Thursday, September 11, 2014

সরাসরি রাজনীতিতে ন্যান্সি

বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মনোনীত হয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি। আর এর মাধ্যমে সরাসরি রাজনীতিতে নাম লেখালেন তিনি। দুপুরে তিনি এ খবর নিশ্চিত করেন মানবজমিন অনলাইনকে। ন্যান্সি বলেন, বিএনপির আদর্শের প্রতি আমার ভালো লাগা অনেক আগে থেকেই। এর জন্য আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে গেল কয়েক মাস ধরে। তিনি আরও বলেন, আমার মা নেত্রকোনা জাসাসের কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি শিল্পী ন্যান্সি সবার। শ্রোতাদের কারণেই আমি ন্যান্সি হয়েছি। তার মানে এই নয় যে, শিল্পী ন্যান্সির কারণে মানুষ হিসেবে আমার কোন ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক মতামত থাকতে পারে না।

সরাসরি রাজনীতিতে ন্যান্সি

বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মনোনীত হয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি। আর এর মাধ্যমে সরাসরি রাজনীতিতে নাম লেখালেন তিনি। দুপুরে তিনি এ খবর নিশ্চিত করেন মানবজমিন অনলাইনকে। ন্যান্সি বলেন, বিএনপির আদর্শের প্রতি আমার ভালো লাগা অনেক আগে থেকেই। এর জন্য আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে গেল কয়েক মাস ধরে। তিনি আরও বলেন, আমার মা নেত্রকোনা জাসাসের কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি শিল্পী ন্যান্সি সবার। শ্রোতাদের কারণেই আমি ন্যান্সি হয়েছি। তার মানে এই নয় যে, শিল্পী ন্যান্সির কারণে মানুষ হিসেবে আমার কোন ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক মতামত থাকতে পারে না।

স্ত্রীদের গণধর্ষণে স্বামীর মৃত্যু!

নারী গণধর্ষণের শিকার হন এ খবর অহরহ। কিন্তু এবার গণধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছেন এক পুরুষ। চরম যৌন নির্যাতনের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঘটনাটি ঘটেছে নাইজেরিয়ায়। পেষায় ব্যবসায়ী ইউরোকো ওনোজো তার পাঁচ বউয়ের ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছেন। তার মোট ছয়জন স্ত্রী। সারারাত পার্টিতে ব্যস্ত থাকার পর ভোর রাতে বাড়ি ফেরেন ওনোজো।  অন্যদিকে সারারাত তার স্ত্রীরা তার সঙ্গ পেতে প্রহর গুণছিলেন।  ভোররাতে বাড়ি ফিরে কনিষ্ঠা স্ত্রীয়ের ঘরেই যান ওনোজো। এ কারণে অপর পাঁচ স্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে চড়াও হয় তার উপর। এরপর পর পর চার স্ত্রীর সঙ্গে যৌন মিলনে বাধ্য হন ওনোজো। পঞ্চম স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসের সময় হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান ওনোজো৷ ঘটনার পর পালিয়েছেন পাঁচ স্ত্রী। তবে তাদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুুলিশ৷ অভিযুক্ত স্ত্রীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

সূত্র: ইন্টারনেট অবলম্বনে

ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৩

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে রেলক্রসিংয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে একজন ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা যান। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বেশ কয়েকজন ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী।
প্রত্যক্ষদর্শী নাসিমা আক্তারের ভাষ্য, দুর্ঘটনাস্থলে ১০ থেকে ১১ জন মানুষ হাত-পা কাটা অবস্থায় পড়ে ছিলেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন নারীও রয়েছেন। জায়গাটি ছিল ছোপ ছোপ রক্তে ভরা। ঘটনাস্থলে একজনের লাশ পাওয়া যায়। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান আবু আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, রেলক্রসিং থেকে পশ্চিমদিকে মাছ বাজারের পেছনে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী যমুনা আন্তনগর ট্রেনটি কমলাপুরের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে পাশের লাইন দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী কণর্ফুলী আন্তনগর ট্রেনটিও যায়। এ সময় রেললাইনের ওপর বাজার বসায় সেখানে মানুষের ভিড় ছিল। ট্রেনে কাটা পড়ে বেশ কয়েকজন হতাহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনাস্থল থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় ১০ থেকে ১১ জন আহত হয়েছেন বলে তাঁরা জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও বলেন, রেললাইনের ওপর প্রতিদিনই বাজার বসে। সেখানে অনেকে বাজার করতে গিয়েছিলেন।
সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় একজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত আটজনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী মারা গেছেন। তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার আধা ঘণ্টা পর ওই রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।

অক্লান্ত ও বেপরোয়া ছাত্রলীগ! by বিশ্বজিৎ চৌধুরী

ঢাকাগামী ট্রেনের ৩৮০টি টিকিট চেয়েছিলেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। নিয়ম মেনে আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু যথাসময়ে টিকিট না পেয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুরুতর আহতও হয়েছেন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। একজন কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ছাত্রলীগের দাবি, রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের বাড়াবাড়ির কারণেই এ রকম ঘটনার সূত্রপাত। রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য রেখেছিল। কোন পক্ষের বক্তব্য যথার্থ, সে কথা সাধারণ মানুষ বুঝে ওঠার আগেই স্টেশনমাস্টার ও বুকিং ক্লার্ককে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিন নিরাপত্তারক্ষীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করতে হবে, তা না জানলে যে ধরনের পরিণতি হওয়ার কথা, তা-ই হয়েছে এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তাঁদের ভোগান্তি এখানেই শেষ হয়েছে বলে মনে হয় না। কারণ, এর মধ্যেই চট্টগ্রাম রেলের স্টেশনমাস্টার ও জিআরপি থানার ওসিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ছাত্রলীগ।
রেলওয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিস্মিত হয়ে বললেন, সরকারের লাখ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট করল কে আর মামলা হলো কাদের বিরুদ্ধে? স্টেশনে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই অনেক কিছু পরিষ্কার হবে।
ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল বা পুলিশ শুরুতেই ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছিল কি না, সে ঘটনা জানার জন্য সিসি ক্যামেরার সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ভাঙচুর কে বা কারা করেছিল, তা জানার জন্য নিশ্চয় এ ধরনের ক্যামেরার ফুটেজ দরকার পড়ে না। পুলিশ বাড়াবাড়ি করে থাকলে তার তদন্ত ও বিচার হোক। কিন্তু লাখ লাখ টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট করার বিষয়টি নিয়ে কি তদন্ত আদৌ হবে?
যা-ই হোক, ঢাকার সমাবেশে শেষ পর্যন্ত যোগ দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের নেতা ও কর্মীরা। সেই সমাবেশ তাঁদের কতটা উদ্দীপ্ত করতে পেরেছিল জানি না। সাবেক ও বর্তমান নেতাদের বক্তব্য থেকে কতটা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ অনুভব করেছেন, তা-ও জানি না। কিন্তু ফিরে আসার পথে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কর্মীরা ট্রেনে বসার আসন নিয়ে যেভাবে লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে ফেললেন, মারামারি করে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে ফেলে দিলেন চার সতীর্থকে, তাতে তো এ কথা মনে হতেই পারে, সারা দেশের কর্মীদের জড়ো করে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আয়োজন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এই সমাবেশ তাঁদের না দিয়েছে রাজনৈতিক সচেতনতা, না দিয়েছে ঐক্যের বার্তা।
লোহাগাড়া বারআউলিয়া কলেজের ছাত্রলীগ নেতা তৌকিরুল ইসলাম (১৯) সেদিনই (১ সেপ্টেম্বর) মারা গেছেন। আহতরা নানা শারীরিক সমস্যা নিয়ে হয়তো বেঁচে আছেন, কিন্তু এই মানসিক আঘাত তাঁরা আর কখনো কাটিয়ে উঠতে পারবেন কি না জানি না।
দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি তাৎক্ষণিক বাতিল করা হয়েছে। আবার নতুন করে কমিটি গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু রেলস্টেশনে গোলযোগের ঘটনায় যত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল স্টেশনমাস্টার বা পুলিশের বিরুদ্ধে, সে রকম কোনো ব্যবস্থা উচ্ছৃঙ্খল দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে বলে শোনা যায়নি। এমনকি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আদালতে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের ওসিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার ব্যাপারে যে রকম উৎসাহ দেখা গিয়েছিল, এখানে সেই উৎসাহও অনুপস্থিত। কার বিরুদ্ধে মামলা করবেন তাঁরা? আক্রমণকারী ও আক্রান্ত উভয়েই তো ছাত্রলীগ।
এদিকে, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের তৎপরতা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির একটি দল এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চট্টগ্রামে এসেছেন। ১০ দিনের মধ্যে কমিটি ঘোষণা করা হবে এমন ঘোষণাও দিয়েছেন তাঁরা। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাত উপজেলা ও ছয় পৌরসভা থেকে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আগ্রহী ১১৫ জন ছাত্র তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে বেশ একটা উৎসবের ভাব সবার মধ্যে। এই উৎসবের আনন্দে চাপা পড়ে গেছে তৌকির নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর শোক। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও যত আগ্রহী নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে, তৌকিরের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান বা দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির সম্মুখীন করার ব্যাপারে তত আগ্রহী বলে মনে হয় না। কিন্তু অভিজ্ঞতা বলে, হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে তার রেশ শেষ হয়ে যায় না। তা-ই আবার নতুন অঘটনের ইন্ধন জোগায়। মনে পড়ে, মাত্র বছর দেড়েক আগে ২০১৩ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে আন্দরকিল্লা দলীয় কার্যালয়ের সামনে খুন হয়েছিলেন দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবদুল মালেক চৌধুরী (জনি)। সেই ঘটনার বিচার হয়নি।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান পত্রিকান্তরে বলেছেন, ছাত্রলীগের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের কারণে খুন, মারামারি এবং সাংগঠনিক দুরবস্থা বিরাজ করছে। অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে কোনো আদর্শিক চেতনা নেই। তারা ছাত্রলীগের কর্মী নয়।

প্রশ্নে ওঠে, তাহলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করবে কে?
ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলের মতো বড় ছাত্রসংগঠনগুলোতে ইদানীং আকারে বড় কমিটি গঠনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হয়েছে ২৯১ জনের। তাতে শুধু সহসভাপতি ও সহসম্পাদকের সংখ্যা যথাক্রমে ৩৫ ও ২৫ জন। বলা হচ্ছে, এক একটি ওয়ার্ড কমিটি গঠিত হয়েছিল ১৮ বছর আগে, থানা কমিটি ২০ বছরের পুরোনো। সে ক্ষেত্রে নেতা-কর্মীদের মূল্যায়নের জন্য কমিটির আকার বড় করার বিকল্প নেই। কিন্তু বিশাল বহরের এই কমিটির কোন পদের কে কোথায় গিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন, তার হিসাব রাখবে কে? ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের পদপ্রাপ্তদের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা তো নতুন কিছু নয়।
প্রতিদিনই সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে ছাত্রলীগ। বলা বাহুল্য, এসব সংবাদ বেশির ভাগই নেতিবাচক, হতাশাজনক। সংবাদকর্মীরা ছাত্রলীগের নানা মাত্রার ‘তৎপরতার’ সংবাদ প্রকাশ করে করে ক্লান্ত। কিন্তু ছাত্রলীগ তো অক্লান্ত। তাদের নিয়ন্ত্রণ করবে কে?
বিশ্বজিৎ চৌধুরী: কবি, লেখক ও সাংবাদিক।
bishwabd@yahoo.com

পাকিস্তানের সামরিক গণতন্ত্র by এম সাখাওয়াত হোসেন

পাকিস্তানের গণতন্ত্র পুনরায় একটি চৌরাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তান তেহরিক-ই–ইনসাফ (পিটিআই) এবং প্রবাসী ধর্মীয়-রাজনৈতিক নেতা তাহির-উল কাদরির সমর্থকেরা এখনো সুরক্ষিত রাজধানী ইসলামাবাদের রেড জোন দখল করে রেখেছে। ইমরান-কাদরি জুটি হয়তো মিসরের তাহরির স্কয়ারই বানাতে চেয়েছেন ইসলামাবাদের রেড জোনকে। তাঁদের দাবি, ২০১৩ সালের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে অধিষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচন দিতে হবে। যদিও ইমরান খানের দল খাইবার পাখতুনখাওয়াতে প্রাদেশিক সরকার গঠন করে প্রায় এক বছর ক্ষমতায় রয়েছে, তথাপি ইমরান খান ভোটে কারচুপির দাবি থেকে পিছে সরে আসছেন না। অবশ্য ২০১৩ সালের নির্বাচন বিশ্বে প্রশংসিত হলেও ওই সময়েও মি. খান দাবি তুলেছিলেন ভোট পুনর্গণনার, কিন্তু সে দাবি দাবিই থেকে যায়। তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি তাঁর অভিযোগের বিষয়টি বিভিন্ন সংস্থায় উত্থাপিত করলেও কোনো জায়গা, এমনকি কোর্ট থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় রাস্তায় নেমেছেন। কাদরিও সমর্থকদের নিয়ে ইমরান খানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।

ইমরান খানের একধরনের অভ্যুত্থানের চেষ্টায় কতখানি রাজনৈতিক সমর্থন রয়েছে, তা নিরূপণ করতেই পাকিস্তান পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ বিশেষ অধিবেশনে বসেছিল। সেখানে বিভিন্ন দল, পাকিস্তান পিপলস পার্টিসমেত (পিপিপি) নওয়াজ শরিফের নির্বাচিত সরকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবী থেেক শুরু করে বেশির ভাগ পত্রপত্রিকা ওই দেশে একটি নির্বাচিত সরকারকে সংসদে তৃতীয় স্থানে থাকা একটি দল দিয়ে উৎখাতের চেষ্টাকে সমর্থন করেনি। তাদের সমর্থনের কারণ নওয়াজপ্রীতি নয়, বরং অন্য আশঙ্কা। আশঙ্কাটা পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর পুনরায় ক্ষমতা দখল করার আশঙ্কা নিয়ে। যদিও এখন পর্যন্ত সামরিক বাহিনী প্রকাশ্যে সে ধরনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি, তথাপি এমন আশঙ্কা জনমন থেকে তিরোহিত হচ্ছে না।
প্রশ্ন উঠেছে যে একদার চৌকস ক্রিকেটার, ফাস্ট বোলার, রাজনীতির মাঠে এই সময় আউট সুইঙ্গার কেন মারলেন? এর পেছনে অনেক কারণের মধ্যে তাঁর ক্ষমতার শীর্ষে অধিষ্ঠিত হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা কাজ করছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পারিবারিক এবং দলের সদস্যদের দুর্নীতি, শাসনগত অব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অব্যবস্থা, বেকারত্ব এবং ওয়াজিরিস্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব ইত্যাদি কারণে তাঁর নিজের দলের জনসমর্থন কমেছে। নওয়াজ শরিফের দল পরিচালনা নিয়েও হতাশ তাঁরই সহযোগীরা।
পাকিস্তানের কোনো রাজনৈতিক দলেই গণতন্ত্র নেই। অতীতেও ছিল না। দলগুলো চলছে একনায়কতন্ত্রে। এমনকি নওয়াজ শরিফের দলের নাম মুসলিম লীগ হলেও তার সঙ্গে যুক্ত নওয়াজ শরিফের নামের আদি অক্ষর ‘এন’ (পিএমএল-এন)। পিটিআই অথবা এমকিউএম অথবা পাকিস্তান পিপলস পার্টিরও একই অবস্থা। এর উদাহরণ পিটিআইয়ের প্রেসিডেন্ট বর্ষীয়ান নেতা জাভেদ হাশমির একাধিকবার প্রচারিত সাক্ষাৎকার এবং সংসদে তাঁর বক্তব্য। তিনি অভিযোগ করেন যে দলের নীতিনির্ধারকদের দ্বিমত সত্ত্বেও ইমরান খানের একক সিদ্ধান্তে পাকিস্তান টেলিভিশন স্টেশন দখল এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হামলা হয়েছে, যা পিটিআইয়ের আন্দোলনকে শুধু দুর্বলই করেনি, জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ারও জন্ম দিয়েছে।
অনেকেই মনে করেন, পাকিস্তানের এই সমস্যা সৃষ্টির কারণ দৃশ্যত ইমরান-কাদরি জুটির মিসরের মতো অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা হলেও এর পেছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী পক্ষ। ধারণা করা হচ্ছিল যে ইমরান খানের পেছনে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পরোক্ষ সমর্থন ছিল বা এখনো কিছুটা রয়েছে। এমন ইঙ্গিত ইমরান খানের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য থেকে প্রতীয়মানও হয়েছে। নওয়াজ শরিফের ইসলামাবাদ থেকে লাহোরে অবস্থানও এ ধরনের ইঙ্গিত বহন করেছে। স্মরণযোগ্য যে এর আগেও একবার নওয়াজ শরিফকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করেছিল; যার জের এখনো চলছে।
নওয়াজ শরিফ প্রতিবারই পাকিস্তান সামরিক বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন। প্রতিবারই তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। এবারও তিনি যদি ক্ষমতাচ্যুত না-ও হন, তবে সামরিক বাহিনীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকবেন। পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যেসব বিষয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়, সেখানে বেসামরিক সরকারের প্রবেশ নিষেধ। নওয়াজ শরিফ তাঁর প্রথম সরকারের সময়ও তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মোশাররফ দ্বারা উৎখাত হয়েছিলেন। তিনি বিবাদে জড়িয়ে পড়েন মোশাররফের পূর্বসূরিকে অবসর প্রদান নিয়ে, এমনকি খোদ মোশাররফের সঙ্গেও কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন। মোশাররফ ওই সময় কাশ্মীর ইস্যুতে নওয়াজ শরিফের অবস্থান সমর্থন করেননি। বর্তমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে নওয়াজ শরিফের অকার্যকারিতা সামরিক বাহিনীকে উৎসাহ জুগিয়েছে মধ্যস্থতা করার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে। রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং এমন পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনী নওয়াজ শরিফকে ব্ল্যাকমেল করতে সক্ষম হয়েছে বলে অনেকের ধারণা।
পাকিস্তান সামরিক বাহিনী তিনটি বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এগুলো হলো, পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ, আফগান নীতি এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক। অতীতেও নওয়াজ শরিফের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর এসব প্রশ্নেই টানাপোড়েন ছিল। মোদির আমন্ত্রণে নওয়াজ শরিফের দিল্লি গমন সহজে হজম করেনি পিন্ডির সামরিক বাহিনীর জেনারেল হেডকোয়ার্টার (জিএইচকিউ)। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কাশ্মীর প্রধান অন্তরায় হয়ে থাকবে, যার রাজনৈতিক সমাধানে সামরিক নীতিনির্ধারকেরা কিছুতেই সম্মত নন। নওয়াজ শরিফ প্রথমবার ক্ষমতায় থাকার সময়েই তাঁরই অজান্তে কার্গিল যুদ্ধ ঘটিয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মোশাররফ, সে কথা কারও অজানা নয়। এবারও কাশ্মীর আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঠিক ওই সময়ে, যখন পাকিস্তান রাজনৈতিক ডামাডোলে রয়েছে। ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের উত্থানও পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মাথাব্যথার কারণ।
আফগান নীতি সামরিক বাহিনী তার এখতিয়ারের মধ্যেই রাখবে। সে কারণেই ওয়াজিরিস্তানের সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছিল। ইমরান খান এই আলোচনায় সমর্থন জানালেও নওয়াজ শরিফ বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে গিয়েছিলেন। এখনো ওই অঞ্চলে সামরিক অভিযান চলছে। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর। পাখতুনদের বিরাগভাজন হতে হচ্ছে তাদের। স্মরণযোগ্য যে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে দ্বিতীয় বৃহত্তম সদস্যসংখ্যা পাঠান ও বেলুচ। সমস্যা হচ্ছে, এই দুই সম্প্রদায়ের সৈনিকদের ওয়াজিরিস্তানে নিয়োগ নিয়ে; এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে জেনারেলদের মধ্যে। অন্যদিকে আফগানিস্তানে ভারত-পাকিস্তানের টানাপোড়েন একরকম উন্মুক্ত। পাকিস্তানের সামরিক প্রভাবিত নীতিনির্ধারকেরা কাবুলে পশতুন শাসক ছাড়া অন্যদের গ্রহণ করবেন না। অনেকে মনে করেন, হালে আফগানিস্তানের নির্বাচনে যে ফলাফল হয়েছে, তার মাধ্যমে পাকিস্তানের আফগান নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অন্যদিকে তালেবানদের পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগের পেছনেও পাকিস্তানের ‘অদৃশ্য সরকারের’, আইএসআইয়ের প্রভাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও পাকিস্তানের অবস্থান অগ্রাহ্য করা সম্ভব হচ্ছে না।
২০১৩ সালের আগের জারদারি সরকারকেও পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তাল মিলিয়েই পাঁচ বছর কাটাতে হয়েছে। অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেন হত্যার খবর এবং পরিকল্পনা পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা, আইএসআই জানলেও জারদারিকে আগে জানানো হয়নি। জারদারিও ছিলেন একধরনের চাপের মধ্যে। জারদারি সরকার পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ফর্মুলার বাইরে যেতে পারেনি।
ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের বেসামরিক রাজনৈতিক সরকার অধিকতর সহযোগিতার পথ যতবার খুঁজেছে, প্রতিবারই ওই পথ কাশ্মীর ইস্যুতে আটকে গিয়েছে। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর শক্তি হচ্ছে ভারতবিরোধিতা, বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যু। তিন-তিনবার পাকিস্তান সামরিক বাহিনী কাশ্মীরে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। ঘোষিত যুদ্ধের বাইরেও থেমে থাকেনি সংঘর্ষ। পাকিস্তানের ৬৭ বছরের ইতিহাসে সামরিক বা বেসামরিক এমন কোনো সরকার ছিল না, যারা কাশ্মীর বিষয়ে নমনীয় অথবা সমস্যা সমাধানের রাস্তায় হাঁটতে পেরেছে।
নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অসন্তোষের শেষ কারণ হিসেবে অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বিচার। মোশাররফকে নিয়ে এ ধরনের টানাহেঁচড়া তাঁর অনুসারীরা সহজে নিয়েছে বলে মনে হয় না। বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ জেনারেল পারভেজ মোশাররফের অনুরক্ত বলেই পরিচিত। মোশাররফ জেনারেল শরিফকে প্রমোশন দিয়ে লাহোরে ডিভিশন কমান্ডে রেখেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে লক্ষণীয় হবে, নওয়াজ সরকার মোশাররফের বিচারিক কর্মকাণ্ডকে কীভাবে সামাল দেয়।
যা হোক, পাকিস্তানে রাজনৈতিক নতৃত্ব এবং দলের দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও প্রায় সব দল এখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যদিও ইমরান খান ও তাহির-উল কাদরি ছিটকে পড়েছেন। তবে সামরিক বাহিনীর অংশীদারত্ব ছাড়া পাকিস্তানের তথাকথিত গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার মতো বেসামরিক নেতৃত্ব অতীতেও ছিল না এবং নিকট ভবিষ্যতেও হবে বলে মনে হয় না। এ ক্ষেত্রে ইমরান খান একটি নির্বাচিত দলের প্রধান হয়ে ব্যবহৃত হচ্ছেন বলে মনে করা অযৌক্তিক নয়। পাকিস্তানের এই রাজনৈতিক ডামাডোলে লাভবান হয়েছে পাকিস্তান সামরিক চক্র। ওই দেশে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ হয়তো আপাতত হবে না, কিন্তু অন্তর্নিহিত দুর্বলতার কারণে বেসামরিক সরকারকে সামরিক বাহিনীর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এবং যে দেশে গণন্ত্রের মূলধারার চর্চা না থাকে, সেসব দেশে সামরিক বাহিনীর প্রভাব বাড়তে থাকে। সে প্রভাব কাটিয়ে ওঠা খুব দুষ্কর হয়ে ওঠে। মিসর আর পাকিস্তান তার জ্বলন্ত উদাহরণ। নওয়াজ শরিফের সরকারকে সে দেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একধরনের সমঝোতার মাধ্যমে টিকে থাকতে হবে। থাকতে হবে নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র নিয়ে।
এম সাখাওয়াত হোসেন: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক৷
hhintlbd@yahoo.com

খাবারের বিনিময়ে যৌনকর্মে বাধ্য করছে এইউ সেনারা

যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষপীড়িত সোমালিয়ায় নারী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েশিশুদের ধর্ষণ করেছে আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) বাহিনী। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে এই অভিযোগ করেছে। সংস্থাটি বলছে, ধর্ষণের শিকার বেশ কিছু নারী অভিযোগ করেছেন, খাবার ও অর্থ দেওয়ার বিনিময়েও সেনারা তাঁদের সঙ্গে যৌনকর্ম করেছে। এইচআরডব্লিউর অভিযোগের বিষয়ে এইউ বা সোমালিয়ার এইউ মিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দেশটিতে ২২ হাজার এইউ সেনা আছে। তাদের পাঠানো হয়েছে ছয়টি দেশ থেকে। সোমালিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তারা আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত আল-শেবাব জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সোমালিয়ায় এইউ বাহিনীকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে। এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্ষণের শিকার নারীদের বেশির ভাগই গ্রাম থেকে পালিয়ে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুর আশ্রয়শিবিরে ঠাঁই নিয়েছেন। ২০১১ সালে দেশটিতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ শুরুর পর তাঁরা ওই সব শিবিরে আশ্রয় নেন।
২১ জন নারী ও মেয়েশিশুর সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমালিয়ার দালালদের মাধ্যমে আফ্রিকান ইউনিয়নের সৈনিকেরা মানবিক সাহায্য দেওয়ার নামে নারী ও শিশুদের যৌনকাজে বাধ্য করে। অনেকে অভিযোগ করেছেন, অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য তাঁরা এইউ সেনাদের ক্যাম্পে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন। যেসব নারী ও শিশুর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, এর মধ্যে ১২ বছরের এক শিশু উগান্ডার এক সেনার দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্ষণের শিকার নারীদের মধ্যে মাত্র দুইজন পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। লজ্জায় এবং পুলিশ, পরিবার ও আল-শাবাবের ভয়ে তাঁরা অভিযোগ করেন না। এইচআরডব্লিউ বলছে, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে চলমান এই নিগ্রহ বন্ধ করতে হবে। সংস্থার আফ্রিকা অঞ্চলের প্রধান ড্যানিয়েল বেকেল বলেন, যৌন নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত ও শাস্তির ব্যবস্থা করার দায়িত্ব আফ্রিকান ইউনিয়ন ও সোমালিয়ার রাজনৈতিক নেতাদের। তিনি বলেন, ‘মোগাদিসুর শিবিরগুলোতে খাদ্যসংকট প্রকট হচ্ছে। পরিবারের ক্ষুধা মেটাতে যেন তাঁদের শরীর বিক্রি না করতে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

সমকামী ছিলেন মেরিলিন মনরো

হলিউডের কিংবদন্তি নায়িকা মেরিলিন মনরো ছিলেন সমকামী। তিনি তার ড্রামা শিক্ষিকা নাতাশা লিটিস-এর সঙ্গে ওই সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। দীর্ঘ সময় তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে বসবাস করেছেন। নাতাশা বলেছেন, বাসার ভিতর সব সময় মেরিলিন মনরো থাকতেন নগ্ন। তবে যৌনতার প্রতি তার খুব বেশি আসক্তি ছিল না। নতুন উদ্ধার হওয়া এক ডকুমেন্টে এসব তথ্য মিলেছে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত নাতাশার সঙ্গে একসঙ্গে সাত বছর পার করেন মনরো। এর মধ্যে দু’বছরেরও বেশি কলাম্বিয়া পিকচারস-এর ড্রামা কোচ নাতাশার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো কাটিয়েছেন তিনি। মনরো বিয়ে করেছিলেন তিনবার। ওই ডকুমেন্টে বলা হয়েছে, সহ অভিনয় শিল্পী জন ক্রফোর্ড, মারলেন ডাইট্রিস ও বারবারা স্ট্যানউইকের কাছে স্বীকার করেছেন সমকামী সম্পর্কের কথা। এখন মনরোর একটি জিনস বিক্রি করা হবে। এটি নাতাশাকে দিয়েছিলেন তিনি। এটি যে মনরোরই দেয়া এ বিষয়ে যথার্থতা দিয়েছেন নাতাশা একটি চিঠি লিখে। তবে এই চিঠিতে নাতাশা তাদের মধ্যকার সম্পর্কের কথা লেখেন নি। তিনি এ বিষয়টি খোলাসা করেছিলেন ১৯৬২ সালে এক সাক্ষাৎকারে, মনরো মারা যাওয়ার পরে। ঘনিষ্ঠ বন্ধু, অভিনেতা টেড জর্ডানকে একবার মনরো বলেছিলেন, তিনি ও নাতাশা একসঙ্গে ঘুমান। তিনি আরও বলেছিলেন- কেন নয়? শারীরিক সম্পর্ক আপনি তার সঙ্গেই করতে পারেন যাকে আপনি বেশি পছন্দ করেন। প্রাকৃতিক ক্রিয়াকর্মে আবার ভুলের কি? নাতাশার সঙ্গে মনরোর ১৯৪৬ সালে যখন প্রথম সাক্ষাৎ হয় তখন মনরো ছিলেন ২০ বছর বয়সী তরুণী। পরে ১৯৬২ সালে যে সাক্ষাৎকার দিলেন তাতে নাতাশা বললেন, ওই সময়ে মনরো অতোটা সুন্দরী ছিলেন না। এমনকি তিনি কথা বলতে পারতেন না সুন্দর করে। তিনি জানতেন না কিভাবে মুখ খুলতে হয়। সবকিছুতেই তার ছিল আতঙ্ক। নাতাশা আরও বলেন, বাড়িতে সব সময়ই মনরো থাকতেন নগ্ন এবং তারা দু’জনে একসঙ্গে একই অবস্থায় থাকতেন। এক দু’ ঘণ্টা নয়। ৬, ৭ বা ৮ ঘণ্টা তিনি নগ্ন থাকতেন। আমি মনরোকে তার বিছানায় দেখেছি। তার চুল আঁচড়ানো থাকতো না। তার মুখ থাকতো ফ্যাকাশে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করতাম মনরো তোমার কি হয়েছে। সে শুধু ‘কিছুই না’ জবাব দিতো। তার মুখের ভিতর তখন থাকতো ১৬টি পর্যন্ত ঘুমের বড়ি।

ছাত্রলীগের অস্ত্র প্রশিক্ষণ -সরকার দায় এড়াবে কীভাবে?

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচিত অস্ত্র প্রশিক্ষণের ঘটনা ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির বিপৎসীমা পেরিয়ে যাওয়ার সূচক। ছাত্রলীগের বর্তমান এক নেতা সাবেক দুই নেতাকে বনের মধ্যে পিস্তল চালাতে শেখাচ্ছেন—এমন দৃশ্যে লজ্জায় নাক কাটা পড়ার কথা সংগঠনটির। কিন্তু ছাত্রলীগের মধ্যে ভাবান্তর নেই। তাহলে জঙ্গিবাদীদের সঙ্গে এদের তফাত কোথায়?
ঘটনাটি পুরোনো হলেও উন্মোচনটি নতুন। এর আগে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্ধত পিস্তলের ব্যবহার দেশবাসী দেখেছে। ন্যক্কারজনকভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এবং এক বিসিএস ক্যাডারও ‘প্রশিক্ষিত’ হতে গেছেন; এঁরাও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগ নেতা ও তাঁর সহকারীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে; কিন্তু ওই শিক্ষক ও প্রশাসনিক ক্যাডারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঔদাসীন্য অমার্জনীয়।
প্রায় একই সময়ে রাজধানীর তিতুমীর কলেজে কমিটি গঠন নিয়ে বিবাদে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ কলেজ গেটে তালা দিয়ে পাশের সড়ক অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর করেছে। ছাত্রলীগের কমিটির দায়ে কেন সাধারণ মানুষ সম্পদ ও সময়ের খেসারত দেবে—এই প্রশ্নের উত্তর কি দেবেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব? জনমতের চাপে দল থেকে, হল থেকে সাময়িক বহিষ্কারের নামে এদের বাঁচিয়ে দেওয়াও কি চলতে থাকবে? এসব অস্ত্র কিনতে লাগে লাখ লাখ টাকা। সেই টাকা কারা জোগায়?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুবায়ের হত্যা মামলার আসামিরা আদালত থেকে পালিয়ে গায়েব হয়ে যায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি-সন্ত্রাস করা ছাত্রলীগের নেতারা ‘দায়মুক্তির’ জোরে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীকে প্রহার করেন। ছাত্রলীগের এই ‘দায়মুক্তির’ ঘটনা আইনের শাসনকে ছুড়ে ফেলার নামান্তর। এই ইতিহাস যৌথভাবে রচিত হয়ে আসছে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের ক্যাডারদের স্বেচ্ছাচারিতার অবাধ লাইসেন্সের জোরে। আইনের হাতে তাদের সোপর্দ না করার দায় কীভাবে এড়াবে সরকার?
অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধার হবে না, অস্ত্রধারীরা গ্রেপ্তার হবে না, আদালতে মামলা উঠবে না; এই কি গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের স্বরূপ?

দারিদ্র্যের মানচিত্র, না ঘুমপাড়ানি বয়ান? by জহির আহমেদ

গত ২৮ আগস্ট দাপ্তরিকভাবে আমরা ‘নতুন’ একটা মানচিত্র পেলাম, ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র’। দাতা সংস্থা যেমন বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ দারিদ্র্যের মানচিত্র প্রণয়নের সক্ষমতা রাখে। কিন্তু দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কিংবা দরিদ্র–অধ্যুষিত জনপদ সম্পর্কে এ ধরনের নব নব আবিষ্কার আমাদের কতগুলো তাৎপর্যপূর্ণ ও অর্থপূর্ণ প্রশ্নের দিকে ঠেলে দেয়। অর্থাৎ দারিদ্র্যের যে মানচিত্র ও তার সম্পর্কিত সামাজিক পরিসর এবং এ–সম্পর্কিত হিসাব-নিকাশ প্রশ্নাতীত নয়। দারিদ্র্যের সূচক এবং দারিদ্র্য মাপার যে শৈলী এবং তার দ্বারা মানুষের অর্থনৈতিক যে শবব্যবচ্ছেদ পাওয়া যায়, তা বস্তুনিরপেক্ষ নয়।
গৃহস্থালিভিত্তিক আয়-ব্যয়ের জরিপের ভিত্তিতে অঞ্চলগত দারিদ্র্যের মাত্রা ও এলাকা চিহ্নিত করা হয় এই মানচিত্রে। বলা হয় যে ‘দারিদ্র্য মানচিত্র’ হচ্ছে সংখ্যাতাত্ত্বিক অনুশীলন, যার মাধ্যমে জাতীয় ও স্থানিক পর্যায়ে দারিদ্র্যের মাত্রা বোঝা সম্ভব হয়। আর তাতে সরকার, সিভিল সোসাইটি ও উন্নয়ন সঙ্গীরা দারিদ্র্য নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে। ২০০৯ সালে আমরা এ ধরনের মানচিত্রের সঙ্গে প্রথম পরিচিত হই। পাঁচ বছরের মাথায় এখন আমরা আবার দ্বিতীয় মানচিত্র পাই, ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র’।
বৈশ্বিক পর্যায়ে একই বার্তা আমরা পাই যে ‘সর্বত্র দারিদ্র্যের হার কমছে’। এটি হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচনের কেন্দ্রীয় বয়ান, আর মহাবয়ান (গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ) হচ্ছে ‘চরম দারিদ্র্য অচিরেই বিলুপ্ত হবে’। দারিদ্র্য কমছে, কিন্তু আসলে কি তাই? দারিদ্র্য কি বিলুপ্ত হবে, বিমোচন হবে?
অনেক চিন্তকই এই আশাবাদকে ‘ভ্রান্তিবিলাস’ বলেছেন। তাঁরা হিসাব করে দেখিয়েছেন যে বৈশ্বিক দারিদ্র্য কমছে এই হিসাব ‘মিথ্যা’; এর বাস্তব চিত্র অনেক ভয়াবহ। ১৯৮১ সালের পর ১০৮ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।
একইভাবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দারিদ্র্য কমছে, এমন হিসাব নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনের এই বিপরীত চিত্র আমরা লক্ষ করি ঢাকায়। হাল আমলের দরিদ্রতর জনপদ হচ্ছে বরিশাল ও রংপুর। প্রতিবেদনে ২০ শতাংশের কম দরিদ্র মানুষের হারকে চিত্রিত করা হয়েছে সাদা রঙে, একেবারে হালকা কমলা দরিদ্র মানুষের শতকরা হার ২১%-২৯%, অপেক্ষাকৃত উজ্জ্বল কমলা ৩০%-৩৮%, আরেকটু গাঢ় কমলা ৩৭%-৪৮% এবং একেবারে গাঢ় কমলায় দরিদ্র মানুষের শতকরা হার ৪৭% ও তার থেকে বেশি (প্রথম আলো, ২৮ আগস্ট ২০১৪)।
কিন্তু সাধারণ মানুষ কি এ ধরনের মানচিত্রকে ধারণ করে? দারিদ্র্য অবস্থাকেই বা তারা কীভাবে দেখে? এ ধরনের মানচিত্রে আমজনতা ধাতস্থ নয়। তারা ভাবতে পারে আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ইহজাগতিক, পরজাগতিক—বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন পরিসরে। তৈরি হয়ে ওঠে মনোজাগতিক বাংলাদেশের মানচিত্র।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভূমি পরিণত হয়েছে অঞ্চলগত বৈষম্যমূলক বর্ণিল ‘অগ্রসর’ ও ‘অনগ্রসর’ পরিসর হিসেবে। এই মানচিত্র এখন যতটা না ভূ-রাজনৈতিক, তার চেয়েও বেশি আরোপণমূলক। প্রাকৃতিক, নদীবিধৌত, সমতল, পাহাড়ি অঞ্চলের বৈচিত্র্যমুখী বিন্যাস, আধুনিক সফটওয়্যারের চাকচিক্যে বিলীন হয়ে পড়ে সাদা, ধূসর, হালকা কিংবা গাঢ় কমলায়। ভৌগোলিক মানচিত্র হয়ে পড়ে উত্তর পুঁজিবাদী প্রযুক্তির মানচিত্র। প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে একটা বার্তা আমরা লক্ষ করি। ‘এই মানচিত্রে যে তাৎপর্যপূর্ণ সত্য উদ্ঘাটিত হলো তা হচ্ছে, বাংলাদেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য যেমন প্রকট, তেমনি এক অঞ্চলের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের উন্নয়নের অসমতাও ঢের বেশি।’
ঢাকা বিভাগে দারিদ্র্যের হার অন্য বিভাগ থেকে বেশিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে করা হচ্ছে, অন্তত মঙ্গাকবলিত ‘অনুন্নত’ এলাকার তুলনায়। ব্যাপারটা এমন যে মানুষজন নড়াচড়া করে না; দারিদ্র্য তো ওখানে থাকার কথা, ঢাকায় নয়। মনে হচ্ছে দারিদ্র্য বাংলাদেশের জেলা-উপজেলার ভৌগোলিক চৌহদ্দিতে আবদ্ধ থাকে, আর মানুষগুলো থাকে স্থির ও অনড়—তৈরি করে এমন এক অচলায়তন, যার স্বরূপ হচ্ছে দরিদ্রতা। ওই অঞ্চলগুলোর মানুষ যারা অন্য সীমানায় থাকে এবং অঢেল টাকা উপার্জন করে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভকে ক্রমাগত স্ফীত করে, তারা কোথায়? তাদের কপালে কি দারিদ্র্য রেখার ভাঁজ পড়বে না, কিংবা অবয়বে সেঁটে দেওয়া হবে না ‘মফিজ’ বা ‘অনগ্রসর’ বা অন্যতর ভিন্ন কোনো অভিধা?
স্থানিক জনগোষ্ঠীর মানুষের মননের মধ্যেই তার মানচিত্র প্রোথিত। একটা সাংস্কৃতিক পরিপ্রেক্ষিতের মধ্য দিয়ে তারা মানচিত্রকে ভাবে। তারা ক্ষুদ্র পরিসরে, এক পরিসর থেকে আরেক পরিসরকে সম্পর্কিত করে, ভালো-খারাপ এমন মাত্রায় হয়তো তার জনপদকে বিভাজিত করে। এই মানচিত্রের ধরন সাংস্কৃতিকভাবে নির্দিষ্ট এবং এর স্বরূপ মতাদর্শগত। এই মানচিত্র তার দীর্ঘদিন বেড়ে ওঠা জনপদের মানচিত্র, যার সঙ্গে রয়েছে তার আত্মিক সম্পর্ক এবং যার ওপর তার মালিকানার স্বত্ব রয়েছে।
পরিসংখ্যানের রয়েছে একটি শক্তিশালী ভাষা। এ ভাষার মাধ্যমে পারিসংখ্যানিক তথ্য ও তথ্যবহুল যুক্তি ব্যবহৃত হয় টার্গেট জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা এবং তাদের বিশেষ পরিচিতি সেঁটে দেওয়া। যেমন ‘পাহাড়ি’, ‘আদিবাসী’, ‘অনগ্রসর’, ‘অশিক্ষিত’ ইত্যাদি। তাই সংখ্যাতত্ত্বের বিষয়টি যতটুকু না প্রতিনিধিত্বের ব্যাপার, তারও অধিক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আফ্রো-এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার ইউরোপীয় উপনিবেশে সংখ্যাতত্ত্বের জ্ঞানকে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের উপায় হিসেবে ব্যবহার করে। ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র’ ঔপনিবেশিক সেই হাতিয়ারকে যতটুকু না বিদ্যাজাগতিক জ্ঞান হিসেবে নিয়েছে, তার চেয়ে বেশি বিবেচনা করেছে জনগোষ্ঠীকে কীভাবে বিভাজন, পরিচালন ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
কোন অঞ্চল, কতজন বা কত হারে দারিদ্র্য অবস্থা বিদ্যমান, সে প্রশ্নের চেয়েও বড় প্রশ্ন করা যেতে পারে, কাদের জন্য এবং কী উদ্দেশ্যে এই মানচিত্র প্রণয়ন করা হয়েছে? দুস্তর অসমতা থাকা সত্ত্বেও অঞ্চলভেদে একটি সমস্বত্ব দারিদ্র্যের ল্যান্ডস্কেপ বা ভূমি তৈরিতে কেন আমরা আগ্রহী হয়ে উঠি? দারিদ্র্যের মানচিত্র প্রণয়ন ও তার সংখ্যাতত্ত্বের হিসাব-নিকাশ একধরনের সামাজিক ক্ষমতাচর্চার ক্ষেত্র তৈরি করে, যা কিনা একটি রাজনৈতিক ‘সাফল্যগাথার’ দিকে আমাদের নিয়ে যায়। সে জন্য বোধ হয় আমরা আমাদের নাগরিক পরিচিতির সবুজ মানচিত্রকে বর্ণিলভাবে দেখতে শুরু করেছি। কে জানে, নিকট ভবিষ্যতে হালকা-পাতলা-গাঢ় কমলা রং আবার কার ও কোন অঞ্চলের কপালে পড়বে!
জহির আহমেদ: অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা।
zahmed69@hotmail.com

দুর্নীতির দায়মুক্তি -আবুল হোসেনের মন্ত্রিত্ব ফিরিয়ে দিন by এ কে এম জাকারিয়া

পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও দুদকের তদন্ত নিয়ে দুটি লেখা লিখেছিলাম বছর দুয়েক আগে। ‘দুদক পরীক্ষায় পাস করবে তো?’ (প্রথম আলো, ১১ অক্টোবর, ২০১২) ও ‘পাস-ফেলের মাঝামাঝি দুদক’ (প্রথম আলো, ৯ ডিসেম্বর ২০১২)। দুদক পাস করল কি ফেল করল, তাতে অবশ্য এখন পদ্মা সেতুর কিছু আসে-যায় না। কারণ, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল যাঁদের বিরুদ্ধে, তাঁদের প্রতি সরকারের মায়া-মমতা আর সরকারের প্রতি দেশের ‘স্বাধীন’ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আনুগত্য দেখে ত্যক্ত-বিরক্ত বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকা বহু আগেই পদ্মা সেতু প্রকল্প ছেড়েছে।

দীর্ঘদিন পর যে ফল বের হলো, তাতে কি পাস করল দুদক? নাকি ডাহা ফেল! দুদকের ফেল করার ‘বিষয়’ শুধু পদ্মা সেতু নয়, দুর্নীতিতে সরকার ও সরকারি দলের লোকজন জড়িত আছে এমন কোনো বিষয়েই তারা সম্ভবত পাস করতে পারবে না। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলায় সাত আসামিকে দায়মুক্তি দেওয়ার পরদিনই সরকারদলীয় সাংসদ আসলামুল হককে দায়মুক্তি দিল দুদক। ‘পুনর্যাচাই’ করার নাম করে পিছিয়ে দেওয়া হলো আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান।
‘পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে মামলা করা হয়। তবে মামলা-পরবর্তী ষড়যন্ত্রেরও কোনো প্রমাণ পাইনি আমরা।’ বেশ ঘটা করে সংবাদ সম্মেলন করেই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দিয়েছে দুদক। দুদকের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বললেন, ‘বিশ্বব্যাংক দাবি করেছিল, পরামর্শক নিয়োগেও দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়। পরে আমরা অনুসন্ধান শেষে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করি। তবে মামলা-পরবর্তী তদন্তে আমরা দুর্নীতি বা দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাইনি।’ দুর্নীতি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে সাত আসামির সবাই এখন মুক্ত। ‘তদন্তের আওতায় থাকা’ সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে ধুয়ে-মুছে সাফসুতরো করে দিয়েছে দুদুকের এই দায়মুক্তি।
দুদক পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের কোনো নাম-গন্ধ না পাক, এ নিয়ে কিন্তু মামলা চলছে কানাডায়। এসব নিয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইবেন, প্রশ্ন করবেন এটাই স্বাভাবিক। সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে: ‘কানাডার মামলাটি হচ্ছে, এসএনসি-লাভালিনের করা স্পিড মানির তহবিল, যা দিয়ে তৃতীয় বিশ্বে কাজ বাগানো হয়। আর আমাদেরটি হচ্ছে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র করা নিয়ে। দুটি ভিন্ন বিষয়।’ কানাডার মামলা নিয়ে কী আজগুবি তথ্যই না তিনি দিলেন! মনে প্রশ্ন জাগে, তিনি কি না জেনে এসব বললেন, নাকি উদ্দেশ্যমূলকভাবে অসত্য তথ্য দিলেন?
পাঠকদের উদ্দেশে বলি, এসএনসি-লাভালিন নিয়ে কানাডার আদালতে যে মামলাটি বিচারাধীন, সেটি পদ্মা সেতুর দুর্নীতি ষড়যন্ত্রসংক্রান্ত মামলা। এই মামলায় পদ্মা সেতু প্রকল্পে কানাডীয় কোম্পানি এসএনসি-লাভালিন কোনো দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে জড়িত আছে কি না, সেটাই বিবেচনা করা হচ্ছে। তৃতীয় বিশ্বের অন্য কোথায় লাভালিন ‘স্পিড মানি’ দিয়েছে কি দেয়নি, সেটা আদৌ বিবেচনার বিষয় নয়। এই মামলা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে দুদকের আইনজীবী হিসেবে বর্তমান আইনমন্ত্রী দুই-দুবার কানাডা ঘুরে এসেছেন। দুদক কমিশনার, যাঁর পদবির ব্রাকেটে ‘তদন্ত’ বিষয়টি রয়েছে, তিনি না জেনে ভুল তথ্য দিয়েছেন, এটা বিশ্বাস করি কী করে!
তবে বিশ্বব্যাংক ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যখন এসএনসি-লাভালিনকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে, তখন কোম্পানিটির বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগের পাশাপাশি কম্বোডিয়ায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তাপুষ্ট একটি প্রকল্পে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, এসএনসি-লাভালিন ইনকরপোরেটের শতাধিক প্রতিষ্ঠান ১০ বছরের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়ন হবে এমন কোনো প্রকল্পে কোনোভাবেই জড়িত থাকতে পারবে না। (বিশ্বব্যাংকের বিবৃতি, ১৮ এপ্রিল, ২০১৩)।
এটা স্পষ্ট যে মূলত বাংলাদেশের পদ্মা সেতু প্রকল্পে ‘অসদাচরণের’ কারণেই লাভালিনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কম্বোডিয়ার দুর্নীতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এই এত বড় শাস্তি লাভালিন শুধু মেনেই নেয়নি, বিবৃতি দিয়ে দুর্নীতির কথা স্বীকারও করেছে। বিশ্বব্যাংক ও লাভালিনের মধ্যে এ নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ইন্টিগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্ট লিওনার্দ ম্যাকার্থি তখন তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আশা করি এসএনসি–লাভালিন তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পে প্রতারণা ও দুর্নীতির ঝুঁকি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।’ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না থাকলে কি লাভালিন বিশ্বব্যাংকের ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়ে তাদের সঙ্গে সমঝোতায় আসত? বা সামনে উন্নয়ন প্রকল্পে প্রতারণা ও দুর্নীতির ঝুঁকি কমানোর পদক্ষেপ নেওয়ার ‘প্রতিশ্রুতি’ দিত?
বিশ্বব্যাংক ও লাভালিনের মধ্যে এই সমঝোতার দুই দিন পর (২০ এপ্রিল, ২০১৩) কানাডার আদালতও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছে। তদন্ত ও বিচারপূর্ব কয়েক দফা শুনানির পর কানাডার অন্টারিয়র কোর্ট অব জাস্টিস আগামী বছরের (২০১৫) ১৩ এপ্রিল পদ্মা সেতু দুর্নীতি ষড়যন্ত্র মামলার বিচার শুরুর দিন ঠিক করেছে। তদন্ত ও বিচারপূর্ব শুনানিতে যদি বিচারযোগ্য বিবেচিত না হতো, তবে মামলা শুরুর তারিখ দেওয়া হোত না। এসএনসিলাভালিনের যে তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হচ্ছে, তাঁদের সবাই দুদকের তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। পাঠকদের অনেকের হয়তো স্মরণে আছে, ২০১২ সালের শেষের দিকে প্রাথমিক অনুসন্ধানের কাজ শেষ হওয়ার পর দুদক কিন্তু দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের তথ্য পাওয়ার কথা স্বীকার করেছিল। ‘তখন’ আর ‘এখন’-এর এই ফারাক কেন? অনুমান করি, দুদকের এই অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া তখন বিশ্বব্যাংকের নিয়োজিত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল পর্যবেক্ষণ করছিল আর বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে টাকাপয়সা পাওয়ার আশা যে তখনো টিকে ছিল! এখন তো সবই গেছে, ‘তখন’-এর সঙ্গে এই হচ্ছে ফারাক।
দুদক কেন দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের কোনো সত্যতা পেল না, তা আমরা অনুমান করতে পারি। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সরকারের পছন্দের লোক। দুর্নীতিতে জড়িত অভিযোগ ওঠার পর যখন সরকারের তরফ থেকে কাউকে ‘দেশপ্রেমিকের’ সনদ দেওয়া হয়, তখন আমাদের মতো দেশে দুদক কী-ই বা করতে পারে! নামের আগে আমরা যতই ‘স্বাধীন’ শব্দটি ব্যবহার করি না কেন! তবে দুদক শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায়মুক্তিই দেয়নি, বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগটিকে উদ্দেশ্যমূলক বলেও মনে করছে তারা। দুদক কমিশনার বলেছেন, ‘টু বি ফ্রাঙ্ক, সামথিং ওয়াজ দেয়ার।’ দুদকের একজন কমিশনার যদি এমন মনে করে থাকেন, তবে এই ‘সামথিং’ বিষয়টি কী, তা তো আমাদের জানা দরকার।
অবশ্য অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর তরফেও আগে বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী সংসদে অভিযোগ করেছেন, সিআরসিসি নামে একটি চীনা কোম্পানিকে প্রাক্যোগ্যতায় গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনার জন্য বিশ্বব্যাংক তিন-তিনবার পরামর্শ দেয়। (প্রথম আলো, ৩ জুলাই ২০১২) প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, ‘একটি বিশেষ কোম্পানিকে কাজ দিতে বিশ্বব্যাংক তিনবার চিঠি দেয়, পরে জানা যায় যে সেই কোম্পানি ভুয়া। (৫ জুলাই, ২০১২)।
দুনিয়াজুড়ে বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এসব অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন ইন্টিগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্সি (আইএনটি) কাজ করছে সেই ২০০১ সাল থেকে। আইএনটি বিশ্বব্যাংকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও অনিয়মেরও তদন্ত করে থাকে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ বিশ্বব্যাংক করেছে তা যদি উদ্দেশ্যমূলক হয়ে থাকে, বিশ্বব্যাংক যদি কোনো ভুয়া কোম্পানির পক্ষে দালালি করে থাকে, তবে বাংলাদেশ আইএনটির কাছে অভিযোগ করছে না কেন! সরকারের দুর্বলতা কোথায়? সংসদে, সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের কথা বলে কী লাভ?
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই’—এই প্রচলিত ধারণা যে বাংলাদেশে খাটবে না, সেটা আমরা বুঝে গেছি। যেকোনো মামলার তদন্ত, অনুসন্ধান ইত্যাদি কাজে দুদকের অনেক অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হয়। দুদকের উদ্দেশে তাই বলি, খামোখা তাঁদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান, তদন্ত—এসব বাদ দিন। তাতে অন্তত কিছু অর্থ ও সময়ের সাশ্রয় হবে। আমাদের দেশে দুদক বরং শুধু আগের ক্ষমতাসীন সরকারের কারা দুর্নীতি করেছে, সেটাই দেখুক! তাঁদের শাস্তি নিশ্চিত করুক। এখন যাঁরা ‘বর্তমান’, তাঁরা যদি কোনো দিন ‘অতীত’ হন, তখন নাহয় এসব বিচার, তদন্ত করা যাবে।
দুদক তার দায়িত্ব পালন করছে। সরকারের পছন্দের লোকজন পদ্মা সেতুর ষড়যন্ত্র মামলা থেকে দায়মুক্তি পেয়েছেন। এখন সরকারের উচিত তার দায়িত্ব পালন করা। সরকারের হয়ে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের কাজ করতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের এত দিন যে ‘কলঙ্কের দায়ভার’ নিতে হলো, তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া। সসম্মানে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত তাঁদের পদ–পদবিও। দুদকের তদন্তে যিনি নির্দোষ প্রমাণিত হলেন, সেই সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন এখন কোন দোষে মন্ত্রিত্বের বাইরে থাকবেন!
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com

স্বপ্ন দেখতে মানা! by আনোয়ার হোসেন

ঝিরিনা মুন্ডাকে খুঁজতে গিয়ে পাওয়া যায় ধানখেতে। তিনি তখন পরের জমিতে গ্রামের অন্য নারীদের সঙ্গে ধানের চারা রোপণ করছিলেন।

মজুরির বিনিময়ে তাঁর ধান বোনা, ধান কাটা, ধানখেতের আগাছা পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয় পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই। ভাত-কাপড় আর লেখাপড়ার খরচের জন্য এ ছাড়া কোনো উপায় ছিল না শিশু ঝিরিনার সামনে। বাবার স্মৃতি মনে নেই। তিনি যখন কেবল হাঁটতে শেখেন, তখনই দিনমজুর বাবা নগেন মুন্ডার মৃত্যু হয়। পরিবারে তিন বোন আর মা। বোনদের মধ্যে তিনি ছোট। এক বোন আবার দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর ঘর ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এ অবস্থায় শিশুকাল থেকেই খেটে খাওয়া ছাড়া আর কি উপায় থাকতে পারে ঝিরিনার সামনে?
খেটে খাওয়া মা আরতি মুন্ডাও মাঝেমধ্যে ভেবেছেন বিয়ে দিয়েই একটা উপায় বের করার কথা। কিন্তু ঝিরিনার প্রবল আপত্তির মুখে মা আর ওমুখো হননি। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখে মা মেয়ের ইচ্ছাকে সম্মান দিতে বাধ্য হয়েছেন। অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করে লেখাপড়ায় সম্মানজনক ফলাফলও অর্জন করতে পেরেছেন এই কর্মঠ আদিবাসী মেয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী ঝিরিনা মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত ১৩ আগস্ট এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়।
সম্প্রতি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউপির বনগাঁ গ্রামে গিয়ে কথা হয় ঝিরিনা, তাঁর মা আরতি, মেজো বোন মিরিন, পাড়া-প্রতিবেশী ও গ্রামের মোড়ল রায়চরণ মুন্ডার সঙ্গে। আরতি জানান, ঝিরিনার হাঁটতে শেখার সময় স্বামী মারা যান। তার আগে তিনি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিন বছর পঙ্গু হয়ে বাড়িতে বসে ছিলেন। তখন থেকে অনাহার-অর্ধাহার আর দুঃখ-কষ্ট ছিল তাঁদের প্রতিদিনের সঙ্গী। প্রথমে বড় মেয়েকে নিয়ে খেতে-খামারে ও পরের বাড়িতে কাজ করে দিন চলত খেয়ে না খেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর মেজো মেয়ে, তারপর ঝিরিনাকে সঙ্গে নিয়ে বেঁচে থাকার যুদ্ধে নামতে হয়েছে তাঁকে। মেজো মেয়ে মিরিনও কাজ করার পাশাপাশি লেখাপড়া করেছেন। তিনিও এখন নাচোল মহিলা কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে পড়েন। আর ঝিরিনাও অভাব-অনটন দেখতে দেখতেই বড় হচ্ছেন। তবে তিনি এটাও দেখছেন যে, তাঁর মেজো বোনও কাজ করার পাশাপাশি লেখাপড়া করেছেন মনোযোগ দিয়ে। কুপিবাতির আলোতেই পড়েছেন ওঁরা। ভাইদের সহযোগিতায় বছর খানেক আগে বিদ্যুৎ নিয়েছেন। মেজো মেয়ে লেখাপড়ায় খারাপ না হলেও ঝিরিনা তাঁর চেয়ে ভালো। কিন্তু ঝিরিনা তো ভালোভাবে পাস করলেন। এখন তিনি কী করবেন? প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চুপ হয়ে থাকেন তাঁরা। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা মা আরতি, মেয়ে ঝিরিনা ও মিরিনা।
ঝিরিনা তুমি কী স্বপ্ন দেখো? এ প্রশ্নেও চুপচাপ। ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। মাথা নিচু করে থাকেন ঝিরিনা। তাঁর চোখের কোণ চিক চিক করে ওঠে।
নীরবতা ভেঙে মা আরতি মুন্ডা এবার বলেন, ‘হামরা গরিব আদিবাসী। বড় বড় স্বপনো কি হামরা দেখতে পারি। ভালো বিহা আসলে দিয়া দিব। আর এক বেটিও তো লিখাপড়া করছে, চাকরি তো পায় না। হামাদের গরিবের ছ্যালা-পিলাকি চাকরি পাইবে? অত লিখাপড়া কইর্যাই কী হোইবে?’
মিরিনা জানান, তাঁর মতো ঝিরিনাকেও শেষ পর্যন্ত নাচোল কলেজে ডিগ্রি পাস কোর্সে ভর্তি হতে হবে। এ ছাড়া তো তাঁদের আর সামর্থ্য নেই। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে পারেননি। এসব শুনে ঝিরিনা স্থান ত্যাগ করেন। চোখের জল গোপন করতেই হয়তোবা। তা ছাড়া তাঁকে তো আবার পরে জমিতে ধান বুনতে যেতে হবে। বাড়ির পাশে ধানখেত থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে আসা হয় কথা বলার জন্য।
প্রতিবেশীরা বলেন, বড়ই লক্ষ্মী আর মেধাবী মেয়ে ঝিরিনা। তিনি যদি সুযোগ পেতেন অনেক দূর যেতে পারতেন।
নাচোল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান বলেন, নাচোল উপজেলায় এই প্রথমবারের মতো একজন আদিবাসী মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেন। অনেক দূর থেকে (১৮ কিমি) এসে ক্লাস করতেন। তাঁর উচ্চশিক্ষার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়াটা হবে খুবই দুঃখজনক।

জাতীয় পার্টির নিয়ন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর হাতে! by সেলিম জাহিদ

৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) দ্বিধাবিভক্ত করেছিল সরকার। এরপর দলটি ধীরে ধীরে সরকারের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কবজায় চলে গেছে। এখন পরিস্থিতি এমন যে, জাপার রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত, দলের নেতাদের পদপদবি পাওয়া না-পাওয়াও অনেকাংশে নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর।

সর্বশেষ দলের সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদকে বিরোধীদলীয় উপনেতা নির্বাচন করা না-করা নিয়ে জাপার দুই পক্ষের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ধরনা দিয়েছেন। এ নিয়ে কিছুদিন ধরে জাপার চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ এবং তাঁর স্ত্রী বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। কাজী ফিরোজ রশীদকে উপনেতা করতে চান রওশন। আর, এরশাদ এর বিরুদ্ধে। এর জের ধরে এরশাদ গতকাল বুধবার রওশনপন্থী বলে পরিচিত দুই নেতা মশিউর রহমান ও তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে জাপার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এর আগে গত মাসে ফিরোজ রশীদকে দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতির পদ থেকে বাদ দেন এরশাদ।

দলীয় পদ হারানোর বিষয়টি নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ করেছেন রওশনপন্থী দুই নেতা প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান (রাঙ্গা) ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সংসদ অধিবেশনের বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালে মশিউর রহমান ও তাজুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে যান। তাঁদের পিছু নেন জাপার আরও দুই নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার ও ফিরোজ রশীদ। এ সময় মশিউরের কাঁধে হাত দিয়ে তাজুল প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আমাকে আর রাঙ্গাকে দলের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমাদের জেলা কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, ‘কেন এমন হলো? এরশাদ সাহেবকে ফোন দেন।’ এ সময় দর্শক গ্যালারিতে থাকা সাংবাদিকেরাও এসব কথোপকথন শুনতে পান। তখন এরশাদ সংসদে ছিলেন না। অবশ্য এর আগের দিন জাপার প্রধান এরশাদও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। জাপার একাধিক সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় থাকা জাপার তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ দলের বেশির ভাগ সাংসদ রওশনের পক্ষে থাকায় বিরোধী দলের উপনেতা নির্বাচনের লড়াইয়ে জেতার জন্য এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহম্মেদকে (বাবলু) সঙ্গে নিয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সংসদের কার্যালয়ে দেখা করেন। খবর পেয়ে এরপর রওশনপন্থী নেতা মশিউর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।
এরশাদের ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা জানান, গত মঙ্গলবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এরশাদ সম্পর্কে ‘বিরূপ’ মন্তব্য করেন মশিউর রহমান ও তাজুল ইসলাম। মশিউর বলেছিলেন, এরশাদের একক কোনো সিদ্ধান্ত মানা হবে না। আর তাজুল দলের তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের আগে এরশাদকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এতে এরশাদ অপমান বোধ করেন। এরপর দুজনের বিরুদ্ধে গতকাল ব্যবস্থা নেন এরশাদ।
নিজ বলয়ের দুই নেতার বিরুদ্ধে এরশাদ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় রওশন এরশাদ বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারী এক নেতা।
অব্যাহতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মশিউর রহমান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আই অ্যাম নট আনহ্যাপি। সাধারণ সদস্যপদ থেকে বাদ দিলে আরও ভালো হয়। তখন আমি জাপার মন্ত্রী থাকব না। অন্য দলের বা স্বতন্ত্র মন্ত্রী হব। কেউ পদত্যাগ করতে বলবে না।’
জাপার কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, ব্যক্তিগত অনেক দুর্বলতার পাশাপাশি জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলা এবং রাডার ক্রয় দুর্নীতি মামলার খড়্গ থাকায় এরশাদ সরকারের কাছে নতজানু হয়ে পড়েছেন। আর, রওশন এরশাদ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ ও বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন, সেটাও প্রধানমন্ত্রীর আনুকূল্যে। সেই সুবাদে তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও বিরোধীদলীয় নেতার মর্যাদা উপভোগ করছেন। দলটি একই সঙ্গে সরকার, আবার বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়া, এরশাদ নিজেও মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়েছেন।
এরশাদ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সরকারের সমালোচনা করলেও সরকারি দল নাখোশ হয়, এমন কোনো কাজ করেননি; বরং জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া যেকোনো কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সর্বশেষ সংবিধান সংশোধন বিলের বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েও দলটি শেষ মুহূর্তে সরকারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। গতকাল আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভা শেষে কমিটির সদস্য জাপার সাংসদ জিয়াউল হক মৃধা বলেন, ‘জাতীয় পার্টি প্রথমে বিলটির বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু কমিটিতে আলাপ-আলোচনার পর আমরা জেনেছি, বিলটি যৌক্তিকভাবে আনা হয়েছে। জাপা এখন আর বিলটির বিরোধিতা করবে না।’
জাপার কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা বলেন, দলের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব নিয়ে এরশাদ ও স্ত্রী রওশনের মধ্যে দ্বন্দ্ব যত বাড়ছে, ততই প্রধানমন্ত্রীর ওপর দুজনের নির্ভরশীলতা বাড়ছে। দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি নালিশ নিয়ে সরকারের কাছে দৌড়াচ্ছে।
জাপার ওপর সরকারের প্রভাব কতটা, তা এরশাদের বক্তব্যেও প্রতীয়মান হয়। তিনি মন্ত্রিসভা থেকে দলের তিন সদস্যের পদত্যাগের বিষয়ে গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘...প্রধানমন্ত্রী আমাকে বিশেষ দূত করেছেন। প্রয়োজনে উনার (প্রধানমন্ত্রী) অনুমতি নিয়ে আমিও পদত্যাগ করব।’
তবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় অংশ মনে করে, দলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় এরশাদ ও রওশন লড়াই করছেন বটে, বাস্তবে এ দুজনের কারও হাতেই এখন আর জাপার নিয়ন্ত্রণ নেই। দলের নিয়ন্ত্রণক্ষমতা কার্যত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে চলে গেছে।
জাপায় দুই পক্ষের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দুজন নেতা বলেন, কাজী ফিরোজকে উপনেতা করা না-করার বিষয়টি এখন স্পিকারের টেবিলে। তবে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। তিনি যাঁর ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেবেন, তিনিই বিরোধী দলের উপনেতা হবেন।
ফিরোজ রশীদ নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চাইলে বিরোধী দলের উপনেতা কালই করতে পারেন। এটা উনার জন্য এক সেকেন্ডের ব্যাপার।’ এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ফিরোজ বলেন, ‘আমি উনাকে (প্রধানমন্ত্রী) বোঝার চেষ্টা করছি।’
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, জাপাকে বিভক্ত রাখার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে রওশনকে প্রাধান্য দিয়ে দলে তাঁর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সরকারের উচ্চ মহল সচেষ্ট। কারণ, এরশাদের প্রতি সরকারের শীর্ষ মহলের আস্থার সংকট আছে। তবে এরশাদকে কখনো চাপে, কখনো হাতে রাখার কৌশল থাকবে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল সরকারেই অংশ। তাদের ভেতরকার কোনো সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করতেই পারে। তবে তা একেবারেই তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।
সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও জাপার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়া কী ইঙ্গিত করে—জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতির স্বাভাবিক বা চলমান ধারা রাজনীতিকদের বুঝতে হবে। জাতীয় পার্টির নেতারও নিশ্চয় বুঝেশুনে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে রাশিয়ার মহড়া

যুক্তরাষ্ট্রে হামলা করতে রাশিয়ার কৌশলগত বোমারু বিমান মহড়া চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, দুটি রুশ জঙ্গি বিমান এক প্রশিক্ষণ মিশনে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আমেরিকায় হামলা চালানোর কৌশল পরীক্ষা করেছে। মঙ্গলবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে এপি। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়াশিংটন ফ্রি বিকন সোমবার জানিয়েছে, দুটি রুশ টিইউ-৯৫ বোমারু বিমানকে গত সপ্তাহে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড ও কানাডার উত্তর-পূর্ব অংশের একটি রুটে উড়তে দেখা গেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা যখন ব্রিটেনের ওয়েলসে ন্যাটো জোটের শীর্ষ সম্মেলন করছিলেন তখন এ ঘটনা ঘটে। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, জঙ্গি বিমানগুলোর গতিবিধি পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়,
এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অনুশীলন করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন কমান্ড ও নর্থ আটলান্টিক অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ডের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে তখন এ মহড়া চালাল মস্কো। যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন কমান্ড বলেছে, গত ছয় মাসে রাশিয়ার কৌশলগত বোমারু বিমানগুলোর উড্ডয়নের মাত্রা বেড়ে গেছে। গত মাসে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, রুশ বোমারু বিমানগুলো ১০ দিনের ব্যবধানে অন্তত ১৬ বার আমেরিকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং কানাডার আকাশ প্রতিরক্ষা জোনের মাঝামাঝি এলাকার আকাশসীমা লংঘন করেছে। এছাড়া, গতমাসেই মার্কিন স্ট্রাটেজিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল সেসিল হানি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমার কাছে রুশ বোমারু বিমানগুলোর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন।

পাকিস্তানে ৪ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস

পাকিস্তানে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা চলছে। দেশটির ইতিহাসে এত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি আর হয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত কয়েকশ’ নিহত ও অন্তত ৪ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মঙ্গলবার বলেছেন, ‘এবারের বন্যা পাকিস্তান ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগ।’ বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে শাহবাজ সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দুর্গতদের সাহায্য করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই প্রতিটি প্রাণ রক্ষা করতে।’ এর আগে পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ২০১০ সালে।
সেসময় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও আজাদ কাশ্মীরে প্রলয়ংকরী বন্যায় প্রায় ২২৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আরও দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। পানিতে ডুবে ও বাড়ির ছাদ ও দেয়াল ধসে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার পাকিস্তানের ইংরেজি পত্রিকা ডনের অনলাইন সংস্করণের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঞ্জাব ও আজাদ কাশ্মীরে গত সপ্তাহে বন্যা শুরু হয়। এতে পাঞ্জাবে ১৫০, কাশ্মীরে ৬৪ ও উত্তরাঞ্চলে ১০ জন মারা গেছে। বন্যায় ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাশ্মীরে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।
ভারতের ‘পানি সন্ত্রাসের’
কারণে পাকিস্তানে বন্যা
ভারতের বিরুদ্ধে ‘পানি সন্ত্রাসের’ অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তানের জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ মহাম্মদ সাঈদ। মঙ্গলবার পাকিস্তানশাষিত কাশ্মীরের বন্যাদুর্গতের এলাকা পরিদর্শনের পর এই বিপর্যয়ের জন্য ভারতকেই দায়ী করেছেন হাফিজ। তার দাবি, ভারত হঠাৎ করেই পানি ছাড়ায় এই বন্যা হয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের লাদাখ বাঁধ প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে ইসলামাবাদ বিপদে পড়বে। মঙ্গলবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক খবর অনুযায়ী, হাফিজ ভারতের বিরুদ্ধে পানি সন্ত্রাসের অভিযোগ এনেছেন। তার বক্তব্য, ‘পানি সন্ত্রাস’ নিয়ন্ত্রণ রেখায় সংঘর্ষ বিরতির থেকে অনেক বড় বিপদ।

৯/১১ হামলার দৃশ্যপট

৫.৪৫ : সিসিটিভিতে দেখা যায়, বিমান ছিনতাইকারীরা বোস্টন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হচ্ছেন।
৬.৪৫ : মোহাম্মদ আতা ও আবদুল আজিজ ওমারি পোর্টল্যান্ড থেকে বোস্টন লোগান বিমানবন্দরে আসেন।
৬.৫২ : মারওয়ান আল শেহি বোস্টন বিমানবন্দরের অন্য টার্মিনাল থেকে মোহাম্মদ আতাকে আক্রমণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানান।
৭.৩৫ : মোহাম্মদ আতা ও ওমারি মার্কিন ফ্লাইট-১১ তে ওঠেন।
৭.৪০ : ছিনতাই দলের অন্য সদস্যরা বিমানে উঠে বসেন।
৭.৪৯ : ৮১ যাত্রী ও ১১ ক্রু সদস্য নিয়ে ফ্লাইট-১১ লস অ্যাঞ্জেলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে।
৮.১৩ : বোস্টন বিমানবন্দরের সঙ্গে ফ্লাইট-১১ এর সর্বশেষ যোগাযোগ।
৮.১৪ : ফ্লাইট-১১ ছিনতাই। ওয়ালিদ ও ওয়ালি আল শেহরি তাদের আসন ২এ ও ২বি থেকে উঠে দু’জন বিমান কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করেন। একই সময়ে আতা সিট ৮ডি থেকে উঠে মিনিটের মধ্যে ফ্লাইট-১১ ককপিট নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন।
৮.১৪ : আরেকটি মার্কিন বিমান ফ্লাইট-১৭৫ লস অ্যাঞ্জেলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে বোস্টন ত্যাগ করে। এতে ৫ ছিনতাইকারী ওঠেন। যার একজন ফ্লাইট-১১ ছাড়ার আগমুহূর্তে আতার সঙ্গে কথা বলেন।
৮.১৭ : ফ্লাইট-১১ যাত্রী ও ইসরাইল সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য দানিয়েল লিউইনকে ছুরিকাঘাত বা গুলি করে হত্যা করা হয়।
৮.১৯ : ফ্লাইট-১১ এর একজন কর্মকর্তা বেতি ওং আমেরিকান এয়ারলাইন্সে ফোন করে বলেন, ‘ককপিট কাজ করছে না। কয়েকজনকে ছুরি মারা হয়েছে। আমরা সম্ভবত ছিনতাইয়ের শিকার হতে যাচ্ছি।’
৮.২০ : আমেরিকান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট-৭৭ ওয়াশিংটন দুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৫৮ যাত্রী ও ৬ ক্রু সদস্য নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। এই বিমানেও ছিলেন ৫ ছিনতাইকারী।
৮.২৪ : ফ্লাইট-১১ থেকে প্রথম রেডিও ট্রান্সমিশন বার্তা শোনা যায়, ‘আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে। তোমরা সবাই চুপচাপ থাক। তবেই তোমরা ভালো থাকবে।’
৮.৪২ : ফ্লাইট-১৭৫ ছিনতাই।
৮.৪৬ : ফ্লাইট-১১ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে আঘাত হানে। ভবনটির ৯৩-৯৯ তলার ভেতর দিয়ে ঢুকে যায় বিমান।
৮.৪৮ : ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার খবর প্রথম টেলিভিশনে প্রচারিত হয়।
৮.৫০ : ফ্লাইট-৭৭ ছিনতাই হয়।
৯.০৩ : ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণাংশ সাউথ টাওয়ারে আঘাত হানে ফ্লাইট-১৭৫।
৯.৩৭ : পেন্টাগনে আঘাত হানে ফ্লাইট-৭৭।
৯.৫৬ : ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সাউথ টাওয়ার ধসে পড়ে।
১০.০৩ : ফ্লাইট ৯৩ বিমানটি পেন্টাগনের পার্শ্ববর্তী একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
১০.২৮ : ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ার ধসে পড়ে।

বিলীন হচ্ছে কুতুবদিয়া by আব্দুল কুদ্দুস

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আয়তন ষাটের দশকে ছিল ১২০ বর্গকিলোমিটার। তখন পুরো দ্বীপটা চরধুরুং, উত্তর ধুরুং, দক্ষিণ ধুরুং, লেমশীখালী, কৈয়ারবিল, বড়ঘোপ, আলী আকবর ডেইল, রাজাখালী, খুদিয়ারটেক নামে নয়টি মৌজায় বিভক্ত ছিল। এখনকার দ্বীপের মানচিত্রে খুদিয়ারটেক ও রাজাখালী মৌজা নেই। চরধুরুংসহ অন্যান্য মৌজার জমিও সাগরে বিলীন হচ্ছে। এখন দ্বীপের আয়তন ৪০ বর্গকিলোমিটারের মতো। দ্বীপের চতুর্দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ থাকলেও তার মধ্যে প্রায় ১৭ কিলোমিটার ভাঙা। ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে দ্বীপের অন্তত ৪৫টি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। ভাঙছে নতুন নতুন এলাকা। এতে দ্বীপের আয়তন ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। কিন্তু দ্বীপটি রক্ষার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নিয়ে কারও যেন মাথাব্যথা নেই।
২৪ আগস্ট সকালে দ্বীপের উত্তর ধুরুং গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধ ও জমি জরিপকারক মুহাম্মদ আবু মুছা এসব কথা তুলে ধরেন।
এর সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরের উচ্চতা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কুতুবদিয়া দ্বীপ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাউবো বেড়িবাঁধের চেয়ে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় বাঁধ টপকে লোনাপানি গ্রামে ঢুকে পড়ছে। কয়েক হাজার একর ফসলি জমি লোনাপানিতে ডুবে গেছে। বিলীন হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি। গৃহহীন মানুষ কত যে কষ্টে আছে, তা সরেজমিনে না গেলে বোঝানো কঠিন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের ধাক্কায় বেড়িবাঁধ ভেঙে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কাহারপাড়া, তাবলরচর, আনিচের ডেইল, বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোিন, মিয়ার ঘোনা, আমজাখালী, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মতির বাপেরপাড়া, বিন্দাপাড়া, মহাজনপাড়া, মফজল ডিলারপাড়া, পরান সিকদারপাড়া, মলমচর, লেমশীখালী ইউনিয়নের পেয়ারাকাটা, গাইনেকাটা, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ফয়জনির বাপেরপাড়া, সতরউদ্দিন, চরধুরুং, আকবর বলীপাড়া, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের বাতিঘরপাড়া, আলী ফকির ডেইলসহ ৪৫ গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। এসব গ্রামের গৃহহীন প্রায় দুই হাজার পরিবার বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। অনেকে ঠিকমতো খেতেও পারছে না।
১৭ আগস্ট দুপুরে উত্তর ধুরং ইউনিয়নের কাইছারপাড়া, নয়াকাটা, চরধুরং, আকবর বলীপাড়ার বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন এবং গৃহহীন মানুষের দুঃখকষ্ট দেখে হতবাক হন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এ সময় মন্ত্রী সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিলে স্থানীয় লোকজন স্লোগান দেন, ‘আমরা রিলিফ চাই না, জানমাল রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ চাই।’
এরপর মন্ত্রী ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বীপের চতুর্দিকে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে এই দ্বীপের ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তখন দ্বীপের চতুর্দিকে বেড়িবাঁধ ছিল, ছিল উপকূল রক্ষার প্যারাবন। আর এখন আরেকটা ঘূর্ণিঝড় হলে দ্বীপের দেড় লাখ মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ, এখন দ্বীপের চতুর্দিকে নড়বড়ে এরং ভাঙা বেড়িবাঁধ।
সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, ১৯৬৯ থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। ২০ হাজারের অধিক ঘরবাড়ি সাগরে হারিয়ে গেছে।
পাউবো কুতুবদিয়ার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, মন্ত্রীর পরিদর্শনের পর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে (নভেম্বর-ডিসেম্বরে) ভাঙা বাঁধের নির্মাণ শুরু হবে।

মানুষের শরীর তো যন্ত্র নয় by কাজল ঘোষ

মধ্যরাতের একটি ফোন আমাকে এখনও খুব ভাবায়। ফোনটি ছিল আমার বোনের বাসা থেকে আসা। রাতে আমার ভাগনির ফোনে চিৎকারে বুঝতে পারি বড় রকমের দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে। আমার ভগ্নিপতি ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে ভাল চিকিৎসার খোঁজে নানা জায়গায় ঘোরাঘুরি করলে অনেকেই পরামর্শ দিলেন বাংলাদেশে সবচেয়ে ভাল চিকিৎসক কে কে বড়ুয়া। উনার হাত সোনার হাত। উনি ব্রেইনের সার্জারি খুবই ভাল করেন। নিশ্চিন্ত ভরসায় নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার ফাইল নিয়ে উনার সরকারি চাকরিস্থল বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে দেখা মেলে। তীব্র মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে আমি আর আমার বোন যখন একটু কথা বলার সুযোগ চাইলাম। চিকিৎসক তখন ফাইলটি ছুঁয়েও দেখার প্রয়োজন অনুভব করেননি। তিনি ব্যবস্থা নিয়ে না দেখার মতোই বললেন, এখানে আমার কিছুই করার নেই। আমরা বললাম, আমরা আপনাকে দিয়েই চিকিৎসা করাতে চাই। সরকারি না হলেও আপনি বেসরকারি যেখানে চিকিৎসা করাবেন সেখানেই আমরা যেতে চাই। আমাদের অনুনয় বিনয়ে খানিকটা থেমে বললেন, আপনারা কোথায় চিকিৎসা করাবেন এটা আপনাদের সিদ্ধান্ত। আপনারা আমার এখানে চিকিৎসা করাতে চাইলে আমি যেখানে আছি আসুন দেখা যাবে। এই বলে আমরা তখন ঢাকা মেডিকেলে ছুটি। সেখানের বারান্দায় শুয়ে আছন ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত ভগ্নিপতি। ঢাকা মেডিকেলে দু’দিন থাকা অবস্থায় নিউরোসার্জারি বিভাগে নিলে সবাই পরামর্শ দিলেন উনার সার্জারি লাগবে। এখানে ভাল ব্যবস্থা নেই। অনেকের পরামর্শে কে কে বড়ুয়ার তত্ত্বাবধানে ঢাকা মেট্রোপলিটনে চিকিৎসা দেয়া হলো। টানা দুই মাস লড়াই করে তিনি পরলোক গমন করেন। আমরা আমাদের পরিবারের পক্ষে সবশেষটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু বড় দুঃখ হচ্ছে এই লম্বা সময়ে ডাক্তারবাবুকে কখনই দেখিনি রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে সেটা ভাল কি মন্দ যা-ই হোক। অনেকবার আমি নিজেও চেষ্টা করেছি উনার সঙ্গে কথা বলার। প্রাণ খুলে কখনওই তিনি কথা বলেননি। আমরা দিন যত যাচ্ছে রোগীর অবস্থা খারাপ হচ্ছে টের পাচ্ছিলাম। আরও উন্নত চিকিৎসা কি হতে পারে এ নিয়ে আমার বোন কাটিয়েছেন মাসের পার মাস। টাকা যোগাড়ের বিষয় তো ছিলই। কিন্তু নির্বিকার ছিলেন চিকিৎসক। কখনও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার তাগিদ অনুভব করেননি। শুনেছি অনেক দীর্ঘ লিস্ট ডক্তারবাবুর। সরকারি হাসপাতাল, বাইরে চেম্বার, ক্লিনিকে অপারেশন। প্রতিদিন কত রোগী, কত স্বজন। এগুলো নিয়ে ভাবার সময় কোথায়? কাগজেপত্রে আর সমস্যা হলে নার্সদের দেখেছি ফোনে কথা বলে পরামর্শ নিতে। তবু তিনিই বাংলাদেশের নিউরোসার্জনদের একজন। উনার প্রতি শুভকামনা থাকলো। আমার পরিবারের একজনের বাঁচার লড়াইয়ে উনি পাশে ছিলেন।

একদিন খুব সকালে ফোন। বাবার বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। নিকটতম উপজেলা সরকারি হাসপাতালই ভরসা। সেখানে সকাল থেকে অপেক্ষায় থেকে থেকে যখন দুপুর গড়িয়েছে তখনও ডাক্তার সাহেবের দেখা নেই। বাধ্য হয়ে বাবাকে পরামর্শ দিলাম। ঢাকায় তো টাকা দিলে ডাক্তার মেলে। এখানে তো আরও বিপদ। পরে নিকটস্থ বাজারে গিয়ে এক এমবিবিএস ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে ওষুধ নিয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন। ভাবুন তো, সপ্তাহের বেশির ভাগ দিনই নাকি এখানে ডাক্তারদের এমন না পাওয়ার খবর আছে। তাহলে ওই এলাকার লোকদের বিভিন্ন স্থানে ডাক্তার খুঁজে বেড়ানো ছাড়া কি-ই বা করার আছে। সরকার আরও অনেক বেশি করে ডাক্তার নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাও হাজারে হাজারে। কি হবে কে জানে। আমাদের এখানে যেভাবে ভুয়া ডাক্তারদের দাপট চলছে। তাতেতো কারোরই আর মরার জন্য আগামীতে ডাক্তার খুঁজতে হবে না। মোহাম্মদপুরে কিছুদিন আগেই র‌্যাবকে দেখলাম ড্রিল মেশিনে হাড় ফুটো করে চিকিৎসা দেয়ার পদ্ধতির জনকদের ধরতে। একই ভাবে ভুয়া লাইসেন্সে হাসপাতাল, ক্লিনিক আর চেম্বারের তো অভাব নেই। ক’দিন আগেই আমার সিনিয়র এক কলিগ হঠাৎ করেই দুর্ভাবনায় পড়ে গেলেন। কারণ, তার শরীরে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের ডাক্তাররা বাইয়োপসি করতে বলেছেন। কারণ, তার নাকি ক্যানসারের সংক্রামক দেখা দিয়েছে। এই খবর জানার পর থেকে ওই  পরিবারের সকল সদস্যেরই অবস্থা কি হতে পারে এটা সহজেই অনুমান করা যায়। খুব দ্রুতই ওনারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন। তারা বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করালে দেখতে পেলেন; না এরকম কোন জীবাণুর সংক্রমণ ঘটেনি। আর বাইয়োপসি করারও দরকার নেই। নিজ দেশের বাইরে সবাই চিকিৎসার জন্য দৌড়াবে এটা কামনা করি না। কিন্তু এই যদি অবস্থা হয় তাহলে বিকল্প কি? পশ্চিমবঙ্গের একেকটি হাসপাতালে জরিপ করলে দেখা যাবে সেখানের ৮০ শতাংশ রোগীই বাংলাদেশের। তারা বেশির ভাগই আমাদের এখানের বিভ্রান্তিকর সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে হাজির হয়েছেন সেখানে। আর থাইল্যান্ড কিংবা সিঙ্গাপুরের কথা আপনি গুগলে সার্চ দিলেই দেখতে পাবেন।

দেরি হয়ে গেল বলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। অনেক আগেই এই লেখাটি লিখবার প্রয়োজন অনুভব করছিলাম। দু’দিন আগে মিটফোর্ড হাসপাতালে আবারও নার্স আর ইন্টার্নি চিকিৎসকদের মধ্যে সঙ্কটে রোগীদের অবস্থা ত্রাহি। বহু দূর-দূরান্তের রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে গেছেন। অবস্থা এমন পাটা-পুতায় ঘষাঘষি, মরিচের দশা শেষ। কিন্তু এই পরিস্থিতি শুধু মিটফোর্ডে নার্স আর ইন্টার্নি চিকিৎসকরাই করেছেন তা নয়। সম্প্রতি এরকম বেশকিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা ঢালাওভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। মিটফোর্ডে এর আগে রিপোর্ট করতে গেলে ইন্টার্নি ডাক্তাররা একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিকদের প্রহার করে এবং ক্যামেরা ভাঙচুর করে। রাজশাহী মেডিকেলের ঘটনাতো আরও ভয়াবহ। সেখানে নারী ইন্টার্নি চিকিৎসকরা যেভাবে লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে সাংবাদিকদের মেরেছে তা অবর্ণনীয়। সেখানে এক ডজন সাংবাদিক মারাত্মক আহত হয়েছেন। এরপর ঢাকা মেডিকেল ও বারডেমেও একই ঘটনা ঘটেছে। পুরনো ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেলেও একইরকমের ঘটনা ঘটেছে। রোগীদের দুর্ভোগ নিয়ে ও রোগী  মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর বেপরোয়া হয়ে মারধরের ঘটনা ঘটায় ইন্টার্নি ডাক্তারা। এ নিয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নানা  আশ্বাস দিয়েছেন। দু’একজনের শাস্তিও হয়েছে। কিন্তু তাতে কি চিকিৎসা যে সেবামূলক পেশা তা নিয়ে ভাবার সুযোগ কি এই ইন্টার্নি ডাক্তারদের আছে। আর থাকবেই  বা কি করে, কারণ তারাইতো হাসপাতালগুলোর মূল কর্তার ভূমিকায়। বড় ডাক্তাররা ইন্টার্নি করতে আসা এই তরুণ-তুর্কীদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে নিজস্ব চেম্বার আর ক্লিনিক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ইন্টার্নিরা নার্সদের দিয়ে অধিকন্তু দায়িত্ব পালন করেন নতুবা গল্পে মশগুল হন। রোগীদের ব্যথায় কাতর হওয়া আর স্বজনদের ব্যথা বোঝার সময় তাদের কোথায়?

লেখাটির শিরোনামের ব্যাখ্যায় আসি। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ‘অলীক সুখ’ উপন্যাস অবলম্বনে এটির সেলুলয়েড আকারে তৈরি করেছেন নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের একজন ডাক্তারের ক্লিনিকে একজন সদ্যপ্রসূত নবজাতকের মায়ের মৃত্যুর ঘটনাকে উপজীব্য করে ছবিটিতে উঠে এসেছে সেখানের ডাক্তারদের ক্লিনিকে রোগীদের সময় না দেয়া, অধিক চেম্বার আর ক্লিনিক করে কিভাবে রোগীদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। ছবিটির মূল চরিত্র কিংশুক। যিনি একজন রোগীকে প্রসব সময়ের আগেই বাড়তি অর্থ উপার্জনের জন্য সিজার করালে কবিতা মণ্ডলের মৃত্যু হলে তার পরিবার ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়। এক সময় তা-ও টাকা দিয়ে ডাক্তারবাবু ম্যানেজ করেন। কিন্তু যে রোগী মারা গেছেন সে তার অশরীরী আত্মা হয়ে ওই পরিবারে ঢুকে পড়ে। এবং এক সময় ডাক্তারবাবুর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হলে নিজের অজান্তেই পায়ে স্লিপ কেটে পুকুরে পড়ে গেলে মৃত্যু হয়। ক্লিনিকে একজন রোগীর মৃত্যু কিভাবে একজন ডাক্তারের পুরো পরিবারকে গ্রাস করে তা ফুটিয়ে তোলা হয়। ছবির মূল জায়গাটি ছিল আদালতের নির্দেশে তদন্ত টিমের প্রধান ড. অম্বরীশ রায়ের সঙ্গে ড. কিংশুকের কথোপকথন। এটির উল্লেখ করেই লেখাটির ইতি টানবো। জেরার এক পর্যায়ে ড. অম্বরীশ কিংশুককে বলছে, ঠিক বা ভুল ডাক্তারদের হয়। ডাক্তররা তো মনুষ্য সমাজের বাইরে নয়। সেদিন পোস্ট অপারেটিভ পরীক্ষা নিরীক্ষা তুমি নিখুঁতভাবে করেছিলে। ছাত্র জীবনে ভাল ছাত্র ছিলে। কিন্তু টাইম-সময় তোমার নেই। তুমি দৌড়াচ্ছো। দিনে পাঁচটা চেম্বার। গড়ে দশটা রোগী হলে প্রতিদিন ৫০টা রোগী আর পাঁচটা অপারেশন। তাহলে দিনে ৩/৪ মিনিট করে একেকজন রোগীকে সময় দিচ্ছো। কি করছো কিংশুক? কার পেছনে দৌড়াচ্ছো। চার মিনিটে রোগীর মন জানবে না রোগ জানবে। কি করে তোমার ওপর রোগীর বিশ্বাস তৈরি হবে। আমরা এখনও বিশ্বাস করি অর্ধেক রোগ মনে মনে। তা কথা বলে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে দূর করা যায়। মানুষের মনতো যন্ত্র নয়- তার একটা ভাষা আছে। কান পেতে শুনলে সেই ভাষা শোনা যায়। এখানেই লেখাটির ইতি টানতে চাই। আমাদের এখানের ডাক্তাররা যদি রোগীদের মন বুঝতেন তাহলে হয়তো আমাদের রোগ যন্ত্রণা অনেকাংশেই দূর হয়ে যেত। আর আমরা তাদের ওপর ক্রমাগত অনাস্থা আর অবিশ্বাস নিয়ে বাইরে ছুটতাম না।

পুনশ্চ: ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের অবতারণা করেছি কারও ওপর ক্ষোভ থেকে নয়- এক অগাধ বিশ্বাস আর প্রত্যাশা থেকে।