Saturday, April 12, 2025
ইরানে কি চান ট্রাম্প!
ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে জনসমক্ষে অপমান করা হয়। সে অনুযায়ী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকটি মোটেও খারাপ ছিল না। তবে পরিস্থিতি খুব একটা ভালোও ছিল না। শুল্ক বহাল রেখেছিলেন ট্রাম্প। তুর্কি প্রতিপ্রক্ষকে বন্ধু হিসেবে প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, আমেরিকা ১২ এপ্রিল ইরানের সাথে ‘সরাসরি’ আলোচনা শুরু করবে।
ইসরাইলি একটি সূত্র বলেছে- নেতানিয়াহুকে একটি লাল রেখা বা শেষ সীমা দিয়েছেন ট্রাম্প। তাতে বলা হয়েছে কিছু করবেন না এবং গোলমাল করবেন না। আনন্দের চেয়ে মনোবেদনার ছিল বিষয়টি। এই সতর্কীকরণটি প্রয়োজনীয় ছিল। অক্টোবরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বেশিরভাগ বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দিয়েছে। ইসরাইলি একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে হামলার নির্দেশ দিতে দ্বিধা করতেন, কিন্তু এখন তার পিছিয়ে থাকার কারণ খুবই কম।
ওদিকে ট্রাম্পকে না বলা তার পক্ষে অনেক বেশি কঠিন। একজন ইসরাইলি কূটনীতিকের মতে, তিনি ইসরাইলের পররাষ্ট্রনীতি তার হাতে তুলে দিয়েছেন।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে ওমানে। এটি একটি উপ্রসাগরীয় দেশ- যা অতীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কয়েক ঘন্টা পরে এই আলোচনার খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ আমেরিকান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। তবে, এর ধরণ স্পষ্ট নয়। ইরান সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। আরাঘচি বলেছেন, ওমানে এই বৈঠকটি পরোক্ষ হবে: সরাসরি সাক্ষাতের পরিবর্তে ওমানীদের মাধ্যমে বার্তা প্রেরণ করা হবে।
যাই হোক না কেন, আলোচনা আরও জরুরি হতে পারে। ইরান এবং সাতটি বিশ্বশক্তি ২০১৫ সালে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন নামে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল। নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড সীমিত করে। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প চুক্তিটি ত্যাগ করার পর থেকে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অভূতপূর্ব মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছে, ইরান রেকর্ড ২৭৫ কেজি ইউরেনিয়াম শতকরা ৬০ ভাগ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র-গ্রেডের কাছাকাছি।
আরও পরিমার্জন করলে ছয়টি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য এটি যথেষ্ট হবে। ইরানের ‘ব্রেকআউট সময়’ (বোমার সমপরিমাণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য যে সময়কাল প্রয়োজন) এখন কয়েক দিন বা সর্বোত্তমভাবে কয়েক সপ্তাহের ব্যাপার। কোনও চুক্তি ছাড়াই সম্ভবত আমেরিকা বা ইসরাইল (অথবা উভয়ই) এই বছরের শেষের দিকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে বোমা ফেলার সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে হচ্ছে।
তবুও এটা স্পষ্ট নয় যে, উভয় পক্ষই কী ধরণের চুক্তি চায়। আমেরিকার জাতীয় নিরাপ্রত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ এমন একটি চুক্তির পক্ষে- যা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে দেবে। নেতানিয়াহুরও একই দৃষ্টিভঙ্গি। তার শব্দ নির্বাচন ইরানীদের ভয়াবহ করে তুলবে। তারা মনে রাখবে এরপর কী ঘটেছিল: আট বছর পর লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে উৎখাত করে হত্যা করা হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি তার শাসনব্যবস্থার জন্য একই রকম পরিণতি এড়াতে আগ্রহী। তিনি পারমাণবিক কর্মসূচিকে একটি বীমা নীতি হিসেবে দেখেন, বিশেষ করে যখন ইসরাইল ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী আঞ্চলিক প্রক্সির, গাজায় হামাস এবং ইরানের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়। আয়াতুল্লাহ হয়তো ইরানের সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস করতে ইচ্ছুক, কিন্তু ধ্বংস করতে চান না। সৌভাগ্যবশত, ট্রাম্পওয়ার্ল্ডে প্রচুর পরিমাণে সম্পদ রয়েছে। ট্রাম্পপন্থি প্রভাবশালী পডকাস্টার টাকার কার্লসনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেন- তার লক্ষ্য ছিল ‘যাচাইকরণ কর্মসূচি- যাতে কেউ অস্ত্র তৈরির বিষয়ে উদ্বিগ্ন না হয়’।
মনে হচ্ছে এসব কর্মকাণ্ডে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন আছে। সমর্থন আছে বিরোধী রিপাবলিকানদেরও- যারা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধ এড়াতে একটি চুক্তি করতে আগ্রহী। নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে পৌঁছানোর কয়েক ঘন্টা আগে কার্লসন যুক্তি দিয়েছিলেন যে- সামরিক হামলা আত্মঘাতী হবে। তিনি এক্সে লিখেছেন, ইরানের সাথে সংঘাতের পক্ষে কথা বলা যেকেউ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র নয়, বরং শত্রু। এমনকি একটি সামান্য চুক্তির জন্যও আমেরিকাকে ছাড় দিতে হবে। ট্রাম্পের উপদেষ্টারা কী প্রস্তাব দিতে ইচ্ছুক হতে পারেন সে সম্পর্কে খুব কমই বলেছেন। তারা অবশ্যই ইরানের তেলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন, যাতে তারা অপ্রকাশিত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ছাড়ের পরিবর্তে খোলাবাজারে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করতে পারে।
ইরানও নিশ্চয়তা চাইবে যে নতুন চুক্তিটি পুরনো চুক্তির চেয়ে বেশি টেকসই হবে। তারা আশা করে যে, এটি সিনেট-অনুমোদিত চুক্তি হবে। তবে ট্রাম্প এর প্রক্ষে ৬৭টি ভোট পেতে প্রারেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। এটি আসলে চুক্তিটি কেমন দেখাচ্ছে এবং একই সাথে ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাভাবিকীকরণ সম্ভব কিনা তার উপর নির্ভর করে।
সময় খুব কম। ট্রাম্প কতদিনের জন্য আলোচনায় বসতে রাজি হবেন বলে তাদের মনে হয়, জানতে চাইলে বেশ কয়েকটি আমেরিকান, ইসরাইলি এবং আরব সূত্র একই উত্তর দিয়েছে: কয়েক মাস। ২০১৫ সালের চুক্তিটি দুই বছর সময় নেয়। জন কেরি যখন চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করতে ভিয়েনায় যান, তখন প্রায়শই জ্বালানি মন্ত্রী আর্নেস্ট মনিস তার সাথে যোগ দিতেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পারমাণবিক পদার্থবিদ মি. মনিস প্রযুক্তিগত বিবরণ তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এখনও পর্যন্ত এই ধরণের দক্ষতার অভাব রয়েছে।
আলোচনার সময় সীমিত করার আরেকটি কারণ হল এই অঞ্চলে ইতিমধ্যেই চলমান আমেরিকান সামরিক শক্তিবৃদ্ধি। ভারত মহাসাগরের একটি অগ্রিম ঘাঁটিতে বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী আসার পথে। এগুলো ইরানকে দেখানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে যে- হামলার হুমকি বাস্তব। কিন্তু পেন্টাগন যখন সামরিক শক্তি হ্রাস করছে, তখন এই স্তরের বাহিনী বেশি দিন ধরে রাখা যাবে না। অকালে বাহিনী হ্রাস করলে ভুল বার্তা যেতে পারে: ইরানিদের মধ্যে দৃঢ়তার অভাব; এবং ইসরাইলিদের একা লড়াই করার জন্য উৎসাহিত করা।
বেশ কিছু আঞ্চলিক কর্মকর্তা রাশিয়ার সাথে উইটকফের আলোচনার সাথে সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি যখন আলোচনা শুরু হয়েছিল তখন ট্রাম্প আশাবাদী ছিলেন যে- তিনি ইউক্রেনের যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে পারবেন। প্রায় দুই মাস পরে, প্রক্রিয়াটি আটকে গেছে, ভ্লাদিমির পুতিন, আশ্চর্যজনকভাবে, একজন কঠোর আলোচনার অংশীদার হয়ে উঠেছেন।
এখন ঝুঁকি হলো ইরানের ক্ষেত্রেও একই রকম কিছু ঘটতে পারে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র দীর্ঘসূত্রতা পছন্দ করে: যখনই কোনও চুক্তির কাছাকাছি মনে হয়, তখনই এটি আরও দাবি যোগ করে। তাড়াহুড়ো করে করা চুক্তি সম্ভবত একটি খারাপ চুক্তি হবে- যাকে ইসরাইলে নিযুক্ত একজন সাবেক আমেরিকান রাষ্ট্রদূত। ইরান গত কয়েক বছর ধরে পারমাণবিক জ্বালানি চক্র আয়ত্ত করেছে; একটি চুক্তি যা তার সেন্ট্রিফিউজগুলিকে অক্ষত রাখতে দেয়, এমনকি আইএইএর সীলমোহরের অধীনেও, এটি ব্রেকআউট হতে কয়েক মাস বাকি রাখবে। নেতানিয়াহু আশা করতে পারেন যে, ওয়াশিংটনে তার এখনও পর্যাপ্ত মিত্র রয়েছে যাতে এই ধরনের চুক্তি হয়। ট্রাম্পের সাথে এই সপ্তাহের বৈঠক হতাশাজনক হতে পারে। তবে, যদি ইরানের সাথে আমেরিকার আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে পরবর্তী চুক্তিটি তার পছন্দের হতে পারে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শুল্কনীতি দিয়ে ট্রাম্প চেয়েছিলেন কী, পেলেন কী
এ পরিবর্তনের মাধ্যমে ট্রাম্প তার বাণিজ্যনীতির উদ্দেশ্যগুলোর কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন, তা নিয়েই এই প্রতিবেদন।
১. যথাযথ বাণিজ্যচুক্তি করা
ট্রাম্প বারবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শোষণ করেছে। তার প্রস্তাবনায় সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক এবং কিছু দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছিল। এতে বিশ্বের বহু দেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ট্রাম্প দাবি করেন, বিশ্বের অন্তত ৭৫টি দেশের নেতারা তার সঙ্গে চুক্তি করতে যোগাযোগ করেছেন। মার্কিন সরকার জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এসব দেশকে কোনো না কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির কারণে অন্তত আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
২. অভ্যন্তরীণ শিল্প খাতকে চাঙ্গা করা
ট্রাম্পের আশা ছিল, শুল্ক বসিয়ে দেশের শিল্প খাতকে আবার সক্রিয় করবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, হুটহাট সিদ্ধান্ত পাল্টানোর ফলে ব্যবসায়ীরা দ্বিধায় পড়ছেন। আজ যদি গাড়ি শিল্প রক্ষা পায়, কাল হয়তো ইলেকট্রনিক্স শিল্প টার্গেট হবে। শুল্ক নীতিতে ধারাবাহিকতা না থাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বড় কোনো বিনিয়োগে যেতে সাহস পাচ্ছে না।
৩. চীনের সঙ্গে শক্ত অবস্থান নেওয়া
ট্রাম্প বলেছেন, চীন বহুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্যে ঠকিয়ে এসেছে। তিনি চীনকে শুল্কযুদ্ধের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। হোয়াইট হাউজের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এখন মূলত চীনের বিরুদ্ধে শুল্ক নীতিকে ব্যবহার করছেন। ট্রাম্প আবার এটাও বলেছেন যে, বর্তমান সমস্যার জন্য তিনি চীনকে নয়, বরং মার্কিন পুরোনো নেতৃত্বকে দায়ী করেন। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি চীন এগিয়ে এসে চুক্তির ইচ্ছা দেখায়, তবে ট্রাম্প ‘অত্যন্ত উদারতা’ দেখাবেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সঙ্গে শক্ত অবস্থান নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় মিত্ররা দূরে সরে যেতে পারে।
৪. রাজস্ব আয় বাড়ানো
ট্রাম্প মনে করেন, শুল্ক থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আসবে, যা দিয়ে কর কমানো ও জাতীয় ঋণ পরিশোধ সম্ভব হবে। এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হলে ১০ বছরে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসতে পারে। এদিকে মার্কিন কংগ্রেস যে করছাড় দিয়েছে, তা একই সময়ে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ঘাটতি তৈরি করতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
৫. ভোক্তামূল্য কমানো
ট্রাম্প বলেছেন, দেশের ভেতরে উৎপাদন বাড়লে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং এতে পণ্যের দাম কমবে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে, শুল্ক আরোপে সাধারণত পণ্যের দাম বেড়ে যায়, কারণ আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়ে এবং ঘরোয়া পণ্যের প্রতিযোগিতা কমে যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কারণে মার্কিন পরিবারগুলোর বছরে গড়ে অতিরিক্ত ১,২৫৩ ডলার ব্যয় হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নিম্নআয়ের পরিবারগুলো এই শুল্কের বোঝা সবচেয়ে বেশি অনুভব করবে, যা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, সিএনএন
![]() |
| মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের কাছ থেকে কি এবার কিছুই পেলেন না নেতানিয়াহু
দেখে মনে হচ্ছে, দুই মাস আগে তাঁর ওয়াশিংটন সফরের কথা চিন্তা করলে ট্রাম্পের সঙ্গে গত সোমবারের বৈঠক থেকে অনেকটা খালি হাতে ফিরতে হয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে। ওভাল অফিসে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে নেতানিয়াহু তাঁর বিশেষ অগ্রাধিকার নীতি নিয়ে আলোচনায় ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হয় তিরস্কার শুনেছেন, নয় তো তাঁর নীতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণের কথা শুনেছেন।
গত মঙ্গলবার আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠককে সফল বলে দাবি করেছেন। বলেছেন, ‘খুবই ভালো সফর’ হয়েছে। তিনি সব ক্ষেত্রে এই সফরকে সফল বলে দাবি করেন।
তবে ব্যক্তিগতভাবে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল বুঝতে পারছে, এই সফর তাদের জন্য কতটা কঠিন ছিল। ওই সফরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমনই ইঙ্গিত দিলেন।
ইসরায়েলের ইয়েদিয়ত আহরোনোত দৈনিকের বিশ্লেষক নাদাভ ইয়াল বলেন, আসলে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে যা শোনার আশা করছিলেন, তেমনটা তিনি শোনেননি। তিনি বলেন, দুই নেতার মধ্যে মতানৈক্য সত্ত্বেও সফর অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল।
নেতানিয়াহু খুব অল্প সময়ের নোটিশে ট্রাম্পের এই মেয়াদে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়াশিংটনে ‘তীর্থযা ত্রা’ করলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের (পরে অবশ্য শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়) বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে আপাতদৃষ্টে মনে হয়েছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এমন এক উত্তাল সময়ে তাঁর এই সফর নিশ্চয় কেবল শুল্কে আটকে থাকতে পারে না।
ট্রাম্পের উদ্যোগে বলবৎ যুদ্ধিবিরতি ভেঙে ইসরায়েল গত মাসে নতুন করে গাজায় নৃশংস ও নির্বিচার হামলা শুরু করেছে। একই সময়ে পরামাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ছে।
নেতানিয়াহু ও তাঁর ইসরায়েলি মিত্ররা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ফিরে আসায় বেশ রোমাঞ্চিত ও উৎফুল্ল ছিলেন। কারণ, প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প তাদের শক্ত সমর্থন দিয়ে গেছেন। এবার ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প কেবল ইসরায়েলপন্থী কর্মকর্তাদের তাঁর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনেননি, বরং তিনি বাইডেন প্রশাসনে যাঁরা ইসরায়েলের গাজা ও পশ্চিম তীর হামলার ঘোর সমালোচক ছিলেন, তাঁদের সরকার থেকে বিদায় করে দিয়েছেন।
গত সোমবারের বৈঠক আবারও দেখিয়ে দিল, ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল। তবে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্কটা হবে বেশ জটিল ও অনিশ্চিত। যেমনটা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী হয়তো প্রত্যাশাও করেননি।
কোন কোন ক্ষেত্রে ট্রাম্প–নেতানিয়াহুর মতপার্থক্য হতে পারে
নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ওপর সামরিক চাপ প্রয়োগ করার জন্য বলে আসছেন। নেতানিয়াহুর উৎসাহে ২০১৮ সালে ট্রাম্প একতরফাভাবে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বের প্রভাবশালী ছয় দেশের সঙ্গে ইরানের চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে ওবামা প্রশাসন ওই চুক্তি করিয়েছিল।
তখন নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে কলঙ্কিত করেছিলেন। কারণ, তিনি বলেছিলেন, ইরানকে দমিয়ে রাখার জন্য বা আঞ্চলিক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করতে এই চুক্তি যথেষ্ট নয়।
নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র পাওয়া থেকে বিরত রাখতে হলে সামরিক চাপ হলো সবচেয়ে ভালো উপায়। ইসরায়েল গত বছর সরাসরি ইরানে হামলা চালায়। তবে ইরানের সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে পারেনি। ইরানের ভূগর্ভে পরিচালিত পরমাণু স্থাপনায় হামলার জন্য তাই ইসরায়েলের দরকার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তা।
ট্রাম্প গত সোমবার নেতানিয়াহুকে জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান আলোচনায় রাজি না হলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। একই দিন তিনি ঘোষণা দিয়ে বসলেন, এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনায় বসছে। এতে যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুর চেহারাটা কিছুটা ম্রিয়মান হয়ে যায়।
দুই নেতাই ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বানাতে না দিতে সম্মত হয়েছেন। এই ঐক্যমতের প্রতি নেতানিয়াহুর সমর্থন আছে ঠিক। তবে তিনি বলেন, তিনি এমন একটি কূটনৈতিক চুক্তির পক্ষে যেটা কি না, হয়েছিল ২০০৩ সালে লিবিয়ার সঙ্গে। ওই চুক্তির আওতায় পরিদর্শক দলকে পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শন এবং পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে এটা পরিষ্কার নয়, ট্রাম্প ইরানের ক্ষেত্রে এমন কঠিন শর্ত আরোপ করেছেন কি না।
বিশ্লেষক নাদাভ ইয়াল বলেন, ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের আলোচনার বিষয়টি জানানোর অর্থ হচ্ছে দুই নেতৃত্বের মধ্যে স্বচ্ছতা দেখানো।
শুল্ক থেকে মুক্তির আশা নেতানিয়াহুর
ট্রাম্পের তথাকথিত ‘স্বাধীনতা দিবস’–এ বিভিন্ন দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণার আগের দিন ইসরায়েল আগেভাগে পদক্ষেপ নেয়। জানিয়ে দেয়, মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে সব শুল্ক তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি ইসরায়েলের। বৃহৎ ব্যবসায়িক অংশীদারের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন ১৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
দৃশ্যত মনে হচ্ছে, ইসরায়েলের শুল্কের বিষয়টি পরিষ্কার করতে নেতানিয়াহুকে ওয়াশিংটনে ডাকা হয়েছে। তিনি প্রথম কোনো বিশ্বনেতা, শুল্ক আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। তিনিই প্রথম ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়েছেন। অন্যান্য বিশ্বনেতা শুল্কের বিষয়টি কীভাবে দফারফা করবেন, সেটা নেতানিয়াহুর বৈঠক থেকে অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
বৈঠকে ট্রাম্প বারবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন। কিন্তু তিনি ইসরায়েলের ওপর আরোপিত শুল্ক কমাবেন—এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি। প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি মতের পরিবর্তন করবেন? জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘বোধহয় না’। তিনি প্রতিবছর ইসরায়েলকে দেওয়া শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র সহায়তার কথা উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর ইসরায়েলকে ৪০০ কোটি ডলার দিই। ইতিমধ্যে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র থেকে যথেষ্ট পাচ্ছে।’ তিনি এ অর্জনের জন্য নেতানিয়াহুকে অভিনন্দন জানান।
তুরস্কের বিষয়ে যুক্তিসংগত হওয়ার পরামর্শ
গত বছরের শেষ দিকে সিরিয়ায় বাশার আল–আসাদ সরকারের পতনের পর নিজ নিজ স্বার্থে সে দেশে প্রতিযোগিতায় নেমেছে ইসরায়েল ও তুরস্ক। ইসরায়েলের আশঙ্কা, সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব অতীতে ইসলামপন্থী ছিল। এই নতুন নেতৃত্ব ইসরায়েল সীমান্তে নতুন করে হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে ইসরালয়েল সিরিয়ার ভূখণ্ডে বাফার জোন তৈরি করেছে। ইসরায়েল বলছে, নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই বাফার জোন বজায় রাখবে।
তুরস্ক আবার সিরিয়ায় নতুন খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দেশটির এই ভূমিকায় ইসরায়েলের নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সিরিয়ার অভ্যন্তরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে পারে তুরস্ক। নেতানিয়াহু গত মঙ্গলবার বলেছেন, সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি ‘ইসরায়েলের জন্য ভয়ংকর’ হবে।
একসময় ইসরায়েলের আঞ্চলিক অংশীদার ছিল তুরস্ক। গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস ও নির্বিচার হামলা ঘিরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। তখন থেকেই সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েফ এরদোয়ান গাজায় ইসরায়েলি হামলার কড়া সমালোচক। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন সময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
ক্রমাগত ইসরায়েলের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন এমন একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু ঘনিষ্ঠ মিত্রের সমর্থন আশা করেছিলেন। আশা করেছিলেন, ট্রাম্প তাঁকে সহযোগিতার আশ্বাস দেবেন। উল্টো সিরিয়া নিয়ে এরদোয়ানের বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এসব দেশের মধ্যে নিজেকে সম্ভাব্য একজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচনা করছেন। তিনি তুরস্কের সঙ্গে কাজ–কারবারে নেতানিয়াহুর প্রতি ‘যুক্তিসংগত’ হওয়ার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক উদি সোমার বলেন, ‘এখানে ইসরায়েলকে ব্ল্যাঙ্ক চেক (কাজ করার অসীম স্বাধীনতা) দেওয়া হয়নি। এখানে কোনো নিঃশর্ত ভালোবাসা নেই। এটি শর্তসাপেক্ষ। নির্দিষ্ট পন্থায় শর্তসাপেক্ষে এই সম্পর্ক পরিচালিত হয়।’
গাজা যুদ্ধের অবসান চান ট্রাম্প
বৈঠককালে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলা এবং গাজায়ে আটক ইসরায়েলিদের বিষয়ে কথা বলেছেন। অন্যান্য ইস্যুর আলোচনায় এই বিষয়টি কিছুটা গুরুত্ব হারিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে গাজায় বন্দীদের দুর্দশা নিয়ে এবং তাদের মুক্ত করার বিষয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি ‘শয়তান অত্যাচারী হামাসের’ অবসান নিয়েও কথা বলেন। এ সময় ট্রাম্প বন্দীদের বিষয়ে সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং গাজার ‘মালিকানা’ ও ফিলিস্তিনিদের সেখান থেকে সরানো নিয়ে তাঁর আরেক পরিকল্পনার কথা বলেন। ইসরায়েলের এক সময়ের প্রান্তিক এই ধারণা এখন নেতানিয়াহুসহ দেশটির মূলধারার রাজনীতিবিদদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
অবশ্য এ নিয়ে মতভিন্নতা যে এখন আসন্ন, সে চিহ্ন ফুটে উঠছে বলে মনে হচ্ছে।
নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে গত মাসে গাজায় আবার নৃশংস আগ্রাসন শুরু করেছেন। হামাসকে নিশ্চিহ্ন করা পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যেতে তাঁর সরকারের ওপর মিত্রদের চাপ রয়েছে। তাঁকে দেখে মনে হচ্ছে, তিনি সহসা যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য তড়িগড়ি করছেন না। এমনকি গাজায় বন্দী ইসরায়েলিদের ফিরিয়ে আনার কোনো তাগাদাও অনুভব করছেন না।
ট্রাম্প অবশ্য এই বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তিনি বন্দীদের মুক্ত দেখতে চান এবং গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করতে চান। তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি, যুদ্ধ বন্ধ হবে এবং এ ক্ষেত্রে খুব বেশি দেরি করা যাবে না।’
| ইসরায়েলি হামলায় ধসে পড়ে একটি ভবনের নিচে এক ফিলিস্তিনি। ৯ এপ্রিল, গাজার শেজায়া। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিরিয়ায় দখল করা অঞ্চল ঘুরিয়ে দেখাতে পর্যটকদের কাছে টিকিট বিক্রি ইসরায়েলের
১৯৬৭ সালে আরব দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধের সময় গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরায়েল। গত বছরের ডিসেম্বরে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর মালভূমির ‘বাফার জোন’ (সংঘাতের প্রভাব এড়াতে বিশেষ অঞ্চল) দখলে নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। বর্তমানে সিরিয়ার বেশ কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইসরায়েলের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সামরিক পাহারায় বুলেটপ্রুফ বাসে করে পর্যটকদের ছোট ছোট দলকে সিরিয়ার ভূখণ্ডের সর্বোচ্চ আড়াই কিলোমিটার ভেতরে নেওয়া হবে। পথে পড়বে হারমন পর্বতের সিরীয় অংশ।
পর্যটকেরা রাদান নদীতে সাঁতার কাটতে পারবেন এবং নদীর তীরে ভ্রমণ করতে পারবেন। এ ছাড়া অটোমান সাম্রাজ্যের পরিত্যক্ত হেজাজ রেলপথের অংশ ঘুরে দেখতে পারবেন তাঁরা। এই রেলপথ অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী ইস্তাম্বুলকে হাফিয়া, নাবলুস ও সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেছিল।
ইসরায়েলে সামরিক বাহিনীর ২১০তম ডিভিশনসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন ও সংস্থা এই পর্যটনের আয়োজন করেছে। ‘নিরাপদ উত্তরে ফেরা’ নামে ইসরায়েলের একটি বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পর্যটন চালু করা হয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, ইসরায়েলের জন্য ওই অঞ্চলের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং যুদ্ধের সময়ের কাহিনিগুলো তুলে ধরা প্রয়োজন।
সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে দেশটিতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের দাবি, আসাদ সরকারের আমলে গড়ে তোলা অস্ত্রের মজুত ধ্বংস করতেই ওই হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া ১৯৭৪ সালের একটি চুক্তি লঙ্ঘন করে সিরিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ইসরায়েলের স্থলবাহিনী। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সিরিয়ার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন বাহিনীকে ইসরায়েল সীমান্ত থেকে দূরে থাকতে হবে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না পাওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবে ইসরায়েলি বাহিনী।
| গোলান মালভূমি। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্প-পুতিন দুজনই জেলেনস্কির বিদায় চান, তা কি সম্ভব
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয় দেশের নেতারাই চাইছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে জেলেনস্কি সরে যান।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প দাবি করেন, ‘আমরা এমন একটি অবস্থায় আছি, যেখানে ইউক্রেনে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, যেখানে সামরিক শাসন চলছে এবং বলতে কষ্ট লাগছে যে তাঁর (জেলেনস্কি) জনপ্রিয়তা ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।’
এর পাঁচ দিন পর পুতিন ট্রাম্পের বক্তব্যকে সমর্থন জানান। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আসলে তাঁর (জেলেনস্কির) কত শতাংশ জনসমর্থন আছে, সেটা বড় কথা নয়, তা ৪ শতাংশ বা যা-ই হোক না কেন। গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তাঁর জনপ্রিয়তা তাঁর সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ঠিক অর্ধেক।’ রুশ প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইউক্রেনের সাবেক শীর্ষ জেনারেল ভালেরি জালুঝনির দিকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন। এই জেনারেলকে গত বছর চাকরিচ্যুত করেছিলেন জেলেনস্কি।
ট্রাম্প ও পুতিন দুজনই জেলেনস্কির জনপ্রিয়তার বিষয়ে ভুল ছিলেন।
কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোশিওলজির জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির কূটনৈতিক টানাপোড়েন ইউক্রেনের ভেতরে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। ডিসেম্বরে তার জনপ্রিয়তা ছিল ৫২ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭ শতাংশে।
অবশ্য জরিপ অনুযায়ী, ৩৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় জেলেনস্কিকে বিশ্বাস করেন না।
সমালোচকেরা জেলেনস্কির বিরুদ্ধে নাগরিকদের বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ করেন। এ ছাড়া তিনি নিজের রাজনৈতিক দল ‘সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল’–এর ভেতর দুর্নীতি বন্ধে ব্যর্থ হয়েছেন, বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর ভেতরে দুর্নীতি বন্ধে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জালুঝনিকে বরখাস্ত করার জন্যও তাঁর সমালোচনা হয়।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জালুঝনির ব্যাপারে ঠিকই বলেছিলেন পুতিন। কারণ, জালুঝনিই ইউক্রেনের একমাত্র ব্যক্তি, যিনি জেলেনস্কিকে হারাতে পারেন।
শক্তপোক্ত, স্বল্পভাষী এই জেনারেলের ৬২ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে। তবে তিনি একাধিকবার বলেছেন, যুদ্ধ চলাকালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
জালুঝনি গত সপ্তাহে ইউক্রেনের বার্তা সংস্থা আরবিসি–ইউক্রেনকে বলেছেন, ‘যখন যুদ্ধ চলছে, তখন আমাদের সবার উচিত দেশকে রক্ষার জন্য কাজ করা, নির্বাচনের ব্যাপারে চিন্তা করা নয়।’
সে যা–ই হোক না কেন ২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার আগে জেলেনস্কি যেসব কৌশল গ্রহণ করেছিলেন এবং সফল হয়েছিলেন, সেগুলোই জালুঝনিও চতুরতার সঙ্গে করে চলেছেন।
জালুঝনি কদাচিৎ সাক্ষাৎকার দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর উপস্থিতি সীমিত করে রেখেছেন, যেন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে ভোটাররা আন্দাজ করতে থাকেন।
জালুঝনি ট্রাম্পের প্রতি মাত্র একবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। ৬ মার্চ লন্ডনের চাথাম হাউসে এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বব্যবস্থা ধ্বংসের’ এবং ‘পশ্চিমা বিশ্বের ঐক্য নিয়ে সন্দেহ তৈরির’ অভিযোগ তোলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনে দ্রুত একটি ভোটের আয়োজন করার দাবি করলে এর জবাবে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি ছিল স্পষ্ট, নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জালুঝনি এখন জেলেনস্কিকে চ্যালেঞ্জ করছেন না।
এদিকে শোনা যাচ্ছে, ট্রাম্পের প্রতিনিধিদল বারবার জেলেনস্কির বেসামরিক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যদিও তাঁদের জনপ্রিয়তা খুবই কম।
মার্চের শুরুতে ট্রাম্পের সহকারীরা ইউক্রেনের বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও দুবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া টিমোশেঙ্কোর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে।
একসময় যিনি তাঁর চুলের ‘হালো বিনুনি’ স্টাইলের জন্য পরিচিতি পেয়েছিলেন।
কমেডিয়ান থেকে রাজনীতিতে আসা জেলেনস্কি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার আগপর্যন্ত ২০১৯ সালের নির্বাচনে জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন টিমোশেঙ্কো।
কিন্তু বর্তমানে মাত্র ১০ দশমিক ৬ শতাংশ টিমোশেঙ্কোর প্রতি আস্থা রাখেন বলে কিয়েভভিত্তিক জরিপ সংস্থা রোজুমকভ সেন্টারের ২৫ মার্চের জরিপে উঠে এসেছে। টিমোশেঙ্কো ইউক্রেনের বাতকিভশচিনা (ফাদারল্যান্ড) নামের দলের প্রধান।
জেলেনস্কির পূর্বসূরি এবং প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পোরোশেঙ্কো অবশ্য জনপ্রিয়তায় টিমোশেঙ্কোর চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন।
জরিপ অনুযায়ী, ১৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় পেট্রো পোরোশেঙ্কোর প্রতি আস্থা রাখেন। ইউক্রেনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া পোরোশেঙ্কো ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং ভাষা ও জাতিগত বিভেদ ভুলে সব ইউক্রেনীয়কে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ওই নির্বাচনে জয় পান।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পোরোশেঙ্কো নানা দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি জেলেনস্কির কাছে পরাজিত হন।
পোরোশেঙ্কো নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্পের সহকারীরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে বৈঠকটি আগাম নির্বাচন নিয়ে ছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা তিনি অস্বীকার করেছেন।
পোরোশেঙ্কো ফেসবুকে লিখেছেন, শুধু যুদ্ধবিরতি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার শর্তে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরই ইউক্রেনে নির্বাচন সম্ভব।
ইউক্রেনের সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, সামরিক শাসন চলাকালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজন করা প্রায় অসম্ভব।
কারণ, ইউক্রেনে ভোট গ্রহণের জন্য প্রায় সাত লাখ সেনাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিতে হবে, যাতে তাঁরা ভোট দিতে পারেন বা চাইলে তাঁদের কেউ প্রার্থী হতে পারেন ও প্রচার চালাতে পারেন। এটি কার্যত অসম্ভব, বিশেষ করে যখন রুশ বাহিনী ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৫০ মাইল) দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনজুড়ে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও মার্চে রুশদের নতুন এলাকা দখলের অগ্রগতি ছিল কম।
বিশ্লেষণধর্মী টেলিগ্রাম চ্যানেল খোরটিটসিয়ার তথ্যমতে, রুশ বাহিনী মার্চ মাসে মাত্র ১৩৩ বর্গকিলোমিটার (৫১ বর্গমাইল) এলাকা দখল করতে পেরেছে, যার বেশি ভাগই দনবাসের। গত নভেম্বরে দখল করা ৭৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকার তুলনায় যা একেবারেই কম।
অবশ্য পুতিন তাঁর বাহিনীর ‘বড় জয়ের’ আশা করছেন এবং তিনি ট্রাম্প প্রস্তাবিত ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির জন্য একের পর এক নতুন শর্ত সামনে আনছেন।
ভোটের সময় জনসমাগম অনিবার্য, তাই রাশিয়ার প্রায় প্রতিদিনকার গোলাবর্ষণ ইউক্রেনের শহরগুলোর জন্য বড় নিরাপত্তা হুমকি।
সাধারণত ইউক্রেনে সরকারি বিদ্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনে ভোটকেন্দ্র করা হয়। কিন্তু যুদ্ধে ইতোমধ্যে হাজার হাজার ভবন ধ্বংস হয়েছে।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সোভিয়েত যুগ–পরবর্তী ইউক্রেনের প্রতিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারবে না কিয়েভ।
| ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ কিয়েভের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শামিল হতে হবে ফিলিস্তিন বাঁচানোর মহাযুদ্ধে by মাহবুব নাহিদ
স্ট্রাইকস ফর গাজা, নো ওয়ার্ক, নো স্কুলে সংহতি জানিয়েছে সারা বিশ্ব। আমাদের দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ নেমে গেছে রাস্তায়। কিন্তু আমাদের খুঁজতে হবে সমাধানের পথ। আমরা যখন এখানে বসে হিসাব লিখছি ফিলিস্তিনে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সবচেয়ে কঠিন খবর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রেও মানুষ পথে নেমেছে, কিন্তু নতুন মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার পরই যেন ইসরাইলের আক্রমণের মাত্রা বেড়েছে, এটাই কি তাহলে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার? এমনকি আমেরিকা ইরানে হামলা করার পরিকল্পনা করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা সৌদি আরবের সহায়তা চায়। ন্যাটোভিত্তিক যতগুলো দেশ আছে, তাদের একটা নীতি আছে। যদি জোটের অন্তর্ভুক্ত কোনো দেশের ওপর হামলা হয়, তাহলে তারা ধরে নেবে যে সকলের ওপরেই হামলা হয়েছে। এমনটা নিয়ম ‘ওআইসি’র কি আছে? আছে কি নাই সে প্রশ্নে যাওয়ার আগে, একটা প্রশ্ন তুলতেই হবে, যেই প্রশ্নটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ তুলেছে। পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার অস্ত্রশস্ত্র আছে কিন্তু তা ফিলিস্তিনের ভাইদের কোনো কাজে আসে নাই। নীল নদের এত পানি থাকতেও ফিলিস্তিনের মা-বোনেরা পানির অভাবে মারা যাচ্ছে। তুরস্ককে তথা এরদোয়ানকে তো সবাই মুসলিম ভ্রাতৃত্বের নেতা বা কাণ্ডারি হিসেবেই ধরে নিতেন, কিন্তু কোথায় এখন তিনি? তিনি কি গোপনে ইসরাইলের সঙ্গে অস্ত্র ব্যবসায় ব্যস্ত? সৌদি আরব বা আরব আমিরাতের এত তেল, কিন্তু গাজার হাসপাতালে কোনো জ্বালানি নাই। কী লাভ আমার ২২০ কোটি মুসলমান থেকে, কীইবা লাভ ৫০ লাখ মুসলিম সৈন্য দিয়ে?
ইসরাইল রাষ্ট্রের সূচনালগ্নে থেকেই তারা বিভিন্নভাবে ফিলিস্তিনের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। নতুন করে ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর থেকে হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। গাজা, রাফাহসহ বিভিন্ন এলাকায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। ইসরাইলের বিপক্ষে ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে হামাস। হামাসের এই যুদ্ধে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় ইরান। ইরান যে হামাসের পক্ষে থাকার ঘোষণা দিয়েছে তার মধ্যে আবার দুইটা ভিন্ন দিকও আছে। প্রথমত, ইরান কিন্তু একসময় ইসরাইলের পক্ষে ছিল, এমনকি ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া দ্বিতীয় মুসলিম দেশও কিন্তু ইরান। পরবর্তীতে তাদের দেশে ইসলামিক বিপ্লব আসার পরে ইরান ফিলিস্তিনপন্থি হয়ে যায়, এমনকি তারা ইসরাইলি দূতাবাস ভেঙে দিয়ে সেখানে ফিলিস্তিনি দূতাবাস গড়ে তোলেন। আরেকটা দিক হচ্ছে, ইরান শিয়া অধ্যুষিত দেশ হয়েও ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে যেখানে কথা ছিল সুন্নি মুসলিমদের নেতৃত্বস্থানীয় দেশ সৌদি আরবের এগিয়ে আসা। তবুও ইরান যে এসেছে, সেটাকেই সাধুবাদ জানানো উচিত।
প্রশ্নের মাঝেও অনেক প্রশ্ন থেকে যায়, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওই একটাই, আসলেই কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে ওঠবে? বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসলেই যদি হয়ে যায় তাহলে পারমাণবিক অস্ত্রের নগ্ন খেলায় যেভাবে সবাই মেতে উঠবে তাতে পৃথিবী একটা শ্মশানে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক প্রকট। ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে বাইডেন যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন কিছুটা হলেও গতি শ্লথ ছিল ইসরাইলের, কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরে এই গতি বেড়ে যায়। ইসরাইলের আসলে লক্ষ্য কী? কেন এই ইসরাইল রাষ্ট্র গড়ে উঠলো তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা প্রয়োজন। কিন্তু ইহুদিদের যে বিশ্বাস সেই বিশ্বাস ভ্রান্ত হলেও তা থেকে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী তাদের সবাইকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য একজন মাসিহ বা ত্রাতা আসবেন। সেই ত্রাতা আসতে হলে কিছু শর্ত আবার পূরণ করতে হবে তাদের। পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সকল ইহুদিদের এক জায়গায় আনতে হবে। তাদের একটা নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বর্তমানে যেখানে আল আকসা মসজিদ আছে, সেটা ভেঙে থার্ড টেম্পল বা কিং সালমানের মূর্তি স্থাপন করতে হবে। এজন্য আবার তাদেরকে পবিত্র হতে হবে, তাদের ভাষ্যমতে, এখন তারা অপবিত্র অবস্থায় আছে। পবিত্র হওয়ার জন্য তাদের এক বিশেষ লাল গরুর প্রয়োজন হবে, যার মাধ্যমে তারা পবিত্র হবে। অর্থাৎ তাদের সেই মাসিহ যে দাজ্জাল তা বোঝাই যায় আর তাদের উদ্দেশ্যের মাঝে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে বিলীন করে দিয়ে সেখানে তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। আরেকটা উদ্দেশ্য হচ্ছে আল আকসা মসজিদ ভেঙে দেয়া। এই উদ্দেশ্য সফল করতে হলে যে চরম এক সংকট তৈরি হবে তা বোঝাই যাচ্ছে। আর ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের প্রেক্ষাপটেই কিন্তু জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা বিশ্বের যথেষ্ট ভূমিকা ছিল।
এখন আল আকসা মসজিদ ভেঙে দিতে গেলে সারা বিশ্বের মুসলমানের অন্তরে আঘাত লাগার মতো বিষয়। এই মসজিদের সঙ্গে মুসলমানদের আত্মিক যোগাযোগ। এই মসজিদ মুসলমানদের প্রথম কিবলা। এখান থেকে প্রিয় নবী (স.)কে মেরাজে নিয়ে যাওয়া হয়। অর্থাৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ধ্বংস করা বা আল আকসা মসজিদ ভাঙার মতো পদক্ষেপ নিতে গেলে বিশ্বযুদ্ধ লেগে যাবেই। আর সেই যুদ্ধ ধর্মযুদ্ধই হতে যাচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবে মুসলিম বিশ্বের এখনই উচিত প্রচণ্ড চাপ দেয়া শুরু করা। চাপ দেয়ার আগে নিতে হবে কিছু চাপ। সেটা হচ্ছে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে এগিয়ে আসতে বৃহৎ ঐক্যের মাধ্যমে। নিজেদের এই স্বার্থ রক্ষার্থে প্রথমে সবার মাঝে ইস্পাত কঠিন দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এখন কে শিয়া, এক সুন্নি এই দ্বন্দ্ব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সকল যুদ্ধ বিগ্রহের মূলে লুকিয়ে থাকে বৈশ্বিক বাণিজ্য। ইসরাইলের বাণিজ্যের পথকে যদি কঠিন করে তোলা যায় তাহলে কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। তাদের বিশ্বব্যাপী ব্যবসার যে জাল ছড়িয়ে আছে তাতে যদি ভাঙন ধরানো যায় তাহলে কাজ অনেকটা এগিয়ে যাবে। পশ্চিমা বিশ্বের সকলেই যে ইসরাইল বা আমেরিকার পক্ষে চোখ বন্ধ করে লড়াই করবে তা কিন্তু নয়। এই কারণে প্রথমে নিজেদের মধ্যে ঐক্য স্থাপন করার পরে ইসরাইল এবং আমেরিকার শত্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। প্রথমে নিজেদের সংগঠন ওআইসিকে শক্ত করে দাঁড় করিয়ে সবাই মিলে ভীত নাড়িয়ে দিতে হবে জাতিসংঘের।
এই যে সীমাহীন নির্যাতন চালাচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী, তার ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। অনেক সামাজিক মিডিয়া ওদের দখলে হলেও, ওদের মিডিয়া দিয়েই ওদেরকে পরাহত করা সম্ভব। বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তোলার একটা উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ইতিমধ্যেই স্ট্রাইকস ফর গাজা ভালোই একটা মাত্রা পেয়েছে, এটাকে বিশ্বব্যাপী জোরদার করে তুলতে হবে। ওদের তৈরি অস্ত্র দিয়েই ওদেরকে কাবু করার পাঁয়তারা করতে হবে।
আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, আমরা একটা জোয়ার তুলি, কিছুদিন পরে তা আবার মিইয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আগাতে হবে। পণ্য বয়কটের একটা ডাক আসে মাঝেমধ্যে, কিন্তু এটাকে একদম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে করতে হবে। আসলেই ইসরাইলের সঙ্গে জড়িত যেসব পণ্য আছে সেগুলোকে সঠিকভাবে বাছাই করতে হবে। ব্যবসায়িকভাবে আঘাত করার চেয়ে বড় কোনো অস্ত্র নাই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ক্ষমতায় রিপাবলিকান পার্টি, তাদের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে যোগাযোগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র অনেক ক্ষমতাধর, কিন্তু তার মানে তো এই নয় যে কেউ তাদেরকে ছুঁতে পারবে না। প্রয়োজনে ডেমোক্রেটদের সঙ্গে এটা নিয়ে যোগাযোগ করতে হবে।
স্বাধীন ফিলিস্তিনের মাটিতে যে অত্যাচার ইসরাইল চালাচ্ছে তা বন্ধ করা জরুরি। ফিলিস্তিনকে তাদের পুরাতন সীমানায় ফিরিয়ে দিতে হবে। এভাবে জাতিগত নিধন অনেকেই অনেক সময় চেষ্টা করেছে করার জন্য, কিন্তু দিনশেষে প্রত্যেকেই ব্যর্থ হয়েছে। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ব্যর্থ হবে নিশ্চিত, তবে আর কোনো ভাইয়ের যেমন জীবন না যায় তার জন্য রুখে দাঁড়াতে হবে, প্রয়োজনে মার্চ টু গাজা ডাক দিতে হলেও দিতে হবে। আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম গুলির সামনে দাঁড়াতে শিখে গেছে। অনেকেই মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ঘুরে এসেছে। কেউ যদি নাও দাঁড়ায় বাংলাদেশের অন্তত পাঁচ কোটি মানুষ জীবন দিতে প্রস্তুত থাকবে। কিন্তু দাঁড়াতে হবে ক্ষমতাধরদের, সৌদি, ইরান, তুরস্ককে সব ভেদাভেদ ভুলে ইরানের সঙ্গে শামিল হতে হবে সকলের পেয়ারে ফিলিস্তিন বাঁচানোর মহাযুদ্ধে।
লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমেরিকাকে চীনের পাল্টা জবাব
তিনি আরও বলেছেন, বার বার শুল্ক বৃদ্ধি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুণ্ডামি এবং জবরদস্তি’কে আরও উন্মোচিত করবে। এটি একটি রসিকতায় পরিণত হবে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ছিল ২০ শতাংশ। সেটা এখন বাড়তে বাড়তে ১৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে। গত ২রা এপ্রিল ডনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের যেসব দেশের পণ্যে উচ্চহারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৯ই এপ্রিল বুধবার তা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই দিনই তিনি জানান যে চীন, কানাডা ও মেক্সিকো বাদে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওপর ধার্যকৃত পাল্টা শুল্ক আগামী ৯০ দিনের জন্য স্থগিত থাকবে। তবে এই ৯০ দিন, দেশগুলোর সবার জন্য বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক হার প্রযোজ্য হবে। একই দিনে চতুর্থ বারের মতো চীনা পণ্যে শুল্ক বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাজারে চীনের পণ্যে সর্বশেষ ধার্যকৃত শুল্ক ছিল ১০৪ শতাংশ। বুধবার তা কার্যকর হওয়ার দিনই আবার বাড়িয়ে ১৪৫ শতাংশ করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সমপ্রতি বলেছিলেন, আমি আগেই সতর্ক করেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যদি কোনো দেশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তবে তারা সঙ্গে সঙ্গে নতুন ও অনেক বেশি হারে শুল্কের মুখোমুখি হবে।
এই প্রতিক্রিয়ায় চীন বলে, চীনকে চাপ বা হুমকি দিয়ে কখনোই লাভ হবে না। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন, তাদের সরকার উস্কানিকে ভয় পায় না। এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, প্রতিশোধমূলক শুল্ক নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাছে আরও একটি অভিযোগ করেছে চীন। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীনা পণ্যের বর্ডার ট্যাক্স ১০ শতাংশ বাড়ানোর পর ডব্লিউটিও’র কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিল চীন। এরপরে গত সপ্তাহে ডব্লিউটিওতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে তারা বিবাদ সংক্রান্ত আরেকটি আবেদন দাখিল করে। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে উচ্চ শুল্কের সম্মুখীন দেশগুলো এখন চীনের মতো তাদের অভিযোগও ডব্লিউটিও’র বিরোধ নিষ্পত্তি আদালতে নিয়ে যেতে পারে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউটিও’র আপিল সংস্থায় বিচারক নিয়োগে বাধা দেয়া শুরু করে। সংস্থাটি তাদের ক্ষমতার চেয়েও বেশি ভূমিকা রাখছে এই যুক্তিতে ওই পদক্ষেপ নেয় তারা। ফলে এই আদালত মূলত বর্তমানে কাজ করতে পারছে না এবং নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়েও খুব কমই ব্যবস্থা নিতে পারছে ডব্লিউটিও। প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ চীনের জনগণকে কীভাবে প্রভাবিত করছে? বিবিসি’র সাংবাদিক স্টিফেন ম্যাকডোনেল বলেছেন, চীনা ক্রেতাদের স্থানীয় ব্র্যান্ড কেনার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ অব্যাহত থাকায় বেইজিং এখনো অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে রয়েছে। এদিকে চীনের ঘোষণার পর, ইউরোপীয় স্টক মার্কেটগুলো লাল রঙে প্রবেশ করেছে। এর মানে হলো প্রারম্ভিক লেনদেনে সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার পর তিনটি প্রধান স্টক সূচক এখন নিম্নমুখী। পতনশীল বাজারের মানে হলো বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন বেশির ভাগ কোম্পানি মুনাফা হারাচ্ছে। কারণ তারা বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের প্রবণতা পণ্যের চাহিদা কমিয়ে দেবে এবং দাম বাড়িয়ে দেবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিনিয়োগ সম্মেলনে কী পেলো বাংলাদেশ? by এম এম মাসুদ
বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ইউএইসহ রেকর্ডসংখ্যক ৪২টি দেশের বাংলাদেশ সহ ছয়শ’র অধিক খ্যাতনামা বিনিয়োগকারী এতে অংশ নেন।
চার দিনব্যাপী বিনিয়োগ সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে সনদপত্র পেতে ভোগান্তি, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় এনবিআরের অসহযোগিতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও দুর্নীতি বড় বাধা। আরেকটি বড় বাধা হলো নীতির ধারাবাহিকতা না থাকা। তবে বিনিয়োগকারীদের এসব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো।
পাশাপাশি বিনিয়োগ পরিবেশের সীমাবদ্ধতা কাটাতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) থেকে তুলে ধরা হয়েছে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ। প্রথা ভেঙে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ বিষয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা দিতে সফররত বিনিয়োগকারী বা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে সরজমিন দেশের তিন প্রধান অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে নিয়ে যায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।
চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বকে বদলে দিতে বাংলাদেশে ব্যবসা নিয়ে আসার জন্য বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান। সম্মেলনে অংশ নিয়ে নামি-দামি বিদেশি কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, বদলে গেছে বাংলাদেশ; পরিণত হয়েছে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ গন্তব্য। পেয়েছেন নতুন বাংলাদেশের বার্তা। বাংলাদেশের ভোক্তা বাজার ধরতে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস, ফার্মাসিউটিক্যালস ও লাইন ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী তারা।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মতে, বিনিয়োগ নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে নেয়া বিভিন্ন সংস্কার অব্যাহত থাকলে আশা করা যায়, দেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে মিলেছে বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি। দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তিও করছে বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া এই বিনিয়োগ সম্মেলনে নতুন নতুন কর্মসংস্থানেরও পথ খুলছে।
অংশগ্রহণকারী ১০ বড় কোম্পানি: চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোম্পানি আলিবাবা এবারের সম্মেলনে যোগ দেয়। লন্ডনভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রফেশনাল সার্ভিসেস ফার্ম ডেলোয়েট প্রতিনিধি এ সম্মেলনে ছিল। সম্মেলনে বিশ্বের অন্যতম বড় ইলেকট্রনিকস উৎপাদক প্রতিষ্ঠান স্যামসাং, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে প্রভাবশালী কোম্পানি টয়োটা ট্যুসো করপোরেশন, বিশ্ব জুড়ে পেমেন্ট নেটওয়ার্ক সেবা প্রদানকারী কোম্পানি ভিসা, রাইড শেয়ারিং এবং লজিস্টিক সেক্টরে সুপরিচিত কোম্পানি উবার, চীনের সরকারি মালিকানাধীন বড় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং, চীনের শক্তি এবং অবকাঠামো নির্মাণে বিশেষায়িত কোম্পানি পাওয়ার-চায়নার প্রতিনিধিরা সম্মেলনে যোগ দেন।
শিল্পনগর পরিদর্শন: বিডা আয়োজিত বিনিয়োগ সম্মেলনে আসা প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৪০টি দেশের অর্ধশতাধিক বিনিয়োগকারী চট্টগ্রামের কেইপিজেড ও মিরসরাই স্পেশাল ইকোনমিক জোন (শিল্পনগর) পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বিএসইজেড) পরিদর্শন করেছেন। তারা এসব অঞ্চলে বিনিয়োগকারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিবেশ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছেন। পরিদর্শনকালে, সুইডিশ কোম্পানি নীলর্নের বাংলাদেশ ইউনিট নীলর্ন বাংলাদেশ লিমিটেড সেখানে একটি কারখানা স্থাপনের জন্য বিএসইজেড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে। পরে বিভিন্ন প্যানেল আলোচনা, সেমিনার, বিটুবি ও বিটুজিতে অংশ নেন। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তারা সরাসরি আলোচনা করেন।
রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ: দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রদের নতুন দল এনসিপি’র শীর্ষ নেতারা বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।
ব্যাপক সাড়া: বিনিয়োগ সম্মেলনটি শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ও ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সম্মেলনের শেষ দিনে এসে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের মনে প্রশ্ন, বহুল আলোচিত এ বিনিয়োগ সম্মেলনের প্রাপ্তি কতোটুকু? সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কতো মিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে? যদিও বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি পাওয়া-না পাওয়ার হিসাব-নিকাশ নিয়ে মোটেই উদ্বিগ্ন নন। বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। সেটা দূর করা। বিনিয়োগ সম্মেলনের তাৎক্ষণিক প্রাপ্তিতে তিনি বিশ্বাসী নন। আগামী ১০-১৫ বছর পর এ সম্মেলনের ফলাফল পাওয়া যাবে। গত ৯ই এপ্রিল বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে চৌধুরী আশিক আগামী ১০ বছর পর বাংলাদেশ কীভাবে বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে সে সম্পর্কে একটি তথ্যপূর্ণ উপস্থাপনা বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরেন।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর: সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিশ্বখ্যাত নামি-দামি ব্র্যান্ড ইন্ডিটেক্স গ্রুপ, ডিপি ওয়ার্ল্ড, জিওডারনো ও এক্সিলারের এনার্জিসহ কোম্পানির অনেক বিনিয়োগকারী রয়েছেন। এরইমধ্যে বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত বিনিয়োগকারী কোম্পানির শীর্ষ নীতি নির্ধারকরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ এক ধাপ এগিয়ে বিনিয়োগ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করেছেন। আন্তর্জাতিক মহাযান সংস্থা নাসার সঙ্গে চুক্তির বিষয়টিও বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে মোট চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। হাসান মহিন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস, দ্য এন্টারপ্রেনারস গ্রুপ এবং বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
উদ্যোক্তাদের জন্য ৪ তহবিল ঘোষণা: বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকার, জাইকা ও ইনসেপ্টার উদ্যোগে তরুণদের ব্যবসায়িক ধারণায় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে চারটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই উদ্যোক্তাদের জন্য ৮০০ কোটি টাকা ও ৪০০ কোটি টাকার দু’টি তহবিল খুলবে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) যৌথভাবে একটি তহবিল গঠন করছে। এ ছাড়া দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ইনসেপ্টা ১০ লাখ ডলারের একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।
চীনের বিনিয়োগ আকর্ষণে ৪,০৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে জি-টু-জি ভিত্তিতে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে ৪,০৬৫ কোটি টাকার পুনর্গঠিত বিনিয়োগ প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের বিনিয়োগ আকর্ষণে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের (সিইআইজেড) অবকাঠামো দ্রুত উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
কার্যক্রম সম্প্রসারণে আগ্রহী যুক্তরাজ্য: সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অধিবেশনে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ডনকাস্টার ডিবিইর ব্যারোনেস উইন্টারটন বাংলাদেশকে একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক’ ভবিষ্যতের দিকে ‘শান্তিপূর্ণ উত্তরণ’ রূপরেখায় যুক্তরাজ্যের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দু’দেশের বন্ধন পুনর্নবীকরণ এবং আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রেরণা জোরদার হয়েছে।
সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ: নবায়নযোগ্য জ্বালানি- সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। সম্মেলনে করপোরেট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (সিপিপিএ) পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ নিয়ে পোশাক বিপণনকারী সুইডিশ ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএম (হেন্স অ্যান্ড মরিটজ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) সঙ্গে চুক্তি করেছে শিল্প গ্রুপটি।
অর্থনৈতিক সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ জার্মানির: ঢাকায় বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দেয়া জার্মানির ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকায় জার্মান দূতাবাসের মতে, জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে ৯.৮১ বিলিয়ন ডলার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মন্তব্য: বিনিয়োগ সম্মেলনে কথা হয় মার্কিন কোম্পানি বাংলা ইউএস এলএলসি’র সিওও ড. মুমতাজুর রহমান দাউদের (রয়) সঙ্গে। তিনি জানান, ২৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে বাংলাদেশে হাসপাতাল ও সার কারখানা গড়ে তোলা হবে। ১৬০ কোটি ডলার মানে ১৯ হাজার ২শ’ কোটি টাকা বিনিয়োগে ৩শ’ শয্যার হাসপাতাল করা হবে। যাতে থাকবে উন্নতমানের সব সেবা। আর ৬০ কোটি ডলার ব্যয়ে চট্টগ্রামে একটি সার কারখানা করা হবে জানিয়ে ড. মুমতাজুর রহমান দাউদ আরও বলেন, পরে বিনিয়োগ হবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায়।
‘টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল’ শীর্ষক একটি সেশনে মূল প্রবন্ধে কোরিয়ান ইপিজেডের প্রতিষ্ঠাতা কিহাক সুং বলেন, সঠিক কৌশল ও সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ একক দেশ হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশের অবস্থানে রয়েছে। মোট কথা, এবারের বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নেয়া বিভিন্ন দেশের কোম্পানির প্রতিনিধিরা প্রাধান্য দিয়েছেন ওষুধ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃষি খাতকে। ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ পরিবেশ পেয়ে অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশের কৃষি ও জ্বালানি খাতকে বেছে নিচ্ছে নেদারল্যান্ডের আর্থিক প্রতিষ্ঠান এফএমও। প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া অঞ্চলের কৃষি, খাদ্য ও পানি বিনিয়োগ কর্মকর্তা প্রিসেন প্রহলাদসিং বলেন, আমরা বাংলাদেশ সম্পর্কে যা জেনেছি, তাতে এখানে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।
একনজরে বিনিয়োগ সম্মেলনের অর্জন: দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক লজিস্টিকস কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড বন্দর ও লজিস্টিক অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে বিনিয়োগেও তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সিমেন্ট খাতে বাংলাদেশের অন্যতম বিনিয়োগকারী হোলসিম গ্রুপ বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছে। এ গ্রুপের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান মার্টিন ক্লিয়েনজার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের কার্বন সংরক্ষণ প্রকল্প চালুর আগ্রহ দেখিয়েছে। স্পেনভিত্তিক পোশাক খাতের বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ইনডেটেক্সের সিইও ওস্কার গার্সিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধি দল। নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক চলতি বছরে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। টেক্সটাইল খাতে ১৫ কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীনভিত্তিক হান্দা ইন্ডাস্ট্রিজ। জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে অ্যাকসেসরিজ কারখানা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। শপআপ ১১ কোটি ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। এ ছাড়া প্রাণ গ্রুপের সঙ্গে বিদেশি একটি কোম্পানির বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএলওর সঙ্গেও হয়েছে একটি এমওইউ। এ ছাড়া মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
আগামী মাসে চীন থেকে ২০০ জনের একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে। তারা বিনিয়োগ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন।
সম্মেলনে বিনিয়োগে অবদানের জন্য চার ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলো- ওয়ালটন, বিকাশ, স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালস ও ফেব্রিক্স। এ ছাড়া বিশেষ ক্যাটাগরিতে কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং-কে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেয়া হয়। গত ৭ই এপ্রিল শুরু হয় ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলন’। চলে ১০ই এপ্রিল পর্যন্ত।
বিডা’র বক্তব্য: শেষ দিনে সংবাদ সম্মেলন করে বিডা’র ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, বিনিয়োগ সম্মেলনের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের প্রস্তাব কিংবা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখা হবে। বিনিয়োগ বিষয়ে ভবিষ্যতে তাদের প্রতিক্রিয়া নেয়া হবে। সব মিলিয়ে সম্মেলন অনেকটা সফল।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উদ্বেগ কাটেনি, সমাধানে জোর by এম এম মাসুদ
রপ্তানিকারক এবং বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কহার স্থায়ীভাবে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে তিন মাস সময়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে হবে। এ ছাড়া বর্তমানের বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ককে কীভাবে শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা যায়, তার কৌশল নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। শুল্ক-অশুল্ক বাধার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে এসব দূর করতে হবে।
এদিকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ ৯০ দিনের বিরতি চেয়ে গত সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে চিঠি দেন ড. ইউনূস। অন্যদিকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ পণ্য আমদানিতে শুল্ক সুবিধা চেয়ে বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারকে আলাদা চিঠি দিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। পরে ৯০ দিনের জন্য স্থগিতের অনুরোধে সাড়া দেয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এই বিরতি বাংলাদেশের প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময়। আপাতত তিন মাসের জন্য একটা স্বস্তি পাওয়া গেলেও ট্রাম্প প্রশাসন যাতে বাংলাদেশের ওপর আবার বাড়তি শুল্ক আরোপ না করে, সে জন্য সরকারকে যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে। আবার চীন নতুন করে আরও বাড়তি শুল্কের মুখে পড়ায় আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে পারে।
পোশাক কারখানার মালিকরা জানান, আগামী ৯০ দিনের বিরতিতে তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে উদ্বেগ থেকেই গেছে। কারণ ট্রাম্প ঘোষিত শুল্ক ৯০ দিন পর কার্যকর হলে বাংলাদেশের ৪০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক শিল্প সংকটে পড়বে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানিকারকদের ৫৩.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক গুনতে হবে।
আশঙ্কা: চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক বহাল থাকায় চীন ইউরোপে সস্তা কাপড়ে বাজার সয়লাব করে দিতে পারে। এটি বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য আরেকটি সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ যে ধরনের পণ্য বেশি রপ্তানি করে সেগুলোর গড় শুল্কহার ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ। এর সঙ্গে ১০ শতাংশ যোগ হয়ে আপাতত শুল্কহার ২৫ শতাংশ হবে। দেশভিত্তিক ৩৭ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যে মোট শুল্কহার ৫২ শতাংশে দাঁড়াতো। এরমধ্যে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ বাড়তি শুল্ক স্থগিত রাখার অনুরোধ জানায়। বাংলাদেশ সময় চেয়েছে তিন মাস।
তৎপর ঢাকা: চীন ছাড়া নতুন আরোপ করা পাল্টা শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এই সময়ে দেশগুলোর পণ্যে পাল্টা শুল্ক ন্যূনতম ১০ শতাংশ কার্যকর হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি শুল্ক তিন মাস স্থগিত করায় পরবর্তী করণীয় নিয়ে তৎপর হয়েছে ঢাকা। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হবে। শুল্ক স্থগিত করায় আলোচনার সময় আরও পাচ্ছি। সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছে তাই নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাণিজ্যে ঘাটতি কমানোর নানা পদক্ষেপ নিতে পারবো।
শুল্ক স্থগিত করার অনুরোধ রাখায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট মেনশন করে অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, ‘৯০ দিনের শুল্ক স্থগিত করতে আমরা যে অনুরোধ করেছিলাম, তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়ায় প্রেসিডেন্ট আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার বাণিজ্য এজেন্ডাকে সমর্থন জানাতে আমরা আপনার প্রশাসনের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবো।’
চীন থেকে রপ্তানি সরবে: ওদিকে অন্যান্য দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আপাতত স্থগিত করলেও চীনের প্রায় সব পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১৪৫ শতাংশ করেন ডনাল্ড ট্রাম্প। আগের দিন চীনের পণ্যে শুল্ক ১২৫ শতাংশ করার কথা বললেও বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস জানায়, এটা প্রায় সব পণ্যে হবে ১৪৫ শতাংশ। দেশটির ওপর এই শুল্ক ইতিমধ্যে কার্যকরও হয়েছে।
বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিকারকরা মনে করেছেন, এই শুল্ক শেষ পর্যন্ত বহাল থাকলে চীন থেকে মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সরবে। এতে বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ১২৫ শতাংশ শুল্ক বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্র তৈরি করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেননা, চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো পণ্যের দাম আগের চেয়ে দ্বিগুণ। ফলে চীন থেকে রপ্তানি এখন আর লাভজনক হবে না। ভিয়েতনামে আগেই চীনা উদ্যোক্তারা বড় বিনিয়োগ করে ফেলেছেন। সেখানে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ কম। ফলে চীনের বিনিয়োগ টানার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে।
তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র হিসাবে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এখন থেকে ২ ডলারের একটি কটন টি-শার্ট চীন থেকে আমদানি হলে মোট শুল্ক দিতে হবে ২.৮৩ ডলার। ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ থেকে একই টি-শার্ট রপ্তানি হলে শুল্ক দিতে হবে ০.৫৩ ডলার।
বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, উচ্চ শুল্কের কারণে চীনের ক্রয়াদেশ সরবে। কারখানাও স্থানান্তরিত হবে। চীনের হারানো ব্যবসা নিতে বাংলাদেশকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
পুরস্কৃত করবেন ট্রাম্প: বিশ্বের অনেক দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সমঝোতার চেষ্টা করেছে গত কয়েকদিনে। হোয়াইট হাউসের তরফে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যেসব দেশ প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করেনি তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউস বাণিজ্যিক অংশীদারদের প্রতি একটি কঠোর বার্তা পাঠিয়ে বলেছে, প্রতিশোধ নিতে যাবেন না, তাহলে আপনাকেও পুরস্কৃত করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পরিপালন করতে হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার নির্ধারিত এ সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে। যাতে মার্কিন প্রশাসন বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ককে শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনতে রাজি হয়। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের সঙ্গে লেগে থাকতে হবে। আলাদা যোগাযোগ করতে হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে। তিনিও মনে করেন, চীনা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ আসারও অনেক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি: গত জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। এ হার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারলেওটেক্সার তথ্য বলছে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি দুই মাসে প্রধান রপ্তানিকারক দেশ চীনের রপ্তানি বেড়েছে ৯ শতাংশেরও কম। ভিয়েতনামের বেড়েছে ১১ শতাংশ। ভারতের বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। পাকিস্তানের পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ২৩ শতাংশ হারে। তবে রপ্তানি আয়ের অঙ্কে চীন ও ভিয়েতনামের চেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। চীনের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৭৭ কোটি ডলার। ভিয়েতনামের ২৬৩ কোটি ডলারের মতো। বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১৫০ কোটি ডলার। ভারত ও পাকিস্তানের রপ্তানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৯৬ কোটি ডলার ও ৩৬ কোটি ডলার। গত কয়েক মাসের রপ্তানি প্রবণতা বলছে, চীন ও ভিয়েতনামের সঙ্গে রপ্তানি পরিমাণের ব্যবধান কমছে। এই পরিসংখ্যান ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রপ্তানিকারকরা।
উল্লেখ্য, গত ২রা এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশে প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশসহ বিভিন্ন হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ৯ই এপ্রিল। ডনাল্ড ট্রাম্প কার্যকরের দিনে তিন মাসের জন্য দেশভিত্তিক বাড়তি শুল্ক আরোপ স্থগিত করেন। তবে ২রা এপ্রিলের ঘোষণায় কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সব পণ্যের ওপর সব দেশের জন্য ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়, যা ৫ই এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়ে গেছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন আটক মেঘনা আলম?
আটকের আগে বুধবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে মেঘনা অভিযোগ করেছিলেন, ভাটারা থানা পুলিশ পরিচয়ে কিছু লোক তার বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছে। তিনি লাইভে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ পরিচয়ধারীরা প্রথমে পরিচয় গোপন করে বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু দরজা না খোলায় একপর্যায়ে তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার বাসায় মাদক আছে বলে দাবি করে। এ কথা শুনে তিনি আতঙ্কিত হয়ে বলেন, আমি কখনো মাদক নেই না। আমাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। একপর্যায়ে লাইভে থাকা অবস্থাতেই মেঘনা তার আইনজীবীকে ফোন করেন। পরে আইনজীবীর পরামর্শে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। সেই কল শেষ হওয়ার আগেই পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করছে বলে লাইভে জানান মেঘনা। এরপর অন্য একটি কক্ষে গিয়ে তিনি দরজা বন্ধ করে দেন। সেটিও ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কয়েকজন। তবে দরজা ভেঙে কারা ভেতরে ঢুকেছে, তা লাইভে দেখা যায়নি। ভেতরে ঢুকেই একজন নারী মেঘনার হাত থেকে তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। এরপরই লাইভটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে মেঘনার বোন তাসিন আফরিন দিয়ানা ফেসবুকে দেয়া এক পোস্ট করে বলেন, আমার বোনকে অপহরণ করা হয়েছে। দুই ঘণ্টা ধরে মিসিং।
গতকাল ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাকে অপহরণ করার অভিযোগ সঠিক নয়। সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্ক মিথ্যাচার ছড়ানোর মাধ্যমে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক অবনতির অপচেষ্টা করা এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, মডেল মেঘনাকে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক করা হয়েছে। আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী, ক্ষতিকর কাজ থেকে নিবৃত রাখার জন্য সরকার যেকোনো ব্যক্তিকে আটক রাখার আদেশ দিতে পারবেন। আবার এই আইনের ৩(২) ধারা অনুযায়ী, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট হন যে, এই আইনের নির্দিষ্ট ধারার ক্ষতিকর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত, তাহলে ওই ব্যক্তিকে আটক রাখার আদেশ দেবেন। এই আইনে অনুযায়ী বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বা প্রতিরক্ষার ক্ষতি করা, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সংরক্ষণের ক্ষতি করা, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার ক্ষতি করা, বিভিন্ন সমপ্রদায়, শ্রেণি বা গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণাবোধ বা উত্তেজনা সৃষ্টি করা, আইনের শাসন বা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা বা উৎসাহ প্রদান করা বা উত্তেজিত করার কাজে যুক্ত ব্যক্তিকে আটকাদেশ দেয়া যায়। এছাড়া জনসাধারণের জন্য অত্যাবশ্যক সেবা বা অত্যাবশ্যক দ্রব্যাদি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করা, জনসাধারণ বা কোনো সমপ্রদায়ের মধ্যে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বা আর্থিক ক্ষতি করার কাজে যুক্তকে এই আইনে আটকে রাখা যায়। ২০২০ সালের ৫ই অক্টোবর মেঘনা আলম ‘মিস আর্থ বাংলাদেশ’- প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন। পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে নারী উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগের জন্য এই পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধ মোকাবিলায় ইইউ’কে পাশে চান শি জিনপিং
এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, গত সপ্তাহে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পর এ বিষয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মন্তব্য করলেন চীনের প্রেসিডেন্ট। যেকোনো বাণিজ্যযুদ্ধ কাউকে বিজয়ী করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন শি জিনপিং। বলেছেন, বাণিজ্যযুদ্ধে কেউই জয়ী হতে পারে না। বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে ইইউ’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটির ওই নেতা। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের আলোচনা করা দরকার। পাশাপাশি ইইউ’র সঙ্গে চীনের আরও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ইউরোপের যেসব দেশের সঙ্গে চীনের সরাসরি বাণিজ্য রয়েছে তাদের বিষয়টির ওপর জোর দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সানচেজ। তবে বিশ্ববাণিজ্য স্থিতিশীল করতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর বিশেষ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, চীন ও ইইউ’র উচিত আন্তর্জাতিক দায়িত্বপালন করা। বিশ্বায়নের ধারা বজায় রেখে বিশ্ববাণিজ্যের পরিবেশ রক্ষা এবং মার্কিন শুল্ক হুমকির যৌথ বিরোধিতা করারও আহ্বান জানিয়েছেন শি জিনপিং। স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনায় ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে লড়াই করার বিষয়ে কথা হয়েছে। সেখানে শি বলেছেন, শুল্ক যুদ্ধে কেউই জয়ী হতে পারে না। ট্রাম্প বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাণিজ্য যুদ্ধ ভালো না, এ বিষয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা প্রয়োজন। ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বৈশ্বিক প্রভাবের মধ্যে বেইজিং সফর করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী। উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরালো করতে সানচেজের এই সফর ইইউ এবং চীনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপের বাজারে চীনা বিনিয়োগকারী আকর্ষণে জোর দিয়েছেন সানচেজ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন এত বিচ্ছেদ? by ফাহিমা আক্তার সুমি
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের এক হিসাবে দেখা গেছে নারীরা তালাকের রেকর্ড করেছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তথ্য মতে, ২০২০ সালে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট তালাকের আবেদন পড়েছে ৬ হাজার ১৬৮টি। এর মধ্যে নারী করেছেন ৪ হাজার ৫৩টি আর পুরুষ করেছেন ২ হাজার ১১৫টি। মোট তালাক কার্যকর হয়েছে ৩ হাজার ৪৪২টি। ২০২১ সালে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট তালাকের আবেদন পড়েছে ৭ হাজার ৪১৪টি। ৪ হাজার ৮১টি আবেদন করেছেন নারী। আর ১ হাজার ৭৬২টি আবেদন করেছেন পুরুষ। এ বছরে মোট তালাক কার্যকর হয়েছে ৪ হাজার ৬৭৪টি। ২০২২ সালে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট তালাকের আবেদন পড়েছে ৫ হাজার ৫৯০টি। ৩ হাজার ৬৩৭টি আবেদন করেছেন নারী। আর ২ হাজার ২টি আবেদন করেছেন পুরুষ। মোট তালাক কার্যকর হয়েছে ৪ হাজার ২১১টি। ২০২৩ সালে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট তালাকের আবেদন পড়েছে ৬ হাজার ৩৯৯টি। ৪ হাজার ১৮২টি তালাকের আবেদন করেছেন নারী। আর ২ হাজার ২১৭টি আবেদন করেছেন পুরুষ। এ বছরে মোট তালাক কার্যকর হয় ৩ হাজার ৪৩৫টি। ২০২৪ সালে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট তালাকের আবেদন পড়েছে গড়ে ২ হাজার ৫২১টি। ১ হাজার ৫৬১টি তালাকের আবেদন করেছেন নারীরা। আর ৯৬০টি আবেদন করেছেন পুরুষ। মোট তালাক কার্যকর হয় ১ হাজার ৫০৮টি। এ সিটিতে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গত পাঁচ বছরে মোট তালাকের আবেদন পড়েছে ২৮ হাজার ৯২টি। এর মধ্যে পুরুষরা আবেদন করেছেন ৯ হাজার ৫৬টি এবং নারীরা করেছেন ১৭ হাজার ৫১৪টি।
একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) গত পাঁচ বছরে তালাকের আবেদন পড়েছে ৩৬ হাজার ৫০৭টি। এর মধ্যে ২৬ হাজার ৪৪টি আবেদন করেছেন নারীরা আর ১০ হাজার ৪৬৩টি আবেদন করেছেন পুরুষ। ডিএসসিসি’র তথ্য মতে, ২০২০ সালে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তালাকের আবেদন পড়েছে ৬ হাজার ৩৪৫টি। ৪ হাজার ৪২৮টি আবেদন করেছেন নারী। আর এ বছরে ১ হাজার ৯১৭টি আবেদন করেছেন পুরুষ। ২০২১ সালে মোট তালাকের আবেদন পড়েছে ৭ হাজার ২৪৫টি। ৫ হাজার ১৮৩টি আবেদন করেন নারী। আর ২ হাজার ৬২টি আবেদন করেন পুরুষ। ২০২২ সালে মোট তালাকের সংখ্যা ৭ হাজার ৬৯৮টি। নারীরা করেছেন ৫ হাজার ৩৮৩টি। আর পুরুষ ২ হাজার ৩১৫টি। ২০২৩ সালে মোট তালাকের আবেদন ৭ হাজার ৩০৬টি। নারীরা করেছেন ৫ হাজার ২৮৬টি। আর পুরুষ ২ হাজার ২০টি। ২০২৪ সালে মোট তালাকের আবেদন সংখ্যা ৭ হাজার ৯১৩টি। নারীরা করেছেন ৫ হাজার ৭৬৪টি। পুরুষ আবেদন করেছেন ২ হাজার ১৪৯টি।
দুই সিটিতে নারীদের করা আবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়া, ভরণ-পোষণ না দেয়া, স্বামীর সন্দেহবাতিক মনোভাব, কাবিন না হওয়া, স্বামী মাদকাসক্তি, যৌতুক, নির্যাতন, মানসিক পীড়ন, পরকীয়া, আর্থিক সমস্যা, বেপরোয়া জীবনযাপন, বদমেজাজ, সংসারের প্রতি উদাসীনতা, সন্তান না হওয়া, টিকটকসহ সামাজিক মাধ্যমে অবাধ বিচরণ করাসহ বিভিন্ন কারণে ঘটছে বিচ্ছেদের ঘটনা।
এ বিষয়ে দুই সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারী বা পুরুষ যে কারও কাছ থেকে যখন তালাকের অভিযোগটি আসে তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দুই পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেন। যেন এটি তালাকের পর্যায়ে না গিয়ে একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি বা সংসারটি যাতে টিকে যায় সেই চেষ্টা থাকে। আবেদনকারীদের নিয়ে কয়েকটি শুনানি হয়, একাধিকবার বসে। যখন দেখা যায় কেউই শুনতে চাচ্ছে না বা সংসার করতে আগ্রহী না, সর্বশেষ পর্যায়ে গিয়ে তালাকের সিদ্ধান্তে আসে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম মানবজমিনকে বলেন, ‘তালাক’ শব্দটি খুবই নীতিবাচক। কে কার সঙ্গে থাকবে না এটি একজন মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। খুবই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কারোরই মাথা ঘামানো উচিত না। দু’টি মানুষের মাঝে এমন কি পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে যে তারা আলাদা হয়ে যাচ্ছে- এটি তাদের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে লক্ষণীয় যেটা, আগে আমরা দেখেছি কথায় কথায় ছেড়ে দিতে পারতো নারীকে, সেখানে দেশে নারীদের উন্নয়নে বিয়ে সংক্রান্ত, চাইল্ড কাস্টুরি এসকল জায়গায় যে আইনগুলো আছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে যখন যে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় এসেছে তারা কিন্তু বিভিন্নভাবে এই আইনগুলো বেশ নারীবান্ধব করে তুলেছে। এবং নারীবান্ধব শুধু করেইনি নারীদেরকেও সচেতন করেছে। এক্ষেত্রে বেসরকারি সংগঠন, সরকারি পর্যায় একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, স্থানীয় সরকার কর্তৃক সেমিনার হচ্ছে, টেলিভিশনে সচেতনতামূলক নাটক হচ্ছে। তিনি বলেন, মাদকাসক্তি একটা ভয়াবহ কারণ। অনেক মেয়ে জেনেও বিয়ে করছে। যখন দেখছে সে প্রতিনিয়ত নেশায় আসক্ত স্বামীর দ্বারা মারধরের শিকার হচ্ছে, তখন কিন্তু সে থাকতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে সেই মেয়ের পরিবারও নিজ থেকে মেয়েকে রক্ষা করছে। অনেকে ডিভোর্স নিচ্ছে, কেবলমাত্র সে যে সাবলম্বী হয়েছে, তার একটা মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে সেটা না পরিবারও কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তার ভাই-বাবা বা তার চাচা-মামা কারও না কারও দ্বারা মানসিকভাবে হেয় হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, আমাদের পরিবারভিত্তিক সমাজব্যবস্থায় বিবাহ অপরিহার্য। আমরা বিবাহটাকে আইনগত ও সামাজিকভাবে একটা স্বীকৃত মাধ্যম হিসেবে পরিবার গঠনের একটা পূর্ব পর্যায় মনে করি। সেক্ষেত্রে এই পরিবার গঠনে সহনশীলতার অভাব কিংবা নারীর প্রতি নির্যাতন, মাদকাসক্তি, পরকীয়া নানাবিধ ঘটনা ঘটছে। এমন কিছু কিছু ঘটনা একটা পর্যায়ে গিয়ে বিষাক্ত করে তোলে সংসার জীবন। নারী-পুরুষ যেই হোক, বিবাহবিচ্ছেদ ঘটলে সমাজব্যবস্থা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। সেই ঝুঁকির মাত্রাটা তাদের সন্তান এবং পরিবারে প্রবীন ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি প্রভাব বিস্তার ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাদের উপরেও একটা নীতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়।
আইনজীবী কেএম মাহফুজ মিশু মানবজমিনকে বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ-তরুণী পুলিশি ঝামেলা এড়াতে পড়াশোনা অবস্থায় পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করছে। এই ধরনের মানুষগুলোর মধ্যে কিছুদিন যেতে না যেতেই ডিভোর্স হচ্ছে। যারা আমাদের কাছে আসেন, তাদের মধ্যে দেখা যায় একে অপরকে সম্মান না করা ছাড়া আরও অসংখ্য কারণ দেখান। দুই পক্ষ থেকে আমরা প্রথমে কথা শোনার চেষ্টা করি। এরপর বোঝাই যাতে তাদের সংসারটি টিকে থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, গোপনে যেমন বিয়ে হচ্ছে তেমনি গোপনে ডিভোর্সও হয়ে যাচ্ছে। তাদের কোনো পরিবারই জানছে না বিষয়গুলো। পারিবারিকভাবে বিয়ে যারা করছেন তাদের সংখ্যা খুবই কম দেখা যাচ্ছে। চাইলেই নারী-পুরুষ উভয়ই তালাক দিতে পারে, তবে সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে, নারীর দ্বারা ডিভোর্স বেশি হচ্ছে। একটি সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পারস্পরিক সম্মানবোধ থাকা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রী দু’জনই কেউ কাউকে বুঝতে চায় না। হেয় করে একে অপরের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বলেন, আমার কাছে তালাকের বিষয় নিয়ে যারা আসেন তাদের দীর্ঘদিন ধরে বুঝাতে চেষ্টা করি। অনেকের সংসার টিকে যায় আবার অনেকে শেষমেশ সিদ্ধান্তই নিয়ে নেয় ডিভোর্সের।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিলেটে চোরাই রাজ্যের নতুন নিয়ন্ত্রক করিম by ওয়েছ খছরু
যেসব পথ দিয়ে আসে চোরাই পণ্য: জৈন্তাপুর বাজারের চোরাচালানের গরু-মহিষসহ বিভিন্ন পণ্য আসে। সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় চোরাই পণ্য নিয়ে আসার ধুম। আর শেষ হয় ভোর রাতে। এ কারণে রাতে জেগে থাকে জৈন্তাপুর বাজার। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- খাঁসি হাওর, মোকামপুঞ্জি, শ্রীপুর, মিনাটিলা, আদর্শগ্রাম, কেন্দ্রী দিয়ে সীমান্ত দিয়ে নিয়ে আসা গরু মহিষ শেওলারটুক হয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার মঞ্জিলতলা, কাকুনাখাই, পাঁচ সেউতী হাওর দিয়ে কুওর বাজার, কেন্দ্রী লম্বাটিলা, ডিবির হাওর, ঘিলাতৈল, টিপরাখলা, করিমটিলা, ভিরতগোল, বাইরাখেল, হর্ণি, মাঝেরবিল, সাইনবোর্ড হয়ে বিভিন্ন পথে আসা গরু-মহিষ আসে। লালাখাল হয়ে নিয়ে আসা গরু-মহিষ দরবস্ত ও চতুল বাজারে প্রবেশ করে। বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসন থেকে এসব পণ্য নিরাপদ রাখতে করিমই মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
করিম আহমদের বক্তব্য: এ ব্যাপারে শুক্রবার বিকালে করিম আহমদের সঙ্গে কথা হয় মানবজমিনের। বাজার ইজারা প্রসঙ্গে তিনি বলেন- বাজারে শরীকান শতাধিক ব্যক্তি। ইজারাদার হিসেবে আমার নাম দেয়া হয়েছে। আমার নামে বাজার এলেও এখনো নিয়ন্ত্রণ পাইনি। ফলে বাজারে পশু কোথায় থেকে আসে সে ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। বলেন- আমি কখনো বিজিবি’র লাইনম্যান ছিলাম না। এখনো নেই। এসব বিষয়ে আমার ওপর সবসময় দোষ দেয়া হয়। কোনো সিন্ডিকেটও নেই বলে দাবি করেন। করিম বলেন- বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা টহল দেন। কোনো পণ্য নিয়ে আসা খুব কঠিন। এ কারণে ভারত থেকে কম পণ্য আসছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের শুল্ক নীতির নেপথ্যের কারিগর এই মার্কিন অর্থনীতিবিদ!
৭ এপ্রিল হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতি অনুসারে মিরান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমাদের ভঙ্গুর শিল্প ভিত্তির পুনর্নির্মাণ এবং মার্কিন শ্রমিক ও ব্যবসাকে শীর্ষে রাখার জন্য বাণিজ্যিক নীতি অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমাদের সামরিক ও আর্থিক আধিপত্যকে হালকাভাবে নিলে হবে না। ট্রাম্প প্রশাসন এর সংরক্ষণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
সেদিনই ট্রাম্প ঘোষণা করেন এবং চীনের উপর শুল্ক ১০৪ শতাংশে উন্নীত করা হয়। এরপর থেকে এটি ১২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। মিরান ২০০৫ সালে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। অর্থনীতি, দর্শন এবং গণিতে তিনি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০১০ সালে স্নাতক হন।
হার্ভার্ডে থাকাকালীন তিনি মার্টিন ফেল্ডস্টাইনের পরামর্শদাতা ছিলেন, যিনি একজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের অধীনে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনে যোগদানের আগে তিনি বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ সংস্থা হাডসন বে ক্যাপিটালে একজন সিনিয়র কৌশলবিদ ছিলেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে, হাডসন বে ক্যাপিটালে থাকাকালীন, মিরান ৪১ পৃষ্ঠার ‘বিশ্বব্যাপী ট্রেডিং সিস্টেম পুনর্গঠনের জন্য ব্যবহারকারীর নির্দেশিকা’ রচনা করেন। এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধার্থে বিশ্বব্যাপী ট্রেডিং এবং আর্থিক ব্যবস্থাগুলোকে সামঞ্জস্য করার জন্য একটি কাঠামোর রূপরেখা দেয়া হয়েছিল। এতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, অন্যান্য দেশ থেকে আমেরিকান রপ্তানির জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য শুল্ককে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এখন মনে হচ্ছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই কৌশল। ফলে আলোচনাতে উঠে আসছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অর্থনীতিবিদও। হাডসন ইনস্টিটিউটে এক বিবৃতিতে মিরান বলেছেন, ‘শুল্কের উপর অতিরিক্ত মনোযোগ দেয়া উচিত’। বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদ এবং কিছু বিনিয়োগকারী শুল্ক আরোপকে ‘ধ্বংসাত্মক’ বলে উড়িয়ে দেন। এই ধারণা ভুল।' মিরান বলেন যে, প্রেসিডেন্টের পারস্পরিক শুল্ক আরোপের লক্ষ্য রাজস্ব তৈরির পরিবর্তে বরং মুদ্রা কারসাজি এবং ডাম্পিংয়ের মতো অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনকে বন্ধ করা।'
সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১৩ বছর বয়সে গ্রেপ্তার করা ফিলিস্তিনি কিশোরকে ১০ বছর পর মুক্তি দিল ইসরায়েল
মুক্তি পাওয়া এই ফিলিস্তিনির নাম আহমেদ মানাশ্রা। ২০১৫ সালে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের এক প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
২০১৫ সালে কিশোর মানাশ্রার হামলা চালানো নিয়ে প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তাঁর সঙ্গে ১৫ বছর বয়সী রক্তসম্পর্কীয় ভাই হাসান। দুজন ইসরায়েলের অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের এক ইহুদি বসতিতে রান্নার কাজে ব্যবহৃত ছুরি নিয়ে ঘোরাফেরা করছেন। এ সময় হাসান ইসরায়েলি একটি কিশোর ও এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর আক্রমণ করে বসেন। এতে তাঁরা আহত হন। পরে মানাশ্রাকে গ্রেপ্তার ও হাসানকে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে মানাশ্রার বিষয়ে নজর রেখেছিল বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। এর মধ্যে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছিল, ‘নির্জন কারাবাসে রাখাসহ এই কিশোরের সঙ্গে মর্মপীড়াদায়ক অসদাচরণ করা হয়েছে। এতে মানসিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে সে।’
আহমেদ মানাশ্রার আইনজীবী খালেদ জাবারকা বিবিসিকে বলেন, কারাভোগ শেষে মানাশ্রা ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
ছুরিকাঘাতে দুই ইসরায়েলি আহত হওয়ার ওই ঘটনার পর মানাশ্রা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং একটি গাড়ি তাঁকে চাপা দেয়। ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হওয়া একটি গ্রাফিক ভিডিওতে দেখা যায়, ‘কিশোর মানাশ্রা রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে এবং এক ইসরায়েলি পথচারী তাকে ঠাট্টাবিদ্রূপ ও গালিগালাজ করছেন।’
এই ভিডিও ফুটেজ ওই সময় আরব বিশ্বে ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, মানাশ্রা মারা গেছেন। তবে এ ঘটনার কয়েক দিন পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ছবি প্রকাশ করে।
পরবর্তী সময়ে হত্যাচেষ্টায় অভিযুক্ত করে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি কিশোর মানাশ্রাকে সাড়ে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেয়।
চিকিৎসকেরা বলেছেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় মানাশ্রা মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হন এবং নিজের ও অন্যদের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন।
মানাশ্রাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য বারবারই আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ইসরায়েল তা নাকচ করে দেয়। এখন মানাশ্রা মুক্তি পেলেও তাঁর পরিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
আইনজীবী খালেদ বলেন, আহমেদের স্বাস্থ্যের কী অবস্থা, এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। এ মূহূর্তে তাঁর সুচিকিৎসা করাই স্বজনদের অগ্রাধিকার।
মানাশ্রার ঘটনায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও ইসরায়েলের বেসরকারি সংগঠন আদালাহ দেশটির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগ এনেছে।
![]() |
| হামলার অভিযোগে ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার করার পর ফিলিস্তিনি কিশোর আহমেদ মানাশ্রার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় তাঁর এ ছবি প্রকাশ করে ইসরায়েল সরকারের প্রেস অফিস। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1265)
-
▼
2025
(3280)
-
▼
April
(427)
-
▼
Apr 12
(15)
- ইরানে কি চান ট্রাম্প!
- শুল্কনীতি দিয়ে ট্রাম্প চেয়েছিলেন কী, পেলেন কী
- ট্রাম্পের কাছ থেকে কি এবার কিছুই পেলেন না নেতানিয়াহু
- সিরিয়ায় দখল করা অঞ্চল ঘুরিয়ে দেখাতে পর্যটকদের কাছে...
- ট্রাম্প-পুতিন দুজনই জেলেনস্কির বিদায় চান, তা কি সম্ভব
- শামিল হতে হবে ফিলিস্তিন বাঁচানোর মহাযুদ্ধে by মাহব...
- আমেরিকাকে চীনের পাল্টা জবাব
- বিনিয়োগ সম্মেলনে কী পেলো বাংলাদেশ? by এম এম মাসুদ
- উদ্বেগ কাটেনি, সমাধানে জোর by এম এম মাসুদ
- কেন আটক মেঘনা আলম?
- ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধ মোকাবিলায় ইইউ’কে পাশে চান শি...
- কেন এত বিচ্ছেদ? by ফাহিমা আক্তার সুমি
- সিলেটে চোরাই রাজ্যের নতুন নিয়ন্ত্রক করিম by ওয়েছ খছরু
- ট্রাম্পের শুল্ক নীতির নেপথ্যের কারিগর এই মার্কিন অ...
- ১৩ বছর বয়সে গ্রেপ্তার করা ফিলিস্তিনি কিশোরকে ১০ বছ...
-
▼
Apr 12
(15)
-
▼
April
(427)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

