Friday, November 2, 2018
বিক্ষোভ ও সমালোচনার মধ্যেই বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তির উদ্বোধন

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে মোদী ঐক্যের বার্তা দিতে চাইছেন। তবে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, বিজেপির এমন কোনও নেতা নেই যাঁর স্মৃতিতে পটেলের মূর্তির চার ভাগের এক ভাগ উচ্চতার মূর্তি তৈরি করা যায়।
কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেছেন, প্যাটেল তো কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। গান্ধীই তাঁকে সর্দার উপাধি দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের আরও কটাক্ষ, চার বছর ধরে মোদী ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র স্লোগান দিলেও প্যাটেলের মূর্তির বড় অংশ কিন্তু বানিয়ে আনতে হয়েছে চীন থেকে। ক’দিন আগেও শ’তিনেক চীনা কর্মী গুজরাটে এই মূর্তির কাজ করেছেন।
কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর মন্তব্য, সর্দার প্যাটেলও মোদীর হাতে ‘মেড ইন চায়না’।
বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, প্যাটেল নিজের হাতে আরএসএসকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা লিখেছিলেন।
সেই নির্দেশনা যেন মূর্তির নিচে বাঁধাই করা থাকে। তাহলেই প্রধানমন্ত্রীর গর্ববোধ সম্পূর্ণ হবে।
এদিকে যে নর্মদাতটে প্যাটেলের মূর্তি বসানো হয়েছে সেখানকার ২২টি গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিয়ে মোদীকে আসতে বারণ করেছিলেন।
তারা দাবি করেছেন, এই বিশাল মূর্তি বসানোর জন্য যে জমি নেওয়া হয়েছে সেজন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। এই মূর্তি বসানোর জন্য ১৮৫টি পরিবারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসেরও অভিযোগ করেছেন আদিবাসীরা। এলাকার তফসিলি জনজাতির মানুষ ক্ষোভে ঐক্যের মূর্তির অনুষ্ঠানের পোস্টারও ছিঁড়ে ফেলেছেন। পাল্টা সেখানে তারা বীরসা মুন্ডার ছবি লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে।
তবে এদিন পুলিশ কোনও বিক্ষোভ হতে দেয়নি। জানা গিয়েছে, ২৯৭৯ কোটি রুপি ব্যায়ে নির্মিত এই মূর্তিটি একজন স্বাভাবিক উচ্চতার মানুষের একশত গুন বেশি উচুঁ। এটি তৈরি করতে ৩ বছর ৯ মাস ধরে ২৫০ জন প্রকৌশলির অধীনে প্রায় ৩৪০০ শ্রমিক কাজ করেছেন। এতে লেগেছে ২৪ হাজার টন ইস্পাতের রড, ৩৩৩০ টন ব্রোঞ্জ, ২১২০০০ কিউবিক টন কংক্রিট। তবে বল্লভভাই প্যাটেলের মূল ভাস্কর্যের ছোট সংস্করণটি করেছিলেন প্রখ্যাত ভাস্কর রাম সুতার ও তার পুত্র। এটির বুকের কাছে গ্যালারি করা হয়েছে। যেখানে একসঙ্গে ২০০ মানুষ দাঁড়িয়ে থেকে নর্মদার সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারবেন। এর নিচে তৈরি করা হয়েছে বাগান ও সংগ্রহশালা। সর্দার প্যাটেলের মূর্তিটি উচ্চতায় আমেরিকার স্ট্যাচু অফ লির্বাটির দ্বিগুণ৷ চীনের স্পিং টেম্পল বুদ্ধ মূর্তি যেটি এখনও অবধি উচ্চতম স্ট্যাচু তার থেকে স্ট্যাচু অফ ইউনিটি ১০০ ফুট বেশি উঁচু।
তবে ভারত এখানে থেমে থাকতে রাজি নয়। সেজন্য এবার মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে তৈরি হচ্ছে এর থেকেই একশ ফুট বেশি উচ্চতার শিবাজীর মূর্তি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গোয়েন্দাজাল: মোসাদের চকোলেটে বিষের প্রলেপ by মোহাম্মদ আবুল হোসেন

১৯৭২ সালে জার্মানির মিউনিখে একটি গণহত্যার ঘটনা ঘটে। এতে ইসরাইলের অলিম্পিক দলের ১১ সদস্য নিহত হয়েছিলেন। এর জবাবে মোসাদ একটি অভিযান পরিচালনা করে।
এর নাম দেয়া হয় অপারেশন র্যাথ অব গড। যা অপারেশন ‘বেয়োনেট’ নামেও পরিচিত। এ অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিল মিউনিখ গণহত্যায় জড়িতদের হত্যা করা। মূল টার্গেট ছিল ফিলিস্তিনের সশস্ত্র উগ্রপন্থি গ্রুপ ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বরের’ সদস্যরা এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের অপারেটিভরা। এ অপারেশন অনুমোদন দিয়েছিলেন ১৯৭২ সালের শরতে তখনকার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মায়ার। ওই অপারেশন কমপক্ষে ২০ বছর অব্যাহত ছিল বলে মনে করা হয়। টিভিতে প্রচারিত ছবি ‘সোর্ড অব গিডিয়ন’ (১৯৮৬) এবং হলিউড পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গের ২০০৫ সালের ছবি ‘মিউনিখ’-এ এই অপারেশন তুলে ধরা হয়েছে। এই অপারেশনের সময়ে পাঠানো হতো লেটার বোমা বা চিঠি বোমা। অর্থাৎ চিঠির মাধ্যমে বোমা পাঠানো হতো। তবে এসব হামলার কোনোটাই খুব ভয়াবহ ছিল না। উদ্দেশ্য ছিল না কাউকে হত্যা করা। এমনই এক ঘটনা ঘটে নাৎসী যুদ্ধাপরাধী অ্যালোইস ব্রুনারের ক্ষেত্রে। তিনি ছিলেন পলাতক। তার হাতে পড়ে মোসাদের এমনই একটি লেটার বোমা। সেই চিঠি অ্যালোইস ব্রুনারের হাতে পড়ে ১৯৮০ সালে। তিনি যখন তা হাতে নেন তখন তা থেকে তার ডান হাতের চারটি আঙ্গুলই নষ্ট হয়ে যায়।
ফিলিস্তিনের লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের পপুলার ফ্রন্টের ফিলিস্তিনি এক নেতা ছিলেন ওয়াদি হাদাদ। তিনি আবু হানি নামেও পরিচিত ছিলেন। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে তিনি বেশকিছু বেসামরিক বিমান ছিনতাই করেন ১৯৬০-এর দশক ও ১৯৭০-এর দশকে। এটা সংগঠিত করার বিষয়ে তাকে দায়ী করা হয়। তাকে হত্যার টার্গেট নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় বিষযুক্ত চকোলেট। ১৯৭৮ সালের ২৮শে মার্চ
তিনি মারা যান লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যানসারে। ২০০৬ সালে ‘স্ট্রাইকিং ব্যাক’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন আহারন ক্লেইন। এতে তিনি দাবি করেন, ড. ওয়াদি হাদাদকে হত্যা করেছে মোসাদ। তারা তার কাছে পাঠিয়েছিল বেলজিয়ান চকোলেট। এতে ছিল বিষের প্রলেপ দেয়া, যা খুব ধীরগতিতে কাজ করে। ফলে এই বিষক্রিয়া সহজে শনাক্ত করার মতো নয়। ফলে কয়েক মাস পড়ে মারা যান হাদাদ। ক্লেইন তার বইয়ে বলেছেন, এ জন্যই হাদাদ মারা যেতে সময় লেগেছে কয়েক মাস।
এক পর্যায়ে মোসাদ আবিষ্কার করে যে, জার্মান নাগরিক স্টিভেন স্মাইরেককে দলে ভিড়িয়েছে যোদ্ধা গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এরপর স্টিভেন স্মাইরেক সফর করছিলেন ইসরাইলে। এ অবস্থায় তার ওপর কড়া নজর রাখে মোসাদ, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, জার্মান ইন্টারনাল সিকিউরিটি এজেন্সি ‘বুন্দেসামট ফার ভারফাসুঙ্গশটজ’ (বিএফভি) ও ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত। মোসাদের পরিচালিত এই অপারেশনে স্টিভেন স্মাইরেকের ওপর টানা পাখির দৃষ্টি রাখা হয়। তিনি ইসরাইলে অবতরণ করার পর পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ আছে, জার্মানির শিল্প-কারখানায়ও গোয়েন্দাবৃত্তি বা গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়েছে মোসাদ। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে বিএফভি’র প্রধান তার বিভাগের প্রধানদের কাছে একটি রিপোর্ট পাঠান সতর্ক করে। এতে বলা হয়, জার্মানির কম্পিউটার বিষয়ক সর্বশেষ গোপনীয়তা চুরির ক্ষেত্রে প্রধান হুমকি হিসেবে রয়েছে মোসাদ।
প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। জিয়াদ সাংবাদিক হলেও বুঝতে পারেন নি ওই যুবতী মোসাদের এজেন্ট। তাদের প্রেম যখন পরিণত তখন তা শুধু মৌখিক কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলো না। সেই সম্পর্ক গড়ালো বিছানায়।
উন্মাতাল প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে তারা যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেন। একবার দু’বার নয়। অনেকবার এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। ওই যুবতীর সঙ্গে জিয়াদ যখন বিছানায় বেসামাল তখন সেই দৃশ্য গোপনে ভিডিওতে ধারণ করে মোসাদের অন্য এজেন্টরা। ব্যাস, কেল্লাফতে! জিয়াদ আহমাদ ইতানির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হলো মোসাদের পক্ষ থেকে। বলা হলো লেবাননের সব কিছুতে তাকে গুপ্তচর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এতে অস্বীকৃতি জানান প্রথম দিকে জিয়াদ। কিন্তু তাকে চাপ দেয়া হয়। বলা হয়, ওই যুবতীর সঙ্গে তার যৌন সম্পর্কের ভিডিও আছে তাদের হাতে। তিনি যদি মোসাদের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন না করেন তাহলে ওই ভিডিও প্রকাশ করে দেয়া হবে। এমন চাপে পড়ে জিয়াদ আহমাদ ইতানি রাজি হয়ে যান মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করতে। ঘটনাটি খুব বেশিদিন আগের নয়। ২০১৭ সালে এ ঘটনায় ইসরাইলের গুপ্তচর সন্দেহে এ বছরই ২৪শে নভেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় জিয়াদ আহমাদ ইতানিকে। অভিযোগ আনা হয়, লেবাননের সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছেন তিনি। এমন অভিযোগ নিয়ে কাজ করে সরকারি সংস্থা লেবানিজ স্টেটস সিকিউরিটি। তারা নিশ্চিত করে যে, ইসরাইলের মোসাদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করছিলেন জিয়াদ। এই ইসরাইল এবং লেবানন হলো পরস্পরের ঘোর বিরোধী রাষ্ট্র। এক পর্যায়ে বিবৃতি দেয়া হয়। বলা হয়, বৈরুতে জিয়াদের বাসায় অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। সেখানে এমন দাবির পক্ষে অনেক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মাদক, চারটি ল্যাপটপ, ৫টি মোবাইল ফোন। এতে করে গোপন সব ডাটা সংরক্ষণ করতেন তিনি। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জিয়াদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন।
আরব অঞ্চলে গোয়েন্দাগিরি চালাতে গিয়ে মোসাদ এমনি উপায়ে অনেক এজেন্টকে ফাঁদে ফেলে তাদের দলে ভেড়ায়। সুন্দরীদের ব্যবহার করে এভাবে সদস্য সংগ্রহ করা বা শিকার ধরাকে বলা হয় ‘হানি ট্রাপ’। ১৯৫০-এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত মোসাদ আরব অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামরিক অভিজাত শ্রেণিকে এক্ষেত্রে টার্গেট করেছে। কিন্তু জিয়াদ আহমাদ ইতানির মতো একজন সাংবাদিককে ইসরাইলের গুপ্তচর বানানোর মতো বিষয় কমই ঘটেছে। দৈনিক আল আকবার পত্রিকার উপ-সম্পাদক পিয়েরে আবি সাব বলেন, জিয়াদের ঘটনাটি বলে দেয় মোসাদ এ অঞ্চলে নতুন এক গোয়েন্দা যুদ্ধ শুরু করেছে। তারা আরব অঞ্চলে প্রাধান্য বিস্তার করে এমন একটি রাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টা করছে যাতে তাদেরকে একটি স্বাভাবিক দেশ হিসেবে মেনে নেয় সবাই। ১৯৭৯ সালে ও ১৯৯৪ সালে যথাক্রমে মিশর ও জর্ডানের সঙ্গে ইসরাইল শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। তার অনেক আগে থেকেই আরব ও ইউরোপীয় অঞ্চলে দায়মুক্তি পাচ্ছে মোসাদ। এসব দেশে তারা ইসরাইলের শত্রুদের হত্যা করছে। তাদের সদস্য বৃদ্ধি করছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ফিলিস্তিনের বিখ্যাত বোদ্ধা ও লেখক ঘাসান কানাফানিকে ১৯৭২ সালে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হত্যা করে ইসরাইলের মোসাদ। তারা ১৯৮২ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আরো হত্যা করে মিশরের পারমাণবিক বিজ্ঞানী ইয়াহিয়া আল মাশাদকে। তবে মিশর ও জর্ডানের সঙ্গে তারা শান্তিচুক্তি করার পর দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তারা ফিলিস্তিনিদের হত্যার দিকে মনোনিবেশ করে। বর্তমানে অনেক আরব দেশের রাজধানীতে কাজ করছে মোসাদের বহু মিত্র। কতগুলো দেশে সরকারের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে তারা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গোয়েন্দাজাল: শিকার ধরতে সুন্দরীর ফাঁদ মোসাদের by মোহাম্মদ আবুল হোসেন

১৯৫৪ সালের কথা। মোসাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য এলো। তাতে বলা হলো, ইসরাইলের সামরিক গোপন প্রযুক্তি নিয়ে নাড়াচাড়া করেছেন বা এর সুবিধা পেয়েছেন এমন একজন ইসরাইল কর্মকর্তা মেজর আলেকজান্ডার ইসরাইল রয়েছেন ইসরাইলে। সেখানে তিনি মিশরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। মোসাদ খবর পেলো, তিনি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য ও গোপনীয় সব প্রযুক্তি বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে দ্রুত পদক্ষেপ নিলো মোসাদ ও শিন বেত কর্মকর্তারা। তাদের একটি টিমকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে পাঠানো হলো ইউরোপে। বলে দেয়া হলোÑ যত দ্রুত সময়ে হোক মেজর আলেকজান্দার ইসরাইলকে খুঁজে বের করতে হবে এবং তাকে অপহরণ করতে হবে। অবশেষে চিরুণি তল্লাশিতে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় তাকে আবিষ্কার করে ফেলল মোসাদ ও শিন বেত কর্মকর্তারা। এই মিশনের কোড নাম দেয়া হয়েছিল ‘অপারেশন ব্রেন’। মেজর আলেকজান্দার ইসরাইলকে শিকার করতে তার সামনে অপারেশনের ‘হানি ট্রাপ’ বা ফাঁদ পাতলেন এই টিমের একজন সুন্দরী এজেন্ট। মেজর আলেকজান্দার ইসলাইলকে একদিন আমন্ত্রণ জানালেন ওই সুন্দরী। তা করতে তিনি যতটুকু পারেন উদার হওয়ার চেষ্টা করলেন। সুন্দরী নারীর আহ্বানে নরম হয়ে গেলেন মেজর আলেকজান্দার। তিনি নিজেকে আর সংযত করতে পারলেন না। ফাঁদে পা দিলেন। ব্যাস আর যায় কোথা! অপহরণ করা হলো । তার ওপর চেতনানাশক প্রয়োগ করা হলো। ওদিকে প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় থাকে ইসরাইলের সেনাবাহিনীর একটি বিমান। তাতে তুলে নেয়া হয় মেজর আলেকজান্দারকে। তাকে নিয়ে ইসরাইলের উদ্দেশে উড়াল দেয় ওই বিমানটি। তবে ইসরাইলে আসার পথে জ্বালানি নেয়ার জন্য বেশ কয়েকবার থামতে হয় ওই বিমানটিকে। প্রতিবারই তিনি জেগে যাবেন এই ভয়ে তার ওপর প্রয়োগ করা হয় বাড়তি চেতনানাশক। এর মাত্রা এতটাই হয়ে যায় যে, তা ওভারডোজ বা অতিমাত্রায় প্রয়োগ হয়ে যায়। এতে তিনি মারা যান। কিন্তু বিমানের কোনো আরোহী বা অপহরণকারীদের কেউই বুঝতে পারেন নি তিনি আর নেই।
ইসরাইলের মাটি স্পর্শ করলো ওই বিমান। সঙ্গে সঙ্গে তাকে নামানোর চেষ্টা করা হলো। কিন্তু মাত্র তখনই তারা বুঝতে পারলো মেজর আলেকজান্দার মারা গেছেন। ফলে তাকে সমুদ্রেই সমাহিত করা হলো। এই ঘটনাটি দশকের পর দশক কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়েছিল।
এ ছাড়া উচ্চ পর্যায়ের গুপ্তচর ব্যবহার করে অস্ট্রিয়ান রাজনীতিক হায়দার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে মোসাদ।
১৯৬০ সাল। মোসাদ গোয়েন্দা তথ্যে আবিস্কার করলো নাৎসি নেতা, হলোকাস্টের সংগঠক জার্মান এডলফ আইসম্যান অবস্থান করছেন আর্জেন্টিনা। কোনোভাবে খুব সঙ্গোপনে আর্জেন্টিনায় পা রাখলেন পাঁচ মোসাদ এজেন্টের একটি টিম। এর নেতৃত্বে ছিলেন শিমন বেন আহারন। তারা গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির মাধ্যমে নিশ্চিত হলেন এডলফ আইসম্যানের বিষয়ে। তারা নিশ্চিত হলেন, আর্জেন্টিনায় নাম পাল্টে ছদ্মনাম ধারণ করেছেন এডলফ আইসম্যান। ওই দেশে তিনি নতুন নাম ধারণ করেছেন রিকার্ডো ক্লেমেন্ট। এই নামেই তিনি বসবাস করছেন আর্জেন্টিনা। কিন্তু ছদ্মনাম ধারণ করলে কি হবে! তার ওপর চোখ পড়েছে মোসাদের।
১৯৬০ সালের ১১ই মে। এদিন রিকার্ডো ক্লেমেন্ট নাম ধারণ করা এডলফ আইসম্যানকে অপহরণ করা হলো। নিয়ে যাওয়া হলো অজ্ঞাত স্থানে। এরপর তাকে পাচার করা হলো ইসরাইলে। এখানে তার বিচার হলো এবং তাকে মৃত্যুদ- দেয়া হলো। এর প্রতিবাদ করে আর্জেন্টিনা। কারণ, তারা একটি স্বাধীন সাবভৌম দেশ। তাদের দেশ থেকে এভাবে একজন মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া সেই সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে প্রতিবাদে উল্লেখ করলো আর্জেন্টিনা। এমন কর্মকান্ডের বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও প্রতিবাদ করে। তারা বলে, আন্তর্জাতিক শৃংখলা প্রতিষ্ঠায় যেসব নীতি রয়েছে, এর পুনরাবৃত্তি হলে, সেই সব নীতির লঙ্ঘন হবে। এতে সৃষ্টি হবে নিরাপত্তাহীনতা ও অনাস্থার এক পরিবেশ। শান্তি রক্ষার সঙ্গে যা মানানসই নয়। তাতে আরো বলা হয়, যে অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে সেই অভিযোগে এডলফ আইসম্যানকে যথাযথ বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির অশউইজ নির্যাতন শিবিরে একজন জার্মান অফিসার ও চিকিৎসক ছিলেন হোসে মেঙ্গেল। তাকেও অপহরণের একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই দ্বিতীয় অপারেশন থেকে সরে যায় মোসাদ।
১৯৯০ এর দশক। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করতে পারে এমন বিস্ফোরক ও অন্যান্য অস্ত্র তৈরিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর একজন এজেন্ট। বিষয়টি মোসাদের জালে ধরা পড়ে যায়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের সঙ্গে যৌথ অভিযানে নামে মোসাদ। তারা তার ওপর নজর রাখে। মনে করা হয় তিনি হিজবুল্লাহর অপারেটরদের সঙ্গে প্রতারণা করবেন। অর্থাৎ তিনি দায়িত্ব থেকে সরে আসবেন। কিন্তু না। তা হয় নি। ফলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০০১ সালের আগস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় দুই গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং সিআইএ’কে গোয়েন্দা তথ্য জানায় মোসাদ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদেরকে সতর্ক করা হয়। বলা হয়, গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে দুই শত সন্ত্রাসী। তারা বড় ধরনের অপারেশন চালানোর পরিকল্পনা করেছে। মোসাদ যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইকে সতর্ক করে এই বলে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিরাট আকারে টার্গেট করার ইঙ্গিত পেয়েছে তারা। এর ফলে আমেরিকানরা খুবই বিপন্ন হয়ে পড়তে পারেন। তবে ওই সতর্কতাকে কতটা বিশ্বাসযোগ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছিল তা জানা যায় নি। এর এক মাস পরে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়।
লাতিন আমেরিকার দেশ উরুগুয়ে। এখানেও জাল ছড়ানো মোসদের। ১৯৬৫ সালের কথা। ওই দেশে হলোকাস্টের অংশ হিসেবে লাতভিয়ান ইহুদিদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছিল। যারা এটা করেছিল তাদেরকে বলা হতো আরাজ কমান্ডো। এর সদস্য ছিলেন হার্বার্টস কুকারস। তিনি লাতভিয়ার একজন বৈমানিক। তাকে হত্যা করে মোসাদ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন দুই মুসলিম নারী

ইলহান ওমর মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত হচ্ছেন। এ অঞ্চলটি ডেমোক্রেটদের ঘাঁটি। সেখানে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে ইলহান ওমরকে। ফলে সেখানে জয় তার সুনিশ্চিত। অন্যদিকে রাশিদা তৈয়বা ডেট্রয়েটের একজন সমাজসেবক। অভিবাসী পরিবারে জন্ম হওয়ায় তিনি সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন। প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে তিনিই প্রথম ওই রাজ্য থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি লিখেছে, এ দুজন নারীই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে মুসলিম প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে মোট মুসলিম সদস্যের সংখ্যা দাঁড়াবে তিনজনে। কারণ, কংগ্রেসে এই মুহূর্তে আরো একজন মুসলিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে তিনি পুরুষ। তার নাম আঁদ্রে কারসন। তিনি আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। তিনি ইন্ডিয়ানা রাজ্যে পুনরায় নির্বাচন করছেন। এ আসনটি ডেমোক্রেটদের জন্য অতি মাত্রায় নিরাপদ। আর সেখানে ডেমোক্রেট দল থেকে নির্বাচন করছেন কারসন। তাই তার জয়ও নিশ্চিত বলে মনে করা হয়। এএফপি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রে যখন মুসলিমবিরোধী সেন্টিমেন্ট ক্রমেই বাড়ছে তখন কংগ্রেস নির্বাচনে মুসলিমদের এমন কাঙ্ক্ষিত বিজয় এক মাইলফলক সৃষ্টি করবে। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) রিপোর্ট করছে যে, ২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম বিরোধী ঘৃণা থেকে অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে ২১ শতাংশ। রাশিদা তৈয়বা ও ইলহান ওমর দুজনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার দল রিপাবলিকানদের ঘোরবিরোধী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিবাসন পলিসিতে যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন তার ঘোরবিরোধী এরা দুজনেই। এ ছাড়া তারা সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবাকে সমর্থন করে। তবে রিপাবলিকানরা এর বিরোধী। তৈয়বা ও ওমর দুজনেই চান যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) বিলোপ। এরই মধ্যে দেশজুড়ে ঘেরাও, তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে আইসিই। এর ফলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে দেশ থেকে বের করে দেয়ার আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মিশিগানে দীর্ঘদিন যেসব ইরাকি শরণার্থী অবস্থান করছেন তাদের মধ্যে এই ভয় বেশি। এমনই এক প্রেক্ষাপটে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গভেদ সব কিছুকে পেছনে ফেলে রিপাবলিকানদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এসব মুসলিম প্রার্থী।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গোয়েন্দাজাল: হত্যাকারীদের এলিট গ্রুপ মোসাদ by মোহাম্মদ আবুল হোসেন

এর অনেকটার সঙ্গে জড়িত এক অদৃশ্য জাল। সেই জাল গোয়েন্দাজাল। তাতে ধরা পড়ে অনেকে জেলে বন্দি। অথবা তাকে ফাঁদে ফেলে বিমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। তাতে চেতনানাশক প্রয়োগ করে মেরে ফেলা হয়েছে। এমন অসংখ্য নজির আছে কিছু কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে নিয়মিত আয়োজন ‘গোয়েন্দাজাল’-এর প্রথম পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। আজকের পর্বে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কর্মকা-।
মোসাদ ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের মূল কাজ তিনটি। এক. গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা। দুই. গোপন অপারেশন পরিচালনা করা ও তিন. সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা। এর সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট কিদোন নামে পরিচিত। হিব্রু ভাষায় মোসাদের পুরো নাম ‘হামোসাদ লেমোদি’ইন উলেতাফকিদিম মেয়ুহাদিম’। এর ইংরেজি অনুবাদ হলো ‘ইনস্টিটিউট ফর ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অপারেশনস’। অর্থাৎ গোয়েন্দা ও বিশেষ অপারেশনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান। ইসরাইলের জাতীয় গোয়েন্দা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান এই মোসাদ। ইসরাইলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে এটি প্রধানতম। এ ছাড়া আছে আরো দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংগঠন। এর একটি হলো আমান। অন্যটির নাম শিন বেত। আমান হলো ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। শিন বেত হলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা। তবে সরকারি বা সামরিক লক্ষ্য, অবকাঠামো, শক্তির সঙ্গে মোসাদের তুলনা হয় না। কারণ, এ সংস্থাটি ইসরাইলের মৌলিক আইন অনুসরণ করে না। অর্থাৎ, তাদের জন্য রয়েছে আলাদা নীতি। তাদের কাজ হলো গোপন বা সিক্রেট তথ্য নিয়ে কাজ করা। তবে তা কখনোই প্রকাশ করা হয় না। এর পরিচালক সরাসরি গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে রিপোর্ট করেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
নির্বাহী অফিস: মোসাদের সবচেয়ে বড় বিভাগ হলো কালেকশন বা সংগ্রহাগার। বিদেশে গুপ্তচর হিসেবে অনেক ইস্যুতে কাজ করে এ শাখা। কালেকশন ডিপার্টমেন্ট কূটনৈতিক বা অনুমোদনহীন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তারা কাজ করে নানা রকম ছদ্মবেশ ধরে। বিদেশি মিত্র-গোয়েন্দা সংস্থা ও দেশের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দায়িত্ব রয়েছে এ সংস্থার পলিটিক্যাল একশন অ্যান্ড লিয়াজোঁ ডিপার্টমেন্টের। যেসব দেশের সঙ্গে ইসরাইলের স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই সেখানে এভাবে কাজ করে তারা। এ ছাড়া মোসাদের রয়েছে একটি গবেষণা বা রিসার্স ডিপার্টমেন্ট। তারা কাজ করে গোয়েন্দাদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া গেলো তা উপস্থাপনার বিষয়ে। আছে টেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট নামে একটি বিভাগ। তারা কাজ করে মোসাদের কর্মকা- উন্নত করার জন্য সরঞ্জামের আধুনিকায়ন করাতে।
ইতিহাস: মোসাদের প্রথম পরিচালক ছিলেন রুবেন শিলোয়া। তিনি এ দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত। তার সুপারিশ হিসেবে সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট ফর কোঅর্ডিনেশন নামে ১৯৪৯ সালের ১৩ই ডিসেম্বর প্রথম মোসাদ গঠন করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গারিয়ন। সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা আমান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সার্ভিস শিন বেত ও পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক বিভাগের বিদ্যমান নিরাপত্তা সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা উন্নত করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা গঠন করতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেন গারিয়ন। ১৯৫১ সালের মার্চে একটি ঘোষণা দেয়া হলো। তাতে একে স্বীকৃতি দেয়া হলো এবং প্রধানমন্ত্রীর অফিসের অধীনস্ত একটি অংশ বলে ঘোষণা দেয়া হলো। বলা হলো এ সংগঠন সরাসরি রিপোর্ট করবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
মোসাদের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট: সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের মধ্যে অন্যতম হলো মোসাদা। এই ইউনিটটি শত্রুদের বিরুদ্ধে আক্রমণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। এটি পরিচালিত হয় যোদ্ধাদের ক্ষুদ্র ইউনিট দিয়ে। তাদের মিশনের মধ্যে রয়েছে হত্যা মিশন চালানো ও সাবোটাজ করা। এ ছাড়া রয়েছে কিদন নামে একটি ইউনিট। এটি সিসারিয়া বিভাগের (এটি হলো মোসাদের আটটি বিভাগের মধ্যে অন্যতম) অধীনস্ত। আমেরিকান বংশোদ্ভূত ইসরাইলি সাংবাদিক ও লেখক, দ্য জেরুজালেম পোস্ট পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ইয়াকভ কাটজ একে বর্ণনা করেছেন এভাবে “এটি হলো বিশেষজ্ঞ হত্যাকারীদের একটি এলিট বা অভিজাত গ্রুপ। গুপ্তচরবিষয়ক সংগঠনের হয়ে সিসারিয়া শাখার অধীনে তারা কাজ করেন। তবে রহস্যময় এই ইউনিট সম্পর্কে এর চেয়ে বেশি কিছু জানা যায়নি। ইসরাইলি গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য গোপন অবস্থায় রয়েছে।” ইসরাইলের প্রতিরক্ষাবাহিনীর বিশেষায়িত একটি বিশেষ ইউনিট হলো অভিজাত আইডিএফ। এই ইউনিট থেকে সাবেক সেনা সদস্যদেরকে নিয়োগ করা হয় কিদন ইউনিটে। পরিচালনার জন্য মোসাদ খুলেছে একটি মূলধন বিষয়ক তহবিল। নতুন সব সাইবার প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য উচ্চ মাত্রার প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য এটা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয় না।
মোসাদের পরিচালকরা
রুভেন শিলোয়া। তিনি ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন পরিচালক হিসেবে।
ইসার হারেল ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
মেইর অমিত পরিচালক ছিলেন ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত।
জভি জমির ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
আইজাক হোফি ১৯৭৩ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
নাহুম আদমোনি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
শাবতাই শাভিট ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
ড্যানি ইয়তম ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। ইফ্রেইম হালভি ১৯৯৮ থেকে ২০০২ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
মেইর ডাগান ২০০২ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
তামির পারদো ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৬ থেকে দায়িত্বে অব্যাহত আছেন ইয়োসি কোহেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংলাপ

গণভবনে সংলাপে অংশ নেয়ার আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বেইলী রোডের বাসায় বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তারা গণভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গণভবনে পৌঁছান। সন্ধ্যা ৭টায় দুই পক্ষের সংলাপ শুরু হয়। গণভবনের ব্যাংকুইট হলে দুই পক্ষের নেতারা সামনা সামনি বসে আলোচনা করেন। শুরুতে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের গণভবনে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সূচনা বক্তব্য রাখেন। এরপর শুরু হয় মূল আলোচনা। বৈঠকের শুরুতে নেতাদের চা ও হালকা নাস্তায় আপ্যায়িত করা হয়। তবে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নৈশভোজে অংশ নেননি ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের ২৩ নেতা: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে ১৪ দলীয় জোটের ২৩ নেতা অংশ নেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফরউল্লাহ, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, মাইনুদ্দিন খান বাদল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আওয়ামী লীগের ড. আবদুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন, আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।
ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে ২০ নেতা: ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ২০ সদস্য অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিক উল্লাহ। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এসএম আকরাম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আ ব ম মোস্তফা আমিন। গতকাল শেষ মুহূর্তে যে পাঁচজনের নাম পাঠানো হয়েছিল তাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ছাড়া অন্য চার জন সংলাপে অংশ নেন।
সূচনা বক্তব্যে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী: সংলাপের শুরুতে সূচনা বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে গণভবনে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আজকে এই অনুষ্ঠানে আপনার এসেছেন গণভবন ও জনগণের ভবনে। আপনাদেরকে স্বাগত জানাই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য যে আর্থসামাজিক উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছি এবং দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে গণতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এই দেশটা আমাদের সবার, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি এটা বিচারের ভার আপনাদের উপর ছেড়ে দেবো। দীর্ঘ নয় বছর ১০ মাস হতে চললো আমরা এই সময়ের মধ্যে দেশে কত উন্নয়ন করতে পেরেছি সেটা নিশ্চয়ই আপনারা বিবেচনা করে দেখবেন। তবে এটুকু বলতে পারি, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভালো আছে; তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে। দিনবদলের যে সূচনা আমরা করেছিলাম সেই দিনবদল হচ্ছে এটাকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
গণভবনের সামনে মোমবাতি নিয়ে মানববন্ধন: সংলাপ অর্থবহ করতে গণভবনের সামনে ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাকর্মীদের মোমবাতি নিয়ে মানববন্ধন করেন। সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে পৌঁছান ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তার আগে গণভবনের সামনে ঐক্য প্রক্রিয়ার কর্মীরা গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তাদের হাতে মোমবাতিও দেখা যায়। ঐক্য প্রক্রিয়ার কর্মীরা প্ল্যাকার্ডে সংলাপের সফলতা কামনা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবির আদলে বিভিন্ন স্লোগান তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার আওয়ামী লীগের প্রতি সংলাপের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তার চিঠির জবাবে পরের দিন সংলাপে সাড়া দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার সকালে ড. কামাল হোসেনের বেইলী রোডের বাসায় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণপত্র নিয়ে যান আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। সংলাপে করণীয় ঠিক করতে এদিনই বিকালে বৈঠকে বসেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। বৈঠকে ৭ দফার ভিত্তিতে আলোচনার লক্ষ্য ঠিক করার পাশাপাশি ১৬ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নাম চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে গতকাল আরো পাঁচজনের নাম পাঠানো হয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে। নির্বাচন সামনে রেখে আজ বিকল্প ধারার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে বসছে। সোমবার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি সঙ্গে সংলাপের সংলাপ হবে। বাম গণতান্ত্রিক জোটও সংলাপের জন্য চিঠি দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল জানিয়েছেন, জাকের পার্টি, নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন বিএনএসহ আরো কয়েকটি দল ও জোট সংলাপের আগ্রহ দেখিয়েছে। সময় কম থাকায় এসব দল এবং জোটের সঙ্গে একক বা যৌথভাবে সংলাপ হতে পারে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সব পোশাক খুলে ফেললেন জেনিফার লোপেজ!

অবশ্য তার এমন ছবি নিয়ে খুব বেশি হতাশ হওয়ারও কিছু নেই। কারণ, তিনি ‘বুটি’ গান গেয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। সেখানে অসম্ভব এক যৌনতার আবহ সৃষ্টি করেছেন। ইউটিউবে ওই গানটির ভিডিও সংস্করণ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু মানুষ। মন্তব্য করেছেন এক লাখ ৪১ হাজার ৫৭১ জন। এর মধ্যে একজন বলেছেন, ওই মিউজিক ভিডিওতে মিউজিকের উপস্থাপনা আছে শতকরা ১ ভাগ। বাকি ৯৯ ভাগই পর্নোগ্রাফি। একই মন্তব্য করেছেন কাবিনেহ এম কোনেহ নামে এক ব্যক্তি। তিনি সঙ্গে যোগ করেছেন, কি লজ্জা জে লো? একজন তো আরো বাঁকা করে মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, তার বাচ্চারা এই ভিডিও দেখলে কেমন প্রতিক্রিয়া হবে তাদের তা দেখার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না।
এ সবই পিছনের কথা। ফিরতে হচ্ছে বর্তমানে। জেনিফার লোপেজ দুই সন্তানের মা। বয়স তার ৪৯ বছর। ম্যাটেরিয়াল গার্লখ্যাত ম্যাডোনার চেয়ে কয়েক বছরের ছোট তিনি। কিন্তু বয়স যতই বাড়ছে ততই খুল্লামখুল্লা হয়ে উঠছেন জেনিফার। ‘ইনস্টাইল’ নামের একটি ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে তার ছবি ছাপা হবে তাই নগ্ন হয়েই দাঁড়িয়ে পড়লেন ক্যামেরার সামনে। এমন ছবিকে অনেকেই অবিশ্বাস্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ সময়ে তার পায়ে ছিল একজোড়া হাইহিল। কানে ছিল বুলগেরিয়ার গহনা। এ নিয়ে ওই ম্যাগাজিনের সাংবাদিকের কাছে তিনি বলেছেন, তিনি নিজের যে ফিগার তাতে অন্যদের কখনো উৎসাহিত করতে চান নি। জেনিফার লোপেজ বলেন, আমি শুধু আমার মতো হতে চেয়েছি। আমার পরিবারে শরীরের কার্ভ বা গঠন হলো উজ্বলতার অংশ। সংস্কৃতির অংশ। এটা এমন একটি বিষয় যেখানে জেনিফারের থাকবে বড় আকৃতির সব জিনিসপত্র। আর তা দেখতে হবে সুন্দর।
শিল্প জগতে নারীদের যৌনতার বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন তিনি। এর নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সময়ে আছি। যেখানে নারীরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের প্রত্যাশা কি তা প্রকাশ করতে আমরা কোনো ভয় পাই না।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের শুরুর দিকে অ্যালেক্স রড্রিগুয়েজের সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করা শুরু করেন জেনিফার লোপেজ। সেই সম্পর্ক নিয়ে তিনি ‘ইনস্টাইল’ ম্যাগাজিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। বলেছেন, তাদের জুটিটি একদম পারফেক্ট। তিনি বলেন, যখন আমাদের দু’জনের দেখা হলো ততক্ষণে আমরা প্রচুর কাজ করে ফেলেছি নিজেরা। সবার মধ্যেই ভুলত্রুটি থাকে। আমার জীবনে আমি যাদেরকে প্রত্যাশা করেছি, তারা স্বীকার করে নিয়েছেন তাদের ভুলত্রুটি কি। সেই সব ভুলত্রুটিকে পিছনে ফেলে আমরা এক হয়ে চলার কথা বলেছি।
জেনিফার লোপেজের সাক্ষাতকার ভিত্তিক ওই প্রতিবেদনটি ‘ইনস্টাইলে’ প্রকাশ পাচ্ছে আগামী ৯ই নভেম্বর।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1265)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
November
(232)
-
▼
Nov 02
(7)
- বিক্ষোভ ও সমালোচনার মধ্যেই বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্ত...
- গোয়েন্দাজাল: মোসাদের চকোলেটে বিষের প্রলেপ by মোহাম...
- গোয়েন্দাজাল: শিকার ধরতে সুন্দরীর ফাঁদ মোসাদের by ম...
- যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন দুই মু...
- গোয়েন্দাজাল: হত্যাকারীদের এলিট গ্রুপ মোসাদ by মোহা...
- সংলাপ
- সব পোশাক খুলে ফেললেন জেনিফার লোপেজ!
-
▼
Nov 02
(7)
-
▼
November
(232)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...