Friday, June 10, 2011

উন্নয়নবান্ধব বাজেটের প্রত্যাশায় by মইনুল ইসলাম

বাজেট শুধুই সরকারের আগামী অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের প্রাক্কলিত পরিমাণের দলিল হলে এ নিয়ে এত মাতামাতি হতো না। প্রকৃত প্রস্তাবে এতে সরকারের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দর্শনেরও প্রতিফলন প্রত্যাশিত বলে বাজেট উপস্থাপনের আগে ও পরে বাজেট নিয়ে আলোচনা-বিশ্লেষণ-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় প্রতিবছর। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের প্রায় আড়াই বছরের মাথায় তৃতীয় বাজেট উপস্থাপন করা হবে কাল ৯ জুন। এই প্রেক্ষাপটে কিছু আলোচনা-বিশ্লেষণ উপস্থাপন করছি।
১. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো মানব উন্নয়নের মূল ক্ষেত্রগুলোতে বাজার ব্যর্থতার স্বীকৃত বিষয়টিকে ফোকাসে নিয়ে এই দুটি খাতে রাষ্ট্রের ভূমিকা ও ব্যয়কে বাজেট বরাদ্দের যৌক্তিক অনুপাতের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার প্রদান;
২. জ্বালানি, বিদ্যুৎ, সড়ক-জনপথ, রেলপথ, নৌপথ, নদী খনন, স্যানিটেশন, পানীয় জল সরবরাহ ইত্যাকার ভৌত ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ঘাটতি নিরসনকে অগ্রাধিকার প্রদান;
৩. বাজারব্যবস্থা এবং ব্যক্তি খাতনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কর্তৃক সৃষ্ট আয় ও সম্পদ বৈষম্য নিরসন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণকামী নিরাপত্তা জাল (Safety net) সম্প্রসারণ ও জোরদারকরণ;
৪. প্রতিরক্ষা, সিভিল প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা খাতে সরকারি ব্যয় ক্রমান্বয়ে হ্রাস করে উন্নয়ন বাজেটে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের অনুপাত ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধির মাধ্যমে পাবলিক বিনিয়োগের আয়তন বৃদ্ধিকরণ ও বৈদেশিক খয়রাত নির্ভরতা হ্রাসকরণ;
৫. বাজেটের পরোক্ষ কর নির্ভরতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস করে আয়কর ও সম্পদ করকে সরকার রাজস্ব আহরণের প্রধান সূত্রে রূপান্তরকরণ এবং
৬. সরকারি ভর্তুকি ব্যবস্থাকে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে সমাজের পিছিয়ে পড়া উৎপাদনশীল কৃষক-শ্রমিকের কল্যাণে নিয়োজিত করা।
উল্লিখিত বিষয়গুলোর আলোকেই বলা যাবে, বাজেট সত্যিকার অর্থে উন্নয়নবান্ধব বাজেট হওয়ার পথে এগোচ্ছে, নাকি গতানুগতিকতার বৃত্তে আবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। বর্তমান অবস্থাটা ওপরের মূল উন্নয়ন চাহিদাগুলোর আলোকে পর্যালোচনা করলে চিত্রটা হতাশাব্যঞ্জক মনে হবে।
১. শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের সরকারি ব্যয় দক্ষিণ এশিয়ায় জিডিপির অনুপাত হিসেবে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে এই অনুপাত ২.০৭ শতাংশে নামিয়ে ফেলেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। ২০১০-১১ অর্থবছরে এই হার ২.৫ শতাংশে উন্নীত হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। কিন্তু UNESCO জাতিসংঘের সব সদস্যদেশকে আহ্বান জানিয়েছে এই হারকে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৮ শতাংশে উন্নীত করার জন্য। তাই আমাদের প্রথম দাবি, ২০১১-১২ সালের বাজেটে এই হারকে অন্তত ৪ শতাংশে পৌঁছানো হোক। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদেরও দাবি এটা। বর্তমান সরকারের সাফল্যের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হোক শিক্ষা সংস্কার। অতএব, শিক্ষার জন্য সরকারি ব্যয়কে জিডিপির ৪ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণাটা অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের বাজেট বক্তৃতার সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘোষণা হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
২. এ দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থাও বড়ই নাজুক। ব্যাঙের ছাতার মতো প্রাইভেট ক্লিনিকের প্রসার, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অমানবিক মুনাফাবাজি এবং সরকারি হাসপাতাল-ডিসপেনসারি-ক্লিনিকগুলোর বেসামাল অব্যবস্থা এ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বাজারীকরণের রক্তচোষা ঘোষণাকে ফুটিয়ে তুলছে। সম্প্রতি প্রকাশিত খসড়া স্বাস্থ্যনীতিতে এহেন বাজারীকরণের রাশ টেনে ধরার সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া গেল না। তবু আমরা আশা করতে চাই, পল্লি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে আগামী বছরের মধ্যেই পুরোপুরি সচল ও কার্যকর করার জন্য বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়ানো হবে। প্রতি জেলায় সরকারি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে একটি করে পূর্ণাঙ্গ নার্সিং কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা এবারের বাজেট বক্তৃতায় একটি আশা জাগানো ব্যাপার হতে পারে।
৩. ভৌত ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো খাতের সংকটজনক ঘাটতি ও বিপর্যয়কর অপ্রতুলতা বর্তমান পর্যায়ে এ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রচণ্ডভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং যোগাযোগ খাতের সংকট জনজীবনকে যেমনি বিপর্যস্ত করে দিয়েছে, তেমনি উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোরও দক্ষতাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে চলেছে। স্বল্পমেয়াদি রেন্টাল বিদ্যুতের মাধ্যমে আগামী এক বছরে বিদ্যুতের মারাত্মক লোডশেডিং সহনশীল পর্যায়ে কমিয়ে আনার আশাবাদ সৃষ্টি হলেও মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি সরকার। কয়লানীতি নিয়ে টালবাহানা থামছে না। সংসদে খসড়া কয়লানীতি নিয়ে আলোচনা করতে বাধা কোথায়? গ্যাস আবিষ্কার ও উত্তোলনের পিএসসির শর্ত গোপন রাখার কী দরকার? এগুলো নিয়ে খোলামেলা জাতীয় সংলাপ সন্দেহ ও অবিশ্বাসের অবসান ঘটাতে সহায়ক হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিসম্পদ উন্নয়নে নানা পরিকল্পনার কথাই শুধু শোনা যাচ্ছে। সৌরবিদ্যুতের উৎপাদনকে বাজেটে ভর্তুকির আওতায় আনা হচ্ছে না কেন? কৃষি খাতে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প প্রতিষ্ঠার ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ নিয়ে ‘সৌর প্যানেল’ স্থাপনের ব্যয়ের ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ সরকারি ভর্তুকি প্রদান করা হোক। বাকি ব্যয় সুবিধাভোগী ভূমিমালিক ও কৃষকেরা সমবায় সমিতির মাধ্যমে বহন করবেন, পাম্প পরিচালনার ব্যয়ও তাঁরা বহন করবেন। শুষ্ক মৌসুম ছাড়া বছরের বাকি নয় মাস যেহেতু বাড়িঘরের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সৌরবিদ্যুতের প্যানেলগুলোর বিকল্প ব্যবহার নামমাত্র বাড়তি খরচে করা সম্ভব হবে, তাই পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য সৌরবিদ্যুৎ দেশকে একটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দেবে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চাই। শহরাঞ্চলেও সৌর প্যানেল স্থাপনকে উৎসাহিত করতে সৌর প্যানেল উৎপাদনের যাবতীয় কাঁচামাল ও সরঞ্জাম আমদানিকে করমুক্ত ঘোষণা করা হোক। গৃহস্থালি ব্যবহারে গ্যাস সিলিন্ডারের যাবতীয় কাঁচামাল ও সরঞ্জামকে করমুক্ত আমদানি সুবিধা দেওয়া হোক।
৪. যোগাযোগব্যবস্থায় রেলওয়ে বর্তমান সরকারের আমলে আরও স্থবির হয়ে পড়েছে। রেলওয়েকে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার প্রস্তাবটা কোথায় আটকে আছে? ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ ডাবল ওয়ে করা, ঢাকা-লাকসাম কর্ড লাইন স্থাপন, দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার-ঘুনধুম রেলপথ নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করা, ঢাকা-চট্টগ্রাম ননস্টপ আরও দুটি ট্রেন চালু করা—এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করার স্বার্থে আলাদা রেল মন্ত্রণালয় নিঃসন্দেহে সময়ের দাবি।
৫. বর্তমানে সরকারের রাজস্ব বাজেটের ৫৮ শতাংশ ব্যয় বরাদ্দ করা হচ্ছে সিভিল প্রশাসন, প্রতিরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা খাতের মতো অনুৎপাদনশীল সরকারি খাতে। এই তিনটি প্রধান খাতের সরকারি ব্যয়ের রাশ টেনে ধরা না গেলে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার (ADP) বৈদেশিক ঋণ ও অনুদাননির্ভরতা সহজে কমানো যাবে না। সংসদে প্রতিরক্ষা নীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় বাধা কোথায়? আমরা কি আগামী ১০ বছরে প্রতিরক্ষা বাহিনীর আকার-আয়তন এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস করতে পারি না? উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর তিন মাসের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করে দেশে একটি প্রয়োজনীয় আকারের ‘রিজার্ভ সশস্ত্র বাহিনী’ কি গড়ে তোলা যায় না?
৬. ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার, ই-গভর্নেন্স যার একটি প্রস্তাবিত ডাইমেনশন। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির চলমান বিপ্লবকে ধারণ করে আগামী ১০ বছরে সিভিল প্রশাসনের আকার-আয়তন কি এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে ফেলা যায় না? ঔপনিবেশিক কাঠামোর প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর এত সব বাহিনীর আজও কী প্রয়োজন? কলম-পেশা কারণিকদের বস্তা বস্তা ফাইল আর নোটিং থেকে জাতির মুক্তি মিলবে না? ফাই-ফরমাশ খাটা আর চা-নাশতা খাওয়ানোর জন্য পিয়ন-আর্দালি ছাড়া সব আধুনিক দেশের প্রশাসন চলতে পারলে আমরা পারব না কেন? সরকারি প্রশাসন স্রেফ নাগরিকদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহূত হওয়ার কোনো যুক্তি নেই। কর্মসংস্থান করবে অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাত ও প্রতিষ্ঠানগুলো—সরকারের ভূমিকা হবে প্রধানত নিয়ন্ত্রক ও রেফারির। আর রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্বই হচ্ছে আয় ও সম্পদ পুনর্বণ্টন এবং উৎপাদনের বাতাবরণকে নির্বিঘ্ন করা। অপ্রয়োজনীয় কর্মচারী ছাঁটাই এবং আমলাতান্ত্রিক শাখা বিস্তারকে কঠোরভাবে রাশ টেনে ধরা গেলে সিভিল প্রশাসন খাতে সরকারি রাজস্ব ব্যয় ক্রমান্বয়ে হ্রাস করে আগামী ১০ বছরে এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে ফেলা খুবই সম্ভব। এ দেশের আমলাতন্ত্র সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা প্রবাদপ্রতিম। অথচ ড. আকবর আলি খানের নেতৃত্বাধীন রেগুলেটরি রিফর্মস কমিশনকে বর্তমান সরকার গুটিয়ে ফেলতে মোটেও বিলম্ব করল না! দুঃখটা রাখি কোথায়?
৭. সরকারি প্রশাসনিক ব্যয়ের একটা বিশাল অংশ টিএ/ডিএ খাতে ব্যয় হয়, এটা ওয়াকিবহাল মহলের অজানা নয়। টিএ/ডিএসংক্রান্ত বিধিমালাকে সংস্কার করা যায় না? কোন জায়গায় যেতে খরচ কত হয়, তা কি সঠিকভাবে জানা অসম্ভব? জুনিয়র আমলাকেও সরকারি খরচে গাড়ি দৌড়াতে দেব কেন? রিকুইজিশন করা গাড়িতে আমলা-পরিবারের হাওয়া খাওয়ার সংস্কৃতি কবে বন্ধ হবে? সচিব মহোদয়দের সেডান কার দিয়ে ৪০ বছর কাজ চালানোর পর এখন পাজেরো জিপ লাগবে কেন? তাদের পাজেরো দিলে আরও কয়েক শ পাজেরোর ডিমান্ড নোট আসতে মোটেও দেরি হবে না? সশস্ত্র বাহিনীতে চাল-তেল-আটা-ময়দা-চিনির ভর্তুকি কি কিছুটা কমানো একেবারেই অসম্ভব? সরকারি ভর্তুকি ব্যবস্থাকে তেলা মাথায় তেল দেওয়ার কাজে আর কত দিন ব্যবহার করব?
৮. সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থার প্রত্যক্ষ কর-নির্ভরতা বৃদ্ধি শ্লথ হয়ে গেল কেন? ২৮ লাখ TIN ধারী রয়েছে এ দেশে, অথচ আয়কর দিচ্ছে নাকি মাত্র সাড়ে আট লাখ করদাতা! তথ্যপ্রযুক্তি আয়কর প্রশাসনে পৌঁছাতে আর কত দিন লাগবে? জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরটা আয়করদাতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা যায় না? ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে যাবতীয় আর্থিক লেনদেনে এই নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করলে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় তা বিরাট অবদান রাখবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবমতে এ দেশে ২৩ হাজার ২১২ জন কোটিপতি রয়েছেন বলে জানুয়ারি ২০১১-তে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এই কোটিপতিদের কতজন তাঁদের প্রদেয় আয়কর দিচ্ছেন, সে তালিকাটা নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা যায় না? সরকারি রাজস্বের ৫০ শতাংশের বেশি যেদিন প্রত্যক্ষ কর থেকে আদায় করা হবে, সে দিনই হবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রের সত্যিকার গণমুখী রূপান্তরের অন্যতম প্রধান মাইলস্টোন অতিক্রম!
৯. বাজেটে মানি লন্ডারিং বা কালো টাকা সাদা করার অপসংস্কৃতি বন্ধ করুন। শেয়ারবাজারে গত দুই বছর সরকারই আমন্ত্রণ জানিয়েছিল কালো টাকাকে। আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। এখন এই ভুল নীতির পরিণতি কী হয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পিপিপি বা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ নিয়ে গতবারের বাজেট বক্তৃতায় এত আশাবাদ ব্যক্ত করা সত্ত্বেও ফলাফল ‘অশ্বডিম্ব’। ওই বিষয়টাতে আরেকটু মনোযোগ দিন।
পরিশেষে বলব ২০১০-১১ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, সে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে অযথা সময় ও শ্রম অপচয় একেবারেই বে-ফজুল। বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বর্ণ সম্ভাবনার দ্বার খোলার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। একটা সত্যিকারের উন্নয়নবান্ধব বাজেট বাস্তবায়ন করে আগামী অর্থবছরে উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার রাজপথে শামিল হোন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা সরকারের কাছে।
ড. মইনুল ইসলাম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

অর্থ অনর্থের মূল by আতাউর রহমান

আমরা বাল্যকালে বলাবলি করতাম, ‘পৃথিবীটা কার বশ?’ বলা বাহুল্য, এটা একটা ধাঁধা এবং ধাঁধার উত্তর প্রশ্নটির মধ্যেই নিহিত—পৃথিবী টাকার বশ। আর যৌবনকালে সিনেমায় গান শুনেছিলাম, ‘টাকা তুমি দেখতে গোল/ করো যত গন্ডগোল...’ ইত্যাদি। সেদিন সিনেমায় যিনি ‘লিপ-সিং’ করেছিলেন, সেই জলিল সাহেব এখন ধানমন্ডিতে আমার প্রতিবেশী। জীবদ্দশাতেই তিনি দেখতে পাচ্ছেন, এখনকার নিকেলে তৈরি গোলাকার এক টাকার মুদ্রার মান তখনকার তামার তৈরি এক পয়সার সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অবশ্য টাকা-পয়সা ছাড়া আমাদের এক দিনও চলে না। অথচ কিছুদিন আগে পত্রিকায় পড়েছিলাম, এই ধারণা ভ্রান্ত বলে প্রমাণের জন্য মার্ক বয়েল নামের এক ইংলিশ যুবক ২০০৮ সালের নভেম্বর থেকে টাকা-পয়সা খরচ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন—তিনি ব্রিস্টলের একটি কৃষি খামারের সন্নিকটে মুফতে পাওয়া এক ক্যারভানে বাস করেন, খামারে নিজের খাদ্য নিজেই ফলান ও তা রান্না করেন স্বয়ং সংগৃহীত লাকড়ির চুলোয়, বিদ্যুৎ পান একটি সৌর প্যানেল থেকে, টুথপেস্ট-সাবান ইত্যাদিও প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি করে থাকেন; আর তাঁর মোবাইল ফোনেও তিনি শুধু ইনকামিং কলের ব্যবস্থা রেখেছেন। তিনি এভাবে কত দিন চালিয়ে যেতে পারবেন, সেটাই আপাতত আমাদের ঔৎসুক্যের বিষয়।
সে যাক গে। কেউ যদি কেবলই টাকা-পয়সার পেছনে ছোটে, তাহলে তাকে আমরা বলি টাকাপাগল; যদি সে এটা জমিয়ে রাখে, তাহলে সে পুঁজিবাদী; যদি সে যথেচ্ছ খরচ করে, তাহলে সে অমিতব্যয়ী; যদি সে এটা না পায়, তাহলে সে নিষ্কর্মা; যদি সে এটা প্রাপ্তির প্রচেষ্টা প্রত্যাহার করে, তাহলে সে উচ্চাকাঙ্ক্ষাহীন; আর যদি সে কোনো পরিশ্রম ছাড়াই এটা পায়, তাহলে সে পরজীবী। এবং সে যদি সারা জীবন পরিশ্রম করে এটাকে পুঞ্জীভূত করে, লোকেরা যখন বলাবলি করতে থাকে যে সে একজন অপদার্থ, যে জীবন থেকে কিছুই পেল না। তবে হ্যাঁ, কৃপণদের সঙ্গে জীবনযাপন কষ্টকর হলেও পূর্বপুরুষ হিসেবে ওরা যে মহান, সেটা বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিশ্বের তাবৎ গুণী আর ধনী ব্যক্তি কিন্তু টাকা-পয়সা সম্পর্কে অনেক মজার কথা বলে গেছেন। সবাইকে উদ্ধৃত করতে গেলে সাতকাহন হয়ে যাবে; আপাতত গুটি কয়েকের মন্তব্য উপস্থাপন করছি। সর্বাগ্রে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ; তিনি বলেছেন, ‘টাকা যে মানুষ জমিয়েছে, অনেক পাপ জমিয়েছে সে তার সঙ্গে (সাধে কি আর বলা হয়, লাখকে মেরেই তবে লাখপতি)।’ অতঃপর অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র; তিনি বলেছেন, ‘মানুষ খাঁটি কি-না চেনা যায় শুধু টাকার সম্পর্কে। এ জায়গায় নাকি ফাঁকি চলে না। তাই এখানেই মানুষের যথার্থ রূপ প্রকাশ পায়।’ মহামতি ভলটেয়ারও বলেছেন, ‘যখন প্রশ্নটা টাকা-পয়সার, সবার ধর্ম একই।’
কিন্তু এগুলো তো বেশ গুরুগম্ভীর কথা, হালকা মেজাজের কথার জন্য আমাদের যেতে হবে অন্যত্র। সমারসেট মম্ বলেছেন, ‘টাকা-পয়সা হচ্ছে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের মতো, ওটা ছাড়া অন্য পাঁচটা পূর্ণতা পায় না।’ ফ্রান্সিস বেকন বলেছেন, ‘টাকা-পয়সা হচ্ছে ভেজা গোবরের মতো, ছড়িয়ে না দিলে মোটেও সুখদ হয় না।’ আর ধনকুবের হেনরি ফোর্ড নাকি বলেছিলেন, ‘টাকা-পয়সাকে বাহু বা পায়ের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে—হয় এটাকে ব্যবহার করো, নয় এটা অকেজো বা নষ্ট হয়ে যাবে।’
ধর্মগ্রন্থ বাইবেল-এ বলা হয়েছে, ‘একজন ধনবান ব্যক্তির পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করা একটি সুচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করার চেয়েও কঠিন।’ বাইবেল-এ আরও বলা হয়েছে, ‘অর্থের প্রতি ভালোবাসা সকল অনর্থের মূল।’ তো, জর্জ বার্নার্ড শ ছিলেন বিদ্রূপাত্মক রসিকতায় পারঙ্গম; এটা শুনে তিনি বললেন, ‘অর্থহীনতাই সকল অনর্থের মূল।’
এতক্ষণ মজার মন্তব্যগুলো তুলে ধরা হলো, এবারে মজার উপাখ্যানগুলোর দিকে দৃষ্টি ফেরানো যাক: এক সুইস ও এক ফরাসিতে কথাবার্তা হচ্ছিল। একপর্যায়ে ফরাসি ফোড়ন কাটল, ‘তোমরা সুইসরা সব সময় টাকার জন্য যুদ্ধ করো, আমরা ফরাসিরা করি সম্মানের জন্য—এটা কেন? প্রত্যুত্তরে সুইস বলে উঠল, ‘আমার মনে হয়, যার যেটা নেই, সে সেটার জন্য যুদ্ধ করে থাকে। দুই, এক সন্ত্রাসী জনৈক পথচারীর গায়ে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছিল, ‘হয় তোমার টাকা, না হয় তোমার জীবন।’ সঙ্গে সঙ্গে লোকটা বলল, ‘জীবনটাই নাও, আমি আমার বুড়ো বয়সের জন্য টাকা জমাচ্ছি।’ তিন, ছেলেদের ক্লাসে শিক্ষক বললেন, ‘কাগজ-কলম নাও এবং রচনা লিখো—আমি যদি কোটিপতি হতাম।’ সবাই তড়িঘড়ি করে লিখতে শুরু করে দিল; কিন্তু একজন চুপচাপ বসে আছে দেখে শিক্ষক প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি লিখছো না কেন?’
‘আমি আমার সেক্রেটারির জন্য অপেক্ষা করছি’—ছেলেটি চটপট জবাব দিল। তা সত্যিই তো, সবকিছু সম্পাদনের জন্য একজন সেক্রেটারি না থাকলে কোটিপতিকে মানায়?
আর হ্যাঁ, এটা অবশ্য সত্যি যে যার টাকা-পয়সা নেই, সে গরিব। তবে এর চেয়ে বড় সত্যি হচ্ছে এই যে যার কেবল টাকা আছে আর কিছুই নেই, সে অধিকতর গরিব। একসময় ছিল যখন বলা হতো, বোকাদের হাতে টাকা-পয়সা বেশিক্ষণ থাকে না; কিন্তু বর্তমানে সবার বেলায়ই এটা ঘটে থাকে। সাধে কি আর বলা হয়, এ দেশে আমরা দিন দিন অধিকতর বলবান হচ্ছি—২০ বছর আগে বাইশ শ টাকার কাঁচাবাজার বহন করতে অন্তত দুজন লোক লাগত, এখন একটা শিশুই সেটা বহন করে নিয়ে আসতে পারে। আর টাকা-পয়সার সঙ্গে বিদ্যা-বুদ্ধিরও অনেকটা সাদৃশ্য আছে—আপনার কত কম আছে, সেটা যদি আপনি প্রকাশ না করেন তাহলে লোকেরা আপনার সঙ্গে এমন ব্যবহার করবে যেন আপনার অনেক আছে। সর্বোপরি, আপনার ধর্ম আপনাকে শেখায়, সংসারে টাকা-পয়সাই সবকিছু নয়; কিন্তু আপনার সরকার আপনাকে বলতে থাকে, ওটাই সবকিছু। এ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার কোনো উপায় কারও জানা আছে কি না, আমার জানা নেই।
পুনশ্চ: সম্প্রতি যৌন নির্যাতনের অভিযোগের মুখে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান দমিনিক স্ত্রস কান পদত্যাগ করেছেন। এর আগে নিউইয়র্কের একটি হোটেলে এক নারী কর্মীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। এটাও ‘অর্থই সকল অনর্থের মূল’ এ কারণে কি না, কে জানে।
আতাউর রহমান: রম্য লেখক। ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক।

সৌদি নারীদের ভোটাধিকার দেওয়ার সুপারিশ

সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিল দেশটির পরবর্তী স্থানীয় নির্বাচনে নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার কাউন্সিলের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।
আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এ নির্বাচনে নারীদের ভোট প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই। পরবর্তী পৌর নির্বাচনে নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অনুমতির জন্য এ সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর অনুমোদন প্রয়োজন। ২০১৫ সালে এ নির্বাচন হতে পরে।
শুরা কাউন্সিল একটি পরামর্শমূলক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির আইন প্রণয়ন করার কোনো ক্ষমতা নেই।

অনশন কর্মসূচি পণ্ড করা ছাড়া বিকল্প ছিল না: মনমোহন

ভারতে যোগগুরু বাবা রামদেবের আমরণ অনশন কর্মসূচিতে পুলিশি অভিযানের ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তবে তিনি বলেন, এটা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।
রামদেব গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, পুলিশের হামলায় তাঁর কর্মসূচি পণ্ড করে দেওয়া হলেও তিনি প্রধানমন্ত্রী মনমোহনকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। কিন্তু ইতিহাস তাঁকে ক্ষমা করবে না।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রখ্যাত সমাজকর্মী আন্না হাজারে আজ বুধবার নয়াদিল্লির রাজঘাটে অনশন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও কালো টাকার মালিকদের মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির দাবিতে রামদেব গত শনিবার নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে আমরণ অনশন শুরু করেন। রামদেবের সঙ্গে যোগ দেন তাঁর কয়েক হাজার অনুসারী। রোববার রাতে পুলিশের অভিযানে ওই অনশন কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়। এতে রামদেবের অন্তত ৩০ জন সমর্থক আহত হন।
ওই ঘটনার পর এই প্রথম মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যোগগুরু রামদেবের অনশন কর্মসূচি পণ্ড করে দেওয়ার ঘটনা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু এটা ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দুর্নীতি দমনে কঠোরভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের হাতে তো ‘জাদুর কাঠি’ নেই।
প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। দলের মুখপাত্র রাজীব প্রতাপ বলেন, রামদেবের অনশন পণ্ড করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তা অপ্রত্যাশিত, উদ্ভট ও দুর্ভাগ্যজনক।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে সরকারকে নোটিশ দিয়েছেন। আদালত বলেন, রাজ্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শুরু করা অনশন কর্মসূচিতে পুলিশ যেভাবে শক্তি প্রয়োগ করেছে, তাতে আদালত উদ্বিগ্ন।

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে আবার প্রার্থিতা ঘোষণা মুনের

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন দ্বিতীয় মেয়াদে ওই পদের জন্য নিজের প্রার্থিতার কথা ঘোষণা করেছেন।
বান কি মুন বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব পদে দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়টি বিবেচনার জন্য তিনি সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদেশগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।
বান কি মুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি আরও বলেন, ‘এই সংস্থার নেতৃত্ব দেওয়া একটি বিশাল সুযোগ। সদস্যদেশগুলো যদি সমর্থন দেয়, তাহলে আরও একবার কাজ করতে পারলে আমি দারুণ সম্মানিত বোধ করব।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মার্ক টোনার বান কি মুনের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বান কি মুন জানান, তাঁর নেতৃত্বে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বৈশ্বিক এজেন্ডার শীর্ষে নিয়ে এসেছে। তিনি আরও জানান, মিয়ানমার, হাইতি, পাকিস্তান ও অন্য জায়গায় বিপর্যয়কর মানবিক পরিস্থিতিতে তারা দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করেছে। তারা অনেক জীবন রক্ষা করেছে এবং সুদান, সোমালিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও আইভরি কোস্টে শান্তির বীজ বপন করেছে। এখন সেই বীজকে অবশ্যই যত্নের সঙ্গে লালন করতে হবে। জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সমর্থনে সহজেই দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হবেন মুন। ২০০৭ সালে কফি আনানের কাছ থেকে দায়িত্ব নেন মুন। তিনি জাতিসংঘের অষ্টম মহাসচিব।

আল-কায়েদা এখনো বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকি

আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের প্রধান রোনাল্ড নোবেল বলেছেন, ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পরও আল-কায়েদা এবং এর সঙ্গে যোগসাজশ থাকা জঙ্গি দলগুলো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। বিমানসহ অন্যান্য গণপরিবহনই প্রধানত হামলার হুমকির মধ্যে আছে। সিঙ্গাপুরে গতকাল মঙ্গলবার বিমান পরিবহনসংক্রান্ত এক বৈঠক চলার ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
রোনাল্ড নোবেল বলেন, বিন লাদেন নিহত হওয়ার আগে থেকেই আল-কায়েদা ও এর সঙ্গে যোগসাজশ থাকা সন্ত্রাসবাদী দলগুলো নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি ছিল। তাঁকে হত্যার পরও সে অবস্থা বিদ্যমান আছে।
নোবেল বলেন, বিমান পরিবহন এবং বিমানশিল্প সন্ত্রাসবাদীদের হামলার প্রধান লক্ষ্য। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানা গেছে, বিভিন্ন গণপরিবহনও তাদের লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। তবে বিমানই সন্ত্রাসীদের কাছে বিশেষ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইন্টারপোল প্রধান বলেন, খোয়া যাওয়া বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের ব্যবহারকেই তারা সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন। তিনি বিশ্বের সবগুলো আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাকে একটি পাসপোর্ট ডাটাবেজ তৈরি করার আহ্বান জানান। রোনাল্ড নোবেল বলেন, এর ফলে সন্ত্রাসীরা চুরি যাওয়া বা ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে পারবে না। ইন্টারপোল প্রধান বলেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ২০১০ সালে ৪৯ কোটি পাসপোর্ট পরীক্ষা করে ৪০ হাজার পাসপোর্ট খোয়া যাওয়া বা চুরি হওয়া বলে শনাক্ত করেছে। তিনি জানান, ইন্টারপোলের তথ্যভান্ডারে এক কোটি ৬০ লাখ খোয়া যাওয়া পাসপোর্ট এবং এক কোটি ২০ লাখ খোয়া যাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংরক্ষিত আছে।

তেজস্ক্রিয়া ছড়ানোর পরিমাণ প্রাথমিক হিসাবের দ্বিগুণ

ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানার প্রথম সপ্তাহে জাপানের ফুকুশিমায় দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ার পরিমাণ ছিল প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে দ্বিগুণ। জাপানের নিউক্লিয়ার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি এজেন্সি (নিসা) এ কথা জানায়।
নিসা জানায়, ১১ মার্চের বিপর্যয়ের পর বায়ুমণ্ডলে সাত লাখ ৭০ হাজার টেরাবিকিউরেল তেজস্ক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে, যা প্রাথমিক হিসাবের দ্বিগুণের বেশি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, তিন লাখ ৭০ হাজার টেরাবিকিউরেল তেজস্ক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে।
ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপর্যয় নিয়ে বিশেষজ্ঞ দলের তদন্ত শুরু হওয়ার পর এসব তথ্য জানা গেল।
আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ার আশা করছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিচালনাকারী কোম্পানি। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করতে এর চেয়ে বেশি সময় লেগে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে এখনো তেজস্ক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে।

অভিযোগ অস্বীকার স্ত্রস কানের

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক প্রধান দমিনিক স্ত্রস কান তাঁর বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত সোমবার তাঁকে নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী সঙ্গে ছিলেন।
উল্লেখ্য, স্ত্রস কান ম্যানহাটন হোটেলের এক নারীকর্মীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই নারীকর্মীর আইনজীবী কেনেথ থম্পসন আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, স্ত্রস কানের ক্ষমতা, অর্থ ও বিশ্বজুড়ে প্রভাব কোনোটাই সত্যকে আড়াল করতে পারবে না। হোটেলের কক্ষে তিনি যা করেছেন, তা প্রমাণিত হবে।
আদালত ১৮ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্ত্রস কানের সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এদিকে কানের আইনজীবী বেঞ্জামিন ব্র্যাফম্যান জোরালো ইঙ্গিত দেন, কান ও ওই নারীকর্মীর মধ্যে কোনো জবরদস্তিমূলক যৌন সংসর্গ হয়নি। বলপ্রয়োগের অভিযোগ অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়। স্ত্রস কানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন ওই নারী।

নতুন ই. কোলাইর মূল উৎস এখনো অনুদ্ঘাটিত

ঘাতক ব্যাকটেরিয়া ই. কোলাইর নতুন প্রজাতির বিস্তারের মূল উৎস এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি। জার্মানির যে খামার থেকে ব্যাকটেরিয়াটি ছড়িয়ে পড়েছে ধারণা করা হয়, নমুনা পরীক্ষায় এখনো এর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গতকালও জার্মানির কর্মকর্তারা ব্যাকটেরিয়ার উৎস অনুসন্ধানে জোর তৎপরতা চালান। এই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে এরই মধ্যে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বাস্থ্য কমিশনার জন ডালি বলেছেন, এই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের বিস্তার ভৌগোলিকভাবে মূলত জার্মানির উত্তরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ রয়েছে। কাজেই ইউরোপজুড়ে তা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই। ই. কোলাই আতঙ্কের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার ব্যাপারে গতকাল ইইউর এক বৈঠকে বসার কথা।
গত রোববার সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত খবরে জানা যায়, জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ লোয়ার-স্যাক্সোনির একটি খামারে উৎপাদিত অঙ্কুরে ই. কোলাইর নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। মুগডালসহ বিভিন্ন শস্যদানা এই অঙ্কুর গজানোর উৎস। এ অঙ্কুর থেকেই ব্যাকটেরিয়াটির বিস্তার ঘটে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত খামার থেকে নেওয়া বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার পর ওই খামারের অঙ্কুরে ব্যাকটেরিয়াটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। গতকাল বীজ, পানি ও কাজের ক্ষেত্র মিলিয়ে ওই খামার থেকে নেওয়া আরও ১৭টি নমুনার পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা।
একই খামারের অঙ্কুর পাওয়া যায় ব্যাকটেরিয়াটির বিস্তারের কেন্দ্রস্থল হামবুর্গের একটি বাড়িতে। ই. কোলাইজনিত রোগে অসুস্থ এক ব্যক্তির ফ্রিজে পাওয়া যায় এসব অঙ্কুর। কিন্তু পরীক্ষা করে এতেও ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
গত মাসে ই. কোলাইজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়লে জার্মানির কিছু কর্মকর্তা নিশ্চিত না হয়েই ঘোষণা করেন, স্পেন থেকে আমদানি করা শসায় ওই ঘাতক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এতে স্পেনের সবজির ব্যবসায় ধস নামে। একই সঙ্গে জার্মানির সঙ্গে তাদের সম্পর্কেরও অবনতি ঘটে। স্পেন এর মধ্যে জার্মানির কাছে শতভাগ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
ই. কোলাইর বিস্তারের সঠিক কারণ না জানা পর্যন্ত জার্মানির কর্মকর্তারা শসা, টমেটো, লেটুস ও অঙ্কুরসহ কাঁচা সবজির সালাদ খেতে বারণ করেছেন।
ইইউর স্বাস্থ্য কমিশনার জন ডালি তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তারের ব্যাপারে কোনো খবর প্রচারে সতর্ক করেছেন। এতে আতঙ্ক ছড়াবে ও খামারে উৎপাদিত বিভিন্ন সবজির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। গতকালই লুক্সেমবার্গে ইইউর কৃষিমন্ত্রীদের বৈঠকে বসার কথা। বিশেষজ্ঞরা এখনো ব্যাকটেরিয়াটির বিস্তারের মূল উৎসের খোঁজ না পাওয়ায় এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ই. কোলাইর বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সবজি উৎপাদনকারী খামার ও চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার স্পর্শকাতর বিষয়টিও বৈঠকে স্থান পাওয়ার কথা।

সিরিয়ায় পুলিশের ১২০ সদস্য নিহত

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর জিসর আল-সুগুরে পুলিশের ১২০ জন সদস্যকে হত্যা করেছে বিদ্রোহীরা। এ ঘটনায় দেশটির কর্তৃপক্ষ কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জিসর আল-সুগুরের সরকারবিরোধীরা ব্যাপক দমনাভিযানের আশঙ্কা করছে।
সিরিয়ান রেভল্যুশন ২০১১ নামের সরকারবিরোধী একটি গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকের একটি পেজে গতকাল মঙ্গলবার লিখেছে, ‘সেনাদের বহনকারী অনেক সামরিক যান হাসারা মহাসড়কের ওপর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। খুব সম্ভবত যানগুলো নতুন করে গণহত্যা চালাতে জিসর আল-সুগুরে যাচ্ছে। দয়া করে সবাই সতর্ক থাকুন।’ একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী ও ‘সরকারের অনুগত বাহিনীর’ অভিযান ঠেকানোর জন্য সেখানকার বিশেষ করে, উত্তরাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশের সরকারবিরোধীদের সড়ক অবরোধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিন সিরিয়ান রেভল্যুশন ২০১১ নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ডাক দেয়। গত মার্চে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনের বিরুদ্ধে দেশটিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ বিক্ষোভ চাঙা রাখতে এ গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।
গত সোমবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীর’ হামলায় পুলিশের ওই সদস্যরা প্রাণ হারিয়েছেন। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, জিসর আল-সুগুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে পুলিশের ওই সদস্যদের প্রাণহানি হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা গণহত্যা চালিয়েছে। এরপর তারা মৃতদেহের অঙ্গহানি করেছে এবং নদীতে লাশ ফেলে দিয়েছে। এতে আরও বলা হয়, পুলিশের মোট ১২০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে ৮০ জন নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনার দিনক্ষণ সম্পর্কে খবরে উল্লেখ করা হয়নি।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল-শার বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের হামলার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা আইনের মধ্যে থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশের মাটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা আমরা চোখ বুজে সহ্য করব না।’
দুজন মানবাধিকারকর্মী জানান, সোমবার শহরের পরিস্থিতি শান্ত ছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে বিদ্রোহ হয়েছে মর্মে তাঁরা জানান, ভোরে গোলাগুলির আওয়াজ শোনা গেছে। তাঁদের একজন জানান, মনে হয়, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছুড়তে অস্বীকৃতি জানানো পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে। অপরজন জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে বিস্ফোরণের পর গোলাগুলি শুরু হয়। বিদ্রোহের পর এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘ফাউন্ডেশন ইন অ্যাকাউন্ট্যান্সি’ কার্যক্রম চালু

বিশ্বব্যাপী অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা হিসাববিদদের শীর্ষ সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব সার্টিফাইড চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের (এসিসিএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার বা অধ্যায়ের উদ্যোগে ‘ফাউন্ডেশন ইন অ্যাকাউন্ট্যান্সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে দিনব্যাপী অনুষ্ঠামালার অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার সকালে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এসিসিএর বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মহুয়া রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক স্টিফেন রোমান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইমার্জিং মার্কেটস এশিয়ার পরিচালক লুসিয়া রিয়েল মার্টিন, চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান খান এবং অ্যামট্রাসের পরিচালন পরিচালক মোহম্মদ জাহাঙ্গীর নবী।
অনুষ্ঠানের প্রধান সহযোগী ছিল চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ, অন্য সহযোগীরা হলো অ্যামট্রাস, বিপিপি ও এলসিবিএস ঢাকা। আর প্রধান পরীক্ষক হিসেবে ভর্তির কার্যক্রমে সহযোগিতা করে ব্রিটিশ কাউন্সিল।

ডিএসইতে দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন

আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা সামনে রেখে লেনদেনে কিছুটা চাঙাভাব ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজারে। গত চার কার্যদিবসে প্রতিদিনই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ একটু একটু করে বেড়েছে।
আর ঢাকার বাজারে লেনদেনের পরিমাণ গতকাল মঙ্গলবার ৮৭৭ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। দুই মাসের মধ্যে এটিই ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন। এর আগে গত ১১ এপ্রিল ঢাকার বাজারে এক হাজার ২২৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। লেনদেন বেড়েছে অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি গতকাল দুই বাজারের মূল্যসূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
লেনদেন বাড়ার এই ধারা বাজারের জন্য ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজার এখন কিছুটা ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। এতে করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অস্থিরতা কিছুটা হলেও কমবে। এর মধ্য দিয়ে বাজার স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগকারীদের পুরোপুরি আস্থা ফেরানো গেলে বাজারও স্থিতিশীল হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী অর্থবছরের বাজেট যদি পুঁজিবাজারবান্ধব হয়, তাহলে তার সুফলও বাজারে পাওয়া যাবে। যদিও এরই মধ্যে বাজেটসংক্রান্ত কিছু বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত হয়েছেন। এখন বাজেটে সেগুলোর প্রতিফলন ঘটাতে হবে।’
গতকাল দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৯৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৯৪২ পয়েন্টে। ডিএসইতে গতকাল প্রতি ঘণ্টায় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২১৯ কোটি টাকারও বেশি। দিনশেষে ডিএসইতে আগের দিনের চেয়ে ২০৬ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।
ঢাকার বাজারে গতকাল বেশির ভাগ শেয়ারেরই দাম বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ২৬০টি কোম্পানির মধ্যে ১৪৭টির দাম বেড়েছে, কমেছে ১০৭টির ও অপরিবর্তিত ছিল ছয়টির দাম। দরবৃদ্ধিতে ছিল ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিগুলোর প্রাধান্য।
এদিকে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক গতকাল ২৫৭ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ৫০০ পয়েন্ট। চট্টগ্রামের বাজারে মঙ্গলবার ১৯৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১১৯টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৬৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল নয়টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। দিনশেষে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে প্রায় ১২৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৩০ কোটি টাকা বেশি।
এদিকে কয়েক দিন ধরে পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বাজেট সামনে রেখে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে একদল বিনিয়োগকারী তাঁদের পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
গতকাল বেলা সাড়ে ১২টা থেকে তিনটা পর্যন্ত তাঁরা রাজধানী মতিঝিলের ডিএসই ভবনের সামনে অবস্থান করেন। এ সময় তাঁরা পুঁজিবাজারবান্ধব বাজেট, শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ, সূচকের স্থায়ী ভিত্তি নির্ধারণ ও বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর দাবি জানান।

সব ধরনের ফি বাড়ছে

আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে করবহির্ভূত রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎসে বিভিন্ন ধরনের ফি বা মাশুল বাড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট, লাইসেন্স, দলিল নিবন্ধন, ট্রেড মার্ক, বিবাহ নিবন্ধনসহ ২৫ ধরনের ফি।
নতুন বাজেটে নিবন্ধনসহ গাড়ির ওপরে নতুন ধরনের বার্ষিক ফি আরোপ করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। মদ ও সব ধরনের পানীয়র ওপরও বাড়তে পারে কর। বাড়ছে মদের নিবন্ধন ফি।
চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরে এসব ফি থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে চার হাজার ২০০ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
আগামী অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৪৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। আর অর্থমন্ত্রী বেশ কয়েকবারই বলেছেন, গোটা বাজেটের আকার হবে এক লাখ ৬০ থেকে ৬২ হাজার কোটি টাকার মতো।
সূত্র জানায়, আগামী বাজেটে রাজস্ববিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রথমবারের মতো হাইকোর্টে আলাদা দুটি বেঞ্চ গঠনের ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। শুধু আয়কর, শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করসংক্রান্ত (মূসক) বিরোধ নিষ্পত্তি হবে এ বেঞ্চে।
জানা গেছে, রাজস্ব নিষ্পত্তির জন্য বর্তমানেও হাইকোর্টে দুটি বেঞ্চ রয়েছে। কিন্তু এগুলোতে রাজস্বের পাশাপাশি অন্য বিরোধও নিষ্পত্তি হয়। নতুন দুই বেঞ্চে শুধুই রাজস্ববিরোধ নিষ্পত্তি হবে।
শুল্ক ও মূসক বিষয়ে ভালো জানাশোনা আছে, এমন একজনকে বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে। ভাইস চেয়ারম্যানও থাকবেন একজন। এ ছাড়া থাকবেন দুজন জুডিশিয়াল সদস্য। প্রত্যেক বেঞ্চে একজন করে কমিশনার থাকবেন।
জেলা জজ হিসেবে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা ও হাইকোর্টে অ্যাডভোকেট হিসেবে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা হবে জুডিশিয়াল সদস্য হওয়ার পূর্বশর্ত। আর কমিশনারের কাজ হবে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান করা।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে রাজস্বসংক্রান্ত ১৬ হাজারেরও বেশি মামলা রয়েছে, যাতে সরকারের পাঁচ হাজার কোটিরও বেশি টাকা আটকা রয়েছে।
কাল বাজেট: ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেট আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। অর্থমন্ত্রী কাল বেলা তিনটায় এ বাজেট উপস্থাপন করবেন।
গতবারের মতো এবারও ডিজিটাল-পদ্ধতিতে, অর্থাৎ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা শাহেদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ: জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রা’, ‘নারী উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ২০টি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম’ ও ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়নে পথ নক্শা: একটি হালচিত্র’ প্রকাশ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজেটকে আরও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট www.mof.gov.bd থেকে বাজেটের সব তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ দলিল পাঠ ও ডাউনলোড করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্যই বিষয়টি উন্মুক্ত। দেশ বা বিদেশ থেকে এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফিডব্যাক ফরম পূরণ করে বাজেট সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশ পাঠানো যাবে। এসব মতামত ও সুপারিশ পরে বিবেচনা করা হবে। আর কার্যকর করা হবে জাতীয় সংসদ কর্তৃক বাজেট অনুমোদনের পর।
ব্যাপকভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি ওয়েবসাইটের লিংক www.bangladesh.gov.bd, www.nbr-bd.org
www.plancomm.gov.bd, www.imed.gov.bd, www.bdpressinform.org, www.pmo.gov.bd এবং বেসরকারি ওয়েবসাইট লিংক www.bdnews24.com ঠিকানায় বাজেটসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।
বাজেট উপস্থাপনের পরদিন, অর্থাৎ আগামী ১০ জুন শুক্রবার বিকেল চারটায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

তিন কর্তার বিদায় চায় নিট কনসার্ন

‘বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টন থেকে নিট কনসার্ন গ্রুপ সরে গেলে সেটা হবে ব্যাডমিন্টনের জন্য অশনিসংকেত’—গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন ক্লাবটির ম্যানেজার অহিদুজ্জামান রাজু। গত ৫ জুন প্রথম বিভাগ ব্যাডমিন্টনের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর অভিমানে ব্যাডমিন্টন থেকে মুখ সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে নারায়ণগঞ্জের ক্লাবটি।
অলিখিত ফাইনাল হয়ে ওঠা লিগের শেষ ম্যাচে বিমানের বিপক্ষে ৮-৪ পয়েন্টে এগিয়ে থেকেও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত খেলা শেষ না করেই কোর্ট ছেড়ে যায় নিট কনসার্ন। পরে বিমানকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।
এ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতেই কাল রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিট কনসার্ন। এবারের লিগে ফেডারেশন অনেক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ক্লাবের প্রেস সেক্রেটারি সুভাষ সাহা অভিযোগ করেন। তিনি ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক, কোষাধ্যক্ষ মনসুর আহমেদ ও আম্পায়ার হামিদুল হককে অপসারণের দাবি জানান। তিন কর্মকর্তা ইচ্ছামতো ফেডারেশন চালান, খেলা শুরুর এক দিন আগে বাইলজ পরিবর্তন করার বিষয়টিও তাঁদের স্বেচ্ছাচারিতার অংশ—এসব অভিযোগ তুলে সুভাষ সাহা বলেন, ‘এই তিন কর্মকর্তাকে না সরালে নিট কনসার্ন ব্যাডমিন্টনের আর কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না।’
ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘এসব পুরোপুরি বানোয়াট, ভিত্তিহীন কথা।’ বাইলজের ব্যাপারে তিনি বল ঠেলে দিচ্ছেন টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক দেওয়ানের কোর্টে, ‘দেওয়ান ভাই ফেডারেশনের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি টুর্নামেন্ট কমিটিরও চেয়ারম্যান। বাইলজের ব্যাপারে ক্লাবগুলোর ভিন্নমত থাকায় তিনি বিষয়টি ভোটাভুটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার সিদ্ধান্ত নেন। পাঁচটি ক্লাব নতুন বাইলজে খেলা চালানোর পক্ষে মত দেয়।’
লিগের শেষ দিনে দর্শকদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও নিট কনসার্নের কোর্ট ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ফেডারেশন। তদন্ত প্রতিবেদন দিতে হবে ১৫ জুনের মধ্যে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা ডেকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে ফেডারেশন।

কারণ জানতে চাওয়ার উত্তর দিল তিন কোম্পানি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়েছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। ওই তিনটি কোম্পানি আজ বুধবার তাদের উত্তর দিয়েছে। কোম্পানি তিনটি হলো আফতাব অটো, ইস্টার্ন ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক।
আজ ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, সম্প্রতি শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য কোম্পানিগুলোর কাছে নেই।

সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধে আইসিসির উদ্যোগ

ফিফা এবং আইওসির পথে হাঁটতে চাচ্ছে আইসিসি। গঠনতন্ত্রের প্রস্তাবিত এক সংশোধনী অনুযায়ী সদস্য কোনো দেশের বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ হলে আইসিসি থেকে বহিষ্কার করা হবে সেই দেশকে।
২৮ জুন হংকংয়ে অনুষ্ঠেয় আইসিসির বার্ষিক সভায় এই সংশোধনী অনুমোদন হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে নতুন এই আইন কার্যকর হবে ২০১২ সালের জুলাই মাসে। আর এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ওপর। চেয়ারম্যান নিয়োগ-বরখাস্ত থেকে শুরু করে পাকিস্তানের ক্রিকেটের প্রায় সবই বলতে গেলে সরকার পরিচালিত। আইসিসির এই পদক্ষেপে তাদের প্রতিক্রিয়াও তাই বেশি তীব্র। এই সংশোধনী প্রস্তাবকে ‘অবৈধ’ দাবি করে আইসিসিকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে তারা। হুমকি দিয়েছে মামলা করারও। মজার ব্যাপার হলো, গত ফেব্রুয়ারিতে আইসিসির এক বোর্ড সভায় এই সংশোধনীর প্রস্তাবটা নাকি দিয়েছিলেন পিসিবির চেয়ারম্যান ইজাজ বাটই!
তবে পাকিস্তানই শুধু নয়, সরকারি হস্তক্ষেপের ওপর আইসিসির নিষেধাজ্ঞা এলে প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট বোর্ডেও। শ্রীলঙ্কার অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশে নির্বাচিত পরিচালকদের নেতৃত্ব দেন সরকার মনোনীত সভাপতি। এ ছাড়া সংসদীয় কমিটিও অনেক সময় বোর্ডের কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে।

নিস্তরঙ্গ ক্রিকেটেও এত আলো!

খেলা-টেলা নেই, বড্ড ম্যাড়মেড়ে সময় যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের। এ নাম, ও-নাম করে সম্ভাব্য কোচ নিয়ে পরিস্থিতিটা এখন এমনই অস্পষ্ট, নির্দিষ্ট করে কারও নাম লিখতে যাওয়াটা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মতোই অনিশ্চিত চ্যালেঞ্জ। স্টুয়ার্ট লর কোচ হওয়া একরকম নিশ্চিত, কিন্তু চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত সেই নিশ্চয়তা দেওয়ার ঝুঁকি নেবে কে!
ক্রিকেটের প্রতি দুর্নিবার কৌতূহল কি তাহলে ঘুমিয়ে পড়বে? মোটেও না। সামনে যা আছে, তা থেকেই খুঁজে নিতে হবে জানানোর মতো কিছু। ৩২ ক্রিকেটারকে নিয়ে চলমান কন্ডিশনিং ক্যাম্পটাও তাই সাংবাদিক আর ক্যামেরার মনোযোগ পাচ্ছে বেশ। তাতে ক্রিকেটাররাও বোধ হয় চনমনে থাকতে পারছেন। বিসিবির চিকির্যাসক দেবাশিষ চৌধুরী তো কাল বললেনই, ‘সবাই খুব উপভোগ করছে কন্ডিশনিং ক্যাম্প।’
এমনিতে কন্ডিশনিং ক্যাম্প খবরের বড় কোনো ক্ষেত্র নয়। ফিটনেস বাড়ানোর কারবার যেহেতু, এখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ইনজুরিতে পড়ে কারও খবর হওয়ার আশঙ্কা কমই। কে যোগ দিলেন, কে দিলেন না, ক্যাম্পে কী হবে, মাসব্যাপী এই ক্যাম্প কতটা কাজে আসবে—সেসব কৌতূহল প্রথম দিনেই মিটে গেছে। তার পরও ক্রিকেটের খবর তো কিছু চাই! আগের দিন মুশফিকুর রহিমের পর কাল সেই ‘খবরের’ জোগান দিলেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল।
‘খবর’ মানে ‘ব্রেকিং নিউজ’ জাতীয় কিছু না। ক্যাম্প, পারফরম্যান্স ইত্যাদি নিয়ে গর্যাবাঁধা কথাবার্তাই। প্রথম দিনের মতো আশরাফুল কাল আবার আওড়ালেন, ‘এর আগে এ ধরনের ক্যাম্প করার সুযোগ হয়নি। এই ক্যাম্প সবারই কাজে লাগবে, বিশেষ করে সিনিয়র ক্রিকেটারদের।’ খুবই সত্যি কথা। ফিটনেস বাড়ানো এমনিতেই জরুরি, তার ওপর লম্বা ছুটি কাটিয়ে ফেরা খেলোয়াড়দের বাড়তি মেদ ঝরানোর ব্যাপারও তো আছে! এমন একটা ক্যাম্প আসলেই খুব দরকার ছিল। আর সবকিছু বাদ দিয়ে হলেও ক্রিকেটকে সংবাদ শিরোনাম করার জন্য তো বটেই।
৩২ ক্রিকেটারকে দুই ভাগে ফেলে প্রতিদিন দুই সেশনে হচ্ছে ক্যাম্প। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা প্রথম সেশন, এরপর সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা। ফিটনেসের জন্য আশরাফুলেরও হয়তো এমন একটা ক্যাম্প দরকার ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক যা পারফরম্যান্স, তাতে শরীরের চেয়ে মনের ফিটনেসও তাঁর জন্য কম জরুরি নয়। আশরাফুল সেই ফিটনেসের রসদ খুঁজে পাচ্ছেন ‘এ’ দলের হয়ে করে আসা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে, ‘প্রায় দুই বছর ধরেই আমার পারফরম্যান্স ধারাবাহিক নয়। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় খুব ভালো একটা ইনিংস খেলেছি। অন্য ইনিংসগুলোতেও শুরুটা ভালো ছিল। এই সফরের পারফরম্যান্স আমার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।’
আত্মবিশ্বাসী হয়ে তিনি আবার আগের মতো মারকাটারি ব্যাটিং শুরু করে দেবেন, এটা ভেবে থাকলে আপনি আশরাফুলের মতোই ভুলের গোলকধাঁধায় ঢুকে পড়েছেন। আশরাফুল আসলে বলছেন নিজেকে বদলানোর কথা, ‘একটা সময় ছিল যখন দর্শকদের প্রত্যাশাটা মাথায় রাখতাম এবং বেশি বেশি তুলে মারতে যেতাম। সেটাই আমার পারফরম্যান্সের অবনতির কারণ। এখন থেকে চেষ্টা করব সেট হওয়ার আগ পর্যন্ত তেমন আর না করতে।’
বদলে যাওয়ার চেষ্টা আশরাফুল আগেও করেছেন এবং উপহার দিয়েছেন হতাশা। বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভুল শুধরে ফিরে আসার। সর্বশেষ দেওয়া প্রতিশ্রুতিটাকে তাই খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে অপেক্ষায় থাকাই ভালো, দেখাই যাক না আশরাফুল কী করেন। তবে আপাতত একটা ধন্যবাদ তিনি পেতে পারেন—ক্রিকেটের হয়ে একটা ‘খবর’ তো দিলেন!
ভালো কথা, আশরাফুলকে ধন্যবাদ দেওয়া কর্তব্য বিসিবিরও। ‘সাফল্যমণ্ডিত’ বিশ্বকাপের গায়েও যখন এক-আধ আঁচড় কলঙ্কের দাগ দেখছেন অনেকে, কিংবা যখন কোচ নিয়ে খোঁচাখুঁচির পরিণতির দায় ঘুরেফিরে গিয়ে বোর্ডের গায়েই পড়ে, সবার মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখায় আশরাফুলও তো একটু অবদান রাখলেন!

ক্রুইফ-কিসিঞ্জারদের নিয়ে ফিফার কমিটি

সময়টা ফিফার ভালো যাচ্ছে না। বিশ্বকাপ আয়োজক নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, নির্বাহী কমিটির প্রভাবশালী সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ তো আছেই; আরও আগে থেকে আছে পাতানো ম্যাচ নিয়ে উদ্বেগ। ফিফার ভাবমূর্তিতেও আঁচড় লেগেছে। সব মিলে সাম্প্রতিক এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে ফিফা গঠন করল ‘কাউন্সিল অব উইজডম’ নামের একটি কমিটি।
তিন সদস্যের এই কমিটিতে আছেন একজন সংগীতজ্ঞ, একজন ঝানু রাজনীতিবিদ ও একজন ফুটবল কিংবদন্তি। রাজনীতিবিদের নাম আগেই জানা গিয়েছিল—যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার। ‘বিচক্ষণ’দের এই কমিটিতে কিসিঞ্জারের সঙ্গী টোটাল ফুটবলের নায়ক ইয়োহান ক্রুইফ ও বিখ্যাত ওপেরা গায়ক প্লাসিডো ডোমিঙ্গো। এই কমিটির নাম ঘোষণা করে পরশু সিএনএনকে নতুন মেয়াদে ফিফা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত সেপ ব্ল্যাটার বলেছেন, ফিফার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার তাঁর করণীয় তালিকার শীর্ষেই থাকছে।
কমিটির তিনজনই কোনো না কোনোভাবে ফুটবলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বা আছেন। ৭০ বছর বয়সী স্প্যানিয়ার্ড ডোমিঙ্গো ১৯৯০ থেকে টানা চারটি বিশ্বকাপ-পূর্ব কনসার্টে গান গেয়েছেন। ৮৮ বছর বয়সী কিসিঞ্জার নিউইয়র্ক কসমস ক্লাবের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার অন্যতম কারিগরও। তবে সাম্প্রতিক ঘটনা বিবেচনায় তাঁর এই পরিচয়টা মনে হয় বেশি উল্লেখযোগ্য—ভাবমূর্তির সংকটে পড়া আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিকে কক্ষপথে ফেরাতে কাজ করেছেন। আর ক্রুইফ তো ফুটবলেরই লোক।
এই কমিটির কাজে ফিফা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন ব্ল্যাটার।

ক্যাপেলো এত বাকগম্ভীর কেন?

ফ্যাবিও ক্যাপেলোর কাছ থেকে একধরনের অবজ্ঞা বেশ কিছুদিন ধরেই পেয়ে আসছিলেন। ভেতর ভেতর একটা ক্ষোভ ছিলই পিটার ক্রাউচের। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ইউরো ২০১২ বাছাইপর্বের ম্যাচটিতে যখন দেখলেন, একাদশে নেই, ঠিক তখনই সব ক্ষোভ যেন প্রকাশিত হয়ে পড়ল। ক্ষুব্ধ হয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণাও নাকি দিয়েছিলেন টটেনহ্যাম হটসপারের দীর্ঘদেহী এই স্ট্রাইকার। পরে অবশ্য তিনি দাবি করেছেন, এমন কোনো ঘোষণা তিনি দেননি।
ইংল্যান্ডের হয়ে ৪২ ম্যাচে ক্রাউচের গোলসংখ্যা ২২। তাঁকে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারের মর্যাদা দেওয়া হয়। কিন্তু, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিতে কেন ক্যাপেলো তাঁকে খেলালেন না, সে ব্যাখ্যা তিনি পাননি। ক্রাউচের কথা, ‘এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাওয়ার অধিকার আমার রয়েছে। ক্যাপেলো এত বাকগম্ভীর কেন?’
‘টটেনহ্যামের হয়ে কোনো ম্যাচে যদি আমাকে একাদশে না রাখা হয়, তাহলে কোচ তাঁর ব্যাখ্যা দেন। তখন আমি বুঝে যাই আসল কারণটা।’ বলেছেন ক্রাউচ। তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাপেলোর মধ্যে এই ব্যাপারটা নেই। তিনি ব্যাখ্যা দেন না। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কেমন যেন একটা দুরত্ব রাখতে তিনি পছন্দ করেন।’
আন্তর্জাতিক ফুটবল এ মুহূর্তে ছেড়ে দেওয়ার যেকোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই—সেই ঘোষণাটাই এর পরে দিলেন ক্রাউচ। বলেছেন, ‘আমি যত দিন সম্ভব দেশের হয়ে খেলে যেতে চাই। দলের কোচ কে হলেন এটা নিয়ে আমার বিশেষ কোনো মাথাব্যথা নেই।

কঠিন হবে টেস্ট সিরিজ: লক্ষণ

চতুর্থবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছেন ভিভিএস লক্ষণ। এখন পর্যন্ত উইন্ডিজের মাটিতে ১৩টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের অন্যতম প্রধান এই ব্যাটিং স্তম্ভের। আর সেগুলোর মধ্যে মাত্র দুইটি টেস্টে জয়ের দেখা পেয়েছে ভারত। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে, এবারের টেস্ট সিরিজটিও অনেক কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তবে তাঁর প্রত্যাশা ২০০৬ সালের পুনরাবৃত্তি। সেবার ৩৫ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সিরিজ জয়ের আনন্দে মেতেছিল ভারতীয় ক্রিকেটাররা।
গতকাল হায়দরাবাদে অনুশীলন শেষে লক্ষণ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে তাদের বিপক্ষে খেলাটা অনেক কঠিন। তাদের অনেক ম্যাচ জেতানো ক্রিকেটার আছে। ফলে এবারের সিরিজটা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। এখন আমরা কীভাবে তাদের মোকাবিলা করতে পারব, সেটাই বড় কথা। আর ব্যক্তিগতভাবে আমি সব সময়ই দেশের বাইরের সফরগুলোতে ভালো পারফরমেন্স দেখানোর ওপর অনেক গুরুত্ব দিই।’ সিরিজটা কঠিন হবে স্বীকার করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে খেলাটা অনেক উপভোগ করেন বলে জানিয়েছেন লক্ষণ। এখন পর্যন্ত ১৩টা টেস্টে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৯০৩ রান। এবারের সফরেও এই ধারাবাহিকতা অক্ষণ রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
উইন্ডিজ সফরে এবার ভারত মাঠে পাবে না তাদের তিন ব্যাটিং স্তম্ভ শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ ও গৌতম গম্ভীরকে। তাঁদের অভাব যে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলটি অনুভব করবে—এটা নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়েছেন লক্ষণ। তবে একই সঙ্গে এঁদের বদলি তরুণ তিন ব্যাটসম্যান মুরলি বিজয়, অমিতাভ মুকুন্দ ও বিরাট কোহলির ওপরও পূর্ণ আস্থা রাখছেন তিনি।

বিদায় নিলেন রোনালদো

রোনালদো মনে-প্রাণেই চেয়েছিলেন বিদায় ম্যাচে একটি গোল করতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই অপূর্ণতাকে সঙ্গী করেই সব ধরনের ফুটবলকে বিদায় জানালেন বিশ্বকাপ ফুটবলে রেকর্ড ১৫টি গোল করা এই স্ট্রাইকার। তবে একটি পরিতৃপ্তি রোনালদো পেতেই পারেন। তাঁর বিদায় ম্যাচে রোমানিয়াকে হারিয়েছে ব্রাজিল।
‘ব্রাজিল বস’ মানো মেনেজেস রোনালদোকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১৫ মিনিট মাঠে থাকার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। স্থূলকায় শরীর নিয়ে কৌতুকোদ্দীপক ঢংয়ে বার কয়েক চেষ্টাও ছিল তাঁর একটি গোলের। ৩৯ মিনিটে তো ফাঁকায় দারুণ একটা সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বল পায়ে নিয়ে তিনি যা করলেন, তা অতীতের রোনালদোর সঙ্গে ঠিক যায় না। সেরা সময়টা যে তিনি অনেক আগেই পার করে এসেছে—বিদায়ের দিনে সেটা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। তবে সব মিলিয়ে এই ফুটবল তারকার বিদায়টা কিন্তু ছিল একেবারেই ‘পারফেক্ট’।
ম্যাচের বিরতির সময় রোনালদোর জন্য একটি সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। সেখানে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে একটি বক্তৃতাও দিয়েছেন তিনি। সেখানে সেই ৩৯ মিনিটের গোল মিসটির কথা তুলে দর্শকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। ‘বিদায় ম্যাচটিতে একটি গোল করতে চেয়েছিলাম। কয়েকটি সুযোগও এসেছিল। একবার তো ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলাম। দুঃখিত যে সেগুলো থেকে গোল করতে পারলাম না।’ বলেছেন রোনালদো। এর পরেই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার বর্ণাঢ্যরূপে শেষ করতে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফুটবল ফেডারেশনকে। আবেগে থরো থরো হয়ে দর্শকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমি আপনাদের ভালোবাসি, আমি যখন কেঁদেছি, আপনারাও আমার সঙ্গে কেঁদেছেন। আমি যখন হেসেছি, আপনারাও হেসেছেন। আবার দেখা হবে। কিন্তু এবার আর মাঠে নয়, মাঠের বাইরে।’
বক্তৃতা শেষ করেছেন তিনি এভাবে, ‘আমি সত্যিই একজন ব্রাজিলীয় হিসেবে গর্বিত।’
অবশ্যই ব্রাজিলীয়রা তথা বিশ্বের তাবত ফুটবলানুরাগীরা গর্বিত রোনালদোর খেলায়।

মুক্তিযোদ্ধার জয়

এক দল শিরোপা-স্বপ্নের অপেক্ষায়, আরেক দল নিশ্চিত অবনমনের শঙ্কায়। বাংলাদেশ লিগে গতকাল মঙ্গলবার শিরোপাপ্রত্যাশী মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে চট্টগ্রাম আবাহনীর হারটা একপ্রকার অনুমেয়ই ছিল। এবং সমুদ্র শহর থেকে জয় নিয়েই ফিরল মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবধান ৩-০। ১৭ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার ডামি পল ইমানুয়েল। ৩৮ মিনিটে স্ট্রাইকার মিঠুন চৌধুরী লিগে তাঁর ১৪তম গোলটি করে ব্যবধান বাড়ান। ৫৭ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন মগা। সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা সুদানি এই স্ট্রাইকারের এটি ১৬তম গোল।
এই জয়ে ১৯ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানেই রইল মুক্তিযোদ্ধা। সমান ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে শেখ জামাল। দু-দলেরই তিনটি করে ম্যাচ বাকি।
আজকের খেলা: ঢাকা আবাহনী-আরামবাগ। (বিকেল ৪-১৫ মি., বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম)