Sunday, May 23, 2010

শিরোপা থেকে এক পয়েন্ট দূরে আবাহনী

এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপে তিন ম্যাচে ৫ পয়েন্ট পেয়েও আবাহনী যেতে পারেনি সেমিফাইনালে। টানা দুবার ঘরের মাঠে গোলগড়ে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। সেই আক্ষেপ আবাহনীর থেকেই যাবে। তবে আবাহনীকে তা ভুলিয়ে দেওয়ার সময় গুনছে পেশাদার লিগ। এই লিগের হ্যাটট্রিক শিরোপার সুবাস এখন ভালো করেই পাচ্ছে আকাশি-নীলরা।
শেখ রাসেলের বিপক্ষে কাল আবাহনী পেল ২-১ গোলের নাটকীয় জয়। এটা তাদের জানিয়ে দিল এখন উৎসব-প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া যায়। শেষ দুই ম্যাচে আবাহনীর দরকার একটি মাত্র পয়েন্ট। শেষের আগের ম্যাচটি ২৬ মে ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে, ৩১ মে শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ মোহামেডান।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে রাসেলের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে আবাহনী কোচ অমলেশ সেন বললেন, ‘এখন আমরা মোটামুটি নির্ভার। যেহেতু আর ১ পয়েন্ট দরকার, তাই আমরাই চ্যাম্পিয়ন হব আশা করছি। ফরাশগঞ্জ ম্যাচেই কাজ শেষ করতে চাই।’
২২ ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট ৬৪। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানের ৫৮। শেষ দুই ম্যাচের আগে আবাহনী ৬ পয়েন্টে এগিয়ে থাকায় লিগে মোহামেডান ধরে নিয়েছে, কাগজে-কলমে তাদের আশা বেঁচে থাকলেও বাস্তবে নেই।
গতকাল কাল আবাহনী পয়েন্ট হারালে ব্যবধান কমে আসত। তখন সাদা-কালোদের সামনে সম্ভাবনার একটা দুয়ার খুললেও খুলতে পারত। কিন্তু ঘরোয়া লিগে দোর্দণ্ড প্রতাপে এগিয়ে চলা আবাহনী সেই সুযোগ দেয়নি মোহামেডানকে। পেশাদার লিগে তারা টানা ৩৩ ম্যাচে অপরাজিত, যার মধ্যে পরাজয় মাত্র দুটি।
কালকের আবাহনীর খেলায় দেখা গেল প্রেসিডেন্টস কাপের ক্লান্তি। ইনজুরির সমস্যায় দল সাজাতেই সমস্যা হয়েছে। তার পরও ৩৪ মিনিটে তরুণ মিডফিল্ডার শাহেদের গোল (সিরাজীর ঠেলে দেওয়া বল প্লেসিং করেছেন শাহেদ) আবাহনীকে কিছুটা ভারমুক্ত করে দেয়। কিন্তু ৮৫ মিনিটে ম্যাচে সমতা আনে রাসেল। আবাহনীর ডিফেন্ডাররা ঠিকভাবে বল ক্লিয়ার করতে না পারার ফল এই গোল। রাজনের গোলমুখে ফেলা নিচু ক্রসে মোহাম্মদ রনির সাইড ভলিতে ১-১।
মিনিট তিনেক পরই সব উত্তেজনা শেষ। রাসেল ডিফেন্ডারদের গা-ছাড়া মনোভাবের সুযোগে বদলি মিডফিল্ডার আবুলের পাস থেকে স্ট্রাইকার এনামুলের শট জালে (২-১)। মোহামেডানের জাহিদ হাসানকে পেছনে ফেলে (১৮ গোল) এনামুল এখন ১৯ গোল নিয়ে সবার ওপরে।
তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করা রাসেলের খেলায় এদিন জেতা দূরে থাক ড্র করার তাড়নাও তেমন দেখা যায়নি। তিনটি পেশাদার লিগের ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই তারা হারল আবাহনীর কাছে। একমাত্র ড্র প্রথম লিগের প্রথম পর্বে।

দুর্নীতি দমন-মূল দায়িত্ব দুদকের নয় -সরকারের by আলী ইমাম মজুমদার

একটি সমাজের সুস্থ মূল্যবোধের সঙ্গে দুর্নীতি সাংঘর্ষিক হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দুর্নীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট এমনকি সর্বোচ্চ আদালতে সাজা বহালকৃত ব্যক্তি যখন সমাজে নন্দিত এবং কোনো একপর্যায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা বদলের নির্ণায়ক হয়, তখন ধরে নিতে হবে, প্রকৃতপক্ষে সে সমাজের মূল্যবোধে দুর্নীতি তেমন কোনো অপরাধ নয়। কোনো ব্যক্তির দুর্নীতির মাধ্যমে লব্ধ সম্পদে তার পরিবার-পরিজন এমনকি পিতা-মাতাকে যখন গর্বিত মনে হয়, তখন উপরিউক্ত বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। তার ওপর সেই বিত্তবান যখন তার সম্পদের ছিটেফোঁটা তার স্বজন কিংবা অনুসারীদের মধ্যে ভাগ করে নেয় তখন তো তার সামাজিক মান-মর্যাদাও বেড়ে যায়। পাশাপাশি সৎ জীবনযাপনকারী কোনো ব্যক্তি যখন তার স্বজনদের আর্থিক সহায়তায় স্বাভাবিক কারণেই আশানুরূপ সাড়া দিতে পারে না; সে তো স্বার্থপর কিংবা নিদেনপক্ষে অক্ষম বলে চিহ্নিত হয়। সমস্যাটা খুবই গভীরে এবং সমাধানও অব্যাহত কঠোর প্রয়াসেই মিলবে। দুর্নীতিকে সমাজজীবনে শুধু কথা নয়, বাস্তবেও নিন্দনীয় করার জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে জনগণের মধ্যে। এর জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা অনুসারে জনমত গঠনের মূল দায়িত্বে থাকার কথা রাজনৈতিক দলগুলোর। পাশাপাশি সিভিল সমাজকেও দুর্নীতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির দায়িত্ব নিতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনি ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগে এটি সহায়ক হবে।
দুর্নীতিবিরোধী আইন প্রয়োগের সমস্যা যত কঠিনই হোক না কেন, তা সঠিক সময়ে যথাযথভাবে প্রয়োগে রাষ্ট্রযন্ত্রকেই সচেষ্ট ও সক্রিয় থাকতে হবে। সম্ভবত আমাদের স্বাধীনতা-পূর্বকাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বলবৎ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন (Prevention of Corruption Act) তারই একটি প্রয়াস। এটা প্রয়োগের দায়িত্বে ছিল দুর্নীতি দমন ব্যুরো। সূচনাতে ব্যুরো বেশ কিছুটা কার্যকর ছিল, এটা অস্বীকার করা যাবে না। তবে সময়ের স্রোতে এবং মূলত রাজনৈতিক সরকারের অঙ্গীকারের অভাবে ব্যুরো হারিয়ে ফেলে তার সক্ষমতা। সিভিল সমাজের ক্রমবর্ধমান দাবি এবং প্রধানত উন্নয়ন-সহযোগীদের একরকম বেঁধে দেওয়া শর্তেই ২০০৪ সালে সংসদের আইন দ্বারা গঠন করা হয় ‘স্বাধীন’ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নিয়োগ পান কমিশনের চেয়ারম্যান এবং দুজন কমিশনার। আইন দ্বারা তাঁদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছিল। নিয়োগও হয়েছিল সেই আইনের বিধান অনুসারে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাছাই কমিটির সুপারিশে। সে কমিটির দুজন সদস্য সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক। অপর দুজন সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত কর্মকর্তা এবং শুধু একজন নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট (সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব)। তার পরও ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পূর্ব পর্যন্ত সেই কমিশন কার্যত নিষ্ক্রিয়ই ছিল। পরস্পরের সঙ্গে কলহ আর বিলুপ্ত ব্যুরোর কর্মচারীদের দুদকে নিয়োগের জন্য বাছাই করতেই চলে গেল মূল্যবান দুটো বছর। জাতীয় জীবনে দুর্নীতির অব্যাহত বিস্তার রোধে তারা কোনো অবদানই রাখতে পারল না।
২০০৭ সালের এক-এগারো নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে এবং হচ্ছে। এ বিতর্কের অবসান কবে হবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। এখানে এ প্রসঙ্গটি পাশ কাটানো যাবে না। সে বছরের ফেব্রুয়ারিতে একই আইনি প্রক্রিয়ায় পুনর্গঠিত হয় কমিশন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুদক আইনে কিছু অর্থবহ সংশোধনও করেছিল। দুদককে আশাতীত সক্রিয় হতে দেখা গেল। তখনকার সরকার তাদের জনবলকাঠামো, বিধিমালা ইত্যাদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পন্ন করে তাদের যানবাহন ও অর্থের জোগান দেয়। ফলে কমিশন সক্রিয় হওয়ার জন্য এগুলো কিছুটা অবদান রেখেছে। তবে নেপথ্যকথাও অনেকের জানা। গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি এবং এর অধীনস্থ টাস্কফোর্সগুলোই এই অতিসক্রিয়তার মূল চালিকাশক্তি ছিল। অনেকের মতে, সরকারের আর একটি সংস্থার তৎপরতাও এ ব্যাপারে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নেপথ্যশক্তি বললে বরং তাদের ভূমিকাকে গৌণ করা হবে। তাদের ব্যাপক প্রভাব দুদকে ছিল এটা কারও অবিদিত নয়। সুতরাং দুদকের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা তখনো প্রশ্নবিদ্ধই ছিল। তদুপরি জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা প্রয়োগে দুদক/টাস্কফোর্স বিভিন্ন ব্যক্তির আয়কর বিবরণী ও ব্যাংক হিসাব তাদের আওতায় নিয়ে সেগুলোই মূলত মামলার মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। দুদক আইনে এসব বিবরণী তলব করার বিধান সন্নিবেশ করার জন্য দুদকের পুনঃপুনঃ প্রস্তাব তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ই নাকচ করা হয়েছে। আয়কর বিবরণী ও ব্যাংক হিসাবের গোপনীয়তা সুনির্দিষ্ট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। এসব আইনি বিধানের যৌক্তিকতা কখনো প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে বলে জানা যায় না। আর জরুরি ক্ষমতা বিধিমালায় এগুলো প্রাপ্তির বিধান সন্নিবেশের যৌক্তিকতা জরুরি অবস্থা জারির যৌক্তিকতার মধ্যেই খুঁজতে হবে।
সুতরাং, জরুরি অবস্থা চলাকালে দুদকের সক্রিয়তা তার আইনি বা প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতার পুরো পরিচয় বহন করে না। এ সক্ষমতা উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া। এখনো দুদক আইন সম্পূর্ণ বহাল থাকলেও গত প্রায় দেড় বছরের কর্মকাণ্ডে দুদক তো তেমন কোনো ভাবমূর্তি সৃষ্টি করতে পারেনি। সক্রিয়তা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে। সম্প্রতি সরকারের নেওয়া দুদক আইন সংশোধনের একটি খসড়া বিতর্কের ঝড় তুলেছে। সংশোধনীগুলো সম্পর্কে মিডিয়ায় যেটুকু এসেছে তাতে প্রধানত রয়েছে দুদককে তার কার্যক্রমের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দায়বদ্ধ করা, সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পূর্বে সরকারের অনুমোদন গ্রহণ, তদন্তকালে সমমানের কর্মকর্তা কর্তৃক জিজ্ঞাসাবাদ, সরকার কর্তৃক দুদকের সচিব নিয়োগ এবং দুর্নীতির মিথ্যা মামলা দায়েরের জন্য বাদীর শাস্তির ব্যবস্থা। দেখা দরকার বিষয়গুলো গুরুত্ব নিয়ে সামনে এলো কেন।
দুদক কোনো সাংবিধানিক সংস্থা নয়, রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগেরই একটি অংশ। সমাজ থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধে আইন দ্বারা গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান। আইন দ্বারা তাদের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত এবং পদ-পদবি সুরক্ষিত। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও এসব বিষয় নিয়ে নেপথ্যে অনেক বিতর্ক হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়ায় এগুলো হালে পানি পায়নি। নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দুদক কমিশনাররা সার্বভৌম সংসদের একটি কমিটিতে উপস্থিত না হয়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তবে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তাঁরাই কি বারবার সরকারের কোনো কোনো দপ্তরে হাজির হয়ে সভায় অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন কাজের নিকাশ দেননি? তখনো অলিখিতভাবে তাঁরা বিভিন্ন মহলের কাছে দায়বদ্ধ ছিলেন। তবে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে দায়বদ্ধ হলে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রশ্ন উঠবে কেন? সরকার তার সব কাজের জন্য তথা দুদকের কাজের জন্যও সংসদের কাছে দায়বদ্ধ। তাই দুদক যাতে সঠিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে লক্ষ্যে সর্বতোভাবে সহযোগিতা ও সমর্থন দেওয়া সরকারের ন্যায্য অধিকার ও কর্তব্য। এতে অযথা হস্তক্ষেপ মনে করার কোনো কারণ নেই।
এরপর আসে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আগে সরকারের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি। পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, দুদক যখন অতিমাত্রায় সক্রিয় ছিল তখন মামলা হয় মূলত রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং রাষ্ট্রের শুধু নির্বাহী বিভাগের কিছু বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তখনই সরকারি কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রদত্ত তাঁদের আইনি সুরক্ষার দাবি করতে থাকেন। বিশেষ কিছু মামলা যেমন চট্টগ্রামের সিটি মেয়রের বিরুদ্ধে বিজয় টিভির মামলায় অর্থ ছাড় এবং মূল কাজ শেষ হওয়ার পর করপোরেশনের তদানীন্তন সচিব শুধু ভাউচারগুলো গ্রহণ করার জন্যই চার্জশিটভুক্ত ও গ্রেপ্তার হন। ভালুকার একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যুর প্ররোচনায় সেখানকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ভুয়া ফাঁদপাতা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাঁদের খালাস দিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের ভোগান্তি কি কেউ আর ফেরত নিতে পারবে? এ ধরনের মামলা নিয়ে দুদকের সঙ্গে নিষ্ফল দেনদরবারে মনে হয়েছে, ক্ষমতা হেথা নয়, অন্য কোথাও। মনে করা হতো, দুর্নীতি শুধুই নির্বাহী বিভাগে বেসামরিক কর্মচারীদের কাজ। বাস্তবতা কি তাই? তখন যদি দুদক রাষ্ট্রের কর্মে নিয়োজিত অন্য সব বিভাগ/সংস্থা/দপ্তরের চিহ্নিত দুর্নীতিপরায়ণ লোকদের অভিযুক্ত করত, তাহলে এ দাবি এতটা হয়তো জোরদার হতো না। বরং দুদক সত্যিকারের স্বাধীন ও ন্যায়নিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে পারত। হয়তো বা সীমাবদ্ধতার কথাই আসবে। তাহলে স্বাধীনতা হরণের প্রশ্নটি আসে কেন?
আমি নিশ্চিত, ওপরের অনুচ্ছেদ দুটোতে আমার মতামত পেশাগত পক্ষপাতমূলক বলে অনেকের কাছেই চিহ্নিত হতে পারে। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের না-হক হয়রানি রোধে এ ধরনের বিধান অপরিহার্য। তবে অনুমোদন-প্রক্রিয়া অতিদ্রুত নিষ্পন্ন হওয়া কিংবা অনুমোদন না দেওয়ার কারণ দুদককে অবগত করার আইনি বিধান থাকা আবশ্যক। সরকারপ্রধানের কাছে শীর্ষপর্যায়ের জনসেবকদের বিষয়টিই অনুমোদনের জন্য যেতে পারে। অন্যদের জন্য একাধিক পর্যায়ে কমিটি গঠন করে প্রক্রিয়াটি সময়াবদ্ধ করা আবশ্যক। তদুপরি দণ্ডবিধির জনসেবক সংজ্ঞাটি শুধু সরকারি কর্মচারী নয়, প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিরাও হওয়া আবশ্যক। তারা একই সুরক্ষার আওতায় আসা সমীচীন। তবে ঘুষ গ্রহণকালে হাতেনাতে ধৃত এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত সম্পদের অধিকারী জনসেবকদের (?) এ সুরক্ষার আওতায় আনা সংগত হবে না।
দুদক মামলা দায়ের এবং আসামি চিহ্নিত করার বিষয়ে আরও সতর্ক ও বাস্তববাদী হলে সুফল বেশি পাওয়া যাবে। কোনো একটি কেনাকাটার মামলায় সংস্থার বা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা থেকে মন্ত্রিসভা ক্রয় কমিটি এবং এর দুর্ভাগা সচিব (মন্ত্রিপরিষদের সচিব) এবং সবশেষে শুধু অনুমোদন-সূচক স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য সরকারপ্রধান পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে সবাইকে সংশ্লিষ্ট করার সংস্কৃতি পরিহার করা আবশ্যক। কোনো একটি কেনাকাটা বা বিক্রিবিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় হাজিরা তালিকা দেখে সবাইকে আসামিভুক্ত করে দলে-বলে নাজেহাল করার বিষয়টিও একইভাবে পরিহারযোগ্য। বেআইনিভাবে কে লাভবান হলো, কার দায়িত্ব অবহেলার কারণে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হলো, বা কে ঘুষ গ্রহণ করল তা চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলা করলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। প্রক্রিয়াটিতে যারা নামে মাত্র যান্ত্রিকভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের অভিযুক্ত করে একটি মামলাতেও কি দুদক কোনো ফল পেয়েছে? মন্ত্রিসভা ক্রয় কমিটি ও সরকারপ্রধান সাধারণত প্রক্রিয়াগত বিষয়টিই বিবেচনায় রাখেন। প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম করে রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন ব্যতীত সব ক্ষেত্রে এ ধরনের মামলায় তাঁদের ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করার ফলে জাতীয় নেতাদের চরিত্র হননই চলছে। দুর্নীতির নেপথ্য কারিগরদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার মাধ্যমেই দুদক তার অবস্থানকে সুদৃঢ় অর্থবহ করে তুলতে পারে। ছোটখাটো কর্মচারীর তিন-চার হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় ফাঁদ পাতাকে বেআইনি বা অনৈতিক বলা যাবে না। তবে দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা এবং দুদকের বিশাল দায়িত্ব বিবেচনায় এটি কম গুরুত্বপূর্ণ। অতিসম্প্রতি মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুদকের এ ধরনের অভিযান লক্ষণীয়। ফাঁদ পাতার বিষয়টিও এককভাবে দুদকের পরিচালনা করা ঠিক হবে না। তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের নৈতিকতার মান কোন স্তরের তা একটু খোঁজ করলেই জানা যায়। এর বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টি করতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তা করা উচিত। আর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা সেই ক্যাডারের উচ্চপদাধিকারীদের বিরুদ্ধে ফাঁদ পাতা আবশ্যক হলে একজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তা পরিচালনা করাই শ্রেয় হবে। মিথ্যা মামলার জন্য বাদীর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান দণ্ডবিধিতেও রয়েছে। তবে দুর্নীতির মামলায় এ বিধান সংযোজনে দুদক কর্মকর্তাদের মনোবলের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে কি না তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তদন্তকালে সমমানের কর্মকর্তার আবশ্যকও বাস্তবসম্মত হবে না। সরকারের সঙ্গে সংযোগ রক্ষার সুবিধার্থে দুদকের সচিবকে সরকারের নিয়োগ দেওয়াই যৌক্তিক। সরকারি কর্ম কমিশন এমনকি অনেক বেশি স্পর্শকাতর নির্বাচন কমিশনেও এ ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্ব সম্পাদনে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করছে বলে জানা যায় না।
পরিশেষে, দুর্নীতি দমনের মূল দায়িত্ব সরকারের। দুদক সরকারের এ দায়িত্ব পালনের জন্য গঠিত একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। এ সংস্থাটিকে জনবল, অর্থ, আইনি লড়াইসহ সব বিষয়ে সামগ্রিক ও পক্ষপাতহীন সহায়তা দেওয়া সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। দুর্বলকে রক্ষা ও দুর্জনকে আঘাত হানা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই আবশ্যক। গণতন্ত্রের ভিতকে মজবুত করতে হলে এর বিকল্প নেই। দুদকও কেন সংসদীয় কমিটির আহ্বানকে অগ্রাহ্য করে গণতান্ত্রিক সরকারের সূচনাতেই একটি বৈরী পরিবেশ টেনে আনল তা বোধগম্য নয়। সংসদ ও সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া কি প্রতিষ্ঠানটি তার কার্যকারিতা ধরে রাখতে পারবে? দুদক সয়ম্ভূ নয় এবং এর অসীম ও নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতাও আবশ্যক নয়। ভারতের দৃষ্টান্ত তারা দেখে নিতে পারে। আর সরকার দুদককে দুর্বল করলে প্রকারান্তরে সরকারই দুর্বল হয়ে যাবে, এটা বিশেষ বিবেচনায় রাখতে হবে। খসড়া সংশোধনীগুলো চূড়ান্ত বিবেচনার সময় তাই যথেষ্ট যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সতর্কতা আবশ্যক। দুর্নীতি রোধে সিভিল সমাজের মতামত এবং উন্নয়ন-সহযোগীদের দাবি যথেষ্ট সংবেদনশীল বলে এটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা আবশ্যক। সরকার যদি তার সব শক্তি নিয়ে দুদকের পাশে না থাকে, তবে একে আইন দ্বারা আরও শক্তিশালী করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক কেবিনেট সচিব।

দালাই লামা বললেন তিনি মার্ক্সবাদী

তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা বলেছেন, তিনি একজন মার্ক্সবাদী। তবে একই সঙ্গে কমিউনিস্ট চীনে নতুন ধরনের স্বাধীনতার স্বাদ এনে দেওয়ার কৃতিত্ব দিয়েছেন পুঁজিবাদকে। গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে পৌঁছে তিনি এ কথা বলেন। কয়েকটি বক্তৃতা দেওয়ার জন্য তিনি সেখানে গেছেন।
দালাই লামা বলেন, ‘আমি এখনো একজন মার্ক্সবাদী। মার্ক্সবাদের নৈতিক ভিত্তি রয়েছে, অন্যদিকে পুঁজিবাদ মানে শুধু কীভাবে আপনি মুনাফা করবেন।’ তবে চীন সরকারের পুঁজিবাদীব্যবস্থাকে গ্রহণ করার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন তিনি।
আধ্যাত্মিক এই নেতা বলেন, পুঁজিবাদ চীনে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে চীনের শাসক কমিউনিস্ট পার্টি সব ধরনের শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তাঁর বিশ্বাস, পৃথিবী আরও একতাবদ্ধ হয়ে উঠছে।
দালাই লামা বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন, হাইতিতে ভূমিকম্পের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা, একসময়ের বর্ণবাদী দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কালো প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার বিজয়—এসব ঘটনা প্রমাণ করছে বিশ্ববাসী আরও পরিণত হয়ে উঠেছে। মানব সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি একক পরিচয়ে পরিচিত হয়ে ওঠার আকুতি অনুভব করছেন তিনি। কাল রোববার পর্যন্ত নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সাধারণ জনগণের জন্য বেশ কয়েকটি বক্তৃতা দেবেন দালাই লামা।
চীন সম্পর্কে তিব্বতের নির্বাসিত এই নেতা বলেন, চীনের নাগরিকেরা যত ধনী হয়ে উঠবে তারা তত স্বাধীনতা চাইবে। তারা স্বাধীন বিচার বিভাগ চাইবে। তারা স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের দাবি জানাবে। চীনের সরকার ঐক্যের সুর শুনতে চায়। কিন্তু ঐক্যের সুর হূদয় থেকে আসতে হয়, ভয় থেকে নয়। এখন পর্যন্ত অবশ্য তারা জোর খাটিয়েই ঐক্যতান সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
বক্তৃতা অনুষ্ঠানের টিকিটের দাম ১০০ ডলার কেন জানতে চাইলে দালাই লামা বলেন, এই বক্তৃতা থেকে প্রাপ্ত অর্থ তাঁর ব্যক্তিগত কোষাগারে যায় না। এ ব্যাপারে তিনি আয়োজকদের প্রশ্ন করতে বলেন।
টুইটারে দালাই লামা: সামাজিক নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইট টুইটারের মাধ্যমে গতকাল শুক্রবার প্রথমবারের মতো চীনা জনগণের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করার কথা নির্বাসিত তিব্বতি নেতা দালাই লামার।

‘উত্তর কোরিয়াকে পরিণাম ভোগ করতে হবে’

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়ে অমার্জনীয় অপরাধ করেছে উত্তর কোরিয়া। এ জন্য উত্তর কোরিয়াকে পরিণাম ভোগ করতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীহিলারি ক্লিনটন এ কথা বলেন।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সাধারণ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। ওয়াশিংটন গত বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম তায়ে ইয়ং গতকাল শুক্রবার সিউলে বিদেশি সাংবাদিকদের বলেন, এ হামলার মূল্য পিয়ংইয়ংকে দিতেই হবে।
পীতসাগরের দুই কোরিয়ার বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় গত ২৬ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়। এতে ৪৬ জন নাবিকের প্রাণহানি ঘটে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও সুইডেনের বিশেষজ্ঞরা মিলে তদন্ত করেন। গত বৃহস্পতিবার এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার ডুবোজাহাজ থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতেই জাহাজটি ডুবে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা টর্পেডোর অংশবিশেষের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার টর্পেডোর হুবহু মিল পাওয়া গেছে।
হিলারি বলেন, এটা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া টর্পেডোর আঘাতেই দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ ডুবেছে। এ ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার জন্য পরিণতি শুভ হবে না। গতকাল শুক্রবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ডেনিস ব্লেয়ার। দীর্ঘ সময়ের কানাঘুষার অবসান ঘটিয়ে তিনি গত বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন।
গত ২৫ ডিসেম্বর আল-কায়েদার সঙ্গে একটি দল মার্কিন যাত্রীবাহী বিমানে হামলার পরিকল্পনা ও নভেম্বরের ফোর্টহুডে গণহত্যাসহ সর্বশেষ টাইমস স্কয়ারে বোমা হামলা প্রচেষ্টার ঘটনায় ব্লেয়ার দেশটিতে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন। তবে কোনো কোনো রিপাবলিকান অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের নিরাপত্তাবিষয়ক বড় ধরনের ত্রুটি ঢাকতে ব্লেয়ারকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বার্তায় ব্লেয়ারের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক হিসেবে তাঁর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তবে নাম না প্রকাশের শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইতিমধ্যে ব্লেয়ারের পদের জন্য কয়েকজন শক্ত প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ওবামা।

ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় লুলা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ইরানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তেহরানসহ কয়েকটি দেশ সফর শেষে দেশে ফিরে তিনি গত বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসার সুরে বলেন, ‘সংবাদপত্রের কলাম লেখকেরা লিখছেন, ইরানের ব্যাপারে ব্রাজিলের মধ্যস্থতা করার কিছু নেই।’ একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু কে বলেছে, ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়?’ খবর এএফপির।
তিনি বলেন, ‘প্রকৃত সত্য হলো, ইরানকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যে তারা শয়তান এবং আলোচনায় বসতে চায় না।’
লুলা বলেন, প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, ইরান আলোচনার টেবিলে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে একটি চুক্তির লক্ষ্যে তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সঙ্গে লুলা ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের বৈঠকের তিন দিন পর ব্রাসিলিয়ায় ফিরে তিনি সাংবাদিকদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যদেশ ব্রাজিল ও তুরস্ক নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে।

মাদ্রিদ বোমা হামলার ঘটনায় তিনজনের হাজার বছর করে কারাদণ্ড

স্পেনের একটি আদালত মাদ্রিদ বোমা হামলার ঘটনায় বাস্ক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ইটিএর তিনজন সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। হত্যা, হত্যার চেষ্টা ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে আদালত তাঁদের প্রত্যেককে এক হাজার ৪০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার স্পেনের ন্যাশনাল কোর্টে এ রায় দেওয়া হয়।
২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর মাদ্রিদের বারাজাস বিমানবন্দরে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে দুজন ইকুয়েডর প্রবাসী নিহত এবং ৪১ জন আহত হন

গোর্খা নেতা তামাং নিহত

দার্জিলিংয়ে গোর্খা নেতা ও নিখিল ভারত গোর্খা লিগের (এবিজিএল) সভাপতি মদন তামাং ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, গতকাল শুক্রবার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার ( জিজেএম) সমর্থকদের ছুরিকাঘাতে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং শহরে তিনি নিহত হন।
কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় সকাল নয়টা ৩০ মিনিটে তামাং ধারালো ছুরির আঘাতে আহত হন। দার্জিলিংয়ের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
রাজ্যের পৌরবিষয়ক মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য জিজেএমকে ফ্যাসিস্ট দল উল্লেখ করে বলেন, দার্জিলিংয়ের পার্বত্য অঞ্চলে তারা বিরোধী দল দেখতে চায় না। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় পার্বত্য অঞ্চলে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এদিকে তামাংয়ের হত্যার ঘটনায় দার্জিলিংয়ের উত্তেজনা দেখা দেয়। সড়কগুলো ফাঁকা হয়ে যায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ডেনিস ব্লেয়ার। দীর্ঘ সময়ের কানাঘুষার অবসান ঘটিয়ে তিনি গত বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন।
গত ২৫ ডিসেম্বর আল-কায়েদার সঙ্গে একটি দল মার্কিন যাত্রীবাহী বিমানে হামলার পরিকল্পনা ও নভেম্বরের ফোর্টহুডে গণহত্যাসহ সর্বশেষ টাইমস স্কয়ারে বোমা হামলা প্রচেষ্টার ঘটনায় ব্লেয়ার দেশটিতে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন। তবে কোনো কোনো রিপাবলিকান অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের নিরাপত্তাবিষয়ক বড় ধরনের ত্রুটি ঢাকতে ব্লেয়ারকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বার্তায় ব্লেয়ারের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক হিসেবে তাঁর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তবে নাম না প্রকাশের শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইতিমধ্যে ব্লেয়ারের পদের জন্য কয়েকজন শক্ত প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ওবামা।

করাচি থমথমে, সহিংসতায় আরও পাঁচজন নিহত

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচির অবস্থা এখন থমথমে। লাগাতার সহিংসতায় ভয় আর আতঙ্কের শহরে পরিণত হয়েছে এটি। বৃহস্পতিবার রাতে করাচির বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় আরও পাঁচজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজনৈতিক ও জাতিগত সহিংসতা শুরুর পর এ নিয়ে ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু ও পুলিশ সদস্যও আছেন। শহরে এখনো চোরাগোপ্তা হামলা চলছে। সহিংসতা রোধে করাচির বিভিন্ন স্থানে সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
করাচির পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে পার্ক কলোনি এলাকায় অজ্ঞাতনামা বন্দুকধারীরা গুলি করে একজন ট্যাক্সিচালককে হত্যা করে। বানারাস কোরাঙ্গি এলাকায় নিহত হয়েছেন তিনজন। আল-ফারাহ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও একজনের লাশ। এর আগে করাচিতে গত বুধবার জাতিগত সহিংসতায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হন। অজ্ঞাতনামা মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে তাঁদের অধিকাংশ প্রাণ হারান। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধেও বেশ কয়েকজন নিহত হন।
এদিকে সিন্ধুর প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী কাইম আলী শাহ শহরের আইনশৃঙ্খলা কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, দুষ্কৃতকারীরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে।
করাচি শহরের পুলিশপ্রধান ওয়াসিম আহমেদ বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো হানাহানির পথ পরিহার না করলে নিরাপত্তার জন্য নেওয়া কোনো পদক্ষেপই কাজে আসবে না। সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টের (এমকিউএম) অনেক সদস্য আছেন। তবে নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) সদস্য।
এমকিউএমের অধিকাংশ সদস্য হচ্ছেন উর্দুভাষী। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগের সময় তাঁরা ভারত থেকে পাকিস্তানের করাচিতে এসে বসবাস শুরু করেন। অন্যদিকে এএনপির সমর্থকেরা হচ্ছেন পাশতুন সম্প্রদায়ের সদস্য। এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে করাচিতে হরহামেশাই বন্দুকযুদ্ধ হয়ে থাকে। এ ছাড়া করাচিতে শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যেও মাঝেমধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়ে থাকে।
পাকিস্তানের বাণিজ্যিক নগর হিসেবে পরিচিত করাচিতে আল-কায়েদা ও তালেবানসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা কমে গেলেও সম্প্রতি জাতিগত সহিংসতা বেড়ে গেছে।
মা-বাবা ও মেয়েকে হত্যা : পাকিস্তানে বন্দুকধারীরা এক ব্রিটিশ দম্পতি ও তাঁদের এক মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেছে। পূর্বাঞ্চলীয় গুজরাট শহরে একটি কবরস্থানের কাছে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলেছে, পাকিস্তানের বংশোদ্ভূত মোহাম্মাদ ইউসুফ, তাঁর স্ত্রী পারভায়েজ ও তাঁদের ২২ বছরের মেয়ে তানিয়া ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ারে থাকেন। সম্প্রতি তাঁরা দেশে ফিরে আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করতে যান। সেখানে পাঁচ বন্দুকধারী তাঁদের গুলি করে হত্যা করে। পুলিশ বলেছে, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

মার্কিন অর্থনৈতিক সংস্কার বিল সিনেটে অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক খাত সংস্কারসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল সিনেটে অনুমোদিত হয়েছে। ঐতিহাসিক এ বিল অনুমোদনের ফলে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকের জন্য এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্থাপন করা হবে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিল অনুমোদনের বিষয়টি মার্কিনদের জন্য বিশাল বিজয় বলে অভিহিত করেছেন। খবর এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্সের।
তিরিশের দশকের অর্থনৈতিক মন্দার পর যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক খাত সংস্কারের ক্ষেত্রে এটাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। গত বৃহস্পতিবার সিনেটরদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের পর বিলটি ৫৯-৩৯ ভোটে অনুমোদিত হয়।
ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ওবামা আর্থিক খাত সংস্কারের অঙ্গীকার করেছিলেন। এ বিল অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ওবামার প্রশাসনের আরেকটি বিজয় হলো। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছে পাঠানো হবে। তবে ওবামার কাছে স্বাক্ষরের জন্য পাঠানোর আগে এ বিলটিকে গত ডিসেম্বরে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদিত হওয়া বিলটির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের আর্থিক সেবা খাতসংক্রান্ত কমিটির সভাপতি বার্নি ফ্র্যাঙ্ক সিএনবিসি টেলিভিশনকে বলেছেন, ‘সিনেটে বিলটি অনুমোদনের ব্যাপারে আমি আশাবাদী ছিলাম। আমি এখন নিশ্চিত, প্রেসিডেন্ট ওবামা আগামী ৪ জুলাইয়ের আগেই বিলটিতে সই করবেন।’
সিনেটে অনুমোদিত এ বিলটি আইনে পরিণত হলে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দেউলিয়া ঘোষণা হয়ে যাওয়ার মুখে অনেক বড় আকারের আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর করদাতাদের করের অর্থ থেকে ভর্তুকি পাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। তাছাড়া কঠোরভাবে ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বড় ব্যাংকগুলোর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা ও ঝুঁকি নেওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এই বিলে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তা-প্যাকেজ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সিনেটে এ বিলের ওপর ভোটাভুটির কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ওবামা হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আর্থিক খাতে সংস্কারসংক্রান্ত যে বিলে আমি সই করতে যাচ্ছি এর মাধ্যমে আসলে মুক্তবাজার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে এর মধ্য দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সঙ্গত বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংকগুলোকে শাস্তি দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং চরম বিপর্যয় থেকে মার্কিন অর্থনীতি ও জনগণকে রক্ষা করাই হলো আমাদের লক্ষ্য।’
প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর বক্তৃতায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি জানান, ‘এসব প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংস্কারসংক্রান্ত এ বিলটি ধ্বংস করার জন্য লবিস্ট (তদবিরকারী) নিয়োগ করেছে। বিলটির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার জন্য বিজ্ঞাপনের পেছনে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে। কিন্তু আজ নির্দ্বিধায় বলা যায়, তাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।’
ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটর হ্যারি রিড বলেছেন, ‘বিলটি ওয়াল স্ট্রিটকে এই বার্তাই দিয়েছে, সাধারণ মানুষের অর্থ আর নির্দয়ভাবে ওড়ানো যাবে না।’

পাকিস্তানি তালেবান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে

পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান কেবল ইসলামাবাদের সরকারকেই উৎখাতের চেষ্টা চালাচ্ছে না, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধেও তারা হামলা চালাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে পেন্টাগনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস এ কথা বলেন।
গেটস বলেন, ‘আমরা এখানে আরেকটি নতুন বিষয় দেখছে পাচ্ছি, তা হচ্ছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের বাইরেও হামলা চালাচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে চলছে ওদের হামলা।’ তিনি বলেন, ‘দেড় বছর আগে পাকিস্তানি তালেবান যখন ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হয়, তখনই ঘটনাটি আমাকে চিন্তায় ফেলে দেয়। তারা যে অস্তিমান বিপদ হয়ে দাঁড়াবে, এ ব্যাপারে সরকারের টনক নড়ার মতো ঘটনা ছিল ওটা।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সংগঠনটির তৎপরতা থামানো এখন আমাদের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়। পাকিস্তানের ভেতরে ও বাইরে, বিশেষ করে আমাদের ওপর তাদের হামলার চেষ্টা থামাতে হবে।’
এ সপ্তাহের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল (অব.) জেমস জোনস ও সিআইএর পরিচালক লিওন প্যানেটা ইসলামাবাদ সফর করেন। এ ব্যাপারে গেটস বলেন, ‘সেখানে তাঁদের আলোচনার মূল বিষয় যা ছিল বলে ধারণা করছি, তা হচ্ছে আমরা উভয়ে এখন যে হুমকির মোকাবিলা করছি, এ ব্যাপারে পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে বাড়ানো যায়।’
গেটস বলেন, ‘আমি যা মনে করি, সম্ভাব্য বোমা হামলাকারী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা নিবিড় হয়েছে। কাজেই এ ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তনের চেয়ে বেশি কিছু হয়েছে বলে আমি মনে করি।

পাকিস্তানি তালেবান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে

পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান কেবল ইসলামাবাদের সরকারকেই উৎখাতের চেষ্টা চালাচ্ছে না, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধেও তারা হামলা চালাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে পেন্টাগনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস এ কথা বলেন।
গেটস বলেন, ‘আমরা এখানে আরেকটি নতুন বিষয় দেখছে পাচ্ছি, তা হচ্ছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের বাইরেও হামলা চালাচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে চলছে ওদের হামলা।’ তিনি বলেন, ‘দেড় বছর আগে পাকিস্তানি তালেবান যখন ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হয়, তখনই ঘটনাটি আমাকে চিন্তায় ফেলে দেয়। তারা যে অস্তিমান বিপদ হয়ে দাঁড়াবে, এ ব্যাপারে সরকারের টনক নড়ার মতো ঘটনা ছিল ওটা।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সংগঠনটির তৎপরতা থামানো এখন আমাদের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়। পাকিস্তানের ভেতরে ও বাইরে, বিশেষ করে আমাদের ওপর তাদের হামলার চেষ্টা থামাতে হবে।’
এ সপ্তাহের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল (অব.) জেমস জোনস ও সিআইএর পরিচালক লিওন প্যানেটা ইসলামাবাদ সফর করেন। এ ব্যাপারে গেটস বলেন, ‘সেখানে তাঁদের আলোচনার মূল বিষয় যা ছিল বলে ধারণা করছি, তা হচ্ছে আমরা উভয়ে এখন যে হুমকির মোকাবিলা করছি, এ ব্যাপারে পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে বাড়ানো যায়।’
গেটস বলেন, ‘আমি যা মনে করি, সম্ভাব্য বোমা হামলাকারী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা নিবিড় হয়েছে। কাজেই এ ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তনের চেয়ে বেশি কিছু হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

ব্যাংকক শান্ত, তবে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক গতকাল শুক্রবার অনেকটা শান্ত হয়ে এসেছে। বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ শহর ছেড়ে গেছে। তবে, কট্টরপন্থী একটি অংশ এখনো সক্রিয় রয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী শিগগিরই এর নিয়ন্ত্রণ ব্যাংকক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া দাবি করেছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, বিক্ষোভ-পরবর্তী বর্তমান পরিস্থিতি সরকারের জন্য ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিক্ষোভ-পরবর্তী আলোচনায় সরকারের উচিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকেও যুক্ত করা।
গতকাল জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আপিসিত বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর জয় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে থাইল্যান্ডের একটি “সংকটজনক” অধ্যায়ের অবসান হলো। যত দ্রুত সম্ভব আমরা জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনব। এটা আমাদের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ। এর চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের মধ্যে যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠা।’
গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বিভিন্ন সময় হতাহতের ঘটনায় অনুশোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী আপিসিত। তবে, তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবেই অভিযান চালিয়েছে। বিক্ষোভ ও হতাহতের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আপিসিত বলেন, ‘আমরা একই বাড়ির বাসিন্দা। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় আমি সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল স্যানসার্ন কায়েকামনার্দ গতকাল বলেন, ‘ব্যাংককের বিভিন্ন হোটেল ও বড় বড় ভবনে অভিযান চালানো হচ্ছে। বিকেল তিনটার মধ্যে অভিযান শেষ হবে। সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ নিরাপত্তার দায়িত্ব ব্যাংকক কর্তৃপক্ষের কাছে ছেড়ে দেওয়া হবে। এর মধ্যে পানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহনব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’ তিনি জানান, ব্যাংকক কর্তৃপক্ষের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হলেও শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা চৌকিতে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে। ব্যাংককের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
গতকাল ব্যাংকক থেকে প্রায় তিন শ বিক্ষোভকারী ট্রেনে চড়ে উত্তরাঞ্চলের চিয়াং মাই শহরে ফেরেন। সেখানে অন্য বিক্ষোভকারীরা তাঁদের স্বাগত জানান। বিক্ষোভকারীরা জানান, এটা তাঁদের পরাজয় নয়। বিক্ষোভের জন্য নেতারা ডাকলে আবারও ব্যাংককে ফিরে যাবেন তাঁরা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের উচিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিনকেও আলোচনায় যুক্ত করা। এটা না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট ফর সাউথইস্ট এশিয়ান স্টাডিজের পাভিন চাচাভালপংপুন বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সরকার ভুল করেছে। একইভাবে সরকারের ওপর এভাবে চাপ সৃষ্টি করে ভুল করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন।

আফগানিস্তানের পথে বেকহাম

এখন তিনি থাকতে পারতেন ইংল্যান্ড দলের অনুশীলন শিবিরে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে ইনজুরিতে। তবে দেশের প্রতি দায়িত্বটা আরেকভাবে পূরণ করছেন ডেভিড বেকহাম, ব্রিটিশ সেনাদের মনোবল চাঙা করার জন্য যাচ্ছেন আফগানিস্তানে। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়কের সফরের কথা নিশ্চিত করেছেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা, কাল রাতেই আফগানিস্তানে পৌঁছে যাওয়ার কথা তাঁর।

পাকিস্তান ক্রিকেটে আবারও ঝড়

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্যই হয়তো কিছুদিন শান্ত ছিল। অস্ট্রেলিয়া সফরে ম্যাচ পাতানো, খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে সেই সময়ের কোচ ইন্তিখাব আলমের সমালোচনা, তদন্তের ভিডিও ফাঁস—হাজারো বিতর্কে বিশ্বকাপের পর আবার টালমাটাল পাকিস্তান ক্রিকেট। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি তাই অনুরোধ করেছেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সবকিছুর একটা সুরাহা করতে। তবে শিগগিরই আফ্রিদির চাওয়া পূরণ হবে বলে মনে হয় না। ম্যাচ পাতানো নিয়ে তদন্তে নেমেছে এবার আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা বিভাগ (এসিএসইউ)।
৫০ ওভারের বিশ্বকাপসহ সামনে অনেক খেলা। দলের স্বার্থেই তাই সব ঝামেলা দ্রুত মিটিয়ে ফেলার আর্তি আফ্রিদির, ‘এতসব অভিযোগ নিয়ে দলে এখন ভীষণ অনিশ্চয়তা। আমি এসব নিয়ে চিন্তিত, কারণ সামনে আমাদের ব্যস্ত সূচি, আর অতি-গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ তো আছেই। খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে এতসব অভিযোগ তোলা হলে তাদের কাছ থেকে সেরাটা পাওয়ার আশা আপনি করতে পারেন না।’ সতীর্থদের বিপক্ষে আফ্রিদির একমাত্র অভিযোগ ফিল্ডিং নিয়ে, ‘অনুশীলনে আমরা ভালোই করি। কিন্তু দলে এমন কয়েকজন ক্রিকেটার আছে, যারা ব্যাটিংয়ে ভালো করলে ফিল্ডিংয়ে আর মনোযোগ দেয় না, বাউন্ডারির কাছে দাঁড়িয়ে অটোগ্রাফ দেয় ও মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে। এমন কয়েকজনের ওপর আমার নজর আছে।’ ওয়েবসাইট।
খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে যাঁর অভিযোগের শেষ নেই, সেই ইন্তিখাবের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন আফ্রিদি, ‘পার্থের ওয়ানডেতে মোহাম্মদ ইউসুফের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় ইন্তিখাব আমাকে জানান ম্যাচ শুরুর মাত্র ৪০ মিনিট আগে। টস করতে যাওয়ার সময় আমাকে বললেন, যে করেই হোক টস জিততে হবে, না হলে ম্যাচ জেতা যাবে না। আমি বলেছিলাম, কোচের এমন মন্তব্য দলকে নিরুৎসাহী করবে।’ এদিকে আইসিসি দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রধান পল কনডন বৃহস্পতিবার লর্ডসে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে, বিশেষ করে সিডনি টেস্ট নিয়ে তদন্ত করছেন তাঁরা। তবে তাঁদের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই, তদন্ত চলছে অভিযোগগুলোর ভিত্তিতেই।

৩৫ কোটি ইউরো

মাঠে লড়বে ইন্টার মিলান ও বায়ার্ন মিউনিখ। আর মাঠের বাইরে ঝনঝন করে ঝরে পড়বে ইউরো-ডলার। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল কত টাকার জোগান দেবে ধারণা করতে পারেন? ইউরোপিয়ান অর্থনীতির এই মন্দার বাজারেও এই ম্যাচ থেকে আয় হবে ৩৫১.৫ মিলিয়ন ইউরো! বিস্ময়ের এখানেই শেষ নয়। টুর্নামেন্টের অন্যতম স্পনসর মাস্টারকার্ডের এক জরিপে জানা গেছে, রিয়াল মাদ্রিদের মাঠ বার্নাব্যুর এই ম্যাচটি উপভোগ করতে ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদ্রিদে ভিড় করবে ১ লাখ ২০ হাজার দর্শক! চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল, সূচি বদলে বুধবারের জায়গায় খেলাটা আনা হয়েছে শনিবার। দর্শক-জোয়ারের কারণ নাকি এটাই।

রিয়ালকে পাল্টা জবাব

দুজনের মধ্যে অনেক মিল। দুজনই নেদারল্যান্ডের। জন্মেছেন একই সালে। দুজনই একই সঙ্গে ২০০৭ সালে এসেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদে। দুই বছরে দুজনই একই সঙ্গে ‘বিতাড়িত’ হয়েছেন। সবচেয়ে বড় মিল বোধহয় এটাই, আজ চ্যাম্পিয়নস লিগে দুজনই ফিরছেন সেই বার্নাব্যুতে। ফিরছেন নিজ নিজ দলের সেরা খেলোয়াড়ের তকমা এঁটে। বায়ার্ন মিউনিখের আরিয়েন রোবেন আর ইন্টারের ওয়েসলি স্নাইডারের এ যেন রিয়ালকে পাল্টা জবাব!
‘মৌসুমের শুরুতে আমরা দুজনই মাদ্রিদে থেকে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে গেল। তাই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। সেখানে আবার ফিরতে পেরে দারুণ লাগছে’—বায়ার্নের ওয়েবসাইটে রোবেনের বার্তা। এর মধ্যে রিয়ালকে পাল্টা জবাব দেওয়া হলো কী করে? পরের কথাগুলো তাহলে পড়ুন, ‘রিয়ালের স্বপ্ন ছিল (আজকের) এই ফাইনালে নিজেদের মাঠে খেলার। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণ হয়নি। কিন্তু আমরা যে দুজনই চলে গিয়েছিলাম, নতুন ক্লাব খুঁজে নিয়েছিলাম, তারাই এখন এখানে, ফাইনালে!’
দুজনে খুব ভালো বন্ধুও। এই ম্যাচের আগেই যেমন দুজন দুজনকে শুভকামনা জানিয়েছেন। কিন্তু ম্যাচ শুরুর বাঁশি বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই দুজন ভুলে যাবেন বন্ধুত্ব। রোবেন স্বীকার করে নিলেন, ‘এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত আমরা দুজন যেভাবে খেলেছি, সেটা নিয়েই গর্ব করা যায়।’
তবে চোটের কারণে আজ নাও খেলা হতে পারে স্নাইডারের। রোবেন অবশ্য বলছেন, ‘ও অবশ্যই খেলবে। দরকার হলে ১০০টি ইনজেকশন নেবে, তার পরও খেলবে।

১ রানে জিতে সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার

আগের দিন জিতিয়েছিলেন ৫ উইকেট নিয়ে, রায়ান ম্যাকলারেন কাল দক্ষিণ আফ্রিকাকে জেতালেন শেষ ওভারে মাথা ঠান্ডা রেখে। জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। প্রথম বলে ড্যারেন স্যামি নিলেন ২ রান, পরের বলে ব্যাটের কানায় লেগে চার, তৃতীয় বলে ফিল্ডারদের ওভার থ্রোতে দৌড়ে চার। কিন্তু শেষ তিন বলে ম্যাকলারেন দিয়েছেন মাত্র ৩ রান, ১ রানে জিতে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা ২-০-তে হাতে পুরে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
অ্যান্টিগার স্যার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামের মন্থর উইকেটে পরশু ছিল রান-খরা। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮টি ছয় হলেও চার হয়েছে মাত্র ১০টি। ১৩তম ওভারেও দক্ষিণ আফ্রিকার রান ছিল ৫ উইকেটে ৫৯।
এখান থেকে ১২০ পর্যন্ত যেতে পারে তারা ‘এ’ দলের হয়ে কদিন আগে বাংলাদেশ সফরে আসা ডেভিড মিলারের ২৬ বলে ৩৩ ও ইয়োন বোথার ২২ বলে ২৩ রানের দুটি ইনিংসে। বোথা পরে বল হাতেও ৩ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। প্রথম ওভারেই ক্রিস গেইলকে হারানো স্বাগতিকেরা শুরু থেকেই খেলেছে ধীরগতিতে। ব্রাভোর ৪০ এসেছে ৪২ বলে, ৩৭ বলে ২৯ করেছেন চন্দরপল। শেষ দিকে স্যামি ৬ বলে ১২ রান করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১২০/৭ (মিলার ৩৩, বোথা ২৩, ডি ভিলিয়ার্স; টেলর ৩/১৪, স্যামি ২/১৬, বেন ১/২৬)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১১৯/৭ (ব্রাভো ৪০, চন্দরপল ২৯; বোথা ৩/২২, মরনে মরকেল ২/১৫, স্টেইন ১/১৮)।

আড়াই দিনে হার বাংলাদেশের

অপেক্ষা ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতার। বাংলাদেশের শেষ উইকেটটা পড়লে অল্প কটা রানের লক্ষ্য তুড়ি মেরে পেরিয়ে যাবে ইংল্যান্ড লায়ন্স। জহুরুল ইসলাম ও রুবেল হোসেনের শেষ উইকেট জুটির প্রতিরোধে তাদের খেলতে হলো লাঞ্চের পর আরও ৩ বল। তার পরও প্রস্তুতি ম্যাচটা আড়াই দিনে ৯ উইকেটে হারল বাংলাদেশ!
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ কোচ জেমি সিডন্স কাল ঘুরেফিরেই জহুরুলের প্রশংসা করলেন। ইংলিশ কন্ডিশনের প্রস্তুতি পর্বে ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল তো তিনিই! সারের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি দিয়ে শুরু, লায়ন্সের বিপক্ষে শেষ হলো অপরাজিত ৫৮ রানের ইনিংস দিয়ে। ৯ উইকেটে ১৩৯ রান করে আগের দিনের খেলা শেষ করলেও শেষ উইকেটে রুবেলের সঙ্গে তাঁর ৪০ রানের জুটিতেই দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ১৬১। এর মধ্যে ১০.৫ ওভারের ব্যাটিংয়ে কাল যোগ হয়েছে ২২ রান। তাতেও অবশ্য ম্যাচটা লাঞ্চের পর নিতে পারা ছাড়া আর কোনো লাভ হয়নি। বাংলাদেশের দেওয়া ৮৬ রানের টার্গেট ইংলিশরা পার হয়ে গেছে ১৬.৪ ওভারেই। এর মধ্যে তিনটা বল যে লাঞ্চের পরও হলো, সেটা জয় থেকে ১০ রান দূরে থাকতে আবদুর রাজ্জাক রবি বোপারাকে বোল্ড করতে পারলেন বলে। নইলে হয়তো লায়ন্সকে জিতিয়েই লাঞ্চে যেতেন আম্পায়াররা। লাঞ্চের পর প্রথম বলেই রাজ্জাককে লং অন দিয়ে ছক্কা মারার এক বল পর বাউন্ডারি দিয়ে মঈন আলীই করেছেন জয়সূচক রান।
আড়াই দিনেই ম্যাচ হেরে যাওয়ার দায় ব্যাটসম্যানদের। অথচ পরশু ১৩৯ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর নাকি ড্রেসিংরুমে জেমি সিডন্স খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন! কাল ডার্বি মাঠে প্রশ্নটা তুলতেই নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন কোচ, ‘গতকাল (গত পরশু) আমি এ কথা বলেছি। তবে তার আগের দিন কিন্তু এভাবে বলিনি। সেদিন আমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছি, এমন বাজে পারফরম্যান্সের পরিণতি কী হতে পারে। কিন্তু আমি যদি প্রতিদিনই তাদের চাপ দিতে থাকি তারা তো আর ক্রিকেটই খেলতে চাইবে না! কাউকে না-কাউকে এটা বলতেই হবে যে, “যা হওয়ার হয়েছে। এখন সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এটা নিয়ে ভেবো না। আমরা টেস্টে ভালো খেলতে চাই।’ আমি সেটাই করেছি।’
তাহলে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যাটিং-ব্যর্থতায় কোচের আসল প্রতিক্রিয়াটা কী? ‘খুবই খারাপ ব্যাটিং হয়েছে। এখানে কন্ডিশন অনেক বেশি বোলিং সহায়ক। ইংল্যান্ডে আসার আগে ফ্ল্যাট উইকেটে একটার পর একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে এসেছি আমরা, সেটিরও প্রভাব হয়তো পড়েছে। এই ব্যাটিংয়ে আমি খুশি নই।’ কোচ মনে করছেন, সুইং বল খেলতে পারার কৌশল না জানাটাই ব্যাটসম্যানদের মূল সমস্যা। তবে তিনি আশাবাদী, টেস্টে সবাই এ সমস্যা কাটিয়ে উঠবে। ‘সবার’ মধ্যে জলবসন্তে আক্রান্ত সাকিব আল হাসান থাকলেও তামিমের কথা জোর দিয়ে বলতে পারছেন না। হাতের ইনজুরি টেস্ট সিরিজে এই বাঁহাতির খেলাটাকে রেখেছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। যদি শেষ পর্যন্ত তামিম না-ই খেলতে পারেন, কোচের কাছে অনেক বড় ধাক্কা হবে সেটা, ‘গত তিনটি সিরিজেই তামিম রান করেছে। তার না থাকাটা অনেক বড় ক্ষতি। আর সাকিব তো অলরাউন্ডার। বোলিং-ব্যাটিং দুটোর জন্যই তাকে দরকার। বাংলাদেশে এই দুই খেলোয়াড়ের বিকল্প নেই। সাকিব হয়তো শেষ পর্যন্ত খেলবে, তামিমেরটা বলা যাচ্ছে না। তবে তাকে খেলানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’
সারে ও লায়ন্সের বিপক্ষে আড়াই দিনে ম্যাচ হারায় বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা নিয়ে আবারও ইংলিশ মিডিয়ার মাথাব্যথা শুরু হয়েছে। ২৭ মে লর্ডসে শুরু দুই টেস্টের সিরিজ তাই বড় এক পরীক্ষাই হবে বাংলাদেশের জন্য। তবে মিডিয়ার চেয়েও বাংলাদেশ কোচের কাছে বড় মনে হচ্ছে নিজেদের ওপর এমনিতেই জেঁকে বসা চাপটা, ‘চাপ তো আমাদের এমনিতেই আছে। আমরা নিজেদের ভালো দল হিসেবে প্রমাণ করতে চাই। আইসিসিকে জানাতে চাই, আমরা সত্যিকারের একটা টেস্ট দল। গত তিনটি টেস্ট সিরিজে আমরা সেটা প্রমাণও করেছি।’
এটা বাংলাদেশ কোচের মতামত। বাংলাদেশ সম্পর্কে লায়ন্সের ২১ বছর বয়সী পেসার ক্রিস ওকসের মন্তব্যটাও শুনুন, ‘ওদের ধৈর্য কম। এ ধরনের কন্ডিশনে কষ্ট করে রান করতে হয়। আমার মনে হয়, সে রকম ব্যাটিং করার মানসিকতার অভাব আছে ওদের।’

শেষ অঙ্ক আগামীকাল

ইউরোপীয় ফুটবলের মৌসুমটা একেবারেই শেষ অঙ্কে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন কেবল একটা শিরোপা নির্ধারণ হওয়াই বাকি—চ্যাম্পিয়নস লিগ। আগামীকাল রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে ইউরোপ-সেরার লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখ আর ইন্টার মিলান। জার্মান ক্লাবটি সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০০১ সালে, আর ইন্টার মিলানের জন্য অপেক্ষাটা ৪৫ বছরের!
কালকের ম্যাচে শিরোপার পাশাপাশি নির্ধারণ হয়ে যাবে আরও একটি বিষয়। এই দুই দেশের যে দল চ্যাম্পিয়ন হবে, সেই দেশ থেকেই ২০১১ চ্যাম্পিয়নস লিগে সরাসরি জায়গা পাবে চারটি ক্লাব।
গত পরশু ইউরোপীয় ফুটবলের আরেকটি শিরোপার ফয়সালা অবশ্য হয়েই গেছে। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে কিংস কাপ জিতেছে সেভিয়া। কদিন আগে ইউরোপা লিগ জেতা অ্যাটলেটিকোর তাই আর ‘ডাবল’ শিরোপা জেতা হলো না।
ডাবল নয়, ইন্টার আর বায়ার্ন দুই দলই তাকিয়ে আছে ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’-এর দিকে। এই দুই দলই লিগ আর কাপ দুটো শিরোপাই জিতে এসেছে। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগ তাদের জন্য শিরোপাত্রয়ী পূর্ণ করার সুযোগ। ইন্টার এর আগে ফাইনালেই উঠেছিল সর্বশেষ ১৯৭১-৭২ মৌসুমে। বায়ার্নের ২০০১ সালের শিরোপা জেতা ফাইনালটিও এখন পর্যন্ত তাদের সর্বশেষ ফাইনাল হয়ে আছে। অপেক্ষার হিসেবে দুই দলের মধ্যে তারতম্য আছে বটে, কিন্তু শিরোপা জেতার জন্য দুই দলই সমান উন্মুখ। তবে হোসে মরিনহো একটু বাড়তি তাগিদই অনুভব করছেন।
পোর্তোর হয়ে এই চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। এই চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে না পেরেই বিদায় নিতে হয়েছিল চেলসি থেকে। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হতে পারবেন কি না, তা হয়তো নির্ভর করবে এই চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার ওপরই। মরিনহো অবশ্য এমন হাবভাব করছেন, মাদ্রিদের বার্নাব্যু যেন এরই মধ্যে তাঁর নিজের মাঠ হয়ে গেছে। রিয়াল সমর্থকদের কাছে পুরো সমর্থনও চেয়ে রেখেছেন এই পর্তুগিজ কোচ। পাশাপাশি একরকম বিদায়ী অভিবাদন জানিয়ে রেখেছেন ইন্টারের সবাইকে, ‘আমি সবাইকেই ভালোবাসি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকে জান লড়িয়ে দিয়ে খেলেছে। গড়ে প্রতি তিন দিনে একটি করে ম্যাচ খেলার এই মৌসুমে সবাই যেভাবে খেলেছে, অবিশ্বাস্য।’
ম্যাচটা গুরু বনাম শিষ্যেরও লড়াই। লুই ফন গল বার্সেলোনার কোচ থাকার সময় তাঁর সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন মরিনহো। ফন গল অবশ্য এর পর নেদারল্যান্ড, আরও এক মেয়াদে বার্সেলোনা এবং এজেড আলকমারের দায়িত্ব পালন শেষে গত বছর চলে আসেন বায়ার্নে। প্রথম মৌসুমেই ট্রেবল জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে এই ডাচ কোচ। শিরোপা জিততে পারুন আর না-ই পারুন, জার্মান ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে আগাম জানিয়ে দিয়েছেন ফন গল।