Wednesday, February 10, 2010

ভালো বল করিনি, এটাই আসল কথা’

বোলিং নিয়ে প্রথমে কিছু বলতেই চাইলেন না। প্রতিদিন একই কথা...সাকিব আল হাসানও বোধহয় বলতে বলতে ক্লান্ত। কিন্তু বাংলাদেশ ২৪৯ রান করার পরও যখন শ্রীলঙ্কা ৯ উইকেটে ম্যাচ জেতে, প্রশ্নটা তো বোলিং নিয়েই উঠবে আগে। সাকিবও শেষ পর্যন্ত স্বীকার করে নিলেন, ‘...ভালো বল করিনি, এটাই আসল কথা।’
শিশিরের প্রভাব, নাকি বোলাররাই পারেননি—এটাই ছিল প্রশ্ন। প্রথমে বলতে না চাইলেও সাকিব পরে দুটোর কথাই বললেন, ‘বোলিং নিয়ে কিছু বলার নেই। প্রতিদিন আসলে একই কথা তো...শিশিরে তো সমস্যা থাকেই। তবে আমার মনে হয়, আমাদের স্পিনার-পেসার সবাই উইকেটের দুই পাশে ওদের (শ্রীলঙ্কা) অনেক বেশি সুযোগ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ রকম সুযোগ দেওয়া যাবে না। সুযোগ দিলেই ওরা কাজে লাগাবে। ভালো বল করিনি, এটাই আসল কথা।’ বোলিং ব্যর্থতার কথা বললে প্রাসঙ্গিকভাবেই আসে মাশরাফি বিন মুর্তজার অনুপস্থিতির কথা। কাল সাকিবও বললেন, ‘আমার মনে হয় না, উনি থাকলেও এ উইকেটে খুব পার্থক্য হতো। তার পরও উনি ভালো লিডার। ওনার উপস্থিতি খুব ভালো একটা ভূমিকা রাখে দলে। মাশরাফি ভাইয়ের উপস্থিতি অবশ্যই জরুরি।’
বোলিংয়ের ঠিক উল্টো কথা বললেন সাকিব ব্যাটিং নিয়ে। প্রথম দুই ম্যাচে ২৬০ আর ২৯৬, কাল ২৪৯। সাকিবকে ব্যাটিং নিয়ে সন্তুষ্টই মনে হচ্ছে, ‘আমাদের দলটা এখন আর মানসিকভাবে নত হয় না। দেখে মনে হচ্ছে না যে দলটা জিততে আসেনি, খেলতে আসেনি। আমরাও মাঠে এনজয় করছি। বোলিং-ফিল্ডিংয়ে অতটা দিতে না পারলেও ব্যাটিং নিয়ে আমি খুব আশাবাদী। আশা করি এটা ধরে রাখতে পারব।’ এই সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং অন্য একটা আলোর রেখাও ফুটিয়ে তুলেছে বলে মনে করেন সাকিব, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন আগের অবস্থায় নেই। এটা শুধু মুখের কথা নয়, আমরা পারফরম্যান্সেও তা দেখাচ্ছি। তবে কাল ম্যাচ শেষে আরও ৩০ রানের আক্ষেপ ঝরল তাঁর কণ্ঠে, ‘আমার মনে হয়, আমাদের ৩০ রান কম হয়েছে। যে রকম শুরু ছিল, তাতে আরও ৩০ রান হওয়া উচিত ছিল। পাওয়ার প্লেতে আমরা অনেক উইকেট হারিয়েছি। ওখানে আমরা স্মার্ট ক্রিকেট খেলিনি।’
সাকিব বোলিংয়ের সমালোচনা করলেও বাংলাদেশ বোলাররা পাশে পাচ্ছেন শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনেকে, ‘রুবেল এখনো অনভিজ্ঞ, তার পরও ও ভালো চেষ্টা করেছে। স্পিনাররা অভিজ্ঞ। তবে শিশিরের কারণে বল গ্রিপ করাই কঠিন হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল শুরুতে খুব বেশি ঝুঁকি না নেওয়া। জানতাম, উইকেটে স্থির হলে রান করা সহজ হবে। আমরা সে পরিকল্পনা অনুযায়ীই খেলেছি। বোলিং নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। কারণ এ কন্ডিশনে আমাদের চাপে ফেলার কাজটা সহজ ছিল না তাদের জন্য।’ ম্যান অব দ্য ম্যাচ উপুল থারাঙ্গাও বললেন, শিশির পড়তে শুরু করার পর ব্যাটিংটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল তাদের জন্য।
পর পর তিন ম্যাচ জিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার। তবে এখনই ফাইনাল নিয়ে ভাবছে না তারা, তাদের চিন্তাচেতনায় কেবলই ভারতের বিপক্ষে আগামীকালের ম্যাচ। ‘ভারতকে ভালো দল হিসেবে আমরা শ্রদ্ধা করি। ছয় মাস ধরে খুব ভালো খেলছে তারা। ফাইনালের আগে তাদের বিপক্ষে আরেকটা ম্যাচ আছে। আগে সেটিতে ভালো খেলতে চাই। ফাইনাল তো একটাই...তখনই এটা নিয়ে ভাবব। এখন আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছি। পরের ম্যাচেও তাই খেলতে চাই।’ ম্যানেজার ব্রেন্ডন কুরুপ্পু শ্রীলঙ্কার জন্য একটা সুসংবাদ শোনালেন কাল। কুঁচকির ইনজুরিতে পড়া তিলকরত্নে দিলশান এখন অনেকটাই সুস্থ। কালকের ম্যাচেই তাঁকে দেখা পাওয়ার জোর সম্ভাবনা। কালই সিরিজে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা জয়াবর্ধনে যেন এমন একটা খবরেরই অপেক্ষায় ছিলেন, ‘ওকে পেলে তো খুবই ভালো হয়। ও এলে হয়তো আমি পরের ম্যাচে ওপেন করতে পারব না (হেসে)। তবে দিলশান দারুণ ফর্মে আছে। সেও ফিরে আসতে চায়। ২০০৯ সালটা দারুণ কাটানোর পর ২০১০ সালেও খুব ভালো শুরু করেছে।’

সরকারের দুই আপদ: ছাত্রলীগ ও দলীয়করণ by সোহরাব হাসান

১৩ মাসের মাথায় এসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী? কেউ বলবেন নিত্যপণ্যের দাম কমাতে না পারা। কেউ বলবেন বিনিয়োগে মন্দা। আবার কারও উত্তর হতে পারে অদক্ষ-অনভিজ্ঞ মন্ত্রিসভা।
আমরা মনে করি, এর কোনোটি নয়। সরকারের সামনে প্রধান আপদ হয়ে দেখা দিয়েছে ছাত্রলীগ ও দলীয়করণ। প্রধানমন্ত্রীর মৃদু ধমকে ছাত্রলীগ কিছুদিন চক্ষুলজ্জার খাতিরে কিছুটা আড়ালে থাকলেও ইদানীং বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। (অবশ্য তাদের প্রতিপক্ষ ছাত্রদলও কম যায় না। তারা ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে সংগঠনের সভাপতির ওপর চড়াও হয়েছে)। তবে ক্ষমতার আশীর্বাদপুষ্ট ছাত্রলীগের তত্পরতা কেবল সংঘাত-সংঘর্ষে সীমিত নেই। যেখানে ভর্তি সেখানেই ছাত্রলীগের বাণিজ্য। যেখানে টেন্ডার সেখানে তাদের মাস্তানি। আর কর্তৃত্ব-নেতৃত্বের কোন্দল তো আছেই। তাদের এই কোন্দলের সশস্ত্র মহড়ার বলি হলেন এফ রহমান হলের ছাত্র আবু বকর সিদ্দিক। দিনমজুর বাবা কষ্ট করে সন্তানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছিলেন লেখাপড়া করে সে সংসারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবে। সেই সন্তান বুধবার বাড়ি ফিরে গেল লাশ হয়ে। মহাজোট আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ছাত্র হত্যার কৃতিত্বও ছাত্রলীগ দাবি করতে পারে। ছাত্রলীগের মাস্তানি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা মাস্তানি চালিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে তাড়িয়েছে। ঢাকা কলেজের একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে।
ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের মাস্তানি প্রসঙ্গে মনে পড়ল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চেয়ারপারসন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। সম্ভবত এরশাদের শাসনামলের শেষ দিকে ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচন হচ্ছিল। নিজেদের ভরাডুবি টের পেয়ে নির্বাচন বানচাল করে দিলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। যাঁরা তাঁরই ছাত্র। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ছাত্র নামধারীদের এ মাস্তানি সহজে মানতে না পেরে শিক্ষকতা পেশাই ছেড়ে দিলেন। পরে সে অভিজ্ঞতার কথা লিখলেন নিষ্ফলা মাঠের কৃষক বইয়ে। তখনকার ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা বইটি পড়লে লজ্জা পেতেন। ভাগ্যিস, ছাত্রলীগের নেতারা বইয়ের চেয়ে আগ্নেয়াস্ত্রই বেশি প্রিয় মনে করেন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার সন্ত্রাসকে জাতীয়করণ করেছিল। মহাজোট দলীয়করণকে ক্ষমতায় থাকা ও ভবিষ্যতে আসার মোক্ষ অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। এর পরিসংখ্যান দিয়ে শেষ করা যাবে না। পত্রিকা খুললেই দেখা যাবে, নদী থেকে রাস্তা, বন্দর থেকে টার্মিনাল, সচিবালয় থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়—সর্বত্র চলছে দলীয়করণের মহোত্সব।
আমাদের দেশে একটি অদ্ভুত নিয়ম চালু হয়েছে। যে দল যখন ক্ষমতায় থাকবে, জনপ্রশাসনকে তাদের মতো চালাতে চায়। সেখানে দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, চাকরিবিধি, এসিআর, অফিস আদেশ—কিছুই না। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের কথা না শুনলে হয় অনন্তকাল ওএসডি থাকতে হবে অথবা খাগড়াছড়ি বদলি হতে হবে। অথচ, নির্বাচনী ইশতেহারে প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হবে না বলে ওয়াদা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, মেরুদণ্ড সোজা রেখে আমলাদের কাজ করার নজিরও খুব বেশি নেই। যাঁরা বেশি বুদ্ধিমান, তাঁরা গত আমলের ক্ষতি সুদাসলে উসুল করে নেন, নিচ্ছেন। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আদলে দিনবদলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। এখন দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বদলাচ্ছেন, দেশ বদলাচ্ছে না, মানুষের ভাগ্য বদলাচ্ছে না।
রূপকল্প ২০২১ শিরোনামের মোট ২৩ দফার নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগের পাঁচটি অগ্রাধিকার ছিল যথাক্রমে ১. দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা, ২. দুর্নীতির বিরুদ্ধে বহুমুখী ও দীর্ঘস্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ, ৩. বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, ৪. দারিদ্র্য ও বৈষম্যের অবসান, ৫. সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
দেখার বিষয়, এ পাঁচ অগ্রাধিকার সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে কতটা গুরুত্ব পেয়েছে? প্রথমে আসি দুর্নীতি বিষয়ে।
চারদলীয় জোট সরকারের ভরাডুবির প্রধান কারণ ছিল দুর্নীতি ও সন্ত্রাস। তাদের শাসনামলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের জরিপে দেশ চারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কাজটি শুরু হয়েছিল আওয়ামী লীগের আমলেই। নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবিরোধী ঘোষণা জনমনে আশা জাগালেও গত এক বছরে সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রমাণ নেই। বরং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বাছবিচারহীনভাবে প্রত্যাহারের কাজ চলছে। সেখানেও মামলার গুণাগুণ নয়, অগ্রাধিকার পাচ্ছে দলীয় বিবেচনা। দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানও সংস্থাকে ‘নখদন্তহীন বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, রাজনীতিবিদদের সহায়তা না পেলে দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না। এই রাজনীতিক বলতে তিনি কাদের ইঙ্গিত করেছেন? আমাদের দেশে বিরোধী দলে থেকে দুর্নীতি করার সুযোগ কম; যদিও শুল্কমুক্ত গাড়ি ও রাজউকের দেওয়া ফ্ল্যাট-প্লটের হিস্যা পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রীর দাবি গত এক বছরের মন্ত্রিসভায় কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কেউ দুর্নীতির অভিযোগ করেনি। এতে প্রমাণিত হয় না মন্ত্রিসভা নিষ্কলুষ, দেশ দুর্নীতিমুক্ত। সরকারি অফিসে ঘুষ-দুর্নীতি আগের মতোই চলছে।
আওয়ামী লীগ যথার্থভাবেই বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতকে তৃতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করলেও, গত এক বছরে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি সামান্য। বছরের মাঝামাঝি বিদ্যুত্ খাতের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা ঘোষিত হলেও বাস্তবায়নের লক্ষণ নেই। আগামী মার্চ-এপ্রিলে যে এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা, তার কাজ শুরু হয়েছিল মহাজোট ক্ষমতায় আসার আগেই। বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে দুটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে পিএসসি সই হলেও তা জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে প্রতিবাদ করে আসছে তেল, গ্যাস ও জ্বালানিসম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি।
নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত চতুর্থ অগ্রাধিকারে দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য দূর করার কথা বলা হলেও আগের সরকারের ধারাবাহিকতার বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচি নেই। ‘জাতীয় সেবা’ নামে এক পরিবারে একজনের চাকরির নামে প্রলুব্ধকর কর্মসূচিটি শুরু হওয়ার আগেই দলীয়করণের অভিযোগ এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় স্থানীয় প্রশাসনকে এড়িয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সাত লাখ জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি চাকরির জন্য এভাবে দলীয় কর্মীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ সংবিধানের ২৯(১) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। কেউ মামলা ঠুকে দিলে পুরো প্রকল্পটির ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
নির্বাচনী ইশতেহারের পঞ্চম অগ্রাধিকার সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে ছয়টি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক করা হয়েছিল, তার অধিকাংশ অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে অথবা এ ব্যাপারে সরকার বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হবে। বাস্তবে তা বন্ধ হয়নি, বরং অপরাধ দমনে ‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকেই কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার এখনো ন্যায়পাল নিয়োগ করেনি। মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হলেও তার কার্যপরিধি ঠিক করা হয়নি।
নির্বাচনী ইশতেহারে জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার কথা বলা হলেও প্রথম অধিবেশনের পর থেকে বিরোধী দল সংসদ বর্জন করে চলেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাহাসও কম হয়নি। বিরোধী দল সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও কত দিন থাকবে তা বলা যাচ্ছে না। বিএনপি আমলে আওয়ামী লীগও তাই করেছিল। যেভাবে সংসদ চলছে তাতে গত নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী দেশগুলোও অসন্তুষ্ট। হতাশ নাগরিক সমাজ। এ অবস্থা চলতে থাকলে সংঘাতের রাজনীতি অনিবার্য হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যে বিএনপির নেতৃত্ব সরকার উত্খাতের জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।
নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সাংসদ ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব বিবরণী দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। গত এক বছরে কেউ তা দেননি। কেন দেননি তার জবাব নেই। বরং অনেক সাংসদ নির্বাচনীব্যয় বিবরণীতে দেওয়া বাড়ি বা ফ্ল্যাটের কথা গোপন রেখে রাজউক থেকে প্লট নিয়েছেন। এঁরাই হলেন আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি।
পূর্ববর্তী চারদলীয় জোট সরকারের সঙ্গে তুলনা করলে হয়তো মহাজোট সরকার গত এক বছরে বেশ কিছু ভালো কাজ করেছে। যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীরা আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন। ভালো কাজের জন্য বাহবা তাঁরা পেতেই পারেন। কিন্তু মন্দ কাজ পরিহার এবং দল থেকে মন্দ লোকগুলোকে তাড়াতে না পারলে সব অর্জনই ম্লান হয়ে যাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের খোয়াবদাতাদের বিএনপি-জামায়াতের পথে হাঁটলে চলবে না।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতারা মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সরকার ও দলের মধ্যে দূরত্ব তৈরির অভিযোগ এনেছেন। এটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য পরীক্ষাও বটে। তিনি যদি ভেবে থাকেন দলের তৃণমূলের নেতারা শতভাগ সাধু হয়ে গেছেন এবং দেশপ্রেমে গদগদ হয়ে মন্ত্রীদের তুলোধুনো করেছেন, তাহলে ভুল করবেন। ক্ষোভের কারণ মন্ত্রী-এমপিদের সত্পথে নিয়ে আসা নয়। বৈধ কি অবৈধ সুযোগ-সুবিধার ‘ন্যায্য’ হিস্যা না পাওয়া। যাঁরা পেয়েছেন শান্ত আছেন, যাঁরা পাননি তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন, ভবিষ্যতেও হবেন। অতএব এসব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে মাথা না ঘামালেও চলবে। বরং এখনো যাঁরা ক্ষুব্ধ হননি, কেন হননি সেসব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।।
সবশেষে দলীয়করণের আরেকটি নজির হাজির করছি। বিষয়টি ছোট, কিন্তু তাত্পর্য বড়। আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাটি আয়োজন করা হয়েছিল গণভবনে। এটি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন। বর্তমান বাসভবন যমুনায় তিনি থাকছেন সাময়িক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সরকারি বাসভবনে দলের সাংগঠনিক সভা হতে পারে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যদি হোয়াইট হাউসে এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন যদি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে দলীয় সভা ডাকতেন, তা হলে পরদিনই তাঁদের পদত্যাগ করতে হতো।
কিন্তু সব পেয়েছির বাংলাদেশে সবই সম্ভব।
সোহরাব হাসান: সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

চালের মূল্য বৃদ্ধি

ধানের ভালো ফলন সত্ত্বেও গত এক বছরে মোটা চালের মূল্য ছয় শতাংশ বৃদ্ধিকে মোটেই স্বাভাবিক বলা যায় না। চিকন চালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে আরও বেশি। চালের দাম কমাতে সরকার খোলাবাজারে প্রতি কেজি চাল ২২ টাকায় বিক্রি করলেও বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং গত সপ্তাহে চালের মূল্য আরেক দফা বৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খাদ্য-নিরাপত্তার পূর্বশর্ত কৃষকের ন্যায্য মূল্য পাওয়া; আবার খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলে জনজীবনে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে বাধ্য। এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষায় সাবধানেই সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। খাদ্য উত্পাদন বাড়াতে বেশ কিছু কৃষিবান্ধব পদক্ষেপ নিয়েছে মহাজোট সরকার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সারে ভর্তুকি বৃদ্ধি, ডিজেলের দাম কমানো এবং উত্পাদন মৌসুমে খেতে সেচসুবিধা নিশ্চিত করা। কৃষকেরা এর সুফলও পেয়েছেন। কিন্তু চালের মূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি অযৌক্তিক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদন বলেছে, চালের দাম ২৫ টাকার কম হলে কৃষক ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হবেন, আবার বেশি হলে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের নজরদারি বাড়ানোরও তাগিদ দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সীমিত পর্যায়ে খোলাবাজারে চাল বিক্রি যে প্রভাব ফেলেনি, তা স্বীকার করে খাদ্যমন্ত্রী আরও কম মূল্যে অতিদরিদ্র জনগণের মধ্যে চাল বিতরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। চালের মূল্য একবার বাড়লে তা কমানো কঠিন হবে। সে কারণে সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
কেউ কেউ চালের মূল্য বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকেও দায়ী করেছেন। ভারতসহ কয়েকটি দেশে ধানের উত্পাদন কম হয়েছে ঠিক, কিন্তু উত্পাদন ভালো হওয়ায় এ বছর বাংলাদেশকে চাল আমদানি করতে হবে না। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও কম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, আমনের মতো বোরোর উত্পাদনও ভালো হবে। সে ক্ষেত্রে চালের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে মহলবিশেষের কারসাজি আছে কি না খতিয়ে দেখা দরকার।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, বাজারে চালের মূল্য বেশি হলেও এর সুফল কৃষকেরা পাচ্ছেন না। উত্পাদক ও ভোক্তাপর্যায়ে মূল্যের পার্থক্যটি কখনো কখনো কেজিপ্রতি চার-পাঁচ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়, যা মেনে নেওয়া যায় না। অন্যান্য নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। চালের ক্ষেত্রেও অদৃশ্য কোনো সিন্ডিকেট আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কৃষক ধান-চালের ন্যায্য দাম পাক সেটি সবারই প্রত্যাশা। অবিলম্বে খোলাবাজারে চাল বিক্রি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে অতিদরিদ্রদের বিনা মূল্যে চাল সরবরাহ করতে হবে। সেই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে কেউ ভোক্তাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে।

হাটে হাঁড়ি ভাঙল ছাত্রলীগ

মিষ্টির হাঁড়ি নিয়ে কাড়াকাড়িরও একটা নিয়ম হলো, হাটে হাঁড়ি না ভাঙা। ছাত্রলীগ এবার সেটাই করেছে। ভোলা শহরে তারা মিছিল করে, সভা বসিয়ে, আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যালয়ে তালা দিয়ে নেতাদের টেন্ডারবাজির প্রতিবাদ করেছে। পরিহাস এই যে, দুর্নীতির ভাগ না পাওয়াই তাদের প্রতিবাদে নামিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা অভিযোগহীন! কাক কাকের মাংস খায় না সত্য, তবে এক টুকরো মাংস নিয়ে দুই কাকের কামড়াকামড়ি বিরল নয়। ভোলার আওয়ামী লীগ বনাম ছাত্রলীগের নেতাদের দ্বন্দ্বে সেটাই দেখা গেল।
ছাত্রলীগ এখন প্রতিপক্ষহীন। এ অবস্থায় শিক্ষাঙ্গন ও ছাত্ররাজনীতির মঞ্চ তারাই কাঁপাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে শান্তি নষ্ট হচ্ছে, সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে টেন্ডারবাজির হিস্যা নিয়ে বিরোধ এই দ্বন্দ্বের নতুন রূপ মাত্র। ছাত্রলীগের নেতাদের অভিযোগ, ভোলা আওয়ামী লীগের নেতারা টেন্ডারবাজি করে একেকজন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অভিযোগ সত্য হলে, এই টাকা গেছে জনগণের করের টাকায় গড়া সরকারি কোষাগার থেকে। কথায় বলে, সরকারি মাল দরিয়ায় ঢাল। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে গত এক বছরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা এই নীতিই অনুসরণ করছেন। ক্ষমতা, পদ, নেতৃত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ-বিত্ত অর্জনের চাবিকাঠি। চাঁদাবাজি-চালবাজি-টেন্ডারবাজি, গাছকাটা-পুকুরচুরিসহ হেন কোনো কাজ নেই, যেখানে সরকার-সমর্থক সংগঠনগুলোর হাত পড়ছে না। বিগত দিনে এই একই কাজ করে গেছে বিএনপি ও ছাত্রদল। দিনবদলের স্লোগান নিয়ে আসা বর্তমান সরকারের আমলে সেই ধারাবাহিকতাই বজায় থাকছে। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মীই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের ঘরের শত্রু বিভীষণ।
এটা কেবল দুঃখজনক নয়, হতাশারও কারণ। অথচ প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু কেবল কথায় চিঁড়ে ভেজেনি, রক্তপাত ও সন্ত্রাসের ধারা না কমে বরং বেড়েছে। আশা করি সরকারের নীতিনির্ধারক মহলসহ প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ঘরের শত্রু বিভীষণকে দমনের সংকল্প নিয়ে জনগণের আস্থার প্রতিদান দেবেন।

২০১০ সাল রিপাবলিকানদের জন্য একটি ভালো বছর হবে: পেলিন

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর সারাহ পেলিন বলেছেন, ২০১০ সালটি তাঁর দলের জন্য একটি চমত্কার বছর হবে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির নাশভিলে একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী পেলিন বলেন, জনগণ আবার রক্ষণশীল ধারার রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে এই জোয়ার ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে গত মাসে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে সিনেটের একটি আসনের উপনির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় স্কট ব্রাউনের জয়ের কথা উল্লেখ করেন পেলিন।

ইরানে বিক্ষোভের আহ্বান জানালেন নোবেলজয়ী এবাদি

শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী ইরানের মানবাধিকারকর্মী শিরিন এবাদি এ সপ্তাহে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের সময় রাস্তায় বিক্ষোভ-সমাবেশ করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক সংবাদপত্র সানডে টেলিগ্রাফের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ আহ্বান জানান। খবর এএফপির।
লন্ডনে নির্বাসিত এবাদি জানান, তিনি ইরান সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সমর্থন করেন। সানডে টেলিগ্রাফকে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, জনগণ এ বিক্ষোভে অংশ নেবে।’
এবাদি বলেন, ‘তাদেরকে তাদের অধিকারের দাবি জানাতে হবে। তবে এটি করতে হবে শান্তিপূর্ণভাবে। সরকার স্বভাবতই চায় জনগণ সহিংস হোক। কারণ, সহিংস হলে জনগণকে দমনে সরকার একটি অজুহাত পাবে। তাই সরকারকে জনগণের ওই এই সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না।’
ইসলামি বিপ্লবে ইরানের শাহ-শাসনের পতন ঘটে। মোহাম্মাদ রেজা শাহ পাহলভি ১৯৭৯ সালের জানুয়ারি মাসে ইরান ছেড়ে চলে যান। পরের মাসেই ফ্রান্সে নির্বাসন থেকে আয়াতুল্লাহ রুহুলুল্লাহ খোমেনি দেশে ফিরে আসেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন।

কাঠমান্ডুতে এক গণমাধ্যমের মালিককে গুলি করে হত্যা

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে জামিম শাহ (৪০) নামের এক গণমাধ্যমের মালিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রোববার কাঠমান্ডুর ফরাসি দূতাবাসের কাছে একটি জনাকীর্ণ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। কাশ্মীরি বংশোদ্ভূত জামিম নেপালভিত্তিক স্পেস টাইম নেটওয়ার্কের মালিক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ভারতের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিমের সহযোগী এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ জানায়, গতকাল দুপুরের দিকে দুজন মুখোশধারী একটি মোটরসাইকেলে জামিমের গাড়ির পাশে গিয়ে তাঁকে এবং গাড়িচালক মাথুরা মান মালাকারকে গুলি করে। জামিমের বুকে এবং মাথুরার ঊরুতে গুলি লাগে। স্থানীয় টিচিং হাসপাতালে নেওয়ার পর জামিমের মৃত্যু হয়।
২০০০ সালে জামিম শাহের পরিচালনাধীন চ্যানেল নেপাল টেলিভিশনে বলিউড তারকা হূত্বিক রোশনের বরাত দিয়ে ভুল মন্তব্য প্রচার করায় নেপালে ভারতবিরোধী দাঙ্গা হয়। এ ছাড়া জামিমের মালিকানাধীন স্পেস টাইম পত্রিকা ভারতবিরোধী প্রচারণা চালানোর জন্য অভিযুক্ত।
স্পেস টাইম নেটওয়ার্ক দাউদ ইব্রাহিমের অর্থায়নে পরিচালিত অভিযোগ তুলে এর আগে ভারত সরকার প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তি জব্দ করার জন্য নেপাল সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিল। এ ছাড়া জামিম আইএসআইয়ের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ আনা হয়। অবশ্য দুটি অভিযোগই অস্বীকার করেছিলেন জামিম।

হিরোশিমা স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখলেন মাহমুদ আব্বাস

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস তাঁর এশিয়া সফরের শুরুতে গতকাল রোববার জাপান পৌঁছেছেন। সফরের প্রথম দিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হিরোশিমা শান্তি স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন তিনি। এরপর তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউকিয়ো হাতোইয়ামার সঙ্গে বৈঠক করেন।
হিরোশিমার শান্তি স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখার সময় মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে ছিলেন হিরোশিমা শহরের মেয়র তাদাতোশি আকিবা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন আণবিক বোমায় নিহত এক লাখ ৪০ হাজার জাপানি নাগরিকের স্মৃতির উদ্দেশে এই জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। জাদুঘরটি ঘুরে দেখার সময় মাহমুদ আব্বাস নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিবেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববাসীর পারমাণবিক বোমাসহ মানববিধ্বংসী অস্ত্র পরিত্যাগ করা উচিত।
মাহমুদ আব্বাস চার দিন জাপানে অবস্থান করবেন। জাপানের সরকারি এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করাই তাঁর এই সফরের লক্ষ্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মুখপাত্র জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যেতে জাপানের সমর্থনের কথা প্রকাশ করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
ফিলিস্তিনে অনুদান দেওয়া শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে জাপান একটি। দেশটি ১৯৯৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে ফিলিস্তিনকে।
জাপান সফর শেষে মাহমুদ আব্বাস দক্ষিণ কোরিয়া সফর করবেন। এ সময় তিনি সে দেশের প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুং বাকের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

‘বেবি ব্রেন’ বিষয়ক ধারণাকে ভ্রান্ত দাবি করেছেন গবেষকেরা

গর্ভধারণের সময় এবং নবজাতককে দেখভাল করার সময় মায়েদের চিন্তাশক্তির ঘাটতি হয়, এমন ধারণা ঠিক নয়। গতকাল শুক্রবার এমনটাই দাবি করেছেন অস্ট্রেলীয় একদল গবেষক। মায়েদের ওই সময়কার মানসিক বৈকল্য ‘বেবি ব্রেন’ নামে পরিচিত, যা অনেক দেশে অতিকাল্পনিক কাহিনীতে পরিণত হয়েছে।
জনগণের স্বাস্থ্য ও বয়সের ওপর ২০ বছর গবেষণা করেন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ওই গবেষকেরা। গবেষণায় তাঁরা গর্ভাবস্থায় ও মাতৃত্বের প্রথম দিককার সময় নারীর মানসিক অবস্থার বিশ্লেষণ করেন।
গবেষক দলের নেতা হেলেন ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘নারীদের মধ্যে গর্ভধারণের আগের মানসিক অবস্থার সঙ্গে গর্ভধারণের সময়ের মানসিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন দেখতে পাইনি আমরা। মাতৃত্বের সময়ের সঙ্গে মা হওয়ার আগের সময়ের মানসিক অবস্থারও কোনো পার্থক্য ধরা পড়েনি গবেষণায়। এ ছাড়া মা, অন্তঃসত্ত্বা ও মা নয়—এই তিন শ্রেণীর নারীর মধ্যেও মানসিক অবস্থার কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।’
২০ বছরে সাড়ে সাত হাজার নারীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী নারীদের ওপর বিভিন্ন সময়ে স্মৃতি ও চিন্তাশক্তির পরীক্ষা চালানো হয়। ক্রিস্টেনসেন বলেন, গবেষণার ফল অনন্য। কারণ গবেষণার সময় ওই সব নারীকে জানানো হয়নি যে তাঁদের গর্ভাধারণের সময় নিয়ে কোনো পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সাময়িকী সাইকিয়াট্রিতে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, গর্ভধারণের ফলে নারীদের স্বল্পমেয়াদি স্মৃতির সমস্যা দেখা দিলেও মানসিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্থায়ী প্রভাব পড়ে না। এ ব্যাপারে ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমার ধারণা, মানুষের মধ্যে গর্ভকালীন স্মৃতিভ্রমকে বড় করে দেখার একটা প্রবণতা রয়েছে। আর তাতেই ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়েছে। সাধারণ অবস্থায়ও নারীর এ ধরনের স্মৃতিভ্রম হতে পারে।