Thursday, November 17, 2016

প্লুটোর ভূগর্ভে সমুদ্র্রে সন্ধান

দূরবর্তী ছোট গ্রহ প্লুুটোতে হিমায়িত হৃদয়াকৃতি পৃষ্ঠের তলদেশে লুকায়িত এক সমুদ্র থাকার প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যেখানে পৃথিবীর যেকোনো সমুদ্রের সমপরিমাণ পানি ধারণ করা হতে পারে।
এই আবিষ্কার গত বুধবারে নেচার কম এর জার্নালে প্রথম প্রকাশিত হয়, পৃথিবীর বাইরে লুকায়িত সাগর আছে বলে ধারণা করা হয় এমন গ্রহগুলোর তালিকায় প্লুুটো নতুন করে যুক্ত হলো, যেগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটা জীবন ও বসবাস উপযোগীও হতে পারে বলে মনে করা হয়।
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার মহাকাশ বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস নিম্মো এ ব্যাপারে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্লুুটোর এই সাগর যা সম্ভবত বরফে পরিপূর্ণ, ছোট গ্রহটির তুষারাবৃত্ত পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫০-২০০ কিলোমিটার নিচে এবং প্রায় ১০০ কিলো মিটার গভীর।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনলজির বিজ্ঞানী রিচার্ড বিনযেল বলেন, প্লুুটোর সমুদ্র এত বেশি বরফ দ্বারা আচ্ছাদিত যে তা জীবন ধারণ করার জন্য উপযোগী কোনো বিকল্প হতে পারে না, তবে তিনি এও যোগ করেন যে ‘কখনোই অসম্ভব নয়, কথাটা বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত’।
তরল পানি জীবনের জন্য অপরিহার্য এক উপাদান বলে বিবেচনা করা হয়।
জুলাই ২০১৫তে প্লুুটো ও এর পরিপার্শে¦র উপগ্রহের কাছ দিয়ে নাসার ‘হরাইজন’ মহাকাশ যান ঘুরে আসার সময় ধারণকৃত ইমেজ এবং তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই আবিষ্কার করা হয়।
বিনযেল বলেছেন,‘এটা দেখায় যে আমরা যতটুকু কল্পনা করতে সক্ষম প্রকৃতি তার চেয়ে আরো অনেক বেশি সৃজনশীল, আর এই কারণেই আমরা অনুসন্ধান করা থামাই না, আমরা দেখতে চাই প্রকৃতি কি কি করতে সক্ষম’।
সূর্য থেকে পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৪০ গুণ দূরে হওয়া সত্ত্বেও প্লুুটোর ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগের গঠনকালীন তেজস্ক্রিয়তা এখনো পানিকে তরল রেখেছে।
নিম্নে উল্লেখ করেন ‘প্লুুটোতে যথেষ্ট পরিমাণ শিলা আছে যা থেকে এখনো তাপ উদগিরণ হচ্ছে এবং কয়েকশ’ কিলোমিটার বরফশেল তাপ-অপরিবাহী হিসেবে ভালই কাজ করে’ ‘সুতরাং ভূগর্ভস্থ সমুদ্র খুব বিস্ময়কর কিছু নয়, বিশেষ করে যখন অ্যামোনিয়া রয়েছে যা একটি জমাটবিরোধী পদার্থের মত কাজ করে’।
বিজ্ঞানীরা ১০০০ কি.মি.ব্যাপী ‘স্পুটনিক প্লানিশিয়া’ নামে পরিচিত অববাহিকা সম্বন্ধে জানতে গিয়ে এই আবিষ্কার করেন। এখানেই রয়েছে সেই আলোচিত হৃদয়াকৃতির অঞ্চলটি যা প্লুুটোর বিষুবরেখার কাছাকাছি অবস্থানে অবস্থিত। কম্পিউটার মডেল অনুযায়ী এই অববাহিকাটা পুরোপুরি বরফে পূর্ণ যা প্লুুটোকে উলটিয়ে এর আবরণে ফাটল সৃষ্টি করে। যেটা একমাত্র ঘটতে পারে ভূগর্ভস্থ মহাসাগর এর উপস্থিতি থাকলে।
‘নিউ হরাইজন’ মহাকাশযান এখন সৌরজগতের কুইপের বেল্ট অঞ্চলের আরেক হিমায়িত গ্রহের দিকে আগাচ্ছে যা প্লুুটো থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন মাইল দূরে। ১ জানুয়ারি ২০১৯ সালে এটি ‘২০১৪ এমইউ৬৯’ পরিচিত এক বস্তুর পাশ দিয়ে উড়ে যাবে।
রয়টার্স থেকে অনুবাদ শাদমান সাকিব

ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা কঠোর করবে ইইউ

গ্রিস সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা
মঙ্গলবার রাজধানী এথেন্সে প্রাচীন দুর্গ এলাকা ঘুরে
দেখেন। সঙ্গে ছিলেন দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের
কর্মকর্তা প্রত্নতত্ত্ববিদ এলেনি বানো। ছবি: রয়টার্স
ভিসামুক্ত ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইয়ের পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পর্যটক এবং ব্যবসায়ীদের ইউরোপ পৌঁছার আগে অনলাইনে ৫ ইউরো (৫ দশমিক ৩৫ ডলার) খরচ করে নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ইইউর নির্বাহী বিভাগ ইউরোপীয় কমিশনে গতকাল বুধবার পরিকল্পনাটি পাস হওয়ার কথা। এই নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় ভ্রমণ-ইচ্ছুক ব্যক্তিকে নিজের পরিচয় ও বসবাসের বিস্তারিত তথ্য অনলাইনে জানাতে হবে। ইইউর নিরাপত্তা ও অপরাধবিষয়ক ডেটাবেইসে সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্য যাচাইয়ের পরই ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে। ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হামলা এবং অভিবাসীদের চাপ সামলাতে ইউরোপীয় কমিশন এ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কমিশনের আশা,
অনলাইনে যাচাইয়ের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গ্রিসের সীমান্তে অভিবাসীদের চাপ, ইউরোপে অপরাধী ও জঙ্গিদের সহিংসতা এবং অবৈধ অভিবাসী সৃষ্টির হার কমে যাবে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের শেঙ্গেন অঞ্চলে যে ৬০টি দেশের নাগরিকেরা ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা পেয়ে আসছিলেন, তাঁদের ওপর প্রভাব পড়বে। এমনকি ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্য ইইউ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দেশটির নাগরিকেরাও বিপাকে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভিসামুক্ত ভ্রমণের ব্যাপারে তুরস্ক ও ইউক্রেনের দাবি বাস্তবায়নও ঝুলে যাবে। ইউরোপীয় কমিশনে প্রস্তাবটি পাসের পর অনুমোদনের জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং সদস্যদেশগুলোর সরকারের কাছে পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ২০ কোটি ইউরো খরচ করতে হবে। এ ছাড়া বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি ইউরো।

রাখাইনে রোহিঙ্গা দমন নিয়ে কফি আনানের ‘গভীর উদ্বেগ’

কফি আনান
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিহত হওয়া এবং সেখানে চলমান অন্যান্য সহিংসতার ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। সেখানে সপ্তাহান্তে সেনাবাহিনীর হাতে অনেক লোক নিহত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা মুসলিম। সেখানে চলমান দমনাভিযানে আতঙ্কিত হয়ে শত শত রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মিয়ানমারের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কফি আনানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিশন রাখাইন রাজ্যে গেছে। ওই রাজ্যের রাজধানী সিত্তিতে সাবেক এই মহাসচিব স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছেন। এরপর মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে কফি আনান এই রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক সহিংসতায় আক্রান্ত গ্রামগুলোতে গতকাল বুধবার কফি আনানের যাওয়ার কথা। মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে কফি আনান বলেন, সহিংসতায় রাখাইন রাজ্যে পুনরায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। তিনি আরও বলেন, ‘সব সম্প্রদায়েরই উচিত সহিংসতা পরিত্যাগ করা। এবং আমি নিরাপত্তা বিভাগকে আইনের শাসনের প্রতি আনুগত্যশীল থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করব।’ গত মাসে মিয়ানমারের পুলিশ ফাঁড়িতে প্রাণঘাতী হামলার পর সীমান্তের কাছে থাকা নিপীড়িত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের সেনাবাহিনী অবরোধ করে রেখেছে। সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, বিদেশি জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত রোহিঙ্গা মুসলিমরা পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার সঙ্গে জড়িত। তারা ওই সব হামলাকারীকে খুঁজছে এবং ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর হাতে প্রায় ৭০ জন নিহত হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা (অ্যাকটিভিস্ট) বলছেন,
সংখ্যাটি হবে এর চেয়ে ঢের বেশি। তাঁরা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যা, নারীদের ধর্ষণ ও তাঁদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অ্যাকটিভিস্টদের এই দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীন পর্যবেক্ষককে তদন্ত করতেও দিচ্ছেও না। এদিকে ওয়াশিংটনে বসে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র এলিজাবেথ ট্রুডো বলেন, রাখাইনে সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্রও উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় ‘স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত’ করার অনুমতি দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। কয়েক দিন পরিস্থিতি শান্ত থাকার পর সপ্তাহান্তে দুই দিনের লড়াইয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে ৩০ জনের বেশি নিহত হয়। জানা গেছে, দেশটির সেনাবাহিনী এবারই প্রথম হেলিকপ্টার গানশিপ ব্যবহার করেছে। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতারা বলেন, সহিংসতার কারণে তাঁদের প্রায় ২০০ লোক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের ফেরত পাঠানোয় তারা সেখানে আটকা পড়েছে। অক্টোবরের শুরুতে সহিংসতা শুরুর পর গত সোমবারই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয় বলেও তাঁরা জানান। রাখাইন প্রসঙ্গে মানবিক বিষয় সমন্বয়ের জাতিসংঘ অফিস বলছে, দেড় লাখ লোক থাকার অত্যন্ত দরিদ্র এই এলাকায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কোনো ধরনের মানবিক সাহায্য গিয়ে পৌঁছায়নি এবং সাম্প্রতিক সহিংসতায় সেখানের প্রায় ১৫ হাজার লোক বাস্তুহারা হয়েছে।

ট্রাম্পের বন্ধুত্ব আশা করেন বাশার!

আরটিপিকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন বাশার (বঁায়ে)। এএফপি
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বলেছেন, তিনি আশা করছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর একজন বন্ধু হয়ে উঠবেন। তবে সতর্কভাবে তাঁকে পর্যবেক্ষণও করছে সিরিয়া। পর্তুগালের আরটিপি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাশার এ কথা বলেন। বাশার বলেন, ট্রাম্প যদি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অঙ্গীকার পূরণ করেন, তাহলে তিনি হবেন একজন ‘স্বাভাবিক মিত্র’। তিনি বলেন, ‘তিনি কী করতে যাচ্ছেন তা আমরা এখনো জানি না। কিন্তু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তিনি যদি লড়াই শুরু করেন, সে ক্ষেত্রে রুশ এবং ইরানিদের সঙ্গে সিরীয়দের যে ধরনের বন্ধুত্ব তেমনটাই হতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি অনুসারে দেশটি আইএস এবং অন্য ইসলামপন্থী সশস্ত্র গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বাশারবিরোধী পক্ষকে সমর্থন করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প তাঁর প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করতে পারবেন, সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন বাশার আল-আসাদ। এই সিরীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ট্রাম্প আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কি তা সত্যিই করতে পারবেন?’ সুতরাং বিষয়টি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে উল্লেখ করেন এই নেতা। ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করা নয় বরং সিরিয়ায় আইএস দমনকেই তিনি প্রাধান্য দেবেন। এদিকে সিরিয়ায় সংঘাত আরও জোরালো রূপ নিচ্ছে। সরকারি বিমান থেকে বিদ্রোহীদের দখলে থাকা আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় বোমা বর্ষণ করা হয়েছে মঙ্গলবার। তিন সপ্তাহের মধ্যে এটাই প্রথম হামলা বলে মানবাধিকারকর্মীরা জানাচ্ছেন।

সুষমার কিডনি নষ্ট

সুষমা স্বরাজ
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। এ কথা তিনি নিজেই টুইট করে গতকাল বুধবার জানিয়েছেন। এরপরই তাঁর আশু আরোগ্য কামনা করে একের পর এক টুইট বার্তা আসতে থাকে। উল্লেখ্য, বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা সুষমা স্বরাজ গত মঙ্গলবার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে ভর্তি হন।
গতকাল বুধবার সকালে তিনি টুইট করে জানান, তাঁর ডায়ালাইসিস চলছে। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এরপর সুষমার এক ভক্ত নিজ কিডনি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে টুইট করে লেখেন, ‘আমি আপনার জন্য কিডনি দিতে প্রস্তুত আছি। জাতির আপনাকে দরকার।’

ট্রাম্পের আমলেই যুক্তরাষ্ট্র আরও মহান হবে

বিভেদ বিভাজনের প্রতীক হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিইনি। ভোট দিয়েছি আমাদের অস্তিত্বের তাগিদে। যারা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছে, তারা সবাই বিদ্বেষ পোষা মানুষ নয়। মার্কিন জনগণ উদার। এ উদারতাই দেখা যাবে আগামী দিনগুলোতে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণে শ্বেতাঙ্গ বহুল আলাকায় স্টারবাকসের কফি হাতে নিয়ে এক নাগাড়ে কথাগুলো বললেন জর্জ আকারম্যান। মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এ ক্যাপ্টেন আরও বলেন, আমি নারী বিদ্বেষী নই। কোন ধর্ম বিদ্বেষী নই। সচেতনভাবেই ভোট দিয়েছি ট্রাম্পকে এবং বিশ্বাস করি, ট্রাম্পের আমলেই মার্কিন আবার মহান হয়ে উঠবে।
লিন্ডা গ্লেন, পেশায় একটি প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক। নির্বাচনের কথা উঠতেই বলেন, নারী হিসেবে আমিও চেয়েছিলাম একজন নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। কিন্তু কেবল নারী বলেই আমি হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দিতে পারি না। হিলারির গত ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আমাদের জানা। লিন্ডা বলেন, হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য রাজনীতিবিদের মতোই মিথ্যাবাদী। সময় এবং পরিস্থিতি বুঝে কথা বলেন। সর্বশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ কোথাও তিনি শান্তি আনতে পারেননি। উপরন্তু রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার কঠিন শর্ত ভঙ্গ করে তিনি সরকারি ইমেইল বাইরে ব্যবহার করেছেন। তাঁর পক্ষে আমেরিকার সচেতন কোনো ভোটার দাঁড়াবারই সুযোগ ছিল না—বলেই থামলেন শ্বেতাঙ্গ এ নারী।
কান্ট্রি ক্লাবে বসে সপ্তাহান্তের আড্ডায় অবসরপ্রাপ্ত এক খুদে ব্যবসায়ী টনি ড্রাগাটরী আলাপে যোগ দিল উৎসাহের সঙ্গেই। রাজনৈতিক আলাপে সহজে যোগ দিতে চায় না আমেরিকার সাধারণ লোকজন। রাজনীতি আর ধর্মকে নিয়ে মার্কিন সাধারণ লোকজনের আলাপ খুবই সংযত থাকে। এবারের নির্বাচনের পর অনেক দিনের চেনা জানা বলেই মুখ খুলছিল শ্বেতাঙ্গ এসব লোকজন সপ্তাহান্তের আড্ডায়।
টনি বলছিলেন, তোমরা বলছ অভিবাসন বিরোধিতার জন্য ট্রাম্পকে সাদারা ভোট দিয়েছে। বিষয়টি ভুল। মাত্র দুই পুরুষ হয় আমি মার্কিন হয়েছি। এ দেশের অধিকাংশ মানুষ অভিবাসনে এসে যুক্তরাষ্ট্র গড়ে তুলেছে। কিন্তু কোনো দেশই তার সীমান্ত খুলে দিতে পারে না। আশে-পাশের দেশ থেকে অথবা সারা বিশ্ব থেকে অপরাধীরা আসবে, কোনো যাচাই ছাড়া—এটা তো হতে পারে না। টনি আমাকে উদ্দেশে করে বলেন, তুমি যে দেশ থেকে এসেছ, সেখানে কি যাচাই-বাছাই ছাড়া লোকজন প্রবেশ করতে পারবে? নিজেদের লোকের কাজ নেই, অবৈধ অনুপ্রবেশের পর তারা কাজ করতে পারবে? তারা কর দেবে না আবার অসুখ-বিসুখ হলে সরকারি অর্থে তাদের চিকিৎসা হবে? রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবেন? আমেরিকার সাদা লোকদের দিকে আঙুল দেখানোর আগে নিজেকে কি প্রশ্নগুলো করবে?
টনি বলতে থেকে, আমি যে এলাকায় থাকি সেখানে ট্রাফিক আইন কেউ মানে না। প্রতিদিন উপাসনার জন্য দিনে পাঁচবার সড়কে মানুষ আটকা পড়ে। প্রতি শুক্রবারে উপাসনার জন্য লোকজন যত্র তত্র গাড়ি রেখে সামাজিক আইনের নিত্য ব্যত্যয় ঘটাচ্ছে। এসব বহু কারণে মানুষ রীতিমতো বিরক্ত হয়ে উঠছে বহু এলাকায়। মানুষ সভ্য এবং আইনের প্রতি চরম শ্রদ্ধাশীল বলেই কেউ বিরক্ত হলেই কারও ওপর চড়াও হয় না। হলে তার বিচার হয়। আমার দিকে আঙুল দিয়ে টনি বলতে থাকে, তোমার দেশে তো বাড়ি ঘর পুড়িয়ে লোকজনের ওপর হামলা কর। এখানে এমন হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এখানে লোকজন অনেক সহনশীল, আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নেয় না।
কান্ট্রি ক্লাবে বসে একান্তে কফি পান করছিল কৃষ্ণাঙ্গ ব্রায়ান ওয়াকার। অনেকটা উৎসাহেই যোগ দেয় আলাপে। ব্রায়ান ওয়াকার বলতে থাকেন, আমি ভোট দিতেই যাইনি। ভোট কাকে দেব? বলা হয়েছিল বারাক ওবামা নির্বাচিত হলে কালোদের উত্তরণ ঘটবে। আট বছরে কিছুই হয়নি। নানা নগরীতে কালোদের ওপর পুলিশের হামলা, গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দেওয়ার জন্য সময় নষ্ট করা বলে মনে করেছি বলেই ভোট দিতে যায়নি।
এন ফেরার ফ্রি লেন্স সাংবাদিক। অনেকটাই অবসরের জীবন এখন। সবার বক্তব্য শুনে এন ফেরার বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই টের পেয়েছি ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হবেন। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ধারার সংবাদমাধ্যম বাজার অর্থনীতির নিয়ন্ত্রকদের দখলে। যারা বিজ্ঞাপন দেয়, যারা পুঁজির সব সূত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের বাইরে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম যে যেতে পারেনি, তা এবারে আবারও প্রমাণ হয়েছে। নিজেকে দীর্ঘদিনের ডেমোক্রেটিক উল্লেখ করে এন ফেরার বলেন, এবারে ভোট প্রদানে তাঁর কোনোই উৎসাহ ছিল না। বার্নি স্যান্ডার্স প্রার্থী হলে কি ডেমোক্র্যাট জয়ী হতে পারতো—এমন প্রশ্নের জবাবে এন ফেরার মাথা নেড়ে বলেন, না। তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্র পুঁজিবাদের দেশ। এই পুঁজিবাদকে লালন করেই গত এক শ বছর সারা বিশ্বকে দাবড়িয়ে আসছে যু​ক্তরাষ্ট্র। ভাবাদর্শের ভিত্তিতে আঘাত দিয়ে বার্নি স্যান্ডার্সের সামাজিক সমাজতন্ত্র যুব তরুণদের মধ্যে একধরনের উন্মাদনা সৃষ্টি করলেও, আমেরিকার সাধারণ নির্বাচনে তাঁর পরাজয় হতো আরও সূচনীয় বলে এন ফেরার মনে করেন।
সব শেষে এন ফেরার বলেন, সংবাদমাধ্যম এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুঁজি করে তাদের বাজার ধরে রাখতে চাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প একা কিছুই করতে পারবেন না। রাজনীতির বাইরের এ মানুষটি কোনো দিন কোন রাজনৈতিক পদ পদবিতেও ছিল না। তাঁর কাছে থেকে আমরা রাজনৈতিক পরিশীল বক্তব্য শুনতে পাইনি এত দিন। মানুষ এসব পছন্দ করেছে। যারা পরিশীল কথা বলেছে এতদিন, তাদের কাছে জনগণ বারবার প্রতারিত হয়েছে। এবারে কিছু মৌল বিষয় নিয়ে আমেরিকার মানুষ অনেকটাই কাকতালীয় ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এর ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে বলে নিজের দৃঢ় বিশ্বাসে কথা জানায় এন ফেরার।
নির্বাচন পরবর্তী ব্যাপক বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে এন ফেরার বলেন, আমেরিকার মানুষ তাদের ক্ষোভের কথা জানাচ্ছে আইনের মধ্যে থেকেই। নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেও​য়া নানা বক্তব্যের এমন প্রতিবাদ অর্থহীন নয়। এ বিক্ষোভের যেমন কারণ আছে, তেমনি এ বিক্ষোভের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বার্তা দেওয়া হচ্ছে। হোয়াইট হাউস, কংগ্রেস এবং বিচার বিভাগের ভারসাম্যের সঙ্গে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের চাপ সামাল দিয়েই ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার নেতৃত্ব দেবেন। এ নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলেই আমেরিকা আরও মহান হয়ে উঠবে বলে মনে করে নিউজার্সির প্রান্তিক শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর এসব লোকজন।

দিল্লিতে জোরালো ভূমিকম্প

ভারতের দিল্লি এবং আশপাশের গুরগাঁও, ফরিদাবাদ, নয়দা ও গাজিয়াবাদ এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রাথমিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে ভূমিকম্পটি জোরালো ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৪ দশমিক ২।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল হরিয়ানা রাজ্যের রেওয়ারি জেলার বাওয়াল এলাকা থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের খবরে জানানো হয়, স্থানীয় সময আজ ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভারতের রাজধানী দিল্লি ও আশপাশের এলাকা। ভূমিকম্প এক মিনিটের মতো স্থায়ীয় হয়।

বুশরার মা কেন ন্যায়বিচার পাবেন না? by কামাল আহমেদ

বিচারপ্রার্থী বুশরার মায়ের আহাজারির
কোনো জবাব কারও কাছে নেই
‘আমার মেয়েটা খুন হয়ে ঘরে পড়ে রইল, মামলা হলো। আমি ১৬ বছর ধরে আদালতে আদালতে ঘুরলাম। জজকোর্ট, হাইকোর্ট সাজা দিলেন। আজ জানলাম, সর্বোচ্চ আদালতে তারা খালাস পেয়েছে। তাহলে বুশরাকে খুন করল কে? আমি কী বলব? বুশরা কি কখনো ছিল? আমার তো মনে হয়, বুশরা নামে কখনো কেউ ছিলই না।’ কথাগুলো রুশদানিয়া ইসলাম বুশরার মা লায়লা ইসলামের। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান বুশরা ২০০০ সালের ১ জুলাই খুন হন। খুনের আগে তিনি ধর্ষণেরও শিকার হয়েছিলেন বলে পুলিশের মামলায় বলা আছে। বিচারপ্রার্থী সন্তানহারা এই মায়ের আহাজারির কোনো জবাব নেই। মেয়ে হত্যার বিচার না পাওয়াই তাঁর আহাজারির কারণ। বিচারিক আদালতে চারজনের সাজা হয়েছিল। হাইকোর্ট বিভাগ দুজনেরটা বহাল রেখে দুজনকে খালাস দেন। আর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সবাইকেই খালাস দিয়েছেন। পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সবাই ছাড়া পেয়েছেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এত দিন যাঁদের দোষী বলে ভাবা হলো, তাঁরা যেহেতু আর দোষী নন, তাহলে অপরাধী কে বা কারা? সেই আসল অপরাধী কি তাহলে এত দিন মুক্ত অবস্থায় আমাদের মধ্যেই চলাফেরা করেছে? এবং এখনো করছে? তাহলে তো বিষয়টি ভয়ংকর। এক বা একাধিক গুরুতর ধর্ষণকারী ও খুনি অবাধে বিচরণ করাকালে গত ১৬ বছরে আরও কটি অপরাধ করেছে বা এখনো করতে পারে, তা আমরা জানি না। আমাদের পুলিশ আসল অপরাধী ধরতে পারেনি এবং বিচারব্যবস্থাও একজন সন্তানহারা মায়ের জন্য ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা করতে পারেনি। এই অবস্থায় মামলাটির কি নতুন করে তদন্ত এবং বিচার হবে? ফৌজদারি অপরাধ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে এর কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তাঁদের সবার ভরসা আপিল বিভাগের রায়ের রিভিউয়ে যদি কিছু হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে কি না, তা পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে বোঝা যাবে। তাঁর মতে, আপিল বিভাগের রায়ের পর এই মামলায় পুনর্বিচার ও পুনঃ তদন্তের কোনো সুযোগ নেই। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের মতেও এই মামলায় পুনরায় তদন্ত বা পুনর্বিচারের সুযোগ নেই। আরেকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, খালাসও বিচারের আওতায়, সাজাও বিচারের আওতায়। তবে এখন রাষ্ট্রপক্ষ এ ব্যাপারে রিভিউ করতে পারে।
ফৌজদারি আইনের বিশেষজ্ঞদের কথায় যেটুকু বোঝা যায়, তাতে বিচারে অপরাধী চিহ্নিত না হওয়াও একটি বিচার এবং সে কারণে বুশরা হত্যা মামলায় নতুন করে তদন্ত বা পুনর্বিচারের কোনো সম্ভাবনা নেই। যদি আপিল বিভাগের বিচারপতিরা তাঁদের রায়ে স্পষ্ট করে পুনঃ তদন্ত ও পুনর্বিচারের আদেশ দেন, তাহলে অবশ্য ভিন্ন কথা। বুশরার মামলার মতো অনেক মামলাতেই নানা কারণে অপরাধী সাজা পান না। সাক্ষীর অভাবে শহীদ ডা. শামসুল আলম মিলন হত্যা মামলায় কোনো অপরাধীর সাজা হয়নি। পুলিশি তদন্তে গাফিলতি, ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত, সাক্ষী হাজির করাতে না পারা, আসামিপক্ষের ভীতিপ্রদর্শনের মতো ঘটনাতেও অনেক গুরুতর অপরাধের বিচার হয় না এবং অপরাধীরা পার পেয়ে যান। তদন্তে ঘাপলা এবং সাক্ষীদের ভয় দেখানোর মতো ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব এবং অপরাধীচক্রের প্রতাপ-প্রতিপত্তির বিষয়গুলোও গুরুতর।
বাংলাদেশে আমরা প্রায়ই শুনে থাকি যে দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলে আসছে। এই বিচারহীনতার অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার করা রাজনীতিকদের খুব প্রিয় একটি অভ্যাস। কিন্তু বিচারহীনতা দূর করার উদ্যোগ ততটা দৃশ্যমান নয়। বিচারহীনতা দূর করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকারে তারতম্য আছে। বিচার পাওয়ার অধিকার সবারই যে সমান, সেটি সব সময় খুব একটা বিবেচনায় আসে না। ফলে বুশরার পরিবার বিচার না পেলেও তা নিয়ে খুব বেশি কেউ মাথা ঘামাবেন বলে মনে হয় না। সে কারণেই আমাদের নীতিনির্ধারকদের বোধ হয় স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন যে বিচারব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে সবার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গুরুতর অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না গেলে পুনরায় তদন্ত এবং পুনর্বিচারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এখন পর্যন্ত বিষয়টি শুধু আদালতের এখতিয়ার বলেই জানা যায়। আদালত নির্দেশ দিলেই পুনর্বিচার সম্ভব। যেমনটি হয়েছে যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মামলায়। তবে সেটি ছিল বিচারিক আদালতের আদেশ। এবং তাতে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্যোগ ছিল। রাষ্ট্রপক্ষ উদ্যোগী হয়ে নতুন সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে বিচারিক আদালতে আবেদন করার কারণেই তার পুনঃ তদন্ত ও পুনর্বিচার সম্ভব হচ্ছে।
বুশরার মামলার ক্ষেত্রে তেমনটি হবে না কেন? এই প্রশ্নের জবাবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে একই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্বিতীয়বার বিচার করা যায় না। আইনের ভাষায় ডাবল জিওপার্ডি নামে পরিচিত নীতির কারণে একই অপরাধের জন্য দুই বা একাধিকবার কাউকে সাজা দেওয়া যায় না অথবা ঝক্কিতে ফেলা যায় না। বুশরার হত্যাকাণ্ডের জন্য যদি অন্য কেউ দায়ী হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর বিচারে তো কোনো বাধা থাকার কথা নয়। সুতরাং, প্রশ্ন হচ্ছে, রাষ্ট্র কেন মামলাটি আবারও তদন্ত করবে না?
ব্রিটেনে ডাবল জিওপার্ডির নীতিমালা অনুসৃত হয়েছে প্রায় আট শ বছর। কিন্তু ২০০৫ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে ওই নীতি বাতিল হয়ে যায়। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের আপিল আদালত বুশরার মতোই এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে আগে একবার খালাস পাওয়া প্রেমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুনঃ তদন্ত এবং পুনর্বিচারের আদেশ দেন। ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে ২২ বছর বয়সী জুলি হগকে তাঁর টিসাইডে বিলিংহামের বাড়িতে বন্ধু বিলি ডানলপ যৌন আক্রমণের পর হত্যা করেন। বিচারের সময় জুরি সদস্যরা একমত হতে না পারায় বিলি ডানলপ ছাড়া পেয়ে যান। কিন্তু পরে বিলির বিরুদ্ধে পুলিশ অকাট্য প্রমাণ পেয়ে গেলে আপিল আদালত বিলিকে খালাস দেওয়ার রায় বাতিল করে পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত দেন। আপিল আদালত তাঁর আদেশে বলেন যে ডিএনএ, নতুন সাক্ষী কিংবা কারও স্বীকারোক্তির কথা জানা গেলে বা প্রকাশ পেলে অতীতের যেকোনো মামলায় পুনঃ তদন্ত এবং নতুন করে বিচারের ব্যবস্থা করা যাবে (ডাবল জিওপার্ডি ল আর্শাড আউট, বিবিসি জানুয়ারি ৩, ২০০৫)।
ডাবল জিওপার্ডি নীতি বাতিল করে ব্রিটেনে আইন সংশোধনের প্রস্তাব প্রথম উত্থাপিত হয় লর্ড ম্যাকফারসন কমিশনের রিপোর্টে। ১৯৯৬ সালে লন্ডনের রাস্তায় একদল বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ তরুণের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ স্কুলছাত্র স্টিফেন লরেন্স নিহত হওয়ার পর তার বাবা-মা যে মামলা করেছিলেন, তাতে অপরাধীরা সবাই ছাড়া পেয়ে গেলে ব্রিটেনজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিষয়টি নিয়ে তখন সরকার একটি বিশেষ কমিশন গঠন করে। সেই ম্যাকফারসন কমিশন ১৯৯৯ সালে ডাবল জিওপার্ডি আইন বিলোপের সুপারিশ করে। ২০০৫ সালের পর সেই স্টিফেন লরেন্স হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া তিনজনের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা হয় এবং তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয় (দ্য টেলিগ্রাফ, ৩ জানুয়ারি ২০১২)।
ব্রিটেনে যেকোনো অপরাধের বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ এবং আদালতে মামলা পরিচালনার কাজটি করে থাকে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস, সংক্ষেপে সিপিএস। কোন কোন ক্ষেত্রে নতুন করে বিচার (রিট্রায়াল) করা যাবে, তার এক নির্দেশিকা সিপিএস তার অধীন আইনকর্তাদের উদ্দেশে প্রকাশ করেছে, যা তাদের ওয়েবসাইটেও পাওয়া যায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, জুরি সদস্যরা একমত হতে ব্যর্থ হওয়া, আপিল আদালতের আদেশ, দুর্নীতির কারণে খালাস পাওয়া এবং গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে নতুন এবং অকাট্য (কমেপেলিং) প্রমাণ হাতে আসার মতো পরিস্থিতিগুলোর কথা বলা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জনস্বার্থের বিবেচনা।
চলতি বছরের মে মাসে অস্ট্রেলিয়াতেও আইন সংশোধন করে নতুন অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেলে পুনর্বিচারের বিধান আনা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল সায়মন করবেল বলেছেন যে আইনে যা ছিল তাতে অপরাধী মামলায় খালাস পাওয়ার পর প্রকাশ্যে অপরাধ স্বীকার করলেও তার পুনর্বিচারের কোনো সুযোগ ছিল না। এটি বড় অবিচার। তাই নতুন সংশোধনীতে খালাস দেওয়া চ্যালেঞ্জ করে আবারও বিচার করা সম্ভব হচ্ছে। (সূত্র: এবিসি নিউজ)। ব্রিটেনের মতো একই ধরনের পরিস্থিতিতে এই পুনর্বিচারের ব্যবস্থা করেছে অস্ট্রেলিয়া।
আগেই বলেছি, বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর কথা বলাটা এখন অনেকটাই ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। রাজনীতিকেরা এ বিষয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই আলামতও নেই। সে ক্ষেত্রে ভরসা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের বিষয়ে তাঁরা এক যুগান্তকারী রায় দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে আশার সঞ্চার করেছেন। বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচার পাওয়া নিশ্চিত করতে ত্রুটিপূর্ণ বিচারের বদলে পুনর্বিচারের নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতাও তাঁদের আছে। আর আছে ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার মেতা কমনওয়েলথভুক্ত দেশের দৃষ্টান্ত।
কামাল আহমেদ: সাংবাদিক।

বিজ্ঞানী ও মুক্তচিন্তার পথিকৃৎ

অজয় রায়
আজ অধ্যাপক ড. অজয় রায়ের ৮০তম জন্মোৎসব করতে যাচ্ছে ‘জন্মদিন উদ্যাপন জাতীয় কমিটি’। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে দিনাজপুর শহরে তাঁর জন্ম। তিনি মহারাজা গিরিজা নাথ হাই ইংলিশ স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন ১৯৫১ সালে। এরপর তিনি সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন প্রথম শ্রেণিতে। অজয় রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি এবং এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন যথাক্রমে ১৯৫৬ ও ১৯৫৭ সালে। ১৯৬২ সালে কুমিল্লার অ্যাডভোকেট শশীভূষণ রায়ের কন্যা শেফালী রায়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৬৩ সালের অক্টোবর মাসে অজয় রায় বিলেতে উচ্চতর অধ্যয়ন ও গবেষণার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক ছাত্র হিসেবে ভর্তি হন ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রি ও কেমিক্যাল ফিজিকস ফ্যাকাল্টিতে। এখানে ‘কঠিনাবস্থায় বিকিরণ রসায়ন’ নিয়ে তিন-চার বছর কাজ করেন। গবেষণাপদ্ধতি হিসেবে ইলেকট্রন স্পিন অনুনাদ বর্ণালিবীক্ষণ ও মাইক্রোতরঙ্গ বর্ণালিবীক্ষণ ব্যবহার করেন। এ জন্য ইংল্যান্ডের লিডস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি ‘ডক্টর অব ফিলোসফি’ ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৬৮ সালের শেষে দেশে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে রিডার হিসেবে পুনরায় যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে ইউনেসকোর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত কঠিনাবস্থার পদার্থবিদ্যা ও ক্রিস্টালোগ্রাফির একটি অগ্রসরমাণ কেন্দ্র স্থাপনে তিনি প্রধান ভূমিকা নিয়েছিলেন। এটি ১০ বছর টিকে ছিল এবং ইউরোপ ও আমেরিকার বেশ কয়েকজন নামকরা বিজ্ঞানীসহ বহু বিদেশি ছাত্র, ফেলো, গবেষক এখানে কাজ করেছেন। অধ্যাপক রায়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণার কথা প্রগ্রেস অব এনএমআর স্পেকট্রোস্কোপিতে উল্লেখিত আছে। অজয় রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অবসর নেন ২০০০ সালে; এরপর তিনি ইউজিসির অধ্যাপক পদে বরিত হন। তবে তিনি সমধিক প্রসিদ্ধ বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন এবং স্বাধীন ও মুক্তচিন্তার জন্য। তিনি বাংলা ত্রৈমাসিক মুক্তান্বেষা ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক। মুক্ত চিন্তক ও যুক্তিবাদী বর্তমান প্রজন্ম উদ্ভাবিত ও প্রতিষ্ঠিত ইন্টারনেট ফোরাম ‘মুক্ত-মনা’র অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। নব্বইয়ের দশকের গোড়াতে এই জনপ্রিয় ওয়েবসাইটটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন তিনি। পরে দায়িত্ব পান তাঁর বড় সন্তান আইটি বিশেষজ্ঞ বায়োটেকনোলজিস্ট ড. অভিজিৎ রায়। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে অভিজিৎকে জঙ্গিবাদী ঘাতকেরা উপর্যুপরি চাপাতির আঘাতে হত্যা করে। অজয় রায় আন্তর্জাতিক যুক্তিবাদী সংগঠন ‘ন্যাশনালিস্ট ইন্টারন্যাশনাল’-এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। ২০১২ সালে তিনি ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন। অধ্যাপক রায় শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সম্প্রীতি মঞ্চের চেয়ারম্যান; সম্প্রীতি মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর সঙ্গে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। অজয় রায় বিদেশের চেয়ে দেশের মাটিতেই গবেষণাকর্মে অধিকতর আগ্রহী ছিলেন। তাই নিজ কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে বস্তুবিজ্ঞান ও কঠিনাবস্থার পদার্থবিদ্যায় উচ্চতর গবেষণা পরিচালনার লক্ষ্যে একটি আধুনিক গবেষণাগার গড়ে তুলেছিলেন।
স্বাধীনতার পর তিনি ১৯৭২-৭৩ কালপর্বে এশিয়াটিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর একাডেমিক গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৫৪; জনপ্রিয় বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, স্থাপত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর শতাধিক প্রবন্ধ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রবন্ধ আছে সাতটি। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে Concepts of Electricity and Magnetism; Concepts of Electricity and Magnetism; The Proto Bengalis: Anthropological and Sociological Analysis; বাঙালির আত্মপরিচয়: একটি পুরাবৃত্তিক ও নৃতাত্ত্বিক আলোচনা; বিজ্ঞান ও দর্শন: জড়ের সন্ধানে; আদি বাঙালি: নৃতাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ; আদি বাঙালি: নৃতাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ; স্বতন্ত্র ভাবনা: মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধির মুক্তি; বিশ্বাস ও বিজ্ঞান; অতিশাব্দিক বিশ্বায়ন ও মৌলিক পদার্থবিদ্যা; রবীন্দ্রনাথ ও উপনিষদ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি থেকে পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষের অন্যতম সম্পাদক ও লেখক। অধ্যাপক রায় বর্তমানে দুটি জার্নালের সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত: জার্নাল অব বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি (বিজ্ঞান), মুক্তান্বেষা—একটি ত্রৈমাসিক সৃষ্টিশীল একাডেমিক পত্রিকা। অধুনালুপ্ত দ্য ফিজিসিস্ট-এর সম্পাদক ছিলেন। অধ্যাপক রায় বাংলাদেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন উল্লেখযোগ্য। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকারের প্ল্যানিং কমিশনের সদস্য নিযুক্ত হন এবং কলকাতায় পূর্ব পাকিস্তানে শিক্ষকদের নিয়ে সংগঠিত ‘বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির’ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ২০০০ সালে পাকিস্তানি মুক্তচিন্তাবিদ ড. ইউনুস শেখ তাঁর বিরুদ্ধে আনীত ব্লাসফেমির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে যখন জেলে অন্তরীণ হয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশের অপেক্ষায় ছিলেন, তখন অজয় রায় ‘ড. ইউনুস শেখ রক্ষা কমিটি’ গঠন করে তাঁর মুক্তির জন্য ঢাকায় সভা, মিছিল, সেমিনারের আয়োজন করেন।
তিনি জেনারেল পারভেজকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়েছিলেন ইউনুস শেখের প্রাণরক্ষার আবেদন জানিয়ে। এ ছাড়া অনুরূপ চিঠি জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছেও পাঠিয়েছিলেন। ফলে ইউনুস শেখের প্রাণ রক্ষা হয়। ড. শেখ ব্যক্তিগতভাবে অধ্যাপক রায়কে চিঠি দিয়ে তাঁর কৃতজ্ঞতা জানান। ২০০১ সালে সাধারণ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দুর্যোগকালে অজয় রায়ের নেতৃত্বে আমরা উৎপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। সে সমেয় গঠিত ‘গণতদন্ত কমিশনেরও অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। অধ্যাপক রায় ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে ঢাকায় একটি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র চালু করেন, যাতে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের পুনরাবৃত্তি না হয়। তিনি বাংলাদেশের যুক্তিবাদী ও দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বরকে পশ্চিমা জগতে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাঁকে নিয়ে বাংলায় ও ইংরেজিতে একাধিক প্রবন্ধও লিখেছেন। হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিসের সভাপতি অজয় রায় আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক আর মুক্তচিন্তার মানুষ। তিনি যুক্তিবাদী, মিষ্টভাষী, সজ্জন আর বিনয়ী। আমরা চাই রাষ্ট্র ও সমাজে ধর্মনিরপেক্ষ ও বিজ্ঞানমনস্ক চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার সংগ্রামে অধ্যাপক রায় আরও অনেক বছর আমাদের মাঝে আলো ছড়াবেন। ‘জয়তু অধ্যাপক রায়।’
রোবায়েত ফেরদৌস: যুগ্ম আহ্বায়ক, ‘অধ্যাপক অজয় রায়ের আশিতম জন্মদিন উদ্যাপন জাতীয় কমিটি’ এবং সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।