Saturday, May 18, 2019

সিলেটে মেডিকেলছাত্রী মিথিলার মৃত্যু নানা রহস্য by ওয়েছ খছরু

সিলেটে মেডিকেল শিক্ষার্থী মিথিলার মৃত্যু ‘রহস্যঘেরা’। নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এ মৃত্যুকে ঘিরে। এর আগে সিলেটের অন্য এলাকায় সংঘটিত হওয়া ডা. প্রিয়াংকার মৃত্যু নিয়েও রহস্য দেখা দেয়। তবে- পুলিশ প্রিয়াংকার ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে। মিথিলার ঘটনাটি এখনো ‘আত্মহত্যা’ বলে মনে করছে পুলিশ। তবে- পুলিশকে না জানিয়ে লাশ উদ্ধার এবং লাশের শরীরে নানা আঘাতের চিহৃই রহস্যের জন্ম দিয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে মিথিলার পরিবার চুপ। মিথিলার পুরো নাম ইশরাত জাহান মিথিলা। বয়স ২১ বছর। ডাক্তার হতে আরো প্রায় দুই বছর বাকী। পড়েন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় বর্ষে। ৫৬তম ব্যাচের ছাত্রী মিথিলা। তার পিতা ডা. আব্দুল হালিমও পেশায় একজন চিকিৎসক।
গত রোববার সকাল ১০টায় সিলেটের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ হাসপাতালের মর্গ এলাকায় মিথিলার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করেন। এর আগে নগরীর মিয়া ফাজিলচিস্ত  এলাকার বাসা থেকে মিথিলাকে তার পরিবারের সদস্যরাই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় পুলিশ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলো পড়ালেখার অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে মিথিলা আত্মহত্যা করেছে। পুলিশের এই ধারণার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন- মিথিলা পারিবারিকভাবে নির্যাতনের শিকার ছিল। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা তার বড়বোন প্রায়ই তাকে নানা কারণে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে তাদের বাসায় ঝগড়াঝাটি লেগে থাকতো। প্রায়দিনই বাসা থেকে কান্নার আওয়াজ শোনতে পেতেন পাশের বাসার লোকজন। ঘটনার দিন মধ্যরাতেও চিৎকার চেঁচামচির আওয়াজ শোনা যায়। এদিকে মিথিলার মৃত্যুর পর প্রতিবেশিদের কাছে তার পরিবারের লোকজন একেক সময় একক কথা জানান।
পুলিশকে খবর না দিয়ে মিথিলা হার্ট এ্যাটাক করেছে এবং সঙ্গে বমি করছে বলে সকালে তাকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা করে ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বলা হয় সে আত্মহত্যা করেছে। লাশ বাসায় থাকা অবস্থায় পুলিশে খবর না দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে জানানো হয়। সকাল ১০টার দিকে পুলিশ আত্মহত্যার খবর পেয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, রুমে থাকা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ‘আত্মহত্যা’ করে মিথিলা। রুমে সে একাই ছিল এবং দরজাও খোলা ছিল।
তারা পাখা থেকে নামিয়ে ভোরে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার পরিচিতদের দাবি- একটি পাখায় ঝুলে একজন বয়স্ক মানুষের আত্মহত্যা সম্ভব নয়। এতে পাখা ভেঙ্গে যাবে, তা না হলে অন্তত বাঁকা হয়ে থাকার কথা। এমনকি লাশের জিব্বা বের হয়ে থাকবে। পা নিচের দিকেও ঝুলে থাকবে। কিন্তু মিথিলার ক্ষেত্রে তার কিছুই ছিল না। সহপাঠিরা জানান, মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে ময়না তদন্ত না করতে উচ্চ মহলে তদবির করা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের চাপে শেষ পর্যন্ত ময়না তদন্ত করে রাতে তারাবির নামাজের আধা ঘণ্টা আগে জানাজা শেষে নগরীর মানিকপীর টিলায় দাফন করা হয়। সুরতহাল প্রস্তুতকারী পুলিশ জানায়- মিথিলির দুই হাতে ৪টা চ্যাকা দাগের মতো ক্ষত ছিল। এ দাগগুলো সাধারণত ড্রাগ এডিক্টেটদের শরীরে পাওয়া যায়। তবে নির্যাতনের কারণেও এরকম দাগ পড়তে পারে। এয়ারপোর্ট থানার ওসি সাহাদত হোসেন জানিয়েছেন- ময়না তদন্তের রিপোর্ট ছাড়া কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে সবকিছু বিবেচনায় এটি আত্মহত্যা বলে মনে হওয়ায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। পরে হাসপাতালের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

হাকালুকি হাওরে পলোতে আটক ২৭ কেজির বোয়াল

তুমুল বৃষ্টি হচ্ছিল। সঙ্গে মেঘের গর্জন। এর পরপরই লোকজন পলো, জালসহ বিভিন্ন ধরনের উপকরণ নিয়ে মাছ ধরতে হাওরে নেমে পড়েন। এর মধ্যে এক ব্যক্তির পলোতে আটকা পড়ে ২৭ কেজি ওজনের একটি বোয়াল। স্থানীয় লোকজন এটাকে ‘উজাই’ ধরা বলে।  শুক্রবার ভোরে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার হাকালুকি হাওর এলাকার দৃশ্য এটি।
এলাকাবাসী জানায়, কয়েক দিন ধরে তীব্র দাবদাহ চলছিল। এর মধ্যে সাহরির কিছু পর হঠাৎ করে মুষলধারে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। তাতে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। এ দিকে বৃষ্টি থামার পর বিভিন্ন বয়সী লোক মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে হাকালুকি হাওরের দিকে রওনা দেন। হাওরের হাঁটু-কোমরসমান পানিতে নেমে তাঁরা মাছ ধরতে শুরু করেন।
উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের উত্তর জাঙ্গিরাই গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবু সাইদ স্বপন বলেন, তিনি শখে পলো নিয়ে মাছ ধরতে হাওরে যান। একপর্যায়ে একটি বোয়াল তাতে আটকা পড়ে। জোরে চেপে ধরেন। পরে তুলে দেখেন বোয়ালটি বেশ বড়। বাড়িতে নিয়ে আসার পর আশপাশের লোকজন মাছটি দেখতে ভিড় জমান। এটির ওজন হয় ২৭ কেজি। মাছটি কেটে নিজেসহ আত্মীয়স্বজন ভাগ করে নেন।
আবু সাইদ বলেন, শুধু বোয়াল নয়, অনেকে ঘনিয়া, আইড়, পাবদা ও কই মাছ পেয়েছেন। প্রতিবছর এ সময়টাতে বৃষ্টির পর হাওরের ভাসান পানিতে এ রকম মাছ পাওয়া যায়। এটাকে ‘উজাই’ ধরা বলা হয়।
উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মীর আলতাফ হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এখন মাছের প্রজনন মৌসুম। বৃষ্টি, বজ্রপাত ও নির্ধারিত তাপমাত্রায় মা মাছ ডিম ছাড়ার উদ্দেশ্যে নদী অথবা হাওরে স্রোতের বিপরীতে ছুটতে থাকে। আশপাশের ছোট খাল-বিলে তারা আশ্রয় নেয়। এ সুযোগে লোকজন এসব মাছ ধরতে নেমে পড়েন।
হাকালুকি হাওরের পাশের বিল থেকে ২৭ কেজি ওজনের বোয়ালটি ধরেন আবু সাইদ স্বপন। ছবি: কল্যাণ প্রসূন

ভারত সীমান্তে আক্রমণ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন: উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি

ভারত সীমান্তের কাছাকাছি বিশ্বের সর্ববৃহৎ চালকহীন বিমান এবং কৌশলগত ভারি বোমারু বিমান বহর মোতায়েনের মধ্য দিয়ে আক্রমণ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন।
ভারত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকার দু'টি বিমানঘাঁটিতে ডিভাইন ইগেল জেট ইউএভি নামের চালকহীন বিমান এবং এইচ-৬কে বোমারু বিমান বহর মোতায়েন করছে চীন। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে খবরে আরও দাবি করা হয়েছে, চালকহীন বিমান বা ড্রোন চীনের মালান বিমান ঘাঁটি এবং এইচ-৬কে বোমারু বিমান হোপিং বিমানঘাঁটি থেকে তৎপরতা চালাচ্ছে।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ চালকহীন বিমান হিসেবে পরিচিত ডিভাইন ইগেল জেট ইউএভি। এর দৈর্ঘ্য ১৫মিটার এবং পাখার আকার ৩৫ থেকে ৪৫ মিটার। এই চালকহীন বিমান দিয়ে আমেরিকার স্টিলথ জঙ্গি বিমান এফ-২২ এবং এফ-৩৫কে শনাক্ত করা যায় বলে জানিয়েছে চীন।
অন্যদিকে, চীনের গণমুক্তি ফৌজের বিমান বাহিনী বা পিএলএএএফ'এর এইচ-৬কে বোমারু বিমান সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি তুপলোভ টিইউ-১৬'এর বিমানের উন্নত সংস্করণ। এ বিমানের দীর্ঘপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। একে কৌশলগত বোমারু বিমান হিসেবে গণ্য করা হয়। কোনও কোনও খবরে বলা হয়েছে যে এইচ-৬'র পরমাণু বোমা বহনের সক্ষমতা রয়েছে এবং এ দিয়ে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজের ওপর হামলা করা যাবে। একে চীনের 'বি-৫২ বোমারু' বিমান হিসেবেও বলে থাকেন কেউ কেউ।

তিব্বতের হোপিং বিমানঘাঁটিতে চীন এ বোমারু বিমান বহর মোতায়েন করেছে এবং ভারত সীমান্ত থেকে এ ঘাঁটি মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এদিকে মালান বিমান ঘাঁটিতে চীনের সিনজিয়াং স্ব-শাসিত অঞ্চলে অবস্থিত।
এ ছাড়া, ভারতের গোয়েন্দা সূত্র থেকে দাবি করা হচ্ছে যে চীনের ইউসি'তে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রের গোপন ঘাঁটি রয়েছে। এটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশ থেকে ৯০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ ঘাঁটিতে চীনের ৬২২ ক্ষেপণাস্ত্র বিগ্রেডকে মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন হয়েছে এখানে। এ ছাড়া, অরুণাচলকেও চীন নিজের অংশ হিসেবে দাবি করে থাকে।
২০১৭ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত দোকলাম নিয়ে চীন-ভারত টানাপড়েন চলেছে। বর্তমানে এ টানাপড়েন থিতিয়ে এলেও ভারত সংলগ্ন অভিন্ন সীমান্তে আক্রমণ সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে চীন। আর চীনের অব্যাহত এ সব তৎপরতায় উদ্বিগ্ন বোধ করছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী।

নরওয়েতে আলোচনায় বসছে ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধীরা

নরওয়েতে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা। ইতোমধ্যেই উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা দেশটিতে পৌঁছেছেন। আলোচনায় বিদ্যমান সংকট উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন বিবদমান দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে এবিসি নিউজ।
নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এ বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে অবৈধ দাবি করে নিজেকে বৈধ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন তিনি। এ মাসের গোড়ার দিকে এক ভিডিও বার্তায় আকস্মিক অভ্যুত্থানের ঘোষণা দেন গুইদো। ভিডিওতে তার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যকেও দেখা যায়। এই অভ্যুত্থানে সমর্থন ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে কথিত ওই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা নস্যাতের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা কখনোই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে মাথানত করবে না। এমন পরিস্থিতিতেই বুধবার ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিমান চলাচল স্থগিতের ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যেই নরওয়েতে মিলিত হচ্ছে বিবদমান দুই পক্ষ।
কয়েক মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত স্বঘোষিত প্রেসিডেন্টের অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর নরওয়ের রাজধানী ওসলো-তে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এবিসি নিউজের খবরে এই আলোচনাকে মার্কিনপন্থী বিরোধীদের নীতিগত পরাজয় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কেননা ইতোপূর্বে তাদের পক্ষ থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-র বিরুদ্ধে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ করা হয়েছিল।
ভেনেজুয়েলায় অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে উভয় পক্ষের সিনিয়র নেতারা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশটির সরকারবিরোধী পক্ষের নেতারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও কার্গো ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজ এ ঘোষণা দিয়েছে। এতে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনাকে ফ্লাইট চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিদ্যমান পরিস্থিতি যাত্রী, বিমান ও ক্রু-দের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। ফলে দেশটিতে মার্কিন বিমান চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে। তবে ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে এই সিদ্ধান্ত নতুন করে বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত ভেনেজুয়েলায় মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে চীন। সোমবার দেশটির চিকিৎসা সামগ্রীবাহী দ্বিতীয় বিমানটি ভেনেজুয়েলায় অবতরণ করে। ভেনেজুয়েলা সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭১ টন ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান রাজধানী কারাকাসে অবতরণ করেছে। এতে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্যও ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকার ও চীনের মধ্যে একটি ‘মানবিক-কারিগরি সহযোগিতা চুক্তির অংশ হিসেবে এ সাহায্য পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো বলেন, দ্বিতীয় চালানটি পৌঁছানোর ফলে এখন আমাদের দেশে ১৬৬ টন ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী রয়েছে। রাশিয়া ফেডারেশন, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের কাছ থেকে ইতোমধ্যে আমরা চিকিৎসা সামগ্রী পেয়েছি।
এর আগে ২৯ মার্চ চীন থেকে ৬৫ টনের একটি মানবিক সহায়তাবাহী বিমান অবতরণ করে। পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ভেনেজুয়েলায় খাবার ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেশটির তিন কোটি মানুষের প্রায় এক-চতুর্থাংশেরই জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। ভেনেজুয়েলায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি বারোরং বলেন, অবরোধের ফলে দেশটির যা ক্ষতি হয়েছে এই ওষুধ সহায়তায় তা কিছুটা লাঘব হবে বলে তিনি আশা করছেন।

সবচেয়ে কম ওজন নিয়ে বেশি শিশু জন্ম নেয় বাংলাদেশে

বিশ্বে ১০টি দেশে সবচেয়ে কম ওজন নিয়ে নবজাতকের জন্ম হয় বেশি। এসব দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এমন শিশুর জন্ম হয় বাংলাদেশে। এরপরেই রয়েছে কমোরোস ও নেপাল। এক্ষেত্রে যে ১০টি দেশ তালিকার শীর্ষে আছে তা দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার। বৃহস্পতিবার দ্য ল্যানচেট গ্লোবাল হেলথ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে জন্মের সময় নবজাতকের গ্রহণযোগ্য ওজন হলো ২.৫ কিলোগ্রাম। কিন্তু ২০১৫ সালে বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ২৭ ভাগ অর্থাৎ ৮ লাখ ৬৪ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করেছে এই ওজনের নিচে। ২০০০ সালে এমন কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিল শতকরা ৩৬ ভাগ শিশু। অন্যদিকে কমোরোস ও নেপালে এই হার যথাক্রমে শতকরা ২৩.৭ এবং ২১.৮ ভাগ। ওই তালিকায় ফিলিপাইন, লাওস ও মৌরিতিয়াস রয়েছে যথাক্রমে ৫ম, ৭ম ও ১০ম অবস্থানে।
উল্লেখ্য, গ্রহণযোগ্য ওজনের কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুর মৃত্যুহার অনেক বেশি। তাদের শরীরের বৃদ্ধিতে থাকে নানা রকম ঝুঁকি। আছে নানা রকম ক্রনিক বা জটিল রোগে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি। বিশ্বজুড়ে বছরে মোট জন্মগ্রহণ করে ২৫ লাখ শিশু। এর মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি মারা যায় কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করার কারণে। বিশ্বে মোট যে পরিমাণ কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করা শিশু আছে, তার প্রায় অর্ধেকই দক্ষিণ এশিয়ায়। ২০১৫ সালে এমন শিশু ছিল প্রায় ৯৮ লাখ।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনে ২০১৫ সালে জন্ম নিয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ২১ হাজার ৬০০ শিশু। এর মধ্যে কম ওজন নিয়ে জন্ম নিয়েছে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ শিশু। তবে মানসম্পন্ন ডাটায় ঘাটতি থাকায় ভারতে এই সংখ্যা হিসাব করতে পারেন নি গবেষকরা। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ম্যাটারনাল অ্যাডোলেসেন্ট রিপ্রোডাকটিভ অ্যান্ড চাইলড হেলথের পরিচালক জয় লন বলেন, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি শিশুর জন্ম হয় ভারত ও চীনে। ভারতে রয়েছে আংশিক ডাটা। তাই আমরা এ বিষয়ে সেখানে হিসাব বা রিপোর্ট করতে পারি নি। ওদিকে সাব সাহারান আফ্রিকায় কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যা ৪৪ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখে।
এমন শিশুর বেশির ভাগ জন্ম নিচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া ও সাব সাহারান আফ্রিকায়। এমন পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হযেছে। ২০১২ সালে প্রায় ১৯৫টি দেশ কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুর জন্ম ২০২৫ সাল নাগাদ শতকরা ৩০ ভাগ কমিয়ে আনতে চেয়েছে। কিন্তু গবেষণায় বর্তমানে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে দেখা যায় এই হার কমছে খুব ধীরগতিতে। ২০০০ সালে এই হার ছিল শতকরা ১৭.৫। তা কমে ২০১৫ সালে দাঁড়িয়েছে শতকরা ১৪.৬ ভাগে। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ডা. হান্নাহ ব্লেনকাউ বলেন, কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুর হার খুব ধীরগতিতে কমার অর্থ হলো এ বিষয়ে আরো পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও আমাদের অনুমান বলছে যে, জাতীয় পর্যায়ের সরকারগুলো কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যা কমাতে খুব কমই করছে।

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেয়া সেই তরুণী পা হারাতে বসেছেন by মরিয়ম চম্পা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ১১৩ নম্বর ওয়ার্ড। এক নম্বর ইউনিটের এফএনপি বি-৫ ওয়ার্ডের শেষ মাথার একটি বেডে গোঙানির শব্দ। যন্ত্রণায় চিৎকার করছে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী। গত ১লা মে রাতে কথিত প্রেমিকের আহ্বানে সাড়া দিতে গেলে যৌন নির্যাতনে ব্যর্থ হয়ে তরুণীকে ছাদ থেকে ফেলে দেয় এক বখাটে। এ ঘটনায় তরুণীর মুখের সামনে ও উপরের অংশের চারটি দাঁত ভেঙ্গে যায়। নির্মম ওই ঘটনায় দু’পা ভেঙে যায়। এর মধ্যে একটি পা কেটে বাদ দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ফারুককে (২৫) আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে। মামলার হাত থেকে বাঁচতে ও আপস মীমাংসা করতে অভিযুক্ত ফারুকের পরিবার আহত তরুণীর পরিবারকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছে। আহত তরুণী গতকাল মানবজমিনকে বলেন, পুরো শরীর জুড়ে ব্যথা।
আমার পা দুটো আর নাই। আজকেও ড্রেসিং করার সময় মনে হচ্ছিল প্রাণটা বেরিয়ে যাচ্ছে। আমি আর বাঁচতে চাই না। ওর হাতে পায়ে ধরে মাফ চেয়েছি। বাঁচতে চেয়েছি। অনুনয় করে বলেছি ভাই তুমি আমাকে মাফ করে দাও। তুমিতো আমার বড় ভাইয়ের বন্ধু। কিন্তু পাষণ্ডের মন গলেনি। ও আমাকে দয়া করেনি। আমি ওর শাস্তি চাই। ওর ফাঁসি চাই। পেশায় গাড়ি চালক ফারুক ঘটনার দিন একের পর এক ফোন দিয়ে বলে, আমি ৭ থেকে ৮ মাসের জন্য কাজে চলে যাবো। তাই যাওয়ার আগে তোমাকে একটু দেখতে চাই। তুমি আমার সামনে আসো। তোমার সাথে শুধু একটু কথা বলবো। এ সময় আমি অনেকবার মানা করেছি। তারপরও ফারুকের একই কথা মাত্র একবার আসো। আমরা একই এলাকায় আমতলা নামক স্থানে ভাড়া থাকি। ওদের বাসা আর আমাদের বাসা প্রায় পাশাপাশি।
ফারুক ছিল আমার ভাইয়ের বন্ধু। আমি যখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি তখন থেকে ওর সাথে আমার পরিচয়। দোকানের সামনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ষোলপাড়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। ছাদে নেয়ার পরে বারবার আমার পরনের জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে। আমাকে কু-কাজে বাধ্য করে। আমি প্রবলভাবে বাধা দেয়ার চেষ্টা করি। এক পর্যায়ে ছাদের একেবারে শেষ প্রান্তে নিয়ে হঠাৎ করে আমার দু’পা জাপটে ধরে তিন তলা থেকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেয়। এরপর কি হয়েছে জানিনা। আমার পা দুটো গুড়ো হয়ে গেছে। সামনের অনেকগুলো দাঁত পড়ে গেছে। মাড়ির দাঁত নড়ছে।  আমি মরে গেলেও এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই। ওর শাস্তি হোক। আর কিছু চাইনা। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমি চাইনা ও ভালো থাকুক। একটু পানি ছাড়া আর কিছুই খেতে পারিনা। আমার ডান পা শেষ হয়ে গেছে। পা না থাকলে বেঁচে থেকে কি হবে। গত ১৫ দিন ধরে আমি এভাবেই বিছানায় শুয়ে আছি। উঠে বসতে পারিনা।
ওই তরুণী বলেন, ভাইদের অনেক স্বপ্ন ছিল আমাকে অনেক ভালো যায়গায় বিয়ে দিবে। অনেক বড় করে অনুষ্ঠান করবে। ঘটনার শিকার তরুণীর মা হেলেনা বেগম বলেন, আমার মেয়ে যেভাবে কষ্ট পাচ্ছে, একই ধরনের শাস্তি চাই ফারুকের। আমার মেয়েকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়ার পর ফারুকের ছোট বোন এসে আমাদের খবর দেয়। বলে, আপু আমাদের বাসার ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। আমার মেয়ের সঙ্গে ওর কোনো  ধরনের সম্পর্ক ছিলনা। আমি জেনে শুনে ওই মাদকাসক্ত ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিবো? কখনো না। আমার স্বামী মো. আব্দুল দুই বছর আগে মারা গেছেন। তাই আর বেশি পড়াতে পারেনি। ৪ বোন ৩ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট সে। আমার ছেলেদের উপার্জনে সংসার চলে।
গ্রামের বাড়ি ভোলায়। ছোট বোনের জন্য এখনো তারা বিয়ে করেনি। আমাদের সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলো। কতো আশা ছিল মেয়েকে ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিবো। পা ছাড়া মেয়েকে এখন কে বিয়ে করবে। তরুণীর মেজো ভাই মামুন বলেন, আমার বোনটার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। আমার বোন হয়তো আর নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেনা। ঘটনার পরপরই বখাটে ফারুকের নামে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে সে জেলে আছে। ডাক্তার বলেছে, আমার বোনের ডান পায়ে ৪টি স্থানে ভেঙ্গে গেছে। পায়ের অবস্থা খুব গুরুতর। ডান পায়ের হাঁটুর হাড় বেরিয়ে গিয়ে ইনফেকশন হয়ে গেছে।
ইনফেকশন ভালো না হলে পা কেটে বাদ দিতে হবে। অন্যথায় শরীরে পচন ধরতে পারে।  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার নির্মল কান্তি বিশ্বাস বলেন, তার দুই পায়ের হাড় একেবারে ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। সামনের চারটি দাঁত ভেঙে গেছে। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর চিকিৎসা চলছে। সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ঘটনার পর থানা-পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ বখাটে ফারুক হোসেনকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় ওই তরুণীর ভাই বাদী হয়ে ফারুক ও তার সহযোগী শাহীন মিয়ার নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

ক্ষমতায় থেকেই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ক্ষমতায় থাকলে দেখা যায় দলের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়, কিন্তু আমরা ক্ষমতায় থেকেই জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসটা অর্জন করতে পেরেছি।’ তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার বিকেলে গণভবনে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দল এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, তাঁর দল ক্ষমতায় থাকাকালীন মানুষের জন্য যে উন্নয়ন করেছে, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যে কাজটা করেছে, সেটা মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে। আর সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আওয়ামী লীগের ওপর দেশের জনগণ যে আস্থা ও বিশ্বাস দেখিয়েছে, তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সে সময় বিদেশে অবস্থানকালীন তাঁর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা এবং ছোট মেয়ে শেখ রেহানার দেশে ফেরার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তৎকালীন সরকার। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করলে একরকম জোর করেই ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই দল এবং সব সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
৩৮ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন উপলক্ষে শেখ হাসিনা দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাঁদের অপরিসীম ত্যাগ তিতিক্ষার জন্যই আওয়ামী লীগ আজকে বাংলাদেশে এক নম্বর রাজনৈতিক দল। যে পার্টি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে এবং সেই আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ছিল এবারের নির্বাচন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে একেবারে নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে যারা একেবারে প্রথমবারের ভোটার, তারা সবাই ব্যাপকভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে দলের প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ্বাস জানিয়েছে।’
বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের মধ্যে আমরা একটা যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি।’ তিনি বলেন, ‘অন্তত এটুকু বলতে পারি এই ৩৮ বছরে বাংলাদেশের বা দেশের মানুষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ আমি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্য করে নাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজের চাওয়া-পাওয়ার জন্য নয়, দেশের মানুষের জন্য, তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই কাজ করেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যতবারই ক্ষমতায় এসেছি, কাজ করেছি এবং মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি, যা আমাদের ধরে রাখতে হবে এবং দেশটা যেন ওই স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের হাতে—এ দেশের মানুষের ভাগ্যটা চলে না যায়, তারা যেন আর কোনো দিন এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।’
প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার হত্যা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের করে এনেছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘খুনিরা যদি সমাজে দম্ভ করে খুনের কথা প্রচার করে এবং তার যদি বিচার না হয়, তাহলে সে সমাজে এমন অপরাধ চলতেই থাকে।’ তিনি বলেন, একটি দলের সভানেত্রী হিসেবে ৩৮ বছর। চিন্তা করলে অবাকই লাগে। এটা বোধ হয় একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে। আপনাদেরও সময় এসেছে, তা ছাড়া বয়সও হয়েছে, চোখের ছানির অপারেশন করিয়ে এসেছি (লন্ডন থেকে), কাজেই বাস্তবতাকে তো মানতে হবে।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত। কাজেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের এগিয়ে যাওয়াটা যেন অব্যাহত থাকে। তাহলেই বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’
‘দেশের দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আমরা ২১ ভাগে নিয়ে এসেছি’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই হারকে আমরা আরও নামিয়ে আনব, এই দেশে হতদরিদ্র বলে কিছু থাকবে না।’

‘আফগানিস্তানে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হতে চলেছে আমেরিকা’

তালেবানের প্রধান আলোচক শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানেকেজাই বলেছেন, চূড়ান্তভাবে পরাজিত হতে চলেছে আমেরিকা এবং শিগগিরই তারা আফগানিস্তান ছাড়তে বাধ্য হবে। আন্তর্জাতিক একটি সংবাদ মাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, কাতারের দোহায় গত মাসের ২৮ তারিখে এক অভ্যন্তরীণ সমাবেশে এ কথা বলেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমেরিকা হয় নিজে থেকে আফগানিস্তান ছাড়বে নয় তো তাকে আফগানিস্তান থেকে পাততাড়ি গুটাতে বাধ্য করা হবে। স্তানেকেজাই'র নেতৃত্বাধীন আলোচকরা মার্কিনীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার মাত্র দু’দিন আগে এ মন্তব্য করেন তিনি। তালেবানপন্থি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এ বক্তব্যের ভিডিও গত শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে।
অতীতে ব্রিটিশ এবং অধুনালুপ্ত সোভিয়েত আগ্রাসনের মোকাবেলায় আফগান জাতির বীরত্বের প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি আফগানিস্তানে চলমান বিদেশি সামরিক উপস্থিতির মোকাবেলায় আফগান জাতির বীরত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
তিনি বলেন, গত শতাব্দিতে দুই পরাশক্তিকে পরাজিত করতে আল্লাহ আফগান জাতিকে সহায়তা করেছে। বর্তমানে তৃতীয় পরাশক্তির মোকাবেলা করছে আফগান জনগণ এবং এটিও চূড়ান্তভাবে পরাজিত হতে চলেছে।

অনেকেই ভাবেন খালেদা মুক্তি পেলে তাদের অসুবিধা হবে -অলি আহমদ

এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, রাজনীতিতে এক ধরনের ছাগল আছে। তিনি বলেন, ছাগলগুলো মনে করে বেগম জিয়ার থেকেও তারা বড় নেতা। গতকাল রাজধানীর লেডিস ক্লাবে এলডিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোটে যোগ দেয়ার পর খালেদা জিয়া বিহীন এটি এলডিপির দ্বিতীয় ইফতার মাহফিল। তার অনুপস্থিতিতে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়েও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ২০ দলীয় জোট ভাঙার জন্য অনেকেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এই প্রক্রিয়া অবশ্য নির্বাচনের আগে থেকেই হয়েছিল। ইদানিংও আমরা লক্ষ্য করছি কিছু লোক চায় না বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাক। অলি আহমদ বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, দেয়াল নিচু হলে ছাগল লাফ দিয়ে তার উপর উঠে যায়। পাশে হয়তো মালিক দাড়িয়ে থাকে। অনেক সময় ছাগলের উচ্চতা মালিকের উচ্চতার চেয়ে বেশি হয়। ছাগল মনে করে আমি মালিকের চেয়ে বেশি উচু। রাজনীতিতে এ ধরণের অনেক ছাগল আছে। ছাগলগুলো মনে করে বেগম জিয়ার থেকেও তারা বড় নেতা। সুতরাং বেগম জিয়া যদি কারাগার থেকে বের হয় তাহলে অনেকের অসুবিধা হতে পারে। আমরা সত্যিকার অর্থে মনে প্রাণে চাই খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হোক। আমরা প্রেস ক্লাবে যে কথাগুলো বলেছি। এগুলো কোনো কথার কথা নয় এবং কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্যও বলা হয়নি।
আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করব। প্রেস ক্লাব থেকে আমরা শুরু করেছি। আজকেও কথাগুলো বলছি। আগামীতেও আমরা বলব। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমরা জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করব। আমরা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হব না। তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা। দেশকে বাঁচানোর জন্য, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য যুদ্ধ করেছি। দেশের মানুষকে হত্যা করার জন্য নয়। দেশের কোনো ক্ষতি করার জন্য নয়। দেশের কোনো উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করার জন্য নয়। বর্তমান সরকার বলছে- দেশে উন্নয়নের রাজনীতি হচ্ছে। এটা কোনো মিথ্যা কথা নয় এটা সত্য কথা। কিন্তু কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন ৭৬ শতাংশ যৌন হয়রানি হচ্ছে। সুতরাং উন্নতি যে হচ্ছে না, আবার সোনার ছেলেরা অপকর্মে যে লিপ্ত হচ্ছেনা এটা ঠিক না। কিন্তু গ্রামে গঞ্জে সাধারণ মানুষের অবস্থা ভয়াবহ। কৃষক ধান পুড়িয়ে দিচ্ছে। ধানের দাম পাচ্ছে না। বড় বড় লোকেরা মেগা প্রকল্পের টাকা লুট করছে।
গরীব মানুষ ও মধ্যবিত্ত মানুষ অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী দুই তিন মাসের মধ্যে দেশে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ধস নামতে পারে। ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন গত দুই তিন দিনে ডলারের দাম টাকার সঙ্গে প্রায় দুই তিন টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে যদি তুরষ্কের মতো অবস্থা হয় তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কি হবে? কানাডার মতো হবে নাকি আফ্রিকার কোনো দেশের মতো হবে এটা দেখার বিষয়। কর্ণেল (অব.) অলি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটেও ভালো না। ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। বিদেশীদের দেখানোর জন্য কিছু মানুষকে ধরে নিয়ে বন্দি রেখে তাদের হাতে কয়েকটা বন্দুক দেয়া হয়। বাইরে থেকে গ্রেনেড ফাটিয়ে, মেশিনগান চালিয়ে তাদের হত্যা করে বলা হয় আমরা সন্ত্রাসের প্রতি জিরো টলারেন্স। ওই লোকগুলোকে মাদক সেবন করিয়ে বন্দি রেখে তাদের হত্যা করে এই ধরণের ড্রামা করা হচ্ছে। বহু ড্রামা আমরা দেখেছি। কিন্তু একটা কথা স্মরণ রাখতে হবে- আল্লাহ প্রত্যেকটা জিনিস দেখছেন। কে ভালো আর কে মন্দ। আমরা হয়তো একে অপরকে ধোঁকা দিতে পারি। আইনের শাসন যে নেই সেটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।
তিনি বলেন, হাইকোর্ট থেকে একটা আদেশ জারি হয়েছে কোনো রায়ের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যাবে না। অর্থাৎ কেউ অন্যায় করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। মানবাধিকার খর্ব করার যতো প্রচেষ্টা তা আইনগতভাবেও করা  হচ্ছে। সুশাসন নেই, ন্যায় বিচার নেই, মানবাধিকার নেই, আমাদের বাঁচার অধিকার নেই। আমাদের নিজের দেশে পরাধীন হিসেবে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এলডিপির পক্ষ থেকে কেউ যদি মনে করে কারো দাস হিসেবে কাজ করবো। কারো গৃহপালিত পশু হিসেবে কাজ করবো, এটা ভুল করবে। ২০০৫ সালে আমরা মনে করেছিলাম রাজনীতিতে ভুল হচ্ছে। এই জন্য উপমহাদেশে নজীর বিহীন একটি ঘটনা ঘটেছিল। তিন জন মন্ত্রীসহ ৩২ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে আমরা সেদিন এলডিপি করেছিলাম। এটা বিএনপির বিরুদ্ধে নয়। সামগ্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমাদের সেদিন বিদ্রোহ ছিল। 
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. মো.শফিকুর রহমান বলেন, দেশে এখন দুইটি কারাগার। একটি চার দেয়ালে ঘেরা কারাগার। আরেকটি হল ৫৬ হাজার বর্গমাইলের কারাগার। এই কারাগার থেকে মুক্তি পেতে আমাদের সবাইকে একযোগে লড়তে হবে। আমার আগে একজন বলেছেন সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না। কথাটা ঠিক। আসুন আমরা সবাই মিলে এই কথাটার আমল করি।
এলডিপি চেয়ারম্যান কর্ণেল অলি আহমদের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে আরো বক্তব্য রাখেন- কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, কামাল ইবনে ইউসুফ, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির(এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মুফতি মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া, ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য আবদুর রহমান মুসা, লস্কর মুহাম্মাদ তাসলিম, অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন, হাতিরঝিল থানা আমীর আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।

আমরা জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছি -প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের ওপর দেশের জনগণ যে আস্থা ও বিশ্বাস দেখিয়েছে তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থাকলে দেখা যায় দলের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় থেকেই জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসটা অর্জন করতে পেরেছি। তিনি বলেন, তার দল ক্ষমতায় থাকাকালীন মানুষের জন্য যে উন্নয়ন করেছে, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যে কাজ  করেছে সেটা মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে। আর সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বিকেলে গণভবনে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দল এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে একথা বলেন। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সে সময় বিদেশে অবস্থানকালীন তার বড় মেয়ে শেখ হাসিনা এবং ছোট মেয়ে শেখ রেহানার দেশে ফেরার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তৎকালীন সরকার।
১৯৮১ সালে তার অনুপস্থিতিতেই তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করলে এক রকম জোর করেই ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই দল এবং সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় জাতীয় সংসদের উপনেতা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। ৩৮ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন উপলক্ষে শেখ হাসিনা দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। বলেন, তাদের অপরিসীম ত্যাগ তীতিক্ষার জন্যই আওয়ামী লীগ আজকে বাংলাদেশে এক নম্বর রাজনৈতিক দল। যে পার্টি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে এবং সেই আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ছিল এবারের নির্বাচন। তিনি বলেন, নির্বাচনে একেবারে নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে যারা প্রথমবারের ভোটার তারা সকলেই ব্যাপকভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে দলের প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ্বাস জানিয়েছে। বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশের মধ্যে আমরা একটা যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি।
তিনি বলেন, অন্তত এটুকু বলতে পারি এই ৩৮ বছরে বাংলাদেশের বা দেশের মানুষের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কোন কাজ আমি বা আমার পরিবারের কোন সদস্য করেনি। নিজের চাওয়া-পাওয়ার জন্য নয়, দেশের মানুষের জন্য, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই কাজ করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, যতবারই ক্ষমতায় এসেছি, কাজ করেছি এবং মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি। যা আমাদের ধরে রাখতে হবে এবং দেশটা যেন স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের হাতে এদেশের মানুষের ভাগ্যটা চলে না যায় তারা যেন আর কোন দিন এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। তিনি জাতির পিতার হত্যা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের করে এনেছেন উল্লেখ করে বলেন, খুনিরা যদি সমাজে দম্ভ করে খুনের কথা প্রচার করে এবং তার যদি বিচার না হয় তাহলে সে সমাজে এমন অপরাধ চলতেই থাকে। তিনি বলেন, একটি দলের সভানেত্রী হিসেবে ৩৮ বছর। চিন্তা করলে অবাকই লাগে। এটা বোধ হয় একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে।
আপনাদেরও সময় এসেছে, তাছাড়া বয়সও হয়েছে, চোখের ছানির অপারেশন করিয়ে এসেছি লন্ডন থেকে, কাজেই বাস্তবতাকে তো মানতে হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আজকে আওয়ামী লীগ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত। কাজেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের এগিয়ে যাওয়াটা যেন অব্যাহত থাকে। তাহলেই বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। দেশের দারিদ্রের হার কমিয়ে আমরা ২১ ভাগে নিয়ে এসেছি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই হারকে আমরা আরো নামিয়ে আনবো, এই দেশে হতদরিদ্র বলে কিছু থাকবে না।