Saturday, May 29, 2010

নিরাপদ মাতৃত্ব গর্ভবতীর অধিকার by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামে নিরাপদ মাতৃত্ব, গর্ভবতীর অধিকার ও মাতৃস্বাস্থ্য পরিচর্যার ব্যাপারে বিভিন্ন শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা রয়েছে। মাতৃত্ব অর্জন নারীসত্তাকে পরিপূর্ণতায় পৌঁছে দেয়। সন্তান গর্ভে এলে মাকে ধর্মীয় অনুশাসন ও অনেক কঠিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়, তা না হলে মা ও শিশু উভয়েরই মৃত্যুর আশঙ্কা হতে পারে। ভবিষ্যতে যিনি মা হবেন তাঁকে অবশ্যই স্বাস্থ্য উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও যথেষ্ট পরিচর্যা করতে হবে। সুস্থ শিশুর জন্য নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ মাতৃত্ব। এজন্য গর্ভবতী মায়ের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম, যত্ন ও সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারী নিরাপদে মা হবেন এ দায়িত্ব আমাদের সবার, প্রকৃতপক্ষে নিরাপদ মাতৃত্ব প্রতিটি গর্ভবতী নারীরই ন্যায়সঙ্গত অধিকার। এর সঙ্গে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই মর্মে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আর সন্তানের পিতার দায়িত্ব হলো মাতার খাওয়া-পরার উত্তম ব্যবস্থা করা।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-২৩৩)
অথচ দেশের অধিকাংশ গর্ভবতী নারীই অপুষ্টির শিকার। ফলে তাঁদের নবজাত সন্তানও হয় পুষ্টিহীন। ভবিষ্যতে কন্যাশিশুটি একদিন পরিবারে মায়ের অবস্থানে যায়। এই মা-ই অপুষ্টিতে নিজে ভুগে জন্মদান করেন পুষ্টিহীন সন্তান। সাধারণত সমাজজীবনে স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের খাদ্য পরিবেশনের পর স্ত্রী নিজের জন্য প্রয়োজনীয় সুষম খাবার রাখেন না। স্ত্রী বা সন্তানের মা যাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণে প্রোটিন ও ভিটামিন-সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণে যত্নবান হন, এদিকে পরিবারের প্রধান বা স্বামীর দৃষ্টি রাখা অবশ্যকর্তব্য। সন্তান পেটে এলে মায়েদের জন্য পুষ্টিকর ও বেশি খাবার খাওয়া প্রয়োজন। কেননা তাঁর খাবারে একটি নয়, দুটি প্রাণ বাঁচে। বিশেষ করে গর্ভকালীন এবং শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান বা দুধ দানকালে এ ব্যাপারে বেশি সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার। তাই গর্ভবতী স্ত্রীর খাবারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে রাসূলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমরা (স্বামীরা) যা খাবে তাদেরকে (নারীদের) তা-ই খেতে দিবে।’
ইসলামের দৃষ্টিতে গর্ভবতী মায়ের যত্ন মূলত শিশুর যত্ন। সন্তান যে মুহুর্তে মাতৃগর্ভে আসে, ঠিক তখন থেকেই শিশুর যত্নের সঙ্গে সঙ্গে মায়ের যত্ন নিতে হয়। গর্ভবতী মাকে অবশ্যই তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অবলম্বন করতে হবে। তাকে সর্বপ্রকার খারাপ কাজ, অসদাচরণ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে হবে। সন্তান গর্ভে এলে মায়ের শরীরে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য ও পুষ্টির দরকার হয়। তাই গর্ভবতী মাকে বেশি করে পুষ্টিকর ও পরিমিত সুষম খাবার খেতে হবে। এই মর্মে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ প্রদত্ত রিজিক থেকে তোমরা উত্তম খাবার খাও।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৭২)
মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা নারীকে প্রদান করেছেন নিরাপদ মাতৃত্বের অধিকার তথা গর্ভধারণের ক্ষমতা। যদিও বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই নারীর গর্ভধারণ ও শিশু জন্মদানের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতি বছর বিশ্বে পাঁচ লাখ নারী জন্মদানসংক্রান্ত জটিলতায় মারা যান। সন্তান প্রসবজনিত কারণে বিশ্বে প্রতি মিনিটে একজন মা মারা যান। প্রসবকালীন জটিলতার কারণে কেউ আজীবন অসুস্থ জীবন-যাপন করেন। পারিবারিক অসচেতনতা, স্বাস্থ্যসেবার নিম্নমুখী মান, ভুল চিকিৎসা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা, সর্বোপরি নারীর প্রতি পরিবারের পুরুষদের অবহেলার কারণে নারীরা যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গর্ভধারণের সময় স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সবার আগে তাঁর স্বামীর সহযোগিতা প্রয়োজন। এ জন্য সন্তানসম্ভবা মায়ের প্রতি সবার দায়িত্ব রয়েছে, যেমন কর্তব্য রয়েছে সমাজ ও রাষ্ট্রের। আর ইসলামে সন্তানের মায়ের মর্যাদা অতি উচ্চে প্রতিষ্ঠিত। নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।’ (আহমাদ, নাসাঈ) তাই পারিবারিক জীবনে শিশুর মা সব সদস্যের কাছ থেকে সম্মানজনক মর্যাদার অধিকারী ও সদাচরণ পাওয়ার দাবিদার।
মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়গুলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। মায়েদের জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ শিশুদের জীবন রক্ষায় সমানভাবে সহায়তা করে। শিক্ষার অভাব ও ধর্মীয় গোড়ামির কারণে গ্রামাঞ্চলে মেয়েরা প্রতি বছর সন্তান ধারণ করে থাকে, যার কারণে সঠিক পরিচর্যা না হওয়ায় পুষ্টিহীনতা ও রোগাক্রান্ত মা ও শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অথচ মাতৃত্বকালীন অপুষ্টির কারণে রোগাক্রান্ত মায়েদের স্বাস্থ্যহানি ঘটায় অনেক সময় মা ও নবজাত শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। সাধারণত বাল্যবিবাহ ও গর্ভসঞ্চার, অপরিকল্পিত গর্ভধারণ, কিশোরী মায়ের পুষ্টিহীনতা, রক্তস্বল্পতা, গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ, সুচিকিৎসার অভাব প্রভৃতি কারণে নারীর নিরাপদে মা হওয়ার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। সুতরাং, নবজাতক ও শিশুমৃত্যু রোধ করতে হলে গর্ভধারণের আগে থেকেই সন্তানসম্ভবা মায়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত। তা ছাড়া গর্ভকালীন ও প্রসবের পর একাধিকবার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার। এ জন্য মুসলিম পরিবারের সবাই গর্ভবতী হওয়া থেকে প্রসব-পরবর্তী সময় পর্যন্ত মাকে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা, সৎ পরামর্শ ও উৎসাহ দিতে পারেন।
ইসলামে সন্তান প্রসবকালে পবিত্রতা ও সাবধানতা অবলম্বনের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা রয়েছে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় মায়েদের খুব সতর্ক থাকতে হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার না থাকায় মায়েরা গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তারের কাছ থেকে ভুল চিকিৎসা নেওয়ার কারণে অনেক মা সন্তান প্রসব করার সময় মৃত্যুকে বরণ করে নেন। নারী যখন গর্ভবতী হন, খাবারের চাহিদা তখন বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে শরীরে তখন আয়রনের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। প্রধানত আয়রনের অভাবেই এই রক্তশূন্যতা দেখা দেয় গর্ভকালে। এ ছাড়া তাঁদের জন্য সব সময় জরুরি ওষুধগুলো হাতের কাছে রাখতে হবে। এসব মা ও শিশুকে বাঁচাতে হলে প্রতিটি গ্রামে গণসচেতনতামূলক ব্যবস্থাসহ ইসলামের আলোকে পরিবার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
মুসলিম পরিবারে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। এ ব্যাপারে পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে পুরুষ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করতে পারেন। মায়েদের ভারী ও কঠিন কাজ না দিয়ে তাঁদের কষ্ট লাঘব করতে পারেন। ঘন ঘন সন্তান প্রসব থেকে বিরত রাখার জন্য মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এগিয়ে এসে জনগণকে সচেতন করতে সঠিক পরামর্শ দিতে হবে। যেসব মা স্বাস্থ্যসেবা পান না তাঁদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হবে, যেসব মা পুষ্টিকর খাবার পান না তাঁদের পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। দেশের নারীর প্রজনন স্ব্বাস্থ্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পরিবার পরিকল্পনা সেবা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। মাতৃস্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ ও এর বাস্তবায়ন একান্ত অপরিহার্য। তাই নিরাপদ মাতৃত্ব, গর্ভবতীর অধিকার ও মাতৃস্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের আপামর জনসাধারণের ব্যাপকভাবে গণ-উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। আমরা যদি নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করে গর্ভবতী মায়েদের সুস্থ রাখতে সচেষ্ট হতে পারি, তাহলে সন্তানেরা সুস্থ থাকবে এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ জাতি।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

বাস করার জন্য সেরা নগর ভিয়েনা সবচেয়ে খারাপ বাগদাদ

সবাসের জন্য বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভালো নগর ভিয়েনা এবং সবচেয়ে খারাপ বাগদাদ। নিউইয়র্ক ও লন্ডনের মতো জনবহুল এবং অপেক্ষাকৃত কম গোছানো নগরগুলো মাঝারি অবস্থানে আছে। গত বুধবার প্রকাশিত এক জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
মার্কার কনসালটেন্টস নামে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা পরিচালিত জরিপে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী ২০১০ সালের জন্য বসবাসের সবচেয়ে উপযোগী নগরগুলোর প্রথম পাঁচটি হলো ভিয়েনা, জুরিখ, জেনেভা, ভ্যাঙ্কুভার ও অকল্যান্ড। তালিকায় প্যারিস ৩৪তম, লন্ডন ৩৯তম, টোকিও ৪০তম, মাদ্রিদ ৪৮তম ও নিউইয়র্ক ৪৯তম অবস্থানে রয়েছে।
জরিপকারী প্রতিষ্ঠান মার্কার কনসালটেন্টস জানায়, সবচেয়ে সুন্দর অথবা জীবন যাপনের জন্য সেরা নগর নির্ধারণের জন্য নয়, বরং স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও জনসেবা দেওয়ার দিক থেকে এগিয়ে থাকা নগরের তালিকা তৈরিই এই জরিপের উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ৪২০টি নগরে জীবন যাপনের মান যাচাইয়ের জন্য ৩৯টি বিষয় সামনে রেখে এই জরিপ চালায়। জরিপে অপরাধের মাত্রা, ব্যাংকিং সেবা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পয়োনিষ্কাশন, স্কুল, পরিবহন ও জলবায়ু সংক্রান্ত অবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এবার তৃতীয়বারের মতো শীর্ষ দশ সেরা নগরের তালিকায় সুইজারল্যান্ডের নাম আছে। বার্নের স্থান নবম। জার্মানির তিনটি শহর ডুসেলডোর্ফ, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখের অবস্থানও সেরা দশের মধ্যে।

নেপালে সংকট নিরসনে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রেসিডেন্ট

নেপালের প্রেসিডেন্ট রাম যাদব দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান তিন দলের নেতাদের জরুরি বৈঠকে ডেকেছেন। সংবিধান প্রণয়নে গঠিত পার্লামেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমে বিশৃঙ্খলার দিকে যাচ্ছে। একটি কার্যকর সরকারের অভাবে বিরাজ করছে অচলাবস্থা। আজ শুক্রবার এই পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হবে।
সমস্যা সমাধানে প্রেসিডেন্ট যাদব কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছেন। কিন্তু তা সফল হয়নি। প্রেসিডেন্ট যাদবের মুখপাত্র রাজেন্দ্র দহল বলেন, সময়মতো এই পার্লামেন্টের মেয়াদ বাড়ানো না হলে দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। ওই পরিস্থিতির কথা ভেবে প্রেসিডেন্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশকে রাজনৈতিক সংকট থেকে বাঁচাতে প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক দলের নেতাদের ঐকমত্যে পৌঁছার আহবান জানিয়েছেন।
নেপালের জোট সরকার এরই মধ্যে বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ বাড়াতে একটি বিল উত্থাপন করেছে। ২০০৮ সালে এই পার্লামেন্ট গঠিত হয়। এর দায়িত্ব ছিল দুই বছরের মধ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়ন, যা চলতি বছর একটি নতুন নির্বাচনের পথ করে দেবে। কিন্তু সংবিধানের বিষয়বস্তু নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়নি। বর্তমান পার্লামেন্টে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া বিরোধী দল মাওবাদী পার্টি বলছে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই বিলে ভোট দেবে না।
২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করার আগে মাওবাদীরা দীর্ঘ এক দশক গৃহযুদ্ধ চালিয়ে যায়। গত বছর তারা বিরোধী দলে অবস্থান নেয়। মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল ওরফে প্রচণ্ড চাইছেন ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেওয়া নতুন সরকার। এ জন্য তিনি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল ও নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করেন। কিন্তু অন্য দলগুলো এতে সাড়া না দেওয়ায় আলোচনায় অগ্রগতি না হয়ে অচলাবস্থা দেখা দেয়।

থাকসিনকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলকে অনুরোধ জানাবে থাই সরকার

থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে দেশের সরকার। থাই উপপ্রধানমন্ত্রী সুদিপ থাগসুবান গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন।
এদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আরও চারটি প্রকাশনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে থাই সরকার। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি সংবাদপত্র ও একটি সাময়িকী। এর আগে রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেলসহ আরও বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি অবস্থার আওতায় এসব গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে।
সুদিপ থাগসুবান বলেছেন, থাকসিনকে গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলকে অনুরোধ জানানো হবে। থাইল্যান্ডের বিশেষ তদন্ত বিভাগ, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে গ্রেপ্তারে সহায়তা চেয়ে ইন্টারপোলের কাছে অনুরোধ জানাতে রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘থাকসিন নিজেকে নির্দোষ মনে করলে তিনি দেশে এসে তা প্রমাণ করুন।’
এ ব্যাপারে থাকসিন এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইন্টারপোল থাই সরকারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা নিলে সেটি হবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।
উপপ্রধানমন্ত্রী সুদিপ থাগসুবান বলেছেন, ‘এগুলো সত্যিকারের সংবাদপত্র নয়। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার কাজে এগুলো ব্যস্ত। এসব পত্রিকা একজনকে আরেকজনের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ করে তোলে।’
বিরোধীদের একের পর এক গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যাংককের চুলালংকর্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক উইলাসিনি ফিফিতকুল বলেছেন, চরম রাজনৈতিক সংকট নিরসনে গণমাধ্যম বন্ধের বিষয়টি হয়তো সময়োপযোগী। তবে সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার করা উচিত নয়।

শক্তিশালী দেশগুলো বিচারের অগ্রগতি রুদ্ধ করে রেখেছে

লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর কট্টর সমালোচনা করে বলেছে, আন্তর্জাতিক বিচারের অগ্রগতিকে তারা রুদ্ধ করে রেখেছে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটির ২০০৯ সালের মানবাধিকার-বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ আহ্বান জানানো হয়। ওই তিন দেশের মিত্র জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত চার দেশ ভারত, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতি আইসিসির বিরোধিতা পরিহারের আহ্বান জানায় তারা।
অ্যামনেস্টির অভিযোগ, ২০০৯ সালে আফ্রিকায় নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ শত শত লোককে হত্যা করলেও তদন্ত তেমন হয়নি। দোষীকে দণ্ড থেকে পার পাওয়ার সুযোগ দেওয়ার রীতিই এ জন্য দায়ী। অবৈধ অভিবাসীদের শাস্তিদানে বেত্রাঘাত বন্ধে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানায় তারা।
প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে অ্যামনেস্টির অন্তর্বর্তী মহাসচিব ক্লডিও কর্ডন বলেন, কোনো ব্যক্তিই যে আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এ সংস্থা তা নিশ্চিত করতে চায়। এ মাসে থাইল্যান্ডে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যে সেনা অভিযান চলে, ঘটনা তদন্তে সহায়তা করতে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দাদের অনুমোদন দিতে সে দেশের সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
মহাসচিব বলেন, আমাদের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো তাদের আইনের ঊর্ধ্বে রেখেছে। একই সঙ্গে তারা রক্ষা করছে মিত্রদের। কাজেই আইন কেবল উদ্দেশ্য হাসিলের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, আইসিসির সঙ্গে পুরোপুরি সম্পৃক্ত না হওয়া কোনো দেশের জন্যই যৌক্তিক নয়। গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে বিচার করার একমাত্র স্বাধীন ও স্থায়ী আদালত এটি।
সাংবাদিকদের কর্ডন বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা নিয়ে শুরুতে তাঁর যে শঙ্কা ছিল, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে তা দিন দিন কমছে। এ ব্যাপারে তাঁর আস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এ বিরোধিতা নিস্তেজ হয়ে আসছে।’
অ্যামনেস্টির মহাসচিব বলেন, বিভিন্ন দেশের সরকার যদি ন্যায়বিচারের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে থাকে, তাহলে তারা উপলব্ধি করবে এ আদালত যথাযথ মানবাধিকারের মান নিয়ে কাজ করছে। কাজেই এ আদালতকে সমর্থন না করার কোনো কারণ থাকতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র এ আদালতে যোগ দেবে বলে তিনি আশাবাদী। গত বছর দারফুরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এ পদক্ষেপকে তিনি যুগান্তকারী বলে উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে আফ্রিকার অন্য দেশগুলোর মধ্যে গিনির রাজধানী কোনাক্রির স্টেডিয়ামে গত সেপ্টেম্বরে ঘটা একটি গণহত্যার ওপর আলোকপাত করা হয়। সেখানে দেড় শতাধিক লোক বিক্ষোভ করার সময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নারীরা প্রকাশ্যে ধর্ষিত হয়। এ ব্যাপারে গিনির সরকার এখনো বিশ্বাসযোগ্য কোনো তদন্ত করেনি। এ জন্য জাতিসংঘ একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠন করেছে।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কায় সেনা ও তামিল গেরিলাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় সাত হাজার বেসামরিক লোক নিহত হয়। উভয় পক্ষই যুদ্ধাপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বলে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো পক্ষেরই জবাবদিহি নেই, আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর বিষয়ও নেই। এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনেও বহু লোক নিহত ও আশ্রয়হীন হয়। এসব ঘটনার জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরকার দায়ী হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশা লাঘবে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মালয়েশিয়ায় প্রচলিত আইনানুযায়ী, কেউ সেখানে অবৈধভাবে বাস করলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে ছয়বার বেত্রাঘাত করা হয়। একই সঙ্গে জরিমানা ও পাঁচ বছর পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে।
এ ব্যাপারে মালয়েশিয়ায় অ্যামনেস্টির নির্বাহী পরিচালক নোরা মুরাত বলেন, মালয়েশিয়া যদি মানুষের মর্যাদা রক্ষা করতে চায়, তাহলে বেত্রাঘাত করার মতো অবমাননাকর শাস্তির পদ্ধতি তাদের শিগগির বাতিল করতে হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছর রাশিয়ায় মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া হয়। তাঁদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।

নেপালে এভারেস্ট দিবসে ১০০ জনকে সম্মাননা দেওয়া হবে কাল

তৃতীয় আন্তর্জাতিক এভারেস্ট দিবস আগামীকাল ২৯ মে। এ উপলক্ষে ভারতের পর্বতারোহীসহ বিশ্বের ১০০ জনের বেশি এভারেস্ট জয়ীকে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হবে। ১৯৫৩ সালের এই দিনে প্রথমবারের মতো এভারেস্টকে জয় করে মানুষ। ওইদিন নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী স্যার এডমন্ড হিলারি ও নেপালের শেরপা তেনজিং নোরগে এভারেস্ট জয়করেন।এ কারণে এই দিনকে আন্তর্জাতিক এভারেস্ট দিবস হিসেবে পালন করা হয়। নেপালের পর্বতারোহণ সংস্থার প্রেসিডেন্ট অং শেরিং শেরপা এ কথা জানান।
অস্ট্রিয়ার পিটার হেবলার (অক্সিজেন ছাড়া যিনি প্রথম এভারেস্টে আরোহণ করেন), আপা শেরপা (২০ বার এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণকারী), মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী বীর যোদ্ধা মেজর এইচপিএস আলহুওয়ালিয়া, ভারতের সর্বকনিষ্ঠ এভারেস্ট জয়ী অর্জুন বাজপেয়িসহ বেশ কয়েকজনকে সংবর্ধনা জানানো হবে।
এই অনুষ্ঠানে সার্কের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে আপা শেরপাকে সম্মাননা দেওয়া হবে। এ ছাড়া তেনজিং হিলারি অ্যাওয়ার্ড এমন একজনকে দেওয়া হবে যিনি এভারেস্টের কাছে খুম্বু অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য অবদান রাখছেন। দিবসটি উপলক্ষে আগামীকাল কাঠমান্ডুতে পর্বতারোহী, ভ্রমণ উদ্যোক্তা, সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পপতি ও সংবাদ কর্মীদের নিয়ে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে।

পাকিস্তান থেকে আল-কায়েদার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, পাকিস্তানি ভূখণ্ড ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী আফগানিস্তানের উপজাতীয় এলাকায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। তাই আফগানিস্তানে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে নতুনভাবে দৃষ্টি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
হোয়াইট হাউসের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা জন ব্রেনান গত বুধবার এ কথা বলেছেন। প্রেসিডেন্ট ওবামার জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক সহকারী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্রেনান বলেন, ‘চলমান সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কৌশল একেবারেই অভিন্ন।’
প্রেসিডেন্ট ওবামা গতকাল বৃহস্পতিবার সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক কৌশলের ঘোষণা করেছেন। এ ঘোষণার এক দিন আগে প্রতিরক্ষা কৌশল সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন জন ব্রেনান। তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে জড়িত। আমরা আল-কায়েদা ও এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত।’ তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে অধিকতর দৃষ্টি দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামা দায়িত্ব নিয়ে ইরাক যুদ্ধ শেষ করছেন। কেননা ৯/১১ ঘটনার সঙ্গে ইরাক যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই প্রেসিডেন্ট ওবামা আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের ব্যাপারে নতুন করে মনোযোগ দিয়েছেন।
ব্রেনান বলেন, ‘আল-কায়েদা ও এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে পরাস্ত করতে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। তারা যেখানেই ষড়যন্ত্র করবে এবং প্রশিক্ষণ নেবে সেখানেই হামলা চালানো হবে।’ তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও এর বাইরে আমরা কেবল আল-কায়েদা ও এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই লড়াই করছি না; পাশাপাশি আমরা এসব দেশের সরকারকেও সাহায্য করছি; যাতে তারা নিজস্ব নিরাপত্তার মাধ্যমে আল-কায়েদার মূলোৎপাটন করতে পারে। তা ছাড়া সন্ত্রাসীরা যাতে সীমানা পেরিয়ে এসব দেশে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়েও তাদের সাহায্য করা হচ্ছে।’
পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিনি সন্দেহভাজন জঙ্গি ডেভিড হেডলির কথা উল্লেখ করে ব্রেনান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি চরমপন্থী আদর্শে গড়ে উঠেছে। সোমালিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকেরা মিনেসোটা থেকে সোমালিয়ায় গিয়ে লড়াই করছে। ভার্জিনিয়ার পাঁচ বাসিন্দা সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন পাকিস্তানে। শিকাগোর বাসিন্দা ডেভিড হেডলি মুম্বাই হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। ডেনমার্কের এক কার্টুনিস্ট হত্যার ঘটনার সঙ্গে পেনসিলভানিয়ার বাসিন্দা জিহাদ জেনি জড়িত।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এসব সন্ত্রাসী ব্যক্তির কারণে যে নিরাপত্তা হুমকির সৃষ্টি হয়েছে তা প্রেসিডেন্ট ওবামার জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে প্রতিফলিত হয়েছে।
পাকিস্তানে বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ নেওয়া জঙ্গি নাজিবুল্লাহ জাজির কথাও উল্লেখ করেছেন ব্রেনান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী অনেকেই অস্ত্রসহ ধরা পড়েছেন। তাঁরা অবাধে সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে ভ্রমণ করছেন, আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসছেন। তবে তাঁদের ভয়ানক কিছু পরিকল্পনা গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী ভণ্ডুল করে দিয়েছে।
ব্রেনান বলেন, ‘ওবামার নতুন কৌশল অনুয়ায়ী আল-কায়েদা ও এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে অবশ্যই পরাভূত করা হবে। এর মাধ্যমে আমরা শক্তিশালী ও স্বাভাবিক স্থিতিপূর্ণ একটি রাষ্ট্র তৈরি করব। মার্কিনিদের মূল্যবোধ আমরা ধরে রাখব। এভাবেই সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হব।

রুনি আমাদের দলের মুকুট

তা রা র ক থা রিও ফার্ডিনান্ড ইংল্যান্ড পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই সঙ্গী নানা বিতর্ক। তবে মূল কাজ যেটি, সেই রক্ষণভাগ সামলানোয় তিনি দুর্দান্ত। ১৯ বছর বয়সে অভিষেক হয়েছিল সর্বকনিষ্ঠ ইংলিশ ডিফেন্ডার হিসেবে, ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন রক্ষণদুর্গের অন্যতম ভরসা। এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও থাকবে তাঁর হাতে। রিও ফার্ডিনান্ড জানাচ্ছেন তাঁর বিশ্বকাপ ভাবনা—
বিশ্বকাপের ড্র নিয়ে আমি আনন্দে ভেসে যাচ্ছি না। এর আগেও এমন গ্রুপে খেলার অভিজ্ঞতা আমার আছে, লোকে যেটিকে বলেছে সহজ কিন্তু পরে দেখা গেছে কঠিন। এ ধরনের টুর্নামেন্টে সব গ্রুপই সব সময় কঠিন। বড় ব্যবধানের ফলাফল এখন আর দেখা যায় না। র্যাঙ্কিংয়ের একশতে থাকা দলের সঙ্গে খেললেও দেখা যায় ব্যবধান বড়জোর দুই গোলের। এবারও কাজটা কঠিন হবে।
এ মৌসুমে এতসব গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের ইনজুরিতে পড়াটা ইংল্যান্ডের পক্ষে কাজ করতে পারে। ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কাছে আমাদের হারটার কথা মনে করুন, ওই মৌসুমে রোনালদিনহো ৩৭টি ম্যাচ খেলেছিল, আর আমাদের বেশির ভাগই খেলেছিল ৫০টি করে। তরতাজা হয়ে বিশ্বকাপে যাওয়াটা উষ্ণ আবহাওয়ায় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শোনা যাচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় আবহাওয়াটা উষ্ণ থাকবে না। জমে যাওয়ার মতো ঠান্ডা? ভালো, তাহলে আমাদের সুযোগ আছে!
জয়ের মূল চাবিকাঠি? প্রস্তুতি, নিজেকে পুরোপুরি ঢেলে দেওয়া এবং সামান্য একটু ভাগ্য। প্রস্তুতি মানে শুধু কৌশল নির্ধারণ নয়, সময়মতো খাওয়া-দাওয়া, ঘুম এবং পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। প্রস্তুতির দিক দিয়ে ইতালিয়ান মানসিকতাটা (ফাবিও ক্যাপেলোর অধীনে) অসাধারণ। প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়েও তাঁর খেয়াল আছে।
আমাদের প্রজন্মের জন্য এই বিশ্বকাপটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অনেক ভালো ফুটবলার আছে, কিন্তু সবার ক্যারিয়ারে এটা একটা বিশাল শূন্যতা যে দল হিসেবে আমরা এখনো কিছু করতে পারিনি। বলার মতো কিছু না করেই শেষ টানাটা হবে আমাদের জন্য হতাশাজনক।
রুনি আমাদের দলের মুকুট। সে এই মুহূর্তে ভালো খেলছে, প্রচুর গোল করেছে এবং ইংল্যান্ডের জন্য সে দুর্দান্ত। বিশ্বকাপে ভালো করতে ওর মানের একজন ফুটবলার আমাদের ভীষণ দরকার।’

অতঃপর সুখের সংসার

শোয়েব-সানিয়ার প্রথম দেখা হয়েছিল নাকি দুবাইয়ে। দেখা থেকে কথা, কথা থেকে... থাক এসব পুরোনো বৃত্তান্ত। দুজনের বিয়ে ঠিক হওয়ার পরই তাঁরা ঠিক করেছিলেন দুবাইতেই থাকবেন। এটাও পুরোনো গল্প। নতুন খবর, মধুচন্দ্রিমা-পর্ব শেষ করে দুবাইতে শোয়েব-সানিয়া জুটি এখন ব্যস্ত যাঁর যাঁর কাজে। কাজ বলতে অবশ্য একজনের প্রস্তুতি টেনিস কোর্টে ফেরার, আরেকজনের ক্রিকেট মাঠে।
স্বামী শোয়েব মালিকের কাছে এখনো ঘরের টানটা একটু বেশি, তবে স্ত্রী সানিয়া খুবই সিরিয়াস টেনিস নিয়ে। সানিয়া জানিয়েছেন, শরীরটাকে ঠিক রাখতে নিয়মিত ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন। তিন সপ্তাহ ধরে এটা চালিয়ে যাওয়ায় কব্জির পুরোনো ইনজুরিটা প্রায় যাওয়ার পথে। তবে ঘাসের কোর্টের চ্যালেঞ্জটা এখনই নিতে চাইছেন না তিনি। পরিকল্পনা করছেন হার্ডকোর্টে ফেরার।
দুবাইতে বসে সংবাদমাধ্যমের কাছে সানিয়া নিজের কথা, কব্জির ইনজুরি আর টেনিসের কথা বলেছেন, শোয়েবের ক্রিকেট নিয়ে বলেছেন, কথায় কথায় জানিয়েছেন শোয়েবের সঙ্গে ভালোই কাটছে তাঁর দিনগুলো। কোর্টে ফেরার লড়াইয়ে শোয়েবের সহযোগিতা পাচ্ছেন। তবে বিয়ের পর নাকি খুব বেশি বদলাননি সানিয়া। ‘না, খুব বেশি পরিবর্তন লক্ষ করছি না। তবে হ্যাঁ, আমরা এখন এক বাথরুম এবং বেডরুম ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি—’ হাসতে হাসতে বলেছেন সানিয়া। পাঁড় ক্রিকেট ভক্ত, কিন্তু এর আগে শোয়েবের ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে সেভাবে দেখেননি। এখন দেখবেন। দুটি জীবন যে জড়িয়ে গেছে একসঙ্গে! নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে আটকে আছেন এখনো, তা সত্ত্বেও এশিয়া কাপের জন্য ঘোষিত পাকিস্তানের প্রাথমিক দলে আছেন শোয়েব মালিক।

গলার কাঁটা হয়ে গেলেন ট্রট by তারেক মাহমুদ

লর্ডসে বাংলাদেশ দলের চেয়েও নবীন বলতে পারেন জনাথন ট্রটকে। এ মাঠে বাংলাদেশের টেস্ট অভিষেক ২০০৫ সালে হলেও ট্রটের হলো কালই। শুধু অভিষেক কেন, লর্ডসে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি করে অনার্স বোর্ডে জায়গা করে নেওয়াটাকে স্বপ্নের মতো অভিষেক বলাই তো ভালো! দিনশেষে ট্রট নিজেও সেটাই বললেন, ‘লর্ডসে খেলার স্বপ্ন ছিল। সেঞ্চুরি দিয়ে তা পূরণ করতে পেরে ভালো লাগছে।’
ট্রটের জন্য যেটা প্রথম, সেটা এরই মধ্যে চারবার দেখে ফেলেছেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। ২০০৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই অনার্স বোর্ডে নাম লিখিয়েছিলেন, লর্ডসে সেঞ্চুরি করেছেন এরপর আরও তিনটি। ট্রটের মতো কাল সেঞ্চুরি না পেলেও মাহমুদউল্লাহর বলে বোল্ড হওয়ার আগে এক সিরিজ পর দলে ফেরাটা স্ট্রাউস উদ্যাপন করলেন ৮৩ রানের ইনিংস দিয়ে। প্রয়াত চেক স্থাপত্যবিদ ইয়ান কাপালিসি ও তাঁর সঙ্গী আমান্দা লেভেতের বানানো স্পেসশিপ-সদৃশ প্রেসবক্স হয়তো ট্রট-স্ট্রাউসদের স্বপ্নের মতো ব্যাটিং দেখার জন্যই। তবে প্রথম দিনে হাসি ছিল বাংলাদেশের বোলারদের মুখেও। ২৭০ বলে ট্রটের অপরাজিত ১৭৫ আর স্ট্রাউসের ৮৩ রানের সৌজন্যে প্রথম দিন শেষে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৩৬২ রান করে ফেললেও বাংলাদেশের বোলাররা তুলে নিতে পেরেছেন চারটি উইকেট।
লর্ডস টেস্টে ইংলিশ কন্ডিশন বড় বেশি প্রতিকূল হওয়ার আশঙ্কা জেগেছিল পরশু রাতে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সঙ্গে হাড়ে কাঁপন ধরানো ঠান্ডা হাওয়া। আকাশ আর আবহাওয়া গুমোট হয়ে থাকল কাল সকালেও। এই কন্ডিশনে আগে ব্যাট করলে সাকিব আল হাসানের দলকে অবধারিতভাবেই ভুগতে হতো। সাকিব টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়ায় সেটা হয়নি, সকালের সুইং আর মুভমেন্টে সমস্যায় পড়ে যাচ্ছিলেন বরং স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরাই।
অ্যালিস্টার কুককে এলবিডব্লু করে দিয়ে দলের মাত্র ৭ রানের সময় ইংল্যান্ডকে প্রথম ধাক্কাটা দিয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন। কিন্তু সকালের মেঘ সরে গিয়ে সূর্য তাপ ছড়ানো শুরু করার পর আবহাওয়ার মন যত ভালো হতে লাগল, ততই মন খারাপ হতে থাকে বাংলাদেশ বোলারদের। লর্ডসের ঘাসে ঢাকা উইকেটও তখন স্ট্রাউস-ট্রটের কাছে চমত্কার ব্যাটিং উপযোগী। দ্বিতীয় উইকেটে ১৮১ রানের জুটিতে বাংলাদেশের সুন্দর সকালটাকে দুপুরে গড়াতে দেননি এই দুই ব্যাটসম্যানই।
শাহাদাতের সঙ্গে নতুন বলে বোলিং শুরু করেন রবিউল ইসলাম। চ্যালেঞ্জ ছিল দুজনের জন্যই। ২০০৫ সালে লর্ডসে দুঃস্বপ্নের মতো টেস্ট অভিষেক হয়েছিল শাহাদাতের। রবিউল ঠিক সে মাঠেই অভিষেক টেস্ট খেলতে নামলেন কাল। চ্যালেঞ্জে প্রাথমিকভাবে দুজনই সফল। সকালের সিমিং কন্ডিশনে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তিতে ফেলার পাশাপাশি প্রেসবক্সের ব্রিটিশ সাংবাদিকদেরও প্রশংসা কুড়িয়ে নিচ্ছিলেন বাংলাদেশের দুই পেসার। কিন্তু সেসব খেলা লাঞ্চ গড়ানোর আগ পর্যন্তই। লাঞ্চের আগে ১০৫ রান তুলে ফেলা ইংল্যান্ডের আর কোনো উইকেট নিতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। যদিও শাহাদাত-রবিউলের সঙ্গে ততক্ষণে হাত ঘোরাতে শুরু করেছেন আরও তিন বোলার—সাকিব, রুবেল হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ।
গত বছর আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওভালে সেঞ্চুরি দিয়ে টেস্ট অভিষেক হলেও ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে জনাথন ট্রটকে নিয়ে প্রশ্ন ছিল। থাকাটাই স্বাভাবিক, গতকালের আগে টেস্টে ১৩ ইনিংস খেলে অভিষেকের সেঞ্চুরির সঙ্গে মাত্র দুটি ফিফটিই তো করেছেন! বাংলাদেশের বিপক্ষে লর্ডস টেস্ট হতে পারে সে অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মাইলফলক। ১৩৩ বলে নিজের ১২তম বাউন্ডারিটি মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর শূন্যে ভেসে করা তাঁর উদ্যাপনেও খুঁজে পাওয়া গেল সমালোচনা থেকে মুক্তির আনন্দ। ট্রটকে নিয়ে বেশি সমালোচনা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গত সিরিজের ব্যর্থতার কারণেই। যদিও ট্রট বলছেন, ‘আমি ওই সফর নিয়ে হতাশ নই। কিছু ভালো ইনিংসও তো খেলেছিলাম! কিছু ভালো বল হবে, কিছু বাজে শট হবে—এটাই তো ক্রিকেট।’
স্ট্রাউস-ট্রটের কাছে হেরে গেলেও বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিন আরও একবার অসহায় বানিয়ে দিল কেভিন পিটারসেনকে। গত সিরিজে চট্টগ্রামে ৯৯ আর ঢাকায় অপরাজিত ৭৪ রানের দুটি ইনিংস খেললেও পিটারসেনকে ঠিক পিটারসেন মনে হয়নি। কাল তো ১৮ রানেই সাকিবের বলে বোল্ড। প্রথম দিনে বাংলাদেশও খুব বেশি পিছিয়ে পড়ল না সে সুবাদে। স্ট্রাউস আর ট্রট মিলেই যা করেছেন, নইলে ইংল্যান্ডের বাকি ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থই। কুক ফিরলেন ৭ রানে, পিটারসেন ১৮ আর রুবেল হোসেনের বলে বোল্ড ইয়ান বেল ১৭ রানে। তবে শেষ বেলায় ট্রটের সঙ্গী হয়ে অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা এউইন মরগান দলে আসার সার্থকতা প্রমাণ করছেন। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ১০৪ রানের জুটিতে কাল আর কোনো উইকেট হারায়নি ইংল্যান্ড। দিনশেষে বাংলাদেশ কোচ জেমি সিডন্সের হতাশা হয়তো সে কারণেই, ‘আমি দলের এই পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নই। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ঠিক জায়গায় বল ফেলে যাওয়া। সেটা খুব বেশি হয়নি। দিন শেষে সে কারণেই আমরা পিছিয়ে।’ ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে দাঁড়ানো ইমরুল কায়েস মরগানের শটে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়লেও তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানালেন সিডন্স, ‘মাথায় আঘাত পাওয়ার পরপরই ওকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এমআরআই স্ক্যানের রিপোর্ট হাতে না এলেও ধারণা করা হচ্ছে, গুরুতর কিছু হয়নি তার।’
আর একটা কারণ অবশ্যই জোনাথন ট্রট। কে জানে, লর্ডস-অভিষেকে নিজেকে ফিরে পাওয়া এই ব্যাটসম্যানই হয়তো হয়ে যাবেন ম্যাচের নির্ধারকই!

হার দিয়ে শেষ রাসেলের

ব্রাদার্সের কাছে ০-২ গোলে হার দিয়ে কাল বাংলাদেশ লিগ শেষ করল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। এতে তাদের অবস্থানের কোনো হেরফের হয়নি। ২৪ ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার তারা পেশাদার ফুটবল লিগে তৃতীয় (প্রথমবার হয়েছিল চতুর্থ)। তিন নম্বর জায়গাটা ধরে রাখা রাসেলের জন্য বড় কোনো প্রাপ্তি নয়। এই জায়গার জন্য এবারও লিগে রাসেলের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না।
ব্রাদার্সকে এগোতে হয়েছে সংগ্রাম করে। এটি তাদের পঞ্চম জয়। ৩০ মিনিটে মুরাদ আহমেদ প্রথম গোল করেছেন, ৫৯ মিনিটে ২-০ করেন তন্ময়। মাঠে কালকের রাসেল ছিল ছন্নছাড়া, অন্যদিকে ব্রাদার্স খেলেছে এবারের লিগে তাদের অন্যতম সেরা ম্যাচ। ২৩ ম্যাচে ব্রাদার্সের পয়েন্ট ২৫, এখন পর্যন্ত ষষ্ঠ স্থান ধরে রেখেছে দলটি।

ফ্রান্সের ভালবুয়েনা হল্যান্ডের পার্সি

দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার আগে বিশ্বকাপের দলগুলো এখন মাঠের লড়াইয়ে নেমে দলের দুর্বলতা খোঁজায় ব্যস্ত। এই লক্ষ্যেই পরশু রাতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বিশ্বকাপযাত্রী পাঁচ দল। শিরোপার দুই দাবিদার ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডের সঙ্গে চিলি এবং উরুগুয়েও জয় পেয়ে অনুপ্রাণিত। ব্যতিক্রম কেবল মেক্সিকো। বিশ্বকাপে সব সময়ই ‘কঠিন’ প্রতিপক্ষ বলে বিবেচিত দলটি আগের দিন হেরেছে ইংল্যান্ডের কাছে। পরশু হারল নেদারল্যান্ডের কাছে।
আর্সেনাল তারকা রবিন ফন পার্সির অসাধারণ দুই গোলই নেদারল্যান্ডকে এনে দিয়েছে দারুণ এক জয় (২-১)। ১৯৯৮-এর চ্যাম্পিয়ন ও গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ ফ্রান্স ২-১ গোলে কোস্টারিকাকে, চিলি ৩-০ গোলে জাম্বিয়াকে এবং উরুগুয়ে ইসরায়েলকে হারিয়েছে ৪-১ গোলে।
ফ্রান্স জিতেছে নবাগত ম্যাথ্যু ভালবুয়েনার কাঁধে চেপে, আর খানিকটা ভাগ্যের চাকায়। ১২ মিনিটে কোস্টারিকা এগিয়ে যাওয়ার পর ফ্রান্স সমতায় ফেরে আত্মঘাতী গোলে। খেলা শেষের ৭ মিনিট আগে কোচ ডমেনেখের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন মার্শেই স্ট্রাইকার ভালবুয়েনা।
জিতলেও আরিয়েন রবেন, মার্ক ফন বোমেল, ওয়েসলি স্নাইডার—সেরা তিন অস্ত্রকে বাইরে রেখে নেমেছিল ডাচ দল। তার পরও জিতেছে তারা, জয়ের নায়ক ফন পার্সি। ম্যাচ শেষে কোচ বার্ট ফন মারউইক তাই পার্সির প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

মাইকেল এসিয়েনের বিশ্বকাপ শেষ

শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার স্বপ্নে ডুবে ছিলেন ঘানার মিডফিল্ডার মাইকেল এসিয়েন। কিন্তু বিধিবাম, ডান হাঁটুর ইনজুরিটা কেড়েই নিল তাঁর বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ঘানার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও চেলসির চিকিত্সক দল যৌথভাবে তাঁর অবস্থা দেখে যে রিপোর্ট দিয়েছে, সেটাই ভেঙে দিয়েছে এসিয়েনের বুক। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষেও পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন না এসিয়েন। অথচ ১৩ জুন সার্বিয়ার সঙ্গে ম্যাচ দিয়েই ঘানা শুরু করবে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। ঘানাইয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনই নিশ্চিত করেছে এসিয়েন-ভক্তদের হূদয় ভেঙে দেওয়া এই খবরটি। ঘানা ও চেলসির ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েন গত জানুয়ারিতে, আফ্রিকান নেশনস কাপে খেলার সময়। সেই থেকেই মাঠের বাইরে তিনি।
এদিকে অনুশীলনের সময় সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে চিবুক কেটে গেছে জার্মান ফরোয়ার্ড টমাস মুলারের। তবে চোট খুব বেশি নয়, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই মুলার সেরে উঠবেন বলে আশা করছে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন।

দুঃখে যাদের জীবন গড়া... by মীর মাহমুদুল হাসান

পাথর ভাঙছে মনজুর। ছয় বছর বয়স ওর। স্কুলে যাওয়া হয় না। তাই বুকের জগদ্দল পাথরটি সরানোর চেষ্টায় পাথরের সঙ্গেই মিতালি পাতাতে হয়েছে ওকে। কোমল হাতে এই পাথর ভেঙেই চালাতে হয় পেট।
বাবা আবদুল বুদার পাথর পরিবহনের ট্রলিতে কাজ করেন। মা মনজিলাও ছেলের মতো পাথর ভাঙার কাজ করেন। নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা সদরের গয়াবাড়ী ইউনিয়নের সুটিবাড়ী বাজারের অদূরে একটি পতিত জমিতে বসে পাথর ভাঙছিল বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ-শিশু।
গয়াবাড়ী গ্রামে মনজুরদের বাড়ি। জমিজমা বলতে কিছুই নেই তাদের। যা ছিল সব গ্রাস করেছে রাক্ষুসী তিস্তা।
‘তুমি স্কুলে যাও না?’
‘এবার স্কুলে ভর্তি হইছি। সারা দিন পাথর ভাঙ্গি ১০ টাকা পাই।’
‘স্কুলে না গিয়ে পাথর ভাঙছ কেন?’
‘হামার যে অভাব, এই জন্য মাও ভাঙ্গির কয়।’
‘পাথর ভাঙতে কষ্ট হয় না?’
‘আগে বেশি হতো, এখন কম হয়।’
হাতের বেশ কিছু জায়গায় হাতুড়ির আঘাতে থেঁতলে যাওয়ার চিহ্ন দেখিয়ে বলে, ‘এগুলো ব্যথা করে। কিন্তু কাম না কইরলে মাও গাইল দেয়।’
‘সারা দিনে কত টাকা আয় হয়?’
‘এক ফেরা ভাঙ্গির পাইরলে ১০ টাকা পাই।’
‘টাকা কী কর?’
‘মাও নিয়া চাউল আনে। মোর একটা বন্ধু আছে। অর নাম জহুরুল। তায়ও স্কুল না জায়য়া পাথর ভাঙ্গে।’
মনজুর গয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। মনজুরের মা মনজিলা বেগম (৩৫) বলেন, ‘মনজুর মাঝেমধ্যে স্কুলেও যায় পাথরও ভাঙ্গে। গরিব মানুষ কাম না শিখলে খাবে কী?’
মনজিলা জানান, তাঁর স্বামী ট্রলিতে পাথর ওঠানো-নামানোর কাজ করে ৮০-৯০ টাকা পান। কাজ না থাকলে বসে থাকতে হয়। তিনি প্রতিদিন তিন-চার ফেরা পাথর ভেঙে ৩০-৪০ টাকা আয় করেন। যখন কাজ থাকে না তখন সবাই বসা। ঋণ-মহাজন করে অথবা আগাম কাজের জন্য মজুরি নিয়ে খেতে হয়। সঞ্চয় বলে তাঁদের কিছু থাকে না।
মনজিলা বলেন, ‘পাথর ভাঙার কাম তো সব সময় থাকে না। নদীর পানি শুকি গেইলেও হামার কষ্ট, আবার বেশি বাইরলেও হামার কষ্ট। তা ছাড়া এলাকার পাথর তোলা মেশিনগুলো মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়। তখনো কাম থাকে না।’
এবার দুঃখের কথা বলতে অন্যরাও এসে যোগ দেয়। মিনি বেগম (৩৫) বলেন, ‘স্বামী রশিদুল ইসলাম ট্রলিতে লেবারি করে প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০ টাকা পান। যেখানে পাথর ওঠানোর মেশিন আছে সেখান থেকে পাথর আনেন। আর হামরা পাথর ভাঙ্গি ১০ টাকা করি ফেরা। সারা দিনে দুই-তিন ফেরার বেশি ভাঙ্গা যায় না। জমিজমা নাই। পাথর ভাঙ্গি খাই, মেশিন বন্ধ হইলে হামার কামও বন্ধ হয়।’
আছিয়া, কল্পনা, রশিদাসহ কয়েকজন জানান, তাঁদের স্বামীরা মজুরি পান ৭০ থেকে ১০০ টাকা আর তাঁরা ৩০ থেকে ৪০ টাকা। রশিদা বলেন, ‘৪০ টাকা কামাই কইরতে জুলুম হয়। সব জিনিসের এত দাম বাড়ে, কিন্তু হামার দাম বাড়ে না, আরও কমায়।’
চোখ ফেরাতেই দেখি তিন বছর বয়সী সুমিও পাথর ভাঙছে।
এ সময় পাথর ব্যবসায়ী আবদুল করিম বলেন, ‘এখানে প্রায় ২৫-৩০ জন পাথর কিনি বিক্রি করি। পাথরের সাইজ অনুযায়ী ২০ টাকা থেকে ২৯ টাকা সিএফটি কিনি। আবার ভাঙ্গার পর ২১ টাকা থেকে ৪২ টাকা পর্যন্ত সিএফটি বিক্রি করি।’ প্রতিটি সাইটে ৩০-৪০ জন শ্রমিক কাজ করেন বলে জানান তিনি।
ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান বলেন, ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত পূর্বছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখরিবাড়ী, গয়াবাড়ী ইউনিয়নের নদীভাঙা প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক নদী থেকে পাথর তুলে ও পাথর ভেঙে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের মজুরি কম হওয়ার কারণে পরিবারের সব সদস্য কাজ করেও সচ্ছলভাবে চলতে পারেন না। তাঁদের অনেকের নিজের ভিটেটুকুও নেই। বাঁধের ধারে কোনোভাবে দিন যাপন করেন। এখানে আয়ের অন্য কোনো পথ না থাকায় এই শক্ত কাজটাই করতে হয় তাঁদের।
শিশু মনজুর আর সুমীর দিকে তাকাই। ওরা তখন আবার ফিরে গেছে পাথর ভাঙতে।

কেন রুখে দাঁড়াতে হয় by আনিসুল হক

গত ১৪ মে ২০১০ ডেইলি স্টার-এর ম্যাগাজিনে আনুশকা ইউসুফের একটা লেখা ছাপা হয়েছে ‘মি মোই আমি’ শিরোনামে। তিনি শুরু করেছেন এইভাবে, ‘আমার মা এসেছেন ফ্রান্সের একটা চমৎকার ছোট্ট শহর থেকে, আর আমার বাবা এসেছেন বাংলাদেশের জনবহুল রাজধানী থেকে। এবং আমি জন্মেছি আমেরিকান হয়ে।’ তাঁর মনে প্রশ্ন জেগেছে, তিনি কোন সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি বলছেন, ‘কোনটা আমি? যে ইউরোপীয় ফরাসি মেয়েটি সকালবেলা ক্রয়সাঁ খায়, যে বাংলাদেশি মেয়েটি সপ্তাহান্তে ভারতীয় ছবি দেখে, নাকি ওই সর্ব-আমেরিকান কিশোরী যে স্কুল শেষে ম্যাগনোল্ডসে যায়?’ তিনটা দেশের তিনটা ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির চিহ্ন হিসেবে লেখিকা তিনটা জিনিসকে বেছে নিয়েছেন, ফরাসি সংস্কৃতি থেকে নিয়েছেন ক্রয়সাঁ, আমেরিকা থেকে নিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ডস, আর বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে ধরে নিয়েছেন তিনি ভারতীয় ছবিকে।
তিনি লিখেছেন, ‘আমি আবিষ্কার করেছি যে বাঙালি জীবনচর্যা একজন বালিকার জন্য অনেক উদ্দীপনাময়।...সব সময় টেলিভিশনে একটা বলিউডের ছবির আনন্দপূর্ণ মিউজিক ভিডিও চলবে, মহিলারা পরচর্চা করবে, ডাল ঘোঁটার শব্দ ভেসে আসবে, একজনের কথার ওপরে গলা চড়িয়ে চুটকি বলবে আরেকজন। এটার সঙ্গে নির্ভুলভাবে আমাকে মানিয়ে নিতে হবে, তাই তো?’ মানিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি কষ্ট স্বীকার করলেন। সেটা কী? ‘আমি আমার ভারতীয় বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে ভারতীয় নাচ শিখতে শুরু করলাম এবং নিয়মিতভাবে হিন্দি সিনেমা দেখা শুরু করলাম।...বিয়ের আগের অনুষ্ঠানে বলিউড নাচে অংশ নেওয়ার জন্য অনুশীলন করতে শুরু করলাম।’
বাংলাদেশের সংস্কৃতি হিসেবে, বাঙালি সংস্কৃতি হিসেবে তিনি যা কষ্ট করে শিখেছেন তা হলো বলিউডের নাচ। বিয়ের আগে বলিউডের নাচকেই তিনি ভাবছেন বাংলাদেশের বাঙালির সংস্কৃতি। আনুশকাকে দোষ দেব না। এটাই এখন প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। সারা বিশ্বভুবনে হিন্দি সংস্কৃতির কাছে বাঙালি সংস্কৃতির চিহ্নগুলো অপসারিত হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও বহু জায়গায় বহুভাবে এটা ঘটেছে। ঘটানোর জন্য বাস্তব চেষ্টা চলছে।
ভারত নামের বিশাল বহুভাষী রাষ্ট্রের সংহতির জন্য, ঐক্যের জন্য হিন্দির বন্ধন দরকার। তারা চাইবেই সারা ভারতের সব মানুষ, সে বাঙালি কিংবা তামিল যেই হোক না কেন, হিন্দি সংস্কৃতির দ্বারা আবিষ্ট হোক। বাঙালি সংস্কৃতি অনেক শক্তিশালী, তার শেকড় বহু গভীরে প্রোথিত। কিন্তু হিন্দির সঙ্গে বাংলার জনপ্রিয় সংস্কৃতির যে লড়াইটা, তা অসম। কারণ ভারতের জনসংখ্যা এক শ কোটির বেশি। হিন্দি জনপ্রিয় সংস্কৃতির পণ্যগুলো নির্মিত হয় সেই বিশাল বাজারের জন্য, ফলে তার পেছনে কেবল ভারত রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা থাকে না, থাকে বিশাল অঙ্কের পুঁজি। তাই তার সঙ্গে একটা ১০ বা ১৫ কোটি ভোক্তার জন্য বানানো জিনিসের প্রতিযোগিতাটা অসম হতে বাধ্য। ভারত একটা বৃহৎ শক্তি, হিন্দিও একটা বৃহৎ শক্তি। তার কাছে পশ্চিমবঙ্গের লেখক-সাহিত্যিকেরা তাঁদের অসহায়ত্ব নানা লেখায়, নানা সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করে চলেছেন। তাঁরা বলছেন, বাঙালি সংস্কৃতি যদি বেঁচে থাকে, যদি আলো-হাওয়া-জল দিয়ে পরিপুষ্ট হয়, তবে তা হবে বাংলাদেশে। কলকাতার মধ্যবিত্ত ছাত্রটি ইংরেজি শিখছে-বিশ্বনাগরিক হওয়ার জন্য, হিন্দিতে চোশত হচ্ছে-সর্বভারতীয় হওয়ার জন্য। বাংলাদেশে এই হুমকির কোনো কারণ ছিল না। বাংলাদেশের বাংলা মাধ্যম থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ ছেলেমেয়ে বেরোচ্ছে মাধ্যমিক স্তর পেরিয়ে, যারা বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য, আমাদের রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-শরৎচন্দ্র-জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান-হুমায়ূন আহমেদ-প্রথম আলোকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করছে, ধারণ করছে, চর্চা করছে।
কিন্তু মুম্বাইয়া সংস্কৃতির পণ্যগুলোর পেছনে আছে বড় বাজেট, আছে বাজারজাত করার আধুনিকতম সব উপায় ও আয়োজন। বাংলাদেশে আমরা হিন্দি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে অবাধ করে দিয়েছি। বাসার ছোট্ট মেয়েটি হিন্দি চ্যানেলে কেশ-প্রসাধনীর বিজ্ঞাপনের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছে—লম্বি লম্বি বাল হ্যায় আচ্ছি আচ্ছি বাল হ্যায়। সুন্দর বাংলা শব্দ ‘ঐশ্বযর্’ তার কাছে ‘ঐশ্বরিয়া’। ‘অভিজিৎ’ তার কাছে ‘আবহিজিৎ’। এমনকি ‘মন্ত্র’র মতো সুন্দর শব্দ তার কাছে ‘মান্ত্রা’। বাংলা শব্দ তার কাছ থেকে অপসারিত হয়ে যাচ্ছে হিন্দি শব্দ ও উচ্চারণ দ্বারা। তবু আরেকটা ভাষা, সে হিন্দিই হোক, উর্দুই হোক, শেখাটা যে কারোর জন্যই ভালো। কিন্তু সংস্কৃতির চিহ্নগুলো যদি অপসারিত হয়ে যায়?
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে সৈয়দ শামসুল হক একটা চমৎকার প্রবন্ধ লিখেছিলেন, যেটা প্রচারপত্রের আকারে হাতে হাতে বিলি হয়েছিল। লেখাটার শিরোনাম ছিল, ‘কেন রুখে দাঁড়াতে হয়’। সৈয়দ শামসুল হকের উদ্বেগ ছিল, আমাদের সংস্কৃতির চিহ্নগুলো, আমাদের শাড়ি, মেয়েদের কপালের টিপ যেন অপসারিত না হয়ে যায়! আমরা যে হাত দিয়ে ভাত খাই, ওই ভাতই আমাদের সংস্কৃতি, যেমন আনুশকা ইউসুফের ফরাসি মায়ের কাছে ক্রয়সাঁ, আমেরিকান কিশোরীর জন্য ম্যাগডোনাল্ডস, আমার কাছে তেমনি ভাত। ওটা আমি দোসা দিয়ে, ইদলি দিয়ে অপসারিত হতে দিতে পারি না।
সেই কবে শরৎচন্দ্র খোট্টা বেটাদের নিয়ে রসিকতা করেছেন (খোট্টা শালার ব্যাটারা আমাকে কিলায়া কাঁঠাল পাকায়া দিয়া)। জীবনানন্দ দাশ কিছু দিন দিল্লিতে ছিলেন মাস্টারি চাকরি নিয়ে, তাঁর জীবন শুকিয়ে এসেছিল। কলকাতার কৌতুকাভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌতুক আছে, সকালবেলা ফোন গেছে একটা মেড়োর কাছে, সে কিছুতেই ভানুর কথা বুঝছে না, তাকে তিনি গালি দিচ্ছেন, ওপাশ থেকে বলছে, কী, হামকো গালি দিয়া? ভানু বলছেন, না তোমারে গালি দিব না, চুমা দিব, শালা হিন্দুস্তানি মাউড়া, বোঝে না কিছু।
আমি জাতিবৈর নই। ভাষাবৈরও নই। হিন্দি ভাষা শিখতে আমার আপত্তি নেই। আমি নিজে ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পাতায় ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবিটা দেখতে বলেছি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের। তবু নিজের সংস্কৃতি—আমাদের ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালি, আমাদের রবীন্দ্র-নজরুল-জীবনানন্দ দাশের জন্য খুব মায়া হয়! এর আগে এই প্রথম আলোতেই আমি লিখেছি, হিন্দির সঙ্গে বাংলার লড়াইয়ে আমরা হেরে গেছি। আমি পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছি। আমাদের বানানো টিভি অনুষ্ঠান আর কেউ দেখে না। কেবল গরিব মানুষ, গ্রামগঞ্জে যেখানে স্যাটেলাইট নেই, তারা দেখে। তবু সেই সংখ্যাটা অনেক বেশি। ছয় কোটি লোক বিটিভি দেখে, এক কোটি দেখে স্যাটেলাইট। অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেছিলেন, বাংলা ভাষাটা বাঁচায়া রাখছে কৃষক-শ্রমিক সাধারণ মানুষরা, কারণ তারা বাংলায় কথা কয়। এখন আমরা এই কৃষক-শ্রমিকদের মুখেও হিন্দি তুলে দিতে চাইছি, অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক যে কৃষক-শ্রমিককে কৃতিত্ব দিয়েছেন এই ভাষাটা বাঁচায়া রাখার। যাদের হিন্দি টিভি চ্যানেল বা ভিসিআর দেখার সুযোগ নেই, তাদের জন্য কাঁধে বয়ে বয়ে হিন্দি ফিল্ম নিয়ে যাওয়ার জন্য বায়না শোনা যাচ্ছে!
কী লাভ বা ক্ষতি হবে তাতে? রবীন্দ্রনাথ যখন বলেন, পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর, তখন তিনি ঢাকাই শাড়ির বিজ্ঞাপন করেন। আর যখন দিল্লি ৬ ছবিতে মাসাক কালির কথা বলা হয়, আর আমাদের ঈদের মার্কেট ভেসে যায় মাসাক কালি শাড়িতে, তখন আমরা সরাসরি ভারতীয় পোশাকের বিজ্ঞাপন করি। আজকে লেহেংগা এসে শাড়িকে প্রতিস্থাপিত করতে চায়। তাতে আমরা কেবল আমাদের সংস্কৃতির চিহ্নই হারাই না, আমরা অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হই। আমার ঢাকাই শাড়ির কারিগরটাকে বঞ্চিত করি। সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য কেবল সংস্কৃতির জন্য দরকার হয় না, সেটা অর্থনীতির জন্যও দরকার, সেটাই এই সময়ে বিশ্বরাজনীতির নিয়ন্তা। নইলে বড়লোক দেশগুলো সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বানায় ও পোষে কি নিতান্তই শখে? সেদিন টেলিভিশনে শিল্পী আনুশেহ একটা অনুষ্ঠানে সরাসরি সংগীত পরিবেশন করছিলেন, অনুষ্ঠানটার নাম ছিল ‘আমার পণ্য আমার দেশ’। তাঁর মা, শিল্পী লুবনা মরিয়ম ফোন করে বললেন, ‘আমি বলব, আমার সংস্কৃতি আমার দেশ’। দুটোই সত্য। আমার পণ্যই আমার দেশ, আমার সংস্কৃতিও আমার দেশ। কথাটা যেন আমরা ভুলে না যাই।
সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে, একদল মানুষ যেন বলতে চাইছে, আমাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণী হিন্দি ছবি দেখে, গরিব মানুষ দেখার সুযোগ পায় না, হিন্দি ছবি দেখার মৌলিক অধিকার থেকে গরিব মানুষকে বঞ্চিত রাখা রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অন্যায়। বাংলাদেশের নির্মাতারা যদি গরিব মানুষকে ভালো ছবি দেখাতে না পারে, তাহলে আমরা কেন তাদের হিন্দি ছবি দেখতে দেব না? তারা চাইছেন, এখন একই সঙ্গে বোম্বে, মাদ্রাজ, ভুবনেশ্বর, কলকাতা, গুয়াহাটি, জয়পুর ও আগ্রার সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, গলাচিপায় হিন্দি ছবি মুক্তি পাক। শাহরুখ খান-ঐশ্বরিয়া আসবেন তাঁদের ছবির প্রচারণার কাজে। ওই বিজ্ঞ মানুষদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, হিন্দি ছবি হচ্ছে সর্বভারতীয় সংস্কৃতির সবচেয়ে উন্নত সৃষ্টি, যেটা না দেখলে মানবজনমই বৃথা! এমন মানবজনম আর কি হবে! ওরে মরার আগে সব বাঙালি প্রতি বছরে গোটা ৫২ হিন্দি ছবি দেখে নিয়ে তারপর চোখ বুজিস। নইলে মরার পরে কী বলবি, জীবনে কী দেখেছিস!
সিনেমা যে কত বড় মাধ্যম, কত শক্তিশালী মাধ্যম, বড় পর্দার প্রভাব যে কত ব্যাপক ও কত গভীর, সেটাও যদি বলে বোঝাতে হয়! এখনই ঢাকার উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে হিন্দি নাচগানের আয়োজন করে, তখন যে কী হবে! আর আনুশকা ইউসুফ তো সেটাকেই বাংলাদেশি ও বাঙালি সংস্কৃতি বলে ধরে নিয়েছেন।
বাংলাদেশের হলে হলে হিন্দি ছবি দেখানোর দাবি যাঁরা করছেন, তাঁদের যুক্তিটা আমি বোঝার চেষ্টা করছি। তাঁরা বলছেন, যেহেতু এত দিন ধরে বাংলা ছবিকে সুরক্ষা দিয়ে কোনো লাভ হয়নি, আমরা ভালো ছবি ঢাকায় নির্মিত হতে দেখিনি, কারণ বাংলা ছবিওয়ালাদের কোনো প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়নি, তাই হিন্দি ছবি আনতে হবে, তাহলে প্রতিযোগিতা হবে, তখন বাংলাদেশের ছবির নির্মাতারা হিন্দি ছবির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এমন ছবি বানাতে বাধ্য হবেন। প্রটেকশন দিয়ে যদি অন্য কোনো লাভ হয়ে না থাকে, বাংলাদেশের সংস্কৃতির চিহ্নগুলো হিন্দি সংস্কৃতির চিহ্ন দ্বারা পুরোপুরি অপসারিত হয়ে যায়নি, এই একটা লাভ তো হয়েছে। আর সূর্য দীঘল বাড়ি কি দিল তো পাগল হ্যায়-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে? মাটির ময়না প্রতিযোগিতা করবে কুচ কুচ হোতা হ্যায়-এর সঙ্গে? এটাকে প্রতিযোগিতা বলে? সারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ছবিগুলো আনুন—ইরান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা এমনকি ভারতের, কোনোই আপত্তি নেই, তবে তা আন্তর্জাতিক বিচারে ভালো ছবি হতে হবে এবং ভারতে হলিউডি ছবির ক্ষেত্রে যে রকম স্থানীয় ভাষায় ডাবকৃত হওয়া বাধ্যতামূলক, আমাদের দেশেও তাই করতে হবে, এই দেশে বিদেশি ছবি অবশ্যই বাংলায় ডাব করে চালাতে হবে। আর একটা প্রশ্ন, আমরা কেন হিন্দি চ্যানেলগুলোকে এই দেশের টিভিতে এমন অবাধ করে দিয়েছি, যখন ভারতে আমাদের চ্যানেলগুলো দেখানো হয় না বললেই চলে! প্রতিটা হিন্দি চ্যানেলের জন্য বাড়ি-প্রতি অন্তত পাঁচ টাকা করে কর নিলেও তো সরকারের কোষাগারে কিছু জমা হয়!
আনিসুল হক: সাহিত্যিক, সাংবাদিক।

বুদ্ধের মানবতাবাদী শিক্ষা by সুকোমল বড়ুয়া

আজ মহান বুদ্ধপূর্ণিমা। মানবের ইতিহাসে এক পরম পবিত্র তিথি। খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৪ অব্দের এই দিনেই জন্ম হয়েছিল মহামানব গৌতম বুদ্ধের। দীর্ঘ ছয় বছর কঠোর তপস্যার পর তাঁর বুদ্ধত্ব লাভ হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৫৮৯ অব্দে। সুদীর্ঘ ৪৫ বছর ধর্ম প্রচারের পর ৮০ বছর বয়সে তাঁর মহাপরিনির্বাণ হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৫৪৪ অব্দে। গৌতম বুদ্ধের মহান জীবনের এই প্রধান তিনটি ঘটনাকেই মানববিশ্বের ইতিহাসে বুদ্ধপূর্ণিমা নামে অভিহিত করা হয়। এ দিন সমগ্র বিশ্বের বৌদ্ধরা এবং মানবতাবাদী দার্শনিক চিন্তাবিদেরা বুদ্ধের জীবনদর্শনকে গভীরভাবে অনুধাবন করেন এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করেন।
প্রতিবছর মহান এই বুদ্ধপূর্ণিমা উদ্যাপনের মধ্য দিয়েই আমরা মহামানব গৌতম বুদ্ধের মানবতাবাদী শিক্ষা, জীবনদর্শন এবং উত্তম মানবজীবন গঠনের লক্ষ্যে সুন্দর, সৎ ও আলোকিত আদর্শের এক অপূর্ব শিক্ষা লাভ করি; যা ইহজাগতিক এবং পারমার্থিক উভয় জীবনের জন্য অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ। বৌদ্ধমতে, প্রজ্ঞাময় জীবনের মধ্য দিয়েই একজন মানুষের সর্বোত্তম জীবন গড়ে ওঠে; যেখানে তিনি হন ন্যায়পরায়ণ, বিবেকবান ও আত্মসচেতন। আমি কে? আমার করণীয় কী? ভালো-মন্দ কী কাজ আমার করা উচিত এবং অনুচিত? আমার কর্মে আমি নিজেই সন্তুষ্ট কি না? সর্বোপরি আমার কর্মে মানবজাতি উপকৃত হচ্ছে কি না?—এসব বিষয় চিন্তা করাই হলো বৌদ্ধ-ভাবনা। একজন মানুষ এসব চিন্তা করতে গেলেই তার জীবন সম্পর্কে, জীবনের করণীয় সম্পর্কে এবং কর্মের শুভাশুভ সম্পর্কে অনায়াসে ভাবতে পারবে। এতে আত্মজীবন যেমন বিশ্লেষণ করা যাবে, তেমনি জীবন-সচেতনতাও বৃদ্ধি পাবে।
তবে আমরা সহজে আত্মজীবন বিশ্লেষণ করতে চাই না। নিজের সম্পর্কে জানতেও চাই না। তাই আমাদের মানবতা ও বিবেকবোধ আজ এত বিপন্ন, মানবজাতির এত দুঃখ-দুর্দশা। এ জন্যই বুদ্ধ বলেছেন—উত্তিট্ঠ নপ্প মজ্জেয়্য, ধম্মং সুচরিতং চরে, অর্থাৎ তোমরা ওঠো! আত্মসচেতন হও। সুন্দররূপে ধর্মাচরণ করো। বুদ্ধ আরও বলেছেন, এহিপসি্সকো ধম্মো সন্দিটিঠকো পচ্চত্তং বেদিতব্বং, অর্থাৎ তুমি তোমাকে জানো, দেখো, সম্যকভাবে পর্যবেক্ষণ করো এবং তুমি তোমাকেই বিচার-বিশ্লেষণ করো। মহামতি বুদ্ধের এই জীবনদর্শন সক্রেটিস ও প্লেটোর জীবনেও দেখতে পাই।
বৌদ্ধমতে, তিনিই প্রজ্ঞাবান ও সর্বোত্তম, যিনি আত্মসচেতন, নীতিবোধসম্পন্ন, বিবেকবান এবং যিনি তাঁর ভালো-মন্দ কর্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ পরিজ্ঞাত হন। ব্যক্তি বিবেকসচেতন হলেই মন্দ কর্ম থেকে বিরত থাকতে পারেন। তাই বৌদ্ধ মানস গঠনের লক্ষ্যে পঞ্চশীল বা পঞ্চনীতির কথা বলা হয়েছে, যেখানে একজন ব্যক্তি তাঁর জীবনের প্রথম থেকেই এই সদ্গুণ চর্চা করবে। এই পঞ্চনীতিতে আমি শুধু নিজেই নীতিপরায়ণ হব তা নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যকেও নীতিবান হতে অনুপ্রাণিত করব। বৌদ্ধ পঞ্চনীতিতে বলা হয়েছে—১. আমি কোনো প্রাণীকে হত্যা করব না, আঘাত করব না। অন্যকেও এ কাজ করার জন্য কখনো উৎসাহিত করব না। ২. আমি চৌর্যবৃত্তি করব না, অন্যকেও এ কাজে অনুপ্রাণিত করব না। ৩. আমি ব্যভিচার করব না, অন্যকেও এ কাজে উৎসাহ দেব না। ৪. আমি মিথ্যা বলব না, অন্যকেও তা করার জন্য উৎসাহিত করব না। ৫. আমি মাদকদ্রব্য সেবন করব না, অন্যকেও উৎসাহিত করব না।
এই নীতিগুলো যদি সবাই পালন করি তাহলে কখনো কি আমরা অনৈতিক কাজ করতে পারি? শীল পালনের গুরুত্বকে বৌদ্ধ ধর্ম সবিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। বৌদ্ধ নীতিবিজ্ঞান ও কার্যকারণ তত্ত্বে বলা হচ্ছে, একটি অনৈতিকতা আরেকটি অনৈতিকতার জন্ম দেয়। একটি সদিচন্তা আরেকটি সদিচন্তা সৃষ্টি করে। অশুভ চিন্তা থেকে কখনো শুভ ফল পাওয়া যায় না। ব্যক্তির কর্ম যদি কৃষ্ণ হয়, ফলও হবে কৃষ্ণ। কৃষ্ণকর্ম থেকে কখনো শুক্লফল আশা করা যায় না।
বৌদ্ধমতে, বিদ্যা ও সম্যক জ্ঞানের অভাবই হচ্ছে অবিদ্যা। অবিদ্যাই সব অজ্ঞানতার মূল কারণ। অশুভ, দুর্বিনীত এবং অজ্ঞানপ্রসূত সব কাজের জন্য ব্যক্তির অবিদ্যাই দায়ী। লোভ, দ্বেষ, মোহ, হিংসা, জিঘাংসা প্রভৃতি কুমানসিকতা অবিদ্যা ও অজ্ঞানতা থেকেই সৃষ্টি হয়। সৃষ্টি হয় নানা রকম মিথ্যা ও অসদাচরণ। সুতরাং আমাকে বুঝতে হবে, আমার বিপথগামী চিত্তই আমাকে প্রতি মুহূর্তে অশুভ পথে নিয়ে যাচ্ছে। তাই বৌদ্ধশাস্ত্র বলছে, শত্রু যতটুকু ক্ষতি করতে পারবে না, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারবে ব্যক্তির নিজের বিপথগামী চিত্ত। নিজের পিতা-মাতা নিজ সন্তানসন্তুতির যতটুকু উপকার সাধন করতে পারবে না, তার চেয়ে বেশি উপকার করতে পারবে নিজের সুসংযত ও সুপথে পরিচালিত চিত্ত। তাই বৌদ্ধ ধর্মে সদ্জীবন গঠন ও পরিচালনার জন্য আটটি বিশুদ্ধ পথ বা মার্গের কথা বলা হয়েছে, যাকে বৌদ্ধ পরিভাষায় বলা হয় আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ। এগুলো হলো—সদ্দৃষ্টি, সদ্বাক্য, সদ্কর্ম, সদ্জীবিকা, সদ্সংকল্প, সদ্প্রচেষ্টা, সদ্স্মৃতি ও সদ্সমাধি। ব্যক্তির ব্যবহারিক জীবনে তো বটেই, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এসবের গুরুত্ব অনেক।
মানুষ হিসেবে আমি যদি উত্তম হই, সর্বশ্রেষ্ঠ হই, তাহলে আমার প্রতিটি কর্ম, চিন্তাও কি উত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ হবে না? এ জন্যই বৌদ্ধ ধর্ম বলছে—হীনধম্ম ন সেবেয়্য, পমাদেন ন সংবসো, অর্থাৎ তোমাদের জীবনে তোমরা কখনো হীন আচরণ করবে না, কখনো প্রমাদের বশবর্তী হয়ো না। কারণ হীনতা অধম চরিত্রের কাজ এবং প্রমাদই মৃত্যুর পথ।
অতএব চলুন, আমরা আজ চিত্তকে পরিশুদ্ধ করি। হিংসা, ক্রোধ পরিহার করি এবং সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও নানা ধরনের অপকর্ম থেকে নিজকে বিরত রাখি। এভাবে যদি আমরা নিত্যসুন্দর ও সৎপথে পরিচালিত হই তাহলে আর কোনো রকম অন্যায়, অবিচার ও অপরাধ থাকবে না। সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বে আর কোনো রকম নৈরাজ্য ও অশান্তি থাকবে না। থাকবে না কোনো রকম অরাজকতা। অতএব চলুন, আমরা আজ সেই লক্ষ্যে মহামতি গৌতম বুদ্ধের মানবতাবাদী অহিংস জীবনদর্শনে উজ্জীবিত হই। সব্বে সত্তা সুখীতা ভবন্তু—জগতের সকল জীব সুখী হোক। ভবতু সব্ব মঙ্গলং—সকলের মঙ্গল হোক। বাংলাদেশ চির সমৃদ্ধময় হোক। বিশ্বে শান্তি বর্ষিত হোক।
ড. সুকোমল বড়ুয়া: সাবেক চেয়ারম্যান, পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আকাশছোঁয়া মুসা by আসিফ নজরুল

তিন-চার বছর আগের কথা। রিমি পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল তাকে। ফরসা, একহারা গড়ন, শিশুতোষ চোখ, ওপরের দিকে দৃষ্টি। কিন্তু সবচেয়ে চোখে পড়ে তার ফুলে ওঠা র‌্যাকস্যাক। পিঠে এ ধরনের ভারী র‌্যাকস্যাক দেখা যায় বিমানবন্দরে, টুরিস্ট স্পটে। কিন্তু এটা বিমানবন্দর নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের করিডর। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের হাঁটাচলা। মাঝখানে এই র‌্যাকস্যাক পিঠের তরুণ! আমি কি সামান্য বিরক্ত হই? তড়িঘড়ি করে প্রশ্ন করি, কোথায় আছেন আপনি? সে এই প্রশ্ন শুনে হাসে। রিমি জানায় কোন পত্রিকায় কাজ করে তার বর। প্রথম আলো নয়, ডেইলি স্টার বা অন্য কোনো বড় পত্রিকায়ও নয়। আলাপ এখানেই শেষ। আমি তাঁর নামও মনে রাখি না।
চার দিন আগে ডেইলি স্টার-এর ওয়েবপেজে দেখি এক অকল্পনীয় ছবি। এভারেস্ট জয় করেছে বাংলাদেশের এক তরুণ! আনন্দে চিৎকার করে উঠি। বাংলাদেশ জয় করেছে মাউন্ট এভারেস্ট! কাঠমান্ডু থেকে ফেরার পথে বিমানের পাইলট একবার ঘোষণা করলেন, এভারেস্ট আমাদের বাঁয়ে এখন। জানলা দিয়ে দেখি, তুষারশুভ্র মৌন এক বিস্ময়! অনেক উঁচুতে মেঘ আর আকাশের সবচেয়ে কাছের পর্বতশৃঙ্গ! হিলারি আর তেনজিং এত উঁচুতে উঠেছিলেন! দূর, বিশ্বাসই হয় না আমার। ততক্ষণে বিমানের বাঁ দিকে হুড়মুড় করে উঠে এসেছে অনেকে। বিমান কি সামান্য কাত হয়ে পড়ল একদিকে! কারও কি আর্তচিৎকার শুনলাম আমি? হাসি মনে মনে। নিরাপদে এভারেস্ট দেখার জন্য এটুকু পাগলামি আমি হলেও করতাম। সেই এভারেস্টের চূড়ায় নিজের পায়ে আরোহণ করেছে মুসা ইব্রাহীম, বাংলাদেশের এক তরুণ! সত্যি সত্যিই করেছে! কই, কোনো দিন তো শুনিনি তার কথা আগে!
পরদিন প্রথম আলোতে তার ছবি, তার স্ত্রী আর শিশুপুত্রের ছবি। মূল শিরোনামের পাশে মুসাকে নিয়ে আনিসুল হকের লেখা। সেটি পড়ে বুক চিনচিন করে ওঠে আমার। আহা রে, এই লেখাটা যদি লিখতে পারতাম আমি! আনিস, মতি ভাই, সাগর ভাই, কতজন মুসাকে সাহায্য করেছেন। ওর জন্য কিছু করার সুযোগ থাকত যদি আমার! একটু যদি পরিচয়ও থাকত ওর সঙ্গে!
আনিসের নিচে সুমনা শারমিনের লেখা। মুসার পরিবারের গল্প। চমকে উঠি আমি। রিমির (উম্মে সরাবন তহুরা) বর মুসা ইব্রাহীম! রিমি আমারই ছাত্রী ছিল একসময়, এখন ময়মনসিংহের বিচারক। কয়েক বছর আগে র‌্যাকস্যাক পিঠে এক তরুণকে সে-ই নিয়ে এসেছিল আমাদের আইন বিভাগে। পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল তার স্বামীকে। সেই তরুণই মুসা ইব্রাহীম! মহা স্টুপিড আমি। সেই র‌্যাকস্যাক দেখে বিরক্ত হয়েছিলাম? হালকা-পাতলা শিশুতোষ চোখের সেই ছেলেই জয় করেছে এভারেস্ট! একটু রাগ হয় রিমির ওপর। বলেনি কেন সে, মুসা একজন পর্বতারোহী? আনিসুল হকের লেখা পড়ে জানলাম, সারাক্ষণ র‌্যাকস্যাক পিঠে রাখে সে ওজন বহনের অভ্যাস করার জন্য। রিমি তো এটাও বলেনি!
বললে কী হতো? হাসি মনে মনে। আমি কি তাহলে একবারও ভাবতাম, এই ছেলে একদিন এভারেস্ট জয় করবে? একদিন ইতিহাস নির্মাণ করবে! হয়তো বরং আরও বিরক্ত হয়ে ভাবতাম, বাংলাদেশে আবার পর্বতারোহী কী? আমি সাধারণ মানুষ, আটপৌরে জীবনে আটপৌরে ভাবনা নিয়ে থাকি। মুসা অন্য কেউ, অনন্য একজন! তার উচ্চতা বোঝার শক্তিই তো ছিল না আমার!
এখন আমি বারবার মুসার ছবি দেখি, তাকে নিয়ে সব লেখা ওয়েবসাইট খুলে খুলে পড়ি। পাহাড়ের মাথায় মুসার ছবি, সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা। চোখ ভিজে যায়, বুকের ভেতর আরেক এভারেস্ট ওঠে জেগে। বাংলাদেশ পারে! চাইলেই পারে বাংলাদেশ। পারে এমনকি এভারেস্ট ছুঁতে!
মুসা ইব্রাহীম, আপনি আমাদের সশ্রদ্ধ সালাম গ্রহণ করুন। স্যালুট নিন, প্রণাম নিন। দুঃখ-যন্ত্রণা ভরা এ দেশের পত্রিকার শিরোনাম কিছুদিনের জন্য হলেও পাল্টে দিয়েছেন আপনি। সারা দেশকে আনন্দে উদ্বেল করেছেন। বহু বছর পর আপনিই দেখিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণেরা কেমন অমিত শক্তির, দৃঢ়সংকল্পের, দুর্দান্ত ইচ্ছাশক্তির।
এই তরুণেরা গোটা বাংলাদেশকে এভারেস্টের উচ্চতায় তুলতে পারবে না একদিন? নিশ্চয়ই পারবে। সব প্রতিকূলতা জয় করে বিজয়ী হতে পারবে না একদিন? অবশ্যই পারবে। হয়তো আমরা থাকব না সেদিন! কিন্তু বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেই একদিন।
মুসা, আপনি ম্লান হয়ে যাওয়া আমাদের সেই বিশ্বাস কি অবলীলায় পুনর্নির্মাণ করেছেন! আপনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
>>>আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

দুর্বল দুর্নীতি দমন কমিশন চাই কার স্বার্থে -দুদক সংস্কার by মনজুর রশীদ খান

গত এপ্রিলে দুর্নীতি দমন আইন ২০০৪-এর প্রস্তাবিত সংশোধনী সরকারের মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর বের হলে সচেতন মহলে বেশ হইচই পড়ে যায়। অনেকের মতে, এই সংশোধনী আইনটিকে অনেকটা আগের বৈশিষ্ট্যেই ফিরিয়ে নেবে। অর্থাৎ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০০৭-এর পটপরিবর্তনের পূর্বাবস্থার কাছাকাছি থেকে যাবে। তাই আশঙ্কা, এতে দুদক শক্তিশালী নয়, দুর্বল হয়ে পড়বে। মনে স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগল, তাহলে কি মন্ত্রিপরিষদ দেশে দুর্নীতি কমে গেছে বলে নিশ্চিত হয়েই শক্তিশালী করার উদ্যোগ থেকে সরে গেছে? ১৫ মাস দেশ শাসন করে সরকার কি বুঝতে পেরেছে উপজেলা, জেলা, রাজধানীর বিভিন্ন অফিস, ছোট-বড় সংস্থা প্রভৃতি থেকে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিশুদ্ধ হয়ে ভালো হয়ে গেছেন? হয়তো মন্ত্রিপরিষদ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার গোপনীয় রিপোর্ট পড়ে, বড় কর্তাব্যক্তিদের ব্রিফিং শুনে বা দলের তৃণমূল স্তরের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য শুনে সন্তুষ্ট হয়েছে যে, শক্তিশালী দুদকের প্রয়োজন নেই। কিন্তু সুশীল সমাজ, দাতাগোষ্ঠীসহ দেশি-বিদেশি সংগঠন এবং গণমাধ্যমের মত ভিন্ন। তাদের ধারণা, এই সংশোধনী দুদককে নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করা থেকে বিরত রাখবে।
সংশোধনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সরকারি কর্মকর্তা বিশেষ করে বড় আমলা ও রাজনৈতিক পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে হলে সরকারের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ তাদের জন্য বিশেষ রক্ষাকবচের ব্যবস্থা থাকবে। বাহ্যত যুক্তি হলো দুদকের মামলার ভয়ে প্রশাসন গতিহীন হয়ে পড়বে, দুদকের সদস্যদের হাতে পদস্থ কর্মকর্তাদের ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হবে ইত্যাদি। সেই পুরোনো যুক্তি, যা দুই যুগ আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ ও পরে বেগম জিয়ার সময়ও শোনা যেত। প্রসংগত উল্লেখ করা যায়, ২০০৪ সালে বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের আওতায় দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে। প্রধানত দাতাগোষ্ঠীর চাপে এই কমিশন করলেও যাঁদের চেয়ারম্যান ও সদস্য করা হয় তাঁরা নানা প্রতিকূলতার কারণে কখনোই সঠিকভাবে কাজ করতে পারেননি। হয়তো সে সরকার তেমনটাই চেয়েছিল।
কারা দুদকের নামে ভীত-সন্ত্রস্ত হতে পারে তা বোঝা অসাধ্য নয়। কে জানে না, দুর্নীতির প্রধান আখড়া যে সরকারি ছোট-বড় দপ্তরগুলো। একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে জনসাধারণের হয়রানির খবর প্রতিনিয়তই গণমাধ্যমে পাওয়া যায়। সৎ, কর্তব্যপরায়ণ, নিষ্ঠাবান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হবে কেন? যারা দুর্নীতিবাজ তারা তো আতঙ্কিত হওয়ারই কথা। প্রকৃতপক্ষে যদি এমন কিছু সংস্থা থাকে যা অপরাধী বা সম্ভাব্য অপরাধীকে ভীত-সন্ত্রস্ত রাখে, তা তো খুবই ভালো। তারা ঘুষ চাইতে শতবার ভাববে। দুদকের লোকজন যদি সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি, ভোগান্তির সৃষ্টি করে ও নিজেরাই দুর্নীতির আশ্রয় নেয়, তাহলে তো সংস্কার আরও বেশি জরুরি। সুযোগ্য সুদক্ষ ও কর্তব্যপরায়ণ লোক নিয়ে একটি আদর্শ সংস্থা করে গড়ে তুলতে দুদকের যথোপযোগী আইনি সংশোধন ও সংস্কারের বিকল্প নেই। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কিছু বিষয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু মূল বিষয় যেমন পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে নতুন সরকারকে ক্ষমতায়ন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্বহাল করার কাজটি করেছে, তেমনি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রবল ঝাঁকুনির সুফল জাতির জন্য অপর একটি বড় প্রাপ্তি। সে সময় অধ্যাদেশ জারি করে দুদক আইনের যথার্থ সংস্কার এবং পুনর্গঠন করা হয়েছিল (যে অধ্যাদেশ সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত না হওয়ার ফলে বাতিল হয়ে যায়)। এর ফলে কমিশন সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু গত ১৩-১৪ মাস যাবৎ দুদক অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তাহলে জনমনে এমন ধারণাই সৃষ্টি হতে বাধ্য যে ক্ষমতাসীন দল কঠোর হাতে দুর্নীতি দমনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে আন্তরিক নয়।
প্রশ্ন জাগে, ক্ষমতাসীন সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘোষিত শক্ত অবস্থান থেকে সরে আসার আরেকটি পরোক্ষ সম্ভাব্য কারণ কি ২০০৭-এর পটপরিবর্তনের পর গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুদক ও যৌথ বাহিনী পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান? সে সময় দুদক এবং দুর্নীতি ও গুরুতর অপরাধ দমনবিষয়ক বিভিন্ন টাস্কফোর্স অনেক ক্ষমতাবান বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে বিপুল অর্থসম্পদ লুটপাটের অভিযোগে আটক করে। তাঁদের গ্রেপ্তার এবং সাজাপ্রাপ্তির ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত রয়েছেন উভয় দলেরই কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সে সময় মহা শক্তিধর দুর্নীতিবাজদের মহা বিপদ গেছে।
কেউ কখনো কল্পনাও করেনি যে এমন গ্যাঁড়াকলে পড়তে হবে। কোনো স্বাধীন শক্তিশালী দুদক থাকলে যে মহা বিপদ আসতে পারে সেটি পূর্ববর্তী ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা বুঝতেন (দুদক শক্তিশালী ও সক্রিয় থাকলে অবাধ লুটপাট বিপজ্জনক ভাবা হতো)। যেমন তারা বুঝেছিলেন যে নিজেদের লোক তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান ও নির্বাচন কমিশনপ্রধান না হলে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসা কঠিন। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কিছু কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিল, যার সব দায়ভার পড়ল গিয়ে দুদক নামের প্রতিষ্ঠানের ওপর। অথচ সে সময় অধিকাংশ হাই প্রোফাইল কেসই গুরুতর দুর্নীতি ও অপরাধ দমনবিষয়ক টাস্কফোর্সের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। ক্ষমতাসীন দলের কারও কারও আক্রোশ দুদকের ওপর। তারা দুদকের ওপর্রখড়্গহস্ত। তাদেরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপের ফল এই প্রতিষ্ঠানকে নির্বাহী নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়াস বলে ধারণা করা অমূলক নয়। এর সঙ্গে আমলাদের একটি শক্তিশালী মহলেরও একাত্মতা রয়েছে এমনটা অবস্থা দৃষ্টে মনে হওয়াও স্বাভাবিক।
যেসব রাঘববোয়াল দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের ভাগ্য গড়েছে, যারা নিজেদের সবকিছুর ঊর্ধ্বে মনে করত, তাদের জন্য দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ছিল একটি ভয়ংকর রকমের ধাক্কা। সেই অভিযানের প্রধান ভূমিকায় ছিল তখনকার দুর্নীতি ও গুরুতর অপরাধ দমনবিষয়ক বিভিন্ন টাস্কফোর্সের সদস্যরা। তাদের সক্রিয়তা না থাকলে বাংলাদেশের ইতিহাসের বড় বড় লুটপাটের ঘটনা পর্দার আড়ালেই থাকত। দেশে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনে যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে তা স্বীকৃত বাস্তবতা। উল্লেখ্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও স্বীকার করেন, ‘একটা বড় ঝাঁকুনির প্রয়োজন ছিল।’ কোনো কোনো টাস্কফোর্সের কর্মকর্তাদের (বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে) কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়নি, কারও কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বাড়াবাড়ির অভিযোগ উঠেছে। তখন সঠিক দিকনির্দেশনা অনুপস্থিত ছিল এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছিল না বলে মনে হয়। অবশ্যই এসব অভিযোগের তদন্ত হওয়া উচিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুদক আইন সংশোধন করে নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দিয়েছিল। তৎকালীন চেয়ারম্যান দুর্নীতি নির্মূলে নানা উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসিত হন। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়াবাড়িতে দুদকের সদস্যরা খুব একটা জড়িত ছিল না বলেই জানা যায়। আমার মনে হয় না যে, বড় মাপের মামলার গ্রেপ্তারে চেয়ারম্যানের কোনো ভূমিকা ছিল। কিন্তু পরে দেখা গেল, সবকিছুর জন্য যেন তৎকালীন চেয়ারম্যানই দায়ী। এখন মাঠে টাস্কফোর্সের কেউ নেই, সমন্বয়ক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাও নেই। অথচ রোষানলে পড়ে গেল মাঠে অবস্থানকারী দুদক নামের প্রতিষ্ঠানটি। হয়তো এ জন্যই এর ডানা ছাঁটার প্রয়াস!
কেউ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের মতো দুদক না চাইতে পারেন। কিন্তু প্রকারান্তরে কি এমন দুদক আইন চাইবেন যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় শক্তি-সামর্থ্যহীন ও কার্যকর রাখার উপাদানহীন থাকে? যেটি নামে থাকবে, যাতে দাতারা খুশি থাকেন; কাজের মধ্যে থাকবে ছোটখাটো অর্থাৎ চুনোপুঁটিদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষমতা। সরকারের বড়কর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করতে গেলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে। সেই আগের অবস্থা যা এরশাদ সাহেব ও বেগম জিয়ার সময় প্রচলিত ছিল। বড়কর্তা যাঁরা আশপাশে থাকতেন, যাঁদের সাহায্য ছাড়া ফাইলপত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা সৃষ্টি করা যেত না; তাঁরা চাইতেন রক্ষাকবচ। সে অবস্থায়ই ফিরিয়ে নিতে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। মোদ্দা কথা হচ্ছে, দুদককে এমন স্বাধীনতা দেওয়া যাবে না যাতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তি বা উচ্চস্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে পারে। সব দেশেই কোনো ধরনের অপরাধ-তৎপরতা বেড়ে গেলে নতুন নতুন আইন করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলে। ৯/১১’র পর সন্ত্রাস দমনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর থেকে কঠোরতর আইন করা হয়েছে। জনগণ নানা হয়রানির শিকার হলেও মেনে নিচ্ছে এই বলে যে দেশ নিরাপদ থাকবে। আর আমাদের কী হলো? দুর্নীতিতে পরপর চ্যাম্পিয়ন হলেও দুর্নীতি দমনে আরও কঠোর ব্যবস্থার বদলে দুর্বল রাখার পথ খোঁজা হচ্ছে। টিআইবির অভিমত, বাংলাদেশে দুর্নীতি কমেনি, বরং বেড়েই চলেছে। পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন সঠিক হলে সরকারি অফিসে—উপজেলা থেকে রাজধানী পর্যন্ত—কোথাও দুর্নীতি কমেছে বলে মনে হয় না।
দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার অর্থও এই নয় যে সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ পাবেন। তাঁরাও সরকারের একটি অংশ এবং সুনির্দিষ্ট আইন ও বিধিবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন। এই সংস্থাকে নিরপেক্ষ, শক্তিশালী ও কার্যকর রাখার জন্য বিশেষ কিছু প্রতিবিধানের প্রয়োজন আছে। সংস্থার প্রধানকে যথাযথ আইনি ও অন্যান্য ক্ষমতা দিতে হবে এবং অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় রাখতে হবে। দুদকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি, তদন্ত-প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক ও অন্যায় আচরণের অভিযোগগুলো দেখার কড়া ব্যবস্থা রাখতে হবে। দুদক আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীর খসড়া এখন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে পাস হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিরোধী দল থেকে জোরালো বিরোধিতার আশা নেই। কারণ সে দলেই সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের সংখ্যা বেশি। সরকারি দলের কেউ বিপক্ষে কথা বলবেন বলে আশা করাও বৃথা। তাদেরও একটি অংশ যে দুদকের ওপর ভীষণ রকম ক্ষিপ্ত তার বহিঃপ্রকাশ টিভির টক-শো, গোলটেবিল আলোচনা সভা এবং সংসদেও দেখা গেছে। এখন একমাত্র ভরসা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার কিছু সদস্য, যাঁদের দেশ ও জনগণের স্বার্থকে ঊর্ধ্বে রাখার সুনাম রয়েছে। সংসদে তাঁরা সঠিক নির্দেশনার সূচনা করবেন বলে আশা রাখি। প্রধানমন্ত্রী বরাবরই শক্তিশালী দুদক দেখতে চান বলে আসছেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও এই প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও দেশি-বিদেশি সংগঠন-সংস্থা প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিপক্ষে মত দিয়ে আসছে, যাকে জনমতেরই প্রতিফলন বলা যেতে পারে। আশা করি, গণতান্ত্রিক সরকার এর প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেবে।
মেজর জেনারেল (অব.) মনজুর রশীদ খান: সাবেক সেনা কর্মকর্তা।
mnzr23@gmail.com

নতুন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি -সামগ্রিক চাহিদা বাড়াতে চাই দ্রুত বাস্তবায়ন

প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় সরকার এবারও নতুন আরেকটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্ত করেছে। ২০১০-১১ অর্থবছরের জন্য এডিপির আয়তন ধরা হয়েছে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা। কৃষি, পল্লি উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রণীত এই এডিপি বাস্তবায়নই হবে আগামী অর্থবছরে সরকারের তথা রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ। এবং এটি হবে আগামী বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে নতুন এডিপিতে গুণগত কোনো পরিবর্তন আসেনি। যে ৯১০টি উন্নয়ন প্রকল্প এর অন্তর্ভুক্ত, তার মধ্যে নতুন মাত্র ৯৪টি। বাকিগুলো পুরোনো; এমন প্রকল্পও আছে যেগুলো বছরের পর বছর চলে আসছে।
এডিপি নিয়ে দুটি বিষয় চিন্তার বা বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। প্রথমত, বরাদ্দ দেওয়াটাই যথেষ্ট নয়; বরং বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করাটাই জরুরি। প্রতিবছরই সরকার যা বরাদ্দ দেয়, অর্থবছরের শেষভাগে এসে তা কমিয়ে সংশোধন করা হয়। যেমন, চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরে এডিপির মোট প্রকৃত বরাদ্দ ৩০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংশোধিত এডিপিতে কমিয়ে ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। তার পরও অর্থবছরের ১০ মাসে সংশোধিত বরাদ্দের ৫৯ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। অর্থ ব্যয় করা বা প্রকল্প বাস্তবায়নে গতিশীলতা আনার জন্য দরকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস। অর্থ ছাড় করা থেকে কেনাকাটা সম্পন্ন করা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে জটিলতাগুলো দূর করা প্রয়োজন। আবার এটা করতে গিয়ে যেন অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য আনতে তাই দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা।
দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় হলো, এডিপির আয়তন। এডিপির আয়তন নিয়ে বিতর্ক আছে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে বিচার করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে এডিপি আসলে খুব বড় নয়। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র চার শতাংশ হলো এডিপি। এর মানে হলো, রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ আমাদের অনেক কম। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ না বাড়ানো গেলে দেশে সামগ্রিক চাহিদা বাড়ানো যাবে না। আর দেশজুড়ে সামগ্রিক চাহিদা বাড়ানো না গেলে অর্থনীতিতে মধ্য মেয়াদে গতিশীলতা আসবে না। এ ক্ষেত্রে সামাজিক খাতগুলোয় রাষ্ট্রীয় ব্যয় বাড়িয়ে মানুষের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করাটা জরুরি। কারণ, এ কাজের মাধ্যমেই চাহিদা তৈরি হবে, যা মেটাতে আবার বাড়াতে হবে উৎপাদন। আর এই উৎপাদনের চাকা সচল রাখার জন্য প্রয়োজন অবকাঠামোগত সমর্থন। এ জন্যও এডিপিতে অবকাঠামো বিশেষত জ্বালানি প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করার বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের ক্ষমতার দেড় বছর পার হতে চলেছে। বাস্তবায়নে মনোযোগী হতে আর দেরি করার কোনোই অবকাশ নেই।

জেএমবির শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার -ঝুঁকি কমে গেলেও নিরন্তর নজরদারি প্রয়োজন

জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ নেতা, অস্ত্র-সরঞ্জাম ও সহযোগীদের আটক করার ঘটনা নিঃসন্দেহে সাফল্যজনক। জেএমবির নেতা সাইদুর রহমানের গ্রেপ্তারে জেএমবির আরেকটি অধ্যায়ের শেষ হলো বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা যে অভিমত জানিয়েছেন, তাও হয়তো সত্য। কিন্তু ২০০৭ সালে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আবদুর রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির মধ্যে দিয়েও কিন্তু নিষিদ্ধ এ সংগঠনটি বিলুপ্তি পায়নি। আবার তারা সংগঠিত হয়েছে। এ ছাড়া জঙ্গি তৎপরতায় নিয়োজিত একমাত্র সংগঠন কেবল জেএমবি নয়, আরও নানা সংগঠনের ক্রিয়াশীল থাকার সংবাদ গণমাধ্যমে ইতিপূর্বে এসেছে। সুতরাং এখনই আশ্বস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মনে হয়।
তবে একই সঙ্গে এ কথাও ঠিক যে জঙ্গিবাদের হুমকি ও উত্থান ঘটার ঝুঁকি কমে গেছে। তা হলেও নানা পন্থায় তারা শক্তি সংহত এবং সমাজের ভেতরে নিজেদের শেকড় প্রোথিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় তাদের অস্ত্র, অর্থ ও সদস্য সংগ্রহের তৎপরতার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে এবং তাদের আটক হওয়া সদস্যরা যেসব তথ্য জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রকাশ করেছে, তাতে অনুমান করা কঠিন নয় যে তারা এখনো বিলীন হয়নি। সতর্কতার প্রয়োজন এখানেই। অন্যদিকে কেবল দেশের ভেতর থেকেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকেও বিভিন্ন সময় তারা সাহায্য ও সমর্থন লাভ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে এদের কারও কারও তৎপরতার নিশানা দেশ ছাপিয়ে বিদেশেও প্রসারিত হয়েছে। এসব বিচারে বলা যায়, দেশীয় স্তরে তারা শক্তিহীন হলেও বিদেশি কোনো অপশক্তির মদদপুষ্ট হয়ে আবার তারা ফণা তোলার চেষ্টা করতে পারে। সে কারণেই জঙ্গিদের বিদেশি যোগাযোগ, অর্থের জোগান ইত্যাদি বিষয়ে নিরবচ্ছিন্ন ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষত, নানান কৌশলে অর্থের লেনদেনের বিষয়টির দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশে সংঘটিত প্রায় প্রতিটি জঙ্গি-নাশকতার ঘটনাই ঘটেছে নিরীহ জনসাধারণের বিরুদ্ধে। ধারণা করা যায়, গত সোমবার ঢাকার দনিয়ায় আটক বিস্ফোরক ও অস্ত্র আগের ধারাতেই নাশকতার কাজে ব্যবহূত হতো। এসব অস্ত্র, নাশকতা কিংবা তহবিল সংগ্রহের জন্য জাল মুদ্রা ছাপার সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক তো নেই-ই, দুনিয়ার কোনো নীতি-নৈতিকতাও এ ধরনের গণবিরোধী কার্যকলাপকে সমর্থন করে না। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষও এখন আগের চেয়ে বেশি সজাগ।
এ রকম অবস্থায় কেবল দমনমূলক কার্যকলাপ নয়, কিছুসংখ্যক মানুষ কেন এ পথে পা বাড়ায়, তার গোড়ার কারণে হাত দিয়ে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। সমাজের ভেতরেও যাতে উপযুক্ত সচেতনতা ও প্রতিরোধের মানসিকতা বিরাজ করে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা চাই। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্তরের কোনো অংশ থেকে যাতে তারা সহায়তা না পায়, তাও নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসে বড় ধরনের হামলা হতে পারে

একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন পাকিস্তানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে গাড়ি বোমার সাহায্যে বড় ধরনের আত্মঘাতী হামলা চালাতে পারে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
অজ্ঞাত সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে উর্দু দৈনিক আজকাল জানিয়েছে, একজন সেনা কর্মকর্তা ও পাকিস্তান নৌবাহিনীর চুরি হওয়া দুটি গাড়ি মার্কিন দূতাবাসে সম্ভাব্য হামলার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।
ব্রিগেডিয়ার কাসের তারিনের একটি কালো টয়োটা করোলা সম্প্রতি লাহোর থেকে এবং পাকিস্তান নৌবাহিনীর সুজুকি বোলান গাড়িটি রাওয়ালপিন্ডি থেকে চুরি হয়।
সূত্র জানায়, এই গাড়ি দুটিই নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠনটি ওই হামলার কাজে ব্যবহার করতে পারে।
তালেবান জঙ্গিরা ৫ এপ্রিল পেশোয়ারে মার্কিন কনসুলেট ভবনে হামলার চেষ্টা চালায়। এতে ৫ জন নিহত হয়। নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা হামলা শুরু করলে জঙ্গিরা পিছু হটে।

লেস কাচজনস্কির মৃত্যুর খবর মাকে জানানো হলো

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট লেস কাচজনস্কির মৃত্যুর খবর গত মঙ্গলবার তাঁর মাকে জানানো হয়েছে। বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হওয়ার ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় পর কাচজনস্কির যমজ ভাই জারোস্ল কাচজনস্কি অসুস্থ মাকে এ খবর দেন। গতকাল বুধবার তাঁদের মুখপাত্র এলজবিয়েতা জাকুবিয়াক এ কথা জানান।
জাকুবিয়াক জানান, জারোস্ল কাচজনস্কি ও বোন মারতা গত মঙ্গলবার বিষয়টি তাঁদের মায়ের কাছে খুলে বলেন। ৮৪ বছর বয়সী মা যদিগা অসুস্থ থাকায় ছেলের নিহত হওয়ার খবর তাঁর কাছে গোপন করা হয়েছিল। চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়েছে জানালে লেস কাচজনস্কির নিহত হওয়ার খবর তাঁকে জানানো হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী জারোস্ল কাচজনস্কি আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভাইয়ের উত্তরসূরি নির্বাচিত হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের স্মোলেনস্ক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে লেস কাচজনস্কি, তাঁর স্ত্রী মারিয়াসহ ৯৬ জন নিহত হন।

পরমাণু জ্বালানি চুক্তি মেনে নিন

ব্রাজিল ও তুরস্কের সঙ্গে ইরানের পরমাণু জ্বালানি বিনিময় চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। গতকাল বুধবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কেরমানে একটি সমাবেশ থেকে তিনি এ আহ্বান জানান।
আহমাদিনেজাদ বলেন, ওবামা এই চুক্তি মেনে না নিলে তেহরানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হারাবে ওয়াশিংটন। তিনি রাশিয়ার উদ্দেশে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইরানের ওপর জাতিসংঘের চতুর্থ দফা অবরোধ আরোপের প্রস্তাবে মস্কোর সমর্থন দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সহযোগিতার কথা বলার সময় তারা (যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা) সত্যনিষ্ঠ থাকলে তাদের এই প্রস্তাব মেনে নেওয়া উচিত। তবে অজুহাত খুঁজলে, তাদের জানা উচিত, ভবিষ্যতে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘ওবামা অবশ্যই জানেন, এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। সুযোগটি হারালে ইরানের জনগণ ভবিষ্যতে তাদের আবার সুযোগ দেবে কি না, সন্দেহ রয়েছে।’
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ওবামা প্রশাসনের বক্তব্য, জাতিসংঘের অবরোধ এড়াতে তেহরানের নতুন কৌশল এটি।
ওই সমাবেশে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভকে উদ্দেশ্য করে আহমাদিনেজাদ বলেন, তেহরানের ওপর অবরোধ আরোপের প্রস্তাব সমর্থনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের আচরণ বিশ্লেষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইরানের জনগণ বুঝতে পারছে না, তারা (রাশিয়া) আসলে কি বন্ধু, তারা কি ইরানের পাশে আছে, না অন্য কিছুর পেছনে ছুটছে।’
ইরান বরাবর দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের আশঙ্কা, তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে।

‘আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে’

রাজপ্রাসাদ ছাড়ার দুই বছর পর নেপালের সর্বশেষ রাজা জ্ঞানেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ অবশেষে তাঁর নীরবতা ভেঙেছেন। নেপালের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলো তাঁর সঙ্গে যেসব চুক্তি করে, তা তারা রক্ষা করেনি। তারা তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। গত মঙ্গলবার রাতে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হয়।
গত রোববার জ্ঞানেন্দ্র (৬২) দেশের দক্ষিণে তরাই এলাকা সফরকালে একটি হিন্দু মন্দিরে যান। এ সময় রাজপরিবারের ভক্তরা তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানায়। খারাপ আবহাওয়ার জন্য জ্ঞানেন্দ্র সেখানে রাত কাটাতে বাধ্য হন। এ সময় একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে তিনি সাক্ষাৎকার দেন।
জ্ঞানেন্দ্র বলেন, ‘আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু শর্তের বিনিময়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলো রাজার সিংহাসন রক্ষা করবে, এমন কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তারা সে ওয়াদা থেকে সরে যায়।’ তিনি বলেন, ‘অনেকেই জানে আমাদের মধ্যে কী সমঝোতা হয়েছিল। এর বিচারের ভার আমি নেপালের জনগণের কাছেই ছেড়ে দিচ্ছি। এ ব্যাপারে কিছু ব্যাখ্যা করতে চাই না। ’
জ্ঞানেন্দ্র বাবা-মায়ের ছোট ছেলে হওয়ায় উত্তরাধিকার সূত্রে কখনো তাঁরর্ সিংহাসনে বসার কথা ছিল না। এর পরও ঘটনাচক্রে তিনি দুবার ওই সিংহাসনে আরোহণ করেন। তবে তা কোনো সুফল বয়ে আনেনি। বরং তাঁর মাধ্যমেই রাজতন্ত্রের বিলোপ ঘটেছে।
২০০৫ সালে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগে সেনাসমর্থিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন জ্ঞানেন্দ্র। ২০০৬ সালে প্রচণ্ড গণবিক্ষোভে দেশে ১৯ দিন ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করার পর তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দেন। ২০০৮ সালে নেপালে ২৩৯ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্রের অবসান ঘটার পর তিনি রাজপ্রাসাদ ছেড়ে দেন।
এর পর থেকে জ্ঞানেন্দ্র কাঠমান্ডুর উপকণ্ঠে নাগার্জনা এলাকায় একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বসবাস করছেন। সেখানে তাঁর একটি বাড়ি রয়েছে। বাড়িতে অবশ্য সরকারি বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। অন্য সব সাধারণ মানুষের মতো তিনি দেশের আইনকানুন মেনে চলেন এবং সরকারকে নিয়মিত কর দেন।
জ্ঞানেন্দ্র এখন প্রতিদিন ভোর ছয়টায় উঠে প্রার্থনা করেন। এরপর নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটান। দুপুরে খেয়ে একটু বিশ্রাম নেন। সন্ধ্যায় শুভাকাঙ্ক্ষী ও দর্শনার্থীদের তিনি সাক্ষাৎ দেন। এভাবেই কাটছে তাঁর দিন।

সিউলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি পিয়ংইয়ংয়ের

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্তে চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পাশাপাশি তারা দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করারও হুমকি দিয়েছে। গতকাল বুধবার সিউলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগসংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করেছে পিয়ংইয়ং। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার রণতরীডুবির ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক তদন্তে দেখা গেছে, ২৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার একটি ডুবোজাহাজ থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে দক্ষিণ কোরিয়ার চেওনান নামের যুদ্ধজাহাজটি ডুবেছে। এতে জাহাজের ৪৬ জন নাবিকের মৃত্যু হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই কোরিয়ার সমুদ্র চলাচল এবং রেডক্রস কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগসংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করেছে উত্তর কোরিয়া। তবে এখনো দুই সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগসংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। উত্তর কোরীয় অংশে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে স্থাপিত যৌথ শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে ওই সংযোগ লাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখা হয়। ওই শিল্পাঞ্চল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ছয়জন সরকারি কর্মকর্তাকেও বহিষ্কার করেছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার পিসফুল রিইউনিফিকেশন অব কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় কমিটি হুমকি দিয়েছে, তারা দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
এ ছাড়া সীমান্তে চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। মূলত ওই শিল্পাঞ্চলে দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকদের চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি এটা। আর দক্ষিণ কোরিয়ার যেসব প্রচারযন্ত্র সীমান্তে উত্তর কোরিয়াবিরোধী প্রচারণা চালাবে, সেগুলোও ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছে তারা। ছয় বছর আগে দুই কোরিয়ার মধ্যে শান্তি-প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর সীমান্তে স্থাপিত লাউড স্পিকারগুলো বন্ধ করে দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু সম্প্রতি এক বেতার বার্তায় সেগুলো আবার চালু করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরীয় কিছু ট্যাংককে সীমান্তের কাছে মহড়া দিতে দেখা গেছে।
এদিকে গতকাল সিউলের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে বেইজিংয়ে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া একটি অমার্জনীয় উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত, এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া। এ ব্যাপারে একটি কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত পদক্ষেপ নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, চীন এই বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের বিষয়টি বিবেচনা করতে আগ্রহী।’
তবে এ ব্যাপারে সতর্ক মন্তব্য করেছে চীন। চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঝ্যাং ঝিজুন বলেন, তাঁরা এখনো ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, সংঘাতের চেয়ে আলোচনা ভালো।
এদিকে দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকেরা উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের অবরোধ আরোপের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল সিউলে ৩০ জন বিক্ষোভকারী উত্তর কোরিয়াবিরোধী ব্যানার নিয়ে স্লোগান দেন। এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। চীনের প্রতি বলছি, উত্তর কোরিয়াকে রক্ষা করা বন্ধ করে জাতিসংঘের অবরোধকে সমর্থন করুন।’

পেরুর কারাগার থেকে ১৫ বছর পর মুক্তি পেলেন বেরেনসন

টানা ১৫ বছর বন্দী থাকার পর পেরুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন মার্কিন নাগরিক লরি বেরেনসন। পেরুর প্রেসিডেন্ট অ্যালান গ্রেসিয়ার পরিকল্পিত ওয়াশিংটন সফরের কিছুদিন আগে তাঁকে এ মুক্তি দেওয়া হলো।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯৯৫ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেরেনসনকে প্রথমে যাবজ্জীন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও পরে তা কমিয়ে ২০ বছর করা হয়। কিন্তু ভালো আচার ব্যবহারের জন্য কারাগার কর্তৃপক্ষ তাঁর শাস্তি আরও পাঁচ বছর কমিয়ে গতকাল বুধবার তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেয়। মুক্তি পেলেও সাজার মেয়াদ ২০ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বেরেনসন (৪০) পেরু ছাড়তে পারবেন না। পেরুর কারাগারে বন্দী একমাত্র মার্কিন নাগরিক ছিলেন তিনি।
বেরেনসন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাসিন্দা। তাঁর বাবা-মা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। পেরু সফরের সময় টুপ্যাক আমারু রেভল্যুশনারি মুভমেন্ট (এমআরটিএ) গেরিলাদের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা গড়ে ওঠে। ভুয়া সাংবাদিক সেজে তিনি পেরুর কংগ্রেস ভবনে পর্যন্ত প্রবেশ করেন। বাম গেরিলাদের হয়ে সেখানে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলে থাকা অবস্থায় ২০০৩ সালে তিনি এমআরটিএর একজন সাবেক গেরিলা নেতাকে বিয়ে করেন এবং ২০০৭ সালে সন্তানের মা হন।

আর্জেন্টিনায় গণবিপ্লবের দ্বিশতবার্ষিকী উদ্যাপন

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার অধিবাসীরা মহাসমারোহে তাদের বিপ্লবের দ্বি-শতবার্ষিকী উদ্যাপন করছে। মঙ্গলবার রাতে ২০ লাখ লোকের সঙ্গে ওই অঞ্চলের আটটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা রাজপথে আনন্দ শোভাযাত্রায় যোগ দেন।
সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রাজধানী বুয়েনস এইরিসের রাজপথে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা কিরচনারের সঙ্গে শোভাযাত্রায় যোগ দেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা ডা সিলভা, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া, উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট হোসে মুজিকা এবং চিলির নতুন প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা। এ ছাড়া হন্ডুরাসের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়া ও ওই শোভাযাত্রায় যোগ দেন।
আর্জেন্টিনা সরকারের সাবেক পার্লামেন্ট ভবন ক্যাবিলডো বিল্ডিংয়ের বাইরে সমবেত উচ্ছ্বসিত জনতার সঙ্গে তাঁরা একাত্মতা প্রকাশ করেন। সেখানে দুই হাজার নৃত্য ও সংগীতশিল্পীর অংশগ্রহণে নাচ-গানের অনুষ্ঠান হয়। রাষ্ট্রপ্রধানেরা তা উপভোগ করেন।
দ্বি-শতবার্ষিকী উদ্যাপনের কথা মাথায় রেখে রাজধানীর বিখ্যাত থেট্রো কোলন কনসার্ট হল গত চার বছর ধরে সাজানো হয়েছে। অনুষ্ঠান উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে ওই হল খুলে দেওয়া হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এক বিবৃতিতে আর্জেন্টিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। গত শুক্রবার থেকে উদ্যাপন অনুষ্ঠান শুরু হয়। ১৮১০ সালের ২৫ মে আর্জেন্টিনায় এক গণবিপ্লব হয়। এর ছয় বছর পরে দেশটি স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অ্যাকুইনোর নাম ঘোষিত হবে ৪ জুন

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হিসেবে বেনিগনো অ্যাকুইনোর নাম ঘোষণা করা হবে ৪ জুন। গতকাল বুধবার জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতারা এ কথা জানান। ভোট জালিয়াতির অভিযোগের ব্যাপারে চলমান তদন্ত এই ঘোষণায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে আইনপ্রণেতারা জানান।
১০ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ৯০ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর যে অনানুষ্ঠানিক ফলাফল পাওয়া গেছে, এতে ৫০ বছর বয়সী অ্যাকুইনো বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন।
সিনেট সভাপতি জুয়ান পন্স এনরিল বলেন, নির্বাচনে বিজয়ীর নাম একবার ঘোষণা করা হবে ৪ জুন। পরে আরেকবার ঘোষণা করা হবে ১৫ জুন।

পৃথিবীতে ফিরে এল নভোযান আটলান্টিস

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশযান আটলান্টিস গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় সকাল আটটা ৪৮ মিনিটে আটলান্টিস কেনেডি মহাকাশকেন্দ্রে অবতরণ করে।
১৪ মে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেয় নভোযান আটলান্টিস। মহাকাশ স্টেশন ও কক্ষপথে প্রায় ১২ দিন থাকার পর ছয়জন নভোচারী নিয়ে মহাকাশযানটি পৃথিবীতে ফিরে এল।
এটাই আটলান্টিসের শেষ মিশন। তবে ভবিষ্যতে মহাকাশ মিশনে নভোচারীরা বিপদে পড়লে তাঁদের উদ্ধারে এটি ব্যবহার করা হবে।
আটলান্টিস ১৯৮৫ সালের ৩ অক্টোবর প্রথম মহাকাশ অভিযানে যায়। এরপর এ পর্যন্ত ৩২টি অভিযানে অংশ নেয়। এ জন্য আটলান্টিসকে কক্ষপথে থাকতে হয়েছে ২৯৪ দিন। আর এ সময়ে পাড়ি দিয়েছে ১৯ কোটি ৫০ লাখ কিলোমিটার পথ।

মাদকবিরোধী অভিযানে জ্যামাইকায় ৬০ জনের বেশি নিহত

ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপদেশ জ্যামাইকায় গত মঙ্গলবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শীর্ষস্থানীয় এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে রাজধানী কিংস্টনে ওই মাদক ব্যবসায়ীর আস্তানায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত কিংস্টনের কিছু অংশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ক্রিস্টোফার ‘দুদুস’ কোক নামের স্থানীয় ওই মাদক ব্যবসায়ীর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে জ্যামাইকার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ কোককে খুঁজছে। সংঘর্ষের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী ব্রুস গোল্ডিং বলেন, কিংস্টনের আইনশৃঙ্খলা ঠিকঠাক আছে। প্রাণহানির ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে পুলিশ অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী গোল্ডিং।
স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সামরিক বাহিনীর তিনটি ট্রাকে ৬০টির বেশি মৃতদেহ আনা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃতের সংখ্যা ২৭। পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযানের সময় ২১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে কোককে ধরা সম্ভব হয়নি।
কোকের অবস্থান সম্পর্কে কোনো ধারণা পাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। কারণ এই মাদক ব্যবসায়ীর কয়েক হাজার অনুসারী রয়েছে, যারা প্রাণ দিয়ে তাঁকে রক্ষা করবে। অভিযানে হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া যান ব্যবহার করা হয়।
গত সপ্তাহে কোককে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী গোল্ডিং। তিনি বলেন, জরুরি ক্ষমতাবলে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এই অভিযানে অযাচিত প্রতিরোধ মোকাবিলা করা হয়েছে।

কোরআন ছুঁয়ে শপথ নিলেন রুশনারা

ব্রিটেনে পবিত্র কোরআন শরিফ ছুঁয়ে শপথ নিলেন বিরোধী দল লেবার পার্টির নবনির্বাচিত এমপি রুশনারা আলী। রানির নামে জনসেবার প্রতিশ্রুতি দিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর মা-বাবা, বোন ও সমর্থকেরা। শপথ নেওয়ার পর তিনি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।
সম্মেলনকক্ষে ঢুকেই তিনি ধন্যবাদ জানান তাঁকে যাঁরা সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতি। এ সময় শপথের ঐতিহাসিক মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় নবনির্বাচিত কুড়িজন এমপি একসঙ্গে সারিবদ্ধ হলাম। তারপর ক্রমান্বয়ে স্পিকারের দিকে এগিয়ে গেলাম। সামনে বসা মা-বাবা আর পাশে আমার সমর্থকদের দিকে তাকালাম। একটা অদ্ভুত চেতনা ভেতরে ভর করল। কিন্তু সব ছাপিয়ে মনে হচ্ছিল, এখন আমার অনেক গুরুদায়িত্ব।’
সংবাদ সম্মেলনে রুশনারা আরও বলেন, গত তিন বছরে টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার জন্য তিনি নিজেকে তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, ‘বেথনাল গ্রিনে যেমন আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমার ইতিহাস ও দারিদ্র্য, আবার এখানেই রয়েছে সংগ্রামী মানুষ ও শিল্পসাহিত্যের উন্নত ইতিহাস। ইটের পর ইট তুলে আজ এ এলাকার মানুষ উঠে দাঁড়িয়েছে। বিলেতে বর্তমানে এ অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষাক্ষেত্রে মেয়েদের অর্জন আমাদের এক ইতিবাচক পরিচিতি এনে দিয়েছে। এ ধারা সমুন্নত রেখে ছেলেদের মধ্যেও এর বিস্তার ঘটাতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলন শেষে রুশনারা পার্লামেন্ট ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। বিলেতের মাটিতে বাংলাদেশকে নতুনভাবে আরেকবার পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।

থাকসিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিলের আবেদন

থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার তাঁর আইনজীবীরা আদালতে এই আবেদন করেন।
গত মার্চ থেকে শুরু সরকারবিরোধী বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগে গত মঙ্গলবার থাকসিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। থাকসিনের আইনজীবী থানাদেজ পুয়াংপুল দাবি করেন, ‘বিকৃত তথ্যের ভিত্তিতে অন্যায়ভাবে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত আগামী ১৮ জুন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে আশা করছি।’
থাকসিন দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তবে সরকারের এই পদক্ষেপ থাকসিনকে নির্বাসনে রাখার কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে।
শান্তি কামনা করে ব্যাংককে প্রার্থনা
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গতকাল বুধবার হাজার হাজার মানুষ দেশের শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করেছে। এতে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও সনাতন ধর্মের নেতারা যোগ দেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বিপণিকেন্দ্র সেন্টার ওয়ার্ল্ডসহ ব্যাংককের ১০টি স্থানে এ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা সুমিত খোরানা বলেন, ‘আমরা দেশ ও জনগণের শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করেছি। এ মুহূর্তে দেশের পরিস্থিতি শান্ত। কিন্তু আমরা আতঙ্কিত, কারণ ভবিষ্যতে কোন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা আমরা কেউই জানি না।’
বিক্ষোভকারীদের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সেন্টার ওয়ার্ল্ডের সামনে জড়ো হয়ে প্রার্থনায় অংশ নেন এই বিপণিকেন্দ্রের কর্মীরা। এখানে বৌদ্ধ ধর্মগুরুরা সবাইকে নিয়ে প্রার্থনা করেন।
মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা উসকে দেওয়ার দায়ে গত মঙ্গলবার দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর ফলে দেশটিতে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
থাকসিনের সমর্থক লাল শার্ট পরা আন্দোলনকারীদের আন্তর্জাতিকবিষয়ক মুখপাত্র সিন বুনপ্রাসং বলেন, ‘এ মুহূর্তে নতুন করে আন্দোলন শুরু করা আমাদের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু এটাও ঠিক যে গত সপ্তাহে ব্যাংককের ঘটনা আমরা কেউ ভুলিনি।’
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়ার পদত্যাগ ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে গত ১৪ মার্চ থেকে আন্দোলন শুরু করে থাকসিনের সমর্থকেরা। বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতায় ৮৮ জন নিহত হয়। আহত হয় দুই হাজারেরও বেশি লোক। এর মধ্যে গত সপ্তাহেই অন্তত ৬০ জন নিহত হয়।

কাসাবের সেই জবানবন্দি



২৬/১১ মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসী হামলার মামলার আসামি মুহম্মদ আজমল আমির কাসাবের ফাঁসির আদেশ দেওয়ার ঠিক দুই সপ্তাহ পর তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রকাশিত হয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকায়।
২০০৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কাসাবের জবানবন্দি রেকর্ড করেন অতিরিক্ত মুখ্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আর ভি সাওয়ান্ত। ৪০ পাতার স্বীকারোক্তিতে কাসাব জানিয়েছেন তাঁর গ্রামের কথা, কীভাবে শহরে কাজের সন্ধানে এসে জড়িয়ে পড়েন জঙ্গি সংগঠনে এবং কীভাবে করাচি থেকে মুম্বাইয়ে এলেন তাঁরা।
কাসাব তাঁর স্বীকারোক্তিতে বলেন, ‘আমার নাম মুহম্মদ আজমল আমির কাসাব। ১৯৮৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আমার জন্ম। আমি পাকিস্তানের বাসিন্দা। ফরিদকোটের একটি প্রাথমিক স্কুলে ক্লাস ফোর পর্যন্ত পড়েছি। আমার বাবার দোকান ছিল একেবারে রাস্তার ধারে। আমি টিভি ও হিন্দি সিনেমা দেখতে খুব ভালোবাসতাম। আমার প্রিয় হিন্দি সিনেমা হলো—শোলে, লাওয়ারিশ, বীর জারা, আশিকি ও বেটা। আমি তামাক সেবনে আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম। ২০০০ সালে আমি স্কুল ছেড়ে আমার বন্ধু ডিট্টুর সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দিই। তার পরের বছর আমি লাহোর রওনা হই। আমার বাবার সঙ্গে ভালো কাজের সন্ধানে সেখানে শ্রমিকের কাজ করি টানা পাঁচ বছর। সেখানেই পরিচয় হয় মুজাফ্ফর লাল খানের সঙ্গে এবং পরে আমাদের প্রগাঢ় বন্ধুত্ব হয়। ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে আমরা দুই বন্ধু মিলে রাওয়ালপিন্ডি রওনা হই আরও ভালো কাজের সন্ধানে। সেখানে আমার সঙ্গে দেখা হয় লস্কর-ই-তাইয়েবার একজনের সঙ্গে। তিনি আমাকে প্রথমে বলেন, “সাহায্য করো কাশ্মীরিদের, তাদের স্বাধীনতার জন্য এগিয়ে এসো” ইত্যাদি।
‘আমরা ভাবলাম, আমাদেরও কিছু ভালো কাজ করা উচিত মানুষের জন্য। আমরা যখন সরাই আলমগীরে জামাত-উদ-দাওয়া (লস্কর-ই-তাইয়েবার মূল সংগঠন) কাজ করি, তখন এই ভাবনাটা এল। তারপর তারা আমাদের বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন ক্যাম্পে নিয়ে যেতে লাগল। সেখানে আমরা তাদের কথা মন দিয়ে শুনতাম। কথা শোনার পর একদিন দুজনই সিদ্ধান্ত নিলাম, জেহাদি প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেব। সেই মতো ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে রাওয়ালপিন্ডির রাজাবাজারে লস্করের অফিসে পৌঁছালাম। তারপর প্রশিক্ষণ শুরু। মাত্র ছয় মাসে দুটি প্রশিক্ষণ শিবিরে আমরা শিখলাম কীভাবে আধুনিক অস্ত্র চালাতে হয়। জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাঈদ আমাদের ২২ জন মুজাহিদের মধ্যে কয়েকজনকে মনোনীত করলেন। তার মধ্যে আমি একজন। এবার আমার নতুন নাম দেওয়া হলো আবু মুজাহিদ। তার পরই আমাদের ১৩ জনকে নিয়ে যাওয়া হলো পাকিস্তানের বন্দরনগর করাচিতে। সেখানে নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ শুরু হলো। কীভাবে সমুদ্রের দিক চিহ্নিত করতে হবে, কীভাবে সমুদ্রে জাল ফেলতে হবে, সমুদ্রের গভীরতা মাপতে হবে কীভাবে ইত্যাদি। ওই প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো বাইতুল মুজাহিদিনে। সেখান থেকে আমাদের ছয়জনকে হাফিজ সাঈদ পাঠালেন কাশ্মীর সীমান্তে আক্রমণের প্রশিক্ষণ নিতে। সেখান থেকে প্রচুর অস্ত্র, বিস্ফোরক পদার্থ, মোবাইল ফোন এবং আরও অনেক কিছু নিয়ে আমরা ফিরে এলাম ২০০৮ সালের ২১ নভেম্বর। তারপর আমাদের যাত্রা শুরু হলো। আবু ইসমাইল আমাদের ফিদাইন গোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দিতে লাগলেন এবং কীভাবে আমাদের ছড়িয়ে গিয়ে হামলা শুরু করতে হবে জানালেন।
‘পরের দিন ২২ নভেম্বর সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়লাম এবং তার পরই মুম্বাইয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার জন্য তৈরি হলাম। একটা ছোট্ট রাবারের ডিঙি নিয়ে ২৬ নভেম্বর রওনা হলাম মুম্বাইয়ের পথে। নির্দিষ্ট সময়ের থেকে দেড় ঘণ্টা পরে রাত নয়টায় মুম্বাইয়ের বুধবার পার্কের ঘাটে এসে পৌঁছালাম। ২০ মিনিট পর আমি ও ইসমাইল রওনা হলাম মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাসের দিকে। সেখানে পৌঁছেই ইসমাইল অপেক্ষারত যাত্রীদের দিকে গ্রেনেড ছুড়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করল। আমিও গুলি চালাতে শুরু করলাম। তারপর স্টেশনের বাইরে কামা হাসপাতালের দিকে এলাম। হাসপাতালের বাইরে দেখলাম একটি পুলিশের জিপ আমাদের দিকে আসছে। এলোপাতাড়ি গুলি চালালাম। তারপর ওই পুলিশের ভ্যান নিয়ে অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা করলাম, তখন দেখি ভ্যানের সামনের চাকায় হাওয়া নেই। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা স্কোডা গাড়িটি নিয়ে চম্পট দিলাম। তারপর আমরা পৌঁছালাম গিরগাঁও এলাকায়। পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময় হলো। ইসমাইল গুলিতে মারা গেল। আমি ধরা পড়ে গেলাম।’

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইনকে ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণ

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইনের কড়াকড়ি নিয়ে রিপাবলিকান পার্টিই এখন বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে রাজনৈতিক সাফল্যের জন্য অভিবাসীদের সমর্থন প্রয়োজন, অন্যদিকে দলের রক্ষণশীলদের দলীয় চেতনা অভিবাসন বিষয়ে শক্ত অবস্থানের পক্ষে। ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টিও অভিবাসন সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ নয়। অতি উদারনৈতিক মহল অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার পক্ষে। কিন্তু সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে এ ধারণাটি জনপ্রিয় নয়।
রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণেই ডেমোক্রেটিক পার্টির উল্লেখযোগ্য অংশ অভিবাসন প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে। তবে সমস্যা সমাধানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর প্রতিশ্রুতির কথা বারবার উচ্চারণ করছেন। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের ঐকমত্যে পৌঁছানোর কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি। আইনপ্রণেতাদের উদ্যোগ ও ঐকমত্য ছাড়া মার্কিন অভিবাসন সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ এখন প্রবল হয়ে উঠেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারকে পাশ কাটিয়ে গত মাসে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। রিপাবলিকানদের উদ্যোগে প্রণীত এ আইন গোটা যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিবাসনের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য তল্লাশির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে রাজ্যের পুলিশকে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রভাবশালী রিপাবলিকান গভর্নরদের অনেকেই অ্যারিজোনার অভিবাসন আইনের সমালোচনায় মুখর। নেভাদা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জিম গিবন, ভার্জিনিয়ার গভর্নর রবার্ট ম্যাকডোনাল, টেক্সাসের গভর্নর রিক পেরি এমন কঠোর আইন প্রণয়নের বিপক্ষে। অপরদিকে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে নির্বাচন প্রত্যাশী ম্যাগ হুইটম্যান রাজনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছেন অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে। গত দুই মাসে তাঁর জনপ্রিয়তা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তুলনায় ৩৮ শতাংশ কমে গেছে। রিপাবলিকান হুইটম্যান অ্যারিজোনায় প্রণীত আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল বিল ম্যাককলাম দুই সপ্তাহ আগেও অ্যারিজোনায় প্রণীত আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। রাজ্যের গভর্নর পদে নির্বাচিত হওয়ার প্রত্যাশায় এখন তিনি অ্যারিজোনার আইনের সমর্থনে বক্তব্য রাখছেন। অভিবাসন আইনের সংস্কার এখন রাজনৈতিক মেরুকরণের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী মাঠের হালচাল বিবেচনা করে অবস্থান পরিবর্তন করছেন অনেকেই। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের অন্যতম উপদেষ্টা কার্ল রভ বলেছেন, অভিবাসন নিয়ে তাঁদের সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি অ্যারিজোনায় প্রণীত আইনের প্রশংসা করেছেন।
অভিবাসন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিলম্বিত উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। স্থানীয়ভাবে সমস্যা মোকাবিলার জন্য অঙ্গরাজ্যের সরকারগুলো আইন প্রণয়নে বাধ্য হচ্ছে। এ বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি অঙ্গরাজ্যে এক হাজার ১৮০টি অভিবাসন-সম্পর্কিত আইনের প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়েছে।
রিপাবলিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ম্যাথিউ উড বলেছেন, অভিবাসন সমস্যা সমাধানে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনে নির্বাচিত ব্যক্তিরা রাজনৈতিক কারণেই শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণে অনিচ্ছুক। ফলে রাজ্য সরকারগুলোকে প্রায়ই শক্ত অবস্থান নিতে হচ্ছে অভিবাসন সমস্যা নিয়ে।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস ও সিবিএস কর্তৃক পরিচালিত জরিপে অভিবাসন নিয়ে সাধারণ মার্কিন জনগণের মিশ্র মনোভাব উঠে এসেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৭ শতাংশ লোক অভিবাসন সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের পক্ষে। যদিও এ জরিপে ৫১ শতাংশ অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে প্রণীত আইন যথার্থ বলে মতামত দিয়েছে।

তালেবান জঙ্গিদের চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে রেডক্রস!

আফগানিস্তানে তালেবান জঙ্গিদের প্রাথমিক চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রেডক্রস। পাশাপাশি সংস্থাটি চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন সরঞ্জামও সরবরাহ করেছে। গত মঙ্গলবার ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
ন্যাটো ও আফগান সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে আহত তালেবান জঙ্গিরা যাতে যুদ্ধক্ষেত্রেই চিকিৎসা সহায়তা পায়, এটা নিশ্চিত করতে এ সহায়তা দেওয়া হয়। রেডক্রস জানায়, গত মাসে অন্তত ৭০ জন তালেবান সদস্য এ প্রশিক্ষণ নিয়েছে। রেডক্রসের মুখপাত্র মার্সেল ইজার্দ গতকাল বুধবার জানান, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সবাই চিকিৎসার জন্য সমান সুযোগ পাবেন। এর আওতায় তালেবান জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসার সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে।
রেডক্রসের এই কার্যক্রম আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। ন্যাটোসহ আফগান সেনা ও পুলিশ বাহিনী তালেবান জঙ্গিদের দমনে তেমন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না। তার মধ্যে রেডক্রসের এই সহায়তাকে তিনি নেতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তবে রেডক্রস বলছে, যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। এ কারণেই তালেবান সদস্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু তালেবানই নয়, রেডক্রস ১০০ জনেরও বেশি আফগান সেনা, পুলিশ ও ট্যাক্সিচালককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই ট্যাক্সিচালকেরা হেলমান্দ ও কান্দাহার প্রদেশে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে কাজ করেন।
রেডক্রসের মাধ্যমে তালেবান জঙ্গিদের প্রশিক্ষিত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশিত হলে কান্দাহারের স্থানীয় সরকারের একজন মুখপাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তালেবান জঙ্গিরা মানুষের মতো চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রাখে না। তারা (তালেবান) পশুর সমতুল্য। তারা যাদের বন্দী করে, তাদের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করে। এরা কোনোভাবেই মানুষের মতো চিকিৎসা সহায়তা পেতে পারে না।’
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘বিতর্কিত বিষয়’ বলে উল্লেখ করে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। কাবুলে ন্যাটোর একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা রেডক্রসের এই মানবিক তৎপরতাকে সমর্থন করি। ন্যাটো সেনারাও রেডক্রসের সহায়তা পেয়ে থাকে। আমাদের মতে, রেডক্রসের মতো সংস্থার উচিত নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাওয়া।’
রেডক্রস আফগানিস্তানে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল পরিচালনা করছে। সংস্থাটি ন্যাটো এবং তালেবান জঙ্গিদের বন্দীশালাও পরিদর্শন করেছে। এ ছাড়া আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি প্রকল্প পরিচালনা করছে।

অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেটে বিকেএসপি জয়ী

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিকেএসপি। সিলেটের বিপক্ষে দুই দিনের ফাইনালে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে তাদের।
ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে বিকেএসপি করেছিল ১৯৪ রান। সিলেট তাদের প্রথম ইনিংসে তোলে ১৬১ রান। জবাবে কাল দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৫৩ রান তুলে দিন শেষ করে বিকেএসপি।

সত্যিই চমক দেবেন এশিয়ার রুনি



এই সেদিন, ‘এশিয়ার রুনি’খ্যাত জং তে-সে নিজেই বলেছিলেন, ‘১৯৬৬ ফিরিয়ে এনে বিশ্বকে আরেকবার চমকে দেওয়ার সময় অপেক্ষায় আছি। প্রতি ম্যাচেই গোল করতে চাই আমি।’ ৪৪ বছরের প্রতীক্ষা শেষে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে যে সামর্থ্যের বাইরে কিছুই বলেননি, তার এক প্রস্থ প্রমাণ যেন গত পরশুই দিয়ে রাখলেন উত্তর কোরিয়ান অধিনায়ক।
জংয়ের সামর্থ্য প্রমাণের পাশে প্রত্যাশার ছাপ রেখেছে তার দল উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকায় যাত্রার আগে উত্তর কোরিয়া প্রস্তুতি শিবির খুলেছে অস্ট্রিয়ায়। পরশু সেখানেই প্রস্তুতি ম্যাচে উত্তর কোরিয়া মুখোমুখি হয় বিশ্বকাপের সঙ্গী ২০০৪-এর ইউরো চ্যাম্পিয়ন গ্রিসের সঙ্গে। অস্ট্রিয়ার আলটাখে হওয়া ম্যাচটি ড্র হয়েছে ২-২ গোলে। দলের পক্ষে দুটি গোলই করেছেন দেশবাসীর ভালোবাসার ‘রুনি’। এএফপি।
একই দিনে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকাগামী আরও ৪টি দল। তিনটি ম্যাচেই বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়া দলগুলোর ভাগ্যে জুটেছে একরাশ হতাশা। অস্ট্রিয়ারই লিয়েঞ্জ স্টেডিয়ামের ভরা গ্যালারির আফ্রিকার ‘অদম্য সিংহ’ ক্যামেরুনকে গর্জন করতে দেয়নি জর্জিয়া (০-০)। বাছাইপর্বেই কাটা পড়া সৌদি আরবের বিপক্ষে ‘সুপার ইগল’ নাইজেরিয়ার ম্যাচের ফলও একই, ০-০ গোলে ড্র। এর চেয়েও হতাশায় পুড়তে হয়েছে প্যারাগুয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে। মূল মঞ্চের ছাড়পত্রহীন উত্তর আয়ারল্যান্ডের কাছে প্যারাগুয়ে এবং চেক প্রজাতন্ত্রের কাছে হেরে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। ডাবলিনের মাঠে আয়ারল্যান্ড প্যারাগুয়েকে হারিয়েছে ২-১ গোলে। আর চেক প্রজাতন্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই গিয়েই যুক্তরাষ্ট্রকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ৪-২ গোলে।

ম্যারাডোনার দিগম্বর দৌড়

সব কোচই নিশ্চয়ই মনে মনে ছবি এঁকে রেখেছেন, বিশ্বকাপ জিতলে কীভাবে উদ্যাপন করবেন সাফল্য। কেউ করে রাখুন আর না-ই রাখুন, ডিয়েগো ম্যারাডোনা ঠিক করেছেন, ১১ জুলাই ট্রফিটা যদি আবারও নিতে পারেন হাতে, এর পর কীভাবে উদ্যাপন করবেন। এবং এখানেই বাকি সব কোচের চেয়ে তিনি আলাদা। না হলে তিনি ম্যারাডোনা কেন। কী করবেন ম্যারাডোনা? ‘আমরা যদি বিশ্বকাপ জিতি, আমি বুয়েনস এইরেসের কেন্দ্রস্থল এল ওবেলিস্কোতে দিগম্বর হয়ে দৌড় দেব’—এফএম মেট্রো রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন আর্জেন্টিনা কোচ। জামাকাপড় খুলে ফেলা অবশ্য ম্যারাডোনার জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও একটি সাময়িকীর জন্য ‘জন্মদিনের পোশাকে’ পোজ দিয়েছিলেন তিনি। তবে তখন টাকা-পয়সার ব্যাপার-স্যাপার ছিল। এবার যদি সত্যি সত্যিই বিশ্বকাপ জেতেন, তাঁর দিগম্বর দৌড় হবে আবেগ থেকে!

হাস্যকর ক্রিকেট

আমজাদ আলী সরকার পাইলট হাইস্কুল ‘এম’ দলের সর্বোচ্চ রান মাহফুজা আক্তারের। ৩ রান করেছেন তিনি। তার পরও দলের রান ৭০। কীভাবে? অতিরিক্ত থেকেই যে এসেছে ৬৩ রান! উইকেট পেলেও ভিকারুননিসা নূন স্কুল ‘এ’ বোলারদের মধ্যে ছিল ওয়াইড ও নো বল করার প্রতিযোগিতা। ব্যাট-বল যে এর আগে কখনো হাতে তোলেনি এসব মেয়ে, স্কোরকার্ডই বলে দিচ্ছে সেটি। হাস্যকর এই ক্রিকেট ম্যাচ হয়েছে আজিমপুর গার্লস স্কুলে। মেয়েদের স্কুল ক্রিকেটে কাল ভিকারুননিসাকে ১৮ রানে হারিয়েছে আমজাদ আলী হাইস্কুল ‘এম’ দল। একই ভেন্যুতে দিনের অন্য ম্যাচে আমজাদ আলী সরকার পাইলট হাইস্কুল ‘ডি’ দল (৫০/২) ৮ উইকেটে হারিয়েছে আজিমপুর গার্লস হাইস্কুলকে (৪৭)।

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্ট লড়াই

০- একটিও জয় নেই বাংলাদেশের।
১- ম্যাচে ১০ উইকেট পাওয়া একমাত্র বোলার গ্রায়েম সোয়ান।
৩- সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি মার্কাস ট্রেসকোথিকের।
সবচেয়ে বেশিবার শূন্য রানে আউট
হয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।
৪- সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাইকেল ভন।
৫- ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ৪ বোলার (হার্মিসন ও সোয়ান দুবার)।
৬- ছয় টেস্টের সবকটিতেই জিতেছে ইংল্যান্ড।
৮- সর্বোচ্চ ক্যাচ নিয়েছেন ট্রেসকোথিক।
সবচেয়ে বেশি ছক্কা, পল কলিংউডের।
১০- দু দেশের টেস্ট সিরিজে সেঞ্চুরির সংখ্যা।
১২- বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেট মাশরাফি বিন মুর্তজার।
২৩- সবচেয়ে বেশি উইকেট, ম্যাথু হগার্ডের।
১০৪- সর্বনিম্ন স্কোর, বাংলাদেশের (চেস্টার-লি-স্ট্রিট, ২০০৫)।
১০৬- বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ইনিংস, জুনায়েদ সিদ্দিকের (চট্টগ্রাম, ২০১০)।
১৬৭- বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ জুটি (জুনায়েদ-মুশফিকুর, চট্টগ্রাম, ২০১০)।
১৬৮.৭৫- সর্বোচ্চ স্ট্রাইকরেটের ১৬ বলে ২৭ রানের ইনিংস (কমপক্ষে ২৫ রান) রিকি ক্লার্কের।
১৯৪- সর্বোচ্চ স্কোর, মার্কাস ট্রেসকোথিকের (লর্ডস, ২০০৫)।
২৩৭-বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি
রান, তামিম ইকবালের।
২৫৫- সবচেয়ে বড় জুটি, ট্রেসকোথিক ও মাইকেল ভনের ( লর্ডস, ২০০৫)।
৩২৯- রানের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় জয়, ইংল্যান্ডের (চট্টগ্রাম টেস্ট, ২০০৩)।
৪১৯-বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর
(ঢাকা, ২০১০)।
৫৫১-সবচেয়ে বেশি রান, মার্কাস ট্রেসকোথিকের।
৫৯৯- সর্বোচ্চ রান, ইংল্যান্ডের
(চট্টগ্রাম, ২০১০)।
১৪৩৫- এক টেস্টে সর্বোচ্চ রান
চট্টগ্রাম, ২০১০।

শুধু ইংল্যান্ডই প্রতিপক্ষ নয়

লর্ডসের লং রুম দিয়ে হেঁটে যেতে কেমন লাগছে ক্রিকেটারদের? ক্রিকেট-তীর্থে টেস্ট খেলার রোমাঞ্চে কি গায়ে কাঁটা দিচ্ছে কারও! কিংবা লর্ডসের মাঠটা যে একদিকে একটু ঢালু, সেটা কি তাঁরা জানেন? এসব প্রশ্নের খুব স্বাভাবিক উত্তর দেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। বেশির ভাগ খেলোয়াড়ের কাছেই যেন লর্ডসে টেস্ট খেলা আর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টেস্ট খেলা একই ব্যাপার।
এটা যদি হয় লর্ডসের মাহাত্ম্য না বুঝে, তাহলে লজ্জার কথা। আর যদি তা হয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আজ থেকে শুরু প্রথম টেস্টটাকে আর দশটা টেস্টের মতো নিয়ে চাপমুক্ত থাকার কৌশল, তাহলে ভালো। লর্ডস, বাউন্সি উইকেট বা প্রতিপক্ষ—টেস্টের আগের দিন ভাবনায় এসব ঘুরপাক খেলে ভয়টাই বেশি পাওয়ার কথা। এর চেয়ে লর্ডসকে লর্ডস না ভেবে ঘরের মাঠ ভাবলে দোষের কি!
একদিক দিয়ে অবশ্য আজ থেকে শুরু দুই টেস্টের সিরিজটা দেশের মাটিতে খেলা সর্বশেষ ইংল্যান্ড সিরিজের মতোই। বাংলাদেশের সিরিজের মতো এই সিরিজেও থাকছে না রিভিউ পদ্ধতি। রিভিউ পদ্ধতির খরচ বহন করবে কে—এই প্রশ্নে ইসিবির সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী স্কাই টিভির সঙ্গে সমঝোতা না হওয়াটাই কারণ। বাংলাদেশ দলের জন্য এটা দুঃসংবাদ, কারণ রিভিউ পদ্ধতি না থাকায় গত হোম সিরিজে আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্তে অনেক ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তার ওপর এই সিরিজের আম্পায়ার বিলি বাউডেন আর অশোকা ডি সিলভা, মাঠে যাঁদের কেউই ঠিক বাংলাদেশের বন্ধু বলে পরিচিত নন। কাল ব্যাপারটা মনে করিয়ে দেওয়ার পরও বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আম্পায়ারদের ওপরই আস্থা রাখতে চাইলেন, ‘রিভিউ সিস্টেম নিয়ে আসলে কিছু বলার নেই। হোম সিরিজেই সেটা বেশি জরুরি। তবে এখানে এটা থাকলে ভালো হতো। তার পরও আশা করি, সমস্যা হবে না। দুজন আম্পায়ারই তো অনেক অভিজ্ঞ।’
রিভিউ পদ্ধতি নিয়ে সাকিব কিছু বললেও লাভ নেই। কোনো সিরিজে রিভিউ পদ্ধতি থাকবে কি না, এখন পর্যন্ত সেটা সম্পূর্ণই স্বাগতিক বোর্ড আর টেলিভিশন সম্প্রচারকারীদের ব্যাপার। তবে আইসিসি যেখানে প্রতিটি টেস্টেই এই পদ্ধতি প্রবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে, ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনো টেস্ট সিরিজে সেটি না থাকা বড় এক ধাক্কাই।
যে ধাক্কা কাল বাংলাদেশ অধিনায়ক দিলেন ব্রিটিশ মিডিয়াকেও। কাউন্টি ক্রিকেটে ম্যাচ পাতানোর সংবাদের জের ধরে সিরিজ শুরুর সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের কাছ থেকে জানা গেল, এ রকম প্রস্তাব বছর আড়াই আগে তাঁকেও দেওয়া হয়েছিল। টেস্টের আগের দিন এ নিয়ে ইংলিশ সাংবাদিকদের তুমুল আগ্রহ। সংবাদ সম্মেলনেও ঘুরেফিরে এ সংক্রান্ত প্রশ্নই। যেই সেখান থেকে বেরিয়ে তাঁরা একটু খেলায় ফিরলেন, সাকিব দিলেন আরেকটি ধাক্কা। বাংলাদেশ লর্ডস টেস্টে জেতার কথা ভাবছে কি না—জানতে চাইলে বাংলাদেশ অধিনায়কের ঝটপট উত্তর, ‘কেন নয়? আমরা যদি ভালো খেলি, আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে সেটা হতেই পারে।’
সমালোচনার জবাব দিতেও সেরা খেলাটা খুব জরুরি বাংলাদেশ দলের জন্য। বাংলাদেশের টেস্ট খেলা উচিত কি না, এই প্রশ্নটা উঠি-উঠি করে কাল উঠেই গেল ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের সংবাদ সম্মেলনে। স্ট্রাউস অবশ্য সৌজন্যই দেখালেন, ‘গত দুই বছরে তারা যে রকম উন্নতি করছে, তাতে তাদের অবশ্যই টেস্ট খেলা উচিত। তবে উন্নতির ধারাটা ধরে রাখা জরুরি। এখানে (ইংল্যান্ড) খেলাটা ওদের জন্য ভালো অভিজ্ঞতা হবে।’ জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে বাংলাদেশের মতো দলের বিপক্ষে টেস্ট খেলাটাও সমর্থন করছেন স্ট্রাউস। সে সঙ্গে শুনিয়ে দিচ্ছেন সতর্কবার্তা, ‘বাংলাদেশকে ছোট করে দেখাটা ঠিক নয়। বিপজ্জনক কিছু খেলোয়াড় আছে দলটাতে। অতীতে তাদের বিপক্ষে অনেক দলকেই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে পড়তে হয়েছে।’
ইংল্যান্ডে আসার পর থেকে একটার পর একটা অশুভ বাতাস তাড়া করেছে বাংলাদেশ দলকে। ছোটখাটো চোট আঘাত ছিল অনেকেরই, সাকিব পড়লেন জলবসন্তে। তামিম ইকবালের হাতের ইনজুরি তো পারলে দেশেই ফেরত পাঠায় তাঁকে। তবে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজ সেরা দলটাই মাঠে নামাচ্ছে বাংলাদেশ। ১৬ জনের স্কোয়াড থেকে দলের বাইরে থাকছেন আবদুর রাজ্জাক, মাহবুবুল আলম, নাঈম ইসলাম ও শামসুর রহমান। বাকি ১২ জনের মধ্যে দ্বাদশ ব্যক্তি হওয়ার সম্ভাবনা শফিউল ইসলামেরই বেশি। অন্যদিকে লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ড জোর দিচ্ছে ব্যাটিংয়ের ওপর। টেস্ট অভিষেকের প্রতিযোগিতায় তাই পেসার আজমল শেহজাদকে হারিয়ে দিতে পারেন এউইন মরগান।
স্ট্রাউসের এই দলটার সঙ্গে প্রথম টেস্টে আবহাওয়ারও প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার কথা বাংলাদেশের। দুই দিন ধরে আবারও তীব্র শীত পড়েছে লন্ডনে। পূর্বাভাস মানলে আজ নাকি তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রিতে নেমে আসবে! সাকিব অবশ্য লর্ডস বা প্রতিপক্ষের মতো ইংলিশ কন্ডিশন নিয়েও ভাবতে রাজি নন, ‘আবহাওয়া-উইকেট এসব নিয়ে ভেবে আসলে লাভ নেই। আমাদের মূল কাজটা ঠিকভাবে করতে হবে। সেটা করতে পারলেই ভালো ক্রিকেট খেলা সম্ভব।’