Monday, October 14, 2013

সময়চিত্র- জরিপ এবং আগামী নির্বাচন by আসিফ নজরুল

ক্ষমতাসীন দল শেষ বছরগুলোতে এসে জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে। উন্নয়নশীল বহু দেশের মতো বাংলাদেশেরও এটি চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। এবার আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও তা স্বাভাবিক ছিল।

বিশেষ সাক্ষাৎকার: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর- না, আমরা নির্বাচনে যাব না by মিজানুর রহমান খান

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ে। ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) সভাপতি ছিলেন।

নির্বাচন- ‘উন্নয়নে’ ভোট মেলে না by এ কে এম জাকারিয়া

মেয়াদের শেষ বছরে এসে আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতাসীন মহাজোট যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে, তখন তাদের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার বিষয়টি নানাভাবেই পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

ভেজালের জালে বন্দি জীবন by মোঃ মাহমুদুর রহমান

জীবন বাঁচানোর জন্য অনেক চাহিদা পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে কিছু চাহিদাকে মৌলিক আর অন্যান্য চাহিদাকে জীবনযাত্রার মান নির্ধারক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মধ্যে যে কোনোভাবে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য ও চিকিৎসার বিকল্প নেই। প্রাচীন গুহা বা বনে-জঙ্গলে চড়ে বেড়ানো মানুষ, যাদের কোনো নির্দিষ্ট বাসস্থান ছিল না, উলঙ্গ থাকত, শিক্ষার প্রশ্নই আসে না, তারাও নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ ও প্রয়োজনে চিকিৎসা নিত। চিকিৎসা ব্যবস্থা আজকের মতো আধুনিক ছিল না, গাছপালাকে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করত। বর্তমান সভ্য সময়ের মতো ওই ওষুধে ভেজাল ছিল না। এখন আমরা প্রতিদিনই বিষ খেয়ে বিষ হজম করছি। খাদ্যে ফরমালিনসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে থাকে, যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো উপায় দেখছে না দেশের মানুষ। গাড়ি ও কলকারখানার কালো ধোঁয়ার কারণে বাতাসও আজ বিশুদ্ধ নয়। সত্যিকার অর্থেই আমরা আজ ভেজালের জালে বন্দি হয়ে পড়ছি।
এসব ভেজালের প্রতিক্রিয়ায় মানব শরীর যখন আক্রান্ত হয় তখন চিকিৎসার প্রয়োজনে মানুষ আশ্রয় নেয় ডাক্তারের। আর তখনই বেশির ভাগ রোগী নিজেদের আবিষ্কার করেন আরও শক্ত ভেজালের জালে বন্দি হিসেবে। শুধু ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা হয় না। সঙ্গে নার্স, হাসপাতাল বা ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধের প্রয়োজন হয়। নির্ভেজাল ডাক্তার, নার্স, হাসপাতাল ও ওষুধের কথা চিন্তা করাও কঠিন। ভুয়া ডাক্তার ও নার্স, ভেজাল ওষুধ এবং ব্যবসায়িক ধান্ধায় নিয়োজিত হাসপাতালের কথা যেভাবে প্রচারিত হচ্ছে তা রীতিমতো আতংকের বিষয়। সাধারণ রোগীরা বলেন, ডাক্তার ভুয়া কি-না তা বোঝার উপায় নেই। এমবিবিএসের পাশে বড় বড় অক্ষরে আরও অনেক ডিগ্রির কথা লেখা থাকে। ঢাকায় এরকম ডিগ্রির বর্ণনাসহ সাইনবোর্ড টানিয়ে দীর্ঘদিন থেকে রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত অনেক ভুয়া ডাক্তার ধরা পড়েছে মিডিয়ার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। শুধু ঢাকা নয়, একেবারে মফস্বলেও এরকম অনেক ডাক্তার রয়েছে, যাদের সাধারণ রোগীর পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন। কোনো আসল ডাক্তার যখন ভুয়া ডাক্তারের সঙ্গে ব্যবসার পেছনে পড়ে যান, তখনই কেবল তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা মিডিয়াকে অবহিত করেন। এছাড়া কেউ এগুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে না। রোগীর পক্ষে ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার আগে সার্টিফিকেট দেখার সুযোগ থাকে না।
চাহিদার তুলনায় নার্সিং কোর্স পাস করা নার্স অনেক কম। এ সুযোগে সারা দেশের ক্লিনিকগুলোতে ভুয়া নার্সের রমরমা চাকরির বাজার। অনেক ক্ষেত্রে ক্লিনিকের আয়া-মাসিরা এপ্রোন পরে নার্সের কাজ করে। কে দেখবে এ অনিয়মগুলো? এর ফলে সারা দেশে ভুল চিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্ত রোগীর সংখ্যা সীমাহীন। সব ঘটনা খবরে আসে না। দেশের নামকরা হাসপাতালেও ভুল চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে দেদারসে। মাঝে মাঝে এগুলো আমাদের জানার সুযোগ হয়। এ মুহূর্তে ঢাকার একটি নামকরা হাসপাতালের বিরুদ্ধে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ভুল চিকিৎসার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন। অন্য আরেকটি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুপথযাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে তার সহপাঠী ও অন্য ছাত্রছাত্রীরা হাসপাতাল অবরোধ করে রাখে। অন্যদের খবর আসে না, কারণ সবাই মেয়র কিংবা ঢাবির ছাত্রের মতো ক্ষতিপূরণ চাওয়ার ক্ষমতা রাখেন না।
ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক কৌতূহল রয়েছে। দেখা যায়, দুটি ভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই ব্যক্তির একই পরীক্ষা করালে বেশির ভাগ সময় ভিন্ন রিপোর্ট আসে। অন্যদিকে দেশের ওষুধের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যদিও আমাদের ওষুধ শিল্প দ্রুততার সঙ্গে সম্প্রসারিত হচ্ছে। দেশের অনেক ভালো ব্র্যান্ডের ওষুধ বিদেশে রফতানি হচ্ছে। কিন্তু ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ওষুধ কোম্পানিগুলোকে সঠিকভাবে তদারকির অভাবে অনেক নিুমানের ওষুধও বাজারজাত হচ্ছে। অবশেষে ওষুধ প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভেজাল ও অনুমতিবিহীন ওষুধ বিক্রির জন্য কিছু ফার্মেসি সিলগালা করতে বাধ্য হয়েছে। ওষুধ বিক্রেতারা সংঘবদ্ধ। তারা ফরমালিনযুক্ত মাছ, সবজি বিক্রেতার মতো অভিযানে আত্মসমর্পণ করেনি। উল্টো সবাইকে জিম্মি করে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। একদিন দেশের সব ওষুধের দোকান বন্ধ ছিল। অবস্থা এমন- এখন আর কেউ ভেজালকে ভেজাল বলতে পারবে না, যদি ভেজাল পণ্য বিক্রেতারা সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী হয়। তবে সরকারের উচিত একই সঙ্গে নিুমানের ওষুধ তৈরির কারখানা বন্ধ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। কিন্তু তা হবে না। কারণ যাদের ওপর তদারকির দায়িত্ব, তারা নিজেরাই ভেজাল (ঘুষ) গ্রহণে অভ্যস্ত।
নির্ভেজাল ডাক্তার যারা সত্যিকারভাবে মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করে দেশী-বিদেশী উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে দেশে চিকিৎসা সেবার সঙ্গে জড়িত, তাদের দিকে তাকালে মন আরও খারাপ হয়ে যায়। মেধাবী ছাত্ররাই মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেন। অনেক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে একজন ছাত্র এমবিবিএস পাস করেন। এর পর রইল উচ্চতর ডিগ্রি। স্বাভাবিকভাবেই তারা সাধারণ মেধার অন্যান্য পেশার যে কোনো ব্যক্তির চেয়ে বেশি রোজগারের প্রত্যাশা করতেই পারেন এবং বেশিরভাগ ডাক্তার তা করে থাকেন। তবে একটা প্রশ্ন থেকে যায়, এ রোজগার কতগুণ বেশি হওয়া উচিত? এর কি কোনো সীমা-পরিসীমা আছে? নীতি-নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়েও কি অধিক রোজগার করতে হবে? বাস্তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, বেশিরভাগ ডাক্তারের অর্থের ক্ষুধার কোনো শেষ নেই। পেশাগত নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে, সব নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে টাকা রোজগারের এক লাগামহীন প্রতিযোগিতায় সবাই ব্যস্ত। এ ব্যস্ততায় তাদের আসল কাজ রোগীর চিকিৎসাই পেছনে পড়ে যাচ্ছে। রোগীর রোগের বর্ণনা শোনার সময় নেই। ডাক্তাররা কিছুটা শুনে এমনভাবে প্রেসক্রিপশন লেখা শুরু করেন যেন মনে হয় এখনই এখান থেকে বের না হলে বিল্ডিংয়ের ছাদ মাথার ওপর ভেঙে পড়বে। কারণ লাইনে অনেক রোগী অথবা ক্লিনিকে অপারেশন আছে। ডাক্তারের এ ব্যস্ততার মধ্যে রোগী তার সমস্যা জানার সুযোগই পান না, ডাক্তারও তা জানানোর প্রয়োজন বোধ করেন না। তাই ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হয়ে রোগ সম্পর্কে চিকিৎসক কী বলেছেন জানতে চাইলে রোগী প্রেসক্রিপশন ছাড়া অন্য কিছু দেখাতে বা বলতে পারেন না। তবে রোগীদের ভাগ্য ভালো কোনো ডাক্তারই প্রেসক্রিপশন ছাড়া রোগীকে ছাড়েন না। কারণ প্রেসক্রিপশন না লিখলে ফি নেবেন কিসের ওপর। এছাড়া প্রেসক্রিপশনে কিছু পরীক্ষার কথা লেখা থাকবে যেখান থেকে কমিশন আকারে বাড়তি কিছু টাকা আসবে। আর ওই ওষুধগুলোর নাম লেখা থাকবে যেসব কোম্পানির কাছ থেকে নগদ অর্থ, ওষুধের স্যাম্পল ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী অনেক আগেই গ্রহণ করা হয়েছে। কোম্পানির এ ঋণ পরিশোধের জন্য অথবা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের চাকরি বাঁচানোর জন্য অপ্রয়োজনীয় ও নিুমানের ওষুধও লেখা হয়। এভাবে ডাক্তাররা টাকার পাহাড় গড়তে সমর্থ হন, ওষুধ কোম্পানি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসা রমরমা হয়, শুধু বিপদগ্রস্ত থাকে রোগীর জীবন। তাই ডাক্তার সাহেবরা তাদের ডাক্তারি পেশার আয় যথেষ্ট মনে না হওয়ায় অতিরিক্ত পেশা হিসেবে ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধ কোম্পানির দালালির পেশাটাও গ্রহণ করে থাকেন। নচিকেতার ‘ও ডাক্তার’ শিরোনামের বিখ্যাত গানটিতে নীতিহীন ডাক্তারদের লোভের দুর্ভেদ্য জালে কীভাবে অসহায় রোগীরা আটকা পড়েন তার করুণ বর্ণনা রয়েছে।
এই হচ্ছে জীবন বাঁচানোর জন্য গৃহীত খাদ্য ও চিকিৎসার সাধারণ চিত্র। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। মাঝে মাঝে যেমন ফরমালিনমুক্ত খাবার পাওয়া যায়, তেমনি কিছু ভালো ডাক্তারও পাওয়া যায়। তবে ভালো ডাক্তারের সংখ্যাটা অতি নগণ্য। বর্তমানে দেশের বেশিরভাগ পেশাজীবীর অবস্থাও প্রায় একই রকম। কিন্তু মানুষ চিকিৎসকদের কাছ থেকে আরও উন্নত ও মানবিক ব্যবহার আশা করে। কারণ রোগ-ব্যাধিতে বিধ্বস্ত হয়ে মানুষ বড় অসহায় অবস্থায় চিকিৎসকদের কাছে আসে। সামান্য সময় দিয়ে রোগীর সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগী অর্ধেক ভালো হয়ে যান। এজন্য শুধু অর্থ নয়, সেবার মানসিকতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে। তখন হয়তো ভেজালের জাল ছিন্ন করে মানুষ সঠিক সেবা পাবে। আমরাও দেশের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে গর্ববোধ করতে পারব।
মোঃ মাহমুদুর রহমান : ব্যাংকার ও কলামিস্ট

গল্প- তিতলি আর একা নয় by আখতার হুসেন

কী যেন মেয়েটার নাম! তিতলি না ফিতলি, চিতলি না চৈতালি! মনে করা যাক তিতলিই। পড়ে ক্লাস থ্রিতে। তার কোনো বন্ধু নেই। বড্ড একা সে। যেমন স্কুলে, তেমনি বাড়িতেও।

ফয়সালা একটা হবেই by বদিউর রহমান

সব কিছুর নাকি একটা মৌসুম থাকে। মৌসুমে রমরমা ব্যাপার ঘটে। আমের মৌসুমে আম, ইলিশের মৌসুমে ইলিশ, ভোটের মৌসুমে ভোট ইত্যাদির নাকি ভালো কদর হয়, কমবেশি সবাই অল্পস্বল্প হলেও ভাগ পায়, আবার সুযোগ বুঝে কেউ কেউ দা-ও মারতে পারে। মনে পড়ে, আমাদের এলাকায় ছোট্টকালে গাঙ-ভাঙানোর মৌসুমে আমরা ছোটরাও দু’চারটা মাছ পেয়ে যেতাম। গ্রামীণ জনপদে গাঙের অর্থাৎ নদীর পানি কমে গেলে চৈত্র-বৈশাখের দিকে আশপাশের কয়েক গ্রামের শত শত লোক মাছ ধরার হরেক রকম হাতিয়ার নিয়ে একসঙ্গে পুরো নদীর বিভিন্ন অংশে একজোটে মাছ ধরায় লেগে যেত এবং এ মহাযজ্ঞকেই গ্রামে গাঙ-ভাঙানো বলা হতো। শত শত, কখনও কখনও হাজার হাজার লোকের একসঙ্গে বিভিন্নভাবে মাছ ধরায় লেগে যাওয়ায় বেচারা মাছরা লুকানোর জায়গা পেত না। জালে আটকা পড়ল না তো পোলোতে পড়ে গেল, কেউবা হাতে ধরা পড়ল, কোনোটি বা পায়ের তলায়ও। আমরা ছোটরাও তখন মেনি, বাইলা অন্তত হাতেই ধরতে পারতাম। সেই গাঙ-ভাঙানোর মৌসুম এখন আর চোখে পড়ে না। তবে দেশে এখন রাজনীতির একটা ভরা-মৌসুম যেন চোখের সামনে। ভোট এলো-এলো অবস্থায়। অথচ শংকাও নাকি কম নয়। একজনের একচুলও না নড়া আর আরেকজনের নির্দলীয় সরকার ছাড়া ভোটে না-যাওয়ার বা ভোট হতে না দেয়ার আপসহীন সংকল্পের মাঝে সে কী এক রমরমা রাজনীতির মৌসুম এখন! এ সুযোগে অনেকেই রাজনীতির বোদ্ধা হয়ে উঠছেন, কেউ সভা-সেমিনারে, কেউবা আবার টকশোতে, কিংবা কেউ কেউ নিদেনপক্ষে পত্রিকার কলামে। এ ভরা মৌসুমে একটু-আধটু রাজনীতিবিদ হওয়া যেমন সহজ, তেমনি কেউ কেউ লেখক হওয়াও সহজ মনে করছেন। কতজনের কত বুদ্ধি, কত যুক্তি, কত ফর্মুলা, কত কত আঁতলামি! দেশ নিয়ে একেকজনের কত যে চিন্তা, কত যে আশংকা! এদের সবার ধারণা যেন হাসিনা আর খালেদাই কেবল বেয়াকুব, এ দুজনের যেন কোনো মাথাব্যথা নেই, কোনো দুশ্চিন্তা নেই, তারা যেন নির্বিকার! ভাবটা যেন যার বিয়ে তার খবর নেই, পাড়া-পড়শীর ঘুম নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেশের বর্তমান অবস্থায় জ্ঞানী-গুণীদের এমনতরো হালচাল নিয়ে, শংকা নিয়ে, আশংকা নিয়ে, অযাচিত হতাশা নিয়ে মোটেই চিন্তিত নই, বিচলিত নই, এমনকি আগেও ছিলাম না। আশাবাদী মানুষ হিসেবে আমি বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাকেও সহজভাবে গ্রহণ করি। আচ্ছা, আমাদের এখনকার অবস্থা কি ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট থেকেও ভয়াবহ? এটা কি ’৮১-এর ৩০ মে থেকেও খারাপ? এখন কি ’৮২-এর ২৪ মার্চ থেকেও নাজুক অবস্থায় আছি আমরা? এসব মারাÍক অবস্থা কাটিয়ে ওঠার পর আমরা ’৯০-এর ৬ ডিসেম্বর দেখেছি, ২১ আগস্ট জঘন্য গ্রেনেড হামলা পেয়েছি, একযোগে ৬৩ জেলায় বোমাবাজি হজম করেছি, আরও কত কী! অতএব হতাশার কিছু নেই।
কিন্তু মৌসুমটাতে গোটা ৪০ থেকে ৫০ জন জ্ঞানী-গুণী-আঁতেল যেভাবে একই সুরে ঘ্যানর-ঘ্যানর করে চলেছেন, যেভাবে আলী-বাজাদ’র নেতারা সারাক্ষণ রাজনীতির একসুরে একতারা বাজিয়ে আমাদের বিরক্তি চরমে নিয়ে যাচ্ছেন তাতে আমরা বড় অস্বস্তিবোধ করছি। ভোট এখনও হয়নি, হবে-হবে অবস্থায়; আর এখনই কেউ বলে ফেলছেন আদৌই ভোট হবে কি না সন্দেহ। কেউ বা বলছেন এত তারিখের মধ্যে ‘এটা’ করা না হলে সরকার পতনের এক ঝড় বইবে। খালেদা জিয়া গত পৌনে পাঁচ বছর তো সরকারকে যথেষ্ট পর্যবেক্ষণ করেছেন, বছর দুয়েক পর থেকে তো গরম গরম হুংকার দিয়েই চলেছেন, বিশেষত পঞ্চদশ সংশোধনীর পর থেকে তো তার নিজের আগের অবস্থানের বিপরীতে তত্ত্বাবধায়কের জন্য উঠেপড়ে লেগেই আছেন। এখন পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নন এমন তিনি ভাবেন না। চতুর্দশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক প্রধান নিজেদের পছন্দের করার জন্য যে বিচারপতির বয়স বাড়ানো হল- সেটাও ভুলে গেলেন। আর হাসিনা হলেন তার উল্টো, এখন তিনি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের রায়কে পুঁজি করে সংবিধানকে আরও কঠোর করে সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়কের বিলুপ্তি ঘটান। এর নামই নাকি রাজনীতি! এ ইস্যুতে আমাদের দুজনের বক্তব্যের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল হতে হয়। সংবিধানের অধীনে দুজনের জেদ রক্ষা হলে আমাদের কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। যদি কারও জেদ কমে কিংবা কেউ অবস্থা বুঝে ছাড় দিতে শেষ পর্যায়ে হলেও সমঝোতায় আসেন তা তো ভালো, আমরা খুশি হব। তাও যদি শেষ পর্যন্ত না হয় তাহলেও তো একটা সমাধান হবে, নাকি? আমরা কি ২০০৭-এর ২২ জানুয়ারির নির্ধারিত নির্বাচনের আগে লগি-বৈঠা কিংবা কাস্তের হুংকারের পর কোনো সমাধান পাইনি? এবারও অবশ্যই পাব, অতএব অযথা ঘ্যানর-ঘ্যানর করে জনগণকে বিরক্ত করার কোনো মানে হয় না। আলী আর বাজাদ না হয়ে শেষ পর্যন্ত মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে অপরপক্ষকে কাবু করার জন্য ব্যস্ত থাকবে, কিন্তু সুশীলসমাজ বা আঁতেলরা কেন এ নিয়ে টকশো, প্রেস ক্লাবের ভিআইপি কক্ষ, পত্রিকায় এ নিয়ে প্যাঁচাল পেড়েই যাচ্ছেন? হাসিনা আর খালেদা তো এ দেশে জনগণের কাছে এখনও স্বীকৃত নেতৃত্ব, গত দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে এ দু’জনই দেশের প্রকৃত নেতা, আর তাদের দু’দল আলী-বাজাদই মাত্র দুটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দল যেন। এই-ই যখন অবস্থা, তখন এ দু’জনের গোয়ার্তুমি অপছন্দ হলে সুশীলসমাজ কিংবা আঁতেলরা এ দুজনকে আগামী নির্বাচনে ভোটে হারিয়ে দেয়ার কথা বলতে কেন সোচ্চার হচ্ছেন না? দল হিসেবে আলীও থাকুক, বাজাদও থাকুক, শুধু নেতা হিসেবে হাসিনা আর খালেদা দুই দল থেকেই নির্বাচনে পরাজিত হোন- এটা করতে পারলেও তো সুশীলসমাজ আর আঁতেলদের একটা প্রাপ্তি হতো।
সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে বাজাদ বেশ আত্মবিশ্বাসী যেন, ভাবটা যেন ভোট হলেই ক্ষমতা তাদের হয়ে গেল আরকি। পাঁচ সিটিতে জয়ের রেশ যেন তাদের তেমন জয়ের জানান দিয়ে গেল। জোয়ার-ভাটার এ দেশে, সেলুকাসের কী বিচিত্র এ দেশে ভোটের সময় যে জনগণের মন বদলাবে না এ নিশ্চয়তা কে দেবে? তারপরও দেখা যাচ্ছে যে, আলীর পক্ষে প্রচার তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলা চলে, আলীর থিংক ট্যাংককে দুর্বল মনে হয়। অপরদিকে বাজাদের প্রচার তুঙ্গে, তাদের থিংক ট্যাংক বেশ চাঙ্গা। আলী বিলবোর্ডের ‘কাঁচা’ প্রচারণায় সুবিধা করতে পারেনি। তবে আলী যদি হাতের পাঁচ মানবতাবিরোধী বিচারের রায় ভোটের আগে কার্যকর করে (বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ যেগুলোর হয়ে গেল) জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে তখন কোথাকার জল কোথায় গিয়ে গড়ায় তাও তো বিবেচনায় রাখতে হবে। এ দেশের জনগণ শেষ মুহূর্তেও ঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কখনও ভুল করেনি। পাকিস্তান আমল থেকেই আমরা দেখে আসছি যে, রাজনীতির ধুম-ধারাক্কার বেড়াজালে থেকেও জনগণ ঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাঁচ সিটির নির্বাচনে যেমন জনগণের সিদ্ধান্ত চমৎকার ছিল, বাজাদের কাছেও অপ্রত্যাশিত ছিল, সর্বোপরি ফলাফল ছিল অচিন্তনীয়, ঠিক জাতীয় নির্বাচনেও যে পাঁচ সিটির ফলাফলের ধারাবাহিকতা নস্যাৎ হতে পারবে না তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। বাজাদের জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, দুর্নীতি, যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে দহরম-মহরম যদি একটু ঠিকমতো প্রচার-প্রসার করা যায় এবং তার সঙ্গে যদি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায় কার্যকর করে আলী বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টি করতে পারে তাহলে জনমত পাল্টাতে কতক্ষণ? আলী আর বাজাদ যে ঘ্যানর-ঘ্যানর রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছেন তা জনগণকে মোটেই প্রভাবিত করে না। আমি এ কথা এখনও বিশ্বাস করি, সংবিধানের অধীনেই বাজাদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, বড়জোর মুখ রক্ষার জন্য আলীর কাছে থেকে কিছুটা ছাড় আশা করবে এবং তা হতে পারে সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন না করা কিংবা শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন না করা। আলীও সংবিধানের অধীনে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নির্দলীয় বা তত্ত্বাবধায়কে ফিরে না গিয়েই নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারবে। দু’দলের কেউই তাদের মৌরসী-পাট্টা দেশটাকে তাদের দু’দলের বাইরে যেতে দিতে চাইবে না। মাঠে-ময়দানে কিংবা গলাবাজিতে যে রেকর্ড বাজাচ্ছে দু’দল তা হচ্ছে একান্তই স্নায়ু-দুর্বলের কৌশলমাত্র। দু’দলের একসুরো ঘ্যানর ঘ্যানর বক্তব্য থেকে ‘সার’ কিছু পাওয়া যাবে না। অবস্থাটা দাঁড়িয়েছে এমন, অশিক্ষিত জনগণের গ্রামে এক গণ্ডমূর্খ ‘হুজুর’ বাচ্চাদের প্রত্যেক দিনই একই তালিম দিয়ে যাচ্ছেন- তালিমালি যাক দিন। তার দিনগুজরান প্রয়োজন। মাসকে মাস একই পড়া পড়েই যাচ্ছে বাচ্চারা। একদিন ‘হুজুর’ পান খেতে গেলে আরেক লোক প্রত্যেক দিনের এ তালিম শুনে বাচ্চাদের নতুন তালিম দিয়ে গেলেন- এইতান করি খাবি কদিন। ‘হুজুর’ পান খেয়ে এসে বাচ্চাদের মুখে নতুন তালিম শুনে তো হতবাক। বুঝলেন, তার জাড়িজুড়ি এ গ্রামে আর চলবে না। রাতে তিনি কেটে পড়লেন। আলী-বাজাদের ‘তালিমালি যাক দিন’-এর জবাব তো ভোটের সময়ে ঠিকই এসে যাবে ‘এইতান করি খাবি কদিন’। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম। জনগণকে মূর্খ ভাবার কোনো কারণ নেই। আলী-বাজাদ এবং সুশীলরা এটা বুঝলে আমরা কৃতার্থ হব।
বদিউর রহমান : সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান

জোর করে ক্ষমতায় থাকার ফল ভালো হয় না by মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন

জোর করে ক্ষমতায় থাকার ফল কারও জন্যই ভালো হয়নি। জনগণের ইচ্ছার বাইরে যারাই ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে, তারাই ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে; সম্মান নিয়ে তারা ঘরে ফিরতে পারেননি। ক্ষমতাসীনরা যেনতেনভাবে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছে, এজন্য নিজেদের স্বার্থে সংবিধান সংশোধন করেছে; নির্বাচনে কেউ আসুক বা না আসুক সংবিধানের দোহাই দিয়ে তারা নির্বাচন করতে চায়। সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের শোচনীয় ব্যর্থতার সমাধান খোঁজার পরিবর্তে নিত্যনতুন সমস্যার জন্ম দিচ্ছে। তারা জেনেশুনে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে একটা চরম নৈরাজ্য ও অচলাবস্থা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা সরকারের কর্তব্য। কিন্তু মনে হয় সরকার ইচ্ছা করেই তা করছে না। তারা বিরোধী দলকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকারের এ পরিকল্পনা কোনোদিনই বাস্তবায়ন হবে না।
রাজনীতিকদের অবশ্যই একটি দল থাকে, থাকে দলের আদর্শ, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি; তথাপি একজন রাজনীতিকের চিন্তা থাকতে হয় সর্বজনীন, সবার চিন্তাই তাকে করতে হয়। এ বাস্তবতা যদি রাজনীতিকরা উপলব্ধি না করেন, তাহলে জাতি বিভক্ত হয়, চূড়ান্তভাবে তা রাষ্ট্র ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ ঠিক এমন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। অপরিণামদর্শী রাজনীতির কারণে এখানে ধর্মে-ধর্মে বিরোধ তৈরি হয়েছে, ভাইয়ে-ভাইয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে, ধর্মের প্রবর্তকদের অশালীন ভাষায় গালমন্দ করা হয়েছে, ধর্মীয় উপাসনালয় জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে; সর্বোপরি রাষ্ট্রের পরতে পরতে বিরোধ ও হিংসা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। একই ধর্ম ও ভাষার মানুষের মধ্যে এমন বিভক্তি তৈরি করা নিশ্চয় একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। এ বিভক্তির ফলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে। দেশের শিল্পোৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি আজ বিপর্যয়ের পথে। সম্ভাবনাময় তৈরি পোশাক শিল্প চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগে দেখা দিয়েছে মারাÍক স্থবিরতা। মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, জিডিপি নিচের দিকে নামছে।
যুদ্ধাপরাধের বিচার ও নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে আছে। ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে আছেন দেশের রাজনীতিকরাও। অনিবার্য সংঘাত ও রক্তপাতের আশংকা করছে দেশবাসী, যা ধ্বংস করে দেবে তাদের সব স্বপ্ন ও সম্ভাবনা। ধ্বংস করবে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক ধারা, মানুষ হারাবে তাদের ভোটের অধিকার। ধ্বংস করা রাজনীতিকদের কাজ নয়, রাজনীতিকদের কাজ গড়া। যেটুকু উন্নতি বাংলাদেশের হয়েছে, তা জাতি হিসেবে আমরা এক থাকার কারণেই হয়েছে আর এটি করেছেন রাজনীতিকরাই। এখনও যে বিপদ বাংলাদেশের সামনে কড়া নাড়ছে, রাজনীতিকদের ঐক্যই এ বিপদ থেকে বাংলাদেশকে বের করে আনতে পারে।
সংবিধান, আইন সবকিছুই পরিবর্তন সম্ভব হয়- যখন সবাই এক হয়। কাজেই এখন রাজনীতিকদের এক হওয়ার সময়, সময় দেশপ্রেম জাগ্রত করার; সময় বিশ্বকে দেখিয়ে দেয়ার, কারণ বিশ্বের নজর কাড়ছে এখন বাংলাদেশ। এ দেশের জন্য জাতিসংঘ এগিয়ে এসেছে, আমেরিকা এগিয়ে এসেছে; এগিয়ে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব বিশ্ব, চীন, ভারত, কানাডা ও অন্যসব রাষ্ট্র। এসব দেশ বাংলাদেশের ভালো চায়; বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতি অব্যাহত রাখার স্বার্থেই রাজনৈতিক সংকট সমাধানে তারা এগিয়ে এসেছে। তাদের উপলব্ধিতে হয়তো বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা একটি পক্ষপাতহীন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এ দেশের রাজনীতিকদের পরামর্শ দিয়েছে। সুতরাং রাজনীতিকদের উচিত এসব দেশের আবেগের মূল্য দেয়া।
একটা মোটামুটি মানের নির্বাচন হলেই বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। সেই অর্থে বিএনপির লক্ষ্য হওয়া উচিত কোনোভাবেই নির্বাচন ভণ্ডুল হতে না দেয়া। নির্বাচন ভণ্ডুল হলে বেনিফিশিয়ারি হবে বর্তমান শাসক দল- এতে কোনো সন্দেহ নেই। দেশে একটা বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যাওয়ার সমূহ আশংকা রয়েছে। কাজেই বিচক্ষণতার সঙ্গে আর কিছুদিন পার করাই হবে যুক্তিযুক্ত। তাতে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকবে। ঠিক এ জায়গাটিতে বিএনপিকে পা ফেলতে হবে কঠিন হিসাব কষে, অত্যন্ত সাবধানে। গভীর পর্যবেক্ষণ করতে হবে ক্ষমতাসীনদের কার্যক্রম। ক্ষমতাসীনরা এখন কিছুটা গোঁয়ার্তুমিভাব দেখালেও শেষ পর্যন্ত তাদের কৌশল কী হয় সেটিই দেখার বিষয়। পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার পর কর্মীদের মনোবল অটুট রাখতেই ক্ষমতাসীন দল হার্ডলাইনের কৌশল নিয়েছে। কিন্তু এই হার্ডলাইন শেষ পর্যন্ত তারা ধরে রাখতে পারবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন না। এমন একটা সন্ধিক্ষণ আসবে, যখন তারা ফুটো বেলুনের মতো চুপসে যাবে। ওই সময়টার জন্য বিএনপিকে অপেক্ষা করতে হবে।
যে কোনো ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলার সক্ষমতা বিরোধী জোটের অবশ্যই আছে। কিন্তু সেই আন্দোলনের সুফল বিএনপির ঘরে আসতে হবে, বিএনপিকে বেনিফিশিয়ারি হতে হবে। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, নির্বাচন যদি অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যায়; তাহলে মানুষ বর্তমান সরকারের দুর্নীতি-দুঃশাসন ভুলে যাবে। তখন হয়তো দেখা যাবে পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে গেছে, ক্ষমতাসীন দল জনগণের কাছে আবার গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। বিএনপির রাজনীতির অসাবধানতা ও স্পর্শকাতরতার সুযোগটিই নিতে চাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল। তাই তারা কোনো সংলাপ বা সমঝোতায় আসতে চাচ্ছে না। তারা মনে করছে, সংলাপে বসলেই রাজনৈতিকভাবে বেনিফিশিয়ারি হবে বিএনপি। তাই তারা গোঁয়ার্তুমি করছে; আন্দোলনের মুরোদ নেই, সরকার হটানোর শক্তি নেই বলে বিএনপিকে উসকে দিচ্ছে। ইতিহাসের নজিরবিহীন কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ ও খালেদা জিয়ার বারবার আহ্বানের পরও সংলাপ-সমঝোতায় সরকার কোনো সাড়া দেয়নি। ফলে সংকটের কোনো সমাধানও হয়নি। তাতে জাতীয় জীবনে কেউ স্বস্তিতে নেই- না সরকারি দল, না বিরোধী দল। সবার মধ্যেই একটা অজানা শংকা কাজ করছে। মানুষকে শংকায় রাখা রাজনীতিকদের কাজ নয়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এ অবস্থা হল কেন আজ? কেন জাতিকে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে? এ জাতি আর কত রক্ত দেবে? কত মূল্য পরিশোধ করবে? যারা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন, এর জবাব তাদেরই দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গিয়ে বলেছেন, দেশের জন্য যে কোনো ত্যাগ তিনি স্বীকার করবেন। সে ত্যাগ স্বীকারটা কী সেটি তিনি পরিষ্কার করেননি। তার এই ত্যাগ স্বীকারটা হতে পারে মেয়াদ শেষে আর একদিনও ক্ষমতায় না থাকা এবং একটি পক্ষপাতহীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম করা। বর্তমান সময়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য এটুকু ত্যাগ যদি স্বীকার করেন, তাহলে রাজনীতির উচ্চ আসনে তিনি অধিষ্ঠিত হবেন। দেশের ক্রান্তিকালে মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ত্যাগ মনে রাখবে। একটা অনিবার্য ধ্বংস থেকে দেশ ও জাতি রক্ষা পাবে।
মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

হজ- আরাফাতের ময়দানে অবস্থানই হজ by ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

পৃথিবীর সব দেশের মুসলমান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ে কাবাঘরের চারপাশে এবং মক্কার অপর কয়েকটি স্থানে সম্মিলিত কতগুলো ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে হজ আদায় করেন।

সমঝোতা প্রতিষ্ঠার জন্য সব পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে by ড. মাহবুব উল্লাহ্

২৪ অক্টোবরের পর দেশে কি ঘটবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। অনেকেই বলছেন, দেশ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে নিক্ষিপ্ত হতে যাচ্ছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে দেশবাসী আতংকের মধ্যে রয়েছে বলেও অনেকে অভিমত পোষণ করেন। কেউ কেউ বিদ্রুপের হুল ফুটিয়ে বলছেন, বিরোধী দল অক্টোবর বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছে। ১৯১৭ সালের ৭ অক্টোবর মহামতি লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হয়েছিল। সেই থেকে বিপ্লবের সঙ্গে অক্টোবর মাসটি যুক্ত হয়ে গেছে। লেনিন একটি সুনির্দিষ্ট দিনে বিপ্লবী অভ্যুত্থানের পক্ষে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি তার বলশেভিক পার্টির কমরেডদের বলেছিলেন, ‘৬ অক্টোবর বিপ্লবের জন্য খুব তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে, ৮ অক্টোবর হবে খুব বিলম্বিত, ৭ অক্টোবর বিপ্লবের জন্য খুবই উপযোগী সময়।’ লেনিন কেন দিনক্ষণ ঠিক করে বিপ্লবী আঘাত হানার কথা বলেছিলেন সেটি ভিন্ন আলোচনার বিষয়। তবে দিনক্ষণ ঠিক করে দুনিয়ার কোনো দেশে সামাজিক কিংবা গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি কিংবা ঘটছে না। একই কথা বাংলাদেশের জন্যও প্রযোজ্য। সাম্প্রতিককালে মধ্যপ্রাচ্যে আবার বসন্তের যে ঢেউ আমরা লক্ষ্য করেছি সেটাও কোনো ব্যক্তিবিশেষ বা কোনো গোষ্ঠী দিনক্ষণ ঠিক করে শুরু করেনি। আরব বসন্তের সূচনা হয় প্রথম তিউনেশিয়ায়। একজন ফল বিক্রেতার ওপর পুলিশি জুলুম এবং তার ফলবাহী ভ্যান গাড়ি ভেঙে দেয়ার ঘটনাকে সূত্র করেই তিউনেশিয়ায় স্বৈরশাসনবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সূচনা। পরবর্তীকালে মিসর, বাহরাইন, ইয়েমেন এবং সিরিয়ায় যা ঘটেছে সেগুলোও দিনক্ষণ নির্ধারণ করে ঘটেনি। তবে এসব ক্ষেত্রে গণঅভ্যুত্থানের পেছনে কাজ করেছে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন। ক্ষেত্রবিশেষে ধর্মীয় গোষ্ঠীভিত্তিক বৈষম্যও গণঅসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আলোচ্য ক্ষেত্রগুলোতে এবং তারও বহু বছর আগে ১৯৬৮ সালে ফ্রান্সে যে গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয় তারও আশু কারণ ছিল তাৎক্ষণিক একটি ঘটনা। ফ্রান্সের দ্যা গল সরকারের বিরুদ্ধে যে গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয় তার আশু কারণ ছিল ফ্রান্সের বিখ্যাত সরবোরণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একটি সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল- ছাত্রছাত্রীরা একই ডরমেটরিতে একসঙ্গে থাকতে পারবে না। ছাত্রছাত্রীরা এ সিদ্ধান্তকে তাদের মানবিক স্বাধীনতার পরিপন্থী মনে করেছিল। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের বিরুদ্ধে। তাদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল শ্রমিকের বস্তিগুলোতে। যে আশু কারণে ছাত্র অসন্তোষের সূচনা বৃহত্তর পরিমণ্ডলে সেটা আর সেই ঘটনায় সীমাবদ্ধ থাকল না। ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন পরিণত হল মেহনতি মানুষের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে। এক পর্যায়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট দ্যা গল বাধ্য হলেন ফ্রান্স ছেড়ে জার্মানিতে গিয়ে আশ্রয় নিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাত্র, শ্রমিক ও তরুণদের বিশাল এই অভ্যুত্থান সফল হয়নি। কারণ ফ্রান্সের সংগঠিত ট্রেড ইউনিয়ন যা সিজিটি নামে পরিচিত, এই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে দাঁড়াল। শেষ পর্যন্ত দ্যা গল রক্ষা পেলেন। তখনকার শীতল যুদ্ধের পরিস্থিতিতে সোভিয়েতপন্থী ট্রেড ইউনিয়ন সংস্থা সিজিটি দ্যা গলের পক্ষে দাঁড়ানোই সঙ্গত মনে করেছিল। এ থেকে বোঝা যায়, বিশ্ব ব্যবস্থায় শক্তি ও ক্ষমতার সমীকরণ একটি দেশের গণআন্দোলনের সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ধারণ করতে পারে।
বাংলাদেশের মতো একটি দেশে যেখানে গণতন্ত্র আছে আবার নাইও, যে দেশে আর্থসামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের ফলে একটি নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আবির্ভাব ঘটেছে, যে দেশে মিডিয়ার স্বাধীনতা আছে এবং নাইও, সেরকম একটি দেশে গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করা অত্যন্ত কঠিন। এ ধরনের গণতন্ত্রকে ফরিদ জাকারিয়া ওষষরনবৎধষ উবসড়পৎধপু বা অনুদার গণতন্ত্র বলে চিহ্নিত করেছিলেন। এরকম একটি দেশে গণঅভ্যুত্থান শান্তিপূর্ণ গণশক্তির বিশাল জাগরণ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে না।
যেহেতু এরকম দেশ ও সমাজে বহু ধরনের স্বার্থগোষ্ঠী থাকে সে জন্য গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করাও একটি কঠিন কাজ। প্রথম আলো জরিপে আমরা দেখেছি, ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ বিএনপিকে সমর্থন করছে। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলগুলোর প্রতি মানুষের সমর্থন খণ্ডিত। এ কারণে জনগণের মধ্যে বিএনপির অবস্থান ভালো হলেও তা চূড়ান্ত নয়। বিএনপি যদি এই গণভিত্তিকে আরও সম্প্রসারিত এবং সক্রিয় করতে পারে তাহলে তাদের ফল লাভের একটি সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির এই অনিশ্চয়তা কাজে লাগাচ্ছে শাসক দল। কেউ কেউ মনে করেন রিমোট কন্ট্রোলের শক্তিতে তারা বলীয়ান। এই ধারণা কতটুকু সত্য তা নির্ধারণ করার সুযোগ আমাদের নেই। তবে একটা কথা পরম সত্য যে, সত্যিকার অর্থে জনগণ চাইলে আজ হোক বা কাল হোক কিংবা অর্ধদশক পরে হোক জনগণের শক্তিকে শেষ পর্যন্ত কোনো শাসকই অগ্রাহ্য করতে পারে না। এভাবে অগ্রাহ্য করলে পরিণতিও ভালো হয় না। এই সত্যটি বাংলাদেশের রাজনীতিকদের চেয়ে কেউ বেশি করে উপলব্ধি করেন বলে আমার মনে হয় না। তবুও সমস্যা কেন, সংকট কেন সৃষ্টি হচ্ছে তা বোঝা মুশকিল। রাজনৈতিক দলগুলো যদি মানুষের মনোভাবকে বিবেচনায় নেয় এবং তারা যদি সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে তাহলে এমন সমস্যা সৃষ্টি হয় না। যারা দেশের মঙ্গল চায়, জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা চায় তারা সঙ্গতভাবেই আশা করতে পারে যে, তাদের ভাগ্য নির্ধারণকারী রাজনৈতিক দলগুলো কাক্সিক্ষত আচরণ করবে। কিন্তু কেন এমনটি হচ্ছে না। সেটি এক দুর্গেয় রহস্য। অবস্থা দেখে মনে হয় নেতা-নেত্রীরা ঝুঁকি গ্রহণ করা পছন্দ করেন। অর্থনীতিবিদরা মানুষকে দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত করে এক ধরনের বিশ্লেষণ করেন। এই শ্রেণী দুটি হল- ঝুঁকি পছন্দকারী এবং ঝুঁকি পরিহারকারী গোষ্ঠী। ঝুঁকি গ্রহণের সুবিধা হল, হয় ভালো মুনাফা হবে অথবা হবে না। যারা ঝুঁকি পরিহার করেন- তারা ভালো মুনাফার আশা করতে পারে না, কিন্তু একটি নিস্তরঙ্গ ও ঝুটঝামেলামুক্ত জীবন আশা করতে পারেন এরকম জীবনযাপনে সমৃদ্ধি আশা করা যায় না। আমরা কি তাহলে বলব আমাদের নেতা-নেত্রীরা ঝুঁকি গ্রহণই পছন্দ করেন? মনে রাখতে হবে, ব্যক্তিজীবনে ঝুঁকি গ্রহণ এবং সমষ্টি জীবনে ঝুঁকি গ্রহণের মধ্যে পার্থক্য আছে। সমষ্টিকে নিয়ে ঝুঁকি গ্রহণের ফলে মারাত্মক ধরনের সামাজিক বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। কাজেই সমষ্টিকে নিয়ে অর্থাৎ গোটা জাতিকে নিয়ে ঝুঁকির চর্চা করতে হলে সাবধানী হতে হয়। সামষ্টিক ক্ষেত্রে সংঘাতের চেয়ে সমঝোতাই উত্তম পথ।
অন্তত দর্শনের একটি বিখ্যাত দৃষ্টান্ত Prisoners Dilemma আমাদের তাই বলে। অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুলনায় সহযোগিতাই কাম্য। সহযোগিতার সুফল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে সময়মতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়াই সদিচ্ছার প্রতিফলন হবে। আমরা চাই সবার সুমতি হোক। পারস্পরিক হননের পন্থা পরিহার করে সর্বজনগ্রাহ্য একটি সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষগুলো আমাদের দেবে। অন্যথায় বাংলাদেশের যেসব অর্জন নিয়ে আমরা গর্ব করি সেসব হারিয়ে যেতে পারে। সমঝোতা অর্জনের জন্য সব পক্ষকে শক্তি ও সাহস দেখাতে হবে। শত বিরোধ সত্ত্বেও আমাদের দুই প্রধান নেত্রী ঈদের সময় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই শুভেচ্ছা বিনিময়কে আরও অর্থবহ করে তোলার সুযোগ এবারের ঈদুল আজহাতে এসেছে। এরকম অর্থবহ শুভেচ্ছা বিনিময় হলে ২৫ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে যে উদ্বেগ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে তার পরিসমাপ্তি হবে। শান্তি ও স্বস্তির জীবনের প্রতি আমাদের আকাক্সক্ষা বাস্তবের মুখ দেখবে।
ড. মাহবুব উল্লাহ্ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক- কলকাতা নেই কলকাতায় by আবদুল মান্নান

ভারত উপমহাদেশ তো বটেই, বিশ্বে এমন মানুষ কম আছে, যারা পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নাম শোনেনি। ১৯১১ সাল পর্যন্ত এটাই ছিল ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী। কলকাতা তখন লন্ডনের চেয়ে অনেক উন্নত শহর।

মধ্যপ্রাচ্য- আরব জাগরণ ও ‘যৌন জিহাদ’ by কামাল গাবালা

আমার এই ৬০ বছরের জীবনে ‘যৌন জিহাদ’ কথাটা আগে কখনো শুনিনি। এ অঞ্চলে আড়াই বছর আগে আরব জাগরণ শুরুর আগে এ ব্যাপারে কোথাও পড়িনি বা কারও মুখে এ সম্পর্কে কোনো আলাপও শুনিনি।

দুর্গোৎসব- নবপত্রিকায় কলাগাছ by কান্তা রায় রিমি

আজ দুর্গাপূজার নবমী। পরিবারে, সমাজে, দেশে, বিশ্বে চলছে দুর্গতি। দেবী দুর্গা দুর্গতিনাশিনী। তিনি শক্তিরূপে, মাতৃরূপে বিরাজমান। জগতের কল্যাণময়ীরূপ, মাতৃরূপ।

বিশাল থেকে বিশালতর হচ্ছে হজের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড by আসজাদুল কিবরিয়া

ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম হলো পবিত্র হজ। গত বছর প্রায় ৩২ লাখ মানুষ হজব্রত পালন করেছেন। অবশ্য এ বছর হাজির সংখ্যা অনেক কমে ২০ লাখে নেমে এসেছে, যার মধ্যে সৌদি আরবের বাইরে থেকেই এসেছেন প্রায় ১৫ লাখ।

রাজধানীতে বেপরোয়া চাঁদাবাজী by যুবায়ের আলম

রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন রোডে ঈদকে সামনে রেখে হাইওয়ে রোডে বিভিন্ন মোড়ে ও ষ্ট্যান্ডে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজী। সিটি কর্পোরেশন এলাকা ও পৌর এলকার বিশেষ ষ্ট্যান্ডে চাঁদাবাজী চলছে।

মাথার ছায়া, হাতের লাঠি by কাজল ঘোষ

‘বাঁশবাগানের মাথার ওপর চাঁদ উঠেছে ঐ, মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই’। কবিরা বরাবরই কল্পনাপ্রবণ। কিন্তু যতীন্দ্রমোহন বাগচীর লেখা এই কবিতাটিতে কল্পনার মিশেল যত না ছিল তার চেয়েও অনেক বেশি ছিল বাস্তবতার উপস্থিতি।

ট্যানারি ব্যবসায়ীদের আশা পশু কোরবানি রেকর্ড ছাড়াবে by এম এম মাসুদ

আগামী ১৬ই অক্টোবর পবিত্র ঈদুল আজহা। অন্য দিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগের বছরগুলোর তুলনায় এবারের কোরবানির ঈদে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি পশু জবাই হবে বলে ধারণা করছেন ট্যানারি মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

মৃত্যুকূপ চৌগাছা by নূর ইসলাম

যশোরের চৌগাছায় আততায়ীদের হাতে একের পর চেয়ারম্যান খুন হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এখানকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। জীবনের ভয়ে ইতিমধ্যে অনেকে এলাকা ছাড়তে শুরু করেছেন।

আইসম্যানের বংশধর

১৯৯১ সালে বিজ্ঞানীরা অস্ট্রিয়া-ইটালি সীমান্তে ওটজাল আল্পস নামক স্থান থেকে হিমায়িত অবস্থায় ৫৩০০ বছর পুরোনো একটি মমি উদ্ধার করেছিল। স্থানের নামে যার নামকরণ করা হয়েছিল ওটজি দ্য আইসম্যান।

আইটেম গানে নগ্ন হয়ে পুনম

এই সময়ে বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত মডেল-অভিনেত্রী পুনম পান্ডে। মাসখানেক আগে মুক্তি পেয়েছে তার ‘নেশা’ ছবিটি। ছবিতে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করে মিডিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন তিনি।

তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত সংসদ চলতে পারে

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগের দিন পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন চলতে কোন বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এ দিন পর্যন্ত সংসদ চালাতে সাংবিধানিকভাবে কোন বাধা নেই।

ফ্যাশন শোতে খোলামেলা পল্লবী

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে রণবীর কাপুর অভিনীত বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘বেশরম’। ছবিটি নিয়ে অনেক প্রত্যাশা থাকলেও সেটি তেমন একটা পূরণ হয়নি দুর্বল কাহিনীর জন্য।

লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক by মোহাম্মদ আবুল হোসেন

পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব এখন বিশ্ব মুসলিমের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। সারা বিশ্ব থেকে ধনী, দরিদ্র, বড়, ছোট সব ভেদাভেদ ভুলে তারা এক কাতারে শামিল হচ্ছেন।

লাব্বায়েক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত by মো. আল আমীন

হজ ইসলামের পাঁচটি ‍স্তম্ভের একটি। এর মাধ্যমে মুসলমানগণ আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভ করেন। এই দিনেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বান্দার গুনাহ সর্বোচ্চ পরিমাণে মাফ করে থাকেন।

ঈদে ঘরে ফেরা- ঈদ সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়

ঈদে ঘরে ফেরা- ঈদ সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠছে যাত্রীরা, ঈদ সামনে রেখে গ্রামের বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।

৫ নম্বর ক্যাটাগরির হারিকেন পাইলিন

ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির পশ্চিমে থাইল্যান্ড উপসাগরের মৌসুমি নিুচাপ হিসেবে প্রথমে একটি ঝড়কে শনাক্ত করা হয়। ঝড়টি মালয় উপদ্বীপ অতিক্রম করে ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক বেসিনের ওপর দিয়ে বয়ে যায় ৬ অক্টোবর। এরপরের দিন আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নতুন রূপে দেখা দেয় ঝড়টির এবং পশ্চিম-উত্তরাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যায়। ৯ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে আবহাওয়াবিদরা এর নাম দেয় পাইলিন। পাইলিন আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে স্থানান্তরিত হয়। বঙ্গোপসাগরে অবস্থান নেয়ার পর ঘূর্ণিঝড়টি দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকে এবং চোখের মতো রূপ নেয়। ১০ অক্টোবর খুবই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। ওই সময় আবহাওয়াবিদরা ঝড়টিকে হারিকেন ১ ক্যাটাগরিভুক্ত করেন। ১১ অক্টোবর পাইলিনের মাত্রা বাড়লে একে হারিকেন ৪ ক্যাটাগরিভুক্ত করেন আবহাওয়াবিদরা।
এর আগে ঝড়টি নতুন রূপ নেয়। ১১ অক্টোবর দিনের শেষ ভাগে পাইলিনের শক্তির মাত্রা বাড়লে ৪ থেকে বাড়িয়ে ৫ ক্যাটাগরির হারিকেনভুক্ত করা হয়। সাফির-সিম্পসন হারিকেন স্কেল মতে, হারিকেনের ক্যাটাগরি ৫ হচ্ছে ভয়াবহতার দিক দিয়ে দ্বিতীয়তম। এরপরের ক্যাটাগরিটি হচ্ছে ৬। অতীতে আঘাত হানা ক্যাটাগরি ৫ হারিকেনগুলো হচ্ছে- ১৯৩৫ সালের লেবার ডে হারিকেন, ১৯৫৫ সালের জানেট, ১৯৫৯ সালের মেক্সিকো হারিকেন, ১৯৬৯ সালের ক্যামেলি, ১৯৭৭ সালের আনিতা, ১৯৭৯ সালের ডেভিড, ১৯৮৮ সালে গিলবার্ট, ১৯৯২ অ্যান্ড্রু, ২০০৭ সালের ডিন ও ফেলিক্স। পাইলিনের প্রভাবে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ভারতের অন্ধ্র ও উড়িষ্যা প্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। ঝড়টিকে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভারতীয় আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। হারিকেনের আঘাতে হতাহতের সংখ্যা শূন্য রাখতে পূর্ব সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নিয়েছে ভারতের অন্ধ্র ও উড়িষ্যা প্রদেশ সরকার।

বাংলানিউজ এর বিশেষ সম্পাদকীয়- একগুঁয়েমি নয়, সমঝোতার পথেই সঙ্কটমুক্তি

আবারও আমাদের সঙ্গী হতে চলেছে ভয়, উদ্বেগ আর নিরাপত্তাহীনতা। প্রতিটি নির্বাচনের আগেই এটা হয়। কুরুক্ষেত্র হয়ে ওঠে গোটা দেশ। মানুষকে জিম্মি করে, মানুষের জীবনকে অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিয়ে।