Sunday, August 31, 2014
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন অধ্যায় রচিত হবে
![]() |
| নরেন্দ্র মোদি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আলঙ্কারিক প্রধানমন্ত্রী’ হওয়ার পথে নওয়াজ!
![]() |
| নওয়াজ শরিফ |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এ সংকট ছোটখাটো ঝড়: নওয়াজ
![]() |
| পাকিস্তান সংকট: ঘটনাপঞ্জি |
পাকিস্তান সংকট: ঘটনাপঞ্জি
গত বছরের সাধারণ নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির প্রতিবাদে গত ২৭ জুন ইমরান খানের পিটিআই ঘোষণা করে,
১৪ আগস্ট ইসলামাবাদ অভিমুখে ‘আজাদি মার্চ’ হবে ১০ আগস্ট
পিএটি নেতা তাহির-উল-কাদরিও ১৪ আগস্ট ‘ইনকিলাব মার্চের’ ঘোষণা দেন ১৪ আগস্ট
লাহোর থেকে শুরু দুই নেতার মার্চ শুরু ১৬ আগস্ট ইসলামাবাদ পৌঁছায় মার্চ। পরদিন প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দেন ইমরান
১৮ আগস্ট জাতীয় পরিষদ থেকে পিটিআই সদস্যদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা
১৯ আগস্ট ইসলামাবাদের রেড জোনে ঢুকে পড়ে পিটিআই ও পিএটির কর্মীরা
২০ আগস্ট সেনাবাহিনীর প্রথম প্রতিক্রিয়া আসে। আইএসপিআরের মহাপরিচালক সবাইকে ‘ধৈর্য ও প্রজ্ঞা’র আহ্বান জানান, ২৫ আগস্ট কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউ থেকে বিক্ষোভকারীদের সরাতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাশিয়ার সঙ্গে লাগতে এসো না: পুতিন
![]() |
| রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কিন নেতৃত্ব এখনই বেশি দরকার: ওবামা
![]() |
| বারাক ওবামা |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নওয়াজকে আবার আলটিমেটাম
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডি মারিয়ার অভিষেকেও বিবর্ণ ম্যানইউ
ম্যানইউ ব্যর্থ হলেও জার্মানির বুন্দেসলীগায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। বেয়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে হার দিয়ে মৌসুম শুরু করা ডর্টমুন্ড পরশু ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে অ্যাসবুর্গকে। ১১ মিনিটে মার্কো রেউসের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ডর্টমুন্ডের মুঠোয় চলে আসে ম্যাচ। ৮১ মিনিট পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল তারা। শেষ পর্যন্ত কোনো অঘটন না ঘটলেও শেষ আট মিনিটে দুই গোল হজম করে চাপে পড়ে গিয়েছিল ডর্টমুন্ড। এদিকে স্প্যানিশ লীগে মালাগাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ভ্যালেন্সিয়া। এএফপি।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আলাল দুলাল পঞ্চমপত্রে তারা তিনজন
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নওয়াজকে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন হাইকোর্টে

নওয়াজ শরিফ গত বছর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হন। তখন থেকেই তিনি পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া কঠিন করেছেন, বেসামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছেন। এ দু’টি কারণে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, ভারতের সঙ্গে নওয়াজ শরিফ সম্পর্ক উন্নত করার কথা বলেছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর রয়েছে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের এক ইতিহাস। তাদের নিজস্ব ব্যবসা আছে। এ বাহিনীতে রয়েছে ৫ লাখের মতো শক্তিশালী স্ট্যান্ডিং সেনা সদস্য। ১৯৪৭ সালে বৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর চারটি যুদ্ধ করেছে এই দেশ দু’টি। পাকিস্তানি বিশ্লেষক মোশাররফ জাইদি বলেন, পাকিস্তান ও ভারত যদি স্বাভাবিক প্রতিবেশী হতো তাহলে স্বাভাবিকভাবে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীর প্রভাব কমে যেতো। কিন্তু তা সহজে হওয়ার নয়। নওয়াজ শরিফকে বেষ্টন করে আছে তার অনুগত ও চাটুকার উপদেষ্টা, আমলারা। এতেই তার ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরি তার বিরুদ্ধে আন্দোলন শানিয়ে নিয়েছেন। ইমরান খানের অভিযোগ, ২০১৩ সালের নির্বাচন ছিল কারচুপির। ওই কারচুপির নির্বাচনের সুবিধা ভোগ করছেন নওয়াজ শরিফ। তিনি চান, এই সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন। নিরপেক্ষ বেশির ভাগ পর্যবেক্ষক মনে করেন, যে অনিয়মগুলো পাকিস্তানে আছে নতুন নির্বাচন দিয়ে তা পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। অন্যদিকে তাহিরুল কাদরি তার জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়ে দিয়েছেন কানাডায়। তবে দেশে রয়েছে তার বিপুল সংখ্যক অনুসারী। তিনি পাকিস্তানের গণতন্ত্রে স্বচ্ছতার আহ্বান জানিয়েছেন। দু’সপ্তাহ ধরে ইমরান খান ও কাদরির কয়েক হাজার সমর্থক রাজধানী ইসলামাবাদের রাজপথে রয়েছেন। তুলনামূলক তাদের সংখ্যা কম হলেও তারা দেশকে দৃশ্যত অচল করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে পাকিস্তানের সাংবাদিক ও লেখক রাজা রুমি বলেন, এমন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা পাকিস্তানে নতুন নয়। দেশ কিভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে সেনা শাসন ও দুর্বল বেসামরিক সরকারের মধ্যে বোঝাপড়া আটকে আছে বহুদিন ধরে। ওদিকে পার্লামেন্টে নওয়াজ শরিফ এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ। তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। তা সত্ত্বেও ক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে তিনি দুর্বল। এ বিষয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের পাকিস্তান ব্যুরো প্রধান টিম ক্রেইগ বলেন, ১৯৯৯ সালে পারভেজ মোশাররফের অভ্যুত্থান যখন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে তার বাসভবন থেকে বের করে এনেছিল সেই অনুভূতির কথা মনে করে নওয়াজ শরিফ হয়তো বিকল হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি অবমাননার ভয় করেছিলেন। এখন আবার তাকে দৃশ্যত অনেক বেশি নার্ভাস দেখা যাচ্ছে। যখন তিনি সঙ্কট মোকাবিলা করতে যাচ্ছেন তখন তাকে দেখা যাচ্ছে খুব বেশি সতর্ক। যদি তিনি ইমরান খান ও কাদরির সমর্থকদের বিক্ষোভের অনুমতি দিতেন পার্লামেন্টের সামনে তাহলে মিডিয়ায় তা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি করা হতো না। কিন্তু নওয়াজ শরিফ তার পরিবর্তে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে চলে গেলেন এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন। তিনি ইমরান খান ও কাদরির বিরুদ্ধে কোন ফলপ্রসূ পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো নিজেকে নিজের ঘরের মধ্যে বন্দি করে ফেললেন। এর ফলে নওয়াজ এখন দৃশ্যত অনেকটা দুর্বল ও অকার্যকর। পাকিস্তানের মতো দেশে যে নেতা একবার দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি সেখানে বেশিদিন টিকে থাকতে পারেন না। তবে এখনও পুরোপুরি সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছে- এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে জাইদি বলেন, প্রতিবেশী ভারত, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই কেমন হবে সে বিষয়ে এখন সেনাবাহিনী তার অবস্থান জানাতে পারে।
ওদিকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তা গত কয়েকদিনেই স্পষ্ট হয়েছে। কারণ, তিন দিনের মধ্যে সেনাবাহিনী দু’বার সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। সেখানে তারা দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে কথা বলেন। এরপর শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ জাতীয় পরিষদে ভাষণে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য মধ্যস্থতা করার অনুমতি দেয়ার কথা স্বীকার করেন। এরপর সেনাপ্রধান ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গতকাল দ্বিতীয় দফা ইমরান খানের সঙ্গে স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় আলোচনায় বসার কথা জেনারেল রাহিল শরিফের। ওদিকে, তাহিরুল কাদরির পিএটি বলেছে, সেনাবাহিনী যে হস্তক্ষেপ করেছে এ বিষয়ে তারা আশ্বস্ত হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়ার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তারা দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়। বাংলাদেশের মানুষ ভাল থাকলে তার ভাল লাগে না। দেশের উন্নয়ন তিনি পছন্দ করেন না। কিন্তু এই শিক্ষা আমার বাবা-মা আমাকে দেয়নি। আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য একটাই দেশকে প্রতিষ্ঠিত করা। এই দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। শেখ হাসিনা বলেন, আমার হারাবার কিছুই নেই। পাওয়ার কিছুই নেই। আমি একদিনে মা, বাবা, ভাই, বোন সকলকে হারিয়েছি। বারবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। আমি জাতির পিতার সন্তান। তার আদর্শে বড় হয়েছি। বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য, শোষিত বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াবার জন্য আমি এখনও বেঁচে আছি।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিচারপতিদের অভিশংসনের বিষয়টি ’৭২-এর সংবিধানে ছিল। এখন সেটি আবার ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যারা বাহাত্তরের সংবিধানের প্রণেতা ছিলেন তারাই এখন এর বিরোধিতা করছেন। তিনি বলেন, যারা ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চায় তারা এখনও সরব। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা ছিল সংসদের হাতে। পরে সেনাসমর্থিত সরকার তা বাতিল করে। আগামী সংসদ অধিবেশনে ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে অভিশংসন ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনা হবে। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে সমাবেশে তিনি বলেন, তিনি ১৫ই আগস্ট জন্মদিন পালন করেন। আমি এটিকে বলি জারজ জন্মদিন। শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, সংবিধান, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মীদের বলবো, সকল ভেদাভেদ ভুলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হোন। জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, নগর আওয়ামী লীগের নেতা হাজী মো. সেলিম, মুকুল চৌধুরী, ফয়েজ আহমেদ, কামাল আহমেদ মজুমদার, শাহে আলম মুরাদ, সংসদ সদস্য একেএম রহমতউল্লাহ, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কণ্ঠরোধের চেষ্টা
শুরুতে আলোচনা সভার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন মাহফুজ আনাম। তিনি বলেন, সম্পাদক পরিষদ প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সংগঠন হলেও গণমাধ্যম বলতে আমরা ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট, অনলাইন সব ধরনের মিডিয়াকেই বুঝে থাকি। সম্প্রচার নীতিমালাকে আমরা স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম প্রসারের পরিপন্থি মনে করি। তিনি বলেন, গণমাধ্যম স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অন্যতম অর্জন। কিন্তু সাম্প্রতিককালে আমরা কিছু অশুভ উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি। জেলা প্রশাসকদের হাতে আগে পত্রিকা বন্ধ করে দেয়ার ক্ষমতা ছিল। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের অস্থায়ী সরকারের সময় আইন সংশোধন করে সে ক্ষমতা রহিত করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিককালে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে সে ক্ষমতার পুনর্বহাল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অনলাইন সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের জন্যও আইন তৈরি হচ্ছে। আর পর্দার আড়াল থেকে সম্প্রচার নীতিমালা এরই মধ্যে সামনে এসে গেছে। মাহফুজ আনাম বলেন, কোন ধরনের নীতিমালা ছাড়াই আমাদের ইলেকট্রনিক মিডিয়া ভাল কাজ করছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়া আমাদের সংবাদ মাধ্যম জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। তাহলে নীতিমালার কেন প্রয়োজন হবে? আর বিদ্যমান আইনেই মিডিয়ার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ এলে তার বিচার সম্ভব। তিনি বলেন, নীতিমালায় কোন ইতিবাচক কথা নেই। একটি কথাই কেবল বলা হয়েছে পারবেন না, পারবেন না। এ নীতিমালার মাধ্যমে মিডিয়াকে আষ্টেপৃষ্ঠে বাধার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, উন্নয়ন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা একে অপরের পরিপূরক। যে সব দেশে গণমাধ্যম স্বাধীন সেসব দেশে দুর্ভিক্ষ ও সামাজিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা কমে যায়।
বিএফইউজে’র একাংশের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, গণমাধ্যমের সামনে চ্যালেঞ্জ শুধু নীতিমালাই নয়। গণমাধ্যমের সামনে আরও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ওয়েজ বোর্ড, সময়মতো বেতন পরিশোধ এসবও গণমাধ্যমের জন্য চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা হঠাৎ করে আসেনি। দীর্ঘদিন থেকেই এ নিয়ে আলোচনা চলে আসছে। তিনি বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়নের ব্যাপারে আমরা চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলাম। টেলিভিশনের লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় চাকরির সুরক্ষা এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে জানিয়েছি সম্প্রচার কমিশন গঠন করতে হবে সংবাদ মাধ্যমের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে। কোন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা অথবা আমলাকে আমরা সম্প্রচার কমিশনে মেনে নেবো না। মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, সম্পাদকীয় নীতিমালা চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়। ডেইলি স্টার, প্রথম আলো এবং ভোরের কাগজের সম্পাদকীয় নীতিমালা এক হবে না। এটাই স্বাভাবিক।
বিএফইউজে’র অপরাংশের সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, মাহফুজ আনাম যে বক্তব্য রেখেছেন আমি তার সঙ্গে সহমত পোষণ করি। সম্প্রচার নীতিমালা স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি এক ধরনের বিদ্রূপ। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গণমাধ্যমের সংঘাত ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। আর গণমাধ্যম সবসময়ই জনগণের পক্ষে ছিল। তিনি বলেন, আমরা কখনও গণমাধ্যমের জন্য কোন নীতিমালা চাইনি। কারণ আমরা জানতাম কার হাতে নীতিমালা গেলে কি হবে। এ নীতিমালা বাতিল করতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারতের সংবিধানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলা নেই। কিন্তু ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হিসেবেই স্বীকৃত।
টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন-এটকো’র সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল আই’র পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজ বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমরা মতামত দিয়েছিলাম। একটি বৈঠকে আমরা যোগ দিয়েছি। আমাদের কিছু মতামত গ্রহণ করা হয়েছে, কিছু মতামত গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু আমাদেরকে বাইপাস করেই মন্ত্রিসভায় নীতিমালা উত্থাপন করা হয়েছে। খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর আমাদেরকে তা দেখানো হয়নি। তিনি বলেন, মানুষকে জাগ্রত করার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ঈর্ষণীয় সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, অংশীজনদের মতামত নেয়ার কৌশল কার্যকর না করেই এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। যারা সরকারকে এ কাজটি করতে উৎসাহিত করেছেন তারা সরকারের বন্ধু নন। এর মাধ্যমে তারা সরকারের যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন আপনারা সবাই মিলেও তা করতে পারবেন না। সরকারকে যারা এ বুদ্ধি দিয়েছে সে উপদেষ্টাদের খুঁজে বের করা প্রয়োজন। তারা আসলেই উপদেষ্টা থাকার যোগ্য কিনা তা-ও দেখার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, নীতিমালায় বলা হয়েছে সংবাদমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত করে সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ধরনের কথা পৃথিবীতে আর কোনদিন হয়তো শোনা যায়নি। তিনি নিজেদের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করার জন্য সম্পাদক পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা ছাড়াও গণমাধ্যমের জন্য আরও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রয়োজন কিনা এ নিয়েও বিতর্ক হচ্ছে। যেহেতু গণমাধ্যমগুলো নিজেদের জন্য কোন নীতিমালা প্রণয়ন করেনি তাই তথ্য মন্ত্রণালয় সুযোগ পেয়ে একটি নীতিমালা চাপিয়ে দিয়েছে। নীতিমালা চাপিয়ে দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমরা এমনিতেই অনেক বিপদের মধ্যে রয়েছি। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা একটি বিপদ এবং আপদ। আশার কথা হচ্ছে সম্পাদক পরিষদ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। গণমাধ্যমের ওপর যে আক্রমণ আসছে তার একটি কারণ সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য নেই। তাদের বিভাজন অত্যন্ত দুঃখজনক। পাকিস্তান আমলেও দেখা গেছে, করাচি থেকে কক্সবাজার-সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। সে সময় সাংবাদিকরা যতটুকু স্বাধীনতা ভোগ করেছেন তা তাদের ঐক্যের কারণেই পেরেছেন। তিনি বলেন, দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়নি, সামরিক শাসন জারি করা হয়নি। অথচ গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে, কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনিতেই আমাদের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত। মালিক, সরকার, বিজ্ঞাপনদাতাদের দ্বারা গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত। এখন নতুন করে আরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। আমাদের একমাত্র ভরসার জায়গা ছিল গণমাধ্যম। সে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখন ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ১১৫ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে রাষ্ট্রের বিরোধ প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে। ইংরেজ কবি জন মিল্টন তার সমর্থনপুষ্ট সরকারের বিরুদ্ধেই সোচ্চার হয়েছিলেন। কারণ সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা হচ্ছে মানুষের চিন্তা করার স্বাধীনতা। তিনি বলেন, এখন জনগণকে ভয়ঙ্কর মনে করা হচ্ছে। এ কারণে ভয়ঙ্কর নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
গোলাম সারওয়ার বলেন, সম্প্রচার নীতিমালার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে তা নিজেই স্তব্ধ হয়ে গেছে। তথ্যমন্ত্রী নিজেই বলছেন, এটা ঠিক নীতিমালা নয়, একটা গাইডলাইন। উনি টিভি চ্যানেলগুলোকে স্পষ্ট করে বললেই হয় বিটিভি যেভাবে চলছে আপনারা সেভাবেই চলুন। স্বাধীন গণমাধ্যমের উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের গণমাধ্যমের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের বিরোধী দলের নেতারা সরকারি টিভি চ্যানেলের টকশোতে স্বাধীনভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারেন। ১৯৯১ সালের পর আমরা যে শক্তিশালী গণতন্ত্র পেয়েছি তা গণমাধ্যমের কারণেই সম্ভবপর হয়েছে। যোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে সম্প্রচার কমিশন গঠনের দাবি রেখে তিনি বলেন, আমাদের দেশে কমিশনের নামে সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়ে থাকে। তাই একজন যোগ্য ব্যক্তির সমন্বয়ে কমিশন গঠন করে তার মাধ্যমে একটা নীতিমালা হতে পারে। গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে দায়বদ্ধতাও আছে। পত্রিকা, টিভিতে অনেক সময় ভুল তথ্য পরিবেশন হওয়ার সুযোগ থাকে। এগুলো সংশোধন করা দরকার। গণমাধ্যমগুলোর নিজেদের উদ্যোগে একটি আচরণবিধি তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রচার নীতির ত্রুটির কারণে সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে উল্লেখ করে এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ মুন্নী সাহা বলেন, এতে নতুন প্রজন্ম উৎসাহিত হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সকলকে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা গণমাধ্যমের জন্য সহায়ক নয় এটা স্পষ্ট। এই নীতিমালা বাতিল করা হোক। নীতিমালা যদি করতেই হয় তবে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য কোন ব্যক্তির নেতৃত্বে সম্প্রচার কমিশন গঠন করে অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ করে একটা নীতিমালা করতে হবে।
এটিএন বাংলার হেড অব নিউজ জ. ই. মামুন বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে গণমাধ্যমের জন্য একটা নীতিমালা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে যে সম্প্রচার নীতিমালা তা সংবিধানের ওই নীতিমালার বিস্তারিত রূপ। এক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের জন্য তিনি সংবিধান বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্য এজেএম শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, এই নীতিমালার উদ্দেশ্য গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ নয়। সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চাইলে পুরাতন আইন দিয়েই করতে পারে। এরকম অনেক আইন আছে। নীতিমালার অনেকগুলো অংশের ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। তবে স্বাধীনতার সীমাটাও বিতর্কের মাধ্যমে নির্ধারণ করা দরকার।
একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু সম্প্রচার নীতিমালার বিপক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, যার টাকা ও যোগ্যতা আছে সে টেলিভিশনের লাইসেন্স পাবে। ভাল-মন্দ জনগণ বিচার করবে। শুধু বিশেষ কোন বাহিনী নয়, যে কাউকেই কটাক্ষ করার অধিকার গণমাধ্যমের নেই। এই নীতিমালা শুধু গণমাধ্যম নয় পুরো বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যম জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে। গণমাধ্যমের অধিকার খর্ব হলে নাগরিক অধিকার খর্ব হয়। সম্প্রচার নীতিমালাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে দেশের বিদ্যমান কিছু আইনের সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক হবে। নীতিমালার বাক্য গঠনে কিছু কপটতা ও ছলনার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। এই নীতিমালার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। গণতান্ত্রিক দেশে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ নেই। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার লাইসেন্স প্রদানে কমিশনের ক্ষমতা প্রসঙ্গে বলেন, নীতিমালা অনুসারে কমিশন শুধু লাইসেন্স প্রদানের সুপারিশ করতে পারবে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবে মন্ত্রণালয়।
মাছরাঙা টেলিভিশনের চিফ এডিটর সৈয়দ ফাহিম মুনএম বলেন, আমরা কিভাবে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করবো এটা অন্যরা বলে দেবে- আমরা বিষয়টি নিয়ে লজ্জিত। সরকার নীতিমালা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। প্রতিটি হাউজে নীতিমালা রয়েছে বলে জানা নেই। এটার কোন প্রয়োজনও নেই। দেশের প্রচলিত আইনকেই নীতিমালা হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।
নিউজ টুডে পত্রিকার সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা দিয়ে গণমাধ্যমের সামনে চ্যালেঞ্জ শুরু হয়েছে। এর নিচে পর্বত অপেক্ষা করছে। ইতিহাস থেকে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে আইন করে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হয়েছে। এটাকে নীতিমালা বলা যায় না। এটা গণমাধ্যমের জন্য একটা ভীতিমালা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আমরা যেন সেলফ সেন্সরশিপ গ্রহণ করি সে উদ্দেশ্যেই এটা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। এটা কোনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার তার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য নীতিমালা করছে দাবি করে তিনি বলেন, এই নীতিমালা দেশকে গণতন্ত্রহীনতার দিকে নিয়ে যাবে। এটাকে প্রতিরোধ করতে হবে।
[গত ৪ঠা আগস্ট মন্ত্রিসভা সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদন করে। পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।]
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্যাইলা বাবুর নেতৃত্বে ১৫ সন্ত্রাসী কিলিং মিশনে অংশ নেয়

গতকাল সকালে ওই টিনশেডের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাড়ির সামনে দুইজন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছয়রুমের টিনশেডের বাড়িটিতে তালা লাগানো। তবে মূল গেট খোলা ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম মিয়া জানান, ‘ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত রানুর ভাই থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১৫ জন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই ক্যাইলা বাবুর সহযোগী। মামলার আসামিরা হলো: ক্যাইলা বাবু, শাহাদাৎ, রাজু, সিরাজ, ঠানডু, দিলীপ, অপু, ফারুক, সোহেল, মারুফ, আরিফ, বিল্লাল ও পিচ্চি রনি ও জনি। তিনি আরো বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফারুক ও সোহেল হত্যাকাণ্ডের সময় ছিল। এছাড়াও তারা কিভাবে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ ও এজাহারভুক্ত ১৫ জন আসামি সেখানে উপস্থিত ছিল বলে গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, ক্যাইলা বাবু নিহতদের গুলি করেছে। অন্যরা কেউ বাড়ির দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেছে। কেউবা স্থানীয়রা যেন ভিকটিমদের বাঁচাতে না আসে এ জন্য পাহারারত ছিল। গুলি ও ভাঙচুরের শব্দ শুনে আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবাই বাড়ির জানালা ও দরজা লাগিয়ে দেয়।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয়রা অনেকেই কর্মজীবী। সন্ধ্যার পর সারাদিনের কাজ করে তারা বাড়ি ফিরছিল। বাড়িটি সরু গলির মুখে। বড় কোন গাড়ি ঢুকতে পারে না। স্থানীয় লোকজন কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গুলি ও ভাঙচুরের শব্দ শুনে আর সরু গলি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে অনেকেই আহত হয়। ক্যাইলা বাবুর নেতৃত্বে ১৫ জন সন্ত্রাসী মাত্র ১০ মিনিটেই ঠাণ্ডা মাথায় ট্রিপল খুন করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। শুক্রবার ক্যাইলা বাবুর দুই চাচীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এ মামলার বিষয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশ (দক্ষিণ)’র উপ-পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘খুনের ঘটনার মূল মোটিভ পুলিশ জানতে পেরেছে। রেলের জমি ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। এর সঙ্গে আরো কোন বিষয় আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনের ঘটনার পর মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা মগবাজার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। খুনের প্রধান আসামিসহ অন্যদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। খুব দ্রুত মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে। এদিকে, গতকাল সকালে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহহার আকন্দের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা খুনের স্থান ঘুরে দেখেন। আশেপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কাছে পাওয়া তথ্য নোট নেন। তবে ওই এলাকার লোকজন সিআইডির সদস্যদের সঙ্গে বেশি কথা বলতে রাজি হয়নি।
মামলার বাদী শামীম ওরফে কালাচান জানান, ‘যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মামলার মূল আসামি খুনি সন্ত্রাসী ক্যাইলা বাবুকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আমরা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ক্যাইলা বাবুসহ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত আছে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের প্রতি দাবি জানান। লাশের ময়নতদন্ত শেষে নিহতদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লেসোথোয় সামরিক অভ্যুত্থান পালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আফিয়ার নামে সহিংসতা করবেন না -বোন ফওজিয়া সিদ্দিকীর আর্তি

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কৃচ্ছ্রসাধন এবং আমরা by মোহাম্মদ কায়কোবাদ
১. ২০১৪ সালের প্রোগ্রামিংয়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের আগে ও পরে রাশিয়ার ইকেটেরেনবুর্গ শহরের কোনো ছোট হোটেলে থাকতে হবে। খুঁজতে গিয়ে একটি বড় হোটেলের পাঁচ মিনিট দূরত্বে পেয়েও গেলাম। ভেতরে ঢুকতেই হতবাক। দেশের চতুর্থ বৃহত্তম শহরে ১০ X ২০ ফুট মাপের একটি বাসায় চারটি খাটের ওপর আরও চারটি খাট বসিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাতে থাকে সেই দেশের নাগরিকেরা, যে দেশ আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম, যে দেশের মাথাপিছু জায়গা বরাদ্দ ১ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার। পক্ষান্তরে আমাদের মাথাপিছু বরাদ্দ কেবল ১৫০ গুণ কম! আমাদের নিশ্চয়ই তাহলে এক খাটের ওপর চার-পাঁচটি খাট বসিয়ে বড় বড় হোটেলে থাকা উচিত!
২. ভারতে ট্রেনে শুধু সাধারণ কামরায়ই নয়, এমনকি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কামরায় একটি বেঞ্চাকার সিটের ওপর আরও দুটি বসিয়ে শোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ভারতের থেকে আমাদের জনঘনত্ব কমপক্ষে তিন গুণ, তাহলে আমাদের কয়টি বসানো উচিত? এমনকি ভারতের মতো তিনখানাও তো দেখলাম না। ভারতে এমনকি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কামরায় আরও সাশ্রয়ীভাবে যাওয়ার সুযোগ আছে, যাকে বলে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (সাশ্রয়ী)। ভারতের মাথাপিছু আয় এখন আমাদের দুই গুণ, জনঘনত্ব তিন গুণ কম। একবার আমাদের একজন সম্পাদকের কাছে শুনেছিলাম যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকসাইটে এক সচিব অবসরে যাওয়ার পর দুই কামরার বাসায় থাকছেন। আমরা নিশ্চয়ই তাঁকে কঞ্জুস বলে নিজেদের ভোগের মাহাত্ম্যে গর্বের ঢেকুর তুলব।
৩. চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনে কুনমিং থেকে তাইপেই প্রায় ১০ হাজার ডলার মাথাপিছু আয়ের দেশের থেকে ৪০ হাজার ডলার আয়ের দেশের ঘটনা। দ্বিতীয়বার ফলের রস খাওয়ার জন্য আগে দেওয়া ফেলনাযোগ্য গ্লাসটি চাইতে আমি তো রীতিমতো অবাক। যতক্ষণ পারো ব্যবহার করো, তারপর তার রিসাইক্লিং করো, তাও ফেলে দেবে না। তাইওয়ানে তারা আরেক কাঠি সরেস। পানি খেতে যেতে দেখি কোনাকৃতি হালকা কাগজের পাত্র। ফেলেই যখন দিতে হবে তা তৈরিতে এত কাঠখড়ি পোড়াব কেন? আকারেও যেন ছোট হয়, দামেও যাতে সস্তা হয়। কৃচ্ছ্রসাধন সর্বত্র, যদিও মাথাপিছু আয় আমাদের থেকে ২০ গুণ বেশি।
৪. এসিএম আইসিপিসির আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় কানপুর গিয়েছি। আগের বছর ঢাকা সাইটের পুরস্কার বিতরণী এবং সান্ধ্যভোজ আমরা হোটেল শেরাটনে করেছিলাম। গিয়ে দেখি হলগুলোর পাশে শামিয়ানা টানিয়ে সেখানেই সান্ধ্যভোজের ব্যবস্থা, যদিও মাথাপিছু আয় আমাদের দ্বিগুণ! কলকাতা শহরে একটি দোকান খুঁজছিলাম, যেখান থেকে দেশে একটি ই-মেইল করতে পারি। আলো-আঁধারিতে এক দোকান, ভেতরে কয়েকটি মান্ধাতার আমলের কম্পিউটার, কি–বোর্ডের বর্ণগুলো দেখা যায় না, মাউস নাড়ালে কোনো উত্তর নেই। সেই কম্পিউটার বাসায় নয়, ব্যবসার জন্য ব্যবহার করছে। প্রতি ১৫ মিনিট কিংবা তার অংশবিশেষের জন্য ১০ রুপি।
৫. পার্শ্ববর্তী দেশে তথ্যপ্রযুক্তির জয়জয়কার দেখে দেশে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কত উচ্চবাচ্য করছি কিন্তু কাজের কাজটি সম্ভবত এখনো হচ্ছে না। কোনোভাবেই সরকারি কোনো বাহিনীর সঙ্গে বিদেশে গিয়ে নিজের বিদ্যাবুদ্ধি সতেজ করার উপায় নেই। ঠিক করলাম নিজেই ভারতে গিয়ে দেখে আসব। গেলাম চেন্নাই শহরে। এক ভদ্রলোক খুব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাবেন বলে একটি পুরোনো যুগের খসে পড়া দেয়ালের ভবনের দোতলায় নিয়ে একটি তেল-চিটচিটে টেবিলের সামনে দাঁড় করালেন। টেবিলের ওপরে বসানো কম্পিউটারকে আরও মান্ধাতার আমলের মনে হলো। আইআইটি মাদ্রাজের টিনএজার ছাত্রজীবনের প্রথম কম্পিউটার দিয়ে এমন সব সফটওয়্যার তৈরি করছে যে মাইক্রোসফট তাকে ইন্ডাস্ট্রি প্রোডাক্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং মাত্র ২২ বছর বয়সে ৩৬ জন আইআইটি স্নাতক তার সঙ্গে কাজ করছে। কি–বোর্ডের বর্ণ না হয় দেখা না-ই গেল, মাথায় তো আর বুদ্ধি কম নয়, তাই পুরোনো কম্পিউটার দিয়ে যতক্ষণ কাজ করানো যায় করিয়ে নিচ্ছে। গিগাহার্টজ মেশিন নয়, আসল সম্পদ হলো মাথা। মেশিনে কাজ হলে কুয়েত, কাতার আর সৌদি আরব হতো সবচেয়ে উন্নত দেশ। তা কিন্তু নয়, তেল-গ্যাস সম্পদহীন জাপান হলো সবচেয়ে ঐশ্বর্যশালী আর তাদের সম্পদ হলো তাদের মাথা, জ্ঞান, প্রাযুক্তিক দক্ষতা। আমাদেরও যদি কোনো সম্পদ থেকে থাকে তা হলো মানুষ, যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। প্রাকৃতিক কিংবা ভৌত অবকাঠামোতে তো আমাদের এখনই সমৃদ্ধ হওয়ার কথা নয়।
৬. নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শুরুতে যিনি অবদান রেখেছিলেন, আইআইটি কানপুরের সেই অধ্যাপক ফাল্গুনী গুপ্ত ও তাঁর স্ত্রীকে বাসায় দাওয়াত করেছি। বড় বড় ফার্মের মুরগি কিনেছি। রোস্ট করার পর দেখতে খাসির পায়ের মতো লাগছে। ছয়-ফুটি ফাল্গুনী অতিকষ্টে নিজের প্লেটেরটা শেষ করে স্ত্রী এবং তনয়ার প্লেটের প্রায় অক্ষত ড্রামস্টিকের দিকে তাকিয়ে বললেন, দুজন মিলে তো একটা খাওয়ার চেষ্টা করতে পারতে। এত মূল্যবান খাবার নষ্ট হয়ে যেতে তাঁর যে কষ্ট হচ্ছিল, তাতে আমারই খারাপ লাগছিল। অবশ্য দুর্বল অর্থনীতির দেশের নাগরিক হিসেবে বেহিসাবে খরচ করার জন্য নয়।
৭. আমার এক বন্ধু নামকরা বিদেশি দাতা সংস্থায় কর্মরত। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তারা কৃচ্ছ্রসাধনে মনোনিবেশ করেছে। নোটিশ দিয়ে সব কর্মকর্তাকে জানিয়ে দিয়েছে যে এই কৃচ্ছ্র সত্ত্বেও সভাগুলোতে গরম পানি সরবরাহে কার্পণ্য করা হবে না। আবার তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রধানও নাকি ইকোনমি ক্লাসে বিমান ভ্রমণ করে থাকেন। দাতা সংস্থার কৃচ্ছ্রসাধন যদি এমন হয়, তাহলে যাদের দান করে, তাদের থেকে এই সংস্থার প্রত্যাশা কী হওয়া উচিত?
সীমিত সম্পদের দেশে আমরা যেন সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করে দেশকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যাই, এটাই প্রত্যাশা।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ফেলো, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এখন, না হয় কখনোই নয় by ইমতিয়াজ গুল
আর এই দাবি পূরণ হতে হলে মন্ত্রীদের লাশের ওপর দিয়ে তা হতে হবে, মুসলিম লীগের নেতারা বলেছেন। বুধবার বিকেলে দেখা যায়, শরিফ-সমর্থকেরা খুব ক্ষীণ গলায় বলছেন, না, সবকিছু ঠিক আছে। মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের চীন সফরের সময়ও এমনটা দেখা গেছে।
বড় শরিফ তাঁর মতো করে গণতন্ত্রের জন্য বুক চাপড়াচ্ছেন। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে তিনি মিত্রদের ধন্যবাদ দিয়ে বলেছেন, বর্তমান ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘একটি লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে...সেটা কোনো ব্যক্তিবিশেষের ব্যাপার নয়...সরকার যায়, সরকার আসে, প্রধানমন্ত্রীরা আসে-যায়, কিন্তু নীতি, গণতন্ত্র ও সংবিধান টিকে থাকে।’
নওয়াজ শরিফ শুধু এটুকুই বলতে পারেন। এর জন্য তিনি শুধু তাঁর পার্টির হোমরাচোমরা ও পরামর্শকদের দোষারোপ করতে পারেন, কারণ:
১. ১৭ মার্চ পুলিশ লাহোরে ১৪ জন বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করার পর দেখা গেল, পিএমএলের এই উপদেষ্টারা শুধু ঝামেলা লাগাতেই পারেন।
২. দলটির এই হইচই দেখে বোঝা যায়, সেখানে কোনো সংকট মোকাবিলার ব্যবস্থা নেই। দলটিতে কোনো অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাপার নেই, বড়জোর সেটা কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে। নওয়াজ শরিফ ও তাঁর কয়েকজন মন্ত্রীর আচরণে এমনটা মনে হয়েছে। গণতন্ত্র ও জনগণের কাছে জবাবদিহির কোনো বালাই এখানে নেই।
৩. দলটিতে না-বলার এক বৈপরীত্যমূলক সংস্কৃতি রয়েছে। এরা বিরোধী দলের ওপর ক্ষমতালোভী মাস্তানের মতো হামলে পড়ে আর অভিযোগ করে, এরা অসাংবিধানিক ও অবৈধ দাবি করে। আবার এরা একদল দুষ্কৃতকারীর সঙ্গে সংলাপে বসে এবং তাদের ‘পাঁচ থেকে ছয়টি দাবি মেনে নেয়’।
৪. দলটি দাবি করে, তারা কারও কোনো ক্ষতি করে না। কিন্তু বিরোধী পক্ষ থেকে সব সময় আওয়াজ তোলা হয়, নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে।
আমার এ লেখা যখন ছাপাখানায় যায়, তখন রাজধানীর দুটি প্রধান হোটেল এমকিউএম, পিপিপি ও অন্যান্য দলের নেতাদের কলকাকলিতে সরগরম হয়ে উঠেছে। কয়েক শ মিটার দূরে, পিটিআইয়ের নেতা জাহাঙ্গীর তারিনের বাড়িতে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি আলোচনায়ও বসেছেন। তাঁরা যত এককাট্টা হচ্ছেন, ততই একটা ব্যাপার মনে হচ্ছে: সব গুরুভার প্রধনমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত। ফলে, এই পদে যিনি থাকবেন, তাঁর বিচক্ষণতা, ঔদার্য ও আগে থেকে পদেক্ষপ নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।
এমকিউএমের একজন শীর্ষ নেতাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে কীভাবে এই ত্যাগ ও ঔদার্যকে ধারণ করবেন? এটা আমরা কথা বলে ঠিক করব, তিনি বলেন। এই নাকচ করার সংস্কৃতি হালে আর পানি পাবে না। বর্তমান অবস্থায় অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যা নিরাপত্তাসংকটেও মোড় নিতে পারে, যদি কাদরি তাঁর দাবি থেকে সরে আসতে অস্বীকার করেন: ১৭ জুনের হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের ও শরিফ ভাতৃদ্বয়ের পদত্যাগ। এর পাশাপাশি এফআইআর-বিষয়ক মতৈক্য, ভোট অডিট, নির্বাচনী সংস্কার প্রভৃতি বিষয়ে অধিকাংশ দলই ঐকমত্যে পৌঁছেছে। তারা ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্যাগের বিষয়েও’ মতৈক্যে পৌঁছেছে।
এই সংকট নিরসনে ব্যাপক আলোচনা চলার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি মন খুলে কথা বলেছেন। গিলানি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে বলেছেন, ‘তারা আমার ঘুম হারাম করে দিয়েছিল। সে সময় তারা সংসদের আধিপত্য স্বীকার করেনি, এর উল্লেখ পর্যন্ত করেনি। তার পরও আমরা এখন ব্যবস্থার পক্ষে দাঁড়িয়েছি।’
সংসদে নওয়াজ শরিফের বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় গিলানি বলেছেন, এই সংকটের পেছনে কে, সেটা খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত করা কোনো কাজের কথা নয়। এ সময় কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লাগলে তার ফল ভালো হবে না। গিলানি আরও বলেছেন, আরও আগেই স্থানীয় মডেল থানায় এফআইআর করা উচিত ছিল। আইনের শাসন বেছে বেছে প্রয়োগ করার ব্যাপার নয়।
পিপিপিও এই বিষয়ে কাজ করছে, একজন এমকিউএম নেতা টিএফটিকে বলেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি খুবই বিতর্কিত। ফলে, এর পরিণতি বিপর্যয়কর হলে তা হবে আরও খারাপ, এ বিষয়ে সরকারকে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
এতে ইমরান ও নওয়াজ উভয়েরই মুখরক্ষা হবে বলে মনে করেন সেই এমকিউএম নেতা। এমকিউএম ও পিপিপির নেতারা আরও বলেছেন, সব দলের নেতারা একটি লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলে সেটাও একটি সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে। তার মানে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোটের অডিট, সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনী সংস্কার—এসবই এখন পথ দেখাতে পারে।
অধিকাংশ দলই মনে করে, চলমান সংকটের মোকাবিলা সহিংস পন্থায় হলে পরিস্থিতি শুধু জটিলই হবে না, পিএমএল-এনও ভেতর থেকে বিভক্ত হয়ে পড়বে। ফলে, দলটির ভোটব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং নওয়াজের হাতে আর কোনো সুযোগ থাকবে না।
ইমরানের ভরসা কোথায়? দ্রুত পরিবর্তনশীল জনসংখ্যাতত্ত্বেই তাঁর ভরসা নিহিত রয়েছে। পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্ম, যাদের বয়স ১৫ থেকে ৩৯ বছর, তারা ঔপনিবেশিক শাসন দেখেনি। আইনের শাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রভৃতি বিষয়ের সঙ্গে তারা পরিচিত। ফলে, পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তারাই প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।
ইমরান খানের সমর্থকেরা মনে করে, দলটির তরুণ সমর্থকদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে, যেটা গণতন্ত্রের আদর্শ বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। তাদের মধ্যে স্বপ্ন থাকতে হবে, পরিবারতন্ত্রের বাইরে গিয়ে পাকিস্তান আইন ও মেধার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
নওয়াজ শরিফ এই সংকট কাটিয়ে উঠলেও শরিফ ভাতৃদ্বয়ের আশা-ভরসা খুব একটা নেই বললেই চলে। ছোট ভাইয়ের পদত্যাগে দলটিতে ঐেক্যর ঘাটতি হবে, এই ব্যক্তি তাঁর একনায়কতান্ত্রিক শাসনের মাধ্যমে পুরো পাঞ্জাবকে ধরে রেখেছেন। সেখানে অন্য কাউকে বসালে আবার নওয়াজের কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন² হবে।
সংকট একদিন না একদিন কেটে যাবে, কিন্তু রাজনৈতিক ব্যবস্থার একদম বারোটা বেজে যাবে, অর্থনীতি ধসে পড়বে আর পিএমএল-এনের মধ্যে ফাটল ধরবে।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন; দ্য ফ্রাইডেটাইমস.কম থেকে নেওয়া
ইমতিয়াজ গুল: ইসলামাবাদভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশীয় কয়লা ও গ্যাস ব্যবহার নিশ্চিত করুন -বিশেষ সাক্ষাৎকারে ম. তামিম -সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে এম জাকারিয়া

ম. তামিম : সরকার এক বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রথমে দুই বছরের জন্য এই আইন করেছিল, পরে আরও দুই বছর বাড়িয়েছে। এটুকু হয়তো ঠিকই ছিল, কিন্তু নতুন করে এই আইনের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো যুক্তি আছে বলে মনে করি না। কারণ, যে বিশেষ বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য এই আইন করা হয়েছিল, তা এখন আর নেই। এই আইনের মূল ব্যাপারটি ছিল টেন্ডার এড়ানো, সময় বাঁচানো। এই বিষয়গুলো এখনো কার্যকর থাকার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। কারণ, এখন সরকারের সামনে একটি পরিকল্পনা আছে এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী টেন্ডার ডেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে কাজ দিতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এই জরুরি আইনের মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো গ্রহণযোগ্যতা আছে বলে মনে করি না।
প্রথম আলো : চার বছর ধরে যে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ) আইন’ কার্যকর রয়েছে, এর প্রয়োজনীয়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? বিদ্যুৎ খাতে এর কী সুফল পাওয়া গেছে?
ম. তামিম : ২০০৯-১০ সালে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি যখন চরমে পৌঁছায়, তখন দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই আইন করা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল টেন্ডারে দীর্ঘসূত্রতা এড়ানো। তখন বিদ্যুৎ খাতে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, তা সামাল দিতে এই আইন কাজ দিয়েছে। সরকারের পক্ষে দ্রুত অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
প্রথম আলো : কিন্তু এ ধরনের আইন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পরিপন্থী। কারণ, কাজ দিতে হয় টেন্ডার ছাড়া এবং এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না।
ম. তামিম : এ ধরনের আইনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি উপেক্ষিত থাকে, তা সত্যি। এ ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার বিষয়টি শুরু থেকেই উপেক্ষিত ছিল। তবে আমি মনে করি, সরকার একটি ভালো কাজ করেছে এবং তা হচ্ছে কুইক রেন্টাল ও রেন্টাল বিদ্যুৎ—এই দুই ক্ষেত্রেই ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের করা গাইডলাইন মেনে কাজ করেছে। ফলে, দামের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হওয়ার সুযোগ কম ছিল।
প্রথম আলো : তাহলে অনিয়ম হয়েছে কোথায়?
ম. তামিম :আসলে কাকে কাজ দেওয়া হবে, সে ক্ষেত্রে অনিয়ম ও রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করে থাকতে পারে। কিন্তু দামের ক্ষেত্রে হয়নি। এমন অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে, যাদের হয়তো কাজ করার যোগ্যতা নেই। বর্তমান সরকারের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে যেসব চুক্তি হয়েছে, এর অনেকগুলো সফল হয়নি। ২০ থেকে ৩০ শতাংশ উৎপাদনে আসতে পারেনি বা ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থতার জন্য যদি যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যেত, তবে শুধু প্রকৃত ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পাওয়ার জন্য এগিয়ে আসত।
প্রথম আলো : কিন্তু কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্তটি তো আপনি যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তখনই বাদ দেওয়া হয়েছে।
ম. তামিম : আমরা তখন কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্তটি বাদ দিয়েছিলাম। কারণ, আমরা চেয়েছিলাম এই খাতে দেশীয় নতুন উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসুক। এই বিবেচনা থেকেই তখন তা করা হয়েছিল। আমরা যখন এই শর্ত বাদ দিয়েছিলাম, তখন হয়তো এর যথার্থতা ছিল। কিন্তু আমি মনে করি, এরপর এখন ছয় বছর কেটে গেছে, ফলে এখন উচিত অভিজ্ঞতার শর্তটি জুড়ে দেওয়া। এই সময়ে যে কোম্পানিগুলো ভালো করেছে, যাদের ট্র্যাক রেকর্ড ভালো, নতুন কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদেরই বিবেচনায় রাখা উচিত। সেটা না পাওয়া গেলে অভিজ্ঞ বাইরের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া উচিত।
প্রথম আলো : এই আইনের অধীনে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া গেছে, কিন্তু বিদ্যুতের যে দাম পড়ছে, তেল আমদানিতে যে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, সেই চাপ বাংলাদেশ কত দিন নিতে পারবে?
ম. তামিম : দেখুন, কুইক রেন্টালের উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বল্পমেয়াদি ও জরুরি ভিত্তিতে বিদ্ু্যৎ উৎপাদন। এটা কোনো দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার নয়। তিন-চার বছরের ব্যাপার। আর কোনো দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এর ওপর ভিত্তি করে চলতে পারে না। সরকার জরুরি পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগ নিয়েছিল এবং পরিকল্পনা ছিল যে এই সময়ের মধ্যে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। দেশীয় কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আদৌ কোনো অগ্রগতি নেই। আমদানি করা কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু যে গতিতে হওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি। কুইক রেন্টাল ও বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ—এ দুটি একই সঙ্গে শুরু হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা হয়নি। ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ ছিল তিন থেকে পাঁচ বছর। এগুলোর মেয়াদ এখন বাড়াতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যুতের দাম বাড়তির দিকেই থাকবে সামনের দিনগুলোয় এবং তেলভিত্তিক বিদ্যুতের দাম আরও বাড়বে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৮ সালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। সেটা হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিকে এই চাপ নিতে হবে।
প্রথম আলো : বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে সরকার যে নীতি নিয়েছে, সেখানে কোনো ঘাটতি আছে বলে মনে করেন কি?
ম. তামিম : দেখুন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে প্রাথমিক জ্বালানিসংকট। তেলনির্ভর বিদু্যৎ উৎপাদন কোনোভাবেই টেকসই নয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে অব্যাহত তেলনির্ভরতা আমাদের অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর করবে, অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যানবাহনের জন্য তেলনির্ভরতা ছাড়া বিশ্বের কোনো দেশের অর্থনীতি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়। আমাদের সামনে এ ক্ষেত্রে যে বিকল্প রয়েছে, তা হচ্ছে নিজস্ব গ্যাস, আমদানি করা গ্যাস, নিজস্ব কয়লা, আমদানি করা কয়লা। বর্তমানে আমদানি করা কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিকমতো চললে ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের পর এই কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ আসতে পারে। বড়পুকুরিয়ায় ওপেন পিট মাইনিংয়ের মাধ্যমে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা শোনা গিয়েছিল, কিন্তু এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি শূন্য।
প্রথম আলো : নিজেদের গ্যাস বা আমদানি করা গ্যাস?
ম. তামিম : গ্যাস বা এলএনজি আমদানির একটি উদ্যোগ রয়েছে, কিন্তু এলএনজি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খুবই ব্যয়বহুল হবে। বাড়িঘরে, যানবাহনের সিএনজি হিসেবে ব্যবহার বা অন্যান্য কাজে এই গ্যাস ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম এই পর্যায়ে বাড়ানো উচিত, যাতে তা এলপিজি বা পেট্রলের দামের কাছাকাছি হয়। এ ক্ষেত্রে ভারত বা অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এই গ্যাস কীভাবে ব্যবহার করা আমাদের জন্য কার্যকর হবে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত সমীক্ষা দরকার। আর নিজেদের গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর তো কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের উদ্যোগ জোরদার করার পাশাপাশি ভূখণ্ডে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্যও বিদেশি কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো উচিত। আমি মনে করি, বাপেক্স যদি সম্ভাবনাময় কোনো ব্লক বা অঞ্চল নিজেদের জন্য রাখতে চায়, তা রেখে বাকি সব বিদেশি কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত। দেশীয় কয়লা বা গ্যাস ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে না পারলে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে সমস্যা থেকেই যাবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এটি কার্যত দুর্নীতির দায়মুক্তি আইন -বিশেষ সাক্ষাৎকারে আনু মুহাম্মদ -সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফারুক ওয়াসিফ

আনু মুহাম্মদ : দুর্নীতি ও অনিয়ম করার জন্য বেপরোয়া না হলে এ রকম আইন করার দরকার ছিল না। এই আইন করার আগের, এমনকি এই সরকারের আগের সরকারগুলোর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির অনেক ঘটনা সবাই জানেন। কিন্তু এই আইন অনেক বেশি দুর্নীতির পথ তৈরি করেছে, যথেচ্ছাচারের সুযোগ দিয়েছে। ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি’ নয়, এটি কার্যত ‘দ্রুত লুণ্ঠন ও দুর্নীতি দায়মুক্তি আইন’। ২০১০ সালে বিদ্যুৎ–সংকট নিরসনের অজুহাতে আইন প্রণয়নের সময়ই আমরা আশঙ্কা জানিয়েছি যে, এই আইন বিদ্যুৎ সংকটের টেকসই সমাধান তো দেবেই না, উল্টো সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্ম দেবে। পরের বছরগুলোয় এই আশঙ্কা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই অনিয়মের ধারাবাহিকতা আরও চার বছর চালিয়ে যেতে চায় বলেই সরকার এর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, গোপন চুক্তি ও সমঝোতার দুষ্টচক্রের গোড়া জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে সব আইনি বাধ্যবাধকতার ওপর স্থাপন করে দুর্নীতি আর জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতাকে অবাধ করতে চায় সরকার।
প্রথম আলো : জ্বালানি খাতে কী ধরনের দুর্নীতিকে রক্ষা করছে এই আইন?
আনু মুহাম্মদ : শতকরা ৮০ ভাগ গ্যাস রপ্তানির সুযোগ রেখে সমুদ্রে গ্যাস ব্লক কনোকোফিলিপসকে প্রদান, রেন্টাল ও কুইক রেন্টালমুখী তৎপরতা, কেয়ার্ন এনার্জি ও হেলিবার্টনের সঙ্গে আত্মঘাতী চুক্তি স্বাক্ষর, শেভরন ও নাইকোর কাছ থেকে গ্যাস ধ্বংসের জন্য প্রাপ্য ৫০ হাজার কোটি টাকা আদায়ের উদ্যোগ না নিয়ে শেভরনের জন্য সুবিধা বৃদ্ধি, সমুদ্রসম্পদ বিভিন্ন দেশের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করা, ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না করে এশিয়া এনার্জির বেআইনি শেয়ার ব্যবসা ও লবিস্টদের পৃষ্ঠপোষকতা, সুন্দরবন ধ্বংস করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ইত্যাদি কমিশন ও দুর্নীতি ছাড়া হওয়া সম্ভব নয়। এসবকে বাধাহীন করতেই এই আইন।
প্রথম আলো : সমস্যা নিরসনে অন্য বিকল্প কী ছিল?
আনু মুহাম্মদ : স্বল্প মেয়াদে পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি পরিবর্তন এবং প্রয়োজনীয় মেরামত ও নবায়ন করলে একই পরিমাণ গ্যাসে কমপক্ষে এক হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব ছিল। এবং এর উৎপাদন খরচ হতো ইউনিটপ্রতি দুই টাকা। তা না করে আট গুণ বেশি দামে রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের ফাঁদে ফেলা হয়েছে দেশকে। অথচ বিদ্যুৎ পাচ্ছি তুলনায় কম। নাইকোর সঙ্গে বিরোধের জেরে ছাতক ও ফেনী গ্যাসক্ষেত্রে উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এসব থেকেই প্রতিদিন ৩০ কোটি ঘনফুট বাড়তি গ্যাস মিলত। ব্যয়ও হতো তুলনায় অনেক কম। অথচ এই পথে দুর্নীতি ও কমিশনের সুযোগ কম বলে সরকারের উৎসাহও কম। অর্থের অভাবের কথাও ঠিক নয়। কারণ, এর চেয়ে ২০ গুণ বেশি অর্থ ব্যয়ের পথেই তো সরকার চলছে।
প্রথম আলো : বিদ্যুৎ খাত এ রকম দুস্থ দশায় পড়া কি অনিবার্য ছিল?
আনু মুহাম্মদ : না, ছিল না। যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হলে স্বল্পদামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ খুবই সম্ভব। আশির দশক থেকেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বহুজাতিক পুঁজির হাতে ছেড়ে দেওয়ার নীতি প্রণয়ন শুরু হয়। বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠী বরাবরই জাতীয় মালিকানা ও জাতীয় সক্ষমতার বিরোধী। আর বিভিন্ন সরকার ও দেশি লুটেরা গোষ্ঠী লুণ্ঠন, দুর্নীতি ও কমিশনের লোভে এই নীতি অনুসরণ করেছে। এখান থেকেই দুস্থ দশার শুরু। দেড় দশক আগে ‘বাংলাদেশ গ্যাসের ওপর ভাসছে’, ‘গ্যাস রপ্তানি করলে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়ন করতে সক্ষম হবে, না করলে সর্বনাশ হবে’—এমন সব রব তুলে একসময় দেশের সীমিত গ্যাসসম্পদ বিদেশে পাচারের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই প্রচারকেরাই এখন বলছেন, দেশে গ্যাস মজুত খুবই কম, বিদ্যুৎ-সংকট কাটানোর জন্য অবিলম্বে বিদেশি কোম্পানির হাতে কয়লাখনি তুলে দিতে হবে, সমুদ্রবক্ষের গ্যাসসম্পদ নিয়ে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে আরও সুবিধা দিয়ে চুক্তি করতে হবে। তাদের মুখস্থ বুলি: আমাদের সক্ষমতা নেই, পুঁজি নেই। আসলে সংকট থাকলেই এদের জন্য সুযোগ আসে।
প্রথম আলো : অর্থনীতির চাপের তুলনায় কুইক রেন্টালের অবদান কতটা?
আনু মুহাম্মদ : পিডিবির ওয়েবসাইট অনুযায়ী ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ছয় হাজার ৬০১ মেগাওয়াট। কুইক রেন্টালের অবদান এর শতকরা ২০ ভাগেরও কম। অথচ বিদ্যুৎ খাতে ব্যয়ের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই এর পেছনে যাচ্ছে। উপরন্তু, এগুলো নির্ভরযোগ্য নয়, অনেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিল নিচ্ছে। (আরও বিস্তারিত দেখুন: (http://ncbd.org)
প্রথম আলো : জাতীয় কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, আপনাদের সমালোচনা যতটা আদর্শবাদী, ততটা বাস্তববাদী না।
আনু মুহাম্মদ : বাস্তবতা হচ্ছে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত দেশি-বিদেশি লুটেরাদের রাহুগ্রাসে। সমুদ্র, সুন্দরবনসহ দেশ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিসহ অর্থনীতির বোঝাও ক্রমবর্ধমান। বাস্তববাদী হওয়া বলতে যদি কেউ মনে করে সর্বনাশের মুখে চোখ-মুখ বন্ধ করে রাখা, তাহলে আমরা সে রকম বাস্তববাদী নই। আমরা এই বাস্তবতা পাল্টাতে চাই। জ্বালানি সম্পদের ওপর শতভাগ মালিকানা, রপ্তানি নিষিদ্ধ ও জাতীয় সক্ষমতা বিকাশের মাধ্যমে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়নের পথেই স্বল্পদামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ জোগানো ও জ্বালানিনিরাপত্তা সম্ভব। যেসব দেশ এগুলো করতে পারেনি, সম্পদ এবং দারিদ্র্য ও সহিংসতা সেখানে একসঙ্গেই আছে। সম্পদ সেসব দেশে অভিশাপ। ‘বাস্তববাদী’ লোকজন যেখানে চুপ করে থেকেছে বা তাল মিলিয়েছে; সম্পদশালী আফ্রিকা তার করুণ উদাহরণ। মিয়ানমারের অভিজ্ঞতাও একই রকম।
প্রথম আলো : আপনাদের আইনি প্রস্তাব কী?
আনু মুহাম্মদ : দুর্নীতি করার দায়মুক্তি আইন বাতিল করে খনিজ সম্পদ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে আইন করুন। বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার ও বিদ্যুৎ খাতকে কিছু গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি করার বিদ্যমান নীতি, চুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করুন। রেন্টাল, কুইক রেন্টালের চুক্তি বাতিল করে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট চালু, মেরামত ও নবায়ন করুন। দীর্ঘ মেয়াদে বৃহৎ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপন করার কাজ শুরু করুন। বঙ্গোপসাগরের গ্যাস দেশের কাজে লাগানোর মহাপরিকল্পনা নিন। বিদেশি কোম্পানির কর্মচারী হিসেবে কাজ করা বন্ধ করুন। আশু প্রয়োজন মেটানোর জন্য কয়লা আমদানিভিত্তিক না করে গ্যাস আমদানিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করুন। জাতীয় সম্পদের ওপর জাতীয় কর্তৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য বাপেক্স, পেট্রোবাংলা, জিওলজিক্যাল সার্ভে, ব্যুরো অব মিনারেল ডেভেলপমেন্টসহ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ঘটাতে উদ্যোগ নিন। খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ও তার সর্বোত্তম ব্যবহারের জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আরও বিভাগ এবং জাতীয়ভাবে বিভিন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করুন। এ কাজে প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ ও প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগান। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও বর্জ্যসম্পদের বিশাল ভান্ডার কাজে লাগাতে উদ্যোগ নিন। নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম মিশ্রণ ঘটিয়ে একটি জ্বালানিনীতি প্রণয়ন করে তার জন্য প্রয়োজনীর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্মাণ শুরু করুন।
পাঠকদের কাছে আমার প্রশ্ন, এগুলো কি অবাস্তব মনে হয়, না দেশের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য করণীয় মনে হয়?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বজনদের অপেক্ষা আর কান্নার কি শেষ নেই? -‘আমার আব্বুকে ফিরিয়ে দিন’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে গুম আর ক্রসফায়ারে মারা যাওয়া এমন ৯৭টি পরিবার গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটরিয়ামে একত্র হয়েছিল। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০১৪ উপলক্ষে ‘স্বজনদের ব্যথা- গুম, খুন ও নির্যাতন আর না’ শিরোনামে একটি সম্মেলনের আয়োজন করে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি। সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুম-খুনের শিকার হওয়া ৯৭টি পরিবারের মধ্যে ২২টি পরিবারের সদস্যরা নিজেদের করুণ কাহিনী তুলে ধরেন। প্রতিটি ঘটনাতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ করা হয়। যদিও গুম-খুনের অভিযোগগুলো বরাবরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অস্বীকার করে আসছিলেন।
গত বছরের ২৭শে নভেম্বর রাতে কুমিল্লা থেকে গুম হওয়া সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হীরুর মেয়ে মাশরুফা ইসলাম বলেন, ‘আমার আব্বু ফ্রিডম ফাইটার ছিল। উনি কি দেশ স্বাধীন করেছে এই জন্য যে, এই দেশে তাকে গুম করা হবে। নয় মাস ধরে আমরা বাবাহারা হয়ে আছি। আমার বাবা হার্ট ও ডায়াবেটিসের রোগী। জানি না তার এখন কি অবস্থা। আমার আব্বুকে মেরে ফেলছে কিনা তাও জানি না। কেস করেছি তারও কোন আপডেট নাই।’ মাশরুফা বলেন, ‘বাবা যেখানেই থাকতো প্রতিদিন হয় আমাকে ফোন দিতো অথবা আমি বাবাকে ফোন দিতাম। নয় মাস ৪ দিন হলো আমাকে কেউ ফোন দেয় না। বলে না, মা তুমি কি করছো?’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তো তার পিতাকে হারিয়েছেন, স্বজন হারিয়েছেন। তিনি স্বজন হারানোর বেদনা বোঝেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানাই আমার বাবাকে যেন ফিরিয়ে দেয়া হয়।’ বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মাশরুফার পিতা সাইফুল ইসলাম হীরুর সঙ্গে গুম হয়েছেন হুমায়ূন কবীর পারভেজ। তার স্ত্রী শাহনাজ আক্তার বলেন, আমি আমার ছেলেমেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছি। ঈদের সময় আমার মেয়ে বলেছে, আমার তো বাবা নেই, আমি একটার বেশি জামা নেবো না। এ কথা শুনে আমি হু হু করে কেঁদেছি। আমার বয়স্ক শ্বশুর-শাশুড়ি আমার কাছে তাদের ছেলের খবর জানতে চান। আমি কোন উত্তর দিতে পারি না।’ শাহনাজ বলেন, আমার স্বামীর কিছু লোন ছিল আমরা তা শোধ করতে পারছি না। স্বামীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কিছু টাকা ছিল তা-ও তুলতে পারছি না। তার স্বাক্ষর ছাড়া ব্যাংক টাকা দেয় না। এখন তাহলে আমরা কোথায় যাবো? কিভাবে বাঁচবো? তিনি বলেন, ‘নয় মাস ধরে কাঁদছি। এখন আমাদের কান্নাও হারিয়ে গেছে। কাঁদতে কাঁদতে চোখের জল শুকিয়ে গেছে। এখন আর কাঁদতেও পারি না।’ শাহনাজ বলেন, ‘তবু আমি বিশ্বাস করি, আমার স্বামী বেঁচে আছে। সে র্যাবের কাছেই আছে। আমার তিন ছেলেমেয়ে এতিম করবেন না।’ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘উনিও (প্রধানমন্ত্রী) তো আমাদের মতো স্বজনহারা। উনি কি আমাদের মতো স্বজনহারাদের কান্না শুনতে পান না?’
প্রায় সাড়ে চার বছর আগে গুম হওয়া বিএনপি নেতা ও ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমের মেয়ে মাসুদা আক্তার বলেন, একটা মানুষ মরে যাওয়া স্বাভাবিক। খুন হলেও তার লাশ পাওয়া যায়। কিন্তু বাবাকে সাড়ে চার বছর ধরে গুম করে রাখা হয়েছে। আমার বাবাকে আমি ফেরত চাই।’ তিনি বলেন, বাবা ছাড়া আমরা কেমন আছি, কেউ খোঁজ নেয় না আমাদের। প্রতিবছর ২৫শে জুন আসলে বিএনপির পক্ষ থেকে ফোন করে যেতে বলে। আর কিছু না। এই দেশ কি এভাবেই চলতে থাকবে? প্রশ্ন করেন তিনি। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া ফেরার সময় গুম হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আল মুকাদ্দেসের পিতা মাওলানা আবদুল হামিদ বলেন, ৩০ মাস ধরে ছেলের জন্য অপেক্ষা করে আছি। কিন্তু ছেলে ফিরে আসে না। আমার স্ত্রী মাঝে মধ্যে স্বপ্ন দেখে- মুকাদ্দেস বাড়িতে এসেছে। সে কান্নাকাটি করে। ছেলের বন্ধুরা আসে। আড়াই বছরের প্রতিটা দিন আমাদের চোখের জল ফেলে কাটাতে হয়েছে।’ গুম হওয়া বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম বলেন, আমার ভাইয়ের একটাই দোষ ছিল সে বিএনপি করতো। সে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিল। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে র্যাবের লোক র্যাব-১ লেখা গাড়িতে তাকেসহ ৬ জনকে সবার সামনে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু পরদিনই র্যাব তা অস্বীকার করে। সানজিদা বলেন, ‘র্যাব যদি তাদের না-ই তুলে নিয়ে যায় তাহলে তারা খুঁজে বের করে দেয় না কেন? র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আমাদের ট্যাক্সের টাকায় চলে। তাহলে আমাদের ভাইকে খুঁজে বের করবে না কেন?’ তিনি বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি গুম হওয়া সবাইকে তাদের স্বজনদের কাছে জীবিত ফেরত দিতে হবে।’ সুমনের সঙ্গে গুম হওয়া কাউসারের স্ত্রী মিনু বলেন, ‘আমার স্বামী ড্রাইভারি করতো। সুমন ভাইয়ের কর্মী ছিল। তাকেও ধরে নিয়ে গেছে র্যাব। একটা সন্তান নিয়ে আমি কষ্টে বেঁচে আছি। আমার দেখার কেউ নেই। বাবা-মায়ের সঙ্গে কখনও গ্রামের বাড়ি বরিশালে থাকি। কখনও ঢাকায় ভাইয়ের বাসায় থাকি। আমার মেয়ে মীমের এখন কি হবে?’ কোলের মেয়েকে দেখিয়ে মিনু বলেন, ‘ছোট্ট মেয়েটা শুধু বাবার কাছে যেতে চায়। বাবার কথা মনে করে নিজে নিজেই নামাজের পাটি বিছিয়ে হাত তুলে আল্লাহর কাছে বাবাকে ফেরত চায়।’ মিনুর কোলে থাকা শিশু মীমকে বাবার কথা জিজ্ঞাসা করলে বলে, ‘আমার বাবাকে র্যাব ধরে নিয়ে গেছে। আমার আব্বু আসবে।’ একই সময়ে নাখালপাড়া থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া আদনানের বাবা রুহুল আমীন মাস্টার বলেন, ‘রাতে যখন র্যাব পরিচয়ে লোকজন আমার বাসায় ঢুকে আমি তখন নিজের হাতে ছেলেকে র্যাবের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। কারণ র্যাবের প্রতি আমার আস্থা ছিল। কিন্তু পরদিন র্যাব, থানা, ডিবি যেখানেই গিয়েছি সবাই তাকে গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করেছে। এমনকি থানা পুলিশ আমাদের জিডি পর্যন্ত নিতে চায়নি। ‘তিনি বলেন, ‘দেশটা কি মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে। আমরা কি মগের মুল্লুকে বাস করি?’ তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় একটি শিশুর নিখোঁজ সংবাদ দেখে সেই শিশুকে যদি উদ্ধার করতে পারে তাহলে র্যাব যাদের নিয়ে গেছে তাদের উদ্ধার করতে পারে না কেন?’ তিনি ছেলেকে দ্রুত ফেরত দেয়ার দাবি জানান। কুমিল্লার বাসা থেকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নেয়া ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী রকিবুল হাসান শাওনের পিতা মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুল মতিন বলেন, ‘প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকা খেয়ে র্যাব আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে গুম করেছে। ছেলে অন্যায় করলে তার ১০০ বছর জেল দেন আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু এমনভাবে গুম করে ফেললেন যে লাশটাও দেখার সৌভাগ্য আমাদের হলো না।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তো স্বজন হারানোর কষ্ট বোঝেন। তাহলে এভাবে যারা গুম-হত্যা করছে তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না?’ খেতাবপ্রাপ্ত এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘জয় ও সায়মা হোসেনকে যদি এভাবেই গুম করা হতো তবে প্রধানমন্ত্রী মা হিসেবে কি বলতেন?’ ২০১১ সালে নয়া পল্টন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সাবে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা শামীমের স্ত্রী ঝর্ণা খানম বলেন, রাজনীতি করার জন্যই তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। তার থানায় জিডি করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছি। আমার সন্তানের বয়স এখন দশ বছর। ছেলে জানতে চায় তার বাবাকে মেরে ফেলেছে কিনা? আমি কিছু জবাব দিতে পারি না। তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনায় রাষ্ট্রের দায়। রাষ্ট্র কর্তৃক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। প্রতিটি পরিবারের একই দৃশ্য। মা সন্তানের জন্য, স্ত্রী স্বামীর জন্য, বোন ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছে। তারা জানতে পারছে না তাদের স্বজনদের ভাগ্যে আসলে কি হয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের অন্যতম আইনজীবী চন্দন সরকারের ভাইয়ের ছেলে অমিতাভ সরকার বলেন, আমার কাকা চন্দন সরকারের কোন শত্রু ছিল না। তিনি ফৌজদারি মামলাও পরিচালনা করতেন না। তিনি বাসায় কবিতা লিখতেন, বাঁশি বাজাতেন। তিনি ছিলেন অন্য জগতের মানুষ। অথচ তাকেই মরতে হলো র্যাবের হাতে। তিনি বলেন, র্যাব ১১-এর সিও তারেক সাঈদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। কিন্তু মন্ত্রীর জামাই বলে তাকে কিছু বলা হতো না। ঘটনার পর আমরা যখন র্যাব অফিসে গিয়েছিলাম তিনি আমাদের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ করেন। এ বিচার চাইতে গিয়ে আমরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি। যে র্যাব আমাদের ট্যাক্সের টাকায় চলে সেই র্যাব যদি এরকম করে তাহলে আমরা কোথায় যাবো? তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আর যেন কোন লোকের এমন পরিণতি না হয়।’ কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের দিন সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি সেলিম রেজা পিন্টুকে পল্লবীর এক বাসা থেকে ধরে নিয়ে প্রশাসনের লোক। তার ভাই ইসলাম রেজা ফেকু বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে তাকে ধরে নিয়ে গেছে। এটা কোন আইন হলো? বিরোধী রাজনীতি করলেই তাকে ধরে গুম করতে হবে?’ তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পারছি না আমাদের ভাই বেঁচে আছে না তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। বছর দুয়েক আগে পিন্টু বিয়ে করেছিল। তার স্ত্রী নুহাশ এখনও প্রতীক্ষায় আছে তার স্বামী ফিরে আসবে। তিনি গুমের শিকার হওয়া সবাইকে ফেরত দেয়ার আহ্বান জানান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একটি পশ্চাৎপদ নীতি by মাহফুজ আনাম
মাহফুজ আনাম: সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদক পরিষদ এবং সম্পাদক ও প্রকাশক, দি ডেইলি স্টার
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1265)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
August
(332)
-
▼
Aug 31
(20)
- দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন অধ্যায় রচিত হবে
- ‘আলঙ্কারিক প্রধানমন্ত্রী’ হওয়ার পথে নওয়াজ!
- এ সংকট ছোটখাটো ঝড়: নওয়াজ
- রাশিয়ার সঙ্গে লাগতে এসো না: পুতিন
- মার্কিন নেতৃত্ব এখনই বেশি দরকার: ওবামা
- নওয়াজকে আবার আলটিমেটাম
- ডি মারিয়ার অভিষেকেও বিবর্ণ ম্যানইউ
- আলাল দুলাল পঞ্চমপত্রে তারা তিনজন
- নওয়াজকে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন হাইকোর্টে
- বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়ার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল
- কণ্ঠরোধের চেষ্টা
- ক্যাইলা বাবুর নেতৃত্বে ১৫ সন্ত্রাসী কিলিং মিশনে অং...
- লেসোথোয় সামরিক অভ্যুত্থান পালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
- আফিয়ার নামে সহিংসতা করবেন না -বোন ফওজিয়া সিদ্দিকীর...
- কৃচ্ছ্রসাধন এবং আমরা by মোহাম্মদ কায়কোবাদ
- এখন, না হয় কখনোই নয় by ইমতিয়াজ গুল
- দেশীয় কয়লা ও গ্যাস ব্যবহার নিশ্চিত করুন -বিশেষ সাক...
- এটি কার্যত দুর্নীতির দায়মুক্তি আইন -বিশেষ সাক্ষাৎক...
- স্বজনদের অপেক্ষা আর কান্নার কি শেষ নেই? -‘আমার আব্...
- একটি পশ্চাৎপদ নীতি by মাহফুজ আনাম
-
▼
Aug 31
(20)
-
▼
August
(332)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






