Thursday, April 19, 2018

কর্পোরেট কর কমানো হবে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে দেশীয় উদ্যোক্তাদের করপোরেট কর হার কমানো হবে। গতকাল সকালে এনবিআর ভবনে আইসিটি ও ইলেক্ট্রনিক্স খাতের সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে। আলোচনার শুরুতে আসছে বাজেটে সফটওয়্যার ও তথ্য প্রযুক্তি সেবার ওপর আরোপিত সাড়ে ৪ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ তুলে দেয়ার দাবি করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস)। আর কম্পিউটার পণ্য সামগ্রীর খুচরা ও সরবরাহ ব্যবসা পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার ২০২১ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি। ইন্টারনেট মডেম, ইথারনেট ইন্টারফেসকার্ড, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সুইচ, হাব, রাউটার, সার্ভার, ব্যাটারিসহ সকল ইন্টারনেট উপকরণের ওপর বর্তমানে আরোপিত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে শূন্য শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি সংগঠন প্রায় একই ধরনের দাবি জানিয়েছে। এসব দাবির প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য কর্পোরেট কর হার কমানো হবে। দেশি শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে আসছে বাজেটে এ বিষয়ে প্রাধান্য দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, আমদানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এবারের বাজেটে হয়তো এতটা ছাড় দেয়া যাবে না। তবে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে কর্পোরেট কর হার কমানো ও অন্যান্য সুবিধা দেয়ার চিন্তা রয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) দিকে ইঙ্গিত করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অনেক ইন্টেলেকচ্যুয়াল (বুদ্ধিজীবী) বলেন, আমাদের রাজস্ব ঘাটতি ৫০ হাজার কোটি টাকা হবে। এ কথাটা ঠিক না। অর্থবছরের আরো তিন মাস সময় বাকি আছে। এই সময়ে আমরা লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি রাজস্ব আহরণ করতে পারবো। অনুষ্ঠানে বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, শোয়েব আহমেদ মাসুদ, মুশফিকুর রহমান, একেএম ফাহিম মাশরুরসহ কয়েকটি সংগঠন ও এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গে ১১ জন জনপ্রতিনিধি নারী নির্যাতনে অভিযুক্ত

ভারতে নাবালিকা ধর্ষন ও নারীদের বিরুদ্ধে হেনস্থা করার অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় চলছে। আর ঠিক এই সময়ই জানা গেছে, ভারতের ৪৮ জন জনপ্রতিনিধি নারীদের বিরুদ্ধে নানা অপরাধে অভিযুক্ত। এই অপরাধের মধ্যে যেমন রয়েছে ধর্ষণ, তেমনই আছে শ্লীলতাহানি, যৌন নিগ্রহ বা অপহরণের মতো ঘটনা। আর পশ্চিমবঙ্গের ১১ জন জনপ্রতিনিধিও নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধে তালিকায় রয়েছেন। সম্প্রতি এই তথ্য সামনে এনেছে অ্যাসসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস বা এডিআর এবং ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচ। এডিআর-এর নতুন তথ্যে জানানো হয়েছে, সারা দেশের সব রাজ্য মিলিয়ে বর্তমান নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের মধ্যে ৪৫ জন বিধায়ক এবং ৩জন সাংসদ এধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত। তাঁদের মধ্যে ২৬ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। অথচ গত পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন নামকরা রাজনৈতিক দলের টিকিটে তাঁরা প্রার্থী হয়ে জিতেছেন। যেমন গত বছর গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জি আহির জিতেছিলেন সেহরা কেন্দ্র থেকে। ২০১৪ সালে টিডিপি-র জি সূর্যনারায়ণ জিতেছিলেন ধর্মাভরম কেন্দ্র থেকে। ২০১৫ সালে আরজেডির গুলাব জিতেছিলেন ঝঞ্ঝারপুর কেন্দ্র থেকে। এই তিন বিধায়কই ধর্ষণে অভিযুক্ত। এধরনের অভিযোগের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্য মহারাষ্ট্র। সেখানে অভিযুক্ত সাংসদ এবং বিধায়কদের সংখ্যা ১২। তারপরই রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত পশ্চিমবঙ্গ, সেখানে অভিযুক্তদের সংখ্যা ১১। তারপর রয়েছে ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ। সেখানে অভিযুক্তদের সংখ্যা রাজ্য প্রতি পাঁচজন। এডিআর-এর রিপোর্টে রাজনৈতিক দলগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন এ ধরনের অভিযুক্ত নেতাদের টিকিট না দেন।

মিয়ানমারে জঙ্গলে অবরুদ্ধ ২০০০ কাচিন সদস্য

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও কাচিন গেরিলাদের মধ্যে চলমান যুদ্ধে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে কাচিন সম্প্রদায়ের প্রায় ২০০০ মানুষ। তারা আশ্রয় নিয়েছেন জঙ্গলে। এর মধ্যে রয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা নারী, বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে শিশু পর্যন্ত। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। কাচিনরা হলেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের। তারা এখন জঙ্গলে আটকরা পড়ে সংঘাতময় অবস্থা থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন। কাচিন রাজ্যের তানাই অঞ্চলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সর্বশেষ এই যুদ্ধ বা লড়াই শুরু হয়েছে এপ্রিলের শুরুর দিকে। ওই এলাকাটি অম্বর ও স্বর্ণের খনির জন্য বিখ্যাত। নিজেদের দখল থেকে হারিয়ে যাওয়া এলাকা উদ্ধারের হুমকি দেয় কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি। তাদের হুমকির জবাবে সেনাবাহিনী তাদের ওপর গোলা নিক্ষেপ করছে ও আকাশ থেকে হামলা চালাচ্ছে। ব্যাপ্টিস্ট সম্প্রদায়ের নেতা রেভারেন্ড মুয়ায় ডান বুধবার বলেছেন, যেসব মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তাদের কাছে নেই ওষুধ। নেই পর্যাপ্ত খাদ্য। এমন মানুষের মধ্যে আছেন কমপক্ষে ৫ জন অন্তঃসত্ত্বা। সবেমাত্র সন্তান প্রসব করেছেন আছেন এমন দু’জন নারী। আছেন ৯৩ বছর বয়সী কেউ কেউ। অনেক গ্রামে গোলা নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এসব মানুষের জন্য যেমন প্রয়োজন চিকিৎসা, তেমনি প্রয়োজন রেশন। তিনি বলেন, বর্তমানে ওই এলাকায় সারাদিন বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের জন্য কোনো আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেই। একই সঙ্গে অসুস্থতায় ভুগছেন তাদের অনেকে। কাচিন রাজ্যভিত্তিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে বুধবার কাচিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি খোলাচিঠি পাঠিয়েছে। তাতে বেসামরিক এসব মানুষকে উদ্ধার করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেই অনুমতি মেলে নি। বাস্তুচ্যুত নারীদের সহায়তা করে কাচিন স্টেট ওমেন নেটওয়ার্ক। এর সদস্য আওং জা বলেন, জঙ্গলে আটকে পড়া মানুষগুলোকে উদ্ধারের অনুমতি চেয়েছি আমরা। এসব মানুষের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জবাবে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, যদি সেনাবাহিনী অনুমোতি দেয় তাহলেই বেসামরিক লোকজনকে উদ্ধার করা যাবে। মানবাধিকার ও সাহায্যদাতা বিষয়ক গ্রুপগুলো বলছে, বাস্তুচ্যুত প্রায় এক লাখ মানুষের কাছে মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে নাটকীয়ভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে মিয়ানমারের সরকার ও সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলোকে ওই এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না এমন সব অভিযোগ কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার। কাচিন সম্প্রদায়ের লোকজন দাবি করছে, এরই মধ্যে সরকারি আক্রমণে নিহত হয়েছেন বহু সংখ্যক বেসামরিক মানুষ। কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স অর্গানাইজেশনের তথ্য বিষয়ক বিভাগের প্রধান নাও বু বলেছেন, ১১ই এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনীর মর্টার শেল ও আকাশপথের হামলায় কমপক্ষে তিনজন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বার মতো কাচিনদের অধিকার আদায়ে মাঠে রয়েছে কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি। তারা সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছে। কয়েক যুগ ধরে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে অধিকতর শায়ত্তশাসনের অধিকারের জন্য লড়াই করছে। তবে কাচিন বিদ্রোহী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয় ২০১১ সালে। এর আগে ১৭ বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করা হয়। এই লড়াইয়ে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ। উল্লেখ্য, ভয়াবহভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর তারা যে নৃশংসতা চালিয়েছে তার নিন্দা জানিয়েছে সারা বিশ্ব।

আগাম নির্বাচনের ঘোষণা কেন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের?

বিস্মিত তুরস্কের জনগণ। কারণ, আচমকা আগাম নির্বাচন ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।  বুধবার তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী আগামী জুনে সেখানে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। এখন সেখানে চলছে জরুরি অবস্থা। আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে জোট বাঁধার ক্ষেত্রে নতুন পট পরিবর্তন ঘটেছে দেশটির। সিরিয়া যুদ্ধে ক্রমশ বেশি থেকে বেশি হারে যুক্ত হচ্ছে তুরস্ক। ঠিক এ সময় আচমকা প্রেসিডেন্ট এরদোগান কেন নির্বাচন ঘোষণা দিলেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ। কেউ কেউ বলছেন, দেশে সচল থাকা জরুরি অবস্থার মধ্যে নির্বাচন করে ফসল ঘরে তুলতে চান তিনি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সামনে এখনও ক্ষমতার মেয়াদ আছে প্রায় দেড় বছর। তার দেশে কোনো রাজনৈতিক অস্থির পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয় নি। তাহলে কেন এই আগাম নির্বাচন। এরদোগানের প্রধান মিত্র কট্টর ডানপন্থি নেতা দেভলেত বাহসেলি আগাম নির্বাচন দাবি করার এক দিনের মধ্যে ওই ঘোষণা দিয়েছেন এরদোগান। তাই আগামী ২৪ শে জুন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এখন বিষয়টি নিশ্চিত করবে সেদেশের নির্বাচন পরিষদ। নির্বাচন পরিষদ বা নির্বাচন কমিশন অনুমোদন দিলে এবারই প্রথমবারের মতো সেখানে একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে। নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে এতে অধিকতর ক্ষমতা পাবেন এরদোগান। কারণ, ২০১৭ সালের এপ্রিলে তুরস্কে সংবিধান সংশোধনের গণভোট হয়। তাতে সামান্য ভোটের ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয়। এর ফলে তুরস্কের সংসদীয় গণতন্ত্র চলে যায় প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার অধীনে। এর মাধ্যমে আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠেন এরদোগান। সাংবিধানিক ওই পরিবর্তন প্রযোজ্য হবে নতুন নির্বাচিত সরকারের ক্ষেত্রে। নির্বাচিত এমন প্রেসিডেন্ট কারো সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়া ভাইস প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রীপরিষদ, উচ্চ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও সিনিয়র জজদের নিয়োগ দিতে পারবেন। এ ছাড়া নির্বাহী আদেশ ও জরুরি অবস্থা জারি করে তিনি বিলুপ্ত করতে পারবেন পার্লামেন্ট। এত সব ক্ষমতা যে প্রেসিডেন্ট পাবেন তিনি তা কিভাবে ব্যবহার করবেন তা রাজনৈতিক সচেতন যেকোনো ব্যক্তিই আন্দাজ করতে পারেন। হয়তো সেই ক্ষমতা হাতের নাগালে পাওয়ার জন্যই কোনো কারণ ছাড়া প্রেসিডেন্ট এরদোগান নতুন নির্বাচন ঘোষণা করেছেন। তিনি ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) নেতা। ঘোষণায় বলেছে, তুরস্কের সঙ্কটকালীন সময়ে একজন নির্বাহী প্রেসিডেন্টের খুবই প্রয়োজন। টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে তিনে বলেন, যদিও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও সরকার যতটা পারছে ততটা সম্প্রীতির সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে তবুও প্রতিটি পদক্ষেপে পুরনো সিস্টেমের সঙ্গে সংঘাতময় এক অবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সিরিয়ার ঘটনাপ্রবাহ এবং অন্যান্য স্থানের ঘটনাগুলো এখন এমন একটি অবস্থার সৃষ্টি করেছে যেখানে নতুন নির্বাহী ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যাতে আমরা শক্ত মানসিকতা নিয়ে আমাদের দেশের ভবিষ্যত পদক্ষেপে অগ্রসর হতে পারি। ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টির (এমএইচপি) নেতা বাহসেলির সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, জানুয়ারির শেষের দিকে সিরিয়ার আফ্রিন প্রদেশে সামরিক অভিযান শুরু করে তুরস্কের সেনাবাহিনী ও ফ্রি সিরিয়ান আর্মির যোদ্ধারা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ওই এলাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থনপুষ্ট কুর্দি যোদ্ধাদের সরিয়ে দেয়া। এসব কুর্দি যোদ্ধা পিপলস প্রটেকশন ইউনিটস নামে পরিচিত। আঙ্কারা মনে করে সিরিয়ার কুর্দি ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টি এবং তাদের সশস্ত্র থাখা যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ওয়াইপিজি হলো সন্ত্রাসী গ্রুপ। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক আছে নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে)। এই ওয়াইপিজির বিরুদ্ধে তুরস্কের অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়েছে ওয়াশিংটন। তুরস্ক ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত। এ জোটের মিত্ররা যখন ওয়াইপিজেকে সমর্থন দেয়া শুরু করলো তখন হতাশ হয়ে পড়ে তুরস্ক। এরই মধ্যে সিরিয়া যুদ্ধ শেষ করতে ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করা শুরু করে তুরস্ক। জ্বালানি থেকে প্রতিরক্ষা সহ বহুবিধ ইস্যুতে মস্কোকে সহযোগিতা বাড়িয়ে দেয় তুরস্ক।

চিরতরে দেশ ছাড়লেন নওয়াজ শরীফ!

অসুস্থ স্ত্রীকে কুলসুম নওয়াজকে দেখতে লন্ডনে গিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। তাকে এর আগে সরকারি কোনো পদে ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অযোগ্য বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের আদালত। ওদিকে সামনে আরো তিনটি দুর্নীতির মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার রায় আসতে পারে সহসাই। এ অবস্থায় তিনি স্ত্রীকে দেখলে লন্ডন যাওয়া নিয়ে নানা আলোচনা ডালপালা ছড়াচ্ছে পাকিস্তানে। বলাবলি হচ্ছে, তিনি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে গেছেন। আর ফিরবেন না দেশে। যদিও এসব কানকথা। কিন্তু এ কথাটিই চায়ের কাপে ঝড় তুলছে। আড্ডা, অনুষ্ঠানে উঠে আসছে এ ইস্যুটি। নওয়াজ শরীফ আর দেশে ফিরবেন কিনা সে বিষয়ে তার পরিবারের কোনো মুখপাত্রও নিশ্চিত করেন নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ। এতে বলা হয়, এক সপ্তাহ আগে সরকারি পদ ও নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয় নওয়াজকে। এরপরই ক্যান্সারে আক্রান্ত তার স্ত্রী কুলসুমকে দেখতে বুধবার তিনি পাকিস্তান ছেড়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কন্যা মরিয়ম। তার এই দেশছাড়া নিয়ে পাকিস্তানজুড়ে তোলপাড় চলছে। দল থেকে এ বিষয়ে কিছু বলা না হলেও মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ টুইট করেছেন এ নিয়ে। তিনি বলেছেন, মামলার পরবর্তী যে শুনানি আছে তার আগেই তারা দেশে ফিরে আসবেন। তবে এক্ষেত্রে তিনি শর্ত আরোপ করেছেন। বলেছেন, যদি তাদেরকে আদালতে হাজির হওয়া থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় তাহলেই তারা ফিরে আদালতের মুখোমুখি হবেন। উল্লেখ্য, লন্ডনে ফ্লাট কেনা নিয়ে নওয়াজ শরীফ পরিবারের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর আগে নওয়াজ পরিবারের পক্ষ থেকে আরেকটি বিবৃটি দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, অসুস্থ কুলসুম নওয়াজকে দেখতে নওয়াজ শরীফ লন্ডন যাবেন। এর পরে মরিয়ম একটি টুইট করেন। তাতে তিনি লিখেছেন, আমার মা আবারও হাসপাতালে শয্যাশায়ী। তার জন্য সবার কাছে দোয়অ চাই। আমি জানি আপনাদের দোয়ায় বিস্ময়কর কিছু ঘটে যেতে পারে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বরখাস্তকৃত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের স্ত্রী কুলসুম নওয়াজ অনেকদিন ধরেই লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার কণ্ঠনালীতে ক্যান্সার। এ জন্য একবার অপারেশন করানো হয়েছে। তার চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) একটি বিবৃতি দিয়েছিল এর আগে। তাতে বলা হয়েছিল, কুলসাম নওয়াজের অপারেশন সফল হয়েছে। তবে তার অবস্থার অবনতি হচ্ছে। হয়তো সেজন্যই নওয়াজ শরীফ মেয়েকে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন লন্ডনে। তার আগে মরিয়ম দেশে ফেরার  কথা টুইটে জানালেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী ২১ শে এপ্রিল লাহোরে জাতীয় জবাবদিহিতা বিষয়ক ব্যুরোতে একদল তদন্তকারীর সামনে হাজির হওয়ার কথা নওয়াজের। তিনি সেই উপস্থিতি এড়াতে লন্ডন ছুটে গেছেন। রাইওয়ান্ডে অবস্থিতি জাতি উমরা নামে নওয়াজ শরীরের বাসভবনমুখী একটি সড়ক নির্মাণ করেছেন অবৈধভাবে, এতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার করেছেনÑ এমন অভিযোগে জাতীয় জবাবদিহিতা বিষয়ক ব্যুরো নওয়াজকে সমন পাঠায়। এই দুর্নীতির মামলায় আগামী ২৩ শে এপ্রিল তার হাজির হওয়ার কথা ওই আদালতে। এক্ষেত্রে তিনি দৃশ্যত ‘পালিয়েছেন’ বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি এক্সিট কন্ট্রোল লিস্টে নওয়াজ শরীফ ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম তুলতে অনিচ্ছা প্রদর্শন করেন। এই তালিকায় যদি নওয়াজ শরীফ বা তার পরিবারের সদস্যরা থাকতেন তাহলে তারা বিদেশে যেতে পারতেন না। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, জাতীয় জবাবদিহিতা বিষয়ক ব্যুরো কিন্তু পাকিস্তান সরকারকে একটি নির্দেশ দিয়েছিল। বলেছিল, নওয়াজ শরীফের ছেলেমেয়ে- মরিয়ম, হাসান, হোসেন, জামাই অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন সাফদার আওয়ানকে এক্সিট কন্ট্রোল লিস্টে রাখতে। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে তাদের সবার বিচার চলছে। এর মধ্যে নওয়াজ শরীফের দুই ছেলে এমনিতেই লন্ডনে অবস্থান করছেন। বাকি ছিলেন তার মেয়ে ও জামাই।  মেয়েকে নওয়াজ সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন। ফলে পুরো নওয়াজ পরিবার এখন লন্ডনে। এ জন্যই গুজবটা বেশি ছড়াচ্ছে। বলা হচ্ছে, নওয়াজ শরীফ পালিয়ে চলে গিয়েছেন লন্ডনে। তিনি আর পাকিস্তানে ফিরবেন না। অন্যদিকে নওয়াজ শরীফ পরিবারকে কেন এক্সিট কন্ট্রোল লিস্টে রাখা হয় নি এ জন্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ।

পড়াশোনার খরচ যোগাতে দেহব্যবসা

লুইস। টগবগে এক যুবতী। তিনি মেরিন বায়োলজিস্ট। পড়াশোনা করেন লন্ডনে। কিন্তু সেই পড়াশোনা করতে গিয়ে তাকে ঋণ নিতে হয়েছে ২০ হাজার পাউন্ড। সেই অর্থ শোধ করতে তাকে বেছে নিতে হয়েছে পতিতাবৃত্তি। লালায়িত পুরুষের সামনে শরীর মেলে দিয়ে উপার্জন করেন অর্থ। তা দিয়ে এই ঋণ শোধ করার চেষ্টা করছেন লুইস। অবলীলায় তিনি স্বীকার করেছেন, নিজেই নিজের দেহ বিক্রি করেন। এতে তাকে কেউ প্রলুব্ধ করে নি। লুইস যে পতিতালয়ে দেহ বিক্রি করেন তা পরিচালনা করেন বৃটিশ পুলিশের সাবেক একজন গোয়েন্দা বা ডিটেক্টিভ। কৌশলগতভাবে এই পেশা অবৈধ হলেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা দুই রুমের একটি ফ্ল্যাট ব্যবহার করে তার ব্যবসা পেতেছেন। সেখানে খদ্দেরদেরকে স্বাগত জানানোর জন্য বসানো হয়েছে অভ্যর্থনাকারী। ব্যবহার করা হয় পেশাগত বুকিং ব্যবস্থা। এ নিয়ে লন্ডনের পত্রপত্রিকায় সচিত্র রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এতে ওই যুবতীকে শুধু লুইস নামে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি মেরিন বায়োলজিস্ট, গ্রাজুয়েট। মঙ্গলবার তাকে নিয়ে টেলিভিশনে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় চারদিকে শোরগোল পড়ে গেছে। এতে উঠে এসেছে বৃটেনে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভয়াবহ অবস্থা। এমনি ঋণ নিয়ে পড়াশোনা করছেন অনেক শিক্ষার্থী। বিশেষ করে মেয়েরা সেই ঋণ শোধ করতে গিয়ে ঝুঁকে পড়ছে দেহ ব্যবসার মতো জঘন্য পেশায়। তাই লুইস বলেছেন, আমি পেট্রোল স্টেশনে সর্বনিম্ন বেতনের কাজ পেতে পারতাম। তা সত্ত্বেও আমি বেছে নিয়েছি দেহব্যবসা। এর কারণ এ পেশার মাধ্যমে তিনি প্রতি সপ্তাহে উপার্জন করতে পারেন ৯০০ পাউন্ড। বিবিসি’র ভিক্টোরিয়া ডারবিশায়ারকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। তাতে লুইস বলেছেন, আমি আমার অধিকার নিয়ে একগুঁয়ে। আমি কে, আমি কি করবো তা অন্য কেউ নির্ধারণ করতে পারবে না। আমি চাই না যে, মানুষ ভাবুক আমি ড্রাগ ব্যবহার করি। আমাকে কেউ এ কাজে বাধ্য করে নি। আমাকে পাচার করে এ ব্যবসায় নামানো হয় নি। সাধারণ একজন মানুষের মতোই আমি এ পেশায় এসেছি। কারণ, আমার অর্থের প্রয়োজন। আমার নিজের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার জন্য তা দরকার। এ জন্যই আমি এই কাজটিই বেছে নিয়েছি। উল্লেখ্য, লন্ডনের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ওয়েস্টমিনস্টারের ভিক্টোরিয়া আবাসিক এলাকায় ছিমছাম দু’ বেডরুমের একটি ফ্ল্যাট। সেখানেই ব্যবসা পেতেছেন লুইস। প্রতি আধা ঘণ্টার জন্য সেখানে প্রতিজন খদ্দেরের কাছ থেকে আদায় করা হয় ৭০ পাউন্ড। তবে প্রচলিত পতিতালয়ে এ অর্থের পরিমাণ ২৫ পাউন্ড। যেদিন খদ্দেরের বেশি ভিড় থাকে সেদিন লুইসকে সামাল দিতে হয় প্রায় ৯ খদ্দেরকে। পতিতারা যতক্ষণ নিরাপদ থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত পতিতাবৃতি বা দেহব্যবসা অনুমোদিত বলে মঙ্গলবার রাতে স্বীকার করেছেন এক সিনিয়র পুলিশ অফিসার। ড্যান ভাজকোভিচ নামের ওই অফিসার বলেছেন, শুধু গ্রেপ্তার করে তেমন কাজ হয় না। এখন যারা এ ব্যবসায় নিয়োজিত তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়াই তার অগ্রাধিকার। দেশজুড়ে যৌন ব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশিং দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রধান কনস্টেবল বলেছেন, সব সময় বিচার কাজই সমস্যার সমাধান নয়। লুইস যে পতিতালয়ে দেহব্যবসা করেন তার মালিক সাবেক একজন পুলিশ অফিসার- এ তথ্য আগেই দেয়া হয়েছে। তিনি মঙ্গলবার বলেছেন, তার সাবেক কিছু সহকর্মী এই ব্যবসাটা বন্ধ করে দেয়ার পক্ষপাতী নন। এখন তার রয়েছে এমন তিনটি পতিতালয়। লন্ডনের পশ্চিম ও মধ্য লন্ডনে সেগুলোর অবস্থান। এতে জড়িত রয়েছেন লুইস সহ ২০ যুবতী। এ ব্যবসার প্রচারণা চালানো হয় অনলাইনে। যে বাসায় এ ব্যবসা চালানো হচ্ছে তা একটি ভাড়া ফ্ল্যাট। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে পতিতালয় পরিচালনা অবৈধ। কিন্তু ব্যক্তিবিশেষ যদি দেহ ব্যবসা করেন, দেহ বিক্রি করেন, ইচ্ছে করে কেউ অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন তা বৈধ। লুইসের পতিতালয়ের মালিকের নাম প্রকাশ করা হয়েছে শুধু কার্ল নামে। তিনি বলেছেন, তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন ১৫ বছর। এ থেকে প্রতি বছর তিনি উপার্জন করেন ৬০ হাজার পাউন্ড। কার্লের বয়স ৪৫ বছর। বলেছেন, তিনি এসব যুবতীকে বাধ্য করেন নি এ পেশায় আসতে। তাই তিনি এ সংক্রান্ত কোনো আইন লঙ্ঘন করেন নি। তিনি বলেছেন, আমরা মদ অনুমোদন করি না। আমাদের এ ব্যবসায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোনো মেয়ে নেই। আমরা সবার পাসপোর্ট চেক করে তবেই তাদেরকে দলে নেই।

বাংলাদেশের নির্বাচন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে শিগগিরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, এই বছরের ৩১শে অক্টোবর থেকে ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ বা দেশটির প্রধান প্রতিবেশী ভারত কারো জন্যই এটি সহজ কোনো প্রেক্ষাপট নয়। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন সহিংসতার কারণে বিতর্কিত ছিল। পাশাপাশি, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ওই নির্বাচন বয়কট করে। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২২ শতাংশ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা, এবারের নির্বাচন হবে আরো বিশ্বাসযোগ্য এবং এ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার পক্ষে সহায়ক হবে বলেও সবার আশা। দেশটিতে আবার ইসলামি চরমপন্থা শক্তিশালী হচ্ছে।
এ মাসে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের এক বৈঠকে ঢাকায় গেছেন। তার সফরের পর ঢাকায় যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয় গোখালে। তার সফরের উদ্দেশ্য ছিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো। ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক বেশ পুরোনো। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে এ সম্পর্ক।
বিএনপিকে নিয়ে সংশয়ী ভারত: বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছে ১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬ সালে বিএনপির দুই দফার শাসনামলের অভিজ্ঞতা থেকে। দলটির দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গিবাদের শেকড় বিস্তার করে। তখন বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ দৃষ্টিপাত না করায় ভারতের সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তানের গোপন সমর্থন পেয়েছে।
রাজনৈতিক, জাতীয় নিরাপত্তা ও ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিবেচনায় থাকতে হবে যে, বাংলাদেশের সঙ্গে পাঁচটি ভারতীয় অঙ্গরাজ্যের সীমান্ত রয়েছে। দেশটি বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের কাছেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ, এখানে বিপুল সংখ্যক মুসলিমের বাস, যারা উগ্রপন্থার ছোঁয়ায় আসছেন।
জামায়াতে ইসলামি, হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি বাংলাদেশ, জমিয়াতুল মুজাহিদিনসহ ইসলামিস্ট গোষ্ঠীগুলো অনেকদিন হলো দেশটিতে আছে। এখন ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদার মতো গোষ্ঠীরও দাবি দেশটিতে তাদের উপস্থিতি রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আত্মঘাতী হামলাও প্রত্যক্ষ করেছে বাংলাদেশ। এ কারণে আওয়ামী লীগ ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যতীত অন্য যে কারো নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আছে- এমন প্রেক্ষাপটকে উদ্বেগের চোখে দেখে ভারত। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে, ভারত জোর দিয়েই বলে থাকে যে, দুই দলের বিষয়ে তারা নিরপেক্ষ। গত অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরে গিয়ে বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। আলোচনা করেছেন দলটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে। কয়েকজন ভারতীয় কর্মকর্তা বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ, উগ্রপন্থা ও তৃতীয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকাণ্ড সীমিত করার মতো ইস্যুতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের কাজ করার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক। তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইসলামিস্ট চরমপন্থা দূরীকরণে শেখ হাসিনা খুবই সক্রিয়। অপরদিকে বিএনপি সরকার কিছু ইসলামিস্ট গোষ্ঠীকে যদি উৎসাহ নাও দিয়ে থাকে, অন্তত তাদেরকে সহ্য করেছে বলে, এমনটা দাবি ভারতীয় কর্তাদের।
নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন: স্পষ্টতই, যেকোনো নতুন নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার চ্যালেঞ্জ পূরণ করতে হবে। এখন পর্যন্ত বিএনপি বলছে, আগামী নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে দলটির অবস্থান হলো, ভালো হয় যদি তা নির্দলীয় একটি নির্বাচন কমিশনের অধীনে হয়। যারা নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারের দায়িত্ব নেবে। এমনকি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দলটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি নিয়ে প্রচারণা জোরদার করেছে।
ক্ষমতাসীন-বিরোধিতা ফ্যাক্টরের ওপর ভর করছে বিএনপি। দলটি নিজেই নির্বাচনে লড়ার জন্য সাংগঠিনকভাবে ভালো অবস্থায় নেই। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ৩৭টি মামলা দায়ের করা আছে। লন্ডন থেকে পরোক্ষভাবে দল পরিচালিত হচ্ছে তার ছেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে।
ফেব্রুয়ারিতে বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছেলেকে একটি দুর্নীতি মামলায় সাজা দেয়া হয়। একটি তহবিল থেকে অর্থ তছরুফের অভিযোগে তারা সাজা পান। খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেয়া হয়। তার দল দাবি করছে, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত। তবে, বাংলাদেশের সরকারগুলোর বাজে পারফরম্যান্সের পেছনে একটি বড় কারণ হলো লাগামহীন দুর্নীতি।
খালেদার একসময়কার প্রধান মিত্র জামায়াতে ইসলামির স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন কার্যকলাপের বিচার হয়েছে। দলটি রীতিমত ধ্বংস হয়ে গেছে। দলটির নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেছে। নির্বাচনে অংশও নিতে পারবে না জামায়াতে ইসলামি। যদিও নিজেদের ছাত্র শাখা বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের মাধ্যমে এখনো রাজপথে উল্লেখযোগ্য শক্তি রয়েছে দলটির।
শেখ হাসিনার সমস্যা হলো ক্ষমতাসীন থাকার সমস্যা। আরেকটি সমস্যা হলো তার মিত্র সাবেক স্বৈরশাসক হসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি বলছে তারা একাই নির্বাচন লড়বে।
শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালোই করেছে। বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭ শতাংশ। ভারতের চেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে দেশটির অর্থনীতির কলেবর। তারপরও সরকার কাঠামোয় কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে যা সহজে দূর করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত অরাজনৈতিক ভূমিকায় আছে। তবে, ২০০৬ সালে সেনাবাহিনীই তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে দুই বছরব্যাপী মেয়াদে টিকিয়ে রেখেছিল। নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত ওই অবস্থা বিরাজ ছিল। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের।
আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন থাকলে, এমনো সম্ভাবনা আছে যে, গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ফের সেনাবাহিনীকে ডাকা হবে। তবে, শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে ঘনিষ্ঠ করে রেখেছেন। আকার দ্বিগুণ করেছেন। অস্ত্রসজ্জিত করার পাশাপাশি নতুন ঘাঁটি নির্মাণে উদারহস্তে বাজেট দিয়েছেন।
ভূরাজনৈতিক হটস্পট: ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন নিয়ে কিছু পশ্চিমা দেশ অসন্তুষ্ট ছিল। এ কারণেই বেইজিং ঢাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ভারতের প্রভাব কমিয়ে আনতে ও বঙ্গোপসাগরের মাথায় দেশটির কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে চীনের স্বার্থ বাড়ছে। মিয়ানমারের রাখাইন অঙ্গরাজ্যের নিকটেই বাংলাদেশের অবস্থান। এখানে চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। এই রাজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনও রয়েছে চীনের। এই পাইপলাইনের ফলে মালাক্কা প্রণালী এড়িয়ে চীন সরাসরি নিজের স্থলবেষ্টিত প্রদেশ ইউনানে তেল সরবরাহ করতে পারছে।
ভারত বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দাতা ও বাণিজ্য আংশীদার। তবে, চীন এখন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। ২০০৭ সাল থেকে দেশটি বাংলাদেশে ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশে সেতু, সড়ক ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চীনের সংশ্লিষ্টতা আছে। এ ছাড়া চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ।
২০১৬ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরে এসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের অবকাঠামোখাতে দুই হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেন। একটি বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এই বিনিয়োগ বেড়ে তিন হাজার ১০০ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে। বিনিয়োগের এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারলে সবাইকে বহুদূর ছাড়িয়ে চীন হবে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ। ভারত এখানে চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে না। তবে, ভারত বাংলাদেশকে দেয়া ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৪৫০ কোটি ডলার করেছে, যা যেকোনো দেশকে দেয়া ভারতের সর্বোচ্চ ঋণের প্রস্তাব।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে চীন ও ভারত উভয়ের সম্পর্কই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। চীন একদিকে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে পালিয়ে আসার নেপথ্যে মিয়ানমার সরকারের ভূমিকার নিন্দা জানায়নি। অপরদিকে ভারতের কেউ কেউ উদ্বিগ্ন যে, বাংলাদেশ থেকে বড় আকারে রোহিঙ্গারা ভারতে অনুপ্রবেশ করতে পারে। হয়ে উঠতে পারে নিরাপত্তা হুমকি।
তাহলে প্রশ্ন হলো, ভবিষ্যৎ কেমন দেখাবে বাংলাদেশে? এই প্রশ্ন পুরো বিশ্বের। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে ভারতের।
সবচেয়ে খারাপ দৃশ্যকল্প হলো এই যে, বাংলাদেশের সংসদীয় দলগুলো দুর্বল হবে। শক্তিশালী হবে হেফাজতে ইসলামের মতো গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান। ইসলামি আদর্শবাদীরা ইতিমধ্যেই পাঠ্যবই পরিবর্তনের মাধ্যমে অমুসলিম লেখক ও তাদের ধ্যানধারণা বাতিল করিয়ে জাতীয় ন্যারেটিভ পরিবর্তনে সক্ষম হয়েছে। ২০১৫-১৬ সালে, ব্লগার, শিক্ষাবিদ ও হিন্দুদের ওপর জঙ্গিরা হামলা করে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এসব দমন করা শুরু করে কেবলমাত্র ২০১৬ সালের জুলাইয়ে হলি আর্টিজান বেকারিতে হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হওয়ার পর।
আরেকটি বিকল্প হলো সামরিক সরকার, যেমনটা দেশটি অতীতে বেশ কয়েকবার দেখেছে। বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে বেশ উপযুক্ত অবস্থানে (সুইট স্পট) আছে, তবে এখানে বড় এক ‘কিন্তু’ আছে। বাংলাদেশের ইসলামিস্ট উগ্রপন্থার পুরোনো ইতিহাস আছে। তবে নতুন ও আরো উৎকট ঘরানার ইসলামিজম দেশকে খণ্ডবিখণ্ড করে দিতে পারে।
(মনোজ যোশী নয়াদিল্লি-ভিত্তিক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সম্মানিত ফেলো। এশিয়া টাইমস থেকে তার এই নিবন্ধ অনুবাদ করা হয়েছে।)

হাত হারিয়ে কাতরাচ্ছেন হৃদয়

এবার বাস-ট্রাকের চাপায় হাত হারিয়ে ঢাকা মেডিকেলে কাতরাচ্ছেন খালিদ হাসান হৃদয়। দুই বাসের চাপায় হাত হারানো রাজীব হোসেনের নিথর দেহ যেদিন ঢাকা মেডিকেল থেকে দাফনের জন্য নিয়ে যান স্বজনেরা, একইদিন ডান হাত হারিয়ে হাসপাতালে আসেন হৃদয়। স্বল্প আয়ের সংসারে বাবাকে সহযোগিতা করতে বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। কাজ শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০২ ওয়ার্ডের ২৪ নম্বর বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন ২৩ বছরের হৃদয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপালগঞ্জ সদরের বেতগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ট্রাকের ধাক্কায় তার ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হৃদয়ের বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে হৃদয়ই সবার ছোট। বড় দুই মেয়ের একজন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। ঘটনার দিন টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের চালকের সহকারী হৃদয় পিরোজপুর থেকে ঢাকাগামী গাড়ির পেছনে বসা ছিলেন। এ সময় কিছুক্ষণের জন্য ডান হাতটি বাসের জানালার বাইরে রেখে বসলে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের চাপায় তার ডান হাত কেটে যায়। কাটা হাতটি জানালায় ঝুলে থাকার কিছু পর তা সড়কে পড়ে যায়। আহত হৃদয়কে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ধারদেনা করে হৃদয়ের চিকিৎসা চালানো হচ্ছে বলে জানান হৃদয়ের বাবা। ট্রাকের চালক ও হেল্পারকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের প্রধান ডা. শামসুজ্জামান শাহীন বলেন, রাজীবের লাশ একদিকে ফিরিয়ে দিলাম ঠিক ওইদিনই হৃদয় নামে আরেক তরুণ একইভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছে। দু’জনেরই ডান হাতের ঠিক একই স্থানে কাটা পড়েছে। বয়সও অনেকটা কাছাকাছি। হৃদয়ের উন্নত চিকিৎসায় আমরা তৎক্ষণাৎ আনঅফিসিয়ালি আর্থোপেডিকসের চিকিৎসকরা মিলে বৈঠক করে তার জরুরি অপারেশন সম্পন্ন করেছি। তার মুখে ও মাথায় সামান্য আঘাত রয়েছে তবে সেটা ততোটা গুরুতর নয়। হৃদয়ের অবস্থা এখন স্থিতিশীল। দুই-তিন দিন পর ডান বাহুর কাটা অংশ ড্রেসিং করা হবে। ক্ষত শুকিয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। আপাতত হৃদয়ের অবস্থা ভালো। হৃদয়কে তরলজাতীয় খাবার খাওয়াতে বলা হয়েছে। আগামী ৩-৪ দিন পর্যবেক্ষণের পর তার আচরণের উপর নির্ভর করে সিটিস্ক্যান করা হবে।
পরবর্তীতে তার হাত ড্রেসিং করে প্লাস্টিক সার্জারি করা হবে। চোখেমুখে তীব্র বেদনার ছাপ নিয়ে হৃদয় বলেন, ‘প্রথমে আমি কিছু বুঝতে পারি নাই। তাকিয়ে দেখি, আমার ডান হাতটা বাসের জানালার সঙ্গে ঝুলছে। এরপর আর কিছু মনে নাই।’ মুখের ডান পাশ ফোলা ও নাকে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ রয়েছে হৃদয়ের। ডান চোখের নিচে ও মাথার পেছনে একাধিক জখম তার। বুকের ডান পাশে ব্যান্ডেজ। হৃদয়ে মা শাহিদা বেগম বলেন, ‘মঙ্গলবার ভোররাতে হৃদয় প্রবল ব্যথায় ছটফট করলে ইনজেকশন দেয়ার পর ঘুমিয়ে যায়। হৃদয়ের চিকিৎসার খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। তার ওষুধসহ বিভিন্নভাবে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এতোদিন বাপ-ছেলে দু’জনের উপার্জনে সংসার চলতো। এখন আমার ছেলেটা কিভাবে আয়-রোজগার করবে জানি না। সংসারের কষ্ট কিছুটা দূরও হয়েছিল। ছোট মেয়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ালেখা করছে। হৃদয় উপার্জন করায় এতোদিন মেয়ের পড়ার খরচ চালাতে পারছিলাম।
মঙ্গলবার কাজ শেষে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের আরেকটি বাসে করে গোপালগঞ্জ যাচ্ছিলেন হৃদয়। বাসের পেছনে জানালার পাশের একটি সিটে বসেছিলেন তিনি। ডান হাত দিয়ে জানালার মাঝখানের রড ধরে ছিলেন। গোপালগঞ্জের বেতগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসের পেছন দিক থেকে আসা একটি ট্রাক ওভারটেক করতে যায়। হঠাৎ করে ট্রাকটি বাসের পেছন অংশ ঘেঁষে চলে যায়। এতে হৃদয়ের ডান হাতটি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

যেভাবে জঙ্গি কলেজছাত্রী মিতু

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থেকে কলেজ ছাত্রীসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- জান্নাতুল নাঈম ওরফে মিতু (১৯), মেহেদী হাসান ওরফে মাসুদ (২২) ও আকবর হোসেন ওরফে সুমন (৩০)। বন্দরের সোনাকান্দা এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জান্নাতুল নাঈম মিতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেএমবির সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হন। তাদের মাধ্যমে উদ্রবাদী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হয়ে স্বামীকে তার পথে আনার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত স্বামীকে উগ্রবাদে সম্পৃক্ত করতে না পেয়ে চলতি বছরের ৩১শে মার্চ দুই বছরের শিশু সন্তান রোজা আক্তারকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। তিনি জঙ্গি সদস্য মেহেদী হাসান ও আকবর হোসেন সুমনের কাছে যান। তারা তাকে একটি বাসা ভাড়া করে দেন।
মেহেদী ও সুমন মিতুর মাধ্যমে বেশ কয়েকজন নারীকে জেএমবির আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করেন। র‌্যাব-১১ এর সদর দপ্তর সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে বুধবার সকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-১১এর সিও লে. কমান্ডার কামরুল হাসান এ তথ্য জানান। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরো জানান, ২রা এপ্রিল সোনারগাঁও নিবাসী মো. নুরুল ইসলাম তার মেয়ের জামাই জুয়েল র‌্যাব-১১ কার্যালয়ে এসে লিখিত অভিযোগ করে যে, তার মেয়ে জান্নাতুল নাঈম ওরফে মিতু (১৯) জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সে রাষ্ট্র বিরোধী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার জন্য ২ বছরের শিশু সন্তান রোজা আক্তারকে নিয়ে ৩১শে মার্চ বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। তারা দ্রুত মিতুকে আইনের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ জানায়। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে র‌্যাব মিতুকে উদ্ধার করতে গিয়ে জেএমবির দুই সদস্যসহ তাদের গ্রেপ্তার করে। উল্লেখ্য, মিতু ২০১৭ সালে সোনারগাঁয়ের মেঘনা শিল্পনগরী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাশ করে এবং একই কলেজে এইচএসসি অধ্যয়নরত।
যেভাবে মিতু জঙ্গি সংগঠনে জড়ায়: র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাতুল নাঈম ওরফে মিতু জানান, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ফেসবুক আইডি ‘আল্লাহর সৈনিক’ এর মাধ্যমে জনৈক মেহেদী হাসান ওরফে মাসুদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মেহেদী তাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত মুসলিমদের পক্ষে কাজ করার আহবান জানিয়ে জসিম উদ্দিন রাহমানির উগ্রবাদী বক্তব্য সংব্বলিত বিভিন্ন বক্তব্য সরবরাহ করে। এর প্রেক্ষিতে ধীরে ধীরে সে উগ্রবাদে আকৃষ্ট হলে তাকে জেএমবির দাওয়াত দেয়া হয়। এছাড়াও নামাজ আদায় না করলে ও দাঁড়ি না রাখলে তার স্বামীকে পরিত্যাগ করা উচিত বলে বিভিন্ন ফতোয়া দেয়। মেহেদী হাসান ওরফে মাসুদ তাকে বাংলাদেশ সরকার ও ত্বাগুত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হওয়ার আহবান জানালে মিতু তাতে সাড়া দেয়। এরপর থেকে মিতু তার ফেইসবুক আইডি ‘এসো ইসলামের পথে’ এবং ‘আলোর পথ ইসলাম’ থেকে বিভিন্ন যুদ্ধ, অস্ত্র ও গোলাবারুদের স্থিরচিত্র এবং ভিডিওসহ বিভিন্ন উগ্রবাদী মতবাদ প্রচার করতে থাকে। সে তার কাছের বন্ধু-বান্ধবদের কথিত জিহাদের দাওয়াত দেয়া শুরু করে।
মিতু তার স্বামী জুয়েলকে উগ্রবাদের পথে আসার আহবান জানিয়ে ব্যর্থ হলে স্বামীকে ত্যাগ করে কথিত শহীদী মৃত্যু বরণ করার লক্ষ্যে হিযরত করার পরিকল্পনা করে। তার পরিকল্পনার কথা সে মেহেদী হাসান ওরফে মাসুদকে জানালে সে তাকে মাহরাম ছাড়া হিযরত করা যাবে না বলে জানায়। এবং তার বন্ধু আকবর হোসেন সুমনকে মাহরাম হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তব দেয়। এরপর মেহেদী তার বন্ধু আকবর হোসেন ওরফে সুমনের সঙ্গে মিতুর যোগাযোগ করিয়ে দেয়। সুমনকে মাহরাম হিসেবে পাওয়ার জন্য মিতুু তার স্বামী জুয়েলকে ডিভোর্স দেয়ার পরিকল্পনা করে। সুমন ও মেহেদীর পরামর্শ অনুযায়ী মিতু গত ৩১শে মার্চ সোনারগাঁয়ের তার নিজ বাড়ি থেকে চট্টগ্রামে চলে যায়। সুমন ও মেহেদী তাকে সেখানে একটি ভাড়া বাসা ঠিক করে দেয়। তারা দুজনে মিতুকে শহীদ হওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের কৌশল ও পরামর্শ প্রদান করে এবং মিতুুকে শহীদী মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে বলে। পরে তারা নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও ঢাকার কয়েকজন জেএমবি সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংগঠনের কর্মী সংগ্রহের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সফরের পরিকল্পনা নেয়। এ লক্ষেই তারা নারায়ণগঞ্জে একত্রিত হয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়।
এদিকে মেহেদী হাসান ওরফে মাসুদ ২০০৫ সালে চট্টগ্রামের রাউজান আমিরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পাশ করে। পরবর্তীতে ফটিকছড়ি মাইজভান্ডার হেফজখানাতে ৩/৪ বৎসর পড়ালেখা করে। সে ২০১১ সাল  হতে চট্টগ্রামের হালিশহর ও ইপিজেড এলাকায় একটি ফুড প্রোডাক্টস্‌ কোম্পানিতে সেলস্‌ ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করে। ২০১৫ সালে সে জনৈক সামি ভাইয়ের মাধ্যমে হানাফি থেকে সালাফি মতাদর্শে দীক্ষিত হয়। এরপর ওই সামি ভাই তাকে উগ্রবাদী বিভিন্ন বয়ান শুনতে ও কিছু বই পড়তে দেয়। পরবর্তীতে এ সকল বয়ান ও বইয়ের মাধ্যমে উগ্রবাদে আকৃষ্ট হয়ে সে বিভিন্ন সালাফি মসজিদে যাতায়াত শুরু করে। ২০১৫ সালের শেষদিকে সামি তাকে অপর এক দ্বীনি ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।
২০১৬ ও ২০১৭ সালে মেহেদী দাওয়াতি কাজে ব্যাপকভাবে তৎপর ছিল। এসময়ে সে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় সফর করে জেএমবির কর্মী সংগ্রহ করেছে। ২০১৮ সালে সে কয়েকবার নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও সোনারগাঁয়ে সফর করে বিভিন্ন গোপন মিটিং ও জেএমবির কর্মী সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রেখেছিল। সে বিভিন্ন সময়ে দ্বীনি বোনদেরকে পর্দার আড়াল থেকে জেএমবির আদর্শিক বয়ান প্রদান করত এবং বাংলার মাটিতে জিহাদ কায়েম করার জন্য একনিষ্ঠভাবে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানাত। এর সুবাদে একাধিকবার মিতুর সঙ্গে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন জায়গায় মেহেদীর দেখা হয়। মেহেদী সরাসরি দাওয়াতি কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করত।

অতীতের ভোট ডাকাতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন না -মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন- ব্যক্তিগত, প্রতিহিংসা ও নোংরামির রাজনীতি ছেড়ে আসুন খুলনাবাসীর কাছে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের চর্চা করি। খুলনাবাসী আমাদের কাছে সঠিক নেতৃত্বের আশা করে। আমরা নেতৃত্বে থেকে আগামীর জন্য সৎ, যোগ্য ও আদর্শ রাজনীতিবিদ গড়ে তুলতে চাই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো এমপি বা বড় নেতার সন্তানেরা হাউসটিউটর হয়; আমার জানা নেই। আমার দুই সন্তান হাউসটিউটর; আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি-এটা আমার সন্তানদের ত্যাগ। আলীশান বাড়িতে আমি থাকি না; এই শহরের সবচেয়ে ছোট্ট বাসায় ছোট ছোট দুটো রুম নিয়ে আমি থাকি। যার ভাড়া হচ্ছে নয় হাজার টাকা। আওয়ামী লীগের নেতারা এসব বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন। সাংবাদিকদের তার বাসা দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন; তবে সকলে একসঙ্গে গেলে সবাইকে একত্রে বসতেও দিতে পারবেন না বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
গতকাল বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মঞ্জু। মঙ্গলবার মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রেস ব্রিফিংয়ের প্রতিবাদে এ ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের আর নোংরামি না করতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির আহ্বান জানান তিনি।
নগর বিএনপির সভাপতি মঞ্জু বলেন, প্রার্থী হিসেবে আমার বক্তব্য বলতে এসেছি। আমি সীমিত আয়ের মানুষ। আমার পিতার একটি বাড়ি আছে, দুইটি বিল্ডিং চারতলা ও একতলা। সেখান থেকে ত্রিশ/বত্রিশ হাজার টাকার মতো ভাড়া পাই। আমি কয়েকবার ব্যবসা করার চেষ্টা করে উদ্যোগ নিয়েছি; আমার আর মনি ভাইয়ের যৌথ লাইসেন্স আছে সিএন্ডএফ’র। যদিও সেটায় কাজ করা যায় না। আমি নিজে কয়েক বছর চেষ্টা করেও মংলা বন্দরের কোনো কাজ ধরতে পারিনি। যেখানেই কাজ ধরতে যাই, সেখানেই খালেক তালুকদারের হস্তক্ষেপ। সেই ব্যবসায়ীকে বলে দেয়া হয়, মঞ্জুকে কাজ দিলে জাহাজ থেকে এখানে মাল নামানো যাবে না। এই কথাটি আমি খালেক সাহেবকে বলেছি যে, আমরা কি না খেয়ে থাকবো? আমি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নোংরামির কথা বলতে চাই না। আমার একটি গাড়ি আছে, যেটি আমি এমপি থাকাকালীন শুল্কমুক্ত পেয়েছিলাম। বিশ লাখ টাকা ব্যাংক লোন ও পৌনে চার লাখ টাকা নিজে দিয়ে গাড়িটি কিনেছিলাম। পরে সংসদে প্রাপ্ত সম্মানী থেকে ব্যাংক লোন পরিশোধ করেছি। আমার যখন অর্থ সংকট হয়; তখন আমি গাড়ি ছেড়ে রিকশায় চলাচল করি; মোটরসাইকেলে চলি- সবাই তা জানেন। আমি সবসময় একা চলি; আমার কোনো বাহিনী নেই। আমার বিশেষ পাহারা নেই।
আমার স্ত্রীর ও আমাদের বাড়ি ভাড়া মিলে পৌনে পাঁচ লাখ টাকা বার্ষিক আয়। আমার দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ তাদের মামারাই বহন করে। আমার স্ত্রীর পরিবার সম্পর্কে সবারই জানা, এই শহরের একটি ধনাঢ্য পরিবার। আমার মেয়ে, চারটি টিউশনি করে তার পড়ার খরচ নির্বাহ করছে।
কেসিসি নির্বাচনে প্রশাসন ও সরকার নিরপেক্ষ থাকবে, আশা প্রকাশ করে মঞ্জু বলেন, ‘বিগত দিনের তিনটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি দলের কর্মীরা ভোট ডাকাতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন না বলে বিশ্বাস করি।’
এ সময় নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, সহ-সভাপতি খান আলী মুনসুর, নগর শাখার সহ-সভাপতি শেখ মুশাররফ হোসেন, আব্দুল জলিল খান কালাম, জাফরউল্লাহ্‌ খান সাচ্চু, মো. ফকরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মনিরুল হাসান বাপ্পী, সিরাজুল ইসলাম মেঝোভাই, শেখ আব্দুর রশিদ, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট রুহুল হাসান রুবা, মোল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজ, শামসুজ্জামান চঞ্চল ও সেখ কামরান হাসান প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেমিকের বাবাকে খুন: কনিকার লোমহর্ষক বর্ণনা by মারুফ কিবরিয়া

পরকীয়া প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রেমিকের বাবা শাহ আলম ভূঁইয়া। তারই জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে খুনের পরিকল্পনা করেন প্রেমিকা লাবনী আক্তার কনিকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে বাসায় ডেকে নেয় ৭৫ বছর বয়সী শাহ আলমকে। শ্বাসরোধে হত্যার পর তার লাশ স্যুটকেসে ভরে গুমের উদ্দেশে অটোরিকশায় করে ঢাকার সড়কে ঘুরেছে কয়েক ঘণ্টা। টাকা ভাঙতি নেয়ার কথা বলে অটোরিকশায় লাশ রেখে সটকে পড়েছিল ‘খুনি’ কনিকা। ভেবেছিল হয়তো এখানেই সব শেষ। কিন্তু নিজের রহস্য আচরণে ধরা পড়ে এখন পুলিশের জালে কনিকা। হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনাও দিয়েছে সে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
গত ৮ই এপ্রিল বিকালে জনশক্তি ব্যবসায়ী শাহ আলমকে খিলগাঁও তিলপাপাড়া বাসা থেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায় কনিকা। এরপর সেখানেই একটি টিনশেডের বাসার মধ্যে শ্বাসরোধ করে খুন করে। কনিকার সঙ্গে এ ‘কিলিং মিশনে’ আরো কয়েকজন যোগ দিয়েছিল। তবে তাদের নাম এখনো জানায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশকে দেয়া স্বীকারোক্তিতে কনিকা জানায়, খুন করার পর শাহ আলমের লাশ স্যুটকেসবন্দি করে গুম করার চেষ্টা করেছিল। লাশ স্যুটকেসে ভরার করার পর একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে কনিকা। সিএনজি করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। সুবিধাজনক কোনো স্থান না পেয়ে সেটি ছেড়ে দিয়ে আরেকটি সিএনজি ভাড়া করে। তারপর সবুজবাগ থানাধীন মাদারটেক লেগুনা স্ট্যান্ডের কাছে একটি স্থানে শাহ আলমের লাশ অটোরিকশায় রেখে কৌশলে সটকে পড়ে কনিকা। সেখান থেকে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। মর্গে রাখার দু’দিনের মাথায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা সেখান থেকে লাশ শনাক্ত করেন। এরপর পরিবারের দেয়া তথ্যমতে পুলিশ কনিকাকে খোঁজা শুরু করে। গ্রেপ্তারের পর কনিকা খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন শাহ আলমের মেয়ে মলি। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সৈকতকেও আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মলি জানান, তার ভাই সৈকতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল কনিকার। বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই ঝামেলা হতো। নিহত শাহ আলমও চাইতেন ছেলে সৈকত যেন কনিকার কাছ থেকে সরে এসে ঠিকঠাক সংসারে মনোযোগ দেয়। কিন্তু কনিকার প্রতি এতটাই দুর্বল ছিল যে, সৈকত কিছুতেই সরে আসতে পারছিল না। এমনও সময় গেছে, কনিকা বাসায় এসে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দিতো। এসব নিয়ে প্রায়ই সংসারে অশান্তি চলতো শাহ আলমের। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিহত শাহ আলম ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। খিলগাঁও তালতলার মোবাইলের দোকান বিক্রির টাকা, ৩ মাসের ঘর ভাড়ার সঙ্গে বাকি টাকা যোগ করে তা জনশক্তি ব্যবসায়ীদের হাতেও তুলে দেন তিনি। বাবা শাহ আলমের শর্ত অনুযায়ী দুই মাস ধরে কনিকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখেন সৈকত। এতে ক্ষেপে যায় কনিকা। এই আক্রোশ থেকেই শাহ আলমকে খুন করা হয়েছে বলে ধারণা তাদের।
নাসরিন জাহান মলি আরো বলেন, তার বাবা নিখোঁজের পরদিন রাতে মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন তারা। কিন্তু শাহ আলমের মৃত্যুর খবর ঘটনার পরদিন সকালে মলিরা না জানলেও কনিকা বাসায় এসে সান্ত্বনা দিয়ে বলে, কাকার মৃত্যুর জন্য অনেক কষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি সন্দেহ হয় তাদের। রাতে লাশ শনাক্তের পর বিষয়টি জানাজানি হলে বাসায় মোবাইল ফোন রেখে গা-ঢাকা দেয় কনিকা।
এদিকে কনিকার বিষয়ে মলি আরো জানান, আমার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল কনিকার। তবে সেটা শুধুই পরিচয়ের খাতিরে। এলাকায় একসঙ্গে বড় হয়েছি। আর পরবর্তীতে আমার ভাইয়ের সম্পর্কের কথা জেনে শুধু ওই ব্যাপারে খোঁজখবর রাখতেই যোগাযোগ করতাম কনিকার সঙ্গে। এই মেয়ের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড সবাই জানেন এলাকার। ওর মা মাদক মামলাসহ দশ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। কনিকা ডিজে পার্টিতে গিয়েও নাচতো। এছাড়া যতদূর জানি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিল। যেদিন আমার বাবাকে খুন করে বেনাপোল চলে যায় সেদিন, ভাইয়াকে ফোন করে কনিকা। ভাইয়াকে বলে ‘আমি তোর বাপকে খুন করি নাই। তাও আমাকে ফাঁসাইছস।’ কনিকা তার আসল নাম হলেও বাইরে অনেকে তাকে সানিহা সারাহ নামেও চেনেন। গ্রেপ্তার করে কনিকাকে এরই মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আসাদুজ্জামান। তিনি মানবজমিনকে বলেন, শাহ আলম ভূঁইয়া খুনের ঘটনায় কনিকা নামের একটি মেয়েকে আমরা আটক করেছি। এরই মধ্যে আদালতে নেয়ার পর তিনি খুনের কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ মামলাটি নিয়ে আমরা এখনই কিছু বিস্তারিত বলছি না। আরো তদন্তের বাকি রয়েছে। তদন্তের স্বার্থেই সব বলা যাচ্ছে না।

সিলেটে শাকিলের জবানবন্দি- ‘চাকু কেড়ে নিয়ে সোহাগের গলা কাটি’ by ওয়েছ খছরু

‘বন্ধু  সোহাগের কাছ থেকে চাকু কেড়ে নিয়ে তার গলা কাটি। এরপর তার শরীরে এলোপাতাড়ি ঘা দেই। এক সময় সোহাগ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে বন্ধুরা এসে দেখে সোহাগ মারা গেছে। এরপর পরিকল্পনা করে তার লাশ বস্তায় ভরে ছড়ায় ফেলে  দেই।’ সিলেটের ঘাষিটুলায় বন্ধু সোহাগ খুনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় ঘাতক বন্ধু শাকিল আহমদ। সিলেটের মর্মান্তিক এ খুনের ঘটনার দুইদিনের মাথায় গতকাল কোতোয়ালি থানা পুলিশ আলোচিত এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করলো। গোয়েন্দা সোর্সের মাধ্যমে পুলিশ গতকাল দুপুরে ঘাষিটুলা এলাকা থেকে শাকিলকে গ্রেপ্তার করে। প্রথমে শাকিল কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে খুনের ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। গতকাল বুধবার বিকালে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হরিদাস কুমারের আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে খুনের বিবরণ দিয়েছে।
শাকিল প্রথমে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতের কাছে জানিয়েছে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বের জের ধরে সে খুন করেছে শাকিলকে। ঘটনার দিন শুক্রবার রাতে ঘাষিটুলা এলাকার বালুর মাঠে আসে সোহাগ। আগে থেকেই সেখানে বন্ধুদের নিয়ে অবস্থান করছিলো শাকিল। এরপর জরুরি কথা বলার জন্য শাকিল ও সোহাগ চলে আসে এলজিইডি অফিসের কাছে। তাদের বন্ধুরাও পিছু পিছু আসে। মাদক বিক্রির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে প্রথমে নিহত সোহাগের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় শাকিলের। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর হঠাৎ করে সোহাগ বন্ধু শাকিলকে থাপ্পড় মারে। এরপর সোহাগ পকেট থেকে চাকু বের করে শাকিলকে মারতে আসে। এ সময় শাকিল চাকু কেড়ে নিয়ে সোহাগের গলায় আঘাত করে। এতে সোহাগের গলা কেটে রক্ত ফিনকি দিয়ে বের হচ্ছিল। শাকিল সোহাগকে এরপর উপর্যুপরি কয়েকটি ঘা দিলে সোহাগ মারা যায়। পরে বন্ধুদের সহযোগিতায় তারা সোহাগের লাশ বস্তার ভরে গাভিয়ার খালে ফেলে দিয়ে চলে আসে। নিহত সোহাগ (১৭) বগুড়া সদর থানার ঝোপগাড়ী (পূর্বপাড়া অলিরবাজার)’র আশরাফের পুত্র। বর্তমানে তারা নগরীর মজুমদারপাড়া ময়না মিয়ার কলোনিতে বসবাস করে আসছিল। পাশাপাশি সোহাগ কাজিরবাজার মাছের আড়তে কাজ করতো। সে টোকাই হিসেবে পরিচিত ছিল জানিয়েছেন কাজিরবাজারের মৎস্য আড়তদাররা। প্রতিদিন সকালে সে ব্যাগ নিয়ে বাজারে আসতো। মাছ কুড়িয়ে বিকালে বিক্রি করতো।
ছোটকাল থেকে এ পেশায় নিয়োজিত ছিল সোহাগ। তরুণ বয়সে সে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। আর খুনি শাকিলের মূল বাড়ি ঘাষিটুলায়। তার পিতা মঈন উদ্দিন। সোহাগের বয়সী শাকিল। শাকিল স্থানীয় হওয়ার কারণে এলাকায় সে সোহাগ, সায়েম, আজউদ্দিন, ইমন সহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তরুণ অপরাধ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। সকাল থেকে তারা আড্ডা জমাতো ঘাষিটুলার গোরস্থান রোডে। ওই রোডে তারা মাদক আস্তানাও গড়ে তুলেছে। ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা সহ নানা ধরনের মাদক বিক্রি করতো তারা। সোহাগ রাতের বেলা মাদক আস্তানা পরিচালনা করতো। আর শাকিল গ্রুপ প্রধান হিসেবে সে ওই মাদক বিক্রির হিসাব রাখতো। ওই সিন্ডিকেটের বেশিরভাগ ছিল টোকাই। এলাকার কিছু মাদকসেবকরা তাদের সুনজরে দেখতো। সাম্প্রতিক সময়ে তারা রাজনৈতিক লেবাস পরেছে। এর সুবাদে এলাকার মানুষের কাছে শাকিল ও ইমনের গ্রুপটি ছিল আতঙ্কের। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলেন না। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে অনিক নামের এক যুবককে বিনা কারণে তারা কুপিয়েছে। এতে অনিক গুরুতর আহত হয়। আর নারীদের উত্ত্যক্ত, ছিনতাই করা তাদের পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রাতের বেলা এলাকার কেউ ভয়ে মাদরাসা থেকে গোরস্থান সড়কে যেতেন না। শাকিল-ইমনের গ্রুপের কর্মীরা চাকু দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতো সব। নিহত সোহাগের পিতা আশরাফ জানিয়েছেন, পহেলা বৈশাখের আগের দিন সোহাগ নিজ বাসা থেকে বৈশাখের নতুন কাপড় কিনতে বের হয়। রাতে সে বাসায় ফিরেনি। তাকে পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন শনিবারও খুঁজেন কিন্তু পাননি। সোমবার দুপুরে এলাকার ছেলে এলজিইডির পাশে ক্রিকেট খেলছিলো। এ সময় তাদের বল উড়ে গিয়ে পড়ে ছড়ায়। এক শিশু বল আনতে গিয়ে দেখে একটি বস্তা রাখা। আর ওই বস্তা থেকে রক্ত ঝরছে। সে এলাকার মানুষকে বিষয়টি জানায়। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে ওই বস্তা উদ্ধার করে দেখে ভেতরে রক্তাক্ত লাশ। বস্তা খোলার পর স্থানীয়রা লাশটি সোহাগের বলে জানায়। এদিকে লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ ওই এলাকায় সোর্স নিয়োগ করে। খোঁজ মিলে শাকিল সহ কয়েকজনের। পুলিশের নজরে আসে মাদক ব্যবসার বিষয়টিও। অনেকটা নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল বুধবার দুপুরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার এসআই ফয়েজ সহ পুলিশ দল ঘাষিটুলায় অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে তারা শাকিল সহ ৩ জনকে আটক করে নিয়ে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল পুলিশের কাছে খুনের ঘটনা স্বীকার করে। এরপর শাকিলকে আদালতে হাজির করা হলে সে ঘটনার দায় স্বীকার করে।
সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি গৌসুল হোসেন জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বের জের ধরে সোহাগকে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শাকিল। খুনের ঘটনার সময় তার সঙ্গে আরো কয়েকজন ছিল। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, পুলিশ নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে আলোচিত এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে। কোতোয়ালি থানার এসআই রোকেয়া খানম জানিয়েছেন, নিহত সোহাগ প্রথমে শাকিলকে থাপ্পড় মারে। পরে চাকু বের করে। শাকিল চাকু কেড়ে নিয়ে সোহাগের গলা কাটে বলে স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, শাকিল ও সোহাগ বন্ধু। তারা এক সঙ্গে থাকে এবং এলাকায় আড্ডা দেয়। নিজেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার কারণে সোহাগকে তারা খুন করেছে।

খালেদার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপিতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা by কাফি কামাল

কারাগারে প্রতিকূল পরিবেশে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সুচিকিৎসার অভাবে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে দিনদিন। ঘাড় থেকে শোল্ডার হয়ে বাম হাতের আঙুলের গিট এবং কোমর থেকে বাম পায়ের তালু পর্যন্ত তীব্র ব্যথায় ভুগছেন তিনি। তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে বিএনপিতে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। দলটির নেতারা বলছেন, কারাগারে যাওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সামাজিক অবস্থান ও সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় বিশেষ কোনো সুবিধা পাননি খালেদা জিয়া। প্রথম তিনদিন মেলেনি কারা ডিভিশন। পরে ডিভিশন পেলেও দীর্ঘদিনের অর্থোপেডিক পেশেন্ট হিসেবেও মেলেনি স্বাস্থ্য উপযোগী প্রয়োজনীয় খাট ও বিছানা-বালিশ। বিশেষ করে প্রয়োজনের তুলনায় অপরিসর খাট, শক্ত বালিশ ও তোষকের কারণেই বেড়ে যায় তার অসুস্থতা। বিএনপির নেতাদের অভিযোগ- খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলেও সুচিকিৎসা নিয়ে পদে পদে খামখেয়ালীপনা করছে কারাকর্তৃপক্ষ ও সরকার। কারাবিধি অনুযায়ী বারবার আবেদন-নিবেদনের পরও খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের। এমনকি সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শগুলো মানা হচ্ছে না। সর্বোপরি খালেদা জিয়াকে তার চিকিৎসার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এদিকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ইস্যুতে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন সরকার ও বিরোধী দলের নেতারা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে জানিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ইস্যু নিয়ে বিরোধী দলকে রাজনীতি না করার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি’র কয়েকজন সিনিয়র নেতা।
কারাবন্দি খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও সরকারি মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তার শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তার জীবন ঝুঁকির মুখে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ খালেদা জিয়া একজন সত্তরোর্ধ নারী। তার উপর দীর্ঘদিন ধরেই তিনি একজন অর্থোপেডিক পেশেন্ট। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবে তার দুই হাঁটু রিপ্লেসমেন্ট হয়েছে এবং যুক্তরাজ্যে তার চোখের অপারেশন হয়েছে। এসব কথা দেশের সব মানুষই জানে। ডা. জাহিদ বলেন, খালেদা জিয়া একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, বিএনপি’র মতো একটি বড় দলের চেয়ারপারসন- কারাগারে তার সঙ্গে এসবের কিছুই বিবেচনা করা হয়নি। কারাকর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ভবনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তার জন্য বরাদ্দ করে অপরিসর খাট এবং শক্ত বিছানা-বালিশ। শক্ত বিছানা ও বালিশের কারণে প্রথমে তার ঘাড়ে ব্যথা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা শোল্ডার হয়ে বামহাতে ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে কোমরে ব্যথা শুরু হয়ে বাম হাঁটু হয়ে পায়ের পাতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ডা. জাহিদ বলেন, কারাগারে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লেও প্রথমে নজর দেয়নি কারাকর্তৃপক্ষ। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের কাছে খবর পান বিএনপি নেতারা। তারপর তার সঙ্গে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাতের সুযোগ দেয়ার জন্য বারবার আবেদন নিবেদন করা হলেও কারা কর্তৃপক্ষ তা অগ্রাহ্য করে। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে ১লা এপ্রিল সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে কারাকর্তৃপক্ষ। সেখানে চিকিৎসকরা কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি তাকে ‘অর্থোপেডিক কমপোর্টেবল বেড’ দেয়ার সুপারিশ করেন। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ৭ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে এনে তার ঘাড় ও কোমরের কয়েকটি এক্স-রে করা হয়। ওইদিন কারাকর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের হাসপাতালে ডাকলেও তার স্বাস্থ্যপরীক্ষাসহ তাদের কোনো পরামর্শ দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। ডা. জাহিদ বলেন, এক্স-রে পরীক্ষায় রিপোর্ট দেখে সরকারি মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরাই মতামত দেন খালেদা জিয়ার ঘাড়ে ও কোমরে সমস্যা রয়েছে। কিন্তু তাদের সে পরামর্শকেও আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি বলেন, কারাগারে কোনো ফিজিওথেরাপিস্টও নেই, রয়েছেন একজন ফার্মাসিস্ট। এমআরআই ছাড়া আন্দাজের উপর তাকে ব্যথার জন্য ব্যায়াম করালে বড় কোনো সমস্যাও তৈরি হতে পারে। বিএনপি’র তরফে ইউনাইটেড হাসপাতালে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেয়ার দাবিও গ্রাহ্য করা হচ্ছে না। সরকার ও কারাকর্তৃপক্ষের এমন আচরণে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও জীবন যেমন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে তেমনি দেশবাসীর মধ্যে নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিএনপি’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফাওয়াজ হোসেন শুভ জানান, কারাগারে খালেদা জিয়ার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের পরামর্শে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দূরের কথা, সরকারি চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেও তার চিকিৎসা হচ্ছে না।
বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক জানান, সরকারি মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের তরফে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তা আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। তার অর্থোপেডিক ব্যথার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে এমআরআই করা প্রয়োজন। তাহলেই বোঝা যাবে, তার স্পাইনালে কোনো সমস্যা আছে কিনা। কিন্তু বিএসএমএমইউ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে ‘বোনম্যারো ডেনসিটি’ পরীক্ষা সম্ভব নয়। কারণ সেখানে প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। এ পরীক্ষাগুলো কেবল ইউনাইটেড বা ল্যাবএইডের মতো বিশেষায়িত হাসপাতালেই সম্ভব। এছাড়া সরকারি চিকিৎসকদের ওপর আস্থা না পাওয়ায় ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী পুরনো ওষুধই সেবন করে যাচ্ছেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্য একজন চিকিৎসক বলেন, বয়স্ক মানুষের শারীরিক পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার অন্য একটি কারণ হচ্ছে নিঃসঙ্গতা। কারাগারে যে পরিত্যক্ত ভবনে তাকে রাখা হয়েছে সেটা যে কোনো বয়স্ক মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ কোনো কক্ষেও নয়, তাকে রাখা হয়েছে হলরুমের মতো একটি কক্ষে। সেখানে সময় কাটানোর মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই বলে জানা গেছে। সবমিলিয়ে আসলে খালেদা জিয়াকে এক ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে। কেবল চিকিৎসাই নয়, একজন রোগীর সুস্থতার জন্য পরিবেশ একটি বড় নিয়ামক। এদিকে বুধবার বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, কারাবন্দি দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে আমরা বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কারাকর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করছে না। খালেদা জিয়াকে যথাযথ মর্যাদায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ডাহা মিথ্যাচার। রিজভী বলেন, সরকারের মেডিকেল বোর্ড দেশনেত্রীকে অর্থোপেডিক বেডসহ যেসব চিকিৎসার সুপারিশ করেছিল তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। তার অসুস্থতা দিনদিন বাড়ছে। কিন্তু কারাগারে তার কোনো চিকিৎসাই হচ্ছে না। মনে হচ্ছে এতে গভীর চক্রান্ত রয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সরকার ও কারা কর্তৃৃপক্ষের টালবাহানায় দেশনেত্রীর জীবন নিয়ে আমরা গভীর শঙ্কা প্রকাশ করছি। এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক প্রতিবাদ সভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিচারিক রায়ে নয়, রাজনৈতিক রায়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে সরকার। স্বৈরাচারী সরকারগুলো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কেবল জেলেই পাঠায় না শারীরিকভাবে নিপীড়ন-নির্যাতনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ থেকে মুক্ত হতে চায়। তাই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়েও হেলাফেলা করা হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক প্রতিবাদ সভায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নেতাকর্মীদের বলেন, শেখ হাসিনা কোনো অবস্থাতেই খালেদা জিয়াকে জীবিত অবস্থায় মুক্তি দেবে না। এই রূঢ় বাস্তব কথাগুলো আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি। সেইভাবে আপনারা প্রস্তুত হোন।

কুমিল্লায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত

কুমিল্লায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট পণ্য লুটের ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য রুবায়েত হোসেন বাবুল (৩৫) পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন জেলার দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ডাকাত বাবুল নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার কুড়েরপাড় গ্রামের ঈমান আলীর ছেলে। এ সময় পুলিশের একজন পরিদর্শক ছাড়াও আরো ৪ পুলিশ আহত হয়েছে। নিহত ডাকাত বাবুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে ২০টি মামলা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার আমিরাবাদ এলাকায় গত ১১ই এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট পণ্যবাহী একটি কাভার্ডভ্যানের চালক শাহআলম (২৫) ও তার সহকারী আনোয়ার হোসেনকে (২২) হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। পরে তাদের মুন্সীগঞ্জ এলাকার ভবেরচর থানাধীন রাস্তার পাশে ফেলে রেখে ডাকাত দল কাভার্ডভ্যানটি নিয়ে ঢাকা অভিমুখে চলে যায়। এ ঘটনায় দাউদকান্দি থানায় মামলা দায়ের করার পর থানা ও জেলা ডিবি পুলিশ অভিযানে নামে। গত সোমবার মধ্যরাতে ঢাকার উত্তরার ১৩নং সেক্টরের একটি বাসা থেকে লুট হওয়া গার্মেন্ট পণ্য উদ্ধার ও মালামাল লুটে নেয়ায় জড়িত ডাকাত দলের মারুফ হোসেন লাভলু ও রুবায়েত হোসেন বাবুলকে আটক করা হয়। ডাকাত লাভলু মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বড় বাহাদুরপুর গ্রামের আয়নাল হাওলাদারের পুত্র। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার উদ্ধার ও অপর ডাকাতদের আটক করতে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে দাউদকান্দি মডেল থানা ও ডিবি পুলিশ অভিযান শুরু করে। অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম জানান, মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে দাউদকান্দির রায়পুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে ডাকাত বাবুলের অন্য সহযোগীরা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় সেখানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ডাকাত বাবুলকে পুলিশের নিকট থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে ৩৭ রাউন্ড শটগানের পাল্টা গুলি চালায়। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ডাকাত বাবুল গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর বুধবার ভোররাতে তার মৃত্যু হয়। দাউদকান্দি থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ডাকাতদের গুলিতে থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার, এএসআই প্রদীপ দাস, কনস্টেবল সোহরাব হোসেন ও ইব্রাহিম আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, এক রাউন্ড গুলিসহ একটি পাইপগান, ডিবির ২টি জেকেট, ১টি সিগন্যাল লাইট ও কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুপুরে দাউদকান্দি মডেল থানায় পুলিশের কর্তব্য-কাজে বাধাসহ ডাকাত নিহত হওয়া এবং অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

থমথমে ক্যাম্পাসে নজরদারি, আলটিমেটাম by ফররুখ মাহমুদ

কোটা সংস্কার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন ঘিরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুরুতে আন্দোলন ঠেকাতে জোরালো অবস্থান না নিলেও এখন সরাসরি বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হলে হলে আন্দোলনে অংশ নেয়াদের তালিকা করছেন তারা। গেস্টরুমে ডেকে হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। আন্দোলনের পক্ষে যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। আবার অনেকের ফেসবুক আইডি দিয়ে দেয়া হচ্ছে ছাত্রলীগের তৈরি করা ‘গুজবে কান দেবেন না’ গ্রুপে। সেখানে নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ‘খেয়ে দেয়া’র হুমকি দিচ্ছেন। রিপোর্ট করে নষ্ট করে দিচ্ছে আইডি। একসময় ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অংশ নিলেও আন্দোলনে অংশ নেয়া অনেক শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল-শিবির বানাতে মরিয়া একটি পক্ষ। ফলে আতঙ্কে হল ছাড়ছেন অনেক শিক্ষার্থী। আবার কেউ কেউ নিজেকে বিপদমুক্ত রাখতে আগের স্ট্যাটাস ডিলিট করে আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। এদিকে আন্দোলনে যাতে শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে না পারে সেজন্য হলের পাশাপাশি লাইব্রেরিগুলোতে অবস্থান নিচ্ছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই উদ্বেগ-আতঙ্কের মধ্যেও নতুন আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।’ গতকাল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আগামী সাতদিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না করলে সারা দেশে আবারো ছাত্র ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
গত সোমবার আন্দোলনের অন্যতম তিন নেতা যুগ্ম সমন্বয়ককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নেয়ার পর থেকে আতঙ্ক আরো বেড়েছে। প্রকট হয়েছে ছাত্রলীগের হুমকি-ধামকি, কড়া নজরদারি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরবতায়। গত ১৬ই এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের গেস্টরুমে শিক্ষার্থীদের ডেকে আন্দোলনে না যেতে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, যদি কেউ আন্দোলনে যায় তাহলে তাকে হল থেকে বের করে দেয়া হবে। তাদের নাম গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। দিনের বেলায় হলে থাকি না। রাতে হলে আসার পর আতঙ্ক বেশি কাজ করে। কারণ সিনিয়ররা কখন ডাকেন এ চিন্তায় ঘুম হয় না। মাস্টার দা সূর্য সেন হলের এক শিক্ষার্থী জানান, হলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বড় ভাইয়েরা আগের মতো আচরণ করছেন। তবে কেমন যেন ভয়ের মধ্যে থাকি। কখন কি হয় সেটা তো বলা যায় না। এমন চিত্র অন্যান্য হলগুলোতেও। তবে বেশি ভীতি ছড়িয়েছে কবি সুফিয়া কামাল হলে। ওই হলে গত ১০ই এপ্রিল আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রীদের মারধর করে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা। পা কেটে যায় দুই ছাত্রীর। পরে ছাত্রীরা একজোট হয়ে এশাকে পাল্টা মারধর করে এবং জুতার মালা দেয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এশাকে বহিষ্কার করে। ১৩ই এপ্রিল ছাত্রলীগ সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও শাখা ছাত্রলীগের ২৪ জন নেতাকে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন ছাত্রীরা। এশা হলে ফিরে ছাত্রীদের ওপর প্রতিশোধ নিতে পারেন বলে তারা আশংকা করছেন। এরই মধ্যে আতঙ্ক নিয়ে হল ছেড়ে গেছেন বেশ কয়েকজন ছাত্রী। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, হলে হলে হুমকি-ধামকি দেয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীরব। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও মাস্টার দা সূর্য সেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। তিনি বলেন, আজ (গতকাল) প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করা হবে। হলগুলোতে যাতে একটা স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করে সেজন্য হলে হলে কাউন্সেলিং প্রোগ্রাম করা হবে।
মামলা প্রত্যাহারে সাত দিনের আলটিমেটাম: এদিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার করা না হলে ফের ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক নুরুল হক নূর। এ সময় তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা মামলায় যে কাউকে হয়রানি করা যায়। তাই আমরা এটি প্রত্যাহার চাচ্ছি। সংবাদ মাধ্যমের খবর ও ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করছি। শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো অজ্ঞাতনামা মামলা রাখা যাবে না। নূর বলেন, অধিকতর তদন্ত ও সহায়তার স্বার্থে আমরা ঢাবি প্রশাসন ও পুলিশকে আরো সাতদিন সময় দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে দোষীদের খুঁজে বের করে অজ্ঞাতনামাদের নামে দেয়া মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্র সমাজ বর্জন করবে। যৌক্তিক দাবি আদায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও নেতৃত্বদানকারীদের নানা রকম ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে জানিয়ে নূর আরো বলেন, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ও সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অতিদ্রুত প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে নূর বলেন, একটি মহল ফেসবুকে ‘গুজবে কান দেবেন না’ গ্রুপে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সেখানে বলা হচ্ছে আমাদের খেয়ে দিতে। আমরা সবাই জীবননাশের শঙ্কায় আছি। আমাদের আহ্বায়ককেও ভয় দেখানো হচ্ছে। যার কারণে সে আজকের (গতকাল) সংবাদ সম্মেলনে আসেনি। এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাশেদ খান, ফারুক হাসান প্রমুখ। এদিকে সংবাদ সম্মেলনের সময় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির আশেপাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। আন্দোলনকারীদের সংবাদ সম্মেলনের পর একই স্থানে সংবাদ সম্মেলন করে আবু বক্কর সিদ্দিক। ৮ই এপ্রিল তিনি নিহত হয়েছিলেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত সোমবার থেকে ঘোষণা দিয়ে লাইব্রেরিতে যাওয়া শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাদের দেখাদেখি অন্য নেতারাও যাচ্ছেন এখন। ভেতরে কিছু সময় কাটিয়ে নেতারা বের হয়ে লাইব্রেরির সামনে আড্ডা দেন। তবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের লাইব্রেরিতে আসায় অনেক শিক্ষার্থী দুইদিন ধরে লাইব্রেরিতে যাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। এক শিক্ষার্থী জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাইব্রেরিতে আসেন আন্দোলনে যাতে কেউ যেতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে। তারা পড়তে আসেন না। লাইব্রেরিতে বসে ছবি তুলে বের হয়ে যান। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে সংগঠনটি একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে মিছিল পরবর্তী সমাবেশ করে সংগঠনটি। এসময় ছাত্রফ্রন্ট নেতারা হলে হলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব-গেস্টরুমের নামে নির্যাতন বন্ধ এবং কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হামলার বিচার দাবি করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, সহ-সভাপতি সাদিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক নিখিল চন্দ্র নাথ প্রমুখ। সালমান সিদ্দিকী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বেকাররা চাকরি পাচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে কর্মসংস্থানেরও কোনো ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। উল্টো যৌক্তিক কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলা করা হচ্ছে। তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। এসব ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি  ইফফাত জাহান এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। ১০শে এপ্রিল মধ্যরাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রীদের মারধরের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয় এশাকে। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনায় এশার সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। পরে ১৩ই এপ্রিল ছাত্রলীগ এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে। সংগঠনটি এশাকে হেনস্থার জন্য দায়ী করে কেন্দ্রীয় ও হল শাখার ২৪ নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে। এদিকে এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের ঘটনায় হলে ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ওই দিনের ঘটনায় জড়িত ২৬ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের শোকজ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১০ই এপ্রিল রাতে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোর্শেদা আক্তারকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এশার বিরুদ্ধে। ওই দিন রাতে নির্যাতনের শিকার মোর্শেদার রক্তাক্ত পায়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসায় রাতেই হলের বাইরে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে হেনস্থা হন এশা। এশাকে হেনস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসায় তার পক্ষ থেকে অনেকে মন্তব্য করেন। এদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দাবি করে গতকাল বিবৃতি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ জন শিক্ষক।

‘তখন আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি’ by আব্দুল আলীম

মোহাম্মদ পনির হোসেন। প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে  সাংবাদিকতার নোবেলখ্যাত পুলিৎজার পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার নাম। এ বছর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ফটো ফিচার পুলিৎজার পায়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে করা ওই ফটো ফিচারে কাজ করেন বিভিন্ন দেশের সাতজন আলোকচিত্রী। তাদের মধ্যে পনির হোসেনও ছিলেন। পুরস্কার ঘোষণার পর পনির জানান, ওই ফটো স্টোরিতে তার নিজের তোলা তিনটি ছবি ছিল। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তোলা ওই ছবিগুলো এডিট করার সময় ছবি দেখে নিজেই চোখের পানি ফেলেছেন।
পনিরের জন্ম ১৯৮৯ সালের ১০ই মে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানার বাসাইল ইউনিয়নের গুয়াখোলা গ্রামে। বাবা পুরান ঢাকায় স্টিলের ব্যবসায়ী। ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। পড়াশোনা করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুরুতে এক বন্ধুর ছবি তোলা দেখে নিজের মধ্যে ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহ জাগে। সেই আগ্রহ থেকে ২০১০ সালের শেষের দিকে ক্যামেরা কিনে ফটোগ্রাফি শুরু করেন। ২০১৪ সালে ঢাকায় কাউন্টার ফটো নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে জলবুায় পরিবর্তনের ওপরে ফটোগ্রাফির প্রশিক্ষণ নেন। এরপরই ফটোগ্রাফিকে পেশায় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেন।
পনির মানবজমিনকে বলেন, শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলেও পরিবার বাদ সাধে। কারণ আমার বাবা-মায়ের এ বিষয়ে তেমন কোনো ধারণা নেই। তারা খুব বেশি একাডেমিক শিক্ষিতও না। আমি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। সবাই চায় তাদের সন্তানের ভালো ভবিষ্যৎ। পরবর্তীতে কোনদিন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন ভেবে বিরোধিতা করেছিলেন। ইউএসএভিত্তিক নিউজ এজেন্সি জুমা প্রেস ও ইতালিভিত্তিক নুর ফটোতে ২০১৫ সাল থেকে কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ শুরু করি। এটাই প্রফেশনালি ফটোগ্রাফি। এখানে কাজ করতে করতে গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমস, টাইমস এগুলোতে নিয়মিত ছবি ছাপা হতে থাকে। এখান থেকে হাত খরচ আসতো। ফিলিপাইনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজুয়াল জার্নালিজমের ওপরে একটি ডিপ্লোমা করি। এটা স্কলারশিপ ছিল। এটা অনলাইন কোর্স ছিল। শুধু প্রেজেন্টেশনের জন্য ফিলিপাইনে যেতে হয়েছিল। এই কোর্স করা অবস্থাতে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে রয়টার্সে চাকরি হলো ফটোগ্রাফার হিসেবে। বাংলাদেশে রয়টার্সের দুই সিস্টেমে লোক নেয়। একটি হলো স্টিংগার অপরটি হলো অ্যাসাইনমেন্ট বেজ। বাংলাদেশে কোনো এজেন্সিরই স্টাফ নেই। বলা যায় আমি স্থায়ী ফটোগ্রাফার।
পুরস্কারটি পেয়েছি ৭ জন ফটোগ্রাফারের ১৬টি ছবির জন্য। এর মধ্যে আমার ৩টা ছবি আছে। এই ৭ জনের মধ্যে বিভিন্ন দেশের ফটোগ্রাফার আছেন। এর মধ্যে একটা ছবিতে এক রোহিঙ্গা মা মৃত শিশুকে চুমো দেয়ার দৃশ্য ছিল।
সাধারণত অন্যান্য দিনের মতো সকালে আমরা টেকনাফের শাহপরির দ্বীপে সাগরপাড় দিয়ে হাঁটতে থাকি। একটা নৌকা পেলাম যেখানে ২০/২৫ জনের মতো একটি দল ছিল। তাদের ছবি তোলার পর এক সিএনজি ওয়ালা খবর দিল অন্যদিকে একটি নৌকা এসেছে। সেখানে মানুষ মারা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে ১০ মিনিটের মধ্যে ওই সিএনজি নিয়ে সেখানে পৌঁছলাম। সেখানে গিয়ে মর্মান্তিক ঘটনা দেখতে পেলাম। একজন মা তার মৃত বাচ্চা নিয়ে কাঁদছেন। আর তার মুখে চুমো দিচ্ছেন। তখন পেশাগত কারণে ইমোশন কন্ট্রোল করেছি। কারণ, এমন ঘটনা আমাদের নিয়মিত দেখতে হয়।
কিন্তু যখন ছবি এডিট করছিলাম তখন আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। ভাবছিলাম একটা মানুষ কতটা বিপদে পড়লে এভাবে অজানা গন্তব্যে পাড়ি জমায়। ওই পরিবারের সঙ্গে নিজেকে মিলাচ্ছিলাম। আমার নিজের পরিবার নিয়ে যদি কোনো কারণে দেশ ছেড়ে পালাতে হয় তাহলে কেমন হতো।
তিনি বলেন, পুলিৎজারের ক্ষেত্রে নিউজগুলো অফিস থেকে জমা দেয়া হয়। এখানে নিয়ম হলো যে ছবি বা নিউজ আমেরিকা থেকে প্রকাশিত কোনো গণমাধ্যমে ছাপা হওয়া ছবি বা নিউজই পুরস্কারের জন্য যোগ্য। এটা জমা দেয়ার ক্ষেত্রে আমার কোনো হাত ছিল না। অফিসই সব করেছে। যারা পুরস্কার পেয়েছেন তাদের কোনো ঠিকানা পুলিৎজারের কাছে নেই। তাদের কাছে আছে রয়টার্সের ঠিকানা। তারা রয়টার্সকে জানিয়েছে।
পুরস্কারের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আমার মতো এতো কম বয়সে পুলিৎজার পাওয়া একটা সেই রকম ব্যাপার। যা কয়েকটা শব্দ দিয়ে তা প্রকাশ করা যায় না। পুলিৎজা হয়তো আমার হাত দিয়ে এসেছে কিন্তু আমি মনে করি আমার পাশাপাশি এটা বাংলাদেশেরই একটা অর্জন। এবং আরো বেশি খুশি হব যদি যাদের ছবি তুলেছি তাদের যদি কোনো পরিবর্তন হয়। মিয়ানমার হোক, বাংলাদেশ সরকার হোক আর জাতি সংঘের হোক। মিয়ানমার যদি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় তাহলে মনে করবো ছবি তুলে কোনো কাজ হয়েছে।

লন্ডনে হাসিনা মোদি বৈঠক আজ

২৫তম কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনীতে যোগদানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজকের দিন শুরু হবে। লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসের এ অনুষ্ঠানের পর বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে এবং কমনওয়েলথ মহাসচিবের যৌথ আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের সম্মানে অনুষ্ঠেয় অভ্যর্থনা সভায় যোগ দেবেন তিনি। দিনের বিভিন্ন সময়ে এক্সিকিউটিভ সেশনে অংশ নেয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যায় সরকার প্রধানদের সম্মানে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ প্রদত্ত পরিচিতি, অভ্যর্থনা ও নৈশভোজে যোগ দেবেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান। দিনব্যাপী ব্যস্ত কর্মসূচির সাইড লাইনে আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হওয়ারও কথা রয়েছে। মেগা এ আয়োজনে অংশ নিতে গত সোমবার মধ্য রাতে লন্ডনে পৌঁছান শেখ হাসিনা। সফরের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। যার মধ্যে অন্যতম ছিল মঙ্গলবার বিকালের ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে (ওডিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন গল্প : নীতি, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। এতে মূল বক্তা হিসেবে ভাষণ দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। যেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সম-সাময়িক পরিস্থিতি নিয়েও কথা হয়। সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরানো এবং বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারের উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলছি এবং অবশ্যই একদিন আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনবো। তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। লন্ডনে তারেক রহমানকে আশ্রয় দেয়ার জন্য বৃটিশ সরকারের সমালোচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য একটি অবাধ স্বাধীনতার দেশ এবং এটি সত্যি যে, যেকোনো ব্যক্তি এখানে আশ্রয় নিতে এবং শরণার্থী হতে পারে। তবে তারেক রহমান অপরাধের কারণে আদালত কর্তৃক একজন দণ্ডিত ব্যক্তি। আমি বুঝতে পারি না, একজন দণ্ডিত ব্যক্তিকে কীভাবে যুক্তরাজ্য আশ্রয় দিয়েছে।’
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ানমারের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ দেখিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মন্ত্রীরা উভয় দেশ সফর করেছেন। সংকটের সমাধান খুঁজে বের করতে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের সকল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সরকার প্রধান বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহ দেখালেও বাস্তবে তারা কিছুই করেনি। তাই আমরা চাচ্ছি আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় এ ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করুক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগমনে সেখানে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। তাই সরকার সকল ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তাদের একটি ভালো জায়গায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে তারা সেখানে ভালোভাবে থাকতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্যসহ আমরা তাদের সকল ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা সবকিছুই করছি। আমরা তাদের জন্য সেখানে কিছু ভবন ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করছি। তিনি বলেন, অনেক শরণার্থী সীমান্তে অবস্থান করছে। সেখান থেকে মাত্র একটি পরিবারের অর্ধেক লোককে মিয়ানমার নিয়ে গেছে। এর মাধ্যমে সম্ভবত তারা বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছে যে, তারা ফেরত নিচ্ছে। এটি শুভ লক্ষণ। তবে মাত্র একটি পরিবারের অর্ধেক লোককে কেন?
লন্ডনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী: কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনের সাইড লাইনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, পূর্ব নির্ধারিত সূচির বাইরে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বৈঠকের চেষ্টা চলছে। তবে গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার সময়ক্ষণ ঠিক হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। বাংলাদেশি কূটনীতিকরা জানিয়েছেন এবারের শীর্ষ সম্মেলন (সিএইচওজিএম) নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের দিকে।’ ওই আয়োজনে বেক্সিট পরবর্তী বৃটেনের সঙ্গে কমনওয়েলথ কান্ট্রিগুলোর সম্পর্ক নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হবে। সাইড ইভেন্টগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। গত মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী ওয়েস্টমিনস্টারে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ সম্মেলন কক্ষে কমনওয়েলথ নারী ফোরামের ‘এডুকেট টু এম্পাওয়ার: মেকিং ইকুইটেবল অ্যান্ড কোয়ালিটি প্রাইমারি এডুকেশন অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন এ রিয়েলিটি ফর গার্লস অ্যাক্রোস দ্য কমনওয়েলথ’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য রেখেছেন। বিকালে যুক্তরাজ্যের মর্যাদাশীল থিঙ্কট্যাঙ্ক বৈদেশিক উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (ওডিআই) আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। গতকাল এশীয় নেতাদের ‘ক্যান এশিয়া কিপ গ্রোইং’ রাউন্ড টেবিলে অংশ নিয়েছেন। আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী তিনটি ‘রিট্রিট সেশন’ ও শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী কার্যনির্বাহী অধিবেশনে অংশ নেবেন। ২১শে এপ্রিল তিনি রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটি (আরসিএস) আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সরকার প্রধানদের সংবর্ধনা এবং রানীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সফরের বিভিন্ন সময়ে অংশগ্রহণকারী সরকার প্রধানদের সঙ্গেও তার অনানুষ্ঠানিক এবং আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও মতবিনিময় হবে। আগামী ২৩শে এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

বর্বর পিতা: নিজের মেয়েকে একাধিক বার ধর্ষণ

নিজের মেয়েকে একাধিক বার ধর্ষণের অভিযোগে এক পিতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে ধর্ষক দুলাল মিয়া (৪২)কে আসামি করে মামলা করেছে ওই ধর্ষিত মেয়ে। রাতেই পুলিশ সোনারগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষক দুলালকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৫-৬ মাস আগে থেকে সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর গ্রামের জয়নাল মিয়ার বাড়িতে মা-বাবা ও ভাইদের সঙ্গে বসবাস করতো ধর্ষিত কিশোরী (১৪)। ওই বাড়িতে গত ৪ মাস আগে লম্পট পিতা দুলাল মিয়া তাকে ধর্ষণ করে।
এ সময় ধর্ষিতা চিৎকার করলে ধর্ষক তাকে গলাটিপে ধরে এবং ঘটনাটি কাউকে জানলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তারপরও ধর্ষণের ঘটনাটি ধর্ষিতা তার মাকে জানায়।
তবে মায়ের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা অস্বীকার করেন দুলাল। পরে মা বাসা পরিবর্তন করে অন্য এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। ওই বাড়িতেও ধর্ষক দুলাল মেয়েকে ৫-৬ বার ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত ২রা এপ্রিল পুনরায় ওই বাসায় জোর করে ধর্ষণ করে। কিন্তু ধর্ষিতা তার মাকে বারবার বলে কোন ফল পায়নি। নিরুপায় হয়ে তার সহকর্মী আয়েশা বেগম ও সানজিদাকে জানায়। পরে তারা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমানের দেহরক্ষী রাসেল মীর ও ঢাকা এসবির সহকারী উপ-পরিদর্শক রেদোয়ানকে বিষয়টি অবহিত করেন। পুলিশের একটি টিম সোমবার রাতেই ঝাউচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষক দুলালকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় গতকাল ধর্ষিতা কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে এবং ধর্ষক দুলালকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ধর্ষক দুলাল মিয়া নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানার উত্তর চাঁদখান ডোঙ্গা গ্রামের মাহির উদ্দিনের ছেলে।

রোকেয়ার প্রেমিক নাজমুলের সম্পৃক্ততা খুঁজছে পিবিআই

সিলেটে মা ও ছেলে খুনের ঘটনার সঙ্গে নিহত রোকেয়ার প্রেমিক নাজমুলের সম্পৃক্ততা খুঁজছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। সিলেট পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম ধারণা করছেন- আলোচিত এই জোড়া খুনের ঘটনার নেপথ্যে কোনো বিশেষ মহলের যোগসূত্র থাকতে পারে। যৌন ও মাদক ব্যবসার রেষারেষির জের ধরেই তানিয়া ও তার স্বামী মামুনকে নিয়ে কোনো পক্ষ এ ঘটনা ঘটাতে পারে। এদিকে- গতকাল দুপুরে পিবিআই কর্মকর্তারা মিরাবাজারের মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫ জে বাসাটি তাদের হেফাজতে নিয়েছেন। এরপর তারা তল্লাশি চালিয়ে বাসার ভেতর থেকে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবনের নানা সরঞ্জামাদিও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে গত মঙ্গলবার সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশ পিবিআই সিলেটের কাছে আলোচিত এ মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করে। আর তদন্তভার পেয়ে গতকাল দুপুরে এসপি রেজার নেতৃত্বে পুলিশ দল গিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের প্রথম দিন পিবিআই’র বিশেষ দল নিহত বিউটিশিয়ান রোকেয়া বেগমের বাসা হত্যাকাণ্ডের নানা আলামত জব্দ করেন। এ সময় বাসার ভেতর থেকে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবনের নানা সরঞ্জামাদিও উদ্ধার করা হয়। পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- পিবিআই মামলার ছায়া তদন্ত করে আসছিল। একপর্যায়ে রোকেয়ার বাসায় আলোচিত তানিয়া আক্তারকে কুমিল্লা থেকে ও তার স্বামী মামুনকে সিলেট নগরী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তানিয়া ও মামুন উভয়েই আদালতে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ নাজমুল নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গত ১লা এপ্রিল মিরাবাজারের মিতালি ১৫ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রূপমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় বাসার ভেতর থেকে রোকেয়ার পাঁচ বছরের মেয়ে রাইসাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এর মধ্যে এ জোড়া হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে তানিয়া ও মামুন। নাজমুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। নাজমুল এখন কারাগারে।

প্রেমের বলি ইবি শিক্ষার্থী

বাবু তোমাকে অনেক ভালোবাসি। জীবনের প্রতিটি মোড়ে তোমাকে চাই। তুমি কোনো দিন হয়তো আমার হবে না- অন্য কারো হবে। তোমায় আমার থেকে কেউ কোনো দিন বেশি ভালোবাসতে পারবে না- জেনে নিও।’- রক্তমাখা এ খোলা চিঠি লিখে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্র্থী সায়েম খান। মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী একটি মেস থেকে পুলিশ তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।
সূত্রমতে, নিহত সায়েম ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের আজিয়া গ্রামের আজম খানের ছেলে। তিনি এ বছর ইবির ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। প্রেমিকার সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে। গলায় দড়ি নেয়ার আগে প্রেমিকাকে উদ্দেশ্য করে একটি ডায়েরিতে বেশ কিছু কথা লিখে যান সায়েম। সেখানে নিজেই আত্মহত্যা করেছেন বলে রক্তমাখা ওই চিরকুটে লেখা রয়েছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সায়েম ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজারে ‘মা মঞ্জিল’ নামে একটি মেসে সিঙ্গেল রুমে থাকতেন। প্রায় সময়ই তিনি একা থাকতেন বলে তার বন্ধুরা জানিয়েছেন। তবে তার প্রেমের বিষয়ে বন্ধুরা তেমন কিছুই জানতেন না বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার বিভাগে ক্লাস শেষ করে তিনি রুমে প্রবেশ করেন। সন্ধ্যার পরও তিনি রুম থেকে বের না হওয়ায় মেসমেটদের সন্দেহ হয়। রাত ৮টার দিকে প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমানকে বিষয়টি জানালে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে আসেন। পরে শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন তার সহযোগীসহ দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। তার বিছানায় একটি ডায়েরিতে তিন পাতার সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়েন। পরে লাশ ময়নাতদন্ত করে সায়েমের বাবা আজম খানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কোনো শিক্ষার্থী যেন তার জীবনে এ রকম কাজ না করে।’ শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘দরজা ভেঙে সায়েমের কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সায়েম আত্মহত্যা করেছে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে দিয়েছি।’

বাউফলে চিরঘুমে রাজীব

নানা-নানির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাবা-মা হারানো কলেজছাত্র রাজীব হোসেন (২১)। মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে ওইদিন রাত ২টার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে রাজীবের লাশ নানা বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাশপাড়া গ্রামে নিয়ে আসা হয়। এ সময় স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। গতকাল সকাল ৯টায় বাউফল পাবলিক মাঠে রাজীবের দ্বিতীয় জানাজা হয়। জানাজায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি, জেলা প্রশাসক ড. মাছুমুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাইনুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলামসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশ নেয়। পরে নানা বাড়ি দাশপাড়া গ্রামে স্থানীয়ভাবে তার তৃতীয় জানাজা শেষে ১১টায় নানা-নানির কবরের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। রাজীব ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তার ছোট দুই ভাই মেহেদী হাসান ও মো. আব্দুল্লাহ ঢাকা তামিরুল মিল্লাত মাদরাসার সপ্তম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। দু’জনই কোরআনে হাফেজ। ছোট বেলায় বাবা-মাকে হারায় রাজীব। বাবা হেলাল উদ্দিন খানের পৈতৃক বাড়ি উপজেলার ইন্দ্রকুল গ্রামে। বিয়ের পর দাশপাড়া গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করতেন রাজীবের বাবা। নানা বাড়িতে জন্ম হয় রাজীবের। সেখানেই নানা-নানির কবরের পাশে চির নিদ্রায় তাকে সমাহিত করা হয়। পাশেই রয়েছে মায়ের কবর। প্রাথমিকভাবে রাজীবের দাফনকাজ সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসন ৪৫ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করেন রাজীবের স্বজনদের কাছে।
রাজীবের ছোট খালা জাহানারা বলেন, রাজীব ছিল আমাদের সন্তানের মতো। ছোট বেলায় বাবা-মা হারানোর পর আমরাই তাকে লালন-পালন করে বড় করেছি। ঘাতক বাস এভাবে রাজীবকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেবে তা ভাবতেই পারি নাই। আমি বাসচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। পাশাপাশি অসহায় রাজীবের ছোট দুই ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। কে নেবে বাবা-মা ও ভাই হারা অসহায় দুই ভাইয়ের দায়িত্ব।
এলাকাবাসী জানান, রাজীব খুবই ভালো ছেলে ছিল। নম্রতা ও ভদ্রতায় তার তুলনা হয় না। রাজীবের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। অনেক কষ্ট করে রাজীব নিজের ও ছোট দুই ভাইযের লেখাপড়ার খরচ চালাতো। এখন রাজীব নেই এখন ছোট ভাইদের কে দেখাশোনা করবে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।
উল্লেখ্য, ৩রা এপ্রিল ঢাকার কাওরান বাজার এলাকায় দুই বাস চাপায় রাজীবের দেহ থেকে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে পথচারীরা তাকে শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসা খরচ চালাতে না পারায় পরের দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে মারা যায় রাজীব।

আমিন জুয়েলার্সের স্বর্ণ চুরি: নিরাপত্তারক্ষী ও রাজমিস্ত্রি হোতা

রাজধানীর গুলশান-২ এর ডিএনসিসি মার্কেটে আমিন জুয়েলার্সের এক শাখার বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ চুরি করে দীর্ঘ দেড় যুগের বিশ্বস্ত নিরাপত্তারক্ষী মো. আবদুস সোবহান মোল্লা ও রাজমিস্ত্রি সাদ্দাম। এই পরিকল্পিত ‘পুকুর চুরি’র ঘটনায় আব্দুস সোবহান (৬১), তার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৫৫), মেয়ে সীমা (২৭) ও মেয়ের জামাই হাফেজ মো. বিল্লাল হোসেন ওরফে বুলবুল (৪০) গ্রেপ্তার হলেও সাদ্দাম এখনো অধরা। গত বুধবার সকাল পর্যন্ত গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর ও মাওয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ৪৯৮ ভরি স্বর্ণ ও ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে অপর হোতা সাদ্দাম এখনো পলাতক। একই সঙ্গে বাকি ১৮২ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গতকাল গুলশান থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি আরো বলেন, শো-রুমের নিরাপত্তাকর্মী ও রাজমিস্ত্রি সাদ্দাম পরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটায়। গত ১৪ই এপ্রিল রাতে তারা শো-রুমের ছাদ কেটে ভেতরে ঢুকে স্বর্ণ ও টাকা চুরি করে। পরে ছাদের কাটা অংশে ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে উপরে একটি ড্রাম ঢেকে দিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর গত সোমবার দোকান খুলে মালিক এই চুরির ঘটনা টের পান। গুলশান থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্তে নামে। এরপর ওই শো-রুমের নিরাপত্তাকর্মী সোবহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সন্দেহ হলে তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে কাটা ছেঁড়া দেখে এর কারণ জানতে চায় পুলিশ। তারপর জিজ্ঞাসাবাদে চুরির ঘটনা সে স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে ৪৯৮ ভরি স্বর্ণ ও ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার ও চুরি যাওয়া বাকি ১৮২ ভরি স্বর্ণ উদ্ধারে রাজধানী ও এর আশপাশে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তারের পর আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
এসব স্বর্ণ ও টাকা উদ্ধারের ঘটনায় গুলশান থানা পুলিশের তিনটি টিম কাজ করছে। তদন্ত দলের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, নিরাপত্তাকর্মী সোবহানের বাড়ি গোপালগঞ্জে। চুরির পর তার স্ত্রী এসব স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে গোপালগঞ্জের নিলফা গ্রামের নজরুলের বাড়ি থেকে ২৫৩ ভরি স্বর্ণসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি স্বর্ণ মাওয়া ও মানিকগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়।
গুলশান-২-এর ডিএনসিসি মার্কেট আমিন জুয়েলার্সের শো-রুমের মালিক কাজী সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শো-রুমের নিরাপত্তাকর্মী সোবহান দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। আমরা ভাবতেও পারিনি, সে এমন চুরির ঘটনা ঘটাবে। সে আমাদের খুব বিশ্বাসী ছিল।
তিনি বলেন, গত পহেলা বৈশাখে আমাদের বেশি বিক্রি হয়। ওইদিন বিক্রি শেষে রাত ১০টার পর দোকান বন্ধ করে চলে যাই। রোববার সাধারণত দোকান বন্ধ থাকে। তাই সোমবার সকালে এসে দোকান খুলে দেখি জুয়েলারি বক্সের ভেতর থেকে স্বর্ণ নিয়ে গেছে। পরে বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করে।
কাজী সিরাজুল ইসলাম আরো বলেন, যখন শো-রুমের ছাদে কাজ চলছিল তখন সাদ্দাম ও সোবহানকে জিজ্ঞাসা করলে সব সময় ওরা বলতো যে স্যার সবকিছু ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ওদের বিশ্বাস করায় দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটায়। পুলিশকে ধন্যবাদ দিয়ে কাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত যতগুলো জুয়েলারি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর মধ্যে খুব কম সময়, পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে আসামি গ্রেপ্তার করতে পেরেছে। আর উদ্ধারের পরিমাণও অনেক।