Thursday, May 17, 2012

স্বাধীনতার ঘোষণা ও একটি প্রশ্নের উত্তর by শাহ আহমদ রেজা

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন কি-না, এ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিতর্কের এখনও অবসান হয়নি। এর কারণ নিহিত রয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্বেষপূর্ণ অবস্থানের মধ্যে। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী থেকে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান বীর উত্তম পর্যন্ত অন্য সবার ভূমিকা ও অবদানকে অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে দলটি নিজেদেরই প্রাণপুরুষকে বিতর্কিত করে চলেছে।

১৯৭১ সালের মার্চের রাজনীতি by জিবলু রহমান

এ কথা সত্য, ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ৬ দফার ভিত্তিতে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের সাংবিধানিক আন্দোলনকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনকে আওয়ামী লীগ যেভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করেছিল, তা পাকিস্তান রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে অর্জন করা কোনো রকমেই সম্ভব ছিল না।

লম্পট প্রেসিডেন্ট চাই না by মাহমুদ শামসুল হক

১৯৮৭ সাল। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে একটি অভিনব জনমত জরিপ হয়েছিল আমেরিকায়। জরিপটি পরিচালনা করে বিখ্যাত লাইফ ম্যাগাজিন ও নর্দার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনমত গবেষণা কর্তৃপক্ষ। এতে অংশ নেন প্রতিনিধিত্বশীল ভোটার এবং যেসব এজেন্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বিভিন্ন প্রার্থীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার কাজ করেছিলেন তারা।

বাংলাদেশের এখন ঘোর দুর্দিন by বদরুদ্দীন উমর

বাংলাদেশের এখন ঘোর দুর্দিন। এই দুর্দিন প্রতিদিন ঘোরতর হচ্ছে। এই দুর্দিনের সর্বপ্রধান দিক হলো, এখানে শাসকশ্রেণীর মধ্যে তাদের উচ্চ ও মধ্যশ্রেণীর বিরাট ব্যতিক্রম ছাড়া কারও চরিত্রে সততা বলে কিছু নেই। এখানে চুরি, দুর্নীতির ব্যাপকতার কথা সবাই জানে, কিন্তু কী ধরনের চারিত্রিক গঠন ও সাংস্কৃতিক অপদার্থতার কারণে এসব হয় এটা বিচার-বিশ্লেষণের দেখা পাওয়া যায় না।

ওষুধের বাজারে অরাজকতাঃ প্রশাসনের নাকে তেল কানে তুলো

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের মতো ওষুধের বাজারেও দেখা দিয়েছে অতিমুনাফার অসুখ। সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকলেও বিক্রেতারা এমনকি দ্বিগুণ দাম আদায় করছেন ক্রেতাদের কাছ থেকে। ওষুধের প্যাকেটে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লেখা থাকলেও তা মানছে না ফার্মেসি মালিকরা।

লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি বিদ্যুতের দামও বাড়লঃ ভাত দেবার মুরোদ নেই কিল মারার গোঁসাই

প্রায় প্রতিদিনই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল মেলা উদ্বোধন করছেন, অন্যদিকে উত্পাদন বাড়াতে না পারলেও বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। ফলে লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে মানুষকে বাড়তি বিদ্যুত্ বিল শুধতে হবে এখন থেকে।

গাদ্দাফীর সুইজারল্যান্ডবিরোধী ডাক by জুলফিকার আহমদ কিসমতী

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ড সরকার সে দেশের মুসলমানদের মসজিদে মিনার নির্মাণ নিষিদ্ধ করায় এবং লিবিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে উভয় দেশের নাগরিকদের ভিসা দেয়া না দেয়ার প্রশ্নে তিক্ততা সৃষ্টির এক পর্যায়ে গত শুক্রবার (২৬/০২/২০১০ইং) লিবীয় নেতা মুয়াম্মার আল গাদ্দাফী বেনগাজীতে এক সিরাত সমাবেশে বক্তৃতাদানকালে কড়া বক্তব্য রাখেন।

শপথবাক্য পাঠ কি নিছক আনুষ্ঠানিকতা? by মোহাম্মদ মতিন উদ্দিন

নির্বাচন শেষে বিজয়ীরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণকালে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী শপথবাক্য পাঠ করেন এবং এই শপথবাক্য পাঠ করান সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। প্রশ্ন শপথবাক্য পাঠ করা নিয়ে নয়, প্রশ্ন হচ্ছে শপথবাক্যের অন্তর্নিহিত বিষয় নিয়ে।

জয়—দ্রব্যমূল্যের জয় by মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান

চোয়াল বাড়ছে বোয়ালের মতো। বড়-বড় চোয়ালে বড়-বড় কথার হাউইবাজি চোখ ধাঁধাচ্ছে, পেট ভরতে পারছে না। আর চোয়ালের দৈর্ঘ্য যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে তার সঙ্গে তাল রেখেই। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টা না করে চোয়ালের ধার বাড়িয়ে, কথার তুবড়িতে চোখ ধাঁধানোর চেষ্টাই চলছে শুধু।

মধুপুর বন জ্বলছেঃ এক্ষুনি আগুন নেভান

বাংলাদেশের চার বিখ্যাত বনাঞ্চলের কোনোটিই আর সুরক্ষিত নেই। ব্রিটিশ আমলের শেষদিক থেকে যে উজাড় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তাতে আর কোনো ছেদ পড়েনি। সব সরকারের আমলেই বন মন্ত্রণালয় আর বনরক্ষীদের চোখের সামনে খাঁ-খাঁ প্রান্তরে পরিণত হয়েছে একদার নিবিড় বনভূমি।

জ্বালানি খাতের উন্নতির দেখা নেইঃ তৈরি পোশাক শিল্প হুমকির মুখে

দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে আশার আলো ক্রমেই কমে আসছে। অব্যবস্থাপনা, শ্রমিক অসন্তোষ প্রভৃতিকে ছাপিয়ে জ্বালানি সঙ্কটই এখন প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে। এই সঙ্কট শুধু তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্টদেরই উদ্বিগ্ন করছে না, বিদেশি ক্রেতারাও এর বাইরে থাকতে পারছেন না।

আমার প্রশংসা কর by আল মাহমুদ

বেঁচে আছি। কিন্তু বাঁচার কার্যকারণ সম্পর্ক সূত্রগুলো একটা একটা করে ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে আমি কার জন্য বেঁচে আছি। কেন বেঁচে আছি। এ অবস্থায় হাতড়ে দেখেছি আমার কাছাকাছি কেউই অবস্থান করছে না। একটা কিছু ধরতে পারলে আমি প্রশ্ন করতে পারতাম।

আওয়ামী স্বপ্নবিলাস বাস্তবায়ন কি আদৌ সম্ভব? by সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

ওয়ান-ইলেভেন ও নাইন-ইলেভেন যে একই সূত্রে গ্রথিত তা বোধহয় এখন কাউকে বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। বিষয়টি ইতোমধ্যেই যারা উপলব্ধি করেছেন, তাদের আর বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। নাইন-ইলেভেনের জন্ম দেয়া হয়েছিল বিশ্বময় ক্রমবর্ধমান ইসলামী শক্তিকে সমূলে উত্খাতের প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য।

বিচারের বাণী ... by মাহবুব তালুকদার

গুরুদেব প্রার্থনা করিতেছিলেন। তাহার এই প্রার্থনা যোগাসনে বসিয়া ধ্যানস্থ হওয়ার অনুরূপ নহে। প্রার্থনাকালে তাহার মুখমণ্ডল বিষাদাচ্ছন্ন ছিল। তিনি অস্পষ্টস্বরে যাহা বলিতেছিলেন, শিষ্যের নিকট তাহা বোধগম্য হইল না। সে নীরবে সম্মুখে উপবিষ্ট থাকিয়া গুরুদেবের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখিল।

সবার ভালোবাসায় সিক্ত একজন মূসা ভাই by মনজুর আহমদ

মূসা ভাইকে জন্মদিনের অভিনন্দন। আশি বছরে পা দিলেন তিনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ছিল তার জন্মদিন। একদা মনে হতো আশি বছর অতি দীর্ঘ সময়। এখন মনে হয় এই তো সেদিন। এই তো সেদিন মূসা ভাইকে দেখলাম তার টগবগে দিনগুলোতে।

কবির লড়াই নয়, এমপির লড়াই by মাহফুজ উল্লাহ

এতদিন মনে করা হতো বিষয়টি কবিদের। তারাও বিষয়টিকে নিজেদের জগত্ বলেই মনে করতেন। সেখানে অন্য কারও অনুপ্রবেশ ছিল না। কিন্তু এই লড়াইয়ের দর্শক ও শ্রোতা ছিলেন অগণিত মানুষ। এই লড়াই দেখে উপস্থিত অনেকেই আনন্দিত হতেন, কেউ কেউ বিমর্ষও হতেন।

উৎসব-আলোকের এই ঝর্ণাধারায়... by শিখ্তী সানী

‘আলোকের এই ঝর্ণাধারায় ধুইয়ে দাও।
আপনাকে এই লুকিয়ে-রাখা ধুলার ঢাকা ধুইয়ে দাও\
যেজন আমার মাঝে জড়িয়ে আছে ঘুমের জালে
আজ এই সকালে ধীরে ধীরে তার কপালে

গতকাল সমকাল-ওবামা ও আফগানিস্তানের হালহকিকত by ফারুক চৌধুরী

২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম আলোয় ‘আফগানিস্তানের চোরাবালিতে ওবামা?’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম। এখন, তার সাত মাস পর, আফগানিস্তানের অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, উপরিউক্ত সেই শিরোনামে প্রশ্নবোধক চিহ্নটি এখনো রয়ে গেছে। গত সাত মাসে প্রেসিডেন্ট ওবামা আফগানিস্তানে বেশ কয়েকটি উদ্যোগই তো নিলেন।

জাহাজভাঙা শিল্প-আইন ভেঙে প্রণীত হলো নীতি! by ফখরুল ইসলাম

সর্বোচ্চ আদালতের রায়, আন্তর্জাতিক ও দেশের আইন এবং পরিবেশবাদীদের সব যুক্তি ও আবেদন উপেক্ষা করে সংশোধিত হলো আমদানি নীতি আদেশ (২০০৯-২০১২)। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখা এবং ‘উদীয়মান’ জাহাজভাঙা শিল্পের বিকাশের স্বার্থে এ সংশোধনী আনা হয়েছে।

রক্ত ও তরবারির গান-বাবার মৃত্যুর দিনেই তিনি শপথ নিলেন by ফাতিমা ভুট্টো

জুলফি সিদ্ধান্ত নিল, সে বেনজিরের শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকবে। সে পরিবারের বেঁচে যাওয়া একমাত্র পুরুষ সদস্য। তাঁর দাফন সম্পন্ন করতে পরিবারের পক্ষ থেকে কারও না কারও থাকা প্রয়োজন। শেষকৃত্যে আরও যাঁরা এসেছেন, তাঁরা সবাই রাজনৈতিক কর্মী, অক্ষম, অপরাধী ও চোর। তিনি (বেনজির) তাঁদের হাতে দাফন হতে পারেন না।

নববর্ষ-বৈশাখের এই ভোরের হাওয়া by আনিসুল হক

বৈশাখের এই ভোরের হাওয়া আসে মৃদুমন্দ আনে আমার মনের কোণে সেই চরণের ছন্দ —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বৈশাখ এলে আমার শৈশবের কথা মনে পড়ে। আমাদের রংপুর শহরের উপকণ্ঠে চড়কের মেলা বসত চৈত্রসংক্রান্তির দিনে। তাতে প্রধান আকর্ষণ ছিল ঘুড়ি। নানা বর্ণের ঘুড়ি যে শুধু মেলায় উঠত,

আবার ঠোঙা ও পাটের ব্যাগ ফিরে আসুক-শত্রু পলিথিন

পরিবেশদূষণের কারণে যে পলিথিন একসময় পরিত্যাজ্য ঘোষণা করা হয়েছিল, দোর্দণ্ড প্রতাপে তার ফিরে আসায় সচেতন নাগরিকমাত্রই উদ্বিগ্ন। পলিথিন জনস্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি পরিবেশদূষণেও এর জুড়ি নেই। এটিকে মানবজীবনের শত্রু হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়।

স্নিগ্ধ হোক সবার মন, নতুন হোক জীবন-স্বাগত পয়লা বৈশাখ

নতুন বাংলা বছরের আহ্বান সঙ্গে নিয়ে আবার এল পয়লা বৈশাখ। তার এই আসা যেন জানিয়ে দিল—জীবন বয়ে চলছে, পুরাতনের জায়গায় এসেছে নতুন। চৈত্রের দাবদাহে শুষ্ক হয়ে ওঠা প্রকৃতি ও মানুষের মন বৈশাখী ঝড় আর নববৃষ্টির স্নানে সিক্ত হয়ে নতুন করে জাগবে।

স্মরণ-শমশেরনগর চা-বাগানের নীরা বাউরী by মুজিবুর রহমান

চা-শিল্পের প্রাণ হচ্ছে চা-বাগানের অবহেলিত-নিষ্পেষিত চা-শ্রমিকেরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে পাহাড় ও টিলায় চা-বাগানে বিপজ্জনক অবস্থায় কাজ করে থাকেন চা-শ্রমিকেরা। কিন্তু চা-শ্রমিকদের ছিল না কাজের কোনো সময়সীমা।

অধিকার-পুলিশের ধর্ম ও অতি উৎসাহী পুলিশ by এ জেড এম আবদুল আলী

এ দেশের পুলিশ-দারোগাদের ধর্ম সম্পর্কে আমাদের অনেক কিছুই জানা আছে। হাতে গোনা কয়েকজন বাদে তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা দুর্জনকে পালন ও শিষ্টজনকে দমন করে থাকেন। এটাই তাঁদের ধর্ম। এর ব্যতিক্রম খুব বেশি একটা দেখা যায় না। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে যারা সরাসরি পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন তাঁরা এর কিছুটা ব্যতিক্রম। তবে, নিচের থেকে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের সংস্পর্শে এসে এঁদের মধ্যে কিছু কর্মকর্তার অধঃপতনের খবরও আমাদের কানে মাঝে মাঝে আসে।
দিন কয়েক আগে খবরের কাগজে আমরা এক দারোগার অন্য রকমের ধর্মের কথা জানতে পেরেছি। তিনি মনে হচ্ছে, আক্ষরিক অর্থে ইসলাম ধর্মের একজন বড় খাদেম। ঘটনাটি এ রকম: রংপুরের একজন এএসপি এক সন্ধ্যায় সেখানে পার্ক চিড়িয়াখানা প্রভৃতি স্থানে হানা দিয়ে জনা বিশেক তরুণ-তরুণীকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধ, সেখানে মেয়েরা বোরকা না পরে উপস্থিত হয়েছিল আর সেই বোরকা না-পরা মেয়েদের সঙ্গে গল্প করছিল কয়েকজন ছেলে। এই অতি উৎসাহী দারোগার কথা পড়তে পড়তে ভাবছিলাম, উনি আসল কাজটি করেন কি না? অর্থাৎ চোর-ডাকাতের গ্রেপ্তারে কতটা উৎসাহী? যে উৎসাহ নিয়ে তিনি বোরকা না-পরা মেয়েদের পেছনে লাগেন, চোর-ডাকাতদের গ্রেপ্তারে তাঁর সে রকম উৎসাহ আছে কি?
দেশে হুজি, জেএমবি এবং প্রচ্ছন্ন তালেবানদের সবারই নজর হচ্ছে কীভাবে মেয়েদের শায়েস্তা করা যায়। এর ওপর আবার দারোগা সাহেবদেরও যদি একটা অতিরিক্ত ডিউটি হয় মেয়েদের বোরকা বা ঘোমটা পরানো তাহলে বেচারিদের অবস্থা কী হয় তা ভেবে দেখতে বলি পাঠকদের। ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি, যখনই মার্শাল ল হয় তখনই রাস্তায় ছেলেদের বড় চুল কেটে দেওয়া এবং মেয়েদের মাথায় ঘোমটা দিতে বা বোরকা পরতে বাধ্য করার চেষ্টা শুরু হয়। তাদের চোখে ইসলাম মানেই হচ্ছে যত রকমভাবে সম্ভব মেয়েদের নিয়ন্ত্রণ করা। মেয়েদের এটা করতে হবে, মেয়েরা ওটা করতে পারবে না—এসব দেখাটাই যেন সে সময় সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকের একটা বড় কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে এ রকমটি হবে তা আমরা কোনো দিন কল্পনা করতে পারিনি। অবশ্য এ কথাও ঠিক যে ১৯৭৫ সালের পনেরই আগস্টের পর যে বাংলাদেশ আমরা দেখছি তা একাত্তরে যে বাংলাদেশের জন্য এ দেশের আপামর জনতা লড়েছিল তার থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। অধ্যাপক রেহমান সোবহান তাঁর জীবনের পঁচাত্তর বছর পূর্তিতে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা যথার্থই বলেছেন।
তবে সব কথার শেষ কথা, যেভাবেই হোক নারীকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাড়ার বখাটে তরুণ থেকে শুরু করে বাড়িতে স্বামী-শ্বশুর সবারই কাজ হচ্ছে মেয়েদের শায়েস্তা করা। একশ্রেণীর মৌলবি সাহেব সর্বদা বলে থাকেন যে মেয়েদের বেশির ভাগই মৃত্যুর পরে দোজখে স্থান পাবে। অতএব এ পৃথিবীতেই যাতে তাদের নরকযন্ত্রণা ভোগ করাটা অভ্যাস করতে হয় সেটা প্রত্যেকেরই দেখা উচিত। রংপুর শহরের পুলিশের এএসপিও সেই কাজটিকে তাঁর দায়িত্ব হিসেবে ধরে নিয়েছেন। দুঃখের বিষয়, তাঁর এই মহত্ কাজে বাদ সেধেছেন কিছু সাংবাদিক। দারোগা সাহেবের এই কর্মকাণ্ড খবরের কাগজে ছেপে দিয়ে এই সাংবাদিকেরা তাঁকে ইসলামের আদর্শ খাদেম হতে বাধা সৃষ্টি করেছেন। খবরটি দেখে ঢাকাতে কয়েকজন আইনজীবী হাইকোর্টে ওই দারোগার বিরুদ্ধে মামলা করে দেওয়াতে হাইকোর্ট থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই কর্মকর্তাটিকে রংপুর থেকে প্রত্যাহার করতে। দারোগা সাহেবকে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে একদিন হাইকোর্টের সামনে হাজির হতে।
সৌদি আরব, ইরান প্রভৃতি দেশে ধর্মের পুলিশ রয়েছে। তাদের কাজ হচ্ছে কেউ কোনো রকম কিছু করলে, তা যদি তাদের চোখে ইসলামবিরোধী মনে হয়, তবে তাকে বা তাদের শায়েস্তা করা। মনে হচ্ছে, এবার বাংলাদেশেও সে রকম কিছু পুলিশ-দারোগা এসে গেল। বলাবাহুল্য, তাদের নজর সব সময় নারীদের দিকেই থাকবে। এমনিতেই দেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে, ফতোয়ার অত্যাচারে নারীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠার উপক্রম, তার ওপর যদি রংপুরের এএসপি সাহেবের মতো কিছু পুলিশ শহরের দিকে নজর দেয় তাহলে দেশটি নারীদের জন্য নরক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। অতএব এখনই সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। আশা করি, আমাদের উচ্চ আদালত ওই দারোগা সাহেবকে উপযুক্ত শাস্তি দেবেন।
কাগজে দেখলাম, দিল্লিতে এক সভায় বক্তৃতা দিতে এসে একজন লেখক বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে যথাযোগ্য নিরাপত্তা দিয়ে তসলিমা নাসরিনকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া। জানি না, বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কারও নজরে এই খবরটি পড়েছে কি না। কে জানে হয়তো দেশের মানুষ ভাবছেন, এমনিতেই নানা সমস্যা, তার ওপর আবার তসলিমাকে নিয়ে ঝামেলা কে করবে? তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দেশে যদি এই অবস্থা হয় ইসলামিক রিপাবলিকগুলোতে কী হয় তা চিন্তা করতেই কষ্ট হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আহমদিয়াদের বার্ষিক সম্মেলনে স্থানীয় খতমে নবুয়ত দল বাধা সৃষ্টি করাতে বেচারা আহমদিয়ারা পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। পুলিশ উল্টো আহমদিয়াদের সাতটি শর্তে তাদের বার্ষিক সম্মেলন করতে দিয়েছে। শর্তগুলো দেখলেই বোঝা যাবে সেগুলোর বেশির ভাগই মানবাধিকারবিরোধী। যাই হোক, সম্মেলনের দিন ওই সব শর্ত মেনে সম্মেলন করার চেষ্টা করলেও পুলিশের এক দারোগা গিয়ে তাঁদের শাসিয়েছে। তাদের অভ্যন্তরীণ মাইক বন্ধ করতে বাধ্য করেছে। তারা একটু ক্ষীণ আপত্তি করাতে দারোগা সাহেব বলেছেন, হয় তাঁর হুকুম মানবেন, না হয় তার ফলাফল ভোগ করবেন। ফলাফল, মানে হচ্ছে, ওই সব খতমে নবুয়তওয়ালাকে লেলিয়ে দেওয়া। এই শান্তিপ্রিয় মানুষগুলো আজ প্রায় এক শ বছর ধরে তাঁদের ধর্ম পালন করে আসছেন। এত দিন তাঁদের কোনো রকম অসুবিধা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে তারা প্রবল শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। শান্তিপ্রিয় আহমদিয়াদের শায়েস্তা করা তাদের একটি বড় কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিপূর্বে আহমদিয়াদের সমর্থনে লন্ডনের হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড এভবেরি দুবার ঢাকায় ঘুরে গেছেন। তিনি আহমদিয়াদের বক্সীবাজারের প্রধান কার্যালয়ে গিয়েছেন। তা ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কয়েকজন বিদেশি রাষ্ট্রদূতও আহমদিয়াদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। কিন্তু এত সব সত্ত্বেও আহমদিয়াদের ওপর আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে এই যে বাংলাদেশের পুলিশ বিভাগে কিছু সদস্য সৌদি আরব ও ইরানের মতো ধর্মের পুলিশ হয়ে উঠেছে। এই উৎসাহী দারোগাদের ঠেকাতে না পারলে আহমদিয়াদের নিস্তার নেই। নিস্তার পাবে না এ দেশের নারীসমাজও।
প্রবাসে বসবাসরত আমার দুই বন্ধু গত নির্বাচনের পর ঢাকাতে ঘুরে গিয়ে বলেছেন, নির্বাচনে জামায়াতীরা পরাজিত হলেও দেশে যেভাবে ধর্মীয় চরমপন্থীদের অব্যাহত তৎপরতা দেখা যাচ্ছে তাতে শঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই। ওই দারোগাকে না হয় আপাতত কিছুদিনের জন্য বিরত রাখা গেল কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ধর্মের নামে উগ্রতার হাত থেকে কে বাঁচাবেন আমাদের নারীসমাজকে, কে রক্ষা করবেন আমাদের দেশের নিরীহ ধর্মপ্রাণ আহমদিয়াদের।
এ জেড এম আবদুল আলী: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।

রক্ত ও তরবারির গান-জারদারির হাতে মুর্তজার রক্ত by ফাতিমা ভুট্টো

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাতনি ফাতিমা ভুট্টোর আত্মজীবনীমূলক বই সঙস অব ব্লাড অ্যান্ড সোর্ড (রক্ত ও তরবারির গান) সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এতে ভুট্টো পরিবারের দ্বন্দ্ব-কলহ ও ক্ষমতার লড়াইয়ের পাশাপাশি পাকিস্তানি রাজনীতির চরিত্র উদ্ঘাটনের চেষ্টা রয়েছে।

গদ্যকার্টুন-সৃজনশীল প্রশ্ন সৃজনশীল উত্তর by আনিসুল হক

স্কুলের ছেলেমেয়েদের যেন মুখস্থ না করতে হয়, পরীক্ষায় যেন নকল না হয়, যেন প্রাইভেট টিউটরের পেছনে টাকা ও সময় ঢালতে না হয়, যেন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকশিত ও চর্চিত হয়, সে জন্য একটা চমৎকার পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়েছে। তার নাম সৃজনশীল প্রশ্ন। একটা অনুচ্ছেদ শিক্ষার্থীদের সামনে দিয়ে দেওয়া হয়, এরপর বলা হয় উত্তর লিখো।

সহজিয়া কড়চা-চৈত্রসংক্রান্তিতে একটি শিরোনামহীন লেখা by সৈয়দ আবুল মকসুদ

যাঁরা ধর্মগ্রন্থে বিশ্বাস করেন তাঁরা জানেন, আদি মানব-মানবী হলেন আদম ও হাওয়া। যাঁরা বিজ্ঞান ছাড়া আর কোনো মতবাদকেই আমলে নেন না, বিশেষ করে মান্যবর চার্লস ডারউইনকে তাঁদের পয়গম্বর মনে করেন, তাঁরা বানর, গরিলা, শিম্পাঞ্জি অথবা উল্লুককে তাঁদের পূর্বপুরুষ মনে করতে সংকোচবোধ করেন না।

নতুন একটি পদ সৃষ্টি করুন তাঁর জন্য!-তিনি কেন তোরণমন্ত্রী হলেন না

নৌপরিবহনমন্ত্রীকে শুক্রবার সৈয়দপুরে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে যদিও কোনো নদী নেই, নৌবন্দরও নেই, সমুদ্রবন্দরের তো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু তিনি যে পরিবহন খাতের নেতা। তাহলে স্থানীয় পরিবহন খাতের নেতারা তাঁর সংবর্ধনার আয়োজন করবেন না কেন? তাতে অবশ্য কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।

এ দায়িত্বহীনতার জবাব কী-ঢাবিতে পরীক্ষার ফল জট

পরীক্ষার ফল প্রকাশের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মিছিল ও ভাঙচুর করার ঘটনা দুঃখজনক হলেও এর জন্য তাঁদের দায়ী করা কঠিন। পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইন বিভাগের পরীক্ষার ফল আট মাস ও দর্শন বিভাগের সাড়ে চার মাস ধরে ঝুলে আছে।

সময়ের প্রেক্ষিত-পরমাণু বিদ্যুৎমুক্ত জাপান by মনজুরুল হক

পরমাণু বিদ্যুতের পথে জাপানের যাত্রা আজ থেকে ৪৬ বছর আগে, ১৯৬৬ সালে ইবারাকি জেলার তোকাই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম চুল্লিটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর থেকে গত সাড়ে চার দশকে অবশ্য সারা দেশে পরমাণু চুল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৪টিতে দাঁড়ায়, যেসব চুল্লি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অল্প কিছুদিন আগেও জাপানের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৩০ শতাংশের জোগান দিয়ে আসছিল।

পুলিশের লাঠিপেটা-শিক্ষকদের মর্যাদা দেওয়ার এই নমুনা?

একদিকে প্রধানমন্ত্রী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের পদ তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়ে তাঁদের মর্যাদা বাড়ালেন, আর একই দিনে তাঁর সরকারের পুলিশ শাহবাগের মোড়ে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের লাঠিপেটা করল।

নির্বাচন ও তিয়াত্তরের অধ্যাদেশের সংশোধন দরকার-অনির্বাচিত উপাচার্য

চারটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘকাল ধরে অনির্বাচিত উপাচার্যদের সদর্প পদচারণে প্রমাণিত হয় যে সরকারি খাতের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনাগত দেউলিয়াপনা চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর, রাজশাহীতে এক যুগ, চট্টগ্রামে দুই দশক ও জাহাঙ্গীরনগরে চার বছরের বেশি সময় ধরে আইন অনুযায়ী ভিসি প্যানেল গঠিত হয় না।

এই দিনে-যে ছবি কোথাও ছাপা হয়নি আগে... by আফতাব আহমদ

এই ছবিটি কোথাও ছাপা হয়নি আগে। এই প্রথম ছবিটি প্রকাশ পেল। ছবিটি ১৯৮১ সালের ১৭ মে তুলেছিলাম। এ দিনটিতে শেখ হাসিনা ফিরে এসেছিলেন বাংলাদেশে। বঙ্গবন্ধুকন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবেই দিনটি পালিত হয় এখন। ছবিটি তুলতে পেরেছিলাম বলে গর্ব হয়।

সৌরবিদ্যুৎ-সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে চাই মান নিয়ন্ত্রণ by মুশফিকুর রহমান

ভারতের গুজরাট রাজ্যের পাটান জেলার মরুভূমিতে গত ১৯ এপ্রিলে উদ্বোধন করা হলো পৃথিবীর বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র। সারি সারি ফটোভোল্টাইক সেল সম্মিলিতভাবে এই সৌরপার্ক থেকে ঘণ্টায় ২১৪ মেগাওয়াট পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে গ্রিডলাইনে সরবরাহ করবে।

ব্লগ থেকে...

নির্বাচিত মন্তব্য সমাজের অসংগতি, বাস্তবতা, মানুষের কথা এখন কেউ আর লিখতে চায় না। যেন সবাই দুটি দলের রাজনীতিতেই আটকে আছে। মনে হয় এ দেশটা শুধুই রাজনীতির নাটকের মঞ্চ। এটা শুধু দেশে নয়, সাত সাগরের পাড়েও একই রাজনীতি। কী বিস্ময়কর! বাংলাদেশি যেখানে যায় যেন অদ্ভুত ঐতিহ্য বয়ে বেড়ায় সারা দুনিয়ায়।

বদলে যাও বদলে দাও মিছিল- দুর্ঘটনা ঠেকাতে কয়েকটি কাজ by জুবায়ের মোর্শেদ

‘বদলে যাও বদলে দাও মিছিল’—এ দেশের বিভিন্ন সমস্যা ও নির্বাচিত চারটি ইস্যু নিয়ে অব্যাহত আলোচনা হচ্ছে। আজ সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে বদলে যাও বদলে দাও মিছিল ব্লগের নিয়মিত লেখক জুবায়ের মোর্শেদ-এর বিশ্লেষণাত্মক অভিমতসহ আরও তিনজন লেখকের নির্বাচিত মন্তব্য ছাপা হলো। এটি আমার কানাডার সড়কপথের একটি পর্যবেক্ষণ অভিজ্ঞতা। আমার সামনে যে রাস্তাটি তার নির্দেশনায় আছে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার। কিন্তু একটি গাড়ি চলছে ৭৫ কিলোমিটারে। ফলে যা হওয়ার তা-ই হলো। আড়ালে লুকিয়ে থাকা পুলিশ দ্রুত বেরিয়ে এসে গাড়িটি থামাল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে গাড়িচালকের হাতে ৩০০ কানাডিয়ান ডলারের একটি জরিমানা টিকিট ধরিয়ে দিয়ে পুলিশ চলে গেল। তৃতীয় বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে কানাডা অন্যতম। প্রশাসনিক অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ইত্যাদি ব্যাপারে তারা বেশ আধুনিক। প্রযুক্তির নিত্যনতুন ব্যবহার তাদের সর্বত্র। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগও এসব আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ। তাদের হাতে রয়েছে স্পিড গান, স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা, রাডারসহ আরও অনেক কিছু। ওই গাড়িটি পুলিশের স্পিড গানের শিকার। গাড়ির চালক জরিমানা এড়াতে পুলিশ সার্জেন্টকে কোনো কিছুর বিনিময়ে মোহান্বিত করা এখানে অসম্ভব একটি ব্যাপার। আর কেনই বা তিনি মোহে পড়বেন! আদায়কৃত জরিমানা ৩০০ ডলারের ভেতর তাঁর কমিশন তো আছেই, যা সরকারের তরফ থেকেই দেওয়া হয়। হাতে নগদ অর্থ নেওয়ার কোনো সিস্টেম নেই এখানে।
প্রবাসে বেশ কিছুদিন কাটিয়ে কদিন আগে দেশে ফিরলাম। দেশটা ঘুরে দেখার তীব্র বাসনায় বেরিয়ে পড়লাম গাড়ি নিয়ে। গন্তব্য ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ। নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলাম। আসাদ গেট সিগনালে রাস্তার মাঝের লেনে দাঁড়ালাম লালবাতির জন্য। আমার ডান পাশে বড় একটি বাস দাঁড়াল। সবুজ লাইট জ্বলার পর বাসটি একরকম জোর করেই বাঁয়ে চাপিয়ে সামনে এগোতে লাগল। দেখলাম যাত্রীর জন্য বাসটি বাঁয়ে গিয়ে থামল। স্থানটি বাস স্টপেজের জন্য বরাদ্দ কি না তার কোনো প্রমাণ নেই। পাশেই ট্রফিক পুলিশ দণ্ডায়মান, এরই মধ্যে বেঁধে গেল যানজট। আর বাসটি ডান পাশ থেকে বাঁয়ে যাওয়ার জন্য চালককে অত্যন্ত ঝুঁকি নিতে হয়েছিল, যা তাঁর সদিচ্ছা ও সচেতনতার অভাবের প্রকাশ মাত্র। সে চাইলেই বাঁ পাশের লেনের পাশের লেনে থাকতে পারত, কারণ সে তো জানত যে সে বাঁয়ে দাঁড়াবে।
মহাসড়কে এসে আমার গাড়িটি বেশ দ্রুতই চালাচ্ছিলাম, ঘণ্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার। ছোট-বড় গাড়ি, বাস আমাকে ওভারটেক করছিল। আমি যতটা সম্ভব গাড়িটি বাঁয়ে নিয়ে ওভারটেক করা গাড়িগুলোকে জায়গা করে দিচ্ছিলাম। টাঙ্গাইল বাইপাস দিয়ে যখন চালাচ্ছিলাম আমার সামনে বেশ কিছু ট্রাক ও বাসের সারি, পেছনেও তাই। বিপরীত দিক থেকেও বেশ কিছু গাড়ি আসছিল। আমার সামনের গাড়িগুলো প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেগে চলছিল, আমিও ট্রাফিকের সঙ্গে চলছিলাম। হঠাৎ পেছনের বাসটি গতি বাড়িয়ে আমাকে ওভারটেক করতে যায়। বিপরীত থেকে আসছিল একটি ট্রাক, যা বাসটি থেকে বেশি দূরে ছিল না। বাসটির পেছানোর কোনো পথ ছিল না। বাসটি তখন বাঁয়ে এসে আমার গাড়িটি চাপ দেয়। আমার গাড়িটিকে একরকম বাধ্য হয়েই তখন রাস্তা থেকে অর্ধেকটা নামিয়ে দিই মাটিতে এবং নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। বড়ই উচ্ছৃঙ্খল, চঞ্চল পরিস্থিতি, আতঙ্কে ভেতর থেকে ঘেমে উঠছি। সে মুহূর্তে আমার গাড়িটি রাস্তার পাশে থাকা খাদে পড়ে যেতে পারত এবং বড় দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারত। অথবা চালক একটু মানসিক দুর্বল হলে অনিবার্য কিছু ঘটে যাওয়াটা স্বাভাবিক ছিল। ওই বাসচালকটি একটু সচেতন হলে, সড়কপথের প্রাথমিক আইনগুলো জানলে তাঁর এমন কাজ করার ইচ্ছা জাগত না। আমার আরও কিছু সমস্যা চোখে পড়েছে, অতি অল্প কথায় লিখছি।
গাড়ির গতিসীমা, আমার পর্যবেক্ষণ অভিজ্ঞতায় এখন এটি মারাত্মক সমস্যা। এ সমস্যা তদারকির জন্য রয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। তাঁরাও হয়তো নেহাত অসহায় অপর্যাপ্ত প্রযুক্তির কাছে। কিন্তু আমরা যারা সাধারণ যাত্রী, বাস অথবা অন্য পরিবহনে যাতায়াত করি তাদের প্রত্যেকের এক জোড়া নয়নই কিন্তু হয়ে উঠতে পারে এক একটি আধুনিক স্পিড গান। এই সামান্য সচেতনতা কিন্তু রোধ করে দিতে পারে অসংখ্য দুর্ঘটনা।
অবকাঠামোগত সমস্যা, মহাসড়কগুলোয় মারাত্মক সব বাঁক রয়েছে, যা রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ। মুখোমুখি যতগুলো সংঘর্ষ ঘটে তার নব্বই ভাগই ঘটছে বাঁকগুলোতে। এসব বাঁকের শুরুতে নির্দিষ্ট চিহ্ন রয়েছে, যা শুধু দিনের আলোতে বোঝা সম্ভব, রাতে নয়। স্পিড ব্রেকারগুলোও তৈরি করেছে একেবারে দায়শূন্যভাবে। কর্তৃপক্ষ এমন অবৈজ্ঞানিক কাজ কী করে করেন? বেশির ভাগই রোড থেকে কেবল তিন-পাঁচ ইঞ্চি উচ্চতাবিশিষ্ট, কোনো মার্কিং নেই। বাস কিংবা ট্রাকচালকেরা এসব স্পিড ব্রেকারের ওপর দিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। এতে জানমালের বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। আবার কোনোটি ৬-১০ ইঞ্চি। যারা নিয়মিত একই রুটের চালক তাদের হয়তো চালাতে কখনো সমস্যা হয় না। কিন্তু যেসব চালক ওই পথে নতুন তাদের দিনে না হলেও রাতে গাড়ি চালানোটা বিপজ্জনক। মহাসড়কের সার্বিক বেহাল অবস্থার কথা আর না-ই বললাম।
গাড়ির হাই বিম, রাতে অবশ্যই দ্রুতগতির গাড়ির চালক দূরে দেখার জন্য হাই বিম ব্যবহার করবেন। কিন্তু ওই গাড়ির বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির চালকের দৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হবে ওই হাই বিমে। আর যদি এই গাড়ির চালকও হাই বিম দিয়ে তখন গাড়ি চালায় তবে দুই চালকেরই দৃষ্টিবিভ্রম হবে। এতে ভয়ানক দুর্ঘটনা ঘটে চলছে প্রতিনিয়ত। তাই উচিত সব সময় বিপরীত দিকের কোনো গাড়ি অতিক্রমের সময় লো বিম দিয়ে গাড়ি চালানো। এগুলো কে শেখাবে এসব চালককে?
বাংলাদেশের মহাসড়কের সমস্যা ক্যানসার রোগীর মতোই, হঠাৎ করে সমাধানের বিষয় নয়। দিনের পর দিন আমাদের চেষ্টা, সাধনা, প্রচারণা করতে হবে। আমাদের যেতে হবে সাধারণ যাত্রীদের কাছে তাদের অধিকার জানাতে। যেতে হবে প্রতিটি চালকের কাছে তাদের কর্তব্য বোঝাতে। পৌঁছে দিতে হবে যাত্রী এবং চালকদের সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। আলোর মিছিল নিয়ে আমরা কি পারি না সময়ের এই প্রয়োজনটুকু মেটাতে? প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু আর কত দিন মেনে নেব?
জুবায়ের মোর্শেদ: বদলে যাও বদলে দাও মিছিল ব্লগের নিয়মিত লেখক।
r_eehan@ yahoo.com

যোগ দিন ফেসবুক পেজে : www.facebook.com/bjbdmichil
জনমত জরিপের ফলাফল
বদলে যাও বদলে দাও মিছিলের ওয়েবসাইটে নতুন তিনটি জনমত শুরু হয়েছে চলতি সপ্তাহে। আপনিও অংশ নিন জরিপে।

সড়ক দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিহত ও আহত হলে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সাহায্য দেওয়া উচিত বলেমনে করেন কি?

 হ্যাঁ ৮৭%  না ৫%
 মন্তব্য নেই ৮%
১৬ মে, ২০১২ পর্যন্ত
আপনি কি মনে করেন, সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক শিক্ষা ইভ টিজিং কমিয়েআনতে পারে?
 হ্যাঁ ৮৫%  না ৯%
 মন্তব্য নেই ৬%
১৬ মে, ২০১২ পর্যন্ত
বাংলাদেশের কোন টিভি চ্যানেল ভারতে দেখাচ্ছে না। এটা কি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ ৮৫%  না ৮%
 মন্তব্য নেই ৭%
১৬ মে, ২০১২ পর্যন্ত
www.bodlejaobodledao.com

প্রতিক্রিয়া-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ by আদনান আরিফ সালিম

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া বেনাপোল থেকে তামাবিল_ এই ছোট্ট ভূখণ্ডের অতীত যে কত সমৃদ্ধ তা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিকল্প নেই গত ৩০ মে দৈনিক সমকালের উপসম্পাদকীয়তে আবু সাঈদ খানের 'পুরাকীর্তি ধ্বংসের প্রক্রিয়া রুখতে হবে' শিরোনামে লেখাটি পড়লাম।

শিক্ষা-শিক্ষার মান বাড়ানোর চ্যালেঞ্জে জয়ী হবোই by নুরুল ইসলাম নাহিদ

শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এবং উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যে কঠিন কাজ তা সবাই স্বীকার করবেন। আর্থিক ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা তো রয়েছেই। জাতীয় সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে জরুরি চাহিদার চেয়েও অনেক কম বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সাহসী লড়াইয়ের দিন by মির্জা তাজুল ইসলাম

১৯৬৬ সালের ৭ জুন পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব-মোনায়েম তেজগাঁও, টঙ্গী, আদমজী, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগ করলে শ্রমিক মনু মিয়াসহ বেশ কয়েকজন শহীদ হন। একই সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে বাঙালির মুক্তি সনদ হিসেবে ৬ দফা গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে

বাজেট-নিরলস কর্মযজ্ঞের পথ খুলে দিন by এম এ হাসান

কৃষকের সমস্যা ও প্রান্তিক মানুষের জীবন বাঁচাতে যথাযথ বরাদ্দ প্রয়োজন। দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থায়ী স্থাপনা এবং স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল নির্মাণে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন শ্রমশক্তি কাজে লাগাতে যথাযথ বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন। দেশের বৃহৎ এনজিওগুলোকে এ সংক্রান্ত কাজে সম্পৃক্ত করা দরকার। ক্ষুদ্রশিল্পের বিকাশ, কৃষিবান্ধব অর্থনীতি,

সমকালীন প্রসঙ্গ-প্রশাসনিক বিষয়ে হাইকোর্টের ঘনঘন রায় কোন পরিণাম নির্দেশ করছে? by বদরুদ্দীন উমর

মানুষের মূল্যবোধ, অন্যের প্রতি বিবেচনা, সাধারণ আইন-কানুন মান্য করে চলা ইত্যাদি এখন যে পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে তাতে সর্বক্ষেত্রে বেপরোয়া অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধ করা হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে হবে এমন মনে করা সম্পূর্ণ অবাস্তব ব্যাপার। যেখানে অপরাধ সকল প্রকার প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের চোখের ওপর হচ্ছে তাদের

চিকিৎসার নামে প্রতারণা-আধুনিক যুগে মধ্যযুগীয় যন্ত্রণা

সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে বর্তমান যুগেও চটকদারি বিজ্ঞাপনের আড়ালে চিকিৎসার নামে একদল ঠগ-বাটপাড় প্রতারণার ফাঁদ পেতে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছে। খানকায়ে চিশতিয়া, দর্শনে মুক্তি, দরবারে সুফি, দরবারে নূরানিসহ হরেক নামের সর্বরোগহর কেন্দ্র খুলে এরা প্রকাশ্যেই মানুষ প্রতারণার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

মিয়ানমার-বাংলাদেশ-প্রতিবেশীর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ূক

মিয়ানমার বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। এক সময়ে তাদের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় ছিল। বঙ্গোপসাগরও মানুষ ও পণ্যের চলাচলে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। কিন্তু দেশটিতে দীর্ঘ সামরিক শাসন এবং বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বিভিন্ন সময়ে তাদের নাগরিকদের একটি অংশকে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ঐতিহাসিক এ সম্পর্কের

সাক্ষাৎকার-পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক চেষ্টা করছি by আনোয়ারুল আজিম আরিফ

উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম আলো: বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন? উপাচার্য: বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক। নিয়মিতভাবে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ হচ্ছে। বিভিন্ন বিভাগে কর্মশালা-সেমিনারও হচ্ছে। এক কথায় বিশ্ববিদ্যালয় এখন পুরোদমে জমজমাট।

হঠাৎ সংঘর্ষ, আতঙ্কে ছোটাছুটি by মিঠুন চৌধুরী

‘তিনটার সময় বাসা থেকে বাইর হইছি। কাজীর দেউড়ি আইসা মাইরের মধ্যে আটকে গেছি। মনে হয় মায়ের আর বাড়ি যাওয়া হইবো না। এখন বাসায় যাওয়ার উপায়ও দেখি না।’ গত রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নগরের এনায়েত বাজার মোড়ে কথা হয় রিকশা-চালক মোহাম্মদ রুবেলের সঙ্গে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন-তৎপর বগিভিত্তিক সংগঠন, সংঘর্ষের আশঙ্কা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গত বছরের মে মাসে। এরপর কিছুদিন নীরব থেকে এখন আবার তৎপরতা শুরু করেছে সংগঠনগুলো। বগির নিয়ন্ত্রণ নিতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন সংগঠনের কর্মীরা।

‘দায়ী জামায়াত-শিবির ও সাকার অনুসারীরা’-‘পুরো ঘটনাই পরিকল্পিত’

গত রোববার বিকেলে নগরে পরিকল্পিতভাবে সহিংস ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এর জন্য জামায়াত-শিবির এবং বিএনপির বিতর্কিত নেতা সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর অনুসারীরা দায়ী বলে মনে করছেন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

‘বন্ধ হোক সংঘাত’

দীর্ঘদিন বন্ধের পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আবার সচল। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস, স্বস্তি। নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এখন একটা দাবি, সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ হোক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নাজমুল হোসেন ও সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘স্বার্থের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ছাত্রসংগঠনগুলো।

পরিণীতার পরিণতি

তাঁর নীতি ছিল—জীবনে যা কিছু অর্জন করবেন, সব নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে। তাঁর কাজিন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। চাইলেই প্রিয়াঙ্কার কাছ থেকে টিপস নিয়ে অভিনয় ক্যারিয়ারকে অন্যভাবে সাজাতে পারতেন তিনি। কিন্তু না, পরিণীতা নিজেই নিজের ইচ্ছাপূরণের মালিক।

লোপেজ-ডিয়াজের মামা-ড্রামা

মাতৃত্বের স্বাদ সব নারীই চান। জেনিফার লোপেজও ব্যতিক্রম নন। কিন্তু কিছুতেই মা হতে পারছেন না। শেষে বাধ্য হয়ে দুটো সন্তান দত্তক নিয়েছেন। তাতেও যে আশ মেটে না! অবশেষে ঈশ্বর সত্যি সত্যি মুখ তুলে চাইলেন। মাতৃত্বের সাধ আর স্বাদ দুটোই মিটছে লোপেজের।

হঠাৎ চমকে দিলেন আমির খান

আরে! এ কী করলেন আমির খান? হামেশাই তো আমরা ছোটপর্দায় রিয়েলিটি শো দেখছি। কিন্তু আমির খানের নতুন রিয়েলিটি শো প্রচলিত শো থেকে একেবারেই আলাদা। বলিউড তারকাদের ছোটপর্দায় রিয়েলিটি শো নতুন কিছু নয়। অমিতাভ, শাহরুখ, সালমানদের মতো মহাতারকারাসহ অনেকেই এ পথে হেঁটেছেন।

শেকসিপয়ারের গ্লোব থিয়েটারে বাংলায়-দি টেমপেস্ট by জন ফার্নডন

দি টেমপেস্ট শেক্সপিয়ারের একটি অসাধারণ নাটক। এটি লেখা হয়েছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ সম্প্রসারণের সুবর্ণযুগে। ডিউক প্রোসপেরোর শাসনামলের শেষদিকে তাঁর সাম্রাজ্যের কয়েকটি দ্বীপকে স্বাধীনতা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে রচিত হয়েছে নাটকের কাহিনি। আজ থেকে ৪০১ বছর আগে শেকসপিয়ারের গ্লোব থিয়েটারের বিখ্যাত ওপেন এয়ার (উন্মুক্ত) মঞ্চে এই নাটক মঞ্চায়িত হয়েছিল।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নিন by সারওয়ার জামিল

গণতান্ত্রিক ধারার সূতিকাগার হিসেবে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সহজেই চিহ্নিত করা যায়। অথচ গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞার চাদর জড়িয়ে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একদিকে ছাত্র সংসদ দুই দশক ধরে অচল, অন্যদিকে ছাত্ররাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞার খৰ।

হালদার কান্না by বারেক কায়সার

হালদা। মমতাময়ী এক নদীর নাম। বাংলাদেশের কোটি টাকার মিঠা পানির কার্প জাতীয় মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা। বিজ্ঞানীদের শঙ্কা, নিরিবিলি সোনার খনিটি হয়তো আর নির্মল থাকবে না। বিলুপ্ত হতে পারে দুই পাশের জীববৈচিত্র্য। সময় থাকতে নজর না দিলে একদিন হালদার পরিণতি হতে পারে বুড়িগঙ্গার মতো 'নির্মম'।

'মা' শুধু তোমার জন্য...! by ইমাম হোসাইন সোহেল

করপোরেট দুনিয়া মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে 'বিশ্ব মা দিবস' হিসেবে পালন করার রীতি বের করে নিয়েছে। এর পেছনে অধিকাংশই যে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু আমার কাছে কোনো দিবস-টিবস নেই। বছরের ৩৬৫ দিনই তো আমার মায়ের জন্য।

যে অপশক্তি এখনও সক্রিয় by স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশে ফিরে না এলে ক্ষমতার মদমত্ততার আত্মম্ভরিতার অবসান হতো না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের নির্মীয়মাণ ইতিহাসে শেখ হাসিনা নিজের জায়গা নিজে করে নিয়েছেন। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৩১ বছর অতিক্রমের পর প্রশ্ন থেকে যায়, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তার যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন?

ফ্ল্যাশ ফিকশন দিবস by মাহবুব মোর্শেদ

গতকাল অর্থাৎ ১৬ মে ব্রিটেনে প্রথমবারের মতো পালিত হলো জাতীয় ফ্ল্যাশ ফিকশন দিবস। খবরটা পড়ার পর আবশ্যিকভাবে পাঠকের প্রথম প্রশ্ন হবে_ কী দিবস? হ্যাঁ, ঠিকই তো পড়েছি, লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় স্পষ্টভাবেই লিখেছে, ফ্ল্যাশ ফিকশন দিবস। দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো_ কী বস্তু বা ঘটনা এই ফ্ল্যাশ ফিকশন?

বাজেট-চরাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ চাই by ময়নুল ইসলাম

দেশের অন্যতম দারিদ্র্য পকেট হিসেবে চিহ্নিত চরাঞ্চলে সরকারি বরাদ্দ তুলনামূলক কম। জাতীয় বাজেটেও এর প্রতিফলন চোখে পড়ছে না। আবার কখনও কখনও চরের জন্য আলাদা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও তার বাস্তব প্রয়োগ নেই বলেই দৃশ্যমান।

বাজেট-অর্থনীতি ও রাজনীতির ধাঁধা by বিনায়ক সেন অজয় দাশগুপ্ত

সামনে বাজেট রয়েছে। কিন্তু সরকারের চতুর্থ বছরটা উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রণয়নের বছর নয়। এর পরিবর্তে আগের বছরগুলোর সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে স্থিতি এসেছে তা বজায় রাখা, বাজেট ঘাটতি কমানো, বিনিময় হারে অবনতি ঘটতে না দেওয়া, রফতানি উৎসাহিত করা_ এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা জরুরি।

সোনারগাঁয়ের জেলে-জাল যার জলা তারই থাকতে হবে

আবহমানকাল থেকে মাছ ধরে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে এলেও বাংলাদেশের মৎস্যজীবী সম্প্রদায় সাম্প্রতিক সময়ে যেসব সংকটে পড়ছে, সোনারগাঁয়ের অঘটন তার নতুন মাত্রা। অস্বীকার করা যাবে না, সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিল, বাঁওড়, খালসহ ২০ একরের বেশি আয়তনের বদ্ধ জলাশয় ইজারা দেওয়ার নিয়ম করা হয়েছিল সদুদ্দেশ্য থেকেই।

সমবায় ব্যাংকিং-জনগণের অর্থের সুরক্ষা চাই

সমবায় সমিতি (সংশোধন) আইন, ২০১২-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হওয়ার পর আইনে পরিণত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি গ্রহণ করেই কেবল সমবায় সমিতি ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে পারবে। এটাও বলা হয়েছে যে, সমিতি শুধু তাদের সদস্যদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করতে পারবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না

৩৯৭ স্বাধীনতার চার দশক উপলক্ষে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ধারাবাহিক এই আয়োজন। আলী আকবর আকন, বীর প্রতীক প্রতিরোধযুদ্ধে আহত হন তিনি কয়েক দিন ধরে সেনানিবাসের ভেতরটা থমথমে। অবাঙালি সেনাসদস্যরা বাঙালিদের কেন জানি এড়িয়ে চলছে। সেনানিবাসে বাঙালিও তেমন নেই। বেশির ভাগ অবাঙালি।

সাংসদ আসলামের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ-তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

ঢাকা-১৪ আসনের সাংসদ আসলামুল হকের সরকারি বাঙলা কলেজের ভূমি দখলের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বাপেক্সের ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ-দুই তেলক্ষেত্রে ৪৫ হাজার কোটি টাকার তেল! by অরুণ কর্মকার

রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোম্পানি বাপেক্স সিলেটের কৈলাসটিলা ও হরিপুরে দুটি তেলক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে। ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের মাধ্যমে ক্ষেত্র দুটি চিহ্নিত করা হয়। গতকাল বুধবার জরিপের চূড়ান্ত তথ্যসংবলিত প্রতিবেদন পেট্রোবাংলার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিয়ে কমিশন

গ্রামীণ ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে একটি কমিশন গঠন করেছে সরকার। প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যতে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ প্রণয়ন করবে এ কমিশন। আগামী তিন মাসের মধ্যে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে কমিশন।

মানুষ হত্যাকারী চালকদের ফাঁসি দেওয়ার আইনের পক্ষে অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় যেসব চালক মানুষ হত্যা করবে, প্রয়োজনে সেসব চালককেও হত্যা মামলায় ফাঁসি দেওয়ার আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। অতি সম্প্রতি ট্রাফিক আইন-সম্পর্কিত এক সভায় আমি এ ধরনের সুপারিশ করেছি।

বিরোধী দলকে চাপে রাখবে সরকার

বিরোধী দলকে চাপে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। টানা হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হলেও সরকার এ অবস্থানে অনড় থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাড়ি পোড়ানো এবং সচিবালয়ে বোমা নিক্ষেপের কারণে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে নীতি-নির্ধারকেরা জানিয়েছেন।

১৮ দলীয় জোটের নেতাদের বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোর মামলা-শীর্ষস্থানীয় ৩৩ নেতা কারাগারে

গাড়ি পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের ৩৩ জন নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২৯ জন এবং শরিক চারটি দলের চার শীর্ষনেতা রয়েছেন।