Wednesday, November 6, 2024
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আবু সাঈদের দুই ভাইয়ের সাক্ষাৎ
এ সময় আবু সাঈদের দুই ভাই প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে তাদের বাবা-মায়ের সালাম ও শুভকামনা পৌঁছে দেন।
তারা জানান, গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ড. ইউনূস যখন তার ঐতিহাসিক ভাষণে আবু সাঈদ ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের অন্য শহিদদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেন তখন আবু সাঈদের বাবা-মাসহ তারা সকলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী ড. ইউনূসকে বলেন, ‘আপনি প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার একদিন পর রংপুরে আমাদের গ্রামে গিয়ে আমাদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং আপনি জাতিসংঘে তাবু সাঈদসহ বিপ্লবের শহিদদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেছেন এজন্য আমরা অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছি।’
প্রধান উপদেষ্টাকে গার্ড স্যালুট দেয় প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)। এ সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বড় ভাই রমজান আলী ও আরেক ভাই ভাই আবু হোসেন একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে তারা আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করে বলেন, ‘তারা হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।’
দুই ভাই তাদের শহিদ ভাইয়ের নামে একটি ফাউন্ডেশন গঠন করবেন উল্লেখ করে বলেন, ‘তারা তাদের শহিদ ভাইয়ের স্মরণে তাদের গ্রামে একটি 'মডেল মসজিদ' এবং একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং তারা এ বিষয়ে সহায়তার জন্য দুটি মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছেন।’
আবু হোসেন বলেন, 'এ ফাউন্ডেশন দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কাজ করবে।'
উপদেষ্টা দুই ভাইকে তাদের বাবা-মাকে তার সালাম পৌঁছে দিতে বলেন এবং সবসময় তাদের সাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার ঠিক একদিন পর ৯ আগস্ট রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গত ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে জিম্মিদের ফেরাতে চান নেতানিয়াহু
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কাছে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহু মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জিম্মিদের মুক্তির জন্য হামাসের প্রতি এ আর্থিক প্রস্তাব এসেছে।
এ ছাড়াও, বন্দিদের মুক্তি দানকারী হামাস সদস্য ও তাদের পরিবারকে গাজা থেকে বের হতে ‘নিরাপদ পথ’ প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন নেতানিয়াহু। গত রাতে একটি নিরাপত্তা পরামর্শ বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা জারি করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ অক্টোবরে সংঘর্ষের সময় হামাস ২৪০ জনেরও বেশি ইসরায়েলিকে জিম্মি করেছিল। এদের মধ্যে বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক এবং কয়েকজন সেনাসদস্যও আছেন। হামাসের সাথে চলমান সংলাপ এবং বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে কয়েকজন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তবে বেশ কয়েকজন এখনো জিম্মি অবস্থায় রয়ে গেছেন।
এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে গত মাসেও জনসমক্ষে আলোচনা করেছিলেন, তবে এখনও এই প্রচেষ্টায় কোনো কার্যকর অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। গাজার পরিস্থিতি অব্যাহতভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে সেখানে মানবিক সংকট লাঘবের জন্য তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি আক্রমণের ফলে গাজায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৩৭৪ জনে। গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলের আক্রমণ অব্যাহত আছে, যা গাজার মানবিক সংকটকে আরো জটিল করে তুলছে।
![]() |
| ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভূমিধস জয়, ১২০ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ট্রাম্প
ধারণা করা হয়, গাজা যুদ্ধের কারণে ডেমোক্রেটদের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন মুসলিমরা। তারা এবার ব্যাপকভাবে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন। তবে এদিন তিনি বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ করেননি। তার জয়ে রিপাবলিকান শিবিরে আনন্দের বন্যা। অন্যদিকে ডেমোক্রেট শিবিরে পিনপতন নিস্তব্ধতা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কমালা হ্যারিসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি এখনও পরাজয় স্বীকার করে নেননি। ডেমোক্রেট দল থেকে দেয়া হয়নি কোনো বিবৃতি। জনমত জরিপ এবং বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস ধোপে টিকলো না। যেখানে নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত বলাবলি হচ্ছিল নির্বাচন নিয়ে ‘ডেডলক’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। খুব সামান্য ব্যবধানে জয় পরাজয় নির্ধারিত হবে। সেখানে মঙ্গলবার রাতে (বাংলাদেশ সময় দুপুর নাগাদ) খবর চলে আসে ট্রাম্প জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি যে ধারায় ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পাচ্ছিলেন তাতে তার ধারেকাছে দাঁড়াতেই পারছিলেন না ডেমোক্রেট প্রার্থী কমালা হ্যারিস। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ১টার দিকে ট্রাম্প যখন ফ্লোরিডার পাম বিচে কনভেনশন সেন্টারে দলীয় সমর্থক, নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন, তখন কমালা হ্যারিসের ডেমোক্রেট শিবির নিস্তব্ধ। পূর্ব পরিকল্পিত ভাষণ বাতিল করেন কমালা। নির্ধারিত ২৭০ মাইলফলক স্পর্শ করে আরো দূরে এগিয়ে গেছেন ট্রাম্প। তিনি জিতেছেন ২৭৭টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। তার কাছে কুপোকাত হয়েছেন ডেমোক্রেট কমালা হ্যারিস। তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ২২৬ ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প দুইবার দুইজন ডেমোক্রেট নারী প্রার্থীকে ধরাশায়ী করলেন। ২০১৬ সালে তার কাছে পরাজিত হয়েছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয় ডেমোক্রেট নেতা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। আর এবার পরাজিত হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট, ডেমোক্রেট কমালা হ্যারিস। চার বছর পরে আবার ট্রাম্পের হাতে উঠতে যাচ্ছে হোয়াইট হাউসের চাবি। এরই মধ্যে তিনি ফ্লোরিডার পাম বিচে দলীয় নেতাকর্মীদের কনভেনশন হলে পৌঁছে ভাষণ দিয়েছেন। এতে তিনি মার্কিনিদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। নিজেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন। দলীয় সমর্থকদের ব্যাপক করতালির মধ্য দিয়ে তিনি মঞ্চে আরোহন করেন। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প, রানিংমেট জেডি ভ্যান্স, মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প, ছেলে ব্যারন ট্রাম্প প্রমুখ। প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষতি হয়েছে তা সারিয়ে তুলতে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি মেলানিয়া ট্রাম্পকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করেন। এ সময়ই তিনি মেলানিয়াকে ফার্স্টলেডি হিসেবে আখ্যায়িত করে তাকে ধন্যবাদ জানান।
মেলানিয়া একটি বই লিখেছেন। সেটা দেশে অন্যতম বেস্টসেলার হয়েছে বলে তার প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সে একটি মহান কাজ করেছে। জনগণকে সহায়তা করার জন্য সে কঠোর কাজ করে। নিজের সন্তানদের ‘অ্যামেজিং চিলড্রেন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ট্রাম্প। তিনি এ সময় প্রতিশ্রুতি দেন সীমান্ত সমস্যা সমাধান করার। তিনি আরও বলেন, তিনি এবং তার দল আরও একবার ইতিহাস রচনা করেছেন। এ জয়কে তিনি ‘ম্যাগনিফিসেন্ট ভিক্টরি’ বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্প বলেন, এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী যুগের সূচনা হলো। তিনি বলেন, এই বিজয় মার্কিন জনগণের। এর ফলে আমরা আবার আমেরিকাকে গ্রেট করে গড়ে তুলতে পারবো। এ সময় সমর্থকদের স্লোগানে ফেটে পড়ছিল কনভেনশন সেন্টার। তার মাঝেই ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদেরকে অপ্রত্যাশিত ও শক্তিশালী ম্যান্ডেট দিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় পাশে থাকার জন্য এক্সের মালিক ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ককে তিনি রিপাবলিকান দলের ‘নতুন তারকা’ আখ্যায়িত করেন। ট্রাম্প বলেন, প্রচারণাকালে দু’বার হত্যাচেষ্টা থেকে তিনি রক্ষা পেয়েছেন। তিনি রক্ষা পেয়েছেন একটি কারণে। ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসে তিনি প্রতিটি কাজে উৎসাহ ও লড়াই নিয়ে আসবেন। বলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়া হলো বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সরকার চালাবেন তার ঘোষণা- ‘প্রমিজেস মেইড, প্রোমিজেস কেপ্ট’ নীতি অনুযায়ী।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বের যেসব দেশে কোনো সেনাবাহিনী নেই
তবে বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে, যাদের কোনো সেনাবাহিনীই নেই। চলুন জেনে নেওয়া যাক সীমান্ত রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশগুলো কীভাবে সামলে নেয়—
সামোয়া ওশেনিয়া মহাদেশের ক্ষুদ্র দেশ সামোয়া। জনসংখ্যা দুই লাখের কিছু বেশি। স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে নেই কোনো সামরিক বাহিনী। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য সীমিত সংখ্যক পুলিশ এবং নৌবাহিনী রয়েছে। যারা হালকা অস্ত্র বহন করে। তবে, ওশেনিয়া কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়লে এগিয়ে আসবে নিউজিল্যান্ড, এই মর্মে দেশ দুটির মধ্যে রয়েছে একটি চুক্তি।
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এটিও ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশ। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী— এখানে মাত্র ৪২ হাজার মানুষ বসবাস করেন। ছোট-বড় মিলিয়ে দেশটিতে ১২শ’র বেশি দ্বীপ রয়েছে। আয়তন মাত্র ১৮১ বর্গকিলোমিটার। দেশটিতে নেই কোনো সামরিক বাহিনী। তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য স্বল্পসংখ্যক পুলিশ এবং সাগরে টহলের জন্য রয়েছে মেরিটাইম সার্ভিল্যান্স ইউনিট। অবশ্য সামরিক বাহিনী না থাকা নিয়ে ছোট্ট এই দেশের কোনো মাথাব্যথা থাকার কথা নয়। কারণ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশ আমেরিকা তাদের নিরাপত্তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ডোমিনিকা ৭৫৪ বর্গকিলোমিটারের দেশ ডোমিনিকা। জনসংখ্যা ৭৩ হাজারের কিছু বেশি। ১৯৮১ সাল থেকে কোনো সেনাবাহিনী নেই দেশটিতে। তবে রয়েছে পুলিশ ফোর্স ও কোস্টগার্ড। যুদ্ধ বা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুলিশ বাহিনী সামরিক বাহিনী হিসেবে কাজ করে।
নউরু মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে অবস্থিত নউরু। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য বলছে, এর জনসংখ্যা ১২ হাজারের কিছু বেশি। ২১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটি জাপান থেকে স্বাধীনতা পায় ১৯৬৮ সালে। তারপর থেকেই তাদের কোনো সেনা বা সামরিক বাহিনী নেই। তবে অস্ত্রধারী পুলিশ বাহিনী আছে তাদের। অবশ্য যে দেশে সড়ক আছে মোটে ১৮ কিলোমিটার, সেখানে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ খুব কঠিন কিছু নয়। তারপরও কোনো বিপদে পড়লে চুক্তি অনুসারে অস্ট্রেলিয়া নউরুকে নিরাপত্তা দেয়।
লিচেনস্টাইন জাতিসংঘের হিসাবে লিচেনস্টাইনের জনসংখ্যা ৪০ হাজারের কাছাকাছি। ছোট্ট এই দেশের মোট আয়তন ১৬০ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে তিন ভাগের দুই ভাগ দখল করে আছে ছোট-বড় পাহাড়। এমনিতে ছোট্ট দেশ, তারপর পার্বত্য এলাকা, পূবে রাইন নদী, পশ্চিমে অস্ট্রিয়ার পর্বতমালা- সব মিলিয়ে লিচেনস্টাইনের ভাগ্যে কোনো বিমানবন্দর জোটেনি। তেমনি দেশটিতে নেই কোনো সেনাবাহিনী। ১৮৬৮ সালে খরচ কমাতে সেনাবাহিনী বাদ দেয় দেশটি। তবে যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনী গঠনের অনুমতি থাকলেও যুদ্ধ না হওয়ায় এটির প্রয়োজন পড়েনি।
ওপরের তালিকায় নাম নেই কিন্তু সামরিক বাহিনী নেই এমন দেশের তালিকায় আরও আছে গ্রানাডা, কিরিবাতি, পালাউ ও সলোমান দ্বীপপুঞ্জ। এদিকে ভ্যাটিকান সিটিতেও সেই অর্থে সামরিক বাহিনী নেই। তবে এখানে পোপের নিরাপত্তায় সুইস গার্ড নামের একটি সশস্ত্র বাহিনী আছে। যদিও তাদের নিয়ন্ত্রণভার ভ্যাটিকান রাজ্যের নয়। এ ছাড়া আরও কয়েকটি দেশ আছে, যাদের স্থায়ী বা পেশাদার সেনাবাহিনী নেই। এই দেশগুলোর মধ্যে আছে কোস্টারিকা, মোনাকো, আইসল্যান্ড, মরিশাস, পানামা ও ভানুয়াতু।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কী আছে পৃথিবীর রহস্যময় গভীর গর্তে
এসব রহস্যের মধ্যে অন্যতম, পৃথিবীর গভীরতম গর্ত। কী আছে এর ভেতরে? পৃথিবী কত গভীর হতে পারে এ নিয়ে জল্পনা কল্পনা হয়েছে বেশ। গবেষণা এবং তার খনন কাজ গড়িয়েছে বহুদূর। তারপরেও পৃথিবীর রহস্য ভেদ করে, যাওয়া সম্ভব হয়নি অপর প্রান্তে।
আমরা বসবাস করি পৃথিবীর উপরিভাগে। এই উপরিভাগে রয়েছে মাটি, পানি, উদ্ভিদ এবং প্রাণী। তবে পৃথিবীর মাটির নিচের একদম গভীরে কী আছে তা কারও পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি এখনও। বলা হয় পৃথিবীর নিচে রয়েছে একটি আলাদা জগৎ। তবে পৃথিবীর কেন্দ্রে ও কেন্দ্রসংলগ্ন অঞ্চলে কি আছে তা এখনও জানা যায়নি।
ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬ ফুট নিচে পর্যন্ত কবরের জন্য খনন করা হয়। এর থেকে আর ১৩ ফুট গর্ত খনন করলে পাওয়া যাবে মিসরের ৩ হাজার বছর পুরোনো রাজা টুটান খামুনের মমি। প্রাচীন যুগে রাজাদের ৬ ফুট নিচে দাফন দেওয়া হতো। এর থেকে ৬৫ ফুট নিচে খনন করে পাওয়া যাবে প্যারিস কাটাটাম্ভস। এই টানেল টি প্যারিসে অবস্থিত। এই টানেলে প্রায় ৬ মিলিয়ন মৃতদেহ দাফন করা হয়েছিল।
১৭০ ফুট গভীরে খনন করে নির্মাণ করা হয়েছিল সবচেয়ে গভীরতম সুইমিংপুল। এই সুইমিংপুলটি দুবাইয়ে অবস্থিত, যার নাম ডিপডাইভ। এই সুইমংপুলে প্রায় ১৫ কোটি লিটার পানি রয়েছে। আর ৩৪৬ ফুট গভীরে রয়েছে পৃথিবীর গভীরতম মেট্রোস্টেশন। যেটি রয়েছে ইউক্রেনের কিয়েভ শহরে।
৯৪০ ফুট নিচে রয়েছে রেলওয়ে টানেল। এই টানেলটি জাপানের সাইকান টানেল নামে পরিচিত। এর চেয়ে নিচে ১২৮৬ ফুট গভীরে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর পানির কুয়া। এই কুয়াটি ইংল্যান্ডের উডিংডিং হাসপাতালের বাইরে রয়েছে। যেটি ১৮৬২ সালে চার বছর ধরে খনন করে তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৮০ ফুট নিচে রয়েছে সবচেয়ে গভীরতম গুহা। যেটি স্লেভেনিয়ায় অবস্থিত।
ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩১৮০ ফুট নিচে রয়েছে মানুষের খনন করা সবচেয়ে গভীরতম গর্ত। যেখান থেকে আকাশ দেখা যায়। জায়গাটির নাম বিনগাম কোপারমাইন। এরও নিচে গিয়ে পৌঁছেছে মানুষ ৫৩৮৭ ফুট নিচে রয়েছে বাইকাল নামের এক হৃদের তলদেশ। যেটি রাশিয়ায় অবস্থিত।
১০৩০০ ফুট খনন করলে পাওয়া যাবে আফ্রিকার মুয়াবকটাশং মাইন। ১১ হাজার ৮১১ ফুট নিচে পাওয়া গেছে জীবন্ত বহুকোষি প্রাণী। ১৩ হাজার ১২০ ফুট গভীরে আফ্রিকাতে রয়েছে এক সোনার খনি। এই খনির নিচে তাপমাত্র প্রায় ৬৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত জানা যায়।
মারিয়ানা ট্রেঞ্চ পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর খাদ। অবস্থান প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে। এর গভীরতম স্থানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার নিচে অবস্থিত। এর থেকেও গভীরে বিজ্ঞানীরা প্রায় ৪০ হাজার ২৩০ ফুট নিচে একটি গর্ত খোঁড়েন এবং এটিই পৃথিবীর সব থেকে দীর্ঘতম গর্ত। এর থেকে গভীর গর্ত মানুষের পক্ষে করা সম্ভব হয়নি। এই গর্তটির নাম কোলা সুপার ডিপ বোরহল। এটি রাশিয়াতে অবস্থিত। এই গর্তটি বানাতে প্রায় ছাব্বিশ বছর সময় লেগেছিল।
১২ কিলোমিটার খোঁড়ার পরে নিচের উষ্ণতা এতটাই বেড়ে যায় যে, এর পরেও যদি মাটি খোঁড়া হয় তবে মাটি খোঁড়ার সব যন্ত্র গলে যাবে এবং সেই জন্যই এই প্রোজেক্টটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই গর্তটিকে ডিপেস্ট আরটিফেসিয়াল পয়েন্ট অন আর্থ বলা হয়। অর্থাৎ এর নিচে কী আছে তা কারও পক্ষে জানা সম্ভব নয়।
![]() |
| মানুষ সৃষ্ট পৃথিবীর গভীরতম গর্ত সুপার ডিপ বোরহল। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মন্দিরের এসির পানিকে অলৌকিক ভেবে খাওয়ার হিড়িক
এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের একটি মন্দিরে। সোমবার (০৩ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এবং এনডিটিভি।
জানা যায়, মথুরা জেলার বৃন্দাবনের একটি বিখ্যাত মন্দিরে হাতির ভাস্কর্যের মুখ থেকে বের হওয়া ফোঁটা ফোঁটা পানি পান করেন এবং বিশ্বাস করেন তা ভগবান কৃষ্ণের পায়ের পবিত্র পানি! আসলে তা এসি থেকে বের হওয়া পানি। এই পানি পান করার ভিডিও ইতোমধ্যেই ব্যাপকভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বহু সংখ্যক ভক্ত দেওয়ালে একটি হাতির ভাস্কর্য থেকে বের হওয়া পানি পান করছেন। কিছু ভক্ত আবার পানি সংগ্রহের জন্য কাপ ব্যবহার করছেন। অন্যরা আবার ‘পবিত্র এই পানির’ কয়েক ফোঁটা পেতে তাদের হাতের তালুকেই কাপের মতো ব্যবহার করছেন। তারা যে পানি পান করছে তা আসলে এসি থেকে বের হওয়া পানি এই সতর্কতা দেওয়ার পরও বেশ কিছু মন্দির-যাত্রীকে ওই পানি পান করতে দেখা যায়। আবার অনেকেই এটি নিজেদের শরীরের ওপরে ছিটিয়ে দিতে দেখা যায়।
এদিকে এই ভিডিওটি নজরে আসার পর এ বিষয়ে সতর্কতাও উচ্চারণ করেছেন একজন লিভার চিকিৎসক। তিনি এ সময় বেশকিছু ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন।
![]() |
| মন্দিরের পানি পান করছেন ভক্তরা। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে
হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৪৩ হাজার ৩৯১ জন নিহত হয়েছেন। আহতে ব্যক্তির সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ৩৪৭।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ১৪০ জনকে হত্যা করেন হামাসের যোদ্ধারা। সেই সঙ্গে বন্দী করে গাজা উপত্যকায় নিয়ে আসেন প্রায় ২৪০ জনকে।
হামাসের হামলার জবাবে ওই দিনই অবরুদ্ধ গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ২৩ লাখ বাসিন্দার এই উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় উদ্বাস্তু হয়েছেন বহু মানুষ।
![]() |
| গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর ধ্বংসস্তূপের ওপর অসহায় এক ফিলিস্তিনি ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কমালা না ট্রাম্প? by মোহাম্মদ আবুল হোসেন
যুক্তরাষ্ট্রে কমালা হ্যারিস প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নাকি দ্বিতীয় মেয়াদে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট! এ ফয়সালার ক্ষণ গণনা শুরু। দুই প্রার্থীই ম্যাজিক সংখ্যা ২৭০ এর খোঁজে। এ নিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, সারা বিশ্বে এক উন্মাদনা। নতুন করে বিশ্ব জুড়ে অধীর প্রতীক্ষা। এই ম্যাজিক সংখ্যা স্পর্শ করতে অক্লান্ত পরিশ্রম ডেমোক্রেট-রিপাবলিকানদের। এর সমাধান দিতে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে রায় জানিয়ে এসেছেন। তবে কে এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছেন- কমালা হ্যারিস নাকি ডনাল্ড ট্রাম্প! এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশে যখন আজ বুধবার সকাল তখন যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার দিনের শেষভাগ। এরই মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। এতক্ষণে গণনা শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। তাতে ৫৩৮ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে কে পান ২৭০, তা জানতে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে বিশ্ব। আট বছর আগে ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন পারেননি। কমালা হ্যারিস কি পারবেন! সেই একই প্রতিদ্বন্দ্বী ডনাল্ড ট্রাম্প। কমালা হ্যারিস যদি পারেন ২৭০-এ পৌঁছে যেতে তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায় রচিত হবে। তিনি হবেন প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদি ট্রাম্প নির্বাচিত হন তাহলে তিনি হবেন প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর আবার নির্বাচনে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি হবেন ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ প্রান্তে এসে তারা দু’জনেই জয়ের ব্যাপারে বড় আশা প্রকাশ করেছেন। তবে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২১ সালের ৬ই জানুয়ারিতে ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গার মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে এ জন্য কমপক্ষে ১৯টি রাজ্যে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যেসব স্থানে ভোট গণনাকেন্দ্রে সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে, তার চারপাশে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। কখন জানা যাবে এই ভোটের ফল সে সম্পর্কে অনলাইন বিবিসি বলছে- বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সময়ে ভোট গ্রহণ শেষ হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১১টার মধ্যে সব রাজ্যের সব কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হবে, যা গ্রিনিচ মান সময় বুধবার দিবাগত রাত ভোর ৪টা পর্যন্ত। সেই হিসেবে বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শেষ হবে ভোট। শুধু হাওয়াই এবং আলাস্কায় আরও পরে ভোটগ্রহণ বন্ধ হবে। ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১১টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর পরই কে জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তা জানতে উত্তেজনা দেখা দেয় চারদিকে। কিন্তু কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন, এবার দ্রুততার সঙ্গে এ প্রশ্নের সমাধান মিলবে না। কে জয়ী হচ্ছেন তা জানতে কয়েক ঘণ্টার পরিবর্তে কয়েক দিন লেগে যাবে বলে অনেকে মনে করেন। এক্ষেত্রে ভোটের আগে যেসব জরিপ করা হয়েছে তাও উল্টে যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সঙ্গে একই সঙ্গে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদেরও ভোট হচ্ছে।
গতকাল ৫ই নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়। তার মধ্যে মধ্য রাতের পরপরই প্রথম নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডিক্সভিল নচে ভোট দেন ৬ জন ভোটার। তার মধ্যে ৩ জন ভোট দেন কমালা হ্যারিসকে এবং ৩ জন ভোট দেন ট্রাম্পকে। সেখানে বিবিসি’র সাংবাদিক কথা বলেছেন এর একজন ভোটার লেস ওটেনের সঙ্গে। তিনি রিপাবলিকান। তবে এবারই প্রথম তিনি ডেমোক্রেট প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হ্যারিস ভোটারদের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল। তাই তাকে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে ভোটারদের কাছ থেকে আনুগত্য চান ট্রাম্প। এ জন্য তিনি ট্রাম্পকে ভোট দেননি। যখন এই লেখা পাঠকের হাতে তখন ভোট গণনা চলছে। সামান্য দু’চারটি স্থান থেকে ফল আসতে শুরু করেছে হয়তো। কিন্তু কে হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্তও কোনো আভাস পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সম্ভবত এটাই সবচেয়ে কঠিন ও হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচন। নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত জনমত জরিপে সামান্য এক পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন কমালা হ্যারিস। তাকে সমর্থন করছিলেন শতকরা ৪৯ ভাগ ভোটার। অন্যদিকে ট্রাম্পকে সমর্থন করছিলেন শতকরা ৪৮ ভাগ। সার্বিক পরিস্থিতি এমন হলেও গুরুত্বপূর্ণ ৭ সুইং স্টেটের মধ্যে জনসমর্থনে সামান্য এগিয়ে ছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প। কমালা এগিয়ে ছিলেন মাত্র দু’টিতে। নির্বাচনের আগের দিন ভীষণ ব্যস্ততার মধ্যদিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন দুই প্রার্থী ট্রাম্প ও কমালা। সুইং স্টেট বিশেষ করে পেনসিলভ্যানিয়া ও মিশিগানে তাদেরকে বেশি ব্যস্ত দেখা গেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস তার সমর্থকদের অধিক উন্নত ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে সেই ভবিষ্যৎ গড়তে চান তিনি। স্লোগানরত প্রার্থীদের বলেছেন- আমরা আর পেছনে ধাবিত হবো না। ৫ই নভেম্বর ভোট শুরুর আগেই প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন। তবে তার ফল জানা সম্ভব হয়নি। কারণ, সেসব ভোট গণনা করা হবে গতকাল অনুষ্ঠিত ভোটের সঙ্গে। এমন অবস্থায় সাত সুইং স্টেটের ওপর নির্বাচনের ভোরে জরিপ চালিয়েছে দ্য হিল, নিউ ইয়র্ক টাইমস সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। তাতে দেখা গেছে, অন্য যেকোনো সুইং স্টেটের তুলনায় অ্যারিজোনায় অধিক শক্তিশালী অবস্থানে আছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। এই রাজ্যে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট আছে মোট ১১টি। ভোগ গ্রহণ শেষ হওয়ার কথা স্থানীয় সময় রাত ৯টায়। সেখানে দ্য হিল/ডিডিএইচকিউ-এর গড় জরিপে ট্রাম্প এগিয়ে আছেন ২.৫ পয়েন্টে। অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের জরিপের গড়ে তিনি তিন পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। ২০২০ সালে খুব সামান্য ভোটে এই রাজ্যে জয় পেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার ইলেকশন ল্যাবের সর্বশেষ হিসাবে এই রাজ্যে রিপাবলিকানরা শতকরা ৪১ ভাগ ভোট দেবেন ট্রাম্পকে। ডেমোক্রেটরা ৩৩ ভাগ ভোট দেবেন কমালাকে। অন্যদিকে জর্জিয়ায় আছে ১৬টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট। এখানে ভোটগ্রহণ শেষ হবে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায়। ২০২০ সালে এই রাজ্যে সামান্য ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন বাইডেন। এবার যদি এই রাজ্যে জয় না পান তাহলে তা ট্রাম্পের জন্য একটি বড় আঘাত হতে পারে। দ্য হিল/ডিডিএইচকিউ-এর গড় হিসাবে এখানে ১.৮ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। ফাইভ থার্টি এইট এবং ন্যাট সিলভারের সিলভার বুলেটিনের জরিপে এই ব্যবধান আরও অনেক কম। এখানে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন কমালা হ্যারিস। নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং সিয়েনা কলেজের জরিপে কমালা এক পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। মিশিগানে মোট ১৫টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট আছে। সেখানে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৯টায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে। জরিপে সেখানে খুব সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন কমালা। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার হিসাবে এই রাজ্যে মোট আগাম যেসব ভোটার ভোট দিয়েছেন তার মধ্যে শতকরা ৫৫ ভাগই নারী। এটা কমালাকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। নেভাদায় ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট ৬টি। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা স্থানীয় সময় রাত ১০টায়। এটি সাতটি ব্যাটলগ্রাউন্ডের মধ্যে সবচেয়ে ছোট রাজ্য। সেখানে জরিপে ১.৩ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। নর্থ ক্যারোলাইনাতে মোট ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট ১৬টি। এখানে ভোটগ্রহণ শেষ হবে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে। এটিই ফলাফল নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেসব রাজ্য তার অন্যতম। কারণ, এখানে কে জয়ী হবেন তা স্থির নয়। কোনো কোনো জরিপে এখানে ট্রাম্প এগিয়ে। আবার কোনো জরিপে কমালা এগিয়ে ৩ পয়েন্টে। সবচেয়ে বেশি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট আছে পেনসিলভ্যানিয়ায়। এখানে ভোটগ্রহণ শেষ হবে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৮টায়। নির্বাচনের আগে এখানেই দুই প্রার্থী তাদের প্রচারণার ইতি টেনেছেন। এখানেই তারা টিভি বিজ্ঞাপনে শত শত মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন। এখানে সবচেয়ে কঠিন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। এ ছাড়া উইসকনসিনে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট আছে ১০টি। ভোটগ্রহণ বন্ধ হওয়ার কথা স্থানীয় সময় রাত ৯টায়। এটি কমালা হ্যারিসের শক্তিশালী ব্যাটলগ্রাউন্ড। পেনসিলভ্যানিয়া, মিশিগানের সঙ্গে এটাকে ব্লু ওয়াল বা ডেমোক্রেটপন্থি রাজ্য হিসেবে মনে করা হচ্ছে। যদি এই তিনটি রাজ্যে কমালা জয়ী হতে পারেন তাহলে তার জয় সম্ভবত সুনিশ্চিত।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষদিন সোমবার এবং মঙ্গলবারের শুরুর দিকে ট্রাম্প নর্থ ক্যারোলাইনা ও পেনসিলভ্যানিয়াতে অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিপদের ইস্যু ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মধ্যরাতে মিটিং করেছেন মিশিগানে। অন্যদিকে তুলনামূলক আশার বাণী শুনিয়েছেন কমালা হ্যারিস। তিনি পেনসিলভ্যানিয়ার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সেলিব্রেটি অপরাহ উইনফ্রের মতো তারকারা। মধ্যরাতে ফিলাডেলফিয়ায় র্যালি করার আগে তিনি স্ক্রান্টন, অ্যালেনটাউন এবং পিটার্সবুর্গে যাত্রাবিরতি করেন। তিনি এ সময় সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গর্ভপাতের অধিকার ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, মার্কিনিরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তারা গত দশকের রাজনীতি থেকে সামনে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। এখান থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে পেনসিলভ্যানিয়ার রিডিংয়ে বক্তব্য রাখেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি জোর দিয়ে অবৈধ অভিবাসী ইস্যু তুলে ধরেন। মানসিকভাবে অসুস্থ অপরাধীর ইস্যু তুলে ধরেন। অপরাধীদেরকে তিনি বর্বর এবং পশু হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুলিতে শুভর মৃত্যু: সন্তান হারিয়ে পাগল এক মা by ফাহিমা আক্তার সুমি
শুভর মা রেণু বেগম মানবজমিনকে বলেন, শুভর বাবা অন্য নারীকে বিয়ে করার পর আমি সন্তানদের নিয়ে ফুটপাথে পলিথিনে মোড়ানো ঘরে ঘুমাতাম। আমাদের কোনো দিন-রাত ছিল না। শুভর তিন বছর বয়সে ওর বাবা আমাদের ফেলে চলে যায়। যখন একটু বোঝার বয়স হয় তখন থেকে শুভ কাজে নেমে পড়ে। অর্থের অভাবে বেশিদূর পড়াশোনা করাতে পারিনি নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। ওর ছোট দুই বোন রয়েছে তারাও বেশিদূরে পড়তে পারিনি। আমিও গ্যারেজে কাজ করতাম এখনও করি। একদিন শামীম নামে এক ব্যক্তি আমাদের এই দুরবস্থা দেখে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এরপর তার সঙ্গে আমার বিয়ে হয় ওই ঘরে দুই মেয়ে রয়েছে। আমার এই চার সন্তানকে আগলে রেখেছে সবসময় কোনো কষ্ট পেতে দেয়নি। সবাই আমরা ছোট ছোট কাজ করে সংসারের খরচ চালাই।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, গত ১৯শে জুলাই বিকাল চারটার দিকে গুলিবিদ্ধ হয় শুভ। সে ধানমণ্ডিতে একটি গ্যারেজে কাজ করতো। জুমার নামাজের পর ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে রাস্তায় নামে। এ সময় মাথার ওপর থেকে একটি হেলিকপ্টার যায় সেটি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় ঢলে পড়ে যায় আমার সন্তান। সেদিন ঘটনার আগে আমি গিয়ে দেখি শুভ গ্যারেজ বন্ধ রেখে ঘুমাচ্ছে। আমি ভিতরে যেতে যেতে বাবা বাবা বলে ডাকি। তখন শুভ আমাকে বলে, মা ক্ষুধা লাগছে ভাত আনোনি? আমি বলেছিলাম হ্যাঁ এনেছি। তখন আমার মেয়েকে ওর ভাইয়াকে খাবার দেওয়ার কথা বলি। এ সময় হঠাৎ বাইরে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়। শুভ খাবার পরে খাবে বলে বাইরে চলে যায়। সেখানে গিয়ে রাস্তায় টিয়ারগ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পার্কিংয়ে বসিয়ে পানির ব্যবস্থা করে দেয়। আমি এর আগে শুভর সঙ্গে রাস্তায় ছিলাম। আমাকে পাঠিয়ে দিয়ে বলে, ‘মা গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়বা বাসায় যাও।’ চারদিকে সে সময় প্রচণ্ড গোলাগুলি হচ্ছিল। আমিও তখন বাসায় যাওয়ার জন্য অপর পাশের রাস্তায় চলে যাই। তখন শুভও আমার কাছে আসছিল সেটি আমি দেখতে পাইনি। কিছুক্ষণ পরে পিছন দিকে তাকিয়ে দেখি খালি গায়ে একটি ছেলে রাস্তায় ঢলে পড়ছে। আমি চিৎকার দিয়ে বলতে থাকি, কার সন্তান যেন পড়ে যাচ্ছে কেউ একটু ধরো। কাউকে এগিয়ে আসতে না দেখে আমি নিজে দৌড়ে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি এটি আমার শুভ। আমি দশ হাতের মতো দূরে ছিলাম। একটি সাদা গেঞ্জি পরা ছিল সেটি খুলে ওর মাথায় দিয়েছিল যে কারণে আমি বুঝতে পারিনি সে আমার সন্তান। কাছে গিয়ে যখন দেখি এটি আমার ছেলে তখন চিৎকার দিয়ে তার বুকের ওপর পড়ে যাই। আমার গায়ে থাকা ওড়না দিয়ে ওর মাথাটি বেঁধে দেই। তখন আমি চিৎকার দিলে দু’জন ছাত্র এগিয়ে আসে। সে সময় শুভকে পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কোনোমতে ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকরা ভর্তি নিবে না। শুভর বিকাল চারটায় গুলি লাগে তারপর থেকে হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে ছিল। রাত ন’টায় তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। ভোর চারটায় শুভ মারা যায়। পরের দিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে শুভর মরদেহ পাই। পরে রাত দশটার দিকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। শুভর গ্রামের বাড়ি বরিশালে। ঢাকা মেডিকেলে যখন যাই তখন আমাদের কাছে কোনো টাকা ছিল না। সিএনজিচালককে সেটি জানালে তিনি টাকা লাগবে না বলে জানান। সন্তানের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের পায়ে ধরার পর ঠেলে বের করে দিয়েছিল। কিছুক্ষণ পর আবার গিয়ে তাদের হাতে-পায়ে ধরি। এভাবে কয়েকবার বলার পরে চিকিৎসকরা বলেন, ‘আমাদের কিছু করার নেই এটা উপর থেকে নির্দেশ চিকিৎসা না করার জন্য।’ পরে বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বললে তারা চিকিৎসকদের গিয়ে বলে। বিকাল পাঁচটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত রক্তাক্ত অবস্থায় আমার সন্তান বারান্দায় পড়ে ছিল। অনেক হাতে-পায়ে ধরার পর রাত নয়টার সময় একটি অপারেশন করার কথা জানায় ডাক্তাররা। ওইদিন ভোর চারটার দিকে শুভ মারা যায়। পরের দিন রাত দশটায় আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
রেণু বেগম বলেন, আমার সংসারটি শুভই চালাতো। ও ছোটবেলা থেকে বসে থাকতে চাইতো না। আমার সন্তান যখন গুলি খেয়ে রাস্তায় পড়ে যায় তখন অজ্ঞান ছিল কোনো কথা বলতে পারেনি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আমি সন্তানদের নিয়ে সংগ্রাম করছি, কখনো কোনো কষ্ট পেতে দেয়নি। বর্তমানে ওর সৎ বাবা চা বিক্রি করেন। শুভ একটি মেসে থাকতো আর আমি মেয়েদের নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকি। তিনি বলেন, যখন শুভর একটু বোঝার বয়স হয়েছে তখন থেকে আমার কষ্ট ঘুচাতে সে কাজ করা শুরু করে।
তিনি বলেন, আজিমপুরে দাফন করতে দশ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলাম। আমার সন্তান দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আমি চাই আমার সন্তানের কবরটি যেন সেখানে স্থায়ী থাকে। সেখানে যেন আর কাউকে দাফন না করে। আমি যেন সারাজীবন আমার সন্তানের কবরটি দেখতে পারি। প্রতিদিন যেন সন্তানের কবরটি দেখে আসতে পারি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দু’জনেরই দু’টি পা কেটে ফেলা হয়
আরেকটি ঘটনা। মো. রুহুল আমিন এবং ইস্রাফিল হোসেন। ২০১৬ সালের ৩রা আগস্ট। দলের কাজ শেষ করে তারা বাড়ি যাওয়ার পথে বন্দুলীতলা শফি মল্লিকের ইটভাটার মোড় থেকে চৌগাছা থানার ১ জন এসআই এবং ২ জন এএসআই তাদেরকে গ্রেপ্তার করে চৌগাছা থানায় নিয়ে যায়। ৪ঠা আগস্ট তাদেরকে ডিবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সারাদিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে আবার চৌগাছা থানায় নিয়ে আসার পথে কয়ারপাড়া এলাকায় আসামাত্র দু’জনেরই দুই হাত পেছন মোড়া করে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। চোখ বেঁধে ফেলা হয়। গভীর রাতে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বন্দুলিতলার নির্জন মাঠে। সেখানে নিয়ে দু’জনের হাঁটুতে পুলিশ গুলি করে তাদের পাও ঝাঁজরা করে দেয়।
নথি থেকে জানা যায়, আবুজর গিফারী ছিলেন ছাত্রশিবিরের জয়পুরহাট জেলার তৎকালীন জেলা সভাপতি। আর ওমর আলী ছিলেন তৎকালীন জেলা সেক্রেটারি। মো. রুহুল আমিন ইসলামী ছাত্রশিবিরের যশোর জেলা পশ্চিমের চৌগাছা উপজেলা সাহিত্য সম্পাদক। ইস্রাফিল ছিলেন থানা সেক্রেটারির দায়িত্বে। মঙ্গলবার শিবিরের এই চার নেতা গুম করার পর গভীর রাতে হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় পায়ে গুলি করে পঙ্গু করার অভিযোগে র্যাব-ডিবি ও পুলিশের ২১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ দায়ের করার বিষয়ে ছাত্রশিবিরের আইন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার গত ১৫ বছরের শাসন আমলে ছাত্রশিবিরের ওপর সর্বোচ্চ বর্বরতা চালানো হয়। অভিযোগ দায়েরকারী চার শিবির নেতা এই বর্বরতার শিকার। পুলিশের বর্বর নির্যাতনের কারণে তাদের পা কেটে ফেলা হয়েছে। কৃত্রিম পা লাগানো হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কিন নির্বাচনে চলছে ভোটগ্রহণ: কখন জানা যাবে ফল
কিছু কিছু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নির্বাচনের শেষ রাতেই ঘোষণা করা হয়েছে অথবা পরের দিন খুব সকালে ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু এবার ক্ষুরধার প্রতিযোগিতা হচ্ছে অনেক রাজ্যে। এর ফলে কে জয়ী হচ্ছেন তা আন্দাজ করতে বেশ সময় প্রয়োজন হতে পারে। সমানে সমান লড়াই চলছে ডেমোক্রেট কমালা হ্যারিস এবং রিপাবলিকান ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে। যদি এই লড়াইয়ে খুবই সামান্য ভোটের ব্যবধান হয় তাহলে নতুন করে ভোট গণনা করা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পেনসিলভ্যানিয়ার মতো সুইং স্টেটে যদি দুই প্রার্থীর মধ্যে ০.৫ পয়েন্টের ব্যবধান দেখা দেয় বিজয়ী ও পরাজিতের মধ্যে, তাহলে সেখানে ভোট পুনরায় গণনা করা হবে।
২০২০ সালে এখানে শতকরা ১.১ পায়েন্টের ব্যবধান ছিল। আইনগত চ্যালেঞ্জও আসতে পারে। এরই মধ্যে নির্বাচনের আগেই কমপক্ষে ১০০ মামলা করা হয়েছে। এর বেশির ভাগই করেছে রিপাবলিকানরা। তারা ভোটারের বৈধতা ও ভোটার ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এসব মামলা করেছে। অন্যান্য ঘটনাপ্রবাহও ফল বিলম্বিত করতে পারে। এর মধ্যে আছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশৃংখলা, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান। পক্ষান্তরে কিছু এলাকায় ভোট গণনায় গতি আনা হয়েছে। এমন রাজ্যের মধ্যে আছে গুরুত্বপূর্ণ মিশিগান।
গত নির্বাচনের চেয়ে এই নির্বাচনে ডাকে ভোট অনেক কম পড়েছে সেখানে।
এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে নির্বাচনের চার দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত জো বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেনি যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো। পেনসিলভ্যানিয়ার ফল ঘোষণার পরই তারা বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করে। তবে অন্য নির্বাচনে ভোটারদের অল্প সময়ই অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ট্রাম্পকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তারও আগে ২০১২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নির্বাচনের দিবাগত মধ্যরাতে বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সালে জর্জ ডবিøউ বুশ এবং আল গোরের মধ্যে নির্বাচনটা ছিল ব্যতিক্রম। ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত এই নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়নি। ফ্লোরিডার ভোট পুনঃগণনা শেষ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। তারপরই বুশকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
সুইং স্টেটগুলোর ফল কখন ঘোষণা হবে
সাতটি সুইং স্টেট আছে। তাতে কমালা হ্যারিস এবং ডনাল্ড ট্রাম্প উভয়েরই জয়ের বাস্তব সুযোগ আছে। এর মধ্যে জর্জিয়াতে আগাম ভোট বেশি পড়েছে। ব্যক্তিগতভাবে এবং ডাকে উভয় ব্যবস্থায়ই এই ভোট পড়েছে। গ্রিনিচ মান সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা বা বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টায় জর্জিয়ায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। সেখানকার শীর্ষ নির্বাচনী কর্মকর্তা বলেছেন, এর পর প্রথম দুই ঘন্টার মধ্যে শতকরা প্রায় ৭৫ ভাগ ভোগ গণনা হয়ে যাবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সকাল আটটার দিকে এসব ভোট গণনা হয়ে যাবার কথা।
জর্জিয়ায় ভোট কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনায় ভোট গ্রহণ বন্ধ হবে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় মধ্যরাতের আগেই ফল ঘোষণা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রিনিচ মান সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটায় অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল টায় পেনসিলভ্যানিয়ায় ভোগ গ্রহণ শেষ হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জয়ী কে সেটা নির্ধারণ করতে ভোট গণনা করতে কমপক্ষে ঘন্টা সময় লাগতে পারে।
গ্রিনিচ মান সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা বা বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৮টায় শেষ হবে মিশিগানে ভোট। বুধবারের আগে অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবারের আগে সেখানকার ফল জানা যাবে না বলে জানানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় মঙ্গলবার রাত টায় ভোট গ্রহণ শেষ হবে। এটি একটি ছোট্ট রাজ্য। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বিজয়ীর নাম ঘোষণা হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বুধবারের আগে ফল না-ও আসতে পারে।
গ্রিনিচ মান সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটায় অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে অ্যারিজোনা রাজ্যে। ফলে স্থানীয় সময় বুধবার সকালের আগে ফল ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনের দিনে ডাকে পাওয়া ভোট গণনা করতে দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
নেভাদার ভোট গণনা করতে কয়েকদিন সময় লাগবে। সেখানে ডাকে দেয়া ভোট গণনা করতে সময় লাগবে। তবে সেসব ভোট ৯ই নভেম্বরের পরে এলে তা আর আমলে নেয়া হবে না।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এক যুগ আগে ড. ইউনূসকে যা বলেছিলাম by বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বীরউত্তম
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-যুবকদের সঙ্গে আপামর জনসাধারণ ঝাঁপিয়ে পড়ায় শেখ হাসিনার পতন হয়। দেশের মানুষ আশায় বুক বাঁধে অনেক কিছুর পরিবর্তন হবে। বিশেষ করে ঘুষ-দুর্নীতি, জোর-জবরদস্তি থেকে মানুষ মুক্তি পাবে। খুব একটা তেমন হয়নি। মন্দের ভালো যা হওয়ার মোটামুটি তা হয়েছে। গত ১৫-১৬ বছর কোনোখানে কোনো যোগ্য মানুষের স্থান ছিল না, তা এখন পদে পদে দেখা যাচ্ছে। অতি সম্প্রতি মহামান্য রাষ্ট্রপতি যা বলেছেন, যেভাবে বলেছেন তাতে তার যোগ্যতার কোনো প্রমাণ হয় না। তিনি তার বেতার ভাষণে বললেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং আমি তা গ্রহণ করেছি। এরপর মরে গেলেও রাষ্ট্রপতি এ নিয়ে যা বলছেন তার কানাকড়িও বলার কথা না। যোগ্যতা না থাকলে যা হয় তাই হয়েছে। আর কুকর্মের সঙ্গে সারাজীবন জড়িত থাকলে সে কখনো সুস্থির হতে পারে না। তাকে কম বেশি সব সময় অস্থির থাকতে হয়। সেটাই মহামান্য রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে পদে পদে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বর্তমান প্রধান উপদেষ্টাকে আমি ভালো জানি, সম্মান করি, বিশ্বাস করি। ২০১২’র দিকে যখন তার গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি’র পদ নিয়ে ঝড় বইছিল তখন একদিন ড. কামাল হোসেন কথায় কথায় বলেছিলেন, সিদ্দিকী সাহেব, আপনি একটু ড. ইউনূসের কাছে যান। আপনি গেলে সে সাহস পাবে, জোর পাবে। তার কথায় আমি গিয়েছিলাম। তার আগে প্রধানমন্ত্রী বারবার অধ্যাপক ইউনূসকে সুদখোর বলায় আমার মধ্যেও নানা রকম প্রতিক্রিয়া হচ্ছিল। আমি যাবার পথে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে, গ্রামীণ ব্যাংকের ৮৪ লাখ গ্রাহককে নিয়ে তার ভাবনা নামে একটি পুস্তিকা ড. কামাল হোসেন আমার হাতে দিয়েছিলেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে তার ভাবনা পুস্তিকাটি নিয়ে গিয়েছিলাম। শুধু গ্রামীণ ব্যাংকের স্থলে বাংলাদেশ আর ৮৪ লাখের জায়গায় একটা পেন্সিলে ১৬ কোটি লিখে নিয়েছিলাম। অনেক আলাপ-আলোচনার মাঝে বলেছিলাম, শুধু গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে না ভেবে আপনি যদি বাংলাদেশ নিয়ে ভাবতে পারেন, ৮৪ লাখের জায়গায় ১৬ কোটি নিয়ে ভাবতে পারেন তাহলেই আমাদেরকে পেতে পারেন এবং দেশবাসীকে পাবেন। আমার কথায় তিনি পুলকিত হয়েছিলেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আগামী দিনে তিনি তেমনটাই করবেন। আজ যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান তখন কথাগুলো ভাবি। বয়স একেবারে কম হয়নি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কী হয়, কীভাবে হয়, কেন হয় এসবের কিছুই যে বুঝি না তাও নয়। অধ্যাপক ড. ইউনূসের এই সময় রাষ্ট্র চালানো বেশ কঠিন। কিন্তু মোটেই অসম্ভব নয়। তার দৃঢ়তা অনেক সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে। তাকে আওয়ামী কিছু লোক একেবারেই পছন্দ করে না এটা যেমন সত্য তেমনি অসংখ্য মানুষের আস্থা তার প্রতি আছে- এটাও এক চরম সত্য। এখন প্রশ্ন হচ্ছে দক্ষতা ও যোগ্যতার। আমার ভুল হতে পারে। কিন্তু আমি এখনো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তাকেই প্রধান দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ মানুষ হিসেবে মনে করি। কে তাকে অনুরোধ করলো, কে অনুনয় বিনয় করে প্রধান উপদেষ্টা বানালো এটা বড় কথা নয়। এটা বড় কথা, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন, আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা তার প্রতি রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সংগঠকরা এক অসাধ্য সাধন করেছে। বাংলাদেশ সত্যিই অসাধ্য সাধনের দেশ, দুঃসাধ্য বাস্তবায়নের দেশ। সেক্ষেত্রে ছাত্র-যুবক, অসন্তুষ্ট জনসাধারণের অংশগ্রহণে বিগত সরকারের পতন ঘটেছে। বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের, যুবকদের সারা দেশব্যাপী কখনো কোনো দৃঢ় সংগঠন ছিল না, এখনো হয়তো নেই। কিন্তু তারা যদি অহংকারী না হয়, তারা যদি বাস্তব বুঝতে চেষ্টা করে এবং তারাই দেশের মালিক-মোক্তার না ভাবে তাহলে তাদের সফলতা কেউ ঠেকাতে পারবে না। এটা খুবই সত্যি- দেশে বড় বড় দল বহু আছে। দলগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো আছে। কিন্তু সব থেকে বড় কথা কোনো দলের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও নিবিড় আস্থা ও বিশ্বাস ছিল না, এখনো অনেকেই তা অর্জন করতে পারেনি। যতক্ষণ জাতীয় দলগুলো মানুষের আস্থা অর্জন করতে না পারবে ততক্ষণ নিশ্চয়ই দলীয় কাঠামো একটা শক্তি তাদের থাকবেই, কিন্তু কোনো লক্ষ্যেই পৌঁছতে, কোনো বিজয় অর্জন করতে যে পরিমাণ জনসম্পৃক্ততার প্রয়োজন সেটা না পেলে তারা মোটেই সফলকাম হবে না। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর যেমন মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে কাজ করা দরকার ঠিক তেমনি সফল আন্দোলনকারীদেরও সাধারণ মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতি গুরুত্ব এবং তাদের কষ্ট বোঝা উচিত।
দেশবাসী নানা কষ্টে আছে। আইনশৃঙ্খলা ভালো নেই, ঘুষ মোটেই বন্ধ হয়নি, দুর্নীতি একই পরিমাণ আছে। পুলিশের নিচু পর্যায়ে অনেকটা দরদী হলেও উঁচু পর্যায়ে আগের চাইতে খারাপ হয়েছে। এতদিন যারা নিগৃহীত ছিল তারা মনে করছে দেশটা এখন তাদের জন্য অবারিত, লুটপাট ও দাঙ্গাবাজি, কাজ না করা সে এক বেপরোয়া ভাব। ২-৪ জন পুলিশ কর্মকর্তা এখনো ভালো আছে বলে চলছে। না হলে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াতাম বলতে পারি না। বিশেষ করে সেনাবাহিনী খুবই প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। তাদেরকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার পরও কোনোরকম উত্তেজনাকর তেমন বড়সড় ঘটনার কথা শোনা যায়নি। দেশে এরকম গৌরবান্বিত সেনাবাহিনীই আমাদের দরকার। সেনাবাহিনী যদি এমন সুন্দর নিয়ন্ত্রিত থাকে তাহলে ভবিষ্যতে আমরা গর্ব করার মতো অনেক কিছু পাবো। সেনাবাহিনীকে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা উচিত না। সেনাবাহিনীকে দক্ষ, যোগ্য ও গৌরবান্বিত বাহিনীতে পরিণত করা উচিত। ব্যাপারটা শুধু সেনাবাহিনী নয়, ব্যাপারটা সমস্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী নিয়ে। সেটা সেনা, নৌ, বিমান, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, প্যারা মিলিশিয়া, গ্রামরক্ষী যত রকমের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে তারা যেন সম্মানের হয়, গৌরবের হয়- সেদিকে আমাদের নজর দেয়া উচিত।
একটা বিষয় বেশ কিছুদিন আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে তা হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। সবকিছু সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। নুন, তেল, মরিচ, পিয়াজ, আদা, রসুন, লাউ, কুমড়া সবজি কোনো কিছু নাগালের মধ্যে নেই। আমি ’৬০-’৬২ সাল থেকে ’৬৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত বাজার করেছি। বাবা তখন টাঙ্গাইল মহকুমা কোর্টে মোক্তার ছিলেন। আমি প্রতিদিন সকালে মোক্তার বারে আসতাম; অনেকক্ষণ বসে থাকতাম। বাবা এক সময় টাকা দিতেন টাঙ্গাইল ছয়আনি বাজারে গিয়ে বাজার করতাম। মা লিখে দিতেন মাছ, মরিচ, পিয়াজ, আদা, রসুন, পান-সুপারি, সজ মসলা কতো কি। আমার বাজারের বরাদ্দ ছিল ৩-৪ টাকা। যেদিন চাল কিনতাম সেদিন ১৪-১৫ টাকা। আধা মণ চাল। আর আমি এত ভালো লোক ছিলাম ২০ কেজির জায়গায় ১৮ কেজির বেশি কখনো আমার আধা মণ হতো না। বিরই, কাটাবারি ও অন্যান্য ভালো চাল ছিল ২০ টাকা মণ। আমার আধা মণ ছিল ১৮ সেরে। কখনো সখনো ১৭ সেরেও আনতাম। মা মাঝেসাজে বলতেন, ‘বজ্র রে, চাল কেন যেন কম কম লাগছে। পাথরটার ওজন কমে গেল নাকি?’ মা যে বুঝতেন এটা তখন অতটা বুঝতাম না। একটু বড় হয়ে বুঝতাম। কারণ মা তো কৌটায় মেপে ভাত চড়াতেন। কিন্তু কী করবেন। আর মা আমাকে অসম্ভব আদর করতেন। কারণ আমি ছিলাম তার একেবারে নাদান ছেলে। কি বেকুবই যে ছিলাম- আমাদের বাড়ি বোঝাই সুপারি গাছ ছিল। ঘরের কাঁড়ে সুপারি রাখা হতো। সেখান থেকে চুরি করে আট আনা সের বিক্রি করে এক বা দু’দিন পর ২ টাকা সের কিনে আনতাম। প্রতিদিনের বাজারে ২ আনার পান থাকতো, ২ আনার সুপারি, ১ আনার জর্দা- এ ছিল অবধারিত। কোনোদিন বাদ পড়তো না। তখন লবণ ছিল ২ আনা সের। বেগুন কখনো ২ আনা, তারপর ১ আনা, একেবারে শেষ পর্যায়ে ২ পয়সা সের। কাঁচা মরিচ ২ আনা থেকে ১ আনা। পিয়াজ ১ আনা, আলু ১ আনা, ঢেঁড়স, শিম, ধুন্দল- এ জাতীয় প্রায় সব সবজি ১ আনা সেরের বেশি নয়। ২ আনার লাউ না হলেও ৩ সের হবে। লাউ, কুমড়া একই দাম। দুধ ছিল শহরে ২ আনা সের, গ্রামের বাজারে ২ পয়সা সের। তখন ছিল ৬৪ পয়সায় এক টাকা। একটা বড় ইলিশ মাছ যার ওজন হবে সোয়া কেজি- দেড় কেজি তা ছিল ১ টাকা চার আনা। গরুর মাংস ১ টাকা, খাসির মাংস ১ টাকা চার আনা। একটা মোরগ- মুরগি ৮-১০ আনা থেকে ১২ আনা। আমরা যাই বলি না কেন মানুষের উপার্জন আর ব্যয়ের মধ্যে তখনো একটা সঙ্গতি ছিল। একজন দিনমজুর তখন ১ টাকা মজুরি পেতো। তবে তার সংসার ভালোই চলতো। কিন্তু এখন যে ৫০০-৬০০ টাকা মজুরি পায় সে কিন্তু ১ টাকার মজুরির অর্ধেক জিনিসপত্রও কিনতে পারে না। বড় কষ্টে আছে মানুষ। এখন সরিষার তেল বা সয়াবিন যে দাম। আমি যখনকার কথা বলছি তখন চিনি ছিল আট আনা, সরিষার তেল ছিল ১০ আনা। সোনার ভরি ছিল ১২০ টাকা। স্বাধীনতার পর পর আমার ছোটবোন রহিমার বিয়ে হয়। মা তাকে ২৫ ভরি সোনার গহনা দিয়ে বিয়ে দিয়েছিলেন। তার বিয়েতে আমাদের ১০-১২ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়নি। আমি বর্ধমানে বিয়ে করেছিলাম। বউকে ১৫ ভরি সোনার গহনা দিয়েছিলাম। আর ১০-১২ ভরি গহনা লোকজনের কাছ থেকে পেয়েছিল। তখন সোনার দাম ছিল ৭০০ টাকা। আমি খুবই নাদান ছিলাম বলে, দুষ্ট ছিলাম বলে এক সময় গ্রামের স্কুল মির্জাপুর বরাটি নরদানা পাকিস্তান হাইস্কুলে ভর্র্তি করে দিয়েছিল। আমার গুরু দুখীরাম রাজবংশী প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি বেতন পেতেন ২৮০ টাকা। অন্য শিক্ষকরা ১৩০-১৫০-১৬০ টাকা। দুখীরাম রাজবংশী এবং তার স্ত্রী দু’জনই শিক্ষক ছিলেন। দুখীরাম স্যার বরাটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক, দুখীরাম স্যারের স্ত্রী সাটিয়াচরা গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। দু’জনে মিলে কম করে ৪০০-৪৫০ টাকা পেতেন। তাদের ৫০ টাকার বেশি মাসে খরচ হতো না। তখন সাটিয়াচরা থেকে মির্জাপুরে সর্বোচ্চ এক পাখি জমির দাম ছিল ১০০-১৫০ টাকা। তারা দু’জনে মিলে মাসে দুই পাখি জমি কিনতে পারতেন। যে জমির দাম এখন না হলেও ৪০ লাখ টাকা। তাহলে এটা তো বিবেচনা করতেই হবে। একজন শিক্ষকের তখনকার বাজার মূল্যে সম্মানী ছিল ৩০-৪০ লাখের মতো। শুধু আর্থিকভাবে তারা সম্মানী ছিলেন না, সামাজিকভাবেও ছিলেন। কোনো শিক্ষক বাজারে গেলে তাকে সম্মান করা হতো। কোনো জিনিস কেনার সময় গুরুজনের উপর দিয়ে কোনো পয়সাওয়ালা এসে ছোঁ মেরে নিয়ে যেতো না। কিন্তু এখন তেমনটাই হয়। কারও কোনো সামাজিক মর্যাদা নেই। শিক্ষা আর শিক্ষা নেই। শিক্ষা কেমন যেন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আগে শিক্ষকরা ছিল পিতার মতো, এখন শিক্ষকরা অনেকটা তেমন নেই। কতো খারাপ শব্দ ব্যবহার করবো? কোনো শব্দই তাদের পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করা যাবে না। কবে যে এইসব অসঙ্গতি থেকে মুক্তি পাবো- সদা সর্বদা শুধু তাই ভাবি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মব জাস্টিস আতঙ্ক by শুভ্র দেব
সুবিধাবঞ্চিত, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, জমানো ক্ষোভসহ নানা কারণে মব জাস্টিস হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে। এসব বন্ধে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এখনো তা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।
ইতিমধ্যে মব জাস্টিসের কারণে মানুষ হত্যা, গণপিটুনি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই চাকরিহারা ও পদহারা হয়েছেন। এতে করে মব জাস্টিস এখন রীতিমতো আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছে, ৫ই আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে থাকে। বিভিন্ন অভিযোগ তুলে গণপিটুনি, চাকরি থেকে অপসারণের দাবি, ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে আওয়ামী লীগ বানিয়ে মামলার আসামি, চাকরি থেকে অব্যাহতির মতো ঘটনা ঘটতে থাকে। এ ছাড়া বাসা বাড়িতে আক্রমণ, পুড়িয়ে দেয়া, মালামাল লুটের মতো ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশের অনুপস্থিতিতে এসব ঘটনা ঘটে।
সূত্রগুলো বলছে, মব জাস্টিসের কারণে অনেক সময় নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিচ্ছিন্নভাবে এসব ঘটনা ঘটায় সমাজে নেগেটিভ বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে। সুযোগ সন্ধানী কিছু মানুষ পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে পছন্দের জায়গায় বসানো, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা না করে নিজেই বিচার করতে চাচ্ছে। কখনো প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক তকমা, কখনো দুর্নীতির অভিযোগ, আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থানের অভিযোগ আনা হচ্ছে। এভাবে কিছু মানুষ একত্রিত হয়ে টার্গেট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রথমে নেগেটিভ অপপ্রচার চালিয়ে পরে আন্দোলনে নেমে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম ও ভুক্তভোগীকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। কিন্তু এসব ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাদের এসব নিয়ে কাজ করার কথা সেই পুলিশ সদস্যরাও এসব বিষয় দেখেও না দেখার ভান করছেন। ফলে যারা এসব কাজে জড়িত তারা আইনের আওতায় না আসার কারণে একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। তাদের দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দাসূত্রগুলো বলছে, যারা মব জাস্টিসের সঙ্গে জড়িত তারা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য। তারা রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করছে। এক গোষ্ঠী একসঙ্গে হয়ে যখন এসব কর্মকাণ্ড করে তখন অন্যরা নীরব ভূমিকা পালন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ এবং সমাজ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক, কর্মজীবনসহ নানা ক্ষেত্রে মানুষ সুবিধা বঞ্চিত, বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এ নিয়ে মানুষের কষ্ট আছে, মনের মধ্যে ক্ষোভও আছে। একটা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমাদের যাত্রা হলেও গণতন্ত্র বিভিন্ন সময় হোঁচট খেয়েছে। বিগত ১৫ বছরেও হোঁচট খেয়েছে। এসব কারণে কিছু মানুষ সংঘবদ্ধভাবে একত্রিত হয়ে যার বিরুদ্ধে ক্ষোভ তাকে তার পদ বা অবস্থান থেকে সরিয়ে দিতে এবং অপমান অপদস্থ করা আইনের শাসনের সঙ্গে পুরোপুরি বিপরীত একটা অবস্থান। একজন ক্ষতি করেছে বলে তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে হবে এটি আসলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই আইনি প্রক্রিয়ায় এগুলো সমাধান করা সকল পক্ষের জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। কারণ কেউ যদি তার সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের বিচার সে নিজেই করতে চায় তখন সমাজে একটা অস্থিরতা বিরাজ করে। তখন স্বার্থান্বেষী মহল এর সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একটি বিশেষ অবস্থার মধ্যদিয়ে যেতে হচ্ছে। তারা তাদের কাজের সঠিক জায়গায় ফিরে আসার চেষ্টা করছে। এরমধ্যে দিয়ে কিছু লোক একত্রিত হয়ে কোথাও কোথাও আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে আইন মানা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যত্যয় হয়। এতে করে সমাজে স্বাভাবিক শৃঙ্খলার জায়গাগুলো নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, মব জাস্টিস বন্ধ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো দরকার। এ সময়টাতে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। তাদের আরও বেশি সাংগঠনিক ও সতর্কতা থাকা দরকার।
মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন মানবজমিনকে বলেন, সবসময়ই আমরা দেখেছি সরকার পরিবর্তন হলে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দলবদ্ধভাবে স্বার্থান্বেষী মহল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বলপ্রয়োগ করে পদত্যাগে বাধ্য করে। এটি কোনো ভাবে গ্রহণযোগ্য ও সমর্থনযোগ্য না। কিন্তু ক্রমাগতই এটি বাংলাদেশে হচ্ছে। তবে এ নিয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। যেহেতু দেশে একটা অস্থির পরিবেশ বিরাজ করছে আর এই সুযোগটাই একটি মহল কাজে লাগাচ্ছে। এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে এটা বলার সুযোগ নাই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1266)
- ► 2025 (3280)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
November
(469)
-
▼
Nov 06
(13)
- ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আবু সাঈদের দুই ভাইয়ের সা...
- মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে জিম্মিদের ফেরাতে চান নেতানিয়াহু
- ভূমিধস জয়, ১২০ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ট্রাম্প
- বিশ্বের যেসব দেশে কোনো সেনাবাহিনী নেই
- কী আছে পৃথিবীর রহস্যময় গভীর গর্তে
- মন্দিরের এসির পানিকে অলৌকিক ভেবে খাওয়ার হিড়িক
- গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে
- কমালা না ট্রাম্প? by মোহাম্মদ আবুল হোসেন
- গুলিতে শুভর মৃত্যু: সন্তান হারিয়ে পাগল এক মা by ফা...
- দু’জনেরই দু’টি পা কেটে ফেলা হয়
- মার্কিন নির্বাচনে চলছে ভোটগ্রহণ: কখন জানা যাবে ফল
- এক যুগ আগে ড. ইউনূসকে যা বলেছিলাম by বঙ্গবীর কাদের...
- মব জাস্টিস আতঙ্ক by শুভ্র দেব
-
▼
Nov 06
(13)
-
▼
November
(469)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



