Tuesday, February 21, 2017

এ সপ্তাহেই ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ?

অভিবাসন ও ভ্রমণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সপ্তাহেই নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করছেন। এই আদেশে আগের মতোই মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশ থেকে ভ্রমণ ও অভিবাসনে কড়াকড়ি থাকবে। তবে গ্রিনকার্ড বা ভিসা আছে—এমন লোকজনকে নতুন নির্বাহী আদেশে ছাড় দেওয়া হয়েছে। গত দুই সপ্তাহ থেকে নতুন নির্বাহী আদেশ আসছে বলা হচ্ছে। তবে এখনো হোয়াইট হাউস থেকে তা জারি করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র অভিবাসীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে গতকাল সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নতুন নির্বাহী আদেশের রূপরেখা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠজনদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, নতুন নির্বাহী আদেশে আগের মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশকেই লক্ষ্য করা হয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে ইরান,
ইরাক, সিরিয়া, সোমালিয়া, লিবিয়া, লেবানন ও সুদান। আদালতের নির্দেশে আটকে যাওয়া এ-সংক্রান্ত প্রথম নির্বাহী আদেশে সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। নতুন নির্দেশে এই বিষয় থাকছে না। চিহ্নিত দেশগুলোর গ্রিনকার্ডধারী ও দ্বৈত নাগরিকদের নিষেধাজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা রয়েছে—এমন লোকজনকেও বাধা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এবিসি নিউজ বলেছে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন নির্বাহী আদেশটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকবে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে নতুন নির্বাহী আদেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষর করতে পারেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে।

ম্যাকমাস্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচআর ম্যাকমাস্টারের নাম ঘোষণা করেছেন। বিবিসির খবরে জানানো হয়, ম্যাকমাস্টার ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন। ট্রাম্প প্রথমে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিতে চেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ভাইস অ্যাডমিরাল রবার্ট হাওয়ার্ডকে।
তবে ব্যক্তিগত কারণে রবার্ট ওই পদে যোগ দেননি। ম্যাকমাস্টার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি অসাধারণ প্রতিভাবান এবং অসাধারণ অভিজ্ঞ। সেনাবাহিনীর সবাই তাঁকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করে। আফগানিস্তান ও ইরাকে নিযুক্ত ম্যাকমাস্টার চিন্তাশীল, স্পষ্টবাদী ও সামরিক কৌশলী বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। টাইম ম্যাগাজিনে ২০১৪ সালে বিশ্বের ১০০ জন সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় ম্যাকমাস্টারের নাম ছিল। নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে আইনবহির্ভূতভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কথা বলে মাইকেল ফ্লিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ ছাড়তে বাধ্য হন। তাঁরই স্থলাভিষিক্ত হবেন ম্যাকমাস্টার।

অস্ট্রেলিয়ায় বিপণিকেন্দ্রে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের একটি বিপণিকেন্দ্রে আজ মঙ্গলবার একটি হালকা বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে পাঁচ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা পাঁচ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। এর বাইরে হতাহত হওয়ার কোনো তথ্য তাদের কাছে আপাতত নেই।
কর্মকর্তারা জানান, মেলবোর্নের এসেনডন বিমানবন্দর থেকে ভাড়া করা বিমানটি আকাশে ওড়ে। বিমানটি তাসমানিয়ার কিং দ্বীপে যাচ্ছিল। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা কর্মকর্তাদের। বিমানটি যখন বিধ্বস্ত হয়, তখন বিপণিকেন্দ্রটি বন্ধ ছিল। এসেনডন বিমানবন্দরের কাছেই বিপণিকেন্দ্রটি অবস্থিত। খবরে বলা হচ্ছে, বিপণিকেন্দ্রটি খোলার মাত্র এক ঘণ্টা আগে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, বিপণিকেন্দ্র থেকে ধোয়ার কুণ্ডলী বের হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভাতে কাজ করছেন।

ড্রোন শিকারি ইগল

দূরনিয়ন্ত্রিত উড়ন্ত যান বা ড্রোনের ব্যবহার দিনে দিনে বাড়ছে। গুপ্তচরবৃত্তি কিংবা নজরদারির জন্যও এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। শত্রুরা সেগুলো ফরাসি ভূখণ্ডে আক্রমণ বা নজরদারির কাজে পাঠাতে পারে—এ রকম প্রচেষ্টা ঠেকাতে ফ্রান্সের বিমানবাহিনী তৎপর হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় মঁ-দো-মার্সায় তারা দুই জোড়া সোনালি ইগলকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। পাখিগুলো উড়ন্ত ড্রোনকে বাধা দিতে পারবে। ইগলগুলো ইতিমধ্যে সেই সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। বোর্দো শহরের দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে একটি রানওয়ের কাছে ড্রোন উড়ছিল। আচমকা সেখানে জ্বলজ্বলে চোখের এক শিকারি পাখির আবির্ভাব। ২০০ মিটার দূরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে উড়ে এসে ড্রোনটিকে ছোঁ মেরে নিল। প্রায় ২০ সেকেন্ডে সেটিকে মাটিতে নামিয়ে সুবিশাল বাদামি ডানায় ঢেকে দিল। ড্রোনটা ততক্ষণে বিধ্বস্ত। বিমানবাহিনীর অভিযানও সফল। ফ্রান্স মোট চারটি বিমানঘাঁটিতে ইগল প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। এগুলোর মধ্যে মঁ-দো-মার্তাও একটি।
রানওয়ে থেকে ছোটখাটো পাখি তাড়ানোর কাজে ইগল বা অন্যান্য শিকারি পাখির ব্যবহার আগে থেকেই চালু আছে। কর্তৃপক্ষ এভাবে উড়োজাহাজ ওড়ার সময়কার দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায়। কারণ, ছোট পাখির কারণে বিমান দুর্ঘটনায় পড়তে পারে। তবে ফ্রান্স ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে কয়েক দফা জিহাদি হামলার শিকার হওয়ার পর অনেক বেশি সতর্ক হয়েছে। তাই ইগলগুলো ড্রোন ঠেকানোর কাজে অংশ নিয়ে রীতিমতো জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে। স্থানীয় আকাশ নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান কমান্ডার ক্রিস্তফ বলেন, ইগল প্রশিক্ষণের ফলাফল উৎসাহব্যঞ্জক। ওরা বেশ ভালো করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কাজে নামার আগে পাখিগুলো তিন-চার মাসের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ড্রোন ঠেকাতে ইগল ব্যবহারের ধারণাটি নেদারল্যান্ডসের পুলিশ প্রথম প্রকাশ করে। তারা ২০১৫ সালের শেষদিকে এই কাজও শুরু করে। তবে একই কাজে সোনালি ইগলের ব্যবহার ফ্রান্সই প্রথম শুরু করেছে। সাত ফুট ছড়ানো ডানার এই পাখির দৃষ্টিশক্তি অসাধারণ। এরা দুই কিলোমিটার দূর থেকেই লক্ষ্যবস্তুর ওপর নজর রাখতে পারে।

মালয়েশিয়া-উত্তর কোরিয়া বিরোধ তুঙ্গে

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সৎভাই কিম জং-নাম হত্যার ঘটনায় দেশটির সঙ্গে মালয়েশিয়ার তিক্ততা এবং উত্তেজনা বাড়ছে। উত্তর কোরিয়ায় নিয়োজিত রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। পাশাপাশি গতকাল সোমবার কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রদূতকেও তলব করেছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। এর মাঝে গতকাল কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের একটি সিসিটিভি ভিডিও চিত্র প্রকাশ করেছে জাপানের টেলিভিশন ফুজি টিভি। কিম জং-নামের ওপর হামলার দৃশ্য ধরা পড়েছে সেখানে।
১৩ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বিমানবন্দরে রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হওয়ার পর কিম জং-নাম মারা যান। বিমানবন্দরে তাঁকে উত্তর কোরিয়ার গুপ্তঘাতকেরা বিষ প্রয়োগ করে বলে সন্দেহ মালয়েশীয় পুলিশের। কিম জং-নাম হত্যার ঘটনায় মালয়েশিয়ার পুলিশ উত্তর কোরিয়ার নাগরিকসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এখন সন্দেহভাজন চার উত্তর কোরীয় নাগরিকের খোঁজ করছে। এই সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা মালয়েশিয়া থেকে একই দিনে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রকাশিত ভিভিও চিত্রে দেখা যায়, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাউঞ্জে হেঁটে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। তিনি কিম জং-নাম। এক নারী পেছন থেকে ওই ব্যক্তির মুখ জড়িয়ে ধরলেন এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ধীরস্থিরভাবে হেঁটে চলে গেছেন। এরপরই ওই ব্যক্তি লুটিয়ে পড়লেন। ওই সময় পাশে থাকা আরেক নারীও দ্রুত হেঁটে বেরিয়ে গেলেন। আরও কয়েকজন যাত্রীকেও পেছন থেকে দৌড়ে যেতে দেখা যায়। পুরো ঘটনায় সময় লাগে এক মিনিটের কম। এদিকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, পিয়ংইয়ং মালয়েশিয়ার তদন্তে আস্থা রাখতে পারছে না। এর আগে কিম জং-নামের ময়নাতদন্ত নিয়েও আপত্তি ছিল কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রদূত কাং চলের। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এখন আমরা মালয়েশিয়ার তদন্তের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না।’ পিয়ংইয়ং মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ‘শত্রুর সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ করেছে। এই মন্তব্যের জেরে উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রদূত কাং চলকে তলব করেছে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ায় নিযুক্ত মালয়েশীয় রাষ্ট্রদূতকেও দেশে ফিরে আসতে বলা হয়েছে।

ভিনদেশি ‘স্কোয়াস’ চাষ হচ্ছে রাজবাড়ীতে

১৯৭৬ সালে রাজবাড়ীর পাংশা কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন। এরপর চাকরির চিন্তা না করে সোজা নেমে পড়েন কৃষিকাজে। বাবার দেওয়া জমিতে শুরু করেন বিভিন্ন সবজি ও ফসলের আবাদ। উপজেলা, এমনকি জেলার মধ্যে এখন তিনি আদর্শ কৃষক; পেয়েছেন নানা পুরস্কার-স্বীকৃতি। এই কৃষকের নাম আনসার আলী মণ্ডল (৬১)। পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের গাঁড়াল গ্রামের এই শিক্ষিত যুবক বিষমুক্ত সবজি, গ্রীষ্মকালীন টমেটোসহ বিভিন্ন ফল-সবজি উৎপাদন করে এখন এলাকার পরিচিত মুখ। তা ছাড়া তাঁর হাত ধরে রাজবাড়ীতে এসেছে ভিনদেশি সবজি ‘স্কোয়াস’। রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (শস্য) মো. লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, স্কোয়াস বিদেশি জনপ্রিয় সবজি। দেখতে বাঙ্গির মতো লম্বা, সবুজ। মিষ্টি কুমড়ার মতো সুস্বাদু। রাজবাড়ী জেলায় এই প্রথম ‘স্কোয়াস’ চাষ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আনসার আলীর বিষমুক্ত গ্রীষ্মকালীন টমেটো সাড়া ফেলেছে। গত ১৬ জানুয়ারি নিজের খেতে আলাপ হয় আনসার আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, চাষাবাদে তাঁর হাতেখড়ি সেই ১৯৭৬ সালে। তবে তিনি প্রথাগত চাষাবাদকে বিদায় বলেন ২০১০ সালে এসে। ওই বছর তিনি শুরু করেন স্ট্রবেরির চাষ। এরপর দিন যত গেছে, স্ট্রবেরির পাশাপাশি নিত্যনতুন চাষ শুরু করেছেন; চাষের পদ্ধতিতে এনেছেন বৈচিত্র্য। নিজ বাড়ির উঠানে মাশরুম চাষ করেছেন আনসার আলী।
২০০৩ সালে সাভারের মাশরুমকেন্দ্র থেকে এনে তিনি এই চাষ শুরু করেন। তবে এখন মাশরুমের চাষ বন্ধ রয়েছে। গত বছর থেকে শুরু করেন গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষ। টমেটো শীতকালীন জনপ্রিয় সবজি হলেও তিনি একে বারোমাসি সবজি বানানোর চেষ্টায় আছেন। আনসার আলীর সবচেয়ে বড় সফলতা হলো, তিনি সম্পূর্ণভাবে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করেন। পোকামাকড় দমনের জন্য কীটনাশক না ব্যবহার করে তিনি খেতে বসিয়েছেন বিশেষ ফাঁদ। আনসার আলী বলেন, ২০১৩ সালের মে মাসে বাংলাদেশ থেকে সিআইজি (কমন ইন্টারেস্টেড গ্রুপ) কৃষক হিসেবে তিনিসহ চারজন ভিয়েতনামে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পান। এই সফরেই তিনি ভিয়েতনামের জনপ্রিয় সবজি ‘স্কোয়াস’ চাষে উদ্বুদ্ধ হন। পাশাপাশি বারোমাস টমেটো চাষ করার পদ্ধতি শিখে আসেন। টমেটোখেতের পাশে এ বছর ১০ শতক জমিতে ‘স্কোয়াস’ চাষ শুরু করেছেন আনসার আলী। দুই মাস বয়সী স্কোয়াসগাছে এখন ফুল ও ফল এসেছে। তিন মাসের মাথায় এই সবজি বিক্রির উপযোগী হবে। মাছপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুল ইসলাম বলেন, উদ্ভাবনকারী হিসেবে আনসার আলী জেলায় আদর্শ কৃষকের পরিচিতি পেয়েছেন। স্থানীয় অনেক কৃষক তাঁকে অনুসরণ করে সবজি আবাদ করেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ স্ট্রবেরি, মাশরুম বা স্কোয়াসের মতো সবজি বা ফল খাওয়া দূরের কথা, অনেকে নামও শোনেনি। কিন্তু কৃষক আনসার আলীর সুবাদে এসব সবজি চিনতে পারছে, খেতেও পারছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি আরও এগিয়ে যাবেন।

শৌচাগারের দরজা নেই, দর্শনার্থীদের বিড়ম্বনা

তাজহাট জমিদারবাড়িতে অবস্থিত জাদুঘরের শৌচাগারগুলোর বেহাল দশা। এগুলোর দরজা নেই। ফলে দর্শনার্থীদের চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ তাঁরা। রংপুর শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তাজহাট জমিদারবাড়ি জাদুঘর। প্রাসাদটির দৈর্ঘ্য ৭৬ দশমিক ২০ মিটার। সাদা মার্বেল পাথরে তৈরি ১৫ দশমিক ২৪ মিটার প্রশস্ত কেন্দ্রীয় সিঁড়িটি সরাসরি দোতলায় চলে গেছে। দোতলার ১১টি কক্ষ জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর নিচের ১১টি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি বিংশ শতাব্দীর শুরুতে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ করেন মহারাজা কুমার গোপাল লাল রায়। প্রত্নতত্ত্বের নিদর্শন তাজহাট জমিদারবাড়িকে ২০০৫ সালে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়। এটি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন। এখানে পুরোনো পাণ্ডুলিপি, উল্কাপিণ্ড, মৃৎশিল্প, কামান, বিষ্ণুমূর্তি, লোহা কাঠ, পাথরের তৈরি নানা আমলের গয়নাসহ আরও অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। জাদুঘর সূত্র জানায়, প্রতিদিন এখানে গড়ে সাত-আট শ দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। তবে বন্ধের দিন শুক্র ও শনিবার এক হাজারের অধিক লোকের সমাগম হয়। সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য ২০ টাকা।
তবে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ টাকা। আর সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশের পর্যটকদের ১০০ টাকা এবং এর বাইরের দেশগুলোর পর্যটকদের জন্য প্রবেশমূল্য ২০০ টাকা। একই টিকিটে দর্শনার্থীরা জমিদারবাড়ির স্থাপত্য নিদর্শন ছাড়াও জাদুঘর দর্শন করতে পারেন। কিন্তু দর্শনার্থীদের প্রাকৃতিক কাজ সারতে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এখানে ১০টি শৌচাগার থাকলেও সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ১০টি শৌচাগারের মধ্যে আটটিরই দরজা নেই। দুটির দরজা থাকলেও তা তালাবদ্ধ। অধিকাংশ শৌচাগার ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা এস এস মডেল হাইস্কুলের ৫০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষাসফরে এসেছিল। শৌচাগারের বেহাল দশা দেখে তারা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে। তাদের অনেককে বলতে শোনা যায়, এত সুন্দর একটি ঐতিহাসিক স্থান দর্শনে এসে বাথরুমের অভাবে অনেক কষ্ট ও দুর্ভোগ পেতে হচ্ছে। কুড়িগ্রাম থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন রেজাউল ইসলাম। তিনি বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শৌচাগারগুলোর বেহাল দশা হয়েছে। এগুলো অবিলম্বে সংস্কার না করলে স্থানটির ঐতিহ্য আর ধরে রাখা যাবে না। জানতে চাইলে তাজহাট জমিদারবাড়ি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান আবু সাইদ ইনাম তানভিরুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘শৌচাগারগুলো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঢাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, ঠিক হয়ে যাবে।’

বিশ্বসভায় মায়ের ভাষায় বক্তৃতা

সাদা টি-শার্ট। বুকে লেখা ‘ইমালোন নুংশিসি’। মণিপুরিদের মৈতৈ ভাষায় এ কথার বাংলা হচ্ছে, মাতৃভাষাকে ভালোবাসি। মৈতৈ অক্ষরের কারুকার্যে এ কথা জুড়ে দেওয়ার উপলক্ষ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সিলেট নগরের পশ্চিম শিবগঞ্জের ফরহাদখাঁ পুল-সংলগ্ন এলাকায় মণিপুরি তাঁতশিল্পজাত পণ্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘মোইরাং’-এর বিপণনকেন্দ্রে শোভা পাচ্ছে এ টি-শার্ট। খোঁজ নিয়ে জানা গেল এই টি-শার্ট করার পেছনে মায়ের ভাষাকে বিশ্বসভায় উপস্থাপন করার কাহিনি। ‘ও তো জাতিসংঘে গিয়ে বিশ্ব মাত করে দিয়ে এসেছে, মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ছড়াতেই এ আয়োজন!’ পাশে থাকা একজনকে দেখিয়ে এভাবেই কাহিনির সূত্রটা বলছিলেন মোইরাংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বেসরকারি সংস্থা এথনিক কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (একডো) নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহ। ‘ও’ বলে অভিহিত করা হলো যাঁকে, তিনি নোংপকলৈ সিনহা। মণিপুরি এই তরুণী একডোর সমন্বয়ক পদে চাকরি করছেন। তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পরপর তিনটি অধিবেশনে যোগ দিয়ে মণিপুরি ভাষায় বক্তৃতা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ কারণে তিনি মণিপুরিদের মধ্যে আলাদাভাবে সমাদৃত। একডোর সমন্বয়কের দাপ্তরিক কাজ সেরে মোইরাং বিপণনকেন্দ্র পরিচালনার কাজও দেখভাল করেন নোংপকলৈ। মণিপুরি ভাষায় জাতিসংঘে বক্তৃতা দেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে আলাপ জুড়তেই তাঁর চোখমুখে ফুটে ওঠে খুশির ঝিলিক। মায়ের ভাষায় বলতে পারার সেই মুহূর্তকে জীবনে বড় সুখস্মৃতি বলে জানালেন তিনি। নোংপকলৈ পড়াশোনা করেছেন সিলেটের এমসি কলেজে। সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। কলেজে থাকার সময়ই একডোতে তাঁর পেশাজীবন শুরু। ২০০৪ সালে মাঠ সমন্বয়ক পদ থেকে এখন প্রধান কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দায়িত্ব পাওয়ার পর বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তাঁর যাওয়া।
নোংপকলৈর মণিপুরি ভাষায় দেওয়া প্রথম বক্তব্য জাতিসংঘের স্বীকৃত ছয়টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন একডোর নির্বাহী পরিচালক। ২০১১ সালের ১৪ মে জাতিসংঘের বিশেষায়িত অঙ্গ সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশন’ (ডব্লিউআইপিও)-এর আমন্ত্রণে একডোর প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন নোংপকলৈ। পরের বছর ২০১২ সালের ২১ জুলাই যোগ দেন জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের ‘সাবসিডিয়ারি বডি’র আমন্ত্রণে পঞ্চম সেশনে। আর ২০১৩ সালের ২৬ জুলাই জাতিসংঘে ‘সাইড ইভেন্ট ও আদিবাসী ককাস’ শীর্ষক অধিবেশনে অংশ নেন। ওই তিন অধিবেশনেই ‘অ্যাজেন্ডা আইটেম-৫’-এর অধীন বাংলাদেশে মণিপুরিসহ অন্য সব নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি রক্ষা ও উন্নয়ন বিষয়ে নোংপকলৈ লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সেসব বক্তৃতায় তাঁর শুরুটা ছিল মণিপুরি ভাষায়। তিনি বলেছিলেন, ‘অমসুং বাংলাদেশকী ফুরুপচা ময়ামগী মাকৈদগী মায়ামবু মতিকচবগা লোয়ননা ইকায়খুৎবা উৎচরি’ (বাংলাদেশের মণিপুরি এবং অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য শুরু করছি...)। এটুকু জানিয়েই আপ্লুত নোংপকলৈ। অনেকটা সুখস্মৃতিতাড়িত হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি খুব ভয়ের মধ্যে ছিলাম। কারণ, পৃথিবীর একটি অতি ক্ষুদ্র জাতির ভাষা বিশ্বসভায় উপস্থাপন করছি। কিন্তু না, দেখলাম ওই সভার সঞ্চালক থেকে শুরু করে সবাই উৎফুল্ল!’ নোংপকলৈ একজন সংস্কৃতিকর্মীও। সিলেট সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের লালাদিঘিরপাড় মণিপুরি পাড়ায় তাঁদের বাড়ি। বাবা অনিল কিষণ সিংহ সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা সিলেট বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মা শান্তি রাণী দেবী গৃহিণী। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নোংপকলৈ বড়। বোন আওয়াংলৈ সিনহা একজন নারী উদ্যোক্তা, ভাই বুঙসানা সিংহ সরকারি চাকরিজীবী।

প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে হাজারো মানুষের ঢল

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভিভিআইপি ও ভিআইপিরা শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের হাজারো মানুষের ঢল নামে। রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং তাঁর পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় নেপথ্যে বাজছিল অমর একুশের কালজয়ী গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...’। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এরপর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে দলের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সাংসদ, তিন বাহিনীর প্রধানেরা, কূটনীতিক, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্পিকারের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। এরপর আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ,
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, ঢাকার দুই মেয়র, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, তিন বাহিনীর প্রধানেরা এবং পুলিশপ্রধান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে নেতৃত্বদানকারীদের সংগঠন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামও ফুল দেয় প্রথম প্রহরে। শহীদদের শ্রদ্ধা জানান হুইলচেয়ারে করে আসা একদল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে একে একে আরও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সহযোগী সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ছাত্র, যুব, শ্রমিক, কৃষক সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শহীদ মিনারের বেদি। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পরই শহীদ মিনার সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সর্বস্তরের মানুষ পলাশী হয়ে জগন্নাথ হলের সামনে দিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ করে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। রাত দেড়টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শহীদ মিনারে আসেন। তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে দলীয় নেতারা ছিলেন। একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছিল কঠোর নিরাপত্তা।

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ হয়ে উঠল প্রভাতফেরির গান

প্রথম শহীদ দিবস (১৯৫৩) পালনের আবেগ পরবর্তী শহীদ দিবসেও বিন্দুমাত্র কমে যায়নি। শুরুর দিকে শহীদ দিবসের প্রভাতফেরিতে মূল অনুঘটক স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। বাসন্তী ফুলের সময়। তাই ফুলের সমারোহ। পুষ্পবিলাসী নাগরিকদের বাগান থেকে ফুল তোলায় ক্বচিৎ বাধা পেয়েছে ছাত্রছাত্রীরা। একুশের আবেগ তখন যথেষ্ট বহমান ঢাকাই নাগরিকদের হৃদয়ে। সেই টানে হৃদয়ের একূল-ওকূল দুকূল ভেসে গেছে। প্রভাতফেরিতে চোঙা মুখে নিয়ে স্লোগান: ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ ‘রাজবন্দীদের মুক্তি চাই’ ‘সর্বস্তরে বাংলা চালু করো’। অবশ্য সেই সঙ্গে অন্যান্য স্লোগানও ছিল—যেমন ‘পুলিশি জুলুম চলবে না’ ‘আরবি হরফে বাংলা চালু বন্ধ করো’, কখনো ‘নুরুল আমিন গদি ছাড়’ ইত্যাদি। তবে প্রভাতফেরির মূল আকর্ষণ ছিল গান। সেই গানের সমবেত সুরের মায়ায় শহর ঢাকায় মানুষের ঘুম ভেঙেছে। কেউ ঘুম ভেঙে উঠেছেন, বারান্দায় বা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে প্রভাতফেরির আবেগমথিত দৃশ্য দেখেছেন, উৎসাহী কেউ কেউ পাঞ্জাবি বা শার্ট-পাজামা পরিহিত অবস্থাতেই প্রভাতফেরির মিছিলে শামিল হয়েছেন।
হয়তো কেউ বিছানায় পাশ ফিরে শুয়েছেন। তবে তাঁদের অনেকে দুপুরের বিশাল মিছিলে বা আর্মানিটোলা বা পল্টন ময়দানের বাঁধভাঙা জনসভায় যোগ দিয়েছেন। শুরুর প্রভাতফেরির মিছিলে যোগ দিয়েছে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। বাদ যায়নি কারিগরি কলেজগুলো। যেমন মেডিকেল কলেজ, মিটফোর্ড স্কুল, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ইত্যাদি। প্রথম প্রভাতফেরির গান ‘মৃত্যুকে যারা তুচ্ছ করিল ভাষা বাঁচাবার তরে/ আজিকে স্মরিও তারে’। সুরটিতে ছিল করুণ অনুভূতির প্রকাশ। আর প্রধানত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মিছিলে শোনা গেছে ছাত্রনেতা গাজীউল হকের লেখা গান, ‘ভুলবো না, ভুলবো না, ভুলবো না এ ফেব্রুয়ারি ভুলবো না’। এখানে ছিল প্রতিবাদী বলিষ্ঠতার প্রকাশ। ঢাকা কলেজের ছাত্র বান্ধবকুটির মেসনিবাসী আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর কবিতা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ ১৯৫৩ সালে রচিত হলেও সুরারোপিত হয়ে এ গান গাওয়া হয়েছে ১৯৫৪ সালের প্রভাতফেরিতে এবং এরপর থেকে নিয়মিত। এ ছাড়া একাধিক কবি লিখেছেন একুশের গান, যদিও সেগুলো প্রভাতফেরিতে গাওয়া হয়নি। আমার বিশ্বাস, ১৯৫৪ সালের শহীদ দিবস পালনে ছিল তেপ্পান্নর তুলনায় আরও ব্যাপককতা, আরও আবেগ। এর বড় কারণ ক্রমবর্ধমান ভাষিক চেতনা ও সংশ্লিষ্ট জাতীয়তাবাদীদের আবেগ। মুসলিম লীগের দুঃশাসনের প্রতিক্রিয়াও এতে জ্বালানি যোগ করেছে। আর সেই ধারায় ছাত্রসংগঠনগুলো মতাদর্শগত পার্থক্য ভুলে রাষ্ট্রভাষা বাংলার অধিকার আদায়ে এক যাত্রায় শরিক হয়েছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এমনটাই বলে। এই অবস্থায় ছাত্রমহলের ঐক্যবদ্ধ চেতনার সুবাতাস বুকে ভরে ১৯৫৪ ফেব্রুয়ারির শহীদ দিবস পালিত হয় অপেক্ষাকৃত অধিক আবেগে, ব্যাপক উদ্দীপনায়। বিলুপ্ত শহীদ মিনারের স্থান থেকে খালি পায়ে গান গেয়ে স্লোগান দিয়ে শহীদদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আজিমপুর করবরস্থানে যাওয়া ছিল গোটা কর্মসূচির প্রভাতি অংশ। সেবারের গান ছিল আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর লেখা কবিতা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। আলতাফ মাহমুদের হৃদয় স্পর্শ করা সুরে এ গানটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে একুশের গান,
যা আজও শহীদ দিবস উপলক্ষে গাওয়া হয়। শুধু শহর ঢাকাতেই নয়, প্রদেশজুড়ে সর্বত্র প্রবল আবেগে পালিত হয়েছে শহীদ দিবস একুশে ফেব্রুয়ারি। এই সাংস্কৃতিক আবেগের সঙ্গে যুক্ত হয় জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক সচেতনতা, যা যুক্তফ্রন্টের বিজয়ে সহায়তা করে। অন্যদিকে এই বিজয়কে নস্যাৎ করার পর ইস্কান্দার মির্জার গভর্নরি শাসনের দমননীতির মধ্যেও ১৯৫৫ ফেব্রুয়ারিতে সীমিত আকারে হলেও ছাত্রদের চেষ্টা চলেছে একুশে পালনের। ইতিমধ্যে ঘটনার চাপে গভর্নর শাসন বাতিল হওয়ার পর যুক্তফ্রন্টের দুই প্রধান দলের আত্মঘাতী দ্বন্দ্বের মধ্যে গঠিত আবুল হোসেন সরকার মন্ত্রিসভার আমলে শহীদ দিবস (১৯৫৬) পালনে ছাত্রসমাজে আবেগের কমতি ছিল না। ফুল হাতে গানে-স্লোগানে তারা শহীদ দিবসটিকে স্মরণ করেছে। যথারীতি ভোরে প্রভাতফেরির মিছিল, শহীদদের কবরে ফুলের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন—সবই ঠিকঠাকমতো চলেছে। এ বছরের (১৯৫৬) গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা প্রভাতফেরির মিছিলে গাওয়া তফাজ্জল হোসেনের লেখা গান ‘শহীদি খুন ডাক দিয়েছে আজকে ঘুমের ঘোরে’। এ বছরের জুনে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি মেলে, তবে তা নামকাওয়াস্তে।  আহমদ রফিক: ভাষাসংগ্রামী, কবি ও রবীন্দ্র-গবেষক

তিন ছাত্রাবাসের দুটিই পরিত্যক্ত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মোট পাঁচটি ছাত্রাবাস। এর মধ্যে তিনটি ছাত্রাবাস শুধু একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য। এই ছাত্রাবাসগুলো হলো রবীন্দ্রনাথ, সোহরাওয়ার্দী ও শেরেবাংলা। এর মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ও শেরেবাংলা ছাত্রাবাস দুটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সংস্কারের অভাবে অনেক বছর আগেই এগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী চালু থাকলেও সেটিরও জরাজীর্ণ অবস্থা। ছাত্রাবাসটির তিনটি ভবনের মধ্যে দুটিকেই ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। শেরেবাংলা ছাত্রাবাসটি ১৯৯৮ সালে এবং ২০১০ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় রবীন্দ্রনাথ ছাত্রাবাসটি। রবীন্দ্রনাথ ছাত্রাবাস ছিল হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য। এটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে হিন্দু শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাসে তোলা বন্ধ রয়েছে। একমাত্র চালু সোহরাওয়ার্দী ছাত্রাবাসটি মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য। সেটিরও দুটি একতলা ভবন তিন বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তারপরও এই দুই ভবনে ৩২ জন শিক্ষার্থী থাকে। বাকি চারতলা ভবনটিও জরাজীর্ণ। সেখানে আছে ৮০ জন ছাত্র। কলেজ সূত্র জানায়, এই কলেজে বর্তমানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ২ হাজার ৪১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ২৯২ জন। কিন্তু ছাত্রাবাসে থাকার ব্যবস্থা আছে মাত্র ১১২ জনেরই। রবীন্দ্রনাথ ও সোহরাওয়ার্দী ছাত্রাবাস দুটি কাগজপত্রে ও স্থানীয়ভাবে ‘নিউ হোস্টেল’ নামে পরিচিত। কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও নিউ হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়ক মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ১৮৯৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৩০ সালে নগরের দক্ষিণ চর্থা মৌজার টমছমব্রিজ এলাকার ৪ দশমিক শূন্য ৯ একর জায়গা নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য রবীন্দ্রনাথ এবং মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য সোহরাওয়ার্দী ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠা করা হয়। নূরুল ইসলাম বলেন, ছয় বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ছাত্রাবাসকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সিটি করপোরেশন। এরপর ওই ছাত্রাবাসে আর কোনো শিক্ষার্থী ওঠানো হয়নি। ফলে হিন্দু শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাসে থাকতে পারছে না। বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী ছাত্রাবাসের তিনটি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম পাশের একতলা ভবনে ২০ জন, পূর্ব পাশের একতলা ভবনে ১২ জন ও দক্ষিণ পাশের চারতলা ভবনে থাকছে ৮০ জন শিক্ষার্থী। ২০১৩ সালে এক লাখ টাকা দিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম পাশের ভবন দুটি সামান্য সংস্কার করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে সোহরাওয়ার্দী ছাত্রাবাসের ভবনগুলো।
কক্ষগুলো স্যাঁতসেঁতে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। তার ওপর গাদাগাদি করে থাকছে শিক্ষার্থীরা। ছাত্রাবাসের পশ্চিম পাশের একতলা ভবনের ৩০ নম্বর কক্ষে থাকে একাদশ শ্রেণির ছাত্র ও ফেনী সদর উপজেলার বাসিন্দা আল ইমদাদুল করিম। সে বলে, বৃষ্টি হলে টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। এতে কক্ষের ভেতর পানি উঠে যায়। ভিজে যায় বই-খাতা-বিছানা। ঝুঁকি নিয়েই তারা ছাত্রাবাসে থাকছে। একই ভবনের ৩২ নম্বর কক্ষে থাকে একই শ্রেণির শিক্ষার্থী ও দাউদকান্দি উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের আবু সাঈদ। তার ভাষ্যমতে, বিপদে পড়েই এই ছাত্রাবাসে তাদের থাকা। ছাত্রাবাসটির চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ২০৩ নম্বর কক্ষে থাকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নানকরা গ্রামের মেহেদী হাসান। সে বলে, ‘কী আর করব? নোংরা পানির মধ্যেই থাকছি।’ জানতে চাইলে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মো. নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী ছাত্রাবাসে ৩৬৬ ফুট দীর্ঘ সীমানাপ্রাচীরের কাজ হচ্ছে। এ ছাড়া চারতলা ভবনের সংস্কারকাজ চলছে। পূর্ব ও পশ্চিম পাশের পরিত্যক্ত ভবন গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য সংস্কার করা হয়েছে। কলেজ অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের বলেন, ছাত্রাবাস সংস্কারের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসের জায়গা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। সোহরাওয়ার্দী ছাত্রাবাসের টিনশেডের দুটি ভবনে কিছুটা সংস্কার করে ছাত্রদের রাখা হচ্ছে। চারতলা ভবনেও সংস্কার হচ্ছে। বরাদ্দ এলে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।

শাহরাস্তিতে বিরল প্রজাতির প্রাণী উদ্ধার

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের রায়শ্রী গ্রাম থেকে বিরল প্রজাতির ৫ ফুট লম্বা একটি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যায় গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে এটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি ইন্ডিয়ান পাম সিভেট (Indian palm Civet) বা গন্ধগোকুল। কারও কারও মতে, এটি ভোঁদড় হতে পারে। বিরল প্রজাতির এ প্রাণীটিকে দেখতে উৎসুক জনতা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভিড় করে। রায়শ্রী গ্রামের মোল্লাবাড়ির মো. আবদুল মালেক বলেন, গত শনিবার তাঁদের বাড়ির পাশের একটি নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংক থেকে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক দুলাল চন্দ্র ঘোষ প্রাণীটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে ইউএনওর নির্দেশে প্রাণীটিকে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।মেহের ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফারুক আহমেদ বলেন, প্রাণীটি বিরল প্রজাতির হতে পারে। ভারতের আসাম রাজ্যে এ ধরনের প্রাণী দেখা যায়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, এটি গন্ধগোকুল। ইতিমধ্যে প্রাণীটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইউএনও মো. হাবীব উল্যাহ মারুফ বলেন, প্রাণীটির চিকিৎসা ও নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা বন বিভাগকে এটিকে অভয়াশ্রমে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, গতকাল প্রাণীটিকে কুমিল্লার রাজেশপুরে অবস্থিত অভয়াশ্রমে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

নানা সমস্যায় কমছে শিক্ষার্থী

জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষের সংকট, শিক্ষকের স্বল্পতা, অচল শৌচাগার ও শিক্ষকদের বসার কক্ষ না থাকার মতো কিছু গুরুতর সমস্যায় জর্জরিত নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার পিঙ্গুইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিনেও সমস্যার সমাধানে সরকারি উদ্যোগ না থাকায় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী কমতে শুরু করেছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পিঙ্গুইন গ্রামে ১৯৯৫ সালে রেজিস্টার্ড বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর ২০১৩ সালে সরকারীকরণ হয়। ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগ বিদ্যালয়ের জন্য দুটি আধা পাকা কক্ষ নির্মাণ করে দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন চাঁদা তুলে নির্মাণ করে দেয় আরও দুটি কক্ষ। বর্তমানে তিনটি কক্ষে দুই দফায় ছয়টি শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হয়। তবে আকাশে মেঘের আনাগোনা দেখা দিলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নেয়। কারণ জরাজীর্ণ ইটের দেয়ালের ওপরের টিনের চালায় অসংখ্য ছিদ্র। বৃষ্টি এলেই মেঝেতে পানি জমে যায়। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান জানায়, বর্ষা এলে তারা প্রায় দিনই ক্লাস করতে পারে না। সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ৫০ বর্গফুটের ছোট্ট একটি কক্ষ অফিসঘর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে একটা টেবিল নিয়ে প্রধান শিক্ষক বসেন।
অন্য শিক্ষকদের বসার বা বিশ্রামের কোনো জায়গা নেই। শিক্ষার্থীদেরও বসার সমস্যা প্রকট। পর্যাপ্ত বেঞ্চের অভাবে দুজনের একটি বেঞ্চে গাদাগাদি করে পাঁচজন করে বসছে। বিদ্যালয়ের একমাত্র শৌচাগারটি সংস্কারের অভাবে অচল হয়ে পড়ে আছে। জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আশপাশের বাড়িতে যেতে হয়। এতে অনেকে অস্বস্তি বোধ করে। এভাবে চলতে থাকায় অনেক অভিভাবক তাঁদের ছেলেমেয়েদের আর বিদ্যালয়ে আসতেও দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংকটও প্রকট। বর্তমানে তিনজন শিক্ষক আছেন। একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। অন্য দুজন সহকারী শিক্ষক হিসেবে ছয়টি শ্রেণির ১৭০ জন শিক্ষার্থীকে পড়ান। এতে লেখাপড়ার মান পড়ে যাচ্ছে। এসব কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিনে দিনে কমছে। গত বছর এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮২। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর সরকারি কোনো অনুদান পায়নি। এমনকি সরকারি হওয়ার পরও বিদ্যালয়টির উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে এই এলাকার একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তার গৌরব হারাচ্ছে। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ের অবকাঠামগত উন্নয়নসহ শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান।

বর্ণমেলার বর্ণ বাছাইয়ে পুরস্কার পেল যারা

বর্ণমেলার জন্য অনূর্ধ্ব দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠানো বর্ণগুলো বাছাই করেছেন দেশবরেণ্য শিল্পীরা। গতকাল বিকেলে প্রথম আলোর কার্যালয়ে বর্ণ বাছাই করেন তাঁরা। বিচারকমণ্ডলীতে ছিলেন শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী, আবদুল মান্নান, ওয়াকিলুর রহমান ও অশোক কর্মকার। এবারের বর্ণমেলার জন্য বর্ণ বানানোর তিনটি গ্রুপে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় চার শতাধিক শিক্ষার্থী। সেখান থেকে প্রদর্শনীর জন্য বর্ণ বাছাই করেন শিল্পীরা। বর্ণগুলো আজ বর্ণমেলায় প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি তিন বিভাগে সেরা নয়টি বর্ণ বাছাই করা হয়। বর্ণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা হলো—ক বিভাগ (অনূর্ধ্ব তৃতীয় শ্রেণি): প্রথম-শাবীর হোসেন আদিব (সিলভারস স্টারস টিউটোরিয়াল, কেজি), দ্বিতীয়-তৌকি ইয়াসার আয়মান (বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল,
প্রথম শ্রেণি), তৃতীয়-আফরিদা রাইদা স্বাচ্ছন্দ্য (এজি চার্চ স্কুল, দ্বিতীয় শ্রেণি)। খ বিভাগ (চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেণি) : প্রথম-শাবাব হাসিন নীল (ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ষষ্ঠ শ্রেণি), দ্বিতীয়-আবদুল মারীজ চৌধুরী (ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ষষ্ঠ শ্রেণি), সঞ্চয়িতা অধিকারী (মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চতুর্থ শ্রেণি)। গ বিভাগ (অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি): প্রথম-রাফি উদ্দিন আহাদ (ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুল, অষ্টম শ্রেণি), দ্বিতীয়-যারীন সুবাহ দিয়া (ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ধানমন্ডি শাখা, অষ্টম শ্রেণি), নুজহাত নাহরীন (স্কলারস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সপ্তম শ্রেণি)।

বাংলাদেশি নারী বিজ্ঞানীর অর্জন

বাংলাদেশি কম্পিউটারবিজ্ঞানী তানজিমা হাশেম ২০১৭ সালের ওডব্লিউএসডি-এলসেভিয়ার ফাউন্ডেশন পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোর নারী বিজ্ঞানীদের সংগঠন ওডব্লিউএসডি এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। চলতি বছর পাঁচ দেশের পাঁচ নারী গবেষক মনোনয়ন পেয়েছেন। বুয়েটের শিক্ষক তানজিমা হাশেম মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষার কম্পিউটারনির্ভর একটি উপায় বের করেছেন। অনলাইনে বিভিন্ন সেবা নেওয়ার সময় স্বাস্থ্য, অভ্যাস ও অবস্থানের বিষয়ে ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখার জন্যই এ রকম ব্যবস্থার প্রয়োজন। তানজিমা হাশেম বলেন, ‘উন্নয়নশীল বিশ্বে আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু বাধার মুখোমুখি হই। সেগুলো সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য এই পুরস্কার আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।’ বাংলাদেশ, ইকুয়েডর, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া ও সুদানের নারী গবেষকেরা কেমিকৌশল, জ্বালানি ও খনি প্রকৌশল, পরিবেশ প্রকৌশল এবং কম্পিউটারবিজ্ঞানে নিজ নিজ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার পাচ্ছেন। পাশাপাশি নিজ নিজ দেশের তরুণীদের বিজ্ঞান গবেষণার তত্ত্বাবধানের জন্যও তাঁদের এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে। ওডব্লিউএসডির প্রধান জেনিফার থমসন বলেন,
এই পাঁচ নারীর সংকল্প, নিষ্ঠা ও উদ্যম সবার জন্য প্রেরণামূলক—বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলোর নারী গবেষকদের জন্য। স্থানীয়ভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁদের কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্য অর্জনের ব্যাপারটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটা প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তানজিমা হাশেম, ইকুয়েডরের চিম্বোরাজো ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মারিয়া ফার্নান্দা রিভেরা ভেলাস্কেজ, ইন্দোনেশিয়ার উইদিয়া মান্দালা ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির সুরাবায়ার ফেলিসিয়া এডি সোয়েতারেদজো, ঘানার ইউনিভার্সিটি অব মাইনস অ্যান্ড টেকনোলজির গ্রাস অফোরি-সারপং এবং সুদান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির রানিনা মুখতার। ইলসেইভার ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইলান স্কেম বলেন, এই বিজয়ীদের প্রত্যেকে বিকাশমান বিভিন্ন ক্ষেত্রে কঠিনতম বাধাগুলো মোকাবিলা করছেন। তাঁদের কাজের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা থেকে শুরু করে মূল্যবান সম্পদের দূষণ দূরীকরণ প্রভৃতি বিষয় রয়েছে। তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেওয়াই এ পুরস্কারের লক্ষ্য।

টাকা গুনে পকেটে নেওয়া পুলিশের সেই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

আসামির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ‘টাকা গুনে গুনে পকেটে নিলেন পুলিশ কর্মকর্তা’ শিরোনামে গতকাল সোমবার প্রথম আলোয় টাকা নেওয়ার ভিডিওসহ প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সিআইডির বিশেষ সুপার (প্রশাসন) শেখ মো. রেজাউল হায়দার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল সোমবার সকালে ওবায়দুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথম আলোর সংগ্রহে থাকা টাকা নেওয়ার ভিডিও ফুটেজ দেখে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশুলিয়ার পূর্ব ধনিয়া থেকে ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর শেখ শাওন নামের সাড়ে চার বছরের এক শিশু নিখোঁজ হয়। পরে ২০১৬ সালের ১২ মার্চ আশুলিয়া থানায় অপহরণের অভিযোগে একটি মামলা করেন শিশুটির বাবা শেখ সুমন।
মামলায় মো. মাসুম (২৮) নামের একজনকে আসামি করা হয়। আদালতের নির্দেশে পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। গত ২৫ নভেম্বর এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা বিভাগের এসআই ওবায়দুর রহমানসহ চারজন পূর্ব ধনিয়ায় আসেন মামলার তদন্ত করতে। মাসুমের অভিযোগ, এই ৮ হাজার টাকাসহ কলমের খোঁচায় জীবন শেষ করার হুমকি দিয়ে ওবায়দুর রহমান তাঁর কাছ থেকে কয়েক দফায় ২ লাখ ২২ হাজার টাকা নিয়েছেন।

যে দেশে গুণীর কদর নেই সে দেশে গুণীর জন্ম হয় না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কথায় আছে, যে দেশে গুণীর কদর নেই, সে দেশে গুণীর জন্ম হয় না। তাঁর সরকার গুণীজনদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিক। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গতকাল সোমবার সকালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে এবারের একুশে পদক বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে সনদ, স্বর্ণপদক এবং দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষা আন্দোলন, শিল্পকলা (সংগীত, চলচ্চিত্র, ভাস্কর্য, নাটক ও নৃত্য), সাংবাদিকতা, গবেষণা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজসেবা, ভাষা ও সাহিত্যে এ সম্মাননা দেওয়া হয়ে থাকে। এবার পদকপ্রাপ্তরা হলেন ‘অপরাজেয় বাংলার’ ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, দৈনিক জনকণ্ঠ-এর নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়, ভাষাসৈনিক অধ্যাপক ড. শরিফা খাতুন (ভাষা আন্দোলনের জন্য), শিল্পকলায় (সংগীত) সুষমা দাস, ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম (বংশীবাদক, শাস্ত্রীয় সংগীত), জুলহাস উদ্দিন আহমেদ (স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী), শিল্পকলায় (চলচ্চিত্র) তানভীর মোকাম্মেল (লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা),
শিল্পকলায় (নাট্যশিল্পী) সারা যাকের, গবেষণায় সৈয়দ আকরম হোসেন, শিক্ষায় ইমেরিটাস অধ্যাপক আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও লেখক), সাংবাদিকতায় আবুল মোমেন, সমাজসেবায় অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান (আইপিজিএমআর-কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী), ভাষা ও সাহিত্যে সুকুমার বড়ুয়া (ছড়াকার), শিল্পকলায় (নৃত্য) শামীম আরা নীপা এবং শিল্পকলায় (সংগীত) রহমতউল্লাহ আল মাহমুদ সেলিম ওরফে মাহমুদ সেলিম (গণসংগীতশিল্পী, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডসহ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতিবাদকারী) এবং ভাষা ও সাহিত্যে (মরণোত্তর) কবি ওমর আলী। তাঁদের মধ্যে কবি ওমর আলী ছাড়া বিজয়ী সবাই প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে গতকাল পদক গ্রহণ করেন। কবি ওমর আলীর ছেলে মো. রফি মনোয়ার আলী তাঁর পক্ষে পদকটি গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সাহিত্য, শিক্ষা, কৃষি, ক্রীড়া, প্রযুক্তিসহ উদ্ভাবনাময় সব ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অর্জনের অধিকারী ব্যক্তিত্বদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করে আসছি। এরই অংশ হিসেবে আজকের এই একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে মহান ভাষাশহীদগণ নিজেদের জীবনের বিনিময়ে একুশের সংগ্রামী ইতিহাস রচনা করেছেন, তাঁদের ত্যাগের দিকে লক্ষ রেখে আপনাদের মেধাকে দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধ ও সার্বিক বিকাশের কাজে লাগানোর বিনীত আহ্বান জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালি জাতির যখন যা কিছু অর্জন, তা অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে, সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমাদের অর্জন করতে হয়েছে। কাজেই সেই অর্জনকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি লক্ষ করছি, পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয় নাই। তারা কিছুদিন আগে একটি পুস্তক বের করে তাতে উল্লেখ করেছে, ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী যে গণহত্যা শুরু করেছিল, যাতে এ দেশীয় আলবদর, আলশামস, রাজাকাররা যোগ দিয়েছিল, সেসব গণহত্যা পাকিস্তানি সন্ত্রাসী বাহিনী নয়, মুক্তিযোদ্ধারা সংঘটন করেছিল।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন যে অপপ্রচার তারা করে যাচ্ছে, তা কারও কাছে গ্রহণযোগ্য না। কাজেই ২৫ মার্চকে আমাদের গণহত্যা দিবস হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবেও এর স্বীকৃতির জন্য আমাদের প্রচার চালাতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের দেশের কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা, আমি নাম ধরেই বলতে চাই, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কিছুদিন আগে বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয় নাই।...তাঁর এ ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে পাকিস্তানের অপপ্রচারের কোনো সূত্র আছে কি না তা আমাদের খুঁজে দেখতে হবে।’ ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালের ২৫ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন যখন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে বলে ঘোষণা দেন, বঙ্গবন্ধু তখন বন্দী অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতালেই তিনি ছাত্রনেতাদের সঙ্গে মধ্যরাতের পর গোপন বৈঠক করে আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দিতেন। এ রকম এক বৈঠকেই ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বায়ান্নর ২১ ফেব্রুয়ারির বিয়োগান্তক ঘটনা রাতারাতি আমাদের মনন, চিন্তাচেতনায় একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেয়।’ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন খান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম শফিউল আলম পদক বিতরণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিচারপতি, সাংসদ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য, পদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এখনো আলোচনায় ‘একাত্তরের চিঠি’

বাংলা একাডেমির বিপরীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল গেট দিয়ে ঢুকে বাঁয়ে হাঁটি। একটু এগিয়ে মিলল সুন্দর, বর্ণিল একটি স্টল—প্রথমা প্রকাশন। ১০২ থেকে ১০৫ নম্বরের প্রথমা প্রকাশনের স্টলে তখন ছিল দারুণ ভিড়। এই ভিড়ের মাঝে একজন প্রৌঢ় জানতে চাইলেন, একাত্তরের চিঠি আছে? প্রশ্নটা শুনে তাকালাম। এখনো একাত্তরের চিঠি খুঁজছেন পাঠক! ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল বইটি। প্রথমার স্টলের একজন বিক্রয় প্রতিনিধি জানালেন, এই বইটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়।
পুরোনো বইয়ের মধ্যে একাত্তরের চিঠির বিক্রিই তুলনামূলক বেশি। রণাঙ্গন থেকে লেখা মুক্তিযোদ্ধাদের চিঠির সংকলনের ২৫তম মুদ্রণ শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত ছাপা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৫০ কপি। ২৬তম মুদ্রণ আসছে এবারের একুশে বইমেলায়। এবারও এই বইটির চাহিদা প্রচুর। এ ছাড়া নতুন বইয়ের মধ্যে প্রথমার স্টলে বেশি বিক্রি হচ্ছে মহিউদ্দিন আহমদের আওয়ামী লীগ: উত্থানপর্ব ১৯৪৮-১৯৭০, আকবর আলি খানের অবাক বাংলাদেশ: বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি, মতিউর রহমান ও মনজুরুল হকের চে: বন্দুকের পাশে কবিতা, ড. কামাল হোসেনের মুক্তিযুদ্ধ কেন অনিবার্য ছিল এবং ড. মাহবুবুল হকেরখটকা বানান অভিধান।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আজ বর্ণমেলা

আজ বর্ণ নিয়ে মেলা। বর্ণ মানে অক্ষর, বর্ণ মানে রং। এই মেলা বাংলা অক্ষর নিয়ে এক রঙিন উত্সব। বর্ণিল এই উত্সবের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম জানবে বাংলা ভাষার মহিমা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এই বর্ণমেলা বসবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে। আনন্দমুখর এই উত্সব চলবে সারা দিন, সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা। এই উত্সব সবার জন্য উন্মুক্ত৷ প্রথম আলো অষ্টমবারের মতো এই আয়োজন করছে। সার্ফ এক্সেল এই আয়োজনের সহযোগী। ঢাকার বর্ণমেলা এবার বসবে আরও বড় পরিসরে, নতুন জায়গায়—মোহাম্মদপুরের ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে৷ চট্টগ্রামে নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় আর রাজশাহীতে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে হবে বর্ণমেলার আয়োজন৷ ঢাকায় বর্ণমেলা উদ্বোধন করবেন বরেণ্য শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ভূঁইয়া৷ চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে উদ্বোধন করবেন যথাক্রমে গবেষক মাহবুবুল হক ও বিশিষ্ট লেখক হাসান আজিজুল হক৷ বর্ণমেলায় নানা মাঠজুড়ে ও বিচিত্র স্টলে দিনভর চলবে হরেক আনন্দ-আয়োজন। প্রদর্শনী হবে রকমারি উপাদানে কিশোর-কিশোরীদের তৈরি বর্ণের নকশা৷ কেউ দুলবে বর্ণদোলায়, কেউ চড়বে বর্ণপাহাড়ে৷
বর্ণের আদলে টি-শার্টের নকশা, মুখোশ বা পুতুল বানানোর আনন্দে মাতবে সবাই। মাঠে থাকবে মস্ত বড় বর্ণ, সবাই মিলে রাঙাবে সেটিকে নানা রঙে। প্রথমা প্রকাশন, কিআ আর বিজ্ঞানচিন্তার স্টলে না এলে তো দিনই বৃথা। বরেণ্য কবি, লেখক ও শিল্পীরা হাতেখড়ি দেবেন ছোট্ট সোনামণিদের। হবে হস্তাক্ষর ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। অনূর্ধ্ব এক বছরের শিশুদের জন্য থাকবে হামাগুড়ি প্রতিযোগিতা। ৫ বছরের কম খোকাখুকিরা নামবে বর্ণদৌড়ে। মজার মজার খেলা নিয়ে সাজবে আনন্দনগর। ঘোড়দৌড়, রেলসুড়ঙ্গ, পাহাড়ে চড়া, ফুটবল, বাস্কেটবল, লাফঝাঁপ—কী নেই এখানে! আর আছে বর্ণমঞ্চ৷ সারা দিন সেখানে আনন্দ করবে সিসিমপুরের দল, পুতুলনাচের চরিত্র৷ গান গাইবেন ফরিদা পারভিন, তপন চৌধুরী, অদিতি মহসিন, মাহমুদুজ্জামান বাবু, বাপ্পা মজুমদার, তানভীর আলম সজীব, দিনাত জাহান মুন্নি, কনা, প্রিয়াঙ্কা গোপ, সাব্বির, কোনাল, ইমরান, ঐশী। সঙ্গে জলের গান৷ জাদু দেখাবেন আলীরাজ৷ নৃত্য পরিবেশনায় পূজা সেনগুপ্ত। এর বাইরেও কত কী! চট্টগ্রামে গান গাইবেন হৈমন্তী রক্ষিত মান, নীশিতা বড়ুয়া, চৈতি মুত্সুদ্দী, অরিন। সঙ্গে ব্যান্ড দল চিরকুট ও সাসটেইন। নৃত্যে অংশ নেবে প্রাপন একাডেমি। জাদুতে রাজিব বসাক। থাকবে রক্তকরবী, অভ্যুদয়, বোধন ও প্রমার পরিবেশনা। রাজশাহীতে গান গাইবেন রেখা পারভীন কেয়া, রেজাউল করিম, সুজন আরিফ, সাজেদ ফাতেমী, রাফাত, রোমেল, ইতি, মেহেদি, পায়েল, অঙ্কন; সঙ্গে ব্যান্ড দল আনন্দনগর৷ নৃত্যে ল্যাডলি মোহন মৈত্র ও আলো মৈত্র৷ জাদুতে স্বপন দিনার৷ রাজশাহী আবৃত্তি পরিষদ ও মাথুলার গম্ভীরা তো আছেই৷ বর্ণমেলা সরাসরি দেখা যাবে চ্যানেল নাইনে এবং প্রথম আলোর ওয়বেসাইট ও ফেসবুক পেজে।

আহসান মঞ্জিল ঘিরে আবর্জনা

পুরান ঢাকার নবাববাড়ির চারপাশ ঘিরে আবর্জনার ছড়াছড়ি, পরিবেশ দুর্গন্ধময়। চারপাশে অবৈধ দখল। যত্রতত্র পার্কিং। সরু হয়ে গেছে সামনের সড়ক। স্থানীয় লোকজনের কাছে নবাববাড়ি হিসেবে পরিচিত আহসান মঞ্জিলে আসা দর্শনার্থীরা এই নিয়ে অসন্তুষ্ট। গত শনিবার ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার দেখা যায়, নির্বাচনের পোস্টারে ছেয়ে গেছে আহসান মঞ্জিলের প্রবেশদ্বারসহ আশপাশের দেয়াল। টিকিট কাউন্টারের সামনের দেয়াল পুরোটাই পোস্টারে ছাওয়া।
ওপরে দড়িতেও ঝুলছে পোস্টার। এক বছর আগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি অনুষ্ঠানের জন্য নিরাপত্তার কথা বলে আহসান মঞ্জিলের চারপাশে টিনের বেড়া দেওয়া হয়। বেড়াটি আর সরানো হয়নি। সেটি ধুলা-ময়লায় আচ্ছন্ন। আহসান মঞ্জিলে ঢোকার একটিমাত্র গেট। সেখানে সব সময় লেগে থাকে রিকশার জটলা। পাশেই আছে ফুটপাত দখল করে খাবারের কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির চারপাশ ঘুরে দেখা গেল, ফুটপাত দখল করে আছে কয়েক শ অবৈধ দোকান। প্রধান ফটকের ডান দিকে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপসহ বিভিন্ন যান সারি দিয়ে থামিয়ে রাখা। পাশেই কাপড় ব্যবসায়ীদের দোকান। সেখানে রাস্তা বন্ধ করে যে যাঁর ইচ্ছেমতো মালপত্র ওঠানো-নামানো করছেন। দেয়াল ঘেঁষে চা-সিগারেটের দোকান। তার মধ্যেই প্রস্রাব করছেন কেউ কেউ। নানা ধরনের আবর্জনা ফেলা। সেসব পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করলেন, গেটের সামনে প্রায়ই ময়লার কনটেইনার রাখা থাকে। সদরঘাটের অংশে ফলের আড়ত। সেখানে ফুটপাতে আছে শ খানেক ফলের দোকান। পচা ফল ও খোসা টিনের বেড়ার ফাঁক গলে মঞ্জিলের ভেতরে চলে যাচ্ছে। এখানে দোকান করার ব্যাপারে জানতে চাইলে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, তাঁরা অনেক দিন এভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন, কেউ কিছু বলে না। পাটুয়াটুলীর বাসিন্দা লিজা আক্তার তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে এসেছেন আহসান মঞ্জিলে। তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় আসাই কষ্ট। রিকশা-গাড়ির জট সহজে ছাড়ে না। এই নবাববাড়ির সামনের তো অবস্থা বেশি খারাপ।’ রুবেল হোসেন, আমজাদ মিয়া ও তারেক—এই তিন বন্ধু বরিশাল যাবেন, কিন্তু লঞ্চ ছাড়ার একটু বেশি আগে চলে আসায় নবাববাড়ি ঘুরতে এসেছেন। টিকিট কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে চারপাশ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলেন। তারেক বলেন, ‘এইটা যদি জমিদারবাড়ি হয়, তাইলে বাইরে এত ময়লা ক্যান?
খালি ভিতরে সুন্দর রং-চং কইরা রাখলে কী লাভ। মানুষ তো আগে বাইরেরটাই দেখব।’ বাংলাপিডিয়ার তথ্যানুসারে, ১৮৫৯ সালে আহসান মঞ্জিলের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৮৭২ সালে শেষ হয়। বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা নবাবদের এই বাসভবন ১৯৯২ সালে জাতীয় জাদুঘরের অধীনে একটি জাদুঘরে পরিণত করা হয়। আহসান মঞ্জিল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে এখানে ৫০০ দর্শনার্থী আসেন। এ ছাড়া ছুটি ও বিশেষ দিনগুলোতে চার থেকে পাঁচ হাজার দর্শনার্থী হয়। আহসান মঞ্জিলের ভেতরে চিপস, বিস্কুটের প্যাকেট, নানা ধরনের কাগজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মঞ্জিলের উপকিপার হুমায়ূন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, ভেতরে একটি খাবারের দোকান আছে। দর্শনার্থীরা খাবার কিনে নোংরা করেন। চারদিকের অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এলাকার লোকজনকে তো কিছু বলা যায় না। নিজেদের লোক দিয়ে পোস্টার সরিয়ে ফেলব।’ আশপাশের দখল নিয়ে এই উপকিপার বলেন, এসব ঠিক করতে সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা লাগবে। বাইরে উচ্ছেদ বা সংস্কারে তাঁদের আইনগত অধিকার নেই। আহসান মঞ্জিলটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৪-এর অধীন। এই অঞ্চলের নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, উচ্ছেদ নিয়মিত হয়। তিনি গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি দেখবেন বলে জানান।

আপনার প্রিয় বাংলা শব্দ কোনটি?

বাংলা ভাষায় আপনার প্রিয় শব্দের কথা বলতে বললে কোন শব্দটি মাথায় আসে? এই প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মুখোমুখি হয়ে জানা গেল নানা উত্তর। তবে সবচেয়ে বেশি যে উত্তরটি পাওয়া গেল, তা হলো ‘মা’। প্রিয় এই শব্দটিই আমাদের দেশের মানুষের সবার আগে মনে আসে। ‘মা’ বাদেও প্রিয় শব্দের তালিকায় এসেছে বিভিন্ন শব্দ। কলেজছাত্রী সুপ্তি জানালেন, তাঁর প্রিয় শব্দ ‘বাবা’। পুলিশের একজন কর্মকর্তা বললেন, তাঁর প্রিয় শব্দ ‘বড় আপা’। তবে অনেকেই প্রিয় শব্দ বলতে গিয়ে জানালেন,
প্রিয়জনকে যে নামে ডাকেন, সেটিই তার প্রিয় শব্দ। নিজের প্রিয় শব্দের কথা জানতে চাওয়া হয় স্কুলছাত্রী ফাইরুজের কাছে। সে জানাল, ‘পাখি’ তার প্রিয় শব্দ। কিন্তু এ শব্দটি কেন তাঁর প্রিয়, সে ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। এক কলেজশিক্ষার্থী জানালেন, তাঁর প্রিয় শব্দ ‘পদার্থবিজ্ঞান’। এর ব্যাখ্যাও দিলেন তিনি। ‘পদার্থবিজ্ঞান আমার প্রিয় বিষয়। এ কারণেই এই শব্দটিই সবচেয়ে প্রিয় শব্দ হয়ে গেছে।’ প্রিয় শব্দের কথা জানতে চাইলে এসেছে আরও নানা উত্তর। এসব শব্দের মধ্যে রয়েছে ‘বাংলাদেশ’, ‘কাঁঠাল’, ‘সাম্য’, ‘সকাল’, ‘বন্ধু’, ‘সত্য’ প্রভৃতি।

ভালোবাসার শহীদ মিনার

চারদিকে উঁচু উঁচু সুদৃশ্য ভবন। এর মধ্যে কয়েকটি বাড়ি বেমানান। একতলা বাড়ির ওপরে টিনের চাল। দেয়ালের রং মলিন। বিভিন্ন জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে। রাজধানীর মণিপুরীপাড়ার সাত নম্বর গেটের গলির ভেতরের দিকের এলাকায় ছোট ছোট ঘরে একসঙ্গে একাধিক পরিবারের বাস। এখানে পোশাককর্মী, দোকানিসহ নিম্ন আয়ের লোকজন থাকেন। একুশে ফেব্রুয়ারির সকালে হাঁটতে বেরিয়ে এলাকাটিতে এসে চোখ আটকে যায়। এখানকার কিশোরেরা শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো ব্যবস্থা করেছে। গোটা দশেক ঘরের মাঝখানে একটুখানি উঠান। সেখানে একটি টিউবওয়েল। তার কাছেই ফাঁকা জায়গায় সাদা রঙের পরিত্যক্ত টিউবলাইট দিয়ে শহীদ মিনারের কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। শহীদ মিনারের সামনের অংশে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে পুরোনো সংবাদপত্র। দেওয়া হয়েছে কিছু ফুল। এখানকার বাসিন্দা কিশোর নূর আলম বলল, ‘প্রতিবছরই শহীদ মিনার বানাই।
যা পাই, তা দিয়াই বানাই। এবার বানাইছি টিউবলাইট দিয়া।’ উদ্যোক্তা কিশোরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, গতকাল সোমবার রাত আটটা থেকে শহীদ মিনার তৈরির কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হতে হতে রাত পৌনে ১২টা বেজে যায়। রাত ১২টায় ভাষার গান গেয়ে সবাই শহীদ মিনারে ফুল দেয়। কিশোর নূর আলম একটি গ্যারেজে কাজ করে। আর্থিক অনটনের কারণে ষষ্ঠ শ্রেণির পর তাকে স্কুল ছাড়তে হয়েছে। সে জানায়, একুশে ফেব্রুয়ারিতে সবাই শহীদ মিনারে ফুল দেয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই তারা নিজেরাই শহীদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। নূর আলমদের ভাষা দিবস পালনের উদ্যোগে বড়দেরও সায় আছে। মিলন বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘আমাগো তো দূরে যাওয়ার সুযোগ নাই। তাই এহানেই পোলাপানের বানানো শহীদ মিনারে ফুল দেই। ভালো লাগে।’ নূর আলমসহ অন্য কিশোরেরা জানায়, প্রাণের টানে তারা তাদের মতো করে শহীদ মিনার গড়েছে। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা নিয়েছে। তাদের বানানো শহীদ মিনারটি আজ সারা দিন থাকবে। দিন শেষে শহীদ মিনারটি সরিয়ে নেওয়া হবে।

বর্ণ নিয়ে বর্ণিল মেলা

বাংলা অক্ষর বা বর্ণ নিয়ে রঙিন উৎসব চলছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আজ মঙ্গলবার ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে বসেছে বর্ণমেলা। বর্ণিল এই উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম জানছে বাংলা ভাষার মহিমা। সকাল নয়টা থেকে শুরু হওয়া আনন্দমুখর এই উৎসব বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলবে। উৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত৷ প্রথম আলো অষ্টমবারের মতো এই উৎসবের আয়োজন করছে। আয়োজনের সহযোগী সার্ফ এক্সেল। ঢাকার বর্ণমেলা এবার বসেছে বড় পরিসরে, নতুন জায়গায়—মোহাম্মদপুরের ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে৷ চট্টগ্রামে নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় আর রাজশাহীতে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে হচ্ছে বর্ণমেলার আয়োজন ৷ ঢাকায় বর্ণমেলা উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। সঙ্গে ছিলেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ভূঁইয়া৷ চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে উদ্বোধন করেন যথাক্রমে গবেষক মাহবুবুল হক ও বিশিষ্ট লেখক হাসান আজিজুল হক৷ বর্ণমেলায় মাঠজুড়ে ও বিচিত্র স্টলে দিনভর থাকছে হরেক আনন্দ-আয়োজন। প্রদর্শনী হচ্ছে রকমারি উপাদানে কিশোর-কিশোরীদের তৈরি বর্ণের নকশা৷
আয়োজনে কেউ দুলছে বর্ণদোলায়, কেউ চড়ছে বর্ণপাহাড়ে৷ বর্ণের আদলে টি-শার্টের নকশা, মুখোশ বা পুতুল বানানোর আনন্দে মেতেছে সবাই। মাঠে আছে মস্ত বড় বর্ণ। সবাই মিলে সেটিকে নানা রঙে রাঙাচ্ছে। আয়োজনে প্রথমা, কিআ আর বিজ্ঞানচিন্তার স্টল রয়েছে। বর্ণমেলায় বরেণ্য কবি, লেখক ও শিল্পীরা হাতেখড়ি দেন ছোট্ট সোনামণিদের। আয়োজনে আছে হস্তাক্ষর ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। অনূর্ধ্ব ১ বছরের শিশুদের জন্য হামাগুড়ি প্রতিযোগিতার আয়োজন আছে। ৫ বছরের কম খোকাখুকিদের জন্য আছে বর্ণদৌড়। মজার মজার খেলা নিয়ে সেজেছে পুরো আয়োজন। ঘোড়দৌড়, রেলসুড়ঙ্গ, পাহাড়ে চড়া, ফুটবল, বাস্কেটবল, লাফঝাঁপ—আরও কত-কী! আরও আছে বর্ণমঞ্চ৷ সারা দিন সেখানে থাকছে সিসিমপুরের দল, পুতুলনাচের চরিত্র৷ আয়োজনে ফরিদা পারভিন, তপন চৌধুরী, অদিতি মহসিন, মাহমুদুজ্জামান বাবু, বাপ্পা মজুমদার, তানভীর আলম সজীব, দিনাত জাহান মুন্নি, কনা, প্রিয়াঙ্কা গোপ, সাব্বির, কোনাল, ইমরান, ঐশীর গান থাকছে। থাকছে জলের গান৷ জাদু আর নৃত্যে মন মুগ্ধ হবে। চট্টগ্রামে হৈমন্তী রক্ষিত মান, নীশিতা বড়ুয়া, চৈতি মুত্সুদ্দী, অরিনের গান থাকছে। সঙ্গে ব্যান্ড দল চিরকুট ও সাসটেইন। চট্টগ্রামেও থাকছে নৃত্য ও জাদু পরিবেশনা। থাকছে রক্তকরবী, অভ্যুদয়, বোধন ও প্রমার পরিবেশনা। রাজশাহীতে গান গাইবেন রেখা পারভীন কেয়া, রেজাউল করিম, সুজন আরিফ, সাজেদ ফাতেমী, রাফাত, রোমেল, ইতি, মেহেদি, পায়েল, অঙ্কন। সঙ্গে ব্যান্ড দল আনন্দনগর৷ নৃত্যে ল্যাডলি মোহন মৈত্র ও আলো মৈত্র৷ জাদুতে স্বপন দিনার৷ রাজশাহী আবৃত্তি পরিষদ ও মাথুলার গম্ভীরা তো আছেই৷

৩৬০ ডিগ্রি ভিডিওতে বরিশালের অমর একুশে

যথাযোগ্য মর্যাদায় বরিশালে পালিত হচ্ছে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সবাই। বরিশালের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপশি স্কুল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। বরিশালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের খন্ডচিত্র ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিওতে ধারণ করেছেন জামিল খান।

বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার দাবি

বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘বিভিন্ন কারণে আমাদের বাংলা ভাষার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।’ আজ মঙ্গলবার সকালে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্বে ৩২ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে।
এখন বাংলা ভাষা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হওয়া সময়ের দাবি। আজ যেকোনো উপায়ে জাতিসংঘের কাছে বাংলা ভাষাকে দাপ্তরিক ভাষা করার দাবি তুলে ধরা আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত।’ এ সময় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ। এর আগে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতারা আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া-মোনাজাত করেন।