Saturday, August 20, 2011

আফগান কর্মকর্তাদের মনোবল বাড়াতে কাবুলে আর্মস্ট্রং

চাঁদের মাটিতে পা রাখা প্রথম মানুষ নিল আর্মস্ট্রং চলতি সপ্তাহে আফগানিস্তান সফর করেছেন। দেশটির বিমানবাহিনীর মনোবল শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই এই সফর করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে আরও দুজন নভোচারী ছিলেন।
৮১ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক আর্মস্ট্রং কাবুলে ক্যাম্প এগার্সে প্রশিক্ষণরত আফগান কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আফগানিস্তানে সামরিক জোট ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন প্রশিক্ষণ মিশনের সদর দপ্তরের একটি হলো ক্যাম্প এগার্স।
ন্যাটোর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আফগান বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণরত কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় আর্মস্ট্রং বলেন, যেকোনো পেশার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিবেদিতপ্রাণ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এমন তরুণ এক দলকে বিমানবাহিনীতে দেখার বিষয়টিও দারুণ আশাব্যঞ্জক।
১৯৬৯ সালে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে চাঁদের বুকে পা রাখেন আর্মস্ট্রং। আফগান সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ৮৩ বছর বয়সী জিম লোভেল ও ৭৭ বছর বয়সী জিন কার্নান। জিম ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩ মিশনের অধিনায়ক ছিলেন। আর কার্নান চাঁদের বুকে পা রাখা সর্বশেষ ব্যক্তি।
ন্যাটো বাহিনীর মনোবল বাড়াতে তারকাব্যক্তিদের আফগানিস্তান সফর নতুন কিছু নয়। কিন্তু আফগান সেনাদের মনোবল বাড়াতে কোনো তারকার আফগানিস্তান সফরের ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না।
২০১৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা। এরই মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

৬ ফিলিস্তিনি নিহত

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের বিমান থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। এতে ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিন সূত্রে এ কথা বলা হয়।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে দুটি যাত্রীবাহী বাসে বন্দুকধারীদের গুলি এবং পরে বন্দুকধারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গোলাগুলিতে অন্তত সাতজন নিহত হয়। ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ বন্দুকধারীদের হামলার কঠিন জবাব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এরপরই গাজায় গতকাল ওই বিমান হামলা চালানো হয়।

পাকিস্তানে নতুন করে নির্বাচনের আহ্বান নওয়াজ শরিফের

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ দেশে শিগগিরই নতুন করে পার্লামেন্ট নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। গত বুধবার জিয়ো নিউজ চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ আহ্বান জানান।
নওয়াজের মতে, নির্বাচনই দেশের সব সমস্যার একমাত্র সমাধান। এই প্রথম নওয়াজ শরিফ নতুন করে নির্বাচন করার আহ্বান জানালেন।
নওয়াজ শরিফ বলেন, সরকার জনগণকে হতাশ করেছে। এখন নতুন করে নির্বাচন করা প্রয়োজন। তাঁর দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) অন্যান্য নেতা অবশ্য বলে আসছিলেন যে, দুর্নীতি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অদক্ষতাসহ পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের যেসব সমস্যা রয়েছে, এসব দূর করতে মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রয়োজন।
দুই মেয়াদে নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিএমএলএনের সভাপতি নওয়াজ শরিফ বলেন, চার মাস আগে তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিকে নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচনের আয়োজন করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল আন্তরিক পরামর্শ, কিন্তু প্রেসিডেন্ট জারদারি তা প্রত্যাখ্যান করেন।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান এখন আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বিদ্যুৎ-সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও কর্মসংস্থানের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। কেবল নতুন করে নির্বাচনের মাধ্যমেই এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
পিপিপির নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী দলগুলোর এ ধরনের প্রস্তাব নাকচ করে বলেছে, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০১৩ সালের শুরুতে নতুন করে নির্বাচন হবে।

আসাদকে সরে দাঁড়াতে বললেন বিশ্বনেতারা

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা আসাদকে এই আহ্বান জানান। এদিকে আসাদ বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করা হয়েছে। গত বুধবার তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনকে এ কথা বলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গতকাল বৃহস্পতিবার এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ‘সময় এসেছে প্রেসিডেন্ট আসাদের ক্ষমতা ছাড়ার। সিরিয়ার ভবিষ্যৎ দেশটির জনগণই নির্ধারণ করবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট আসাদ তাদের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। তিনি একদিকে নিজ দেশের জনগণের ওপর হত্যা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের খড়্গ চালাচ্ছেন, অন্যদিকে সংলাপ ও রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলে বেড়াচ্ছেন।’ ওবামা বলেন, ‘আমরা অব্যাহতভাবে তাঁকে (আসাদ) হয় দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সংস্কার, নয়তো ক্ষমতা ছাড়ার জন্য বলে আসছি। তাতে তিনি কর্ণপাত করছেন না। জনগণের কল্যাণেই তাঁকে চলে যেতে হবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক নীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাসটন গতকাল বলেছেন, তাঁরা প্রত্যক্ষ করেছেন, সিরিয়ার জনগণের দৃষ্টিতে প্রেসিডেন্ট আসাদ ক্ষমতায় থাকার বৈধতা হারিয়েছেন।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, জনগণের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠাসহ সিরিয়ার বৃহত্তর কল্যাণে প্রেসিডেন্ট আসাদকে সরে দাঁড়ানো উচিত।
অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের তদন্তকারীরা সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর নির্যাতনকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, কাউন্সিলকে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে উত্থাপন করা উচিত।
গত বুধবার বাশার আল আসাদ জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনকে বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ হয়েছে। তবে সিরিয়ার রেভল্যুশন কো-অর্ডিনেটিং ইউনিয়ন দাবি করেছে, গত বুধবার রাতেও সামরিক বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন স্থানে ২৪ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘের উপমুখপাত্র ফারহান হক এক বিবৃতিতে জানান, বান কি মুন প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এ সময় মহাসচিব মুন যত দ্রুত সম্ভব বিক্ষোভকারীদের প্রতি সব ধরনের সামরিক অভিযান ও গ্রেপ্তার-তৎপরতা বন্ধে আসাদের প্রতি আহ্বান জানান।
ফারহান হক জানান, সিরিয়াজুড়ে বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বান কি মুন। বিশেষত লাতাকিয়া এলাকার পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। লাতাকিয়ায় সেনা অভিযানের কারণে সেখানে শরণার্থী শিবিরে থাকা কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
জাতিসংঘের উপমুখপাত্র জানান, বান কি মুন মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণগ্রেপ্তার বন্ধের ওপর জোর দিলে প্রেসিডেন্ট বাশার বলেন, সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর অভিযান বন্ধ করা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট বাশারের এ দাবির ব্যাপারে জাতিসংঘ বা কোনো মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ফারহান হক আরও জানান, বান কি মুন সব হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনা তদন্ত এবং গণমাধ্যমের অবাধ প্রবেশের দাবি জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে তদন্তের সময় সংস্থার মানবাধিকার কমিশনারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রেসিডেন্ট বাশারের প্রতি আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্ট বাশার জাতিসংঘের তদন্ত দলকে সহায়তার আশ্বাস দেন।
হোমস শহরের স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে তারাবির নামাজের পর দুই বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া হামা ও রাজধানী দামেস্কে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। দেশজুড়ে শুধু বুধবারই ২৪ জন নিহত হয়।
দামেস্কে নিযুক্ত একজন পশ্চিমা কূটনীতিক জানান, প্রেসিডেন্ট আসাদ তুরস্ককে আশ্বস্ত করতে চাইছেন যে তিনি অভিযান বন্ধ করেছেন। এতে করে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর পদত্যাগের চাপ কমে যাবে বলে ধারণা প্রেসিডেন্ট বাশারের; কিন্তু তিনি অভিযান বন্ধ করেননি।
হামা ও ডের আল জোর এলাকার স্থানীয় লোকজন জানান, এই এলাকা থেকে সামরিক বাহিনী তুলে নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে; কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব এলাকায় এখনো সামরিক ইউনিট আছে এবং তারা অভিযানেও অংশ নিচ্ছে।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নভি পিল্লাইয়ের গতকাল বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে বক্তৃতা করার কথা। তিনি সিরিয়া বিষয়েই কথা বলবেন বলে জানা গেছে।
সিরিয়ায় মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে রাজনৈতিক সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

ইসরায়েলে সহিংস ঘটনায় নিহত ১০ আহত ২৫

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে মিসরের সীমান্তবর্তী এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুটি যাত্রীবাহী বাসে বন্দুকধারীদের গুলিতে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছে। ওই ঘটনার পর বন্দুকধারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এতে পাঁচ বন্দুকধারী নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলের চ্যানেল টেন টেলিভিশন জানায়, বন্দুকযুদ্ধে পাঁচজন নিহত হয়েছে।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলের প্রধান টেলিভিশনটি জানায়, মিসর সীমান্তের ওপার থেকে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, লোহিত সাগরের তীরবর্তী অবকাশযাপন শহর ইলাতগামী একটি বাসে গুলি চালায় কয়েকজন বন্দুকধারী। এতে পাঁচজন নিহত হয়। এর পরপরই বন্দুকধারীরা পালিয়ে যায়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অপর একটি বাসে হামলা চালায়। এর পরই শুরু হয় বন্দুকযুদ্ধ।
নিরাপত্তারক্ষীরা প্রাথমিকভাবে জানায়, মিসর সীমান্তের ভেতর থেকে গুলি ছোড়া হচ্ছিল। ওই সড়কটি সীমান্ত বরাবর কয়েক মাইল দীর্ঘ।
তবে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অভিতাল লিবোভিচ জানান, বন্দুকধারীরা প্রথম বাসটিতে হামলা চালায়। তবে দ্বিতীয় বাসটিতে রাস্তার ধারে পুঁতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়।

সিরিয়ায় সামরিক অভিযান বন্ধ করা হয়েছে

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করা হয়েছে। গত বুধবার জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে টেলিফোন আলাপের সময় তিনি দাবি করেন। তবে সিরিয়ার রেভল্যুশন কো-অর্ডিনেটিং ইউনিয়ন দাবি করেছে, গত বুধবার রাতেও সামরিক বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন স্থানে ২৪ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘের উপমুখপাত্র ফারহান হক এক বিবৃতিতে জানান, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন প্রেসিডেন্ট বাশারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এ সময় মহাসচিব বান যত দ্রুত সম্ভব বিক্ষোভকারীদের প্রতি সব ধরনের সামরিক অভিযান ও গ্রেপ্তার-তৎপরতা বন্ধে প্রেসিডেন্ট বাশারের প্রতি আহ্বান জানান।
ফারহান হক জানান, সিরিয়াজুড়ে বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বান কি মুন। বিশেষত লাতাকিয়া এলাকার পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। লাতাকিয়ায় সেনা অভিযানের কারণে সেখানে শরণার্থী শিবিরে থাকা কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
জাতিসংঘের উপমুখপাত্র জানান, বান কি মুন মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণগ্রেপ্তার বন্ধের ওপর জোর দিলে প্রেসিডেন্ট বাশার বলেন, সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর অভিযান বন্ধ করা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট বাশারের এ দাবির ব্যাপারে জাতিসংঘ বা কোনো মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ফারহান হক আরও জানান, বান কি মুন সব হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনা তদন্ত এবং গণমাধ্যমের অবাধ প্রবেশের দাবি জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে তদন্তের সময় সংস্থার মানবাধিকার কমিশনারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রেসিডেন্ট বাশারের প্রতি আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্ট বাশার জাতিসংঘের তদন্ত দলকে সহায়তার আশ্বাস দেন।
হোমস শহরের স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে তারাবির নামাজের পর দুই বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া হামা ও রাজধানী দামেস্কে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়েছে।
দামেস্কে নিযুক্ত একজন পশ্চিমা কূটনীতিক জানান, প্রেসিডেন্ট আসাদ তুরস্ককে আশ্বস্ত করতে চাইছেন যে তিনি অভিযান বন্ধ করেছেন। এতে করে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর পদত্যাগের চাপ কমে যাবে বলে ধারণা প্রেসিডেন্ট বাশারের; কিন্তু তিনি অভিযান বন্ধ করেননি।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক প্রধান নভি পিল্লাইয়ের গতকাল বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে বক্তৃতা করার কথা। তিনি সিরিয়া বিষয়েই কথা বলবেন বলে জানা গেছে।
সিরিয়ায় গত মার্চে রাজনৈতিক সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

আন্না হাজারের আন্দোলন নিয়ে বিভক্ত ভারতের সুশীল সমাজ

দুর্নীতি প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী লোকপাল গঠনের দাবিতে আন্দোলন করছেন ভারতের প্রখ্যাত সমাজকর্মী আন্না হাজারে। এই আন্দোলনের পেছনে সাধারণ মানুষের সমর্থন থাকলেও সুশীল সমাজ এ নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলেই মনে হচ্ছে।
প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী স্বামী অগ্নিবেশ বলেছেন, আন্না হাজারের আন্দোলনের পেছনে সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন আছে। আর অন্যদিকে আরেক সমাজকর্মী ও নিবন্ধকার শবনম হাশমি মনে করেন, হাজারে কট্টরপন্থা অবলম্বন করছেন এবং ডানপন্থী গ্রুপগুলো তাঁকে সমর্থন দিচ্ছে।
গত কয়েক মাসে দেখা গেছে, লেখক, শিল্পী-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এতে করে আন্দোলন জোরদার হয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে এর সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত জুনে মৃত্যুর এক মাস আগেও শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেন কার্টুন এঁকে আন্না হাজারের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। ফিদা হুসেন বলেছিলেন, ‘দুর্নীতিবিরোধী এই আন্দোলনকারী আরেকটি নতুন বিপ্লবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভারত থেকে দুর্নীতি নির্মূলের দায়িত্ব নিয়েছে নতুন প্রজন্ম। এটা দেখে আমি রোমাঞ্চিত এবং আমি তাদের সাফল্য কামনা করি।’
জনপ্রিয় কল্পকাহিনী লেখক চেতন ভগতও হাজারের আন্দোলনের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিবাদ এড়িয়ে চলা একটি রসিকতা ছাড়া কিছু নয়। আমি তাঁর (হাজারে) পক্ষে কথা বলে যাব।’
হাজারের বিপক্ষে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন ওডিশা রাজ্যের বিখ্যাত বালু ভাস্কর সুদর্শন পট্টনায়েক। গত সোমবার তিনি বলেছেন, ‘দুর্নীতি আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মাকড়সার জালের মতো ঘিরে ফেলেছে এবং আমাদের তা ছিন্ন করতেই হবে।’ পুরিতে ভারতের জাতীয় তিন রঙের জমিনে হাজারের মুখমণ্ডলের একটি বালুর ভাস্কর্য তিনি হাজারেকে উৎসর্গ করেন।
তবে হাজারের বিপক্ষেও কথা বলছেন অনেক শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী। প্রখ্যাত লেখিকা অরুন্ধতী রায় বলেছেন, ‘দুর্নীতির জন্য যে ব্যবস্থা দায়ী তা পরিবর্তনে হাজারের এই আন্দোলনে কোনো সুনির্দিষ্ট আহ্বান নেই। আমার মতে, দুর্নীতি বন্ধের জন্য প্রথমেই সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ বেসরকারীকরণ বন্ধ করতে হবে। এটা হলে দুর্নীতি এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। আর তখন লোকপালও কার্যকর হবে।’
প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী মল্লিকা সারাভাই একসময় আন্না হাজারের সমর্থক ছিলেন। কিন্তু হাজারে পল্লি উন্নয়নে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করায় সারাভাই তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।
হাজারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে শুধু সারাভাই নন, অন্য বুদ্ধিজীবীদেরও সংশয় রয়েছে। শিল্পী-সমাজকর্মী রাম রহমানের মতে, ‘হাজারের আন্দোলন আসলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের উদ্যোগ। দুর্নীতি একটি জটিল বিষয়। কিন্তু বিপ্লব ভিন্ন জিনিস। এসব নিয়ে মানুষের পরিষ্কার ধারণা নেই।’

জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারে মাঠে নেমেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা

জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারে মাঠে নেমেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত তিন দিন সড়কপথে মধ্য-পশ্চিমের অঙ্গরাজ্যগুলো ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
গত বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, কর্মসংস্থান বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ঘোষণা করবেন ওবামা। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের কর্মসূচি নিয়ে জাতির উদ্দেশে তিনি ভাষণ দেবেন। কর্মসূচিতে কী থাকবে, এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
অর্থনৈতিক চরম অস্থিরতার এ সময়ে ওবামাকে নিয়ে মার্কিন জনগণের প্রত্যাশা যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। আল-কায়দার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর ওবামার জনপ্রিয়তা ছিল ৫৩ শতাংশ। মাত্র তিন মাসের মধ্যে এই জনপ্রিয়তা কমে ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।
গত বুধবার প্রকাশিত সর্বশেষ গ্যালাপ জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, মাত্র ২৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করে, ওবামা অর্থনৈতিক দুরবস্থা সামাল দিতে সক্ষম হচ্ছেন।
জনমতের হার দ্রুত নেমে যাওয়ায় ওবামার কট্টর সমর্থকেরাও উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বেকারত্বের হার ৯ শতাংশের বেশি। সাম্প্রতিক ইতিহাসে বেকারত্বের এই উচ্চহার থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হতে পারেননি। এ জন্য ২০১২ সালের নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে আসা নিয়ে তাঁর সমর্থকেরা উদ্বিগ্ন।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবামা নিজেই বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি না ঘটলে এক মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবেই তাঁর পরিচিতি থাকবে।
আশা করা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ওবামা যে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন, এতে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয় থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশজুড়ে সড়ক, জনপদ ও স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হবে। উচ্চ আয়ের লোকজনের ওপর বর্ধিত কর আরোপ করা হবে। পাশাপাশি কর্মহীনদের জন্য সরকারি ভাতার মেয়াদ বাড়ানো হবে। মধ্যবিত্ত ও কর্মজীবীদের জন্য কর হ্রাসের ঘোষণা দিতে পারেন ওবামা।
ওবামার যেকোনো উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে ওবামার কর্মসূচি কতটা হাল পাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গত বুধবার ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে দেওয়া ভাষণে ওবামা আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনে যদি দলবাজির পুরোনো খেলা চলতে থাকে, তাহলে দেশের অর্থনীতিতে চাঙা ভাব শিগগিরই ফিরে আসবে না।
ওবামা তাঁর ভাষণে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ব্যবসা ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দেওয়ার আভাস দেন। অঙ্গরাজ্যগুলোর সরকারকে অধিকতর কেন্দ্রীয় বরাদ্দ, শিক্ষক নিয়োগের জন্য বর্ধিত সরকারি অনুদান দেওয়ার ঘোষণাও দিতে পারেন তিনি। রিপাবলিকানদের যেকোনো বাধা মোকাবিলায় দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন ওবামা।

প্রেমাংশুর রক্ত চাই by নির্মলেন্দু গুণ

সারা দেশ যখন সত্তরের নির্বাচনী জ্বরে কম্পমান, অনভিজ্ঞ প্রসূতির মতো আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করতে গিয়ে আমি তখন ব্যগ্র এবং ব্যস্ত হয়ে পড়ি। প্রচণ্ড উত্তেজনার মধ্যে আমার সময় কাটতে থাকে। খান ব্রাদার্সের মালিক মোসলেম খান আমার বইটি সুন্দরভাবে প্রকাশ করার সব দায়িত্ব আমার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। আমি দুর্লভ লাইনো টাইপে বইটি ছাপার জন্য নওয়াবপুর রোডে অবস্থিত আলেকজান্দ্রা স্টিম মেশিন প্রেসের মালিক নূরুল হকের দুয়ারে ধরনা দিই। দৈনিক পাকিস্তান এবং সরকারি বিজি প্রেস ছাড়া বেসরকারিভাবে তখন টয়েনবি সার্কুলার রোডের বুক প্রমোশন প্রেস এবং ২৪৪ নওয়াবপুর রোডের আলেকজান্দ্রা প্রেসেই শুধু লাইনো মেশিন ছিল। আমি স্থির করি, এক হাজার ২৫০ কপি বই ছাপব। এর আগে কবিতার বই ৫০০ কপির বেশি ছাপা হতো না। আমার ধারণা হয়েছিল, আমার কবিতা সহজবোধ্য বলে আমার পাঠক বেশি, সুতরাং বেশি বই ছাপা যেতে পারে।

গল্প- ফিরে যায় কাঠঠোকরা by সেলিম হোসেন

লোকিত পটভূমি। দূরে চেয়ারে বসে আছে একজন, অন্যজন কাছেই দাঁড়িয়ে। ঘরে আলো জ্বালেনি বলে শুধু অবয়ব দৃশ্যমান, অভিব্যক্তি আলোকিত নয়।
নীরবতা।
চায়ের কাপে চুমুক দিল উপবিষ্টজন, পিরিচে কাপ রাখার শব্দ।
উঠে দাঁড়াল সে, অন্যদিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকল কিছুক্ষণ।
চিন্তিত ভঙ্গিতে পায়চারি করল দু কদম, আবার থামল।

কবিতা বাতাসে অক্সিজেন ছড়ায় by কে রায়ান

‘কবিতা কী করে বায়ুমণ্ডলে আরও অক্সিজেন ছড়ায়। কবিতা শ্বাস-প্রশ্বাস সহজ করে দেয়।’ কবিতাকে এভাবেই দেখেন কবিতায় সদ্য পুলিৎজার পাওয়া কবি কে রায়ান। ২০১১-এর পুলিৎজার পুরস্কার ও প্রধান দুটি শাখায় কবিতা ও কথাসাহিত্যে নারী লেখকদেরই জয়জয়কার। এমিলি ডিকিনসন, ম্যারিয়ান মুরের সফল উত্তরসূরি কে রায়ান (জন্ম ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৩) ২০০৮-১০ যুক্তরাষ্ট্রের পোয়েট লোরিয়েটও ছিলেন। ২০১০-এ প্রকাশিত The Best of It New and selected Poems-এর জন্য কে রায়ানের পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপ্তি। জেনিফার এগান ফিকশন শাখায় পুরস্কার পেয়েছেন ২০১০-এ প্রকাশিত তাঁর উপন্যাস

সাক্ষাৎকারঃ সত্যজিৎ আমার গুরু ছিলেন

মানুল হক (জন্ম: ১৯২৫) বাংলাদেশের কিংবদন্তি ফটোগ্রাফার। জগদ্বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের বিশেষ বন্ধু। গত বছর সত্যজিৎকে নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বই প্রসঙ্গ সত্যজিৎ। ৮৬ বছরে পদার্পণ করা এই কীর্তিমান ব্যক্ত্বিত্বের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলীম আজিজ ও তৈমুর রেজা।
 প্রশ্ন: ছবি তোলার শুরু ও ক্যামেরার সঙ্গে আপনার সখ্য গড়ে উঠল কীভাবে?