Tuesday, February 17, 2026
দুই ইসরায়েলি নারী সেনাকে অতিরক্ষণশীল ইহুদি পুরুষদের তাড়া, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
বেনি ব্রাক শহরের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আবর্জনা ও উল্টে যাওয়া ডাস্টবিনে ভরা রাস্তার মধ্য দিয়ে ওই নারীরা দৌড়াচ্ছেন আর পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের চারপাশে সুরক্ষাবলয় তৈরি করছেন। এ ঘটনায় ২০ জনের বেশি রক্ষণশীল ইহুদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেসের (আইডিএফ) ওই নারী সেনারা সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বাধ্যতামূলক সমন দিতে এসেছেন—এমন ধারণা থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরায়েলে অধিকাংশ ইহুদি ইসরায়েলি নাগিরকদের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও অতি রক্ষণশীল ইহুদিরা দীর্ঘকাল ধরে এই নিয়ম থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন। এই নিয়মে সংস্কার আনার পদক্ষেপ নেওয়ায় অতিরক্ষণশীল ইহুদিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি একটি চরমপন্থী সংখ্যালঘু গোষ্ঠী। তারা পুরো হরেডি [অতিরক্ষণশীল] সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না।
নেতানিয়াহু আরও যোগ করেন, ‘আমরা অরাজকতা হতে দেব না। আইডিএফ সদস্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর যাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের ওপর কোনো আঘাত সহ্য করব না।’
ইহুদি ধর্মীয় নেতারাও এই অশান্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত বেনি ব্রাক শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ স্টান গ্রেনেড (শব্দ উৎপাদনকারী গ্রেনেড) ব্যবহার করেছে। এ ঘটনায় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় তিন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং পুলিশের বেশ কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি টহল গাড়ি উল্টে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান জানিয়েছে, ওই নারী সেনারা অন্য এক সেনার বাড়িতে দাপ্তরিক পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। ঠিক তখনই এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
বর্তমানে অতিরক্ষণশীল বা হরেডি জনসংখ্যা ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ।
গত বছরের শেষের দিকে অতিরক্ষণশীল ইসরায়েলিদের পক্ষ থেকে আয়োজিত বাধ্যতামূলক সামরিক সেবাবিরোধী বিক্ষোভে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল।
গাজা যুদ্ধের সময় এই সামরিক সেবার বিষয়টি আরও বেশি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি সরকার এখন এমন একটি আইন নিয়ে আলোচনা করছে, যার ফলে পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষায় যুক্ত নন এমন অতিরক্ষণশীল পুরুষদের সেনাবাহিনীতে কাজ করা বাধ্যতামূলক হবে।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধর্মীয় স্কুল বা ‘ইয়েশিভায়’ পূর্ণকালীন ছাত্রদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে আসছিল।
১০ বছরের বেশি সময় আগে ইসরায়েলের উচ্চ আদালত ওই অব্যাহতিকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছিলেন। গত বছর আদালত এ–সংক্রান্ত অস্থায়ী ব্যবস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন। ফলে ওই সম্প্রদায়ের মানুষের জন্যও এখন সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক।
গত সাত দশকে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যায় অতিরক্ষণশীলদের হার দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে এবং বর্তমানে তারা মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ।
ইসরায়েলের ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের (আইডিআই) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হরেডি বা অতিরক্ষণশীল সম্প্রদায়ের জন্মহার ইসরায়েলের গড় জন্মহারের চেয়ে অনেক বেশি (প্রতি নারীর প্রায় ৬ দশমিক ৪ সন্তান, যেখানে জাতীয় গড় প্রায় ২ দশমিক ৯)। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ হবে এই হরেডি সম্প্রদায়।
![]() |
| অতিরক্ষণশীল ইহুদি পুরুষেরা তাড়া করছেন দুই ইসরায়েলি নারী সেনাকে। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান যৌক্তিক -রিদওয়ানুল হকের অভিমত
প্রথমে একটি মৌলিক বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। সংসদীয় নির্বাচন হয়েছে সংবিধানের অধীনে। যে সংসদ গঠিত হয়েছে, তা বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই বৈধতা পেয়েছে। অন্যদিকে গণভোটে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো ছিল বহুমাত্রিক। কিছু বিষয়ে প্রায় সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। সেসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সংসদের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন বা সংশোধন করে বাস্তবায়ন করা তুলনামূলক সহজ।
কিন্তু যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো গণভোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় একটি নতুন প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। গণভোটে মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে বটে, কিন্তু সেই মতামত সংসদ কীভাবে বাস্তবায়ন করবে, তার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়।
সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের ভূমিকা আলাদা। সংসদের কাজ আইন প্রণয়ন করা। সংবিধান সংশোধনও সংসদের মাধ্যমেই হয়। যদি বর্তমান সংসদকে হঠাৎ করে একটি সংস্কার পরিষদে রূপান্তর করা হয়, তবে তার আইনি ভিত্তি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া এমন কোনো কাঠামো কার্যকর করা হলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
উদাহরণ হিসেবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব ধরা যেতে পারে। যদি সংবিধান সংশোধন করে বলা হয় যে ভবিষ্যৎ নির্বাচন থেকে দ্বিকক্ষব্যবস্থা কার্যকর হবে, তবে সেটি বৈধ প্রক্রিয়া। কিন্তু বর্তমান সংসদ গঠনের দিন থেকেই সেটি কার্যকর ঘোষণা করা হলে তা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজনৈতিক ঐকমত্য। একটি বড় দল ইতিমধ্যে জানিয়েছে যে সংস্কার পরিষদ গঠনের পদ্ধতিতে তাদের সরাসরি সম্মতি ছিল না। অন্যদিকে কিছু দল হুবহু জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে। এই বিভাজন সংসদের ভেতরেই একটি ভিন্নমত তৈরি করছে। গণতন্ত্রে মতভেদ অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা না থাকলে সেই মতভেদ অবিশ্বাসে রূপ নিতে পারে।
গণভোটের প্রশ্নেও একই কথা প্রযোজ্য। সাধারণত সংসদে আলোচনার পর কোনো বড় পরিবর্তনের জন্য গণভোট হয়। এবার প্রক্রিয়াটি উল্টো হয়েছে। প্রথমে আলোচনা, তারপর গণভোট, এরপর সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন। গণভোটে সমর্থন পাওয়া মানেই প্রতিটি প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে, এমন নয়। বিশেষ করে যখন প্রস্তাবগুলো বহুবিধ এবং জটিল। সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
আরও একটি মৌলিক নীতি মনে রাখা জরুরি। কোনো এক প্রজন্ম পরবর্তী প্রজন্মকে সাংবিধানিকভাবে সম্পূর্ণভাবে বেঁধে রাখতে পারে না। সংসদ সংবিধান সংশোধন করতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যৎ সংসদের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই যুক্তি থেকেই বিএনপির নোট অব ডিসেন্টকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত। একই সঙ্গে অন্য দলগুলোর দাবিও অগ্রাহ্য করা যায় না। সমাধান একটাই, সংসদে আলোচনা করা।
ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সংস্কার প্রশ্নে মতভেদ থাকলে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সম্পর্ক টানাপোড়েনে পড়তে পারে। কিন্তু ইতিবাচক দিকও আছে। প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ ও সংলাপের উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক। গণতন্ত্রে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে ধারাবাহিক চর্চার মাধ্যমে। তর্ক, আপস, সমঝোতা ও স্বচ্ছতা এই সংস্কৃতির ভিত্তি।
এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো সংসদকে কার্যকরভাবে কাজ শুরু করতে দেওয়া। অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, সহিংসতা রোধ এবং জনজীবনের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সংবিধান সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, কিন্তু সেটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নয়। বরং স্থিতিশীলতার ভিত মজবুত হলেই সংস্কার টেকসই হয়।
* রিদওয়ানুল হক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| রিদওয়ানুল হক। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানের কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনে নজরদারি
আব্রাহাম লিঙ্কন তিনটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এতে রয়েছে ৯০টি বিমান। এর মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং ৫৬৮০ জন ক্রু আছেন। জানুয়ারির শেষ দিকে এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হয় বলে জানা গেলেও এতদিন স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়নি। এখন এটি ওমান উপকূলের কাছে, ইরান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’কেও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যা আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।
গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির যে তথ্য পাওয়া গেছে, আব্রাহাম লিঙ্কনের অবস্থান তা আরও স্পষ্ট করেছে। বিবিসি ভেরিফিজ ওই অঞ্চলে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি নজরদারি করেছে। ইউরোপীয় সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইটের উন্মুক্ত চিত্রে দেখা গেছে, আব্রাহাম লিঙ্কন আরব সাগরে ওমান উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
জানুয়ারিতে ওই অঞ্চলে প্রবেশের পর থেকে এটি আর দেখা যায়নি। কারণ এটি উন্মুক্ত সমুদ্র অতিক্রম করছিল যেখানে স্যাটেলাইট কভারেজ সীমিত। স্থলভিত্তিক সামরিক সরঞ্জাম তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান। স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে ১২টি মার্কিন জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে- আব্রাহাম লিঙ্কন। এটি একটি নিমিটজ শ্রেণির পারমাণবিক শক্তি চালিত বিমানবাহী রণতরী। তিনটি আরলেই বারকি শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার, দুটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সক্ষম ডেস্ট্রয়ার, উপকূলীয় যুদ্ধে ব্যবহৃত তিনটি বিশেষায়িত জাহাজ (যা বাহরাইনের নৌঘাঁটিতে আছে), পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সৌদা বে’তে ঘাঁটির কাছে দুটি ডেস্ট্রয়ার ও লোহিত সাগরে আরও একটি ডেস্ট্রয়ার।
এছাড়া জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালটি ঘাঁটিতে এফ-৫ ও ইএ-১৮ যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে কার্গো বিমান, রিফুয়েলিং ও যোগাযোগ বিমানও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া কী?
৬ই ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড আব্রাহাম লিঙ্কনকে ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান ও কোস্টগার্ড জাহাজের সঙ্গে আরব সাগরে প্রদর্শনের ছবি প্রকাশ করে। একে শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখা হয়। এর জবাবে ইরানও শক্তি প্রদর্শন করেছে। সোমবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালীতে নৌ মহড়া চালায়। আইআরজিসি প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপোর বন্দরে নৌযান পরিদর্শন করেন এবং একটি জাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য প্রকাশিত হয়। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ও তেল পরিবহনের রুট। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এর মধ্যে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপও রয়েছে।
সামরিক গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ জাস্টিন ক্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক প্রস্তুতি ভেনেজুয়েলা বা গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময়কার প্রস্তুতির চেয়ে আরও গভীর ও টেকসই হতে পারে। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক কম বিমান ব্যবহার করেছিল। কারণ মূল ভূখণ্ড ও পুয়ের্তো রিকোর ঘাঁটি থেকে সহজেই বিমান পাঠানো সম্ভব ছিল। ভেনেজুয়েলার সামরিক সক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মতো শক্তিশালী সামরিক বাহিনীসম্পন্ন দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। তখন দুটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ, পাঁচটি ডেস্ট্রয়ার (ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরে) এবং উপসাগরে তিনটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে যুদ্ধবিমান ও রিফুয়েলিং বিমানও সরিয়ে নিয়েছিল। তবে ফোর্দো, ইস্ফাহান ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য ব্যবহৃত বি২ স্টেলথ বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল।
ট্রাম্প বলেন, বর্তমান সামরিক মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদিন প্রায় ৮০০টি আক্রমণ মিশন পরিচালনার সক্ষমতা দেবে, যার লক্ষ্য হবে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়াকে অকার্যকর করে দেয়া। তিনি আরও বলেন, আমরা যা দেখছি তা কেবল হামলার প্রস্তুতি নয়, বরং একটি বিস্তৃত প্রতিরোধমূলক মোতায়েন, যা প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানো বা কমানো সম্ভব। এটি ভেনেজুয়েলা বা মিডনাইট হ্যামারের সময়কার প্রস্তুতির চেয়ে বেশি গভীর ও টেকসই। এর উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘমেয়াদি মোকাবিলা এবং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্পদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব প্রতিক্রিয়া প্রতিহত করা।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে কি না, স্পষ্ট হয়নি
অবশ্য নবনির্বাচিতদের দুটি শপথের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিতরা আজ দুটি শপথ নেবেন।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এখন জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা। সে হিসেবে নির্বাচিতরা প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং এরপর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। কিন্তু বিএনপি থেকে নির্বাচিত ২০৯ জন সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে এই পরিষদ গঠন এবং সংবিধান সংস্কার কার্যক্রম ঝুলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আজ বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে শুরুতেই হোঁচট খাবে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম। এতে নতুন রাজনৈতিক সংকটও তৈরি হতে পারে।
বিএনপি মনে করে, বিদ্যমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কিছু নেই। বিদ্যমান সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে বিভিন্ন পদের শপথের বিষয়ে বলা আছে। সেখানে সংসদ সদস্যদের শপথের কথা আছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বিষয় নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনারেরও এ ধরনের শপথ পড়ানোর এখতিয়ার নেই।
গতকাল সোমবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে কথা বলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করা। সাংবিধানিকভাবে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার ‘অ্যাভেইলেবল’ না থাকলে বা অপারগ হলে বা তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি না থাকলে দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। সে হিসেবে মঙ্গলবার (আজ) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ হবে। এটা সিইসির সাংবিধানিক এখতিয়ার আছে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘এর বাইরে...সংবিধান সংস্কার পরিষদ, এটা যদি কনস্টিটিউশনে (সংবিধান) ধারণ হয়, সেই মর্মে অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন) হয় এবং সেই শপথ পরিচালনার জন্য সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ফরম হয়, কে শপথ পাঠ করাবেন, সেটা নির্ধারিত হয়—এতগুলো হয়-এর পরে, তারপরে হলে হতে পারে।’
গতকাল বিকেলে সংসদ সচিবালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আজ সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।
শপথ নেবে জামায়াত-এনসিপি
বিএনপির দিক থেকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা না হলেও জামায়াত ও এনসিপি জানিয়েছে, তাদের সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই সনদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সেই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট হয়েছে। মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। জামায়াত সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে।
গতকাল সন্ধ্যায় যমুনায় জুলাই সনদে সই করার পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আগামীকাল (আজ) শপথ গ্রহণ করবেন। আমরা একই সঙ্গে দুটো শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমাদের ওপর দেশের মানুষ যে আস্থা রেখেছে, আমরা তা বাস্তবায়ন করব।’
এদিকে গতকাল রাত নয়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া লিখেছেন, ‘“সংবিধান সংস্কার পরিষদ” সদস্য শপথ আগামীকাল (আজ) নির্ধারিত সময়েই হতে হবে। “সংবিধানে নেই” মর্মে যদি “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” সদস্য হিসেবে শপথ না নিতে চান, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথেরও কোনো মানে নেই। ২০২৬ সালে নির্বাচন কোন সংবিধানে ছিল জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ?’
পরে এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞদেরও মত নিয়েছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। শেষ পর্যন্ত গত বছরের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ’ জারি করেন। সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টিও রাখা হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রধান নির্বাহী ও সাবেক ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যমান সংবিধানে অনেক কিছুই নেই। যেভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে, সেটিও বর্তমান সংবিধানে নেই। তিনি মনে করেন, গত ১৫-১৬ বছরের স্বৈরশাসনের পর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে এসে এখন এসব বিতর্ক তৈরি করা অহেতুক। গণভোটে হ্যাঁ–এর পক্ষে মানুষ ভোট দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বিএনপি বিশালত্ব ও সমঝোতার মনোভাব দেখিয়ে সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে তাদের পদক্ষেপ নেবে, এটাই নাগরিক হিসেবে তিনি আশা করেন।
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে সংবিধান সংশোধন করা যায়। কিন্তু এবার নিয়মিত সংসদ নয়, সংবিধান সংস্কারে কাজ করবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ—এমনটি বলা হয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে।
দলগুলোর সঙ্গে সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় এ ধরনের একটি পরিষদ গঠনের বিষয়টি এসেছিল। তখন, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংবিধান-সম্পর্কিত যেসব সংস্কার প্রস্তাব জুলাই সনদে আছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে। নিয়মিত সংসদ সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ আছে। এভাবে সংবিধান সংশোধন করা হলে পরে এটি আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কিন্তু যদি আগামী সংসদকে সংবিধান সংস্কারের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে না। তবে ওই আলোচনায় বিএনপি এ ধরনের পরিষদ গঠনের প্রয়োজন নেই—এমন মত দিয়েছিল।
এ ছাড়া সনদ বাস্তবায়নে অধ্যাদেশ নয়, একটি আদেশ জারির প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি দল। অন্যদিকে বিএনপি এর বিপক্ষে ছিল। তারা বলেছিল, এ ধরনের আদেশ জারির কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
![]() |
| বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আগে নৌকার জন্য ভোট চাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন রবি চৌধুরী
বিএনপির চেয়ারম্যানকে জয়যুক্ত করার জন্যও অনুরোধ করেন তাঁরা। প্রচারের একপর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিল্পীরা। ভোট নিয়ে দলটির প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন মনির খান ও রিনা খানরা। এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশে অনেকটা আক্ষেপ নিয়ে সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী বলেন, ‘এখন ফেসবুক তো গরম হয়ে গেছে। সম্প্রতি আমি ও মনির খান ঠাকুরগাঁও জেলায় বিএনপির জন্য ভোট চাইতে গিয়েছিলাম। সেখানে অনেকেই প্রশ্ন তোলে আমাকে নিয়ে যে আমি নৌকার জন্য ভোট চেয়েছিলাম।’
এরপর রবি বলেন, ‘আমাকে দালাল বানাবেন না, আমি দালাল না। আমি কি কাজ করি, আমার এলাকায় গিয়ে দেখেন। গায়িকা মমতাজ আমাকে দাওয়াত দিয়েছিল। সে আমার সহশিল্পী। তার অনুরোধে তার মার্কার জন্য আমি ভোট চেয়েছি। এখানে আমি কারও দালালি করিনি। আমি গান গাইতে গিয়েছি। যেখানে টাকা দেবে, সেখানেই গান গাইব, সেটা যেই হোক।’
এ বিষয়ে প্রথম আলো আজ মঙ্গলবার দুপুরে কথা বলে রবি চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ২০০৩ সালে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী ছিলাম। মিয়ানমারে তখন আমি আর শাকিলা জাফর “কইলজার ভিতর গাঁথি রাইক্কুম তোঁয়ারে” গানটি গেয়েছি। তারেক রহমান সাহেবও সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন। তাঁকে আমি ব্যক্তিগতভাবেও চিনি। জানাশোনাও ভালো। মানুষের সঙ্গে মিশলে মানুষ সম্পর্কে জানা যায়। মেশার পর জেনেছি, তিনি ভদ্রলোক। আমি কিন্তু একটা সময় জাসাসের অনেক অনুষ্ঠানও করেছি। দলীয়ভাবে যদিও আমি কোনো পদপদবি নিইনি। তবে ওরা চেয়েছিল আমাকে বিএনপিতে রাখতে। গাজী মাজহারুল আনোয়ার ভাই ও হেলাল খানও আমাকে বারবার চেয়েছিলেন। বলেছি, দল করব না কিন্তু আপনাদের সমর্থনে আছি। আমি কিন্তু আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে ছিলাম না। নৌকার জন্য যে ভোট চেয়েছি, তা মমতাজ আমার সহকর্মী—সে অনুরোধ করেছে, সেখানে গিয়ে আমি তাঁর ভোট চেয়েছি। এখানে যদি মনির খানও বলে—আমি তার জন্যও ভোট চাইতে যাব। আমার অঙ্গনের অন্য কোনো সহকর্মী এক্স, ওয়াই জেড—যে–ই বলুক, তার জন্যও নামব। এখন চাই, জাতীয়তাবাদী দল ধানের শীষ বিজয়ী হোক।’
![]() |
| বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় রবি চৌধুরী, সঙ্গে মনির খানও। ছবি : শিল্পীর ফেসবুক থেকে |
মানুষ রাজনীতি করে কেন, সুবিধা নেওয়ার জন্য তো? এমপি হওয়ার জন্য, মন্ত্রী হওয়ার জন্য—কিন্তু আমার এ ধরনের কোনো লোভ নেই—উল্লেখ করে রবি চৌধুরী বলেন, ‘কোনো সুবিধা নেওয়ার জন্য ধানের শীষের প্রচারণা করছি না। আগের সরকারের আমলেও করিনি, এই সরকারের আমলেও না। শুধু দেশ বাঁচানোর জন্য ধানের শীষের জন্য প্রচারে নেমেছি।’
আগে নৌকার জন্য ভোট চেয়েছেন—এমন প্রসঙ্গ উঠতেই রবি চৌধুরী বললেন, ‘আগেই বলেছি, মমতাজ আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, এটা একান্তই তার অনুরোধে। আওয়ামী লীগের কোনো মিছিল–মিটিংয়ে গেছি কি না, সেটা কেউ আমাকে দেখাক। আমার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে নানান কথা লেখা হচ্ছে! তাদের বলতে চাই, একজন শিল্পী হিসেবে দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন শিল্পী হিসেবে আমাকে দাওয়াত দেন, যাওয়াটা আমারও দায়িত্ব। শিল্পী হিসেবে অন্যদের যেমন দাওয়াত দিয়েছেন, আমাকেও তাই। ওই দাওয়াতের কিছু ছবি এখন মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব এবং তারেক রহমান সাহেবের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে ভিউ পাওয়ার জন্য একটা গ্রুপ খবর ছড়াচ্ছে। এসব করছে ভিউ ব্যবসায়ীরা। স্পষ্টভাবে বলতে চাই, শিল্পী হিসেবে আমার দেশে যিনি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, তিনি যখন আমাকে সম্মান দিয়ে ডাকবেন—আমি অবশ্যই যাব। এই যাওয়াটা আমার দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও সম্মান দেখানো।’
টাকার জন্য শিল্পীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করে থাকেন। মমতাজের নির্বাচনী প্রচারণার অনুষ্ঠানেও টাকা পেয়েছেন বলে গান করেছেন রবি চৌধুরী—এমনটাই জানালেন। আর সেই অনুষ্ঠানে মমতাজের জন্য সবার কাছে ভোট চেয়েছেন তিনি।
রবি চৌধুরী বলেন, ‘মমতাজের অনুষ্ঠানে আমাকে টাকার বিনিময়ে নিয়ে গেছে। আমি সেখানে গান গেয়েছি। যারাই আমাকে টাকা দেবে, তাদের সঙ্গে যদি অন্যান্য শর্ত মেলে, তাহলে অবশ্যই গান গাইব। তা ছাড়া মমতাজ তো আমাদের বন্ধু, এটা তো অস্বীকার করতে পারব না। সে আমাদের খুব কাছের, আপনজন। আমরা সবাই তো তার বাসায় আড্ডা দিতাম। মনির খান, ওমর সানি, অপু বিশ্বাস থেকে শুরু করে অনেকে মমতাজের বাসায় দিনের পর দিন আড্ডা দিয়েছি। কারণ, আমরা শিল্পী পরিবার। এই পরিবারের কেউ যদি আওয়ামী লীগ করে, তাঁকে তো আমি ফেলে দিতে পারব না, অস্বীকার করতে পারব না। সে–ও এই দেশের নাগরিক, শিল্পী পরিবার—শিল্পী রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকবে, কিন্তু সরকারে যেই–ই থাকুক—শিল্পীর শিল্পকর্মটাই সরকারের বিবেচনায় রাখা উচিত।’
![]() |
| মমতাজের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় রবি চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ▼ 2026 (1279)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




