Sunday, June 9, 2019

‘আমাকে প্রলুব্ধ করা হয়েছে, বিশ্ব আমার সঙ্গে আছে’- নাজিলাকে ধর্ষণ করেছেন নেইমার আইনজীবীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান

নাজিলা ট্রিনডেডে’কে ধর্ষণ করেছেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার, বিশ্বখ্যাত নেইমার জুনিয়র। নাজিলা তার শিকারে পরিণত হয়েছেন। একজন নেইমারের চেয়ে কি ব্রাজিলে আর কোনো কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়? সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেছেন নাজিলা ট্রিনডেডের আইনজীবী ডানিলো গারসিয়া ডি আনড্রেডে। ওদিকে নতুন এক অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে বলা হয়েছে, নাজিলার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক আছে এই আইনজীবীর। এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। বলেছেন, আমার মক্কেলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু অপরাধ বিষয়ে তার পক্ষ অবলম্বন করা।
শুক্রবার নাজিলাকে প্রায় ৬ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
সেখান থেকে তাকে পাঁজাকোলা করে বের করে আনেন এই আইনজীবী। যেভাবে তাকে তিনি কোলে করে নিয়ে এসেছেন, তাতে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন তাদের দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে। শুক্রবার ওই শুনানির পর আইনজীবী ডানিলো গারসিয়া বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় নাজিলা অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। তিনি নিজের মাথায় আঘাত করেছিলেন। সেখান থেকে নাজিলাকে কোলে করে তিনি যখন গাড়ির উদ্দেশে বের হন তখন সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ‘শত্রুতামুলক’ আচরণের সমালোচনা করেন তিনি। নাজিলাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে এক ঘন্টা পরে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
সিএনএনকে দেয়া দীর্ঘ সাক্ষাতকারে নাজিলার পক্ষে আবেগঘন যুক্তিতর্ক উত্থাপন করেছেন ডানিলো গারসিয়া। বলেছেন, তার মক্কেলকে ধর্ষণ করা হয়েছে। যদি নেইমার নিরাপরাধ হয়, তাহলে পুলিশকে বলুন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করতে। কিন্তু সেটা মানবীয় এবং আইনসম্মত হতে হবে। গত ১৫ই মে প্যারিসের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ব্রাজিলের যুবতী মডেল নাজিলাকে বিশ্বসেরা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র ধর্ষণ করেন বলে তার অভিযোগ। এর স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করা হয়েছে।
সিএনএন’কে আইনজীবী ডানিলো গারসিয়া বলেছেন, নাজিলার সাহায্য প্রয়োজন। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি বলবো, তাকে ধর্ষণ করা হোক অথবা না হোক, তার বক্তব্যকে আমার বিশ্বাস করতেই হবে। তার যে আইনি সহায়তা প্রয়োজন সে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। শুক্রবারে সাংবাদিক ও অন্যদের বিরক্তির জবাবে তিনি বলেন, আমি মানবতার যে অভাব রয়েছে তা দেখতে পেয়েছি।
এ বিষয়ে নেইমারের আইনজীবীদের মন্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করেছে সিএনএন। জবাবে নেইমারের মুখপাত্র ডে ক্রেসপো বলেছেন, পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া গোপনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, রিও ডি জেনিরো পুলিশের প্রেস অফিসের মতে, ব্রাজিলে দুটি আলাদা পুলিশি তদন্তের মুখোমুখি নেইমার। একটি তদন্ত করছে সাও পাওলো পুলিশ। সেখানে নাজিলা গত ৩১ মে নেইমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাতে তিনি দাবি করেছেন সেইন্ট জার্মেইনের খেলোয়াড় নেইমার তাকে ওই মাসেই অপদস্ত ও ধর্ষণ করেছেন। তবে ইন্সটাগ্রামে এক ভিডিওতে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন নেইমার।
নাজিলার অভিযোগের জবাবে তিনি বলেছেন, আমাকে এটা (শারীরিক সম্পর্ক) করতে প্রলুব্ধ করা হয়েছে। যা ঘটেছে, তা ছিল একটি ফাঁদ। আর সেই ফাঁদে আমি পা দিয়েছিলাম। কিন্তু তা থেকে একটি শিক্ষা পেয়েছি। তার প্রতিনিধিরা বলেছেন, উৎকোচ আদায়ের ফাঁদে পড়ে শিকারে পরিণত হয়েছেন নেইমার। তবে ওই ভিডিওটি তারপর থেকেই প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
কিন্তু নেইমার অভিযোগ অস্বীকার করার দু’দিন পরে ইন্সটাগ্রামের ওই ভিডিও পোস্ট করার কারণে এবং তা প্রত্যাহার করার কারণে তার বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইমের আওতায় তদন্ত হচ্ছে। এই তদন্তে নাজিলার সঙ্গে তার যে রগরগে টেক্সট ম্যাসেজ বিনিময় হয়েছে তা নিয়েও যাচাই করে দেখছে পুলিশ। ওইসব টেক্সট ম্যাসেজে রয়েছে মডেল নাজিলার স্পর্শকাতর অনেক ছবি। ব্রাজিলের আইনে অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ ছবি পোস্ট করা একটি অপরাধ। তাই রিও ডি জেনিরো পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। কারণ, নেইমার ওইসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। এ সময় তিনি রিও ডি জেনিরোতে ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রশিক্ষণে ছিলেন।
রিও ডি জেনিরোতে বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন নেইমার জুনিয়র। এ সাক্ষ্য সাইবার ক্রাইম মামলার। তার আইনজীবী মারিয়া ফার্নান্দেজ নিশ্চিত করেছেন এ বিষয়ে। ওই শুনানিতে একটি হুইল চেয়ারে করে হাজির হন নেইমার। এরপর তিনি বলেন, বিশ্ববাসী, আমার বন্ধুবান্ধব, আমার ভক্তরা আমাকে সমর্থন জানিয়ে যে বার্তা পাঠিয়েছেন তাদের প্রশংসা করি আমি। এতে প্রমাণ হয়েছে বিশ্ব আমার সঙ্গে আছে। আমার শুভাকাঙ্খীদের বলতে চাই ধন্যবাদ। আমি আরও বলতে চাই, আমি ভীষণ প্রীত হয়েছি। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

তবুও মোদিকে ইমরানের চিঠি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কাশ্মির সঙ্কটসহ সব রকম সমস্যা সমাধানে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে শুক্রবার চিঠি লিখেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে এই দুই নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কোনো বৈঠক হবে না বলে ভারত জানিয়ে দেয়ার একদিন পরে এ ঘটনা ঘটেছে। মিডিয়ার রিপোর্টে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের জিও টিভি তার রিপোর্টে বলেছেন, ভারতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি লিখেছেন ইমরান খান। এতে তিনি বলেছেন, দুই দেশের মানুষের দারিদ্র্যকে দূর করতে একমাত্র আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ ছাড়া আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য একত্রে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাশ্মির সহ সব সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী পাকিস্তান।
নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর ইমরান খান দ্বিতীয় বার ভারতের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেন।
তবে এ বিষয়ে ভারতের বক্তব্য কি তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় নি। পারমাণবিক শক্তিধর এ দুটি দেশের মধ্যে এমনিতেই উত্তেজনা তুঙ্গে। বিশেষ করে পাকিস্তান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদত দেয় এমন অভিযোগে ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকে ভারত।
এর মধ্যে বেশ কয়েকবার নিয়ন্ত্রণ রেখায় উত্তেজনাকর অবস্থা সৃষ্টি হয়। সার্বিক যুদ্ধ লাগতে লাগতে তা বিদেশী মধ্যস্থতায় থেমে যায়। সর্বশেষ পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধংদেহী অবস্থান তৈরি হয়। যুদ্ধের প্রান্তসীমায় পৌঁছে যায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এবারই প্রথম পাকিস্তানের আকাশসীমায় ভারতীয় যুদ্ধবিমান প্রবেশ করে। ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোটে কথিত সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ শিবিরে হামলা চালায়। পরের দিন পাকিস্তানও পাল্টা আক্রমণে যায়। তারা আটক করে ভারতীয় যুদ্ধবিমানের পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে। পরে শুভেচ্ছার নিদর্শন স্বরূপ তাকে ফেরত দেয় পাকিস্তান।
অবশেষে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলে ২৬ মে। এদিন লোকসভা নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন করেন ইমরান খান। তার সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু শপথ অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশকে আমন্ত্রণ জানালেও পাকিস্তানকে সে তালিকায় রাখেন নি মোদি। তারপরও ইমরান খান একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়ে তাকে চিঠি লিখেছেন।

পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে উদ্ধার সেই নবজাতক পেল মায়ের কোল

পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতক মায়ের কোল পেয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পোড়াবাড়ী এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশ থেকে ওই নবজাতককে কুড়িয়ে পাওয়া যায়।
ওই নবজাতককে দত্তক নিতে নিঃসন্তান দম্পতিসহ একাধিক ব্যক্তি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। শেষ পর্যন্ত শিশুটির দায়িত্ব পান আক্তার হোসেন ও শিউলি দম্পতি। চিকিৎসা শেষে আজ রোববার তাঁদের কাছে নবজাতকটি হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, সমাজে ভালো-মন্দ দুই রকমের মানুষের বসবাস। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একটু বেশিই নিষ্ঠুর। সেই নিষ্ঠুরতা থেকেই নিজের নবজাতককে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে গেছে। আবার দয়ালুরা সেই নবজাতককে কুড়িয়ে পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছেন।
এলাকাবাসী, জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের পোড়াবাড়ী এলাকায় গত মঙ্গলবার (৪ জুন) রাতে একটি বাজারের ব্যাগে নবজাতক পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় পোড়াবাড়ী এলাকার সফিকুল ইসলাম ওই রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় পরিত্যক্ত এক ব্যাগ থেকে শিশুর কান্না শুনতে পান। পরে তিনি ব্যাগটিতে এক নবজাতক দেখতে পান। শিশুটি উদ্ধার করে স্থানীয় কাউন্সিলরের সহায়তায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে সফিকুল ইসলামের নিকটাত্মীয় শিউলি আক্তার নবজাতকটির সেবা করছেন। শিশুটিকে দত্তক নিতে নিঃসন্তান একাধিক ব্যক্তি আগ্রহ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানান। পরে জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর মহানগরীর মারিয়ালী এলাকার নিঃসন্তান মো. আক্তার হোসেন ও শিউলি আক্তার দম্পতিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দত্তক দেওয়ার অনুমতি দেন।
সফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৬ বছর আগে আক্তার-শিউলির বিয়ে হয়। এখন পর্যন্ত তাঁদের কোনো সন্তান হয়নি। অনেক দিন ধরেই ওই দম্পতি দত্তক নেওয়ার জন্য বাচ্চা খুঁজছিলেন। শিশুটি পাওয়ার পর থেকেই শিউলি আক্তার হাসপাতালে বাচ্চাটির দেখাশোনা করছেন। এখন পর্যন্ত তার পরিচয় মেলেনি।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, যথাযথ প্রক্রিয়ায় শিশুটিকে ওই পরিবারের কাছে দত্তক দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, প্রথম দিকে শিশুটিকে ভালো মনে হলেও বর্তমানে তার জন্ডিস ধরা পড়েছে। প্রয়োজন হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা শিশু হাসপাতালে পাঠানো হবে।

ফ্রন্টের পরিধি বাড়ানোর ইঙ্গিত আস্থা সংকটে নেতারা by কাফি কামাল

ফ্রন্টের পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তারই অংশ হিসেবে প্রথমেই তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন ফ্রন্টের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নিরসনের। আগামীকাল ফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠক ডেকেছেন তিনি। সেখানে সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিজেদের কৌশল পর্যালোচনা এবং আগামীদিনের করণীয় নিয়ে  আলোচনা করবেন। বৈঠকে গৃহিত কৌশলের ভিত্তিতে ফ্রন্টের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। ঐক্যফ্রন্টের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এমন তথ্য জানিয়েছেন। তবে দেশের রাজনৈতিক মহলসহ নিজ দলের নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে তাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, কৌশল ও কর্মপন্থা নিয়ে।  আস্থার সংকটে পড়েছেন নেতারা। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব- এমন ভাবনা থেকেই নির্বাচনের আগে গড়ে তোলা হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
রাজনীতিতে নানামুখী দ্বন্দ্ব-সন্দেহের মধ্যদিয়ে ঐক্যফ্রন্ট পথচলা শুরু করেছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে বিএনপি ও ২০ দলের আপত্তিকারী নেতারাও মেনে নিয়েছিল বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে। কিন্তু যে প্রত্যাশা নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গড়ে তোলা হয়েছিল, তার ন্যূনতম অর্জন প্লাটফর্মটির মাধ্যমে আসেনি। একাদশ জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা ও পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইস্যুতে প্রশ্ন উঠেছে ফ্রন্টের কৌশল ও কর্মপন্থা নিয়ে। একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানীতেও এই প্রশ্ন তুলেছিলেন ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থীরা। বিশেষ করে দীর্ঘদিনেও খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ তৈরি করতে না পারা এবং রাজনীতির নিস্তরঙ্গ পরিস্থিতির কারণে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ ও হতাশা। নির্বাচনের পর কয়েকটি কর্মসূচি দিলেও তা পালন হয়েছে খুবই সংক্ষিপ্ত পরিসরে। সারাদেশে সংঘটিত নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৩০শে এপ্রিল শাহবাগে ‘গণজমায়েত’ কর্মসূচি পালনের ঘোষনা দিয়েছিল। কিন্তু ২৯শে এপ্রিল সন্ধ্যায় পূর্বঘোষিত ‘শাহবাগে গণজমায়েত’ কর্মসূচি অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়। তারপর থেকেই নীরব জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দীর্ঘদিনেও ২০দলের শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে পারেনি ঐক্যফ্রন্ট। উল্টো ভাঙন ধরেছে ২০দলে। ফ্রন্টের শরিকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। এমন পরিস্থিতিতে, ফ্রন্টের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের ইঙ্গিত রয়ে যাচ্ছে প্রশ্নের মোড়কে।
দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বৃহস্পতিবার বেইলি রোডে নিজের বাসায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট মোটেও ভাঙনের পথে না। ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য অটুট আছে। নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করাই পরিকল্পনা। আগামী ১২ই জুন আমরা সবাই মিলে বসছি। আমরা কৌশল ঠিক করে মাঠে নেমে ঐক্যকে আরও সুসংহত করব।’ সমমনা দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন জোরদার করার কথা জানিয়ে ড. কামাল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য জনগণের ঐক্য গড়ে তোলা। সমমনা দলগুলো সঙ্গে নেয়ার কাজটা অব্যাহত আছে। তা আরও জোরদার করা হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই ধরনের একটা স্বৈরতান্ত্রিক অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হলে জনগণের ঐক্য প্রয়োজন এবং সচেতন রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য অপরিহার্য। জোটের পরিধি আরও বাড়িয়ে এই বছরই আন্দোলন জোরদার করা হবে।’
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কি বলছে বাস্তবতা? বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট বিদ্যমান থাকার পরও আলাদা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন প্রশ্নে আপত্তি ছিল অনেকের। জোটের মধ্যে গুরুত্বহীন করে তোলার অভিযোগ করেছিল ২০ দলীয় জোটের কয়েকটি শরিকদল। কিন্তু বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে তখন এ নিয়ে বিএনপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঐক্য ধরে রেখেছিল তারা। নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যানের পর ফের সংসদে যোগ দেয়ায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলে যেমন ভাঙন ধরে, তেমনি অসন্তোষ তৈরি হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে। দুই দশকের সম্পর্ক ভেঙে জোট ছাড়ে ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের দল বিজেপি। শপথগ্রহণ প্রশ্নে ২০দল ও ফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা না করায় তারা ক্ষুব্ধ বিএনপির ওপর। কেবল তাই নয়, এই সিদ্ধান্তের মধ্যদিয়ে ফ্রন্টের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী সাত এমপির শপথ গ্রহণের ব্যাখ্যা চেয়ে জোট ছাড়ার এক মাসের আলটিমেটাম দেয় ফ্রন্টের শরিক দল কৃষক-শ্রমিক-জনতালীগ। অসন্তোষ প্রকাশ করে মাহমুদুর রহমান মান্নার দল নাগরিক ঐক্যের নেতারা। সবচেয়ে বড় কথা দলের শীর্ষ নেতারা বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট গড়লেও তার প্রতি আস্থা তৈরি হয়নি বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের। জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে আরও প্রকট হয়েছে সে আস্থার সংকট। সবচেয়ে বড় কথা সবখানে বিরাজ করছে সমন্বয়হীনতা। 
জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে সাত এমপির শপথ গ্রহণের ব্যাখ্যা চেয়ে ৯ই মে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন কৃষক-শ্রমিক-জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। সে আলটিমেটামের ডেটলাইন ছিল গতকাল ৮ই জুন। ডেটলাইন শেষে দুইদিন সময় নিয়েছেন কাদের সিদ্দিকী। গতকাল তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা জনগণের আশা-আকাঙক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত জন এমপির শপথ নেয়ার সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলাম। এরই মধ্যে ড. কামাল হোসেন আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আগামী ১০ই জুন আ স ম আবদুর রবের বাসায় ফ্রন্টের সবাইকে তিনি ডেকেছেন। ওই বৈঠক থেকে কী ব্যাখ্যা আসে- সেটা আমরা দেখব। তারপর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবো।’
জাতীয় স্বার্থে ড. কামাল হোসেনকে নেতৃত্বের আসনে বসিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনের পরপরই প্রশ্ন উঠেছে তিনি এই বৃহত্তর বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিতে কতটুকু প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে পেরেছেন। নির্বাচনের পর বিএনপির নেতারা নানা আলোচনা সভায় এ ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তারা কথা বলেছেন রয়েসয়ে। ফ্রন্টের শরিক দল কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী তার আলটিমেটাম ঘোষণার দিন বলেছিলেন, ‘৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়নি। বিশেষ করে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার পর কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই ফ্রন্টের সাত জন বিজয়ী প্রার্থী শপথ নিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট পরিচালনায় কেন এই দুর্বলতা? সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত কেন নেয়া যাচ্ছে না?’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনে সরকারের কৌশলের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট কুলিয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো বর্জনের সিদ্ধান্তটি ছিল অপরিনামদর্শী। মূলত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যৌথসিদ্ধান্তের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপি। ফ্রন্টের নির্বাচিত এমপিরা সংসদে যাবেন না সিদ্ধান্ত নেয়ার ভেতর দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তটি এসেছিল। সে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণে শত শত নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। কিন্তু গণফোরামের দুই এমপির শপথের মধ্যদিয়ে তৈরি হওয়া পথে বিএনপির এমপিরা শপথ নেয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তটি হয়ে পড়ে অর্থহীন।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যখন পরিধি বাড়ানোর চিন্তা করছে তখন নতুন চিন্তা করছে ২০দল। জোটের কয়েকজন নেতা বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ২০ দলের শরিকদের সম্পর্ক মজবুত হয়নি। তারা এখনও জোটের রাজনীতি করছেন বিএনপির কারণে। ২০ দলের দুইজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, জোটের আগামী বৈঠকে বিএনপির প্রতি ২০ দলকে সক্রিয় করতে রাজী আছে কিনা- এমন একটি প্রশ্ন তারা তুলবেন। তারা জানান, জোটের শরিক দলগুলো বিএনপিকে ছেড়ে যেতে চায় না কিন্তু ফ্রন্টের ব্যাপারে তাদের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বর্তমান সরকারের কাছে দাবি আদায়ে কোন ধরনের আন্দোলনে যেতে পারবে কিংবা অন্য কোন কৌশল কার্যকর করতে পারবেন সেটা তারা কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। ফলে নতুন করে কোন রাজনৈতিক দল ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ফ্রন্টের ওপর আস্থা রেখে যোগ দিতে আগ্রহী হবেও তার মনে করছেন না।

জরুরি সেবার গাড়ি টোলপ্লাজা পার হবে কীভাবে?

আমানুর রহমান রনি, চৌধুরী আকবর হোসেন ও এনায়েত করিম বিজয়, বাংলা ট্রিবিউনঃ বঙ্গবন্ধু সেতুর নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত হলেও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেতুতে উঠতে দেওয়া হয়নি। টোলপ্লাজা জরুরি মনে করলেই কেবল ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেতুতে উঠতে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (বঙ্গবন্ধু সেতু) আহসানুল কবির পাভেল।
শনিবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বর থেকে তথ্য দেওয়া হলেও আমাদের কাছে আগুনের কোনও তথ্য ছিল না। তাই আমরা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি উঠতে দিইনি। তাছাড়া সেতুর নিরাপত্তার জন্যও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি উঠতে দেওয়া হয়নি।”
শুক্রবার (৭ জুন) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর একটি চলন্ত বাসে আগুন লেগেছে, ‘৯৯৯’ নম্বর থেকে পাওয়া এমন খবরে ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে রওনা হয়। তবে সেতু কর্তৃপক্ষ ফায়ার সার্ভিসের ওই গাড়িটিকে সেতুতে উঠতে দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যাপক সমালোচনা হয়।
ফায়ার সার্ভিস একটি জরুরি সেবাদাতা সরকারি প্রতিষ্ঠান। সেখানে প্রশিক্ষিত মানুষ কাজ করেন। তারা কীভাবে সেতুর জন্য নিরাপত্তার হুমকি হয় জানতে চাইলে এর কোনও ব্যাখ্যা না দিয়ে প্রকৌশলী আহসানুল কবির পাভেল বলেন, ‘আগুনের খবরটি সত্য ছিল না। সেতুর ওপর-নিচে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। আমরা সিসি ক্যামেরায় কোথাও সেতুর ওপরে কোনও বাসে আগুন দেখতে পাইনি। তাই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আমরা যেতে দিইনি। তাছাড়া, আমরা জরুরি মনে করিনি।’
ফায়ার সার্ভিসের জরুরি সেবার বিষয়টি টোলপ্লাজা নির্ধারণ করতে পারে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা জরুরি মনে করলে যেতে দিই। এর আগেও ইকোপার্কে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, তখন ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি টোল-ফ্রি যেতে দেওয়া হয়েছে। সেদিন বাসের আগুনের তথ্য সঠিক ছিল না, তাই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যেতে দেওয়া হয়নি।’
যেকোনও অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সেখানে যাওয়ার পর ফিরে এসে একটি রিপোর্ট তৈরি করতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। কিন্তু টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষ ফায়ার সার্ভিসকে ঘটনাস্থলেই যেতে দিলো না, এটা সরকারি কাজে বাধা কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘আমরা তাদের জানিয়েছি কোনও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি।’
ফায়ার সার্ভিস অভিযোগ করেছে, তাদের গাড়ি টোলপ্লাজায় প্রায়ই আটকে দেয়। এই অভিযোগ সত্য কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে আমরা নিজেরাই তাদের খবর দিয়ে থাকি। তাছাড়া আমাদের নিজেদেরও আগুন নির্বাপণের ব্যবস্থা রয়েছে।’ ফায়ার সার্ভিসের কোনও গাড়ি টোল-ফ্রি নয় বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা টোল না দেওয়ার জন্যই এই ঝামেলা করেছে। তারা টোল ছাড়া যেতে চেয়েছিল।’
আহসানুল কবির পাভেল আরও বলেন, ‘আগুন না লাগায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি টোল ছাড়া যেতে দেওয়া হয়নি। এ জন্য ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আমাদের টোলপ্লাজার লোকজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। পরে তারা ইস্যু করলো যে আগুন নেভানো তাদের উদ্দেশ্য নয়, তাদের উদ্দেশ্য টোল ছাড়া সেতুতে যাবে। এই হলো বিষয়। ওই ঘটনার সময় তারা মোবাইল দিয়ে ভিডিও করে ফেসবুকে ভাইরাল করে।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেতু হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ (কেপিআই) স্থাপনা। আমাদের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম রয়েছে। আমরা যখন ব্যর্থ হই, তখন ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিই। আমরা তাদের ডাকিনি, তারা নিজেরাই এসেছিল। একটা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তারা এসেছিল।’
জাতীয় জরুরি সেবা থেকে ফায়ার সার্ভিসকে বাসে অগ্নিকাণ্ডের যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল তা সঠিক ছিল না বলে দাবি করেছেন টোলপ্লাজার কর্মকর্তারা।
ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার ফেরদৌস মিয়া বলেন, “শুক্রবার বিকেল ২টা ৫৫ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ থেকে ফোন করে সেতুর ওপর উত্তরবঙ্গগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে আগুন লাগার খবর দেওয়া হয়। এছাড়াও ‘৯৯৯’ থেকে এক ব্যক্তির ফোন নম্বর দেওয়া হয়। আমরা যোগাযোগ করলে তিনি আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে তাৎক্ষণিক একটি টিম নিয়ে বের হয়ে সেতুর টোলপ্লাজার সামনে পৌঁছালে সেতু কর্তৃপক্ষ গাড়িটি আটকে দেয়। আগুন লাগার বিষয়টি জানালেও তারা গাড়িটি সেতুতে উঠতে দেয়নি। টোল ছাড়া টোলপ্লাজা অতিক্রম করা যাবে না, এমন কথা তারা জানিয়ে দেন।’
তিনি বলেন, ‘ওই সময় কয়েকজন পুলিশও টোলপ্লাজায় দাঁড়ানো ছিল। তারা জানান, রাষ্ট্রপতির গাড়ি ছাড়া আর কোনও গাড়ি টোল ছাড়া যেতে পারবে না। তারা একটি লিস্ট বের করে নিয়ে আসেন। ওই লিস্টে ফায়ার সার্ভিসের নাম নেই বলেও জানান। এ সময় সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা, সিকিউরিটি গার্ডসহ প্রায় ৮-১০ জন লোক আমাদের কর্মকর্তা ও কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। পরে বিষয়টি ৯৯৯-এ জানালে তারা ফিরে যেতে বলেন। আমরা এরপর বিষয়টির আর খোঁজ নিতে পারিনি।’
ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার আরও বলেন, ‘সেতু কর্তৃপক্ষও সরকারি কাজ করে, আমরাও সরকারি কাজ করি। তারা যদি যানমালের রক্ষা না করতে দেয় তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। টোল দেওয়ার মতো আমাদের কোনও ফান্ড নেই। টোলের জন্য এর আগে বাংলাদেশের কোথাও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকানো হয়নি। এই প্রথম বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ এই নজির সৃষ্টি করলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনা শোনার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে আমরা গাড়ি নিয়ে বের হই। তখন আমাদের পকেটে টাকা আছে কিনা, সেই বিষয়টি খেয়াল রাখি না। যখন ওই ধরনের প্রিপারেশন এবং টোলপ্লাজাতেও সময় দিতে হবে, তখন কিন্তু আমাদের সময় অপচয় হবে। তখন দেখা যাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গেছে।’
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দফতর থেকে ফোন করে অনেকে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও তিনি জানান।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি টোল দিয়ে পারাপারের বিষয়ে আমাদের কোনও নির্দেশনা নেই। কোনও সেতুতে টোল দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পারাপার হয়েছে, এমন ঘটনা আমার জানা নেই। বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি আমাদের দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখবেন।’
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেনি। এটা ভুয়া তথ্য ছিল। এজন্য সেতু কর্তৃপক্ষ ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যেতে দেয়নি।’

নিউ ইয়র্কে টাইমস স্কয়ারে সন্ত্রাসী হামলা পরিকল্পনায় অভিযুক্ত বাংলাদেশী আশিকুল

নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশী অভিবাসী আশিকুল আলমকে (২২)। ৭ই জুন তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর আগে ৬ জুন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কুইন্সে বসবাস করতেন। কর্তৃপক্ষ বলেছে, জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এবং আল কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেনের ভীষণ প্রশংসা করেন আশিকুল আলম। তিনিই টাইমস স্কয়ারে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। এ জন্য ছদ্মবেশী এক গোয়েন্দা এজেন্টের কাছ থেকে একজোড়া আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল কেনার বন্দোবস্ত করেছিলেন। বলা হয়েছিল, ওই পিস্তলের সিরিয়াল নাম্বার তুলে ফেলে তার কাছে সরবরাহ করতে হবে।
এই অস্ত্র দিয়ে তিনি জনবহুল ম্যানহাটানে উত্তম স্থানে হামলা চালাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে বলে খবর দিয়েছে ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই। একই খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরাইল, মালয়েশিয়ার নিউ স্ট্রেইটস টাইমস।
এতে বলা হয়েছে, আশিকুল আলম চোখে চশমা ব্যবহার করেন। কিন্তু হামলা চালানোর সময় যদি তা পড়ে যায় তাহলে তার দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হবে। এ জন্য তিনি সম্প্রতি চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করাতে অপারেশন করিয়েছেন। ফেডারেল চার্জে এ কথা বলা হয়েছে। তিনি টাইমস স্কয়ারে আত্মঘাতী ভেস্ট অথবা এআর-১৫ রাইফেল দিয়ে হামলা চালাতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি ও ছদ্মবেশী ওই এজেন্ট বেশ কয়েকবার প্রাথমিক অনুমান হিসাব নির্ধারণে টাইমস স্কয়ার পরিদর্শন করেছেন। তারা মনে করেছিলেন, সেখানে এমন হামলা চালানো গেলে তারা ‘লিজেন্ডে’ পরিণত হবেন।
কিন্তু তাকে সঙ্গ দেয়া ব্যক্তি যে ছদ্মবেশী এজেন্ট তা বুঝতে পারেন নি আশিকুল আলম। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার খায়েস ছিল একটি রকেট লঞ্চার দিয়ে লোয়ার ম্যানহ্যাটানে নতুন বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্র ধ্বংস করে দেয়ার। তিনি ওসামা বিন লাদেনের ভূয়সি প্রশংসা করেন। বলেন, লাদেনের মিশন পুরোপুরি সফল হয়েছে। তার হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার সেনা নিহত হয়েছে এবং শত শত কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে যুদ্ধে। নিউ ইয়র্কে এফবিআইয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা উইলিয়াম স্বয়েনি বলেছেন, তার উদ্দেশ্য ছিল একটি সন্ত্রাসী হামলা চালানো। তিনি অস্ত্র কিনে এই ভয়াবহ হামলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। হত্যা করতে চেয়েছিলেন নিউ ইয়র্কারদের, টার্গেট করতে চেয়েছিলেন নির্বাচিত কর্মকর্তাদের এবং হামলা করতে চেয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের আগস্টে ছদ্মবেশি ওই গোয়েন্দা এজেন্টের সঙ্গে আশিকুল আলমের প্রথম সাক্ষাত হয়। তবে কিভাবে তারা দু’জন একত্রিত হয়েছিলেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয় নি। এ নিয়ে ওই ছদ্মবেশী এজেন্টের সঙ্গে তার মোমের আলোতে ১০ মাস ধরে বৈঠক চলতে থাকে। এতে পরিকল্পনা, অস্ত্র কেনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময়ই আশিকুল আলম আল কায়েদা ও আইএসের প্রশংসা করেন। কোর্টের ডকুমেন্ট অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলাকে তিনি একটি পরিপূর্ণ সফলতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
উল্লেখ্য, মিডটাউন ম্যানহ্যাটানে টাইমস স্কয়ারের চারপাশে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা। এখানে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু হামলার চেষ্টা হয়েছে। ২০১৭ সালে এক ব্যক্তি একটি পাতালপথের করিডোরে পাইপবোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এক ব্যক্তি। এই করিডোরটি ব্যস্ততম পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনাল থেকে টাইমস স্কয়ার পর্যন্তু সংযুক্ত করেছে। ওই বিস্ফোরণে তখভন কমিউটার যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়। ভীতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। যে ব্যক্তি এই হামলা করেছিলেন তিনিই এতে গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় গত বছর সন্ত্রাসের অভিযোগে অভিযুক্ত হন আইএসের আদর্শে উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশী আকায়েদ উল্লাহ।

নুসরাতের প্রেম, বিয়ের গুঞ্জন, অতঃপর...

এতদিন পরিচয় ছিল তার সিনেমার নায়িকা। এখন তার সঙ্গে যোগ হয়েছে লোকসভার এমপি। তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচিত লোকসভার এমপি নুসরাত জাহান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি খুব বেশি আসক্ত। এখানে প্রায় সময়ই পোস্ট দিয়ে থাকেন। তবে এবার তার ভালবাসা নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। যে সৌভাগ্যবান পুরুষকে তিনি বিয়ে করতে যাচ্ছেন তার সঙ্গে নিজের ছবি প্রকাশ করেছেন। তবে এক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন একটু।
কৌশলে প্রেমিকের পুরো শরীর না দেখিয়ে শুধু তার একটি হাত দেখিয়েছেন। প্রেমিক পুরুষটি তার বাম হাতটি ধরে রেখেছেন। নুসরাতের যে হাতটি ধরে রেখেছেন, তিনি সেই অনামিকায় পরে আছেন একটি আংটি। নুসরাতের বিয়ে নিয়ে বাজারে যে গুজন আছে, তার মধ্যেই তিনি এমন ছবি প্রকাশ করেছেন নিজের ইন্সটাগ্রামে। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, বাস্তবতা যখন আপনার স্বপ্নের চেয়ে বেশি হয়ে দেখা দেয়, একজন আরেকজনের জীবনে লেগে থাকা সর্বোত্তম।
ইন্সটাগ্রামে একই ছবি প্রকাশ করেছেন নুসরাতের প্রেমিকও। তিনি তাতে ক্যাপশনে লিখেছেন, তুমি জানো ভালবাসার অর্থ কি, যখন তুমি একজনের সঙ্গে বয়সকে বাড়িয়ে দেয়ার পথে অগ্রসর হও। সব কিছু যখন ওই একজনের জন্য। তোমার সবকিছু ওই ব্যক্তির জন্য উৎসর্গ করে নিজেকে আবিষ্কার করো। তুমি এমন একজনকে বেছে নিয়েছো, যাকে কখনো ভাবো নি। ধন্যবাদ নুসরাত আমার জীবনকে সবচেয়ে সুন্দর করে তোলার জন্য। তুমি আমাকে অর্থবহ করে তুলেছ।
২০১১ সালে ‘শত্রু’ ছবির মধ্য দিয়ে টলিউডে অভিষেক হয় নুসরাত জাহানের। এরপর ২০১৩ সালে তিনি ‘খোকা ৪২০’ এবং ‘খিলাড়ি’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত হিট ছবির মধ্যে রয়েছে জামাই ৪২০, হর হর ব্যোমকেশ, কেলেরকীর্তি, লাভ এক্সপ্রেস, জুলফিকার, হরিপদ ব্যান্ডওয়ালা, বলো দু¹া মাইকি, উমা, ক্রিসক্রস এবং নাকাব উল্লেখযোগ্য।

অঞ্জু ঘোষের নাগরিকত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি চরমে

ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেয়া ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’ -খ্যাত অঞ্জু ঘোষের নাগরিকত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি চরমে পৌঁছেছে। প্রশ্ন উঠেছে অঞ্জু ঘোষ কি আদৌ ভারতীয় নাগরিক নাকি বাংলাদেশের নাগরিক? বুধবার ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গ কমিটির সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন অভিনেত্রী অঞ্জু ঘোষ। এরপর থেকেই তার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, দেশের মানুষ আর বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না। তাই ওপার বাংলা থেকে ওদের লোক নিয়ে আসতে হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ বৃহস্পতিবার বারে বারে প্রমাণ করার চেষ্টা হয়েছে যে, অঞ্জু ঘোষ ভারতেরই নাগরিক। এমনকি বার্থ সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, ভোটরকার্ড, আধার কার্ড এই সব প্রমাণ হিসেবে হাজির করা হয়েছে।
কিন্তু এই প্রমাণগুলো খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিভ্রান্তি আরো বেড়েছে। অঞ্জু ঘোষ ষে বাংলাদেশের ফরিদপুরের মেয়ে, এটা সকলে জানেন। সেখানেই তার জন্ম একথাও সকলে জানেন।
কিছুদিন আগে বাংলাদেশে গিয়ে তিনি মিডিয়ার কাছে বলেছিলেন ফরিদপুরেই তার জন্ম। তবে চট্টগ্রামে তার পড়াশোনা। বাংলাদেশি অঞ্জু গত ২০ বছরের বেশি সময় কলকাতায় থাকলেও তিনি কি ভারতের আইনগত নাগরিকত্ব পেয়েছেন, সেই প্রশ্নও উঠেছে। বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তার ফেসবুকে অঞ্জু ঘোষের বার্থ সার্টিফিকেট হাজির করে প্রমাণ করেছেন তার জন্ম ভারতেই। কলকাতা পুরসভার ২০০৩ সালে দেয়া একটি বার্থ সার্টিফিকেটও তিনি পোস্ট করেছেন। তবে তাতে অঞ্জু ঘোষ নাম লেখা রয়েছে। এতদিন জানা ছিল, তার নাম অঞ্জলি ঘোষ। সিনেমা করার সময় নাম সংক্ষেপ হয়ে করা হয়েছিল অঞ্জু ঘোষ। জানা ছিল, তার জন্ম ১৯৫৬ সালে। জন্ম সালের সঙ্গে সার্টিফিকেটের জন্ম সালের কোনো মিল নেই। এখানে বলা হয়েছে, অঞ্জুর জন্ম কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ১৯৬৬ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর। তবে দিলীপ ঘোষ বলেছেন, শ্রীমতী অঞ্জু ঘোষের বিজেপিতে যোগদানে বহু মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তাদের সন্দেহ অঞ্জু ঘোষ ভারতের নাগরিক কিনা। তার জন্ম প্রমাণপত্রই তার নাগরিকত্বের প্রমাণ। দিলীপ ঘোষের এই প্রমাণ হাজির করার পর থেকে তার ফেসবুকে বহু মানুষ এই বার্থ সার্টিফিকেটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অঞ্জু ঘোষ অবশ্য তার নাগরিকত্ব নিয়ে স্পষ্ট কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।
শুধু বলেছেন, তার সবকিছুই ভারতে। ভারতেই তার পিতা-মাতা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তবে দিলীপ ঘোষের পাশাপাশি দলের সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার অঞ্জু ঘোষের যে পাসপোর্ট, আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও ভোটার কার্ড পেশ করে অঞ্জুর ভারতীয় নাগরিকত্বর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন, সেগুলোতে রয়েছে প্রবল অসঙ্গতি। নামের পার্থক্য যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে জন্ম সালেরও পার্থক্য। অঞ্জুর যে পাসপোর্ট দেখানো হয়েছে, সেটির মেয়াদ শুরুর তারিখ ২০১৮ সালে। যে অভিনেত্রী দীর্ঘদিন বাংলাদেশ এবং ভারতে অভিনয় করেছেন, তার পাসপোর্ট ২০১৮ সালের হয় কী করে? বিজেপির দাবি, এটি তার শেষ জারি হওয়া পাসপোর্ট। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে তার প্রথম পাসপোর্টের তথ্য কোথায়? যদি তিনি নাগরিকত্ব বদলে থাকেন, তা হলে কলকাতার জন্মের প্রশংসাপত্র আসে কোথা থেকে? বিজেপি তার যে ভোটার কার্ড দাখিল করেছে, সেটি ইস্যুর তারিখ ২০০২ সাল। অঞ্জু যদি ভারতেরই নাগরিক হবেন, তাহলে ভোটার কার্ড ২০০২ সালের কেন? তার যে প্যান কার্ড দেয়া হয়েছে, সেখানে আবার জন্ম সাল ১৯৬৭। এদিকে, বার্থ সার্টিফিকেট ও পাসপোর্টে একই নাম বলা হলেও প্যান কার্ড, আধার কার্র্ড ও ভোটার কার্ডে অঞ্জুর নাম দেয়া হয়েছে জ্যোৎস্না অঞ্জু ঘোষ। অঞ্জুর বিজেপিতে যোগদানের পর থেকে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোরদার জল্পনা। অঞ্জু ঘোষ কী ভারতীয় নাগরিক, নাকি তিনি বাংলাদেশি, এই নিয়ে বিজেপির উপর চাপ বাড়াতে রাজ্যের শাসকদলও তৎপর হয়ে উঠেছে। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছিল তার ছবি ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’।
ওই ছবিটি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশে। ১৯৯১ সালে কলকাতাতে ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’র রিমেক হয়েছিল। ওই ছবিতেও মূল ভূমিকায় ছিলেন অঞ্জু ঘোষ। তবে রিমেকে নায়ক হন চিরঞ্জিৎ। তারপর থেকে কলকাতাতেই থেকে যান অভিনেত্রী। ভারতে থাকলেও অঞ্জুর নাগরিকত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গিয়েছে। অথচ গত লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে অংশ নেবার জন্য বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা ফেরদৌস এবং টিভি অভিনেতা নূরকে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিল। ফেরদৌসকে কালো তালিকাভুক্তও করা হয়েছে। সে সময় তৃণমূল কংগ্রেস বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল। একইভাবে এবার বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে বিজেপি।

আসিয়ানের রিপোর্ট ফাঁস: ২ বছরে ৫ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার!

রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসিয়ানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট টিম’-এর তৈরি করা একটি রিপোর্ট প্রকাশের আগেই ফাঁস হয়ে গেছে! ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির হাতে আসা ওই রিপোর্টে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা সমপ্রদায়ের ৫ লাখ মানুষকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার। এএফপি জানিয়েছে, ওই রিপোর্টে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারের চলমান পদক্ষেপ নিয়ে প্রশংসা করা হয়েছে। শিগগিরই রিপোর্টটি জনসম্মুখে প্রকাশ করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। ২০১৭ সালের ২৫শে আগস্ট কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ নারী-পুরুষ ও শিশু। এদের সঙ্গে রয়েছেন ১৯৮২ সাল থেকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া আরও প্রয় ৩ লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। এএফপি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকারের কাছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা ৫ লাখ, যা বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘের হিসাবের চেয়ে অনেক কম।
‘প্রিলিমিনারি নিডস অ্যাসেসমেন্ট ফর রিপেট্রিয়েশন ইন রাখাইন স্টেট, মিয়ানমার’ শিরোনামে প্রণীত রিপোর্টে ৫ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করার কথা উঠে এসেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। উগ্র বৌদ্ধবাদকে ব্যবহার করে সেখানকার সেনাবাহিনী ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে স্থাপন করেছে সামপ্রদায়িক অবিশ্বাসের চিহ্ন। ছড়িয়েছে বিদ্বেষ। ৮২-তে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতার কাল শুরু হয় রোহিঙ্গাদের। এরপর কখনও মলিন হয়ে যাওয়া কোনও নিবন্ধনপত্র, কখনও নীলচে সবুজ রঙ্গের রসিদ, কখনও ভোটার স্বীকৃতির হোয়াইট কার্ড, কখনও আবার ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ কিংবা এনভিসি নামের রংবেরঙের পরিচয়পত্রে ধাপে ধাপে মলিন হয়েছে তাদের জাতিগত পরিচয়। ক্রমশ তাদের রূপান্তরিত করা হয়েছে রাষ্ট্রহীন বেনাগরিকে। এএফপি জানিয়েছে, আসিয়ানের রিপোর্টেও মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের মতো করে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। তাদের পরিচয় হিসেবে সেখানে ‘মুসলমান’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। গত ৬ই জুন নেপি’ডতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে নানা জটিলতায় এখনও প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরায়নি মিয়ানমার। আসিয়ানের রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে এএফপি আরো জানিয়েছে, ম্যানুয়ালি কাজ করার পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কাজ করা হলে ৫ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ করতে ‘দুই বছরের মতো’ সময় লাগবে।

রাতারাতি ধ্বংসস্তূপ চকবাজারের ‘জাহাজ বাড়ি’

ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ভবন ‘জাহাজ বাড়ি’। স্থানীয় লোকজন জানান, ঈদের রাতে ভাঙা হয় প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভবনটি। চকবাজার, ৭ জুন। ছবি: দীপু মালাকার
হাই কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ঈদের দিন রাতে কে বা কারা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুরান ঢাকার চকবাজারের ‘জাহাজ বাড়ি’। ভবন নয়, সেখানে এখন শুধু ইট-পাথরের স্তূপ।
ভবন ভাঙার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তা বন্ধ করে দেয় বলে চকবাজার থানার ওসি শামীম আল রশীদ জানান। তাঁর দাবি, ‘আমি যতটুকু শুনেছি অনেক পুরোনো ঐতিহ্যবাহী দোতলা এই ভবনটি হাজি সেলিম কিনে নিয়েছেন। তিনি এটি ভেঙে নতুন কিছু করবেন হয়তো। কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ায় ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। যেহেতু এটি জায়গা-জমির ব্যাপার, তাই এটি আদালতেই ফয়সালা হবে।’
স্থানীয় লোকজন বলছেন, তাঁদের এলাকার সাংসদ ও আওয়ামী লীগের নেতা হাজি সেলিমের লোকজন ঈদের দিন বুধবার রাতে হঠাৎ চকবাজারের এই ভবন ভেঙে ফেলেন। তবে এ ব্যাপারে হাজি সেলিমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার চকবাজার থানায় একটি জিডি করেছেন বলে জানান ঢাকার হেরিটেজ সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠন আরবান স্টাডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলাম। তিনি জানান, আরবান স্টাডি গ্রুপের পক্ষ থেকে করা এক রিট আবেদনে হাই কোর্ট ২০১৭ সালে পুরান ঢাকার ২২০০ ঐতিহ্যবাহী ভবন ও স্থাপনার ধ্বংস, পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
তাইমুর বলেন, ‘হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ভবনটি গত মার্চ মাস থেকে ভাঙার চেষ্টা চলছিল। তখন জিডি করে থানার সাহায্যে ভাঙা বন্ধ করা হয়। এবার এমন একটা সময়ে এমনভাবে করা হলো, যেন বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে। ঈদের ছুটিতে গোপনে কাজটি করা হয়েছে। সর্বশেষ জিডি করার পর গতকাল রাতেও ভাঙা হয়েছে।
তিনি জানান, গত সাত-আট মাসে আরবান স্টাডি গ্রুপের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচেষ্টায় কিছু ভবন ভাঙার চেষ্টা ঠেকানো গেলেও ইতিমধ্যে পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ভবন ভাঙা হয়েছে। সে তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন এ বাড়ি।
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ‘জাহাজ বাড়ি’ ভাঙার ঘটনায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে ‘দখল লীগ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আখ্যা দেন। রিজভী বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা হাজি সেলিমের লোকজন দিয়ে ঈদের রাতে হঠাৎ চকবাজারের জাহাজ বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই বাড়িটি একটি হেরিটেজ। শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। হাই কোর্টেরও নিষেধাজ্ঞা ছিল না-ভাঙার ব্যাপারে। তার পরও আওয়ামী দখলদারির হাত থেকে ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি রেহাই পেল না। এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ হলো, আওয়ামী লীগ মূলত এখন “দখল লীগ”-এ পরিণত হয়েছে।’
জানা গেছে, উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে নির্মিত এই ভবনই ঢাকার প্রথম বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে বিবেচিত হতো। ওই ভবনের বিভিন্ন দোকানের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভবনটি ওয়াকফ এস্টেট হিসেবে ছিল। তারা নিয়মিত ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রতিনিধিকে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। ‘হক সাহেব’ নামে পরিচিত ওয়াকফের ওই প্রতিনিধি ওমরা করতে সৌদি আরব গেছেন বলে ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন জানান।
আরবান স্টাডি গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট আরবান স্টাডি গ্রুপের (ইউএসজি) করা এক রিট আবেদনের রায়ে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ২২০০ ভবন না ভাঙতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাই কোর্ট। ওই সময় বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, ‘ঢাকা শহরে অনেক ভবন রয়েছে, যা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও মোগল আমলের তৈরি। এসব স্থাপনা আমাদের ইতিহাসের সাক্ষী। জাতীয় স্বার্থেই এসব ঐতিহ্য রক্ষা করা প্রয়োজন।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘জাহাজ বাড়ি’ ভবনটি তৈরি করা হয়েছে আনুমানিক ১৮৭০ সালে। ভবনের মালিক ১৯২০ সালে বদু হাজির নামে ওয়াকফ সম্পত্তি করে দিয়ে যান। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর বড় সন্তান ফেকু হাজি ভবনটির দায়িত্বে ছিলেন। ফেকু হাজির মৃত্যুর পর তাঁর বড় ছেলে হাজি আবদুল হক ভবনটির তত্ত্বাবধান করছেন।
আরবান স্টাডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলাম বলেন, তিনতলা ‘জাহাজ বাড়ি’র দোতলায় নকশা করা রেলিং, ছাদওয়ালা টানা বারান্দা ছিল। আর অবয়বজুড়ে ছিল নানা রকম কারুকাজসমৃদ্ধ। কোনাকৃতি আর্চের সারি, কারুকাজ করা কার্নিশ। কলামে ব্যবহার করা হয়েছে আয়নিক ও করিন্থিয়ান ক্যাপিটাল।
ভবনের পশ্চিম প্রান্তে আর্চ ও কলামের সঙ্গেও নানা রকম অলংকরণের ব্যবহার দেখা যায়। সব মিলিয়ে এই ভবনটিতে যে ধরনের অলংকরণের ব্যবহার রয়েছে, তা একে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে। এই ধরনের অলংকরণ পুরান ঢাকায় আর কোনো ভবনে দেখা যায় না। সেদিক থেকে এর নান্দনিক গুরুত্বের জন্যই ভবনটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন ছিল।
‘জাহাজ বাড়ি’র পুরোনো ছবি

সেই ওজাকির তিন সন্তান জাপানে? by আহমেদ জায়িফ

বাংলাদেশ থেকে আইএসের (ইসলামিক স্টেট) সদস্য সংগ্রহ ও তাদের সিরিয়ায় পাঠানোর অন্যতম হোতা সাইফুল্লাহ ওজাকির তিন সন্তানকে জাপানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জাপানের ফুজি টেলিভিশনে আজ বুধবার প্রকাশিত এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়। তবে ওই প্রতিবেদনে জাপান সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি উল্লেখ করা হয়নি।
ফুজি টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত ১৮ মে সাইফুল্লাহ ওজাকির তিন সন্তানকে স্থানীয় নারিতা বিমানবন্দর দিয়ে জাপানে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রতিবেদনের সঙ্গে তারা একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, কয়েকজন কর্মকর্তা ওজাকির তিন সন্তানের ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র গাড়িতে তুলছেন।
সাইফুল্লাহ ওজাকি মাস দু-এক আগে কুর্দিস্তান কাউন্টার টেররিজম গ্রুপের (সিটিজি) কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি ইরাকের কুর্দিস্তানের সোলাইমানিয়ার একটি কারাগারে বন্দী রয়েছেন। এ নিয়ে গত সোমবার প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরই ওজাকির তিন সন্তানকে জাপানে ফিরিয়ে আনার সংবাদ জানা গেল।
বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি ওজাকি সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছে। সংস্থাটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, সিরিয়ার বাঘুজে আইএসের শেষ ঘাঁটির পতনের পর অন্তত নয়জন বাংলাদেশি জঙ্গি আটক বা আত্মসমর্পণের খবর পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। ওজাকি ছাড়া বাকি দুজন হলেন জুনায়েদ হাসান খান ও তাহমিদ শাফি। তাঁরা মার্কিন-সমর্থিত বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) হাতে আটক হন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, সম্প্রতি কুর্দিস্তান কাউন্টার টেররিজম গ্রুপ (সিটিজি) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো একটি বার্তা তাঁদের হাতে পৌঁছায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সাইফুল্লাহ ওজাকি গত ১৫ মার্চ সিরিয়ার বাঘুজ শহরে কুর্দি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এরপর তাঁকে উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তানের সোলাইমানিয়া কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
আরও জানা গেছে, ওজাকি ২০১৫ সালে সপরিবার জাপান থেকে বুলগেরিয়া হয়ে সিরিয়ায় যান। পরে এক বিমান হামলায় তাঁর জাপানি স্ত্রী এবং দুই সন্তান মুহাম্মাদ ও উম্মে সিরিয়ায় নিহত হন। তখন জানা গিয়েছিল যে, ওজাকির আরও তিন সন্তান ঈসা (৭), ইউসুফ (৩) ও সারাহ (১) এখনো সিরিয়ায় আছে। কিন্তু এখন জাপানের ফুজি টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, ওজাকির তিন সন্তানকে জাপানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল্লাহ ওজাকি আগে হিন্দুধর্মাবলম্বী ছিলেন। নাম ছিল সুজিত দেবনাথ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কড়ই গ্রামের জনার্দন দেবনাথের ছেলে তিনি। ২০০১ সালে সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ২০০২ সালে জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে সেখানকার এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে পড়তে যান। বাবার ধারণা, জাপানে যাওয়ার পর সুজিত ধর্মান্তরিত হয়ে সাইফুল্লাহ ওজাকি নাম নেন। তিনি জাপানের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং এক জাপানি নারীকে বিয়ে করে সেখানেই সংসার শুরু করেন।
জাপানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সূত্র অনুযায়ী, ২০১১ সালে পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়ার পর রিতসুমেইকান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় যোগ দেন ওজাকি। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে অনুপস্থিত থাকায় ওই বছরের মার্চে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরখাস্ত করে।
জঙ্গি বিষয়ে তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ থেকে যাঁরা সিরিয়া গেছেন, তাঁদের বড় অংশই গেছেন এই সাইফুল্লাহ ওজাকির মাধ্যমে, যাঁরা মূলত বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজে পড়ালেখা করেছেন।
ওজাকির হাত ধরে ঠিক কতজন বাংলাদেশি আইএসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সিরিয়া গেছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মাধ্যমে সিরিয়ায় গিয়ে পরে দেশে ফিরে আসা মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও প্রকৌশলী গাজী কামরুস সালাম ওরফে সোহান ২০১৬ সালে দেশে ফিরে আটক হন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গাজী কামরুস সালাম বলেছিলেন, তিনি ছাড়াও সিলেট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র মো. মহিবুর রহমান ও রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নজিবুল্লাহ আনসারী সিরিয়ায় গেছেন ওজাকির মাধ্যমে।

বিশ্ববিদ্যালয় পালানো শিক্ষকরা by আমিরুল মোমেনীন মানিক

এক.
‘আজ আমাদের ছুটি রে ভাই, আজ আমাদের ছুটি/মেঘের কোলে রোদ হেসেছে, বাদল গেছে টুটি।’ ছোট্টকালে খুব জনপ্রিয় ছিল এ ছড়াটা। যাই হোক সেই দুরন্তবেলায় ছুটি মানে আমাদের কাছে অন্যরকম অসাধারণ এক আনন্দের ব্যাপার ছিল। দুধ-চিতই পিঠা খাওয়ার চেয়ে কম আনন্দের না। যেদিন থেকে স্কুলে ছুটি হতো, মনে হতো তীব্র গরমে এক পশলা বৃষ্টি নেমে এলো। স্কুল পেরিয়ে হাইস্কুল। তারপর কলেজ। ধীরে ধীরে ছুটি নিয়ে যে অনুভূতি, তার পারদ নিচে নামতে থাকলো।
দুই.
বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ছুটিটাকে উৎপাত মনে হতো। সাংস্কৃতিক তৎপরতায় এতটা ব্যস্ত ছিলাম যে, ছুটি এলেই সব কাজে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ছেদ পড়তো। অনেক ছুটিতে বাড়ি যাই নি। ক্যাম্পাসে থেকে গেছি। তখন অবশ্য দারুণ স্বপ্নেরা ভোঁ ভোঁ করতো মস্তিষ্কে। কিসের ছুটি, কাজ করো, কাজ-অনুভূতিটা ছিল এ রকম। কিন্তু ক্লাসে গিয়ে মাঝে মাঝে ‘ছ্যাঁকা’ খেতে হতো। দু’একদিন পর পর শুনতাম- অমুক স্যার দেশের বাইরে আছেন অথবা গবেষণায় রত অথবা জরুরি পাণ্ডিত্য অর্জনের কাজে ব্যস্ত আছেন, তাই ক্লাস হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হচ্ছেন লর্ডের মতো। বিপুল ক্ষমতার মালিক। একজন শিক্ষক ইচ্ছে করলে কোনো ছাত্রকে ফার্স্ট ক্লাস মার্ক দিতে পারেন, চাইলে ওই ছাত্রকে আবার ফেলও করাতে পারেন। তাই মুখে কুলুপ দেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। ভাইভা-ভোসি পরীক্ষায় শিক্ষকরা স্বমহিমায় আবির্ভূত হন। কারো প্রতি আক্রোশ থাকলে তার পুরো প্রতিশোধ নেয়ার ওটাই মোক্ষম সুযোগ।
তাই কোনো শিক্ষক দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ছুটিতে থাকলেও কারো করার কিছু নেই। সবাই প্রতিবাদহীন। নচিকেতার গানটার মতো...কোনো এক উল্টো রাজা উল্টো বুঝলি প্রজার দেশে/ চলে সব উল্টো পথে উল্টো রথে উল্টো বেশে/সোজা পথ পড়ে পায়ে সোজা পথে কেউ চলে না/ বাঁকা পথে জ্যাম হরদম/ জমজমাট ভিড় কমে না।
তিন.
পুরনো চাল না কি ভাতে বাড়ে। তাই পুরনো পত্রিকা থেকে উদাহরণ টানতে চাই। ২০০৮ সালের ১লা জুন প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ সবার নজরে আনছি। ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সভা: শিক্ষককে অপসারণ, গবেষণা না করলে টাকা ফেরত দিতে ১৩ জনকে সতর্ক’। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির বরাত দিয়ে করা খবরটা হলো এরকম: ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান না করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক হাজেরা বেগমকে সহকারী অধ্যাপক পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে গবেষণা শেষ করতে না পারায় ১৩ জন শিক্ষককে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে গবেষণা শেষ করতে না পারলে নিয়মানুযায়ী এসব শিক্ষককে অর্থ ফেরত দিতে হবে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে বেআইনিভাবে দেশের বাইরে অবস্থান করার কারণে ৩৫০ জন শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন। আর স্বাধীনতার পর একই কারণে শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১২৩ জন শিক্ষক চাকরিচ্যুত হয়েছেন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ছুটিতে আছেন প্রায় ৪০০ শিক্ষক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় অবস্থানে। ১৯৯১ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত অবৈধভাবে ছুটি নিয়ে বিদেশে অবস্থানের কারণে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই কারণে সাতজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ড.  সৈয়দা ফাহলিজা বেগম ছুটি নিয়ে লন্ডনে যান। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ফিরতে না পারায় তাকে অব্যাহতি দিয়েছে জাবি কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা ছুটিতে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ জন শিক্ষকের কোনো হদিস নেই। তারা কে কোথায় আছেন কেউই জানে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তাদের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা আছে ১ কোটি ৪৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৯১ টাকা।
চার.
সেলুকাস! মানুষ গড়ার কিছু সংখ্যক মুখোশধারী কারিগর আজ নিজেরাই হিংস্র প্রাণীতে পরিণত হচ্ছেন। শিয়ালের কাছে কুমিরছানার শিক্ষা অর্জনের সেই গল্প তো সবাই জানেন। সেই ঘটনার যেন আধুনিক পুনরাবৃত্তি। তবে সৌভাগ্যের কথা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো অনেক নীতিবান শিক্ষক আছেন। তাদের কল্যাণেই দু-চারজন প্রকৃত মানুষ পাচ্ছে এই জাতি।
লেখক পরিচিতি: প্রধান বার্তা সম্পাদক, চেঞ্জ টিভি. প্রেস এবং টকশো
উপস্থাপক, এশিয়ান টিভি।

হাতুড়িপেটা by ইশতিয়াক পারভেজ

ইংলিশ দর্শকদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশের সমর্থকরা মাঠে এসেছিলেন দারুণ আশা নিয়ে। সোফিয়া গার্ডেন ভেন্যুতে প্রবেশের সময় থেকে ম্যাচ শুরুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ-বাংলাদেশ স্লোগানে গলা ফাটিয়েছেন টাইগারভক্তরা। কিন্তু টসে জিতে ফিল্ডিং নেয়া টাইগারদের হতাশ করা বোলিংয়ে অনেকেই গ্যালারি ছেড়ে বাইরে চলে যান। বার বার দর্শকরা বলছিলেন, ইশ! চারশ  করবে আজ ইংল্যান্ড। কেউ বলছিলেন এমন বাজে ফিল্ডিং হচ্ছে! কেউ বলছিলেন, টসে জিতে ওদের ব্যাটিংয়ে পাঠানোই ভুল। আবার কারো কারো মন্তব্য বোলিংটাও হচ্ছে যাচ্ছে তাই! যদিও শেষ পর্যন্ত চারশ ছুঁতে পারেনি ইংল্যান্ডের ইনিংস।। তবে রেকর্ড রানের বোঝা টাইগারদের ঘাড়ে ঠিকই চাপিয়েছেন ইংলিশরা। ৬ উইকেট হারালেও স্কোর বোর্ডে জমা পড়ে ৩৮৬ রান।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটিই। আর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষেও এটি দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে ২০১১ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ৩৩৮ রান করেছিল ইংল্যান্ড। এখন বেশ পিছনেই। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে ২০০৫এ তারা  করেছিলো ৩৯১ রান। বোলারদের বিবর্ণ বোলিংয়ের সুযোগে জেসন রয় একাই করেছেন ১৫৩ রান।  সেই  সঙ্গে  বেয়ারস্টো ও জস বাটলার ছুঁয়েছেন ফিফটি।
কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন স্টেডিয়ামে প্রবেশের পথেই  বেশ কয়েকজন ইংলিশ দর্শক বললেন, ‘ইউরস লাকি গ্রাউন্ড।’ কেন সৌভাগ্যের মাঠ বলবে না তারা? এ মাঠেইতো প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল টাইগাররা। শুধু কি তাই? চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও এখানে বাংলাদেশের শিকার হয় নিউজিল্যান্ড।  এমন মাঠে নামার আগে ইংলিশ অধিনায়ক এউইন মরগানের মধ্যেও ছিল ভয়-শঙ্কা। তাই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকে হুমকিই মনে করেছিলেন তিনি। তবে মনে মনে হয়তো অপেক্ষায় ছিলেন নিজেদের মাঠে সুযোগ পেলেই ২০১১, ২০১৫ বিশ্বকাপে হারের প্রতিশোধ নেয়ার। তার সেই সুযোগটা বেশ ভালভাবেই করে দেয় টাইগারদের নখদন্তহীন বোলিং। আর নিজ দেশের মাটিতে একেবারে হাতুড়িপেটা দেয়া বাংলাদেশ দলকে। মাঠে বাজে ফিল্ডিংও ছিল চোখে পড়ার মতো। যা সুযোগ করে দেয় ইংলিশ ব্যাটম্যানদের অবাদে রানের চাকা ঘুরিয়ে নেয়ার। বল হাতে পেয়ে সাকিব এদিন ছিলেন একেবারেই বিবর্ণ। ১০ ওভারে খরচ করেছেন ৭১ রান। ১০ ওভারে মাশরাফির শিকার এক উইকেট তাও ৬৮ রান খরচ করে। ৯ ওভারে ২ উইকেট পেলেও সাইফুদ্দিনও বেশ খরুচে ছিলেন। তিনি দিয়েছেন ৭৮ রান। সমান ওভারে একই রান খরচ করে এদিন একেবারেই ব্যর্থ দলের ‘তুরুপের তাস’ মোস্তাফিজুর রহমান। মিরাজ দুই উইকেট নিলেও খরচ করেন ৬৭ রান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ বল করা মোসাদ্দেক বল হাতে নিয়ে মাত্র ২ ওভারে  দেন ২৪ রান।  এমন   বোলিংয়ের সুযোগটা ভালভাবেই নিয়েছে ইংল্যান্ড।
যদিও টসে হেরেও ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পেয়ে ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল সাবধানী। বাংলাদেশের সঙ্গে যেন ঝুঁকি নিতেই চাইছিলেন না তারা। অধিনায়ক মাশরাফি শুরুতেই বল তুলে দিয়েছিলেন দলের অন্যতম অস্ত্র সাকিবের হাতে। প্রথম ওভার করেছেন তিনি। শুরুতে রয়কে খানিকটা ভুগিয়েছেন সাকিব। আরেক পাশে মাশরাফির শুরুটাও ভালো ছিল। দুই ওপেনার শুরুর সময়টা কাটিয়েছেন কোন রকম তাড়াহুড়ো না করে। যার ফলও পেয়েছেন তারা। তাদের দারুণ ব্যাটিংয়ে ১৫ ওভারে ইংল্যান্ড পেরিয়ে যায় ১০০ রানের কোঠা।  ১৯ ওভারে ১২৮ রানের জুটি গড়েন তারা। তবে  সেই জুটি ভাঙেন দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে ফেরা টাইগার অধিনায়ক। তার বলে ৫০ রান করা  বেয়ারস্টো, শর্ট কাভারে ক্যাচ দিলে তা দারুণ ক্ষিপ্রতায় লুফে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে অন্য পাশে তখন তাণ্ডব চালাতে শুরু করেছেন জেসন রয়। তার সঙ্গে দলের রানের সুরটা ভালভাবেই ধরেছিলেন জো রুট। কিন্তু ২৯ বলে ২১ রান করা রুটকে ফিরিয়ে দলে স্বস্তি ফেরান দারুণ বোলিং করতে থাকা সাইফউদ্দিন। তবে ততক্ষণে ২ উইকেট হারালেও ৩১.৩ ওভারেই ইংল্যান্ড স্কোর বোর্ডে ২০৫ রান তুলে  ফেলেছে। এরপর থেকেই শুরু হয় ৪’শ’ ৪’শ রব।  সেই দাবি আরো দিগুণ হয় যখন ৯২ বলে রয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৭৯ ওয়ানডেতে তার নবম সেঞ্চুরি। এরপর হয়ে উঠেন আরো ভয়ঙ্কর। সাকিবকে টানা তিন বলে মারেন দুই চার এক ছক্কা।  মিরাজকে টানা তিন ছক্কায় দেড়শ পেরিয়ে যান ১২০ বলে।  টানা চতুর্থ ছক্কার চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত মিরাজকেই উইকেট দিয়ে আসেন রয়। তবে ইংল্যান্ডের রানের গতি ধরে রাখেন বাটলার। ব্যাটে ঝড় তুলে চতুর্থ উইকেটে বাটলার ও মরগান জুটিতে আসে ৬৫ বলে ৯৫ রান। তবে বাটলারকে ৬৪ রানে সাইফুদ্দিন ও ৩৫ রানে মরগানকে থামান মিরাজ। আশা ছিল কিছু কমেই থামানো। কিন্তু ওকস ৮ বলে ১৮ ও প্লাংকেট ৯ বলে ২৭ রানের ঝড় তুলে পৌঁছে যায় ৪’শর কাছাকাছি।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নয়া পরিকল্পনা

এশিয়ার যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সবকিছুই আছে তার কাছে আপনারা কী বিক্রি করেন? কিংবা উত্তর কোরিয়া সাগরপথে অবৈধভাবে তেল সরবরাহ করছে সে বিষয়েই কী বলবেন? মার্কিন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান চীনের জেনারেল উই ফেঙ্গের সামনে এই প্রশ্নগুলো তুলে ধরেন। এ সময় তিনি আকাশ থেকে তোলা কিছু অস্পষ্ট ছবিও প্রদান করেন। গত ৩১শে মে থেকে ২রা জুন পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে বড় সামরিক শক্তিগুলোর এক সম্মেলনে চীনের উদ্দেশ্যে এ প্রশ্নগুলো করেন শানাহান।
তাকে যখন প্রশ্ন করা হলো চীনের জেনারেল উই ফেঙ্গেকে একান্ত সাক্ষাৎকারে আপনি কী বলতে চান, তিনি হুয়াওয়ে বা দক্ষিণ চীন সাগরের কথা বলেননি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে শানাহান বললেন, তিনি চীনের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে কথা বলতে চান। বেইজিং-এর সঙ্গে সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ওয়াশিংটন উৎসাহী বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে প্রথমেই আছে উত্তর কোরিয়ার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে চীনের সাহায্য। উত্তর কোরিয়ার জাহাজগুলো মূলত চীনের জলসীমাই ব্যবহার করে থাকে।
শানাহানের দাবি, এ বিষয়ে চীনা সহযোগিতা দুই দেশের প্রতিযোগিতাকে ইতিবাচক রূপ দিতে পারবে।
১লা জুন পেন্টাগন ইন্দো-প্যাসেফিক অঞ্চলের জন্য নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে পেন্টাগন। এই পরিকল্পনার প্রধান দিক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলকে সবার জন্য উন্মুক্ত দেখতে চায়। এই ধারণার স্রষ্টা জাপান। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রামপ প্রশাসন একে উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। পেন্টাগন তার রিপোর্টে চীনের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছে, ইন্দো-প্যাসেফিক অঞ্চলে শুধু একটি দেশের প্রভাব থাকা উচিত নয়।
তবে চীনের জবাবটাও খুব সাধারণ ছিল না। জেনারেল উই চীনের জাতীয় সংগীতের লাইন তুলে বলেন, যারা দাসত্ব চায় না তাদের সবাইকে জেগে উঠতে হবে। তিনি বলেন, আমাদেরকে নিজেদের রক্ত ও মাংস দিয়ে নতুন মহাপ্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চীনের সেনাবাহিনী কোনো ধরনের ত্যাগে ভয় পায় না।
কিন্তু এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে ভারতের কথা বলা যায়। নরেন্দ্র মোদি ২য় মেয়াদে সরকার গঠনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমপর্ক বৃদ্ধির জন্য কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। জাপান দক্ষিণ চীন সাগরে যুদ্ধ জাহাজ পাঠাতে শুরু করেছে।  ইন্দো-প্যাসেফিক অঞ্চলকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নয়া পরিকল্পনা মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০ দেশকে ঘিরে। এসিয়ানভুক্ত এই দশ দেশ সামরিক দিক থেকে নিতান্তই দুর্বল। তবে তাদের সকলেই কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাকে গ্রহণ করেনি। অনেকেই এখানে চীনের ক্ষোভের মুখে পরতে চাইছে না। মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিঙ্গাপুরে বলেন, চীনের কোস্টগার্ডও আমাদের যুদ্ধজাহাজের থেকে বেশি শক্তিশালী।
যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে আশ্বস্ত করতে চাচ্ছে। কিন্তু ট্রামপ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি সেটিকে সম্ভব করছে না। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অধিক মনোযোগী। বিশ্বজুড়ে চীনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলেও, এশিয়ার বেশির ভাগ দেশই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কোনো পক্ষকেই বেছে নিতে আগ্রহী না। শানাহান এ বিষয়ে বলেন, আমার ধারণা তারা আস্তে আস্তে নিজেদের আত্মবিশ্বাস তৈরি  করছে।

ভারতের প্রায় অর্ধেক এমপি’র রয়েছে অপরাধের রেকর্ড

ভারতের পার্লামেন্ট ভবন
সদ্য সমাপ্ত ভারতের ১৭তম লোকসভায় নির্বাচিত আইন প্রণেতাদের প্রায় অর্ধেকের অতীতে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। ৫৩৯ জন নির্বাচিত আইন প্রনেতার তথ্য বিশ্লেষণ করে ইন্ডিয়া টুডে’র খবরে বলা হয়েছে তাদের মধ্যে ২৩৩ জনই অতীতে অপরাধের মামলার রেকর্ড রয়েছে। নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফ নামায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে অপরাধের রেকর্ড থাকা প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।
ভারতের লোকসভায় আসন সংখ্যা ৫৪৩টি হলেও ভেলোরের একটি আসনের  নির্বাচন বাতিল হয়েছে। আর তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত আইন প্রণেতাদের যথাযথ হলফ নামা পাওয়া না যাওয়ায় এবারে ৫৩৯ জন নির্বাচিত আইন প্রনেতার হলফ নামার অপরাধের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে ইন্ডিয়া টুডে।
২০১৪ সালের ৫৪২ আইন প্রণেতার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ১৮৫ জন (৩৪ শতাংশ) নির্বাচিত আইন প্রণেতার  অপরাধের রেকর্ড ছিল। ২০০৯ সালে ৫৪৩ আইন প্রণেতার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ১৬২ (৩০ শতাংশ) জন নির্বাচিত আইন প্রণেতার অপরাধের রেকর্ড ছিল। আর এবারে প্রায় অর্ধেক সংখ্যক নির্বাচিত আইন প্রণেতারই রয়েছে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।
নির্বাচিত এসব আইন প্রনেতার ১৫৯ জনের বিরুদ্ধেই মারাত্মক অপরাধের মামলা রয়েছে। ধর্ষণ, খুন, হত্যা প্রচেষ্টা, অপহরণ, নারীর প্রতি সহিংসতাসহ নানা অপরাধের রেকর্ড রয়েছে নির্বাচিত আইন প্রনেতাদের।
২০১৪ সালে ৫৪২ এমপি’র তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ১১২ জনের বিরুদ্ধেই মারাত্মক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। ২০০৯ সালে ৫৪৩ আইন প্রণেতার তথ্য বিশ্লেষণে ৭৬ জনের বিরুদ্ধে মারাত্মক অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়।
লোকসভায় নতুন নির্বাচিতদের মধ্যে ১০ জন রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মামলায় দণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। ১১ আইন প্রণেতার বিরুদ্ধে খুন সংশ্লিষ্ট মামলায় জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন আর ৩০ জন হত্যা প্রচেষ্টার মামলায় জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন। ১৯ আইন প্রনেতা নারীর প্রতি সহিংসতার অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন। ২৯ আইন প্রণেতা ঘৃণাবাদী বক্তব্য দেওয়ার মামলায় জড়িত বলে তথ্য দিয়েছেন।
রাজনৈতিক দল হিসেবে এনডিএ জোট শরীক জনতা দলের আইন প্রণেতাদের অপরাধের রেকর্ড সবচেয়ে বেশি। জনতা দলের নির্বাচিত ১৬ আইন প্রণেতার মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধেই অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।

বাংলাদেশে নদীর পানিতে নির্ধারিত সীমার ৩০০ গুণ বেশি অ্যান্টিবায়োটিক দূষণ

বিশ্বজুড়ে নদীর পানিতে অ্যান্টিবায়োটিক দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিপদসীমার অনেক উপরে এ দূষণ। যেসব দেশে এই দূষণ সর্বোচ্চ তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে একটি স্থানের নদীর পানিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক মেট্রোনিডাজল দূষণ নির্ধারিত সীমার ৩০০ গুণ বেশি। এ ছাড়া একই রকম দূষণ বিরাজ করছে কেনিয়া, ঘানা, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার নদীগুলোর পানিতে। হেলসিংকিতে গবেষকদের একটি গবেষণায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে সোমবার। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি, অনলাইন ভ্যানগার্ড।
ওই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে নদীর পানিতে বিপজ্জনকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক দূষণ ঘটেছে। নির্ধারিত সীমার ৩০০ গুণ উপরে রয়েছে এই দূষণ। পরিবেশগত বিষক্রিয়া বিষয়ক ওই সম্মেলনে বিজ্ঞানীরা বলেন, তারা ৭২টি দেশের নদ-নদী থেকে ৭১১টি নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশে অভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক দূষণ পাওয়া গেছে। কমপক্ষে ১০০ বায়োটেক এবং ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি গ্রুপ হলো এএমআর ইন্ডাস্ট্রি এলায়েন্স। তারাই নিরাপত্তার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু ডজন ডজন স্থান থেকে সংগৃহীত নমুনায় দেখা গেছে, সেই সীমা অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে এসব পানিতে মানুষ ও পশুপাখির ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ রোধে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে সীমার অনেক উপরে।
যেসব স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে তার মধ্যে ৫১টিতে দেখা গেছে এএমআর ইন্ডাস্ট্রি এলায়েন্সের বেঁধে দেয়া সীমার অনেক উপরে রয়েছে সিপ্রোফ্লোক্সাসিন। এটি ইনটেস্টিনাল এবং ইউরিনারি ট্যাকের সংক্রমণে ব্যবহার করা হয়। ইয়র্কে সাসটেইন্যাবিলিটি ইনস্টিটিউট-এর বিজ্ঞানী অ্যালিস্টার বক্সল বলেছেন, এই গবেষণার ফল চোখ খুলে দিয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে ফুটে উঠেছে বিশ্বজুড়ে নদীর পানিতে কি ভয়াবহভাবে অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান ছড়িয়ে পড়ছে। এতে শুধু জীবনের ক্ষতি করছে, এমন না। একই সঙ্গে অ্যান্টিমাইক্রোবাইয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়ায় ভূমিকা রাখছে।
ওদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এরই মধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা বলেছে, অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যক্ষমতা আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই ওষুধ শিল্প ও সরকারগুলোর প্রতি তারা আহ্বান জানিয়েছে জরুরিভিত্তিতে ওষুধের একটি নতুন ধরন ডেভেলপ করতে। ১৯২০-এর দশকে অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের পর তা নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, মেনিনজাইটিস ও ভয়াবহ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের হাত থেকে কোটি কোটি প্রাণ বাঁচিয়েছে। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ও অপব্যবহারই হলো শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক বিরোধী অবস্থা সৃষ্টির মূল কারণ।
নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান হারে পরিবেশে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতিও এর অন্যতম মূল কারণ। বক্সল ও তার টিমের সদস্যরা ১৪টি অভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি দেখতে পেয়েছেন ৬টি মহাদেশে। এর মধ্যে নিরাপত্তার সীমা অনেক বেশি অতিক্রম করে গেছে এশিয়া ও আফ্রিকায়। তবে ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে যেসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে এ সমস্যা বৈশ্বিক। ইউরোপের অস্ট্রিয়াতে একটি স্থানে দেখা গেছে এই মহাদেশে অন্য যেকোনো স্থানের চেয়ে বেশি অ্যান্টিবায়োটিক সংক্রমিত।
বরফ জমাট পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল দানিউব, মেকং, সেইনি, টেমস, টাইগ্রিস, চাও ফ্রায়া ও কয়েক ডজন নদী থেকে। এরপর ওইসব নমুনা পরীক্ষা করা হয় ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্কে। এরপর এ নিয়ে যে রিপোর্ট তার সহ-লেখক ওই ইউনিভার্সিটির জন উইলকিনসন। তিনি বলেছেন, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও চীনের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক বিষয়ক নজরদারি বেশি রাখা হয়েছে এখন পর্যন্ত। এর আগে যেসব স্থানে মনিটরিং বা নজরদারি করা হয়েছিল তার সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ডাটার যে ফারাক তা বুঝতে সহায়তা করবে আমাদের গবেষণা।