোনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদে। এখন কাজ করছেন রিয়ালের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে। রিয়ালের ঘরের একজন হিসেবে ‘শত্রুপক্ষ’ বার্সেলোনার একতরফা প্রশংসা করাটা জিদানের সাজে না! তিনবারের সাবেক ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার তাই এটাও যোগ করেছেন, রিয়াল মাদ্রিদেরও নিজস্ব একটা যুবনীতি বা যুব প্রকল্প আছে, যেখান থেকে অনেক খেলোয়াড়ই শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসে যারা খুব একটা আলোচনায় আসে না।
বাজারে রিয়াল মাদ্রিদের একটা আলাদা পরিচিতি আছে, নিজেদের ঘর থেকে প্রতিভা অন্বেষণের চেয়ে ‘গ্যালাকটিকোস’ কেনার নীতিটা বেশি পছন্দ। কিন্তু জিদানের একটু দ্বিমত আছে এ ব্যাপারে, ‘অনেকেই যদিও উল্টোটা ভাবে, কিন্তু রিয়াল সব সময়ই যুব ফুটবলারদের প্রশিক্ষণের নীতিকে গুরুত্ব দেয়। আমরা বারবারই আমার ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের চুক্তি কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ৯ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ডের চুক্তির কথা বলি। কিন্তু রিয়ালের যুব প্রকল্প থেকে উঠে আসা লিগের খেলোয়াড়দের কথা কমই বলা হয়।’

নতুন রাজা জোকোভিচ

সেমিফাইনাল জিতেই কোর্টে চুম্বন এঁকে দিয়েছিলেন। ফাইনালে তো আরও বেশি কিছু করতে হয়। নোভাক ‘জোকার’ জোকোভিচ এবার কোর্টের একটা অংশ এক টুকরো কেকের মতো খাওয়ার ভান করলেন! উইম্বলডনের কোর্টটা তাঁর কাছে কেকের মতোই মিষ্টি মনে হওয়ার কথা। প্রথমবারের মতো টেনিসে পরম আরাধ্য এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেই চ্যাম্পিয়ন। সেটিও ২০১০-এর চ্যাম্পিয়ন রাফায়েল নাদালকে ৬-৪, ৬-১, ১-৬, ৬-৩ গেমে হারিয়ে।
তৃতীয় সেটটি বাদে পুরো ম্যাচে নাদাল যেন ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। শুরুটা অবশ্য জমজমাট লড়াইয়ের পূর্বাভাসই দিয়েছিল। প্রথম সেটটা গড়িয়েছিল ৪-৪-এ। কিন্তু নাদালের সার্ভিস ব্রেক করে সেটটা শেষ পর্যন্ত ৬-৪-এ জিতে নেন জোকোভিচ। দ্বিতীয় সেটে নাদাল দাঁড়াতেই পারেননি। মাত্র ৩৩ মিনিট স্থায়ী সেটে হেরেছেন ৬-১-এ। এ বছর এর আগে ৫৮টি ম্যাচের মাত্র একটিতেই ১-৬ গেমে হেরেছিলেন নাদাল।
তৃতীয় সেটে অবশ্য দারুণভাবে ফিরে এসেছিলেন। ওই আধঘণ্টা সময় নিয়ে জেতেন ৬-১ গেমেই। চতুর্থ সেটে ব্রেক করে ২-০-তে এগিয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু জোকোভিচও আবার ব্রেক করে ফিরে আসেন খেলায়। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ সেটটাও জিতে জোকোভিচ দেখা পেয়ে যান তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার (বাকি দুটো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে)।
এ নিয়ে বছরের পাঁচটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে জোকোভিচের মুখোমুখি হয়ে প্রতিটিতেই হারলেন নাদাল। ম্যাচ শেষে বললেন, ‘এ বছর ও দুর্দান্ত খেলছে। এই শিরোপা ওর প্রাপ্য ছিল।’ আর জোকোভিচের কণ্ঠে ছিল আজন্ম স্বপ্নপূরণের আনন্দ, ‘উইম্বলডন যেকোনো খেলোয়াড়ের কাছে স্বপ্নের একটা টুর্নামেন্ট। তাই বলে বোঝাতে পারব না এখানে শিরোপা জিতে কেমন লাগছে।’

বদলাতে চান না কেভিতোভা

শুক্রবারের কেভিতোভা আর শনিবারের কেভিতোভার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। অষ্টম বাছাই হিসেবে উইম্বলডনে এসেছিলেন। গতবার এখানে সেমিফাইনালেও খেলেছেন। কিন্তু তার পরও যাকে বলে তারকাখ্যাতি, সেটি একদমই ছিল না। আর দশটা সাধারণ মেয়ের মতোই ছিলেন সোনালি চুলের নীলনয়না। কিন্তু পেত্রা কেভিতোভা এখন যেখানেই যাবেন, কৌতূহলী চোখ ঘিরে ধরবে। মুহুর্মুহু জ্বলবে আলোকচিত্রীর ক্যামেরা। ভিড় লেগে যাবে সইশিকারিদের। বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডে ছেয়ে যাবে রাস্তা। তারকাখ্যাতির জ্বলজ্বলে পৃথিবীতে পা দিয়েই দিলেন এই চেক। রয়টার্স, এএফপি।
কিন্তু কেভিতোভা বলছেন অন্য কথা, ‘আমি যেমন আছি তেমনই থাকতে চাই। আশা করি, আমার জীবনটা বদলে যাবে না।’ এখনো আগের মতো অনুশীলনে ফাঁকি দিতে চাইবেন। রোজ রাতে তাঁর জন্য বরাদ্দ আনারসটি চেয়ে নেবেন ট্রেনারের কাছ থেকে। সমবয়সী খেলোয়াড়দের সঙ্গে করবেন খুনসুটি। মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার মতো কিংবদন্তির সান্নিধ্য পেলে আবেগে গলে যাবেন। কিন্তু চাইলেও আর তাঁর কক্ষপথ থাকবে না আগের মতন।
এমনিতেই ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জিতে মধ্যে ঢুকে পড়েছেন ইতিহাসে। উন্মুক্ত যুগে এর আগে মাত্র তিন বাঁহাতি নারী খেলোয়াড় জিতেছেন গ্র্যান্ড স্লাম। এঁদের মধ্যে আছেন নাভ্রাতিলোভাও, যাঁর খেলা দেখে দেখে নিজেকে গড়ে নিয়েছেন এই ২১ বছরের তরুণী।
মেয়েদের কোর্টে বাঁহাতি খেলোয়াড় এমনিতেই বিরল। বাঁহাতি হিসেবে বাড়তি সুবিধা তো পানই, তা ছাড়া সার্ভের গতিও দুর্দান্ত। তা ছাড়া ৬ ফুট উচ্চতাও দেয় বাড়তি সুবিধা। এ বছর ধারাবাহিক খেলে র‌্যাঙ্কিংয়ের সাতে উঠে আসা কেভিতোভার মধ্যে আগামীর বড় তারকার ছবিই দেখছে অনেকেই।
কথাবার্তায় একেবারেই সহজ-সরল। বলছেন, উইম্বলডনের মতো একটা টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতা দূরের কথা, টেনিসে বেশি দূর এগোনোর স্বপ্নই আগে দেখেননি, ‘আমি তো ভাবিইনি পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করতে পারব। আমি অনুশীলন করতাম স্কুল থেকে ফিরে, সেটাও মাত্র এক কি দেড় ঘণ্টা।’ প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের অনুভূতি কী রকম হওয়া উচিত, সেটাও নাকি এখনো ঠাওর করে উঠতে পারেননি, ‘এখনো বুঝতে পারছি না। অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি। হয়তো আরও কয়েক দিন সময় লাগবে পুরোটা বুঝে উঠতে।’
অবলীলায় স্বীকার করছেন, লকার রুমে নাভ্রাতিলোভা আর ইয়ানা নভোতনার মতো সাবেক চেক তারকার দেখা পাওয়ার অনুভূতি তাঁর জন্য ছিল অন্য রকম, ‘ওদের কাছে পেয়ে এতটাই ভালো লাগছিল, আনন্দে আমি কেঁদেই ফেলেছিলাম।’
ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল বলে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, স্নায়ুচাপে ভুগবেন। আর ওখানেই এগিয়ে যাবেন মারিয়া শারাপোভা। উল্টো তাঁকেই দেখাল পরিণত। মনেই হয়নি জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি খেলছেন। কেভিতোভাও জানালেন, ম্যাচের আগে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, ‘গতবার আমি খুব একটা সুযোগ পাইনি। সেরেনা (সেমিফাইনালে) এত দুর্দান্ত খেলছিল। তা ছাড়া আমার বয়সও ছিল কম, এই বিশ্বাসও ছিল না আমি জিততে পারব। কিন্তু আজ আমি জানতাম, আমি পারব। আমার রিটার্ন খুব ভালো। ওর (শারাপোভা) সার্ভিসও আমাকে ঝামেলায় ফেলে দেওয়ার মতো ভয়ংকর ছিল না।’

চ্যাম্পিয়নস লিগটা চাই-ই রোনালদোর!

দুই বছর আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ৮০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে রিয়াল মাদ্রিদে নাম লিখিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু আবারও তিনি ইংল্যান্ডেই ফিরে যেতে পারেন, এবারের দল বদলের মৌসুমে এমন গুজব উঠেছিল বেশ জোরেশোরেই। রোনালদো নিজেও সে কথা অস্বীকার করেননি। এমনকি রোনালদোর মনেও ম্যানচেস্টার সিটিতে যাওয়ার একটা সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা উঁকি-ঝুঁকি মারছিল। তবে আপাতত রিয়াল ছাড়ার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছেন তিনি। আপাতত রিয়ালের হয়ে আসছে মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতার লক্ষ্যেই মনস্থির করতে চান এই পর্তুগিজ স্ট্রাইকার।
ম্যানচেস্টার সিটি থেকে রোনালদোকে সরাসরি কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। তবে তাঁকে দলে ভেড়ানোর জন্য ম্যান সিটির মালিক সপ্তাহে সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড খরচ করতেও রাজি আছেন বলে রিপোর্ট করেছিল সানডে মিরর। এ প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে পেরে রোনালদো বলেছেন, ‘আমি যদি স্পেন থেকে কোথাও যাই, তাহলে আবার ইংল্যান্ডেই যাব। কিন্তু এখনই না। প্রথমে আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগটা জিততে চাই। বছরে ২০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাবটা শুনে খুব ভালো লেগেছে। কিন্তু আমি আমার এজেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি আর এখন মনে হচ্ছে, রিয়াল মাদ্রিদে থাকাটাই আমার জন্য বেশি ভালো হবে। কারণ পরবর্তী মৌসুমে আমরাই সেরা দল হিসেবে থাকতে চাই। হোসে মরিনহোও রিয়ালেই থাকছেন। তিনি যদি চেলসিতে চলে যেতেন, তাহলে আমিও হয়তো ম্যান সিটিতে চলে যেতাম।’

এবার ব্যাটিং-বোলিং

হঠাৎ দেখলে না চমকে উপায় নেই। ব্যাট নয়, নাফীস-ইমরুলদের হাতে বিশাল হাতুড়ি! হাতুড়ির যা কাজ, একটু পর শুরু হলো সেটাই। যত খুশি পেটাও!
শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, নাফীসরা পেটাচ্ছিলেন টায়ার। উদ্দেশ্য, ব্যাটিং-বোলিংয়ের আগে পেশিকে একটু নমনীয় করে নেওয়া। কদিন আগে প্রথম আলোতেই ছাপা হয়েছিল ইংলিশ ক্রিকেটারদের টায়ার পেটানোর ছবি। এবার এটি যোগ হলো বাংলাদেশের অনুশীলনেও। ছিল আরও বেশ কিছু নতুনত্ব, যাতে মজাও হয়েছে, সঙ্গে গা-গরমও।
মাস খানেকের প্রাক-মৌসুম কন্ডিশনিং ক্যাম্পে হয়েছে শুধু ফিটনেস ট্রেনিং। জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য কাল শুরু হলো ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন। প্রথম দিনেই ছোটখাটো একটা বাধা ছিল। হরতালের কারণে শুধু মিরপুর ও আশপাশের ক্রিকেটাররাই ছিলেন অনুশীলনে। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও তাঁর ডেপুটি তামিম ইকবাল খেলছেন কাউন্টি। ইংল্যান্ডেই ক্লাব ক্রিকেট খেলছেন সৈয়দ রাসেল। মিরপুর থেকে দূরে থাকায় আসেননি আরও ৫ জন। প্রথম দিন প্রাথমিক দলের ২৩ জনের মধ্যে ছিলেন ১৫ জন।
দীর্ঘদিন পর ব্যাট হাতে পেয়ে যেন পুরোনো ‘বন্ধু’কে খুঁজে পেয়েছেন শাহরিয়ার নাফীস, ‘অনেক দিন পর ব্যাটিং করে খুব ভালো লাগল। ফিটনেস ট্রেনিংটা অনেক লম্বা হলেও প্রয়োজন ছিল। সবাই এখন দারুণ চনমনে, ফিটনেস খুব ভালো অবস্থায়। আশা করি, স্কিল ট্রেনিংটাও ভালো হবে।’ ব্যাট হাতে নিয়ে আবার একটু অন্য রকম লাগছিল ওপেনার ইমরুল কায়েসের, ‘কেমন যেন একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। সবকিছু ঠিকঠাকভাবে হচ্ছিল না। প্রথম দিন তো, আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।’
শুধু নেটে ব্যাটিং-বোলিংই নয়, অনুশীলন হবে ম্যাচ পরিস্থিতির মতো করেও। পরিকল্পনায় আছে অনুশীলন ম্যাচও। ‘এ’ দলের বিপক্ষে চারদিনের ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ৬ জুলাই, হবে দুটি বা তিনটি ওয়ানডেও। জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে দক্ষিণ আফ্রিকাতেও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে দল। ১৪ মাস পর টেস্ট খেললেও সব মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতিটা ভালোই হবে বলে ধারণা সহকারী কোচ সারোয়ার ইমরানের, ‘আমরা এক বছর পর খেলছি, জিম্বাবুয়ে তো ৬ বছর পর খেলছে। সমস্যা তাই ওদেরই বেশি হওয়ার কথা। প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেললে আমরা জড়তা কাটিয়ে ফেলতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।’ আপাতত ইমরানই পরিচালনা করবেন অনুশীলন সেশন। তবে একা কাজটা কঠিন বলে বোর্ডের কাছে দু-একজন সহকারী চেয়েছেন তিনি।

মিডিয়া কাপ ফুটবল

‘কুল বিএসজেএ’ মিডিয়া কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাভিশন, আরটিভি, চ্যানেল আই ও একুশে টেলিভিশন। গতকাল কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাভিশন ১-০ গোলে রেডিও টুডেকে, একুশে টিভি ১-০ গোলে ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে, আরটিভি ১-০ গোলে দৈনিক ডেসটিনিকে ও চ্যানেল আই ২-০ গোলে এটিএন নিউজকে হারিয়েছে। আজই দুটি সেমিফাইনাল।

কাঠগড়ায় মেসিও

‘উঁচুতে না ওঠা এক রাত’—আর্জেন্টিনার ক্লারিন পত্রিকার শিরোনাম। বলিভিয়ার সঙ্গে আর্জেন্টিনার ১-১ গোলে ড্রয়ের রাতকে এভাবেই দেখেছে পত্রিকাটি।
শিরোনামের সরল বিশ্লেষণ হতে পারে এ রকম, বছর দুই আগে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচু শহর বলিভিয়ার লাপাজে ৬-১ গোলে হেরে এসেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু পরশু সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে খেলতে হয়নি এমন ভেন্যুতেও সেই লজ্জার শোধ তুলতে পারেনি আর্জেন্টিনা। আবার এটাও বলা যায়, এ রাতে আর্জেন্টিনার খেলার মানটা মোটেই উঁচু ছিল না।
এই শিরোনামের প্রতিবেদন মেসি-ডি মারিয়া-আগুয়েরোদের তারকাদ্যুতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে, ‘১-১ গোলে ড্রয়ের রাতে আর্জেন্টিনা না দল হিসাবে ভালো খেলেছে, না ছিল কোনো ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঝলক।’ টিভি চ্যানেল সিফাইভএনের মেসি-সমালোচনা ছিল একেবারেই খোলাখুলি, ‘মেসি কোনো ব্যবধানই গড়ে দিতে পারেননি।’
বলিভিয়া ম্যাচের পর লিওনেল মেসি যে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হবেন, এটা জানাই ছিল। সেই পুরোনো কথা—বার্সেলোনার মেসি আকাশি-নীল জার্সি গায়ে কখনোই আলো ছড়াতে পারেন না। এই ম্যাচেও তাঁর নিষ্প্রভ থাকা অনেকের কাছে সেই নিয়মেরই ধারাবাহিকতা। কেউ কেউ মেসির বার্সেলোনা আর আর্জেন্টিনা দলের পরিসংখ্যানও পাশাপাশি তুলে ধরেছে। বার্সেলোনার হয়ে গত মৌসুমে ৫৩ গোল করেছেন, অথচ ২০০৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে গোলের পর প্রীতি ম্যাচ ছাড়া আর্জেন্টিনার হয়ে ১৩ ম্যাচে তাঁর কোনো গোল নেই।
কিন্তু মেসি কী করবেন? মিডফিল্ডার এভার বানেগার ভুলে আর্জেন্টিনা যে গোলটি খেয়ে ০-১-এ পিছিয়ে পড়ে, সেটিকেই ড্রয়ের বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বার্সার প্লে-মেকার, ‘আমরা একটা হাস্যকর গোল খেয়ে বসলাম। আমরা হতাশ, কারণ যে লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম, সেটা পূরণ হয়নি।’
যাঁর জন্য আর্জেন্টিনাকে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে, দলে আর দেশে হতাশা; সেই বানেগা কিন্তু এই ফলকে খুব খারাপ বলছেন না, ‘আমরা জিততে চেষ্টা করেছি। তাই বলে এই ফলও খারাপ নয়। বিশেষ করে শুরুর ম্যাচে।’
মেসির এ কথায় কি আর সংবাদমাধ্যম থামে! সমালোচনা চলছেই। মাঠে দুই হাঁটু গেড়ে হতাশ হয়ে বসে আছেন—মেসির এমন একটি ছবির পাশে লা ন্যাসিওন পত্রিকা শিরোনাম দিয়েছে, ‘মর্ত্যে পতন’। ওলে জাঁকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কথাই লিখেছে বেশি করে, ‘মনে করার মতো একটি মাত্র বিষয়ই ছিল, সেটি জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।’