Wednesday, June 14, 2017

রাজধানীতে ছিনতাইয়ে সুন্দরী সিন্ডিকেট by রুদ্র মিজান

দেখতে সুন্দরী। পোশাকেও আছে আভিজাত্যের ছাপ। শপিংমল, ব্যস্ততম সড়কের মোড়ে তাদের অবস্থান। দৃষ্টি এদিক-ওদিক। সুযোগ পেলেই ইশারায় কাছে ডাকে টার্গেটকৃতকে। কথা বলে। হেল্প চায়। কখনও সরাসরি প্রমোদের প্রস্তাব। শুরুতেই জানিয়ে দেয়, ‘ফ্ল্যাটবাসা আছে। ইচ্ছা হলে চলেন।’ দরদাম ঠিক করেই  রিকশা বা সিএনজি অটোরিক্সায় উঠার পরই ঘটে ঘটনা। কখনও কখনও বাসা পর্যন্ত পৌঁছার পর প্রকাশ হয় সুন্দরীদের প্রকৃত রূপ। এ রকম একজন, দু’জন না। কয়েক শ’ সুন্দরী ছড়িয়ে আছে ঢাকায়। তাদের মূল কাজ ছিনতাই। অস্ত্র ছাড়াই এই ভিন্ন কৌশলে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয় তারা। তাদের আশপাশে ছড়িয়ে থাকে সহযোগীরা। তারা সশস্ত্র। তারাও ছিনতাইকারী। এমনকি তাদের সহযোগিতা করার জন্য নির্দিষ্ট সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশাচালক রয়েছে। রয়েছে এক শ্রেণির পুলিশ সদস্যও। এছাড়াও রিকশা ও গাড়ি থেকে ফোন, ট্যাব, ব্যাগ টেনে নিয়ে যায় এই চক্র। এমনকি গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব কেড়ে নেয়ার ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।
রামপুরা বনশ্রীর বাসিন্দা ইয়াকুব আলী জানান, গত বৃহস্পতিবার। সময় তখন রাত ৮টা। মৌচাক মার্কেট থেকে কেনাকাটা করে বাসায় ফিরবেন। রিকশা খুঁজছিলেন। যাত্রীর তুলনায় রিকশার সংখ্যা কম। ‘রামপুরা যাবেন’ বলতে বলতেই পেয়ে যান একটি রিকশা। উঠতেই একটি মেয়েলি কণ্ঠের অনুরোধ। ‘ভাইয়া আমার বাসা ওদিকে। অনেকক্ষণ রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। কিছু মনে না করলে আমি কি আপনার সঙ্গে যেতে পারি।’ প্রবাস ফেরত ইয়াকুব আলী চিন্তা করছিলেন কি করবেন? এরই মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ওই নারী রিকশায় চেপে বসেন। নানা কথা বলে ইয়াকুবের পুরো পরিচয়, বাসার ঠিকানা জেনে নেন। কেনাকাটা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইয়াকুব বলেন, ‘সময় কমতো তাই তেমন কেনাকাটা করতে পারিনি।’ রিকশা তখন রামপুরায়। রিকশার গতি কমে যায়। হঠাৎ ‘ওই নারী বলে তোর যা আছে সব দিয়ে নেমে যা। নইলে চিৎকার করবো। তুই আমার রিকশায় জোর কইরা উঠছস। আমাকে আজে-বাজে কথা বলছস।’ হতভম্ব হয়ে যান ইয়াকুব। কিছু বুঝে উঠার আগেই রিকশার আশপাশে দাঁড়ায় কয়েক যুবক। ওই নারী বলে- ওরা আমার লোক। চিৎকার করলে মারও খাবি টাকাও দিবি।’ বাধ্য হয়ে পকেটে থাকা সাত হাজার টাকা তুলে দেন। এমনকি স্ত্রী ও বোনের জন্য কেনা দু’টি শাড়িও। একই রকম ঘটনার শিকার হয়েছেন সিরাজগঞ্জের বদিউল আলম। ঘটনাটি ঘটেছে আগারগাঁও এলাকায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় এক নারীর সঙ্গে কথা হয় তার। বদিউল মিরপুর-১১ গামী বাসের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। এর মধ্যেই ওই নারী তাকে ফুসলিয়ে তার বাসায় যেতে বলেন। অল্প টাকার বিনিময়ে তালতলার বাসায় সময় কাটানোর প্রস্তাবে রাজি হন বদিউল। রিকশাযোগে আগারগাঁও এলাকায় পৌঁছার পর রিকশাচালক থেমে যায়। জানায় রিকশার চেইন পড়ে গেছে। ওই সময়ে কয়েক যুবক ঘেরাও করে মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু কেড়ে নেয়। রিকশায় থাকা বোরকা পরা নারীটিও যোগ দেয় যুবকদের সঙ্গে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই নারী সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দেয় কমলাপুর ও মুগদা এলাকার ছবি, আনোয়ারা, যাত্রাবাড়ী, ও সায়েদাবাদ এলাকায় পারুল ওরফে পারভীন, মায়া, লিজা, খালেদা, মিনু, জুরাইনের সালমা, হুমায়ুনের স্ত্রী সাথী, রুনা, বিজলি, মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরা ও বাডডা এলাকায় হায়দারের স্ত্রী সাথী, রুমা, রত্না, লামিয়া, বিউটি, ফার্মগেটে ঝুমা, রিয়া। এই নারী ছিনতাইকারীদের প্রতিটি গ্রুপে ১০ থেকে ১২ জন সদস্য রয়েছে। তারা ফার্মগেট, মৌচাক, যাত্রাবাড়ী,  মাজার সংলগ্ন গুলিস্তান, জুরাইন রেলগেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, গাউছিয়া, নিউমাকেট, নিলক্ষেত, খিলগাঁও তালতলা, সায়দাবাদ, ডেমরা স্টাফকোয়ার্টার মোড়, হাতিরঝিল, মিরপুরের সনি সিনেমা হল, মহাখালী মোড়, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, গুলশান-১ এর মোড় এলাকায় প্রায়ই অভিনব কায়দায় ছিনতাই করে। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এসব ছিনতাইকারী এখন বেপরোয়া। নারী-পুরুষ মিলিয়ে রাজধানীতে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীরা।
গত রোববার সন্ধ্যার পর মহাখালী এলাকায় ডাবের পানি পান করেছিলেন সিএনজিচালক রমজান মিয়া। তারপর শরীরটা খারাপ লাগছিলো। সিএনজি অটোরিকশায় উঠার পরই সংজ্ঞা হারান। যখন সংজ্ঞা ফিরে তখন দেখতে পান সহকর্মীরা তার মাথায় পানি ঢালছেন। পকেটে থাকা মানিব্যাগটি নেই। এভাবে হাটে-ঘাটে, বাসে অজ্ঞান করে  সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। গোয়েন্দারা জানান, চক্রটি ডাবের পানি, খেজুর, চা, কফি ও তরল দ্রবের সঙ্গে চেতনানাশক ট্যাবলেট মিশিয়ে নিজেদের সঙ্গে রাখে। তারা হকার ও যাত্রীবেশে বিভিন্ন গণপরিবহনে উঠে। তাছাড়া বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালসহ জন সমাগমস্থলে নিরীহ যাত্রী বা পথচারীদের টার্গেট করে। তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। একপর্যায়ে চেতনানাশক ট্যাবলেট মিশ্রিত খাবার খাইয়ে ওই ব্যক্তিকে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নেয়। ঈদ, পূজা, রোজাসহ অন্যান্য উৎসবের সময় তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। গত ১০ই জুন জুরাইন ও মগবাজার থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগ ও সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ পৃথক অভিযান চালিয়ে এই চক্রের ১৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
গতকাল ধানমন্ডিতে ছিনতাইয়ে শিকার হয়েছেন গৃহবধূ ফারহানা নাজিম। ধানমন্ডির সিটি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক। দিন-দুপুরে শ’ শ’ মানুষের সামনেই অস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি করে তার ভ্যানেটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। গত ১৮ই মে আশুলিয়া বাইপাস সড়কে তিন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে মোবাইল ফোন ও ৯০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন, রানা, সুমন ও নাছির। শনিবার রাতে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছিলেন বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক মাসুদা লাবনী। মোহাম্মদপুরের  আড়ংয়ের সামনে যানজটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। মাসুদা লাবনী জানান, অফিসের গাড়িতে বাসায় ফিরছিলেন। গাড়িতে বসে ট্যাবে ফেসবুক ব্যবহার করছিলেন। হঠাৎ লক্ষ্য করেন জানালা দিয়ে তার ট্যাবটি টেনে নেয়ার চেষ্টা করছে এক যুবক।
সূত্রে জানা গেছে, এসব ঘটনায় দস্যুতা, কখন কখনও চুরির অভিযোগে মামলা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডাকাতি মামলা হয়। গত মার্চে দস্যুতা ও ডাকাতির অভিযোগে ডিএমপি’র বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে আটটি। এপ্রিলে ন’টি। মে মাসে ১৫টি। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলে সারা দেশে ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরির অভিযোগ মামলা হয়েছে ৫৩৩টি। মে মাসে ৫৯০টি।
এসব বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সহেলি ফেরদৌস বলেন, অভিনবপন্থায় ছিনতাই হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে তা বেড়ে যায় এটা সত্য। তাই ছিনতাই প্রতিরোধে রমজানের আগেই পুলিশের রেঞ্জ ও সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং করেছি। সে অনুসারে ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। ছদ্মবেশে অধিকাংশ মার্কেটের সামনে কাজ শুরু করেছে গোয়েন্দারা। চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বড় ধরনের টাকার লেনদেনে পুলিশের সহায়তা নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।

কাতারের ওপর অবরোধ ইসলামবিরোধী : এরদোগান

সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশ কাতারকে যেভাবে একঘরে করার চেষ্টা করছে, তার কঠোর নিন্দা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইপ এরদোগান। তিনি বলেন, কাতারের ওপর এই অবরোধ অমানবিক ও অনৈসলামিক। এরদোগান বলেন, "কাতারের ক্ষেত্রে এক গুরুতর ভুল করা হচ্ছে। তাদের বিচ্ছিন্ন করার এই চেষ্টা অমানবিক এবং ইসলামী মূল্যোধের বিরোধী। এটা এটা কাতারকে মৃত্যুদণ্ড দেবার সামিল।" তুরস্কে এ অবরোধের প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভও হয়েছে গত সপ্তাহে। অবরোধের কারণে সংকটাপন্ন কাতারকে সাহায্য দিতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ। তুরস্ক এবং ইরানের পর এখন মরক্কোও কাতারে বিমানে করে খাবার পাঠিয়েছে। তুরস্ক দুধজাত খাবার, মুরগির মাংস, এবং ফলের রস পাঠিয়েছে। মরক্কো বলছে, পবিত্র রমজান মাসে মুসলিমদের পারস্পরিক সাহায্যের চেতনা থেকে তারা বিমানে করে খাদ্যসামগ্রী পাঠাবে। উপসাগরীর দেশগুলোর মধ্যে কাতারের সঙ্গে তুরস্কের বেশ উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং কাতারকে তারা ঐ অঞ্চলের প্রধান মিত্র বলে গণ্য করে। স্বভাবতই কাতারের বিরুদ্ধে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অবরোধ আরোপের ঘটনায় তুরস্ক বেশ ক্ষুব্ধ। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়িপ এরদোগান এই অবরোধের সমালোচনা করেছেন খুবই কড়া ভাষায় । কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত দেয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি প্রত্যাখ্যান করে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, তুরস্ক যেভাবে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে, কাতারের অবস্থানও তাই। কাজেই মানুষকে বোকা বানানো বন্ধ করা উচিত। কাতারকে ঘিরে এই সংকটে তুরস্ককে একটু নাজুক অবস্থায় ফেলেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের উন্নতি ঘটছে, কিন্তু একইসঙ্গে তারা ইরানের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখতে চায়। সৌদি আরবকে সরাসরি সমালোচনা না করলেও প্রেসিডেন্ট এরদোগান এই সংকটের সমাধানে বাদশাহ সালমানকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তুরস্কের পার্লামেন্ট গত সপ্তাহে কাতারের একটি তুর্কি সামরিক ঘাঁটিতে সৈন্য মোতায়েনের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। সূত্র : বিবিসি

মধ্য আফ্রিকায় ‘নিরাপত্তা শূন্যতা’র আশঙ্কা জাতিসঙ্ঘ দূতের

উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান ও যুক্তরাষ্ট্র সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার করায় মধ্য আফ্রিকায় ‘নিরাপত্তা শূন্যতা’ সৃষ্টি হবে বলে মঙ্গলবার আশঙ্কা করেছেন মধ্য আফ্রিকাবিষয়ক জাতিসঙ্ঘ প্রতিনিধি ফ্রান্সিস লাউনসেনি ফল। এলআরএ নেতা যোসেফ কনিকে ধরার জন্যে এসব বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে আসছিল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। দক্ষিণ আফ্রিকায় গত ৩০ বছর ধরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ লর্ডস রেসিসটেন্স আর্মি (এলআরএ) তৎপরতা চালিয়ে আসছে। এর নেতা যোসেফ কনি। ১৯৮৭ সালে কনি এই সন্ত্রাসী গ্রুপটি প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রুপটি বিগত দিনে প্রায় এক লাখ লোকের শিরোশ্ছেদ করেছে। ৬০ হাজার শিশুকে অপহরণ করেছে। গত ১৯ এপ্রিল থেকে উগান্ডা প্রথম পূর্ব মধ্য আফ্রিকা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। সেই সাথে ইউএস আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম) তাদের বিশেষ বাহিনী’র এক শ' সদস্যকে অভিযান থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। এই অভিযানে ওইমাসে তাদের খরচ ছিল ৬০ কোটি থেকে ৮০ কোটি ডলার। এদিকে যৌথ অভিযান সত্ত্বেও কনি এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। জাতিসঙ্ঘ দূত ফ্রান্সিস বলেন, ‘সৈন্য প্রত্যাহারের ফলে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো আবারো মধ্য আফ্রিকায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। বিদ্যমান আফ্রিকান সৈন্যদের দিয়ে সন্ত্রাসী গ্রুপকে মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না।’

কাতারে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ

কাতারে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডানা শেল স্মিথ পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কাতারের সঙ্গে সৌদিসহ কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের সম্পর্কে মারাত্মক উত্তেজনা দেখার দেয়ার মধ্যে তিনি এ কথা জানালেন। গতকাল (মঙ্গলবার) এক টুইটার বার্তায় স্মিথ বলেছেন, “চলতি মাসে আমি কাতারে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিন বছরের কর্মজীবনের অবসান ঘটাব। কাতারে রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করা ছিল আমার জন্য বিরাট সম্মানের বিষয় এবং দেশটিকে খুব মিস করব।” কেন তিনি পদত্যাগ করছেন, কে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং স্মিথ আদৌ কূটনৈতিক পেশায় থাকবেন কিনা- এসবের কিছুই স্মিথ তার টুইটার বার্তায় পরিষ্কার করেন নি। তবে স্মিথের সঙ্গে একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র সিএনএন টেলিভিশন চ্যানেলকে জানিয়েছে, কাতারে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর মাঝ দিয়ে স্মিথ তার ২৫ বছরের কূটনৈতিক পেশার অবসান ঘটাবেন। ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্মিথকে কাতারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর শেল স্মিথ তার অসন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করেছিলেন। কাতার ও সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলোর চলমান সংকটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদি আরবের পক্ষ নিয়েছেন।
সূত্র : ওয়েবসাইট

‘ব্রিটেনের জন্য ইউরোপিয় ইউনিয়নের দরজা এখনও খোলা’

ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন বলেছেন, ব্রিটেনের জন্য ইউরোপিয় ইউনিয়নের দরজা এখনও খোলা। ব্রেক্সিট আলোচনা শেষ হবার আগ পর্যন্তই ব্রিটেনের হাতে সে সুযোগ থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন মি. ম্যাক্রন। প্যারিসে সফররত ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মি. ম্যাক্রন বলেন, “ব্রিটিশ জনগণ ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে। কিন্তু ব্রেক্সিট আলোচনা শেষ হবার আগেই প্রয়োজনে সেটি ‘রদ’ করা যেতে পারে।”
তবে, ব্রিটিশ জনগণের সিদ্ধান্তের প্রতি তার সম্মান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও ব্রেক্সিট সংশোধন নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা করলে দ্রুতই শেষ করার তাগিদ দেন মি. ম্যাক্রন। কেননা একবার ব্রেক্সিট আলোচনা শুরু হয়ে গেলে, সংশোধনের চিন্তা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মি. ম্যাক্রনের এমন বক্তব্যের জবাবে টেরেজা মে বলেছেন সামনের সপ্তাহে যথাসময়ে ব্রেক্সিট আলোচনা শুরু হবে এবং এ নিয়ে কোনো দেরি হবে না। সংবাদ সম্মেলন শেষে দুই নেতা ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের মধ্যে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ দেখতে যান। ম্যাচের শুরুতে দুই দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী হামলার শিক্র ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ফরাসী প্রেসিডেন্টের আগে জার্মানীর অর্থমন্ত্রী উলফগাঙ শ্যাবলেও একই ধরনের মন্তব্য করেন। ব্লুমবার্গ টেলিভিশনে দেয়া এক বক্তব্যে উলফগাঙ শ্যাবলে বলেন, ব্রিটেন যদি বেক্সিট নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলাতে চায়, তাহলে তাদের জন্য দরজা খোলাই আছে। সূত্র: বিবিসি

এরশাদের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে নিজেকে রংপুর মেয়র প্রার্থী ঘোষণা ভাতিজার

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে আগামী নির্বাচনে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন তারই বড় ভাইয়ের ছেলে সাবেক এমপি হুসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ। এরশাদের পৈত্রিক নিবাস মহানগরীর সেনপাড়ার স্কাইভিডিও লাঙ্গল ভবনে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি যখন এ ঘোষণা দিচ্ছিলেন তখন এরশাদ রংপুর মেডিক্যাল কলেজের বোর্ড মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। কিছুদিন আগে এরশাদ রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে এ পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। আসিফ তার প্রার্থিতা ঘোষণার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘দলের সুবিধাভোগী নেতা মশিউর রহমান রাঙ্গা আমাদের উপর পুলিশ দিয়ে লাঠিচার্জ, হয়রানি ও মামলা দিয়েছিলেন। আবারো রাঙ্গাকেই সাথে নিয়ে এরশাদ রংপুরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। শুধু তাই নয়, এরশাদ ঘোষিত নতুন মেয়র প্রার্থীর সখ্যতা রয়েছে রাঙ্গার সাথে। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। এরশাদ সাহেব জনগণের পালস বুঝতে পারছেন না। তাই দলীয় স্বার্থে আমি নিজেকে আগামী নির্বাচনে নিজেকে দলীয় পার্থী হিসেবে ঘোষণা করছি। এবং আমি আশা করছি নির্বাচনে আমি লাঙ্গন প্রতীক নিয়েই লড়তে পারবো। যদি এ প্রতীকটি নাও পাই তবুও জনস্বার্থে নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাব।’

পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৫

অতি বর্ষণে পাহাড় ধসে রাঙামাটি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রামে নিহতের সংখ্যা সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ১৩৫ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে রাঙামাটিতে। সেখানে ৯৮ জন নিহত হবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার। নিহতদের মধ্যে মহিলা ও শিশু রয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বিবিসি বাংলাকে বুধবার সকালে জানান, রাঙামাটিতেই নিহতের সংখ্যা দুইশো ছাড়িয়ে যাবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ‘এখন আলোও ফুটে উঠেছে। পানিও কমে যাচ্ছে। এখন হয়তো আরো লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হবে’ -বলেন সুনীল কান্তি দে। এর আগে রাঙামাটির পুলিশ সুপার জানান, নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর চার জন সদস্য রয়েছে। তারা মানিকছড়ি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর দুজন অফিসার রয়েছে। এখনো কয়েকজন সেনা সদস্য নিখোঁজ আছে বলে তারা জানিয়েছেন। তবে সেনা সদস্য নিহত হবার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানায়নি আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর। অন্যদিকে পাহাড় ধসে বান্দরবানে ছয় জন এবং চট্টগ্রামে মোট ৩০ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে সব জায়গায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাঙামাটির পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সেখানে মঙ্গলবারও প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পায়ে হেঁটে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সস্পর্কে পরিষ্কার চিত্র পেতে আরো অপেক্ষা করতে হবে। বান্দরবানের পুলিশ সুপার সঞ্চিত কুমার বিবিসিকে বলেন, প্রবল বর্ষণে ভূমি ধসের সাথে গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে। জেলার অধিকাংশ জায়গায় কোন বিদ্যুৎ নেই। উদ্ধারকাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মি. কুমার। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার এবং সোমবার টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ফলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী অনেক বাড়ি মাটি চাপা পড়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে সড়ক দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য বেগম পিনু খানের তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এর অনুসমর্থনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে থ্রিই (ইঞ্জিনিয়ারিং, এডুকেশন ও এনফোর্সমেন্ট) বিবেচনায় নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সড়ক বিভাগ ধারাবাহিকভাবে প্রকল্প, কার্যক্রম ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং উদ্যোগ হিসেবে দেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করে ২২৭টি ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে শতাধিক ব্ল্যাক স্পটে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাকীগুলো সম্পন্ন করতে ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এডুকেশন কর্মসূচির আওতায় সরাদেশে এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে। এনফোর্সমেন্টের অংশ হিসেবে দেশের ২২টি জাতীয় মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বা অনুরূপ যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ৯২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮৮৮ জন নিহত এবং ৭১৬ জন আহত হয়েছে। সূত্র : বাসস

রাঙ্গামাটিতে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু

প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত রাঙামাটিতে উদ্ধার অভিযান আজ আবার শুরু হয়েছে। আজ বুধবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মানজুরুল মান্নান। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার আলোর স্বল্পতার কারণে সন্ধ্যার পর থেকে অভিযান স্থগিত করা হয়। প্রবল বর্ষণে সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার পর্যন্ত পাহাড় ধসের ঘটনায় ১২৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত হয়েছে শতাধিক।

লক্ষ্মীছড়িতে পাহাড় ধসে ২ জনের মৃত্যু : আহত ১০

খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুর্গম বর্মাছড়ি ইউনিয়নে পাহাড় ধসে এক নারীসহ দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার টানা বর্ষণে বর্মাছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ খবর নিশ্চত করেছেন। সাবেক লক্ষ্মীছড়ি ইউনয়ন পরিষদ রাজেন্দ্র চাকমা এ প্রতিনিধিকে বলেন, বর্মাছড়ি ইউনিয়নের ফুত্যাছড়া পাড়ার প্রাণকৃত্য চাকমার ছেলে পরিমল চাকমা (৩০) পাহাড় ধসে মাটি চাপায় মৃত্যু হয়। একই পরিবারের শিশু ও নারীসহ আরো সাতজন মারাত্মক আহত হয়। ঘটনাটি গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঘটলেও ছড়া ও খালে পানি ভরাট হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে আনা সম্ভব হয়নি। বুধবার সকালে আহতদের লক্ষ্মীছড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসে। লক্ষ্মীছড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন, মধ্যম বর্মাছড়ি পাড়ার সজিব চাকমার স্ত্রীন রজমালা চাকমা (২৪), তার ৯ বছরের কন্যা পার্কি চাকমা ও ৬ বছরের শিশু তুষি চাকমা।
সড়ক যোগাযোগ না থাকায় মারাত্মক আহত অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন একই গ্রামের ধনঞ্জয় চাকমা (৬৫), তার স্ত্রী তিতুর বালা চাকমা (৫৫), মেয়ে সাবেত্রী চাকমা(৪০) ও সাবেত্রী চাকমার ছেলে এপিন চাকমা। দুর্গম এলাকা এবং সড়ক যোগাযোগ না থাকায় তাদেরকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের একমাত্র সুস্থ্য আছেন সজিব চাকমা বলেন, আমি এখন নিরুপায়। বাড়ির সবাই পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে আহত হয়েছে।’ বাকি আরো ২জন আহতদের নাম জানা যায়নি। এদিকে বর্মাছড়ি-কাইখালী সীমান্তে হলুদ্যা পাড়া বড়ইতলী এলাকার পতুল্যা চাকমার স্ত্রী কালেন্দ্রী চাকমার (৪৫) মাটিচাপায় মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পতুল্যা চাকমা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল পাহাড় ধসের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যুর খবর শুনেছেন। ঘটনাস্থ্যল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কি.মি. দূরে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান। তবে এ ঘটনা কাউখালী উপজেলায় ঘটেছে বলে অপর একটি সূত্রে জানা গেছে। লক্ষ্মীছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ আরিফ ইকবাল পাহাড় ধসের ঘটনায় মৃত্যুর খবর শুনেছেন। তবে কেউ এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে আধুনিক প্রস্তুতি গ্রহণে সরকার ব্যর্থ : রিজভী

চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে মাটি চাপায় হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আধুনিক প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যর্থ। আসলে তারা দেশের উন্নয়ন নয়, সর্বদা তারা ব্যস্ত থাকে লুটপাটের মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক উন্নয়নে। সেজন্য দেশের প্রাকৃতিক ও মানবিক দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে আবারো প্রমাণিত হলো- ‘আওয়ামী লীগের কোনো মানবিক মুখমন্ডল নেই।’ দেশকে তারা পরিকীর্ণ মাৎস্যন্যায়ে ঠেলে দিয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে হাজার হাজার উপদ্রুত মানুষকে আশ্রয় পাচ্ছে না। সেখানে এখনো কোনো ত্রাণ পৌঁছেনি। সেখানকার অবস্থা ক্রমাগতভাবে বেহাল হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, উন্নয়ন একটি সামগ্রিক বিষয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয় তাৎক্ষণিক ও সূচারুভাবে মোকাবেলা করে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর মতো আধুনিক দক্ষ উদ্ধারবাহিনী তৈরী করাও উন্নয়নের অংশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনায় এর প্রি ও পোস্ট এ্যাফেক্ট উপলব্ধি করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করাও উন্নয়নের অংশ। কিন্তু সরকার এক্ষেত্রে ব্যর্থ। রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মো: মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে রিজভী বলেন, কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত খবরে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে মাটি চাপায় নিহত হয়েছেন ১৩১ জন, মৃত্যুসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। পাহাড়ী বানে বাঁধ ভেঙ্গে পানিতে ভেসে যাওয়া অনেক মানুষের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সড়কের ওপর ধ্বসে পড়া পাহাড়ের মাটি সরাতে গিয়ে মাটিচাপায় নিহত হয়েছেন দুই কর্মকর্তাসহ ৪ সেনা সদস্য। হাজার হাজার মানুষ অসহায় অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে কোনোমতে জীবন বাঁচিয়ে রেখেছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে হাজার হাজার উপদ্রুত মানুষকে আশ্রয় পাচ্ছে না। সেখানে এখনো কোন ত্রাণ পৌঁছেনি। সেখানকার অবস্থা ক্রমাগতভাবে বেহাল হচ্ছে। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা মুখে তুবড়ি ছুটিয়ে উন্নয়নের কথা প্রচার করে। কিন্তু চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটিতে দু’দিনের প্রবল বর্ষণে মাটি চাপায় অসংখ্য মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে এজন্যই যে সেসব এলাকার অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়নই হয়নি। ওইসব এলাকায় উন্নত রাস্তাঘাট নেই। নেই বিদ্যুৎ। সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনায় আগাম বার্তা জানানোর কোনো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নেই, ল্যান্ডস্লাইডকে মোকাবিলা করে বিপন্ন মানুষকে উদ্ধারের জন্য নেই কোনো উন্নতমানের উদ্ধার-টিম কাঠামো। সেখানে সম্ভাব্য ল্যান্ডস্লাইড এলাকাগুলো এড়িয়ে রাস্তাঘাট ও লোকবসতি তৈরী হয়নি বলেই এই ভারী বর্ষণে পাহাড় ধ্বসে এতো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার প্রশাসন যেমন অকর্মণ্য তেমনি দুর্নীতিগ্রস্ত। দলীয় চেতনায় সাজানো প্রশাসনের দ্বারা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উপদ্রুত মানুষকে উদ্ধারে কোনো আন্তরিক উদ্যোগ থাকে না। বৃহত্তর চট্টগ্রামে সেই একই অবস্থা বিরাজমান। কারণ সর্বত্র ক্ষমতা-আশ্রীত গুন্ডা-মাস্তানের দাপট দিয়েই বর্তমান সরকার ক্ষমতার মসনদ আগলিয়ে রাখতে চায়। বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতবিক্ষত দুর্গত মানুষ এবং অসংখ্য লাশের স্তুপকে ডিঙ্গিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী এখন আনন্দভ্রমনে সুইডেন সফরে বেরিয়েছেন। ঠিক যেমনিভাবে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আঘাত হানার সময় তিনি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা সফর করছিলেন। দেশে কোনো দুর্যোগ হলে অন্য দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা বিদেশ সফর বাতিল করে নিজ দেশে উপদ্রুত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। অবশ্য বিপদের সময় নিজ দেশের জনগণকে ফেলে চলে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য ও ইতিহাস। ৭১ সালেও তারা সেই ঐতিহ্যই রক্ষা করেছেন। ১/১১ এর সময়ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই ট্র্যাডিশন সমানে রক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, এতো বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে লাশের সংখ্যা যখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তখন সরকার প্রধান ভ্রুক্ষেপহীন, নিরুদ্বেগে বিদেশ সফরে বেরিয়েছেন। সরকারের জনভিত্তি ধসে গেছে বলেই জনগণের বিপদের সময় নির্লজ্জ আচরণ করছেন ক্ষমতাসীনরা। এখন বিদেশীদের মন রক্ষার জন্যই প্রধানমন্ত্রী বিদেশে ছোটাছুটি করছেন। বিদেশের যেসব কনফারেন্সে সচিব পর্যায়ের বা প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের লোক যাওয়ার কথা সেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, জনগণের প্রতি বর্তমান সরকারের বৈরী মনোভাব সর্বজনবিদিত। অন্তহীন ক্ষমতালিপ্সার কারনেই জনগণের বদলে বন্দুকের উপরই ভরসা এই সরকারের। আসলে গণতন্ত্র, সংসদীয় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, স্বচ্ছ নির্বাচন ও আইনের শাসনের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজন্ম বিতৃষ্ণা। তাই দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইমার্জেন্সির সময়ও সরকার প্রধানের বিদেশ সফর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের উপদ্রুত মানুষ, বিধ্বস্ত জনপদ ও অসংখ্য লাশকে উপহাস করারই সামিল। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের তেমন কোনো কূটনৈতিক তাৎপর্যও নেই। রিজভী বলেন, চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ভূমিধস, পাহাড় ধসে মাটিচাপায় নিহত মানুষ, হতভাগ্য মানুষদের প্রতি সরকার প্রধানসহ সরকারের অবজ্ঞায় দেশবাসী ক্ষুদ্ধ। মানুষের ক্ষোভ ভষ্মাচ্ছাদিত বহ্নির মতো ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা জনরোষ চরম প্রজ্জলন শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়ার অপেক্ষায়। দেশের শোক-সঙ্কটে অযৌক্তিক বিদেশভ্রমণ হবুচন্দ্র রাজারই কীর্তিকলাপ। আমি আবারো বিএনপির পক্ষ থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানববিপর্যয়ে হতাহতের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি, যারা নিহত হয়েছেন আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি, আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। এছাড়া বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে যার যে সামর্থ আছে তা নিয়ে উপদ্রুত এলাকায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহবান জানান রুহুল কবির রিজভী।

ইভাঙ্কা ট্রাম্প ব্র্যান্ডের পোশাক কারখানার ভয়াবহ চিত্র -গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

ইভাঙ্কা ট্রাম্প ব্র্যান্ডের পোশাক কারখানাগুলোতে নানা অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে। গার্ডিয়ানের বিশেষ এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কন্যার ফ্যাশন ব্রান্ড পণ্য নির্মাতা কারখানাগুলোর রূঢ় বাস্তবতা। সেখানে চলছে নানা রকম অধিকার লঙ্ঘন। কর্মীদের গালি গালাজ করা হয়। চাপিয়ে দেয়া হয় কাজের বোঝা। আর মজুরি এতো কম যে, সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে থাকারও সামর্থ্য নেই এসব কারখানা শ্রমিকদের। নারী কর্মীরা ঋতুর সময় ছুটি না নিলে বোনাসের প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার সুবাংয়ের একটি কারখানায় এক ডজনের বেশি কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে গার্ডিয়ান। সেখানকার কর্মীরা বলছে, তারা এশিয়ার মধ্যে সবথেকে কম মজুরি পাচ্ছে। এছাড়া, উৎপাদন কাজের অসম্ভব টার্গেট দেয়া এবং ওভারটাইম মজুরি পরিশোধে গাফিলতির দাবি শোনা গেছে। ইভাঙ্কা ট্রাম্প ব্র্যান্ডের জুতা তৈরির কাজ হয়- চীনের এমন একটি কারখানায় সম্ভাব্য অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশি হেফাজতে লাপাত্তা হয়ে যায় একাধিক শ্রমিক অ্যাক্টিভিস্ট। ওই অ্যাক্টিভিস্টদের গ্র্রুপ দাবি করেছে যে তারা কারখানায় নানা ধরণের অধিকার লঙ্ঘণের ঘটনা জানতে পেরেছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের বৈধ সর্বনিম্ন মজুরির চেয়েও কম বেতন দেয়া, শ্রমিকদের ওপর ম্যানেজারদের গালিগালাজ, এবং নারী অধিকার লঙ্ঘন।
ইন্দোনেশিয়ার কারখানায় কিছু অভিযোগ একইরকম। যদিও, সুবাংয়ের কারখানাটিতে শ্রমিকদের মজুরি আরও কম। 
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব কারখানায় কাজ করা শ্রমিকদের ভাস্য উঠে এসেছে। সঙ্গত কারণে তাদের প্রকৃত নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে প্রতিবেদনে।
আলিয়া নামের এক শ্রমিক পশ্চিম জাভার সুবাংয়ে অবস্থিত পিটি বুমা অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি কারখানায় কাজ করে। পিটি বুমায় অন্যান্যা ব্র্যান্ডের পাশপাশি ইভাঙ্কা ট্রাম্প ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হয়। আলিয়া ও তার স্বামী দুজনই পরিবারের জন্য উপার্জন করলেও, কখনই তাদের মাথা থেকে ঋণের বোঝা মেটে না। আলিয়া কয়েক বছর ধরে কাজ করে পিটি বুমায়। কিন্তু এর বিনিময়ে তার কপালে জুটেছে দু’রুমের অপরিচ্ছন্ন একটি বোর্ডিং হাউজ। মাসে ভাড়া ৩০ ডলার। আর সন্তানদের কয়েক ডজন ছবি দিয়ে সাজানো। কেননা, বাড়িতে বাচ্চাদের নিয়ে থাকার মতো যথেষ্ট অর্থ তাদের নেই। বাচ্চারা থাকে তাদের দাদীর সঙ্গে । মাসে একটি ছুটির দিনে একবার সন্তানদের গিয়ে দেখার সুযোগ পায় এ দম্পতি। মটোরসাইকেলের তেল ভরার অর্থ যোগাড় করতে পারলে তবেই সন্তানদের দেখতে যাওয়া হয়।
আলিয়ার স্বামী আহমাদ স্থানীয় আরেকটি গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করে। তার স্ত্রী ও পিটি বুমা কারখানায় কাজ করা বেশিরভাগ শ্রমিকের মতো সেও একজন মুসলিম। আহমাদ বলেন, ‘ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগুলো আমাদের পছন্দ না।’ আলিয়াকে যখন চাকুরিজীবী নারীদের নিয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের লেখা নতুন বইয়ের বিষয়ে জানানো হলো তখন হাসিতে ফেটে পড়লেন তিনি। আলিয়ার ভাস্য তিনি যদি নিজের সন্তানদের মাসে একবারের বেশি দেখতে পারতেন তাহলে সেটা হলো তার জন্য কাজ আর জীবনের ভারসাম্য। বুমায় বর্তমানে কর্মরত রয়েছে ২৭৫৯ জন কর্মী। এদের মধ্যে ইউনিয়নভুক্ত মোট কর্মীর সংখ্যা আনুমানিক ২০০। ইউনিয়নের বাইরে থাকা বেশিরভাগ বুমা কর্মীদের জন্য তাদের চাকরি হলো হাড়ভাঙা খাটনি সহ্য করার সামিল। এদের তিন চতুর্থাংশ নারী। অনেকেই সন্তানের মা। আলিয়ার মতো তারাও তাদের উপার্জনের প্রায় সবটা সন্তানদের পেছনে ব্যয় করে যাদের সঙ্গে নিয়ে থাকার সামর্থ্য তাদের নেই।
এমন আরেক কর্মী সিতা। বয়স ২৩। পিতা মাতা অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর কলেজে পড়ার পাঠ চুকাতে হয়। গত বছর থেকে বুমায় কাজ করা শুরু করে। গার্ডিয়ানকে তিনি জানান যে সাত মাস পূর্ণ হওয়ার পর শিগগিরই তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। সিতা বলেন, অতিরিক্ত ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে এটা প্রতিষ্ঠানের একটা ব্যবস্থা। চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে তিনি মেয়াদোত্তর কোন অর্থ পাবেন না। তিনি আরও বলেন, ‘আর সহ্য করতে পারছি না। প্রতিদিন বিনা মজুরিতে ওভারটাইম কাজ করে যাচ্ছি। সুবাং থেকে অন্যত্র চলে যেতে যান সিতা। কিন্তা তিনি জানেন না কোথায় যাবেন। চাকুরি পাওয়ার মতো পরিচিত কেউ নেই তার।
উল্লেখ্য, ইভাঙ্কা ট্রাম্প জানুয়ারি মাসে নিজের ব্র্যান্ড পরিচালনা করা থেকে সরে দাড়ান। তবে এখনও ওই ব্র্যান্ডের পণ্যগুলোতে তার নামেরই লেবেল রয়েছে।
বুমা কারখানার স্থায়ী কর্মীদের অবশ্য কিছু সুযোগ সুবিধা রয়েছে। মাতৃত্বকালীন তিন মাস সবেতন ছুটি, বাধ্যতামূলক ফেডারেল হেলথ ইনস্যুরেন্স এবং ঋতুকালে ছুটি না নিলে মাসে ১০.৫০ ডলার বোনাস।
বুমা কারখানার নানা অনিয়মের চিত্র পশ্চিম জাভার অপর কারখানাগুলোর সঙ্গে বহুলাংশে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে জানান ইন্দোনেশিয়ার ট্রেড ইউনিয়ন রাইটস সেন্টারের আন্ড্রিকো ওটাং। তিনি বলেন, ওভারটাইমের অর্থ দেয়া থেকে পরিত্রান পেতে অবাস্তব উৎপাদন টার্গেট দেয়ার চর্চা নিয়মিত হয়ে থাকে। এছাড়া হেয় প্রতিপন্ন করতে ‘পশু, গর্দভ আর বাঁদর’ বলে কটুক্তি করাও স্বাভাবিক চর্চা বলে উল্লেখ করেন তিনি। অনেক শ্রমিক জানান, রমজানের আগে কর্মী ছাটাই করার ঘটনা ঘটে প্রতিবছর। একমাস পর ফেল তাদের নিয়োগ দেয়া হয়। ঈদের বোনাস দেয়া থেকে বাচতে এই পন্থা অবলম্বন করে বুমা। সুবাংয়ের এসপিএসআই ইউনিয়নের রেতা টোটো সুনার্টের তথ্যমতে এ বছর মে মাসে রমজানের আগে ২৯০ জনকে ছাটাই করা হয়। 
অলাভজনক ‘ফ্যাশন রেভোলিউশন’ এর প্রতিষ্ঠাতা ক্যারি সমার্স বলেন, ‘ইভাঙ্কা ট্রাম্প দাবি করেন কর্মজীবী নারীদের জন্য চুড়ান্ত গন্তব্য হলো তার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে বিশ্বজুড়ে তার জন্য কারখানাগুলোতে যেসব নারী কাজ করেন, তাদের জন্য এটা প্রযোজ্য নয়।
গত এক বছরে ইভাঙ্কার ব্র্যান্ডের ভাগ্য খুলে গেছে। তার পিতার নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইভাঙ্কা ব্র্যান্ডের মোট বিক্রি প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পায়। তবে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কিছু ডিপার্টমেন্টার স্টোর ইভাঙ্কার ব্র্যান্ড বাদ দিয়েছে। আর ইভাঙ্কার ব্র্যান্ডের এক্সক্লিুসিভ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জি-থ্রি গোপনে ইভাঙ্কা ট্রাম্প লেবেল লাগানো কিছু পন্যে ভিন্ন আরেকটি ব্র্যান্ডের লেবেল  লাগিয়েছে। 
ফাদলি নামে বুমা কারখানার একটি ওয়্যারহাউজের শ্রমিক যুক্তরাষ্ট্রগামী পন্যগুলোর প্রাইস ট্যাগ দেখে মন্তব্য করেন, ‘নামি ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক তৈরি করতে পেরে আমি গর্বিত। কিন্তু আমি যেহেতু প্রাইস ট্যাগ দেখেছি, তাই আমার মনে প্রশ্ন জাগে, তারা কি আমাদের আর একটু বেশি অর্থ দিতে পারে না?’
এই প্রতিবেদনে উঠে আসা দাবিগেুলো নিয়ে পিটি বুমার কাছে মন্তব্য চেয়েছিল গার্ডিয়ান। কিন্তু, প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র সাফ জানিয়ে দেন শুধু তিনি না, বুমা জাকাতা বা বুমা সুবাংয়ের কেউই এ নিয়ে মন্তব্য করতে চান না। এ নিয়ে গার্ডিয়ান হোয়াইট হাউসের কাছেও মন্তব্য চেয়েছিল। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেখান থেকে কোন জবাব মেলেনি। আর ইভাঙ্কা ট্রাম্প ব্র্যান্ডের জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান কোন প্রকার মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০ কোটি ডলারের বোমা কিনছে সৌদি

কাতারকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা খারাপ দিকেই যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এই পরিস্থিতির ফাঁয়দা লুঠতে পুরো মুখিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। ইতিমধ্যে পরিস্থিতি বুঝেই অস্ত্র পাঠানো শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি সৌদি আরবের কাছে ৫০ কোটি ডলারের বোমা বিক্রির একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মার্কিন সিনেট। তবে এসব বোমা ইয়েমেনে আগ্রাসন চালাতে সৌদি আরবের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ব্যবহার করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর আলজাজিরার। অবশ্য কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল এবং কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে প্রস্তাব এনেছিলেন। তবে ৫৩-৪৭ ভোটে সেটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর সিনেটর পল আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্ত্রবাজ প্রজন্ম গড়ে তুলছি।’   শিয়া হুথি বিদ্রোহী ও তাদের মিত্রদের বিদ্রোহের মুখে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহকে নির্বাসনে যেতে হয়। এর জের ধরে ২০১৫ সাল থেকে দেশটির বিদ্রোহী দমনের দায়িত্ব নেয় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে অন্তত আট হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪৪ হাজার মানুষ।

কাতারকে একঘরে করা ইসলামি মূল্যবোধ বিরোধী

উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কটা এখন ঠিকঠাক যাচ্ছে না। সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার দায়ে একঘরে হয়ে গেছে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশের একটি কাতার। কাতারের পার্শ্ববর্তী সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ ৬টি দেশ সম্পর্কচ্ছেদ করায় এ সমস্যার শুরু। তবে কাতারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক ও ইরানের মতো বেশ কিছু রাষ্ট্র।
কুয়েত চাইছে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান। এর জন্য দেশটি কূটনৈতিক তৎপরতাও চালাচ্ছে। তবে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি এ ঘটনাকে ইসলামি মূল্যবোধ বিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন। কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের আটদিনের মাথায় তিনি এমন মন্তব্য করলেন। মঙ্গলবার আঙ্কারায় তিনি বলেন, ‘কাতারকে নিয়ে খুবই ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একটি দেশকে একঘরে করে দেয়া খুবই অমানবিক ও ইসলামি মূল্যবোধ বিরোধী।’ তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো এই কাজ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের যেন মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলো। তুরস্কের সঙ্গে আইএস মোকাবেলায় কাতার শক্ত ভূমিকা পালন করছে বলেও জানান তিনি।

কাতারে সামরিক দল পাঠিয়েছে তুরস্ক

অবরুদ্ধ কাতারে সামরিক দল পাঠিয়েছে তুরস্ক। দেশটিতে সেনা মোতায়েন ও সেনাবিহনীকে প্রশিক্ষণ প্রদান সমন্বয়ের জন্য ৩ সদস্যের এ সামরিক দল পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম আনাদলু এজেন্সি। তুরস্কের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতি উল্লেখ করে খবরে বলা হয়েছে,দেশটিতে সেনা মোতায়েন ও সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ প্রদান সমন্বয়ের জন্য সোমবার ৩ সদস্য বিশিষ্ট সামরিক দলটি পাঠানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে,২০১৫ সাল থেকেই তুরস্ক ও কাতারের মধ্যে সামরিক সফর একটি নিয়মিত বিষয়। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে কাতার ও তুরস্কের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির এক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। গত সপ্তাহে সৌদি আরব,সংযুক্ত আরব আমিরাত,বাহরাইন,মিশর,ইয়েমেন ও দোহা কাতারের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর তুরস্কের সংসদ সে দেশে সেনা মোতায়েন ও সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদানের অনুমতি দেয়।

লন্ডনে বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন

পশ্চিম লন্ডনে লাটিমার রোডের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, ভবনে বহু মানুষ আটকা পড়ে আছে। খবর বিবিসির। ল্যানচেস্টারে 'গ্রেনফেল টাওয়ার' নামের ওই আবাসিক ভবনটিতে ব্রিটিশ সময় মঙ্গলবার রাত সোয়া একটার দিকে আগুন লাগে। প্রায় দুইশোর মতো দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো খবর জানা যায়নি। বিবিসির অ্যান্ডি মুর জানাচ্ছেন, পুরো ভবনটি আগুনে জ্বলছে এবং ভবনটি ধসে পড়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড ৪০টি ফায়ার ইঞ্জিন পাঠিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে-তারা ছাদের ওপর থেকে আলো নাড়ানো দেখেছে।
তাদের ধারণা ভবনের লোকজন ছাদের ওপর থেকে টর্চের আলো দিয়ে সাহায্য চাইছে। আর্তনাদও তারা শুনতে পেয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ছাদে আগুন পৌঁছাতে আর বেশি দেরী নেই। অন্যদিকে সংবাদদাতা অ্যান্ডি মুর বলছেন "ভবন থেকে ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখছি। আমরা বড় বিস্ফোরণের শব্দও শুনেছি। কাঁচ ভাঙার শব্দও পেয়েছি।" বিবিসির সাইমন লেডারমেন জানান, "ভবনটি যেভাবে জ্বলছে কয়েক মাইল দূর থেকে তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে"। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেছেন "এটা অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা"। আগুনের কারণে লন্ডন পাতাল রেলের হ্যামারস্মিথ এবং সিটি ও সার্কেল লাইন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ইরাকের শরণার্থী শিবিরে খাদ্যে বিষক্রিয়া

ইরাকের মসুলের কাছে উদ্বাস্তু ইরাকিদের এক শরণার্থী শিবিরে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় কয়েকশ’ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রাণ হারিয়েছে এক শিশু। বিবিসি জানায়, মসুল ও ইরবিলের মাঝামাঝি অবস্থিত ওই শরণার্থী শিবিরের ইফতারের পর অনেকের পেট খারাপ হয় এবং বমি করতে থাকে।
প্রায় ২০০ জনকে নিকটস্থ তিনটি হাসপাতলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ইরবিলের একটি রেস্তোরাঁয় রান্না করা খাবারগুলো এনেছিল কাতারি এক দাতব্য সংস্থা। এদিকে কুর্দি বার্তা সংস্তা রুদা জানায়, এখন পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে একজন শিশু মারা গেছে। অসুস্থ হয়েছেন ৭৫০ জনেরও বেশি। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ক্যাম্পটি স্থাপন করেছে। মসুল ও আশপাশ থেকে পালিয়ে আসা ইরাকিরা এখানে আশ্রয় নেয়। ক্যাম্পটিতে বর্তমানে ৬২৩৫ জন বাস করে।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কূটনীতিক গ্রেফতার



নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্সুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম গ্রেফতার হয়েছেন। সোমবার নিউইয়র্ক সময় বেলা ১১টায় পুলিশ জ্যামাইকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে শ্রমিক পাচার, গৃহকর্মী নির্যাতন এবং মজুরি চাওয়ায় হত্যার হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার বিকালে শাহেদুল ইসলামকে কুইন্সের অপরাধ আদালতে তোলা হলে ৫০ হাজার ডলারের বন্ড বা নগদ ২৫ হাজার ডলারে জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক। নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান যুগান্তরকে জানিয়েছেন, তারা ৫০ হাজার ডলারের বন্ড সংগ্রহ করেছেন। এ বন্ড জমা দেয়া হলে মঙ্গলবার শাহেদুল ইসলাম মুক্তি পেতে পারেন। এদিকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ডেপুটি কনসাল জেনারেলকে গ্রেফতারের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এক পলাতক ব্যক্তির কথায় একজন কূটনীতিককে কেন আটক করা হয়েছে, সেটি জানার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কারণ জানতে চেয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জোয়েল রিফম্যান ও পলিটিক্যাল কাউন্সিলর আন্দ্রেয়া বি রড্রিগেজ মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মাহবুব উজ জামানের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেখা করেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, গোটা ব্যাপারটি আমাদের কাছে পরিষ্কার নয় এবং তাদের কাছে অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছি আমরা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ডেপুটি কনসাল জেনারেলের অবিলম্বে মুক্তি চাওয়া হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের কূটনীতিক শাহেদুল ইসলাম নিউইয়র্কে গ্রেফতার হওয়ার খবর ঠাকুরগাঁওয়ে ছড়িয়ে পড়লে সুশীল সমাজসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ বিস্মিত ও হতবাক হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় তাদের সবাই দুঃখ প্রকাশ করেছেন। নিউইয়র্কের ডেপুটি কনসাল জেনারেল পদে কর্মরত শাহেদুল ইসলামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের আর্ট গ্যালারি আশ্রমপাড়া। তার বাবা মরহুম খাদেমুল ইসলাম আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও সংসদ সদস্য ছিলেন। জানা গেছে, ২০১২ সালের শেষদিকে ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম বাংলাদেশ থেকে মোহাম্মদ আমিন ওরফে রুহুল আমিন নামে একজনকে গৃহকর্মী হিসেবে নিউইয়র্কে নিয়ে আসেন।
গত বছরের মে’তে শাহেদুল ইসলামের বাসা থেকে নিরুদ্দেশ হন ওই গৃহকর্মী। আদালত জানান, মোহাম্মদ রুহুল আমিন বাসা থেকে পালিয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তাকে বেতন না দেয়া, শারীরিক নির্যাতন ও বাংলাদেশে তার পরিবারকে হত্যার হুমকির অভিযোগ করেন। রুহুল আমিন আরও অভিযোগ করেন, তাকে দিয়ে দৈনিক ১৮ ঘণ্টা কাজ করালেও বিনিময়ে কোনো বেতন দেয়া হয়নি। তার পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করেন শাহেদুল ইসলাম। অভিযোগে গৃহকর্মী আরও জানান, বেতন দাবি করলেই তাকে মারধর করা হতো। এমনকি বাংলাদেশে তার বৃদ্ধা মা ও ছেলে-মেয়েকেও হত্যার হুমকি দেয়া হতো। শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের আদালতে এরই মধ্যে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সোমবার তাকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান যুগান্তরকে বলেন, ‘১৩ মাস আগে রুহুল আমিন নিরুদ্দেশ হয়। সে সময় বাংলাদেশ কনসুলেটের পক্ষ থেকে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করা হয়েছিল। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিষয়টি পুলিশকে জানালে এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু তদন্তের বিষয়ে কোনো কিছু না জানিয়ে সোমবার বেলা ১১টার দিকে শাহেদুল ইসলামকে তার জ্যামাইকার বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।’ শামীম আহসান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিতে থাকি। বিকাল ৪টার দিকে কুইন্সের ক্রিমিনাল কোর্টে তোলা হলে তার জামিন চাওয়া হয়। আদালত ৫০ হাজার ডলার বন্ড অথবা নগদ ২৫ হাজার ডলার জমার পরিবর্তে শাহেদুল ইসলামকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন। তিনি আরও বলেন, শাহেদুল ইসলামের পরিবার ও সহকর্মীরা ৫০ হাজার ডলার বন্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বন্ড জমা দেয়া হলে মঙ্গলবার তার মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার সকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শাহেদুল ইসলাম মুক্তি পাননি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের মার্চে নিউইয়র্কের তৎকালীন কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী ফাহিমা ইসলাম প্রভার বিরুদ্ধে ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করেন মাসুদ পারভেজ রানা নামে এক গৃহকর্মী। মামলার খবর শুনে ওইদিনই সপরিবারে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন মনিরুল ইসলাম। এ ঘটনার কয়েক মাস আগে নিজ দেশের এক গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে ভারতীয় কনসুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানি খোবরাগাড়েকে গ্রেফতার করার পর প্রকাশ্যে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায় নিউইয়র্ক পুলিশ। নিজ দেশের কূটনীতিক গ্রেফতারে ওই সময় কড়া প্রতিক্রিয়া দেখায় ভারত। এ নিয়ে কিছুদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চলে। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন ওই ভারতীয় কূটনীতিক। জানা যায়, পররাষ্ট্র দফতরের পরিচালক পদবির কর্মকর্তারা বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনসুলেটে চাকরি নিয়ে গেলে সরকারি খরচে গৃহকর্মী নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। কিন্ত গৃহকর্মীর বেতন ও অন্যান্য ব্যয়ভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বহন করতে হয়। সরকার গৃহকর্মীকে কোনো বেতন প্রদান করে না। ২০১২ সালে শাহেদুল ইসলামকে নিউইয়র্কের কন্সাল হিসেবে রাজনৈতিক নিয়োগ দেয়া হয়। পরে তিনি ডেপুটি কনসাল জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি পান। শাহেদুল ইসলাম নিউইয়র্কে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ সবাইকে হতবাক করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক নিউইয়র্ক কনসুলেট জেনারেলের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীবান্ধব দেশ। এ দেশে বিভিন্ন উপায়ে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ রয়েছে। শাহেদুল ইসলামের গৃহকর্মী রুহুল আমিন পারিবারিক নির্যাতনের (ডমেস্টিক ভায়োলেন্স) অভিযোগ এনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় লাভের সুযোগ খুঁজছেন কিনা, এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা উচিত। কেননা গত কয়েক বছরে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ও ভারতীয় কনসুলেটে এ ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। নিউইয়র্কের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের আর্ট গ্যালারি আশ্রমপাড়া। তার বাবা মরহুম খাদেমুল ইসলাম ছিলেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও সংসদ সদস্য। বাবা মারা যাওয়ার পর ওই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন শাহেদুল ইসলাম। কিন্তু তিনি মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন পান আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন। ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, শাহেদুল ইসলামের গ্রেফতারের খবরে স্থানীয় জনগণ বিস্মিত হয়েছেন। তারা বলেন, এলাকায় পরোপকারী হিসেবে এ পরিবারের যথেষ্ট সুনাম আছে। শাহেদুল ইসলামের বাবা মরহুম খাদেমুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তিনি ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকার প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি হিসেবে দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে ১৭ ডিসেম্বর সংসদ সদস্য খাদেমুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওয়ের আওয়ামী লীগের রাজনীতির শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। যে অভাব আজও পূরণ হয়নি। ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক ও রাজনীতিক আখতার হোসেন রাজা বলেন, এই পরিবারটি সভ্রান্ত হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক কুরাইশী বলেন, প্রয়াত সংসদ সদস্য খাদেমুল ইসলাম আমাদের আদর্শের প্রতীক ছিলেন। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, খাদেমুল ইসলাম নিঃসন্দেহে একজন ভালো মানুষ ছিলেন।

কোন দেশের খাবার ভালো সৌদি নাকি ইরানি

কাতারের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর কূটনৈতিক বিরোধে এবার ইরান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের খাবারের মান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের একজন সম্পাদক বলেছেন, তুর্কি ও ইরানি খাবার কাতারিদের পেটে হজম হবে না। এ নিয়ে বিদ্রƒপের মুখে পড়েছেন তিনি। সৌদি সংবাদপত্র ওকাজের সম্পাদক জামিল আল জিয়াবি সৌদি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত আল আরাবিয়া টিভিতে এক সাক্ষাতকারে বলেন, কাতারিদের পেটে ইরানি ও তুর্কি খাবার হজম হবে কিনা, তা নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে। গত ৫ জুন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ এনে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। ওই দিনই দেশগুলো কাতারের ওপর স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে অবরোধ আরোপ করে দেশগুলো। খাদ্য আমদানিতে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাৎক্ষণিভাবে বিপদে পড়ে কাতার। সৌদি আরব থেকেই এতদিন কাতারের মোট খাদ্যসামগ্রীর ৪০ শতাংশ আমদানি করা হতো। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে কাতার-সৌদির সব সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। তবে অবরোধ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুধ ও পোল্ট্রিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য নিয়ে কাতারে আসে ইরানি কার্গো বিমান। এরপর দেশটিতে খাদ্যসামগ্রী পাঠায় ইরান। আলজাজিরা জানায়, সম্পাদক জামিলের বক্তব্যকে বিদ্রƒপ করে টুইটারে একটি হ্যাশট্যাগ দেয়া হলে কাতারে তা সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়।
‘ইরান ও তুরস্কের খাবার ভালো’ : কাতারের রাজধানী দোহায় একটি হোটেলে কর্মরত বাংলাদেশি আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, অবরোধ আরোপের পর প্রথম কয়েক দিন খাবারের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও এখন সেটি স্থিতিশীল হয়েছে। ইরান এবং তুরস্ক থেকে কাতারের জন্য খাদ্য পাঠানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আতিকুর বলেন, প্রথম দুই দিন তো কেউ সাপ্লাই দিতে পারেননি। ইরানও দিতে পারেনি, তুরস্কও দিতে পারেনি। ওদের খাবারের গুণগতমানও সৌদি আরব থেকে ভালো। সবাই এখন এটাকে লাইক (পছন্দ) করছে। সৌদি আরবসহ আরও তিনটি উপসাগরীয় দেশ কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করায় ফল এবং সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। তুরস্ক থেকে দুগ্ধজাত পণ্য আসছে কাতারে। এ অবরোধের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কাতার সরকার হুশিয়ারি দেয় যে, খাদ্য মজুদ করে দাম বাড়ালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিশেষ কমিটির প্রধানকেও বরখাস্ত করতে চান ট্রাম্প

মার্কিন নির্বাচনে রুশ সংযোগ তদন্তে গঠিত বিশেষ কমিটির প্রধান রবার্ট মুলারকেও বরখাস্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্রিস্টোফার রুডি এ কথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন রক্ষণশীল রুশ সংযোগ তদন্তকাজে মুলারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ট্রাম্পকে মুলারের ভূমিকা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান দলের সাবেক স্পিকার নিউটজ গিংরিচ। রুডি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশেষ কমিটির টুটি টেনে ধরার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তবে হোয়াইট হাউস জানায়, এ ইস–্যতে ট্রাম্পের সঙ্গে রুডির কোনো আলোচনা হয়নি। খবর বিবিসির। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার সম্ভাব্য প্রভাব এবং ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের সঙ্গে মস্কোর কথিত যোগাযোগ নিয়ে তদন্ত পরিচালনায় বিশেষ কমিটির দায়িত্ব পান সাবেক এফবিআই প্রধান রবার্ট মুলার। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তাকে এ পদে বসান মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রুড রোসেস্টেইন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন মুলার। তবে তাকে বরখাস্ত করা নিয়ে গুঞ্জন সত্য হলে নতুন করে বিতর্কে জড়াবেন ট্রাম্প। তদন্তকাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ও এফবিআই পরিচালক জেমস কমিকে বরখাস্ত করা নিয়ে বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছেন তিনি।
কমির বরখাস্তের পরই মুলারকে প্রধান করে নতুন বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। মুলারের নিয়োগ প্রাথমিকভাবে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক উভয় দল থেকে বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্টের কিছু রক্ষণশীল মিত্ররা বলেছিলেন, ট্রাম্প শিগগিরই তাকে বরখাস্ত করবেন। প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান দলের সাবেক স্পিকার গিংরিচ এক টুইট বার্তায় বলেন, মুলারের অবস্থানটি বিবেচনা করার সময় এসেছে। প্রভাবশালী রেডিও হোস্ট মার্ক লেভিন বলেন, মুলারকে পদত্যাগ করা উচিত। রক্ষণশীল ভাষ্যকার অ্যান কাউল্টার টুইটারে বলেন, ট্রাম্প এ তদন্তে জড়িত নেই- কমির এ কথা নিশ্চিত করার পর কেন আমাদের বিশষ তদন্ত কমিটির প্রয়োজন রয়েছে? অবশ্য মুলারকে বরখাস্ত করার কোনো এখতিয়ার ট্রাম্পের নেই। এজন্য তার নিয়োগকারী রোসেস্টেইনকে অবহিত করতে হবে। রুডির এ মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার এক বিবৃতিতে জানান, এ ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে রুডির কোনো আলোচনা হয়নি। এ বিষয়ে শুধু ট্রাম্প ও তার অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা বলার অনুমতি রয়েছে। নিউজ ম্যাক্স মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী রুডি বলেন, এখানে কিছু সমস্যা রয়েছে বলে মনে হয়েছে। আমি জানি, ট্রাম্প এ বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছেন। কয়েকদিন আগে তিনি আমার সঙ্গে বিশেষ তদন্ত কমিটির প্রধানের নাম উচ্চারণ করেছিলেন। আমি মনে করি এখানে কোনো সমস্যা রয়েছে। এ গুঞ্জনের খবরে ডেমোক্রেটিক দলের জ্যেষ্ঠ সিনেটর অ্যাডাম বি স্কিফ বলেন, যদি ট্রাম্প মুলারকে বরখাস্ত করেন তাহলে কংগ্রেস পুনরায় তাকে বিশেষ কাউন্সিলে নিয়োগ দেবে। তাই আমাদের সময় নষ্ট করো না।’
সিনেট শুনানিতে জেফ সেশন্স : রুশ সংযোগ ও জেমস কমির বরখাস্ত হওয়ার বিষয়ে মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির কাছে সাক্ষ্য দেয়ার কথা রয়েছে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্সের। ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনে নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তা প্রথমবারের মতো সিনেট শুনানিতে অংশ নিতে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহে সিনেট শুনানিতে ট্রাম্প সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কমি। এরপরই শুনানিতে যোগ দেয়ার কথা ঘোষণা করেন সেশন্স। এক চিঠিতে সেশন্স বলেন, ‘এসব বিষয়ে যথাযথ ফোরামে আমার কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছি। এ ব্যাপারে সিনেট গোয়েন্দা কমিটিই যথাযথ ফোরাম। কেননা রুশ সংযোগের ব্যাপারে এ ফোরাম তদন্ত পরিচালনা করছে এবং সব ধরনের প্রাসঙ্গিক ও গোপনীয় তথ্যে তাদের হাত রয়েছে।’ সেশন্সের সাক্ষ্য দেয়ার এ ঘোষণায় এটাই বুঝা যাচ্ছে, রুশ সংযোগের মেঘ ট্রাম্পের কর্মসূচি থেকে খুব সহজে সরছে না।

টেকনাফে পাহাড় ধসে বাবা-মেয়ের মৃত্যু

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যংয়ে পাহাড়ের মাটি ও গাছ চাপা পড়ে বাবা-মেয়ে নিহত হয়েছে। বুধবার ভোররাত তিনটার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়া গ্রামের এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলো- মোহাম্মদ সেলিম (৪০) ও তার মেয়ে টিপু মনি (৩)। হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, রাতে ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাতে হঠাৎ করে একটি গাছসহ পাহাড়ের অংশবিশেষ ধসে পড়ে। এসময় মাটি ও গাছে চাপা পড়ে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা বাবা মোহাম্মদ সেলিম ও তার মেয়ে টিপু মনি। পরে স্থানীয়রা বাবা-মেয়েকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। টেকনাফ মডেল থানার ওসি মাইন উদ্দিন খান জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর শোনার পরপরই ঘটনাস্থাল পরিদর্শন করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, কয়েক দিন ধরে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে মাইকিং করা হলেও তারা শুনছে না। নিহত দু'জনের দাফন সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে ৪০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হবে।

মানুষকে ভালোবেসে দান করি কিছু

রমজানে দানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দানে মানবতা জেগে ওঠে। আমরা স্বভাবতই দান করে থাকি। সমাজের অনেকেই দানের জন্য একটি মোক্ষম সময়ও অনুসন্ধান করে। কেউ শবেমিরাজে, কেউ শবেবরাতে, কেউ ঈদের দিনে, জুমআর দিনে অথবা অন্য কোনো সময়। কিন্তু রমজানের পবিত্র আবহে দানের বিষয়টি আলাদা মর্যাদা পায়। এর তাৎপর্য নিঃসন্দেহে অনেক বেশি। কোরআনে ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ, অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয়কে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। ইচ্ছা-অনিচ্ছায় আমরা দান করে থাকি। এ দানের প্রথম শর্ত হল, পরিশুদ্ধ নিয়ত হতে হবে। নিয়ত পবিত্র হলে দানও পবিত্র হয়। এই দানে আমার লাভ হয়। রমজানকে সহানুভূতির মাস হিসেবে দেখা হয়। রমজানে দানের বিষয়ে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অনেক এগিয়ে। মানবজাতিকে প্রতিটি কর্মের মাধ্যমে যে শিক্ষা তিনি দিয়েছেন তা চিরকরণীয়। নবীজী দান করতেন। এক হাতে যা কিছু আসত অন্য হাতে তা দান করে দিতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) এক হাদিসে বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের সামনে সর্বাধিক দানশীল। রমজানে তিনি সর্বাধিক দানশীল হতেন। নবীজী দানের হাতকে মর্যাদাবান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নিজের হাতকে উত্তম বলেননি। দাতার হাতকে উত্তম বলা মানে দাতাকেই উত্তম বলা। স্বাভাবিক দান আর জাকাত আলাদা জিনিস।
দান মানুষ সবসময় করবে। কিন্তু জাকাত সবসময় দেবে না। এক বছর পূর্ণ হলে পরই জাকাত আদায় করবে। বেশি পুণ্য লাভের আশাতে জাকাতও অনেকে রমজানে দেন। ক্ষুধার্তকে পানাহার করান। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমরা কি দেইনি তাকে দুটি চোখ? এবং জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট? আর আমরা তাকে দেখিয়েছি দুটি পথ। কিন্তু সে তো গিরিসংকটে প্রবেশ করেনি। তুমি কি জান গিরিসংকট কী? তা হল দাস মুক্তি। অথবা ক্ষুধার দিনে অন্নদান করা ইয়াতিম নিকটাত্মীয়কে। অথবা ভূলুণ্ঠিত অভাবগ্রস্তকে। [সূরা বালাদ ৯০/৮-১৬]। কৃতজ্ঞতা আদায় করা একজন মুমিনের শ্রেষ্ঠ গুণ। অকৃতজ্ঞকে কেউ দেখতে পারে না। কৃতজ্ঞতা আদায়ে দুনিয়া ও আখিরাতে বান্দার সম্মান ও সম্পদ বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ বলেন, যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তা হলে আমি অবশ্যই তোমাদের বেশি বেশি করে দেব। [সূরা ইবরাহিম ১৪/৭]। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করতে বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা ভিক্ষুক (ক্ষুধার্তকে) কিছু না কিছু দাও, আগুনে পোড়া একটা খুর হলেও’।[নাসাঈ শরিফ] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর পূর্ণ আনুগত্যকারী উম্মত হওয়ার জন্য ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করতে হবে। কেবল নিজে খেলে চলবে না। আল্লাহর রাসূল বলেছেন, নিশ্চয়ই সে ব্যক্তি পূর্ণ মুমিন নয় যে নিজে পেট ভরে আহার করে কিন্তু তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে। [বায়হাকি] মুসলিম মানে হল আত্মসমর্পণকারী। বলেছেন, যে লোক তার কোনো ভাইয়ের অভাব পূরণের চেষ্টা করে মহান আল্লাহ তার অভাব পূরণ করবেন। [মুসলিম শরিফ] মানুষকে ভালোবেসে ইহজগৎ সুন্দর করতে পারলে পরকাল নিশ্চিত সুন্দর হবে- আল্লাহতায়ালা আমাদের তাওফিক দিন মানুষকে ভালোবাসতে।
লেখক : বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান
ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম

পাহাড় ধসে নিহত সেনা সদস্যদের মরদেহ ঢাকায়

রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে উদ্ধার কার্যক্রমের সময় নিহত চার সেনা সদস্যের মরদেহ ঢাকায় আনা হয়েছে। বুধবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে হেলিকপ্টারে করে তাদের মরদেহ ঢাকায় আনা হয়। নিহতরা হলেন- মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, ক্যাপ্টেন মো. তানভীর সালাম শান্ত, কর্পোরাল মোহাম্মদ আজিজুল হক ও সৈনিক মো. শাহিন আলম। প্রসঙ্গত, প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসের ঘটনায় মঙ্গলবার রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে উদ্ধার অভিযানে যায় সেনাবাহিনী। এসময় সড়ক থেকে ধসে পড়া মাটি সরানোর সময় পাহাড়ের মাটিচাপা পড়েন বেশ কয়েকজন সদস্য। এতে চারজন নিহত হন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন মো. আজিজুর রহমান নামে এক সেনা সদস্য। এছাড়া এ ঘটনায় ১০ সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে মঙ্গলবার হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা এনে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। টানা বর্ষণে মঙ্গলবার ভোররাত ৪টার পর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই জেলায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটিতে ১০১, চট্টগ্রামে ২৭, বান্দরবানে ৬ ও খাগড়াছড়িতে ১ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আজ কক্সবাজার ও খাগড়াছড়ি থেকে পাহাড় ধসে ও পাহাড়ি ঢলে নতুন করে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এ ঘটনায় ওই সব জেলায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

রাঙ্গামাটিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তার ঘোষণা

রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি মুহূর্তে ৫০ লাখ টাকা, ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৫০০ বান্ডিল টিন সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেতুমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে রাঙ্গামাটি আসেন। তিনি রাঙ্গামাটি সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় পাহাড়ধসে রাঙ্গামাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে জরুরি সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন। মন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। তারা বান্দরবান ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন।

নিউইয়র্কে গ্রেফতার বাংলাদেশি কূটনীতিক জামিনে মুক্ত

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গ্রেফতার বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম (৪৫) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের ‘ভারমন সি বেইন কারেকশনাল সেন্টার’ থেকে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এ তথ্য জানিয়েছেন। কনসাল জেনারেল শামীম আহসান জানান, তিনি মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২০ মিনিটে ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামকে জিম্মায় নিয়েছেন। এসময় দূতাবাসের প্রথম সচিব শামীম হোসাইন ও তৃতীয় সচিব আসিব আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত সোমবার সকালে নিউইয়র্কের কুইনস বরো থেকে কূটনীতিক শাহেদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নিউইয়র্কের কুইনসের পাশে জ্যামাইকা এলাকায় বাস করতেন। বাংলাদেশের এই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিউইয়র্কে তার বাসায় এক বাংলাদেশি গৃহকর্মীকে তিনি তিন বছরের বেশি সময় ধরে সহিংস নির্যাতন চালাচ্ছেন।
এছাড়া তিনি হুমকি দিয়ে বিনা বেতনে ওই গৃহকর্মীকে কাজ করতে বাধ্য করেছেন। কুইন্সের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি রিচার্ড ব্রাউনের দফতর থেকে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শাহেদুলের বিরুদ্ধে এক বিদেশিকে এনে তার বাসায় রেখে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মে পর্যন্ত বিনা বেতনে জোর করে কাজ করানোর ঘটনায় শ্রম পাচার ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচারক ড্যানিয়েল লুইস ৫০ হাজার ডলারের বন্ড বা ২৫ হাজার ডলার নগদে তার জামিন ঠিক করে দেন এবং তার পাসপোর্ট জব্দ করার নির্দেশ দেন। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মামলার শুনানির জন্য ২৮ জুন শাহেদুলকে আবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ভারী বর্ষণে ফের পাহাড় ধসের আশঙ্কা

চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এর ফলে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারী বর্ষণের বিশেষ সতর্ক বার্তায় বলা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আজ (বুধবার) বিকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বসের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বুধবার সকাল ৯টায় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, যা উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপর সক্রিয়, অবশিষ্টাংশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোসাগরে মাঝারী থেকে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। এর প্রভাবে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়ার এই বিশেষ বুলেটিনে আরও বলা হয়, এসময় চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে  জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়, আজ সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

পাহাড়ে মৃত্যুর ঘটনায় সংসদে শোক

চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় শোক জানিয়েছে জাতীয় সংসদ। বুধবার সকালে অধিবেশনের শুরুতে সংসদের পক্ষ থেকে শোক জানান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এসময় ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতাও কামনা করেন তিনি।
স্পিকার বলেন, তিন জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া উদ্ধারকাজের সময় নিহত হয়েছেন সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তাসহ চার সদস্য। যারা নিহত হয়েছেন তাদের সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

চার জেলায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত

প্রবল বর্ষণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসের ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল আরও বড় হচ্ছে। বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ১৩৭ জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। উদ্ধার অভিযানে থাকা সংশ্লিষ্টরা বলছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তারা জানায়, উদ্ধার অভিযান যত এগুচ্ছে নিহতদের সংখ্যাও বাড়ছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে ওই তিনটি জেলায় ১৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে খাবার ও ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করছে জেলা প্রশাসন। এদিকে পাহাড় ধসের ঘটনায় চট্টগ্রামের সঙ্গে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ সোমবার থেকে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বান্দরবান, রাঙ্গামাটি এবং চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সাগরে নিম্নচাপের কারণে গত রোববার থেকে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে টানা ভারি বর্ষণ হয়। এর ফলে মঙ্গলবার ভোর রাত ৪টার পর চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের বেশ কয়েকটি এলাকায় পাহাড় ধসে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। পাহাড় ধসে খবর পেয়ে ওইসব এলাকায় উদ্ধার অভিযানে নামে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। আজ বুধবারও উদ্ধার কাজ অব্যাহত রেখেছে ওইসব প্রতিষ্ঠান। এদিকে মঙ্গলবার রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তাসহ চারজন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন একজন। এখন পর্যন্ত পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটিতে ১০১, চট্টগ্রামে ২৭, বান্দরবানে ৬ ও খাগড়াছড়িতে ১ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

হাজীগঞ্জে মাছ ধরতে পুকুরে নেমে বৃদ্ধের মৃত্যু

হাজীগঞ্জে পুকুরে মাছ ধরতে নেমে ফজলুল হক (৭০) নামে এক বৃদ্ধ পানিতে ডুবে মারা গেছেন। সে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার মকিমাবাদের মরহুম আউয়াল মিয়ার ছেলে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় হাজীগঞ্জ বাজারস্থ রেজিস্ট্রি অফিস পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। হাজীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাবেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ফজলুল হক সকালে ওই পুকুরে গোসল করতে আসেন। এসময় মাছ দেখে তা ধরতে নেমে পানিতে ডুবে যান। পরে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় স্থানীয়রা। ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল এসে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরিবারের সদস্যরা জানায়, ফজলুল হক একজন মৃগী রোগী। এ কারণে তার মৃত্যু হতে পারে। ওসি জানান, ‘পরিবার সূত্রে মৃগী রোগ নিশ্চিত হওয়ায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

শাহজালালে ৪ কেজি সোনা জব্ধ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪ কেজি ৬৬ গ্রামের ৪০টি সোনার বার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঢাকায় অবতরণ করা আরব আমিরাতের এমিরেটস ফ্লাইট থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। বুধবার সকালে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, রাত ১২টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই হতে আগত ফ্লাইট ইকে ৫৮৪ ঢাকায় অবতরণ করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ বিমানটিতে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে বিমানের ইকোনমি ক্লাসের (সিট নং- ৩৭জে) সিট কভারের ভেতর থেকে কালো টেপ মোড়ানো ৪০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। ড. মইনুল খান বলেন, জব্দকৃত সোনার ওজন ৪ কেজি ৬৬ গ্রাম। যার বর্তমান বাজার দাম প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে এসময় কাউকে আটক করা যায়নি।

পাহাড় ধসে তিন জেলায় নিহত বেড়ে ১৩৫



কয়েকদিনের  টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ১৩৫ জন হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে সড়কের ওপর ধসে পড়া পাহাড়ের মাটি সরাতে গিয়ে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন দুই কর্মকর্তাসহ ৪ সেনা সদস্য। টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হওয়ায় সেখানে বসবাসকারীদের ওপর মাটি ধসে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিএম আবদুল কাদের বুধবার সকালে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, পাহাড় ধসের ঘটনায় ১৩৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে ১০১ জন, চট্টগ্রামে ২৭ জন, বান্দরবানে ৬  এবং খাগড়াছড়িতে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।   মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
রাঙ্গামাটি : ভারি বর্ষণে পাহাড় ধসে মাটিচাপায় রাঙ্গামাটি শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বুধবার সকাল পর্যন্ত ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ১৪ জনের মরদেহ নেয়া হয় এবং বিকালে ওই দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধসে মাটিচাপায় ২ জনের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা. সহীদ তালুকদার। এছাড়া কাপ্তাইয়ের রাইখালীর কারিগরপাড়ায় ৪ জন এবং কাউখালী উপজেলায় সর্বশেষ ২১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করে স্থানীয় সূত্র। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এদিকে মানিকছড়িতে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে পাহাড় থেকে ধসে পড়া মাটি অপসারণের সময় ৪ সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়। তারা হলেন- মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, ক্যাপ্টেন মো. তানভীর সালাম শান্ত, কর্পোরাল মোহাম্মদ আজিজুল হক ও সৈনিক মো. শাহীন আলম। এদিকে আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চারজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে জেলার মানিকছড়িতে একটি পাহাড় ধসে মাটি ও গাছ পড়ে যায়। এতে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। বেলা ১১টার দিকে ওই স্থানে পাহাড়ের একটি বড় অংশ উদ্ধারকারী দলের ওপর ধসে পড়ে। এতে উদ্ধারকর্মীরা মূল সড়ক থেকে ৩০ ফিট নিচে পড়ে যান। এ ঘটনায় নিহত ওই চারজনসহ ১০ জন সেনা সদস্য আহত হন। কাপ্তাই রাইখালীর কারিগরপাড়ায় নিহত ৪ জনের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে নাম পাওয়া যায়নি। এছাড়া সিভিল সার্জন ডা. সহীদ তালুকদার বিলাইছড়িতে ২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করলেও তাদের নাম জানাতে পারেননি। আগের দিন সোমবার রাঙ্গামাটি শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় এক শিশু এবং কাপ্তাইয়ের নতুন বাজারে এক শিশু পাহাড়ের মাটিচাপায় মারা যায়। জেলা প্রশাসন থেকে শহরসহ জেলায় মোট ৩৫ জনের নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে বলে জানান নেজারত ডেপুটি কালেক্টর তাপস দাশ।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দু’টি ইউনিয়নে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় ঘুমন্ত অবস্থায় মাটিচাপা পড়ে চার পরিবারের ২৭ জন নিহত হয়েছে। রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল হোসেন পাহাড় ধসে ২৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, ঘুমন্ত অবস্থায় সোমবার মধ্যরাতে রাজানগর ইউনিয়নের ঠাকুরঘোনা মইন্যার টেক এলাকায় পাহাড় ধসে কাঁচাঘর চাপা পড়ে মারা গেছেন নজরুল ইসলাম (৪০), তার স্ত্রী আসমা আকতার (৩৫), তাদের ছেলে ননাইয়া (১৫) ও মেয়ে সাথী আকতার (১৯)। একই ইউনিয়নের বালুখালী এলাকায় মারা গেছেন ইসমাইল (৪২), তার স্ত্রী মনিরা খাতুন (৩৭), তাদের দুই মেয়ে ইছামিন (৮) ও ইভামনি (৪)। একই উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে মাটিচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন সুজন (২৪) তার স্ত্রী মুন্নি (১৯), মুন্নির অপর তিন বোন জ্যোৎস্না (১৮), শাহনূর আকতার (১৫) ও পালু (১২)। তাদের পিতার নাম মোহাম্মদ সেলিম। চন্দনাইশ: মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ধোপাছড়ি ইউনিয়নের শামুকছড়ি ও ছনবনিয়া এলাকায় পৃথক ঘটনায় দুই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছনবনিয়া এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত একটি আদিবাসী পরিবারের কাঁচা ঘরের ওপর মাটি চাপা পড়ে। এতে   মেকো ইয়াং খেয়াং (৫০) তার মেয়ে মেমো  ইয়াং খেয়াং (১৩), কেউছা ইয়াং খেয়াং (১০) নিহত হয়। আহত হয় সানুউ ইয়াং খেয়াং ও সোউ খেয়াং। প্রায় একই সময়ে শামুকছড়ি এলাকায় মাটিচাপা পড়ে নিহত হয় আজগর আলীর মেয়ে মাহিয়া (৩)। চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান ধোপাছড়ির শামুক ছড়ি ও ছনবনিয়া এলাকায় পাহাড় ধসে দুই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন যুগান্তরকে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী মঙ্গলবার বিকালে যুগান্তরকে জানান, রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাহাড় ধসে আহতদের চিকিৎসা দিতে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
বান্দরবান: মঙ্গলবার ভোররাতে প্রবল বর্ষণে বান্দরবান  জেলা শহরের অদূরে লেমুঝিরি ও কালাঘাটা  এলাকায় পাহাড় ধসে  মা-মেয়েসহ তিন পরিবারের ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে লেমুঝিরি এলাকায় নিজের ঘরেই মাটিচাপা পড়ে মারা গেছেন  শ্রমিক নুরুল আলমের স্ত্রী কামরুন্নাহার (৪০) ও তার মেয়ে সুফিয়া বেগম (৮) । কালাঘাটা এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় মারা গেছেন রেবা ত্রিপুরা (২২) নামে একজন। একই এলাকায় আরেক পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরা হচ্ছে মিঠু বড়ুয়া (৫), বোন শুভ বড়ুয়া (৪) এবং লতা বড়ুয়া (৭)। তারা তিন ভাইবোন। পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।  ঘনটাস্থল পরিদর্শন করেন বান্দরবান  জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক। বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান,  জেলার বিভিন্ন স্থানে ৪০টি অস্থায়ী বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব এলাকায় দুর্গতদের  মাঝে শুকনা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,  বান্দরবানে পাহাড় ধসে যে তিন পরিবারের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ওই পরিবারগুলো দরিদ্র। ঘরের কর্তারা সবাই শ্রমজীবী মানুষ। জীবিকার কারণেই তারা পাহাড়ের পাদদেশে ঘর করে বসবাস করে আসছিল। সারা দেশে ভূমিহীনদের মাঝে সরকারি খাসভূমি বন্দোবস্তি দেয়া হলেও তিন পার্বত্য জেলায় স্থানীয় কঠোর আইনের কারণে ভূমি বন্দোবস্তি প্রদান  বন্ধ ২৫ বছর ধরেই। ফলে বাধ্য হয়েই জেলার বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৩০ হাজার ভূমিহীন পরিবার  মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে  বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে। এদিকে খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড় ধসে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পাহাড় ধসে নিহত ১২৪

কয়েকদিনের  টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে কমপক্ষে ১২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে সড়কের ওপর ধসে পড়া পাহাড়ের মাটি সরাতে গিয়ে মাটিচাপায় নিহত হয়েছেন দুই কর্মকর্তাসহ ৪ সেনা সদস্য। এছাড়া নিহতদের মধ্যে নারী-শিশুসহ এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্য রয়েছে। টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হওয়ায় সেখানে বসবাসকারীদের ওপর মাটি ধসে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিএম আবদুল কাদের মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টায় টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, পাহাড় ধসের ঘটনায় ১২৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে ৮৮ জন, চট্টগ্রামে ৩০ জন এবং বান্দরবানে ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।  পাহাড় ধসে মানবিক বিপর্যয়ের মতো এ ঘটনা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলা প্রশাসন পৃথকভাবে জরুরি সভা করেছে। উদ্ধার অভিযান জোরদার ও আহতদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য সিভিল সার্জন অফিসকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকা প্লাবিত হওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ থাকায় প্রশাসনের লোকজন অনেকে দুর্ঘটনাস্থলে যেতে পারছেন না। সে ক্ষেত্রে আহতদের উদ্ধার ও নিহতদের দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে শোক জানিয়েছেন। 
রাঙ্গামাটি : রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি সুশীল প্রসাদ চাকমা ও কাউখালী প্রতিনিধি মো. ওমর ফারুক জানান, ভারি বর্ষণে পাহাড় ধসে মাটিচাপায় রাঙ্গামাটি শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার বিকালে শহরের ভেদভেদী যুব উন্নয়ন অফিস এলাকা থেকে ২ জনের লাশ উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তারা হলেন মো. সোহরাব (১৩) ও রুনা (১৫)। প্রশাসন, হাসপাতাল, স্থানীয় ও উদ্ধার অভিযানের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর থেকে জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে মানবিক বিপর্যয় ঘটতে থাকে। খবর পেয়ে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় লোকজন সকাল থেকে ঘটনাস্থল গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।  দুপুর পর্যন্ত রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ১৪ জনের মরদেহ নেয়া হয় এবং বিকালে ওই দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধসে মাটিচাপায় ২ জনের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা. সহীদ তালুকদার। এছাড়া কাপ্তাইয়ের রাইখালীর কারিগরপাড়ায় ৪ জন এবং কাউখালী উপজেলায় সর্বশেষ ২১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করে স্থানীয় সূত্র। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের ভেদভেদীর যুব উন্নয়ন অফিস এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার তৎপরতা চলে। নিহতদের মধ্যে দুই কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর ৪ সদস্য রয়েছেন। হাসপাতাল ও স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, প্রবল বর্ষণে বাড়িঘরে পাহাড়ের মাটিচাপায় শহরসহ রাঙ্গামাটির প্রায় জায়গা ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পাহাড় ধসের দুর্যোগে রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভবাজার, ভেদভেদী, শিমুলতলী, মোনঘর, রাঙ্গামাটি ও মানিকছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে ২২ জন, কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়ায়, ঘাগড়া, ঘিলাছড়ি, কাশখালীসহ বিভিন্ন স্থানে ২১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন স্থানীয়রা। এছাড়া অনেককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালসহ চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে মানিকছড়িতে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে পাহাড় থেকে ধসে পড়া মাটি অপসারণের সময় ৪ সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়। তারা হলেন- মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, ক্যাপ্টেন মো. তানভীর সালাম শান্ত, কর্পোরাল মোহাম্মদ আজিজুল হক ও সৈনিক মো. শাহীন আলম। এদিকে আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চারজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে জেলার মানিকছড়িতে একটি পাহাড় ধসে মাটি ও গাছ পড়ে যায়। এতে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। বেলা ১১টার দিকে ওই স্থানে পাহাড়ের একটি বড় অংশ উদ্ধারকারী দলের ওপর ধসে পড়ে। এতে উদ্ধারকর্মীরা মূল সড়ক থেকে ৩০ ফিট নিচে পড়ে যান। এ ঘটনায় নিহত ওই চারজনসহ ১০ জন সেনা সদস্য আহত হন। পরে আরও একটি উদ্ধারকারী দল তাদের উদ্ধার করে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাঁচজনকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক। তিনি বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুপুরে যাদের মরদেহ রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তারা হলেন রুমা আক্তার (২৫), নুর আক্তার (৩), হাজেরা (৪০), সোনালি চাকমা (৩০), এক বছর বয়সী শিশু অমিয় কান্তি চাকমা, আইয়ুশ মল্লিক (২), চুমকি মল্লিক (২), লিটন মল্লিক (২৮), অজ্ঞাত (২২), মিন্টু ত্রিপুরা (৪৫), আবদুল আজিজ (৫৫), অজ্ঞাত (৩২), মিলি চাকমা (৫৫), ফেন্সি চাকমা (৪) এবং কাউখালীর যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- ফাতেমা বেগম (৬০), মনির হোসেন (২৫), মো. ইসহাক (৩০), দবির হোসেন (৮৪), খোদেজা বেগম (৬৫), অজিদা খাতুন (৬৫), মংকাচিং মারমা (৫২), আশেমা মারমা (৩৭), শ্যামা মারমা (১২), ক্যাচাচিং মারমা (৭), কুলসুমা বেগম (৬০), বৈশাখী চাকমা (১০), লায়লা বেগম (২৮)। বিকালে উপজেলার কয়েক জায়গা থেকে আরও ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে নাইপুর মারমা (৪০), সুবাস চাকমা (৪০), নাছিমা বেগমের (৬০) নাম পাওয়া গেছে। ৫ জনের নাম পাওয়া যায়নি। কাপ্তাই রাইখালীর কারিগরপাড়ায় নিহত ৪ জনের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে নাম পাওয়া যায়নি। এছাড়া সিভিল সার্জন ডা. সহীদ তালুকদার বিলাইছড়িতে ২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করলেও তাদের নাম জানাতে পারেননি। আগের দিন সোমবার রাঙ্গামাটি শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় এক শিশু এবং কাপ্তাইয়ের নতুন বাজারে এক শিশু পাহাড়ের মাটিচাপায় মারা যায়। জেলা প্রশাসন থেকে শহরসহ জেলায় মোট ৩৫ জনের নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে বলে জানান নেজারত ডেপুটি কালেক্টর তাপস দাশ। বিশেষজ্ঞরা জানান, পাহাড়ে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করায় পাহাড় ধসে এ ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। রাঙ্গামাটি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বলেন, শহরসহ রাঙ্গামাটির আশপাশে বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে লোকজন। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে বসবাস করায় পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
প্রতিরোধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে জেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। এ জন্য শহরসহ বিভিন্ন স্থানে ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। হতাহতদের দেখতে হাসপাতালে যান রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নানসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা। দুর্যোগ মোকাবেলায় মঙ্গলবার বিকালে জরুরি সভা করেছে জেলা প্রশাসন। এদিকে সড়কের ওপর পাহাড় ধসে মাটি পড়ায় রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে রাঙ্গামাটির ওইসব রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া তার ছিঁড়ে ও খাম্বা উপড়ে পড়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে অন্ধকারে ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে গোটা রাঙ্গামাটি শহর ও আশপাশের এলাকা। এদিকে রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি আব্বাস হোসাইন আফতাব জানান, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দু’টি ইউনিয়নে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় ঘুমন্ত অবস্থায় মাটিচাপা পড়ে চার পরিবারের ২১ জন নিহত হয়েছে। রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল হোসেন পাহাড় ধসে ২১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া এ উপজেলায় আরও দুই মহিলা নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, ঘুমন্ত অবস্থায় সোমবার মধ্যরাতে রাজানগর ইউনিয়নের ঠাকুরঘোনা মইন্যার টেক এলাকায় পাহাড় ধসে কাঁচাঘর চাপা পড়ে মারা গেছেন নজরুল ইসলাম (৪০), তার স্ত্রী আসমা আকতার (৩৫), তাদের ছেলে ননাইয়া (১৫) ও মেয়ে সাথী আকতার (১৯)। একই ইউনিয়নের বালুখালী এলাকায় মারা গেছেন ইসমাইল (৪২), তার স্ত্রী মনিরা খাতুন (৩৭), তাদের দুই মেয়ে ইছামিন (৮) ও ইভামনি (৪)। একই উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে মাটিচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন সুজন (২৪) তার স্ত্রী মুন্নি (১৯), মুন্নির অপর তিন বোন জ্যোৎস্না (১৮), শাহনূর আকতার (১৫) ও পালু (১২)। তাদের পিতার নাম মোহাম্মদ সেলিম। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাহাড়তলী ঘোনা এলাকায় আরও পাঁচজন মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্র বলেছে, বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দি হয়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা স্থলে যাওয়া যাচ্ছে না। তবে হতাহতদের উদ্ধার ও তাদের দাফন-কাফন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।   চন্দনাইশ প্রতিনিধি আবিদুর রহমান বাবুল জানান, মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ধোপাছড়ি ইউনিয়নের শামুকছড়ি ও ছনবনিয়া এলাকায় পৃথক ঘটনায় দুই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছনবনিয়া এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত একটি আদিবাসী পরিবারের কাঁচা ঘরের ওপর মাটি চাপা পড়ে।
এতে মেকো ইয়াং খেয়াং (৫০) তার মেয়ে মেমো  ইয়াং খেয়াং (১৩), কেউছা ইয়াং খেয়াং (১০) নিহত হয়। আহত হয় সানুউ ইয়াং খেয়াং ও সোউ খেয়াং। প্রায় একই সময়ে শামুকছড়ি এলাকায় মাটিচাপা পড়ে নিহত হয় আজগর আলীর মেয়ে মাহিয়া (৩)। ঘটনার পর দুই ঘণ্টা মাটিচাপা পড়ে থাকে তাদের লাশ। দুর্গম ওই এলাকায় কোনো উদ্ধারকারী দল যেতে পারেনি।  স্থানীয়রা দুই ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে মাটি চাপা পড়া লাশ এবং আহতদের উদ্ধার করে। এর মধ্যে আহতদের বান্দরবান হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য  পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, শামুকছড়ি ও ছনবনিয়া এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে  ঝুঁকিপূর্ণভাবে ৩০ পরিবারের অন্তত ২০০ লোক বসবাস করছে। চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান ধোপাছড়ির শামুক ছড়ি ও ছনবনিয়া এলাকায় পাহাড় ধসে দুই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন যুগান্তরকে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী মঙ্গলবার বিকালে যুগান্তরকে জানান, রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাহাড় ধসে আহতদের চিকিৎসা দিতে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। বান্দরবান প্রতিনিধি এনামুল হক কাশেমী জানান, মঙ্গলবার ভোররাতে প্রবল বর্ষণে বান্দরবান  জেলা শহরের অদূরে লেমুঝিরি ও কালাঘাটা  এলাকায় পাহাড় ধসে  মা-মেয়েসহ তিন পরিবারের ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে লেমুঝিরি এলাকায় নিজের ঘরেই মাটিচাপা পড়ে মারা গেছেন  শ্রমিক নুরুল আলমের স্ত্রী কামরুন্নাহার (৪০) ও তার মেয়ে সুফিয়া বেগম (৮) । কালাঘাটা এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় মারা গেছেন রেবা ত্রিপুরা (২২) নামে একজন। একই এলাকায় আরেক পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরা হচ্ছে মিঠু বড়–য়া (৫), বোন শুভ বড়–য়া (৪) এবং লতা বড়–য়া (৭)। তারা তিন ভাইবোন। পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।  ঘনটাস্থল পরিদর্শন করেন বান্দরবান  জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক। জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রধান সড়ক ও কয়েকটি সেতু বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সোমবার রাত থেকে বান্দরবান জেলা সদরের সঙ্গে  চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটিসহ সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ ছাড়া বান্দরবান  জেলার অপর ছয়টি উপজেলা সদর ও জেলা সদরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই। জেলা শহরসহ সাতটি উপজেলায় দু’দিন ধরে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ। বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান,  জেলার বিভিন্ন স্থানে ৪০টি অস্থায়ী বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব এলাকায় দুর্গতদের  মাঝে শুকনা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,  বান্দরবানে পাহাড় ধসে যে তিন পরিবারের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ওই পরিবারগুলো দরিদ্র। ঘরের কর্তারা সবাই শ্রমজীবী মানুষ। জীবিকার কারণেই তারা পাহাড়ের পাদদেশে ঘর করে বসবাস করে আসছিল। সারা দেশে ভূমিহীনদের মাঝে সরকারি খাসভূমি বন্দোবস্তি দেয়া হলেও তিন পার্বত্য জেলায় স্থানীয় কঠোর আইনের কারণে ভূমি বন্দোবস্তি প্রদান  বন্ধ ২৫ বছর ধরেই। ফলে বাধ্য হয়েই জেলার বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৩০ হাজার ভূমিহীন পরিবার  মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে  বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশ  : এদিকে চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলার সব হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের ভূমিধসে আহতদের দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালকসহ সিভিল সার্জনদেরও সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পাহাড় ধসে সেনা সদস্যসহ সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে স্বজনদের প্রতি আন্তরিক সহানুভূতি জানান তিনি। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। বিবৃতিতে তিনি জানান, আহতদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের জন্য ইতোমধ্যে চিকিৎসক ও নার্সদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেবা প্রদানে নিরলস কাজ করে চলেছে। বাউফল ও সিংগাইরে সেনা সদস্যদের বাড়িতে শোকের মাতম
বাউফল : নিহত হন সেনা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর ওরফে শান্তর বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরি ইউপির সিংহেরকাঠি গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আবদুস সালাম মোল্লা। পিতা সালাম মোল্লার চাকরির সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার টঙ্গী এলাকায় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে থাকতেন তানভীর। তানভীরের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে তানভীরের পুরো পরিবার। তানভীরের চাচা মোজাম্মেল মোল্লা বলেন, পরিবারের একমাত্র গর্বের ধন তানভীরকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছে সবাই।
মানিকগঞ্জ :  সেনাবাহিনীর মেজর মাহফুজের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইরে। তিনি উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের ইরতা গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে।  তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তার মায়ের নাম বেনি বেগম। মাহফুজের মামাতো ভাই তালেবপুর ইউপি সদস্য হুমায়ুন জানান, মাহফুজ ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় বড় হয়েছেন। পড়াশোনাও করেছেন ঢাকাতেই। তবে বছরে দু-একবার  গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসতেন। ওই সেনা সদস্যের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম চলছে।

বাস-ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের জন্য হাহাকার

ঈদ সামনে রেখে বাস ও ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের হাহাকার চলছে। ২২, ২৩ ও ২৪ জুনের বাসের টিকিট পাচ্ছেন না সাধারণ যাত্রীরা। কাউন্টারগুলো থেকে সাফ জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, ওই সব দিনের টিকিট নেই। অপরদিকে ট্রেনের ২২ জুনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয় মঙ্গলবার। এদিন টিকিট সংগ্রহের জন্য কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল। আগের রাত থেকে অপেক্ষা করেও অনেকেই কাক্সিক্ষত টিকিট পাননি। কেউ কেউ এসি টিকিট চেয়ে না পেয়ে সাধারণ টিকিট কেটে ফিরে গেছেন। তবে টিকিট কাটতে আসা যাত্রীদের দুর্ভোগ কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট না পাওয়াকে স্বাভাবিক ঘটনা বলে অভিহিত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এদিকে লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রি আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। তবে ঘোষণা ছাড়াই লঞ্চের প্রথম শ্রেণীর (কেবিন) টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়ে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি কার্যক্রম দেখতে মঙ্গলবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন। এ সময় লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। স্টেশন পরির্দশন শেষে দুপুরে রেলপথমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, এবার টিকিট কালোবাজারে নেই। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। টিকিটপ্রত্যাশী কেউ তার কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। সরেজমিন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেখা গেছে, ট্রেনের ২২ জুনের আগাম টিকিট সংগ্রহের জন্য সোমবার রাত থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়েছেন। টিকিটপ্রত্যাশীদের অনেকেই স্টেশনেই সেহরি করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা শেষ হয়ে যায়। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার পর বিক্রেতারা জানিয়ে দেন, পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী সুবর্ণ, সোনার বাংলা, তূর্ণানিশীথা এক্সপ্রেসসহ পশ্চিমাঞ্চলের সিল্কসিটি, পদ্মা, অগ্নিবীণাসহ বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট নেই। ওই সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত টিকিটপ্রত্যাশী সুর-চিৎকার শুরু করে। টিকিটের জন্য ১৭-১৮ ঘণ্টা লাইনে যারা দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাদের অনেককেই টিকিট ছাড়াই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। তবে এত কষ্টের পর যারা টিকিট কাটতে পেরেছেন, তাদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের ঈদ-বার্তা। রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে আসা আরিফুল ইলাম ও সুমন খান জানান, তিনি সোমবার রাতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ৫ নম্বর কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়ান। ওই সময় তারা লাইনের প্রায় ১৫০ জনের পেছনে ছিলেন। আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি কেয়ারটেকারের কাজ করেন। বাড়ির মালিকের পরিবারের জন্য ৮টি টিকিট কাটার জন্য স্টেশনে এসেছেন। সকাল ১০টার সময় কাউন্টার থেকে বলা হয়, চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট নেই। ওই সময় তিনি ৩০-৩৫ জনের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। টিকিট না পেয়ে তিনি লাইন থেকে সরে পড়েন। বললেন, তার মালিক বলেছেন পরের দিনের জন্য আবারও লাইনে দাঁড়াতে। রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের ৪টি এসি চেয়ারের জন্য সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি সোমবার ইফতারি শেষে লাইনে দাঁড়ান। তিনি জানান, শুরুতে ৮০-৮৫ জনের পেছনে দাঁড়ালেও ভোররাতের দিকে কিছু লোক জোর করে লাইনের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। ফলে সেই লাইনে তার স্থান হয় ২০০ জনের পেছনে। তিনি জনান, একশ্রেণীর লোক জোর করে লাইনের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ১০টার সময় মাইকে ঘোষণা হয়, সিল্কসিটি ট্রেনের টিকিট বিক্রি শেষ। এরপর আর তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। কিছুটা নিশ্চুপ থেকে ক্ষোভ উগরে বলেন, ‘সারা রাত কষ্ট করে টিকিট না পাওয়া যে কত কষ্টের, তা বোঝানো সম্ভব নয়।’ অনেক যাত্রী আবার টিকিট কাটতে পেরে মিডিয়াকর্মীদের কাছে খুশির কথাও জানিয়েছেন। জিল্লুর রহমান নামে এক যাত্রী জানান, তিনি লাইনের ৩৭ জনের পেছনে ছিলেন। সুবর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ৪টি এসি টিকিট কাটতে পেরেছেন। কেউ কেউ আবার অভিযোগ করেছেন, এসি টিকিট দেয়া হচ্ছে না। কেবিনের টিকিট তো একেবারেই দেয়া হচ্ছে না। কেউ কেউ জানান, লাইনের অগ্রভাগে যারা দাঁড়াতে পারছেন, তারাই কেবল টিকিট কাটতে পেরেছেন। এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী যুগান্তরকে বলেন, ‘কাউন্টার থেকে টিকিট দেয়া হচ্ছে না, কিংবা যাত্রীরা টিকিট কাটতে পারছে না- এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট।’ তিনি বলেন, ‘৬৫ শতাংশ টিকিট কাউন্টার থেকে দেয়া হচ্ছে।
একটি টিকিটও ধরে রাখার কোনো পদ্ধতি নেই। সীমিত টিকিট থাকায় অতিরিক্ত যাত্রীরা টিকিট পাচ্ছেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘একেকটি আন্তঃনগর ট্রেনে ৭৫০ থেকে ৯০০টি টিকিট থাকে। লাইনে দাঁড়ানো ১৫০ থেকে ২০০ জনের মধ্যেই ৬৫ শতাংশ টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছে। কারণ সামনে দাঁড়ানো প্রায় সবাই ৪টি করে টিকিট কাটছে।’ তিনি বলেন, ‘সীমিত টিকিটের বাইরে কাউকে টিকিট দেয়া সম্ভব নয়। ফলে লাইনে দাঁড়ানো অতিরিক্ত যাত্রীরা যখন টিকিট কাটতে পারছেন না, তখন তাদের কিছুই করার থাকে না।’ এদিকে বাসের আগাম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার কাউন্টারের সামনে তেমন ভিড় দেখা যায়নি। সকাল থেকে গাবতলী, কল্যাণপুর ও আশপাশ এলাকার কাউন্টারগুলো ছিল ফাঁকা। সোমবার আগাম টিকিট বিক্রির প্রথম দিনেই বেশিরভাগ টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার চাপ কম ছিল বলে জানিয়েছেন হানিফ পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার মো. মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম দিনই সব বিক্রি শেষ। ২১, ২২ ও ২৩ জুনের টিকিট সোমবারই বিক্রি হয়ে গেছে।’ তিনি জানান, সড়কে যানজট থাকায় গাড়ি ঠিকমতো ঢাকায় ঢুকতে পারছে না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নাকাল অবস্থায় পড়তে হতে পারে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কল্যাণপুরে হানিফ বাস কাউন্টারে টিকিট নিতে আসেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আবদুল মতিন। তিনি বলেন, ২২ জুনের যশোরের টিকিট পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে ২১ জুনের টিকিট নিয়েছি।

বিএনপি মহাসচিবের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে যে ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে, সেটি ভুয়া- এটি অবিলম্বে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দলটির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএনপি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, কোনো ব্যক্তি বা মহল বিএনপি মহাসচিবের নাম, ছবি ও মোবাইল নম্বর ব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলেছে। সেখান থেকে নিয়মিত বিভিন্ন বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লেখা বা ছবি পোস্ট করা হচ্ছে। এর সঙ্গে বিএনপি মহাসচিবের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এটি করা হচ্ছে শুধু তাকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুর রোজা

শিশুরা বড়দের দেখাদেখি শখ করে রোজা রাখার চেষ্টা করে। তাছাড়া মুসলমান শিশুদের ১২ বছর বয়স থেকে রোজা রাখা ফরজ। তাই বাবা-মাও শিশুর রোজা রাখার ব্যাপারে অমত করেন না। কিন্তু শিশু ও কিশোররা যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয় তাহলে বাবা-মা এ বিষয়ে একটু চিন্তাই করেন বটে। শিশু ও কিশোররা সাধারণত টাইপ ১ অথবা ইনসুলিন নির্ভরশীল ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। শিশু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিন এবং নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা অপরিহার্য। এ কারণেই টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুদের রোজা রাখাটা একটু ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। শিশুর রোজা রাখার আগে সতর্কতা 
* শিশুর রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা দেখতে হবে। এছাড়া শারীরিকভাবে রোজা রাখার সক্ষমতা আছে কিনা সেটা দেখা দরকার।
*ইনসুলিনের ডোজ নিয়মানুযায়ী পরিবর্তন করা।
*রোজায় রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষার করা জরুরি।
*সতর্কীকরণ সমস্যা যেমন- হাইপো, পানিশূন্যতা অথবা গ্লুকোজ অতিরিক্ত বেড়ে যেতে পারে তাই রোজায় খাবারের নিয়মাবলী জানতে হবে।
*যদি রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ (<৪ মি.মোল/লি) অথবা হাইপোর লক্ষণ দেখা দেয়। তাহলে স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে রোজা ভেঙ্গে ফেলাই ভালো। এছাড়া শিশুদের রোজায় ডায়াবেটিস ঝুঁকিপূর্ণ কেন তা নিম্নে আলোচনা করা হলো;
*বারবার হাইপো হওয়ার আশংকা। তীব্র মাত্রার হাইপো অথবা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ (<৪ মি.মোল/লি) কমে যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে হাইপো উপলব্ধি না করতে পারলে কিন্তু বিপদ।
*অনিয়ন্ত্রিত টাইপ ১ ডায়াবেটিস।
*ডায়াবেটিস কিটোএসিডসিস হওয়ার ইতিহাস থাকলে। এছাড়া অন্য কোনো অসুস্থতা থাকলে। তবে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকলে টাইপ ১ ডায়াবেটিস শিশুদের পক্ষে রোজা রাখা সম্ভব। তবে এর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াটা জরুরি।
ডা. ফাহিম আহমেদ রুপম
মেডিসিন অ্যান্ড ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
ইমপালস হাসপাতাল, তেঁজগাও, ঢাকা