Monday, December 1, 2014

মোরশেদ খানসহ কয়েকজনকে কানাডীয় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ by মোর্শেদ নোমান

নাইকোর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে করা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে দেশে ফিরে গেছে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) একটি দল। সাত দিনের সফরে এসে এ দলটি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান ও সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমানসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ঢাকার দ্বিতীয় বিশেষ জজ আদালতে সাক্ষ্য দেন আরসিএমপির কর্মকর্তা লয়েড ডগলাস স্কপ। কানাডায় নাইকো দুর্নীতি মামলার অনুসন্ধান করেন তিনি। নাইকোর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এ কে এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার ২৬ সাক্ষীর মধ্যে ৭ নম্বর সাক্ষী ডগলাস স্কপ। এ কে এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন দুদকের তৎকালীন পরিচালক সাহিদুর রহমান। কানাডার নাইকো রিসোর্সেস লিমিটেডের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি, রেজিস্ট্রেশন বাবদ ২৩ হাজার ৮০৫ টাকা এবং কানাডা ও আমেরিকা ভ্রমণ বাবদ পাঁচ লাখ কানাডিয়ান ডলার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
২৭ নভেম্বর বুধবার লয়েড ডগলাস স্কপসহ তাঁর অন্য তিন সহকর্মী দেশে ফিরে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২১ নভেম্বর বাংলাদেশে আসার পর আরসিএমপির দলটি এম মোরশেদ খান ও মাহমুদুর রহমানসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ধারণা করা হচ্ছে, নাইকো দুর্নীতি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাদেঁর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অন্য বিষয়ও থাকতে পারে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। অনেক গোপনীয়তা রক্ষা করে জিজ্ঞাসাবাদের কাজটি শেষ করা হয়। এ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউই মুখ খুলতে রাজি হননি। জানা গেছে, আরসিএমপির দলটি প্রয়োজনে আবারও বাংলাদেশে আসতে পারে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশে গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন ও তেল, গ্যাস আহরণে বহুজাতিক কোম্পানি নাইকোকে কাজ পাইয়ে দিতে বাংলাদেশে এসে লবিং, তদবির করেন কানাডার সাবেক সিনেটর ম্যাক হেরপ। ২০০৩ সালে ওই সফরের সময় তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান ও সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ তদন্ত করছে আরসিএমপি।
মাহমুদুর রহমান ও মোশাররফ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে গত জুলাই মাসে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে চিঠি পাঠায় আরসিএমপি। উভয় পক্ষের যোগাযোগ ও আলোচনা সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ে সাবেক দুই মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল কানাডার রয়্যাল পুলিশ। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের মৃত্যুর তথ্য না থাকায় তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের কথা আরসিএমপির চিঠিতে উল্লেখ ছিল বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, এর আগে ২০০৮ সালে নাইকো কেলেঙ্ককারির তদন্তে বাংলাদেশে এসে তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল কানাডার রয়্যাল পুলিশ।

শাহজালালে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

(শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২০ নভেম্বর ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে রামদা হাতে দুই কর্মী। ছবি: ফাইল ছবি) সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২০ নভেম্বর ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রলীগের এক কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হ​ওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রকৌশল ও চা–প্রযুক্তি (এফইটি) বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল হক এবং পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। পুলিশ ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে ছাত্রলীগের কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ও মেহেদীকে আটক করে জালালাবাদ থানা পুলিশ। পরে তাঁদের ২০ নভেম্বরের সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তবে সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে সংঘর্ষে জড়ানো ছাত্রলীগের দুই পক্ষই দাবি করেছে, গ্রেপ্তার হওয়া কেউই তাদের কর্মী নন।
২০ নভেম্বর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে সুমন চন্দ্র দাস নামের ছাত্রলীগের এক কর্মী নিহত হন। ওই দিনই জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

বৃটেনে শিশুদের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম মুহাম্মদ

২০১৪ সালে অলিভার নামটিকে হঠিয়ে মুহাম্মদ নাম জনপ্রিয় নামের তালিকার শীর্ষ স্থান দখল করেছে। বৃটেনের একটি নতুন গবেষণা বলছে, বৃটিশ ছেলে শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম হচ্ছে মুহাম্মদ। বাবা-মা দের ওয়েবসাইট বেবি সেন্টার চলতি বছরের জন্য ছেলে শিশুদের জনপ্রিয় নামের যে তালিকা তৈরি করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে মুহাম্মদ নামটি শিশুদের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম হিসেবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। বেবি সেন্টারকে উদ্ধৃত করে এই খবর দিয়েছে লন্ডনের দৈনিক পত্রিকা মেট্রো। গত বছর এই নামটির অবস্থান ছিল তালিকার ২৮ নম্বরে। চলতি বছর অলিভার নামটিকে হঠিয়ে মুহাম্মদ নামটি শীর্ষ স্থান দখল করেছে। পাশাপাশি ছেলেদের অন্যান্য জনপ্রিয় নাম হচ্ছে জ্যাক, নোয়া এবং জেকব। বেবি সেন্টার বলছে, ৫৬০০০ শিশু-জন্মের হিসেব অনুযায়ী ওমর, আলী এবং ইব্রাহীম - এই তিনটি নামও ছেলে শিশুদের ১০০ নামের তালিকায় রয়েছে। মেয়ে শিশুদের নামের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম হচ্ছে সোফিয়া। এর পর রয়েছে এমিলি, লিলি, অলিভিয়া ইত্যাদি নাম। মরিয়াম নামটিও চলতি বছর তালিকার ৩৫ নম্বরে উঠে এসেছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

পুরস্কার স্ত্রীকে উৎসর্গ করলেন মুশফিক

বউভাগ্য দারুণ যাচ্ছে মুশফিকের
জান্নাতুল কিফায়াতের সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের ইনিংস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ২৫ সেপ্টেম্বর। বিয়ের পর প্রথম সিরিজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। টেস্টে ৩-০ সিরিজ জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওয়ানডেতে নেতৃত্ব না থাকলেও সিরিজ–সেরা হয়েছেন মুশফিকই। স্ত্রী-ভাগ্য দারুণ যাচ্ছে। আর মুশফিকও সিরিজ–সেরার এই পুরস্কার উৎসর্গ করলেন স্ত্রীকেই। ওয়ানডে সিরিজে দুই ফিফটিতে রান ২১৩ করা মুশফিক আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘বিয়ের পর এটা প্রথম সিরিজ-সেরা পুরস্কার। এ জন্য এখন বেশি খুশি লাগছে। সিরিজ সেরার পুরস্কারটা বউকে উৎসর্গ করছি।’
সাফল্যের গল্পটাকে এভাবে ব্যাখ্যা দিলেন বাংলাদেশ দলের উইকেটরক্ষক, ‘অধিনায়ক থাকা অবস্থায়ও সিরিজ–সেরা হয়েছিলাম। অধিনায়ক থাকা বা না-থাকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের অনেক দায়িত্ব থাকে। যেহেতু ফর্মে ছিলাম, ফলে আমার দায়িত্ব ছিল দল যখন খারাপ করবে, তখনই ভালো করা। সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে।’
মুশফিক এখন টেস্টের অধিনায়ক। ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব ছেড়ে কি চাপ কমে গেছে? এটাও কি ভালো পারফর্ম করায় ভূমিকা রাখছে? মুশফিক দিলেন অন্য রকম উত্তর, ‘এ রকম কখনো কিছু মনে হয়নি। অধিনায়কত্ব অন্য বিষয়। আর যখন ব্যাটিংয়ে নামা হয় তখন চিন্তায় আসে না যে আমি অধিনায়ক, তাই ভালো খেলতে হবে। আমার মূল কাজ দলে অবদান রাখা। সেটাই ঠিকঠাক করতে চাই।’
মাশরাফি বিন মুর্তজার অধীনে খেলতে কেমন লাগছে মুশফিকের? বললেন, ‘অবশ্যই ভালো লাগছে। মাঠের বাইরে কিছু বিষয় আছে, যেমন—মিটিং-প্ল্যানিং। এবার সেগুলো করতে হয়নি। মাঠে মাশরাফি ভাইকে সহযোগিতা করেছি। আমাদের ৫-০ হয়েছে। অনেক ভালো লাগছে। সবকিছুর জন্যে ম্যাশকে ধন্যবাদ। তাঁর প্রশংসা পাওনা।’
সিরিজের প্রাপ্তি প্রসঙ্গে মুশফিক বললেন, ‘সারা বছরে অনেক ব্যর্থতা। সিরিজটা শুরু করে সেটা ধরে রাখা খুব কঠিন। সব মিলিয়ে ৮-০ (টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে) করা কিন্তু অনেক কঠিন ছিল। পাড়ার দলের সঙ্গে খেললেও এ রকম ফল করা সহজ নয়। পুরো সাফল্য দলের সবার। খুবই চাপের মধ্যে থেকে আমরা উতরে গেছি।’
বছরের শেষ অংশটা বাদে খুব একটা ভালো কাটেনি। আগামী বছরের পরিকল্পনা কী? মুশফিক বাস্তবতা মেনেই প্রত্যাশার কথা বললেন, ‘যতই ভালো খেলবেন ততই সামনের দিনগুলো চ্যালেঞ্জিং হবে। এ বছরটা অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। যে কটা ম্যাচ কাছাকাছি গিয়ে হেরেছি, সেগুলো সব বড় বড় দলের বিপক্ষে। ওখানেও আমাদের অনেক ভালো পারফরম্যান্স ছিল। সামনের বছর অনেক বড় দল আসবে। আমাদের হোম কন্ডিশনে খেলা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং হবে। আমরাও আত্মবিশ্বাসী। দল হিসেবে ও ব্যক্তিগতভাবে ভালো করতে পারি, বড় দলের বিপক্ষে ভালো করাটাও অসম্ভব নয়।’

ডিসেম্বরের পর আন্দোলন

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের পরেই আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া। বলেছেন, ৫ই জানুয়ারি দেশে কোন নির্বাচন হয়নি। নির্বাচন হলে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় কি করে? আমরা ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে সফল হয়েছি। আমাদের ডাকে মানুষ সাড়া দিয়েছিল, এবারও সাড়া দেবে। ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস, এ মাসে বিজয়ের কর্মসূচি পালন করব। ডিসেম্বরের পরপরই আমরা আন্দোলনে যাব। খুনি সরকারকে বিদায় করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করব। অবৈধ সরকারের সকল আইন বাতিল করব। আন্দোলনে সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়ব। রাতে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, বিদেশীদের এভাবে কেউ কথা বলে? সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা বিদেশী রাষ্ট্রদূতকে নিয়েও খারাপ ভাষায় কথা বলছেন। তারা বিএনপিকে গালি দিতে দিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এবার বিদেশীদেরও গালি দেয়া শুরু করেছেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেছেন।  নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। নির্বাচনকে কিভাবে ম্যানুপুলেট করে তা পরিস্কার করে বলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে আমরা জনগনকে আহ্বান জানিয়েছিলাম ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য। আমাদের আহ্বানে বেশিরভাগ রাজনৈতিদ দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। দেশের ৯৫ভাগ ভোটার ভোট কেন্দ্রে যায়নি। পিলখানা হত্যাকা-ের দিন ২৫শে ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, সেদিন ৫৭জন চৌকষ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৩জন নিহত হয়েছেন। আমরা সেদিনটিকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দাবি জানাচ্ছি।

সাত খুনের অভিেযাগপত্র দিতে বললেন আদালত

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত করছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডল। এ ঘটনায় র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ২৪ জনকে পৃথক দুটি হত্যা মামলায় নিয়মিত হাজিরার অংশ হিসেবে আজ সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় খুনের ঘটনার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার অভিযোগপত্র না দেওয়ার বিষয়টি আদালতে তোলা হলে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এইচ এম শফিকুল ইসলাম এ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা আদালতে বলেছি, সাতজনকে অপহরণের পর খুনের ঘটনার সাত মাস অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এখনো আদালতে অভিযোগপত্র দেয়নি। আমরা আদালতে এই বিষয়ে আবেদন জানালে শুনানি শেষে আদালত আগামী ২২ জানুয়ারি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।’
সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন, মামলার আসামিদের মধ্যে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠ কয়েক সহযোগীকে হাতকড়া পরানো ছাড়াই পুলিশ আদালতে হাজির করেছে। অন্য আসামিদের হাতকড়া পরানো ছিল। এ ব্যাপারে তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নির্দেশনা প্রার্থনা করেন। আদালত আগামী ২২ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন এ বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন বলে তিনি জানান।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে আইনজীবী চন্দন সরকারের মেয়ে জামাই বিজয় কুমার পাল একই থানায় আলাদা একটি হত্যা মামলা করেন।
সাত খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১ জন র‌্যাব সদস্যসহ ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জন র‌্যাব সদস্যসহ ১৩ জন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আর নয়জন র‌্যাব সদস্যসহ মোট ১৪ জন আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

লাশ চুরির শঙ্কায় শামারুখের কবরে পুলিশের পাহারা

কবর থেকে লাশ চুরির শঙ্কায় নারী চিকিৎসক শামারুখ মাহজাবিনের কবরে পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। গতকাল রোববার রাত থেকে যশোরের কারবালা কবরস্থানে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাতেই কবরস্থান এলাকা থেকে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, লাশ চুরির আশঙ্কা ও কবরস্থান এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারবালা কবরস্থানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করার জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন যশোর শহরের কাজীপাড়া কাঁঠালতলা এলাকার মো. বদরুদ্দোজা, কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার কামাল আরিফ ও খোলাডাঙ্গা এলাকার সুমন।
জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবীর জানান, নতুন করে ময়নাতদন্তের জন্যে বুধবার কবর থেকে শামারুখের লাশ তোলা হবে। সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যে তিন সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
শামারুখের বাবা নূরুল ইসলাম জানান, রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় করা শামারুখের হত্যা মামলাটি রোববার ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়।
ঢাকার ধানমন্ডিতে যশোর-৫ আসনের সরকারদলীয় সাবেক সাংসদ খান টিপু সুলতানের বাসায় গত ১৩ নভেম্বর শামারুখের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। শামারুখ সাংসদের পুত্রবধূ। এ ঘটনায় শামারুখের শ্বশুর খান টিপু সুলতান, তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক জেসমিন আরা, ছেলে হুমায়ুন সুলতানকে আসামি করে ওই দিন রাতেই ধানমন্ডি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শামারুখের বাবা মো. নুরুল ইসলামের করা মামলায় শামারুখকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পরে হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। অন্য দুই আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
২৩ নভেম্বর ধানমন্ডি থানায় পাঠানো ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শামারুখের মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যাজনিত’ বলে উল্লেখ করা হয়। পরদিন ময়নাতদন্তের ওই প্রতিবেদনের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে শামারুখের বাবা নূরুল ইসলাম লাশের পুনঃময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের কাছে আবেদন করেন। আদালত শামারুখের লাশ তুলে নতুন করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নিতে যশোরের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।

যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কেউ থামাতে পারবে না: আশরাফ

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপরাধীদের দণ্ড কেউ থামাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আজ সোমবার বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আয়োজিত ‘মুক্তিযোদ্ধা দিবস’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। অনেকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আশা করি সব রায় কার্যকর হবে। যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কেউ থামাতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘অনেক সময় মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধ করাটাই ছিল অপরাধ। এত বড় যুদ্ধ, এত বড় আত্মত্যাগ। অথচ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলে। এ দেশের স্বাধীনতা আলোচনা বা গোলটেবিলের মাধ্যমে আসেনি। পৃথিবীর খুব কম জাতিই আছে, যারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। নতুন প্রজন্মকে এ ইতিহাস জানাতে হবে।’
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে দুঃখ হয়। স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা শক্তিশালী। তারা দিনে দিনে শক্তি সঞ্চয় করছে। আর আমরা ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছি। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি, আমাদের কাজ হবে তরুণ প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানানো।’
এর আগে সৈয়দ আশরাফ জাতীয় পতাকা, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধা দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মুর্শেদ খান (বীর বিক্রম)। বক্তব্য দেন সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন, মহাসচিব মো. আলাউদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী, ঢাকা মহানগর কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আমির হোসেন মোল্লা প্রমুখ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এ পর্যন্ত ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন জামায়াতের সাবেক সদস্য আবুল কালাম আযাদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আলবদর কমান্ডার চৌধুরী মুঈনুদ্দিন ও আশরাফ উজ জামান খান, জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলী, ফরিদপুর নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র জাহিদ হোসেন খোকন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক হোসেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জন ট্রাইব্যুনালের রায়ে আর কাদের মোল্লা আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে কাদের মোল্লার। আর কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড আপিল বিভাগ বহাল রেখেছেন।

‘অনেক সময় মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধ করাটাই ছিল অপরাধ’ -সৈয়দ আশরাফ

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, অনেক সময় মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধ করাটাই ছিল অপরাধ। এত বড় যুদ্ধ, এত বড় আত্মত্যাগ। অথচ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলে। এ দেশের স্বাধীনতা আলোচনা বা গোলটেবিলের মাধ্যমে আসেনি। পৃথিবীর খুব কম জাতিই আছে, যারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। নতুন প্রজš§কে এ ইতিহাস জানাতে হবে। শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আজ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আয়োজিত ‘মুক্তিযোদ্ধা দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আজকে দুঃখ হয়। স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা শক্তিশালী। তারা দিনে দিনে শক্তি সঞ্চয় করছে। আর আমরা ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছি। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি আমাদের কাজ হবে তরুণ প্রজš§কে এই ইতিহাস জানানো। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায়ে দেয়া যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদ- কেউ থামাতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। অনেকের মৃত্যুদ- হয়েছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আশা করি সব রায় কার্যকর হবে। যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদ- কেউ থামাতে পারবে না। এর আগে সৈয়দ আশরাফ জাতীয় পতাকা, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধা দিবসের কর্মসূচির উদ্ধোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মুর্শেদ খান বীর বিক্রম। বক্তব্য রাখেন সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন, মহাসচিব মো. আলাউদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী, ঢাকা মহানগর কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আমির হোসেন মোল্লা প্রমুখ।

বাংলাদেশের যত ধবলধোলাই

(হাবিবুলের নেতৃত্বে কেনিয়াকে হারিয়ে প্রথমারের মতো ধবলধোলাই করার স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ফাইল ছবি) দুটো কারণ থাকতে পারে। এক, বাংলাদেশ এক রকম নিশ্চিত ছিল সিরিজটা ৫-০ ব্যবধানেই জিততে চলেছে। আর দুই, প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাইটা এখন আর বাড়তি কোনো উদ্দীপনা যোগ করে না। বাংলাদেশের কাছে প্রতিপক্ষকে বাংলাওয়াশের অভিজ্ঞতাটা যে নতুন নয়। আর এ কারণেই হয়তো সিরিজের শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেও ঠিক ততটা উল্লাস দেখাল না মাশরাফির দল। এটি বাংলাদেশের ১৬তম সিরিজ জয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশ এই ১৬ সিরিজের অর্ধেকেরও বেশি জিতেছে প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই করে। যদিও বেশির ভাগ ধবলধোলাই জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এর মধ্যে একটা নাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ থাকলেও সেটি ‘আসল’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছিল না। খেলোয়াড় বিদ্রোহের সুবাদে দ্বিতীয় সারির ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেয়ে তাদেরই মাঠে ধবলধোলাই করে এসেছিল বাংলাদেশ। তবে বাংলাওয়াশের সার্থক আনন্দ বাংলাদেশ দল পেয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। টানা দুটো হোম সিরিজে ব্ল্যাক ক্যাপদের ৪-০ ও ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রমাণ করেছে, কিউয়িদের বিপক্ষে প্রথম বাংলাওয়াশটা পড়ে পাওয়া কিছু ছিল না।
একসময় ক্রিকেট বিশ্বে পড়ে পড়ে মার খেয়েছে বাংলাদেশ। একসময় বাংলাদেশ ছিল ক্রিকেট বিশ্বের পুঁচকে এক দল। একসময় বাংলাদেশের কপালে জুটেছে অসহনীয় সব পরাজয়ের যন্ত্রণা। প্রতিপক্ষের হাতে ধবলধোলাই হওয়ার লজ্জা। সেই বাংলাদেশ এখন ক্রিকেট বিশ্বে ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বে পাঠিয়ে দিয়েছে এই বার্তা, পড়ে পড়ে মার খাওয়ার দিন শেষ। এই বাংলাদেশ অন্য রকম।
প্রতিপক্ষকেও ধবলধোলাইয়ের তীব্রতম যন্ত্রণা উপহার দেওয়াও তাই এখন বাংলাদেশের কাছে নতুন কিছু নয়। এ নিয়ে নয়বার প্রতিপক্ষকে যে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হাতে ধবলধোলাইয়ের প্রথম অভিজ্ঞতা হয়েছিল কেনিয়ার। ২০০৬ সালের মার্চে সেই সিরিজে নিজেদের মাঠে কেনিয়াকে চার ম্যাচের সব কটিতেই হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০৬ সালের আগস্টে কেনিয়ায় কেনিয়ার মাঠে গিয়ে ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ প্রমাণ করে দিয়েছিল, একসময় যে কেনিয়ার পিছু হাঁটত বাংলাদেশ, একসময় যে কেনিয়া আর বাংলাদেশ শক্তির বিচারে ছিল সমানে-সমান; তাদের পেছনে ফেলে যোজন যোজন এগিয়ে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট।
২০০৬ সালটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ছিল সুবর্ণ এক বছর। কারণ ওই বছরেই বাংলাদেশ তৃতীয়বারের মতো হোয়াইটওয়াশ করেছে প্রতিপক্ষকে। এবার বাংলাদেশের ধবলধোলাইয়ের শিকার জিম্বাবুয়ে। বছরের শেষ দিকে জিম্বাবুয়েকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশ জানিয়ে দিয়েছিল, জিম্বাবুয়েকেও পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দিন এখন আসন্ন। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের চতুর্থ হোয়াইটওয়াশের শিকার হয় স্কটল্যান্ড। এবারের সিরিজটি অবশ্য ছিল দুই ম্যাচের। এক বছরেই চার চারটি হোয়াইটওয়াশ! ভাবা যায়!
পরের ধবলধোলাইটি দিতে অবশ্য বাংলাদেশকে দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০০৮ সালের মার্চে বাংলাদেশে এসে আয়ারল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে হেরে যায়। ২০০৯ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দেশটির খেলোয়াড়-বিদ্রোহের সুবাদে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ আসে ক্যারিবীয় ক্রিকেট ঐতিহ্যকেই বধ করার। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেনি বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো অধিনায়কত্ব পাওয়া সাকিব আল হাসান সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রথমে টেস্টে, এরপর ওয়ানডেতেও ধবলধোলাই করে প্রতিপক্ষকে।
এত দিন বাংলাদেশের সবগুলো ধবলধোলাই ছিল তুলনামূলক দুর্বল বা সমশক্তির দলের বিপক্ষে। বাংলাদেশের চেয়ে কাগজে-কলমে ঢের এগিয়ে থাকা নিউজিল্যান্ডকে ২০১০ সালের অক্টোবরে ৪-০তে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। যেটি বিখ্যাত হয়ে যায় বাংলাওয়াশ নামে। সেই নিউজিল্যান্ডকেই ২০১৩ সালের শেষে আবারও বাংলা-ধোলাই দেয় বাংলাদেশ। বাঘের থাবায় ক্ষতবিক্ষত হয় কিউই পাখি। সেই অধ্যায়ে আজ যুক্ত হলো আরেকটি পর্ব।

চিরনিদ্রায় শায়িত শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী

শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা
দেশের বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী আজিমপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। বিকেল পৌনে পাঁচটায় তাঁকে শ্বশুর খান সাহেব বদরুদ্দীন আহমেদের কবরে দাফন করা হয়। বিকেল পৌনে চারটার দিকে তাঁর মরদেহ আজিমপুরের বাসভবন থেকে ছাপড়া মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত উচ্চাঙ্গসংগীতের চতুর্থ দিনে উদ্বোধনী পর্বে মাইকের সামনে ঢলে পড়েন কাইয়ুম চৌধুরী। দ্রুত তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু তার আগেই চিরতরে চলে যান তিনি। চিকিৎসক জানিয়েছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। রাতে তাঁর মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। সেখান থেকে আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে কাইয়ুম চৌধুরীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীরা এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে কাইয়ুম চৌধুরীরর ছেলেকে সান্ত্বনা দেন শিল্পী মুস্তফা মনোয়ার। এরপর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হোসেন ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নাল আবেদীন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল–আলম লেনিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ও দলের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম ও আনিসুল হক, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ প্রমুখ শ্রদ্ধা জানান। এরপর একে একে বিভিন্ন সংগঠন ও দেশের সর্বস্তরের মানুষ কাইয়ুম চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।  এর পরই জানাজার জন্য তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রমুখ। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় আজিমপুরে তাঁর বাসায়।
শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর জন্ম ১৯৩২ সালের ৯ মার্চ ফেনীতে। বাবা আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী কো-অপারেটিভ ব্যাংকের সহকারী রেজিস্ট্রার ছিলেন। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে ঘুরেছেন দেশের বহু জায়গা। সব সময় শিল্পী বলতেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মনের মধ্যে ছবি আঁকার ইচ্ছেটা তৈরি করে দিয়েছিলেন। আমৃত্যু ইচ্ছেটাকে লালন করে গেছেন, দারুণভাবে তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। ১৯৬০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ২৯ বার তিনি শিল্পকলা একাডেমী অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
বাংলাদেশের বইয়ের প্রচ্ছদের পালাবদলের অন্যতম রূপকার তিনি। ১৯৭৫ সালে ন্যাশনাল বুক সেন্টার আয়োজিত প্রচ্ছদ প্রদর্শনীতে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে প্রথম চিত্রকর্মের প্রদর্শনী করেন। এক সাক্ষাৎকারে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ছেলেবেলায় নিজের লাইব্রেরির যেসব বইয়ের প্রচ্ছদ নষ্ট হয়ে যেত, সেগুলো নতুন করে করতেন তিনি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম প্রচ্ছদ করেছেন ১৯৫৩-তে। ১৯৫৪ সালে গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অব আর্টস থেকে তিনি ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছবি আঁকতে ভালোবাসতেন তিনি। সবচেয়ে ভালোবাসতেন লুঙ্গি পরা মাথায় গামছা বাঁধা অস্ত্র হাতে মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি আঁকতে। বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে কৃষক-শ্রমিকসহ সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ তাঁকে বারবার আন্দোলিত করেছে। অবসরে গান শুনতেন, ধ্রুপদি গানের একনিষ্ঠ শ্রোতা ছিলেন। শুনতেন অতুল প্রসাদ। গুনগুন করে প্রায়ই গাইতেন কাজী নজরুল ইসলামের গান, ‘হারানো হিয়ার নিকুঞ্জপথে/ কুড়াই ঝরা ফুল একেলা আমি।’
প্রথম আলোর সঙ্গে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর ছিল ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। পত্রিকার মাস্টহেডও তাঁর করা। প্রথম আলোর প্রথম দিন থেকে আমৃত্যু নিবিড় ছিল এই যোগাযোগ। সারা জীবন কাজ করেছেন, একনিষ্ঠভাবে করেছেন শিল্পসাধনা। পেয়েছেন যশ, খ্যাতি আর অগুনতি মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা। কাজপাগল মানুষ ছিলেন তিনি। তাই বুঝি কাজ করতে করতেই চলে গেলেন। তবু জীবনের শেষ কথাটি আর বলা হলো না তাঁর।
শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, সুফিয়া কামাল পদক, শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও পদক পেয়েছেন।

রাজধানীতে ১১টি বাসে আগুন

অবরোধের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ১১টি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। দিনের বেলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছয়টি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর মহাখালী, আরামবাগ, পুরান ঢাকা, আব্দুল্লাহপুর, মৎস্য ভবন ও শান্তিনগর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। একের এক বাসে আগুনের ঘটনায় নগরীতে আকঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে সন্ধ্যার পর ধানমন্ডিস্থ বিচারপতি আবু তাহের মো:সা্ইফুর রহমানের ৭/এ -৯২/বি নম্বরের বাসায় ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটে।তিনি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা রীটের বিচারক। সন্ধ্যা ৭টা ১৭মিনিটে মহাখালী ফ্লাইওভারের নীচে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়া হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে সন্ধ্যার পরপরই ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে ভিক্টর পরিবহন নামে একটি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় দুইটি ও বনশ্রী ও নীলক্ষেতে দুটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। দুপুরে মৌচাক এলাকায় ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে দাড়ানো অবস্থায় একটি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বনশ্রী এলাকায় রবরব পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে মতিঝিল থানার পাশে একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বাফুফে ভবনের সামনে একটি থামানো বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বাসের হেলপার এ লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাপলা চত্বরের সামনে দিবানিশি পরিবহনের একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়।এসময় আশপাশের রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
 নীলক্ষেত এলাকায় দুপুর সোয়া দুটায় ১৩ নং রুটে চলাচলকারী নিউ সুপার সার্ভিস নামে একটি যাত্রীবাহি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দৃর্বৃত্তরা। এসময় লোকজন ছুটাছুটি করতে থাকে। মুহুর্তের মধ্যে রাস্তা ফাকা হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়।বিকেলে মৌচাক এলাকায় আরেকটি বাসে দেয়ার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার রাতে শান্তিনগর চৌরাস্তা মোড়ে তরঙ্গ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।  এতে বাস ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কিছু যাত্রী আহত হন।

সবাইকে গালি দেয় আওয়ামী লীগ: খালেদা

নিশা দেশাই সম্পর্কে সৈয়দ আশরাফের করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “বিএনপিকে গালি দিতে দিতে আওয়ামী লীগ এখন সবাইকে গালি দেয়।” সোমবার রাতে গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের বিজয়ের মাস উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন খালেদা। খালেদা বলেন, “আওয়ামী লীগের মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী কয়েকদিন আগে বিশ্ব ব্যাংককেও গালি দিয়েছিল।” বৈঠকে উপস্থিত আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

অস্ত্রসহ দুই যুবলীগ নেতা আটক : প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মুহুরীগঞ্জ এলাকা থেকে দুটি দেশীয় তৈরী এলজি, ৮ রাউন্ড কার্তুজ ও ৩ রাউন্ড রাইফের/এসএমজি’র গুলি এবং ১৫ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই যুবলীগ নেতাকে আটক করেছে র‌্যাব। সোমবার বিকেলে মুহুরীগঞ্জের ইকবাল ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক হায়াতুর নবী নয়ন ও যুবলীগ কর্মী রিয়াজকে আটক করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আধঘণ্টা অবরোধ করে রাখে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন।
র‌্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের কোম্পনী কমান্ডার মেজর আহম্মেদ হোসেন মহিউদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মুহুরীগঞ্জ এলাকা অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় দুটি দেশীয় তৈরী এলজি, ৮ রাউন্ড কার্তুজ ও ৩ রাউন্ড রাইফের/এসএমজি’র গুলি এবং ১৫ বোতল ফেনসিডিলসহ হায়াতুর নবী নয়ন ও রিয়াজকে আটক করে র‌্যাব। আটকের পর তাদের র‌্যাব-৭ ফেনী আঞ্চলিক ক্যাম্পে নিয়ে যায় র‌্যাব।
ঘোপাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক মানিক জানান, র‌্যাব অন্যায়ভাবে যুবলীগের দুই নেতাকে আটক করায় বিক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা সোমবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুহুরীগঞ্জ অংশে অবরোধ করে। এসময় র‌্যাবের সাথে গ্রামবাসির সংঘর্ষে আবিদা আক্তার, খুরশিদ আলম, নিজাম উদ্দিন ও সাহাব উদ্দিন আহত হয়।
মুহুরীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট জয়নাল আবেদীন জানান, মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে আধঘণ্টা পর যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে র‌্যাব বা পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর কোন ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

আমেরিকার কথায় চললে দেশ স্বাধীন হতো না: সুরঞ্জিত

(সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা শহরের বিএডিসি মাঠে আজ সোমবার আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ছবি: সুনামগঞ্জ অফিস) সাংসদ ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘আমেরিকার কথায় চললে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। বাংলার মানুষ তাদের সপ্তম নৌবহর দেখেছে। বাঙালিকে কেউ দমাতে পারেনি, কখনো পারবে না।’ আজ সোমবার সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এসব কথা বলেন। উপজেলা শহরের বিএডিসি মাঠে এই অনুষ্ঠান হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাইকে ‘বালিকা মন্ত্রী’ উল্লেখ করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘খালেদা জিয়া এখন নিশা দেশাইয়ের নেশায় মগ্ন হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এতে কোনো লাভ হবে না। দেশে অবশ্যই নির্বাচন হবে। আওয়ামী লীগ নির্বাচন চায়, তবে সেটি কারও কথায় নয়, নির্বাচন হবে সাংবিধানিকভাবে।’ জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধাদের ‘খুনি’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ’৭৫–পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান তেলে-জলে এক করতে চেয়েছিলেন। সেই থেকেই জিয়া বাংলাদেশে বিভক্তির রাজনীতি সৃষ্টি করে দেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করেন। খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের হাতে দেশের পতাকা তুলে দিয়ে দেশের স্বাধীনতাকে কলঙ্কিত করেছেন। এখন তাঁদের বাঁচাতে আন্দোলনে নেমেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ‘কম বয়সী নেতা’ হিসেবে মন্তব্য করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘সে গণ-অভ্যুত্থানের কথা বলছে। এর মানে সে কী জানে। গণ-অভ্যুত্থান দেশে একবারই হয়েছে, সেটা ’৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা করেছি।’ দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনের অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মতিউর রহমান, বর্তমান সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক, সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সাংসদ শামসুন্নাহার বেগম শাহানা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট, দিরাই উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় প্রমুখ।

পাঁচে পাঁচ বাংলাদেশ

(ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাইয়ের পর বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মুখে চওড়া হাসি। টেস্ট-ওয়ানডে সিরিজ জয়ের দুটো ট্রফি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুলে দিলেন খেলোয়াড়দের হাতে। ছবি: শামসুল হক) জিম্বাবুয়ের যত বড় স্কোর হওয়ার কথা ছিল, ততটা হলো না। বাংলাদেশেরও যত সহজে জেতার কথা ছিল, জেতাটা হলো না তত সহজে। ১২৯ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশ জিতল ৫ উইকেটে। শেষ পর্যন্ত টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজেও ধবলধোলাই হলো জিম্বাবুয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ধবলধোলাই করার স্মারক হিসেবে দুটো ট্রফি বুঝে নিলেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক আর ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি। সব মিলিয়ে ওয়ানডেতে এটি প্রতিপক্ষকে বাংলাদেশের নবম হোয়াইটওয়াশ। ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় দ্বিতীয়বারের মতো। আট বছর আগে দেশের মাটিতে এই জিম্বাবুয়েকেই সর্বশেষ ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক দেশের ১১৬ নম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটার তাইজুল ইসলাম। ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করেছেন এই বাঁ–হাতি স্পিনার। ৭ ওভার বোলিং করে মাত্র ১১ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। মূলত তাইজুলের বোলিংয়েই ১ উইকেটে ৯৫ থেকে হঠাৎ করেই পথ হারিয়ে জিম্বাবুয়ে অলআউট হয়েছে মাত্র ১২৮ রানে। জবাবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা বাংলাদেশ ৯৩ রানে হারিয়ে ফেলেছিল ৫ উইকেট। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ-সাব্বিরের ৩৫ বলে ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিটা জয়ের বন্দরে ভিড়িয়ে দেয় বাংলাদেশকে। ১০টি চারে ৫৫ বলে ৫১ রান করে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ।
শেষ ম্যাচে ‘কিছু একটা’ পাওয়ার আশায় মাঠে নেমেছিল জিম্বাবুয়ে। লড়াইটাও ভালোই করছিল। পঞ্চম ওভারে সিকান্দার রাজাকে তুলে নিয়েছিল অধিনায়ক মাশরাফি। সেখান থেকে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা আর ভুসি সিবান্দা দারুণ একটা জুটি গড়ে তোলেন। কিন্তু ৭৯ রানের এই জুটির আগে যেমন কিছু নেই, পরেও কিছু নেই। ৪৮ বলে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর পরই মাসাকাদজা (৫২) জুবায়েরের শিকার হয়ে ফিরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জিম্বাবুয়ের ইনিংসে ধস নামে। মাত্র ৩৩ রানে পড়ে যায় শেষ ৯ উইকেট।
শেষ নয় উইকেটের সাতটিই নেন তাইজুল আর সাকিব। তাইজুলের ৪ উইকেট এসেছে তাঁর মাত্র দুই ওভারে। এর মধ্যে ইনিংসের ২৭তম ওভারের শেষ দুই বল আর ২৯তম ওভারের প্রথম বলে ফেরান পানিয়াঙ্গারা, নিয়ম্বু আর চাতারাকে। ঢুকে যান ইতিহাসে।
২৮ রানে দুই ওপেনারকে হারানো বাংলাদেশের শুরুটাও ভালো হয়নি। এই ম্যাচেই আরেক অভিষিক্ত ক্রিকেটার সৌম্য সরকার চারটি চারে ১৮ বলে ২০ রান করে দলকে ফিরে আসার পথ দেখিয়ে নিজেই ফিরে যান। সিরিজের দ্বিতীয়বারের মতো সাকিব শূন্য রানে ফেরেন। পঞ্চম উইকেটে আবারও ভালো একটা জুটি গড়েন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু এই জুটি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে ভেড়াতে পারেনি। মুশফিক ১১ রান করে চাতারার তৃতীয় শিকার হয়ে ফিরলে ভাঙে ৩৫ রানের জুটিটা। কিন্তু জিম্বাবুয়েকে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয়নি মাহমুদউল্লাহ-সাব্বিরের জুটিটা। ২৪.৩ ওভারেই ৫-০ করে ফেলে বাংলাদেশ। ২১৩ রান করে সিরিজ–সেরা হন মুশফিক।

‘যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ত্যাগ করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, এদেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিন ১৯৬৯ সালে সে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শেখ মুজিব, আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনে। বাংলাদেশে আর গণঅভ্যুত্থানের সম্ভাবনা নেই। তিনি সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়ে নির্বাচন হবে উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ত্যাগ করে, নির্বাচনের জন্য প্রস্থুত হন। সোমবার দুপুরে বিএসির মাঠে সুনামগঞ্জ দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাশিনার নেতৃত্বে দিরাই-শাল্লাসহ সারা দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। তিনি আওয়ামী লীগকে গণতান্ত্রিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দল উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগ কখনও যুদ্ধাপরাধীর সঙ্গে আপোষ করেনি, বঙ্গবন্ধুই জয়বাংলা জয়ধ্বনির মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনা করেন, অপর দিকে জিয়াউর রহমান ও যুদ্ধাপরাধীরা বাংাদেশ জিন্দাবাদের রাজনীতি শুরু করেন, এখনও তারা জিন্দাবাদ বলে যুদ্ধাপরাধীদের হাতে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানি রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার ঘাতকদের বিচার করেছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে। কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর ও কামরুজ্জামানের ফাঁসির রায়সহ পর্যায়ক্রমে সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। তিনি বলেন এদেশের আলেম-ওলামাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনও বিরোধ নেই, আমাদের নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ ও আমিসহ আমাদের এলাকার বিশিষ্ট আলেম শায়েখে কাতিয়া, শায়েখে গাজিনগরীসহ সকল আলেমদের সঙ্গে আমাদেরও রয়েছে সু-সম্পর্ক। ওই সকল আলেমরা কখনও সাঈদী রাজাকারসহ কোন যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কথা বলেননি। তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, রাজনীতিতে তিনি অনভিজ্ঞ বলে বার বার ক্ষমতায় গিয়েও স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার করেননি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও অভিরাম তালুকদারের পরিচালনায় সম্মেলনের উদ্ধোধন করেন, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিক, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, এড. শাহানা রব্বানী এমপি, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট প্রমুখ।

চলন্ত বাসে উত্ত্যক্তকারীদের মারলেন দুই বোন

(ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে গত শুক্রবার চলন্ত বাসে তিন উত্ত্যক্তকারীকে মারধর করেন দুই বোন। ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়ার সৌজন্যে) ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে চলন্ত বাসে উত্ত্যক্ত করায় তিন ব্যক্তিকে বেদম মারধর করেছেন দুই বোন। তাঁদের ওই মারধরের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সাহসিকতার জন্য ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে এ দুই বোনকে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হরিয়ানা রাজ্য সরকার।
আজ সোমবার টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভির খবরে জানানো হয়, গত শুক্রবার কলেজের পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আরতী (২২) ও পূজা (১৯)। বাসে ওঠার আগে থেকেই তিন বখাটে তাঁদের উত্ত্যক্ত করা শুরু করে। বাসে ওঠার পর তারা দুই বোনকে লক্ষ্য করে নিজেদের মোবাইল নম্বর লিখে কাগজের টুকরো ছুড়ে মারে। এরপর আজেবাজে মন্তব্য, নানান ধরনের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। এমনকি তাঁদের গায়ে হাত দেয়। এসব দেখেও বাসের যাত্রীরা কেউ এগিয়ে আসেননি। তাঁরা নির্বিকারভাবে বসে ছিলেন। এমনকি বাসচালক ও তাঁর সহকারীও টুঁ শব্দটি করেনি। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে দুই বোন ওই তিনজনকে মারধর করেন। তাঁদের এ মারধরের দৃশ্য ধারণ করেন ওই বাসেরই যাত্রী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। পরে এ ঘটনায় তাঁরা থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।
পূজা বলেন, ‘বাসের ভেতরে তারা আমাদের উদ্দেশে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। আমাদের গায়ে হাত দেয় এবং আজেবাজে মন্তব্য করে। আমরা আর নিতে পারছিলাম না। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে আমরা ওই তিনজনকে মারধর শুরু করি। এ সময় একজন আমার বোনের হাত চেপে ধরে ও অন্যজন আমার ঘাড় ধরে। তখন আমার বোন তাঁর কোমরের বেল্ট খুলে মারতে শুরু করে।’
দুই বোনের একজন আরতী গণমাধ্যমকে জানান, ‘বাসে অন্যরা আমাদের বলে “তোমরা কিছু কোরো না...তারা তোমাদের ধর্ষণ করবে বা মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারবে। তারা তোমাদের মেরে ফেলবে”...আমরা ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু হাল ছাড়িনি।’
মারধরের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ গতকাল রোববার রাতে কুলদীপ, মোহিত ও দীপক নামের তিন বখাটেকে আটক করে। এ তিনজনই হরিয়ানার একটি গ্রামের বাসিন্দা। ওই দিন তারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে যাচ্ছিল।
এ ঘটনার পর ওই তিনজনের আবেদন বাতিলের ঘোষণা দিয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ভারতের সেনাবাহিনীতে এ ধরনের লোকের কোনো স্থান নেই।
দুই বোন দাবি করেন, পুলিশের কাছে করা অভিযোগ তুলে নিতে ওই তিনজনের পরিবার তাঁদের চাপ দিচ্ছে। পূজা বলেন, ‘তাঁরা আমাদের বাবাকে বলছেন, আমরা পুলিশেকে যা বলেছি তা যেন পরিবর্তন করি। ওই তিন ব্যক্তি সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে যাচ্ছে। এই অভিযোগের কারণে তাদের জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের (দুই বোন) জীবনের কী হবে? এ ধরনের মানুষেরা কী আমাদের দেশকে রক্ষা করতে পারবে?’
হরিয়ানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এম এল খাত্তার সাহসিকতার জন্য দেশটির প্রজাতন্ত্র দিবসে দুই বোনের প্রত্যেককে ৩১ হাজার রুপি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সড়কে বাসে চলাচলের সময় যাত্রীদের বিশেষ করে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক ও রাজ্য পরিবহন বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। এ ছাড়া ওই বাসের চালক ও তাঁর সহকারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ কি গাছে ধরে?

(ফ্রান্সের একটি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে উইন্ড ট্রি যা বিদ্যুৎ উদপাদন করতে পারে। ছবি: এএফপি) বিদ্যুৎ সত্যিই গাছে ধরে! ফ্রান্সের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি উইন্ড ট্রি নামের একটি প্রটোটাইপ কৃত্রিম গাছ তৈরি করেছেন যার প্লাস্টিকের পাতার মধ্যে টারবাইন বসানো থাকে। এই টারবাইন বাতাসে ঘুরে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই কৃত্রিম গাছ বাড়িতে বসানো হলে তা থেকেই বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো যাবে। এক খবরে জানিয়েছে ডেইলি মেইল। ফ্রান্সের একটি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের তৈরি এই উইন্ড ট্রি বা বাতাস গাছ ২০১৫ সাল নাগাদ বিক্রি শুরু হবে। উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠান জেরোম মিশাদ-লারিভিয়েরি জানিয়েছেন, পার্কে ঘোরার সময় এই গাছ তৈরির পরিকল্পনা মাথায় আসে। পার্কে সামান্য বাতাসেও গাছের পাতার নড়াচড়া দেখে এই বিদ্যুৎ তৈরির কথা মাথায় আসে। কৃত্রিম এই গাছ প্রচলিত উইন্ড টারবাইনের চেয়েও ভালো কাজ করতে পারে।
জেরোম আরও বলেন, তিন বছর ধরে গবেষণার পর তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা মিলে ২৬ ফুট উঁচু প্রটোটাইপটি তৈরি করেছেন। এটি এখন ফ্রান্সের প্লেমুর-বডু এলাকায় বসানো হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, এ গাছ তৈরিতে ২৩ হাজার ৫০০ পাউন্ড খরচ হবে। সাড়ে চার মাইল গতিতে বাতাস হলেই এ গাছ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। চার্জিং স্টেশন, বাড়ি, রাস্তার এলইডি বাতির বিদ্যুৎ জোগান দিতে এই কৃত্রিম গাছ ব্যবহার করা যাবে। তাঁরা এই কৃত্রিম গাছকে আরও উন্নত করা যাবে বলে আশা করছেন।

ষ্টুডিওতে আটকে রেখে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

শ্রীনগরে এক স্কুলছাত্রীকে ষ্টুডিওতে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে ঐ প্রতিষ্ঠানের মালিক। এ ঘটনায় ধর্ষক রাজিব ওরফে রাজু (২৫) ও তার সহযোগী শাহাবুদ্দিনকে (২৪)  গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে উপজেলার বাঘড়া এলাকার কাঠাল বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, কাজী ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী রবিবার বেলা এগারটার দিকে পরীক্ষার প্রবেশপত্র লেমিনেটিং করার জন্য আলামিন বাজারের রাজু ষ্টুডিওতে যায়। সেখানে ষ্টুডিওর মালিক রাজু ও তার দুই সহযোগী কৌঁশলে মেয়েটিকে ষ্টুডিওর ছবি তোলার রুমে নিয়ে যায়। রুমে নিয়ে প্রায় দুইঘণ্টা ধরে মেয়েটিকে আটকে রেখে রাজু তাকে ধর্ষণ করে ও মোবাইল ফোনে ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে। এঘটনায় ঐ স্কুলছাত্রীর নানা আইয়ূব আলী বাদী হয়ে রবিবার রাতে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে তিনজনকে আসামী করে শ্রীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার নাতনীকে ছোট রেখে বাবা মারা যায়। এর পর অভাবের সংসারে নাতনীকে তার কাছে রেখে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার জন্য তার মেয়ে  নারায়নগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে টাকা পাঠায়। আজ সোমবার থেকে তার নাতনীর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু বখাটেদের লোলুপ দৃষ্টির কারনে স্কুলের পরীক্ষা না দিয়ে এখন মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা চলছে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার এসআই আলমগীর কবির জানান, রাতেই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আপর আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভিকটিমকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য মুন্সীগঞ্জ প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত রাজু কাঠাল বাড়ি এলাকার আলোচিত ফাইভ মার্ডার ঘটনায় নিহত মনোয়ার আলী চেয়ারম্যানের ভাতিজা। তার বাবার নাম আনোয়ার আলী। শাহাবুদ্দিনের বাড়ি জগন্নাথপট্টি গ্রামে। তার বাবার নাম আ. হক।

সেই মোহনা হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে

বাসের ধাক্কায় আহত সাংবাদিক জগলুল আহমেদ চৌধূরীর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠা মোহনা হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম চালানোর অনুমতিই ছিল না। আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা হাসপাতাল ঘুরে তা বন্ধের নির্দেশ দেন। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোশাররফ হোসেন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক এ বি এম আবদুল হান্নান এ পরিদর্শন দলে ছিলেন। পরিদর্শন শেষে আবদুল হান্নান বলেন, মোহনা কর্তৃপক্ষ ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল খুলে বসেছিল। হাসপাতালের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেখানে ভর্তি রোগীদের সরিয়ে নিয়ে মঙ্গলবারের মধ্যে মোহনা কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ২৯ নভেম্বর রাতে রাজধানীর কারওয়ানবাজার সার্ক ফোয়ারা এলাকায় বাস থেকে নামতে গিয়ে পড়ে যান সাংবাদিক জগলুল আহমেদ চৌধূরী। পথচারিরা তাকে সেখান থেকে পাশের মোহনা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সেখানে তার কোন চিকিৎসা হয়নি। এরপর তাকে পাশের কমফোর্ট হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি করেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। তিন দিনের মধ্যে এ কিমিটির রিপোর্ট দেয়ার কথা রয়েছে।

অভিষেকেই হ্যাটট্রিক তাইজুলের

(অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক-কীর্তি তাইজুলের ছবি: শামসুল হক) রেকর্ডের বরপুত্র হয়েই কি বাংলাদেশের ক্রিকেটে আবির্ভাব হয়েছে তাইজুল ইসলামের? বোধহয় তাই-ই, টেস্টে দেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট-শিকারের কীর্তি নিজের করে নেওয়ার পর একদিনের ক্রিকেটে অভিষেকেই দারুণ এক হ্যাটট্রিকে গুঁড়িয়ে দিলেন জিম্বাবুয়েকে। তাইজুলের এই হ্যাটট্রিকের মাহাত্ম্য অন্যরকম। ক্রিকেট ইতিহাসে অভিষেকেই হ্যাট্রট্রিক করা একমাত্র ক্রিকেটার যে তিনিই। এই বামহাতি স্পিনারের ইতিহাস গড়ার দিনে রীতিমতো নাকাল জিম্বাবুয়ে। সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ভালো কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামা জিম্বাবুয়ে দল মুখোমুখি হল সবচেয়ে বড় লজ্জারই। ৩০ ওভারের মধ্যেই ১২৮ রানে গুটিয়ে গেছে তারা।
টসে জিতে ব্যাট করা জিম্বাবুয়ের শুরুটা কিন্তু ছিল ভালোই। মাত্র ১৬ রানে সিকান্দার রাজাকে হারানোর পরেও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ভুসি সিবান্দার ৭৯ রানের জুটি বাংলাদেশকে ভালোই চোখ রাঙাচ্ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত ৫২ রানে মাসাকাদজার বিদায়ের পরপরই যেন শুরু হল তাদের ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিল। ২ উ​ইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ৯৫ রান তোলা দলটি পরের আট উইকেট হারিয়ে বসল মাত্র ৩৩ রানের মধ্যেই। তাইজুলের বোলিং তো ছিলই, সাকিব আল হাসান ও জুবায়ের হোসেনও কম যান না। সাকিব নিয়েছেন ৩ উইকেট, জুবায়ের ২টি। তাইজুলের ৪ উইকেটের সঙ্গে এই দু’জন যুক্ত হয়ে ঘূর্ণিবাতেই উড়িয়ে দিলেন জিম্বাবুয়েকে।
ইনিংসের ২৭তম ওভারটি করছিলেন তাইজুল ইসলাম। এই ওভারের শেষ বলে তিনাশে পানিয়াপঙ্গারাকে বোল্ড করেছিলেন তিনি। ২৯ তম ওভারটি শুরুর আগে হ্যা​টট্রিকের ভাবনাও হয়ত ছিল না। কিন্তু কী আশ্চর্য, ​এই ওভারের প্রথম দুই বলে নিয়াম্বু ও চাতারাকে ফিরিয়ে দিয়ে ইতিহাসে ঢুঁকে যান তাইজুল। অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক! এমন ইতিহাসের সঙ্গে যে এর আগে আর কখনোই পরিচয় ঘটেনি কারো।
তাইজুলের অনন্য কীর্তির আগেই দিগভ্রান্ত হয়ে ছিল জিম্বাবুয়ে। মাসাকাদজা ও সিবান্দার ৭৯ রানের জুটির পর জুবায়েরের বলে মাসাকাদজার ফেরাটই শুরু করেছিল জিম্বাবুইয়ানদের দুর্গতি। সেই দুর্গতির একটা চূড়ান্ত রূপই যেন দিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। বিশেষ করে তাইজুল ইসলাম।
সাকিব আল হাসান ব্রেন্ডন টেলরকে ফেরান। তাঁর ঝুলিতে গেছে আরও দুই উইকেট (কামুনগোজি ও সিবান্দা)। জুবায়ের মাসাকাদজার উইকেটের পাশাপাশি নিয়েছেন মারুমার উইকেটটি। ৫২,৯,৩৭,৯,৯,১,৩,০,৩,০,২—জিম্বাবুয়ের দশ ব্যাটসম্যানের রান পাশাপাশি সাজালে দেখায় ঠিক এমনই।

তুরস্কের মসজিদে পোপের প্রার্থনা

বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের আধ্যাত্মিক নেতা পোপ ফ্রান্সিস ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন। তুরস্কে তার তিন দিনের আনুষ্ঠানিক সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার ইস্তাম্বুলে যান। ৭৭ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন নাগরিক পোপ ফ্রান্সিস ইস্তাম্বুলভিত্তিক রক্ষণশীল খ্রিস্টানের নেতা ফেনার গ্রিক প্যাটরির্য়াক বর্থলময়ের সঙ্গে বিমানবন্দরের টারম্যাকে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাকে অত্যন্ত হাসিখুশি এবং সাবলীল দেখা যায়। বিমানবন্দর ত্যাগ করার পর পোপ অটোমান শাসনামলে ১৭ শতকে নির্মিত ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক সুলতান আহমেদ মসজিদে (ব্লু মসজিদ) যান। পোপ ফ্রান্সিস তার জুতা খুলে বিশাল এ মসজিদটিতে প্রবেশ করেন। মসজিদটিতে পৌঁছানোর পর ইস্তাম্বুলের গ্র্যান্ড মুফতি রামি ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে মক্কার দিকে মুখ ফিরিয়ে (কেবলামুখী হয়ে) কয়েক মিনিট মাথা নিচু করে প্রার্থনা করেন। শত শত মানুষ পুলিশের ব্যারিকেডের পেছনে পোপের এ প্রার্থনার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। স্কুলের বাচ্চাদের একটি দল তুর্কি এবং ভ্যাটিকানের পতাকা হাতে তাকে পোপকে স্বাগত জানান এবং পোপ ফ্রান্সিস জিন্দাবাদ বলে স্লোগান দেন।

মোদির বক্তৃতায় ঘুমিয়ে পড়লেন গোয়েন্দা প্রধান

স্মার্ট পুলিশিংয়ের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে রোববার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তৃতাকালে খোদ সিবিআই প্রধানের ঘুমিয়ে পড়ার চিত্র জাতীয় টেলিভিশনে প্রচারের কারণে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন ভারতের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা। জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে একটি বড় ধরনের সম্মেলন উপলক্ষে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে জড়ো হয়েছিলেন ভারতের পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ফুটেজে দেখা যায় সজাগ, দায়িত্ববান, নির্ভরযোগ্য ও সক্রিয় পুলিশের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে মোদির বক্তৃতাকালে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পরিচালক রণজিৎ সিনহা বেশ কয়েকবার ঝিমিয়ে পড়েন। সিনহাকে শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পুলিশ, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেয়ার সময়ও বেশ কয়েকবার ঝিমুতে দেখা যায়। এনডিটিভির খবরে এ দৃশ্য দেখা যায়। সেসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছিলেন, এখানে অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আছেন।
তাদের কেউ কেউ অবসর গ্রহণের দ্বারপ্রান্তে। তবে অবসরে যাচ্ছেন বলে আপনারা ক্লান্ত হয়ে যাবেন না। জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিতে আপনাদের অভিজ্ঞতা এবং সক্ষমতা এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ঘুমিয়ে পড়া গোয়েন্দা প্রধান এ কথা শুনেছিলেন কিনা, তা জানা যায়নি। ২ ডিসেম্বর সিবিআই প্রধান রণজিৎ সিনহা অবসরে যাচ্ছেন।

ওবামাকন্যার জাত-পাত নেই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দুই কন্যা মালিয়া ও শাসার নাকি কোনো জাত-পাত নেই! বৃহস্পতিবার ওবামাকন্যাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন রিপাবলিকান দলীয় কংগ্রেসম্যান স্টিফেন ফিঞ্চারের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক এলিজাবেথ লুটেন। পরে অবশ্য মন্তব্যটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ‘থ্যাংকস গিভিং ডে’ উদযাপনের একটি অনুষ্ঠানে বাবার সঙ্গে ক্যাজুয়াল পোশাক পরে অংশ নেয় দুই কন্যা মালিয়া (১৬) ও শাসা (১৩)। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে তাদের পোশাক বাছাই নিয়েই কটূক্তি করেন লুটেন। তিনি তার পোস্টে লেখেন, ‘তাদের (অনুষ্ঠানে) ন্যূনতম শ্রেণী বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত ছিল।’ ‘তোমার মতো তোমার পোশাকই সম্মান পাওয়ার দাবি রাখে, কিন্তু বারের স্থান (বারে যাওয়ার পোশাক) এ সম্মান পাবে না।’

ওবামার আলোকিত আফ্রিকা অন্ধকারে

গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ?‘আলোকিত আফ্রিকা’র জন্য তিনি ৭০০ কোটি ডলার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন, যাতে বিশ্বের দরিদ্রতম এই মহাদেশের বিদ্যুৎ সুবিধা দ্বিগুণ হয় এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকাগুলো আলোকিত হয়।’ এক বছর পর মুল্যায়ন করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে আলোকিত আফ্রিকা প্রকল্প এখনও অন্ধকারে। এই প্রকল্প ইতিমধ্যেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। যদিও বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ২ কোটি লোককে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই প্রকল্পর কিছু নথি বিশ্লেষণ করে দেখেছে, সেখানকার গ্রিডে মেগাওয়াট যোগ করার যে হিসেব ধরা হয়েছে, তা প্রকৃত তথ্য নয়। নথিপত্র ঘেটে স্পষ্ট হওয়া যায়নি প্রতিশ্র“ত ৭০০ কোটি ডলারের কতটুকু প্রকৃতপক্ষে ব্যয় করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রাইভেট সেক্টরে ২০০০ বিলিয়ন বিনিয়োগের অঙ্গীকারও করা হয়েছে। ‘আলোকিত আফ্রিকা’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ‘পাঁচ বছরের মধ্যে আফ্রিকার বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্বিগুণ করার কথা। এক বছর পর এখনও কিছুই স্পষ্ট হয়নি। এই প্রকল্প কখনোই বাস্তবায়িত হবে কিনা সে বিষয়ে আমি নিজেই সন্দিহান। এটা ভুল পথে চলছে।’ গত তিন দশক ধরে সাহারা মরুভূমির এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সুবিধার এমন উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের কথা অনেক শোনা গেছে। কিন্তু বাস্তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়নি। এখানকার ৪৮টি দেশের ৮০ কোটি জনগণের জন্য যেটুকু বিদ্যুৎ আছে, স্পেনের মাত্র সাড়ে চার কোটি জনগণ এর চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।

হারানো ছেলে পাওয়া গেল দেয়ালের ভেতর!

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহর থেকে যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল ১৩ বছরের এক কিশোর। চার বছর ধরে খুঁজেও পুলিশ তার হদিস পায়নি। শেষ পর্যন্ত তার সন্ধান মিলল একটি বাড়ির গ্যারেজের নকল দেয়ালের ভেতরে। শুক্রবার তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। খবর নিউইয়র্ক পোস্টের। রোববার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাড়ির গ্যারেজে কাপড় দিয়ে তৈরি একটি নকল দেয়ালের পেছনে ছেলেটিকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই কোনো এক ফাঁকে সে তার মাকে মুঠোফোনে একটি বার্তা পাঠায়। সঙ্গে সঙ্গেই মা পুলিশের সাহায্য নেন। খুঁজে বের করেন ছেলেকে। উদ্ধার হওয়া ওই কিশোরের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। ক্লেটন কাউন্টির পুলিশ কর্মকর্তা কেভিন হিউজ বলেন, গত শুক্রবার রাতে তারা ছেলেটিকে খুঁজে বের করেন। পুলিশ ওই কিশোরের বাবা ও এক নারীসহ ৫ জনকে আটক করেছে। ছেলেটির বাবা ও তার সৎমা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ছেলেটির অবস্থানের ব্যাপারে তারা কিছুই জানতেন না।

৩০ বছরেও ক্ষতিপূরণ পায়নি ভূপালের ক্ষতিগ্রস্তরা

ক্যান্সার ও আলসার আক্রান্ত প্রায় বধির রামপিয়ারি বাঈ (৯০) এখন চলতে পারেন না। তবু ভূপাল ট্রাজেডির ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচারের জন্য আজও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিশ্বের ভয়াবহতম শিল্প দুর্ঘটনায় ৩০ বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার। ১৯৮৪ সালের ২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ভূপালের ওই কীটনাশক কারখানা ইউনিয়ন কার্বাইডে দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় ৩২ টন বিষাক্ত মিথাইল আইসেসায়ানেট গ্যাস রাতের বেলায় মিশে যায় শহরের বাতাসে। শহরের প্রায় ৫ লাখ মানুষ আক্রান্ত হন ওই বিষাক্ত গ্যাসে। ভারতের মধ্যপ্রদেশ সরকারের হিসেবে তাৎক্ষণিক মৃতের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭৮৭ জন। আর ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ’র তথ্যানুসারে দুর্ঘটনার প্রথম তিন দিনেই মৃত্যু হয় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এর পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় অসুখ-বিসুখে মৃত্যু হয় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।
ভূপালের সেই কারখানার পাশে নিজের বাড়িতে দাঁড়িয়ে রামপিয়ারি বাঈ বলেন, ‘আমার শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার আদায়ে লড়াই চালিয়ে যাব। সেদিন কয়েক মিনিটের জন্য সাইরেন বেজে উঠল আর মুহূর্তেই বিষাক্ত হয়ে উঠল শহরের বাতাস। তেজস্ক্রিয়তায় আহত হয়েছিলেন তিনি নিজে। এখন আমার মুখে আলসার। ছেলে প্রভুলালের কয়েকটা অঙ্গ কেটে ফেলতে হয়েছে। ওই রাতেই আমার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ হাসপাতালে মারা গিয়েছিল। এই নৃশংসতম ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ মানুষের ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের শাস্তির জন্য তিনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৮৯ সালে ভারত সরকার ও শিল্প প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন কার্বাইড গ্র“পের মধ্যে এক সমঝোতায় ৪৭০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। কিন্তু তা পাঁচ হাজার মানুষের জন্যও যথেষ্ট নয়। ২০১২ সালে সরকার একটি মামলা দায়ের করলেও তার কোনো অগ্রগতি হয়নি। পূর্ণ ক্ষতিপূরণের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্তরা সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনশন ধর্মঘট শুরু করেছে।

অগ্নিগর্ভ মিসরে আবার আন্দোলন

আবারও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে কায়রো। উত্তাল হয়ে পড়েছে মিসর। কায়রোর ঐতিহাসিক তাহরির স্কয়ারে নজিরবিহীন বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে। পতিত স্বৈরশাসক হোসনি মোবারককে খুন ও দুর্নীতির সব মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রতিবাদে শনিবার রাতে তাহরির স্কয়ারে শত শত বিক্ষোভকারী সমবেত হন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত একজন বিক্ষোভকারী মারা যান। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ২০১১ সালে এ তাহরির স্কয়ার থেকে মিসরীয় বিপ্লবের সূচনা হয়, যাতে দ্রুতই পতন হয় মোবারকের। সে সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৮০০ বিক্ষোভকারী মারা যান। ওই ঘটনায় মোবারককে দোষী সাব্যস্ত করে প্রথমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে গত বছর দেশটিতে উর্দি শাসন জারি হলে তার পুনর্বিচারে নির্দেশ দেয়া হয় এবং শনিবার ঘোষিত রায়ে তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। তবে অর্থ আÍসাতের একটি মামলায় ৮৬ বছর বয়সী মোবারক বর্তমানে ৩ বছর কারাদণ্ড ভোগ করছেন। মোবারককে খালাস দেয়ার প্রতিবাদে শনিবার তাহরির স্কয়ারে শত শত বিক্ষোভকারী সমবেত হন। পুলিশ তাহরির স্কয়ারের প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দিলেও বিক্ষোভকারীদের ঠেকানো যায়নি। আদালতের রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা তাহরির স্কয়ারে সমবেত হন। বিবিসি জানায়, মোবারকবিরোধী অনেক উদারপন্থী নাগরিকও বতর্মান স্বৈরাচারী সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ব্রাদারহুডের বিক্ষোভে শামিল হন।
তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ সময় রমাদান আহমেদ নামের একজন বিক্ষোভকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শত শত আন্দোলনকারীর মৃত্যু আর রক্তকে এই রায় ধুলোয় মিশিয়ে দিল। এ দেশে ন্যায়বিচার নেই। এটা মোবারকের আইন।’ ২০১১ সালে আলেকজান্দ্রিয়ায় তার ছেলে মোহাম্মদ নিহত হন।
শতাব্দীর নিকৃষ্টতম বিচার : গণহত্যার অভিযোগ থেকে মোবারককে মুক্তি দেয়ায় মিসরের আদালতের এই রায়কে ‘ট্রায়াল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা শতাব্দীর নিকৃষ্টতম বিচার বলে অভিহিত করেছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। ২০১১ সালের ওই গণবিপ্লবের লক্ষ্যের বিরুদ্ধে একযোগে বর্তমান সরকার ও বিচার বিভাগ যে একজোট হয়েছে, এটা তার ইঙ্গিত। মিসরের রাজনীতিবিষয়ক একজন কলামিস্ট মোহাম্মাদ আল দাশাম বলেন, ‘চার বছরের মধ্যেই এমন রায় শুনে আমরা কেবল বিস্মিতই নই, মনক্ষুণ্ন।’ মানবাধিকার কর্মী আহমেদ রাগাব বললেন, মোবারককে খালাস দিয়ে এটাই বোঝানো হল যে, সেসময় লাখ লাখ মানুষের রাস্তায় নামার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছেন মোবারক
মিসরের সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক শিগগিরই মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ফারিদ আল দিব। রোববার তিনি জানান, দুর্নীতি মামলার দুই-তৃতীয়াংশ সময় জেলে কাটানোর পর তার মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে শনিবার গণহত্যা মামলা থেকে খালাস পান তিনি। রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় মোবারক বর্তমানে তিন বছরের সাজা ভোগ করছেন। তিন দশক ধরে মিসর শাসন করেছেন হোসনি মোবারক। দিব বলেন, ২০১১ সালে গ্রেফতারের পর থেকে মোবারক ইতিমধ্যে তিন বছরের দুই-তৃতীয়াংশ সময় পার করে ফেলেছেন।
৮৬ বছর বয়সী হোসনি মোবরক শিগগিরই মুক্তি পেতে পারেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন মাদি সামরিক হাসপাতাল থেকেই তার মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এই আইনজীবী। এএফপি।

সীমান্ত চুক্তি কার্যকর হলে রাজ্যেরই লাভ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মনে করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত চুক্তি কার্যকর হলে আসামের ক্ষতি হবে মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যটিই লাভবান হবে। আসামের স্বার্থের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
রোববার আসামের প্রধান শহর গৌহাটিতে বিজেপি নেতাদের উদ্দেশে দেয়া বক্তৃতায় মোদি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি আসামে বাংলাদেশীদের কথিত অনুপ্রবেশের কড়া সমালোচনা করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়, অপদখলীয় ভূমি হস্তান্তর এবং অচিহ্নিত স্থল সীমান্ত চিহ্নিত করার মাধ্যমে সই হওয়া সীমান্ত চুক্তি কার্যকর করতে ভারতের পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হতে হবে। এ লক্ষ্যে পার্লামেন্টের উভয়কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও সেখানে কংগ্রেস সমর্থন দেবে বলে ধারণা করা যায়। কারণ ভারতে বিগত সরকারের আমলে তৎকালীন ক্ষমতাসীন কংগ্রেস এই বিল উত্থাপন করে। তখন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্মতি থাকলেও দলটির আসাম ইউনিট এই চুক্তির বিরোধিতা করেছিল।
সীমান্ত চুক্তি ইতিমধ্যে ভারতের পার্লামেন্টে শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে অনুমোদিত হয়েছে। পার্লামেন্টের চলতি শীতকালীন অধিবেশনেই এটি পাস হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শীতকালীন অধিবেশন ডিসেম্বরের প্রায় পুরো সময় ধরে চলবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসামে বিজেপি নেতাদের আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীরা প্রতিদিনই অবৈধভাবে ঢুকে আসামকে ধ্বংস করছে। আমি এমন একটা ব্যবস্থা করব যাতে আসামে অনুপ্রবেশের সব কটি রুট বন্ধ হয়ে যায়।
গত মে মাসে ভারতে নির্বাচনের পূর্বে নরেন্দ্র মোদি তার ভাষায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কথিত অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এখন তিনি দৃশ্যত সীমান্ত চুক্তিকে অনুপ্রবেশ ইস্যু নিষ্পত্তির অংশ এবং উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন।
বিজেপি আমলেও চমৎকার সম্পর্ক অব্যাহত : আসামে নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য রাখার সময়ে ঢাকায় একটি সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের সঙ্গেও শেখ হাসিনার বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সুসম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউট (বিইআই) রোববার গুলশানের একটি হোটেলে এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনার আয়োজনে সহায়তা দিয়েছে ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন আর তার কন্যা শেখ হাসিনা তা রক্ষা করেছেন। তার এই মন্তব্যেই বাংলাদেশ ও এ দেশের সরকারের প্রতি মোদির ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়েছে। বিদ্যমান সম্পর্ককে অতিউচ্চ মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার সদিচ্ছাও অবিস্মরণীয় ব্যাপার।

রাজশাহী আলীগের নেতৃত্ব দখলে এমপিদের দৌড়ঝাঁপ

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। অন্যদিকে শীর্ষ পদগুলো পেতে দলীয় এমপিরা শুরু করেছেন দৌড়ঝাঁপ। আগামী ৬ ডিসেম্বর হবে এ কাউন্সিল। এদিকে নিজ নিজ এলাকার বাইরে সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের ম্যানেজ করতে মরিয়া হয়ে ছুটছেন পদপ্রত্যাশী কয়েকজন সংসদ সদস্য। সভাপতি পদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির প্রার্থী হওয়ার খবরে চাঞ্চল্যের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নিজ নির্বাচনী এলাকা চারঘাট-বাঘার বাইরে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে তার বিশদ পরিচিতি না থাকায় কাউন্সিলরদের কতটা সমর্থন তিনি পাবেন তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে শাহরিয়ার আলম সভাপতি পদে প্রার্থী হলে এ পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে তারও আভাস পাওয়া গেছে।
এদিকে এখন পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদকে ঘিরেই চলছে সব তৎপরতা। লবিং-গ্র“পিং আর ম্যানেজ প্রক্রিয়াও শীর্ষ এই দুই পদকে কেন্দ্র করে চলছে যথানিয়মে। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নন। ফলে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতা নির্বাচিত হবেন- এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। এবার এমপিরা শীর্ষ পদে প্রার্থী হওয়ায় কাউন্সিলরদের কদর বেড়ে গেছে।
এদিকে রোববার রাজশাহী আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সর্বশেষ সভা লক্ষ্মীপুর দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার দলীয় ৫ এমপি ছাড়াও সাবেক ও বর্তমান নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হককে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সম্মেলনকে সফল করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয় এ সভায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরে শেষবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক সভাপতি ও ওমর ফারুক চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠিত হয়। তবে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত পালন না করায় তাজুল ইসলাম ফারুককে অব্যাহতি দিয়ে মেরাজ উদ্দিন মোল্লাকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় কেন্দ্র থেকে। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মেরাজ উদ্দিন মোল্লাহ নিজেও দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দিয়ে আকতার জাহান এমপিকে জেলা কমিটির সভাপতি করা হয় কেন্দ্র থেকে। শেষ পর্যন্ত জানুয়ারির নির্বাচনের পর ৯ বছর পরে ঘোষণা করা হয় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, আসন্ন সম্মেলনে সভাপতি পদে কাউন্সিলরদের সমর্থন পেতে ছোটাছুটি করছেন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। একই পদে প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন বর্তমান সভাপতি আকতার জাহান এমপি। বর্তমান কমিটির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডুও সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তৎপরতা শুরু করেছেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সভাপতি পদে নির্বাচন করার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা না করলেও তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা কয়েকদিন আগে থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে কাউন্সিলরদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারা ও বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাবলু সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার কথা জানিয়েছেন অনুগামী নেতাকর্মীদের। সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে আকতার জাহান এমপি যুগান্তরকে বলেন, আমার শেকড় আওয়ামী লীগে। নেতাকর্মীদের পাশে রয়েছি আজীবন। আমি আজীবন তাদের সঙ্গেই থাকতে চাই। আশা করি, নেতাকর্মীরা আমাকে সমর্থন দেবেন। জেলায় দলকে সংগঠিত করার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার দাবি করে ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি যুগান্তরকে বলেন, রাজশাহীতে চরম প্রতিকূল পরিবেশে দলের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। যেখানে যখন প্রয়োজন হয়েছে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। রাজশাহীতে দলের ভিত্তি মজবুত করতে রাতদিন শ্রম দিয়েছি। নেতাকর্মীরাই সিদ্ধান্ত নেবেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববারের সভায় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে স্মরণীয় করতে নেয়া হয়েছে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত। সুশৃংখল আয়োজনের পাশাপাশি কারও কাছ থেকে কোনো চাঁদা না তোলারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। সূত্র জানায়, এমপিরাই কাউন্সিলের সমস্ত ব্যয় নির্বাহ করবেন।
এদিকে জেলার ১৩টি সাংগঠনিক ইউনিট থেকে ৫ জন করে মোট ৬৫ জন বিশেষ কাউন্সিলর হবেন। প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার জন্য ১ জন করে হিসাবে জেলায় কাউন্সিলর হবেন ৩০০ জন। সবচেয়ে বেশি ৪০ জন কাউন্সিলর হবেন বাগমারা থেকে। কাউন্সিল হবে দুটি অধিবেশনে। আনুমানিক খরচ হবে ৫০ লাখ টাকা। কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি যুগান্তরকে বলেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলন হবে অন্যরকম। সম্মেলন উপলক্ষে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ৭ ডিসেম্বর

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের মামলায় সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য ৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহনগর হাকিম আসাদুজ্জামান নুর এ দিন ধার্য করেন। মামলাটি বিচারের জন্য এ আদালতে পাঠানো হয়। মামলাটির প্রথম তারিখে আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়নি। এ মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা জানান, গত ২৫ নভেম্বর এ মামলায় লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মামলাটি এ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আগামী ধার্য তারিখে আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করা হবে।
এদিকে ঢাকার মহানগর হাকিম আতউল হকের আদালতে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকীর দায়ের করা মামলায় দুবার সমন পাঠানো হয়। রোববার এ মামলার ধার্য তারিথে দ্বিতীয়বার সমন ফেরত আসে। তবে এ সংক্রান্ত কোনো আদেশ পাওয়া যায়নি। বাদী আদালতে হাজির ছিলেন। ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রবাসী টাঙ্গাইল সমিতির সমাবেশে পবিত্র হজ, তাবলিগ জামাত ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে কটূক্তি করেন তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এসব মন্তব্য নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে মোট ১৮টি মামলা হয়। এসব মামলার মধ্যে ঢাকার ৭টিসহ মোট ১১টিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
যশোরে গ্রেফতারি পরোয়ানা : যশোর ব্যুরো জানায়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে যশোরে দায়ের করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সমন জারির পরও আদালতে হাজির না হওয়ায় রোববার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা জাহাঙ্গীর তার বিরুদ্ধে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
মহানবী (স.), ইসলাম ও তাবলিক সম্পর্কে কটূক্তি করায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ২ অক্টোবর যশোর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন যশোর বারের সদস্য অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ২ নভেম্বর আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য আদেশ দেন। সেদিন আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারক মামলার শুনানির জন্য ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন। রোববারও আদালতে হাজির না হওয়ায় শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন।

মীর কাসেম আলীর আপিল দায়ের

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলী আপিল দায়ের করেছেন। রোববার তার আইনজীবীরা সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিলটি দাখিল করেন। আপিলে ট্রাইব্যুনালের দেয়া দণ্ড থেকে খালাস চাওয়া হয়েছে।
মীর কাসেমের আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ১৮১টি যুক্তিতে আপিলটি দাখিল করা হয়েছে। ১৫০ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে এক হাজার ৭৫৫ পৃষ্ঠার তথ্যাদি দাখিল করা হয়েছে। চট্টগ্রামের আলবদর কমান্ডার হিসেবে পরিচিত মীর কাশেম আলীকে ২ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে মোট ১৪টি অভিযোগ আনে রাষ্ট্রপক্ষ। এর মধ্যে ১২টি ছিল নির্যাতনের আর দুটি হত্যার অভিযোগ। ট্রাইব্যুনালের রায়ে নির্যাতনসংক্রান্ত ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯ ও ১০ এবং হত্যাসংক্রান্ত ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। হত্যাসংক্রান্ত দুটি অভিযোগে মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে বলেন, ২ নম্বর অভিযোগে ২০ বছর, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯ ও ১০ অভিযোগে ৭ বছর করে এবং ১৪ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর দণ্ড ঘোষণা করা হল। এই সাজা একই সঙ্গে (যুগপৎভাবে) ভোগ করবে। হত্যাসংক্রান্ত ১১ নম্বর অভিযোগে মীর কাশেম দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং এ অপরাধে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতে বলা হয় রায়ে।
এ ছাড়া হত্যাসংক্রান্ত ১২ নম্বর অভিযোগে তাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির মতামতের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। অর্থাৎ এ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতির মধ্যে দুজন বিচারপতি একমত পোষণ করেন। রায়ে বলা হয়, এই মৃত্যুদণ্ডের সাজাটি ১১ নম্বর অভিযোগে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজার সঙ্গে একীভূত হয়ে যাবে। মীর কাশেম একটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯, ১০ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে দেয়া সাজার আদেশ এই মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে একীভূত হয়ে যাবে। তার বিরুদ্ধে আনা বাকি ১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। আইন অনুযায়ী রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করতে হয়। এ সময়ের আগেই কাশেম আলীর পক্ষে রোববার আপিল দায়ের করা হল।

ভারত থেকে কেনা ৮১ ওয়াগন ১৬ মাস চট্টগ্রাম বন্দরে

বিমানের জেট ফুয়েল পরিবহনের জন্য ৮৬ কোটি টাকায় ৮১টি ওয়াগন কিনে ফেলে রাখা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। ভারত থেকে এই ওয়াগনগুলো কিনেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বিমানের জ্বালানি পরিবহনে এগুলো কেনা হয়। কিন্তু ঢাকায় বিমানের জ্বালানি রাখার মজুদাগার (স্টোরেজ) না থাকায় এই ওয়াগনগুলো নিয়ে বিপাকে পড়েছে রেলওয়ে। ১৬ মাস ধরে চট্টগ্রামের বন্দর ইয়ার্ডে পড়ে আছে এগুলো। ফলে ব্যবহারের আগেই ওয়াগনগুলোর ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বিপিসি সূত্র জানায়, বিপিসির সঙ্গে এমওইউর পরিপ্রেক্ষিতে ১০০টি মিটার গেজ ট্যাংক ওয়াগন ও পাঁচটি ব্রেকভ্যান সংগ্রহের প্রকল্প হাতে নেয় রেলওয়ে। এতে ব্যয় ধরা হয় ৭৭ কোটি টাকা। ২০১০ সালে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন লাভ করে। তবে বেশি দাম হওয়ায় পরে প্রকল্পটি সংশোধন করে ৮১টি ওয়াগন ও তিনটি ব্রেকভ্যান কেনা হয়। ভারতের টেক্সমাকো ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এগুলো সরবরাহ করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয় ৮৬ কোটি টাকা।
২০১৩ সালের জুলাই-আগস্টে ট্যাংকারগুলো দেশে পৌঁছে। এগুলো ওয়ারেন্টির মেয়াদকাল শেষ হবে আগামী বছরের জুনে। ব্যবহারের আগেই ওয়ারেন্টি শেষ হয়ে গেলে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে তার দায়দায়িত্ব নেবে না সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টেক্সমাকো ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বর্তমানে নৌপথে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত আনা হয় বিমানের জেট ফুয়েল। এরপর সড়কপথে ট্যাংক-লরির মাধ্যমে তা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়া হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ট্রান্সশিপমেন্টে তেলের অপচয়ও হয়। ব্যয় ও অপচয় কমানোর জন্য রেলপথে জেট ফুয়েল পরিবহনের পরিকল্পনা নেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। এজন্য ২০১০ সালে রেলওয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে বিপিসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের রাষ্ট্রীয় ঋণে (এলওসি) ৮১টি মিটার গেজ তেলবাহী ওয়াগন সংগ্রহ করে রেলওয়ে। প্রতিটি ওয়াগনের ধারণক্ষমতা ৪০ হাজার ৭৫০ লিটার বা ৪০ টন।
এমওইউ অনুযায়ী, চট্টগ্রামে পদ্মা অয়েলের ডিপো থেকে ঢাকার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত জেট ফুয়েল পরিবহন করবে রেলওয়ে। বিমানবন্দর রেল স্টেশন থেকে বিমানবন্দর রানওয়ে পর্যন্ত তেল পৌঁছানোর দায়িত্ব পদ্মা অয়েলের। এক্ষেত্রে জেট ফুয়েল খালাস করার জন্য রাজধানীর বিমানবন্দর রেল স্টেশনের পাশে সংরক্ষণাগার স্থাপনা ও সেখান থেকে বিমানবন্দরে তেল সরবরাহের পাইপলাইন নির্মাণ করবে বিপিসি।
সংরক্ষণাগার নির্মাণে নির্বাচিত স্থানটি র‌্যাব কার্যালয় নির্মাণের জন্য ওই সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ওই স্থানে ইতিমধ্যে র‌্যাবের প্রধান কার্যালয় নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ফলে জমি না পাওয়ায় সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা যাচ্ছে না। এতে রেলপথে জেট ফুয়েল পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। এ বিষয়ে একাধিকবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
এ ব্যাপারে বিপিসির চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান জানান, জমি সংক্রান্ত জটিলতা কাটছে না এখনও। শেষ মুহূর্তে জমিটা র‌্যাবকে দিয়ে দেয়ায় এ জটিলতা আরও বেড়েছে। এখন বিকল্প হিসেবে রেলওয়ে যদি জমি ব্যবস্থা করে তাহলে বিমানবন্দরের সড়ক দিয়ে পাইপলাইন বসিয়ে ফুয়েল পৌঁছানো যেতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমানে আগের নিয়মেই ফুয়েল সরবরাহ করা হচ্ছে।
রেলের পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ভারত থেকে আমদানি করা ওয়াগনগুলোর প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৪০ হাজার ৭৫০ লিটার। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত এ পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহনে রেলওয়ের আয় হয় ৩৫ হাজার ৩৭৫ টাকা। সে হিসাবে ৮১টি ওয়াগনে তেল পরিবহন করে মাসে প্রায় ১ কোটি টাকা রেলওয়ের আয় হওয়ার কথা। এ হিসাবে গত ১৬ মাসে প্রায় ১৬ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে রেলওয়ে।
এ ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, জমি নিয়ে জটিলতার কারণে বিপিসি তেল খালাসের সংরক্ষণাগার করতে পারেনি। ফলে ওয়াগনগুলো বসে থেকেই ওয়ারেন্টির মেয়াদকাল শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দফতরকেও অবহিত করা হয়েছে। নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। খুব শিগগিরই বিকল্প একটি ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, এটা নিয়ে রেলওয়ে বিকল্প চিন্তাও করছে। এরই মধ্যে কুমিল্লার ময়নামতিতে স্থাপিত একটি পাওয়ার প্ল্যান্টে বন্দর থেকে জ্বালানি পরিবহনের বিষয়ে রেলের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। আশা করা যায়, শিগগিরই ওয়াগনগুলো দিয়ে পাওয়ার প্ল্যান্টসহ চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানি তেল পরিবহন শুরু করবে রেলওয়ে।

'আ'লীগই প্রথমে রাজাকারদের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছে'

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, 'আওয়ামী লীগ সব সময় বলে আমরা নাকি রাজাকারদের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছি। পতাকা তারাই প্রথম রাজাকারদের গাড়িতে তুলে দিয়েছে। মওলানা নুরুল আমিন, একে ফয়জুল হক, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের গাড়িতে তারাই প্রথম পতাকা তুলে দেয়।' সোমবার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতার সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচন এবং আন্দোলনের জোট ছাড়া বিএনপির অন্য কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, '১৯৮৬ জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে এরশাদের নির্বাচনে তারাই (আওয়ামী লীগ) গেছে। ১৯৯৫ সালেও জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করে তারা। সুতরাং আমরা বলতে চাই জামায়াতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তাদেরই। আন্দোলন এবং নির্বাচনের জোট ছাড়া জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।'   তিনি অভিযোগ করে বলেন, ' বিএনপির সমর্থন যেখানে বেশি সেখানে এ সরকার কোন উন্নয়ন করেনি। এ সরকারের আমলে বগুড়ায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমাদের আমলে যা কিছু হয়েছে এখনও সে অবস্থায় আছে। বগুড়ায় বিএনপির সমর্থক বেশি হওয়ার কারণে সরকার সেখানে কোনো উন্নয়ন করছে না। সারাদেশেই সরকার এ রকম করছে।'

ঘাটাইল ছেড়ে পালিয়েছেন সংসদ সদস্য রানা

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আমানুর রহমান খান রানাকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ তিন সপ্তাহ আগে তাকে ঘাটাইলে দেখা যায়। এরপর থেকে তাকে তার ঘাটাইল পৌর এলাকা এবং টাঙ্গাইল কলেজপাড়ার বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে না। তার পরিবারের লোকজনও বাড়ি দুটিতে নেই। বাড়িগুলো পাহারা দিচ্ছেন দুজন কেয়ারটেকার। সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা জানান, তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ নেই। কোথায় আছেন তাও জানেন না। বেশ কিছুদিন ধরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তারাও যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে আমানুর রহমান খান রানা পালিয়েছেন বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জানিয়েছেন। এতে তারা স্বস্তি প্রকাশ করলেও দ্রুত গ্রেফতার দাবি করেছেন। সংসদ সদস্য ঢাকায় একজন সাবেক মন্ত্রীর হেফাজতে আছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে। রোববার ঘাটাইল পৌর এলাকায় এমপি রানার বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি সেখানে নেই। কেয়ারটেকার আবদুল হামিদ বলেন, এমপি রানা ৯ নভেম্বরের পর আর ঘাটাইল ঢোকেননি। কোথায় আছেন তা বলতে পারি না। টাঙ্গাইল কলেজপাড়ার বাসাতে এমপি রানার স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যরা থাকতেন। গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারাও কেউ বাড়িতে নেই। ৯ নভেম্বর বাড়ির সবাই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন বলে কেয়ারটেকার জানিয়েছেন। টাঙ্গাইল জেলা আ’লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যার ঘটনায় এমপি রানা এবং তার ৩ সহোদর পৌর মেয়র সহিদুর রহমান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান কাকন ও ছাত্রলীগের সানিয়াত খান বাপ্পার নাম এসেছে। গ্রেফতার দু’জন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে এমপি ও তার ভাইদের জড়িত থাকার কথা বলেন। এরপর থেকে তাদের গ্রেফতারের দাবি ওঠে। তখন তারা প্রকাশ্যেই ছিলেন। সম্প্রতি তারা আÍগোপন করেন।
এর মধ্যে কাকন ও বাপ্পা বিদেশ গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পৌর মেয়র মুক্তি বুধবার সর্বশেষ অফিস করেন। সেদিন তিনি তিন মাসের ছুটি নেন। এরপর থেকে এলাকায় তাকে দেখা যাচ্ছে না। তার বাড়িতেও কেউ নেই। ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফজলুল কবির বলেন, এমপি রানার সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছিল সংসদ অধিবেশন বসার আগে। তারপর বিভিন্ন সময়ে তার কিছু লোকজনকে গ্রেফতার করে চালান দেয়া হলেও তাদের বিষয়ে সুপারিশ করার জন্য ফোন করেননি। এর আগে যে কোনো আসামি ধরলেই ফোন করতেন। ওসি জানান, ৯ নভেম্বরের পর এমপি টাঙ্গাইল বা ঘাটাইল আসেননি। তার সমর্থকরাও গা ঢাকা দিয়েছে। ঘাটাইল উপজেলার আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম লেবু যুগান্তরকে বলেন, রানা এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক। তার ক্যাডারদের হাতে আওয়ামী লীগেরই অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফারুক হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হলে ঘাটাইলবাসী খুশি হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা বলেন, এমপি এলাকার মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, জুয়াড়–, সন্ত্রাসীসহ অপরাধীদের প্রাধান্য দিচ্ছিলেন। এতে এলাকায় দলীয় নেতৃত্বে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পাশাপাশি এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করে। তার অনুসারীরা এলাকায় জমি দখল থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসা, চুক্তিতে সালিশ-দরবার করাসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। ২ নভেম্বর ধলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় এমপির অনুসারীরা চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জিম্মি করে ফাঁকা গুলি ছুড়ে চালের বস্তা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ধলাপাড়া চন্দন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কমিটি গঠনে এমপির লোককে সভাপতি করার জন্য গভীর রাতে প্রধান শিক্ষিকার বাড়িতে গিয়ে অস্ত্রের মুখে নোটিশ ও রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর নেয়। সাড়ে তিনশ’ শিক্ষার্থী স্বাক্ষর দিয়ে এমপির কাছে নালিশ করেও কোনো ফায়দা হয়নি।

মৌচাকে দুই বাসের পাল্লা মাঝে পড়ে শিক্ষার্থী নিহত

নোয়াখালীর সেনবাগের হোসেন মাস্টার ক’দিন আগে তার সহধর্মিণী নুরুন্নাহারকে বলছিলেন, ‘ও যে কবে বিদেশ যাবে। কবে যে স্বপ্ন পূরণ করবে, সেই অপেক্ষায় আছি। ওকে নিয়ে আমার বুক ভরা আশা। আমি সেই আশায় আছি।’ অবসরে যাওয়া মাস্টারের এ আশার গল্প শুনে স্ত্রী তখন বলেছিলেন, ‘কাঞ্চন তো আমাদের রত্ন। সেই পারবে আলো ছড়াতে।’ মা-বাবার এত স্বপ্নের কাঞ্চন রোববার রাজধানীতে রাস্তা পার হওয়ার সময় দুটি বাসের মাঝখানে চাপা পড়েন। পাঁচ থেকে সাত মিনিট তিনি সেখানে আটকে থাকেন। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সকাল ৯টার দিকে মৌচাক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তার পুরো নাম মোজাম্মেল হোসেন কাঞ্চন (২৩)। ফেসবুকে নাম মোজাম্মেল কাঞ্চন। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) ঢাকা ক্যাম্পাস থেকে বিবিএ শেষ করেছিলেন। কাঞ্চন তার ফেসুবক একাউন্টে শেষ পোস্টে লিখেছিলেন, ‘কষ্ট দেই বলে সরি মা।’ দুই বাসের ফাঁকে আটকা পড়ে জ্ঞান হারানোর আগেও শেষ শব্দ ছিল ‘মা’। প্রত্যক্ষদর্শী যুবক সঞ্জয় বলেন, হঠাৎ ওই যুবকের দুই পাশে গাড়ি দেখে আমি চিৎকার করছিলাম, ওই গাড়ি আস্তে চালা, ছেলেটা চাপা পড়ে যাচ্ছে। বলতে বলতেই তিনি দুই বাসের ফাঁকে আটকা পড়েন। তখনও কেউ তার নাম জানে না।
বাস দুটির নাম দিবানিশি ও ফাল্গুনী বলে সঞ্জয় জানান। তিনি বলেন, বাস দুটির পাল্লার কারণে ওই যুবক ৫ থেকে ৭ মিনিট ফাঁকে আটকা পড়ে থাকেন। একবার শুধু তাকে বলতে শুনি, ‘মা’ ডাক। মা বলেই আর কিছু বলার ক্ষমতা হারায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সঞ্জয়ই উদ্ধার করে কাঞ্চনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। চিকিৎসক সকাল ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সঞ্জয় জানান, কাঞ্চনের মোবাইল ফোনের ডায়াল কলে দেখতে পান বাবা নামে একটি নম্বর সেভ করা। তিনি ফোন করেন, ‘ওপাশ থেকে লোকটি বলেন, বাবা কাঞ্চন বল। তখন সঞ্জয় বলেন, ‘আমি কাঞ্চন নই। আপনার ছেলে দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে’। সঞ্জয় বলেন, এরপর লোকটি ফোন কেটে দেন। মিনিটের মধ্যে কাঞ্চনের ফোনে কল করেন আরেক ব্যক্তি। তিনি পরিচয় দেন কাঞ্চনের দুলাভাই আলমগীর হিসেবে। তিনি বলেন, ‘ভাই দ্রুত হাসপাতালে নেন, আমি আসছি।’ আলমগীর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখি, আমাদের কাঞ্চন আর কথা বলছে না।’ তিনি জানান, কাঞ্চন বিবিএ শেষ করে রাজধানীর বাড্ডায় উত্তরা ব্যাংকের শাখায় ইন্টার্নি করছিলেন। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ।
রামপুরার বনশ্রীতে বোন লাকি আক্তারের বাসায় থাকতেন কাঞ্চন। লাকি আক্তার বলেন, সকালে নাস্তা খেয়ে বাসা থেকে বের হয় কাঞ্চন। এরপরই মৌচাকে অ্যাপেক্স শোরুমের সামনে দুর্ঘটনার শিকার হয়। খবর শুনে বিশ্বাসই হয় না, এ কী শুনছি? নোয়াখালীর সেনবাগের মাইজীদিতে আছেন বাবা মোহাম্মদ হোসেন মাস্টার। টেলিফোনে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। ইন্টার্নি শেষ হলে এমবিএ করতে সে জাপানের টোকিও যেত। টাকা পয়সা আর যাওয়ার সব বন্দোবস্ত হচ্ছিল’। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, এত দুর্ঘটনা ঘটে সরকার কি ব্যবস্থা নেয়? আজ আমার ছেলে গেল, কাল অন্যের ছেলে যাবে। এভাবে স্বপ্ন মাটির সঙ্গে মিশে যাবে মানুষের।
এর স্থায়ী প্রতিকার দাবি করেন কাঞ্চনের বাবা। নিহতের ভাই মিজানুর রহমান বলেন, কী করে কাঁধে নেব তার মরদেহ? বাবা-মা তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখত। আমরাও এ স্বপ্নের অংশীদার ছিলাম। কিন্তু আমাদের স্বপ্ন পূরণ হল না। নিহতের দুলাভাই আলমগীর জানান, নোয়াখালীর সিলেনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও এমএ হাশেম কলেজ থেকে কাঞ্চন এইচএসসি পাস করে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়। সে খুব মেধাবী ছিল।
শাহজাহানপুর থানার এসআই খোদা নেওয়াজ বলেন, বাস দুটি আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে। ফাল্গ–নী বাসের চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আড়াইহাজারে আলীগ-বিএনপি সংঘর্ষ : যুবলীগ কর্মী নিহত

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমজাদ হোসেন (৪৫) নামের এক যুবলীগকর্মী নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও কমপক্ষে ১৫ জন। তাদের গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই দফা প্রায় ২ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুুব্ধরা বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি সমর্থক দুজনের ৫টি বসতঘরে হামলা, ভাংচুর করেছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে। রোববার বেলা পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত যুবলীগকর্মী আমজাদ উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচরুখী এলাকার মৃত ইদ্রিস মোল্লার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানান, ফেস্টুন ভাংচুরকে কেন্দ্র করে উপজেলার পাঁচরুখী এলাকায় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ সমর্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপি নজরুল ইসলাম বাবু সমর্থিতদের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। রোববার সকাল ৯টার দিকে নজরুল ইসলাম বাবুর ছবি সংবলিত ফেস্টুন ভাংচুর করে বিএনপির কর্মীরা। এনিয়ে সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাচরুখী এলাকায়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নজরুল ইসলাম বাবু সমর্থিত যুবলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যুবদলের সজীব, দীন ইসলাম, মনির ও তার সহযাগীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল পৌনে ১১টার দিকে আমজাদ হোসেনকে যুবদলকর্মী সজীব, ইকবাল, ফারুকসহ তাদের সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে আমজাদের পায়ে সজীব গুলি করে। এ সময় আমজাদের লাইসেন্স করা পিস্তলটি ছিনিয়ে নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন আমজাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে উভয় গ্র“পের নেতাকর্মীরা ধারালো অস্ত্র, বল্লম, টেঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ দীন ইসলাম, ডা. মনিরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থাও আশংকাজনক। আইউব, বাবু, সাইফুল, তাওহীদ, সোলায়মানসহ বাকিদের রূপগঞ্জের ভুলতা ও পার্শ্ববর্তী নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সংঘর্ষের সময়ে উভয়পক্ষের ব্যাপক গোলাগুলিতে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যান চলাচল। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এক ঘণ্টা অবরোধ থাকায় দুপুর সাড়ে ১২টায় পুলিশ এসে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমজাদের মৃত্যু হয়। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ ও আমজাদের এলাকার বিক্ষুব্ধ লোকজন দুপুর ১টায় ফের সড়ক অবরোধ করে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর এবং ফটিক ও ইকবালের ৫টি বসতঘরে আগুন দেয় বিক্ষুুব্ধরা।
আগুনে পুড়িয়ে দেয়া ঘরের মালিক বিএনপি সমর্থক আবদুর কাদিরের পুত্রবধূ খোদেজা বেগম সাংবাদিকদের জানান, সকালে আওয়ামী লীগ সমর্থক একদল লোক পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুর চালায়। একপর্যায়ে তারা পেট্রল ঢেলে তাদের ৫টি বসতঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়। তারা পাকা ভবনের একটি ঘরে লুকিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
ঘটনাস্থলে থাকা আড়াইহাজার উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওই এলাকার মো. বাকির ভূইয়া সাংবাদিকদের জানান, ব্যবসায়িক কারণে আমজাদ হোসেন মোল্লা নারায়ণগঞ্জের জামতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। মাঝেমধ্যে তার পৈতৃক বাড়ি পাঁচরুখী এলাকায় আসেন। রোববারও সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি পাঁচরুখী বাজার থেকে মহাসড়কে উঠার সময় নজরুল ইসলাম আজাদের সমর্থক ইকবাল, রুহুল আমিন, চাক্কু মামুনসহ ১০-১২ জন তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে খুনের মামলার আসামি সজীব তার পায়ে গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানেই আমজাদ হোসেন মারা যান। নিহত আমজাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের লোকজন বিএনপির ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার কারণেই এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। আমজাদের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়লে এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলায় শান্তি বিনষ্ট করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। সর্বশেষ নিরীহ ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেনকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করল। দীন ইসলাম, মনিরসহ আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের অতর্কিত গুলি ও দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে তারা। নিহত আমজাদ যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে তিনি জানান।
ঘটনার পরপরই নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার, ইউএনও মোহাম্মদ সামছুল হক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ শরিফুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় হাসপাতালে আনা হলে ডাক্তার আমজাদকে মৃত ঘোষণা করেন। তার গায়ে গুলি ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি।

সোনালী ব্যাংকের ঋণের ৫২৩ কোটি টাকা হাওয়া

সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের ৫২৩ কোটি টাকার ঋণের কোনো হদিস মিলছে না। কারা কোথায় এবং কিভাবে এসব টাকা নিয়েছে পাওয়া যাচ্ছে না তার কোনো সন্ধান। প্রধান কার্যালয়ের নিচে অবস্থিত স্থানীয় কার্যালয়ের সব রেকর্ড, ফাইলপত্র তন্ন তন্ন করে খোঁজা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, হয় ঋণের টাকার হদিস করতে হবে, অন্যথায় এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হবে। একই সঙ্গে এসব টাকা গায়েব করার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রবল চাপে সোনালী ব্যাংক এখন ঋণের কাগজপত্র উদ্ধারে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। শীর্ষপর্যায় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যে করেই হোক ওইসব ফাইলপত্র খুঁজে বের করতে হবে। এরপর দীর্ঘ চেষ্টায় তারা কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করেছে। এগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে উপস্থাপন করে সোনালী ব্যাংক দাবি করেছে, ঋণের ওইসব টাকা গায়েব বা হাওয়া হয়নি। হিসাবের ভুল বা ফাইলপত্র হারিয়ে যাওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। এগুলো সবই পাওয়া যাবে। তবে একটু সময় লাগবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আরও সময় চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকের উদ্ধার করা কাগজপত্রগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। এতে সঠিকতা পাওয়া গেলে পরে এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংককে কিছু ছাড় দেয়া হতে পারে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান যুগান্তরকে বলেন, সোনালী ব্যাংক বলছে ঋণের টাকা যাদের দেয়া হয়েছে, তাদের কিছু কাগজপত্র তারা সংগ্রহ করেছে। এগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমাও দিয়েছে। এখন ওইগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। কাগজপত্রগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ এক নির্বাহী যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি অনেক আগের। গত বছর এটি আলোচনায় এসেছে। আমরা অনুসন্ধান করছি। আশা করি শিগগিরই সব কাগপত্র পেয়ে যাব। তিনি আরও বলেন, হিসাবের ভুল ও কাগজপত্র হারিয়ে যাওয়ার কারণে এমনিটি হয়েছে। এর বাইরে এটি কোনো জাল-জালিয়াতির ঘটনা নয়। তারপরেও এই ভুল বা দায়িত্বহীনতার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ব্যাংকাররা জানান, ব্যাংকের কাছে অনেক ক্ষেত্রে টাকার চেয়েও কাগজপত্র বেশি জরুরি। এজন্য টাকা যেমন সুরক্ষিত ভল্টে রাখা হয়, তেমনি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখার জন্য এক ধরনের সুরক্ষিত স্থান ব্যবহার করা হয়। ইদানীং ব্যাংকের তথ্য-উপাত্ত ব্যাংকের পাশাপাশি বাইরে অন্য কোনো গোপন স্থানেও সংরক্ষণ করা হয়। যাতে এক জায়গা থেকে কাগজপত্র হারানো গেলেও অন্য জায়গা থেকে পাওয়া যায়। এ ধরনের সুরক্ষিত স্থান থেকে কাগজপত্র হারিয়ে যেতে পারে না। তারপরও হারিয়ে গেলে প্রথমেই সন্দেহ হবে জালিয়াতি আড়াল করার জন্য ফাইল হারানোর নাটক সাজানো হয়েছে। আর প্রকৃতই ফাইল হারিয়ে গেলে ব্যাংকের টাকা লেনদেনের লেজারে বা খাতাপত্রে রেকর্ড পাওয়া যাবে, কে কখন কিভাবে এই টাকা তুলে নিয়েছে, সেই রেকর্ড থেকে ঋণের টাকা উদ্ধার করা সম্ভব। এ দুটির একটিও যদি না পাওয়া যায় তাহলে ধরে নিতে হবে এই ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংঘবদ্ধ জালিয়াতি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক শওকত আলী যুগান্তরকে জানান, ঋণের কাগজপত্র পাওয়া গেছে। যারা নিয়েছেন তারা এখন ব্যবসাও করছেন। এর বেশি কিছু বলা যাবে না। কেননা গ্রাহকের লেনদেনের গোপনীয়তা রক্ষা করা ব্যাংকারের দায়িত্ব।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল এই ঘটনা শনাক্ত করার পর সোনালী ব্যাংকের ফাইল তলব করলে তারা তা দেখাতে পারেনি। পরে এসব টাকার লেনদেন সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা ওই টাকার লেনদেনের কোনো তথ্যও উপস্থাপন করতে পারেনি। ফলে পরিদর্শক দল এই টাকার বিষয়ে আপত্তি দেয়।
সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে ২০১২ সালের তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল তদন্ত করার সময়ে কিছু ঋণের হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টিকে আমলে নিয়ে আরও ব্যাপকভিত্তিক তদন্ত করে। তাদের তদন্তে বেরিয়ে আসে ঋণের টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনাটি। তদন্তের সময়ে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা ওইসব টাকা কাদের ঋণ হিসেবে দিয়েছে তার স্বপক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও অনুসন্ধান করে দেখতে পায়, ২০০৪ সালে শাখা থেকে যেসব ঋণ দেয়া হয়েছিল তার মধ্যে ৫২৩ কোটি টাকার হদিস নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত শেষে সোনালী ব্যাংককে ওই ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখতে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ব্যাংক এক বছরের মধ্যে এ ব্যাপারে সব ধরনের কাগজপত্র উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে উপস্থাপন করার অঙ্গীকার করেছিল। ফলে ওই টাকার বিপরীতে তাদের প্রভিশন রাখার বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেয়।
২০১৩ সালের তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে তদন্ত শুরু করে। তখন ওই ঘটনার অগ্রগতি জানতে গিয়ে পরিদর্শক দল দেখতে পায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এক বছরেও সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কিছুই করতে পারেনি। ঋণের টাকা কোথায় গেল তার একটি ফাইলও উদ্ধার করতে পারেনি। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপর। এ পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এবার সোনালী ব্যাংকে ওই ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখার আবারও নির্দেশ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সোনালী ব্যাংক এবারও এর বিপরীতে প্রভিশন মওকুফ সুবিধা চায়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এবার আর এই সুবিধা দিতে নারাজ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সোনালী ব্যাংকের এমডি যদি এই বিষয়ে ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দেন তবে তারা প্রভিশন মওকুফ সুবিধাটিতে ছাড় দিতে পারে। অন্যথায় শতভাগ প্রভিশন রাখতে হবে। কিন্তু সোনালী ব্যাংকের এমডি ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিতে নারাজ। তিনি বিষয়টি পর্ষদে উপস্থাপন করতে চাচ্ছেন।
সোনালী ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, উদ্ধার কাগজপত্রের সূত্র ধরে আরও অনুসন্ধান চলছে। তারা আশা করছেন, এখন সব কাগজই পাওয়া যাবে। যেসব কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে ওইগুলো থেকে কারা ঋণ নিয়েছে তা শনাক্ত হয়েছে, তবে এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে তারা নারাজ।

১২৮ রানেই গুটিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে

ভাল সূচনা করলেও তা ধরে রাখতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। দুই উইকেটে শত রান তুললেও মাত্র ১২৮ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য নিয়ে খেলছে বাংলাদেশ। সফরকারীদের স্বল্প সংগ্রহে আটকে সেই স্বপ্নপূরণের দিকে এগোচ্ছে টাইগাররা। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভালই সূচনা করেছিল জিম্বাবুয়ে। প্রথম চিগুম্বুরা শিবিরে আঘাত আনেন মাশরাফি। পঞ্চম ওভারে সিকান্দার রাজাকে ফিরান তিনি। জুবায়ের হোসেনের করা ১৮তম ওভারে বোল্ড হয়ে ফিরে যান হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। ২১তম ওভারে ব্রেন্ডন টেইলরকে ফিরিয়ে দেন সাকিব। পুরে নবাগত তাইজুল ইসলামের ঝড়ো আঘাতে ল--ভ- হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে শিবির। একাই চার উইকেট নিয়ে সফরকারীদের বড় সংগ্রহে বাধা হয়ে দাঁড়ান তাইজুল। ৩০ তম ওভারে সাকিব শেষ উইকেট নিয়ে ১২৮রানেই বেধে ফেলেন সফরকারীদের।