Wednesday, March 20, 2019

কষ্টার্জিত এ জয় কবে উদ্‌যাপন করবেন আসাদ? by অনিম আরাফাত

সিরিয়া যুদ্ধের গত ৮ বছরে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ তার সকল শত্রুকেই পরাজিত করেছেন। রাশিয়া ও ইরান অকৃত্রিম বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়ে আসাদকে শক্তপোক্তভাবে টিকিয়ে রেখেছে। সিরিয়া এখন তার নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। কিন্তু এরপরেও তিনি এ অর্জন উদযাপন করছেন না। গত মাসে তিনি তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের ভুলভাবে চিন্তা করলে চলবে না। আমরা মনে করছি যে, গত বছর যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। শুধু নাগরিকরাই নয়, সরকারি কর্মকর্তারাও তাই ভাবছেন। এরপরই আসাদ বলেন, এই ধরনের সুন্দর চিন্তা আমাদের মাথায় আসছে, মনে হচ্ছে জয় তো পেয়েছিই! কিন্তু না, যুদ্ধ এখনো বাকি আছে।
এখনো সিরিয়ার কিছু অংশে বিদেশি সেনারা অবস্থান করছে, তাদের হটাতে হবে। এর আগে আসাদ এই বাহিনীকে সিরিয়া থেকে হটানোকে যুদ্ধের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সিরিয়ার শহরগুলোতে গোলাগুলি হয়েছে সেই দিনগুলো এক বছরেরও অধিক সময় আগেই চলে গেছে। সিরিয়ানরা এখন স্বাধীনভাবে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। রাস্তাঘাটে কাজে বেরুচ্ছেন নারী-পুরুষ। সিরিয়ার চিরচেনা উদার পরিবেশ ফিরে আসছে। কিন্তু এর মধ্যেও পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর নিষেধাজ্ঞায় নানা সমস্যায় পড়ছে দামেস্ক। দেশটির অর্থনীতি ধ্বংসের এ চেষ্টা পুরোপুরি সফল না হলেও এর প্রভাব এড়াতে পারছেন না সিরিয়ানরা।
যুদ্ধে বাশার আল-আসাদের সব থেকে কাছের বন্ধু হিসেবে সব সময় পাশে ছিল ইরান ও রাশিয়া। দেশ দুটির সেনাবাহিনী নিজের রক্ত দিয়ে আসাদকে রক্ষা করেছে। প্রয়োজনে অর্থ সহযোগিতা করেছে। ধ্বংস হওয়া শহরগুলো পুনর্নির্মানে সহযোগিতা করছে। অপরদিকে আসাদকে সরাতে ব্যর্থ হওয়া পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো সিরিয়ার পাশে দাঁড়াবে না সেটাই স্বাভাবিক। আসাদের দৃষ্টিও এখন বাইরের দেশের সেনাদের সিরিয়া থেকে হটানো। আর এ জন্য তিনি আবারো পাশে পাচ্ছেন রাশিয়াকে।
রুশ সেনাদের সহযোগিতায় ২০১৮ সালে সিরিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বিজয় পেয়েছেন বাশার আল-আসাদ। দামেস্কের কাছেই অবস্থিত গৌতা নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। এর আগে কুনেইত্রা পুনরুদ্ধারও তার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কিন্তু এখনো উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রয়েছে তুরস্কের সেনারা। আবার উত্তর-পূর্বে রয়েছে মার্কিন সেনারা। এটিই আসাদের এখন প্রধান মাথা ব্যথার কারণ। গত বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি সিরিয়ায় অবস্থিত সকল মার্কিন সেনাদের দেশে ফিরিয়ে আনবেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একে স্বাগত জানিয়েছেন। ফলে আসাদের সামনে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনরুদ্ধারের। কিন্তু পরবর্তীতে কিছু মার্কিন সেনা অবস্থান করবে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে করে এ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিতে চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে আসাদের সামনে।
এদিকে আরব রাষ্ট্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে। সমপ্রতি কিছু রাষ্ট্র পুনরায় সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করলে তাদের পড়তে হয়েছে মার্কিন রোষানলে। ফলে সিরিয়ার আরব লীগে ফেরার যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল তাতে আবারো ভাটা পড়েছে।
সত্যিই বাশার আল-আসাদের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। তার ক্ষমতা এখন আর কোনো ঝুঁকির মধ্যে নেই। তবে এখনো তার সামনে রয়েছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাসহ অসংখ্য চ্যালেঞ্জ।
বাশার আল-আসাদকে প্রধানত ৪টি যুদ্ধ করতে হবে। প্রথমটি হলো সামরিক সংঘাত, যেটি সবাই জানে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার। তৃতীয়টি হচ্ছে অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলোর মতো সিরিয়ায় থাকা প্রচণ্ড দুর্নীতি। আর সর্বশেষ হচ্ছে তার বিরুদ্ধে চলা বিশ্বব্যাপী নানা প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে লড়াই করা। আসাদ ভালো করেই জানেন, এরকম একটি যুদ্ধের মধ্যে তার দেশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে সেখান থেকে পশ্চিমা দেশগুলো তাকে সহজে বের হতে দেবে না। আসাদ এ বিষয়ে বলেন, আমরা যদিও জয়লাভ করেছি কিন্তু আগ্রাসী রাষ্ট্রগুলো নিত্যনতুন কৌশল গ্রহণ করবে। তাই এখনই যুদ্ধের জয় পরাজয় নির্ধারণের সময় আসেনি। যেদিন সত্যিকার অর্থেই এসব যুদ্ধে জয়ী হবেন, সেদিনই এ জয় উদযাপন করবেন বাশার আল-আসাদ।

১৩ হাজার উইঘুরকে আটকের স্বীকারোক্তি চীনের

২০১৪ সাল থেকে জিনজিয়াং প্রদেশের প্রায় ১৩ হাজার উইঘুর মুসলিমকে আটকে রাখার কথা স্বীকার করেছে চীন। এর আগে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির জাতিগত বৈষম্য বিষয়ক সংস্থা জানায়, চীনে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে আটকে রাখা হয়েছে। উইঘুর প্রদেশকে কার্যত ‘বিশাল একটি বন্দিশিবিরে’ পরিণত করা হয়েছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে এ বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিলো বেইজিং। সোমবার চীন সরকারের এক শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে জিনজিয়াংয়ে প্রায় ১৩ হাজার ‘সন্ত্রাসী’কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
নির্বাসিত উইঘুরদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে চীন সরকারের এই শ্বেতপত্র প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্র দিলশাদ রক্ষিত এক বিবৃতিতে বলেন, চীন ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকৃত ঘটনাকে বিকৃত করছে।
বেইজিং বলছে, জিনজিয়াংয়ে জঙ্গিবাদের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে অবশ্য উইঘুর বন্দিশিবিরগুলোকে কারাগারগুলো হিসেবে স্বীকার করা হয় না। এসব বন্দিশিবিরকে ‘ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে দেশটি।
চীন সরকার বলছে, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত জিনজিয়াংয়ে তারা এক হজার ৫৮৮টি ‘সন্ত্রাসী গ্যাং’ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯৫ ‘সন্ত্রাসী’কে। এছাড়া দুই হাজার ৫২টি বিস্ফোরক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের জন্য ৩০ হাজার ৬৪৫ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে তিন লাখ ৪৫ হাজার ২২৯ কপি ধর্মীয় উপাদান বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে উইঘুরদের বসবাস চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে হলেও এটি মূলত তুর্কি বংশোদ্ভূত জাতিগোষ্ঠী। তাদের সংস্কৃতিতে আরবদের প্রভাব রয়েছে। এ জনগোষ্ঠীর বর্ণমালাও আরবি।
২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ভয়াবহ উইঘুর বন্দিশিবিরগুলোর কথা অস্বীকার করে আসছিল চীন। গত অক্টোবরে প্রথমবারের মতো এগুলোর অস্তিত্ব স্বীকার করে তারা। তবে বেইজিং-এর দাবি, ছোটখাটো অপরাধের জন্য আটক রেখে তাদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এতে বন্দিশিবিরগুলোকে ‘ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার’-হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
২০১৮ সালের আগস্টে জেনেভায় চীনের ওপর জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির দুই দিনের বিশেষ সভায় উঠে আসে চীনে উইঘুরদের বন্দিশিবিরে আটকে রাখার বিষয়টি। সভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির জাতিগত বৈষম্য বিষয়ক সংস্থা জানায়, চীনে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে আটকে রাখা হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ স্বায়ত্তশাসিত উইঘুর প্রদেশকে কার্যত ‘বিশাল একটি বন্দিশিবিরে’ পরিণত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে উইঘুরসহ অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের আটকের খবর সামনে আসছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোও জাতিসংঘের কাছে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দিয়েছে। এসব প্রতিবেদনে উইঘুর মুসলিমদের গণহারে আটকের অভিযোগ তোলা হয় চীনের বিরুদ্ধে। তবে চীন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
উইঘুর মুসলিম কারা?
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ উইঘুর মুসলিম। এই প্রদেশটি তিব্বতের মত স্বশাসিত একটি অঞ্চল। বিদেশি মিডিয়ার ওপর এখানে প্রবেশের ব্যাপারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু গত বেশ কয়েক ধরে বিভিন্ন সূত্রে খবর আসছে যে, সেখানে বসবাসরত উইঘুরসহ ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ব্যাপক হারে আটকের শিকার হচ্ছে।
চীনকে কেন অভিযুক্ত করা হচ্ছে?
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির কাছে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উইঘুর মুসলিমদের গণহারে ধরে বিভিন্ন বন্দিশিবিরে নেওয়া হচ্ছে। এরপর সেসব শিবিরে তাদের জোর করে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশে বাধ্য করা হচ্ছে।
নির্বাসিত উইঘুর মুসলিমদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস তাদের এক রিপোর্টে বলেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই উইঘুরদের আটক করা হচ্ছে। তাদের জোর করে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে স্লোগান দিতে বলা হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস জানিয়েছে, বন্দিদের ঠিকমত খাবার দেওয়া হয় না এবং নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। অধিকাংশ বন্দিকে দীর্ঘদিন আটকে রাখলেও তাদের অভিযুক্ত করা হয় না এবং কোনও আইনি সহায়তা নিতেও দেওয়া হয় না।
চীনের ভাষ্য
চীন সব সময় দাবি করে, দেশটিতে এ ধরনের কোনও বন্দিশিবিরের অস্তিত্ব নেই। গত এপ্রিলে মার্কিন একজন সিনিয়র কূটনীতিক ল্যরা স্টোন বলেছিলেন, ‘পুনঃশিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে’ লাখ লাখ মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তখন বলেছিলেন, ‘সবাই জানে এবং দেখে যে জিনজিয়াংয়ে সব জাতিগোষ্ঠী শান্তি ও সমৃদ্ধির মাঝে পাশাপাশি বসবাস করছে।’ সূত্র: আল জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

ঢাকায় বায়ুদূষণের সময় বিপজ্জনক হারে বাড়ছে by ইফতেখার মাহমুদ

  • পরিবেশ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উপাত্ত বিশ্লেষণ।
  • দূষণকারী পদার্থ ছড়াচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজের কারণে।
  • দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই সরকারি।
  • দূষণ রোধে ব্যবস্থা নিতে কয়েকবার তাগিদ অধিদপ্তরের।
  • অধিদপ্তরের তাগিদে কেউই তেমন সাড়া দেয়নি।
গত বছর ১৯৭ দিন রাজধানীবাসী দূষিত বাতাসে ডুবেছিল। আগের বছরগুলোতে রাজধানীর বাতাস বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১২০ থেকে ১৬০ দিন দূষিত থাকত। অর্থাৎ ঢাকার বায়ুদূষণ সময়ের বিবেচনায়ও বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, রাজধানীর বাতাসে দ্রুত দূষণকারী পদার্থ ছড়িয়ে পড়ছে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজের কারণে। আর দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই সরকারি। পরিবেশ অধিদপ্তর এদের কয়েকবার চিঠি দিয়ে দায় সেরেছে। কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে, দূষণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পগুলো হলো মেট্রোরেল নির্মাণকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ (উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত), ২০ তলা নির্মাণাধীন জাতীয় রাজস্ব ভবন নির্মাণ কর্তৃপক্ষ, ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর এবং দক্ষিণ, ঢাকা ওয়াসা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল সম্প্রসারণ কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ২৪ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্মাণাধীন ১৪ তলা ভবন কর্তৃপক্ষ, ভূগর্ভস্থ কেব্‌ল লাইন প্রকল্প, ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর)–এর আগারগাঁও রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ১৪ তলা বিটিইবি ভবন-২ প্রকল্প, নির্মাণাধীন বিটিআরসি ভবন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নির্মাণাধীন ১৩ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প অন্যতম। দূষণ ছড়ানোর তালিকায় আছে বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত নির্মাণকাজও।
অধিদপ্তর এদের চিঠি দিয়ে দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। কিন্তু কেউই তেমন সাড়া দেয়নি। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় সভায় ডাকা হলেও বেশির ভাগ সংস্থা তাদের মাঝারি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে দায় সেরেছে। অনেকে তা–ও করেনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যে দেখা যায়, গত চার বছর ধারাবাহিকভাবে দূষণের সময় বা দিন বাড়ছে। সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত রাজধানীর বাতাস দূষিত থাকে। সবচেয়ে বেশি দূষণ থাকে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু দুই বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, মার্চ ও এপ্রিলের বাতাসও জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি মাসের মতো খারাপ থাকছে। এর আগে এপ্রিলে এসে বাতাসের মান মোটামুটি ভালো অবস্থায় ফিরত। কিন্তু গত বছরের এপ্রিল মাসেও রাজধানীর বাতাস খুবই খারাপ ছিল।
পরিবেশ গবেষক আতিক আহসানের একটি চলমান গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৪ সালে ১৬৫ দিন রাজধানীর বায়ু অস্বাস্থ্যকর থেকে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর ছিল। ২০১৫ সালে তা বেড়ে ১৭৩ দিন, ২০১৬ সালে ১২৯ দিন, ২০১৭ সালে ১৮৫ দিন ও ২০১৮ সালে ১৯৭ দিন ছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ঢাকার বায়ুর মান পরীক্ষা করা হচ্ছে।
প্রতিটি বড় প্রকল্পে দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক দুর্ভোগ এড়ানোর জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান তা ন্যূনতম পর্যায়েও মানছে না। ধুলা নিয়ন্ত্রণে ঠিকমতো পানি ছিটানো ও কর্মক্ষেত্রের চারপাশ ঘিরে রাখার কাজও করছে না তারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মহসীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চলতি মাসের শেষে বা সামনের মাসের শুরুতে সংশ্লিষ্ট সবগুলো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিবদের নিয়ে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায় নিয়ে আলোচনা করব।’ তিনি বলেন, ‘দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের সাতজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকার কথা। কিন্তু আছে একজন। দূষণ হচ্ছে রাজধানীর বিশাল এলাকাজুড়ে। চাইলেও আমরা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারছি না।’
তবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন–সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দেখেছি পরিবেশ অধিদপ্তর আগে দূষণকারীদের জরিমানা করত ও অভিযান পরিচালনা করত। বিদ্যমান আইন দিয়েই তা করা হতো। কিন্তু এখন দূষণ বাড়লেও অভিযান কতটুকু হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় আছে।’
এ ব্যাপারে পরিবেশসচিব বলেন, ‘এখন আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এত দিন আমাদের কোনো স্বতন্ত্র আইন ছিল না। আমরা একটা নতুন আইন তৈরি করছি, সেটি সংসদে অনুমোদন হলে আমরা এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারব।’
সাবের হোসেন চৌধুরী এ–ও বলেন, সবগুলো অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের দূষণ নিয়ন্ত্রণে আলাদা বাজেট বরাদ্দ থাকে। বেশির ভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই টাকা খরচ না করে একে মুনাফায় রূপান্তর করে। এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে।
রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় ১৩ মার্চ হাইকোর্ট হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আগামী ১০ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) তলব করেছেন আদালত। ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা পরিমাপ করে এবং দূষণ রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনও দিতে হবে ডিজিকে। আদালত বলেছেন, ‘বায়ুদূষণ রোধে নেওয়া পদক্ষেপ আমাদের হতাশ করেছে। আমরা ক্ষুব্ধ।...মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ যেসব এলাকায় চলছে, সেসব এলাকায় প্রচুর ধুলাবালি পরিবেশকে দূষিত করছে। আমাদের মেট্রোরেল প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে বায়ুদূষণ রোধও জরুরি। আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হলে এসব (বায়ুদূষণ) বন্ধ করতে হবে।’
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাবে, বিশ্বে বায়ুদূষণের কবলে থাকা রাজধানী শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। এই শহরের বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তু কণিকার (পার্টিকুলেট মেটার বা পিএম ২.৫) পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বেঁধে দেওয়া মাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি।
জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, বায়ুদূষণ যে একটি বড় বিষয় এবং তা নাগরিকদের জীবন বিপর্যস্ত করে তুলছে, সে ব্যাপারে সরকারি সংস্থাগুলোর কোনো চিন্তা আছে বলে মনে হয় না। দূষণকারীদের থামানো ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। এটা নাগরিকদের প্রতি বড় ধরনের অন্যায়।

‘খালেদা অসুস্থ আদালতে আসার আগেও বমি করেছেন’

নাইকো মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে কিনা জানতে চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী জবাবে  বলেছেন, মামলার যাবতীয় নথি পাওয়া গেলে অব্যাহতির আবেদন করা হবে। মঙ্গলবার নাইকো মামলার শুনানি শেষে খালেদা জিয়া তার আইনজীবীকে এ প্রশ্ন করেন। ওদিকে কুমিল্লার হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেয়া ছয় মাসের জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আগামী ২৫শে মার্চ আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার জজ আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে। নাইকো মামলার শুনানি শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন, ভীষণ অসুস্থ। আজকেও আদালতে আসার আগে তিনি বমি করেছেন। মাথা সোজা করে রাখতে পারছেন না।
মাথা হেলে যাচ্ছে। তার পায়ে ও হাঁটুতে ব্যথা রয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, এখন পর্যন্ত চিকিৎসাই পাচ্ছেন না তিনি। কোনো চিকিৎসকই আসেন নি। তার রক্ত নেয়া হয়নি।
মির্জা ফখরুল বলেন, উনি তো বলেছেন, পিজি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা হয় না। উনি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চেয়েছেন। কিন্তু সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমি মনে করি, যে মেডিকেল বোর্ড আছে সেখান থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে পাঠানো যেতে পারে। রক্ত পরীক্ষার জন্য নিতে পারেন। তিনি চাচ্ছেন রক্ত পরীক্ষা করা হোক। মঙ্গলবার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে নাইকো মামলার অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি পিছিয়ে আগামী ১লা এপ্রিল ধার্য করেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার নতুন এ দিন ধার্য করেন।
শুনানির আগে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে হুইলচেয়ারে করে খালেদা জিয়াকে এজলাস কক্ষে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ।
শুরুতে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মামলাটি চার্জ শুনানির জন্য আছে। খালেদা জিয়া ছাড়া সকল আসামির চার্জ শুনানি শেষ হয়েছে। গত তারিখে তারা চার্জ শুনানি করতে সময় নিয়েছেন। তারা শুরু করলে আমরা মামলাটির কার্যক্রম শেষ করতে পারবো।
এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জব্দ আলামতের অনুলিপি না থাকায় অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি পেছানোর জন্য আদালতের কাছে সময় চান। তিনি বলেন, আমরা আজ আদালতে দুটি দরখাস্ত দিয়েছি। বার বার আবেদন করেও মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে এ মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যেভাবেই সম্পৃক্ত করা হোক তার কাগজ আমাদের দেয়া হয়নি। আদালত আদেশ দেয়ার পরও অনুলিপি পাওয়া যায়নি। নথি ছাড়া প্রস্তুতি নিতে পারছি না।  আদালত বলেন, আবেদন তো নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
এ সময় মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, চার্জ শুনানি করতে আলামতের অনুলিপি লাগে? আর যেসব পেপার ছিল তা দিয়েছি। খালেদা জিয়া ছাড়া সবাই শুনানি শেষ করেছেন। চার্জ শুনানি হোক, চার্জ গঠন হওয়ার পর তারা ওই কাগজ পাবেন। তিনি বলেন, ১২ বছর ধরে মামলাটি চলছে। আইন অনুযায়ী চার্জ শুনানির আগে অব্যবহৃত কোনো কাগজপত্র সরবরাহ করা যায় না। মামলার বিচার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে তারা এসব অভিযোগ করছেন। 
তখন বিচারক আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, চার বছর ধরে চার্জ শুনানি চলছে। এতদিনেও আপনারা আবেদন করেননি কেন? আর যে আবেদন দিয়েছেন তা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আমি তো দেশের সর্বোচ্চ কোর্ট না, আমি সবকিছু করতে পারি না। মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা তৈরিতে গোঁজামিল আছে। সেজন্য তাদের কাগজপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ সময় বিচারক তার কাছে জানতে চান, তারা খালেদা জিয়ার পক্ষে চার্জ শুনানি করবেন কি-না। তখন মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, কাগজ পেলে আমরা শুনানি করবো। এরপর খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, এটা একটা গ্রাউন্ডলেস মামলা। কাগজগুলো পেলে আমরা দেখাবো। এজন্য শুনানি পেছানোর জন্য আবেদন করেন তিনি। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে সময় মঞ্জুর করে শেষ বারের মতো আগামী ১লা এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। এ সময় জব্দ করা আলামতের অনুলিপি চাওয়ার আবেদন নামঞ্জুর করেন।
আসামি মওদুদ আহমদের পক্ষে তার আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ বলেন, জার্মানিতে চিকিৎসাধীন আছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তার পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে। এ জন্য সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। মামলার অপর আসামি গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের পক্ষে তার আইনজীবী তাকে গাজীপুর কাশিমপুর কারাগার, নারায়ণগঞ্জ অথবা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আদালত এ বিষয়ে পরে আদেশ দেবেন বলে জানান।
শুনানি শেষে খালেদা জিয়া তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলীর কাছে জানতে চান-মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে কিনা? জবাবে তার আইনজীবীরা জানান, মামলার যাবতীয় কাগজপত্র পাওয়া গেলে অব্যাহতির আবেদন করা হবে।
গতকাল আদালতে সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলামসহ অন্য আসামিরা আদালতে হাজির ছিলেন।
আদালত কক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘক্ষণ আলাপ করেন। এরপর বেলা ১টা ১৫ মিনিটে খালেদা জিয়াকে এজলাস কক্ষ থেকে ফের কারাগারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
এক এগারোর  সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৯ই ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে গ্যাসচুক্তি করায় রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৮ সালের ৫ই মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন-সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
কুমিল্লার হত্যা মামলায় জামিন স্থগিতের আবেদন
ওদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় পেট্রোলবোমা মেরে বাসের আট যাত্রী হত্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া ছয় মাসের জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আগামী ২৫শে মার্চ আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার জজ আদালতে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করার বিষয়টি জানান।
গত ৬ই মার্চ কুমিল্লার হত্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মুজিবুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ।
২০১৫ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে দুষ্কৃতকারীদের ছোড়া পেট্রোলবোমায় আইকন পরিবহনের বাসের আট যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন আরো ২০ জন। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। হুকুমের আসামি করা হয় খালেদা জিয়াকে। পরে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফিরোজ হোসেন অধিকতর তদন্ত শেষে ৬৯ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।