Saturday, December 23, 2017

ইয়েমেন: যুদ্ধের ১০০০ দিন

রোমানরা ইয়েমেনকে আরব উপদ্বীপের সবচেয়ে আশীর্বাদপুষ্ট অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করেছিল। কিন্তু গত ১০০০ দিন ধরে এক সহিংস গৃহযুদ্ধের শিকার হয়ে এখন প্রায় সবচেয়ে অভিশপ্ত অঞ্চলগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে দেশটি।  হাসপাতালে খুব সাধারণ রোগেরও চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে হাজারো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জনশূন্য হয়ে পড়েছে বহু এলাকা। এক সময়কার বিশাল উঁচু ভবনগুলো এখন শুধুই ধুলো আর ইট-পাথরের ভাঙা টুকরো হয়ে পড়ে আছে। ২০১৫ সালের ২১শে মার্চ থেকে স্থানীয় হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধে নামে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট।
এরপর থেকে সেই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি ঘটেছে ১০ হাজারের বেশি মানুষের। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ। এই বছরের ডিসেম্বরে মাত্র ১১ দিনে প্রাণ হারিয়েছে ১৩৬ জন। সৌদি-জোট দেশটির উত্তরাংশে অবস্থিত বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে রেখেছে। বিশাল এলাকাজুড়ে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দুর্ভিক্ষের শিকার হয়ে মৃত্যুর হুমকিতে রয়েছে লাখ লাখ মানুষ।
ইয়েমেনের সাদা শহরের বাসিন্দা হিশাম আবদুল্লাহ। ২৭ বছর বয়সী আবদুল্লাহ দুই সন্তানের পিতা। তিনি বলেন, সাদা প্রদেশে প্রবেশ করার পর আপনাকে সবার আগে দুটি জিনিস স্বাগতম জানাবে- মৃত্যু আর ধ্বংস। সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী এই দরিদ্র প্রদেশটি বোমার আঘাতে ছারখার হয়ে গেছে। আবদুল্লাহ বলেন, আপনি বাসায় ঘুমিয়ে থাকতে পারেন, দোকানে যেতে পারেন, আপনার সন্তানদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে পারেন- যেকোনো মুহূর্তে একটি সৌদি বিমান হামলা করে আপনাকে মেরে ফেলতে পারে। অবস্থা এমন যে, একটা কুকুরও রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারে না। এক সময় সাদায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার। শহরটির হুতি ঘাঁটি ধ্বংস করতে এখানে সৌদি-জোট ২ হাজার ৯৯৬টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। এক সময়কার জনাকীর্ণ সাদা শহর পরিণত হয়েছে একটি ভূতুড়ে শহরে। আবদুল্লাহ বলেন, এখান থেকে চলে না যাওয়ার জন্য অনেকে আমাদের পাগল বলে। কিন্তু আমরা আর কিইবা করতে পারতাম? কোথায় যেতাম? তিনি বলেন, আমরা আজকাল দেখছি যে সিরীয়রা শরণার্থী শিবিরে গিয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। আমরা এ শহর ছেড়ে চলে গেলে আমাদের অবস্থাও এমনই হবে। 
১০০০ দিন ধরে আরব উপদ্বীপের সবচেয়ে দরিদ্র দেশটি শিকার হয়েছে একটি আঞ্চলিক ‘প্রক্সি যুদ্ধের’। অভিযোগ রয়েছে হুতিদের পেছনে ইরানের সমর্থন রয়েছে। আর ইরান, সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় হুতিদের ওপর আরো চড়াও হয়েছে সৌদি-জোট। এই দুই শক্তির মধ্যকার লড়াইয়ে অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছে ইয়েমেন। লাখ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া ও ধ্বংসের পাশাপাশি শিশুসহ প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ভুগছেন বিশুদ্ধ পানির অভাবে। রাজধানী সানা-ভিত্তিক এক ফটোগ্রাফার সাইফ আল-অলিবি বলেন, সন্তানদের খাবার জোগাড় করতে মানুষ নিজের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিক্রি করে দিচ্ছে। আমি নিজেও কোনো কাজ খুঁজে পাচ্ছি না। আমার পরিবারের আর কেউও কোনো অর্থ উপার্জন করতে পারছে না। সৌদি জোটের অবরোধ ইতিমধ্যে বিদ্যমান খারাপ পরিস্থিতি আরো খারাপ করে তুলেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খাদ্য ও জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। আর এসবের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে দরিদ্ররা। আয়হাম আলঘোপারি নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, ময়দার দাম নভেম্বর থেকে দ্বিগুণ হয়েছে। খোলা বাজারে আর জ্বালানি কিনতে পাওয়া যায় না। এর দামও দ্বিগুণ হয়েছে। আগে একটি ছোট গাড়ি সম্পূর্ণরূপে ভরতে লাগতো ১৬ ডলার। এখন লাগে ৩৫ ডলার।
গৃহযুদ্ধের আগে ইয়েমেন, দেশের ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় গমের ৯০ শতাংশ ও সবটুকু চাল বাইরে থেকে আমদানি করতো। আমদানিকৃত পণ্যের ৭০ শতাংশই বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল দিয়ে আসতো। কিন্তু এই প্রাণঘাতী যুদ্ধে আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই মুহূর্তে দেশের লাখ লাখ মানুষ জানে না, তারা আবার কখন খেতে পারবে। সৌদি আরব নভেম্বরে ইয়েমেনের ওপর অবরোধ জারি করে। বন্ধ করে দেয়া হয় জলপথ, আকাশপথ ও সমুদ্রপথের সকল বন্দর। হুতি বিদ্রোহীরা রিয়াদের উদ্দেশে একটা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরই এ অবরোধ আসে। তিন সপ্তাহ পরে বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার অনুরোধে অবরোধ কিছুটা শিথিল করা হয়। কিন্তু হোদেইদাহ দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করে রাখা হয়। প্রসঙ্গত, হোদেইদাহ হচ্ছে লোহিত সাগরের একটি বন্দর শহর। এটি হুতিদের একটি প্রধান ঘাঁটি। ২৫ বছর বয়সী সানা নিবাসী লুতফ আলসানানি বলেন, আমি বিদ্যুৎ ছাড়াই বাঁচতে শিখছি। আমাদের এখানে পরিষ্কার পানি, গ্যাস, রান্নার তেলের ঘাটতি। এক বছর ধরে আমি কোনো বেতন পাইনি। তিনি বলেন ১০০০ দিনে, ইয়েমেন রক্ত আর বোমার ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। এটা হচ্ছে পৃথিবীতে অবস্থিত জাহান্নাম।

১২৫০০ টাকা বেতন দাবিতে আমরণ অনশনে প্রাথমিকের শিক্ষকরা

প্রধান শিক্ষকের এক ধাপ নিচে ১১তম গ্রেডে অর্থাৎ মাসে সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতন দাবিতে (মূল বেতন) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশনে নেমেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজারো সহকারী শিক্ষক।

শনিবার সকাল ১০টায় ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের’ উদ্যাগে এই অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। 

এতে মহাজোটের অধীনে থাকা ১০টি সংগঠনের শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শিক্ষক এসেছেন এক দফা দাবি আদায়ের এ কর্মসূচিতে। 

অনশনকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, আগের বেতন স্কেলগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পেতেন। কিন্তু ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ব্যবধান তিন ধাপ। এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে (মূল বেতন ১০ হাজার ২০০টাকা) বেতন পাচ্ছেন। 

আর প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১০তম গ্রেডে (মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা)। সহকারী শিক্ষকরা এই বৈষম্য নিরসনে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিতে ১১তম গ্রেডে (১২ হাজার ৫০০) বেতন চান।

অনশন কর্মসূচিতে সহকারী শিক্ষক সমাজ, সহকারী শিক্ষক সমিতি, সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন, সহকারী শিক্ষক সমাজ-২, সরকারি সহকারী শিক্ষক সমিতি, সহকারি শিক্ষক সমাজ-৩, সহকারী শিক্ষক সমিতি-২, সহকারী শিক্ষক ফোরাম, সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। 

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক অনলাইন সমিতির সভাপতি কাজী আবু নাসের আজাদ বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, আর কোনো উপায় নেই। সরকার যদি বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে আমাদের আর কিছু করার থাকবে না। তাই নিরুপায় হয়ে অনশনের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চালের দাম বাড়ায় নতুন করে দরিদ্র ৫ লাখ


সাম্প্রতিক সময়ে চালের দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় বাংলাদেশে নতুন করে ৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়েছেন বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। 
সংস্থাটি বলেছে, এতে করে দারিদ্র্যের হার শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়েছে।

শনিবার ত্রৈমাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা তুলে ধরে সানেম। এটি হলো দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের একটি ফোরাম। 

রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংস্থাটি এসব তথ্য তুলে ধরে। 
সানেমের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় বলা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে যে পরিমাণ চাল আমদানি হয়েছে, তা গত অর্থবছরের পুরো আমদানির প্রায় পাঁচগুণ।

আগামীতে চাল উৎপাদন, আমদানি ও সরবরাহ ঠিক রাখতে একটি কার্যকর চাল নীতিরও প্রস্তাব করছে ওই প্রতিষ্ঠানটি। এক সুপারিশে বলা হয়, চাল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত চুক্তি করা দরকার। 
ব্যাংকিং খাতে কেলেঙ্কারি এবং খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশেরও কথা জানানো হয় প্রতিবেদনটিতে।

গবেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিনিয়োগ নিয়েও।তারা আরো জানিয়েছেন, বর্তমানে সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও ব্যক্তি বিনিয়োগ ততটা বাড়ছে না।

মমতাময়ী এক শিক্ষিকার গল্প by আশরাফুল ইসলাম

ঘটনাটি গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পাঁচধা গ্রামের রাস্তায় স্কুটির শব্দে চমকিত হন গ্রামবাসী। রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে তারা দেখেন, স্কুটিটি চালাচ্ছেন সালোয়ার-কামিজ পরা কমবয়সী এক নারী। যে গ্রামের রাস্তায় কোন নারীকে এর আগে কেউ বাইসাইকেল চালাতে দেখেননি, সেখানে একজন নারীকে স্কুটি চালাতে দেখে কৌতূহলী গ্রামবাসীর চমক যেন ভাঙে না। স্কুটিটি যখন গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের সামনে গিয়ে থামে, তখন চারপাশে বেশ বড়সড় একটি জটলা লেগে যায়। দেখেন স্কুটিটির চালক বিদ্যালয়েরই এক শিক্ষিকা।
শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। একেবারেই এমন অচেনা দৃশ্য দেখে এক কান-দুই কান হয়ে মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে। শুরু হয় চারদিকে ফিসফাস। কিন্তু সেই ফিসফাস, আলোচনা-সমালোচনা কিছুক্ষণ পরেই থেমে যায়। কেননা, মাত্র নয় মাস আগে বিদ্যালয়টিতে যোগ দেয়া এই তরুণী শিক্ষিকা যে খুব কম সময়েই এলাকার মানুষের হৃদয়ে নিজ কর্মগুণে জায়গা করে নিয়েছেন। অনাদরে-অবহেলায় বেড়ে ওঠা প্রত্যন্ত এই গ্রামের শিশুদের কাছে হয়ে ওঠেছেন মমতার মূর্ত প্রতীক। আদর, যত্ন আর ভালবাসায় তাদের ভরিয়ে দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রতি ধারণাটাই বদলে দিয়েছেন শিশুদের। হাসি-আনন্দে মশগুল শিশুরা তার কাছে নিচ্ছে মানুষ হওয়ার দীক্ষা। শুধু কী তাই! পরিবারের একজনের মতো কেটে দিচ্ছেন শিশুদের হাতের নখ, সেলাই করে দিচ্ছেন জামার ছিঁড়ে যাওয়া বোতাম, ছেঁড়া জামা। পাঠভ্যাসের পাশাপাশি বদলে দিচ্ছেন শিশুদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রাও। শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সব দিকেই যে মায়ের মতো মমতা আর স্নেহ বিলাচ্ছেন তিনি। পাঁচধার নিভৃত পল্লীজুড়ে কেবল তার মমতারই ছায়া। আর এই মমতার চাদরেই চাপা পড়ে যায় গ্রামের সেইসব আলোচনা-সমালোচনা। এরপর থেকে সকল প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করে নিয়মিত স্কুটি চালিয়েই স্কুলে যাতায়াত করছেন তিনি। শিশু শিক্ষার্থীরাও প্রতীক্ষায় থাকে স্কুটির শব্দের। স্কুটির শব্দ শুনেই তারা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। জেনে যায়, তাদের প্রিয় দিদিমণি স্কুলে এসে গেছেন। স্কুটি চালিয়ে তার এই বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জাগরণ। আপনা মাঝে শক্তি ধরে নিজেকে জয় করা এই মানুষটির নাম শান্তা ইসলাম। তিনি পাঁচধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কাটাবাড়িয়া গ্রামে। বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। মা জেবুন্নেচ্ছা বেবী একজন গৃহিণী। দুই বোনের মধ্যে বড় শান্তা। ছোট বোনের নাম শুকরানা ইসলাম। দুই বোনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। শান্তা ইসলাম জানান, ‘পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে আদর্শ মানতেন বাবা মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলতেন, ‘শিক্ষকতার চেয়ে সম্মানের চাকরি আর কোনটি নেই। আমি যদি আরেকটু পড়াশুনা করতে পারতাম, তাহলে শিক্ষক হতাম।’ বাবা তার জীবনে যা করতে পারেননি, যা পাননি সে জিনিসগুলো আমাদের দিয়ে পূরণ করার স্বপ্ন বুনেছিলেন। বাবার স্বপ্নের মাঝেই আমরা সব সময় নিজের স্বপ্নকে খুঁজেছি। বাবার উৎসাহেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে আবেদন করা, বাবার গাইডলাইনে প্রস্ততি গ্রহণ এবং কয়েকবার চেষ্টার পর সফল হওয়া। ২০১৬ সালের ২৭শে জানুয়ারি পাঁচধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (প্রাক-প্রাথমিক) হিসেবে যোগদান করি। তাই শিক্ষকতা মতো একটি দায়িত্বশীল পেশায় থেকে মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।’ ২০১৬ সালের ২৭শে জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর প্রত্যন্ত এলাকার এই কর্মস্থলটিতে দুর্গম যোগাযোগের কারণে বিড়ম্বনার শেষ ছিল না শান্তার। এই যোগাযোগ বিড়ম্বনাই মনের ভেতরের স্বপ্নটাকে উসকে দেয় তার। ছোট্টবেলার সাইকেল চালানোর অভ্যাসকে কাজে লাগিয়ে স্কুটি কেনার কথা ভাবেন শান্তা। কিন্তু পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে খুব সহজে তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাও সম্ভব ছিল না। শান্তা জানান, ‘পুতুল নিয়ে খেলার বয়স থেকেই সাইকেলের প্রতি আমার প্রবল আকর্ষণ ছিল। আমার ছোট বোনটি যখন ঘরের কোণে পুতুল নিয়ে খেলত, তখন আমি সাইকেল চালানো শিখতে গিয়ে হাত-পায়ে ব্যথা নিয়ে ঘরে ফিরতাম। বাবার উৎসাহে পাঁচ বছর বয়সেই সাইকেল চালনায় পারদর্শী হয়ে ওঠি। আমাদের এলাকায় আমিই প্রথম মেয়ে যে সাইকেলে চড়ে প্রাইমারি স্কুলে যেতাম। এরপর মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক উভয়টিতেই সাইকেলে চড়ে শহরের স্কুল-কলেজে পড়াশুনা করি। তখনও শহরের কোন মেয়েকে দেখিনি সাইকেলে চড়ে স্কুলে বা কলেজে যেতে। বাবা বলতেন, ‘তোমাকে একদিন বাইক কিনে দিব।’ শুনে কি যে আনন্দ হতো! কিন্তু অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি বাবার পক্ষে। পরে সৃষ্টিকর্তায় অসীম কৃপায় আমি যখন চাকরিতে যোগদান করি তখন পণ করি যে, এবার আমি নিজের টাকায়ই বাইক কিনব। প্রতি মাসে সাংসারিক খরচের পর যে টাকা থাকত, সেটা জমাতে শুরু করি। সাত মাসের ব্যবধানে স্বপ্নের স্কুটিটি কিনতে সমর্থ হই। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে স্কুটিতে চড়ে স্কুলে যাওয়া শুরু করি। যেটি দেখে বিস্মিত হয় সবাই! অনেকে বাহবা দেয়, অনেকে পিছে মন্দ বলে। আমাদের সমাজে মন্দ বলার লোকের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু আমি পজেটিভলি নেই সবই। কারণ আমি চাই আমাকে দেখে উৎসাহিত হোক আরও মেয়েরা।’ প্রতিদিন স্কুটি চালিয়ে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে এখন নিয়মিত বিদ্যালয় করছেন শান্তা। পাঁচধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর মাত্র দুই বছরেরও কম সময়ের শিক্ষকতা জীবন তার। কিন্তু এই অল্প সময়েই শিক্ষকসমাজের আদর্শ হয়ে ওঠেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে শান্তা ইসলাম জানান, ‘শিক্ষকতায় যোগদানের পূর্বে আমার ভাল লাগা, ভাল থাকাগুলো স্বার্থপর ছিল। এই কচি কচি অসচ্ছল পরিবারের মুখগুলো আমাকে আমার ভাললাগা, ভাল থাকায় প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার দায়বদ্ধতায় আমি জড়িয়ে পড়েছি। আমার আনন্দগুলো ওদের আনন্দে মিশে গেছে। ওদের খুশি রাখতে পারলে আমার খুশি লাগে, ওদের ছোট একটা আবদার পূরণ করতে পারলে আমি ধন্য হই। এই শিশুদের খুশি রাখাটাই এখন আমার জীবনের ব্রত হয়ে গেছে। ওদের যেন প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য অর্জিত হয়, ওরা যেন কিছু ভাল অভ্যেস গড়ে তুলে যেমন সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, পরিষ্কার পোশাক পরে স্কুলে আসা, জুতো পরে থাকার অভ্যেস, নিয়মিত নখ কাটা, হাত ধোয়া, চুল ছাটা, দাঁত মাজা, গোসল করা, চুলে তেল দেয়া, কারো পোশাক ছিঁড়ে গেলে, বোতাম ছিঁড়ে গেলে ওসব ঠিক করে দেয়া যেগুলো সাধারণত পরিবারে বাবা-মার দেখার কথা এই সব বিষয়গুলোর প্রতিই দৃষ্টি দিতে হয় আমাকে। কারণ এই স্কুল, এই শিশুদের, এই জীবনটাকে খুব ভালবেসে ফেলেছি বোধ হয়! শিশুদের নিয়ে বাগান করা, শ্রেণিকক্ষ, বিদ্যালয়ের আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার কাজগুলো নিজ দায়িত্বেই করে থাকি। প্রতিটি কাজেই মনে হয়, এটা যদি আমি না করি তাহলে কে করবে? আমি কাজটা না করে রেখে দিলে পরে যদি অন্য কেউ না করে!’ কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মো. আক্তার জামীল বলেন, শক্তি, সাহস আর উদ্যম নিয়ে নারীরা আজ ঠিকই সাফল্যের পতাকা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক বন্ধুর পথ অতিক্রম করে আমাদের দেশের নারীরা নিজেদের সাফল্যের গল্প রচনা করছেন। আমাদের শান্তা ইসলামও সেরকম একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। শান্তা ইসলামকে দেখে অন্যরাও অনুপ্রাণিত ও দায়িত্বশীল হবেন বলেই আমরা প্রত্যাশা করি।

২০১৮ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কি আদৌ শুরু হবে? by নাজমুস সাদাত পারভেজ

নভেম্বরের ২৩ তারিখে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যকার স্বাক্ষরিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির ফলে কিছু ইতিবাচক প্রত্যাশা যেমন তৈরি হয়েছে, ঠিক তেমনি তৈরি হয়েছে কিছু নেতিবাচক আশঙ্কাও। চুক্তিতে শিগগির রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, অদূর ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা যদি সেখানে ফিরে যেতে চায়, তবে সবার আগে তাদের প্রয়োজন হবে একটি বাসযোগ্য পরিস্থিতির নিশ্চয়তা। নৃশংসতার জেরে পালিয়ে বাংলাদেশে যাওয়া এসব রোহিঙ্গার মাতৃভূমি মিয়ানমার। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা সেখানেই বসবাস করেছে।
নিতান্ত বাধ্য না হলে তারা কেন বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে দিনাতিপাত করতে চাইবে? একটি দেশের আশ্রিত জনগোষ্ঠী হিসেবে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে নিজেদের এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য খুব বেশি কিছু আশা করতে পারে না। অন্তত পূর্ণ নাগরিক সুবিধা তো না-ই। রোহিঙ্গারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ইতিবাচক পরিবেশ পেলে মিয়ানমারেই ফিরে যেতে চাইবে। তবে এই ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করার জন্যে পরিবর্তন হওয়া লাগবে অনেক কিছুরই।
প্রথমত, সবার আগে তাদের শারীরিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, রোহিঙ্গারা এখন একটি চরম ভীত-সন্ত্রস্ত জনগোষ্ঠী। তাদের অনেকেই যে পরিমাণ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অথবা তা প্রত্যক্ষ করেছেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পেলে তারা খুব সহজে মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাইবেন না। আর এই নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে মিয়ানমারের সরকারের অবস্থান বড় একটি ফাঁক তৈরি করেছে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর যে সীমাহীন বর্বরতা হয়েছে, তা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় স্বীকৃত। এই নৃশংসতাকে জাতি নিধনের সপষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কিংবা সাহায্যকারী সংস্থাগুলো রীতিমতো সমালোচনায় ধুয়ে ফেলছে মিয়ানমারকে। সে দেশের নেত্রী অং সান সুচির আন্তর্জাতিক কিছু পুরস্কারও প্রত্যাহার করা হয়েছে। মোট কথা, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যে কি পরিমাণ অনাচার আর অন্যায় করা হয়েছে, তা সারা বিশ্বই জানে। তারপরও, মিয়ানমারের সরকার ও সেনাবাহিনী এক অভূতপূর্ব কাণ্ড ঘটিয়ে বসেছে। তারা দাবি করেছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কোনো ধরনের নৃশংসতা ঘটেনি! সেখানে নাকি সাধারণ রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে একটি গুলিও ছোড়া হয়নি! যেখানে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় এবং সংবাদ সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যা, গণধর্ষণ, নির্যাতন ও সহিংসতাকে ‘মানবতার লঙ্ঘন’ বলে প্রতিনিয়ত নিন্দা জানিয়ে আসছে, সেখানে মিয়ানমারের সরকার, সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করছে- কোনো সহিংসতাই হয়নি! উল্লেখ্য, ওই সহিংসতায় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ছিল স্থানীয় উগ্রপন্থী বৌদ্ধরাও। তবে তাদের বিরুদ্ধে কিন্তু কোনো অভিযোগ নেই! কারণ, তারা সেনাবাহিনীর মদতপুষ্ট। যেখানে মিয়ানমারের সরকার পুরো নৃশংসতার বিষয়টি অস্বীকার করছে, সেখানে রোহিঙ্গারা ফিরে গেলে তাদের ওপর আবার অত্যাচার করা হবে না- এমন নিশ্চয়তার আশা তারা নিশ্চয়ই করতে পারে না! এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে রোহিঙ্গারা কি আদৌ মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাইবে?
দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারে ফিরে গেলে সেখানে জীবনধারণের যাবতীয় সুবিধাপ্রাপ্তির সুযোগ দিতে হবে রোহিঙ্গাদের। স্বাক্ষরিত প্রত্যাবাসন চুক্তিমতে, রোহিঙ্গাদের তাদের আবাসস্থলে ফিরে যেতে দেওয়া হবে। এখন, যদি সত্যিই তাদের জমিজমা ফিরিয়ে দেয়া হয়, তবে মৌলিকভাবেই তাদের অবাধ চলাফেরার স্বাধীনতার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। জীবনধারণের জন্যে তাদের চাষাবাস এবং ব্যবসা বাণিজ্যে অংশ নিতে হবে। এ জন্যে সবার আগে তাদের শারীরিক নিরাপত্তা পুনঃনিশ্চিত করতে হবে। ২০১৬-১৭ সালে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার পরে জারি করা কারফিউ তুলে নিতে হবে। খেয়াল রাখা উচিত, রাখাইনে বসবাসকারী সমপ্রদায়সমূহ পরসপরের ওপর নির্ভরশীল। সেখানের বৌদ্ধ ব্যবসায়ীরা রোহিঙ্গা কৃষক এবং জেলেদের কাছ থেকে ফসলাদি কেনে। তাই স্থানীয় অর্থনীতি অনেকটাই রোহিঙ্গা মুসলিমদের শ্রমনির্ভর। সেখানে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে জাতিবিদ্বেষের মতো যে ঘটনাটি ঘটে গেছে, তার ফলে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে অন্য সমপ্রদায়ের তৈরি হওয়া দূরত্ব, অবিশ্বাস এবং সন্দেহ খুব সহজে দূর হবে না। এর অর্থনৈতিক প্রভাবও থাকবে। সুতরাং, ফিরে গেলেই কিন্তু পূর্বেকার জীবন ফিরে পাবে না রোহিঙ্গারা। তাদের একটি নতুন এবং ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
তৃতীয়ত, মিয়ানমারে ফিরে গেলে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা প্রয়োজন হবে রোহিঙ্গাদের। খেয়াল রাখতে হবে, সেখানে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) মতো একটি উগ্রপন্থী সংগঠন কিন্তু এমনিতেই গড়ে ওঠেনি। বছরের পর বছর ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর চলতে থাকা নির্যাতন ও প্রান্তিকীকরণের পরিপ্রেক্ষিতে যে হতাশা এবং ক্ষোভ তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে, আরসা তারই ফসল। হতাশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে খুব সহজেই কিছু রোহিঙ্গা আরসার মতো উগ্রপন্থী সংগঠনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে, যদি মিয়ানমারে সার্বিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হয়, তবে রোহিঙ্গারা পূর্বের মতো হতাশাগ্রস্ত পরিবেশে মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাইবে না।
প্রয়োজন অর্থবহ অগ্রগতি
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে হলে প্রয়োজন অর্থবহ অগ্রগতি। এ প্রসঙ্গে প্রয়োজনীয় করণীয় উল্লেখ করে একটি নির্দেশনাও দিয়েছে জাতিসংঘের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল কফি আনানের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা কমিশন। যদিও মিয়ানমারের সরকার ওই নির্দেশনাসমূহ গ্রহণ করেছে, তবে তা দ্রুতগতিতে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আনান কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্যে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে একটি বাস্তবায়ন কমিটি যদিও গঠন করা হয়েছে; ঐ কমিটি নির্দেশনা বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রায়োগিক দিকে নজর না দিয়ে কূটনৈতিক কৌশলের দিকেই বেশি মনোযোগী বলে পরিলক্ষিত হচ্ছে। অথচ এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করাটা প্রয়োজন। পাশাপাশি, মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার বিশ্বাসযোগ্য ও সুসপষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে। থামাতে হবে রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকারী উগ্র বৌদ্ধ সমপ্রদায়গুলোকে। এছাড়াও, শুধুমাত্র উত্তর রাখাইনে নিযুক্ত প্যারামিলিটারি সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে অপসারণ করে এর জায়গায় একটি নতুন বাহিনী নিযুক্ত করাও উচিত হবে। কারণ, পূর্বেকার বাহিনী রাখাইনে সংঘটিত সহিংসতায় খুব ভালোভাবেই জড়িত ছিল। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী থেকে নতুন সীমান্তরক্ষী নিয়োগ করা যেতে পারে। এতে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনী এবং রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন সহজ হবে। সেইসঙ্গে মিয়ানমারে বর্তমানে বসবাসরত ও ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত-যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। এটা করতে হলে সরকারের বর্তমান দুই ধাপের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে। উল্লেখ্য, ওই প্রক্রিয়ার আওতায় রোহিঙ্গাদের প্রথমে জাতীয় প্রমাণপত্রের জন্য আবেদন করতে হয়। অধিকাংশ রোহিঙ্গা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকত্ব পাওয়ার শঙ্কায় ওই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়াতেই অনিহা বোধ করে। কিছু রোহিঙ্গা অবশ্য ওই প্রক্রিয়ায় আবেদন করে দ্বিতীয় সারির নাগরিকত্ব পেয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, ১৯৮২ সালে মিয়ানমারের প্রণীত এবং বর্তমানে বহাল নাগরিক আইন অনুযায়ীও, অধিকাংশ রোহিঙ্গা পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবার যোগ্য। দ্বিতীয় সারির নাগরিকত্ব পাওয়া রোহিঙ্গারাও যে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের চেয়ে খুব একটা ভালো আছে, তাও কিন্তু বলা যাবে না। তাদেরকে নিরাপত্তার নামে স্থাপন করা ক্যামপগুলোতে কার্যত বন্দিই করে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের শহরের ভেতরে বা বাইরে যেতে দেয়া হয় না। এ ধরনের প্রবল বৈষম্যকর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাফেরার স্বাধীনতা দিতে হবে। দিতে হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য নাগরিক সেবা পাওয়ার সুবিধা। নিশ্চিত করতে হবে চাকরি খাতে তাদের বিনা বৈষম্যে অংশগ্রহণের সুযোগ।
তবে দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সংস্কারমূলক ব্যবস্থা নেয়া অনেকটাই অসম্ভব। কারণ এ ধরনের উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে রাখাইনের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর; বিশেষ করে বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের। এছাড়াও, সরকারি সংস্থাগুলোতেও এ ব্যাপারে খুব ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা যায় না। তাই, পরিশেষে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সুচি এবং তার সরকার যদি সত্যিকার অর্থেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আগ্রহী হয়েও থাকেন, রোহিঙ্গাদের সফল প্রত্যবাসন কর্মসূচি সফল করতে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ কিন্তু দৃশ্যমান হয়নি।
(নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ অবলম্বনে)

ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণা প্রত্যাখ্যান- প্রস্তাবের পক্ষে ১২৮, বিপক্ষে ৯ ভোট, বিরত ৩৫ দেশ

বেশ কড়া ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিয়ে দিলো বিশ্ব। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির নিন্দা জানিয়ে উত্থাপিত প্রস্তাব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে। এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলে মার্কিন অর্থ-সহায়তা বাতিল করা হবে মর্মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে অগ্রাহ্য করেছে দুনিয়া। মোট ১২৮টি দেশ নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে  ভোট দিয়েছে। ৯টি বিপক্ষে দিয়েছে। ৩৫টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।
এই প্রস্তাবে দাবি জানানো হয়েছে যে, ৬ই ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যে স্বীকৃতি দিয়েছিল, সেটি প্রত্যাহার করা হোক। উল্লেখ্য, প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ, উত্তর কোরিয়া, মিশর,  ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বৃটেন। অন্যদিকে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়া  ৯টি দেশ হলো-গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ইসরাইল, মার্শাল আইল্যান্ড, মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, পালাউ, টোগো, যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থাকা দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মেক্সিকো, ফিলিপাইন। 
এই প্রস্তাবটি আইনত বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু প্রতীকী হলেও, জেরুজালেম ইস্যুতে বিশ্বের সামগ্রিক অবস্থানের প্রতিফলন এই ফলাফল। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণীতে বলা হয়েছে, জেরুজালেম নিয়ে ৫০ বছর ধরে যে আন্তর্জাতিক ঐক্যমত্য রয়েছে, তা অগ্রাহ্য করে ট্রাম্প প্রশাসন এই পবিত্র শহরকে ইসরাইলের রাজধানী বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কতটা ক্ষুদ্ধ হয়েছে এবং তা কীভাবে আমেরিকাকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে, সেটিই এই ভোটাভুটিতে ফুটে উঠেছে। বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কিছু মিত্ররাষ্ট্র এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো মার্কিন মিত্ররা ভোটদানে বিরত ছিল।
জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প তার সমর্থকদের একটি অংশকে খুশি করেছেন বটে। কিন্তু, এটি ছিল দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির ব্যত্যয়। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর ইসরাইল জেরুজালেম পুরোটা দখলে নেয়। এরপর থেকে নিরাপত্তা পরিষদে বহু প্রস্তাব পাস হয়েছে, যাতে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, জেরুজালেমের মর্যাদা অমীমাংসিত। এই শহরের ওপর ইসরাইলের স্বার্বভৌমত্বের দাবি বৈধ নয়। এ শহরের কিছু ইস্যু ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে চূড়ান্ত করতে হবে।
ইসরাইল বৃহস্পতিবারের ওই ভোটাভুটির নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালে বলেছেন, এই ভোটের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, জাতিসংঘে হওয়া কোনো ভোটাভুটিই জেরুজালেমে আমেরিকার দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে না। যেসব সদস্য রাষ্ট্র এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করে মার্কিন দূত বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এই দিনটি মনে রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রকে সাধারণ পরিষদে একঘরে করা হয়েছে শুধুমাত্র স্বার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে তার অধিকার প্রয়োগ করার অপরাধে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই দিনটি মনে রাখবো, যখন জাতিসংঘে বিশ্বের সর্বোচ্চ পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য আমাদের প্রতি আহ্বান জানানো হবে। আমরা এই দিনটির কথা মনে রাখবো যখন, অনেক দেশ আমাদের কাছে আসবে, যেমনটা তারা প্রায়ই আসে, যাতে আমরা আরও অর্থ দেই তাদেরকে এবং আমাদের প্রভাব খাটিয়ে তাদের উপকার হয়।’ অন্যকথায়, যারা ট্রামেপর ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান বা বাতিল ঘোষণার ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবে তাদের আর্থিক সহায়তা বন্ধ বা কর্তন করা হবে। কিন্তু এমন নগ্ন হুমকির পরও জাতিসংঘকে, বিশ্ববিবেককে থামাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এখন দেখার বিষয় ট্রামপ প্রশাসন যে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন তাতে কোনো কোনো দেশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারতো বা হবে। এখানে উল্লেখ্য, এ ঘোষণায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারতো ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউএসএইড’র মতে, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৩১০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা পেয়েছে ইসরাইল। ২০০১ থেকে আফগানিস্তানে ও ২০০৩ সাল থেকে ইরাকে সামরিক অভিযানে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র। শুধু এ দু’টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অধিক পরিমাণ আর্থিক সহায়তা পায়। চতুর্থ সর্ববৃহৎ সামরিক সহায়তা পায় যারা তাদের বিষয়টি আরো স্পর্শকাতর। সেই দেশটি হলো মিশর। তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং প্রোগ্রাম থেকে ১১০ কোটি ডলার সহায়তা পায়। এই মিশরই কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জেরুজালেম ঘোষণা বাতিল দাবিতে জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। সেই প্রস্তাবই অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ। ট্রামপ প্রশাসন আর্থিক সহায়তা কর্তনের যে হুমকি দিয়েছে তা যদি সত্যি বাস্তবায়িত হয় তাহলে এক্ষেত্রে মিশরকে বড় একটি ধাক্কা খেতে হবে। সামপ্রতিক বছরগুলোতে মিশরের পুরো সামরিক বাজেটের প্রায় ২০ থেকে ২৫ ভাগের তহবিল আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এ তথ্য দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্ট্র্যাজেজিক স্টাডিজ। অন্য কোনো দেশ মিশরকে এর ধারেকাছেও সামরিক সহায়তা দেয় না। এছাড়া সামরিক সহায়তা পায় পাকিস্তান। তাও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার অংক প্রায় ৫০ কোটি ডলার। জর্ডান পায় প্রায় ১০০ কোটি ডলার। কেনিয়া পায় প্রায় ৭০ কোটি ডলার। ইথিওপিয়া পায় প্রায় ৭০ কোটি ডলার। সিরিয়া পায় প্রায় ৭০ কোটি ডলার। দক্ষিণ সুদান পায় প্রায় ৮০ কোটি ডলার।
তবে হোয়াইট হাউজ খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দেশকে চাপে ফেলার চেষ্টা করলেও, কূটনীতিকরা তাতে এতটুকু টলেননি। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ মালকি বলেন, ‘ইতিহাস নাম লিখে রাখে, নাম মনে রাখে। তাদের নাম ইতিহাস মনে রাখে, যারা সঠিক করণীয় না করে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের নামও ইতিহাস মনে রাখে, যারা মিথ্যা বলে।’ তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনকে হুমকি দিয়ে দমানো যাবে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই ভোটাভুটি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও, অনেক কূটনীতিকই বলেছেন এমনটিই হওয়ার কথা ছিল আগে থেকে। এর ফলে ট্রাম্প আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন। এর দরুন যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্ররাও বিপদে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ে গেল। পাশাপাশি, ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের বাস্তবায়ন আরও জটিল হয়ে পড়লো।
ভোটাভুটির সময় দেখা গেছে, ট্রাম্প ও মার্কিন দূত হ্যালে যেসব হুমকি দিয়েছেন, তার ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক কূটনীতিক। হ্যালে ভোটাভুটির আগেও নিজের বক্তৃতায় মার্কিন আর্থিক সহায়তা বন্ধের হুমকি দেন। তবে বেশির ভাগ দেশই এসব হুমকিকে পাত্তা দেয়নি। তারা ধরে নিয়েছেন, ট্রাম্প মূলত নিজের ঘরোয়া রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলেই এসব হুমকি দিয়েছেন। তাছাড়া মিশর, ইরাক ও জর্দানের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররাষ্ট্রকে দেওয়া বিপুল পরিমাণ অনুদান কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র বাতিল করবে বা প্রত্যাহার করবে, সেটির কোনো উত্তর নেই।
মোদ্দা কথা, জেরুজালেম নিয়ে আমেরিকার অবস্থান পরিবর্তন যেভাবে প্রত্যাখ্যান করলো বিশ্ব, সেটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য নিঃসন্দেহে বড় চপেটাঘাত। দায়িত্ব নেয়ার এক বছর পার হয়ে গেলেও, এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র নীতিতে তার বড় ধরনের কোনো অর্জন নেই। ইয়েমেন ও তুরস্ক এই প্রস্তাবনার খসড়া করেছে। এতে জেরুজালেম নিয়ে অতীতের অনেক প্রস্তাবনাকে উদ্ধৃত করে জেরুজালেমে কোনো কূটনৈতিক মিশন স্থাপন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে এ ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে যে, ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের কব্জায় থাকা পূর্ব জেরুজালেম হবে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী।

ওরা ফেরে রহস্যের জট খোলে না

একের পর এক নিখোঁজ। দিনের পর দিন খোঁজাখুঁজি। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় স্বজনদের দিন পার। কেউ ফিরছে তো কেউ ফিরছে না। সম্প্রতি কিছুদিনের ব্যবধানে একে একে ফিরে আসেন কয়েকজন নিখোঁজ। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজার, সাংবাদিক উৎপল দাস, ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায় ও গিয়াস উদ্দিন।
তাদের নিখোঁজ হওয়া ও ফেরার ধরন প্রায় অভিন্ন। অবরুদ্ধ থাকার বর্ণনাও কাছাকাছি। কিন্তু ফেরার পরও মিলছে না নিখোঁজ ও অবরুদ্ধ থাকার নানা প্রশ্নের উত্তর। অধরা রয়ে গেছে কেন কীভাবে অপহরণ হয়ে কোথায় অবরুদ্ধ ছিলেন তারা, সেসব প্রশ্নের জবাব।
গত ৭ই নভেম্বর নিখোঁজ হয়েছিলেন নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক মোবাশ্বার হাসান সিজার। ওইদিন তিনি সরকারের এটুআই প্রকল্পের এক সভায় যোগ দিতে গিয়ে গুম হন। এর প্রায় দেড় মাসের মাথায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কে বা কারা তাকে বিমানবন্দর এলাকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। এরপর বনশ্রীর বাসায় ফেরেন তিনি। তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (ডিজি) করেছিল পরিবার। ওই জিডি তদন্তের দায়িত্ব পড়ে একই থানার উপ-পরিদর্শক নগেন্দ্র কুমার দাসের উপর। তার সন্ধানে জিডি’র সুরাহা হলেও এখন পর্যন্ত রহস্যের কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। তিনিও জানাতে পারেননি তেমন কিছু।
মানবজমিনকে ওই তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিআইডিসহ পুলিশের একাধিক বিভাগ প্রায় দেড় মাস ধরে তার অনুসন্ধান চালায়। কিন্তু কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। সিজার ফিরে আসার পর তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও এতদিন কোথায় কীভাবে অবরুদ্ধ ছিলেন তার কিছুই জানাতে পারেননি। প্রথমদিন তাকে অপহরণের সময় দু’টা চড় থাপ্পড় দিলেও তারপর কোন খারাপ ব্যবহার করেনি বলে জানান। মুক্তিপণও চাওয়া হয়নি। এখন তিনি কিছু বলতে না পারলে আমরা কী করবো।
এই রহস্য কী কোন দিন জানা যাবে না এমন প্রশ্নের উত্তরে নগেন্দ্র বলেন, জিডি’র কার্যকারিতা তো এখানেই শেষ। এখন পরিবার যদি কাউকে দায়ী করে মামলা করতে চায় তা নেয়া হবে। তা না হলেও সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে পুলিশের ছায়া তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
এদিকে গত ১০ই অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক উৎপল দাস। গত ২২শে অক্টোবর তার সন্ধান চেয়ে মতিঝিল থানায় জিডি করেছিল ওই সংবাদ মাধ্যম কর্তৃপক্ষ। পরদিন তার পিতা চিত্তরঞ্জন দাসও একটি জিডি করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পুলিশ তার কিনারা করতে পারেনি। অবশেষে নিখোঁজের ২ মাস ৯ দিন পর গত মঙ্গলবার রাতে একইভাবে তাকে পাওয়া যায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার ভূলতায়। পরে তিনিও একইভাবে পরিবারের কাছে ফেরেন। নিখোঁজ থাকতে যেমন পুলিশ তার খোঁজ বা রহস্যের সন্ধান দিতে পারেনি, তেমনি ফিরে আসার পরও রহস্যের কিনারা করতে পরেনি। এতদিন কোথায় কীভাবে তাকে অবরুদ্ধ রাখা হয় সে সম্পর্কে কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে পারেনি। জানাতে পারেনি। একইভাবে এই ঘটনাও রহস্যাবৃত রয়ে গেছে।
সাংবাদিক উৎপলের জিডি’র তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মাহমুদ মানবজমিনকে বলেন, তাকে ফিরে পাওয়ার একদিন আগে থেকে আমি ছুটিতে। তাকে কোথায় কীভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে তা জানা যায়নি। সংবাদমাধ্যমে যা জেনেছি, তার বাইরে আমার কিছু জানা নেই। তবে আমরা রহস্য জানার চেষ্টা করবো।
এদিকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজের ৮১ দিন পর গত ১৬ নভেম্বর দিবাগত গভীর রাতে গুলশানের বাসার কাছে একটি গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয় ব্যবসায়ী ও বেলারুশের অনারারি কনসাল অনিরুদ্ধ কুমার রায়কে। গত ২৭শে আগস্ট গুলশান-১ থেকে নিখোঁজ হন আরএমএম লেদার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাতবার সিআইপি মনোনীত এই অনিরুদ্ধ। দীর্ঘ সময় তাকেও কোথায় কেন আটকে রাখা হয়েছিল সেই রহস্য অধরা রয়ে গেছে। তিনি নিজে যেমন কিছুই বলতে পারেননি, পুলিশও উদঘাটন করতে পারেনি সেই রহস্যের জট।
ওই জিডি তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাহ উদ্দিন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, অনিরুদ্ধ ফিরে আসার পর আমাদেরকে তেমন কিছুই জানাতে পারেননি। প্রথম নিখোঁজ ডায়েরি করা কল্লোল হাজারা গত ২০শে নভেম্বর আরো একটি জিডি করে জানান যে, ১৭ তারিখ অনিরুদ্ধ ফিরে আসেন এবং আমাদের কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই। মামলাও করা হবে না। তবু আমরা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তেমন কিছু জানতে পারিনি।
কোন প্রশ্নে উত্তর জানা যায়নি রাজধানীর শাজাহানপুর থেকে সম্প্রতি নিখোঁজের তিনদিন পর পরিবারের কাছে ফিরে আসা বাদামতলীর ফল ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনের বিষয়েও। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিখোঁজ হওয়া ওই ব্যক্তিদের সন্ধান মিললেও অধরা রয়ে যাচ্ছে কে কেন আপহরণ ও জিম্মির শিকার। ঠিক কোথায় তাদের আটকে রাখা হয়। স্বয়ং নিখোঁজ ব্যক্তিও জানতে পারছে না তা। তারা কেবল খণ্ড খণ্ড ধারণা দিতে পারছেন। চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন। বলছেন এক কক্ষে আটকে রাখার কথা। কিন্তু তা কোন এলাকায় তা কেউ জানাতে পারেননি। তবে ভাগ্য তাদের সহায় হওয়ায় হাতে চাঁদ ফিরে পেয়েছে পরিবার। কিন্তু তাদের মতো নিখোঁজ অনেকের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। গুলশান-২ থেকে নিখোঁজ প্রকাশক তানভীর ইয়াছিন করিমসহ অনেকের পরিবার এখনও উৎকণ্ঠায়। এর মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষকসহ অনেকেই। তারা ফিরে আসার আশায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে তাদের স্বজনরা।

সোজা চলে যা, পেছনে তাকালেই মেরে ফেলবো

নিখোঁজের ৪৪ দিন পর বাড়ি ফিরেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজার। নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপল দাস ফিরে আসার দুই দিনের মাথায় একইভাবে ফিরে এলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষক। মোবাশ্বারকে বৃহস্পতিবার রাতে বিমানবন্দর সড়কে ফেলে রেখে যায় কে বা কারা। গতকাল গণমাধ্যমের কাছে সিজার জানিয়েছেন, যারা তাকে তুলে নিয়েছিল তারা টাকা পয়সা নিয়ে কথা বলেছে। রেখে যাওয়ার সময় তারা মোবাশ্বারকে বলে, সোজা চলে যা, পেছনে তাকালেই মেরে ফেলব। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে বিমানবন্দর সড়কে মোবাশ্বারকে ছেড়ে দেয়ার পর তিনি নিজেই একটি সিএনজি অটোরিকশা করে বনশ্রীর বাসায় আসেন।
তখন তার কাছে কোনো টাকা ছিল না। অটোরিকশা চালকের ফোনে তিনি প্রথম তার বাবাকে বাসায় ফিরছেন বলে জানান।
গতকাল সকালে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মোবাশ্বার। তিনি তাকে তুলে নেয়া এবং ছেড়ে দেয়ার বর্ণনা দেন। তাকে যেখানে রাখা হয়েছিল তারও একটা বর্ণনা আসে তার কাছ থেকে।
সিজার বলেন, আমাকে ধরে নেয়ার পর তারা আমাকে ছাড়বে, না মারবে এনিয়ে নিজেদের মধ্যে বাহাস করতো। তাদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হতো। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে তারা আমাকে এয়ারপোর্ট রোডে নামিয়ে দেয়।
নিখোঁজের দিনের বর্ণনা দিয়ে সিজার বলেন, সেদিন আমি আগারগাঁওয়ে এটুআইয়ের একটি প্রোগ্রাম শেষ করে উবারের একটি গাড়ি কল করি। গাড়িতে উঠে রওয়ানা দেয়ার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন অপরিচিত লোক এসে আমাকে বলে, এটি চোরাই গাড়ি। তারা ওই গাড়ি থেকে নেমে অন্য গাড়িতে যাওয়ার জন্য বলে। পরে আমি গাড়ি থেকে নেমে অন্য গাড়ি খোঁজার চেষ্টা করি। ঠিক তখনই তারা পেছন থেকে আমার চোখে মলম লাগিয়ে দেয়। একপর্যায়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে অন্য একটা গাড়িতে তুলে নেয়। আমি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলি। যখন আমার জ্ঞান ফিরে তখন দেখি, আমি একটি বদ্ধ ঘরে বন্দি। ময়লা তোষক আর বাইরে থেকে সিলগালা করা একটি জানালা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। ঘরটি সমসয় অন্ধকার থাকতো। সেখানেই ঘুমাতাম। পাশেই আরেকটা ঘর ছিল। সেখান ৪-৫ জন লোকের কথাবার্তা প্রায়ই শোনা যেত। তারা আমাকে ঠাণ্ডা খাবার দিতো। মনে হয় সেগুলো হোটেলের খাবার ছিল। সিজার বলেন, ওদের নিজেদের মধ্যে কিছু একটা হয়েছে। গাড়ির মধ্যে একঘণ্টা বা দেড়ঘণ্টা হতে পারে, চোখ বাঁধা অবস্থায় আমাকে একজনের কোলে শুইয়ে রাখে। আসার সময় তাদের মধ্যে অনেক ডিসকাশন হয়েছে। টাকা পয়সা বা আরো কোনো বিষয় থাকতে পারে। যা আমি দেখিনি, বুঝিনি। রাতে চোখে গামছা বাঁধা অবস্থায় ওরা আমাকে এয়ারপোর্ট রোডের কোনো এক জায়গায় নামিয়ে বলেছে তুই যা-গা, পেছনের দিকে তাকালে মাইরা ফালামু। এরপর আমি একটা সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে সিএনজিওয়ালার কাছ থেকে ফোন নিয়ে আব্বাকে ফোন করি। আব্বাকে ৫০০ টাকা নিয়ে বাসার নিচে নামতে বলি। পরে আমি বাসার নিচে পৌঁছলে আব্বা ভাড়া পরিশোধ করে। অপহরণকারীরা টাকা চেয়েছিল কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মোবাশ্বার হাসান সিজার বলেন, অপহরণকারীরা আমার ফ্যামেলি প্রোফাইল না বুঝে অজ্ঞাতস্থানের একটি বদ্ধঘরে আটকে রেখেছিল। ওই টাকা-পয়সাই। ওরা বোধ হয় বুঝে নাই, আমাদের নরমাল ফ্যামেলি। এরা বোধ হয় প্রোফাইলটা বুঝতে পারে নাই। তারা একটা সময় বলছিল যে, তুই তো অনেক জায়গায় কাজ করস, কিছু টাকা পয়সা দে। এ ছাড়া তারা আমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে কেউ প্রভাবশালী আছে কিনা জানতে চেয়েছিল। তারা মুক্তিপণ চেয়েছিল কিনা, আই ডোন্ট নো। একদিন মনে হয়, আমার ফ্যামেলিতে ফোন দিয়েছিল। আমার কাছে ২৭ হাজার ক্যাশ টাকা ছিল, তারা সেটা নিয়ে নিয়েছে। তবে ওইদিন আমি ক্রেডিট কার্ড নেইনি। সিজার বলেন, মানুষের জীবনে কিছু হিস্ট্রি থাকে, সমস্যা হয়েছে কিছু দেখতে পাই নাই। আমাদের নরমাল ফ্যামেলি, সাইক্লোনের মতো এটা হয়ে গেছে। আমাদের সবার জন্য দোয়া করবেন। আমি বলছি, কিডন্যাপ না হলে রিয়েলাইজড করা যাবে না, জিনিসটা কতটুকু অবিশ্বাস্য। অনেক দিন পর দিনের আলো দেখলাম।
আবেগতাড়িত হয়ে সিজার বলেন, গণমাধ্যমকর্মী, বন্ধুবান্ধব ও শিক্ষকদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। সবাই আমার জন্য মানববন্ধন করেছে। এ ছাড়া সাংবাদিকরা আমাকে নিয়ে অনেক কভারেজ দিয়েছে। কথা বলার সময় সিজারকে মানসিকভাবে অনেকটা বিধ্বস্ত দেখা যাচ্ছিল। তার কথা জড়িয়ে আসছিল। একপর্যায়ে তার বাবা তাকে থামিয়ে দিয়ে ভেতরে নিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, ও অসুস্থ..। আর কথা বলতে পারবে না।
এ সময় মোবাশ্বারের বোন, তামান্না তাসনিম বলেন, আমার ভাই শারীরিকভাবে মোটামুটি ঠিক আছে, তবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
এদিকে ছেলেকে ফিরে পেয়ে সিজারের বাবা মোতাহের হোসেন গণমাধ্যমের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে, আমরা নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। আমরা অনেক খুশি। আমি আর কিছু চাই না। তিনি বলেন, সিজার বাসায় আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ থেকে ১২ জন সদস্য এসেছিলেন। থানায় যে জিডি করেছিলাম সেই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা যা হবার তা হবে।
গত ৭ই নভেম্বর বিকাল থেকে সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না মোবাশ্বার হাসান সিজারের। ওই দিন বনশ্রীর বাসা থেকে বের হয়ে তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। এরপর আগারগাঁওয়ের একটি অফিসে কাজ করে বের হওয়ার পর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরের দিন তার পরিবারের পক্ষ থেকে খিলগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর ঢাকা ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড স্যোসিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোবাশ্বার হাসান প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণায়ও জড়িত।

ফিরে আসারা কথা বলেন না কেন?

নিখোঁজ হওয়াদের মধ্যে ভাগ্যবান আরো দুইজন ফিরে এসেছেন। সেই ভাগ্যবান উৎপল দাস আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বের দীর্ঘদিন নিখোঁজ ছিলেন। এভাবে অনেকে ফিরে এলেও এখনো কয়েক শ’ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। যারা একে একে ফিরছেন তাদের কেউ নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে মুখ খুলতে আগ্রহী নন। কিভাবে নিখোঁজ হলেন, এ দীর্ঘ সময় তারা কোথায় ছিলেন, কিভাবে ছিলেন- এসব তারা বলতে নারাজ। যে কারণে নিখোঁজ রহস্য দিন দিন আরো ঘনীভূত হচ্ছে। গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় খোঁজ পাওয়া যায় উৎপল দাসকে। উৎপল দাস দুই মাস ১০ দিন নিখোঁজ ছিলেন। গত ১০ অক্টোবর অফিস থেকে বের হওয়ার পরে নিখোঁজ হন উৎপল। এ দিকে, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোবাশ্বার হাসান সিজার গত ২২ ডিসেম্বর রাতে ফিরে এসেছেন। গভীর রাতে তিনি বাসায় ফেরেন। গত ৭ নভেম্বর কর্মস্থল থেকে বনশ্রীর বাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন সিজার। তিন মাসে খোদ রাজধানীতেই নিখোঁজ হয়েছেন ১৩ জন। যাদের মধ্যে মোবাশ্বার ও উৎপলসহ ফিরে এসেছেন ৯ জন। বাকি চারজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এ ৯ জনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আবার কয়েকজনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে। রাজধানী ধানমন্ডি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন ভিয়েতনামের বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান (৭০)। এ ঘটনায় তার মেয়ে সামিহা জামান বাদি হয়ে পরদিন ধানমন্ডি থানায় একটি জিডি (জিডি নম্বর-২১৩) করেন। রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মারুফ জামানের গাড়িটি উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৫টায় ধানমন্ডির ৯/এ রোডের ৮৯ নম্বর বাড়ির ২/এ নম্বর ফ্যাট থেকে মারুফ জামান বিমানবন্দরের উদ্দেশে বের হয়ে যান। তার মেয়ে সামিহা জামান বিদেশ থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু বিমানবন্দরে সামিহা জামান পৌঁছলেও তার বাবা তাকে রিসিভ করার জন্য সেখানে যাননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে মারুফ জামানের কোনো অবস্থান নিশ্চিত না করতে পেরে মঙ্গলবার সকালে থানায় জিডি করা হয়।পারিবারিক সূত্র জানায়, ৪ ডিসেম্বর রাতে মারুফ জামান তার বাসায় ফোন দিয়ে তার রুমে থাকা ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক অজ্ঞাত এক ব্যক্তির কাছে দিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। ওই দিন রাত ২টায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তার বাসায় গিয়ে ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়। অন্য যারা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তারা হলেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এ বি এন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ সাদাত আহমেদ, কল্যাণ পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আমিনুর রহমান এবং কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ইশরাক। ফিরে এসেছেন বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি মিঠুন চৌধুরী ও দলের কেন্দ্রীয় নেতা আসিত ঘোষ অসিত, বেলারুশের অনারারি কনস্যুলার অনিরুদ্ধ কুমার রায়, দক্ষিণ বনশ্রীর নকিয়া-সিমেন্সের সাবেক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আসাদ, এভেনটিস-স্যানোফির ফার্মাসিস্ট জামাল রহমান, শাজাহানপুর থেকে ফল ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন ও গুলশানের প্রকাশক তানভীর ইয়াসিন করিম।
বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি মিঠুন চৌধুরী ও দলের কেন্দ্রীয় নেতা আসিত ঘোষ অসিতকে গ্রেফতার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর মধ্যে মিঠুনের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর তার সাথে ষড়যন্ত্রে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় অসিতকে। পল্টন এলাকা থেকে মিঠুন চৌধুরী ও সেগুনবাগিচা থেকে অসিত চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে, গত ৭ নভেম্বর কদমতলী থানায় একটি জিডি হয়। সেই জিডির তদন্তে নেমে ডিবি অসিতের অপরাধের ব্যাপারে তথ্য পায়। তবে মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী সুমনা চৌধুরীর দাবি, সংখ্যালঘুদের অধিকার রায় কাজ করেন তার স্বামী। হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধারের বিষয়ে তিনি লেখালেখি করতেন। কিন্তু তিনি কোনো ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত ছিলেন না। ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেয়ার কারণে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও ধারণা সুমনার। গত ৮ নভেম্বর গুলশান-২ নম্বরের ৫১ নম্বর সড়কের ৭ নম্বর হোল্ডিংয়ে কনকর্ড প্যানোরমা অ্যাপার্টমেন্টের ১০১ নম্বর ফ্যাট থেকে কে বা কারা তুলে নিয়ে যায় করিম ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি পুস্তক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকার তানভীর ইয়াসিন করিমকে। এ ঘটনায় তার আত্মীয় হুমায়ন কবীর বাদি হয়ে গুলশান থানায় একটি জিডি করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখায়। তার বিরুদ্ধে গত ১৫ আগস্ট পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে এক জঙ্গির আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় অর্থ জোগানদাতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তানভীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শোক দিবস কর্মসূচিতে হামলা চেষ্টার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত ২৬ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর কাকরাইল মোড় থেকে আব্দুলাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় নিখোঁজের ভগ্নিপতি ডা: সাইফুল ইসলাম রমনা থানায় একটি জিডি করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সময় অজ্ঞাত ১০-১২ জন আব্দুল্লাহকে একটি গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনেকেই এর আগেও ফিরে এসেছেন। গত ১১ জুন ভোর রাতে বাড়ি ফেরেন লক্ষ্মীপুর থেকে হারিয়ে যাওয়া রাকিবুল হাসান রকি। কে বা কারা তাকে গাড়িতে করে এনে শহরের বাগবাড়ি এলাকায় ফেলে রেখে যায়। সেখান থেকে এক রিকশাচালক তাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসে। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর শহরের পুরনো আদালত রোড এলাকা থেকে রাত ১০টায় সাদা মাইক্রোবাসে তাকে কে বা কারা তুলে নিয়ে যায়। ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকা থেকে অপহরণ করা হয় ডা: ইকবাল মাহমুদকে। সেই থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। গত ৩১ মে রাতে কে বা কারা তাকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নতুন গরুহাটা এলাকায় রেখে যায়। সেখান থেকে তিনি বাসায় ফিরে যান। কে বা কারা তাকে অপহরণ করেছিল তা জানা যায়নি। এর আগে গত ৩ মার্চ ফিরে এসেছেন বিএনপি নেতা হুমাম কাদের চৌধুরী। ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর আদালত পাড়া থেকে তুলে নেয়া হয় মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুমাম কাদের চৌধুরীকে। ৩ মার্চ ভোরে তিনি ফিরে আসেন। কে বা কারা তাকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে গেলে সেখান থেকে তিনি বাসায় ফেরেন। ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিলের ঘটনা। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশে আসার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের দেলপাড়া এলাকার ভূইয়া ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে অপহৃত হন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক। ওই বছরের ১৮ এপ্রিল মিরপুর কাজীপাড়া এলাকায় কে বা কারা তাকে ছেড়ে দিয়ে যায়। এ ঘটনায় আবু বকর সিদ্দিকের স্ত্রী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা করলেও কে বা কারা আবু বকর সিদ্দিককে অপহরণ করেছিল সে সম্পর্কে কোনো রহস্য আজো উদঘাটন হয়নি। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ একদল অচেনা লোক উত্তরার ভাড়া বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় বিএনপির তৎকালীন মুখপাত্র সালাহ উদ্দিনকে। প্রায় দুই মাস পরে ভারতের শিলং থেকে উদ্ধার করা হয় সালাহ উদ্দিনকে। কে বা কারা সালাহ উদ্দিনকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল সেই রহস্য আজো বের হয়নি। গত বছরের ১৬ মার্চ নিখোঁজ হন আইটি বিশেষজ্ঞ তানভির হাসান জোহা। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের প্রায় ৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনায় তিনি তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের সহায়তা করে আসছিলেন। তিনি নিখোঁজ হওয়ার পরে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। কয়েক দিন পরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যায়। নিখোঁজ এ ব্যক্তিরা ফিরে এলেও ঘটনার নেপথ্য রহস্য অজানাই থেকে যাচ্ছে। যারা ফিরে এসেছেন তারা বা তাদের পরিবার এ নিয়ে আর কোনো কথাই বলতে চান না। নিখোঁজ ব্যক্তিরা কোথায় ছিলেন, কিভাবে ছিলেন, কারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল সেসব বিষয়ে কথা বলতে তারা একেবারেই নারাজ। ফলে দিন দিন এ নিখোঁজ রহস্য আরো রহস্যাবৃত হয়ে পড়ছে।

১ কিমি ব্যয় সোয়া ৩ কোটি টাকা

কোনো নীতিমালা না থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক উন্নয়ন বা নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যয়ের কোনো লাগাম নেই। ফলে প্রতি কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ব্যয় ভিন্ন ভিন্ন অঙ্কের হচ্ছে। ব্যয়ের ব্যবধানও অনেক বেশি। ঢাকা সিটিতে যেখানে প্রতি কিলোমিটার সড়ক বা রাস্তা উন্নয়ন ব্যয় হচ্ছে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, সেখানে চট্টগ্রাম সিটিতে এই ব্যয় ধরা হয়েছে সোয়া ৩ কোটি টাকার বেশি। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে- ভারত, চীন ও ইউরোপের তুলনায় প্রতি কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে বাংলাদেশের ব্যয় অনেক বেশি। এখানে দুর্নীতি একটা মুখ্য ভূমিকা পালন করে বলে তিনি মনে করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন সড়ক বিশেষ করে ৮৯টি সড়ক উন্নয়ন করার প্রস্তাব নিয়ে একটি প্রকল্প আগামীতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পেশ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩০ কোটি ১২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। যেখানে ৫০৪ কোটি ১০ লাখ ১১ হাজার টাকা সরকার দেবে। বলা হচ্ছে, শহরের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার অবকাঠামোগত দক্ষতার উন্নয়ন ঘটানো ও কিছু ব্রিজের উন্নয়ন করা হবে। মোট ১০৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন করা হবে। এ ছাড়া ৩৬টি ব্রিজ নির্মাণ, চারটি অ্যাসকেলেটরসহ ফুটওভারব্রিজ স্থাপন, ১৩৮ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার বিদ্যুতায়ন করা হবে। ব্যয় বিভাজনে দেখা যায়, ১০৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩৪২ কোটি ৬১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এখানে প্রতি কিলোমিটারে সড়ক উন্নয়নে ব্যয় হবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।
অথচ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে চলমান রাস্তার অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি কিেিলামিটারে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঢাকার শ্যামপুর, মাতুয়াইল, দনিয়া, সারুলিয়া এলাকার সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতি কিলোমিটার ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যয় রাজধানী বিশেষ করে ডিএসসিসির প্রকল্পের প্রতি কিলোমিটারের ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি। অন দিকে, এসব সড়কে ৬০৩ দশমিক ৬৭ মিটার ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৫ কোটি ২৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এখানে প্রতি মিটার ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় হবে ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। যেখানে উপজেলা পর্যায়ের সড়কের ব্রিজ নির্মাণ ব্যয় ৮ লাখ টাকা। এটি তার চেয়েও আড়াই গুণ বেশি। চট্টগ্রাম সিটিতে ১৩৮ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার বিদ্যুতায়ন করা হবে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি ৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ফলে প্রতি কিলোমিটার বিদ্যুতায়নে ব্যয় হবে ৭১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলেছে, প্রকল্পের সড়কের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ আলাদাভাবে উল্লেখসহ সড়কের ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে। সে অনুযায়ী ক্রয় পরিকল্পনা করতে হবে। এখানে অন্যান্য প্রকল্পের ব্যয়ের তুলনায় এই প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে সড়ক উন্নয়ন ব্যয় বেশি প্রাক্কলন করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের বিশ্লেষণ ভূমি অধিগ্রহণ যুক্ত হলে ব্যয় বেশি হবে; কিন্তু শহরের রাস্তা উন্নয়নে ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়া এতটা ব্যয় বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার মতো নয়। নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পেলেও প্রতি কিলোমিটারে এত ব্যয় যৌক্তিক মনে হয় না। এর আগে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, মূলত টেন্ডারিং (দরপত্র) প্রতিযোগিতার অভাবের কারণেই খরচ বেশি হয়। এটি দুর্নীতিরই একটি অংশ। এ ছাড়া উঁচু-নিচু জমির কারণেও খরচ বাড়ে।

যুদ্ধের অবসানে কোনো সামরিক সমাধান নেই : ওয়াশিংটন

ইয়েমেন যুদ্ধের অবসানে কোনো সামরিক সমাধান নেই বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বিশ্বাস করে, সঙ্কট সমাধানে দরকার আগ্রাসী কূটনীতি। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বাস করে যে হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ওপর হামলা বন্ধ করলে তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেজন্য তাদের সৌদি আরবের ওপর রকেট হামলা বন্ধ করতে হবে।
২০১৫ সালের ২১ মার্চ হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ করে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সৌদির-নেতৃত্বাধীন জোট। এরপর ওই জোটের বোমা হামলায় কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া উদ্বাস্তু হয়েছেন ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ। সৌদির বিমান হামলায় গত ১১ দিনেই ১৩৬ ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হয়েছে। ইয়েমেনে গত এপ্রিল থেকে অন্তত ১০ লাখ মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছে রেডক্রস। সংস্থাটি বলছে, দেশটির ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের খাদ্য, জ্বালানি, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত অস্বাস্থ্যকর খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে। ইয়েমেনে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ২২৭ জন মারা গেছে।
সূত্র : আলজাজিরা ও সিএনএন

ইরানে মদ্যপানের দায়ে ২৩০ কিশোর-কিশোরী আটক

মদ্যপান করে নাচানাচি করার অভিযোগে ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে ২৩০ জন কিশোর-কিশোরীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী তেহরানের উপকূলের একটি বাগান থেকে ১৪০ জন কিশোর-কিশোরীকে আটক করা হয়। এছাড়া একই অভিযোগে তেহরানের প্রান্তীয় এলাকা থেকে আরো ৯০ জনকে আটক করা হয়।
শুক্রবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএর এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। মদ্যপান করা এবং মাদকদ্রব্য জাতীয় পানীয় পান করে নাচানাচি করা ইসলামী আইনানুযায়ী ইরানে নিষিদ্ধ। আইএসএনএ জানিয়েছে, আটকদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (বিশেষত ছবি) ইন্সটাগ্রামে ছবি পোস্ট করে অন্যদের তাদের পার্টিতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানায়। পুলিশ এই সূত্র ধরেই তাদের আটক করে। আটক অভিযানের সময় সময় বেশকিছু তরল মাদকদ্রব্য  ও নেশাজাতীয় ওষুধ জব্দ করা হয়।

ফিলিপাইনে ঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০

দক্ষিণ ফিলিপাইনে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে  বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। পুলিশ ও কর্মকর্তাদের দেওয়ার হিসাব অনুযায়ী, বন্যা ও ভূমিধসে মোট ৬৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। শুক্রবার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় তেম্বিন এই দ্বীপরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মিন্দানাওয়ের ওপর প্রবল আঘাত হানে। তেম্বিনের আঘাতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধ্বসে একটি গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঝড়টি সুলু সাগর থেকে শক্তি সঞ্চয় করছে এবং ৮০ কিলোমিটার বেগে ঘন্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে’

বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে জাতীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। শনিবার সকাল ১০টায় ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের’ উদ্যাগে এ অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। তাদের দাবি, প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে তাদের বেতন দিতে হবে। মহাজোটের নেতৃত্বে থাকা দেশের ১০টি সংগঠনের হাজার হাজার শিক্ষকরা এ অনশনে অংশ নিয়েছেন। অনশনে জোটের নেতারা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন। এখান থেকে বিজয় না নিয়ে তারা ফিরে যাবেন না। সহকারী শিক্ষক ফ্রন্টের সভাপতি ইউএস খালেদা আক্তার বলেন, আমরা বৈষম্যের শিকার। সংবাদ সম্মেলনে আমাদের দাবির কথা জানিয়েছি। দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তা পূরণ করা হয়নি। এবার দাবি পূরণ করা ছাড়া আমরা শহীদ মিনার ছেড়ে যাব না। এদিকে আন্দোলনে এসে জাহাঙ্গীর আলম নামে ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জের বিলরাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়ার নোটিশের জবাব আইনগতভাবে দেয়া হবে : অর্থমন্ত্রী

বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। শনিবার সকালে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি। দিন দিন আমাদের জমির পরিমাণ কমছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা। বর্তমান সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপের ফলে আমরা খাদ্যশষ্য বিদেশে রপ্তানি করছি। অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কৃষিবিদদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আর এক্ষত্রে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের অবৈধ সম্পদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যে অভিযোগ করেছেন, নিশ্চই তার পেছনে যথেষ্ট তথ্য আছে এবং সেটা প্রমান করা যাবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার পাঠানো উকিল নোটিশ আইনিভাবেই মোকাবেলা করা হবে। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. গোলাম শাহী আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট-৩ এর সংসদ সদস্য মাহমুদুস সামাদ কয়েস, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. একে আবদুল মোমেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান, সিলেট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সদস্য ড. আহমদ আল কবীর উপস্থিত ছিলেন। বাসস

হঠাৎ বিটকয়েনের মূল্যে বড় ধরণের পতন

ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের মূল্য এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ কমে গেছে। শুক্রবার মুদ্রাটির দাম ছিল ১১ হাজার ডলারের সামান্য কম। কিন্তু গত সপ্তাহের শুরুতে এর মূল্য ছিল ২০ হাজারের কাছাকাছি। গত সোমবার বিটকয়েনের মূল্য রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়। তারপর থেকে মুদ্রাটির দাম ৪০ শতাংশ কমে যায়।
এ বছরের শুরুর দিকে এই মুদ্রার দাম ছিলো এক হাজার ডলারের মতো। তারপর থেকে এর মূল্য হু হু করে বাড়তে থাকে। বিশেষ করে গত নভেম্বর থেকে গত সপ্তাহ পর্যন্ত এর দাম বাড়ছিল রকেটের গতিতে। বিশ্লেষকরা সম্প্রতি এই মুদ্রায় বিনিয়োগের ব্যাপারে লোকজনকে সতর্ক করে দিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই গত কয়েক দিন ধরে এর দাম পড়তে শুরু করেছে। এবং এখনও সেই পতন অব্যাহত রয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ক্রিপ্টোকমপেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা চার্লস হাটার বলেছেন, "এরকমের নজিরবিহীন উত্থানের পর এখন কিছুটা কমবে কারণ আবেগের পরিবর্তন ঘটেছে।"

শহীদ মিনারে আমরণ অনশনে শিক্ষকরা

প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিতে জাতীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। শনিবার সকাল ১০টার দিকে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের’ উদ্যাগে এই অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। এতে মহাজোটের বিভিন্ন সংগঠনের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক অংশ নিয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শিক্ষক এসেছেন অনশন কর্মসূচিতে। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ধীরে ধীরে শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়ছে। জোটের নেতারা দাবি আদায়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। তারা বলেন, এখন থেকে বিজয় না নিয়ে আমরা ফিরে যাব না।

কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ ৭

রাজধানীর শ্যামপুরে একটি ইস্পাত কারখানার বাট্টিতে (ভাঙারির জিনিস গলানোর কড়াই) বিস্ফোরণে সাতজন দগ্ধ হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় দগ্ধ নজরুল, গাফফার, আহমেদ আলী, জামাল, সোহেল, রমজান ও শামীমকে গতকাল রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেয়া হয়। নজরুল, গাফফার ও আহমেদ আলী চিকিৎসাধীন আছেন। বার্ন ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, নজরুলের শরীরের ১৫ শতাংশ এবং গাফফার ও আহমেদ আলীর শরীরের ১২ শতাংশ পুড়ে গেছে।

কুমিল্লায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

কুমিল্লার দেবিদ্বারে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার ভোর রাতে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের জেলার দেবিদ্বার উপজেলার হাতিমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ জানান। নিহতরা হলেন, রাসেল (২৮) ও ফারুক (২৪)। পুলিশের দাবী নিহতরা ডাকাত দলের সদস্য। এতে ৫ জন ডিবি সদস্য আহত হয়েছেন বলেও পুলিশ দাবী করেছে। কুমিল্লার গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর আলম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের ভাষ্য, দেবিদ্বার উপজেলার হাতিমারা এলাকায় ১০/১৫ জনের একটি ডাকাত দল রাত সাড়ে ৩ টার দিকে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবর পেয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল সেখানে যায়। এ সময় ডাকাত দল ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলে ফারুক ও রাসেল আহত হন।
পরে তাদের কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রাসেল জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ছেছড়াপুকুরিয়া গ্রামের আ: রহমানের পুত্র এবং ফারুক একই উপজেলার কুরুইন গ্রামের ফরিদ মিয়ার পুত্র। এ বিষয়ে ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ জানান, নিহতরা আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য। ডাকাত দলটি গত ১৯ ডিসেম্বর দিবাগত গভীর রাতে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শাহ আলমের দেবিদ্বারের জাফরগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে তাঁর ভাই জহিরুল ইসলামকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেছিল। এ ছাড়াও এ দলটি আরও কয়েকটি ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত ছিল।

শীতের অনুভূতি কিছুটা বাড়তে পারে

সারাদেশের রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। ফলে সারাদেশে শীতের অনুভূতি কিছুটা বাড়তে পারে বলে আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান আজ বাসসকে জানান। এছাড়া দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। শনিবার সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ। ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত যাবে সন্ধ্যা ৫টা ১৭ মিনিটে এবং আগামীকাল শনিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৩৮ মিনিটে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসঙ্ঘের নতুন নিষেধাজ্ঞা

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আনা আরো কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আরোপের একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়েছে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে। দেশটির পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচী ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধে চীন ও রাশিয়ার সম্মতিও মিলেছে। এটি ছিল উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১০ম নিষেধাজ্ঞা আরোপ। কিন্তু এত কিছুর পরেও পিয়ং ইয়ংকে তাদের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা থেকে বিরত রাখা যাবে কিনা সে প্রশ্নও উঠেছিল আলোচনায়। তারপরেও সর্বসম্মতিক্রমেই অতীতের তুলনায় আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব পাশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার মিত্র হিসেবে পরিচিত চীন এবং রাশিয়াও।
উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জের ধরেই আনা হয় এ প্রস্তাব। এবার আঘাত আনা হয়েছে দেশটির লাইফ লাইনের ওপর। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম আমদানি বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে শুক্রবারের বৈঠকে। ২০১৬ তে নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম, যা এবার বেড়ে দাঁড়াল ৫ লাখ ব্যারেলে। আর অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে পরিমাণটি বছরে ৪ মিলিয়ন ব্যারেল। জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি নিকি হ্যালে বলেন যে, সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত পিয়ং ইয়ং-কে সেই বার্তাই দেয় যাতে করে আবারো সীমা লঙ্ঘন করলে তারা আরো কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে। এবারের নিষেধাজ্ঞায় বিভিন্ন দেশে কর্মরত উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের আগামী ২৪ মাসের মধ্যে ফেরত পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রবাসী আয় দেশটির অর্থনীতির অন্যতম উপাদান। একইসাথে যন্ত্রাংশ ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী রফতানির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তালিকায় আছে দেশটির তৈরি পোশাক সামগ্রীও।

ইউক্রেনে ২১০টি ট্যাঙ্ক পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার বলেছে, তারা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপারে ইউক্রেনকে সহযোগিতা করবে। আর এ পদক্ষেপ সরকারি বাহিনী ও রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে সঙ্ঘাতকে আরো উস্কে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে তাদের মধ্যে যুদ্ধে ১০ হাজারের বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছেন। এদিকে মস্কোর সাথে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আহবান জানিয়েছেন ওয়াশিংটনের এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভূ-খণবডগত অখণ্ডতা রক্ষায় এবং আগ্রাসন ঠেকাতে দেশটির দীর্ঘ মেয়াদি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে আমাদের সহায়তা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘মার্কিন সহযোগিতা সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। এ ব্যাপারে আমরা সব সময় বলে আসছি যে ইউক্রেন হচ্ছে একটি সার্বভৌম দেশ এবং এক্ষেত্রে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। পূর্ব ইউক্রেনের অগ্রগতির উপায় হিসেবে মিনস্ক চুক্তির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ এ ঘোষণার আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের চার কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এবিসি’র খবরে বলা হয়, অত্যাধুনিক জাভেলিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। খবরে আরো বলা হয়, মোট ৪৭ লাখ ডলারের এ প্রতিরক্ষা প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে ২১০টি ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫টি লাঞ্চার বিক্রয়। এদিকে চলতি মাসের গোড়ার দিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন রাশিয়াকে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উষ্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা ইউক্রেনকে নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা।

বাগমারায় আলু এখন গোখাদ্য কেজি ৭ টাকা

আলুর দাম কমছেই। বর্তমানে এক বস্তা আলু (৮৫ কেজি) তিন থেকে চারশ’ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন কোল্ডস্টোরেজ থেকে এ দামে আলু বিক্রি হচ্ছে। আর বাজারে খুচরা বিক্রি হচ্ছে সাত টাকা কেজি। গরুর খাদ্যের দাম বাজারে বেশি। এর বিপরীতে আলুর দাম অনেক কম। এ কারণে আলু এখন গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি মৎস্যচাষীরাও পুকুরে মাছের খাবার হিসেবে আলু ব্যবহার করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও আলুচাষী ও ব্যবসায়ীরা বেশি দামের আশায় আলু স্টোরে মজুদ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে অন্য সবজির দাম বেশি হলেও আলুর দাম নিতান্তই কম। বাজারে কেজিপ্রতি পটোল ৩০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা ও ঝিঙ্গা ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ আলু বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি মাত্র পাঁচ থেকে সাত টাকায়। বাজারে নতুন আলু বিক্রি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর কোল্ডস্টোরেজ থেকে আলু কিনছেন না। ফলে কোল্ডস্টোরেজগুলোতে পাইকারি ব্যবসায়ী না যাওয়ায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বাধ্য হয়ে স্টোরজাত আলু ফাঁকা করতে কম দমে আলু ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন কোল্ডস্টোরেজ কর্তৃপক্ষ। ফলে এ সুযোগ নিচ্ছেন গরুর খামারের মালিক ও মৎস্যচাষীরা। বাগমারা উপজেলার দ্বিপপুর গ্রামের গরুর খামারি শফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে গরুর খাবার খইল ও ভূসির দাম বেশি। এ কারণে গরুর খাবার হিসেবে আলু ব্যবহার করা হচ্ছে। দু’দিন আগে মাত্র চারশ’ টাকা করে ছয় বস্তা আলু কিনেছি। আমার মতো গরুর খামারি ছাড়াও মৎস্যচাষীরা মাছের খাবার হিসেবে আলু ব্যবহার করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম জানান, উপজেলায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভার চারটি কোল্ডস্টোরেজে আট লাখ বস্তা আলু মজুদ করা হয়। কিন্তু আলুর দাম কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভা সদরের ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম কোল্ডস্টোরেজে আলু রেখেছিলেন এক হাজার ২শ’ বস্তা। তিনি বলেন, বেশি লাভের আশায় আলু বিক্রি করিনি। কিন্তু বর্তমানে বাজারে আলুর যে দাম তাতে আমার মতো অন্য ব্যবসায়ীদেরও মাথায় হাত। চলতি মৌসুমে আমার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতি হবে। উপজেলার বসার কোল্ডস্টোরের স্টোরকিপার আইনুল হক বলেন, নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। বাজারে বর্তমানে তা ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে পুরাতন আলুর ক্রেতা মিলছে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্টোর ফাঁকা করতে হবে। এ কারণে তারা অলস সময় কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি আলুর দাম কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের মতো আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

ট্রাম্পের সাথে ডিনার, খরচ ৬২০২৭!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বর্ষবরণের ডিনারের চাঁদা ধরা হয়েছে মাথাপিছু ৭৫০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬২০২৭ টাকা)। ৩১ ডিসেম্বর রাতে এ পার্টি হবে দক্ষিণ ফোরিডায় পামবিচে ট্রাম্পের মালিকানাধীন ‘মার-এ লগো’ ক্লাবে। তবে ক্লাবের সদস্যদের জন্য ফি ধার্য করা হয়েছে ৬০০ ডলার করে।
ইতোমধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এ পার্টির আয়োজকেরা। উল্লেখ্য, ফার্স্টলেডি মেলানিয়াকে নিয়ে বড়দিনের উৎসবও এখানেই উদযাপন করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাথে থাকবে তাদের ১১ বছর বয়সী ছেলে ব্যারোন। গত বছরের ডিনার পার্টির টিকিটের মূল্য ছিল সদস্যদের জন্য ৫২৫ ডলার এবং অতিথির জন্য ৫৭৫ ডলার।

দোহারে এখন শান্তির সুবাতাস বইছে

সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং দোহার-নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেছেন, দোহারের মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপদে জীবন কাটাচ্ছেন। আগে যেখানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন ও মাদক ব্যবসা হতো সেখানে আজ শান্তির সুবাতাস বইছে। শুক্রবার দোহারের বিভিন্ন ইউনিয়নে শীতবস্ত্র বিতরণকালে তিনি বলেন, আমি চাই দোহারের সাধারণ মানুষ সব সময় শান্তিতে থাকুক। অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম আরও বলেন, দোহার ও নবাবগঞ্জের অধিকাংশ গ্রামে বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, ঢাকা-১ আসনের এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর আমি দোহার ও নবাবগঞ্জকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনার চেষ্টা করেছি। কারণ আপনারা ভালো থাকলে আমি ভালো থাকব। আপনাদের সুখের কথা ভেবে আমি কাজ করার চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন মানুষের কথা চিন্তা করে দেশকে উন্নয়ন করছে। আমি তাকে অনুসরণ করে দোহারের উন্নয়নের চেষ্টা করছি। পদ্মার করাল গ্রাস থেকে দোহারবাসীকে রক্ষা করতে আমি সব সময় চিন্তা করি। প্রধানমন্ত্রী আমার কথা শুনেছেন। তাই তাকে ধন্যবাদ জানাই। তার সহযোগিতায় পদ্মা ভাঙন রোধে ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ এখনও চলছে।
এছাড়া শিক্ষার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও প্রশস্তকরণে কাজ করে আসছি। সালমা ইসলাম বলেন, দরিদ্র কৃষক যাতে শীতে কষ্ট না পায় সেজন্য তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। সাধ্য অনুযায়ী তাদের সহায়তা করতে হবে। সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ পেলে আমি আপনাদের জন্য আরও কাজ করতে পারব ইনশাআল্লাহ। আগামী দিনে আমি সবার পাশে থেকে কাজ করতে চাই। আমি শুধু এমপি নই, দোহার-নবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের বন্ধু ও বোন হয়ে থাকতে চাই। অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি তার নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিটি ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার করে কম্বল বিতরণ করেন। শুক্রবার দোহারের মুকসুদপুর, নারিশা, সুতারপাড়া, দোহার পৌরসভা জয়পাড়া কলেজ ও বিলাশপুর ইউনিয়নে নারী-পুরুষের মাঝে পাঁচ হাজারের অধিক কম্বল বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রজ্জব আলী মোল্লা, বিলাশপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা, মুকসুদপুর ইউপির এমএ হান্নান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার নুরুল আনোয়ার বেলাল, ঢাকা জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, জাহাঙ্গীর চোকদার, আসাদুজ্জামান চৌধুরী রানা, দোহার জাতীয় পার্টি নেতা ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবদুল আলীম, হায়দার বেপারি, বশির আহমেদ, লোকমান হোসেন, ডা. হাকিম, শহীদুল ইসলাম, মোতালেব হোসেন, যুব সংহতি নেতা নাজিম আহমেদ, জসীমউদ্দিন পান্নু, ফরিদ হোসেন, রাশেদ খন্দকার, শামীম হোসেন, মো. শহীদ, ছাত্র সমাজের রাজিব খান, মনির হোসেন, মাহবুব প্রমুখ। গত তিন দিনে নবাবগঞ্জের ১৪টি ইউনিয়নে প্রায় ১৫ হাজার কম্বল বিতরণ করেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

২০০ মিটারে সেরা রউফ-শিরিন

জাতীয় অ্যাথলেটিকস আসে তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে। এই একটি মিটেই পদক জয়ের পাশাপাশি বাহবা পান দেশের অ্যাথলেটরা। শুক্রবার শুরু হওয়া জাতীয় অ্যাথলেটিকসও আবদুর রউফ ও শিরিন আক্তারের জন্য তেমনটাই হয়েছে। এশিয়ান অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দাহলান আল হামাদের উপস্থিতিতে নিজেদের সেরা প্রমাণ করেছেন এই দু’অ্যাথলেট। ২০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণপদক জিতেছেন তারা। পুরুষদের ২০০ মিটার স্প্রিন্টে প্রথম খেলেই সোনা জিতে নিয়েছেন নৌবাহিনীর আবদুর রউফ। চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় সামার অ্যাথলেটিকসে খেলতে পারেননি। তখন থেকেই মনে জেদ ছিল সিনিয়র মিটে নিজের কৃতিত্ব দেখাবেন। ২১.৭৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে জিতেছেন স্বর্ণপদক। বাবা আবদুর রহমান সরকারি চাকরি করেন। দু’ভাইয়ের মধ্যে বড় রউফ। প্রথম খেলতে এসে ১০০ মিটার ইভেন্টে দেশের দ্রুততম মানব মেজবাহ আহমেদের কাছে হার মানতে হয়েছিল তাকে। এবার অবশ্য আরও বেশি দৃঢ় এবং প্রতিজ্ঞ। রউফের কথায়, ‘আমার প্রিয় ইভেন্টই হল ১০০ ও ২০০ মিটার। একটি স্বর্ণ জেতা হয়েছে। এবার ১০০ মিটারেও সোনা চাই।’ তিনি যোগ করেন, ‘২০০ মিটারে স্বর্ণ জিততে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। তিন মাসের প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে এর মধ্যেও ২৫ দিন অসুস্থ ছিলাম।’ বাকুতে ইসলামিক সলিডারিটি গেমস ও ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা রউফ সাউথ এশিয়ান গেমসে দেশের হয়ে স্বর্ণপদক জিততে চান। অন্যদিকে ২০০ মিটার স্প্রিন্টেও সেরা দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার। শুধু সেরা নয়, নিজের অন্যতম এই ইভেন্টে হ্যাটট্রিক স্বর্ণ জিতে নিয়েছেন তিনি। ২৫.৫৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে মিটে প্রথম সোনা জেতেন নৌবাহিনীর এই অ্যাথলেট।
তবে এতেও খুশি নন শিরিন। তার কথায়, ‘এই স্কোরে আমি খুশি নই। তারপরও আমি তাকিয়ে রয়েছি আমার প্রিয় ইভেন্ট ১০০ মিটার স্প্রিন্টের দিকে। ওটাই যে আমার মূল ইভেন্ট। আশা করি সব ঠিক থাকলে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ষষ্ঠবারের মতো স্বর্ণপদক জিততে পারব।’ তিনি যোগ করেন, ‘যদিও আমার নৌবাহিনীর শর্তেই ২০০ মিটারে খেলেছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’ এদিকে বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ বলে কাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান এশিয়ান অ্যাথলেটিকসের সভাপতি দাহলান। তবে বাংলাদেশকে ট্র্যাকসহ টেকনিক্যাল, টেকনিক্যাল সহায়তা দেয়ারও আশ্বাস প্রদান করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে অ্যাথলেটিকসের উন্নয়নের জন্য তৃণমূলেই জোর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। দাহলানের কথায়, ‘তৃণমূল থেকে অ্যাথলেট তুলে আনতে হবে। শুধু তুলে আনলে হবে না, প্রতিভাবানদের ধরে রাখার দায়িত্বও নিতে হবে ফেডারেশনকে। বিশেষ করে স্কুল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান অ্যাথলেট বাছাই করে আনতে হবে। স্কুল পর্যায়ে কাজ না করলে ভালো মানের অ্যাথলেট কখনই পাওয়া সম্ভব নয়।’ তিনি যোগ করেন, ‘এক সময় অ্যাথলেটিকসে যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব বিস্তার করত, এখন কিন্তু জ্যামাইকার অ্যাথলেটরা ভালো করছেন। এটা প্রজন্মের পরিবর্তন। তাই জাতীয় পর্যায়ে টেলেন্ট হান্ট প্রোগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। ভালো মানের অ্যাথলেটদের ধরে রাখতে হবে।’ তবে বাংলাদেশ শেখ কামাল অ্যাথলেটিক একাডেমিকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমি হিসেবে গড়ে তোলা, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে আরডিসি, ট্র্যাক স্থাপন এবং দেশের দরিদ্র অ্যাথলেটদের আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদানের জন্য দাহলানের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে ফেডারেশনের সভাপতি এএসএম আলী কবির জানান।’

তরুণীকে রাস্তায় পুড়িয়ে মারল প্রেমিক

২২ বছর বয়সী তরুণী সন্ধ্যা রানীকে পুড়িয়ে মারলেন তার সাবেক সহকর্মী যুবক। ঘটনাটি বৃহস্পতিবারের ভারতের হায়দ্রাবাদে। এ ঘটনায় ঘাতক ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজ্যের সেকেন্দারাবাদ এলাকার রাস্তায় সন্ধ্যার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন কার্তিক। শুক্রবার সকালে হাসপাতালে মৃত্যু হয় সন্ধ্যার। খবর বিবিসির। সন্ধ্যা রানী সেকেন্দারাবাদের একটি প্রতিষ্ঠানে অভ্যর্থনাকর্মীর দায়িত্ব পালন করতেন। বৃহস্পতিবার পৌনে ৭টার দিকে রোজকার মতো বাসায় ফিরছিলেন তিনি।
পথে মোটরসাইকেলে এসে তার গতিরোধ করেন পুরনো সহকর্মী কার্তিক। দুই বছর আগে একসঙ্গে কাজ করতেন তারা। সন্ধ্যার সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হতে থাকে। একপর্যায়ে কার্তিক বোতলে করে আনা কেরোসিন ঢেলে সন্ধ্যার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। কেউ দেখার আগেই পালিয়ে যান তিনি। এনডিটিভি জানায়, পুলিশ বলছে, আগুনে পুড়তে পুড়তে চিৎকার করতে থাকেন সন্ধ্যা। এ সময় পথচারীরা গিয়ে আগুন নেভান। তবে ততক্ষণে সন্ধ্যার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানায়, তদন্তে জানা গেছে অতীতে দু’জনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। এক বছর ধরে চাকরি ছিল না কার্তিকের। তিনি প্রচুর মদ্যপান করতেন। কয়েক মাস ধরে সন্ধ্যাকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। চাকরি ছেড়ে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। রাজি না হওয়ায় সন্ধ্যার সঙ্গে তার নিয়মিত ঝগড়াও চলছিল।

গুরুদাসপুরে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার : আটক ২

নাটোরের গুরুদাসপুরে নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির পাশের দীঘি থেকে শিশু খাদিজার (৭) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নজরুল ও নাজমা বেগম ওরফে নাজুকে আটক করেছে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ। উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের বিলসা গ্রামের ওই শিশু বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় নিখোঁজ হয়। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে তাদের বাড়ির পেছনের দীঘিতে একটি বস্তা ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লাশটি উদ্ধারের পর এলাকার সহস্রাধিক নারী-পুরুষ সেখানে ভিড় জমায়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিবেশী রশিদ ভক্তির ছেলে বাদলা ভক্তি ও শহিদুল ভক্তির বাড়ি ভাংচুর করে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত শিশুর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিলশা দাখিল মাদ্রাসার ২য় শ্রেণীর ছাত্রী খাদিজা প্রতিদিনের মতো বুধবার বাড়ির পাশে খেলাধুলা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার শিশুটির চাচা মোর্শেদ আলী গুরুদাসপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। অভিযোগের পনিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তল্লাশি করে কোনো সন্ধান পায়নি। শিশুর বাবা মনিরুল ইসলাম ওরফে মধু জানান, তার শিশুকে হত্যা পর বস্তাবন্দি করে দীঘির পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছে নাজু ও তার স্বামী বাদলা। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। মা রাখী বেগমের বিলাপে গ্রামজুড়ে শোকের মাতম উঠেছে। বাদলা ও শহিদুল ২০১২ সালে শাহ আলম হত্যার অন্যতম আসামি বলে জানা গেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস নিহত শিশুর পরিবারকে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, নিখোঁজের তিন দিন পর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। হত্যার কারণ জানা যায়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মায়ের শরীরে ভাইরাস, অর্ধেক খুলি নিয়ে সন্তানের জন্ম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাথার খুলির উপরের অংশ ছাড়াই জন্ম নিয়েছে একটি শিশু।  শিশুটি এখনও জীবিত আছে।  গর্ভে থাকা অবস্থায় মায়ের শরীরে ‍ভাইরাসের সংক্রমণে ত্রুটি নিয়ে শিশুটি জন্ম নিয়েছে বলে ধারণা চিকিৎসকদের।
 
বাঁশখালীর শেখেরখীল ইউনিয়নের নাপোড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমানের স্ত্রী জান্নাতুল নাঈম (২৩) মেয়ে সন্তানটির জন্ম দিয়েছেন।  সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে শিশুটির জন্ম হয়।
 
বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সদ্যোজাত শিশুটির ব্রেইনসহ মাথার খুলির উপরের অংশ নেই।  গর্ভে থাকা অবস্থায় মায়ের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণের শিশুটি এই ত্রুটি নিয়ে জন্ম নিয়েছে।  মায়ের শরীরে ‍ভাইরাসের সংক্রমণের প্রকাশটা বাচ্চার মাধ্যমে হয়েছে।  সাধারণত এই ধরনের নবজাতক বাঁচে না।
 
জন্মের পর শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ক্যানো বিভাগে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
 
মায়ের শরীরে কি ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছিল সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।
 
বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স নাহিদা আক্তার মজুমদার  জানান, নরমাল ডেলিভারিতে জন্ম নেওয়া শিশুটির ওজন ৩ কেজি ২০০ গ্রাম।  শরীরের চেয়ে মাথা অস্বাভাবিক ছোট।  প্রসূতি সুস্থ আছেন।
 
জান্নাতুল নাঈমের আগেও একটি তিন বছরের ছেলে আছে বলে জানিয়েছেন নাহিদা।

প্রিমিয়ারে উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত


 নগরীর জিইসি মোড়ে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ভবনে ইংরেজি বিভাগে উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি ‘অ্যামবেসি অব দ্য ইউনাইটেড স্টেস অব আমেরিকা’ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
 
‘গ্লোবাল আন্ডার গ্র্যাজুয়েট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম-২০১৮’ শীর্ষক সেমিনারে আমেরিকান শিক্ষা ও সংস্কৃতির সাথে বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিনিময়ের মাধ্যমে বিশ্ব সংস্কৃতির কিভাবে সমন্বয়ের বিষয়ে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আমেরিকান সেন্টার কালচারাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার কেলি আর. রায়ান।
 
সেমিনারে উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন লিংক ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট উপস্থাপন-সহ সামগ্রিক প্রসেসিং সংক্রান্ত তথ্য ও তত্ত্ব উপস্থাপন করেন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ প্রোগ্রাম) রায়হানা সুলতানা।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সাদাত জামান খান।

ভারতে তীর্থ যাত্রীবাহী বাস নদীতে, নিহত ২৭

ভারতের রাজস্থানে তীর্থ যাত্রীবাহী নদীতে পড়ে গেলে কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ৭ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকালে সাওয়াই মাধোপুরের ডাবি এলাকায় ওই বাস ব্রিজ থেকে নদীতে পড়ে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভির।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরো কমপক্ষে তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

ওই বাসযাত্রীরা হিন্দুয়ান শহর থেকে সাওয়াই মাধোপুরের মালানা ডাবি এলাকার একটি মন্দিরে যাচ্ছিলেন।

সাওয়াই মাধোপুরের পুলিশ সুপার (সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ) মামান সিং বলেছেন, আজ সকালের দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি মোরেল নদীতে একশ মিটার পানির নিচে ডুবে যায়।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ১২ জনের মৃতদেহ বাস থেকে বের করা হয়েছে। আরো তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। আর আহতদের সাওয়াই মাধোপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

বিজেপির ভিত্তি মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত: রাহুল

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সম্পূর্ণ কাঠামোটিই মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে আছে বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, গুজরাটে মোদি মডেল ছিল মিথ্যা। মানুষের সঙ্গে যখন কথা বলেছি, তারা বলেছেন, কোনও মডেলই নেই। আসলে যেটা হচ্ছে, বিজেপি তাদের সম্পদ চুরি করে নিচ্ছে।
মোদি মডেল, সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা, নোট বাতিল বা গব্বর সিংহ ট্যাক্স, সবটাই মিথ্যা। আদালতের রায়ে পরপর দুদিন টুজি স্পেকট্রাম ও আদর্শ কেলেঙ্কারির মতো আলোচিত দুই মামলায় ইতিবাচক রায় আসার পর শুক্রবার এসব কথা বললেন রাহুল। এদিন দলীয় সভাপতি হওয়ার পর তিনি প্রথমবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে বিশেষ সিবিআই আদালতের রায়ের কথা উল্লেখ করে বিজেপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ আনেন রাহুল। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের পুত্র জয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর নীরব থাকা এবং রাফালে যুদ্ধবিমানের চুক্তি নিয়েও ক্ষমতাসীন দলকে আক্রমণ করেন কংগ্রেস সভাপতি। তিনি বলেন,এক এক করে বিজেপির মিথ্যা সামনে চলে আসছে। প্রথমে অমিত শাহের ছেলে মাত্র তিন মাসে ৫০ হাজার টাকাকে ৮০ কোটিতে পরিণত করলেন। প্রধানমন্ত্রীর এ বিষয়ে কিছুই বলার নেই। দ্বিতীয়ত, রাফালে চুক্তি বদল করা হলো। একজন শিল্পপতি সুবিধা পেলেন। আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তিনটি প্রশ্ন করেছিলাম। কিন্তু তিনি একটারও জবাব দিতে পারেননি।

রংপুর সিটি নির্বাচনের বার্তাটি অনুধাবন করতে হবে

রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। নিঃসন্দেহে এর ফলে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা প্রমাণিত হল। সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনও নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করেছে। নাগরিক সমাজও বিশেষত সুজন এ ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। অনলাইনে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। যারা সুজনের সঙ্গে যুক্ত তারা এবং ভলান্টিয়ার পিস অ্যাম্বাসেডররা সাংস্কৃতিক দল গঠন করে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে। তারা মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে মুখোমুখি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এভাবে এ নির্বাচনে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ প্রার্থীদের ভোট দেয়। আমি মনে করি, এ সবকিছুর ফলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোও সদাচরণ দেখিয়েছে, দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। তারা কোনোরকম দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত হয়নি। কোথায় নাকি পুলিশের সঙ্গে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবুও নির্বাচনটা সার্বিকভাবে নির্বিঘ্নে ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি সবারই অবদানের ফসল। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে অনেকে মডেল নির্বাচন বলছেন। আমিও মনে করি, এটিকে মডেল নির্বাচন বলা যায়। এটা ঠিক, সব জায়গায় রংপুরের মতো পরিস্থিতি থাকে না। রংপুরে এবার যত আয়োজন করা হয়েছে- যেমন, নির্বাচন কমিশন অনেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য নিয়োগ করেছে- এমনটি সব জায়গায় দেখা যায় না। সবচেয়ে বড় কথা, সরকার এ নির্বাচনকে কোনোভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। ফলে এটিকে একটি মডেল নির্বাচন বলা যেতেই পারে। রংপুর সিটি নির্বাচন নিঃসন্দেহে মানুষের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। আমরা আশা করি, জাতীয় নির্বাচনও এভাবেই অনুষ্ঠিত হবে। নাগরিকরা মনে করে, সব ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশনের এমন ভূমিকা পালন করা উচিত। তবে এ নির্বাচন যে বার্তাটি দিয়েছে, তার ফলে সেটা ভবিষ্যতে বাস্তবে ঘটবে কিনা তা দেখার বিষয়। রংপুর সিটি নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে সফলভাবেই ইলেকট্রুনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হয়েছে। অতীতেও কোনো কোনো নির্বাচনে নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে। শুনেছিলাম কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যাও হয়েছিল। তা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন সফলভাবেই ইভিএম ব্যবহারে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের ইভিএমে যেতে হবে। প্রযুক্তির মহাসড়কে প্রবেশ করতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। আমার মনে হয়, এটি সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ নির্বাচন কমিশনের সেই প্রস্তুতি নেই। তাছাড়া ইভিএম নিয়ে একটা বিতর্কও আছে। এ ব্যাপারে ঐকমত্য সৃষ্টি না হলে এটি ব্যবহার করা ঠিক হবে না। সমাজে এমনিতেই অনেক বিতর্ক আছে। এর মধ্যে আর নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করা উচিত হবে না। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ব্যবহার করা হয়েছে। সিসিটিভির ব্যবহারকে আমি যুক্তিসঙ্গত বলেই মনে করি। জাতীয় নির্বাচনেও সিসিটিভি ব্যবহার করা হলে তা হবে একটি ভালো সিদ্ধান্ত। ভোট গ্রহণ ও গণনার সময় সিসিটিভির ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। রংপুর সিটি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়েছে। দলটির এ আপত্তির আমি কোনো যৌক্তিকতা দেখি না। কারণ আমরা এবং সব পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতেই এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। আমার মনে হয়, আমাদের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি- বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা- বিএনপির প্রতিক্রিয়ায় তারই প্রতিফলন ঘটেছে। তবে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। এটি সবারই অনুধাবন করা দরকার। রংপুরে সবকিছুই একই জায়গায়, একই প্রার্থী দিয়ে একই দলের মধ্যে নির্বাচন হয়েছে। একমাত্র তফাৎ হল, ২০১২ সালে নির্বাচনে মার্কা ছিল না, এবার মার্কা ছিল। দু’বারই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। রংপুরে জাতীয় পার্টি যে জনপ্রিয় তা তো আগেই প্রতিষ্ঠিত।
এবারও তারা জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছে। আগেরবারও তাদের প্রার্থীই জয়ী হতেন। হননি এ কারণে যে, তখন তাদের সমর্থিত প্রার্থী ছিল দু’জন- একজন দল সমর্থিত, অন্যজন বহিষ্কৃত। জাতীয় পার্টির একজন মাত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তিনিই জিততেন। এবারও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরই জনপ্রিয়তা প্রমাণিত হল। তাই বলা যায়, নির্বাচনে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে দুটি মার্কার মধ্যে- ধানের শীষ ও নৌকা। আর সবকিছুই ঠিক আছে। এবার ধানের শীষের ভোট বেড়েছে ৬৫ শতাংশ, আর নৌকার ভোট কমেছে ৪১ শতাংশ। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। এ বার্তাটি পরবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। যেমন- ২০১৩ সালে দেশে যত নির্বাচন হয়েছে (৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়েছিল), সেসব নির্বাচন যে বার্তা দিয়েছিল, তার কারণেই পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল গণতান্ত্রিক মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছিল। এখন নির্বাচন কমিশনের যেসব কাজ করা দরকার তার একটি হল প্রার্থীদের হলফনামার তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা। কারণ বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে বা তথ্য গোপন করে নির্বাচন করলে তার প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। এখন কোনো অবাঞ্ছিত প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন কিনা তা নির্বাচন কমিশনের খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা- যে নির্বাচনে সঠিক ব্যক্তিরা নির্বাচিত হয়ে আসবেন। নির্বাচন কমিশনের উচিত এসব খতিয়ে দেখে অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের অযোগ্য ঘোষণা করা, তাদের নির্বাচন বাতিলের ব্যবস্থা করা। এর ফলে আমাদের নির্বাচনী অঙ্গনগুলো শুদ্ধ হবে এবং আমাদের রাজনীতিও ভালো মানুষদের জায়গা করে দেবে, খারাপ লোকগুলো বিতাড়িত হবে। আরেকটি বিষয়ে নজর দেয়া দরকার। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচন করা। তাই নির্বাচন কমিশনের স্বপ্রণোদিত হয়ে সবরকম ব্যবস্থা নেয়া দরকার। কোনোরকম অভিযোগের জন্য তাদের অপেক্ষা করা উচিত নয়। লিখিত অভিযোগ করলে তারা খতিয়ে দেখবে- এরকম বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের জন্য অনাকাক্সিক্ষত। কারণ তাদের দায়িত্বই হল সুষ্ঠু নির্বাচন করা। নির্বাচনের যে আইন-কানুন, বিধি-বিধান রয়েছে, সেসব তাদেরই বিধি-বিধান। তাদেরই এসব প্রয়োগ করতে হবে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার : সম্পাদক, সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক)
badiulm@gmail.com

নিউ ইয়র্কে ঘরে ঢুকে বাংলাদেশিকে গুলি

নিউ ইয়র্কের এস্টোরিয়ায় এক বাংলাদেশিকে ঘরে ঢুকে পায়ে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। আহত ওই ব্যক্তির নাম মহিবুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত এলএবাংলা অনলাইন পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ইউপিএস কর্মী সেজে এ হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

পুলিশ বলছে, মহিবুল যে ভবনে থাকেন তার মূল গেটে এসে কয়েকজন ব্যক্তি এলোমেলোভাবে বিভিন্ন বাসার নাম্বার টিপতে থাকেন। তবে ইউপিএস কর্মী বলায় কে বা কারা দরজা খুলে দেয়। পরে দুর্বৃত্তরা মহিবুলের দরজার গিয়ে কড়া নাড়েন। মহিবুল দরজায় এসে জিজ্ঞেস করলে দুর্বৃত্তরা বলে, আমরা ইউপিএসের ডেলিভারি দিতে এসেছি। দরজা খুলতেই তারা মহিবুলকে মাথায় পিস্তল দিয়ে আঘাত করে। আঘাতের চোটে মাটিতে পড়ে গেলে তার পায়ে গুলি করে দুর্বৃত্তরা।

এ সময় তার স্ত্রী পাশের ঘরে ছিলেন। তিনি প্রতিবেশীদের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেন। পরে মহিবুলকে এলেমহার্স্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে মহিবুল বলেছেন, আমি দ্বিতীয় জীবন পেয়েছি। দুর্বৃত্তরা আমার কাছে কিছুই চায়নি। কিন্তু আমাকে কেন যে গুলি করলো, সেটাই আমি বুঝতে পারছি না।

ওই ভবনের সিসিটিভি পরীক্ষা করে পুলিশ বলেছে, কানেকটিকাটের নাম্বার প্লেটের একটি গাড়িতে করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।