Tuesday, July 30, 2019

ডেঙ্গুর পরীক্ষা এখন ৫০০ টাকার মধ্যেই হবে

ডেঙ্গু পরীক্ষার হার নির্ধারণ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এখন থেকে এনএস১ সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা। এর আগের মূল্য ছিল ১২০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। আইজিএম ও আইজিই টেস্ট করতেও সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা নিতে হবে।
এছাড়াও সিবিসি টেস্ট করতে হাসপাতালগুলোতে দিতে হবে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা। বেসরকারি হাসপাতালে এ পরীক্ষাটি করতে এতোদিন নেয়া হয়েছিল এক হাজার টাকা। সিবিসির মধ্যে থাকবে আরবিসি, ডব্লিউবিসি, প্লাটিলেট ও হেমাটোক্রিট।
এই মূল্য রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে। পরবর্তি ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত এ মূল্য তালিকা ধরেই ডেঙ্গু বিষয়ক পরীক্ষাগুলো করতে হবে।
ডেঙ্গু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরী সভায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহের পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সকল প্রাইভেট হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একটি ওয়ান স্টপ সেন্টার চালু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা, ডেঙ্গুর জন্য সকল হাসপাতালেই বেডের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ডেঙ্গু রোগীর জন্য ডাক্তার, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করা হবে বলেও জানিয়েছেন মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।

হাজার বছর পুরনো মন্দির খুলে দিলো পাকিস্তান

প্রয়াত ঐতিহাসিক রশিদ নিয়াজের ‘হিস্টোরি অব সিয়ালকোট’ বই অনুসারে শাওয়ালা তেজা সিং মন্দির হাজার বছরের পুরনো। লাহোর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে ধারোওয়াল এলাকায় এই মন্দির অবস্থিত। ভারত ভাগের পর মন্দিরটি প্রার্থনার জন্য বন্ধ ছিল। অবশেষে ৭২ বছর পর প্রথমবারের মতো সেই মন্দিরটি খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আউটলুক ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থাপনার দায়িত্বে থাকা দ্য ইভাকুয়ি ট্রাস্ট প্রোপার্টি বোর্ডের (ইটিপিবি) মুখপাত্র আমির হাশমি বলেন, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির প্রেক্ষিতে ইটিপিবি শাওয়ালা তেজা সিং মন্দির খুলে দিয়েছে। এর আগে এলাকাটিতে কোনও হিন্দুদের আবাস না থাকায় প্রার্থনার জন্য তা বন্ধ ছিল।
আমির হাশমি আরও বলেন, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ নিয়ে ভারতে দাঙ্গার সময় এই মন্দিরটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইটিপিবি’র উপ-পরিচালক ফ্রাজ আব্বাস জানান, মন্দিরটি সংস্কারের কাজ এখনও চলছে। খুব শিগগিরই তা শেষ হবে। তিনি বলেন, দেশভাগের পর প্রথমবারের মতো মন্দিরটি খুলে দেওয়া হচ্ছে। এখানে বসবাসরত প্রায় ২ হাজার হিন্দু ধর্মালম্বী হাজার বছর পুরনো মন্দিরে প্রার্থনা করতে পারছেন বলে খুশি। এখন অনেক হিন্দু মন্দিরটিতে আসছেন। আগামী দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও পুণ্যার্থীরা আসবেন।
সরদার তেজা সিং নির্মাণ করেছিলেন ‘শাওয়ালা তেজা সিং’ নামের এই মন্দির। দেশভাগের সময় মন্দির বন্ধ হলেও দর্শনীয় স্থান হিসেবে এখানে আনাগোনা ছিল পর্যটকদের।  এটি মূলত শিব মন্দির। দেশভাগের পর থেকেই বেশ কয়েকবার ভাঙচুর-লুঠপাট চলে এই মন্দিরে।

হজক্যাম্পে বসে কাঁদছেন ৫ নারী হজযাত্রী

ঢাকার আশকোনায় হজক্যাম্পে এসে হজে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন প্রতারণার শিকার দিনাজপুরের ২০ জন হজযাত্রী। এদের মধ্যে ৫ জন নারী। প্রতারণার শিকার হয়ে কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে হজক্যাম্পে এসে কান্নাকাটি করছিলেন তারা।

জানা যায়, গত শুক্রবার থেকে আশকোনার একটি হোটেলে অবস্থান করছেন তারা। কিন্তু গত ৪/৫ দিনেও এজেন্সীর কোনো লোকজন তাদের খোঁজ নেয়নি। কোনো উপায়ান্তর না দেখে মঙ্গলবার সকালে হজ অফিসের সামনে এসে অবস্থান নেন তারা। এতোদিনে মক্কায় পৌছানোর কথা থাকলেও এজেন্সীর প্রতারণায় যেতে না পেরে ব্যাকুল মনে অঝোঁরে কাঁদছেন ২০ জনের দলে থাকা ৫ নারী হজযাত্রী।

প্রতারণার শিকার এই দলের এক নারী হজযাত্রীর নাম জোলেখা বেগম। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, বড় আশা করে হজের নিয়্যতে টাকা-পয়সা জমা দিয়েছিলাম। গত পাঁচদিন ধরেই আমরা অপেক্ষা করছি। কিন্তু এখনো জানি না আমরা এবছর হজে যেতে পারবো কিনা? তিনি আরো জানান, আমরা মহিলা মানুষ। সব জায়গায় যেতেও পারি না। অথচ ৫ দিন ধরে ঢাকায় আছি। আমরা ৫ জন নারী অনেক কষ্টে আছি।

আবদুল মতিন মন্ডল নামের এক হজযাত্রী জানান, তিনি একটি মাদরাসার প্রিন্সিপাল। তিনি বলেন, আমি সব জায়গায় ছুটির দরখাস্ত দিয়ে হজে যাওয়ার জন্য ঢাকায় এসেছি। এখন শুনতে পাচ্ছি আমাকে ও আমার স্ত্রীসহ অন্যান্য হজযাত্রীদের বাদ দিয়ে নতুন হাজী রিপ্লেসমেন্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

একই সমস্যার কথা জানালেন এই গ্রুপের হজযাত্রী মোঃ মাহবুবুর রহমান, তোজাম্মেল হক, কবির উদ্দিন, আবদুল গফুরসহ অন্যরাও। তারা অভিযোগ করেন, হজে যাওয়ার জন্য তারা প্রত্যেকেই তাওসীফ ট্রাভেলসকে (লাইসেন্স নং ১৩৯১) তিন লাখ করে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু এই এসেন্সী টাকা-পয়সা নিয়ে আমাদের প্রত্যেকের নামে ট্র্যাকিং নম্বর ও পিআইডি নম্বর করেছেন জাবালে নূর (লাইসেন্স নং ৮৪৭) এসেন্সীর মাধ্যমে। কিন্তু তাওসীফের মালিক বলছেন- তারা সব টাকা জাবালে নূরকে দিয়েছেন। অন্যদিকে জাবালে নূর এজেন্সীর মালিক বলছেন- আমরা সবার পুরো টাকা পাইনি।

দুই এসেন্সীর টানাপোড়নে এই ২০ হজযাত্রীর হজে যাওয়াই এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। হজ অফিসের একটি সূত্র জানায়, এই ২০ হজযাত্রীকে বাদ দিয়ে তাদের পরিবর্তে নতুন করে অন্য হজযাত্রী রিপ্লেস করার (নেয়ার) চেষ্টা করছে জাবালে নূর এজেন্সী। এদের নামে এখনো ভিসার প্রক্রিয়াই শুরু করেনি এসেন্সী। যদিও আজ মঙ্গরবারই ভিসার আবেদনের শেষ দিন।

দিনাজপুরের ১৫ জন এবং পীরগঞ্জের ৫ জন মিলে এই ২০ জন হজযাত্রী গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় এসে উঠেছেন আশকোনার মোহনা নামের একটি আবাসিক হোটেলে। প্রতিদিনই তাদের হোটেল ভাড়া ও খাওয়ার খরচ হিসেবে গুণতে হচ্ছে বড় অংকের টাকা। মক্কায় কুরবানি এবং মদিনায় খরচের জন্য তারা সাথে যে টাকা নিয়ে এসেছেন সেই টাকাও শেষ হওয়ার পথে।

এ বিষয়ে ঢাকার হজ অফিসের পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম নয়া দিগন্ত অনলাইনকে বলেন, এই ২০ হজযাত্রীর সমস্যাটি আমাকে জানানো হয়েছে। আমি অভিযুক্ত ঐ দুই এসেন্সীকেই ডেকেছিলাম। আজকে আবারও তাদের ডেকেছি। এই দুই এজেন্সীর মধ্যে টাকার লেনদেন নিয়ে ঝামেলা আছে। তবে আমরা হজ অফিস থেকে বলে দিয়েছি, নিজেদের মধ্যে যত ঝামেলা থাকুক সেটা আমরা নিজেরা দ্রুত মিমাংসা করে এই হজযাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় দুই এজেন্সীর বিরুদ্ধেই আমরা ব্যবস্থা নেব।

এক সাথে কাজ করবে তুরস্ক-মালয়েশিয়া-পাকিস্তান by আহমেদ বায়েজীদ

মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানকে এক সাথে কাজ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মাহাথির মোহাম্মাদের মধ্যে। অন্য দিকে তাদের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান।

সরকারি সফরে বর্তমানে তুরস্কে অবস্থান করছেন মাহাথির মোহাম্মাদ। আঙ্কারার প্রেসিডেন্ট প্রসাদে রজব তাইয়েব এরদোগানের একান্ত বৈঠকের পর দুই নেতা হাজির হন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, বিবৃতি দেয়া খুব সহজ। কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। তাই মুসলিম উম্মার স্বার্থে তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের একসাথে কাজ করা জরুরি।

এরদোগানের সাথে সুর মিলিয়ে মাহাথির মোহাম্মাদ বলেন, মুসলিম উম্মাহকে অন্যদের অধীনস্ততা থেকে মুক্ত করতে হবে। এর জন্য মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে এই তিনটি দেশকে (তুরস্ক, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়া)।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এ কারণেই আমি এই তিনটি মুসলিম দেশের পারস্পারিক ঐক্য ও সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছি। অন্তত এই তিনটি দেশ ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত যাতে আমরা প্রতিরক্ষাসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে জোর গলায় কথা বলতে পারি।

মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে তুরস্কের ভুমিকার প্রশংসা করে মাহাথির বলেন, আপনি যদি অতীতের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন তুরস্ক মুসলিম উম্মাহর ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যদিও বিভিন্ন কারণে বুঝতে পারছেন যে, মুসলিম বিশ্বে এখন এমন কোন একক শক্তি নেই যারা আমাদের রক্ষা করতে পারবে; কিন্তু আজীবন এমনটা থাকবে সেটি ভাবার কোন কারণ নেই।

এদিকে তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার এই চিন্তাকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের দ্য নিউজ অনলাইন জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি টুইটারে মাহাথির ও এরদোগানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। কোরেশি লিখেছেন, মুসলিম রেনেসাঁ ও মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মাদ ও প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এক সাথে কাজ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।

এ বছরের জানুয়ারিতে তুরস্ক সফর করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সে সময় দেশটির বিভিন্ন ইস্যুতে একসাথে কাজ করার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়ে আলোচনায় এলো মুসলিম বিশ্বের এই তিনটি দেশের এক সাথে কাজ করার বিষয়টি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। তারা মনে করছেন মুসলিম বিশ্বের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে দেশ তিনটি এক সাথে কাজ করলে তা হবে ঐতিহাসিক একটি পদক্ষেপ। আঙ্কারার মিডল ইস্ট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হুসেইন বাগচি বলেন, ইসলামী বিশ্বের দরকার একটি রেনেসাঁ। প্রধানমন্ত্রী মাহাথির একটি সঠিক প্রস্তাব করেছেন এই তিন দেশের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার বিষয়ে। এর ফলে মুসলিম বিশ্ব বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষার মতো খাতগুলোতে এগিয়ে যেতে পারবে।

তিনি বলেন, এই তিনটি দেশই আরব বিশ্বের বাইরের। মজার ব্যাপার হচ্ছে, মাহাথির মোহাম্মাদ মুসলিম বিশ্বকে এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কোন আরব দেশের কথা উল্লেখ করেননি।

ইস্তাম্বুল ভিত্তিক সেন্টার ফর ইসলাম এন্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর এ আল-আরিয়ান এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এই তিন নেতাই অনেক দিন ধরে গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, বিশ্ব যখন অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে তখন মাহাথিরের তুরস্ক সফর ও এই প্রস্তাব কার্যকর কিছু পদক্ষেপের সূচনা করতে পারে।

চারদিনের সরকারি সফরে বর্তমানে তুরস্ক অবস্থান করছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মাহাথির মোহাম্মাদ। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার হচ্ছে। সেই সাথে পাকিস্তানসহ এই তিনটি দেশ মুসলিম বিশ্বের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উচিত বলে একমত হয়েছেন দুই রাষ্ট্র নেতা।

এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় মাহাথির মোহাম্মাদ আঙ্কারা পৌছান। তাকে স্বাগত জানাতে এয়ারপোর্টে যান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। এয়ারপোর্টের ভিআইপি রুমে দুই নেতা ২০ মিনিটের একটি অনির্ধারিত বৈঠকে অংশ নেন। পরদিন শিডিউল অনুযায়ী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে নির্ধারিত বৈঠকে অংশ নেন মাহাথির ও এরদোগান।
রজব তাইয়েব এরদোগানের সাথে মাহাথির মোহাম্মাদ, (ডানে) ইমরান খান - ছবি : সংগৃহীত
>>>সূত্র: আনাদোলু, টিআরটি ওয়ার্ল্ড, স্ট্রেইট টাইমস, ডেইলি সাবাহ

পাকিস্তানে সাথে আলোচনার জন্য ভারতকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: বিশেষজ্ঞ অভিমত

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে পররাষ্ট্র সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, পাকিস্তানের সাথে আলোচনার ব্যাপারে ভারতকে উৎসাহিত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

এনএনআইয়ের সাথে আলাপকালে রোববার তারা বলেন, আফগানিস্তান নিয়ে পাকিস্তানের এ ধরনের কোন প্রতিশ্রুতি দেয়া উচিত নয়, যেটা তাদের সাধ্যের বাইরে, তবে সমঝোতার ব্যাপারে পাকিস্তান সহায়তাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ২২-২৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। চার বছরের মধ্যে এটা এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের প্রথম সফর। আফগানিস্তানের সঙ্ঘাত এবং এর বিভিন্ন সম্ভাব্য সমাধানকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক গত ১০ বছরে অব্যাহতভাবে অবনতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মিয়া সানাউল্লাহ বলেছেন পাকিস্তান যতক্ষণ পর্যন্ত আফগানিস্তান ও সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে নিজেদের প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবে, ততক্ষণ সম্পর্কটা ইতিবাচক থাকবে এবং সেটা আমাদের তহবিল পেতে সাহায্য করবে।

মিয়া সানা বলেন, “কাশ্মীরের ব্যাপারে ভারতের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কোন সাহায্য করতে পারবে না। সর্বোচ্চ তারা ভারতকে আমাদের সাথে আলোচনায় বসার ব্যাপারে রাজি করাতে পারে। আলোচনা না করার চেয়ে আলোচনা শুরু করাটা অন্তত ভালো”।

তিনি বলেন, “দুই পক্ষ যখন মনে করবে যে তারা একে অন্যের স্বার্থকে সম্মান করছে এবং কারো জাতীয় স্বার্থকে আহত করছে না, তখন আস্থা তৈরি হবে। ওয়াশিংটনে ইমরান খান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটা যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করেন তিনি, তাহলে এটা অবশ্যম্ভাবী যে, পাকিস্তানের প্রশংসা করবে যুক্তরাষ্ট্র”।

ইসলামাবাদ-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক পাকিস্তান হাউজের সাথে জড়িত অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার ইশফাক আহমেদ খাট্টাক বলেন, বহু মানুষ যেটার জন্য অপেক্ষা করছিলেন এবং অনেকেই যেটার আকাঙ্ক্ষা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর সেই সফর পিটিআইয়ের জন্য বিশেষভাবে এবং সাধারণভাবে নিরপেক্ষ সবার জন্য একটা স্মরণীয় মুহূর্ত নিয়ে এসেছে। আর বিরোধী পক্ষের জন্য এটা নেতিবাচক এবং ভারতের জন্য একটা বিস্ময় নিয়ে এসেছে।

খাট্টাক বলেন, “এখন পর্যন্ত ফলাফল যেটুকু দেখা গেছে এবং ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই আরও দেখা যাবে, তাতে করে এই সফর ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটা ইতিবাচক শক্তি নিয়ে এসেছে। আমেরিকা প্রবাসী পাকিস্তানীরা যে সাড়া দিয়েছে, সেটা অনির্বচনীয় এবং বিরোধীদের জন্য এটা সম্ভবত একটা বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। তবে, এই ইতিবাচক অর্জনের জন্য বর্তমান নেতৃবৃন্দের কৃতিত্ব দেয়া যায়”।

ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে আরো ১০,০০০ সেনা মোতায়েনে আতংক

অধিকৃত কাশ্মিরে নতুন করে ১০,০০০ সেনা মোতায়েন করেছে ভারত।

বিরোধপূর্ণ এই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে ভারত আগে থেকেই পাঁচ লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার সময় এই অঞ্চলটি পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দুই দেশই পুরো কাশ্মিরের মালিকানা দাবি করছে। এ নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে তিনটি যুদ্ধও হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাশ্মির নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আবারো উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া স্থানীয়দের আশংকা এতদিন কাশ্মির সংবিধানে যে বিশেষ মর্যাদা ভোগ করে আসছিলো কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী সরকার হয়তো তা বাতিল করতে পারে। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলছে।

কর্মকর্তারা বলছেন যে রাজ্যটিতে মোতায়েন সেনাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে আরো ২০,০০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা অফিসার বলেন, কোন সিদ্ধান্ত বা ঘটনার কারণে সম্ভাব্য বিক্ষোভ ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।

তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, কাশ্মিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যা আগে কখনো হয়নি।

স্থানীয়রা আশংকা করছে মোদি সরকার সংবিধানের ধারা ৩৫এ বাতিল করবে, যাতে বাইরে থেকে লোকজন এসে সেখানে বসতিস্থাপন ও জমিজমা কিনতে পারে।

ইরানি মিসাইলে কুপোকাত, মার্কিন ড্রোন কেনা নিয়ে ধন্দে ভারত

গত ২০ জুন আমেরিকার অত্যাধুনিক ‘আর কিউ-৪ গ্লোবাল হক’ ড্রোনকে ধ্বংস করেছিল ইরান। সেই ঘটনাই ধন্দ বাড়িয়েছে নয়াদিল্লির। কারণ, ভারতের স্থল, নৌ এবং আকাশ–তিন বাহিনীতেই আমেরিকার কাছ থেকে ড্রোন কেনার তোড়জোড় চলছে।
সব মিলিয়ে ৩০ মার্কিন সশস্ত্র ড্রোনের জন্য ভারত ব্যয় করতে চলেছে ছ’শো কোটি মার্কিন ডলার। বিশেষ করে, ভারতের বায়ু এবং স্থলসেনার জন্য যেখানে ১০টি করে ‘প্রিডেটর বি’ ড্রোন কেনার পরিকল্পনা চলছে, সেখানেই নৌসেনার জন্য ক্রয় করার কথা বেশি দূরত্বের নজরদারি ড্রোনের। কিন্তু ইরানের এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সম্প্রতি আমেরিকার ‘আর কিউ-৪ গ্লোবাল হক’ ড্রোনের ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঘটনা, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার ব্যাপারে ধন্দে ফেলেছে ভারতকে। আমেরিকার কাছ থেকে এই ড্রোন কেনার পরিকল্পনা করে থাকলেও এখন দু’বার ভাবছে ভারত।
ইতিমধ্যেই মার্কিন ড্রোনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। আইএএফের প্রশ্ন, আমেরিকার এই ড্রোন পাক অধিকৃত কাশ্মীর বা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার মতো উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় আদৌ কাজ করতে পারবে তো? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উচ্চপদস্থ এক সেনা আধিকারিকের কথায়, “আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরাক এবং সিরিয়ার আকাশে আমেরিকার সশস্ত্র ড্রোন সফলভাবে কাজ করতে পারে কারণ সেখানকার আকাশে ওড়ার অধিকার তাদের আছে। এর মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানই এমন দেশ, যাদের পাল্টা আঘাত করার ক্ষমতা আছে। যদিও এটাও ঠিক যে, আমেরিকার ড্রোনকে ধ্বংস করে নামানোর আগে তারা দু’বার নয়। একশোবার ভাববে।” পাশাপাশি ড্রোনের মূল্যও চিন্তায় ফেলেছে ভারতকে।

ভিআইপি'র জন্য ফেরি আটকা, স্কুলছাত্রের মৃত্যুতে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া by নাগিব বাহার

একজন ভিআইপি আসাকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে দীর্ঘসময় ফেরি আটকে রাখার কারণে মুমূর্ষু অবস্থায় থাকা এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয় নড়াইলের একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ।
অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেদিন রাতেই একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে ঢাকার দিকে রওয়ানা দেন তিতাসের অভিভাবকরা।
কিন্তু একজন ভিআইপি আসবেন বলে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ কয়েক ঘন্টা ফেরি পারাপার করতে দেয়নি। দুই ঘন্টার বেশি সময় ফেরি আটকে রাখার পর ভিআইপি পৌঁছালে ফেরিতে অ্যাম্বুলেন্সটি যেতে দেয়া হয়।
অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ফেরিটি যাত্রা শুরু করার পর মাঝপথেই মারা যায় তিতাস ঘোষ।
নির্ধারিত সময়ে ফেরি না ছাড়ায় অ্যাম্বুলেন্সে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

কী হয়েছিল ফেরিঘাটে?

তিতাস ঘোষের মামা রাজীব ঘোষ - যিনি তিতাসের মা, বোনসহ সেদিন ঐ অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন - বিবিসি বাংলাকে বলেন, তারা বহুবার অনুরোধ করলেও সেসময় ঘাটে উপস্থিত নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বরত কমকর্তা বা পুলিশ সদস্যরা ভিআইপি ফেরি চলাচল শুরু করতে রাজি হননি।
মি. ঘোষ বলেন, "আমরা সাড়ে আটটার কিছু আগে কাঁঠালবাড়ি ১ নম্বর ফেরিঘাটে পৌছানোর প্রায় আধঘন্টা পর যখন দেখি যে ফেরি চলাচল হচ্ছে না, তখন সেখানে উপস্থিত লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারি যে ভিআইপি আসবে বলে ফেরি ছাড়া হচ্ছে না।"
রাজীব ঘোষ জানান, শুরুতে তারা সেখানে উপস্থিত কর্মচারীদের অনুরোধ করেন, তারা ফেরি ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করলে ঘাটের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে এবিষয়ে কথা বলেন।
এর মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে পুলিশের হটলাইন নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে এ বিষয়ে জানালেও কোনো ধরনের সাহায্য পায়নি বলে জানান তারা।
শুরুতে সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের কথা 'গ্রাহ্যই করেনি' বলে অভিযোগ করেন রাজীব ঘোষ।
"মুমূর্ষু রোগী আছে বলে ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের কাছে আমরা অনুরোধ করি ফেরি ছাড়তে, কিন্তু তারা আমাদের কথা গ্রাহ্যই করেনি।"
একপর্যায়ে তিতাসের মা এবং বোন পুলিশ সদস্যদের পায়ে ধরে অনুনয় করলেও কোনো কাজ হয়নি বলে আক্ষেপ করেন মি. ঘোষ।
এরপর সাড়ে দশটার দিকে একজন পুলিশ সদস্য এবং ঘাটের দায়িত্বে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ফেরিতে অ্যাম্বুলেন্স সহ অন্যান্য গাড়ি উঠানোর অনুমতি দেন।
যেই ভিআইপি'র গাড়িটির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছিল, সেটিও সেসময় ফেরিতে ওঠে।
রাজীব ঘোষ জানান, ফেরি চলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই তিতাস মারা যায়।

কী বলছেন ফেরিঘাটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা?

কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের দাবি, যে মুহুর্তে তারা জানতে পারেন যে ফেরির অপেক্ষায় মুমূর্ষু রোগী রয়েছেন, তখনই তারা ফেরি চলাচল শুরু করতে তাগাদা দেন।
কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন - যিনি বৃহস্পতিবার রাতে ঘাটে উপস্থিত ছিলেন না - বিবিসি বাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর তিনি ঘাটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ফিরোজ আলমের কাছ থেকে জানতে পারেন যে অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষু রোগী ফেরির অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি তখনই ভিআইপি'র সাথে যোগাযোগ করে ফেরিতে গাড়ি উঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান।
সালাম হোসেন বলেন, "রাত ১০টার পর উচ্চমান সহকারী ফিরোজ আলম, যিনি আমার অনুপস্থিতিতে ঘাটের দায়িত্বে ছিলেন, আমাকে ফোন করে জানায় যে অ্যাম্বুলেন্স ফেরির অপেক্ষায় আছে। আমি তখনই ভিআইপি'কে ফোন করে তার অবস্থান জেনে নিয়ে ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর নির্দেশ দেই।"
এর আগে সকালে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মি. সালাম হোসেনকে একজন ভিআইপি'কে ফেরি পারাপারের বিষয়ে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করেন।
উচ্চমান সহকারী ফিরোজ আলমও দাবি করেন, রাত সাড়ে দশটার দিকে তিনি প্রথম জানতে পারেন যে ঘাটে অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষু রোগী রয়েছে।
"আমি যখনই জানতে পারি যে রোগী অপেক্ষা করছে ফেরির জন্য, তখনই ব্যবস্থাপক সালাম হোসেনকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। তিনি কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাকে ফোন করে বলেন ফেরিতে গাড়ি ওঠাতে।"
একইরকম বক্তব্য দেন ফেরিঘাটের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা ট্রাফিক সাব ইন্সপেক্টর গাজী নজরুল ইসলাম।
মি. নজরুল ইসলাম বলেন, "রাত দশটা থেকে আমার ডিউটি শুরু হয়। সোয়া দশটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মুমূর্ষু রোগীর দুই আত্মীয় আমাকে ঘটনা বলার সাথে সাথেই আমি দায়িত্বে থাকা ফিরোজ আলমকে এবিষয়ে অবহিত করি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরিতে গাড়ি ওঠানো হয় এবং ফেরি ছেড়ে দেয়।"
তবে তিনি ডিউটিতে আসার আগে পুলিশের কাছে এই ঘটনা জানানো হয়েছিল কিনা, সেবিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি মি. নজরুল ইসলাম।
নজরুল ইসলামের আগে ঘাটের পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার ফোন বন্ধ থাকায় এবিষয়ে তার সাথে কথা বলা যায়নি।
আর ঘাটের দায়িত্বে থাকা পুলিশের কাছে ভিআইপি চলাচলের কোনো বার্তা ছিল না বলেও নিশ্চিত করেন মি. নজরুল ইসলাম।

সামাজিক মাধ্যমে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছে?

ভিআইপি চলাচলের কারণে ফেরি ছাড়তে দেরি হওয়ায় স্কুলছাত্র তিতাসের মৃত্যুর খবরে ক্ষুদ্ধ্ব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় মানুষের এই সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া হলে অনেকেই নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতা জানিয়ে পোস্ট করেন।
ভিআইপি চলাচলের কারণে রাস্তা বন্ধ থাকায় পরীক্ষা কেন্দ্রে বা চাকরীর ইন্টারভিউ দিতে দেরিতে পৌঁছেছেন - এমন অভিযোগ করেন অনেকেই।
মুমূর্ষু রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় ভিআইপি চলাচলের কারণে হওয়া ভোগান্তির কথাও উঠে আসে অনেকের পোস্টে।
তবে সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষের করের টাকায় বেতন পাওয়া সরকারি কর্মচারীদের নিজেদের ভিআইপি মনে করার বিষয়টি নিয়ে - যে প্রবণতা বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এর আগেও অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে।
বাংলাদেশে ভিআইপি যাতয়াতের জন্য গণপরিবহণে সাধারণ মানুষের হয়রানির ঘটনা নতুন নয়
----------------
কিসের ভিআইপি! by আসিফ নজরুল @মানবজমিন
>>ফেসবুক স্ট্যাটাস<২৯ জুলাই ২০১৯, সোমবার<<
আসিফ নজরুল
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে সরকারি কর্মকর্তারা হচ্ছে জনগনের সেবক। সংবিধানের ২১ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে ‘সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার  চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য’। আর সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে জনগন হচ্ছে রাষ্ট্রের মালিক।
সেবকের স্থান কিভাবে মালিকের উপরে হয়? সেবকরা কিভাবে ভিআইপি হয়?
একজন সেবকের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দেরি করতে গিয়ে কেন প্রাণ যাবে একজন শিশুর? মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক, যুগ্ম সচিব আর ফেরি ঘাটের সব সরকারি লোকজন মিলে একটি নরহত্যা করেছেন। কারণ যে কোন সাধারন বিবেচনাসম্পন্ন মানুষের জানার কথা যে ফেরিঘাটে অসুস্থ বা আহত মানুষ বা বৃদ্ধ  কেউ থাকতে পারে, দেরি হলে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
যদি নূন্যতম ন্যায়বিচার থাকে এদেশে, আমরা এদের বিচারের মুখোমুখি হতে  দেখব। দেখব এসব ভিআইপি ব্যবস্থা যে অসাংবিধানিক সে সম্পর্কে ঘোষণা।
তিতাসের পিতামাতার জন্য গভীর সমবেদনা। জানিনা, এ শিশুর মৃত্যুর পরও লজ্জা হবে কিনা ভিআইপি নামধারী এসব অমানুষের!
>>>লেখক: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০ জেলায় ছড়িয়েছে ডেঙ্গু: ৪ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গু জ্বর শুধু রাজধানীতে নয়, ৫০ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এক মাসেই প্রায় দু’দশকের (২০০০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত) ডেঙ্গু জ্বরের রেকর্ড ভেঙেছে। এ বছরের চলতি জুলাই মাসেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ হাজার ৪৫০ জন। এর আগে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ১৪৮ জন। এবছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১৩ হাজার ৬৩৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এই তথ্য দিয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাবে এটা কয়েকগুণ বেশি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৯৬ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
প্রতি ঘণ্টায় ভর্তি হচ্ছেন ৪৫ জনের ওপরে। দ্রুত গতিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। দেশের অন্যান্য জেলায় প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। রাজধানীর প্রায় ঘরে ঘরেই এখন ডেঙ্গু রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে। আতঙ্কে আছেন প্রায় সকলেই। গতকাল ঢাকাসহ ৫০ জেলা থেকে ১২শ’ ৮৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৬১১ জনে।

এদিকে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে অধিক সংখ্যক রোগী আসায় বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ঠাঁই দিতে হিমশিম খাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আটজনের মৃতের খবর দিলেও এই সংখ্যা বেড়েই চলছে। গতকাল ঢাকার বাহির থেকেও ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা যেটা দিচ্ছে, বেসরকারি হিসাবে তা কমপক্ষে চারগুণ বেশি হবে। হাসপাতালগুলোতে যথেষ্ট সিট না থাকায় অনেক রোগীকে ভর্তি করা যাচ্ছে না। তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। ডেঙ্গু আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন রোগী ও তার স্বজনরা। ডেঙ্গু রোগীর স্বজনরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। ডেঙ্গু রোগীদের নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে বাণিজ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এজন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালকে জরিমানাও করা হয়েছে গতকাল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ জানিয়েছে।

গতকাল ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেছেন, চলতি বছরের মার্চে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে এবার ডেঙ্গু আউটব্রেক হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি বলেন, জানুয়ারিতে আমরা পুরো ঢাকায় জরিপ করেছিলাম। ওই সময় এডিস মশার লার্ভা এবং কোথাও কোথাও অ্যাডাল্ট এডিস মশা দেখা গিয়েছিল। সেজন্য মার্চে সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা চিকিৎসক, নার্সদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করি। ২৮শে জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পুরো ঢাকাই এখন ডেঙ্গু ঝুঁকিতে রয়েছে। ঢাকার ১০০টি এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিশ্লেষণ করে জানানো হবে কোন এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনে শয্যা বাড়িয়ে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জলবায়ু পরিবর্তন ও অধিক হারে নগরায়নের কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে বলে ডিজি মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতি ঘণ্টায় ভর্তি হচ্ছে ৪৫ জনের ওপরে। চলতি জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার ৪৫০ জন। ঢাকার বাহির থেকেও দিন দিন রোগী বেশি আসছে। গতকাল ১২শ’ ৮৩ জন আক্রান্তের খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৬১১ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যান মতে, জুলাই মাসে গড়ে প্রতিদিন ৩৯৪ জনের ওপরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা জেলা থেকে ১৩৬ জন, গাজীপুর থেকে ৯১ জন, গোপালগঞ্জ ৫ জন, মাদারীপুর ১৪ জন, মানিকগঞ্জ ১৬ জন, নরসিংদী ২ জন, রাজবাড়ী থেকে ৯ জন, শরীয়তপুর ৭ জন, টাঙ্গাইল ৮ জন, মুন্সীগঞ্জ ৮ জন, কিশোরগঞ্জ ৫৬ জন, নারায়ণগঞ্জ ১৮ জন, চট্টগ্রাম থেকে ১৪৮ জন, ফেনী ৫৯ জন, কুমিল্লা ৪৮ জন, চাঁদপুর থেকে ৭৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৪ জন, লক্ষ্মীপুর ১২ জন, নোয়াখালীতে ২৩ জন, কক্সবাজার ৭ জন, খাগড়াছড়ি ৪ জন, রাঙ্গামাটিতে একজন, খুলনায় ৯৬ জন, কুষ্টিয়া থেকে ৩৩ জন, যশোর ৪৪ জন, ঝিনাইদহ থেকে ১৪ জন, বাগেরহাট ৪ জন, সাতক্ষীরা ৮ জন, চুয়াডাঙ্গা থেকে ৪ জন, রাজশাহী থেকে ৫৩ জন, বগুড়া ৬০ জন, পাবনা ৩৮ জন, সিরাজগঞ্জ ৮ জন, নওগাঁয় ২ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৯ জন, নাটোর একজন, রংপুর ৪৫ জন, লালমনিরহাট ২ জন, কুড়িগ্রাম ৩ জন, গাইবান্ধায় ৩ জন, নীলফামারী ২ জন, দিনাজপুরে একজন, পঞ্চগড় একজন, ঠাকুরগাঁও ৪ জন, বরিশাল থেকে ৪২ জন, পটুয়াখালী ৬ জন, ভোলা ৬ জন, পিরোজপুর ২ জন, ঝালকাঠি একজন ও সিলেট থেকে ৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২৯শে জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে এপ্রিলে দু’জন, জুনে দু’জন ও জুলাই মাসে চারজন মারা যান। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র বলছে মৃত্যুর সংখ্যা কমপক্ষে চারগুণের বেশি হবে। ঢাকার বাহির থেকেও গতকাল চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউতে রয়েছে ২৮ জনের ওপরে। এর মধ্যে শিশু হাসপাতালে ১২ জনের খবর পাওয়া গেছে।

বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৯৩ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ২৬৯ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১০২ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ২৩৮ জন, বারডেম হাসপাতালে ৪৮ জন, বিএসএমএমইউতে ৬৯ জন, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগ ৮৫ জন, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ২৪১ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ২০৭ জন, বিজিবি হাসপাতালে ৩৬ জন, কুর্মিটোলায় ২১৬ জন, রাজধানীর ধানমন্ডি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫০ জন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১১২ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে ৭৫ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ৯৫ জন, ল্যাব এইডে ১২ জন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কাকরাইলে ৯০ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ৮৬ জন, খিদমা হাসপাতালে ৩৩ জন, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে ১০০ জন, এ্যাপোলো হাসপাতালে ৭৪ জন, আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালে ১২৫ জন, সালাউদ্দিন হাসপাতালে ৬১ জন, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৮ জন, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৬০ জন, বিআরবি হাসপাতালে ৩৬ জন, উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ৩০ জন, আজগর আলীতে ৩০ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

সাভারে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু, আতঙ্ক
সাভারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল মাহমুদ নয়ন (৩০) এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এছাড়া হাজেরা নামের ১০ বছরের এক শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইতে) ভর্তি রাখা হয়েছে। নিহত নয়ন মাহমুদ জুয়েল ধামরাই উপজেলার কুল্লা গ্রামের জলিল উদ্দিনের ছেলে। এদিকে সাভারে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী প্রায় শতাধিক রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ভর্তি হয়েছেন। অনেকে আবার সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরেছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ভর্তি আছে ৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী। নিহত নয়ন মাহমুদ জুয়েলের স্ত্রী জানান, তার স্বামী গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। গত শনিবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজধানীর শহীদ সোরওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সোরওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা না পেয়ে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার দুপুরে রোগী মারা যায়। অন্যদিকে সাভারে প্রতিদিনই ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। সাভার সরকারি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ২৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। বর্তমানে ভর্তি ডেঙ্গু আক্রান্তে ৮ জন ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় ল্যাবজোন হাসপাতাল, জামাল ক্লিনিক, নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অনেকেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। সাভার উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. বেনজির আক্তার বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে উলাইল এলাকার বাসিন্দা ইকরামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সোরওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুরে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়নের লোহারটেক বাছার ডাঙ্গী গ্রামের মৃত কদম বিশ্বাসের ছেলে সেলিম বিশ্বাস (৪০) সোমবার ভোররাতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত সেলিম ঢাকার যাত্রবাড়ী কাঁচপুর এলাকায় একটি গাড়ির গ্যারেজে মালিক ছিলেন। মাত্র ক’দিন আগে ঢাকা থাকতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর গত রোববার তিনি অসুস্থ অবস্থায় গ্রামের বাড়ি ফিরে যান। এরপর তার অসুস্থতা আরও বাড়ায় ওই দিন সন্ধ্যায় চরভদ্রাসন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জাহিদ হাসান জানান, সেলিম বিশ্বাসের অসুস্থতা দেখে ডেঙ্গুর প্রভাব আঁচ করি। ফলে অসুস্থ রোগীটি দ্রুত আমরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছি। নিহত সেলিম বিশ্বাসের স্ত্রী মুন্নি আক্তার জানায়, তার সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। গত ১০ দিন ধরে তার স্বামী ঢাকা শহরে জ্বরে ভুগছিল। গত রোববার বিকেলে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার পর তার ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে বলে জানায়। নিহতের বড় ভাই আইয়ূব বিশ্বাস (৫০) বলেন, আমার ভাই যে ডেঙ্গু জ্বরে আত্রান্ত হয়েছে একথা আমাকে কেউ বলে নাই। রোববার বিকেলেই আমি প্রথম শুনেছি এবং তাৎক্ষণিক হাসপতালে নিয়েও বাঁচাতে পারলাম না।

ঢাকায় মারা গেলেন গাজীপুরের ডেঙ্গু রোগী
গাজীপুরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আবদুল করিম সরকার (৬০) নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আবদুল করিম সরকার কাপাসিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের খোদাদিয়া গ্রামের মৃত হাসান আলী সরকারের ছেলে। জানা গেছে, গত বুধবার আবদুল করিম সরকার গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে চলে যান। জ্বর, ডায়রিয়া, কালো পায়খানা ও ক্ষুধামন্দা নিয়ে শনিবার ভোরে ফের তিনি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে ভর্তির পর চিকিৎসক রোগ শনাক্তের জন্য বেশকিছু পরীক্ষা দেন। এরই মধ্যে তার শরীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে স্বজনরা ছাড়পত্র নিয়ে শনিবার রাতেই তাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যান।

ডা. সিরাজুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু

ছয় বছর বয়সেই ৬৭ কোটি টাকা আয়!

দক্ষিণ কোরিয়ার মেয়ে আহ হোয়ে জিন। বয়স মাত্র ছয় বছর। বয়সে ক্ষুদ্র হলেও আয়ে সে বিশাল। এরই মধ্যে তার আয় থেকে সাড়ে ৬৭ কোটি টাকা দিয়ে একটি বাড়ি কিনেছে তার পরিবার। এখন প্রশ্ন হলো এত টাকা সে আয় করল কীভাবে।

বলছি তার আয় করার উপায়ের কথা। সে মূলত একজন ইউটিউবার। বোরাম নামেই নেট দুনিয়ায় সে পরিচিত। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ইউটিউব শিশু তারকার মধ্যে সে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। তার দুটি ইউটিউব চ্যানেল আছে। সেই চ্যানেলের ফলোয়ার সংখ্যা তিন কোটিরও বেশি।

বোরাম টিউবটয় রিভিউ ও বোরাম টিউব ব্লগ নামে সেই দুটি চ্যানেল চালায় সে। প্রথম চ্যানেলে তাকে বিভিন্ন ধরনের খেলনার বিশ্লেষণ করতে দেখা যায়। দ্বিতীয় চ্যানেলে থাকে বোরামের দৈনন্দিন জীবনের গল্প।

বিপুল ফলোয়ার থাকা এই দুটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে বোরাম প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। এ ছাড়া বিভিন্ন খেলনা কোম্পানি এবং অন্য খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তির মাধ্যমেও বোরাম অনেক অর্থ উপার্জন করে।

উপার্জনকৃত অর্থ দিয়েই সম্প্রতি তার পরিবার সিউল শহরের গ্যাংনাম এলাকায় একটা পাঁচতলা বাড়ি কিনেছে। এর দাম ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা সাড়ে ৬৭ কোটি টাকার বেশি।

জানা গেছে, বোরামের চ্যানেলের ভিডিওগুলো শিশুরা দারুণ পছন্দ করে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে ১২ বছর বয়সী শিশুরাও তার চ্যানেলের নিয়মিত দর্শক।

বোরামের বাড়ি কেনার খবর শুনে খুদে নেজিজেনদের কেউ কেউ মন্তব্য করেছে তারা বড় হয়ে ইউটিউবার হতে চায়। আবার কেউ কেউ বলেছে, জীবনেও তারা এত টাকা উপার্জন করতে চায় না।

‘ভবিষ্যৎ বলা গরু’ নিয়ে ফেসবুকে প্রিয়াঙ্কার স্বামী

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্ট ভদ্র বলেছেন, বৈচিত্র্য এবং বহুমুখি বৈশিষ্ট্যের জন্যই তিনি ভারতকে ভালোবাসেন। আর এই বৈচিত্র্যের প্রমাণ দিতে ফেসবুকে একটি গরুর ভিডিও তিনি পোস্ট করেছেন, যে কিনা ভবিষ্যৎ বলতে পারে!

৫০ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী রোববার সকালে সামাজিক মাধ্যমটিতে দেয়া এক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘আমি এই অসাধারণ দেশের অংশ হিসেবে বাঁচতে ভালোবাসি। আপনি রাস্তায় বের হলেই অনেক কিছু শিখতে পারবেন… মানুষকে সাহায্য করতে পারবেন, এবং তার বিনিময়ে কৃতজ্ঞতা হিসেবে তাদের হাসি আর গোলাপ পাবেন… শুধু তাই নয়, চাইলে পবিত্র গরুর কাছ থেকে আপনার ভবিষ্যৎও জেনে নিতে পারবেন, সে মাথা নেড়ে কথার সঙ্গে সম্মতি জানাতে পারে।’

এই স্ট্যাটাসের সঙ্গেই রবার্ট একজন পুরোহিতের সঙ্গে দাঁড়ানো একটি গরুর কয়েকটি ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওটিতে এক পর্যায়ে গাড়িতে বসে রবার্টকে বলতে শোনা যায়, ‘ও কি আমাকে সব বলে দিতে পারবে?’ জবাবে পুরোহিত বলেন, ‘হ্যাঁ। সে আপনাকে সব বলে আশির্বাদ করে দেবে। এখন পবিত্র শ্রাবণ মাস চলছে।’ এ সময় রবার্ট ভদ্র গরুটিকে কাছে ডেকে আদরও করে দেন।

ফেসবুকে ওই পোস্টে গরু এবং পুরোহিত ছাড়াও তিনি কয়েকটি শিশুর ছবিও দিয়েছেন। তারা তাকে ফুল দিচ্ছিল।

ব্রাজিলে কারাগারে দাঙ্গা, নিহত ৫২, ১৬ জনের মুণ্ডচ্ছেদ

উত্তর ব্রাজিলের পারা জেলায় কারাগারে দুই বিবদমান গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন ৫২ জন বন্দি। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে মুণ্ডচ্ছেদ করে হত্যা করা হয়েছে। জানা গেছে, দুই জন কারারক্ষীকে পণবন্দি রেখে কর্তৃপক্ষের উপর চাপ তৈরি করে সংঘর্ষকারীরা। সোমবার সকালে এই তথ্য জানিয়েছে জেল কর্তৃপক্ষ।
ব্রাজিলে গত তিন দশক ধরে ক্রমেই বেড়ে চলেছে জেলবন্দির সংখ্যা। বর্তমানে এই দেশের কারাগারে বন্দি রয়েছেন প্রায় সাড়ে সাত লাখ অপরাধী, যা বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ। বন্দিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা গোষ্ঠী, যারা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এর জেরে বহু বন্দি নিয়মিত প্রাণ হারায়। বন্দি অপরাধীদের প্রভাব জেলের চৌহদ্দি ছাড়িয়ে বাইরেও অবাধে বিরাজ করে, যা প্রশাসনের নাগালের বাইরে থেকে যায়।
ব্রাজিলের চরম দক্ষিণপন্থী প্রেসিডেন্ট খেয়ার বলসোনারো জানিয়েছেন, কারাগারের ভিতরের পরিস্থিতি কড়া হাতে সামলাতে হবে। পাশাপাশি, অপরাধীদের জন্য আরো বেশ কয়েকটি কারাগার তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তার এই নীতি বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তাই নিয়ে সন্দেহ রয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, ব্রাজিলের কারাগারগুলো মূলত জেলা স্তরে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।
২০১৭ সালে তিন সপ্তাহ ধরে কারাগারের অন্দরে মারাত্মক হিংসার শিকার হন ১৫০ বন্দি। সেই সময় ব্রাজিলের দুই প্রধান মাদকচক্রের প্রচ্ছন্ন উস্কানিতে জেলের ভিতরে শুরু হয় তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। গত মে মাসেও এমনই হিংসার কারণে প্রাণ হারান ১৫ জন বন্দি। মানাউস শহরের জেলে তাদের শ্বাসরোধ করে এবং টুথব্রাশ দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়।

তিতাসের মৃত্যু: আধাঘণ্টা অনুরোধের পর অ্যাম্বুলেন্স ফেরিতে, ছাড়ে দুই ঘণ্টা দেরিতে by সুলতান মাহমুদ ও জহিরুল ইসলাম খান

তিতাস ঘোষ
মামাতো ভাই মিঠুন ঘোষের বিয়েতে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ ওরফে অভিক। বুধবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যার এ ঘটনায় মাথা ও বুকে বড় ধরনের আঘাত পাওয়ায়  তাকে নেওয়া হয় নড়াইল সদর হাসপাতালে। রাতেই তাকে পাঠানো হয় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার করেন চিকিৎসকরা।  বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিতাসকে নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হন স্বজনরা। রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ি ফেরি ঘাটে পৌঁছায় তিতাসকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স। ঘাটে তখন ছিল ‘কুমিল্লা’ নামের একটি ফেরি। এ ফেরির সিরিয়াল পাওয়ার জন্য পরিবার সদস্যরা অনেক কাকুতি-মিনতির করতে থাকেন। রোগী বিবেচনা করে আধঘণ্টা পর অ্যাম্বুলেন্সটিকে ফেরিতে উঠতে দেওয়া হয়। কিন্তু, যানবাহনে ভরে যাওয়ার পরও ফেরিটি ছাড়া হয়নি। প্রশাসনের নির্দেশে একজন ‘ভিআইপি’র জন্য অপেক্ষা করে ফেরিটি। প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর সেই ‘ভিআইপি’ এলে তাকে নিয়ে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ফেরিটি রওনা হয়। এদিকে অসুস্থ তিতাসের অবস্থা অ্যাম্বুলেন্সেই সংকটাপন্ন হতে থাকে। ফেরি মাঝ নদীতে পৌঁছাতে না পৌঁছাতে তার মৃত্যু হয়। তিতাসের পরিবারের সদস্য এবং ফেরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য পাওয়া যায়।

তিতাস কালিয়া পৌরসভার বড়কালিয়া এলাকার তাপস ঘোষের ছেলে এবং কালিয়া সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। ৯ বছর আগে স্বামী তাপস ঘোষের (৪২)  মৃত্যুর পর ছেলে তিতাস ঘোষ ওরফে অভিক এবং মেয়ে তানিশা ঘোষকে নিয়েই জীবন কাটাচ্ছিলেন বিধবা সোনামনি ঘোষ। কিন্তু ছেলের মৃত্যুর পর এখন তিনি বাকরুদ্ধ। সন্তানের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। ছেলের নাম ধরে ডাকছেন, বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন।

তিতাসের একমাত্র বোন কালিয়া শহীদ আব্দুস সালাম ডিগ্রি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্রী তানিশা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বুধবার রাতে বরযাত্রী হয়ে মোটরসাইকেলে করে কালিয়া থেকে যশোর যাচ্ছিল তিতাস। রাত ৮টার দিকে নড়াইল-কালিয়া সড়কের নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া মোড়ে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়।এ দুর্ঘটনায় তিতাস এবং মোটরসাইকেলের অপর আরোহী তিতাসের কাকাতো ভাই অর্নিবাণ ঘোষ সনু (৩৪) আহত  হন। দুই জনের মধ্যে তিতাসের অবস্থা ছিল গুরুতর। তাকে প্রথমে নড়াইল সদর হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি ঘটলে  খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়।

তানিশা জানান, দুই জন ডাক্তারসহ গুরুতর অসুস্থ তিতাসকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে  করে তিনি, তার মা, তার স্বামী ও মামা বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ঢাকার উদ্দেশে  রওনা হন। অ্যাম্বুলেন্সটি রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে পৌঁছায়। তানিশা বলেন, ‘ঘাটে পৌঁছার পর অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ আমরা সবাই ঘাটে কর্তব্যরত পুলিশ এবং ফেরির লোকজনকে বার বার অনুরোধ করি অ্যাম্বুলেন্সটিকে ফেরিতে ওঠার সুযোগ দিতে। বার বার কাকুতি-মিনতি করতে থাকি। যতবারই অনুরোধ করা হয়েছে ততবারই আমাদের বলা হয়েছে ফেরিটি ভিআইপি’র জন্য। একজন  ভিআইপি আসবেন। তিনি আসার পর ফেরিটি ছাড়বে। ঘাটে আধা ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার পর বারবার অনুরোধের কারণে অ্যাম্বুলেন্সটিকে ফেরিতে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়।’

তিনি আরও জানান, ‘ফেরিতে ওঠার পরও আমরা বসে ছিলাম। ভিআইপি না আসায় আরও দুই ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করতে হয়। রাত  সাড়ে ১০টার পর ওই ভিআইপির গাড়ি ফেরিতে উঠলে ফেরিটি মাওয়াঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ততক্ষণে মস্তিকে প্রচুর রক্তক্ষরণে তিতাসের দেহ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাওয়াঘাটের প্রান্তে ফেরি ভিড়েছে ঠিকই, কিন্তু তিতাসের প্রাণ এরইমধ্যে না ফেরার দেশে চলে গেছে।’

তানিশা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। তাই ফেরি কর্তৃপক্ষ অবহেলা করেছে। আমার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য দেরিতে ফেরি ছাড়াই দায়ী। ফেরি দেরিতে ছাড়ার জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট সবার বিচার চাই।’

তিতাসের মামা বিজয় ঘোষ বলেন, ‘প্রায় আধা ঘণ্টা অনুরোধ করে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আমাদের ফেরিতে উঠতে হয়। একজন ভিআইপি আসবেন সেই জন্য বসে থাকতে হয় দুই ঘণ্টার বেশি সময়। কিন্তু আমাদের যা সর্বনাশ তা হয়ে গেছে। তিন ঘণ্টা ফেরিতে থাকার পর মাওয়াঘাটের পৌঁছেছি  ঠিকই, কিন্তু তিতাসের প্রাণ প্রদীপ এরইমধ্যে নিভে গেছে।’

ফেরি সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন

এদিকে ফেরি সংশ্লিষ্টরা জানান, কাঁঠালবাড়ি ১নং ফেরিঘাট দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ও জনপ্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার এই ঘাটেই আসে সড়ক  দুর্ঘটনায় আহত   স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স। ফেরিটি আটকে রাখা হয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পার হবেন-এই তথ্যের ভিত্তিতে।  নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি নোয়াহ গাড়ির জন্য ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন ফেরিঘাটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিআইডব্লিউটিসি’র সরাসরি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হিসেবে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির নিয়ন্ত্রক। সে কারণে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এসে ফেরি না পেলে কী হবে সেই আতঙ্কে ছিলেন তারা।

তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঘাটের ম্যানেজারকে কল  দেওয়া হয়েছিল যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদায় সরকারের অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত আব্দুস সবুর মণ্ডলের ব্যাপারে। তার পিরোজপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল।

মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন জানান, ‘সকাল থেকে ঘাটের ডিউটি এবং এরপর মাদারীপুর গিয়ে জেলা প্রশাসনে ঈদে ঘাট ব্যবস্থাপনার মিটিংয় শেষে আবার ঘাটে এসে দায়িত্ব পালন করে ৮টার দিকে  খাওয়ার জন্য বাইরে যাই। এ সময় ঘাটে পারাপারের দায়িত্বে ছিলেন উচ্চমান সহকারী (ইউডিএ) ফিরোজ আলম। এই ঘাট দিয়ে একজন  ভিআইপি যাবে এই তথ্য তার কাছে ছিল। অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি রোগী আছে তা তিনি জানতেন না। ওই স্কুলছাত্রের পরিবারের সদস্যরা যখন ঘাটের পুলিশ বুথে যান, সেখানকার টিএসআই নজরুল হোসেন  কল  দেওয়ার পরই ফেরিটি চালুর ব্যবস্থা করেন ইউডিএ ফিরোজ আলম। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই ফেরিটি ছাড়া সম্ভব হয়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘাটের একাধিক সূত্র জানায়, ফেরি ঘাটে কর্মরত কর্মীদের সংকটের কারণে এখানে একটি দালালচক্র কাজ করে। এখানে ফেরিতে অ্যাম্বুলেন্স ও ভিআইপিদের পারাপারের ফাঁকে অনেক মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট গাড়ি ৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। যেই কারণে নিহত স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ঘাটে পৌঁছালেও তার পরিবারের লোকজন কোনও কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। তারা ঘাটের কর্মকর্তা হিসেবে যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা মূলত দালালচক্রের সদস্য। তাই তারা অ্যাম্বুলেন্সের রোগী বহনের বিষয়ে কোনও গুরুত্ব দেয়নি।

কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন আরও দাবি করেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়টি জানার পরপরই মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ফেরিটি লোড করে ছেড়ে দিতে পেরেছি। ওই স্কুলছাত্রের পরিবার যে অভিযোগ করেছে তিন ঘণ্টা পর ফেরি ছেড়েছে আসলে এটি ঠিক নয়। ঘাটের সবাই সবসময় অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের ক্ষেত্রে সব সময়ই অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আসে। এমনকি রোগী ছাড়া খালি অ্যাম্বুলেন্সও আমরা চলতি ফেরিতে উঠিয়ে দেই।’

সালাম হোসেন বলেন, ‘পদ্মায় স্রোতের কারণে ১৮টি ফেরির মধ্যে মাত্র ৮টি ফেরি চলাচল সম্ভব ছিল। দ্রুত পারাপারের কথা বিবেচনা করে ওই অ্যাম্বুলেন্সটিকে ভিআইপি ফেরিতে ওঠানো হয়। তবে ফেরি ছাড়তে স্বাভাবিক যে সময় লাগে তার বেশি দেরি করা হয়নি।’

এদিকে সোমবার নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম   খান জানান, যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডল নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নন। তিনি এটুআই প্রকল্পের কর্মকর্তা। তার গাড়িতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্টিকার থাকলে তা কোথা থেকে এলো সেই প্রশ্নও করেছেন তিনি।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, ‘যুগ্ম-সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডল স্যার বৃহস্পতিবার ফেরি পারাপারের ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলেন। আমি তখন ঘাটের পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের মিটিংয়ে উপস্থিত ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেনকে তার পারাপারের বিষয়ে খেয়াল রাখতে বলি। এছাড়া স্যারকে সালাম সাহেবের নম্বর দিয়ে দেই। এরপর আমি ঘাটের কাউকে কোনও  কল  দেইনি। আমার কলের কারণে ফেরি বন্ধ বা আটকে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়। এ ধরনের কাজ আমার দ্বারা সম্ভব নয়।’

বিচার দাবি

এদিকে তিতাসের মৃত্যুর জন্য ফেরি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে কালিয়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের আয়োজনে সোমবার বেলা ১১টার দিকে কালিয়া উপজেলা সদরে মানব বন্ধন ও প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কালিয়া সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিএম শুকুর আলী, সাবেক প্রধান শিক্ষক দেব কুমার ঘোষ, সহকারী প্রধান শিক্ষক তরুণ কান্তি মল্লিক, সহকারী শিক্ষক সালমা সুলতানা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক  মো. ইয়াসিন জনি প্রমুখ। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরাও অংশগ্রহণ করে।
ফেরি কর্তৃপক্ষের বিচার দাবিতে নড়াইলে মিছিল

ইসরাইল সন্ত্রাসের মূল কারণ: -মাহাথির মোহাম্মাদ

চার দিনের সরকারি সফরে তুরস্ক গেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মাদ। তুরস্কের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সঙ্কট, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ হিসেবে পরিচিত তুর্কস্তানের উইঘুর মুসলমানদের পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনের মতো বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে বার্তা সংস্থা আনাদোলুর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে মালয়েশিয়ার আমদানির বিকল্প উৎস তুরস্ক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মুসলিম বিশ্বের প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। তুরস্কে চার দিনব্যাপী সফরকালে রাজধানী আঙ্কারায় গত শুক্রবার মেহমেট ওজতুর্ক, সরোয়ার আলম ও জুহাল ডেমিরসি তার সাক্ষাৎকার নেন।
মাহাথির বলেন, আমরা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করছি এমন কিছু জিনিস তুরস্ক থেকে আমদানি করার প্রচুর সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। তুরস্ক বিকল্প উৎস হতে পারে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রসহ সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তির আদান-প্রদান করা হবে।

মাহাথির বলেন, এটা স্পষ্ট সত্য যে, মিডিয়াতে বা টিভিতে ফিলিস্তিনি সমস্যা সম্পর্কে যথেষ্ট প্রচারণা হয়নি। ফিলিস্তিনের সমস্যা তুলে না ধরার জন্য গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে একটি চুক্তি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অবশ্যই ইসরাইল রাষ্ট্রটি তৈরির জন্য কাদের কাছ থেকে কিভাবে ফিলিস্তিনের জমি দখল করা হয়েছিল তা উল্লেখ করা হচ্ছে না। পরে ইসরাইল ফিলিস্তিনের আরো জমি দখল করে আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে কাজ করেছে- এগুলো প্রায়ই উল্লেখ করা হয়নি। আমরা মনে করি যে সন্ত্রাসবাদের কারণগুলোর ওপরে আমাদের সর্বদা চাপ দেয়া উচিত।

ফিলিস্তিনি সঙ্কট নিয়ে মাহাথির আরো বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু উপসাগরীয় দেশের প্রচারিত শতাব্দীর সেরা চুক্তি সমস্যাটির ব্যাপারে তাদের নিজেদের পক্ষে একটি প্রচারণা। স্পষ্টতই এতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হওয়া সত্ত্বেও তারা যা করছে তা তারা ন্যায়সঙ্গত করতে চায়। সর্বোপরি এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলোকে উপেক্ষা। ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে জমি দখল করা গণভোট বা এ ব্যাপারে পাওয়া জনমতের ফল নয়। সেই সময়ে ফিলিস্তিনে বসবাসকারী জনগণের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতিকে বিচার-বিবেচনা ছাড়াই এই দেশটি ইসরাইলকে দিয়ে দেয়া হয়েছিল। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অনেক বড় অন্যায় সংঘটিত হয়েছে। অবৈধ উপায়ে ইসরাইলের সৃষ্টি সন্ত্রাসের মূল কারণ। ইসরাইলের উচিত পূর্ববর্তী ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের সম্পত্তি পুনরায় ফিরেয়ে দেয়া এবং ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন বন্ধ করা।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের সমস্যা নিয়ে মাহাথির বলেন, মালয়েশিয়া সাধারণত অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে মালয়েশিয়া গণহত্যা বা গণহত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এবং মিয়ানমারে বিভিন্ন জাতির নাগরিকদের সাথে অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক স্বীকৃতি দিয়ে সমস্যাটির নিষ্পত্তি করা দরকার। অবশ্যই রোহিঙ্গাদের হয় নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, অথবা নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের জন্য তাদের অঞ্চল দেয়া উচিত।

চীনের পূর্ব তুর্কিস্তানে উইঘুরদের দুর্দশা নিয়ে মাহাথির বলেন, আমাদের চীনকে বলা উচিত যে দয়া করে এই লোকদের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করুন। তাদের আলাদা ধর্ম থাকার বিষয়টি তাদের প্রতি আচরণের ওপর প্রভাব ফেলবে না। মালয়েশিয়া বহু-ধর্মীয় দেশ, তবে সব ধর্ম অনুসারীদের সাথেই একইরকম আচরণ করা হয়। আমরা সর্বদা আলোচনার মাধ্যমে সালিস বা আইন আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করার পক্ষে থাকি। কিন্তু যখন আপনি সহিংসতার আশ্রয় নেন, তখন কোনো ভালো সিদ্ধান্তের সন্ধান করা খুব কঠিন।

মামলাই হয়নি, হেলমেটধারীদের বিচার তো দূরের কথা! by রাফসান জানি

ফটো সাংবাদিকের ওপরে হামলা
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলাকালে ২০১৮ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট হেলমেটধারী যুবকদের হামলার শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিক এবং আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা। দুই দিনে হেলমেটধারীদের হামলায় ১৫-২০ জন সাংবাদিক ও দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার পর সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছিলেন ডিএমপি কমিশনার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীলরা। ঘটনার এক বছর কেটে গেলেও থানায় কোনও মামলা হয়নি। যে কারণে চিহ্নিত হয়নি হেলমেটধারী হামলাকারীরা।
ওই হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিকরা জানান, আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন থাকায় এবং এর প্রতিবাদে সাংগঠনিকভাবে জোরালো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এককভাবে কেউ মামলা করতে রাজি হননি। একইভাবে হামলার কয়েকদিনের মাথায় আন্দোলন থেমে যাওয়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনও শিক্ষার্থী বা তাদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়নি।
মামলা না হওয়ায় এ হামলার ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার। হামলার এক বছরে হেলমেটধারীদের পুলিশ শনাক্ত করেছে কিনা জানতে চাইলে রবিবার (২৮ জুলাই) রাতে এ তথ্য জানান তিনি।
জিগাতলায় হামলায় আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতিমা জাহানজিগাতলায় হামলায় আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতিমা জাহান
তবে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে হামলার তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত না করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, এই হামলার সময় পুলিশ চারপাশেই ছিল। হামলাকারীদের হাত থেকে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি তারা। উল্টো আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মিছিল ছত্রভঙ্গ করার জন্য টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছিল পুলিশ।
আন্দোলন চলাকালে রাজধানীতে বড় হামলার ঘটনা ঘটে ৪ ও ৫ আগস্ট। প্রথমদিন শুধুমাত্র জিগাতলা এবং দ্বিতীয় দিন সায়েন্সল্যাব ও জিগাতলায় হামলা চালানো হয়। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, আন্দোলন শুরুর পর অন্যান্য দিনের মতো জিগাতলার মোড়ে কিছু শিক্ষার্থী গাড়ির কাগজপত্র চেক করছিল। দুপুরের পর হেলমেটধারী কিছু যুবক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। শুরুতে শিক্ষার্থীরা কিছু সময়ের জন্য সরে গেলেও সংগঠিত হয়ে আবার ফিরে আসে। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। ইট-পাটকেল ছোড়া হয় একে অন্যের দিকে। এরই মধ্যে কয়েকজন পিস্তল দিয়ে গুলিও করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনায় ২০-২৫ জন আহত হন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেছিলেন, হামলাকারীরা তাদের কর্মী-সমর্থক নয়। উল্টো নিজেদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তখন দাবি করা হয়।
হামলার শিকার সাংবাদিক আহমেদ দীপ্তহামলার শিকার সাংবাদিক আহমেদ দীপ্ত
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, ওইদিন দুপুরের পর খবর আসে একজন ছাত্রকে জিগাতলায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে একটি কক্ষে নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। একজনকে ধর্ষণের খবরও আসে। যদিও পরে জানা যায়, এসব তথ্য গুজব। এই গুজব ছড়িয়ে পড়লে সায়েন্সল্যাব ও শাহবাগে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা জিগাতলার দিকে ছুটে আসে। এ সময় বিজিবি সদর দফতরের ফটকের সামনে একদল যুবকের হামলার শিকার হন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। হামলাকারীদের পক্ষ থেকে কয়েক দফা গুলিও চালানো হয়েছে। এভাবে চলার পর সন্ধ্যায় পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।
আগের দিন (৪ আগস্ট) জিগাতলা হামলার প্রতিবাদে ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করে। মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা নার্সিং কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। সিদ্ধান্ত ছিল, শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগ থেকে জিগাতলা হয়ে আবারও শাহবাগে ফিরে আসবে।
প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতিমা জাহান ইতি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের মিছিলটি সায়েন্সল্যাব হয়ে জিগাতলা আসার পর বিজিবি ফটক পার হয়ে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড আসার পর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। আমাদের মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। দৌড়ে জিগাতলা মোড়ে বিজিবি ফটকের উল্টো পাশের গলির রাস্তায় ঢুকি। আমাদের পেছন থেকে পুলিশ ধাওয়া করে। আর গলির অন্যপাশ থেকে আক্রমণ করে কিছু যুবক। আমরা মাঝখানে আটকা পড়ে যাই। তখনও আমাদের ওপর টিয়ারশেল মারা হয়। যুবকরা লাঠি দিয়ে আমাদের আঘাত করে। আমি হাতে ও কোমরে আঘাত পাই। এরপর আমার বন্ধু অপু ও অন্যরা আমাকে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নিয়ে যায়।’
সিটি কলেজ সংলগ্ন সড়কে মুখোমুখি অবস্থানে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরাসিটি কলেজ সংলগ্ন সড়কে মুখোমুখি অবস্থানে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা
হামলার শিকার হওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, জিগাতলায় ধাওয়া খেয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের একটা বড় অংশ সরে আসে সিটি কলেজের দিকে। আশপাশের সড়কগুলো থেকে পুলিশ দল বেঁধে ধাওয়া দিয়ে ছাত্রদের তাড়িয়ে দেয়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া শতাধিক ছাত্রী সীমান্ত স্কয়ার সংলগ্ন একটি ভবনে আটকা পড়ে। পরে পুলিশ একপাশে সরে গেলে ছাত্রীরা বেরিয়ে সিটি কলেজের দিকে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য সিটি কলেজের আশপাশের সড়কগুলোতেও টিয়ারশেল ছোড়ে পুলিশ। দুপুর দেড়টার দিকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয় কিছু যুবক। যাদের অধিকাংশের মাথায় হেলমেট ছিল। এই হেলমেটধারীরাও চড়াও হয় আন্দোলনকারীদের ওপর। কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। আহত হন বেশ কয়েকজন। সাংবাদিকরা হামলার ছবি তুলছে দেখে তাদের মারধর করে হেলমেটধারী হামলাকারীরা।
হামলায় আহত হওয়া সাংবাদিকদের একজন বণিক বার্তার ফটো সাংবাদিক পলাশ শিকদার। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ও আহাদ ভাই (এএফপির তৎকালীন ফটোগ্রাফার) রাইফেল স্কয়ারের সামনে কিছু শিক্ষার্থীদের সেফ করি। আমরা এরপর সায়েন্সল্যাব চলে আসি। এখানে আসার পর পুলিশ সদস্যরা আমাদের রাস্তা ছেড়ে ফুটওভারব্রিজে যেতে বলেন। আমরা ওপরে ওঠার পর অন্যপাশ থেকে ধেয়ে আসে কিছু লোক। যাদের মাথায় হেলমেট ছিল। আমাদের খুব গালাগাল করা হয়। একপর্যায়ে লোহার পাইপ দিয়ে আমাদের আঘাত করা হয়। প্রথম আঘাত আমার গায়ে লাগে। দ্বিতীয় আঘাতটা আহাদ ভাইয়ের মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধরি। তখন আমার ওপর চড়াও হয়। আমরা ছবি তুলিনি বলার পরও আমাদের মারতে থাকে। একপর্যায়ে আমরা পুলিশ ট্রাফিক বক্সের পেছনের গলিতে ঢুকি। সেখানে যাওয়ার পর সাদা অ্যাপ্রোন পরা কিছু ছেলেমেয়ে আমাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।’
প্রাথমিক চিকিৎসা চলার সময় আবারও হেলমেটধারীরা হামলা চালায় বলে জানান পলাশ শিকদার। তিনি বলেন, ‘আমার চিকিৎসা নেওয়ার সময় আবার কিছু হেলমেটধারী হামলা চালায়। আমাকে পাশের একটি গ্যারেজে নিয়ে আটকে রাখে। আমাদের যারা চিকিৎসা করছিলেন তাদের ও আহাদ ভাইকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। রক্তাক্ত করে ফেলে যাওয়ার পর আহাদ ভাইকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। ভর্তি করি গ্রিন রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের মিছিল(সায়েন্সল্যাব এলাকা)ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের মিছিল (সায়েন্সল্যাব এলাকা)
এ হামলার ঘটনায় কোনও মামলা না হওয়ার প্রসঙ্গে এই ফটো সাংবাদিক বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে মামলা দায়েরের বিষয়টি ভাবার মতো অবস্থা তখন ছিল না। তবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল হেলমেটধারীদের শনাক্ত করে বিচার করা হবে। কিন্তু গত এক বছরেও হয়নি। দেরিতে হলেও বিচার চাই।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হামলার শিকার আরেক ফটো সাংবাদিক বলেন, ‘মামলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মামলা করার মতো অবস্থা ছিল না। সবাই তখন গুজব নিয়ে ব্যস্ত। আর আমাদের সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি পুলিশও স্বপ্রণোদিত হয়ে হামলাকারীদের চিহ্নিত করেনি।’
সেদিন হামলার শিকার হয়েছিলেন প্রথম আলোর সাংবাদিক আহমেদ দ্বীপ্ত। ৫ আগস্টে তার ওপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিগাতলা থেকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পর আমি সায়েন্সল্যাব হয়ে শাহবাগ যেতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু বাটা সিগন্যালের দিকে পুলিশের অবস্থান দেখে সায়েন্সল্যাব ফুটওভারব্রিজের নিচে বাইক রেখে থামি। ততক্ষণে ঢাকা কলেজের দিক থেকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে একশো থেকে দেড়শো জন যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে আসে। তাদের অধিকাংশের মাথায় হেলমেট ছিল। তারা সায়েন্সল্যাব মোড়ে আসার পর সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। বিশেষ করে যারা মোবাইল বা ক্যামেরায় ছবি তুলছিল তাদেরকে মারধর করা হয়। দুই দফা মারধর করার পর এএফপির আহাদ ভাইসহ আমরা যারা ওখানে ছিলাম তাদেরকে আবারও মারধর শুরু করে। আমাকে মারার সময় তারা জিজ্ঞেস করছিল, আমার ক্যামেরা কোথায়? আমি ফটোগ্রাফার না বলার পরও তারা আমাকে লোহার পাইপ, লাঠি দিয়ে আঘাত করে। ইট-পাটকেল থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য তখন আমার মাথাতেও হেলমেট ছিল। যে কারণে আমি বেঁচে গিয়েছিলাম। আমার হাতে-পায়ে, পিঠেসহ বিভিন্ন জায়গায় লাঠি দিয়ে আঘাত করার পর কয়েকজন হামলাকারী আমার হেলমেট জোর করে খুলে নেয়। আমার হেলমেট খুলে নিয়ে মাথায় আঘাত করে। কোনোক্রমে সেদিন বেঁচে ফিরেছিলাম। পরে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
হামলায় আহত হন এপির ফটো সাংবাদিক আহাদহামলায় আহত হন এপির ফটো সাংবাদিক আহাদ
বেলা আড়াইটার দিকে ডিএমপি রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বাঁশি বাজাতে বাজাতে ল্যাবএইড সিগন্যালের দিকে আসে। সেখানে আসার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন মারুফ হোসেন। দেশীয় অস্ত্রসহ কারা হামলা চালিয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা মিছিল নিয়ে আসা ছাত্রদের প্রথমে ফিরে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা যায়নি। পরে আমরা টিয়ারশেল দিয়ে তাদের নিবৃত্ত করেছি।’
মিছিল নিয়ে আসা ছাত্রদের টিয়ারশেল মেরে নিবৃত্ত করা হলেও পুলিশের সামনে যারা অস্ত্র নিয়ে হামলা করছে, তাদের নিবৃত্ত কেন করা হচ্ছে না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা কারও ওপর লাঠিচার্জ করিনি। কারা লাঠি নিয়ে ঘুরছে তাদের পরিচয় জানা নেই। আমরা নিজেরাও তাদের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্ত।’ যদিও তিনি যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন, তার পেছনে দুইশ গজ দূরে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করছিল হেলমেটধারীরা।
লাঠি হাতে একদল হামলাকারীলাঠি হাতে একদল হামলাকারী
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঘটনার পরদিন (৬ আগস্ট ২০১৮) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন সাংবাদিকদের সংগঠন বিএফইউজে ও ডিইউজের একাংশের সাংবাদিকরা। হাইকোর্টের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ল রিপোর্টার্স ফোরামের সাংবাদিকরা। একই দিন বিকালে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা ঘিরে মানববন্ধন করেন সাধারণ সাংবাদিক। বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার দাবিতে আর কোনও বৃহত্তর কর্মসূচি নেওয়া হয়নি।
এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কয়েকদিন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা। বিচারের দাবিতে আন্দোলন জোরালো হওয়ার আগে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই বাসচালকদের প্রতিযোগিতার কারণে প্রাণ হারিয়েছিল শহিদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী। তারা হলো– দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব। আহত হয়েছিল আরও ১০-১২ জন শিক্ষার্থী। বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই দিন থেকেই রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন রমিজ উদ্দিনসহ আশপাশের কয়েকটি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। শুরু হয় নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ ও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় নেমে আসে লাখ লাখ শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনশিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলন
নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। পরিবহনে ও রাস্তায় শৃঙ্খলা আনতে শিক্ষার্থীরাই কাজ শুরু করে। গণপরিবহনসহ ব্যক্তিগত গাড়ির কাগজ চেক করা শুরু করেন আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা। শুরুতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নিলেও তাতে পরে যুক্ত হন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রথম কয়েকদিনের আন্দোলনে পুলিশ বা প্রশাসনে পক্ষ থেকে কোনও বাধা না দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে পুলিশি বাধা ও হেলমেটধারীদের হামলার শিকার হন আন্দোলনকারীরা।
এরই মধ্যে ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভায় একটি খসড়া ট্রাফিক আইন অনুমোদন করা হয়। যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যায় মৃত্যদণ্ড এবং বেপরোয়াভাবে চালিয়ে কারও মৃত্যু ঘটালে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়। আন্দোলনকারীদের ৯ দফা দাবির মধ্যে বেশকিছু দাবি পূরণ ও পূরণে আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। শিক্ষার্থীরা ফিরে যান শ্রেণিকক্ষে। ৮ আগস্টের মধ্যে ঢাকাসহ সারাদেশে চলা আন্দোলন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
ফটো সাংবাদিকের ওপরে হামলা

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার চুক্তি শিগগিরই, বলছে তালেবান

তালেবানরা বলেছে, আফগানিস্তানে বিদেশী সেনার উপস্থিতি শেষ করার জন্য একটা চুক্তির প্রায় দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে তারা, যদিও এখন পর্যন্ত সহিংসতা বন্ধের কোন লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

দোহাতে তালেবানদের রাজনৈতিক অফিসের মুখপাত্র মোহাম্মদ সুহাইল শাহীন গত ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার টেলিফোনে বলেন, “আমরা অনেক কাছাকাছি চলে এসেছি। যুক্তরাষ্ট্র যদি “একটা যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দেয়, তাহলে শিগগিরই শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে”।

চলতি মাসের শুরুর দিকে দোহায় সবশেষ আলোচনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের। পরবর্তী দফা আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে এখন তারা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বুধবার এক টেলিফোন আলাপে একমত হয়েছেন যে, “আফগানিস্তানের যুদ্ধের ইতি টানার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার এখনই সময়”।মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

ফক্স নিউজে এক সাক্ষাতকারে পম্পেও বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, সেপ্টেম্বর নাগাদ একটা চুক্তিতে পৌঁছার ব্যাপারে ‘প্রকৃত অগ্রগতি’ হয়েছে, যেখানে ‘সঙ্ঘাত সম্পূর্ণরূপে দূর হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে’। এর মাধ্যমে আফগান-অভ্যন্তরীণ শান্তি আলোচনা শুরু হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র বাহিনীগুলোর সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সেনা ক্ষয়

আফগানিস্তানে ২০০১ সাল থেকে ২৪০০ এরও বেশি সেনার প্রাণ হারানো এবং ৯০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধে হেরে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সমালোচকরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার প্রায় ১৮ বছরের যুদ্ধকে ‘হাস্যকার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি এক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধ জিততে পারেন কিন্তু তিনি “১০ মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করতে চান না”। ঘানির অফিস থেকে বলা হয়েছে যে, “আফগানিস্তান কখনও কোন বিদেশী শক্তিকে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে দেবে না”।

আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন দূত জালমাই খলিলজাদ সাম্প্রতিক আলোচনাকে এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে ফলপ্রসু আখ্যা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তালেবানদেরকে এই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা আল কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেটের মতো সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর তৎপরতা বন্ধ করবে এবং আফগানিস্তানকে কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠিকে ব্যবহার করতে দেবে না।

সমঝোতামূলক ভাষা ব্যবহার করা হলেও তালেবানরা জোর দিয়ে বলছে যে, আফগানিস্তানের মাটিতে তারা একজন বিদেশী সেনাকেও থাকতে দেবে না। কাবুলের সরকারের মধ্যে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে সশস্ত্র বিরোধী গ্রুপের হাতে সঁপে দিয়ে যাচ্ছে।

>>>হেনরি মেয়ের, এলতাফ নাজাফিজাদা

ভারতে জোরাতালির উন্নয়ন চেহারা ঢাকতে পারছে না মোদির প্রচারণা যন্ত্র by এমি কাজমিন

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ভারতের সাধারণ নির্বাচনে আগে ভারতীয়দের কাছে একটা বার্তা জোয়ারের ঢেউয়ের মতো পৌঁছানো হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার ভারতীয় জনতা পার্টি পাঁচ বছরের স্বল্প সময়ে ভারতকে সমৃদ্ধশালী ও শক্তিধর দেশ হিসেবে উন্নীত করেছে।
স্বল্পজীবী ‘নমো’ টেলিভিশন চ্যানেলে মোদির বক্তৃতা এবং তার অর্জনের বিভিন্ন তথ্য দিনরাত প্রচার করা হয়েছে। বিজেপি কল সেন্টারগুলো থেকে ২০০ মিলিয়নের বেশি নতুন গ্যাস সিলিন্ডার গ্রহীতা, টয়লেট এবং অন্যান্য সুবিধাভোগীদের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে মোদির উদারতা সম্পর্কে মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে যে, ফেব্রুয়ারিতে ভারত মিসাইল হামলা করে ৩০০ পাকিস্তানী সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে। আত্মঘাতী হামলায় ৪৪ ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহতের বদলা হিসেবে ওই হামলা চালানো হয়েছে।
এরপর প্রথমবারের মতো যারা ভোটার হয়েছেন, তাদের টার্গেট করে একটা আকর্ষণীয় র‍্যাপ ভিডিও তৈরি করা হয়েছে, যেখানে পশ্চিমা পোশাক পড়া ড্যান্সাররা ভারতের অসামান্য রূপান্তরকে উদযাপন করছেন। ড্যান্সাররা তাদের র‍্যাপে বলছেন যে, মোদি হলো ‘একমাত্র: এক এবং একমাত্র ব্যক্তি যে সবকিছু করেছে”।
কিন্তু গত মাসে মোদির পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর এই ঘোর কেটে যাওয়ায় ভারতীয়রা এখন বিপর্যস্ত অর্থনীতি, সামাজিক ও পরিবেশগত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। জনগণের মানসিকতার এই বদলটাকে খারাপ ধরনের হ্যাঙওভারের সাথে তুলনা করা যায়। এক রাতে উদযাপনের সময় মদ্যপানের কারণে যারা বাস্তবতাটা বেমালুম ভুলে ছিল।
মোদির সমর্থকরা এখনও তার ভূমিধস বিজয় এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান উদযাপন অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যেই খবর আসতে শুরু করেছে যে, ২০১৯ সালের প্রথম কোয়ার্টারে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে ৫.৮ শতাংশে নেমে এসেছে। পাঁচ বছরের মধ্যে এই হার সবচেয়ে কম। ২০১৮ সালের শেষ কোয়ার্টারেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৬ শতাংশ।
নয়াদিল্লী অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শ্রম রিপোর্টটিও প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, ১৫-২৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠির ১৮ শতাংশই এখনও বেকার। বেশ কয়েক মাস আগেই এই তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু কর্মকর্তারা সেটাকে চাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্বের প্রতিবাদে ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্স কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগও করেছেন, কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর, জরিপটি শেষ পর্যন্ত প্রকাশ করা হলো।
এটাই একমাত্র নতুন প্রকাশিত তথ্য নয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও পাকিস্তানী বিমান যখন পাল্টাপাল্টি হামলায় ব্যস্ত ছিল, তখন কাশ্মীরে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ছয় বিমান সেনা নিহত হয়। সে সময় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল যে এই বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু সাম্প্রতিককালে স্থানীয় মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে যে, ভারতীয় মিসাইলের আঘাতেই ওই হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হয়েছিল। সরকার বিব্রত হতে পারে বলে ঘটনাটি সে সময় চেপে যাওয়া হয়েছিল।
এদিকে, ভারতের বাতিলপ্রায় সামরিক সরঞ্জামাদির আধুনিকায়ন যে কতটা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে, সাম্প্রতিক আরেক ঘটনায় সেটা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। ৩ জুন ওড়ার ৩০ মিনিট পরেই বিধ্বস্ত হয় বিমান বাহিনীর পরিবহন বিমান আন্তনভ এএন-৩২ এবং বিমানের ১৩ বিমান সেনার সবাই নিহত হয়। আটদিন ধরে ব্যাপক সামরিক অনুসন্ধানের পর অবশেষে বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।
কিন্তু মোদির বিজয়ের পর সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি সম্ভবত বিহারে লিচুপ্রধান এলাকায় ১৫০ শিশুর মৃত্যু। অ্যাকিউট এন্সিফ্যালাইটিস সিনড্রমে তারা মারা গেছে, যেটাকে ব্রেইন ফিভারও বলা হয়ে থাকে। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুরা অতিমাত্রায় লিচু খাওয়ার কারণে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন। গ্রামিণ এলাকার অপুষ্টির কদর্য চিত্র ফুটে ওঠার পাশাপাশি এই মৃত্যুর ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে ভারতের সাধারণ স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা কতটা করুণ, যেখানে ডাক্তার, নার্স, সরঞ্জাম ও ওষুধ – সবকিছুরই প্রচণ্ড অভাব রয়েছে।
এদিকে, ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর চেন্নাই – যেটা ভারতের ষষ্ঠ বৃহত্তম শহর – সেই শহর পানিশূণ্য হয়ে পড়েছে। কয়েক বছর ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের কারণে শহরের জলাধারগুলো শুকিয়ে গেছে। ট্যাঙ্কারগুলো থেকে সামান্য পানি পাওয়ার জন্য শহরের অধিবাসী ও ব্যবসায়ীদের ঘন্টার পর ঘন্টার অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
যে জাতি এই ধারণায় বুদ হয়ে আছে যে একজন শক্তিধর, আত্মবিশ্বাসী নেতার অধীনে তারা বিশ্বের দরবারে জায়গা করে নিচ্ছে, তাদের বিভ্রম দূর করার জন্য এই ঘটনাগুলো যথেষ্ট। জনগণকে বিভ্রান্ত করার ব্যাপারে মোদি যে একজন ওস্তাদ, সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই, কারণ তিনি শত শত মিলিয়ন ভারতীয়কে নিজের সততা, উদ্দেশ্য ও অর্জন সম্পর্কে প্ররোচিত করতে পেরেছেন। কিন্তু এখন যখন বাস্তবতাগুলো উঠে আসতে শুরু করেছে, তখন বোঝা যাচ্ছে যে বহু কিছু করা এখনও বাকি রয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রচারণার একটি ভিডিও থেকে নেয়া স্থিরচিত্র

ভারতের ১৩২টি গ্রামে তিন মাসে কোন মেয়ে শিশু জন্মায়নি

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় একটি জেলায় ১৩২টি গ্রামে মেয়ে শিশুর জন্ম ঠেকাতে গর্ভপাত করা হচ্ছে কি না, সেটা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। সরকারী তথ্যে দেখা গেছে যে, গত তিন মাসে ওই এলাকায় যে ২১৬টি শিশুর জন্ম হয়েছে, তার মধ্যে কোন মেয়ে নেই। এরপরই ওই তদন্ত শুরু করা হয়।

উত্তরখান্ড রাজ্যের উত্তরকাশীর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, সরকারী হিসেব অনুযায়ী ওই এলাকার জন্মহার ‘উদ্বেগজনক’ এবং সেখানে গণহারে মেয়ে শিশুর ভ্রুণ ধ্বংস করা হচ্ছে।

১৯৯৪ সালে ভারতে মেয়ে শিশুর ভ্রুণ নষ্ট করার বিষয়টিকে নিষিদ্ধ করা হয় কিন্তু দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই চর্চা রয়ে গেছে। কারণ এই সব জায়গায় পিতামাতা ছেলেদের রোজগারের শক্তি হিসেবে এবং মেয়েদের দায় হিসেবে বিবেচনা করে থাকে।

২০১১ সালে চালানো সবশেষ আদমশুমারিতে দেখা গেছে যে, ভারতে প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে নারী রয়েছে মাত্র ৯৪৩ জন।

উত্তরখান্ডের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশিশ চৌহান বলেন, ওই এলাকার মেয়ে শিশু জন্মগ্রহণের যে তথ্য স্থানীয় স্বাস্থ্য দফতর সংগ্রহ করেছে, সেটা দেখলে “এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে যে, সেখানে মেয়ে শিশুর ভ্রুণ ধ্বংস করা হচ্ছে”।

১৩২টি গ্রামে গত তিন মাসে কোন মেয়ে শিশুর জন্ম হয়নি, যেটাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো স্থানীয় তথ্য আবার পুনরায় যাচাই করা হবে এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের সেখানে আরও চোখ কান খোলা রাখতে বলা হয়েছে।

মেয়ে ভ্রুণ হত্যার দায়ে কোন পিতামাতা যদি ধরা পড়েন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। চৌহান টিএনএন বার্তা সংস্থাকে এ কথা বলেন।

আইনসভার সদস্য গোপাল রাওয়াত বলেন: “১৩২টি গ্রামে মেয়ে শিশুর জন্মহার শূণ্য হওয়ার বিষয়টি আতঙ্কিত হওয়ার মতো। কারণ পাহাড়ি এলাকায় আমরা মেয়ে শিশুর ভ্রুণ হত্যার ঘটনা তেমন শুনিনি।

“স্বাস্থ্য বিভাগকে আমি নির্দেশ দিয়েছি যাতে এই ঘটনার আসল কারণ খুঁজে বের করা হয় এবং সেটা নিরসনে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়”।

তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের সচেতনতা প্রচারণা শুরু করবে যাতে এই ধারাটা বদলে দেয়া যায়।

গত বছর ভারত সরকারের এক রিপোর্টে দেখা গেছে যে, প্রায় ৬৩ মিলিয়ন নারী দেশের জনসংখ্যার পরিসংখ্যান থেকে ‘হারিয়ে গেছে’ কারণ জনগণ ছেলে শিশুর জন্মকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

রিপোর্টে বলা হয়, “ছেলেকে প্রাধান্য দেয়ার বিষয়টি ভারতীয় সমাজের একটি বিষয়, যেটা নিয়ে সামগ্রিকভাবে ভেবে দেখা দরকার”।