Wednesday, February 18, 2026

নতুন বাংলাদেশ, ইসলামাবাদের উচিত গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বজায় রাখা

দ্য নেশনের সম্পাদকীয়ঃ মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক গতিপথে এটি একটি নির্ধারক পরিবর্তনের সূচনা। পাকিস্তানের অনলাইন দ্য নেশনের সম্পাদকীয়তে এ কথা বলা হয়েছে।

তারেক রহমান এমন একটি রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধি, যা ঐতিহাসিকভাবে হাসিনা পরিবারের বিরোধী অবস্থানে থেকেছে। তার ব্যাপক নির্বাচনী জয় অতীত রাজনীতির প্রতি স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান এবং বাংলাদেশের একটি অংশের মধ্যে এমন মনোভাবের প্রতিফলন, যেখানে সমালোচকদের চোখে অতিমাত্রায় ভারতঘেঁষা নীতির পরিবর্তে পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন ভারসাম্য আনার আকাঙ্ক্ষা দেখা যাচ্ছে। তবে এ ধরনের রূপান্তর সবসময়ই নিজস্ব জটিলতা বহন করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বদানকারী বহুল প্রশংসিত ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিদায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কার্যত আবারও উত্তরাধিকারের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারায় ফিরে গেল, যার সঙ্গে পরিচিত কাঠামোগত চ্যালেঞ্জও ফিরে এসেছে। বিপ্লবী মুহূর্তগুলো সাধারণত দ্রুত ও মৌলিক সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি করে, অথচ প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক দলগুলো ধীর প্রক্রিয়া ও আপসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। নতুন বিএনপি সরকার কীভাবে তাদের উত্থানকে সম্ভব করে তোলা সেই বিপ্লবী প্রেরণাকে স্থিতিশীল শাসনের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য করবে- এটাই তাদের মেয়াদের নির্ধারক প্রশ্ন হয়ে উঠবে।

এই নির্বাচন রাজনৈতিক প্রভাবও পুনর্বণ্টন করেছে। জামায়াতে ইসলামী শেখ হাসিনার আমলে প্রান্তিক হয়ে পড়েছিল। তারা নতুন প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি, যে ছাত্রগোষ্ঠীগুলোর আন্দোলনে এই রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে, তারাও এখন বিরোধী আসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সময়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলনামূলকভাবে স্বাধীন অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছিল এবং বাইরের চাপ হিসেবে বিবেচিত বিষয়গুলো প্রতিরোধ করেছিল। বিএনপি সরকার- একদিকে ইসলামপন্থী ও ছাত্রভিত্তিক সক্রিয় বিরোধী শক্তি নিয়ে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শাসনের একটি সুসংহত নীতি ধরে রাখতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের মন্ত্রীদের উপস্থিতি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত। ঢাকা শেষ পর্যন্ত যে রাজনৈতিক পথই অনুসরণ করুক না কেন, ইসলামাবাদের উচিত ঐতিহাসিকভাবে সংযুক্ত এই প্রতিবেশীর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বজায় রাখা, যাতে দক্ষিণ এশিয়ায় আরও স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলা যায়।

নতুন বাংলাদেশ, ইসলামাবাদের উচিত গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বজায় রাখা

নির্বাচনে জামায়াতের উত্থান ও বিএনপির চ্যালেঞ্জ by ইফতেখারুজ্জামান

শত অনিশ্চয়তা ও প্রতিকূলতা কাটিয়ে বহুল প্রত্যাশিত ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ভোটের হারও মোটামুটি ভালো ছিল। তবে ভোট দিলেও আসলে কতটা বাস্তব পরিবর্তন বা লাভ পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে অনেকের মনে সন্দেহ রয়ে গেছে। এই আস্থার ঘাটতির কারণেই হয়তো ভোটের হার আরও বেশি হয়নি। তবে মোটের ওপর নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে।

কর্তৃত্বপরায়ণ ক্লিপ্টোক্রেসি বা তস্করতন্ত্রের পরাজয়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ও ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে। এতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারায়। ফলে দেশে-বিদেশে অনেকেই এ নির্বাচন কতটুকু অন্তর্ভুক্তিমূলক হলো, সে প্রশ্ন তুলতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, জুলাই অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ ও ষড়যন্ত্রমূলক ঘোষণার অবস্থানে আওয়ামী লীগ অবিচল থেকেছে। তারা নির্বাচনকেও অবৈধ ও প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। এ লক্ষ্যে তারা নির্বাচনকালে সক্রিয় ছিল। অতএব নির্বাচন ও নির্বাচনী পরিবেশে আওয়ামী লীগের নেতিবাচক ও সক্রিয় ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।

তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন প্রতিহত করার অবস্থান সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা নির্বাচনে ভোটার হিসেবে অংশ নিয়েছেন। এমনকি কারাগারে থাকা দলটির উচ্চপর্যায়ের নেতারাও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। দলটির সমর্থকদের একাংশ ভোট বর্জন করে থাকতে পারেন, কিন্তু সেটি তো সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রেও কমবেশি প্রযোজ্য।

মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের ভোট টানার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের অনেকেই, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত জোট এবং জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল ও প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও সাড়া দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণকারী কোনো কোনো দলে যোগদান করেছেন ও প্রচারণাসহ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণও করেছেন।

ফলে আওয়ামী লীগ একদিকে দল হিসেবে নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে; অন‍্যদিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে দলটির নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা ভোট দেওয়াসহ তাঁদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। তাই নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়নি—এমন অবস্থানের পক্ষে গ্রহণযোগ্য যুক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন।

বাস্তবতার নিরিখে সব ভোটার সম-অধিকারের ভিত্তিতে ভোট দিতে পেরেছেন, এমনও বলা যাবে না। বাস্তবতা হলো, সব ভোটার সমানভাবে ভোট দিতে পারেননি। এখানে ধনসম্পদ ও পেশিশক্তির প্রভাব বড় ভূমিকা রেখেছে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিবেশে ধর্মান্ধতা, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা, পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব এবং সংখ্যাগরিষ্ঠদের চাপও ছিল। এই কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী এবং প্রান্তিক ভোটারদের জন্য পরিবেশ বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠেছে। অনেক সময় এটা কঠিন বা ভয়ংকরও হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারপরও, এবার নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং জনগণের রায়ে নতুন সংসদ ও সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। সংসদে বিএনপি জোটের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে, যা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি, এই ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার নেতিবাচক প্রভাব কত বড় হতে পারে—এ অভিজ্ঞতা আছে জনগণের এবং বর্তমান সব রাজনৈতিক দলেরও।

এই শিক্ষা মাথায় রেখে আশা করা যায় যে নতুন সংসদ ও সরকার দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবে এবং ‘এবার আমাদের পালা’ মনোভাব পরিহার করবে। এটি দেশের সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা।

বিএনপির বড় বিজয়ের ঝুঁকির দিক থাকলেও, এবার দেশের ভোটাররা এমন একটি পরিস্থিতি ঠেকাতে পেরেছেন, যা আরও ভয়ংকর হতে পারত। এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ধর্মান্ধ বা ধর্মের ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে আগ্রাসীভাবে কোনো শক্তির বিস্তারের চেষ্টা সীমিত হয়েছে, অন্তত সাময়িকভাবে।

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার রোধ করাই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম চাওয়া। সেই বিবেচনায় এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের এক-চতুর্থাংশের বেশি আসন পাওয়া হতাশাজনক। কিন্তু এটাই বাস্তবতা। একে শুধু জুলাই আন্দোলনের ফল হিসেবে দেখলে হবে না। স্বাধীনতা–পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মীয় প্রভাব বাড়ানোর জন্য একধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকায় এই ধরনের শক্তি গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় নব্বইয়ের পর থেকে দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দল একে অপরের ওপর ‘উইনার টেকস অল’ বা ‘বিজয়ীরা সব নিয়ে যাবে’ মানসিকতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালাচ্ছে। এই প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে ধর্মভিত্তিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা বা নিয়ম ছিল না। এবারের নির্বাচনের কিছু ঘটনার মধ্যেও এর নমুনা দেখা গেছে।

এ শক্তি শুধু কর্তৃত্ববাদবিরোধী গণ-আন্দোলনের অংশ ছিল না; বরং কর্তৃত্ববাদ পতনের পরে অতি ক্ষমতাপ্রবণ অবস্থায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। নারী কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে বা মাজার ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর এই ধর্মীয় চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের
নীরব ও আত্মসমর্পণমূলক আচরণ এ শক্তিকে আরও ক্ষমতাবান করেছে।

অন্যদিকে ইসলামের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক মনোভাব এবং পার্শ্ববর্তী দেশের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের ইসলামবিরোধী প্রচারণার কারণে একধরনের হুমকির অনুভূতি তৈরি হয়। এসব ঘটনা বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিকাশের পথ আরও প্রশস্ত করেছে।

তা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কৌশলভিত্তিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জামায়াত সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, প্রশাসন, সিভিল-মিলিটারি আমলাতন্ত্র, ব্যাংক, আর্থিক খাতসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ইকোসিস্টেমে নিজেদের ভিত্তি শক্তিশালী করতে পেরেছে। দেশের মূলধারার রাজনীতি ধারাবাহিকভাবে দেশের জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ‘বিকল্প’ হিসেবে নিজেদের উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছে।

অতএব টেকসই ভিত্তির ওপর বিকশিত জামায়াতের এ নির্বাচনী উত্থান সাময়িক কোনো বিষয় নয়। একই সঙ্গে তাদের এ অভূতপূর্ব অর্জন পরবর্তী সময়ে আরও কত বিকশিত হবে, তা নির্ভর করবে বড় জয় নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিএনপি কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে তার ওপর।

বিএনপি ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’, এবারের নির্বাচনের ইশতেহার এবং জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তার ভিত্তিতে তারা নতুন সরকারে এসে কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে, কতটা সফল হবে এবং তার সুবিধা জনগণ কখন, কতটা ও কীভাবে পাবে—এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সরকার এসব ক্ষেত্রে সফল হতে না পারলে তা জামায়াতকে আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ দেবে।

বিশেষ করে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। এই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব থাকলেও বিএনপি সেগুলোতে ‘সরকারের হাত-পা বাঁধা যাবে না’ বলে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। এই প্রস্তাবগুলো বর্তমান পরিস্থিতিতে কতটা যৌক্তিক আর বাস্তবে এগুলো কতটা বিপর্যয় বা বুমেরাং হিসেবে কাজ করতে পারে, তা দলকে নতুন করে বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে।

অর্থাৎ বিএনপিকে ভাবতে হবে, এগুলো সরকারের কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলতে পারে এবং কীভাবে এগুলো জনগণ বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। সর্বোপরি রাজনৈতিক, জনপ্রতিনিধিত্ব ও সরকারি অবস্থানকে ক্ষমতার অপব্যবহারের লাইসেন্স হিসেবে বিবেচনা করার যে চর্চা দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে, তা থেকে মুক্তির জন্য আত্মশুদ্ধির পথ অবলম্বন করা ছাড়া বিকল্প নেই।

মনে রাখতে হবে, যেসব কারণে এবার জনগণের রায় জামায়াতকে আরও বেশি পথ যেতে দিল না, সেসব কারণ শনাক্ত করা এবং কীভাবে নিজেদের জনগণের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করা যায়, তার বিশ্লেষণে দলটি হয়তো অবিলম্বেই ‘ড্রয়িং বোর্ডে’ ফিরে যাবে। এই বিশ্লেষণের জন্য তারা হয়তো নতুন পরিকল্পনা বা কৌশল সাজাতে মনোযোগী হবে।

* ইফতেখারুজ্জামান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক
- মতামত লেখকের নিজস্ব

মোটের ওপর নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে।
মোটের ওপর নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে। ছবি : প্রথম আলো

জামায়াত আমীরের সঙ্গে বিক্রম মিশ্রির সাক্ষাৎ: বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত

বাংলাদেশে নতুন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য হিন্দু। বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমানকে শুভেচ্ছা জানান বিক্রম মিশ্রি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেন। জবাবে জামায়াতের আমীর বলেন, দুই দেশ ‘গভীর সভ্যতাগত বন্ধনে’ আবদ্ধ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এক্সে এক পোস্টে জানায়, ‘ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের ফাঁকে বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।’ পোস্টে আরও বলা হয়, ‘পররাষ্ট্র সচিব তার নতুন দায়িত্বের জন্য ডা. রহমানকে শুভেচ্ছা জানান এবং জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ডা. শফিকুর রহমান দুই দেশের গভীর সভ্যতাগত বন্ধনের কথা উল্লেখ করে শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’
এদিকে, একই দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে ভারত সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন ওম বিরলা এবং ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন। তিনি মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

ওম বিরলার সফরকে স্বাগত জানান ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। তিনি এক্সে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একই দিনে তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের উষ্ণ আমন্ত্রণ জানান। তার চিঠিতে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমাকেও সফরসঙ্গী হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। চিঠিতে মোদি বাংলাদেশের জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য শুভকামনা জানান।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত

জেনেভায় পরমাণু আলোচনা: মার্কিন রণতরিগুলো ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি খামেনির

পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন রণতরিগুলো ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে’ দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যখন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরমাণু আলোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক তখন খামেনি এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করলেন। আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এমন এক চপেটাঘাত খেতে পারে, যা থেকে তারা আর সেরে উঠতে পারবে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী’ দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে খামেনি এ মন্তব্য করলেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, ‘তারা বারবার বলছে যে ইরানের দিকে রণতরি পাঠানো হয়েছে। বেশ তো, রণতরি অবশ্যই একটি বিপজ্জনক যন্ত্র, কিন্তু রণতরির চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা একে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দিতে পারে।’

অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও তেহরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির মুখে খামেনির এ কড়া মন্তব্য এল। গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনা ব্যর্থ হলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ শিগগিরই এ অঞ্চলে পাঠানো হবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যদি কোনো রফায় আসতে না পারি, তবে আমাদের এটির প্রয়োজন হবে। এটি খুব দ্রুতই রওনা দেবে।’

গত মাসে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

চলমান পরমাণু আলোচনা প্রসঙ্গে খামেনি বলেন, আলোচনা চলাকালে আগেই এর ফলাফল নির্ধারণ করে ফেলা ‘ভুল ও বোকামি’।

গতকাল ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে ইরানি প্রতিনিধিদল এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল জেনেভায় ওমান দূতাবাসে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর দীর্ঘ আট মাস আলোচনা স্থগিত ছিল। চলতি মাসের শুরুর দিকে মাসকাটে আবার এ পরোক্ষ কূটনীতি শুরু হয়। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যে যুদ্ধের ছায়া মাথায় নিয়েই এ আলোচনা চলছে।

গত রোববার ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য একটি ‘শিক্ষা’ হয়ে থাকবে।

ভাষণ দিচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, তেহরান, ইরান
ভাষণ দিচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, তেহরান, ইরান। ছবি: ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রেস অফিস/আনাদোলু এজেন্সি

পবিত্র আল-আকসা মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করল ইসরায়েলি পুলিশ

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ চত্বরের ভেতর থেকে গত সোমবার সন্ধ্যায় মসজিদের ইমাম শেখ মুহাম্মদ আলী আল-আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতর থেকে ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তারা শেখ আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করেন। তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করার কারণ কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ঘটনাটিকে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ক্রমবর্ধমান বাড়াবাড়ির অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক সময় আল-আকসার ইমাম ও খতিবদের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ, মুসল্লিদের প্রবেশে কড়াকড়ি ও পুলিশের কড়া পাহারার মধ্য দিয়ে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদ চত্বরে প্রবেশের হার বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল।

জেরুজালেমের ওল্ড সিটি ও আল-আকসা চত্বরকে কেন্দ্র করে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় অধিকারকর্মীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকাছাড়া করার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

শেখ আব্বাসিকে গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

পবিত্র আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মুহাম্মদ আলী আল-আব্বাসি
পবিত্র আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মুহাম্মদ আলী আল-আব্বাসি। ছবি: মিডল ইস্ট মনিটরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া

নোয়াখালীতে তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা, দিলেন স্লোগান

প্রায় ১৭ মাস ধরে তালাবদ্ধ ছিল নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়। আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৩০ থেকে ৩৫ জন নেতা-কর্মী তালা ভেঙে সেই কার্যালয়ে ঢোকেন। এরপর ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে কার্যালয়টিতে একটি ব্যানার টাঙিয়ে সটকে পড়েন তাঁরা।

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি নোয়াখালী শহরের টাউন হল মোড়ে অবস্থিত। কার্যালয় খোলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের একটি দল। এ সময় সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করা হয়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, কার্যালয়ের সামনে বেশ কিছু পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কার্যালয়ের পাশে পুলিশের একটি গাড়িতে আটক পাঁচজনকে রাখা হয়েছে। আশপাশের দোকানিসহ কিছু উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করেছেন।

তালা ভেঙে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ঢোকা এবং স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়’ লেখা একটি ব্যানার হাতে নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে বয়স্ক এক ব্যক্তিকেও দেখা গেছে। ব্যানারটি টাঙিয়ে দিয়ে সবাই সটকে পড়েন।

জানতে চাইলে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভোরে দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙেছেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত বাকি ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চলছে।

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার জেরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা এই ভাঙচুর চালান। এ সময় কার্যালয়টিতে আগুনও দেওয়া হয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে কার্যালয়টির প্রধান ফটকে তালা ঝোলানো ছিল।

ব্যানার হাতে নিয়ে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের স্লোগান। আজ সকালে নোয়াখালীর মাইজদীর টাউন হল মোড়ে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে
ব্যানার হাতে নিয়ে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের স্লোগান। আজ সকালে নোয়াখালীর মাইজদীর টাউন হল মোড়ে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বিএনপির ‘দুর্গ’ খুলনা-২ আসনে ‘হেভিওয়েট’ মঞ্জুর পরাজয়ের নেপথ্যে by উত্তম মণ্ডল

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে এবার ব্যতিক্রমী ফল হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে ধারাবাহিক সাফল্যের পর এবার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কাছে হেরেছেন বিএনপির প্রার্থী। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো খুলনা নগরের কোনো আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে খুলনা-২ ও খুলনা-৬ আসনে জয় পায় জামায়াত। খুলনা-৬ আসনে জয় নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা থাকলেও খুলনা-২ আসনের ফল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সংগঠক ও মাঠের নেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, যিনি খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। ভোটের আগে অনেক বিশ্লেষণেই মঞ্জুর জয়ের সম্ভাবনা দেখা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

ইতিহাস বলছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে এ আসনে দীর্ঘদিন ধরেই শক্ত অবস্থানে ছিল বিএনপির। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এখানে জয় পান সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী। ২০০১ সালে জয় পান বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালে জোটের ভরাডুবির মধ্যেও এ আসনে জয় পান নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ১৯৯৬ সালের পর জামায়াত এ আসনে কখনো প্রার্থী দেয়নি। সেবার জামায়াতের আনসার উদ্দীন ৮ হাজার ৪২৬ ভোট পান।

বিএনপির অন্তত ২০ জন স্থানীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোট কম পড়া, দলীয় সমন্বয়ের ঘাটতি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিএনপির পরাজয়ের বড় কারণ।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা বলেন, এ আসনে তুলনামূলক কম ভোট পড়েছে, যা বিএনপির জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ভোটের সমন্বয়ও এখানে হয়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জামায়াত মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। ঘরে ঘরে যোগাযোগ, নারী ভোটারদের কেন্দ্রে আনা এবং দলীয় কোন্দল না থাকা—এসব বিষয় তাঁদের পক্ষে কাজ করেছে।

নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে জড়িত জামায়াতের একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসনটি আমাদের কাছে নিশ্চিত ছিল না। তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আমাদের মাথায় ছিল। আমরা নির্বাচনের জন্য প্রচুর কাজ করেছি, ঘরে ঘরে গিয়েছি।’

অন্যদিকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশের মতে, দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভাজন, কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং মাঠপর্যায়ে দুর্বল প্রচারণা পরাজয়ের কারণ হয়েছে। বিশেষ করে ভোটারদের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে না পারা এবং নারী ভোটারদের সক্রিয়ভাবে কেন্দ্রে আনতে না পারা বড় দুর্বলতা ছিল।

নগরের বাগমারা এলাকার বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী বলেন, ‘আমাদের দেওয়া ভোটার স্লিপ সবার বাসায় পৌঁছেনি। বিএনপির নির্বাচনী প্রচার বাজার ও মূল সড়কে সীমাবদ্ধ ছিল। জামায়াত নারী কর্মীদের ব্যাপক কাজে লাগিয়েছে, আমরা সেভাবে পারিনি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে খুলনা মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে বর্তমান নেতা-কর্মীদের দূরত্ব বাড়তে থাকে। মহানগর বিএনপির থানা ও ওয়ার্ড কমিটি থেকেও বাদ দেওয়া হয় মঞ্জু অনুসারীদের। দলীয় পদ হারানোর পরও রাজনীতি থেকে সরে যাননি তিনি। বিভিন্ন ব্যানারে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে মঞ্জুকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে নগর বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেক নেতা এবং অনুসারীরা তা মেনে নিতে পারেননি।

এমনকি প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার পরও দুই পক্ষ আলাদা কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করে। মঞ্জুর প্রার্থিতা বাতিলের দাবিও জানান বর্তমান কমিটির নেতারা। একপর্যায়ে প্রকাশ্য বিরোধ মিটিয়ে দুই পক্ষের নেতারাই মঞ্জুর পক্ষে মাঠে নামেন। তবে ভেতরের পুরোনো কোন্দল ভেতরেই রয়ে গিয়েছিল।

ভোটের দুই দিন আগে খুলনা নগরে বিএনপির বর্তমান কমিটির এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ধানের শীষে ভোট চাচ্ছি। তবে প্রার্থী ও তাঁর নিজের লোকদের কাছে সেভাবে মূল্যায়ন পাচ্ছি না। তিনি প্রার্থীকেন্দ্রিক রাজনীতি সাজিয়েছেন। ভেতরের ক্ষত আসলে পুরোটা উপশম হয়নি।’

খুলনা নগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখনো বুঝে উঠতে পারছি না এবার কেন হারলাম, হিসাব মিলছে না। আরও বিশ্লেষণ করার দরকার আছে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণায় খুলনা–২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সম্প্রতি নগরের সোনাডাঙ্গা এলাকায়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণায় খুলনা–২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সম্প্রতি নগরের সোনাডাঙ্গা এলাকায়। ছবি: প্রথম আলো

বিএনপির অবস্থান গণভোটের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী by হাসনাত কাইয়ূম

বাংলাদেশের রাজনীতির এই পর্যায়ে এসে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে আমাদের সংকটের কেন্দ্রবিন্দু সংবিধান। গণ-অভ্যুত্থানের পর যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছিল, সেটাকে কীভাবে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে স্থিতিশীল ও টেকসই রূপ দেওয়া যায়, সেই প্রশ্নটাই এখন প্রধান বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা দেখছি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের দলীয় অবস্থান ও কৌশলগত স্বার্থের আলোকে সংবিধানকে ব্যাখ্যা করছে। ফলে মৌলিক ঐকমত্যের বদলে বিভাজনই বেশি প্রকট হয়ে উঠছে।

বিএনপি শুরু থেকেই ১৯৭২ সালের সংবিধানের ধারাবাহিকতার মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতিকে দেখতে চেয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী ও কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাকাঠামো অপরিহার্য। তারা মনে করে, রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল রাখতে হলে নির্বাহী ক্ষমতা দুর্বল করা যাবে না। এই দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে একটি আমলাতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার চিন্তা কাজ করে।

গণভোটের আগে বা পরে সংস্কার, সনদকে আগে আইনে পরিণত করা ইত্যাদি প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে তারা আলোচনাকে জটিল করেছে। এ ছাড়া একাডেমিক মহলের একটি অংশ বিষয়টিকে তাত্ত্বিক ও নীতিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখার চেষ্টা করেছে। ফলে চারটি আলাদা ধারায় সংবিধান বিশ্লেষণের প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় আমরা চেষ্টা করেছিলাম একটি সমন্বিত পথ খুঁজে বের করতে। সংবিধানের ক্ষমতাকাঠামো অংশের সংস্কার প্রয়োজন। এর পেছনে একাডেমিক, ঐতিহাসিক ও দার্শনিক যুক্তি রয়েছে। কিন্তু আমরা চেয়েছি বিতর্কিত দার্শনিক প্রশ্নগুলো আপাতত পাশে রেখে একটি কমন মিনিমাম গোল নির্ধারণ করতে, যাতে ক্ষমতাকাঠামোর সংস্কার নিয়ে বিস্তৃত ঐকমত্য তৈরি হয়। লক্ষ্য ছিল, এমন একটি কাঠামো দাঁড় করানো, যা স্থিতিশীল ও টেকসই হবে এবং ভবিষ্যতে সাংবিধানিক সংকটের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।

দুঃখজনকভাবে কমিশন মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সীমিত আলোচনায় নিজেদের আবদ্ধ রেখেছে। জনগণের বৃহৎ অংশকে সরাসরি আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। এতে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে সংবিধান সংস্কারের একমাত্র কর্তৃত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর হাতেই। বড় দলগুলো নিজেদের স্বার্থ ও কৌশল অনুযায়ী অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি ’৭২ সালের সংবিধানের কাঠামোকে যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ন রাখতে চেয়েছে। অন্যদিকে এনসিপি শুরুতে সম্পূর্ণ নতুন সংবিধানের দাবি তুললেও পরে বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করেছে।

সবচেয়ে বড় ঘাটতি ছিল পদ্ধতিগত বিষয়ের আলোচনায়। সংস্কার কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেই প্রশ্নটি শুরুতেই গুরুত্ব পায়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বারবার কমিশনকে বলেছি যে পদ্ধতির প্রশ্নটি আগে নির্ধারণ করতে হবে। বাস্তবায়ন কাঠামো স্পষ্ট না থাকলে প্রস্তাব কাগজেই থেকে যাবে। পরে যখন বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠল, তখন আমরা সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব দিয়েছি।

গণভোট ও নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়াকে বিলম্বিত করার মাধ্যমে বিএনপি শুরুতেই অভ্যুত্থান এবং গণভোটের আকাঙ্ক্ষা পরিপন্থী অবস্থান নিল। এটা দুঃখজনক। বিএনপি এখন বলছে, তারা তাদের নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী এগোবে।

কিন্তু এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন আছে। জনগণ একই সঙ্গে তাদের প্রতিনিধিত্বশীল ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং গণভোটের মাধ্যমে সরাসরি মতামতও জানিয়েছে। গণভোট সরাসরি জনগণের অভিব্যক্তি। গণতান্ত্রিক তত্ত্ব অনুযায়ী সরাসরি অভিব্যক্তির গুরুত্ব কম নয়। অতএব নোট অব ডিসেন্টের যেসব আপত্তি নীতিগত নয়, বরং পদ্ধতিগত বা তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

সংবিধান সংস্কার পরিষদে বসে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্য ছিল, এই সরকারের আমলেই জনগণ সংস্কারের সুফল পাবে এবং পরবর্তী নির্বাচন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও স্বাধীন ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। যদি সরকার সত্যিই জনগণের স্বার্থে কাজ করতে চায়, তাহলে এই সময়সীমাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সংসদের প্রথম দিনেই সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে শপথ ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থান একটি প্রতীকী বিষয়। এ ঘটনাটি বড় বাধা নয়, কিন্তু একটি সতর্কবার্তা। এত বড় পরিবর্তনের পর যদি রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বিফলে যেতে পারে। অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল বিভাজন থেকে বেরিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক কাঠামো নির্মাণ। সেই দায়িত্ব এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাঁধে সবচেয়ে বেশি।

* হাসনাত কাইয়ূম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী
- মতামত লেখকের নিজস্ব

হাসনাত কাইয়ূম
হাসনাত কাইয়ূম

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

জেনেভায় আজ মঙ্গলবার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে গতকাল সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এই আলোচনায় ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন। ট্রাম্পের বিশ্বাস, ইরান এবার একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।

প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এই আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকব। এসব আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।’

এ আলোচনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে মার্কিন সেনাবাহিনী।

চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ইরান বরাবরই আলোচনার টেবিলে কঠোর অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু গত গ্রীষ্মে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালায়, তখন তারা সেই অবস্থানের পরিণাম বুঝতে পেরেছে।

ট্রাম্পের মতে, ‘চুক্তি না করার পরিণাম ভোগ করতে তারা (ইরান) আর চাইবে বলে আমার মনে হয় না।’

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের চাপ

গত জুনে মার্কিন হামলার আগে আলোচনা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। কারণ, ওয়াশিংটন দাবি জানিয়েছিল, ইরানকে তাদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এ পথেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, ‘পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান পাঠানোর বদলে আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারতাম। কিন্তু আমাদের ওই বিমানগুলো পাঠাতে হয়েছিল। আমি আশা করি, এবার তারা আরও যৌক্তিক আচরণ করবে।’

অন্যদিকে গতকাল সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধানের সঙ্গে দেখা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, তিনি একটি ‘ন্যায়সংগত ও সমতাপূর্ণ চুক্তি’ করতে জেনেভায় এসেছেন।

তবে আরাগচি স্পষ্ট করে দেন, ‘হুমকির মুখে আত্মসমর্পণ করার বিষয়টি আলোচনার টেবিলে নেই।’

প্রধান বাধা ও অমীমাংসিত প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) কয়েক মাস ধরে ইরানের কাছে তাদের ৪৪০ কেজি উচ্চ–সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কে জানতে চাচ্ছে। গত জুনে নাতাঞ্জ, ফর্দো এবং ইস্পাহানের তিনটি প্রধান স্থাপনায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর সেই মজুতের কী হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। সংস্থাটি ওই স্থাপনাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শনের অনুমতিও চাইছে।

ইরান বারবার হুমকি দিয়েছে, তাদের ওপর হামলা হলে তারা পারমাণবিক জ্বালানি ও তেলের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেবে। সোমবার তারা সেখানে একটি সামরিক মহড়াও চালিয়েছে।

আলোচনার প্রধান প্রধান চ্যালেঞ্জ

পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও আলোচনার আওতায় আনতে চায় ওয়াশিংটন।

তবে ইরান কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী এবং বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। তবে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কথা বলতে নারাজ।

হাঙ্গেরি সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে চুক্তি করা কঠিন হবে। তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিকভাবে চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ আছে। তবে আমি বিষয়টিকে বাড়িয়ে বলতে চাই না। এটা কঠিন হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি  
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি. ছবি: এএফপি