Monday, January 11, 2010

আপনাকে অভিবাদন, হে বটবৃক্ষ by বিশ্বজিত্ চৌধুরী

আমরা কথায় কথায় বলি, শতবর্ষের প্রাচীন বটবৃক্ষের মতো...। আক্ষরিক অর্থেই সেই বটবৃক্ষের প্রতীক হয়ে উঠেছেন আপনি। বিনোদ বিহারী চৌধুরী—নামটি উল্লেখমাত্র একজন অপরাজেয় মানুষের চিত্রকল্প ভেসে ওঠে আমাদের সামনে। স্বাধিকার ও মানবমুক্তির সংগ্রামের প্রতিটি পর্বে আপনি বরাভয়। শোষণমুক্ত সমাজের জন্য আমাদের দীর্ঘ অপেক্ষা, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা আপনার হাত ধরেই যেন বাস্তবতার ভিত্তি পায়। আশাবাদী করে তোলে মানুষকে।
মাত্র ষোলো বছর বয়সে তত্কালীন ‘যুগান্তর’ দলে যোগ দিয়ে বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছিলেন আপনি। এই উপমহাদেশ তখন ব্রিটিশ শাসকদের শৃঙ্খলে বন্দী। দেশ ও জাতিকে পরাধীনতার এই গ্লানি থেকে মুক্ত করার জন্য মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আপনারা। সেই ১৯৩০ সালে আপনি সবে কলেজছাত্র। ১২ এপ্রিল স্থানীয় কংগ্রেস ভবনে অনুষ্ঠিত গোপন বৈঠকে ইংরেজবিরোধী সশস্ত্র অভ্যুত্থানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন আপনি। অস্ত্রাগার দখল করে ইউনিয়ন জ্যাকের পতাকা নামিয়ে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের পতাকা উত্তোলন করে মাস্টারদা সূর্যসেনকে রাষ্ট্রপতি করে অস্থায়ী বিপ্লবী সরকারের ঘোষণা দেন আপনারা। ব্রিটিশ শাসন চার দিন অকার্যকর হয়ে পড়েছিল চট্টগ্রামে। মাত্র চারটি দিনের সেই স্বাধীনতা কী বিশাল অনুপ্রেরণার উত্স হয়ে উঠেছিল মুক্তিসংগ্রামীদের কাছে, তা হয়তো আজ উপলব্ধি করাও কঠিন। এই সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ ‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ’ নামে আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে ইতিহাসের পাতায়। চট্টগ্রাম হয়ে উঠেছিল এই উপমহাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রেরণার নাম। কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য লিখেছিলেন, ‘তোমার প্রতিজ্ঞা তাই আমার প্রতিজ্ঞা, চট্টগ্রাম/আমার হূিপণ্ডে আজ তারি লাল স্বাক্ষর দিলাম।’
১৯৩০ সালের ২২ এপ্রিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখসমরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আপনারা। মাত্র ৪৫ জন বিপ্লবী লড়েছিলেন তিন শয়েরও বেশি প্রশিক্ষিত ব্রিটিশ সেনার বিরুদ্ধে। অসম সেই যুদ্ধে ১২ জন সহযোদ্ধাকে হারিয়েছিলেন আপনারা। আহত হয়েছিলেন আপনিসহ আরও তিনজন। গলায় গুলি বিদ্ধ হয়েছিল আপনার। যে চারজন মুক্তিসংগ্রামীর সংস্পর্শে এসে বিপ্লবের পথে যাত্রা করেছিলেন তাঁদের মধ্যে সূর্যসেন, তারকেশ্বর দস্তিদার, রামকৃষ্ণ বিশ্বাস ঝুলেছিলেন ফাঁসিতে, মধুসূদন দত্ত শহীদ হয়েছিলেন জালালাবাদ পাহাড়ে। হয়তো একটি অসম্পূর্ণ যুদ্ধের নাম ‘জালালাবাদ যুদ্ধ’—
কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এই যুদ্ধের স্মৃতি প্রাণিত করেছিল তখনকার লাখো তরুণকে।
এর পর দীর্ঘ ফেরারি জীবন। ১৯৩৩ সালে গ্রেপ্তার হলেন আপনি। পাঁচ বছর ভোগ করেছেন জেলজীবন। কিন্তু এখানেও সেই হার না মানার গল্প। রাজপুতানার দেউলি ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় ১৯৩৪ সালে প্রথম বিভাগে আইএ এবং ১৯৩৬ সালে ডিস্টিংশনসহ বিএ পাস করেছেন আপনি। ১৯৩৮ সালে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গৃহবন্দী করা হয় আপনাকে। এক বছর গৃহবন্দী থাকার সময়ই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ও বিএল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। এরপর আরও কয়েকবার কারাভোগ করতে হয়েছে। কিন্তু সময়, সমাজ ও জীবন যেন কিছুতেই আপনার জীবনীশক্তি কেড়ে নিতে পারেনি। ফিনিক্স পাখির মতো বারবার ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে মাথা তুলে আপনি বলেছেন, ‘আমি আছি।’
আপনার এই সংগ্রামের গল্পই আজ আমাদের প্রেরণা। ১০০ বছরের পথপরিক্রমায় এখনো বয়স আপনাকে ভারাক্রান্ত করতে পারেনি। সুদীর্ঘ জীবনে সমাজ ও রাষ্ট্রের যেকোনো দুর্দিনে আপনি ছিলেন সোচ্চার। স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সংগ্রাম, মানবমুক্তির মিছিলে আপনি এক অনমনীয় অপ্রতিরোধ্য পতাকা।
আজ আপনার শততম জন্মদিন। শতবর্ষের একটি বটবৃক্ষ ডালপালা পত্র ও পল্লবে আজ দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে তার ছায়ার বিস্তার। আমাদের কবিবন্ধু ওমর কায়সার লিখেছেন—
‘তুমি তো এক সুদীর্ঘ কবিতা
একশ বছর ধরে রচিত হয়েছো
যার প্রতি সর্গে সর্গে জীবনের ঘনিষ্ঠ উত্থান
প্রতিপর্বে—অতিপর্বে
কুরুক্ষেত্র বিম্বিত হয়েছে
রঙের বিন্যাসে।
আমি শুধু পাঠ করি তোমার বিস্তার।’
সত্যিই আমরা আজ পাঠ করছি আপনার বিস্তার। তাই আপনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে আজ চট্টগ্রামে ছুটে এসেছেন বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, কামাল লোহানী, ড. ভারতী রায়, শামসুজ্জামান খানসহ বরেণ্য ব্যক্তিরা।
আপনাকে অভিবাদন, হে বটবৃক্ষ!

বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন ও গণতন্ত্রের যাত্রারম্ভ by এবিএম মূসা |

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন ২৬ মার্চ। মুজিবনগর সরকার গঠিত হলো ১৭ এপ্রিল। দেশ সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হলো ১৬ ডিসেম্বর। প্রবাসী মুজিবনগর সরকার দেশে এল এক সপ্তাহ পর, ২২ ডিসেম্বর। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখলেন ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই তারিখগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে আপন স্থান করে নিয়েছে। আমার কাছে সবচেয়ে তাত্পর্যপূর্ণ সব দিনের সেরা মনে হয় ১০ জানুয়ারি, বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন দিবস। কারণ, স্বাধীন দেশের একটি পরিপূর্ণ সরকার সেই দিনটিতেই প্রকৃতপক্ষে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছিল। বাস্তবার্থে বঙ্গবন্ধু সরকারের সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনের প্রারম্ভের দিনটি ছিল ১২ জানুয়ারি ১৯৭২। সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর ১০ সদস্যের মন্ত্রিসভা শপথ নিল। উপরিউক্ত ঘটনাবলি উল্লেখ করার প্রেক্ষাপটে রয়েছে একটি ভাবনা। সেটি হলো ৪৮ ঘণ্টায় এত সব যে হলো, ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ যদি বঙ্গবন্ধু ফিরে না আসতেন, তবে কী হতো? এ নিয়ে ইতিপূর্বে আমি বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি প্রতিবেদনে বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করেছি, কিন্তু ধারাবাহিক আলোচনা করিনি।
প্রথমেই মনে করতে হচ্ছে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর দেশ শৃঙ্খলমুক্ত হলেও প্রশাসনিক কার্যভার গ্রহণের জন্য অর্থাত্ রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কোনো সরকার স্বদেশের মাটিতে ছিল না। একটি আমবাগানে যে প্রবাসী সরকার গঠিত হয়েছিল, দীর্ঘ আট মাস যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাঁরা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন সাত দিন পর। মধ্যবর্তী এই সাতটি দিন ছিল সংকটময় ও দুর্যোগময়। দেশে তখন বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি শক্তির উদ্ভব ঘটেছিল, যাদের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে আসা নিয়ে ছিল চরম অনিশ্চয়তা। ছিল নতুন সরকারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা। মুজিবনগর সরকারের নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি সেক্টরে বিভক্ত হয়ে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনী সশস্ত্র যুদ্ধ করেছিল। অন্যদিকে দেশের সীমানার ভেতরে বিভিন্ন বাহিনী গড়ে উঠেছিল, যারা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সম্মুখসমরে ও গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তাদের নিরস্ত্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা ছিল, বাস্তবায়ন সহজ ছিল না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলেও ঐক্যবদ্ধ জাতি যুদ্ধ করেছে, যুদ্ধের পর তাদের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে দেশে একটি নিয়মতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা স্বদেশে ফিরে আসা প্রবাসী সরকারের জন্য সহজ ছিল না। তাই তো আমরা বাইরে থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত তিন সপ্তাহের পরিস্থিতি অবলোকন করেছি এবং সদ্য স্বাধীন দেশের জনগণ এ সময় সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছিলাম বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতি। দুশ্চিন্তা ছিল, তিনি ফিরে না এলে দেশে কোন ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটতে পারে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন সমগ্র জাতির মনে এনে দিয়েছিল স্বস্তি ও শান্তিময় ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা।
আরেকটি সত্য স্বীকার করতে হবে, তা হলো কেউ কেউ দেশে বিচ্ছিন্ন গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাও করেছিলেন। বস্তুত, ১৬ থেকে ২২ ডিসেম্বর সরকারি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল মুজিবনগর থেকে অগ্রিম প্রেরিত একটি আমলা বাহিনী, যাদের দেশ পরিচালনার সব দায়িত্ব পালন করা সম্ভব ছিল না। তার ওপর একটি আপাত, অদৃশ্য সমস্যার উদ্ভব ঘটেছিল। মুজিবনগর সরকারের আগমনের পর যে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করলেন প্রবাসী সরকারের প্রধান তাজউদ্দীন আহমদ, সেখানে ছিল অন্তর্দ্বন্দ্ব। মুজিবনগরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খোন্দকার মোশতাককে সরিয়ে আবদুস সামাদকে (আজাদ) নতুন দায়িত্ব দেওয়ার পর অভ্যন্তরীণ দলীয় সংকটের উদ্ভব ঘটেছিল। মুক্তিবাহিনীর একটি প্রভাবশালী অংশও দেশের নতুন সরকারের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিল না। উদ্ভব ঘটেছিল নতুন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের, যাদের ব্যঙ্গ করে বলা হতো ‘ষোড়শ বাহিনী’, মানে ১৬ ডিসেম্বরে জন্মানো মুক্তিযোদ্ধা দাবিদার। দক্ষিণাঞ্চলে মাথাচাড়া দিয়েছিল চরমপন্থী ‘নকশাল’, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল হক, টিপু বিশ্বাস প্রমুখ। চীনপন্থী এই চরমপন্থী জঙ্গিরা বাঙালির মুক্তিযুদ্ধকে ‘দুই কুকুরের লড়াই’ বলে অভিহিত করেছিল। শুধু তা-ই নয়, ঢাকা শহরের মিরপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রামে তখনো পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর ও রাজাকার-আলবদর বাহিনীর সুদৃঢ় অবস্থান ছিল। সদ্য গঠিত সেনাবাহিনীকে নিয়েও ছিল নানা গুঞ্জরণ। এবংবিধ সংকটের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পুরোপুরি সামর্থ্য তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুনভাবে গঠিত সরকারের ছিল না।
এ সংকটময় পরিস্থিতির অবসানের আশায় জাতি অপেক্ষায় ছিল একজন মহামানবের জন্য। তাই তো জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ শেষে যখন তারা জানতে পারল ওই মহামানব ‘আসিছে’, আশায় উজ্জীবিত হলো, আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠল। তাই তো আমার বিবেচনায় ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ আমাদের ইতিহাসে এক মহামান্বিত ও অনন্য দিন হিসেবে স্থান পাবে। বঙ্গবন্ধু এলেন একটি ব্রিটিশ জেট বিমানে করে। ঢাকায় তখন বেগম মুজিব ও পুত্র-কন্যা অবস্থান করছিলেন পুরোনো ১৮ নম্বর রাস্তার একটি বাড়িতে। উল্লেখ্য, ৩২ নম্বরের বাড়িটি ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার পর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ নয় মাস আপনজন থেকে বিচ্ছিন্ন বঙ্গবন্ধু তাদের দেখা না পাওয়ার মর্মবেদনা বুকে চেপে রেখে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি চলে এলেন রেসকোর্স ময়দানে, যেখানে লাখ লাখ ‘বাংলার মানুষ’ তাঁকে এক পলক দেখার জন্য অপেক্ষা করছিল।
স্বাধীন বাংলাদেশে রেসকোর্সে বঙ্গবন্ধুর ১০ জানুয়ারির ভাষণটি ছিল আবেগপূর্ণ ও স্মৃতিচারণা, দীর্ঘ ইতিহাস বর্ণনা। অবাক করা ব্যাপার হলো, ৩৭ বছর আগে এ দিনটিতে দেওয়া ভাষণে তিনি দুটি নীতিনির্ধারণী ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা এখনো অমীমাংসিত রয়েছে, আলোচিত হচ্ছে। ভবিষ্যত্দ্রষ্টা শেখ মুজিব সেদিন রেসকোর্স তথা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘোষণা করেছিলেন, ‘সোনার বাংলায় দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না।’ তাঁর কন্যা শেখ হাসিনাকে ৩৭ বছর পরও একই কথা ভিন্ন মাত্রায় বলতে হচ্ছে। দ্বিতীয় বাক্যটি ছিল, ‘রাজাকার-আলবদরদের বিচার হবে।’ তাঁর এ বক্তব্যের প্রতিধ্বনি আজও শোনা যাচ্ছে, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে।’
আমি অবাক হয়ে ভাবি, নয় মাস বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন, নাকি স্বাধীন বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে রোডম্যাপ তৈরি করছিলেন? একটি নতুন রাষ্ট্র পরিচালনার হোমওয়ার্ক করছিলেন? তা না হলে তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৪৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার আগেই কেন ও কীভাবে নতুন দেশের শাসনপদ্ধতি ও গণতন্ত্রের গতিপথ নির্ধারণ করে দিলেন। বক্তব্যটির পটভূমি ও মাজেজা ব্যাখ্যা করছি। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার দেখা হলো ১১ জানুয়ারি সকালে, ১৮ নম্বর রোডের বাড়িতে। শেখ কামাল আর তাঁর তথ্যসচিব আমিনুল হক বাদশাহ আমাকে দেখে হইহই করে উঠল, ‘আপনি কোথায় ছিলেন, বঙ্গবন্ধু আপনাকে খুঁজছেন।’ দোতলায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো, কান্নাকাটি হলো, ভাবি পান খাওয়ালেন। এসব ব্যক্তিগত কাহিনি বহুবার বলা হয়েছে, পুনরাবৃত্তি করব না। বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আমাকে বলেন, ‘শোন, আমি পার্লামেন্টারি সিস্টেম চালু করছি। একটু আগে তাজউদ্দীন আর মোশতাক এসেছিল, তাদের সব বলেছি। বিকেলে প্রেস কনফারেন্সে বিস্তারিত বলব। সবাই থাকিস।’ আমি তাঁকে জানালাম, নিচে সাংবাদিক আবুল হাশেম ও মাহবুবুল আলম অপেক্ষা করছেন। বঙ্গবন্ধু নিচে নেমে এলেন, দুজনকেই বুকে জড়িয়ে ধরলেন। বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে আসতে বললেন।
পরদিন সকালে দেশে প্রত্যাবর্তনের ২৪ ঘণ্টা না যেতেই রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এলেন পূর্ব পাকিস্তানের সেক্রেটারিয়েটে, যার নতুন নামকরণ করা হলো ‘সচিবালয়’। নতুন কর্মস্থলে তিনি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিলেন। ইতিমধ্যে বর্তমান সুগন্ধা এক সময়ের প্রেসিডেন্ট হাউসের (যেখানে মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক হয়েছিল, তৈরি হয়েছিল রানি এলিজাবেথের ঢাকা সফর উপলক্ষে) নামকরণ করা হয়েছে গণভবন। সেখানে স্থাপিত হলো তাঁর কার্যালয়। বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন প্রধানত বিদেশি সাংবাদিকেরা। এরই মধ্যে আবুল হাশেমকে তাঁর জনসংযোগ কর্মকর্তা, মাহবুবুল আলমকে প্রেসসচিব ও আমিনুল বাদশাহকে উপপ্রেসসচিব পদে নিয়োগ দিলেন। সকালেই সচিবালয়ে ডেকে এনেছিলেন রফিকউল্লাহ চৌধুরীকে (পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের সদস্য ছিলেন, যিনি ইয়াহিয়া আমলে বাঙালিপ্রীতির জন্য চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন)। তাঁকে মুখ্যসচিব পদে নিয়োগ দিলেন। ব্যক্তিগত সচিব হলেন পাকিস্তান আমলে হয়রানির শিকার আরেক বাঙালি আমলা নূরুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনেই ঘোষণা করলেন তাঁর নতুন শাসনব্যবস্থা কাঠামো, সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রাপথ।
উপরিউক্ত ঘটনাবলি উল্লেখ করলাম আমার পূর্বোল্লিখিত একটি বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করতে। পাকিস্তানের জেলখানায় দিন যাপনকালে তিনি কি সর্বক্ষণ স্বাধীন বাংলাদেশের শাসনপদ্ধতি ও প্রশাসন কাঠামোর ছক তৈরি করেছিলেন? তাই তো রেসকোর্সের ময়দানে বলেছিলেন, ‘আমি জানতাম, আমার বাংলা একদিন স্বাধীন হবেই। সেই বাংলায় আমি আবার আসিব ফিরে।’ তা না হলে দেড় দিনের মধ্যেই কী করে একটি প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির তাত্ক্ষণিক কতিপয় পদক্ষেপ নিলেন? সন্ধ্যায় ধানমন্ডির বাড়িতে ফিরে এসেই আমাকে বললেন, ‘তোকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ডিজি করে দিলাম।’ আশরাফুজ্জামান খান হলেন বাংলাদেশ রেডিওর প্রধান কর্মকর্তা।
পরদিন ১২ জানুয়ারি সকালে বঙ্গবন্ধু প্রশাসনিক চমক দিলেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে আমলাদের পরিবর্তে নিয়োগ দিলেন পেশাজীবীদের। শিক্ষাসচিব হলেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, স্বাস্থ্যসচিব মুজিবনগর সরকারের চিকিত্সক তোফাজ্জল হোসেন, পূর্তসচিব প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম, তথ্যসচিব সাংবাদিক বাহাউদ্দিন চৌধুরী। অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, রেহমান সোবহান, আনিসুর রহমান প্রমুখকে দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণের দায়িত্ব দিলেন। মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি সত্যিকারের ‘জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা ও জনগণের সরকার’ প্রতিষ্ঠিত করলেন। অবশ্য গণমুখী এ ব্যবস্থাটি দৃঢ় ভিত্তি পাওয়ার আগেই আমলাতন্ত্রের কূটচক্রের কাছে হার মানল। স্বল্পকালের মধ্যে ব্রিটিশ-পাকিস্তানি আমলের আমলাতন্ত্র সরকার ও প্রশাসনকে গ্রাস করে নিয়েছিল।
অতঃপর ১২ জানুয়ারি বিকেল তিনটা, গভর্নর হাউস নতুন নামের ‘বঙ্গভবনে’ রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ বলে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলো। সত্তরের নির্বাচনে বিজয়ী কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হলো গণপরিষদ। রাষ্ট্রপতি পদ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পদত্যাগ করলেন। লন্ডন থেকে দুই দিন আগে এসেছেন বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে জনমত সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, তিনি হলেন নতুন রাষ্ট্রপতি। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দিলেন। দুজনকেই শপথ পড়ালেন প্রধান বিচারপতি সায়েম। এরপর একে একে শপথ নিলেন নতুন মন্ত্রিসভার ১০ জন সদস্য। লাখো প্রাণের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত দেশের নিয়মতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা হলো শুরু।
এবিএম মূসা: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

রাজশাহী হতে পারে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি-নগর by মুনির হাসান

এবার রাজশাহী গিয়ে নতুন দৃশ্য দেখলাম। বিভিন্ন রাস্তা খোঁড়া হচ্ছে। কারণ রাজশাহীতে গ্যাস যাচ্ছে। রাজশাহীবাসীর জন্য নিঃসন্দেহে খুবই আনন্দের ঘটনা। আশা করা যায়, গ্যাস সংযোগের বিষয়টি রাজশাহীর এগিয়ে যাওয়ার একটি অনুপ্রেরণা হবে। রাজশাহী আমাদের দেশের শিক্ষা নগর। একটি সরকারি সাধারণ এবং একটি কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সেখানে এরই মধ্যে বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হয়েছে। মেডিকেল, পলিটেকনিক ছাড়াও রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজ। অনেকের হয়তো ধারণা নেই যে রাজশাহী নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ এইচএসসি পর্যায়ে দেশের প্রথম পাঁচটি কলেজের একটি। গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজক হিসেবে আমরা দেখেছি, রাজশাহীর শিক্ষার্থীদের গাণিতিক দক্ষতাও অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে ভালো।
এ রকম একটি শহরে কেন জানি কোনো শিল্প গড়ে ওঠেনি। না, ঠিক হলো না। একটা শিল্প গড়ে উঠেছে, মেসবাড়ি শিল্প। বিভিন্ন স্থানে অনেক মেসবাড়ি গড়ে উঠেছে। সে রকম একটি বাড়ি থেকে মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হয় বলে শুনেছি। রাজশাহীর অনেক কর্মকাণ্ডই শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক।
তবে, রাজশাহী হতে পারে বাংলাদেশের আইটি নগর। তথ্যপ্রযুক্তিকে ঘিরে নতুন একটি যুগ সেখানে শুরু হতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি বা জ্ঞানভিত্তিক একটি নগর গড়ে তোলার জন্য যা যা দরকার, তার সবই সেখানে আছে। রাজশাহী শহরটি ছিমছাম, জীবনযাত্রার ব্যয় কম, অধিবাসীরা আন্তরিক। তথ্যপ্রযুক্তির জন্য একটি শহরকে গড়ে তুলতে হলে দরকার প্রযুক্তিনির্ভর গ্র্যাজুয়েটদের সরবরাহ। রাজশাহীতে সেটি খুব ভালোভাবেই আছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট ও কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখানে খুব ভালো মানের আইটি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে। এর বড় প্রমাণ হলো, দেশের আইটি সংস্থাগুলোতে রুয়েট ও রাবির গ্র্যাজুয়েটদের প্রাধান্য। দ্বিতীয়ত, দরকার মোটা পাইপের ইন্টারনেট। সম্ভবত রাজশাহী আমাদের সেই সৌভাগ্যবান শহরগুলোর একটি, যেখানে বিটিসিএলের মাধ্যমে সাবমেরিন কেবেলর সুবিধা পৌঁছেছে। শুধু তা-ই নয়, ইতিমধ্যে রাজশাহীতে পৌঁছে গেছে ফাইবার অ্যাট হোমের ফাইবারও। ফলে একটি প্রধান এবং একটি বিকল্প সংযোগও এখন সেখানে নেওয়া সম্ভব। যদিও শহরে এখনো সে রকম আইএসপি নেই, তবে ইচ্ছে করলে সেখানে আইএসপি-সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
আর বিদ্যুত্? হ্যাঁ। বিদ্যুত্ নিয়ে আমাদের অন্যান্য শহরের চেয়ে ভালো নেই রাজশাহীও। তবে, যদি রাজশাহী শহরের কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থাপনাকে ভিত্তি করে প্রথম আইটি পার্কটি গড়ে ওঠে, তাহলে সেখানে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করাটা কঠিন হবে না। ভবিষ্যতে রাজশাহীর বিদ্যুত্ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হবে বলে আমার ধারণা। কারণ, বড়পুকুরিয়া আর রূপপুরে হাজার মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের কথা আমরা শুনেছি।
রাজশাহীসহ আমাদের আইটি পার্কগুলোর মূল লক্ষ্য হবে বিদেশের জন্য আইটি-সেবা বা সফটওয়্যার তৈরির কাজ করা। সেই সঙ্গে রাজশাহী হতে পারে দেশের আইটি কাঠামোর দ্বিতীয় নার্ভ সেন্টার। কেননা, ঢাকা ও রাজশাহীতে একই সঙ্গে ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা কম। ঢাকার ভূমিকম্পে রাজশাহীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও কম। এ কারণে দেশের বড় ডেটা সেন্টারগুলো তাদের দুর্যোগ-পুনরুদ্ধার কেন্দ্রগুলো (ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার) সেখানে গড়ে তুলতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক, বিমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি ডেটা সেন্টার, বহুজাতিক সংস্থা ছাড়া এ এমনকি অন্যান্য দেশের ডেটা সেন্টারের ব্যাকআপ সেটআপ সেখানে করার কথা ভাবা যায়। কলসেন্টার গড়ে তোলার কথাও ভাবা যেতে পারে। দেশে এখন বেশ কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার গড়ে তুলেছে। এগুলোর বর্ধিত অংশ হতে পারে রাজশাহীতে। উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সেখানে কর্মী সরবরাহের একটি ধারাবাহিক সুযোগ থাকবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় দিক হলো, ঢাকা বা এর আশপাশের এ রকম সেন্টার গড়ে তুলতে যে খরচ হবে, তার চেয়ে অনেক কম খরচে সেখানে এসব কেন্দ্র গড়ে তোলা যাবে।
বর্তমান সরকার দেশে বেশ কিছু আইটি পার্ক, ভিলেজ গড়ে তোলার কথা ভাবছে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন করে দালানকোঠা গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু রাজশাহী অন্তত দুটি সরকারি স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো বর্তমানে পরিত্যক্ত। ফলে, ন্যূনতম খরচে এই স্থাপনা গড়ে তোলা যায়। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উত্সাহ জোগানোর জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশন, রাজশাহী উন্নয়ন ব্যাংকসহ এমনতর প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আইটি কাজের আউটসোর্সিংয়ের জন্য রাজশাহীভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেছে নিতে পারে। তাহলে সেখানে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইটি কোম্পানিগুলো আগ্রহী হবে।
কেবল আউটসোর্সিং বা কলসেন্টার নয়। রাজশাহীতে বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠান তাদের গবেষণা ও উন্নয়নকেন্দ্র গড়ে তুলতে পারে। ঢাকার চেয়ে অনেক আরামে সেখানে গবেষণা করা যাবে, এটা আমি হলফ করে বলতে পারি। এসবই আইটি খাতে রাজশাহীর অপার সম্ভাবনার মাত্র কয়েকটি।
অল্প কিছুদিন ধরে রাজশাহীর কিছু তরুণ এই লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। এবার রাজশাহীতে গিয়ে আমি তাঁদের উদ্যম, আকাঙ্ক্ষা ও মনোবল দেখে এসেছি। তাঁদের কেউ কেউ ঢাকা থেকে রাজশাহীতে ফিরে গেছেন, কাজ করছেন বিদেশের জন্য। কেউ এসেছেন বিদেশ থেকে, ইচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের আইটি পেশাজীবী গড়ে তুলবেন। অনেকেই শিক্ষাজীবনেই আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কেউ কেউ গড়ে তুলেছেন নিজের ছোট্ট প্রতিষ্ঠান। তাঁদের চোখে দিনবদলের স্বপ্ন।
রোমের মতো শহরও এক দিনে তৈরি হয়নি। রাজশাহী আইটি নগরও নিশ্চয়ই এক দিনে হবে না। তবে সবাই মিলে স্বপ্ন দেখলে সে স্বপ্ন আর স্বপ্ন থাকে না, সত্যি হয়ে যায়। কথাটা রাজশাহীবাসী যেমন জানে, তেমনি আমরাও জানি।
রাজশাহীর নতুন প্রজন্মের স্বপ্নযাত্রা সফল হোক।
মুনির হাসান: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।
munir.hasan@matholympiad.org.bd

প্রধান বিচারপতির পদক্ষেপ

দীর্ঘদিন পর সুপ্রিম কোর্টে পরিবর্তনের মৃদুমন্দ বাতাস বইতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলাম অনিয়ম দূর করতে ক্রমিক অনুসারে ফৌজদারি মামলার শুনানির যে প্রতিকারমূলক উদ্যোগ নিয়েছেন, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি নিরীহ উদ্যোগ মনে হলেও এর গুরুত্ব অসাধারণ এবং চ্যালেঞ্জপূর্ণ। এই একটি সিদ্ধান্ত যদি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটা মামলা ব্যবস্থাপনায় একটা বিরাট পরিবর্তন নিশ্চিত করবে। এ জন্য বিচারপ্রার্থী, আদালতের কর্মকর্তা বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের বড় ভূমিকা পালনের বিকল্প নেই।
প্রধান বিচারপতি তাঁর শপথ-পরবর্তী ভাষণে হাইকোর্টের কোনো কোনো একটি বেঞ্চে এক দিনে শুনানিযোগ্য মামলার দীর্ঘ তালিকার অসংগতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এটা একটা সত্যিই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। খালি চোখে জনগণ ইদানীং উচ্চ আদালতের মামলা ব্যবস্থাপনায় অনেক অস্বাভাবিক বিষয় অস্বস্তির সঙ্গে লক্ষ করছে। জামিন প্রদানের সম-এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক বেঞ্চ বহাল থাকতে কেন একটিমাত্র বিশেষ বেঞ্চে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন, তার কোনো সদুত্তর তাঁরা পান না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা পরে দায়ের করা নতুন মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করে মক্কেলদের প্রতিকার দিতে পারছেন। এ জন্য অপেক্ষাকৃত তরুণ আইনজীবীরা জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিকার লাভের প্রবণতা দেখাচ্ছেন। এর ফলে পেশাদারি ও নৈতিকতা সমুন্নত বা উজ্জ্বল না হয়ে বরং নিষ্প্রভ হচ্ছে। আইনের চোখে সবাই সমান—সে নীতির ব্যত্যয় ঘটছে।
এ রকম একটা প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতির প্রতিকারমূলক উদ্যোগের সাফল্য বিশেষভাবে কাম্য। এ জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে সুপ্রিম কোর্ট বারের দায়িত্বশীল সদস্যদের কাছ থেকে আমরা সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতা আশা করছি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এফ এম মেজবাহ উদ্দিন বলেছেন, ‘নতুন মামলা দাখিল করার সময় সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ-কর্মকর্তাদের দুর্নীতি করার সুযোগ থাকে।’ মোশন অর্থাত্ নতুন মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি অনুষ্ঠানে অনেক বেঞ্চ-কর্মকর্তাই বাস্তবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম থাকেন। এখন যে প্রজ্ঞাপন জারি হলো, তা কার্যকর হলে সে ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ আর বেঞ্চ-কর্মকর্তাদের থাকবে না। বিশেষ কারণে ক্রমিক সংখ্যার হেরফের ঘটা ন্যায়বিচারের স্বার্থে কখনো নিশ্চয় হতে পারবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত আদালত প্রকাশ্যে ঘোষণা করবেন। আমাদের দেশে অনেক ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু অনেক সময় তা বাস্তবায়ন করা দুরূহ হয়ে পড়ে। আমরা আশা করব, প্রধান বিচারপতির এ সিদ্ধান্ত যেন কিছুতেই অপাঙেক্তয় না হয়ে পড়ে।
প্রধান বিচারপতি সর্বোচ্চ আদালতের প্রশাসনে গতিসঞ্চারের জন্য যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে, তা বহুদিনের প্রতীক্ষিত। তিনি ইতিমধ্যেই দুজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটিকে অস্বাভাবিক গতিতে মামলা নিষ্পত্তির বিষয় খতিয়ে দেখতে আদেশ দিয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। এই কমিটি যথাসময়ে যথা প্রতিকারের সুপারিশ পেশ করবে এবং তা সমান গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়িত হবে বলে আমরা আশাবাদী।

কবির সুমনকে রাজনীতির বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান

প্রখ্যাত শিল্পী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কবির সুমনকে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতির বাধ্যবাধকতার বেড়া ছিন্ন করে সাধারণ মানুষের মাঝে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তৃণমূল-সিপিএম-এসইউসিআইবিরোধী বামপন্থী ছাত্রনেতারা। তাঁরা বলেছেন, ‘আসুন, কবির সুমন, আমরা আবার লালগড়ের মানুষের জন্য রাস্তায় নামি। তাদের জন্য গান করি।’ ওই নেতারা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি কলেজ, বিধান নগর কলেজ, রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্র নাথ কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র।
সম্প্রতি কবির সুমন লালগড় আন্দোলন নিয়ে সাতটি গানের একটি অ্যালবাম বের করার পর খেপে যান তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সুমনকে অতিথি সাংসদ বলে মন্তব্য করেন। এতে আরও চটে যান সুমন। এরপরই তিনি ঘোষণা দেন, দল তাঁকে তাড়িয়ে দিলে তিনি খুশি হবেন।
ওই ঘটনার পর ইউনাইটেড স্টুডেন্টস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের নেতা জ্যোতিষ্ক দাস, ডিএসএফের নেতা অগ্নিশ্বর চক্রবর্তী এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ‘ফ্যাস’-এর ছাত্রনেতা সাত্ত্বিক বর্মণ কবির সুমনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সিঙ্গুরের নন্দীগ্রামের আন্দোলনের সময় আপনার কণ্ঠ শুনেছি। আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছি। এবার লালগড় নিয়ে আপনার গান শুনেছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি। এখন আপনি তৃণমূল রাজনীতির বাধ্যবাধকতা থেকে বেরিয়ে আসুন। আমরা লালগড় নিয়ে আবার নেমে পড়ি।’

ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে মার্কিন যুদ্ধবিমান: হুগো শাভেজ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ অভিযোগ করেছেন, গত শুক্রবার একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান তাঁর দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। তিনি এ ঘটনাকে ‘উসকানিমূলক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে ওয়াশিংটন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ভেনেজুয়েলার আকাশে তাঁদের কোনো যুদ্ধবিমান প্রবেশ করেনি। খবর এপি ও এএফপির।
শাভেজ বলেন, মার্কিন যুদ্ধবিমান পি-৩ শুক্রবার নেদারল্যান্ডের ক্যারিবীয় দ্বীপাঞ্চল কুরাকাও থেকে উড়ে এসে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় প্রবেশ করে। ভেনেজুয়েলার আকাশে এটি প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করে। পরে তাঁর নির্দেশে দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ধাওয়া করে এটিকে সীমানা ছাড়া করে।
শাভেজ বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিতে চাই না। আমরা মনে করি, ডাচ্ সরকার তাদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ড আমাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। তারা ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে হামলার অজুহাত সৃষ্টি করতে চাইছে। তবে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে আমরাও প্রস্তুত আছি।’
শাভেজের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেনেজুয়েলার আকাশে প্রবেশ করেনি। কোনো দেশের সম্মতি ছাড়া সেই দেশের আকাশে প্রবেশ করা আমাদের নীতির পরিপন্থী। এ অঞ্চলের প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই আমরা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছি।’

মেলবোর্নে ভারতীয় যুবককে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আবারও এক ভারতীয় নাগরিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার একদল দুষ্কৃতকারী ওই ভারতীয় যুবকের শরীরে জ্বালানি তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। গুরুতর আহত যুবকটি এখন মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।
মেলবোর্নে ছুরিকাঘাতে নিতিন গার্গ নামের এক ভারতীয় ছাত্র নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর এ ঘটনা ঘটল। গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ওপর অনেকগুলো হামলার ঘটনা ঘটে।
শনিবারের হামলায় আহত ২৯ বছর বয়সী ওই ভারতীয় যুবক স্ত্রীসহ মেলবোর্নের এসেনডোন এলাকায় একটি নৈশভোজে অংশগ্রহণ শেষে তাঁর গ্রাইস ক্রিসেন্টের বাসায় ফিরছিলেন। পথে চার দুষ্কৃতকারী তাঁর গায়ে জ্বালানি তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তাঁর বাহু, বুক, মুখমণ্ডলসহ শরীরের শতকরা ১৫ ভাগ অংশ পুড়ে যায়। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে ওই হামলা চালানো হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আহত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ বলেছে, ভারতীয় যুবকটির ওপর হামলা চালানোর কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নয়। এটা বর্ণবাদী হামলা কি না, তাও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে গোয়েন্দা সার্জেন্ট নিল স্মিথ বলেন, এই হামলাকে এ মহূর্তে কোনো ধরনের বর্ণবাদী হিসেবে বিবেচনা করার কারণ নেই। গত সপ্তাহে ভারতীয় ছাত্র নিতিন গার্গের মৃত্যুর পর মেলবোর্ন সফরের ঝুঁকি সম্পর্কে ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছিল ভারত সরকার। মেলবোর্নে বসবাসরত ভারতীয়রা দাবি করেছে, ওই শহরে বর্ণবাদী হামলা বেড়ে যাচ্ছে।

পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার মুনের

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গত শুক্রবার পরমাণু অস্ত্রমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইতিমধ্যে নিরস্ত্রীকরণ ও পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে উত্সাহব্যঞ্জক অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এ বছর এ লক্ষ্যে আরও অনেক কাজ করার সুযোগ হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং রাসায়নিক অস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বান কি মুন এ কথা বলেন। পরে এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ এ কথা জানায়।
বান কি মুন বলেন, গত সেপ্টেম্বরে নিরাপত্তা পরিষদের এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়। পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং চূড়ান্তভাবে ওই অস্ত্র ধ্বংসের ব্যাপারে এতে প্রস্তাব করা হয়। এ প্রস্তাবের নিরিখে তিনি একটি পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে যথাসাধ্য সবকিছু করবেন

হাজারাদের কল্যাণে এক ফরাসি দম্পতি

আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু এক সম্প্রদায়ের নাম হাজারা। নিজেদের চেঙ্গিস খানের বংশধর ভাবে তারা। দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার এই শিয়া মুসলিমরা। তাদের কল্যাণে এগিয়ে এসেছে এক ফরাসি দম্পতি।
হাজারা সম্প্রদায়ের শিশু থেকে শুরু করে নারীদের ফরাসি বেকারিপণ্য বানানো শেখাচ্ছে তারা। শেখাচ্ছে লেখাপড়া। উদ্দেশ্য, ভালো চাকরি পেতে হাজারাদের যোগ্য করে তোলা। এ জন্য ওই দম্পতি গড়ে তুলেছে একটি শিশুসেবা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং একটি ক্যাফে।
ফরাসি ওই দম্পতির নাম জ্যাক (৬১) ও অ্যারিয়েন হিরিয়াঁ। পেশায় জ্যাক ছিলেন একজন প্রকৌশলী। ১২ বছরের চাকরি শেষে ১৯৮৬ সালে অবসর নেন তিনি। এরপর শেখেন ফরাসি বেকারিপণ্য বানানোর কাজ। একসময় মধ্য এশিয়া ঘুরে বেড়ানো বুজকাশি খেলার ওপর লেখা ফরাসি লেখক জোসেফ কেসেলের অন দ্য হর্সম্যানস স্টেপস বইটি পড়েন তাঁরা। অনুপ্রাণিত হন আফগানিস্তানে যাওয়ার।
২০০০ সালে ওই দম্পতি আফগানিস্তানের কাবুলে একটি সুইস বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তখন ক্ষমতায় ছিল তালেবান সরকার। পরের বছর ৯/১১-তে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালায় আল-কায়েদা। এর দুই দিনের মধ্যে কাবুল ত্যাগ করেন তাঁরা। এক মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এর কিছুদিন পর আবার কাবুল ফেরেন তাঁরা। অ্যারিয়েন বলেন, ‘কাবুলে গিয়ে আমরা ভাবলাম, সত্যিকার অর্থে আমাদের কী করা উচিত।’
এক বছরের মধ্যে ওই দম্পতির ১০ বছরের একমাত্র সন্তান মারা যায়। এরপর তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, পিছিয়ে পড়া হাজারাদের জীবনযাত্রা পাল্টাতে কাজ করবেন। সেই চিন্তা থেকেই ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে কাবুলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি উপশহরে ল্যঁ পেলিকা নাম দিয়ে একটি ক্যাফে খোলেন। এরপর গড়ে তোলেন শিশুসেবা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ওই কেন্দ্রে হাজারা সম্প্রদায়ের প্রায় ২০০ শিশু ও নারী পড়াশোনার পাশাপাশি ফরাসি পেস্ট্রি, রুটিসহ বেকারি পণ্য বানানোর কাজ শিখছে।
অ্যারিয়েন জানান, শিশুকেন্দ্রের অনেক শিশু ভবিষ্যতের দরজায় কড়া নাড়ছে। তাঁর কেন্দ্রে সবচেয়ে ছোট প্রশিক্ষণার্থীর বয়স ছয়। সবচেয়ে বড় প্রশিক্ষণার্থীর বয়স ৩২ বছর।
জ্যাক বলেন, বেশির ভাগ প্রশিক্ষণার্থীর বয়স খুব কম। তারা যাতে আফগানিস্তানের পর্যটনশিল্পে কাজের জন্য দক্ষ হয়ে উঠতে পারে, সে জন্য তাদের কাজ শেখানো হচ্ছে। যদিও ভালো চাকরি পাওয়াটা তাদের জন্য কঠিনই হবে। তাই প্রতিকূল পরিবেশে সংগ্রাম করে টিকে থাকার মন্ত্র শেখানো হচ্ছে তাদের।

চীন বিশ্বের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ

বিশ্বের রপ্তানি বাণিজ্যে চীন এখন শীর্ষ দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সম্প্রতি চীন রপ্তানি বাণিজ্যে এত দিনের এক নম্বর দেশ জার্মানিকে পেছনে ফেলেছে। সাম্প্রতিককালে অর্থনৈতিক মন্দায় চীনের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা তাদের প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে কোনো ধরনের সরকারি আর্থিক প্রণোদনা ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ছাড়াই এ খাতে জার্মানিকে পেছনে ফেলে সাফল্য অর্জন করেছে।
সম্প্রতি জার্মানি ও চীন ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রপ্তানিবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, জার্মানি এ সময়ে রপ্তানি বাণিজ্য থেকে এক দশমিক শূন্য পাঁচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। অন্যদিকে চীন আয় করেছে এক দশমিক শূন্য সাত ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
পশ্চিমা বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক মন্দার সময় পশ্চিমা বিশ্বের চাপের মুখে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় সাধন না করাই চীনের এ সাফল্যের মূলে রয়েছে। সেই সময় চীনের মুদ্রা শক্তিশালী হওয়ায় অর্থনৈতিক মন্দার সময়ও চীন রপ্তানি বাণিজ্যে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। এ ব্যাপারে চীন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছারও প্রশংসা করেছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁরা বলেন, চীন শত চাপ সত্ত্বেও পশ্চিমা বিশ্বের কোনো চাপের কাছেই নতি স্বীকার করেনি। উপরন্তু তারা নতুন নতুন বাজার তৈরি করে অর্থনৈতিক মন্দার সময়ও একই গতিতে রপ্তানি অব্যাহত রেখেছিল।
চীনের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পেছনে এ খাতে সরকারের ভর্তুকিকে একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিটি বেসরকারি রপ্তানি-উপযোগী শিল্পকে সরকার ভর্তুকি ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে থাকে।
বিশ্ব বাণিজ্য তথ্যসেবার (গ্লোবাল ট্রেড ইনফরমেশন সার্ভিস) প্রতিবেদন অনুযায়ী চীন ২০০৯ সালে ৯৫৭ দশমিক সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করেছে।

লন্ডনে হিথ্রো বিমানবন্দরে তিন ব্রিটিশ যাত্রী গ্রেপ্তার

লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে দুবাইগামী একটি বিমান থেকে তিনজন ব্রিটিশ যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বোমা হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শনিবার পুলিশ এ কথা জানায়।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে এমিরেটসের দুবাইগামী একটি বিমান যখন উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন বিমানকর্মীদের ওই তিনজন ‘মৌখিক হুমকি’ দেন। এ ঘটনার পর পুলিশের সশস্ত্র কর্মকর্তারা বিমানে ওঠেন। পুলিশ জানায়, বিমানটি থেকে ৫৮, ৪৮ ও ৩৬ বছর বয়সী তিন যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। খবর এএফপি ও বিবিসির।
যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তল্লাশি চালিয়ে বিমানে কোনো ধরনের ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যায়নি। বিমানে যাত্রী ছিলেন ৩৩১ জন।
স্কাই নিউজ টেলিভিশনে বলা হয়, গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা ব্রিটিশ এবং তাঁদের নেশাগ্রস্ত বলে মনে হয়েছে। বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটগামী একটি বিমান উড়িয়ে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টার পর বিশ্বজুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে যখন ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়, তখনই এ ঘটনা ঘটল।
বিমানযাত্রী ক্যামেরন ম্যাকলিন স্কাই নিউজ টেলিভিশনকে বলেন, ‘পুলিশের বিশেষ বাহিনীর কয়েকজন সদস্য বিমানে উঠে আমার কয়েক সারি আগের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান।’ তিনি জানান, এঁদের একজন শ্বেতাঙ্গ।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত সোয়া নয়টার দিকে হুমকি দেওয়ার পর বিষয়টি তাঁদের জানানো হয়। যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে ভেতরে তল্লাশি চালানো হয়। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বিএএর একজন মুখপাত্র বলেন, ওই ঘটনার প্রভাব শুধু দুবাইগামী ওই ফ্লাইটের ওপর পড়েছিল।
এমিরেটসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব যাত্রীকে নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পুলিশ এখন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। যাত্রীদের অসুবিধার কারণে আমরা দুঃখিত।’

বুর্জ খলিফা থেকে লাফিয়ে দুজনের নতুন রেকর্ড

মানুষের তৈরি সর্বোচ্চ স্থাপনা থেকে লাফিয়ে পড়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন দুই স্কাই ডাইভার নাসের আল নিয়াদি ও ওমর আলহেগলান। গত শুক্রবার তাঁরা বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার সর্বোচ্চ বিন্দুর কাছের একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে প্যারাসুট দিয়ে লাফিয়ে পড়ে এ রেকর্ড গড়েন। খবর এপির।
বুর্জ খলিফার ৬৭২ মিটার উচ্চতায় (দুই হাজার ২০ ফুট) ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে লাফ দেন নাসের ও ওমর। এতে তাঁদের সময় লেগেছে ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড। দুজনেই নিরাপদে অবতরণ করেছেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ স্থাপনা বুর্জ খলিফার উচ্চতা দুই হাজার ৭১৭ ফুট।
নাসের ২০০৭ সালে স্কাই ডাইভিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হন। আর ওমর মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টাওয়ার থেকেও লাফ দিয়েছেলেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্কাই ডাইভিং প্রতিযোগিতায় তাঁরা অংশ নেন। এর আগেই তাঁরা দুজন মাউন্ট এভারেস্ট (২৯ হাজার ৫০০ ফুট) থেকেও লাফ দিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন।

একটি মুদ্রার দাম ৩৭ লাখ ডলার!

১৯১৩ সালের একটি দুর্লভ মার্কিন মুদ্রা নিলামে রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হয়েছে। পাঁচ সেন্টের ওই মুদ্রা ফ্লোরিডায় এক উন্মুক্ত নিলামে ৩৭ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে। গত শুক্রবার নিলামের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স অনলাইনের।
কর্মকর্তারা জানান, দুর্লভ এ মুদ্রাটি একসময় মিসরের রাজা ফারুকের অধীনে ছিল। তিনি ১৯৫২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর মুদ্রাটি বেশ কয়েক হাত বদল হয়। দীর্ঘসময় পর ১৯৭৩ সালে সিবিএস টেলিভিশনের জনপ্রিয় সিরিজ ‘হাওয়াই ফাইভ-ও’ অনুষ্ঠানে মুদ্রাটি দেখা যায়।
টেক্সাসভিত্তিক হেরিটেজ অকশনস ডালাসের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ রোহান বলেছেন, ফ্লোরিডায় গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নিলামে কথিত ‘লিবার্টি হেড নিকেল’ মুদ্রাটি বিক্রি হয়। এটি বিক্রি হয় ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারে। ফ্লোরিডার অন্যতম প্রধান শহর ওরলান্ডোর একজন মুদ্রা সংগ্রাহক এটি কিনেছেন। তবে ক্রেতা তাঁর নাম প্রকাশ করেননি।
গ্রেগ রোহান বলেন, ‘এটাই সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিখ্যাত দুর্লভ মুদ্রা।’
২০০৩ সালে এটির মূল্য মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া টাকশালে ‘মিস লিবার্টি’ প্রতিকৃতি অংকিত মুদ্রাটি তৈরি হয়েছিল।

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিবিশেষ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে হোয়াইট হাউস। গতকাল শনিবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন অর্থ বিভাগের কৌশল প্রণেতারা ইতিমধ্যেই ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড বাহিনীর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। ওই বাহিনী দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের পেছনের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর নামের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ওই তালিকায় ইরানের সবচেয়ে বড় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি অব ইরানের নামও রয়েছে। রেভ্যুলুশনারি গার্ড ও ইরানিয়ান অ্যালুমিনাম কোম্পানি ওই টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় অংশীদার।
পত্রিকায় বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন চলতি সপ্তাহে পররাষ্ট্র দপ্তরে ইরানের চারজন শীর্ষস্থানীয় পণ্ডিতের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলোচনা করা হয়।
ইসরায়েল বলছে, ইরানের ওপর বড় ধরনের অবরোধই কেবল তেহরানের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বকে চাপে রাখতে পারবে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওরেনকে উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ‘অনেক ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, ব্যাপক অবরোধ ইরানি সরকার ও ইরানের জনগণের মধ্যে বিভেদ বাড়াবে।

লন্ডন ভ্রমণকারীদের জন্য এমিরেটসের বোনাস প্যাকেজ

এমিরেটস এয়ারলাইনের ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা শাখা এমিরেটস হলিডেজ চলতি শীত মৌসুমে লন্ডন ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ বোনাস প্যাকেজ উপহার দিচ্ছে। অফারটি ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে।
লন্ডনের দুটি হোটেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এ প্যাকেজে দুজনের জন্য হোটেল রুম, ইংলিশ প্রাতরাশ, লন্ডনে গাড়িতে স্থানান্তর, সেবা মাশুল ও কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিমান ভাড়া ও ভিসা ফি প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত নয়। প্যাকেজমূল্য আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
চার তারকাবিশিষ্ট কাম্বারল্যান্ড হোটেলের ডিলাক্স রুমে চার রাতের প্যাকেজের মূল্য রাখা হয়েছে জনপ্রতি ন্যূনতম ৫৬২ মার্কিন ডলার এবং হায়াত রিজেন্সি লন্ডন-দ্য চার্চিলে ন্যূনতম ৯১৬ মার্কিন ডলার। এ বোনাস অফারে কাম্বারল্যান্ডে এবং হায়াত রিজেন্সি লন্ডন-দ্য চার্চিলে ছয় রাত যাপনের জন্য যথাক্রমে পাঁচ রাত ও চার রাতের মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
প্যাকেজ গ্রহণকারীরা ওয়েস্টফিল্ড ভিআইপি পাস পাবেন। এটি ব্যবহার করে লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েস্টফিল্ডের সব দোকান ও রেস্টুরেন্টে বিশেষ মূল্যহ্রাস-সুবিধা লাভ করা যাবে।
বর্তমানে এমিরেটস ঢাকায় সপ্তাহে ১৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং বিশ্বব্যাপী এর নেটওয়ার্কের আওতায় বিভিন্ন গন্তব্যে সুবিধাজনক সংযোগ দিচ্ছে।
প্যাকেজ বুকিং ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য ঢাকার এমিরেটস হলিডেজ, ফোন ৯৮৮৫৫৭৪-৭৫ বা ekhdac@emirates.com-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।

বিপুল ক্রেতা-দর্শক সমাগমে শেষ হলো রিহ্যাবের জমজমাট আবাসন মেলা

দর্শক ও ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের জমজমাট ‘রিহ্যাব আবাসন মেলা ২০০৯’ গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) নবমবারের মতো এ মেলার আয়োজন করে।
এবারের মেলায় ৪৫ হাজারেরও বেশি দর্শক-ক্রেতার সমাগম ঘটেছিল বলে আয়োজকেরা জানান। এর মধ্যে শেষ দিন গতকাল তুলনামূলকভাবে ভিড় ছিল বেশি। এ দিন মেলায় প্রায় ১৫ হাজার দর্শক-ক্রেতার সমাগম ঘটেছে বলে রিহ্যাব সূত্রে জানা গেছে।
রাজধানীর শেরাটন হোটেলে জমি ও অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির এই মেলার পাঁচ দিনই ক্রেতা-দর্শকদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ করা গেছে। সব বয়সের নারী-পুরুষ সপরিবারে মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে ঘুরে ঘুরে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে নিজেদের পছন্দের প্রকল্প খুঁজে দেখেছেন। কেউ কেউ বুকিংও দিয়েছেন। তবে রডের দাম কমার পরও ফ্ল্যাটের মূল্য না কমানোয় অনেকেই হতাশা নিয়ে ফিরেছেন।
ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এবারে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন হারে মূল্যছাড় দিয়েছে। মেলায় ক্রেতা-গ্রাহকদের ঋণসুবিধা দিতে গৃহায়ণ খাতে ঋণদানকারী দেশের তিনটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও তিনটি ব্যাংক অংশ নেওয়ায় ক্রেতাদের জন্য ছিল বাড়তি সুবিধা।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) এ মেলায় মোট ২৬৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৬২টি জমি উন্নয়ন ও বাড়ি নির্মাতা এবং ছয়টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
এদিকে স্টলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অন্যবারের তুলনায় এবার তাত্ক্ষণিকভাবে জমি বা অ্যাপার্টমেন্ট বেচা-বিক্রির প্রবণতা কমেছে। এবারে ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল ছোট ছোট আকারের ফ্ল্যাটের দিকে।
আশিয়ান সিটি: মেলায় অন্যতম সহ-আয়োজক আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড মেলায় তাদের জমির প্রকল্প ‘আশিয়ান সিটি’ প্রদর্শন করেছে।
প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী (বিপণন ও বিক্রয়) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, তাঁরা মেলায় দর্শক-ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রচুর সাড়া পেয়েছেন। মেলা উপলক্ষে প্রতি কাঠা জমিতে এক লাখ টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে। মেলায় কাঠাপ্রতি ২০ হাজার টাকা দিয়ে বুকিং দিলে বিশেষ ছাড়সহ একটি ফ্রিজ উপহার দেওয়া হয়েছে।
ইউএস বাংলা: আমেরিকান-বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগে গঠিত ইউএস বাংলা অ্যাসেটস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড মেলায় ‘পূর্বাচল আমেরিকান সিটি’ প্রকল্প প্রদর্শন করেছে।
প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী (বিক্রয়) মো. আবদুল আউয়াল খান জানান, মেলায় দর্শক-ক্রেতাদের আশাতীত সাড়া পেয়েছেন। নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সব ধরনের ক্রেতা মেলায় এসেছিলেন।
তিনি আরও জানান, মেলায় তিন, চার, পাঁচ, ছয়, আট কাঠার প্লট প্রদর্শন ও বিক্রি হয়েছে। রিহ্যাব মেলা উপলক্ষে প্লটপ্রতি সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এককালীন মূল্য পরিশোধে ৪০ শতাংশ ছাড় ও তিন দিনের মধ্যে জমি নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মেলায় কাঠাপ্রতি ১০ হাজার টাকা দিয়ে বুকিং করে এবং ২০ শতাংশ ডাউনমেন্ট দিয়ে সর্বনিম্ন মাত্র তিন হাজার ৬৯৩ টাকায় জমি কেনার সুযোগ দেওয়া হয়।
বেস্টওয়ে ফাউন্ডেশন: রিহ্যাব মেলায় বেস্টওয়ে ফাউন্ডেশনের স্টলে জমির প্রকল্প ‘পূর্বাচল বেস্টওয়ে সিটি’ ছাড়াও কক্সবাজারের জমির প্রকল্প প্রদর্শন করেছে।
মেলায় বেস্টওয়ের স্টলে তিন, চার ও পাঁচ কাঠার প্লট প্রদর্শন করছে। প্রতি কাঠার জমির সর্বনিম্ন পাঁচ লাখ ৭০ হাজার ও সর্বোচ্চ নয় লাখ ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া মেলায় বুকিং দিলে ১০ শতাংশ ছাড় দিয়েছে। মেলার স্টলে দর্শক-ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রচুর সাড়া পেয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
আইডিএলসি: আইডিএলসি ফাইন্যান্স মেলার চতুর্থ দিন পর্যন্ত স্টলে ৩০০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে গৃহায়ণ ঋণের জন্য আবেদন পেয়েছে।
আইডিএলসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রাহকেরা মেলা উপলক্ষে হ্রাসকৃত ঋণ ফির সুবিধা পাবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

আফ্রিকান নেশনস কাপে সংশয়ের মেঘ

আজ থেকে অ্যাঙ্গোলায় শুরু হওয়ার কথা আফ্রিকান নেশনস কাপের ২৭তম আসর। কিন্তু ১৬ দলের আফ্রিকার শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াই মাঠে গড়ানোর আগেই ঢাকা পড়ল সংশয়ের কালো মেঘে। পরশু গ্রুপ পর্বে নিজেদের ম্যাচ খেলতে কাবিন্দা প্রদেশে যাওয়ার পথে টোগোর টিমবাসে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। মেশিনগানের গুলিতে গুরুতর জখম হওয়ার পর দলের যোগাযোগ কর্মকর্তা স্তানিসলাস ওকলু এবং সহকারী কোচ আবালো আমনালেটে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দলের ৯ জন সদস্য।
আহত তালিকায় কজন ফুটবলার আছেন, তা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। তবে তাঁদের মধ্যে টোগোর দুজন ফুটবলার এবং দলের গোলকিপিং কোচ ও চিকিত্সকের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফুটবলার দুজন হলেন দলের গোলকিপার কোদজোভি ওবিলালে ও ডিফেন্ডার সার্গে আকাকপো। টোগো দলের অধিনায়ক ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার ইমানুয়েল আদেবায়োর অবশ্য সুস্থ আছেন। এর আগে বাসচালক নিহত হয়েছেন বলে যে খবর এসেছিল, সেটি সঠিক নয় বলেও জানানো হয়েছে।
হামলার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্বাগতিক অ্যাঙ্গোলা। তার পরও আশ্বস্ত হতে পারছেন না টোগোর খেলোয়াড়েরা। এমন একটা ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী হওয়ার পর তাঁরা আর এই টুর্নামেন্টে খেলতে চান না। নাইজেরিয়াসহ আরও কয়েকটি দলও উদ্বেগ জানিয়েছে। যদিও কাবিন্দায় খেলা নেই যেসব দলের—তারা টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। আয়োজকেরাও টুর্নামেন্ট চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তেই অনড়।
টোগো সরকার এরই মধ্যে একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলকে দলের সাহায্যের জন্য অ্যাঙ্গোলায় পাঠিয়েছে। কিন্তু অধিনায়ক আদেবায়োর বিবিসিকে জানিয়েছেন, ‘আমার মনে হয়, দলের অনেক খেলোয়াড়ই চলে যেতে চাইছে। তারা তাদেরই এক সতীর্থের শরীরে বুলেট বিদ্ধ হতে দেখেছে চোখের সামনে। বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিল তারা। পরে দলের সবার সঙ্গে আমরা আলোচনা করব। আমাদের ক্যারিয়ার, আমাদের জীবন আর পরিবারের জন্য যেটি ভালো হয়, সেই সিদ্ধান্তটাই নেব।’ এএফপি, ওয়েবসাইট।
হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে নিয়েছে কাবিন্দার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব দ্য এনক্লেভ অব কাবিন্দা (এফএলইসি)। কাবিন্দা প্রদেশটি অ্যাঙ্গোলার মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা। মাঝখানে আছে কঙ্গোর সীমানা। ৩ হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট এই প্রদেশটি তেলসম্পদে সমৃদ্ধ। স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এফএলইসি সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
আগামীকাল কাবিন্দাতে ঘানার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম গ্রুপ পর্বের ম্যাচ টোগোর। ওই ম্যাচ খেলতেই বাসে করে কঙ্গো থেকে তারা রওনা দিয়েছিল। কাবিন্দাতে ঢোকার মুখেই টোগো দলের বহরকে লক্ষ্য করে স্থানীয় সময় বেলা তিনটার দিকে ভারী মেশিনগানের গুলি ছোড়া হয়। এ সময় খেলোয়াড়েরা সবাই বাসের সিটের নিচে লুকিয়ে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন টমাস ডসেভি, ‘ওরা আমাদের দিকে কুকুরের মতো গুলি ছুড়ছিল। হামলাকারীদের মুখোশ পরা ছিল। সবার হাতেই ছিল ভয়ঙ্কর অস্ত্র। সিটের নিচে আমরা ২০ মিনিটের মতো পড়ে ছিলাম। এটা ছিল ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতা।’
হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে এ ধরনের আরও হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছে এফএলইসি। আয়োজকদের একজন অবশ্য জানিয়েছেন, বাসে করে ওই অঞ্চল পার হওয়া বিপজ্জনক। কারণ সেখানে এফএলইসির তত্পরতা ব্যাপক। তার পরও টোগো দল আয়োজকদের না জানিয়েই বাসে করে কাবিন্দায় এসেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। এদিকে এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফিফাও।

ড্র করল আর্সেনাল

আর একটু হলেই নিজেদের মাঠে হারতে হচ্ছিল আর্সেনালকে। কাল অতিরিক্ত সময়ে করা টমাস রসিস্কির গোলে শেষ পর্যন্ত ড্র করে মাঠ ছেড়েছে আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এভারটনের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে তারা। ম্যাচের ১২ মিনিটে প্রথম গোল করে এভারটনকে এগিয়ে নেন ওসমান। ২৮ মিনিটে সেটি শোধ করে ফেলেন ডেনিলসন। তুষারঢাকা এমিরেটস স্টেডিয়ামে পিয়েনারের ৮১ মিনিটের গোলে জয়ই দেখছিল এভারটন। কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রসিস্কির গোলে হার এড়াতে পারে আর্সেনাল। ২০ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট তাদের।

আঘাত এই প্রথম নয়

থিলান সামারাবীরার নাম নিশ্চয়ই শোনেননি টোগোর গোলকিপার কোদজোভি ওবিলালে ও ডিফেন্ডার সার্গে আকাকপো। কিন্তু প্রায় একই রকম নিয়তির চক্রে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে গেলেন তাঁরা। গত বছর মার্চে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের বাসে একই ধরনের সন্ত্রাসী হামলায় সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছিলেন সামারাবীরা। আর পরশু অ্যাঙ্গোলার ওই ঘৃণ্য আক্রমণে টোগোর দুই গুলিবিদ্ধ ফুটবলারের নাম ওবিলালে আর আকাকপো।
শান্তির দূত ক্রীড়া তারকাদের ওপর হামলার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ১৯৭২ সালে মিউনিখ অলিম্পিকে ১১ ইসরায়েলি অ্যাথলেট ও কোচ, একজন জার্মান পুলিশ কর্মকর্তা আর একজন পাইলট নিহত হন আততায়ীদের হামলায়। ক্রীড়া ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় বোধহয় এটাই। ১৯৯৬ আটালান্টা অলিম্পিকেও বোমা বিস্ফোরণে দুজন নিহত এবং ১১০ জনেরও বেশি আহত হন। ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কায় নববর্ষ উদ্যাপনের জন্য আয়োজিত ম্যারাথন দৌড় শুরুর আগে তামিল টাইগারদের আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন ১৪ জন।
হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও একাধিকবার খেলা বা কোনো দলের সফর পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তার অভাবেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোও সরিয়ে আনা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কিছু ক্রিকেট দল পাকিস্তান সফরে অনাগ্রহী অনেক দিন থেকেই। শ্রীলঙ্কা দলের ওপর হামলার পর তো সেখানে যাওয়ার সাহস দেখাচ্ছে না কেউই।
শুধু ক্রিকেট নয়, ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা সেমিফাইনালটি পিছিয়ে দিতে হয়েছিল হুমকির মুখে। ২০০৪ সালে স্প্যানিশ লিগে রিয়ালের একটি ম্যাচও স্থগিত করা হয়।

কাতারে হারলেন ফেদেরার ব্রিসবেনে হেনিন

পরাজয় দিয়েই ২০০৯ সালটা শেষ হয়েছিল রজার ফেদেরারের। বছরের শেষ এটিপি টুর্নামেন্টে যাঁর কাছে হেরেছিলেন, রাশিয়ার সেই নিকোলাই ডেভিডেঙ্কো নতুন বছরে আবারও হারিয়েছেন এক নম্বর তারকাকে। পরশু ৬-৪, ৬-৪ গেমে জিতে ডেভিডেঙ্কো উঠে গেছেন কাতার ওপেনের ফাইনালে। আর অবসর ভেঙে ফিরে প্রথম টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারলেন না জাস্টিন হেনিন। ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্টের ফাইনালে কাল হারলেন কিম ক্লাইস্টার্সের কাছেই। তবে হারটা তিনি সহজেই মানেননি (৬-৩, ৪-৬, ৭-৬ ৮/৬ গেম)।

দুই নাসিরের যুগলবন্দী

কমলাপুর স্টেডিয়ামে গোল করার আগে গোল প্রায় খেয়েই যাচ্ছিল মোহামেডান। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ব্রাদার্সের স্ট্রাইকার এনক বেনটিলের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটটি লাগল ক্রসবারে। এই বেনটিল মোহামেডান রক্ষণকে মাঝেমধ্যেই চাপে ফেলেও অবশ্য গোল পাননি।
মোহামেডান গোল পেয়ে যায় দুই উইঙ্গারের বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবলে। ৩৪ মিনিটে প্রান্ত বদল করে ডান দিকে চলে গেলেন মামুনুল, বাঁ দিকে মোহাম্মদ নাসির। মামুনুলের ক্রসেই নাসির টোকা দিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে। দারুণ গোল!
৪ মিনিট পর মোহামেডানের দ্বিতীয় গোলে ‘অবদান’ রেখেছেন ব্রাদার্স গোলরক্ষক জাহাঙ্গীর। ওয়ালি ফয়সালের ক্রসে আপাত নিরীহ হেড করেন মোহামেডানের হয়ে এদিনই প্রথম সেরা একাদশে আসা সেনাবাহিনীর সাবেক স্ট্রাইকার নাসিরউদ্দিন। নাগালে থাকলেও বল ধরতে পারেননি জাহাঙ্গীর।
প্রথমার্ধে গুছিয়ে খেলা মোহামেডান দ্বিতীয়ার্ধে ছিল এলোমেলো। এক-দুটি পাসের পরই তারা হারিয়েছে বলের নিয়ন্ত্রণ।
জ্বরের কারণে আগের ম্যাচটা খেলতে পারেননি স্ট্রাইকার বুকোলা। কাল দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমেছেন। ফিটনেসের অভাব আর ভারী শরীরে চেনাই যায়নি গত লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে। এমিলি চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ৬১ মিনিটে তাঁর হেড লেগেছে ক্রসবারে।
৮ ম্যাচে মোহামেডানের পয়েন্ট ২৪। আবাহনীর সমান্তরালেই ছুটছে সাদাকালোরা। ২ জয় ও ৪ ড্রয়ে ব্রাদার্সের পয়েন্ট ১০-ই থাকল। তারাও খেলেছে ৮ ম্যাচ।
পয়েন্টের হিসাবই সব নয় মোহামেডানের কাছে। দলের খেলায় কোচ মারুফুল হক সন্তুষ্ট হতে পারেননি, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের খেলায়। ওদিকে হেরেও অখুশি নন ব্রাদার্স কোচ ওয়াসিম ইকবাল, ‘আমার যা দল, তাতে মোহামেডানের কাছে দুই গোল খাওয়া কমই। এখন পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকায় আমাদের অবস্থান বেশ ভালোই বলব।’

রাসেলের নায়ক ওমারি

সামির ওমারির গোল আর শেখ রাসেলের জয়—এটা এখনকার নিয়মিত ছবি। টানা তিন ম্যাচে ৭ গোল করলেন তিনি। গোল করার ধারাবাহিকতা রাখতে পারলে শেখ রাসেলকে শিরোপা লড়াইয়ের শেষ ধাপ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন মরোক্কান স্ট্রাইকার।
আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ফর্মটা ধরে রেখে গোল করেই চলেছেন ওমারি। বিয়ানীবাজারের বিপক্ষে দলের তিন গোলের দুটিই তাঁর। প্রথমার্ধে পেয়েছেন প্রথম গোলটা, সতীর্থ মিডফিল্ডার মেরোর ব্যাকভলি রক্ষণে প্রতিহত হয়ে ফিরলে আলতো টোকায় বল জালে ঠেলেন। দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় একক প্রচেষ্টায় লিগে নিজের নবম গোল করেন, এখন পর্যন্ত তিনিই আছেন গোলদাতার শীর্ষে। তৃতীয় গোলেও ছিল ওমারির অবদান। তাঁর পাসেই ইউসুফ ব্যবধান করেন ৩-০।
৮ ম্যাচে আবাহনী-মোহামেডান পেয়েছে পুরো পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ৭ জয় আর এক ড্র নিয়ে ২২ পয়েন্ট, দুই প্রধানের ঘাড়ে নিঃশ্বাসই ফেলছে রাসেল। অন্যদিকে বিয়ানীবাজার অষ্টম ম্যাচে দেখল চতুর্থ পরাজয়। তাদের হাতে ৬ পয়েন্ট, দলটি এখনো রয়েছে অবনমন এলাকায়।
বাংলাদেশ লিগে বিরতি: আগামীকাল অষ্টম রাউন্ড শেষে এসএ গেমস ও এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের জন্য দীর্ঘ বিরতিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ লিগ। লিগ আবার মাঠে গড়াবে আগামী মাসের শেষ দিকে।

দুই প্রধানের দুই গোলে জয়

চট্টগ্রামে স্থানীয় মোহামেডানের বিপক্ষে ঢাকা আবাহনী জিতল ২-০ গোলে। এবং কী আশ্চর্য, ১৫ মিনিট পর ঢাকায় শুরু ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলটিকেই অনুসরণ করল ঢাকা মোহামেডান। ব্রাদার্সকে হারাল তারা ২-০ গোলে। তবে এবারের বাংলাদেশ লিগে শিরোপার আরেক দাবিদার শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র দুই প্রধানকে ছাপিয়ে কাল জিতল ৩-০ গোলে। সিলেটে তাদের কাছে পরাজিত স্থানীয় দল বিয়ানীবাজার।