Wednesday, August 21, 2019

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দুই বছরেও ন্যায় বিচার পায়নি। শরণার্থী হিসেবে তারা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে সুরক্ষা ও মর্যাদার জন্য। অন্যদিকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন বিষয়ক সাম্প্রতিক খবরে শঙ্কিত এবং উদ্বিগ্ন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা। তারা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আতংকিত। যেহেতু এই প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত তাই ভবিষ্যত ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার সুরক্ষিত হয় না বলে মনে করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
বুধবার সকালে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশে কর্মরত ৬১টি স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়। পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যে অবস্থানকারী পরিবার গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, কারণ সেখানে সংঘাত বেড়েই চলেছে।
চলতি সপ্তাহের মধ্যে আনুমানিক ৩হাজার ৪৫০জন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাৎক্ষণিক প্রত্যাবাসনের সংবাদ প্রকাশ হয়। এর প্রেক্ষিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছাকৃত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বানও জানায় এই ৬১টি এনজিও।
কারণ রাখাইন রাজ্যে এখনও রোহিঙ্গাদের চলাচলের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার চর্চার ক্ষেত্রে কোনো অর্থপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছেনা। বাস্তুচ্যুত কমিউনিটির সাথে আলোচনার পরিসর খুবই সীমিত।
বৈষম্যমূলক নীতির কারণে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোরবিধি-নিষেধ আরোপের পাশাপাশি পড়াশোনা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবিকার অধিকারের ক্ষেত্রে আরও সীমিত করে দেয়া হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে প্রায় ১লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায় রাখাইন রাজ্যের শিবিরে আটকা পড়ে আছে, ফিরতে পারছেনা নিজ বাড়িতে। অন্যদিকে সীমিত করে দেয়া হয়েছে মানবাধিকার সংস্থাদের প্রবেশাধিকার।
তাই রাখাইন রাজ্যের অধিবাসীদের মানবাধিকার স্বীকৃতি দেয়া এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়া এমন কি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত প্রদানসহ তাদের অংশ গ্রহণ নিশ্চিতের ও আহ্বান জানায় এনজিও গুলো।
এনজিও গুলো মনে করে, রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যের সকল সম্প্রদায় যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, এবং প্রাথমিক পরিষেবা ও জীবিকার সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারে তা মিয়ানমার সরকারের নিশ্চিত করা উচিত।
বর্তমান সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে কর্মরত এই ৬১টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীদের সহায়তা এবং অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কিছু বিষয়ে আহ্বান জানানো হয়-
  • রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত নির্ধারণেরজন্য যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের অর্থবহ অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা।
  • মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারকে সম্মান করতে হবে।
  • শিক্ষা, জীবিকা ও সুরক্ষায় রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ে সহায়তা করতে হবে।
  • মধ্যম বা দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান বের করতে হবে।
গত দু’বছর ধরে বিশ্বের বৃহত্তম এ শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারী জনগণের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের সংস্থা গুলোকে সহায়তা করে আসছে এই স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিবিরের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে, বর্ষার প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছেএবং রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এতোটুকু যথেষ্ট নয়। আরও অনেক কিছু করা দরকার বলে মনে করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাই তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও তহবিল বরাদ্ধের আহ্বান জানিয়েছে; যাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে শরণার্থী, স্থানীয়বাসিন্দা এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের জীবনমান উন্নয়নকরা সম্ভব হয়।

জাতিসংঘ অনানুষ্ঠানিক অধিবেশনে আকসাই চিনের প্রশ্ন উত্থাপন চীনের by দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী

গত শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনানুষ্ঠানিক রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে চীন কেবল কাশ্মীর প্রশ্নে পাকিস্তানকে সমর্থনই দেয়নি, সেইসাথে ভারতের দাবিকৃত লাদাখ ভূখণ্ড আকসাই চিনের মর্যাদার বিষয়টিও উত্থাপন করেছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি দাবি করেন যে ভারত সরকারের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করার সিদ্ধান্তের ফলে চীনের সার্বভৌমত্ব স্বার্থ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার লঙ্ঘন ঘটেছে।

চীনের এক সিনিয়র কূটনীতিক লাদাখের পরোক্ষ উল্লেখ করে বলেছেন যে ভারতীয় পদক্ষেপের ফলে চীনা সার্বভৌম স্বার্থগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘিত হয়েছে। এতে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, চীনের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ আমরা আশা করি না। তিনি বলেন এতে ওই এলাকার ওপর চীনের সার্বভৌমত্বের প্রয়োগ ও কার্যকর প্রশাসনিক এখতিয়ারে কোনো পরিবর্তন হবে না।

এর আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত ভূখণ্ড ঘোষণা করা সত্ত্বেও সত্যিকারের নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না এবং চীনের ব্যাপারে ভারত আর কোনো অতিরিক্ত ভূখণ্ড দাবি করবে না বলে চীনকে বোঝানোর চেষ্টা করা সত্ত্বেও চীন বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন করেছে।

বেইজিংয়ে সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ি জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতীয় পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইনটি উত্থাপন করেন। ওয়াংকে জয়শঙ্কর বলেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তিনি তাকে জানান, সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করা ভারতের একান্তই নিজস্ব বিষয়।

তিনি বলেন, শাসন পরিচালনা আরো ভালোভাবে করার জন্য, আর্থ-সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি চীনের সাথে থাকা এলএসির সাথে সম্পর্কিত নয়।

উল্লেখ পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মিরের একটি অংশ চীনকে দিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। ফলে এই এলাকায় বেইজিংও একটি পক্ষে পরিণত হয়েছে।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের দূত

চুলে ‘বখাটে কাটিং’ না দিতে সেলুনে পুলিশের নির্দেশনা by কাজী আশিক রহমান

একশ্রেণির যুবক চুল এমনভাবে কাটেন যে তাদের দুই কানের ওপরের অংশে চুল থাকেই না। কিন্তু মাথার ওপরের অংশে ঘন চুল থাকে। এই চুল বেশ দীর্ঘ হয়। হাঁটার সময় কিংবা মোটরসাইকেল চালানোর সময় এই চুল বাতাসে দুলতে থাকে। এভাবে চুল কাটানোকে ‘বখাটে কাটিং’ বলছে মাগুরা জেলার পুলিশ। এই স্টাইলে চুল না কাটতে সেলুনমালিক ও নরসুন্দরদের লিখিত নির্দেশনা দিয়েছে মাগুরা সদর থানা-পুলিশ।

চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ বিষয়ে ব্যাপক মাইকিং, সেলুনকর্মীদের নিয়ে বৈঠকসহ নানা রকম প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সেলুনমালিকদের জানানো হচ্ছে, কোনো সেলুনকর্মী কারও চুল কিংবা দাড়ি যেন মডেলিং ও বখাটে স্টাইলে না কাটেন। তবে বিষয়টি নিয়ে নাগরিকেরা নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাগুরা জেলা পুলিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় সেলুনমালিক ও কর্মীদের নিয়ে এ বিষয়ে বৈঠকের পাশাপাশি মাইকিংয়ের মাধ্যমে সর্বসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে। এটির উদ্দেশ্য হচ্ছে, উঠতি বয়সের যুবকদের সংযত আচরণ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা। সম্প্রতি মাগুরায় কিশোর ও উঠতি বয়সের যুবকদের হাতে খুনসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যেটির পেছনে তাদের অস্বাভাবিক জীবনযাপন ও আচরণের যোগসূত্র পেয়েছে পুলিশ। এ কারণে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করতে এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

ওসি বলেন, ‘মানুষের লাইফস্টাইলের সঙ্গে তার আচরণের নানা যোগসূত্র রয়েছে। অনেকে উদ্ভট পোশাক পরে ও উদ্ভট স্টাইলে চুল কাটে, যা দৃষ্টিকটু ও অস্বাভাবিক। সেটি তার জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব অবশ্যই ফেলবে। এ কারণে এটি প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে সবার আগে জরুরি সচেতনতা। সে কাজটিই আমরা করছি। ইতিমধ্যে এর ইতিবাচক ফলও পাচ্ছে শহরবাসী।’

এ বিষয়ে মাগুরা সদর উপজেলার বাটিকাডাঙ্গা বাজারের একটি সেলুনের মালিক রমেশ বিশ্বাস বলেন, ‘এক শ্রেণির উঠতি বয়সী যুবক আছেন যাঁরা নিজস্ব স্টাইলে চুল কাটান। এ ধরনের স্টাইলে গোটা চুলে কোনো সামঞ্জস্য থাকে না। দুই কানের ওপরের অংশে চুল থাকে না বললেই চলে। অন্যদিকে মাথার যত উপরিভাগে যাওয়া যাবে, চুল তত বেশি বড় রাখা হয়। এই যুবকেরা এমনভাবে চুল কাটান, যেন মোটরসাইকেল চালানোর সময় মাথার ওপরের চুলগুলো বাতাসে দোল খায়। যুবকেরা বিভিন্ন সিনেমা, নাটক ও খেলোয়াড়দের দেখে এসব করেন।’

পুলিশের এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন সেলুনমালিক ও শ্রমিকেরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন নরসুন্দর বলেন, পুলিশ একটা সিদ্ধান্ত নিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করে। কিন্তু বিপাকে পড়তে হয় তাঁদের। অনেক যুবক তাঁদের নিজের দেখানো স্টাইলে চুল কাটাতে চায়। আপত্তি জানালে তাঁরা হুমকি-ধমকি দেন বা অন্য জায়গায় চলে যান। বিষয়টি পুলিশ কীভাবে নজরদারি করবে? পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলে পরে বিপদে পড়তে হবে।

বিষয়টি নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শহরের কেশব মোড় এলাকার বাসিন্দা রাফাত হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এভাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। চুলের ছাঁট দেখে একজন অপরাধী কি না, তা কীভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব, তা মাথায় আসে না।’

একই কথা জানালেন কলেজপাড়ার ব্যবসায়ী সুসান রহমান। তিনি বলেন, ‘এটা নাগরিকের একদম ব্যক্তিগত ব্যাপার। আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আছে, যেগুলোতে পুলিশের নজর নেই। এতে অনেক নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হতে পারে। তা ছাড়া পুলিশের এই পদক্ষেপ শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’

অবশ্য পুলিশের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখেছেন অনেকে। ব্যবসায়ী সবুজ সাহা বলেন, উঠতি বয়সী অনেক ছেলেকে পরিবার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাদের কাছে মা–বাবা অসহায়। পুলিশের এই পদক্ষেপ তাদের কাছে একটি বার্তা দিচ্ছে যে প্রশাসনের নজর তাদের ওপর আছে। এতে তাদের অপরাধপ্রবণতা কিছুটা হলেও কমবে। তবে এ বিষয়ে পুলিশকে অনেক সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে যেন নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়।
কারও চুল বা দাড়ি মডেলিং ও বখাটে স্টাইলে না কাটার ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে সেলুনে টাঙানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। বাটিকাডাঙ্গা, মাগুরা, ২১ আগস্ট। ছবি: কাজী আশিক রহমান

অবরুদ্ধ কাশ্মিরের এক ‘মুক্তাঞ্চল’: এখনও যেখানে ঢুকতে পারেনি ভারতীয় বাহিনী

জম্মু-কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরের এক ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের নাম সুরা। লাখ লাখ সেনাবেষ্টিত উপত্যকার অভ্যন্তরে এটি যেন এক মুক্তাঞ্চল। এখনও সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি ভারতীয় বাহিনী। সব প্রবেশপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন সেখানকার তরুণরা। ইট-কাঠ-পাথরকে হাতিয়ার বানিয়ে তারা পালা করে ২৪ ঘণ্টা সেখানে পাহারারত রয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ হাজার মানুষের এই শহরটিই এখন ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত হয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা রয়টার্সের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, সুরার নিয়ন্ত্রণ নিতে তারা মরিয়া, তবে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না।
সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। সেখানকার বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের দাবি, রাজ্য পুলিশসহ সেখানে প্রায় ৭ লাখ নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। যা উপত্যকাকে বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকীকৃত এলাকায় পরিণত করেছে।

৩৭০ ধারা বাতিলের আগ মুহূর্তে জম্মু-কাশ্মিরে আধাসামরিক বাহিনীর ৩৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরে নতুন করে সেখানে নিয়োজিত হয় আধা-সামরিক বাহিনীর আরও ৮ হাজার সদস্য।  তবে এই বিপুল সামরিক উপস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় বাহিনীর কোনও সদস্য সুরায় প্রবেশ করতে সমর্থ হয়নি। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সেখানকার তরুণরা অবস্থান করছেন রাজপথে। ১২টির মতো প্রবেশপথের প্রত্যেকটিতেই ইটের ব্যারিকেড, মেটাল শিট, ট্রাংক কিংবা কাঠের পাটাতন দিয়ে পথ আটকে দিয়েছে তারা। এই দেয়ালের পেছনেও দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানকার স্থানীয় তরুণরা। অস্ত্র হিসেবে হাতে তুলে নিয়েছে পাথর। তাদের লক্ষ্য একটাই, কিভাবে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ করে আধাসামরিক পুলিশকে ঠেকিয়ে রাখা যায়।

এজাজ নামে ২৫ বছর বয়সী এক কাশ্মিরি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয় না। তাই ভেতরে ভেতরে আমরা বিস্ফোরিত হচ্ছি। তার মতো অনেকেই সাক্ষাৎকার দিলেও নাম প্রকাশে রাজি হয়নি। তাদের আশঙ্কা এতে করে গ্রেফতার হতে হবে তাদের। তারা বলছেন, ‘বিশ্ব যদি আমাদের কথা না শোনে তবে আমাদের কী করা উচিত? আমরা কি অস্ত্র হাতে তুলে নেব।’ এজাজ বলেন, আমাদের মনে হচ্ছে আমরা নিয়ন্ত্রণরেখা প্রহরায় আছি।

সুরায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বসবাস। তবে কাশ্মির ইস্যুতে সরকারবিরোধী প্রতিরোধে তারাই এখন মূলকেন্দ্র। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য তা এখন ‘নো গো জোন’। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলই এখন নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের জন্য বড় চালেঞ্জ।

সরকারের দাবি, কাশ্মিরকে ভারতের সঙ্গে পুরোপুরি অন্তর্ভূক্ত করতে এই পদক্ষেপ জরুরি ছিলো। এতে করে সেখানে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। মোদি বলেন, এই পদক্ষেপে সেখানকার সন্ত্রাস মোকাবিলাও সহজ হবে। তবে সুরার সাধারণ জনতার প্রতিক্রিয়া অন্যরকম। সেখানে এমন কেউ নেই যে মোদির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। ২৪ জনেরও বেশি কাশ্মিরির সাক্ষাতকার নিয়ে রয়টার্স জানায় তারা প্রত্যেকেই মোদিকে ‘জুলুমকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ভারতের সাংবিধানিক এই পরিবর্তনে এখন কাশ্মিরের বাইরে থেকে এসেও সেখানে জমি কিনতে পারবে কিংবা চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবে। কাশ্মিরের মুসলিমদের আশঙ্কা, এতে করে ভারতের সংখ্যাগুরু হিন্দুরা দখল শুরু করবে এবং কাশ্মিরিদের পরিচয়, সংস্কৃতি ও ধর্ম হুমকির মুখে পড়বে। সুরার বাসিন্দারা বলেন, বিগত সপ্তাহে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বেসামরিক আহত হয়েছেন। তবে কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা নিশ্চিত নয়। জম্মু ও কাশ্মির সরকারের এক মুখপাত্রকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনও জবাব দিতে চাননি তিনি। রয়টার্সে ফোনকল কিংবা ই-মেইলের সাড়া দেয়নি দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত-পাকিস্তান তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে কাশ্মির ইস্যুতে। গত ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় ভারতীয় বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী হামলার পর তৃতীয় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায় দুই দেশ।

প্রতিরোধের কেন্দ্রবিন্দু

কাশ্মিরের শ্রীনগরে চারজনের বেশি মানুষ জড়ো হওয়া নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এছাড়া যেকোনও আন্দোলন দমাতে বসানো হয়েছে অনেক রোডব্লক, গ্রেফতার করা হয়েছে হাজার হাজার কাশ্মিরিকে যাদের মধ্যে দুজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সেবা। তবে তারপরও থেমে নেই জনতা। সংঘবদ্ধ হওয়ার বিকল্প পথ খুঁজে পেয়েছেন তারা।

সুরার বাসিন্দারা জানান, যখনই কোনও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করেন, সঙ্গে সঙ্গে তারা মসজিদে গিয়ে সতর্কবাণী বাজান। লাউডস্পিকারে গান বাজাতে থাকেন। ‘অবৈধ দখলদারিত্বে’র বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয় সেই গানে।

সুরার সরু গলিতেও বাসিন্দারা সেনাবাহিনীকে মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন। তাদের সামনে ইট ও পাতর জমা করা রয়েছে। একটি ব্যারিকেডে বসানো হয়েছে তারকাঁটার বেড়া। ওই এলাকা টহল দেওয়া তরুণরা জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছ থেকেই চুরি করে আনা হয়েছে ওই তারকাঁটা।

এর আগে ৯ আগস্ট ‍জুমার নামাজের পর ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভটি এই সুরাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল। আশপাশের বাসিন্দারা এসেও যোগ দেয় তাদের সঙ্গে। প্রতিরোধ গড়ে ওঠে অন্তত ১০ হাজার মানুষের। বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সেদিন নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫০ থেকে ২০০ জন সদস্য সুরায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান বাসিন্দারা। একটা সময় ছররা ও টিয়ার গ্যাসও ছুঁড়ে পুলিশ।

ভারত সরকার প্রথমে এই ঘটনার কথা অস্বীকার করে জানায়, সুরায় ২০ জনের বেশি মানুষ জড়ো হয়নি। পরে বিবিসি ও আল-জাজিরায় প্রকাশিত ফুটেজে বিক্ষোভের চিত্র হাজির হলে সরকার জানায়, এক হাজার থেকে দেড় হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলো।

স্থানীয়রা জানান, এরপর থেকে সুরাতে ছোট ছোট বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ঘটেছে সংঘর্ষের ঘটনা। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার সুরায় প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। জিনাব শাহিব মাজারের পাশে উন্মুক্ত স্থানটিই বন্ধ করার উদ্দেশ্য তাদের। সেখান থেকেই যেকোনও আন্দোলনের সূত্রপাত হচ্ছে।

ভারতের আধাসামরিক পুলিশও জানিয়েছে, তারা ওই স্থানের নিয়ন্ত্রণ নিতে বদ্ধপরিকর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করছি। কিন্তু সেখানে অনেক বাধা।’ আরেক কর্মকর্তার দাবি করেন, ‘ওই এলাকার তরুণরা অনেক উগ্রবাদী। তারা জঙ্গিবাদের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।’

বাসিন্দারা বলছেন, তারা তাদের এই প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবেন। ওয়াইস নামে এক বাসিন্দা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘প্রতিদিনই তারা হামলার চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা জবাব দেই। আমাদের মনে হয় যেন আমরা আটকা পড়ে আছি।

মালয়েশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত জাকির নায়েকের: আনোয়ার ইব্রাহিম

মালয়েশিয়ার  প্রতি জাকির নায়েকের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। মঙ্গলবার জাকির নায়েককে নিয়ে চলা সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আশ্রয়ের জন্য মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত জাকির নায়েকের।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ভারতীয় ও চীনাদের নিয়ে করা জাকির নায়েকের সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে জাকির নায়েকের সঙ্গে একমত নই। তিনি ইসলাম নিয়ে বক্তব্য দেন, সেখানে অনেক ভালো কিছু আছে। কিন্তু দেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলে ঠিক করেননি তিনি।’
সাম্প্রতিক বিতর্ক তার দলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন,  বুধবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভারতের আদালতে অর্থপাচার ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে জিহাদি কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। দিল্লির পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে ২০১৮ সালে মাহাথির এ ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এ বছর জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহেও মাহাথির বলেছিলেন, ন্যায়বিচার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে জুলাইয়ে টিআরটি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলাপকালে ৯৪ বছর বয়সী মাহাথির বলেছেন, ‘আমাদের দেশ মালয়েশিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন বর্ণের ও ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষ আছে। আমরা এমন কাউকে চাই না যাদের বর্ণগত সম্পর্ক ও অন্য ধর্ম সম্পর্কে কট্টর চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে জাকির নায়েককে আবার অন্য কোথাও পাঠানো কঠিন। কারণ, অনেক দেশই তাকে রাখতে চায় না।’

সংলাপের জন্য পাকিস্তান পৌছেছে আফগান প্রতিনিধি দল

আফগানিস্তানের রাজনৈতিক নেতা, পার্লামেন্ট সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের সদস্য ও সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল চার দিনব্যাপী ট্রাক-২ সংলাপে অংশ নিতে মঙ্গলবার পাকিস্তান এসেছে পৌছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির উপায়গুলো খতিয়ে দেখতে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর রিসার্স এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস) ও কাবুল ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর ইকনমিক স্টাডিজ এন্ড পিস (ওইএসপি) এই‘বিয়ন্ড বাউন্ডারিজ’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করেছে। এমন এক সময় এই সংলাপের আয়োজন করা হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বহুল প্রত্যাশিত চুক্তি স্বাক্ষরের কাছাকাছি পৌছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিআরএসএস’র প্রকল্প পরিচালক আইজেদ আলি বলেন, শান্তি প্রক্রিয়া, পাকিস্তান-আফগান সংলাপ, আফগান উদ্বাস্তু সমস্যা, ছাত্র ও ভিসা সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ছাড়াও প্রতিনিধ দলটি পাকিস্তানী কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত এবং কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় সফর করবেন।

১৩ সদস্যের আফগান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক এমপি খালিদ পশতু।

গত জুনে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সফল পাকিস্তানের সফর দুই দেশের সম্পর্কের উপর কি প্রভাব ফেলেছে তা নিয়েও আলোচনা করবে প্রতিনিধি দল।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও ঘানি একমত হন যে রাজনৈতিক, বাণিজ্য, জ্বালানি, শান্তি ও সমৃদ্ধি সহযোগিতার জন্য নিয়মতান্ত্রিক ম্যাকানিজমের মাধ্যমে সম্পর্কের মান ও সহযোগিতা আরো উন্নত করা যেতে পারে।

সম্মেলন শেষে যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হবে।

রোহিঙ্গা সংকট: যে ৫টি সব দাবি পূরণ হলে মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি শরণার্থীরা

কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প
বাংলাদেশে এখন যে এগারো লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আছে, তার বড় অংশই বাংলাদেশে প্রবেশ করা শুরু করেছিলো ২০১৭ সালের ২৫শে অগাস্ট।
এরপর জাতিসংঘসহ নানা সংস্থার নানা উদ্যোগের পর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সরকারের আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ২০১৮ সালের ২৩শে জানুয়ারি প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।
বরং রোহিঙ্গারা তখন আট দফা দাবি তুলেছিলো প্রত্যাবাসনের শর্ত হিসেবে।
এর মধ্যে ছিলো - নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, বাড়িঘর জমি ফেরত পাবার নিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলো।
এসব দাবি নিয়ে তখন বিক্ষোভ করেছিল আরাকান রোহিঙ্গা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস সোসাইটি নামের একটি সংগঠন।
এবার আবারও ২২শে অগাস্ট প্রত্যাবাসনের একটি সম্ভাব্য তারিখ মিয়ানমারের তরফ থেকে প্রকাশের পর বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারাও প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে ২২শে অগাস্ট ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কাজ করছেন।
এর আগে বাংলাদেশ যে ২২ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারকে দিয়েছিলো তা থেকে সাড়ে তিন হাজারের মতো রোহিঙ্গার নাম প্রত্যাবাসনের জন্য নির্বাচন করে বাংলাদেশকে দিয়েছে মিয়ানমার।
তালিকা পাওয়ার পর এসব রোহিঙ্গাদের মতামত যাচাই করার জন্য জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থাকে অনুরোধ করে বাংলাদেশ এবং সংস্থার কর্মীরা আজ মঙ্গলবার ক্যাম্পগুলোতে সে কাজ শুরু করেছে।
পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের জন্য নির্বাচিত যেখানে রাখা হবে ও যেখান থেকে বিদায় দেয়া হবে, সেসব স্থানগুলোতে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি আগেই নেয়া শুরু হয়েছে বলে প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার নিশ্চিত করেছেন।
কিন্তু রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন প্রত্যাবাসনের জন্য তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি আছে এবং সেগুলো বাস্তবায়ন না হলে প্রত্যাবাসনে কেউ রাজী হবেন না বলে জানিয়েছে।
উখিয়ায় বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প
এক্ষেত্রে এবার পাঁচটি দাবির একটি তালিকা সম্বলিত লিফলেট গত দুদিন ধরে ক্যাম্পগুলোতে প্রচার করছে 'ভয়েস অফ রোহিঙ্গা' নামের একটি সংগঠন।

লিফলেটে যে পাঁচটি দাবির বাস্তবায়ন চায় রোহিঙ্গারা:

১. রোহিঙ্গারা আরাকানের স্থানীয় আদিবাসী এবং সে জন্য তাদের ন্যাটিভ স্ট্যাটাস বা স্থানীয় মর্যাদা সংসদে আইন করে পুনর্বহাল করতে হবে যার আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি থাকতে হবে।
২. নাগরিকত্ব:
প্রথমত, আরাকান রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের 'সিটিজেন কার্ড' দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরও সিটিজেনশিপ কার্ড দিয়ে প্রত্যাবাসন করে স্থানীয় নাগরিক মর্যাদা দিতে হবে।
তৃতীয়ত, একই সাথে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় থাকা রোহিঙ্গাদের সিটিজেনশিপ কার্ড দিয়ে স্থানীয় নাগরিক মর্যাদা দিতে হবে।
৩. প্রত্যাবাসন
রোহিঙ্গাদের তাদের নিজস্ব গ্রামে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া জমিজমা যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ ফেরত দিতে হবে।
৪. নিরাপত্তা
আরাকানে রোহিঙ্গাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য রোহিঙ্গা পুলিশ বাহিনীর সাথে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
৫. জবাবদিহিতা
বার্মার স্থানীয় আদালতের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির মতো কোনো ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনালে অপরাধীদের বিচার করতে হবে।

কিন্তু এগুলো কি রোহিঙ্গাদের সবার দাবি?

ভয়েস অফ রোহিঙ্গা নামের সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শমসু আলম।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, তাদের মধ্যে সক্রিয় আরও অন্য সংগঠনের সাথে আলোচনা করেই তারা এসব দাবি চূড়ান্ত করেছেন।
"আমরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় সভা করেছি। রোহিঙ্গাদের নিয়ে বসেছি। মতামত নিয়েছি। সবাই এসব দাবি আদায়ে একমত হতে রাজি হয়েছে।"
প্রত্যাবাসন আদৌ হবে কি-না বা হলে কবে হবে তা নিয়ে অবিশ্বাস আরো জোরালো হচ্ছে রোহিঙ্গাদের মধ্যে
মিস্টার আলম বলেন, এগুলো প্রত্যাবাসনের জন্য তাদের দাবি এবং ৭৫ ভাগ রোহিঙ্গাই এর সাথে একমত।
তিনি জানান, সব ধরণের বিদেশী ডেলিগেশন কিংবা বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার কাছেও তারা বারবার এসব দাবি তুলে ধরেছেন যাতে করে 'কার্যকর প্রত্যাবাসন হয় ও রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে নিরাপদে জীবন যাপন করতে পারে'।
মঙ্গলবার বেলা বারটার দিকে প্রত্যাবাসনের তালিকায় থাকা রোহিঙ্গাদের মতামত যাচাইয়ের কাজ করছিলেন জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার কর্মীরা।
কুতুপালংয়ে ২৬ নম্বর ক্যাম্পে তাদের সাথে ছিলেন রোহিঙ্গাদের একজন নেতা বদরুল আলম।
মিস্টার আলম বিবিসিকে বলছেন, "এখানে এগারো লাখ রোহিঙ্গাদের দেখভাল করতে আমরা ক্যাম্প ভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়ে ৫৫ জনের একটি কমিটি করেছি যে কমিটিতে আমিও আছি। প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা, ঘর-বাড়ি ভিটা জমি ফেরত দেয়া ও নিরাপত্তাসহ ৫টি দাবি আমাদেরও।"
তিনি বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন ছাড়া প্রত্যাবাসনের কাজ সফল হবে না কারণ নাগরিকত্ব ও স্থানীয় হিসেবে মর্যাদা না পেলে রোহিঙ্গারা সেখানে ফিরলে সেই আগের মতোই নির্যাতন নিপীড়নের মুখে পড়তে হবে।
বদরুল আলম বলেন, "জাতিসংঘ আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক আর বার্মা সরকার তার অবস্থান পরিষ্কার করুক রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বিষয়ে।"

এপির রিপোর্ট: দেশে ফিরতে অনীহা রোহিঙ্গাদের, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা স্থগিত করার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো প্রক্রিয়ায় সাড়া দিয়েছেন হাতেগোনা কয়েকটি মুসলিম রোহিঙ্গা পরিবার। বাকিরা কোনো সাড়াই দেয়নি। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সি ইউএনএইচসিআর এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে এমন মনোভাব প্রকাশ করেছে রোহিঙ্গারা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
এ বিষয়ে শরণার্থী বিষয়ক বাংলাদেশের কমিশনার আবুল কালাম মঙ্গলবার বলেছেন, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া শরণার্থী প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় বাছাই করা হয়েছে ১০৫৬ জনকে। তার মধ্যে মাত্র ২১টি পরিবার ফরম পূরণ করে তা জমা দিয়েছে। তারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা জানিয়েছেন ফিরে যেতে চান কিনা।
এ বিষয়ে আবুল কালাম বলেন, সব পরিবারই বলেছে, তারা দেশে ফিরে যাবে না।
গত বছর ইউএনএইচসিআর, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একই রকম উদ্যোগ নিলে তা ব্যর্থ হয়। তখনও কোনো শরণার্থী স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা স্থগিত করার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের
যতক্ষণ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের এ প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা স্থগিত করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এ বিষয়ে দেয়া এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, নতুন করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা ২২ শে আগস্ট। কিন্তু বাংলাদেশে আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গারা এর প্রতিবাদ করেছে। তারা বলছে, মিয়ানমারে যে সহিংসতা ও নিষ্পেষণ থেকে পালিয়ে এসেছে, ফিরে গেলে তাদেরকে সেই একই অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। তাই শরণার্থীদের নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার, নাগরিকত্বের সম অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
বিবৃতিতে তারা বলেছে, বাংলাদেশ সরকার ২২ হাজার রোহিঙ্গার একটি তালিকা হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের কাছে। তার মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে মিয়ানমার ৩৪৫৪ জনকে ভেরিফাই করেছে। এসব মানুষকে ফেরত পাঠানোর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সি ইউএনএইচসিআর এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা নিশ্চিত হতে চাইছে যে, এসব রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চাইছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমিক নিপীড়ন ও সহিংসতার সমাধান করতে পারেনি মিয়ানমার এখনও। তাই দেশে ফিরে গেলে নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রতিটি বিষয়ে কারণ রয়েছে তাদের। রোহিঙ্গাদের প্রতি উদারতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ, যদিও ওই আশ্রয়শিবিরগুলোর অবস্থা জটিল। তাই বলে কোনো শরণার্থীকে নিরাপদ নয়, এমন স্থানে ফেরত পাঠানো উচিত হবে না।
জাতিসংঘ এ প্রক্রিয়ায় আলোচনা শুরু করার পর অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেছেন, তারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে চান। কিন্তু বর্তমানে সেখানে যে অবস্থা তাতে ফিরে যাওয়াটা তাদের জন্য নিরাপদ নয়। প্রাথমিক তালিকায় যেসব শরণার্থীর নাম আছে তাদের অনেকে সমঝোতামুলক আলোচনায় উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। একজন শরণার্থী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেছেন, মিয়ানমারে হাজার হাজার রোহিঙ্গা আছেন। তারা এখনও বন্দিশিবিরে। ওই শরণার্থী তাদের রাখাইন রাজ্যে ২০১২ সাল থেকে উন্মুক্ত আকাশের নিচে স্থাপিত খোলা বন্দিশিবিরে থাকা এক লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গার প্রসঙ্গে এসব কথা বলেছেন। তিনি বলেন, যদি ওইসব মানুষকে মুক্ত করে দেয়া হয় এবং তাদেরকে তাদের গ্রামে যেতে দেয়া হয়, তাহলে বুঝবো দেশে ফিরে যাওয়া নিরাপদ এবং আমরাও দেশে ফিরে যাবো।
২৬ নম্বর ক্যাম্পের একজন শরণার্থী। তার পরিবারে রয়েছে ৬ সদস্য। তার নাম রয়েছে ওই তালিকায়। তিনি বলেন, আমরা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই না। কারণ, সেখানে আমাদের প্রিয়জনদের অনেকের দাফন করতে পারিনি। তাদেরকে হত্যা করে গণকবর দেয়া হয়েছে। ২৪ নম্বর ক্যাম্পের একজন নারী শরণার্থী বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো আমি পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। আমার স্বামীকে হত্যা করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। আমি সেখানে ফিরে যেতে চাই না। কারণ, আমি যে অবস্থার মুখোমুখি হয়েছি, চাই না সেই একই অবস্থার শিকার হোক আমার পরবর্তী প্রজন্ম।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরো লিখেছে, প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনার কথা ঘোষিত হওয়ার পর মিয়ানমারে নৃশংসতার জন্য দায়ীদের বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করেছেন শরণার্থীরা। তারা মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তাদেরকে পূর্ণাঙ্গ নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দিতে, তাদের ভূমি ও সম্পদ তাদের কাছে ফেরত দিতে। এ ছাড়া তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যা সেনাবাহিনী পুড়িয়ে দিয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তারা।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ৬১ এনজিওর ৪ সুপারিশ
মিয়ানমার সঙ্কটের অবনতিতে সতর্ক করেছে ৬১টি বেসরসারি সংগঠন বা এনজিও। তারা নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় শরণার্থীদের জড়িত করার আহ্বান জানিয়েছে। এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন। তাতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর খবরে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বলা হয়েছে, মিয়ানমারে এখন যে অবস্থা তা নিরাপত্তা ও অধিকারের নিশ্চয়তা দেয় না। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ওই ৬১টি এনজিও চারটি সুপারিশ উত্থাপন করেছে। তাতে বলা হয়েছে- ১. রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ২. মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।
৩. রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, জীবিকা নির্বাহ ও সুরক্ষায় সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ৪. মধ্যম/দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান বের করতে হবে।
সেভ দ্য চিলড্রেন ওই ৬১টি এনজিও’র পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রতি উদারতা দেখিয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন এজেন্সি, স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ১৩০টির বেশি এনজিও বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করেছে রোহিঙ্গাদের জীবনধারণে সহায়তায়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের টিকে থাকার জন্য আরও অনেক মৌলিক সমর্থন প্রয়োজন। তাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রয়োজন। তাদের অনেকেই দেশে ফিরে যেতে চান। কিন্তু আরও সহিংসতা ও নিষ্পেষণের ভয়ে তারা আতঙ্কিত।
মিয়ানমারে অবনতিশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে সেভ দ্য চিলড্রেন লিখেছে, মিয়ানমারে রয়েছে বৈষম্যমুলক নীতি। এর অর্থ হলো, রাখাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গা সম্প্রদায় চলাচলে অব্যাহতভাবে কঠিন বিধিনিষেধের মুখে থাকবে, তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার অধিকার ও জীবন ধারণের অধিকার থাকবে সীমিত। প্রায় এক লাখ ২৮ হাজার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায় এখনও মধ্য রাখাইনে বন্দিশিবিরে আটক আছেন সেই ২০১২ সাল থেকে। তারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা বন্দিশিবির সম্পর্কে সেভ দ্য চিলড্রেন লিখেছে, গত দুই বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে বেঁচে আছেন মানবিক সাহায্যের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বের অধীনে মানবাধিকার বিষয়ক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই আশ্রয়শিবিরের অবস্থা উন্নত হয়েছে, বর্ষা মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি দৃঢ় করা হয়েছে, রোগ ছড়িয়ে পড়া রোধে সহায়তা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এ আশ্রয়শিবিরের অবস্থা এখনও করুণ। সেখানে নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ রয়েছে।

কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের আদালতে যাবে পাকিস্তান

ভারতের সঙ্গে কাশ্মীর নিয়ে বিরোধ এবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস) তুলবে পাকিস্তান। মঙ্গলবার পাকিস্তান সরকার এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেছেন, কাশ্মীর ইস্যুটি আমরা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সব আইনি বিষয় বিবেচনায় নেয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওদিকে আলাদাভাবে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তথ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফিরদৌস আশিক আওয়ান মন্ত্রীপষিদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি ওই আদালতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীপরিষদ। এ নিয়ে অভিযোগে পাকিস্তান গুরুত্ব দেবে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
উল্লেখ্য, ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস হলো জাতিসংঘের বিচারিক অঙ্গ। জাতিসংঘ সনদের অধীনে ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই আদালত। কাজ শুরু করে ১৯৪৬ সালের এপ্রিলে। এ আদালতকে ওয়ার্ল্ড কোর্ট নামেও অভিহিত করা হয়। এই আদালতের অবস্থান নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে পিস প্যালেসে। জাতিসংঘের মূল ৬টি অঙ্গ। তার মধ্যে শুধু এই ওয়ার্ল্ড কোর্টই নিউ ইয়র্কের বাইরে অবস্থিত। এই আদালতের ভূমিকা হলো, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে রাষ্ট্রগুলো উত্থাপিত আইনি বিরোধ মিটিয়ে দেয়া, আইনি প্রশ্নে পরামর্শ দেয়া। এই আদালতে আছেন ১৫ জন বিচারক। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন ও নিরাপত্তা পরিষদ এসব বিচারককে ৯ বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত করে।
ফিরদৌস আশিক আওয়ান বলেছেন, জাতিসংঘের এই শীর্ষ আদালতে পাকিস্তানের পক্ষে মামলা লড়বেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীদের একটি প্যানেল। উল্লেখ্য, গত ৫ই আগস্ট একতরফাভাবে জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার। সাত দশক ওই সুবিধা ভোগ করলেও আকস্মিকভাবে সরকার ওই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। তারা কাশ্মীরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করে। সাবেক দু’জন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর ফারুক সহ নির্বাচিত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে। ভারত সরকার তার সংবিধান থেকে বাতিল করে ৩৭০ অনুচ্ছেদ। এর ফলে কাশ্মীরের জমিজমার অধিকার ভারতের অন্য রাজ্যের মানুষ ভোগ করতে পারবে। তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবে। বিয়ে করতে পারবে কাশ্মীরে। কাশ্মীর মূলত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু সরকার তার পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সেই জনসংখ্যাতত্ত্বকে পাল্টে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এসব সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান। তারা ইসলামাবাদে নিয়োগ করা ভারতীয় হাই কমিশনার অজয় বিসারিয়াকে বহিষ্কার করেছে। স্থগিত করেছে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য। কাশ্মীর ইস্যুটি নিয়ে গেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে। এতে তাদেরকে সমর্থন করেছে চীন। ওদিকে ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে পাকিস্তান পালন করেছে কালোদিবস হিসেবে। অন্যদিকে কাশ্মীরি জনগণের কণ্ঠকে বিশ্বের প্রতিটি ফোরামে তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এ ইস্যুতে নীরব থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

গুলাম নবী আজাদকে কাশ্মীরে ঢুকতে ফের বাধা, ফেরত পাঠানো হল দিল্লিতে

গুলাম নবী আজাদ
ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলাম নবী আজাদকে জম্মু-কাশ্মীরে ঢুকতে ফের বাধা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে জম্মু বিমান বন্দর থেকে দিল্লিতে ফেরত পাঠানো হয়। এরআগে গত ৮ আগস্টও গুলাম নবী আজাদকে শ্রীনগর বিমান বন্দরে থামিয়ে দিল্লিতে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী গুলাম নবী আজাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে প্রকাশ, তাঁকে বিমান বন্দরের বাইরে বেরোতে দেয়া হয়নি। রাজ্য কংগ্রেস কমিটির বৈঠকে তার যোগ দেয়ার কথা ছিল। গুলাম নবী আজাদ দুপুর দেড়টার দিকে জম্মুর উদ্দেশ্যে গেলে প্রশাসনের নির্দেশে জম্মু বিমানবন্দরে তাকে বেলা আড়াইটা নাগাদ হেফাজতে নেয়া হয়। এরপরে তাকে দিল্লিতে ফেরত পাঠানো হয়। তাঁকে বাসায় ফিরতে অথবা জম্মু প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদর দফতরে দলীয় বৈঠকে অংশ নিতে দেয়া হয়নি।
ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ আজাদ বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য এটা ঠিক নয়। মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো যদি সেখানে সফর করতে না পারে তাহলে কে করবে? জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রী আগেই গৃহবন্দী রয়েছেন এবং একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এটি অসহিষ্ণুতার লক্ষণ।’
গত সোমবার সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবী আজাদ ৩৭০ ধারা বাতিল ও রাজ্যটি পুনর্গঠন প্রসঙ্গে বলেন, 'মোদি সরকার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপত্যাকার কেউ খুশি নন ওই সিদ্ধান্তে। কেন্দ্রের ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।'
অন্যদিকে, গত সোমবার গুলাম নবী আজাদ গণমাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘কাশ্মীরের পরিস্থিতি ঠিক নেই। লোকেরা ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশের মধ্যে রয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী জোর করে তরুণদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। সরকার বলুক এ পর্যন্ত কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে?’
তিনি বলেন, ‘যদি সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় তাহলে কেন নেতাদের গৃহবন্দি করা হয়েছে? নেতাদের বাসায় আটকে রাখা হচ্ছে। লোকদের বাইরে  বেরোনোয় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তার প্রশ্ন- যদি সেখানে সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে এমন নিষেধাজ্ঞা কেন আরোপ করা হচ্ছে? রাজ্যের নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ারও দাবি জানান কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলাম নবী আজাদ।

ডেঙ্গু পরীক্ষায় ব্যস্ত কর্মী এখন নিজেই ডেঙ্গু রোগী by পিয়াস সরকার

জাহিদুল ইসলাম। ২৮ বছর বয়সী এই তরুণ একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান। কাজ করেন দোয়েল প্যাথলজি সেন্টার, মানিকগঞ্জে। ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করার পর থেকে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন তিনি। দিন রাত করে গেছেন রক্ত পরীক্ষা। এমনকি ঈদের দিনেও করতে হয়েছে কাজ। গত বৃহস্পতিবার প্রায় ১শ’ জনের রক্ত পরীক্ষা করেন। সেদিন রাতে হালকা জ্বর অনুভব হয় তার।
পরদিন শুক্রবার নিজের কর্মস্থলেই করেন রক্ত পরীক্ষা। ধরা পড়ে ডেঙ্গু। সেদিনই ভর্তি হন মানিকগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে। সেখানেই চলছিলো তার চিকিৎসা। কিন্তু হঠাৎ রক্তের প্লাটিলেট কমতে থাকে। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়ে আসা হয় ঢাকা মেডিকেলে। এখানে তিনি ভর্তি হন সোমবার রাতে। তার বাবা কৃষক ও মা গৃহিণী। হাসপাতালে তার পাশে বড় ভাই। গতকাল দুপুরে মশারীর ভিতর শুয়ে ছিলেন জাহিদুল। হাতে ক্যানোলা লাগানো। জাহিদুল বলেন, এতোদিন রোগীদের দেখে আসছি এখন নিজেই রোগী। কি যে যন্ত্রণা ভাই। শরীর ব্যথা করে সারাদিন। খাইতে পারি না কিছু। খাইলেই বমি বমি লাগে। আরেক যন্ত্রণা মশারীর ভিতর থাকা লাগে সারাদিন। ফ্যান মাথার উপর। ঘোরে খুবই ধীরে। এমনি বাতাস লাগে না তার ওপর মশারী। গরমে অস্বস্তি লাগে বেশ।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক সেবিকাসহ সবাই বেশ আন্তরিক। তবে প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট পেতে সময় লাগছে। আর দালালের আনাগোনাতো আছেই।

দালালের কথা উঠতেই তার বড় ভাই রাকিবুল ইসলাম বলেন, প্রথম যেদিন আসলাম সেদিন ভর্তি হবার আগেই দালাল হাজির। প্রথমে বেডের ব্যবস্থা করার কথা বলে। চায় ২ হাজার টাকা। শেষে ১ হাজার টাকা দিয়ে একটি বেডের ব্যবস্থা করে দেয়। শরীর দুর্বল হওয়ায় হুইল চেয়ারে নিয়ে আসতে হয়। তাকেও দিতে হয় ২শ’ টাকা। চেয়েছিলো ৫শ’ টাকা। এটা তার দায়িত্ব এরজন্য টাকা দিতে হবে কেন? এইকথা বলায় রীতিমতো হুমকি দিয়ে টাকা নিয়ে যায়। এরপর রক্ত পরীক্ষার সময় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছি। আর তখনি বেশ কয়েকজন অফার করেন বাইরে থেকে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে এনে দেবেন।

নানা চোখে জয়শঙ্করের ঢাকা সফর

জল্পনা-কল্পনা ছিল বাংলাদেশ সফররত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আসামের কথিত অবৈধ অভিবাসী এবং তিস্তাচুক্তি নিয়ে কি বলেন। তিনি বলেছেন, আসামের ‌অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিত করার বিষয়টি ভারতের ‌অভ্যন্তরীণ বিষয়। আর তিস্তার বিষয়টি এড়িয়ে তিনি ৫৪ নদীর পানি ভাগাভাগির ওপর বেশি জোর দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১০ দিনের কম সময়ের ব্যবধানে ঢাকা- দিল্লি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় আলোচনা একটি বিরল অগ্রগতি।
ভারতের ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ভারতীয় ভাষ্যকার গৌতম লাহিরি বলেছেন, ‌‌ তিস্তা চুক্তি নিয়ে একটা সংকল্প ব্যক্ত করার বিনিময়ে সাউথ ব্লক অবৈধ অভিবাসী বিষয়ে কিছু ছাড় আশা করছে।'' কিন্তু ঢাকায় মঙ্গলবার দুই বিদেশ মন্ত্রীর বৈঠকের পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এম এ মোমেন বলেছেন, তারা সকল বিষয়ে কমবেশি একমত হয়েছেন। We more or less came to a consensus on all issues. কিন্তু বিষয়গুলোর বিবরণ তিনি প্রকাশ করেননি। আবার এই তথ্যও তিনি দেননি যে, বাংলাদেশ মি. জয়শঙ্করের কাছে এবিষয়ে বাংলাদেশী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কি করেনি। বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক উভয়ের স্বীকৃতমেত ‌সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌছানোর পরে এর আগে চীনের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনা এবং অধুনা অবৈধ অভিবাসী বিষয়ে কথিত টানাপোড়েনের খবর জানা যাচ্ছে। 
সোমবার দি হিন্দু জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যয়ের ৭ম বৈঠকের যৌথ ইশতিহার প্রকাশ পায়নি। এটাই উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পিটিআই জানায়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মি. জয়শঙ্কর মঙ্গলবার ঢাকায় বলেছেন, আসামে অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিতকরণের যে প্রক্রিয়া চলছে সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। গত ১০ বছরের ইতিহাসে এটাই প্রথম যে তারা অবৈধ অভিবাসী ইসু্য তুলেছেন। বিজিপির সব পর্যায়ের নেতারা  বরাবর ভারত থেকে লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়ে আসছে। 
আগামী ৩১ আগস্টে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পাবে। বিশ্লেষকদের অনেকেই তাই অল্প সময়ের ব্যবধানে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী কর্তৃক বাংলাদেশী নেতাদের বৈঠককে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
ঢাকার পর্যবেক্ষরা করছেন  যে  ১৯৯১ সালে প্রথম সরকার গঠনের পরে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রথম ভারত সফরে গিয়েছিলেন, তখন একটি যৌথ বিবৃতির ১১ নম্বর ধারায় অনুপ্রবেশের বিষয়টি উঠেছিল। তখন এই বিষয়ে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামীলীগ বিএনপি নগজানু হওয়ার জন্য  কঠোর সমালোচনা করেছিল। ভারতের ফিন্যানন্সিয়াল এক্সপ্রেস অবশ্য মি. জয়শঙ্করের সফরকে সামনে রেখে করা প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ‌'ব্যাপক ভিত্তিক অবৈধ অভিবাসনের ইসু্' দুদেশের মধ্যে আদৌ থাকার কোনো সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে ভারতের বাংলাদেশকে চাপ দেয়া ঠিক হবে না। তার ধরে নেয়া উচিত নয় যে, বাংলাদেশ চীনের দিকে ঝুকতে পারে । ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পাওয়ার খবর ভারতের সংবাদ মাধ্যমে সতর্কতার সঙ্গে আসছে। এর আগে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে সফরের আগে পিটিআই 'দায়িত্বশীল সূত্রের' বরাত দিয়ে বলেছিল, অমিত শাহ অবৈধ অভিবাসন প্রসঙ্গ তুলবেন। ভারতের বড় পত্রিকাগুলো পিটিআইয়ের খবরকে গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছিল।
উল্লেখ্য, আসামের সর্বত্র তোলপাড় চলছে। ৩১ আগস্টের পরে সেখানে কি ঘটবে তা নিয়ে অসমীয় পত্রিকাগুলো ফলাও করে এনআরসির খবর ছাপছে।  গত বছরে প্রকাশিত এনআরসির তালিকা অনুযায়ী ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে।  আর তা তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কে জন্ম দিয়েছে।
পিটিআই বলেছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী তিস্তা প্রসঙ্গে বলেছেন, ভারত সেই অঙ্গিকার থেকে সরে আসেনি। তবে অঙ্গিকার কি ছিল, তা তিনি প্রকাশ করেননি।
ঢাকার কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে আশঙ্কা করছেন যে, তিস্তা নদীর পানি অনিষ্পন্ন রেখে অন্য কোন নতুন নদীর চুক্তির কথা সহজেই চলে আসতে পারে।
সম্প্রতি দেশের যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে । আর সেই বৈঠকেও তিস্তা নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে কোন কথা আসেনি।
তবে সাংবাদিকরা গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে যখন নির্দিষ্টভাবে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে জানতে চান তখন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ''এই বিষয়ে আমাদের একটি অবস্থান রয়েছে, সে সম্পর্কে আপনারা অবগত রয়েছেন।  এ বিষয়ে আমাদের একটি অঙ্গীকার রয়েছে এবং তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি ।
পিটিআই বলেছে, ভারতের এই বিষয়ে একটি অবস্থান হলো পশ্চিমবঙ্গ যখন রাজি হবে তখন চুক্তিটি সই হবে। রোহিঙ্গা নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি মিয়ানমারকে চাপ দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলেননি।
কানেক্টিভিটি নিয়েও কথা বলেছেন জয়শংকর। বলেছেন, বিভিন্ন রুটে কানেক্টিভিটি দু'দেশের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমরা এ বিষয়ে একটা ‌'অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা' করতে চাই । জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে জয়শংকর বলেছেন, এ বিষয়ে আমরা  সাফল্য দেখতে চাই । কারণ তাতে উভয় দেশের স্বার্থ নিহিত। বাণিজ্য বিষয়ে  বলেন, বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিকর হয় এমনভাবে দুদেশের বাণিজ্যে সম্পর্কের অগ্রগতি হবে। তিনি  আরো উল্লেখ করেন যে ঢাকায় বৃহত্তম কনসুলার সার্ভিস পরিচালিত হচ্ছে এবং আমরা এটা সিমলেস করতে চাই। তার কথায়, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক হবে একটি দৃষ্টান্ত । যাতে সবাই দেখবে যে দুই প্রতিবেশী কত ভালো কাজ করতে পারে।
জয় শংকরের কথায়,  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এটা দেখতে চান যে বাংলাদেশ -ভারতের মৈত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় একটি রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেছেন, ভারতিয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে।

কাশ্মীর: স্কুল খুলেছে কিন্তু শিক্ষার্থীরা কোথায়?

ভারত শাসিত কাশ্মীরে বেশ কিছু স্কুল সোমবার খুলে দেয়া হয়েছে, কিন্তু শ্রেণী কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের দেখা যায়নি একেবারেই।
কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল নিয়ে প্রায় দু সপ্তাহ ধরে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার কিছু স্কুল খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে যেসব স্কুল খুলে দেয়া হয়েছে এগুলো মূলত সরকারি স্কুল এবং বেসরকারি স্কুলগুলো বন্ধই আছে।
যেসব স্কুল খুলেছে তাতে সোমবার ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরে এখনো অবরুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করছে।
কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, সবচেয়ে বড় শহর শ্রীনগরে দুশোর মতো স্কুল খুলে দিয়েছে তারা।
কিন্তু সাংবাদিকরা অনেক স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাননি।
শূন্য শ্রেণীকক্ষ
অভিভাবকরা বলছেন, নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
ব্যাপক নিরাপত্তা আয়োজন সত্ত্বেও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদে সেখানে বিক্ষোভ হচ্ছে এবং প্রায়ই তা সহিংস রূপ নিচ্ছে।
কাশ্মীর একটি বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড যার দুটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত ও পাকিস্তান।
ভারত শাসিত অংশ জম্মু ও কাশ্মীর এতদিন বিশেষ মর্যাদা পেলেও সম্প্রতি তাকে দু ভাগ করে রাজ্যের মর্যাদায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
অংশ দুটিই এখন সরাসরি দিল্লীর শাসনে রয়েছে।
সন্তানদের বাড়িতেই রাখতে চাইছেন অভিভাবকরা
তিন দশক ধরে এই কাশ্মীরে চলছে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা, যাতে নিহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
বিশেষ মর্যাদা বাতিলকে কেন্দ্র করে মূলত কাশ্মীরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী ধরে এবং সব ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি টেলিফোন লাইন কিছুটা চালু হলেও বিক্ষোভ বেড়ে যাওয়ার পটভূমিতে মোবাইল ফোন সেবা ও ইন্টারনেট এখনো বন্ধ আছে।
বিবিসি সংবাদদাতারা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে দেয়ার পরিবর্তে বাসায় রাখতেই স্বস্তি পাচ্ছেন, বিশেষ করে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু না হওয়া পর্যন্ত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন স্কুল শিক্ষককে উদ্ধৃত করেছে, যিনি বলেছেন - এ ধরণের 'অনিশ্চিত অবস্থায়' তারা শিক্ষার্থীদের স্কুলে আশা করেন না।
শুধুমাত্র সরকারি স্কুল খুলে দেয়া হয়েছে
তিনি আরও বলেন যে, অনেক স্কুল এখনো বন্ধ বা শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী খুবই কম এসেছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বোঝার চেষ্টা করছেন যে কত সংখ্যক শিক্ষার্থী স্কুলে এসেছে।
তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে খবর সংগ্রহ করাও কঠিন।
যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিনিয়তই কাশ্মীর নিয়ে তার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেই চলেছেন।
তার মতে, এটা দরকার ছিল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে।
কিন্তু কাশ্মীরের জনগণ ও নেতাদের মতে, এটা বিশ্বাসঘাতকতা এবং এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের সাথে কোন আলোচনাই হয়নি।
বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা থেকেই বন্দী আছেন সেখানকার সুপরিচিত রাজনৈতিক নেতারা।
কর্মকর্তারা বলছেন তারা বোঝার চেষ্টা করছেন যে কত সংখ্যক শিক্ষার্থী স্কুলে এসেছে

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: বসতভিটা বিক্রি করে ঢাকায় জজ মিয়া

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বলি সেনবাগের জজ মিয়া বসতভিটা বিক্রি করে রাজধানীতে পালিয়ে গেছে। সর্বহারা হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পৈতৃক নিবাসের বসতবাড়ির একমাত্র মাথা গোঁজার জায়গাটুকু হারিয়ে সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট গ্রামের টেন্ডল বাড়ির জালাল আহমদ জজ মিয়া দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর বর্তমানে সর্বস্বান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় এক বস্তিতে বসবাস করছেন। জজ মিয়া বাঁচার তাগিদে মা আর ছোট বোনকে  নিয়ে দেশটিভির গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে চাকরি করছিলেন। কিন্তু স্বল্প বেতনে তার পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন কষ্টসাধ্য হওয়ায় চাকরিটি ছেড়ে দিয়ে বর্তমানে অন্যত্র চাকরির আশায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সারা দেশে জজ মিয়া আলোচিত হলেও এলাকায় বা আত্মীয়স্বজনদের কেউই তার পরিবারের খোঁজখবর জানেন না। বীরকোট গ্রামের মৃত আবদুর রশিদ ও জোবেদা খাতুনের ৪ ছেলে ১ মেয়ের মধ্যে জজ মিয়া দ্বিতীয়। প্রায় একযুগ আগে তার বাবা মারা যাওয়ার পর সামান্য পুুঁজি নিয়ে ঢাকার মতিঝিলে ফলের ব্যবসা করতেন জজ মিয়া।
২০০৪ সলের ২১শে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হওয়ার প্রায় ৯ মাস পর ২০০৫ সালের ৯ই জুন সেনবাগ থানার এ এস আই কবির হোসেন বীরকোট গ্রামের রাজামিয়ার চা দোকান থেকে গ্রেপ্তার করে জজ মিয়াকে। পরে থানা থেকে জজ মিয়াকে সিআইডির এএসপি আব্দুর রশিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর কয়েক দিনের মাথায় জজ মিয়া ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকারোক্তির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। নানা নাটকীয়তার পর ২০০৮ সালের ১১ই জুন আদালতে সিআইডির দাখিল করা চার্জশিটে ২২ জনকে আসামি করা হলে অব্যাহতি দেয়া হয় জজ মিয়াকে। তখন জজ মিয়া মুক্তির বিষয়টি আটকে যায় ঢাকার সূত্রাপুর থানায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা (১০৮, তাং- ২৭-১২-৯৮) মামলায়। এ মামলায় কোনোদিন জজ মিয়াকে আদালতে হাজির না করা হলেও ২০০৫ সালের ২রা নভেম্বর আদালত তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। দীর্ঘ তদন্তের পর সিআইডির পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল জজ মিয়া ঐ হামলায় জড়িত। যদিও তখনই এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহলে। এর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তদন্তে মূল রহস্য বেরিয়ে আসে। মামলা ভিন্নখাতে চাপানোর নায়ক তৎকালীন জোট সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট সিআইডির তিন তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি আব্দুর রশিদ, এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান ও বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে সরকার মামলা করে।
সেই সময়ে গ্রেনেড হামলা মামলায় ওই তিন জনকে আসামি করে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সঙ্গে অভিযুক্ত করা হয় তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে জজ মিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দিলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার সময়ে তদন্ত শেষে সম্পূরক চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয় জজ মিয়াকে। দীর্ঘ ৪ বছর ২ মাস ২৫ দিন কারাভোগের পর ২০০৯ সালের ২০শে জুলাই কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান জজ মিয়া। কারামুক্তির পর ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে বীরকোট তার পৈতৃক বাড়িতে এসে আত্মীয়দের ঘরে উঠেন জজ মিয়া। কারণ, মামলার খরচ জোগাতে ভিটেমাটিসহ সবকিছুই হারাতে হয়েছে জজ মিয়ার পরিবারকে। মঙ্গলবার জজ মিয়ার পৈতৃক নিবাস বীরকোট গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বিক্রীত বসতঘরের দরজায় তালা ঝুলছে। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করলে জানাযায় জজ মিয়া জেলে থাকা অবস্থায় তার পরিবার বসতবাড়ির জায়গাটুকু তার জেঠাতো ভাই রফিক উল্যার কাছে বিক্রি করে দেয়। সরজমিনে অনুসন্ধানে আরো কিছু জানতে চাইলে বেরিয়ে আসে জজ মিয়ার মামলার স্বাক্ষী বীর কোট গ্রামের সাবেক মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তাফা চৌধুরীর কথা। পরে গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি জানান, ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় জড়ানো জজ মিয়া ঘটনার দিন ও সময়ে তার বাড়ির পাশে  বাবুলের দোকানে আমাদের সঙ্গে বসে চা খেতে খেতে টেলিভিশনের পর্দায় খবরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ঘটে যাওয়া গ্রেনেড হামলার দৃশ্য দেখছিলেন।
কিন্তু গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে জড়িয়ে তার পরিবারটিকে সর্বস্বান্ত করা হয়েছে। এর পর কেউই তার খোঁজখবর রাখেননি। মুঠোফোনে আলাপ করলে জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুন জানান, আমার নিরপরাধ ছেলেটিকে ধরে নিয়ে সিআইডির লোকেরা কত নাটক সাজাইছে। আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় আটকিয়ে আমার পুরো পরিবারটিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি জানান, আমি বাড়িঘর বিক্রি করে দিতে হয়েছে। জোট সরকারের আমলে সর্বস্বান্ত হয়ে বর্তমান সরকারের নিকট একটু মাথা গোঁজার জায়গার জন্য বহু আবেদন করেও না পেয়ে বর্তমানে বস্তিতে বসবাস করছেন বলে জানান জোবেদা খাতুন। ছেলের ভবিষ্যৎ পথচলা ও নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করলেন মা জোবেদা। এদিকে বহুল আলোচিত জজ মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি জানান, আমাকে নিয়ে সিআইডির নাটকের কথা এদেশের মানুষ জানেন। মিথ্যা মামলায় পড়ে আমার জীবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো চলে গেছে। তিনি বলেন আমি কখনো কোনো রাজনীতি বা দলাদলিতে ছিলাম না। টুকিটাকি ব্যবসা করে কোনোরকমে পরিবার পরিজন নিয়ে চলতাম। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তাদের লেলিয়ে দেয়া সিআইডি কর্মকর্তাদের সাজানো মামলায় আমাকে বলি করা হয়েছে। তাদের নাটকের বলি হয়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর বর্তমানে আমি নিঃস্ব। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে একটু মাথাগোঁজার জায়গা ও জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি চাকরি পেলে সংসার জীবনে পদার্পণ করে সুখী জীবনযাপন করতে পারব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জালাল আহমদ জজ মিয়া।

এখনো যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছে ওরা by শুভ্র দেব

হঠাৎ বিকট শব্দ। ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার। বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার। ভেসে আসছিল কান্নার সুর। প্রাণ বাঁচাতে সবার ছোটাছুটি। কে কোথায় যাবে দিশে পাচ্ছিল না। ট্রাকের ওপর সবাই আপাকে (শেখ হাসিনা) ঘিরে ধরে আছে। চারদিকে শুধু রক্ত আর রক্ত।
পর পর আরও কয়েকটা বিকট শব্দ হয়। চোখের সামনে পড়ে থাকতে দেখি পরিচিত কিছু মুখ। তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরছিলো। আর যন্ত্রণার আর্তনাদ। কি করব তখন বুঝে উঠতে পারছিলাম না। পরে কয়েকজনকে নিয়েই ঢাকা মেডিকেলে চলে যাই। কিন্তু আমার শরীর থেকে যে রক্ত ঝরছিলো সেদিকে আমার খেয়ালই ছিল না। ২০০৪ সালের ২১শে ভয়াল আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত ও প্রত্যক্ষদর্শী বিটু বিশ্বাস এভাবেই সেদিনের স্মৃতিচারণ করছিলেন। বর্তমানে তিনি একুশে আগস্ট বাংলাদেশ-২০০৪ সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
বিটু বিশ্বাস মানবজমিনকে বলেন, ওই দিন আসর নামাজ পড়ে আমি বঙ্গবন্ধু এভিনিউর পার্টি অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে দলীয় একটি প্রোগ্রাম ছিল। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আমি ব্যানার ঠিক করছিলাম। ঠিক তখনই শুনতে পেলাম বিকট এক শব্দ। প্রথমে মনে করেছিলাম ককটেল ফুটানো হয়েছে। কিন্তু মূহুর্তের মধ্যে দেখি পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে গেছে।  দিক বেদিক যখন সবাই ছোটাছুটি করছিলো তখন এক সংবাদকর্মী আমার কাছে দৌঁড়ে এসে বলে আমাকে বাঁচান। তাকিয়ে দেখি তিনি রক্তাক্ত। এই অবস্থায়ই আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম। পরে তাকে ও আহত লিটন মোল্লাকে নিয়ে আমরা কয়েকজন ঢাকা মেডিকেল যাই। সেখানে গিয়ে মানুষ আর মানুষ। সবাই রক্তাক্ত। হাসপাতালে কোনো সিট মিলছে না। আমি আমার পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি রক্ত ঝরছে। শরীরে যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। তখনও বুঝি নাই। কি হয়েছে, কি ফুটেছে। পরের দিন সংবাদপত্রে জানতে পারি ওইটা গ্রেনেড হামলা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে সিট না পাওয়ায় আমাদেরকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। হামলার এত বছর পরেও আমিও অসুস্থ। মাঝে মধ্যে জ্বর আসে। পা অবশ হয়ে যায়। চিকিৎসা নিয়ে ভালই আছি। আপা আমাদের পাশে আছেন। অনেক সুযোগ সুবিধা আমাদেরকে দিচ্ছেন। এখন আমার একটাই আশা যে রায় হয়েছে সেটা যেন কার্যকর হয়।
ভয়াল সেই দিনের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে আহত লিটন মোল্লা বলেন, ঘটনার দিন যখন নেত্রী বক্তব্য শুরু করেন তখন আমি ট্র্যাকের নিচে সিঁড়ির মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বিকট শব্দের সঙ্গেই অন্ধকার হয়ে গেল চারপাশ। নাকে শুধু আসে বারুদের গন্ধ। তারপর আর কিছু বলতে পারি নাই। যখন জ্ঞান ফিরে এল তখন আমি নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করি। শুনেছি ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর আমার অবস্থা দেখে আমাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে আমাদের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসার ও সহসভাপতি মতিউর রহমান মতি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাসেল ও বিটু বিশ্বাস আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও কোন সিট পাওয়া যায়নি, তাই শিকদার মেডিকেলে পরে ট্রমা সেন্টারে নেয়া হয়। মুলত ট্রমা সেন্টারেই চিকিৎসা হয়। আমার শরীরের অসংখ্য স্প্লিন্টার ছিল। ট্রমা সেন্টারে অস্ত্রোপচার করে কিছু স্প্লিন্টার বের করা হয়েছে। এখনও অসংখ্য স্প্লিন্টার শরীরে। যন্ত্রণায় রাতে ঘুমাতে পারি না। মাসের ১৫দিনই অসুস্থ থাকি। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতায় এখনও আমি বেঁচে আছি। চিকিৎসার খরচ, পারিবারিক সঞ্চয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমার মত আহতদের অভিভাবক তিনি। লিটন মোল্লা ২১শে আগস্ট বাংলাদেশ-২০০৪ শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
গ্রেনেড হামলায় আহত ও জাতীয় হকার্স লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, নেত্রী জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলার সঙ্গে সঙ্গেই বিকট একটা আওয়াজ হল। তারপর চারদিক ধোঁয়ায় অন্ধকার। একের পর এক বিকট শব্দ হচ্ছে। পুলিশও তখন কাঁদুনে গ্যাস ছুঁড়েছিল। কে কোন দিক দিয়ে পালাবে সেই হুশ কারো ছিল না। মাটিতে তাকিয়ে দেখি রক্তের বন্যা। হানিফ ভাই আমাকে বাঁশি দিতে বললেন। আমি ট্রাকের মঞ্চ থেকে একটু দুরে ছিলাম। তাতেই আমার এক কান নষ্ট হয়ে গেছে। যদি কাছাকাছি থাকতাম হয়তো মরেই যেতাম। ওইদিন সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন তারাই উপলব্ধি করতে পারবে সেই ভয়াল দৃশ্য। হাতে পায়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্প্লিন্টার আর স্প্লিন্টার। মঞ্চের কাছাকাছি যারা ছিল তাদের অবস্থা ছিল সবচেয়ে বেশি খারাপ। অস্ত্রপাচার করে অনেকটা বের করা হয়েছে। এখনও অনেকটা আছে। আমার একটা কানও নষ্ট হয়ে গেছে।
মারাত্বকভাবে আহত রাশিদা আক্তার রুমা বলেন, ভয়াল ওই দিনে আমি ট্র্যাক মঞ্চের একপাশে আইভি আন্টির (আইভি রহমান) পাশে ছিলাম। অনুষ্ঠানও প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের মধ্যে কি যেন এসে আঘাত করল। আন্টিসহ অন্য নেত্রীরাও তখন মাঠিতে লুটিয়ে পড়ে। তারপর আর কিছু বলতে পারি নাই। আমাকে মৃত ভেবে অন্যান্য মরদেহের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়। হঠাৎ আমার হেচকি দেখে এক নারী সাবের হোসেন চৌধুরীকে বিষয়টি জানান। পরে আমাকে চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়। শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে রুমা বলেন, স্প্লিন্টারের আঘাতে শরীর থেকে মাংস ঝরে পড়েছিল। পরপর ১৭ বার অস্ত্রপাচার করা হয়েছে। হাজার হাজার স্প্লিন্টার শরীরের। সবটা অস্ত্রপাচার করে বের করা সম্ভব হয়নি। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সর্বত্রই স্প্লিন্টার। মাঝেমধ্যে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে অবশ হয়ে পড়ে শরীরের কিছু অংশ। রাত হলেই তীব্র যন্ত্রনা শুরু হয় আর চুলকানি। নারকীয় এই হামলায় জড়িতদের শাস্তি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছেন বলে রুমা জানান।

ঢাকায় জয়শঙ্করের ব্যস্ত দিন: এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়

আসামের বহুল আলোচিত নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ‘উড়িয়ে দিয়ে’ সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর বলেছেন, এটি একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ছিল আসামের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) থেকে অনুপ্রবেশের কথিত অভিযোগে ৪০ লাখ ভারতীয় বাদ পড়া এবং তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে মর্মে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে রিপোর্টের প্রেক্ষিতের যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এ নিয়ে বৈঠকে কোন আলোচনা হয়েছে কি-না? সেখানে জবাব না দিলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন পরে নিজ দপ্তরে ফিরে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, না, বৈঠকে এনআরসি নিয়ে কোন কথা হয়নি। দুই মন্ত্রীর কথায় উঠে আসে বৈঠকে বাংলাদেশের বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি সইয়ের বিষয়ে ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি-না, যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি এমন প্রশ্নে দিল্লির বিদেশমন্ত্রী ড. জয়শঙ্কর বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এর কোনো পরিবর্তন হয়নি। দুই দেশের ৫৪ নদীর পানি বণ্টনের ‘ফর্মুলা’ বের করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ভারত জানিয়ে তিনি বলেন, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের দু’পক্ষই লাভবান হয়, এমন একটি ফর্মুলা বের করার জন্য আমরা আলোচনায় সম্মত হয়েছি। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার ওই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-ভারত শক্তিশালী অংশীদারিত্বের প্রেক্ষিত এবং বাস্তবতা, একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যেসব বিষয়ে মোটাদাগে আলোচনা হয়েছে তার খানিকটা তুলে ধরেন ড. জয়শঙ্কর।
বলেন, আমাদের সম্পর্ক আজ কৌশলগত অংশীদারিত্বে রুপান্তরিত হয়েছে। ব্রিফিংয়ে তিনি তার সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, আমার সফরের দু’টি উদ্দেশ্য।
প্রথমতঃ আমাদের দুই দেশের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্টোবরের ভারত সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা। মন্ত্রী বলেন, আমরা তাকে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে) দিল্লিতে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় আছি। আগামী ২২ শে আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ। চীনের মধ্যস্থতা ও ভারতের উৎসাহে সেই প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। বাস্তচ্যুতদের প্রত্যাবাসন নিয়ে বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছে সেই প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে বাস্তুচ্যুতদের দ্রুত প্রত্যাবাসন চায় ভারত। বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের জাতীয় স্বার্থেই প্রত্যাবাসন হওয়া জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুতদের আরও সহায়তা প্রদান এবং রাখাইন রাজ্যের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতেও তাদের প্রস্তুতি থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে ভারত এরই মধ্যে ২৫০টি বাড়ি তৈরি করেছে এবং তা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রতিবেশী প্রথম নীতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ায় ‘রোল মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, আমরা এখন গোল্ডেন এইজ বা সোনালী অধ্যায় পার করছি। এর সূচনা করেছে  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা যে রুপরেখা ঠিক করেছেন সেটির সঙ্গে তিনি আগে পররাষ্ট্র সচিব এবং বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে যুক্ত থাকতে পেতে গর্বিত। বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য ক’টি খাত এবং অগ্রগতিও তুলে ধরেন তিনি। যার মধ্যে ছিল নিরাপত্তা, কানেক্টিভিটি, পানি বণ্টন সহযোগিতা, মানুষে-মানুষে যোগাযোগ ইত্যাদি। নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের যে যৌথ প্রয়াস তার সুফল উভয় দেশের জনগন পাচ্ছে উল্লেখ করে  জয়শঙ্কর বলেন, আমরা এ নিয়ে আজকের বৈঠকেও আলোচনা করেছি। নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা যত বাড়বে সন্ত্রাস ও চরমপন্থা ঠেকানো এবং অপরাধ ততই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। জ্বালানি নিরাপত্তা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, এ খাতে আমাদের দুই দেশের সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রজেক্ট ও সহযোগিতা রয়েছে। এটি আরও বাড়বে।
আমরা এ নিয়ে আলোচনা করেছি, এটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। যোগাযোগ-কানেক্টিভিটির বিষয়ে তিনি বলেন, আকাশ, স্থল ও নৌ যোগাযোগে পারস্পরিক সহযোগিতায় আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এটি আরও বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা সব সম্ভাবনাকে বাস্তবে পরিণত করতে চাই। ভারতীয় মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো, যা ভারতের স্বার্থেও অন্তর্ভুক্ত তা বাস্তবায়নে তারা সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে চান। জয়শঙ্কর বলেন, দু’দেশের খুব গুরুত্বপূর্ণ অভিন্ন ইতিহাস রয়েছে। তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনে অংশ নেয়ার অপেক্ষায় আছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে  সম্পর্ককে ভারত কতটা  গুরুত্ব দেয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের আগে বিদেশমন্ত্রীর সফর এর অন্যতম উদাহরণ। দুই দেশের মানুষে-মানুষে সংযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের সবচেয়ে বড় কনস্যুলার সেবা এখন বাংলাদেশে পরিচালিত হচ্ছে এবং এ নিয়ে ভারত গর্বিত। জয়শঙ্কর বলেন, আমরা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে গর্ব বোধ করি।
সংবাদ সম্মেলনে ‘দারুণ বৈঠক’ হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। বলেন, সব বিষয়েই আমরা কম-বেশি মতৈক্যে পৌঁছেছি। বৈঠক শেষে তার সম্মানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার কথা হয়। চলতি বছরের মে মাসে ভারতের ৩৮তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটি জয়শঙ্করের প্রথম বাংলাদেশ সফর। তিন দিনের সফরে সোমবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন। ঢাকায় নেমেই জয়শঙ্কর সম্পর্ক  বাড়ানোর বার্তা দেন। বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ভালো ও দূঢ় সম্পর্ক রয়েছে। আমরা এটাকে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিতে চাই। এ জন্য আমাদের আলোচনার অনেক বিষয় রয়েছে। মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে সফরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা করেন তিনি। বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। রাতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাসের নৈশভোজে অংশ নেন। তিন দিনের সফর শেষে আজ সকালে তার কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করবেন। ৩ ও ৪ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে যোগ দেবেন তিনি। বহুপক্ষীয় ওই আয়োজনের পাশাপাশি দিল্লি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হবে। এ সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে গতকাল সন্ধ্যায় হস্তান্তর করেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। সরকার প্রধানের আসন্ন দিল্লি সফরে ডজনখানেক চুক্তি সইয়ের কথাবার্তা চলছে।

ট্রাম্পের কৃচ্ছ্রনীতির খড়্গ বাংলাদেশেও!

সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানার আশায় বাংলাদেশে শস্য বৈচিত্র্যকরণে উৎসাহদান কর্মসূচিসহ বিদেশে বড় ধরনের বেশ কিছু সহযোগিতা কাটছাঁট করার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের বাজেট ও ব্যবস্থাপনা অফিস এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে কাজ করছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াশিংটনভিত্তিক রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ডেইলি কলারকে বলেছেন, তাঁদের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ সহায়তার অপচয় হচ্ছে বিদেশে এমন কিছু প্রকল্প চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং সেগুলোতে অর্থায়ন কাটছাঁট করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জার্নাল পলিটিকোর এক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন কংগ্রেসের কাছে ৪৩০ কোটি ডলার বাজেট কমানোর অনুরোধ জানাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট ২০০ কোটি মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক দপ্তরের বাজেট ২৩০ কোটি ডলার কমানোর অনুরোধ করা হতে পারে।

তবে এই কাটছাঁটের সম্ভাব্য ফল নিয়েও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জোরালো সম্পর্ক গড়ার লক্ষ্যে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘বেটার ওয়ার্ল্ড ক্যাম্পেইনের’ নির্বাহী পরিচালক জোরডি হ্যানুম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি নিরপরাধ বেসামরিক জনগণের জন্যও এটি অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ডেকে আনবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অর্থায়ন কমায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রেরই ঝুঁকি বাড়বে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মসূচি কাটছাঁট করার কথা বলেছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লিপনার ইঙ্গিতও মিলেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা দ্য কলারকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) নিজেই বলেছেন যে যারা আমাদের সম্মান করে এবং যারা আমাদের বন্ধু তাদেরই শুধু সহযোগিতা করা উচিত। যখন আমরা আমাদের নিজের সীমান্ত সুরক্ষার জন্যই কংগ্রেসের অনুমোদন পাই না তখন বাংলাদেশে শস্য বৈচিত্র্যকরণ, মধ্য এশিয়া সৌর প্যানেল কেনা এবং দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়া সীমান্ত সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দেওয়া উচিত নয়।’

হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শস্য বৈচিত্র্যকরণ কর্মসূচি এবং গুয়াতেমালা, মধ্য এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র তার বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে ট্রাম্প সরকারের ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধিসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি এরই মধ্যে হোয়াইট হাউসের বাজেট ও ব্যবস্থাপনা অফিসকে বিদেশে সহায়তা বাজেট কাটছাঁট না করার আহ্বান জানিয়েছে।

বন্ধু বেছে বেছে সাহায্য করার ট্রাম্পের নীতি এর আগেও সমালোচিত হয়েছে। যেমন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব উপেক্ষা করে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার পর সাধারণ পরিষদে এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাবের ওপর ভোট হয়েছিল। ওই ভোটের আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভোট দেবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্য দেওয়া বন্ধ করে দেবে। ট্রাম্পের সেই হুমকি সত্ত্বেও জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণাকে অবৈধ আখ্যায়িত করে সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব ১২৮-৯ ভোটে গৃহীত হয়। বাংলাদেশসহ ১২৮টি দেশ ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিল।

ইউএসএআইডি বাংলাদেশে যেসব খাতে সহযোগিতা করে সেগুলোর মধ্যে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা বাজেট কাটছাঁটের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলোতে এসংক্রান্ত কিছু খবরের দিকে তারা দৃষ্টি রাখছে। তাদের কাছে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে এর আগে বিভিন্ন সময় বিদেশে সহযোগিতা কাটছাঁট করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস তা অনুমোদন করেনি।
>>সাউথ এশিয়ান মনিটর।

ভয়াল ২১শে আগস্ট আজ

ভয়াল ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের এই দিনে  ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী’ সমাবেশ রক্তাক্ত হয় সন্ত্রাসের থাবায়। বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আইভি রহমানসহ ২৪ নেতা-কর্মী শাহাদাত বরণ করেন। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী। আহত হন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। আহত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থকদের অনেকে এখনও স্প্লিন্টারের আঘাত নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, দলকে নেতৃত্ব শূন্য করতে সংগঠনের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাসহ দলের প্রথম সারির নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে ওই ঘৃণ্য হামলা চালায় ঘাতকচক্র। শুধু গ্রেনেড হামলাই নয়, সেদিন শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হয় ছয় রাউন্ড গুলি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি আহত হন। তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, মোমবাতি প্রজ্জ্বলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে দলের নেতা কর্মীরা আজ সকাল ৯ টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত বেদীতে পুস্পার্ঘ নিবেদন করবেন।
একইদিন বিকাল ৪টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্য রাখবেন দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্টের কালরাতের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রক্তপিপাসু বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোটের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতায় রাজনৈতিক সমাবেশে এ ধরনের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ পৃথিবীর ইতিহাসে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। ওইদিন  শেখ হাসিনার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আকস্মিক গ্রেনেড বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মারাত্মক বিশৃংখলা, দিনের আলো মুছে গিয়ে এক ধোয়াচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ঢাকা’র তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ, দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতা এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাৎক্ষণিকভাবে এক মানব বলয় তৈরি করে নিজেরা আঘাত সহ্য করে শেখ হাসিনাকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন। মেয়র হানিফের মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত অস্ত্রোপচার করার কথা থাকলেও গ্রেনেডের স্প্লিন্টার শরীরে থাকার কারণে তার অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি ব্যাংকক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এদিকে শেখ হাসিনা গ্রেনেডের আঘাত থেকে বেঁচে গেলেও তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় উল্লেখযোগ্য নিহতরা হলেন- আইভি রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অবঃ) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারি, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মোশতাক আহমেদ সেন্টু, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া। মারাত্মক আহতরা হলেন শেখ হাসিনা, আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক (প্রয়াত), সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত (প্রয়াত), ওবায়দুল কাদের, এডভোকেট সাহারা খাতুন, মোহাম্মদ হানিফ, এএফএম বাহাউদ্দিন নাছিম, নজরুল ইসলাম বাবু, আওলাদ হোসেন, সাঈদ খোকন, মাহবুবা পারভীন, এডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল, নাসিমা ফেরদৌস, শাহিদা তারেক দিপ্তী, রাশেদা আখতার রুমা, হামিদা খানম মনি, ইঞ্জিনিয়ার সেলিম, রুমা ইসলাম, কাজী মোয়াজ্জেম হোসেইন, মামুন মল্লিক প্রমুখ।
ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার অভিযোগ ছিল তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের বিরুদ্ধে। প্রশ্ন ছিল তদন্ত কার্যক্রম নিয়েও। সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সরকার এ হামলার পুনারায় তদন্তের নির্দেশ দিলে এবং সাড়ে তিন বছর পর বিলম্বিত পুলিশ চার্জশিট নথিভুক্ত করা হয়। পুনরায় তদন্তে পুলিশ এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১ জনকে চিহ্নিত করে। একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়ে গত বছরের ১০ই অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত। এই রায়ের বিষয়ে হাইকোর্টে আপিল মামলা শুনানির অপেক্ষায় আছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে সকল নেতা, কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে কর্মসূচি পালনের আহবান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সব শাখার নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি স্মরণ ও পালন করার আহ্বান জানান।

কাঁদছে কাশ্মীর, বেরিয়ে আসছে বেদনার ছবি

ব্রিটিশ পত্রিকা মেট্রো-র এক প্রতিবেদনে জম্মু-কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বেশ কিছু স্থিরচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। যাতে ক্ষতবিক্ষত এক কাশ্মীরের চিত্র ধরা পড়ছে।
ছবিগুলোতে জম্মু-কাশ্মীরে ভারত সরকারের আরোপিত অচলাবস্থার কারণে জনজীবনে যে দুর্যোগ নেমে এসেছে তার চিত্র তুলে ধরা হয়েছ। অচলাবস্থার মধ্যে স্বজনদের সঙ্গে কাশ্মীরিদের যোগাযোগের আপ্রাণ চেষ্টার আকুলতাও ধরা পড়েছে ছবিতে।
সাম্প্রতিক চিত্র তুলে ধরার পাশপাশি ওই প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়েছে যে, ২০০৮ সাল থেকে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে প্রায় ৬ হাজার একক অথবা গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। যা থেকে সেখানকার মানুষদের ওপর যে বহুদিন ধরেই দমন-পীড়ন চলছে সে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
গত ৫ আগস্ট মধ্যরাত থেকে জম্মু-কাশ্মীরকে পুরো বিশ্ব থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। জারি করা হয় কারফিউ। কার্যত পশুর মতো খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়েছে কাশ্মীরবাসীকে।

তবে জনজীবন স্বাভাবিক করতে শুক্রবার রাত থেকে কাশ্মীরে আংশিক চালু হয়েছে টেলি যোগাযোগ। বেশ কিছু জেলায় শুরু হয়েছে সরকারি যানবাহনের চলাচল। সোমবার থেকে সব স্কুল-কলেজ খোলার নির্দেশ দিয়েছে কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ। তবে স্কুল-কলেজ খোলার নির্দেশ দেয়া হলেও আতঙ্কে রয়েছে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ।
কেননা এরপরও স্পর্শকাতর পাঁচটি জেলায় চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ এবং মিটিং-মিছিল নিষিদ্ধসহ জারি থাকবে কিছু বিধিনিষেধ।
এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের কারণেও চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ।

ওদিকে, আগামী দিনগুলোতে যাতে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় সেজন্য বিশেষ কৌশলী পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। যা চারটি স্তরে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম। এরমধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সরকারি কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ ও কড়াকড়ি আরোপ, ধর্মীয় নেতাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং কাশ্মীরের তরুণদের বিক্ষোভ মিছিল থেকে বিরত রাখতে পরিবারগুলোর কাছ থেকে মুচলেকা গ্রহণ। তবে কেন্দ্রীয় সরকরের এ ধরনের উদ্যোগ পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, কাশ্মীর ইস্যুতে মারমুখি অবস্থানে রয়েছে ভারত-পাকিস্তান। পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারে আগে আক্রমণ না করার  নীতি থেকে সরে আসার ব্যাপারে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ইঙ্গিতের পাল্টা জবাবে পাক সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, নয়াদিল্লির যেকোনো হামলার সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত ইসলামাবাদ।
>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,

রাস্তায় নবজাতকটিকে নিয়ে টানাটানি করছিল কুকুরের দল

এসআই মোস্তাফিজুরের কোলে সেই নবজাতক
চট্টগ্রাম নগরের বাদামতলী মোড়। রাতের দায়িত্ব শেষে মঙ্গলবার ভোরে থানায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ডবলমুরিং থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় চোখে পড়ে রাস্তার ঠিক উল্টোপাশে কামড়া-কামড়িতে মেতে উঠেছে দুইটি কুকুর। কিছু একটা নিয়ে টানাটানি করছিল কুকুরগুলো। কৌতুহলী হয়ে এগিয়ে যান তিনি। দেখেন রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছে সদ্যোজাত শিশু। তা নিয়ে দুই কুকুরের কামড়া-কামড়ি।

তাৎক্ষণিক শিশুটিকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। খুঁজে বের করেন শিশুটির মানসিক ভারসাম্যহীন মাকেও। পরে মা ও শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন তিনি।

নগর পুলিশের ডবলমুরিং অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আশিকুর রহমান সমকালকে বলেন, 'আগ্রাবাদের বাদামতলী মোড়ে সোনালী ব্যাংকের সামনে কয়েকটি কুকুর নবজাতকটি নিয়ে টানাটানি করছিল। সেখানে দায়িত্বরত এসআই মোস্তাফিজ সেটা দেখে বাচ্চাটাকে উদ্ধার করে প্রথমে মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।'

এসআই মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে জানান, রাতের ডিউটির শেষ ভাগে সহকর্মীদের নিয়ে আগ্রাবাদের বাদামতলী মোড়ের আক্তারুজ্জামান সেন্টারের সামনে অবস্থান করছিলেন তিনি। এই সময় রাস্তার বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের সামনে দুটি কুকুরকে কামড়া-কামড়ি করতে দেখেন। আরেকটি কুকুর কিছু একটা নিয়ে টানাটানি করছে। কৌতুহলী হয়ে এগিয়ে গিয়ে দেখেন একটি সদ্যোজাত শিশু রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছে। নবজাতকের নাড়ি নিয়ে টানাটানি করছে কুকুরগুলো। তখন ওই রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া এক নারীর সাহায্য চান তিনি। রাস্তার পাশে একটি টং দোকান থেকে চেয়ে নেন এক খণ্ড কাপড়। বাচ্চাটাকে মুড়িয়ে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা নবজাতকটিকে পরিষ্কার করে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বাচ্চাটিকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে বাদামতলী মোড়ের অদূরে জনতা ব্যাংকের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় নারীকে বসে থাকতে দেখেন তিনি। গাড়ি থেকে নেমে ওই নারীর নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি কোন কথা বলছিলেন না। শুধু হাতের ইশারায় রাস্তার অপর পাশে দেখিয়ে দিচ্ছিল- যেখানে শিশুটিকে নিয়ে কুকুরগুলো টানাটানি করছিল।

তিনি বলেন, স্থানীয়রা জানিয়েছে ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। এ এলাকায় থাকেন তিনি। সোনালী ব্যাংকের সামনে সন্তান প্রসবের পর রাস্তার অপর পাশে গিয়ে বসে ছিলেন। পরে নবজাতকের সঙ্গে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীকেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা বলেছেন, বাচ্চাটি সুস্থ আছে। তার গায়ে কুকুরের কামড় লাগেনি। মাকে গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ: ত্রিপুরার চাকমা গ্রুপ

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ হিসেবে দাবি করেছে ত্রিপুরায় বসবাসরত চাকমা সম্প্রদায়। তারা জাতিগত নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে বিচারও দাবি করেছে। স্বাধীনতার ৭০ বছর পর তারা এই দাবি করল বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আগরতলা থেকে দেবরাজ দেবের লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ও ত্রিপুরা চাকমা স্টুডেন্স এসোসিয়েশন ত্রিপুরার ১১টি স্থানে ১৭ আগস্টকে ‘কৃষ্ণ দিবস’ হিসেবে পালন করেছে। স্থানগুলো হচ্ছে আগরতলা, কাঞ্চনপুর, পেচারথাল, কুমারঘাট, মনু, চাইলেঙ্গতা, চৌমনু, গন্দচেরা, নতুনবাজার, সিলাচরি ও বিরচানদ্রমানু। তারা ২০১৬ সাল থেকে দিবসটি পালন করছে বলে দাবি করেছে।

আগরতলায় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস.কমকে চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ত্রিপুরা সাধারণ সম্পাদক উদয় জ্যোতি চাকমা বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের হাতে চট্টগ্রাম পার্বত্য এলাকা হস্তান্তর করে যে ঐতিহাসিক অবিচার করা হয়েছে তার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

চাকমা গ্রুপটির রাজ্যের সহ-সভাপতি অনিরুদ্ধ চাকমা বলেন, চাকমা জনগণের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা, জাতিগত শুদ্ধি অভিযান ও অবিচার করার মাধ্যমে যে নির্যাতন ও যন্ত্রণা দেয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগের বছরগুলোর মতো আমরা এই কৃষ্ণ দিবস পালন করছি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে ঐতিহ্যগতভাবে অন্তত ১০টি জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বাস করে। এদের মধ্যে রয়েছে চাকমা, মার্মা, টিপরা, চাক, মুরুং, খুমি, লুসাই, বম, পাঙ্গো ও মগ। এলাকাটির আয়তন প্রায় ৫,১৩৮ বর্গ মাইল। এর সীমানা উত্তরে ত্রিপুরা, দক্ষিণে মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়, পূর্বে মিজোরামের লুসাই পাহাড় ও আরাকান পাহাড়, এবং পশ্চিমে চট্টগ্রাম জেলা। স্বাধীনতার সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের ৯৮.৫ ভাগ অধিবাসী ছিল বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য। কিন্তু তবুও স্যার সাইরিল র‌্যাডক্লিফের নেতৃত্বাধীন বাউন্ডারি কমিশন এলাকাটিকে পাকিস্তানের ভূখণ্ড বলে ঘোষণা করেন।

চাকমা নেতা শ্রেয়া কুমার চাকমা ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার সদরদফতর রাঙ্গামাটিতে ভারতের তেরাঙ্গা পতাকা উড্ডয়ন করেছিলেন। দুই দিন পর রেডিওতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় যে এই এলাকাটি হবে পাকিস্তানের। ২১ আগস্ট পাকিস্তানি বাহিনী তেরাঙ্গা পতাকাটি নামিয়ে ফেলে। এরপর থেকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম পর্যন্ত চাকমা নেতাদেরকে ভারতের প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এতে বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে জাতিগত নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমারা কয়েক ধাপে ভারতীয় এলাকায় আশ্রয় প্রার্থনা করেন। ১৯৮৬ সালে ত্রিপুরা ও মিজোরামের বিভিন্ন শিবিরে ৫০ হাজারের বেশি লোক আশ্রয় নেয়। পরে তাদের অনেককে অরুনাচলে সরিয়ে নেয়া হয়। চাকমা উদ্বাস্তুদের শেষ গ্রুপটি ২০১৩ সালে ত্রিপুরায় আশ্রয় চায়। তাদের পরে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

এতে আরো বলা হয়, বিক্ষুব্ধ চাকমারা আগরতলার টিবি এসোসিয়েশন হলে এক সমাবেশের আহ্বান করেছে। তারা ‘ঐতিহাসিক অবিচারের’ অভিযোগে বিক্ষোভে অংশ নেয়।

তারা বাংলাদেশের পার্বত চট্টগ্রাম এলাকা আবার ভারতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তারা আরো দাবি করেন, সেখানে বসবাসরত চাকমা ও অন্যান্য সম্প্রদায় এখনো ভারতকে তাদের ‘কল্পিত আবাসভূমি’ বিবেচনা করে।