Monday, March 9, 2026

তেল স্থাপনায় হামলা: তেহরানে সড়কের পাশে ‘আগুনের নদী’

রয়টার্স ও আল–জাজিরাঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবার ইরানের তেল স্থাপনাকে নিশানা করেছে। গতকাল রোববার যুদ্ধের নবম দিনে দেশটির তেল স্থাপনায় দফায় দফায় হামলায় হয়েছে। রাজধানী তেহরান ও এর পশ্চিমে কয়েকটি তেলের ডিপো ও শোধনাগারে হামলার পর ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কুণ্ডলী পাকানো আগুনে রাতের আকাশ রক্তাভ রং ধারণ করে। নালায় ছড়িয়ে পড়া তেল থেকে সড়কের পাশে ‘আগুনের নদী’ তৈরি হয়। আর দিনের বেলায় তেহরানের আকাশ ছিল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। এসব হামলায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার শুরুতে নিশানা ছিল মূলত তেহরানের সামরিক স্থাপনা ও শীর্ষস্থানীয় নেতারা। যদিও তারা বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালিয়েছে। গতকাল তাদের হামলার নিশানা করা হয় ইরানের তেল তথা জ্বালানি স্থাপনাকে।

গতকালের ওই হামলার জবাবে সৌদি আরব, কুয়েত ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। সৌদি আরবের আল-খার্জ গভর্নরেটের একটি কম্পাউন্ডে ‘ক্ষেপণাস্ত্র’ আঘাত হানলে এক বাংলাদেশি ও এক ভারতীয় নিহত হন।

কুয়েতে বিমানবন্দর, জ্বালানি ডিপো, নিরাপত্তা ভবনে হামলা হয়েছে। এসব হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে কুয়েত। গতকাল ইসরায়েলের তেল আবিব, হাইফাসহ কয়েকটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে ইসরায়েলে তিনজন আহত হয়েছেন। বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার সময় টুকরা অংশ পড়ে আহত হয়েছেন তিনজন। ইরাকের এরবিলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে।

ইরানের পাশাপাশি লেবাননেও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। গতকাল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে দুই সেনা নিহত হয়েছেন। আর লেবাননে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় নিহত বেড়ে ৩৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

ইরানে বেসামরিক স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, একটা সময় আসবে যখন ইরানে ‘আত্মসমর্পণ করছি’ বলার মতো কোনো লোক থাকবে না। তবে তাঁর এ হুঁশিয়ারির মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানের বিশেষজ্ঞ পর্ষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট)। যদিও গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নাম ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, হামলার বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে ইরান। এসব হামলার কঠোর জবাব দেবে তাঁর দেশ।

২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন নেতৃস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পর থেকে দফায় দফায় দেশটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাতে থাকে ইরান।

চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান ছাড়া এসব দেশে ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। ইরানে নিহতের সংখ্যার হালনাগাদ তথ্য দুই দিন ধরে জানানো হচ্ছে না। গত শুক্রবার দেশটির রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছিল, দেশটিতে ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন। দেশটিতে গতকালের হামলায় নিহত ৪১ জন হিসাবে আনলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৭৩।

‘মনে হচ্ছিল যেন শেষ সময়’

তেহরান ও এর পশ্চিমে আলবোরজ প্রদেশের কারাজ শহরে কয়েকটি তেল স্থাপনায় গতকাল হামলা হয়েছে বলে জানায় ইরানের তেল মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার পরমুহূর্তেই কুণ্ডলী পাকানো ভয়াবহ আগুনে দিনের মতো আলোর সৃষ্টি হয়।

তেহরানের শাহরান তেলের ডিপোতে হামলার পরের দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিধ্বস্ত ডিপোর তেল নালা দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করলে সড়কের পাশে ‘আগুনের নদীর’ মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে কিয়ামতের সঙ্গে তুলনা করেন তেহরানের এক বাসিন্দা। গতকাল সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘গত রাতে আমি বিস্ফোরণ দেখেছি, যা আগে কখনো দেখিনি। মনে হচ্ছিল যেন কিয়ামত শুরু হয়েছে কিংবা আমি দোজখকে ঠিক যেভাবে কল্পনা করি, এটি ছিল অনেকটা তেমনই।’

এদিকে তেলের স্থাপনায় হামলার ফলে বিষাক্ত বৃষ্টি ঝরার বিষয়ে সতর্ক করেছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। এটি ত্বক ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ ধরনের বৃষ্টির সময় লোকজনকে বাসাবাড়িতে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তেল স্থাপনায় হামলার পর নাগরিকদের তেল নেওয়ার সীমা কমিয়ে দিয়েছে তেহরানের প্রশাসন। শহরের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামেদিয়ান বলেছেন, একজন ব্যক্তি দিনে ২০ লিটার তেল নিতে পারবেন। আগে দিনে ৩০ লিটার নেওয়া যেত। তবে জনগণকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে গভর্নর বলেন, শিগগিরই জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি আল-জাজিরাকে বলেছেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলা এ যুদ্ধের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তেহরানসহ ইরানের শহরগুলো এই প্রথম এ ধরনের হামলা দেখেছে। তিনি আরও বলেন, ‘এখন স্থানীয় সময় প্রায় দুপুর, কিন্তু ধোঁয়ার কারণে মনে হচ্ছে যেন রাত নেমে এসেছে। আমরা সূর্য দেখতে পাচ্ছি না।’

এদিকে গতকাল ইরানের ইসফাহানে একটি বিমানবন্দর, কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও একটি ক্লাবে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে। তেহরান ও কারাজে তেলের ডিপোতে হামলায় নিহত হয়েছেন ১০ জন। নাজাফাবাদ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২০ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন। সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর উদ্ধারকাজ চলাকালে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইরানের পানি শোধনাগারেও হামলা হয়েছে।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট গতকাল সিএনএনকে বলেন, তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পে হামলা চালানো কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরানের তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
এদিকে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, তেহরানে ইরানের মহাকাশ সংস্থা এবং দেশটির ৫০টি গোলাবারুদ গুদামে হামলা চালানো হয়েছে। হামলা হয়েছে কোম শহরেও।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র এফি ডেফরিন গতকাল বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী এখন পর্যন্ত ইরানে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির ১৫০টির বেশি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অকেজো করে দিয়েছে।

এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা উপকূলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ১০৪ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। ইরানের সেনাবাহিনী এ কথা জানিয়েছে।

ইরানের মূল লক্ষ্যবস্তু যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) গতকাল ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ২৭তম দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে। টেলিভিশন দেওয়া বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নায়েনি বলেন, ইরান এখন পর্যন্ত যে হামলা চালিয়েছে, তার ৬০ শতাংশ এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের ‘কৌশলগত স্বার্থ’ নিশানা করে। বাকি ৪০ শতাংশে নিশানা ছিল ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু।

আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা এ যুদ্ধে আমেরিকানদের প্রধান শত্রু মনে করি এবং এ কারণেই তাদের শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। আমেরিকানরা ৭০ বছর ধরে এই অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করে রেখেছে।’ আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তারা ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত চারটি রাডার ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। এই বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, ‘তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলার দেখতে চাইলে এই খেলা খেলতে পারো।’

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর ১ হাজার ৯২৯ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৫৭ জন চিকিৎসা নেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের হামলায় এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে ১১ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরব দেশগুলোর মধ্যে তাদের ওপরই সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ইরান থেকে ছোড়া ২৩০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১ হাজার ৪০০টির বেশি ড্রোন শনাক্ত করেছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের একটি টাগবোট ডুবে তিন ইন্দোনেশীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জাকার্তা জানিয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, কুয়েতের আল-আদিরি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের হেলিকপ্টার মেরামতের একটি স্থাপনা, জ্বালানি মজুত ও কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কূটনৈতিক এলাকাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন সেনাকে আটক করা হয়েছে বলে শনিবার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে জানানো হয়েছে যে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে বন্দী করা হয়েছে।’ তবে লারিজানির দাবি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

ইরানে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩২ হাজারের বেশি নাগরিককে সরিয়ে নিয়েছে। গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য দিয়েছে। ইতালিও গতকাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের ২০ হাজার নাগরিককে সরিয়ে নিয়েছে।

লেবাননে হামলা চলছে

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় সির আল-গারবিয়েহ গ্রামে একটি তিনতলা ভবনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় শিশুসহ ১৯ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ এ কথা জানিয়েছে। রাজধানী বৈরুতের একটি হোটেলেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে চারজন নিহত হন। ‘আইআরজিসির কমান্ড সেন্টার’ লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৮৩ শিশুসহ ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৩০ জন।

জবাবে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। হাইফা ও কিরয়াত শমোনো শহরে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হাইফার একটি নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। ইসরায়েলের ‘মিসগাভ’ সামরিক সরঞ্জাম কেন্দ্রকেও নিশানা করা হয়েছে।

এ হামলার প্রয়োজন ছিল না: চীন

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চালানো উচিত হয়নি। বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবিলম্বে এ যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানান। ওয়াং ই বলেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বর্তমান সংকটের কখনো সমাধান হবে না। তিনি আরও বলেন, ‘শক্তির অধিকারী হওয়া মানেই শক্তিশালী যুক্তি নয়। বিশ্ব আবার জোর যার মুল্লুক তার যুগে ফিরে যেতে পারে না।’ এ সময় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তনে (রেজিম চেঞ্জ) কোনো জনসমর্থন আছে বলে তিনি মনে করেন না।

ইরানে জ্বালানি ডিপোতে হামলার পর নালায় ছড়িয়ে পড়া তেলে আগুন জ্বলছে। শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানী তেহরানে
ইরানে জ্বালানি ডিপোতে হামলার পর নালায় ছড়িয়ে পড়া তেলে আগুন জ্বলছে। শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানী তেহরানে। ছবি: এএফপি

দুর্বল ইরান আমেরিকার জন্যই বুমেরাং হতে পারে by আলেকজান্ডার ক্ল্যাকসন

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো সামরিক অভিযানকে যাঁরা সমর্থন করেন, তাঁরা একটি সরল যুক্তি সামনে আনেন। সেটি হলো—তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে দুর্বল করা, নৌবাহিনীকে অক্ষম করে দেওয়া এবং আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে তার প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা কমিয়ে দিলে মধ্যপ্রাচ্য আরও নিরাপদ হবে।

এই যুক্তির ভিত্তি যে অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তা হলো—দুর্বল ইরান মানেই আরও স্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্য। বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়। বরং মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর একটি যদি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, তাহলে এমন কিছু শক্তি মুক্ত হয়ে যেতে পারে, যা বর্তমান পরিস্থিতির চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক হবে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে কংগ্রেসের কর্মীদের দেওয়া ব্রিফিং অনুযায়ী, এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়নি যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল। তবু সামরিক উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে—এই বিশ্বাসে যে ইরানকে দুর্বল করা শেষ পর্যন্ত আমেরিকার স্বার্থেই কাজে দেবে। কিন্তু যদি এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে তার ফলাফল শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের জন্যও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো—অভ্যন্তরীণ ভাঙন। ইরান একটি বহু জাতিগোষ্ঠীর দেশ। পারসিয়ানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আজেরি, কুর্দি, আরব এবং বালুচ জনগোষ্ঠী বসবাস করে। এই গোষ্ঠীগুলোর কিছু কিছু অঞ্চলে আগে থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বা বিদ্রোহের ইতিহাস রয়েছে। উত্তর-পশ্চিমে কুর্দি সশস্ত্র কার্যকলাপ এবং দক্ষিণ-পূর্বে দীর্ঘদিনের বালুচ বিদ্রোহ তার উদাহরণ।

এখন পর্যন্ত একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা এই বিভাজনরেখাগুলোকে মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কিন্তু যদি রাষ্ট্রের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে এই চাপা উত্তেজনা দ্রুত বিস্ফোরিত হতে পারে। তখন পরিস্থিতি এমন এক ভাঙনের দিকে যেতে পারে, যেমনটি সাম্প্রতিক সময়ে বহিরাগত সামরিক চাপ বা শাসনব্যবস্থার পতনের পর মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে দেখা গেছে।

সাম্প্রতিক ইতিহাস এ ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দেয়। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে আক্রমণ করার পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছিল। তার ফল হয়েছিল দীর্ঘমেয়াদি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং শেষ পর্যন্ত আইএস-এর উত্থান। ২০১১ সালে লিবিয়ার রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর দেশটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায়। সে সংকট আজও শেষ হয়নি। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শতাব্দীর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়গুলোর একটি তৈরি করেছে এবং বিশাল ভূখণ্ডকে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও জঙ্গিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। সংঘাতের একপর্যায়ে আইএসআইএস পূর্ব সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে তথাকথিত খিলাফত ঘোষণা করেছিল এবং লাখো মানুষের ওপর শাসন চালিয়েছিল।

ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। ইরানের জনসংখ্যা ইরাক, লিবিয়া বা সিরিয়ার তুলনায় অনেক বেশি। তার ভৌগোলিক অবস্থানও অত্যন্ত সংবেদনশীল। তার অনেক সীমান্তে সংঘাতপ্রবণ এলাকা আছে। যদি ইরানের ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠী, জাতিগত মিলিশিয়া বা বিদ্রোহী শক্তি মাথা তোলে, তাহলে দেশটি দ্রুত দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার আরেকটি কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এই অস্থিতিশীলতা শুধু ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

ইরান পারস্য উপসাগরের কেন্দ্রে অবস্থিত—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালি ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছেই। যদি ইরানের উপকূলে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়া বা নিয়ন্ত্রণহীন নৌবাহিনী সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাহলে তারা সহজেই জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে, তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালাতে পারে, এমনকি প্রণালি অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারে। এতে আঞ্চলিক সংকট দ্রুত বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটে রূপ নিতে পারে।

এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বহু দূর পর্যন্ত পৌঁছাবে। জ্বালানির দাম বাড়লে তার অভিঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির সর্বত্র পড়বে—পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে মূল্যস্ফীতি পর্যন্ত। অনেক সময় আমেরিকান নীতিনির্ধারকেরা জ্বালানি অস্থিতিশীলতাকে আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখেন। কিন্তু বাস্তবে এটি খুব দ্রুত বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়।

কৌশলগত পরিণতিও এখানেই থেমে থাকবে না। বর্তমানে ইরান একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক জোট ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। এর মধ্যে লেবাননে রয়েছে হিজবুল্লাহ, ইরাকে আছে বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনে আছে হুতি গোষ্ঠী। এরা প্রত্যেকে কোনো না কোনো মাত্রায় তেহরানের প্রভাববলয়ে কাজ করে।

কিন্তু যদি ইরানি রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে এই কাঠামোও ভেঙে যেতে পারে। কিছু গোষ্ঠী স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করতে পারে, কেউ কেউ প্রভাব বিস্তারের জন্য পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে পারে, আবার কেউ কেউ কেন্দ্রীয় সমন্বয় ছাড়াই আরও চরমপন্থী হয়ে উঠতে পারে। তখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। এটি কূটনৈতিক সমাধানকে কঠিন করে তুলবে এবং সামরিক সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঠেলে দিতে পারে।

আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা। কিছু নীতিনির্ধারক মনে করেন, বর্তমান ইরানি নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে বা অপসারিত হলে সেখানে একটি তুলনামূলক উদার রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু ইতিহাস বলে, শাসন পরিবর্তন খুব কম ক্ষেত্রেই পূর্বনির্ধারিত পথে এগোয়।

ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে একাধিক শক্তিশালী গোষ্ঠী রয়েছে—রক্ষণশীল ধর্মীয় নেটওয়ার্ক, সংস্কারপন্থী রাজনীতিক এবং নিরাপত্তাকাঠামোর প্রভাবশালী অংশ, যেমন ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সেখানে নেতৃত্ব পরিবর্তন কোনো একক উত্তরসূরির বিষয় নয়; বরং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, নির্বাচিত সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে।

যদি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বর্তমান নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে বা অপসারিত হয়, তাহলে এই ভারসাম্য দ্রুত ভেঙে যেতে পারে। বিপুল সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী আইআরজিসি তখন ক্ষমতা আরও দৃঢ়ভাবে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করতে পারে। ফলে ইরান আরও প্রকাশ্য সামরিকীকৃত রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে এমন শক্তির উত্থানও ঘটতে পারে, যারা মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতাই সম্ভব নয়।

এটাও মনে রাখার মতো যে ধারাবাহিক সামরিক হামলা ইরানের জনগণের মধ্যে আমেরিকাপন্থী মনোভাব তৈরি করবে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। বরং ইতিহাস দেখায়, বাইরের চাপ অনেক সময় জাতীয়তাবাদী মনোভাবকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ আমেরিকার প্রতি সহানুভূতি তৈরি করেনি; বরং ক্ষোভ ও বিদ্রোহকে উসকে দিয়েছিল। একইভাবে লেবাননে ইসরায়েলের বারবার সামরিক অভিযান হিজবুল্লাহর সমর্থন কমানোর বদলে অনেক ক্ষেত্রে তা বাড়িয়েই দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব হতে পারে—অভিবাসন সংকট। ইরান ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলো, বিশেষ করে আফগানিস্তান থেকে আসা লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। যদি ইরানের ভেতরেই সংঘাত শুরু হয়, তাহলে ৯ কোটির বেশি মানুষের এই দেশে সামান্য অংশ মানুষও যদি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়, তাহলে তা সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো শরণার্থী সংকটের চেয়েও বড় ঢেউ তৈরি করতে পারে।

এই শরণার্থীদের বড় অংশ সম্ভবত প্রথমে তুরস্কের দিকে যাবে, সেখান থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। এতে ইউরোপের সরকারগুলোর ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হবে—যারা ইতিমধ্যেই অভিবাসন সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

বিষয়টি হয়তো আমেরিকার ভূখণ্ড থেকে দূরের মনে হতে পারে, কিন্তু ইউরোপে এর রাজনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর পড়বে এবং ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কেও তার প্রতিফলন দেখা যাবে।

সব মিলিয়ে একটি বড় কৌশলগত সমস্যাই সামনে আসে। সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানকে দুর্বল করা হয়তো আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। কিন্তু কোনো বড় আঞ্চলিক শক্তিকে অস্থিতিশীল করে দিলে তার ফল খুব কম ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলাপূর্ণ হয়।

সুতরাং ওয়াশিংটনের সামনে আসল প্রশ্ন হওয়া উচিত—ইরানকে অস্থিতিশীল করে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি কি সত্যিই অঞ্চল এবং বিশ্বকে আরও নিরাপদ করবে?

* আলেকজান্ডার ক্ল্যাকসন, লন্ডনভিত্তিক গ্লোবাল পলিটিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক।
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া। অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ। তেহরান, ইরান, ২২ জুন ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ। তেহরান, ইরান, ২২ জুন ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

বড় যুদ্ধেও টলানো যাবে না ইরানের মসনদ, বলেছিলেন খোদ মার্কিন গোয়েন্দারাই

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের আক্রমণ করলেও দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা হয়তো সম্ভব হবে না—যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স কাউন্সিলের (এনআইসি) একটি গোপন প্রতিবেদনে সতর্ক করে এ কথা বলা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা; বিশেষ করে যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে একটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানোর ধুয়া তুলেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘যুদ্ধ সবে শুরু হয়েছে।’

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত—এমন তিনটি সূত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ‘পুরোপুরি সরিয়ে দিয়ে’ দেশটিতে নিজের পছন্দমতো শাসক বসানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্প তাঁর এ পরিকল্পনায় সফল হতে পারবেন কি না, এই গোয়েন্দা প্রতিবেদন তা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর প্রায় এক সপ্তাহ আগে এ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়।

প্রতিবেদনটি সম্পর্কে জানা আছে—এমন কয়েকজন বলেন, ক্ষমতার সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে ওই প্রতিবেদনে কিছু ধারণা দেওয়া হয়েছে। ইরানের নেতাদের বিরুদ্ধে সীমিত আকারের অভিযান অথবা দেশটির নেতৃত্ব ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিস্তৃত হামলা—উভয় ক্ষেত্রেই একই পরিণতির কথা বলা হয়েছে। সেটা হলো সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হলে ইরানের ধর্মীয় ও সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগে থেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে।

প্রতিবেদন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল লোকজন আরও বলেছেন, ইরানের বিভক্ত বিরোধী দলগুলোর পক্ষে দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারার ‘সম্ভাবনা কম’।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল বা এনআইসি অভিজ্ঞ বিশ্লেষকদের নিয়ে গঠিত। ওয়াশিংটনের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া সব তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা গোপন প্রতিবেদন তৈরি করে।

ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার অনুমতি দেওয়ার আগে এনআইসির এই প্রতিবেদন সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়েছিল কি না, হোয়াইট হাউস সে বিষয়ে কিছু বলেনি।

ইরানের ওপর সামরিক অভিযান শুরু করার পর দ্রুতই সংঘাত পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে ভারত মহাসাগরে সাবমেরিন–যুদ্ধও রয়েছে। আর পশ্চিম দিকে ক্ষেপণাস্ত্রযুদ্ধ ন্যাটো সদস্যদেশ তুরস্কের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

ইরানের বিরোধী পক্ষের ক্ষমতা দখল করতে পারার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সন্দেহ নিয়ে এর আগে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ইরানবিষয়ক গবেষক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্যুজান মালোনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে এনআইসি ইরানের প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকার বিষয়ে এ পূর্বাভাস দিয়েছে।

তবে যত দূর মনে হয়, অন্যান্য সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়নি—যেমন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থলসেনা পাঠানো বা দেশটির কুর্দি জনগোষ্ঠীকে সশস্ত্র বিদ্রোহে উসকে দেওয়া।

এটিও নির্ধারণ করা যায়নি যে গোপন প্রতিবেদনে যে বড় আকারের অভিযান নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, সেটি আর বর্তমানের অভিযান এক কি না।

তবে প্রতিবেদনে ইরানে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তা এখন বাস্তবে ঘটছে; যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকাশ ও সমুদ্র থেকে ইরানের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে যাচ্ছে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-03-08%2Fqq8odfn2%2FIran-1.jpg?rect=0%2C0%2C933%2C622&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছবি হাতে ইরানিদের শোকমিছিল। ১ মার্চ, ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

নেপালের নির্বাচনে বিশাল জয়ের পথে বালেন্দ্র শাহর দল

নেপালের সাধারণ নির্বাচনে বিশাল জয়ের পথে রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভায় দলটি দুই-তৃতীয়াংশ আসন অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। নেপালের নির্বাচন কমিশনের আজ রোববার দেওয়া সর্বশেষ তথ্যে এই চিত্র দেখা গেছে।

দেশটির ১৬৫টি একক নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ১৬৪টির ফলাফল ও এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের নাম জানা গেছে। এর মধ্যে আরএসপি সরাসরি ১১২টি আসনে জয় পেয়েছে এবং আরও ১৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। সমানুপাতিক পদ্ধতির আসনগুলো যুক্ত হলে সংসদের নিম্নকক্ষে আরএসপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সমানুপাতিক পদ্ধতির ভোট গণনায়ও আরএসপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে। দেশজুড়ে গণনা করা মোট ৩৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৭১টি ভোটের মধ্যে আরএসপি পেয়েছে ১৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬টি ভোট। এটি এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের প্রায় অর্ধেক এবং অন্য সব দলের পাওয়া সম্মিলিত ভোটের চেয়েও বেশি।

এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নেপালি কংগ্রেস পেয়েছে ৬ লাখ ৩৯৯ ভোট। এ ছাড়া সিপিএন-ইউএমএল ৫ লাখ ২ হাজার ৫৫২ ভোট, নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮১৮ ভোট, রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৪ ভোট এবং শ্রম সংস্কৃতি পার্টি ৭৪ হাজার ১১৫ ভোট পেয়েছে।

সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে নেপালি কংগ্রেস ১৬টি আসনে জয় পেয়েছে এবং ১টিতে এগিয়ে আছে। সিপিএন-ইউএমএল ৭টিতে জয়ী হয়েছে ও ৩টিতে এগিয়ে আছে। নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ৫টি আসনে জয় পেয়েছে ও ২টিতে এগিয়ে আছে। এ ছাড়া শ্রম সংস্কৃতি পার্টি ২টিতে জয়ী ও ১টিতে এগিয়ে রয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ১টি করে আসনে জয় পেয়েছেন। একটি নির্বাচনী এলাকার তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

নেপালের ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৮৪টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের গণনা পদ্ধতি অনুযায়ী, সমানুপাতিক আসনগুলো বণ্টনের পর আরএসপি এই ‘ম্যাজিক ফিগার’ পার করবে অথবা এর খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। এমনটি হলে অন্য কোনো দলের সমর্থন ছাড়াই এককভাবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা পাবে দলটি। তবে ভোট গণনা শেষ হওয়ার পরই সমানুপাতিক আসনের পূর্ণাঙ্গ বণ্টন চূড়ান্ত হবে।

র‍্যাপার থেকে রাজনৈতিক নেতা বনে যাওয়া বালেন্দ্র শাহর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) নির্বাচনের ফলাফলে এগিয়ে আছে
র‍্যাপার থেকে রাজনৈতিক নেতা বনে যাওয়া বালেন্দ্র শাহর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) নির্বাচনের ফলাফলে এগিয়ে আছে। ছবি: রয়টার্স

মোজতবা খামেনির প্রতি আইআরজিসি ও সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্য প্রকাশ

ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বাহিনীটি তাঁকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি খামেনির প্রতি তাদের ‘আন্তরিক ও আজীবন আনুগত্য’ ঘোষণা করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ‘তারা সব আদেশ মেনে চলবে এবং তা বাস্তবায়নে সদা প্রস্তুত থাকবে।’

আইআরজিসি আরও যোগ করেছে, ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (বিশেষজ্ঞ পরিষদ) দিয়ে খামেনির এই নির্বাচন ‘সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে, ইসলামি ব্যবস্থার অগ্রযাত্রা থেমে থাকে না এবং এই বিপ্লব ও ইসলামি ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।’

খামেনির প্রতি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আনুগত্য ঘোষণা

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি সমর্থন জানানো সর্বশেষ পক্ষ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী মোতজবা খামেনিকে ‘ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানবান... ধর্মপ্রাণ ও বিচক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা আরও বলেছে, খামেনিকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে।

মোজতবা খামেনি প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে। তাঁর বয়স ৫৬ বছর। গত শনিবার ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র যৌথ আগ্রাসনে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও তাঁর স্ত্রী, মোজতবা খামেনির স্ত্রী ও এক বোন নিহত হন। তবে সেদিন মোজতবা খামেনি হামলাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

কয়েক বছর ধরে বাবার সম্ভাব্য প্রধান উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছিল। তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রায় আট বছর ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তারপর প্রায় ৩৭ বছর যাবৎ দেশটির সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

মোজতবা খামেনি
মোজতবা খামেনি। ফাইল ছবি: এএফপি

তেহরান থেকে চিঠি: ‘মরে যেয়ো না’—এই তিনটি শব্দই এখন আমাদের জীবন

গত শনিবার আমি কাজে ছিলাম। হঠাৎই এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনলাম। সেই মুহূর্ত থেকেই যেন সবকিছু উল্টে গেল। কিছুক্ষণ পর স্কুল থেকে ফোন এল, আমার সন্তানকে নিয়ে যেতে হবে। তাড়াহুড়া করে মেট্রোতে উঠলাম। উত্তরের দিকে ছুটে চলা সেই ট্রেনে সবাই উদ্বিগ্ন। কেউ ফোনে প্রিয়জনের খোঁজ নিচ্ছে, কেউ মোবাইলে খবর দেখছে। সবার মুখে উদ্বেগ, চোখে অনিশ্চয়তা।

এক বছরের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বেছে নিল। হয়তো এটাই এখন নতুন স্বাভাবিকতা। বহুদিন ধরেই ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা ইসরায়েল প্রায় দায়মুক্তির অবস্থানে রয়েছে। এখন মনে হচ্ছে, সেই অবাধ অবস্থা মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই যুদ্ধ আর আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়ে গেছে।

এবারের যুদ্ধ আগের চেয়ে ভিন্ন। আগে বলা হতো, হামলাগুলো খুব নির্ভুলভাবে করা হয়। এখন সেই দাবি আর শোনা যাচ্ছে না; বরং হামলা যেন নির্বিচারে চলছে। স্কুল, হাসপাতাল, পুলিশ স্টেশন, শহরের নানা স্থাপনা—সবই আঘাতের লক্ষ্যবস্তু। এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে, যেন পুরো শহরটাকে ধ্বংস করে দেওয়া যায়।

‘বৈরুতিফিকেশন’ শব্দটি হয়তো এখন অভিধানে নেই; কিন্তু থাকা উচিত। এর মানে হলো, ধীরে ধীরে একটি শহরের ওপর নিয়মিত হামলাকে স্বাভাবিক করে তোলা। বিস্ফোরণ, মৃত্যু আর ধ্বংস যেন শহরের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে যায়। একসময় মানুষের কল্পনাশক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়, উন্নত জীবনের স্বপ্ন মুছে যায়। দীর্ঘ যুদ্ধ যেমন বৈরুতকে ক্লান্ত ও ক্ষয়িষ্ণু করে দিয়েছে, তেমনই কিছু একটা এখন তেহরানেও ঘটতে শুরু করেছে।

যুদ্ধের কয়েক দিনের মধ্যেই তেহরান ফাঁকা হতে শুরু করেছে। অনেকে ঘরের ভেতর আটকে আছে, অনেকে শহর ছেড়ে চলে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এত দিন ইরানিদের কাছে ছিল দূরের কোনো ঘটনা। যেন আরব বিশ্বের কোনো সমস্যা, টেলিভিশনে দেখার মতো খবর। আমাদের বাস্তবতা নয়। কিন্তু এখন যুদ্ধ আমাদের শহরেই এসে দাঁড়িয়েছে। বাস্তব, ভয়াবহ।

তবু শহরের কোথাও কোথাও জীবনের ছোট ছোট চিহ্ন এখনো আছে। পার্কে, শপিং সেন্টারে, ছোট ছোট আড্ডায় মানুষ জড়ো হয়। কয়েক দিন আগে তেহরানের একটি পার্কে কয়েকজন তরুণের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তারা আড্ডা দিচ্ছিল নিজেদের ভেতরের চাপ কিছুটা কমাতে। তারা হাসি-ঠাট্টা করছিল, নিজেদের দুর্ভাগ্য নিয়েই মজা করছিল। হয়তো ইরানিরাই যেকোনো কষ্টের মধ্যেও হাসির কিছু খুঁজে নিতে পারি। তাদের সঙ্গে কিছু সময় কাটিয়ে আমার ভেতরের উদ্বেগও একটু হালকা হয়েছিল। বিদায়ের সময় তাদের একজন শুধু বলল, ‘মরে যেয়ো না।’

কথাটির সরলতা আর নির্মম সত্য আমাদের বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে দেয়। এখন সবচেয়ে বড় কথা শুধু বেঁচে থাকা। কোনোভাবে টিকে থাকা।

এই আলাপ আমি সহানুভূতি পাওয়ার জন্য করছি না। আমরা ক্লান্ত, বারবার ভুক্তভোগীর ভূমিকায় হাজির হতে হতে। আরও ক্লান্ত সেই কথিত ‘মানবিক যুদ্ধ’-এর গল্প শুনতে শুনতে, যেখানে বলা হয়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করা হচ্ছে।

এই যুক্তিগুলো নতুন নয়। বলা হয়, একটি দেশ পারমাণবিক বোমা বানানোর একেবারে কাছাকাছি। বলা হয়, মানুষকে স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত করতে হবে। বলা হয়, এক ভয়ংকর হুমকির সামনে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ব। ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া—সব জায়গাতেই এই গল্প বলা হয়েছে। আর শেষ পর্যন্ত এর মূল্য দিয়েছে সাধারণ মানুষ।

যারা পশ্চিমা সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাদেরও সহজেই নানা তকমা দেওয়া হয়। বলা হয়, তারা নাকি শাসকগোষ্ঠীর সমর্থক, কিংবা সন্ত্রাসের পক্ষের মানুষ। এই চিত্রনাট্য আমরা আগেও দেখেছি। শুধু দেশ বদলায়, গল্প একই থাকে।

আমি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থার সমালোচক। কিন্তু নিজের সরকারের সমালোচনা করা আর নিজের সমাজ ধ্বংস হয়ে যাক তা কামনা করা, এক কথা নয়। সীমান্তের দুই পাশে অনেক মানুষ আছে, যারা অন্য রকম এক বিশ্ব কল্পনা করে। এমন এক বিশ্ব, যেখানে আধিপত্য আর সাম্রাজ্যবাদ নেই। যেখানে শান্তিই হবে ভিত্তি। সম্ভবত আমরা এক অন্ধকার সময়ের দিকে এগোচ্ছি। এমন এক সময়, যখন কূটনীতির জায়গা নেবে গুলি আর বোমা।

তবু আরেকটি সম্ভাবনাও আছে। আরও বেশি মানুষ ধীরে ধীরে যুদ্ধের যন্ত্র আর গণতন্ত্র রপ্তানির এই শিল্পের ভেতরের সত্যটা দেখতে শুরু করেছে। যদি কোনো আশা থেকে থাকে, তা সেখানেই। আশা নিহত আছে সেই সব মানুষের মধ্যে, যারা মানতে নারাজ যে অন্তহীন যুদ্ধই পৃথিবীর একমাত্র ভবিষ্যৎ।

* নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানবাসীর চিঠি
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-03-08%2F0f7m10qv%2F6720.avif?rect=1%2C0%2C620%2C413&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
যুদ্ধবিধ্বস্ত তেহরানের জনজীবন। ছবি: রয়টার্স

ইরানের ২০ হাজার ডলারের ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৪০ লাখ ডলার

ইরানের শাহেদ সিরিজের ‘কামিকাজে’ ড্রোন এখন যুদ্ধক্ষেত্রে এক ভয়ংকর আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। এর রয়েছে জ্বালানিসাশ্রয়ী ইঞ্জিন, রাডার এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এবং ৪০ থেকে ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতা। মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার খরচে একেকটি শাহেদ ড্রোন তৈরি করা যায়।

বিপুল পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব বলে এসব ড্রোন দিয়ে যেকোনো দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে সহজেই দিশেহারা করে দেওয়া সম্ভব।

শাহেদ-১৩১ ও ১৩৬ সিরিজের এসব ড্রোন মূলত সাধারণ মানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরান এগুলোকেই প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। শত শত মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ড্রোনগুলো সামরিক ঘাঁটি, তেল শোধনাগার ও বেসামরিক স্থাপনায় নিখুঁতভাবে আঘাত হানছে।

হাইপারসনিক গতি বা অত্যাধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তির নয়, বরং এ ড্রোনের মূল শক্তি হলো এর বিপুল সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখতে ইরান শত শত ড্রোনের ‘ঢেউ’ পাঠায়।

সংক্ষেপে বললে, ইরানের কৌশল হলো এই ‘উড়ন্ত ক্ষেপণাস্ত্র’ দিয়ে প্রথমে প্রতিপক্ষের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে অকেজো করে দেওয়া। এরপর বড় ও শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো, যেন এগুলো অনায়াসেই লক্ষ্যভেদে সফল হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি ড্রোন ছুড়েছে। তবে মার্কিন প্রযুক্তির প্যাট্রিয়ট বা থাড ব্যবস্থার কার্যকারিতাও উল্লেখ করার মতো। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এসব ড্রোনের ৯০ শতাংশের বেশি রুখে দিতে পেরেছে। অন্য কিছু দেশ এই সাফল্যের হার ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত বলে দাবি করেছে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো এসব ড্রোনের বেশির ভাগ ভূপাতিত করা হলেও ইরানের জন্য তা একধরনের জয়। কারণ, মাত্র ২০ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ৪০ লাখ (৪ মিলিয়ন) ডলার মূল্যের শক্তিশালী রকেট খরচ করতে হয়।

চার বছর আগে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় থেকেই পশ্চিমা বিশ্ব একটি বড় সমস্যার কোনো সমাধান খুঁজে পাচ্ছে না। তা হলো শাহেদ ড্রোনের উৎপাদন খরচের সঙ্গে একে ঠেকানোর খরচের বিশাল ব্যবধান।

শাহেদ ড্রোন আসলে কী

সহজ কথায়, শাহেদ-১৩১ বা ১৩৬ হলো ছোট ডেল্টা-উইংবিশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র। এর পেছনে একটি প্রপেলারচালিত ইঞ্জিন থাকে। শাহেদ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ সাক্ষী। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে ইরানের ‘শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি সংস্থা এই ড্রোন তৈরি শুরু করে।

শাহেদ ড্রোনগুলো নিখুঁতভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম। উৎক্ষেপণের সময় এতে এককালীন ব্যবহারযোগ্য ‘রকেট-বুস্টার’ যুক্ত থাকে। ড্রোনটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় ওঠার পর বুস্টারটি খুলে পড়ে যায় এবং একটি ফোর-সিলিন্ডার পিস্টন ইঞ্জিন সচল হয়। জেট ইঞ্জিনের বদলে প্রপেলার ব্যবহারের ফলে এর গতি কিছুটা কমে যায় (ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিমি)।

তবে এই ড্রোন অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে এবং লক্ষ্যবস্তুর ওপর চক্কর দিয়ে ডাইভ মেরে আঘাত হানতে পারে। এর মাথায় ৬০ থেকে ৯০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করা সম্ভব। আকৃতিতে ছোট হওয়ায় ইরানের প্রায় সব জায়গা থেকে এটি ছোড়া সম্ভব।

যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার

২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে এই ড্রোন বড় ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধেও রাশিয়া বড় পরিসরে এই ড্রোন ব্যবহার করছে। তবে ইউক্রেন এই ড্রোন মোকাবিলায় একটি দক্ষ ‘অ্যান্টি-ড্রোন স্কোয়াড’ তৈরি করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিম এশিয়ায় এই বিশেষ দল মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে শর্ত হিসেবে তিনি বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোকে অবশ্যই ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতে হবে।

কেন এটি শনাক্ত করা কঠিন

ইরানের এসব ড্রোন যেমন সস্তা, তেমনি কার্যকর। এগুলো রাডারে শনাক্ত করাও বেশ কঠিন। খুব সহজে উৎক্ষেপণ করা যায় বলে ঠিক কোন জায়গা থেকে ড্রোনটি ছাড়া হয়েছে, তা ধরা প্রায় অসম্ভব। তবে ওড়ার সময় এর পিস্টন ইঞ্জিনের শব্দ থেকে অনেক সময় উপস্থিতি বোঝা যায়। রাশিয়া অবশ্য এর প্রযুক্তি আরও উন্নত করেছে। ফলে এগুলো রাতেও সমান কার্যকর এবং এদের ডানা রাডার ফাঁকি দিতে আরও বেশি সক্ষম।

তবে শাহেদ ড্রোনের সবচেয়ে বড় প্রভাব হলো এর রণকৌশল। এই ড্রোনের সাফল্য দেখে এখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রও একই ধরনের সস্তা ও কার্যকর ড্রোন তৈরির পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই ‘নতুন’ যুদ্ধে ওয়াশিংটন এখন ইরানের শাহেদ ড্রোনের অনুকরণে তৈরি নিজস্ব সংস্করণ মোতায়েন করেছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই ড্রোনগুলোকে লুকাস বা লো কস্ট আনক্রিউড কমব্যাট সিস্টেম নামে অভিহিত করেছে। এগুলো ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন বা একমুখী আত্মঘাতী ড্রোন। ইরানের শাহেদ ড্রোনের আদলেই এগুলো তৈরি করা হয়েছে।

একেকটি লুকাস ড্রোনের উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার। শাহেদের মতোই এটি একটি নিখুঁত নিশানার ড্রোন, যা লক্ষ্যবস্তুর ওপর চক্কর কেটে সুযোগ বুঝে আঘাত হানে।

গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র এই কৌশলগত পরিবর্তনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে। সে সময় তারা পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য) ‘টাস্কফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’ নামে তাদের প্রথম একমুখী বা আত্মঘাতী ড্রোনের স্কোয়াড্রন চালু করে।

ইরানের তৈরি ড্রোনগুলো প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে
ইরানের তৈরি ড্রোনগুলো প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে. ছবি: এএফপি

ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান চীনের: ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না’

প্রকাশ ৯ মার্চ ২০২৬ঃ চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলা নিয়ে সতর্কতা দিয়েছে চীন। তারা বলেছে ইরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করা হলে তা জনসমর্থন পাবে না। রবিবার বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক বৈঠকের সাইডলাইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, কোনো ‘কালার’ বিপ্লবের পরিকল্পনা করা বা সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তা জনগণের সমর্থন পাবে না। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ খবর জানিয়েছে। ওয়াং আরও বলেন, ইরানসহ সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান, যাতে সংঘাত আরও না বাড়ে এবং এর প্রভাব অন্যত্র ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি বলেন, এটি এমন একটি যুদ্ধ, যা হওয়া উচিত ছিল না। এটি এমন একটি যুদ্ধ, যা কারও জন্যই ভালো নয়। ওয়াং আরও বলেন, শক্তি কোনো সমাধান দেয় না, আর সশস্ত্র সংঘাত শুধু ঘৃণা বাড়ায় এবং নতুন সংকট তৈরি করে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণই ওই অঞ্চলের প্রকৃত মালিক। তাই ওই অঞ্চলের বিষয়গুলো সেখানকার দেশগুলোকেই স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্স।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শক্তিশালী বর্জ্রমুষ্টি মানেই শক্তিশালী যুক্তি নয়। পৃথিবী আবার জঙ্গলের আইনে ফিরে যেতে পারে না। ওয়াং ‘সব পক্ষকে’ যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান। যাতে সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করা যায় এবং যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তিনি আরও বলেন, চীন আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়, সেখানকার মানুষের জীবনে শান্তি ফিরে আসে এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

একটি গোপনীয় মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল প্রতিবেদনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে সামরিক হামলা চালালেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতা কাঠামো উৎখাত করা সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম। শনিবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে, শ্রেণিবদ্ধ নথিটি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে বলা হয়, এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবিকে দুর্বল করে দেয়া হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন- তিনি ইরানের নেতৃত্বকে সরিয়ে নিজের পছন্দের উত্তরসূরি বসাতে পারেন।

প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়, এমন ফলাফল মোটেও নিশ্চিত নয়।
বেইজিং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডেরও নিন্দা জানিয়েছে। ওয়াং আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা দেয়ার অভিযোগে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার মুখে থাকা রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এখনো ‘দৃঢ় এবং অটুট’ রয়েছে।

‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না’

ইরানের আকাশে ঘন মেঘ, ঝরছে অদ্ভুত ‘কালো বৃষ্টি’

ইরানের জ্বালানি তেলের গুদামে ইসরায়েলি হামলার পর ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে রাজধানী তেহরানের আকাশ। আজ রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে শহরটির প্রায় ১ কোটি মানুষ দেখেছেন আকাশ থেকে ঝরছে অদ্ভুত ‘কালো বৃষ্টি’।

রাজধানী তেহরান থেকে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের প্রতিনিধি ফ্রেড প্লিটজেন এমন পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন।

প্লিটজেন বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এই বৃষ্টি, বৃষ্টির পানি আসলে কালো—মনে হচ্ছে এটি তেলে সিক্ত বা মিশ্রিত।’

প্লিটজেন আরও বলেন, ‘হামলার পর আজ সকালে ইরানি রাজধানীতে এমন তেলমিশ্রিত বৃষ্টি ঝরছে।’

এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তারা তেহরানের এমন কিছু জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে সামরিক খাতসহ বিভিন্ন গ্রাহকদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক ভিডিওতে তেহরানের শাহরান তেল শোধনাগার থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে ওপরে উঠতে দেখা গেছে।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হামলা, যা ইরানের ‘‘সন্ত্রাসী’’ শাসনের সামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি আরও গভীর করার ক্ষেত্রে এক বাড়তি পদক্ষেপ।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-03-08%2Fexbbilgv%2FIran-Rain.jpg?rect=0%2C0%2C1600%2C1067&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ইরানের রাজধানী তেহরানের প্রায় ১ কোটি মানুষ আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেছেন আকাশ থেকে ঝরছে অদ্ভুত ‘কালো বৃষ্টি’। ছবি: সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট