Friday, October 30, 2009

কালো টাকা বিনিয়োগ করলে উত্স খতিয়ে দেখা হবে না

শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগ করলে কালো টাকার মালিকদের অর্থের উত্স খতিয়ে দেখবে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে কালো টাকার উত্স সম্পর্কে মালিকদের শুধু একটি ঘোষণা দিতে হবে, এর বেশি কিছু নয়। আর এ ঘোষণা বিনা প্রশ্নেই গ্রহণ করবে এনবিআর। অর্থাত্ এর পেছনে ছুটে বেড়াবে না কখনোই।
গতকাল বুধবার এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।
এনবিআরের চেয়ারম্যান জানান, ২০১০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ দেওয়া রয়েছে। উত্স খতিয়ে দেখার সুযোগ নেই। আইনে তা বলা হয়নি। সুতরাং সহজ করে দেওয়া সুযোগ অপ্রদর্শিত অর্থের মালিকেরা গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশা করছেন।
ব্রিফিংয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও আয়ের বিবরণীও তুলে ধরেন এনবিআরের চেয়ারম্যান।
এনবিআরের চেয়ারম্যান জানান, তিন মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ১৮৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আদায় হয়েছে ১২ হাজার ৪০৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
এ ছাড়া গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ১৪ শতাংশ অর্থাত্ এক হাজার ৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে আদায়ের হার বেশি হওয়ার যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, বিশ্বমন্দার কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রাই কমিয়ে ধরা হয়েছিল।
এনবিআরের চেয়ারম্যান আরও জানান, আমদানি শুল্ক, স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং আয়কর—এই তিনটি হলো রাজস্ব আদায়ের মূল খাত। আমদানি শুল্ক বাবদ ৪০ শতাংশ, ভ্যাট ৩০ শতাংশ এবং আয়কর বাবদ আদায় হয় গড়ে ২০ শতাংশ। বিশ্বমন্দার কারণে আমদানি শুল্ক বাবদ এবার রাজস্ব আয় কমেছে।
১৮ হাজার মামলায় সরকারের আট হাজার কোটি টাকা আটকে থাকার কথা জানান নাসিরউদ্দিন আহমেদ। এর মধ্যে আগামী জুনের মধ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকা পেয়ে যাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ প্রসঙ্গে এনবিআরের চেয়ারম্যান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে এনবিআরের মামলা নিষ্পত্তির বিষয় নিয়ে আলাদা বৈঠক হয়েছে। এ ব্যাপারে হাইকোর্টে কয়েকটি বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন করতে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনায় বসবে আইন মন্ত্রণালয়।
জাতীয় সংসদের অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে কর না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি তালিকা জাতীয় সংসদ থেকে এনবিআরে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি কী পর্যায়ে রয়েছে জানতে চাইলে এনবিআরের চেয়ারম্যান জানান, এখন পর্যন্ত সাংসদদের এ বিষয়ক কোনো তালিকা তাঁর হাতে এসে পৌঁছায়নি।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, রাজস্ব আদায়ের বিবিধ খাতের মধ্যে গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের তিন মাসে ২০২ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট বাবদ। গত বছর আদায় হয়েছিল দুই হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা। আর এ বছর হয়েছে দুই হাজার ১৩৪ কোটি টাকা। এ খাতে রাজস্ব আদায় কমার হার ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
আমদানি শুল্ক বাবদ গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে আদায় হয়েছিল দুই হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। আর এ বছর হয়েছে দুই হাজার ২৮৩ কোটি টাকা। আদায় কমেছে ৫২ কোটি টাকা। কমার হার ২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
আরও জানানো হয়, প্রায় সব খাতেই আগের বারের তুলনায় আদায় বেড়েছে। যেমন—সম্পূরক শুল্ক (আমদানি পর্যায়ে) ৫৭০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৮৬ কোটি টাকা। বৃদ্ধির হার ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ।
আবগারি শুল্ক ২৯ লাখ টাকা থেকে বেড়ে তিন কোটি ৯৬ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট ১৬ দশমিক ৮১ শতাংশ, স্থানীয় পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, আয়কর ২৫ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং ভ্রমণকর দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়েছে।

বিএনপির রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেবে by আব্দুল কাইয়ুম

বিগত নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর সরকারের ব্যাপারে বিএনপি সময় দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু গত শনিবার জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বর্তমান সরকারকে বিদায় নিতে হবে। তাহলে কি বিএনপির রাজনীতিতে লক্ষণীয় কোনো পরিবর্তন আসছে? শুরুতে তারা সংসদ অধিবেশনে যায়। কিন্তু দু-একবার প্রতীক বর্জনের পর শুরু করে ধারাবাহিক বর্জন। সামনের সারিতে বিএনপির সাংসদদের জন্য আসনসংখ্যা বাড়ানোর যে দাবি ছিল, এর সঙ্গে এখন আরও কয়েকটা দাবি যুক্ত হয়েছে। দাবিগুলো সরকার যে মানবে, এমন কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। তাহলে কি বিএনপি রাজপথে তপ্ত হাওয়ার রাজনীতির দিকে যাচ্ছে?
যদি সেদিকে যায়, অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। দুই দল ও দুই নেত্রীর মধ্যে কোনো সমঝোতার লক্ষণ এখনো নেই। কোনো তরফেই সে রকম চেষ্টা নেই। এই তো কিছুদিন আগে দারিদ্র্য বিরোধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার একমঞ্চে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। স্পিকার আবদুল হামিদ বেশ আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া যাননি। অনেকে সমালোচনা করে বলেছেন, না যাবেন যদি, রাজি হয়েছিলেন কেন? এমনকি বিএনপি সমর্থক কেউ কেউ পর্যন্ত এ প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া রাজি হলেও শেষ পর্যন্ত যাবেন না, এ রকম ধারণা অনেকেরই ছিল। অনেকেই দুই নেত্রীর একমঞ্চে উপস্থিতির ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন। এত পাল্টাপাল্টির মধ্যে তাঁদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক আচরণ আশা করা যায় না। আর তা ছাড়া দুই নেত্রী এক অনুষ্ঠানে পাশাপাশি বসলেই যে রাজনীতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে, সে সম্ভাবনা প্রায় নেই। শুধু অতি আশাবাদীরাই এমন সম্ভাবনা দেখছিলেন। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। স্পিকার অবশ্য বলেছেন, পরবর্তী কোনো অনুষ্ঠানে হয়তো দুই নেত্রীকে পাশাপাশি দেখা যাবে। ভালো কিছু আশা করতে দোষ নেই। কিন্তু বাস্তবতা একটু বেশি তেতো, তাতে সন্দেহ নেই।
আপাতত দুই নেত্রীর বিরোধ তুঙ্গে থাকবে এটা ধরে নেওয়া যায়। বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি নিশ্চয়ই সরকারের বিভিন্ন কাজের ভুলত্রুটি ধরবে। সরকার কোনো অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে। এটাই তো বিরোধী দলের কাজ। কিন্তু আন্দোলনের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে যুক্তিসিদ্ধ। দলের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়াই ভালো। ৮ ডিসেম্বর বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে একটি কার্যকর নেতৃত্ব গঠন করা হোক। সিদ্ধান্ত গ্রহণে দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির চর্চা বাড়লে ভবিষ্যত্ কর্মসূচিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।
বাস্তবসম্মত কর্মসূচি না হলে মানুষ সাড়া দেবে না, দল জনবিচ্ছিন্ন থেকে যাবে। এখানে মনে রাখতে হবে, বিগত নির্বাচনে যে মানুষ বিএনপিকে বেশি ভোট দেয়নি, এর অন্যতম কারণ ভুল রাজনৈতিক প্রচার। যেমন, তারা মানুষকে বোঝাতে আপ্রাণ চেষ্টা করে, প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচন করছে, তাই তারা খারাপ। এ ধরনের প্রচারে মানুষ কান দেয়নি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, মানুষ চাচ্ছিল একটি নির্বাচন হোক, সেটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হোক। মানুষ ভালোভাবেই বুঝেছিল যে সেনাসমর্থিত সরকারের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সব দল যদি নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি না হয়, তাহলে তো নির্বাচনই হবে না। তাই আঁতাতের কথাটি সাধারণ মানুষের কাছে ছিল তাত্পর্যহীন। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপিকেও যে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়েছে, সেটি লুকানো ব্যাপার ছিল না। সুতরাং ওইসব প্রচারকে মানুষ পাত্তা দেয়নি।
বিএনপি হয়তো ভেবেছিল, ১৯৮৬ সালে এরশাদের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে যাওয়ার অভিযোগ ওঠায় যেহেতু আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছিল এবং এর পরিণামে ’৯১-এর নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়, তাই এবারও একই কৌশল কাজে লাগবে। অতীতের অভিজ্ঞতা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে হুবহু প্রয়োগের বিপদ সম্পর্কে বিএনপি সতর্ক না থাকায় হয়তো তাদের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। আশির দশকে এরশাদ ছিল স্বৈরাচারের প্রতীক, দেশবাসী ছিল তার বিরুদ্ধে। কিন্তু এবারের এক-এগারোর পরিবর্তনকে মানুষ সাধারণভাবে সমর্থন দিয়েছে। দুই প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের মধ্যে অসহিষ্ণুতা, হিংসাত্মক রাজনীতি, ঘনঘন হরতাল-অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও প্রভৃতির অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মানুষ উদগ্রিব ছিল। কেউ সেনাশাসন চায় না, কিন্তু সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনেক সংস্কারমূলক পদক্ষেপই মানুষ সমর্থন করেছে। মানুষের এ মনোভাবকে গুরুত্ব না দেওয়া ছিল বিএনপির রাজনৈতিক বিভ্রান্তি, যার মূল্য তাদের দিতে হয়েছে নির্বাচনে।
এবার যখন বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে, তখন একটি বিষয়ে তাদের গুরুত্ব দিতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে, তাদের পদক্ষেপগুলো যেন মানুষের চিন্তার বাইরে না যায়। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনেক পদক্ষেপ মানুষ গ্রহণ করেনি, আবার অনেক কিছু সমর্থনও করেছে। এর অন্যতম একটি হলো হিংসা হানাহানিমুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ, যা সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মোটামুটি বজায় ছিল। জন-চাহিদা হিসেবে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাটি মনে রাখতে হবে। বিএনপি যখন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরকার বিদায়ের কথা বলছে, সেটা যদি কথার কথা না হয়, তাহলে তারা নিশ্চয়ই আন্দোলনের কথা ভাববে। আর আন্দোলন তো আমাদের দেশে শান্তিপূর্ণ থাকে না। জনগণের কথা বলে যদি সরকারের অজনপ্রিয়তা প্রমাণের জন্য হরতাল-অবরোধের মতো হিংসাত্মক কর্মসূচি নেওয়া শুরু হয়, তাহলে তা হবে দলের জন্য আত্মঘাতী।
আমাদের মতো গরিব দেশে অভাব অভিযোগের শেষ নেই। সরকারের ব্যর্থতাও পদে পদে। তাই বিরোধী দলের আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হতে সময় লাগবে না। বিএনপি নিশ্চয়ই আন্দোলন করবে, তবে সেটা সবকিছু অচল করার সেই পুরোনো ধারায় না হওয়াই ভালো। আপনি সংসদে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যত খুশি বক্তৃতা দিন। সরকারকে ধুয়ে ফেলুন। মেয়াদ শেষের আগে সরকারকে ফেলতে হলে সেখানেই ফেলুন, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী, রাজপথে নয়। যদি এভাবে সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলন চালানো হয়, তাহলে কারও কিছু বলার থাকবে না।
যারা দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলবে, তারা নিশ্চয়ই আন্দোলনের কলাকৌশলের ক্ষেত্রে অগ্রসর চিন্তার পরিচয় দেবে। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কার্যকর সংসদের জন্য অনেক ভালো চিন্তার কথা বলেছিল। এর মূল কথা ছিল বিরোধী দলকে সংসদে থাকতে হবে। কোনো সাংসদ অনুমোদন ছাড়া সংসদে একটানা এক মাসের বেশি অনুপস্থিত থাকলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে, ইত্যাদি। এত কথা বলে এখন তারা নিজেরাই সংসদে যাচ্ছেন না। আবার সরকার পতনের ভবিষ্যদ্বাণীও করছেন।
রাজপথে অযৌক্তিকভাবে সহিংস আন্দোলন চালাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোও কীভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তা সাম্প্রতিককালে থাইল্যান্ডে দেখা গেছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর হাজার হাজার পুলিশ ও সেনাসদস্য ব্যাংককের কেন্দ্রীয় এলাকা ঘিরে ফেলে। তাদের আশঙ্কা ছিল, ২০০৬ সালের ওই তারিখে যেহেতু এক সামরিক অভ্যুত্থানে থাইল্যান্ডের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল, তাই হয়তো সেদিন তার দল রাজপথে বড় ধরনের ঘটনা ঘটাবে। সেই অভ্যুত্থানের পর থাইল্যান্ডে সেনাশাসনের অবসান হয়েছে, এক বছরের মাথায় নির্বাচন হয়েছে। তার পরও থেমে থেমে রাজনৈতিক সহিংস আন্দোলন চলেছে। মাঝেমধ্যে সেনা-হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। আবার চাপের মুখে সরকার বদলও হয়েছে। এই ভালোমন্দের মধ্য দিয়ে চলছিল দেশটি। ১৯ সেপ্টেম্বর আশঙ্কার কারণ ছিল, কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি। লাল শার্ট পরিহিত হাজার বিশেক কর্মী অভ্যুত্থানবিরোধী বক্তৃতা ও গান শুনেছে আর থাকসিন বিদেশ থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে বক্তৃতা দিয়েছেন। বোমাবাজি বা নাশকতার যে আশঙ্কা ছিল, তার কিছুই হয়নি। সমাবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ।
কিন্তু ঘটনা ঘটেছে অন্যখানে। প্রতিদ্বন্দ্বী পিপলস এলায়েন্স ফর ডেমোক্রেসি (পিএডি) প্রভাবিত লোকজন ওই দিন প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার সীমান্তে গিয়ে কম্বোডিয়ার ভেতর অবস্থিত একাদশ শতাব্দীর এক প্রাচীন মন্দির এলাকায় যেতে চাইলে রায়ট পুলিশ ও গ্রামবাসী বাধা দেয়। তখন পিএডির কর্মীরা তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পিএডির অভিযোগ, কম্বোডিয়া সীমান্তের অমীমাংসিত ভূমিতে নির্মাণকাজ চালাচ্ছে। গত বছর তারা এ অভিযোগ তোলে। এরপর সীমান্তে দুই দেশের সেনাসমাবেশ ঘটে। সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েকজন প্রাণ হারায়। পর্যটকেরা ওই এলাকায় আসা-যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এতে থাই সীমান্তের গ্রামবাসী খেপে যায়। ১৯ সেপ্টেম্বর পিএডির কর্মীরা ওই সীমান্ত এলাকায় বিক্ষোভ করতে গেলে গ্রামের লোকজন বাধা দেয়। এই পিএডির কর্মীরাই সরকারের অপসারণের দাবিতে গত বছর হলুদ শার্ট পরে ব্যাংকক বিমানবন্দর অবরোধ ও অচল করে দিয়েছিল। দেশ অচলের এ ধরনের পদক্ষেপ থাই জনগণ গ্রহণ করেনি।
সপ্তাহখানেক আগে ব্যাংকক বিমানবন্দর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর দেখে এসেছি। সেখানে কারও চোখেমুখে উদ্বেগের চিহ্নটুকুও নেই। অথচ বছরখানেক আগেও লাগাতার অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিমানবন্দরটি পরিত্যক্ত হতে চলেছিল।
বাংলাদেশও এ রকম এক উত্তরণ পর্বের মধ্য দিয়ে চলেছে। রাজনীতিতে সহিংস কর্মসূচিকে ‘গুডবাই’ জানানোর সময় এসে গেছে।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক

জেন্ডার সংবেদনশীল শিক্ষা জরুরি

ঘরে-বাইরে সর্বক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের কাজের সমমূল্যায়ন করা ও যথাযথভাবে বেড়ে ওঠার বা বিকশিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি ও ক্ষেত্র তৈরিই হচ্ছে জেন্ডার ও ন্যায়সংগত উন্নয়নের মূল কথা। নারী ও পুরুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য প্রাকৃতিকভাবে আলাদা হলেও উভয়ের সামাজিক-রাজনৈতিক যোগ্যতা, সামর্থ্য ও অধিকার সমান। সংবিধানেও তার স্বীকৃতি রয়েছে। বাংলাদেশ সিডওর ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চতর স্তরে লিঙ্গবৈষম্য হ্রাসকরণের লক্ষ্যে কিছু কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে প্রাথমিক স্তরে এবং নিম্নমাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশে উন্নীত হলেও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে আমরা এখনো অনেক দূরে। মাঝপথে ঝরে পড়া ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সংখ্যা অনেক বেশি, উচ্চস্তরে এই ব্যবধান অরও বেশি। পাশাপাশি দেখা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান নিয়ে পড়া ছাত্রীর সংখ্যা অনেক কম। কারিগরি, কৃষি ও প্রকৌশলবিদ্যায় ছাত্রী ভর্তির হার এখনো ১০ শতাংশ ছাড়ায়নি।
শিশুকাল থেকে ছেলেমেয়েদের শঙ্কামুক্ত আবহে যৌথভাবে বড় হওয়ার অবাধ পরিবেশ তৈরি করার জন্য প্রয়োজন প্রচলিত ধ্যানধারণা ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি, আচার-আচরণ পরিবর্তনের লক্ষ্যে যথাযথ নীতি ও পাঠ্যসূচি প্রবর্তন করা। আমাদের দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা নারী-পুরুষের বৈষম্য টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখছে। আমাদের প্রবাদ-প্রবচন, ছড়া, কবিতা, গল্প, ছবি—সবকিছুতেই রয়েছে লিঙ্গভেদ। পাঠ্যবিষয়ের জন্য এমন কোনো কবিতা, ছড়া, প্রবাদ-প্রবচন, প্রবন্ধ, উপন্যাস, গল্প নির্বাচন করা উচিত নয়, যা পুনরায় জেন্ডার অসংবেদনশীলতা এবং জেন্ডারবৈষম্য সৃষ্টিতে সহায়তা করে (পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই, একসাথে খেলি আর পাঠশালা যাই!)। পাঠ্যবিষয়ে যথাসম্ভব জেন্ডার অসংবেদনশীল ভাষা (সভাপতি, সমাজপতি, গৃহিণী) পরিহার করার ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে। একই সঙ্গে জেন্ডারসমতা আনতে কিছু শব্দ যেমন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা—এগুলো ব্যবহার না করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক টার্মগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। শিক্ষানীতিকে জেন্ডার সংবেদনশীল করতে হলে মেয়েদের প্রতি বৈরীভাবাপন্ন সংস্কৃতি ও প্রথা বিলুপ্ত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
আমাদের দেশে প্রাথমিক ও প্রজননস্বাস্থ্য শিক্ষা পাওয়ার মতো তেমন কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু প্রত্যেক কিশোর-কিশোরীকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এই শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন। শিক্ষা, দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ বা উন্নয়নমূলক কোনো প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে মেয়েদের সুযোগ বৃদ্ধি করার বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।
এ ছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা, নারী ও পুরুষ শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করা, নারীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের জন্য টয়লেটে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা, নারীশিক্ষকের কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ এবং বদলির ক্ষেত্রে তাঁদের মতামতের প্রাধান্য দেওয়া ইত্যাদি বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে।
চিররঞ্জন সরকার, ঢাকা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই জনসচেতনতা

সোয়াইন ফ্লুর ধকল কাটিয়ে উঠতে না-উঠতেই রাজধানীবাসী ভুগছে ডেঙ্গু-আতঙ্কে। প্রতিষেধক না থাকায় এ রোগের ভয়াবহতা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবছর শীতের শুরুর মৌসুমেই ডেঙ্গুজ্বরের প্রকপ দেখা দেয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, ডাস্টবিন ও ময়লা ড্রেনের নগর আমাদের রাজধানী শহর ঢাকা। অপরিকল্পিত ডাস্টবিন, নর্দমা ও ময়লা নালা মশার বংশবৃদ্ধির অন্যতম স্থান। ঢাকা শহরের পরিকল্পনাহীন নালা ব্যবস্থা ও নর্দমার কারণে ইতিমধ্যে রাজধানীবাসী মশার সঙ্গে যুদ্ধ করছে। মশার ভয়াবহতা এতই ব্যাপক যে দিনের বেলায়ও মশারি টানিয়ে রাখতে হয় মশার হাত থেকে বাঁচার জন্য। এ অবস্থায় এডিস মশার প্রকোপ বেড়ে গেলে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়বে। তখন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই নগরবাসীকে ডেঙ্গু-আতঙ্ক থেকে রেহাই দিতে এবং এর ভয়াবহতা থেকে বাঁচানোর জন্য এখনই ঢাকা সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি। এর পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। যাতে করে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি তারাও ডেঙ্গু-প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। সিটি করপোরেশন ও নগরবাসীর সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে ডেঙ্গু মহামারি থেকে রাজধানী ঢাকাকে রক্ষা করতে। এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট সবার সুদৃষ্টি কামনা করছি।
বেলাল হোসেন, নীলক্ষেত, ঢাকা।

জাহাজভাঙা ইয়ার্ড তৈরির ধুম

১০ অক্টোবর প্রথম আলোয় প্রকাশিত ‘সীতাকুণ্ডু উপকূলে হঠাত্ জাহাজভাঙা ইয়ার্ড তৈরির ধুম’ শীর্ষক খবরটি পড়ে রীতিমতো আঁতকে উঠতে হয়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পূর্বে বছরে গড়ে দুটিরও কম জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ড গড়ে উঠেছিল। এখন সেখানে মাসেই গড়ে উঠছে চারটির মতো ইয়ার্ড। এমন লাগামহীনভাবে গড়ে ওঠার নেপথ্যে স্থানীয় সাংসদপুত্রের নামই ঘুরেফিরে আসছে। সাংসদপুত্র ইতিমধ্যেই জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ড তৈরি করাকে কেন্দ্র করে পত্রিকার শিরোনাম হয়েছেন, যা সরকার ও আওয়ামী লীগ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
বলাবাহুল্য, যে জাহাজভাঙা ইয়ার্ড তৈরি করার জন্য এত আয়োজন, সেই ইয়ার্ডগুলো এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। এ মাসেই ছয়জন শ্রমিক মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দুর্ঘটনার খবর আড়াল করতে লাশ গুম করার মতো ঘটনাও ঘটছে।
জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে শ্রমিক মৃত্যুর তালিকা ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত এক যুগে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডের বিভিন্ন দুর্ঘটনায় কমপক্ষে এক হাজার ৩০০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন চার থেকে পাঁচ হাজার শ্রমিক। শ্রমিকদের আহত-নিহত হওয়ার তালিকা দীর্ঘ হলেও তাঁদের জীবন রক্ষার কোনো উদ্যোগ নেই মালিকপক্ষের।
শুধু শ্রমিকের মৃত্যুই নয়, জাহাজভাঙাশিল্প পরিবেশের জন্য রীতিমতো হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ শিল্প গড়ে উঠছে উপকূলীয় বন উজাড় করে। ফলে অরক্ষিত হয়ে পড়ছে সীতাকুণ্ডু উপকূলীয় অঞ্চল। দূষিত হচ্ছে সমুদ্র ও দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত। সৈকতের পাশাপাশি দূষণের শিকার হয়ে বিপর্যের মুখে পড়েছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যও।
বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙার প্রতিষ্ঠানগুলো অতি মুনাফার লোভে প্রাচীন ‘বিচিং পদ্ধতি’তেই জাহাজ ভাঙার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা মারাত্মক পরিবেশ ধ্বংসকারী হিসেবে সারা বিশ্বেই পরিত্যক্ত। প্রাচীন বিচিং পদ্ধতিতে জাহাজ ভাঙার ফলে ইন্টারটাইডাল জোনের ভূমিক্ষয় এবং ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদরাজি ধ্বংস হচ্ছে অনায়সে। এ ছাড়া পুরোনো জাহাজ থেকে নির্গত অ্যাসবেস্টস, লেড, ক্যাডমিয়াম, নিকেল, সালফিউরিক এসিড, জিংক, অ্যালুমিনিয়াম, কপার প্রভৃতি রাসায়নিক বস্তুর ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ছে মানব স্বাস্থ্যের ওপর।
পরিতাপের বিষয়, জাহাজভাঙাশিল্পের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশ থাকলেও তা কোনোভাবেই মানা হচ্ছে না। বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে বরাবরই নির্বিকার। যা-ই হোক, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং উপকূল ধ্বংস করার প্রয়াসে যারা অপরিকল্পিতভাবে জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ড তৈরিতে লিপ্ত তাঁদের এখনই আইনের আওতায় আনা হবে সময়োচিত কাজ।
রানা আব্বাস, শিক্ষার্থী
ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
rana_geographer@yahoo.com

সুখের দিনে জিম্বাবুয়ে

অনুশীলনে নির্ভার জিম্বাবুয়ের দুই ব্যাটিং
-নায়ক চিগুম্বুরা ও মাতসিকেনেরি
জয়ের আত্মতৃপ্তি অবশ্যই একমাত্র কারণ নয়। কারণ হতে পারে একটাই, আগের দিন দিবা-রাত্রির ম্যাচ খেলার পরদিন সকালেই প্র্যাকটিসে আসতে ক্লান্তি। পরশু প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারানোর পরদিন, কাল সকালে তাই অনুশীলনে এলেন না জিম্বাবুয়ের সব ক্রিকেটার। যে ছয়-সাতজন এলেন, মাঠের ওপর দিয়ে ইনডোরের দিকে যেতে যেতে উইকেটের পাশে থমকে দাঁড়ালেন দু দণ্ড। এরপর মুখে হাসি ছড়িয়ে আবার চলে গেলেন ইনডোরের দিকে।
হাসি কী কারণে? কারণটা উইকেট। যে উইকেটে দ্বিতীয় ওয়ানডেটা খেলা হবে বলে পরশু রাতে জেনে গেছে জিম্বাবুয়ে দল, কাল সকালে মাঠে এসে দেখল আজকের ম্যাচের জন্য তৈরি হচ্ছে তার পাশের উইকেটটা! সিদ্ধান্ত বদল যে স্বাগতিক দলের ইচ্ছাতে, সেটা বুঝতে পেরেই ওই হাসি।
শেষ ছয়টা ওয়ানডের পাঁচটাতেই জয়, হোক না তার চারটিই কেনিয়ার বিপক্ষে—হাসারই তো সময় এখন জিম্বাবুয়ের! উইকেট নিয়ে খেলাটাও তাদের কাছে হাসিরই কারণ। আর শুধু হাসি কেন, কাল দারুণ নির্ভারও দেখাল দলটাকে। ঘণ্টা দুয়েকের অনুশীলনে কেমন যেন আয়েশী ভাব। কুঁচকির ইনজুরিতে ভোগা মার্ক ভারমিউলেনকে ক্যাচিং প্র্যাকটিস করানোর সময় তো আশপাশের সবাইকে শুনিয়ে মাতৃভাষায় কী একটা গানও গাইলেন পোফু।
তবে মিডিয়ার সামনে এসে সহ-অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা যথেষ্টই সিরিয়াস, ‘আগের ম্যাচের চেয়ে আমাদের গেম প্ল্যানে খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। তবে নতুন বলে বোলারদের আরও ভালো জায়গায় বল ফেলতে হবে। প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে হলে নতুন বলে ভালো বল করতে হবে।’ প্রথম ম্যাচে জেতার পর জিম্বাবুয়ের কাছে এখন এই সিরিজের লক্ষ্যটাও স্পষ্ট। মাসাকাদজা এঁকে দেখালেন সিরিজ জয়ের সমীকরণ, ‘আমরা চাই পরের (আজকের) ম্যাচটা জিতে বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করতে। এরপর আমাদের লক্ষ্য থাকবে শনিবারের ম্যাচ জিতেই চট্টগ্রামে যেতে।’
ফুরফুরে মেজাজের জিম্বাবুয়ের দুশ্চিন্তা আপাতত কেবল ইনজুরি নিয়ে। ভারমিউলেন ইনজুরির কারণে এ ম্যাচেও নেই। কাল নিজেই জানালেন, ‘হয়তো তৃতীয় ম্যাচে ফিরতে পারি। নয়তো চট্টগ্রামে...।’ ভারমিউলেনের পর ইনজুরি তালিকায় যোগ হয়েছে অধিনায়ক প্রসপার উতসেয়ার নাম। জিম্বাবুয়ে কোচ ওয়াল্টন চাওয়াগুতা বা ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাসাকাদজা কাল শেষ কথা না বললেও উতসেয়ার আজ খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। প্রথম ম্যাচে পাওয়া অ্যাঙ্কেলের চোট হয়তো তৃতীয় ম্যাচেও মাঠে ফিরতে দেবে না জিম্বাবুয়ের সেরা স্পিনারকে।