Sunday, September 13, 2015

আল আকসায় সংঘর্ষ

মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্র স্থান আল আকসা মসজিদে মুসলমানদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে ইসরাইলি সেনারা। গতকাল থেকে ওই মসজিদের ভিতরে অবস্থান করছিলেন বেশ কিছু সংখ্যক মুসলমান। আজ বাইরে থেকে মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে ইসরাইলি সেনারা। এ সময় তারা এর ভিতরে মুসলমানদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা মসজিদের ভিতরে মুসলমানদের অবরুদ্ধ করে রাখে। এ ঘটনার নিন্দা করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। দখলদার সেনা ও পুলিশের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। এ হামলাকে তিনি আল আকসা মসজিদ ও বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে আরও বলা হয়, ইসরাইলি পক্ষ দাবি করেছে মসজিদের ভিতর থেকে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে সেনা ও পুলিশের বিরুদ্ধে। এ সময় তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। তবে প্রত্যক্ষদর্শী এক মুসলিম বলেছেন, মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশ। তারা মসজিদের ক্ষতিসাধন করে। তার অভিযোগ এ সময় মসজিদের জায়নামাজের অংশ বিশেষ পুড়িয়ে ফেলে পুলিশ। এতে মসজিদ চত্বরের বাইরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। আজ ইহুদিদের নতন বর্ষ রোশ হাসানাহ। এর কয়েক ঘন্টা আগে এই সংঘর্ষ দেখা দেয়। এ সময় মসজিদ কমপ্লেক্স বন্ধ করে দেয় ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী। ইসরাইলি পুলিশের মুখপাত্র মিকি রোসেনফেল্ড বলেছেন, আল আকসা মসজিদে ঝামেলা হতে পারে গোয়েন্দা তথ্যে তারা এমনটা খবর পেয়েছিলেন আজ সকালে। জেরুজালেম থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক স্কট হেইডলার বলেন, কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি যুবকদের দিক থেকে কিছু পাথর নিক্ষেপ ও ফায়ার বোমা নিক্ষেপ করা হয়। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এ ঘটনাকে ইসরাইলি সেনাদের আক্রমণ আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছেন।

অপারেশন ক্লিনহার্টে দায়মুক্তি অবৈধ

‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’ নামে পরিচালিত অভিযানের কার্যক্রমকে দায়মুক্তি দিয়ে করা আইনটিকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। রোববার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এ রায় দেয়। একটি রিট আবেদনে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেয়।  আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০২ সালের ১৬ই অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’ নামে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলে। ওই অভিযানের কার্যক্রমকে দায়মুক্তি দিয়ে ২০০৩ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি ‘যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন, ২০০৩’ জারি করা হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম  কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না ২০১২ সালের ১৪ জুন হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন।  ওই বছরের ২৯ জুলাই আইনটিকে কেন সংবিধানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ও বাতিল  ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট।

‘প্রকাণ্ড ধূমকেতুর আঘাতে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৃথিবী’

প্রকাণ্ড একটি ধূমকেতু দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে পৃথিবীর দিকে। অচিরেই ধূমকেতুটির খণ্ডিত অংশগুলো আঘাত হানবে বিশ্বকে, বিলুপ্ত হবে গোটা মানবজাতি। সকল প্রাণের বিনাশ ঘটবে। কারণ, পৃথিবীর সব পরমাণু বোমার শক্তির চেয়ে হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী হবে এ আঘাত। ‘ফিঙ্গারপ্রিন্টস অব দ্য গডস’ গ্রন্থের লেখক গ্রাহাম হ্যানকক। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত বইটি সারা বিশ্বে ৩০ লাখ কপি বিক্রি হয়েছিল। আলোড়ন জাগানো গ্রন্থটির লেখক দাবি করছেন, আমাদের এ বিশ্ব ধ্বংসের মুখে। একটি প্রকাণ্ড ধূমকেতু এসে আঘাত হানবে আমাদের ছোট্ট বাসযোগ্য এ গ্রহটিকে এবং ধ্বংস হয়ে যাবে মানব সভ্যতা, সকল প্রাণের বিলুপ্তি ঘটবে। বিতর্কিত ওই লেখকের লেখা নতুন একটি গ্রন্থে দুই বিজ্ঞানীর একটি তত্ত্বের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হচ্ছে, মহাশূন্যে বিশালাকায় একটি ধূমকেতুর কয়েকটি খণ্ড উল্কার মেঘের আড়ালে পৃথিবীর দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন মিরর। গ্রাহাম হ্যানকক তার নতুন বইয়ে দাবি করেছেন, আমাদের পৃথিবীর পূর্ববর্তী ও বিলুপ্ত সভ্যতার রেখে যাওয়া আগাম ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ সতর্কবাণী বলছে যে, অচিরেই পৃথিবীর ওপর আঘাত হানবে একটি ধূমকেতু। সে সময়ের বিলুপ্ত মানবজাতিকে তিনি ‘জাদুকর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তুরস্কের ঐতিহাসিক প্রততাত্ত্বিক স্থান গোবেকলি টেপের শিল্পকর্মগুলোতে সে ইঙ্গিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন গ্রাহাম। তিনি বলেন, এই জাদুকররা আমাদের জন্য একটি বার্তা রেখে গেছেন। এ বার্তাকে তিনি ‘সরাসরি ও জরুরি সতর্কবাণী’ বলে উল্লেখ করেছেন। গ্রাহাম বলছিলেন, যা পূর্বে ঘটেছে, তা পুনরায় ঘটতে পারে। তাদের জগৎকে যা ধ্বংস করে দিয়েছিল, তা আমাদের জগৎকেও ধ্বংস করতে পারে। তিনি আরও বলেন, আগামী ২০ বছরের মধ্যে বিশ্ব ভয়াবহ এক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। বিশ্বের প্রতিটি পরমাণু বোমা বিস্ফোরণের চেয়েও হাজার গুণ ভয়ঙ্কর হবে ধূমকেতুর এ আঘাত। তিনি বলেন, একটি ধূমকেতুর অবশিষ্ট এ খ-গুলোর সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষে সব প্রাণের সংহার ঘটবে। গ্রাহাম বলেন, জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী ভিক্টর ক্লুব ও জ্যোতির্বিদ বিল ন্যাপিয়ার বিশ্বাস করেন, আজ থেকে ১২ হাজার ৮০০ বছর আগে প্রকা- যে ধূমকেতুটি আঘাত হেনেছিল, এটি সেই ধূমকেতুরই খণ্ডিত অবশিষ্টাংশ। গ্রাহাম হ্যানকক দাবি করেন, ১২ হাজার ৮০০ বছর আগে অ্যান্টার্কটিকায় ধূমকেতুটি আঘাত হানার পর অত্যন্ত উন্নত একটি মানব সভ্যতার বিলুপ্তি ঘটে। চাকা আবিষ্কারের বেশ কয়েক হাজার বছর আগের ঘটনা এটি।

‘৬০ কোটি টাকা ভ্যাটের জন্য ছয় হাজার কোটি টাকার ঝামেলা’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ৬০কোটি টাকা ভ্যাটের জন্য ছয় হাজার কোটি টাকার ঝামেলা পোহানোর দরকার নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট আরোপ না করার জন্য আমি সংসদে বলেছি, এখনও বলছি, বিষয়টি বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিএনপির বুদ্ধিজীবী মহলের ইন্ধন রয়েছে এই ষড়যন্ত্র অংকুরেই বিনষ্ট করা প্রয়োজন।  নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি শঙ্কর গোবিন্দ চৌধুরীর ২০তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হানিফ বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশকে বিভাজিত করেছিলেন।  রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে গোলাম আযমকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী ও আব্দুল আলিমকে মন্ত্রী করেছিলেন।
নাটোর এনএস সরকারি কলেজ মিলনায়তনে নাটোর সদর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওসমান আলী প্রামানিকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল, লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, শঙ্কর গোবিন্দ চৌধুরীর মেয়ে ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি উমা চৌধুরী জলি প্রমুখ।

মক্কায় নিহতদের ২৫ জন বাংলাদেশী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্বীকার -আল আরাবিয়ার খবর

মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক দৈনিক আল-আরাবিয়ার এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মক্কায় মসজিদুল হারামের নির্মানাধীন অংশে ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২৫ জন বাংলাদেশী রয়েছেন। ওই দুর্ঘটনায় মোট ১০৭ জন নিহত হয়। হতাহতের ব্যাপারে প্রাথমিক রিপোর্ট যাচাইয়ের পর আল-আরাবিয়া বলছে, নিহতদের মধ্যে ২৫ বাংলাদেশী, ১৫ পাকিস্তানি, ২৩ মিশরীয়, ১০ ভারতীয়, ২৫ ইরানি, ৬ মালয়েশীয়, এক আলজেরীয় ও এক আফগান নাগরিক রয়েছেন। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ খবর অস্বীকার করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি কনসুলার লুৎফুর রহমান বলেন, আমাদের কাছে এই ধরনের কোন তথ্য নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একজন বাংলাদেশী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। তার নাম মোহাম্মদ আবুল কাশেম। বাড়ি চট্টগ্রামের কর্ণফুলিতে।

ছাত্র বিক্ষোভে স্থবির ঢাকা

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ছাত্র বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা। রাজধানীর ধানমন্ডি, বনানী, বাড্ডা ও উত্তরায় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। এতে ওইসব এলাকার রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরপ্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ যানজট। সকালে রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা ভ্যাটবিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনে সড়ক অবরোধ করে। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রামপুরা ব্রীজ অতিক্রম করে তারা বাড্ডা-রামপুরা সড়কে অবস্থান নেয়। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সামনে প্রগতি সরনীতে অবস্থান নিয়েছে নর্থ সাউথ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বনানী মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রাজধানীর ধানমন্ডিতেও সড়ক অবরোধ করেছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা সড়কে নেমে বিক্ষোভ মিছিল করে। এসময় ধানমন্ডি ২৭নম্বর এর মোড়ে অবস্থান নেয় তারা। এতে ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে উত্তরা এলাকায় শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। এতে আবদুল্লাহপুর থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কে যান চলাচলে বিঘ হচ্ছে। এদিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির আশংকায় রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তারা বাধা দেবেন না। তবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা দমন করা হবে।
ভ্যাট পুনর্বিবেচনা করতে সরকার অনমনীয় নয়-অর্থমন্ত্রী
ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার দ্বার খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, আমি আশা করি, তারা এ বিষয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করবে। রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আলোচনার পথ রুদ্ধ নয়, ভ্যাট পুনর্বিবেচনা করতে সরকার অনমনীয় নয়। আমরা পুনর্বিবেচনা তো সব সময় করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুবিধা পর্যালোচনায় বেতন কমিশন কাজ শুরু করবে বলেও তিনি জানান। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভ্যাট নিয়ে আমরা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। 
ভ্যাট প্রত্যাহার না হলে সরকারের ভিত কেঁপে উঠবে’ -বদরুদ্দোজা চৌধুরী
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার না হলে সরকারের ভিত কেঁপে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারার সভাপতি প্রফেসর  একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে এর আগে শিক্ষার ওপর করারোপের চেষ্টা কোন সরকারই করেনি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করি, ইতিমধ্যে অনেক বিলম্ব হয়েছে, আর বিলম্ব নয়, শিক্ষার উপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করুন। না হলে এর জন্য রাজনৈতিক খেসারত দিতে হবে। বিকল্পধারা সভাপতির প্রেস সচিব জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বি. চৌধুরী বলেন, অর্থমন্ত্রীর প্রগলভতা সুবিদিত। কিন্তু উচ্চশিক্ষার ওপর ভ্যাট এবং শিক্ষকদের মর্যাদার ওপর তীর্যক আক্রমণ এর কোনটাই সরকারের পক্ষে যাবে না। ছাত্ররা যেভাবে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এবং অত্যন্ত সঙ্গত কারণেই বিক্ষুব্ধ, তা যে কোন সাধারণ বুদ্ধির লোক বুঝতে পারলেও অর্থমন্ত্রী তা উপলব্ধি করতে পারেন নাই এবং ভবিষ্যতেও পারবেন বলে মনে হয় না। সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি আশা করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থমন্ত্রীর এই ভুল পরামর্শ এবং আত্মঘাতী নীতির বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।  বি. চৌধুরী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান এবং একই সঙ্গে ভ্যাট প্রত্যাহার না করা হলে সরকারের ভিত্তিমূল কেঁপে উঠতে পারে। শুধুমাত্র কিছু আমলাকে অতিতোষণের নীতি এবং দেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষা, শিক্ষক ও ছাত্রদের অবহেলা করলে সরকার মহাবিপদের সম্মুখীন হবে। 
মুহিতের পদত্যাগ দাবি নির্মলেন্দু গুণের
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পদত্যাগ দাবি করেছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ভ্যাট চাপিয়ে দেয়ার প্রতিক্রিয়া কতটা তীব্র হতে পারে- সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক ধারণা দিতে পারেন নি বরং ভুল ধারণা দিয়েছেন বলে মনে হয়। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ড. ফরাস উদ্দিন সাহেব ভ্যাটের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্রদের আশ্বস্ত করেছেন এই বলে যে, তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের বেতনের ওপর ভ্যাট চাপাবে না। তাঁকে ধন্যবাদ। মুহিত সাহেবকে পদে রেখে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব হবে বলে আমার মনে হয় না। হয়তো আরও অবনতিই হবে। সুতরাং আর বিলম্ব নয, মুহিত সাহেবকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে দ্রুত বিদায় করুন। মুহিত সাহেব নিজেও পদত্যাগ করতে পারেন। তাতে তাঁর কিছুটা হলেও সুনাম হবে। তাঁর অসম্মান আমরা এড়াতেই চাই। এটাই তাঁর জন্য শেষ সুযোগ। 

মুসলিম আমলে ভারতবর্ষ ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বর্ণযুগ : ব্রিটিশ গবেষক

এই মুহূর্তে ধর্ম নিয়ে ভারতে আলোচনা তুঙ্গে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে দিনদিন ধর্মভিত্তিক মেরুকরণ আরও প্রকট হয়ে উঠছে। বাড়ছে পারস্পরিক অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার চোরা স্রোত এখন পৃথবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের বুকে তীব্রতা পাচ্ছে। এই রকম একটা সময় প্রাথমিক সংস্কৃত বইগুলিতে হিন্দু-মুসলিমদের সহাবস্থান সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ্যে এল নতুন একটি গবেষণামূলক বইতে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিকদের এই উদ্যোগ হয়ত ভারতে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সাহায্য করবে।
কালচার অফ এককাউন্টারস: স্যান্সকৃত অ্যাট দ্য মোগল কোর্ট নামক বইটির লেখক অড্রে রুশেক। দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতি ও বৌদ্ধিক ইতিহাসের এই স্বনামধন্য গবেষকের মতে ষোলশ থেকে অষ্টাদশ শতকে ভারতে ইসলামিক শাসনকালে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান চরমে পৌঁছেছিল। বরং সে অর্থে ধর্মীয় বিবাদ প্রায় ছিলই না বলা যায়।
প্রচলিত ধারণা মতে মধ্যযুগে যখন ভারতীয় উপমহাদেশে সম্প্রসারিত হচ্ছে ইসলামিক শাসন তখনই নাকি হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সঙ্ঘাত শুরু। রুশেক ঠিক এই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করেছেন তার বইতে।
তার বইতে মোগল আমলে ভারতে ধর্মীয় বৌদ্ধিক বিকাশের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়েছেন। বর্ণনা দিয়েছেন সেই আমলে হিন্দু ও পার্সিয়ানদের জীবনযাত্রারও।
''প্রচলিত ধারণার একেবারে বিপরীত চিত্র উপস্থাপিত করেছে অড্রের গবেষণা। যে ধারণা চিরকাল বলে এসেছে মুসলিম শাসকরা ভারতীয় ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভাষার প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ করে এসেছেন।'' স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়েছে। রুশেকের মতে ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে মূলত এই বিভেদ ধারণার জন্ম।
তিনি লিখেছেন ''নিজেদের স্বার্থে নিজেদেরকে নিরপেক্ষ রক্ষাকর্তা দাবি করে ব্রিটিশ শাসকরা আসলে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চেয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই তারা একে অপরের শত্রু, এই ধরণের বিকৃত ইতিহাসকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে।''
ঔপনিবেশিকতার অবশাসনের পরেও ডানপন্থী আধুনিক হিন্দুত্ববাদীরা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এই বিবাদকে জিইয়ে রাখতে চেয়েছেন। মত অড্রের।
তিনি লিখেছেন ভারতে বর্তমান ধর্মীয় বিবাদ মুঘল শাসনকালের আসলে ভ্রান্ত ব্যাখার উপর নির্মিত। উপমহাদেশীয় ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়নের অভাবেই আধুনিক সময়ে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। যেখানে মুঘক আমলে ধর্মীয় সংঘর্ষের ইতিহাস মিথ্যে সেখানে, সেই মিথ্যেকেই মূলধন করা হচ্ছে।
নিজের গবেষণায় তিনি দেখিয়েছেন মুসলিম শাসকরা কখনই ভারতীয় সংস্কৃতি বা হিন্দুত্ববাদের উপর আধিপত্য কায়েম করতে চাননি। বরং সে সময়ে ধর্ম ও ভাষার ক্ষেত্রে অসাধারণ সহাবস্থান স্থাপন করেছিল উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ।
তিনি দাবি করেছেন মোগল শাসকরা পুরাতন ভারতীয় সাহিত্য ও জ্ঞান চর্চাকে সমর্থন করেছেন।
অড্রে আশা করেছেন তার গবেষণা আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক অবস্থানে অতীত সময়ের প্রভাব খুঁটিয়ে দেখতে নয়া ঐতিহাসিক দিশা দেখাবে।

তৃতীয় মত: নারী, দেহ, ভ্যাট এবং সংবিধান by সাজেদুল হক

সময় ১৯৫২। ভাষা আন্দোলন তখন তুঙ্গে। মিছিলে মিছিলে উত্তপ্ত রাজপথ। সবার মুখে একই স্লোগান- রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। এরই মধ্যে একজন হঠাৎ স্লোগান ধরলেন, বাংলাভাষা রাষ্ট্র চাই। পাশ থেকে তাকে বলা হলো সেসময় এখনও আসেনি। আসলেই সে সময় তখনও আসেনি। ১৯৫২ সালে আমরা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে পেয়েছি। তবে বাংলা ভাষার রাষ্ট্র পেতে আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত। রক্তস্নাত পথে সে রাষ্ট্র পেয়েছি আমরা। প্রতিটি আন্দোলনেই কিছু কিছু স্লোগান বিপুল আলোচিত হয়। যুদ্ধাপরাধবিরোধী আন্দোলন মঞ্চ গণজাগরণ মঞ্চের  ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’ স্লোগান যেমন ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। কেউ কেউ অবশ্য এর সমালোচনাও করেছিলেন। বলেছিলেন, এ স্লোগান ফ্যাসিবাদী। চলমান ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনের কিছু কিছু স্লোগানও এরই মধ্যে বিপুল আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের এবারের পর্বটি শুরু হয় গত বুধবার। ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা চালায়। পরদিন ঢাকার বেশ কয়েকটি স্পটে বিক্ষোভ করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে পুরো ঢাকা শহর অচল হয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর ভ্যাট নিয়ে সরকারি মহলের নানা বক্তব্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক আলী রীয়াজ এ আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে করা আটটি উক্তির ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন- ১. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভ্যাট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দিতে হবে না। এটা দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ২. অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ভ্যাট মওকুফের কোন সুযোগ নেই। এবার তারা আন্দোলন করছেন বলে তাদের ভ্যাট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেবে। আগামী বছর শিক্ষার্থীদের ভ্যাট তাদের নিজেদের দিতে হবে। ৩. ছাত্রছাত্রীদের ওপর কোন ভ্যাট আরোপ করা নেই বলে জানিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন। শেখ কবির হোসেন ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিনীত অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর কোন ভ্যাট আরোপ করা নেই। এখন ভ্যাটটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। ৪. নতুন করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়ের উদ্দেশে মূসক আরোপ হয়নি; টিউশন ফি-এর মধ্যে মূসক অন্তর্ভুক্ত আছে; মূসক বাবদ অর্থ পরিশোধ করার দায়িত্ব সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, কোনমতেই শিক্ষার্থীদের নয়; বিদ্যমান টিউশন ফি এর মধ্যে মূসক অন্তর্ভুক্ত থাকায়, টিউশন ফি বাড়ার কোন সুযোগ নেই- এনবিআর ৫. এনবিআরের এ ব্যাখ্যাকে শুভঙ্করের ফাঁকি মনে করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন। তিনি বলেন, (১১ই সেপ্টেম্বর), এনবিআর যা-ই বলুক না কেন, এটা শুভঙ্করের ফাঁকি। তারা যেভাবেই ব্যাখ্যা দিক, এই মূসক শিক্ষার্থীদের ওপরই বর্তাবে। ৬. আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক টাকাও ভ্যাট না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ৭. এনবিআরের সাবেক একজন চেয়ারম্যান বলেন, ‘যেভাবেই বলা হোক না কেন ভোক্তা হিসেবে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপরই এ মূসক চাপবে।’ ৮. একটি বিষয় ভাবতে অবাক লাগে, যে শিক্ষার্থীরা পিতামাতার অর্থে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করছে, তাদের ওপর বৈষম্যমূলকভাবে ভ্যাটের বোঝা আরোপ করা হচ্ছে। অথচ যারা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছে, তারা সামান্য খরচে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে। জাতি কি এ বৈষম্য স্বীকার করে? -মো. গোলাম রহমান: ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি। ভ্যাটবিরোধী এ আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা স্থানে আলোচনা চলছে। যে যার দলীয় অবস্থান থেকে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাণিজ্য করছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান ভাল না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বড়লোকের ছেলে। এসব ব্যাপার বিশ্লেষণের পূর্বে সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের প্রতি দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়- ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা। সংবিধান যেখানে রাষ্ট্রকে শিক্ষা নিশ্চিতের মৌলিক দায়িত্ব দিয়েছে সেখানে রাষ্ট্র নিজেই ভ্যাট চাপাচ্ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামার পরই যেন সবার মনে পড়েছে ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের কথা। এসব অনিয়ম যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আছে সে কথা মিথ্যা নয়। তবে এসব অনিয়ম রোধের দায়িত্ব কার? নিশ্চিতভাবেই সংবিধানের চেতনা হচ্ছে রাষ্ট্রকেই এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলছে কি-না তা দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন রয়েছে। ওই কমিশন কি তার দায়িত্ব পালন করছে। আরেকটি কথা- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধনীর ছেলে- এমন একটি প্রচারণা দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। ইংরেজিতে একটি কথা রয়েছে- মিথ অ্যান্ড রিয়েলিটি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মানেই ধনী এ মিথ আজ বাংলাদেশের বাস্তবতায় মিথ্যা। ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপক্ষে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের। যে পরিবর্তন বোঝার ক্ষমতাও হয়তো আমাদের নীতিনির্ধারকদের নেই। এ লেখা যখন লিখছি তখনও ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ আন্দোলনের পরিণতি কি হতে পারে সে নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রথমত, রাষ্ট্র সদয় হতে পারে। শিক্ষাকে রাষ্ট্র ভ্যাটের আওতামুক্ত ঘোষণা করতে পারে। দ্বিতীয়ত, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এ আন্দোলন দমন করতে পারে। গত কয়েক বছর শক্তি প্রয়োগের মুখে বাংলাদেশের সব সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি পিছু হটেছে। এবারও তা ঘটলে বিস্ময়কর হবে না। তবে এ আন্দোলনের কয়েকটি ছবি নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হচ্ছে ‘মন পাবি, দেহ পাবি, তবু ভ্যাট পাবি না’- এমন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে এক শিক্ষার্থীর ছবি নিয়ে। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এক নারীর হাতে ওই প্ল্যাকার্ড থাকার কারণেই এ আলোচনা-সমালোচনা। যদিও নাদিয়া রহমান বাঁধন নামের ওই শিক্ষার্থী এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ ব্যাপারে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি লিখেছেন, যদি সরকার আমাদের কথা মানে তাহলে আমরা সরকারের উপর খুব হ্যাপি হবো (মন পাবি)। যদি পুলিশ দিয়ে গুলি করতে চায় তাও রেডি আছি (দেহ পাবি), কিন্তু কোন ভ্যাট নয়। এই সিম্পল কথাটা না বুঝে যারা উল্টা-পাল্টা কমেন্ট করছে তাদের কিছু বলার নেই আমার। অন্যদের শ্রদ্ধা করলেই কেবল আপনি কারও কাছ থেকে শ্রদ্ধা পেতে পারেন। বাঁধন দাবি করেন, তিনি অনেক প্লাকার্ড নিয়েই ছবি তুলেছেন, তবে এসবের একটাও তার নিজের নয়। তিনি আরও লিখেছেন, এ প্লাকার্ডের লেখাটা ফানি (মিনিংলেস না, কিন্তু সেটা বোঝার ক্ষমতা সবার নেই)। আমি মেয়ে বলে আসলে আমার প্লাকার্ড ধরা ঠিক হয়নি? আমি নিজেকে মানুষ ভাবতে পছন্দ করি, নিজেকে সেভাবেই ট্রিট করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরিন এ ব্যাপারে ফেসবুকে লিখেছেন- ‘তুই আমার দেহ পাবি, কিন্তু মন পাবি না...,’ ঢাকাই সিনেমার নায়িকার ক্লিশে সংলাপকে No Vat আন্দোলনের প্ল্যাকার্ডে নিয়ে আসা, পপুলার কালচারের এই Intertexual ব্যবহার, অর্থমন্ত্রীর কাছে ঐকিক নিয়ম শেখার চেয়ে আকর্ষণীয়। একজন মেয়ে এই প্ল্যাকার্ড ধরার সঙ্গে সঙ্গে টেক্সটের অর্থ পাঠকের কাছে কীভাবে বদলে যায়; সেসব গালাগালি, যৌন- আক্রমণ কিংবা নীতিজ্ঞান বর্ষণের পাঠ, জেন্ডার স্টাডিজের দিক থেকে প্রণিধানযোগ্য। কিন্তু আলোচিত/বিতর্কিত/নিন্দিত ছবির মানুষ, যখন প্রতিবাদী মানুষ হয়ে উত্তর দেয়, এ ঘুরে দাঁড়ানোর জবাব নাই। এটি নিজেই একটি ধারা। তিনি আরও লিখেছেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত স্লোগান বেশ একটা আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবীরাও যে এ আন্দোলনের স্লোগান কি হওয়া উচিত তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন, এটা কিন্তু বেশ আশার কথা! তার মানে তারা ‘নো ভ্যাট’ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছেন। নো ভ্যাটের স্লোগানগুলো আন্দোলনের মতোই স্বতঃস্ফূর্ত, তাই নিশ্চয়ই ‘সহি স্লোগান’ হয়ে ওঠেনি। এ কথা অস্বীকার করার জো নেই যে, এ আন্দোলনে ব্যবহৃত কিছু স্লোগান অবশ্যই আপত্তিকর। কারণ কোন ক্ষেত্রেই শালীনতা অতিক্রম সমর্থনযোগ্য নয়। তবে এ আন্দোলনের মূল কৃতিত্ব একটি সাংবিধানিক স্লোগান ফিরিয়ে আনা- শিক্ষা কোন পণ্য নয়, শিক্ষা অধিকার।

উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভ্যাট: ‘দুধ দেবে খামারিরা, গরু-ছাগল নয়!’ by ফারুক ওয়াসিফ

‘শিক্ষার্থীদের ভ্যাট দিতেই হবে’-এমন তেজস্ক্রিয় মন্তব্য থেকে সরে এসেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে প্রমাণিত হয় শিক্ষার্থীদের অবস্থানই যৌক্তিক ছিল। তবে মানলেনই যদি তাহলে আবার কেন বলেন, ‘আন্দোলনের যৌক্তিকতা পাই না।’ ভ্যাট বহাল রাখার কৌশলটাও নিদারুণ। এনবিআরের তরফে বলা হচ্ছে, ভ্যাট দেবে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থীরা নয়। ফেসবুকে সয়লাব হওয়া জবাব: ‘দুধ দেবে খামারিরা, গরু-ছাগল নয়!’ ভ্যাট যে পাত্র থেকেই নেওয়া হোক, তা আদায় করা হবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই।
ব্রিটিশ আমলে জমিদারদের ওপর শিক্ষা কর বসানো হতো। শিক্ষার ব্যয় মেটাতে সরকার নির্দিষ্ট আয়ের ওপরের ধনীদের ব্যাপারে সে রকম পদক্ষেপ নিতে পারে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন ও ফি সীমার মধ্যে রাখার বন্দোবস্ত করা যায়। বেসরকারি শিক্ষাকে নিরেট মুনাফামুখী হওয়া ঠেকানোর তদারকি তো সরকারি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঞ্চয়কে শিক্ষার অবকাঠামো ও মানের উন্নয়নে ব্যয় করাতে পারে কেবল সরকার। বিষয়টা হওয়ার কথা ছিল বাণিজ্যায়ন-বিরোধী; সরকারের দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার: মানবিক কারণে, শিক্ষা বিস্তারের স্বার্থে। অথচ যাঁদের আজ এভাবে রাস্তায় নামতে বাধ্য করা হলো, তাঁরা সহজে ফিরবেন না। এভাবে বা অন্য কোনো ভাবে আবারও তাঁরা আসবেন।
এ রকম বাস্তবতা থেকেই জন্ম হয় প্রতিবাদের নতুন ভাষা ও দাবি: ‘নো ভ্যাট, করো গুলি’! গুলির কথা এসেছে, কারণ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তার পরও তাঁরা মারমুখো হননি। তারা দেখালেন, একটা গাড়িও না ভেঙে আন্দোলন করা যায়। তাঁদের এই প্রতিবাদের ভাষাও কিন্তু অহিংসই। আইন মেনে চূড়ান্ত ‘না’ বলার প্রতিরোধ এটা।
শিক্ষা আন্দোলনের এই জমায়েত অনেকেরই অচেনা। এই শিক্ষার্থীরা প্রজন্ম হিসেবে নতুন। তাঁদের ভাষাও নতুন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনের গৌরব ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁরা যোগ করছেন নিজেদের নতুন গৌরব ও আত্মবিশ্বাস।
এই অসংগঠিত ও আনাড়ি আন্দোলনকারীদের ভাষা ও ভঙ্গি নিয়ে কারও আপত্তি থাকতেই পারে। তাই বলে, নারীর জন্য অবমাননাকর ভাষা প্রয়োগ করে তাদের আরও হেনস্তা করতে হবে? কথায় বলে, মড়ারে মারো কেন? বলে, লড়ে চড়ে কেন? হ্যাঁ, নিশ্চল এই সমাজকে তাঁরা কিন্তু ধাক্কা দিয়েছেন। তাঁরা যে যুক্তি দেখাচ্ছেন, যে দাবি তুলছেন, তার ভেতরে সত্য ও মানবিকতা উপস্থিত। একে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। পুরোনো ও প্রাজ্ঞদেরই তো বেশি দায় নতুনকে বুঝে তার বিকাশে কাজ করার। আমরা কি কখনো তাঁদের বুঝতে চেয়েছি, তাঁদের কাছে গিয়েছি, তাঁদের দুঃখগুলো নিয়ে ভেবেছি?
কর্তাসুলভ অনেকেরই জানা নেই, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মধ্য ও নিম্নবিত্ত ঘরের। হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া, অধিকাংশ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েই এই চিত্র দেখা যাবে। নিজস্ব আবাসন নেই বলে বাসা ভাড়া করে মেস বানিয়ে থাকতে হয়। ঢাকার বাসা ভাড়া কত বেশি, তা তো সবারই জানা। এ জগদ্দল শহরে চলাচলের কষ্ট ও খরচের বহরও তো অজানা থাকার কথা না। আমি এমন কজন ছাত্রকে চিনি যাঁদের পড়ার খরচ জোগাতে নাভিশ্বাস ওঠে। অনেকে দিনে ছোটখাটো চাকরি করে সন্ধ্যার পরে উচ্চতর ডিগ্রির সাধনা করে যান চাকরির বেতনের টাকায়। অনেককে পরিবার চালাতে হয়। শ্রেণি ডিঙানোর আশা, ভালো জীবনের স্বপ্নে তাঁরা এই বাড়তি বোঝাটা বয়ে চলেন। আমাদের মোটামুটি সচ্ছল পরিবার সন্তানের পেছনেই যা আছে সব বিনিয়োগ করেন। হয়তো বড় ভাইকে পড়াতেই পরিবার কমজোরি হয়ে যায়। পরের ভাই-বোনদের কপালে থাকে হতাশা। জমি বেচা টাকা, পার্টটাইম চাকরি করা টাকা তাঁরা দুর্নীতি বা বাণিজ্যের ভোগে দিতে কেন রাজি থাকবেন?
সরকারকে সংবিধান-বর্ণিত শিক্ষার অধিকার প্রশ্নে নীতিগতভাবেই সেবামূলক থাকতে হবে। কেবল শিক্ষাই এই সম্পদহীন দেশের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সামাজিক পুঁজি, যা অর্জনে আমরা স্বাধীন। অথচ নিছক শিক্ষার অভাবেই, যথাযথ মানের অভাবেই দেশটা উঠতে উঠতে হোঁচট খাচ্ছে। এরপরও উচ্চশিক্ষা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের কৌশলপত্রের প্রতিটি সুপারিশ মেনে উল্টো যাত্রাতেই চলবে সরকার? ওই কৌশলপত্রের তৃতীয় পর্বে ধাপে ধাপে শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির সুপারিশ করা আছে—ছাত্র আন্দোলনকে প্রধান বাধা বলে বর্ণনা করা আছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-ব্যয়ও তো বাড়ছে ধীরে ধীরে। এটা কি কৌশলে উচ্চশিক্ষার সংকোচন নয়?
শিক্ষার্থীরা তো সংবিধানের ভরসাতেই দাবি করছেন, শিক্ষা সুযোগ নয় অধিকার, শিক্ষা পণ্য নয় রাষ্ট্রের বিনিয়োগ। আজকের সন্তানেরা লড়ছেন আগামীর সন্তানদের জন্য। আজ তাঁরা জয়ী হলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে উচ্চশিক্ষায় আসতে পারবেন। বিকাশমান অর্থনীতির স্বার্থেই আমাদের অনেক স্নাতক লাগবে। সার্বিক উন্নতির স্বার্থে এ খাতে বিনিয়োগ করবে রাষ্ট্র। শিক্ষা থাকবে সমাজের হাতে, চলবে রাষ্ট্রের খাতে, এই বুনিয়াদি অবস্থানে সরকারকে আসতেই হবে। পাবলিকের হয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এটাই বলছে। রিকশা চালিয়ে পড়ালেখা করা যদি মহিমা পায়, তাহলে শ্রমজীবীর সন্তানের জন্য শিক্ষার সুযোগ খোলা রাখার দাবি কেন মহৎ নয়?

মক্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৭

ভেঙে পড়া ক্রেন। ছবি: এএফপি
সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরের হারাম শরিফে ক্রেন ভেঙে পড়ার ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ১০৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ২৩৮ জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪০ বাংলাদেশি রয়েছেন।
আজ শনিবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মক্কার স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিশালাকারের ক্রেনটি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচণ্ড ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মাগরিবের নামাজের আগে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার সময় হারাম শরিফ মুসল্লিতে পরিপূর্ণ ছিল। তাঁদের অধিকাংশই হজ পালনের উদ্দেশে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সমবেত হওয়া মুসল্লি বলে ধারণা করা হচ্ছে। পবিত্র হজ শুরুর অল্প কয়েক দিন আগে এ দুর্ঘটনা ঘটল। বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রধান জেনারেল সুলেইমান আল-আমর বলেন, ‘হতাহত সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে আর কোনো হতাহত ব্যক্তি নেই।’ এই কর্মকর্তার ভাষ্য, শক্তিশালী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে গাছ উপড়ে পড়ায় ক্রেনটি আছড়ে পড়েছে।
দুর্ঘটনাস্থলে সৌদি আরবের জরুরি উদ্ধার কর্মীরা
গতকাল রাত সাড়ে ১২টায় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ্ প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনায় ৪০ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে পাঠানোর পর প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ গুরুতর আহত হননি।
এ ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব ও ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক তথ্য এখন পর্যন্ত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পড়ে থাকতে দেখা যায় বিশাল ক্রেনের অংশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হারাম শরিফের চতুর্থ তলায় আছড়ে পড়ে ক্রেনটি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর অনেকের রক্তাক্ত দেহ হারাম শরিফের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। কারও কারও দেহ চাপা পড়ে আছে ধ্বংসস্তূপের নিচে। ইউটিউবে পোস্ট করা এক ছবিতে দুর্ঘটনার পর আতঙ্কিত মুসল্লিদের কাউকে কাউকে কান্না ও ইতস্তত ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।  দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়।
পবিত্র মক্কা নগরের গ্র্যান্ড মসজিদের এই ছবিটি গত ১৪ জুলাই ওপর থেকে তোলা। ছবি: রয়টার্স
গতকাল জুমার দিন হওয়ায় হারাম শরিফে মুসল্লিদের ভিড় স্বাভাবিকভাবেই অন্য দিনের তুলনায় বেশি ছিল। হজের উদ্দেশে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখো হাজিও এরই মধ্যে উপস্থিত হয়েছেন সেখানে। অধিক সংখ্যক মুসল্লি যাতে পবিত্র হজ সম্পাদন করতে পারেন, এ জন্য হারাম শরিফ কমপ্লেক্সের আয়তন বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। নির্মাণকাজের জন্য হারাম শরিফের চারপাশে অনেক ক্রেন বসানো হয়েছে। গতকালের দুর্ঘটনার আগে ২০০৬ সালে হজের সময় পদদলিত হয়ে শতাধিক হাজির মৃত্যু ঘটে।

কবুল করলেন মুহিত

সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয়ের ওপর কর আরোপের কথা কবুল করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, রাজস্ব বাড়াতেই আমাদের বিভিন্ন জায়গায় খোঁচা দিতে হয়। আমি একটি হিসাব করে দেখেছি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর প্রতিদিন খরচ হয় এক হাজার টাকা। এটা তার ফি, বইয়ের খরচ, লাইব্রেরি ফি, খাওয়া-দাওয়াসহ। আমি সেখান থেকে কত চেয়েছি? মাত্র ৭৫ টাকা। বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘বিতর্ক বিকাশ’-এর চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্র্যাক ও এটিএন বাংলার সহযোগিতায় এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। বক্তৃতার একপর্যায়ে মুহিত বলেন, আমি বক্তৃতা দিতে গেলে নানান বিষয়ে কথা বলি। এ জন্য অবশ্য অনেকের বিরাগভাজন হই। বিব্রতকর অবস্থায়ও পড়তে হয়। অনেক সময় সংশোধনও করে নিতে হয়। এটাকে আমি সমাজ জীবনের অংশ বলেই মনে করি। ভ্যাটের বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের সতর্ক করে দিয়ে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ফিস-টিস, ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভ্যাটের টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করতে পারে। শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে আমি বলেছি, তোমরা আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রস্তুতি নাও। আন্দোলন করো যাতে ভ্যাটের অজুহাতে তোমাদের ফিস আবার না বাড়ে। পাঁচ বছরে জাতীয় বাজেটের আকার ৯৫ হাজার কোটি টাকা থেকে  প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য রাজস্ব আদায় বাড়াতেই হবে। আর এই রাজস্বের জন্য আমাদের নানান জায়গায় হাত দিতে হয়। স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের বেশি খরচ করতে হচ্ছে। এ ছাড়া আরও অনেক খাত থেকে আমাদের উপর হুকুম আসছে, সে খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। সে টাকাটা কোথা থেকে আসবে? সেটার জন্য রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আমি বলেছি যে, এই সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট, যেটা টিউশন ফি আদায় হচ্ছে সেখান থেকে দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি হয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মাদ মুসা, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান বক্তব্য রাখেন। পরিচালনা করেন, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
‘হাজারে ৭৫ টাকা ভ্যাট বড় কিছু নয়’
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী প্রতিদিন গড়ে এক হাজার টাকা খরচ করেন। এর মধ্যে তার বই-খাতা, ট্রান্সপোর্ট প্রভৃতি রয়েছে। সেখানে ৭.৫ ভাগ হারে এক হাজার টাকায় ৭৫ টাকা খুব বড় কিছু নয়। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘শিক্ষাক্ষেত্রে অধিক বিনিয়োগ টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি  ও  ব্র্যাক ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করে। মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন বাড়তি রাজস্ব। যে কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্যাক্স আরোপ করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ফিস নেয়, সেখান থেকে রাজস্ব নেবে। বিশ্ববিদ্যালয় তাতে রাজিও হয়েছে। আমি সেখানে বলেছি-বিশ্ববিদ্যালয় ঠিকই রাজি হয়েছে কিন্তু তোমরা (শিক্ষার্থীরা) যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নজর না দাও তবে আগামী বছর সেগুলো তোমাদের ওপর পাসআউট করে দিবে। ফিস, ডেভেলপমেন্ট ফান্ড  আরো নানা কথা বলে সেখান থেকে আদায় করে নেবে। সে বিষয়ে সতর্ক করেই আমি বলেছি তোমরা আগামী বছরের জন্য প্রস্তুতি নাও, যাতে সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাটের জন্য আবার না খরচ বেড়ে যায়।

শুধু ভ্যাট নয়, রুখতে হবে শিক্ষার বাণিজ্যকীকরণও by ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান

দেশের সব ইস্যুকে ছাপিয়ে এখন ‘টক অব দ্যা কাউন্টি’ হলো শিক্ষায় ভ্যাট আরোপের বিষয়টি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির ওপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ করেছে সরকার। এটা আবার ১ কিংবা ২% নয়, একসাথে ৭.৫%। এরফলে গেল তিনদিন থেকে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘ভ্যাট নয়, গুলি কর’ এমন প্ল্যাকার্ড বুকে ঝুলিয়ে এবং স্লোগানে রাজপথে আন্দোলন করছে।
এরই মধ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানতে পারলাম বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুলিশের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের উপর দফায় দফায় হামলা করেছে সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ। আন্দোলন থেকে সরে যেতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে, তথ্যে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, কিন্তু এরপরও তাদের আন্দোলন দমাতে পারেনি। নতুন করে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করেছে ‘ভ্যাট প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে লাগাতার ধর্মঘট’ চলবে। তবে যেখানে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে ছাত্রলীগের একাত্মতা পোষণ করার কথা সেখানে তারা রাতের আঁধারে পুলিশ পাহারায় হামলা করছে। এক্ষেত্রে সরকার ও ছাত্রলীগের এমন নোংড়া আচরণের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই।
শিক্ষার ওপর এই সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপের বিরোধিতা শুধু শিক্ষার্থীরাই করছেন না, শিক্ষাবিদসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের একই ধরনের মনোভাব। এক্ষেত্রে আমাদের অনেকের ধারনা- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মানেই এখানে বিত্তবানদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে। কিন্তু বর্তমানে এর শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসছে। কেননা, প্রতিবছর যে হারে ১০/১২ লাখ ছেলেমেয়ে এইচএসসি পাশ করছে সেহারে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন নেই। ফলে তাদের জন্য উচ্চশিক্ষায় ভ্যাট দেয়া সম্ভব হবে না। উন্নয়নশীল কিংবা উন্নত কোন দেশেই শিক্ষায় ভ্যাট নেই। কিন্তু আমাদের সরকার শিক্ষাকে অধিকার বললেও কার্যত: তা পণ্যে পরিণত করছে। সরকার অন্যান্য পণ্যের ন্যায় এবার শিক্ষাকেও পণ্যের কাতারে নামিয়ে একইভাবে ভ্যাট আরোপ করেছে। এতে দরিদ্র-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ যে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এতে অন্তত: আমার কোন সন্দেহ নেই।
আর শিক্ষার্থীরা যখন ভ্যাট নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে সরকার এনিয়ে খেলছে লুকোচুরি খেলা। সরকার প্রধান, অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃপক্ষের বক্তব্য থেকে তা সহেজই বুঝা যাচ্ছে। তারা বলছে ভ্যাট শিক্ষার্থীদের দিতে হবে না, তবে ভ্যাট দেবে কে সেটাও পরিষ্কার করেনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং রাতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোর গলায় বলে দিয়েছেন, টিউশন ফির ওপর আরোপিত ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই দিনই সংসদে সরকারের অনুগত বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বহুরূপী রওশন এরশাদ ভ্যাটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেন। বক্তব্যটি মনোযোগসহকারেই শুনছিলাম। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ভ্যাটের পক্ষে জোরালোভাবে যুক্তি দিতে গিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে অনেক কথাই বলেছেন। তিনি বলেন, এই যে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমণ্ডিতে এক বিল্ডিংয়ে কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলশানে এক ছাদের নিচে কয়েকটি। বড় বড় নাম, গাল ভরা বুলি। এদের কোনো একাউন্টিবিলিটি নেই। ভ্যাট তো শিক্ষার্থীদের দিতে হবে না। এটা দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এটা তারা মেনেও নিয়েছেন। ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রশ্ন তুলেছেন ওইসব বিষয়ে আমরাও তার সাথে সম্পূর্ণ একমত। তবে এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য হলো- এই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চত করার দায়িত্ব কার, সেটা কি জনগণের না সরকারের? নিশ্চয় সরকারের। আর এ ক্ষেত্রে সরকার যদি তাদের জবাবদিহীতা নিশ্চিত না করতে পারে এর মাশুল কি সাধারণ জনগণ তথা শিক্ষার্থীদের দিতে হবে? বিষয়গুলো বেশ বিবেচনার দাবি রাখে।  
সরকার প্রধানের এমন বক্তব্যের পরও ‘ভ্যাট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করবে, না শিক্ষার্থী’- তা পরিষ্কার হয়নি। এ ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। যদিও এনবিআরের বিজ্ঞপ্তির পর শুক্রবার বিকালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি’র এক জরুরি সভায় নিজেরাই ভ্যাট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও কিন্তু রয়েছে। পরিস্থিতি দেখা মনে হয়েছে তারা অনেকটাই সরকারের চাপের মুখে জরুরী সভা করে এই সিদ্ধান্ত নিতে ও ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন। কেননা, সভা শেষে সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন নিজেরা ভ্যাট দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু এও বলেছেন, এনবিআরের প্রজ্ঞাপন ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ভ্যাট এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বর্তায়। এখানে আর ছাত্রদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তবে এনবিআর যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তা পুনরায় বিবেচনা করে দেখার অনুরোধ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ট্রাস্টের অধীনে চলে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। আমরা ভোক্তা নই, সেবা গ্রহণ করি না। যারা সেবা গ্রহণ করে তারাই কেবল ভ্যাটের আওতায় আসে।
অন্যদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর অরোপিত ৭.৫% ভ্যাট শিক্ষার্থীদেরই দিতে হবে। এ বছর ভ্যাট দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় যাতে এই ভ্যাট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় না করে, সেজন্য সরকার মনিটরিং করবে। আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থীদেরই ভ্যাট দিতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা এ বছরের ভ্যাট দিতে রাজি হয়েছেন। কাজেই এখন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অযৌক্তিক নেই। এতে সরকারে প্রধান ও অন্যান্যদের বক্তব্যে কোনো মিল খোঁজে প্ওায়া যাচ্ছে না।ফলে যে যাই বলুক আখেরে এই ভ্যাটের চাপটা যে শিক্ষার্থীদের উপরই বর্তাবে এতে কারো সন্দেহ নেই।
এদিকে শিক্ষায় ভ্যাট আরোপের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ মনে করছেন, সরকার শিক্ষাকেও পণ্য মনে করছে বলেই এভাবে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। যতদূর জানি, তাতে পৃথিবীর আর কোথ্ওা এভাবে শিক্ষার বাণিজ্যকীকরণ করা হয়নি। এ ধরনের ভ্যাট আরোপের নজীরও নেই। তাই যেখানেই এই শিক্ষা বাণিজ্যকীরণের চেষ্টা হয়েছে সেখানেই প্রতিরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। এক্ষেত্রে আমাদের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসাহ যুগাতে পারে নিকট অতীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হয়ে যাওয়া ছাত্র আন্দোলনগুলো। যেমনটি  উল্লেখ করা যেতে পারে ২০০৮ সালে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের ছাত্র আন্দোলনের কথা- এই বছরের প্রথম দিকে ক্রমাগত বেতন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার বাণিজ্যকীকরণ এর প্রতিবাদে কানাডায় শিক্ষার্থীরা ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস প্রশাসনিক ভবন দখল করে নেয়, একই বছর শিক্ষা ব্যয় হ্রাস করার দাবিতে অটোয়ার শিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে, টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, নাইজেরিয়ার ওনাবিসি ও ন্যাব্যাঞ্জা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভ, ওয়েলিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা নিউজিল্যান্ডের শিক্ষামন্ত্রী পিট হাজসনের শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মধ্য ওয়েলিংটন অভিমুখে পদযাত্রা, দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ ছাত্র-ছাত্রী নিবন্ধন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে অবস্থান ধর্মঘট, ফিলিপাইনে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে, জার্মানীতে বেতন ও নিবন্ধন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে জার্মানীর বনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে, বিনা বেতনে শিক্ষা এই শ্লোগানকে সামনে রেখে জার্মানীর বার্লিনে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে পথ নাটকসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করে, ইটালির রোমে নানা শ্রেণী পেশার ৫০ হাজার মানুষ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদ করে। এ সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয় ও গ্রেপ্তার হয়। এভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও বাণিজ্যকীকরণের প্রতিবাদে আন্দোলন হয়েছে এবং এসব ক্ষেত্রে প্রতিটি আন্দোলনই সফল হয়েছে। ফলে আমরা আশা করি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে শিক্ষায় ভ্যাট প্রত্যাহার হবে।
প্রসঙ্গত, পৃথিবীব্যাপী বিভিন্ন দেশে শিক্ষা জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু আমাদের দেশের সরকার স্লোগানে কিংবা ভাষণে শিক্ষাকে অধিকার বললেও বাস্তবে কিন্তু ভিন্ন বিষয়। কেননা, দেশ স্বাধীনের ৪৪ বছর পরও শিক্ষাকে আমাদের সংবিধানে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি পায়নি, ফলে রাষ্ট্র তা দিতে বাধ্য নয়। রাষ্ট্র কর্তৃক নাগরিকদের সাথে এর চেয়ে বড় প্রতারণা আর কী হতে পারে!
এরই প্রেক্ষিতে আমরা কি লক্ষ্য করছি, সার্বিকভাবে শিক্ষার প্রসারে শিক্ষাখাতে যেখানে ক্রমাগত বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন সেখানে হ্রাস করা হচ্ছে। ২০১০ সালে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের পর জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা থাকলেও বাস্তবে তা কমেছে। বর্তমানে আমাদের জাতীয় আয়ের (জিডিপি) মাত্র ২.৬% শিক্ষা খাতে ব্যয় করা হয়। দেশ স্বাধীনের পর ২০০৭-০৮ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বাজেটে সর্বোচ্চ ১৫.৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিককালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ ছিল ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৪.২ শতাংশ। কিন্তু এরপর থেকে টাকার অঙ্ক বাড়লেও মোট বার্ষিক বাজেটের হারে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এসে তা দাঁড়িয়েছে মোট বাজেটের মাত্র ১১.৬০ ভাগ।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একটি দেশের শিক্ষা খাতে মোট জাতীয় আয়ের ৬ শতাংশ বা বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয়, যা ২০০০ সালে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সম্মতিতে স্বাক্ষরিত ‘ডাকার ঘোষণা’য়ও এ কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জাতীয় আয়ের আড়াই শতাংশের সামান্য বেশি, অর্থাৎ বাজেটের ১১.৬ শতাংশ, যা আফ্রিকার অনেক দরিদ্র দেশের চেয়েও কম। এছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষা খাত নিয়ে বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনা প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বা বরাদ্দে যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, উন্নয়নশীল দেশগুলো শিক্ষা খাতে গড়ে বাজেটের ১৮.৭ শতাংশ বরাদ্দ রেখেছে। আগামী ১০ বছরে উদীয়মান অর্থনীতিতে পরিণত হতে হলে বাংলাদেশকে মাধ্যমিক, কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
আমরা জানি, শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়ে থাকে। তাই কোনো জাতিকে উন্নত হলে এই শিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমেই হতে হবে। ফলে এ খাতে ব্যয় তথা বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, আমাদের রাষ্ট্রের মোট বাজেটের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়লেও শিক্ষায় রাষ্ট্রের বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে। আর এ কারণেই রাষ্ট্র শিক্ষাকেও বাণিজ্যকীকরণ কিংবা পণ্য বানাতে ভ্যাট-কর আরো করছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যে কোনো মূল্যে এটা প্রতিরোধ করতে হবে শিক্ষার্থী ও জনগণকে। শুধু ভ্যাট প্রত্যাহার নয়, শিক্ষার সব ধরনের বাণিজ্যকীকরণ প্রক্রিয়া রুখতে হবে। সেইসাথে বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোসহ সর্বোপরি সংবিধানে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাষ্ট্র-সরকারকে বাধ্য করতে হবে।
লেখক: শিক্ষা ও সমাজ বিষয়ক গবেষক এবং কলাম লেখক
ই-মেইল sarderanis@gmail.com

কোরবানিতে দেশি গরুই ভরসা by ইফতেখার মাহমুদ

ফরিদপুর সদরের বিলনালিয়া এলাকার কৃষক
আমিন বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগম যত্নে
পেলেপুষে বড় করেছেন গরু দুটিকে। এবার
গরু দুটিকে নেওয়া হবে কোরবানির পশুর হাটে।
তাই শেষ সময়ের পরিচর্যায় ব্যস্ত তাঁরা। -প্রথম আলো
ভারতীয় গরু কম আসায় আসন্ন কোরবানির ঈদে দেশি গরুই ভরসা। এবারের কোরবানির ঈদে ৫০ লাখের মতো গরু জবাই হতে পারে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, কোরবানির ঈদে বিক্রির মতো ৪০ লাখের মতো হৃষ্টপুষ্ট গরু ও মহিষ আছে।
এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, এবার ভারতীয় গরু কম আসায় তা কিছুটা ঘাটতি তৈরি হবে এটা সত্যি। কিন্তু তা দেশের গরুর খামারিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। ঘাটতির কারণে দেশে এবার গরুর দাম কিছুটা বাড়লেও তাতে গরু লালন-পালনকারী সাধারণ কৃষকের লাভ হবে। ফলে পরের বছর তাঁরা আরও বেশি গরু লালন বাড়িয়ে দিয়ে দেশে গরুর ঘাটতি কমিয়ে আনবেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় অবশ্য বলছে, এবারের কোরবানির হাটে ৪০ লাখ দেশে পালিত গরু ও মহিষ এবং ৬৯ লাখ ছাগল ও ভেড়া উঠবে। দেশের বাইরে থেকে কিছু গরু আসবে। ওই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সব মিলিয়ে গরুর কিছুটা সংকট থাকলেও তাতে খুব একটা সমস্যা হবে না।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণে ৮৬ লাখ ২২ হাজার গরু ও মহিষ জবাই হয়েছে। যার মধ্যে কোরবানি হিসেবে জবাই হয়েছে ৪৫ লাখ। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, গত বছর কোরবানির ঈদে কমপক্ষে ৫৫ লাখ গরু জবাই হয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ বলছেন, এবার যদি ভারত ও মিয়ানমার থেকে পাঁচ লাখ গরুও আসে, তাহলেও ১০ লাখ গরুর ঘাটতি থাকবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গরুর সংখ্যা বাড়ছে গড়ে বছরে মাত্র এক লাখ। ফলে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে একটা বড় পার্থক্য থেকেই যাচ্ছে।
পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ছাগলের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু গরুর ক্ষেত্রে ভারত থেকে আসা গরুর ওপরেই বাজার নির্ভরশীল থেকেছে,
তবে প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গরুতেও দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক খামারিদের গরু লালন-পালনে উৎসাহিত করতে ২০০ কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করেছে। এই টাকার পরিমাণ সামনের বছর আরও বাড়ানো হবে।
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া ওই তথ্যে আশাবাদ থাকলেও বিগত বছরগুলোতে দেশে গরুর সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য খুব একটা আশা জাগায় না। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে আট বছরে ৮ লাখ ৩৬ হাজার গরু বেড়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে গরুর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে গরুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৩৬ লাখ ৩৬ হাজার। অর্থাৎ এক বছরে গরুর সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার।
দেশে গরু লালন-পালনকে তেমন উৎসাহ না দেওয়ায় এই সংকট রয়ে গেছে বলে মনে করছেন এই খাতের সঙ্গে জড়িত বিশেষজ্ঞরা। গত পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ছাগলের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু গরুর ক্ষেত্রে স্থানীয় জাতের উন্নয়নে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে ভারত থেকে আসা গরুর ওপরেই বাজার নির্ভরশীল থেকেছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের চট্টগ্রামের লাল গরু ও মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিমের গরুর মাংসের আন্তর্জাতিক খ্যাতি থাকলেও এর জাত সংরক্ষণ ও উন্নত করা এবং তা লালন-পালনে দেশব্যাপী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ওই গরুর জাত দুটি এখন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবেই লালন-পালন করা হচ্ছে। কিন্তু এই দুটি জাত দিয়েই দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি সম্ভব।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, গত আট বছরে দেশে ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে ৫৬ লাখ। অন্যদিকে গত আট বছরে দেশে ছাগলের সংখ্যা ব্যাপক বেড়েছে। ২০০৫-০৬ সালে দেশে ছাগলের সংখ্যা ছিল প্রায় দুই কোটি। ২০১৪-১৫ সালে তা বেড়ে ২ কোটি ৫৬ লাখ হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ছাগলের মাংস রপ্তানিও করছে। বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলকে জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা এফএও বিশ্বসেরার স্বীকৃতি দিয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রের এ রকম এক পরিস্থিতিতে সারা দেশে এক হাজারের বেশি কোরবানির হাট জমতে শুরু করেছে। বেশির ভাগ হাটে ইতিমধ্যে দেশি গরু আসা শুরু হয়েছে। তবে গরু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরকারের আগে থেকে গরুর বিকল্প বাজার খোঁজা উচিত ছিল।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের ৭০০ কোটি টাকার চামড়া এখনো রয়ে গেছে। ফলে ভারতীয় গরু না এলে তা চামড়াশিল্পের ওপরে আপাতত কোনো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ভারতীয় গরু আসা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে সরকারকে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

ভারতে রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ১০৪

ভারতের মধ্যপ্রদেশে বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত
ভবনের ধ্বংসাবশেষে উদ্ধার তৎপরতা।
গতকাল সকালে একটি রেস্তোরাঁর গ্যাস
সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভবনটি বিধ্বস্ত হয়
ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে একটি রেস্তোরাঁয় রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১০৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শতাধিক আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঝাবুয়া জেলার পেতলাওয়াড় শহরের জনবহুল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটে। খবর এএফপি, এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
ভয়াবহ বিস্ফোরণে দোতলা ভবনটি ধসে পড়ে। এর ধ্বংসাবশেষের মধ্যে অনেক মানুষ আটকা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন, ওই রেস্তোরাঁ ভবনটিতে অথবা পাশের বাড়িতে প্রচুর জেলাটিন স্টিক মজুত করা ছিল। খনির কাজে বিস্ফোরণ ঘটাতে জেলাটিন স্টিক ব্যবহার করা হয়। হয়তো ওই স্টিকগুলোর জন্যই বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতা এত বেশি হয়েছে। বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সকালে অফিসগামী চাকরিজীবী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা রেস্তোরাঁটিতে নাশতা করছিলেন। এ কারণেই হতাহতের সংখ্যা এত বেশি হয়েছে।
ঝাবুয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট সীমা আলাভা টেলিফোনে এএফপিকে বলেন, ‘আমরা ২৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। উদ্ধার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে ঠিক কতজন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা রয়েছে, তা আমি এখনই বলতে পারছি না।’
সীমা আলাভা আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে কোনো একটি ভবনে কেউ খনিতে ব্যবহারের বিস্ফোরক মজুত রেখেছিল। অধিকতর তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’ জেলা পুলিশের আরেক কর্মকর্তা অনুরাগ মিশ্র বলেন, রেস্তোরাঁটি বাসস্ট্যান্ডের কাছে হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা এত বেশি।
পেতলাওয়াড় পুলিশের কর্মকর্তা এ আর খান বলেন, ‘আমরা আহত ৫০ জনকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছি। ধ্বংসাবশেষ অপসারণের পর হতাহত ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হবে।’
ঝাবুয়া জেলার মুখ্য চিকিৎসা কর্মকর্তা অরুণ কুমার শর্মা টেলিফোনে এএফপিকে বলেন, ‘৬০টি মৃতদেহের ময়নাতদন্ত চলছে। আরও ২২টি মরদেহ ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে। আহত লোকের সংখ্যা ১০০-এর কাছাকাছি। এর মধ্যে ২০ জনের অবস্থা গুরুতর।’
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে দুই লাখ রুপি এবং আহত ব্যক্তিদের ৫০ হাজার রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘রাজ্য সরকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’
নিরাপত্তার মান দুর্বল হওয়ায় ভারতে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ প্রায়ই ঘটে থাকে। তবে বিপুলসংখ্যক হতাহতের ঘটনা বিরল।

বনশ্রীতে ১০ শিশু উদ্ধার, নারীসহ চারজন গ্রেপ্তার

গতকাল রামপুরা বনশ্রী এলাকার একটি বাড়ি থেকে
১০ জন শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। ছবিটি গতকাল
তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সামনে থেকে
তোলা। পুলিশ আশা করছে, এই শিশুদের ছবি প্রকাশিত
হলে স্বজনেরা তাদের শনাক্ত করতে পারবেন -প্রথম আলো
রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে গতকাল শনিবার দুপুরে পুলিশ ১০ শিশুকে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো মোবারক হোসেন (১৪), আবদুল্লাহ আল মামুন (১১), মো. বাবলু (১০), মো. আব্বাস (১০), মো. স্বপন (১১), মো. আকাশ (৯), মান্না ইব্রাহিম আলী (১০), মো. রাসেল (১৪), মো. রফিক (১৪) ও মো. ফরহাদ (৯)।
রামপুরা থানার পুলিশ জানায়, গতকাল সকালে শিশু মোবারকের চাচা মনির হোসেন থানায় এসে অভিযোগ করেন, ছয় মাস ধরে নিখোঁজ তাঁর ভাতিজা মোবারককে বনশ্রী সি ব্লকের ১০ নম্বর সড়কের এক বাসায় আটকে রাখা হয়েছে। পুলিশ দুপুরে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে মোবারকসহ ১০ শিশুকে উদ্ধার করে। শিশুদের আটকে রাখার অভিযোগে আরিফুর রহমান (২৪), হাসিবুল হাসান ওরফে সবুজ (১৯), জাকিয়া সুলতানা (২২) ও ফিরোজ আলম খান ওরফে শুভকে (২১) আটক করা হয়। বিকেলে তাঁদের বিরুদ্ধে রামপুরা থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন মনির হোসেন। ১০ শিশুকে তেজগাঁও থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে ছেলে শিশু রাখার ব্যবস্থা না থাকায় তাদের আবার রামপুরা থানায় ফেরত নেওয়া হয়।
মনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের বাসা খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়ায়। মোবারকের বাবা কামাল হোসেন মারা গেছেন। ছয় মাস ধরে মোবারক নিখোঁজ। নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি খিলগাঁও থানায় একটি জিডি করেন। গতকাল সকালে যে বাসা থেকে মোবারক উদ্ধার হয়েছে সেই বাসার গৃহকর্মী মোবারককে আটকে রাখা হয়েছে বলে তাঁদের খবর দেন।
রামপুরা থানায় মোবারক বলেছে, ছয় মাস আগে মায়ের সঙ্গে রাগ করে সে বাসা থেকে বেরিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে যায়। সেখান থেকে আরিফ ও জাকিয়া তাকে ধরে জোর করে নিয়ে বাসায় আটকে রাখে। তারা তাকে বের হতে দেয়নি।
গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে পুলিশ বলেছে, আরিফুর রহমান, হাসিবুল হাসান, জাকিয়া সুলতানা ও ফিরোজ আলমের দাবি তাঁরা ‘অদম্য বাংলাদেশ’ নামে এনজিও পরিচালনা করেন। সরকারের অনুমতি নিয়ে পথশিশুদের পুনর্বাসনে কাজ করে আসছেন। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কথা বলতে দেয়নি পুলিশ।
এ ব্যাপারে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা এনজিও চালু করলেও বিষয়টি রামপুরা থানা-পুলিশকে লিখিতভাবে জানাননি। কিংবা সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেননি। বাড়ির সামনে এনজিওর সাইনবোর্ড নেই। তাঁরা মোবারককে জোর করে আটকে রেখেছিলেন। এ ঘটনায় মনির হোসেন তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার করা কাগজপত্র যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
তবে উদ্ধার হওয়া নয়জন পথশিশু থানায় বিকেলে প্রথম আলোকে বলেছে, তারা আগে সদরঘাট ও কমলাপুর রেলস্টেশনের টোকাই ছিল। এনজিওটিতে ভালো থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি তারা নিজেদের নাম লিখতে পারছে, পড়তে পারছে। এদের মধ্যে কেউ জানায়, মা বা বাবাকে না জানিয়ে এসেছে। আবার কেউ জানায়, রাগ করে বাসা থেকে বেরিয়ে আসার পর স্বজনদের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।
বনশ্রী সি ব্লকের ১০ নম্বর সড়কের একটি বাড়ি থেকে শিশুগুলোকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে ওই বাড়ি গিয়ে জানা যায়, বাড়িটির মালিক সেখানে থাকেন না। এক বছর আগে ছয়তলা ভাড়া নেন ওই এনজিওর কর্মীরা।

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের জন্য রাশিয়ার দ্বারস্থ ভারত

কয়েক দিনের মধ্যেই রাশিয়া সফরে যাওয়ার কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তার আগে শনিবার ভারতের তরফে রাশিয়ার কাছে আবেদন করা হয়েছে, যাতে অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলি ভারতীয় বিমান চালকদের চালাতে দেয়া হয়। এতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং চালকেরা নতুন প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমানের পরিকাঠামো মাপতে পারবে।
জানা গেছে, এই অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে ভারত রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পঞ্চম প্রজন্মের বিমান তৈরি করতে পারে বা সরাসরি কিনেও নিতে পারে।
শুক্রবার ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রে খবর, এমনিতেই ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক ইস্যুতে বড়ধরণের সমঝোতা সম্ভাবনা রয়েছে। ৬০-৭০টি যৌথ উদ্যোগে তৈরি যুদ্ধ বিমানের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে ভরত ও রাশিয়ার মধ্যে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান রয়েছে কেবল আমেরিকা ও রাশিয়ার হাতে। সেখানে ভারতের হাতে চতুর্থ প্রজন্মের সর্বোচ্চ যুদ্ধবিমান রয়েছে সুখই৩০। আর আমেরিকার হাতে রয়েছে পঞ্চম প্রজন্মের এফএ২২ র‍্যাপ্টর বিমান। নতুন সমঝোতায় ভারত পঞ্চম পর্যায়ের যুদ্ধ বিমান হাতে পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অভিনব প্রতারণা by জাবেদ রহিম বিজন

একজন মাসুম মিয়া। পিতা-কুদ্দুস মিয়া। আরেকজন সামসু মিয়ার ছেলে মো. মাহফুজ মিয়া। দুজনেরই বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের নাসিরপুর গ্রামে। এ দু- প্রতিবশীর নাম-পরিচয়ে কোন ভুল নেই। পার্থক্য শুধু কর্মের। একজন অপরাধী, আরেকজন খেটে খাওয়া মানুষ। অপরাধী প্রতিবেশীর চতুরতার জালে খেটে খাওয়া মানুষটিই এখন অপরাধীর কাঠগড়ায়। এক মাসের বেশি সময় জেল খাটতে হয়েছে। জেলে থাকার সময় হারিয়েছেন মাকে। পুত্রের চিন্তায় কাতর ছিলেন মা। যেন সর্বনাশের খেলা। নিষ্কৃতি মেলেনি এখনও মাহফুজের। প্রায় ৮ বছর আগের ঘটনা। কুমিল্লা  কোতোয়ালি  থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে মাসুম নামের এক মাদক পাচারকারী। ৩ কেজি গাঁজাসহ সদর থানাধীন চানপুর থেকে তাকে আটক করে এস আই মো. ইকবাল উদ্দিন। চতুর মাসুম তখন পুলিশের কাছে নিজের নাম পরিচয় গোপন করে। নিজের নাম ঠিকানা হিসেবে যা বলে তা মাহফুজের। মাহফুজ মিয়া (২৭), পিতা-মৃত সামসু মিয়া, গ্রাম: নাসিরপুর, থানা-নাসিরনগর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আসামির এই নাম পরিচয়েই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। জেলে পাঠানো হয় প্রকৃত মাসুমকে। মামলা নম্বর-৯৮। তারিখ: ২৭/০৯/২০০৮ইং। ওই বছরের ২২শে অক্টোবর আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এই মামলায় প্রায় ৭ মাস জেল খেটে মাহফুজ পরিচয়দানকারী মাসুম ২০০৯ সালের ৮ই এপ্রিল জামিনে বেরিয়ে আসে। এরপর আড়ালে চলে যায় সে। ঘটনার শেষ এখানেই নয়। আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হয় মাহফুজের বিরুদ্ধে। এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে সম্প্রতি নাসিরনগর থানা পুলিশ হাজির হয় তার বাড়িতে। ঘটনা শুনে পরিবার নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটানো মাহফুজের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। তাজ্জব বনে যান পরিবারের লোকজন, পাড়া-প্রতিবেশী পুলিশকে বুঝিয়ে বলেন মাহফুজ এ ধরনের লোক নয়। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা মোকদ্দমা হয়নি এই জীবনে। কিন্তু পুলিশ ওয়ারেন্ট দেখিয়ে তাদের কিছু করার নেই বলে ধরে নিয়ে আসে মাহফুজকে। গত ৭ই জুলাই রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লায় আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠায়। অসহায় মাহফুজের বিষয়টি নিয়ে তারই আরেক প্রতিবেশী ওয়াদুুদ মিয়া কুমিল্লায় যান। আইনজীবী নিয়োগ করে তাকে ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করেন। গত  ১৩ই আগস্ট মাহফুজের জামিন হয়। আদালতে মাহফুজের আইনজীবীর করা আবেদনে বলা হয়- মাহফুজ মামলার এজাহারে বর্ণিত কোন অপরাধ করেনি। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে জড়ানো হয়েছে, সে পরিস্থিতির শিকার। গাঁজাসহ ধৃত আসামি মাসুম মিয়া। তার পিতার নাম কুদ্দুস মিয়া। ধরা পড়ার পর নিজের পরিচয় গোপন রেখে সে মাহফুজের নাম পরিচয়, ঠিকানা ব্যবহার করে। মাসুম জেল হাজতে যাওয়ার পর ২০০৯ সালের ৮ই এপ্রিল জামিন পায়। মাসুম তার পিতা কুদ্দুস মিয়ার জিম্মাতেই জামিন পায়। জামিন পেয়ে সে আর আদালতে হাজির হয়নি। অন্যদিকে মাহফুজ মিয়া এ মামলা সম্পর্কে কোন কিছুই জানে না। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার পরই সে জানতে পারে। মাহফুজ ভাল মানুষ এবং ইটাখোলার শ্রমিক বলে প্রত্যয়ন করেন নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রফিজ মিয়া ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জালু হোসেন। এদিকে মাহফুজকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পরই ছেলের চিন্তায় কাতর হয়ে পড়েন তার মা ললিতা বানু। গত ১০ই আগস্ট তিনি মারা যান। মাহফুজ জেলে থাকায় শেষ দেখা হয়নি তার মায়ের সঙ্গে।
মাহফুজের প্রতিবেশী ওয়াদুদ বলেন- মাহফুজ একজন খেটে খাওয়া মানুষ। তার এই বিপদে গ্রামের মানুষ হিসেবে কুমিল্লায় যাই। তাকে জামিনে মুক্ত করার ব্যবস্থা করি। তিনি বলেন আমরা ৭/৮ বছর আগে শুনেছিলাম মাসুম কুমিল্লায় ধরা পড়েছে। এরপরের আর কোন খোঁজখবর জানা ছিল না আমাদের। দারোগা আসার পর আমরা জানতে পারি মাহফুজের বিরুদ্ধে মামলা। এতে আমরা অবাক হই। আমরা আগে থেকেই জানতাম মাসুম গাঁজা সেবনকারী এবং গাঁজার ব্যবসায়ী। এর আগেও সে বিভিন্ন জায়গায় ধরা পড়েছে মাদক নিয়ে। তিনি জানান- আদালত মাহফুজের বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এখনও তদন্ত আসেনি। ওয়াদুদ বলেন- মাহফুজের শোক নিয়েই মারা গেছেন তার মা। আমরা তখন মাহফুজকে এ খবর জানাইনি পাছে যদি মাহফুজ আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে।
নাসিরনগর সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিজ মিয়া বলেন মাহফুজ কোন খারাপ কাজে জড়িত নয় বলে আমরা প্রত্যয়ন করেছি। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কাদের বলেন- কুমিল্লার ওয়ারেন্টে আমরা একজনকে ধরেছিলাম। ওয়ারেন্ট হলে পুলিশের কাজ হলো ধরা। মাঝখানে কি হয়েছে না হয়েছে তা আমার জানা নেই। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো।

নেপালি ছাত্রী ধর্ষণে সহায়তাকারী শনাক্ত by নুরুজ্জামান লাবু

ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলে মেয়েটিকে তার হোস্টেল থেকে তুলে নেয়া হয়েছিল প্রাইভেট কারে। পরে তাকে নেয়া হয় মোহাম্মদপুরের একটি বাসায়। সেখানে নেশাজাতীয় দ্রব্য মেশানো কোকাকোলা পান করতে দেয়া হয়েছিল তাকে। মেয়েটি নির্দ্বিধায় তা পান করেন। তারপরই ধীরে ধীরে অচেতন হয়ে পড়েন। যখন জ্ঞান ফিরে আসে তখন বুঝতে পারেন তার সর্বনাশ করেছে দুর্বৃত্তরা।
বন্ধুদের সহায়তায় তিনি ফিরে আসেন মালিবাগের নিজ হোস্টেলে। ঘটনাটি তিনি তার কলেজের অধ্যক্ষকে জানান। ঘটনার পরদিন এ নিয়ে একটি সালিশ বৈঠকও হয়। ঘটনাটি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মেয়েটি নেপালি দূতাবাসে অভিযোগ করেন। পরে দূতাবাসের পরামর্শে তিন দিন পর মামলা দায়ের করেন রামপুরা থানায়। কিন্তু মেয়েটি সম্ভ্রম হারিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে একপর্যায়ে পড়াশোনা ছেড়ে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান। নিপীড়নের শিকার মেয়েটি মালিবাগের সিটি ডেন্টাল কলেজে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আলোচিত এ ঘটনাটি পাঁচ মাস আগে গত ৬ই এপ্রিল ঘটে। তবে এতদিন পুরো বিষয়টি চাপা ছিল। ঘটনার পরপরই পুলিশ ধর্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেপালি নাগরিক অরুণ কুমার চৌধুরীকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছিল। তবে মেয়েটি ধর্ষিত হওয়ার মেডিক্যাল প্রতিবেদন পুলিশের হাতে আসার আগেই সে জামিন নিয়ে দেশ ছেড়ে যায়। সম্প্রতি ওই মেডিক্যাল ছাত্রীও পড়াশোনা ছেড়ে নেপালে ফিরে গেছেন। এদিকে ধর্ষক ওই নেপালি নাগরিকের বাংলাদেশী সহযোগী সৈয়দ আবু খালিদ ইবনে হাক্কানী ওরফে বাদশাকে (৪৬) শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইকবাল হোছাইন জানান, মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টির রহস্য উদঘাটনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ধর্ষণের শিকার মেয়েটির দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটি মালিবাগের চৌধুরীপাড়ায় সিটি ডেন্টাল কলেজের নিজস্ব হোস্টেলে থাকতেন। তিনি জ্যোতি দীপ কনসালটেন্সির মাধ্যমে সিটি ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হন। এর মালিক অরুণ কুমার চৌধুরী তার ভিসা সংক্রান্ত সব কাজকর্মে সহায়তা করতেন। গত ৬ই এপ্রিল সকালে অরুণ তাকে জরুরি ভিত্তিতে দেখা করতে বলে। সকাল ৯টার দিকে তিনি হোস্টেল থেকে বেরিয়ে চৌধুরীপাড়ায় মূল সড়কে এসে অরুণের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তারা একটি রিকশা নেন এবং কিছু পথ হেঁটে যান। পরে সেখানে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে অপেক্ষা করছিল এক বাঙালি ব্যক্তি। মেয়েটি অরুণের সঙ্গে সেই প্রাইভেটকারে ওঠেন। ওই প্রাইভেটকারে চালকসহ তারা চারজন ছিলেন। গাড়িতে অরুণ তাকে একটি ফ্রুটিকা জুস খেতে দেয়। মেয়েটি জুস এক ঢোক খাওয়ার পর বোতলের মুখ খোলা থাকায় সন্দেহ হয়। পরে বাকি অংশ না খেয়ে রেখে দেন ব্যাগে। অরুণ তাকে মোহাম্মদী হাউজিং সোসাইটির ৩ নম্বর সড়কের ৮২/২ নম্বর বাসার ষষ্ট তলায় ভাড়া করা ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাদের ভিসা সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল। ওই ফ্ল্যাটে বাঙালি সেই ব্যক্তি গ্লাসে করে কোক এনে প্রথমে অরুণকে দেয়। অরুণ সেই কোক খেতে থাকলে আরেক গ্লাস এনে দেয়া হয় মেয়েটিকে। কোক খাওয়ার পর তাকে নানরুটি ও চিকেনও খাওয়ানো হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তার চোখজুড়ে ঘুম আসতে থাকে। এর মধ্যে দুবার বমিও করে সে। এরপরের কথা তার আর মনে নেই। অচেতন হয়ে পড়ে মেয়েটি।
থানায় দায়েরকৃত এজাহারে মেয়েটি অভিযোগ করেন, যখন তার জ্ঞান ফিরে আসে তখন তিনি দেখতে পান বাঙালি ছেলেটি তার মাথা ও মুখমণ্ডল স্পর্শ করছে। মেয়েটি বুঝতে পারেন তাকে অচেতন করার ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি তিনি শিকদার মেডিক্যালে পড়া বন্ধুদের জানায়। তাদের সহায়তায় সে মালিবাগের হোস্টেলে ফিরে যান। নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি গর্ভনিরোধক ওষুধ খান। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি এজাহারে উল্লেখ করেছেন, প্রাইভেটকারে অরুণ তাকে ওয়াইন বা অ্যালকোহলে অভ্যস্ত কিনা জিজ্ঞাসা করে। এছাড়া রাতে হোস্টেল থেকে কোন পার্টিতে যেতে পারে কিনা? মেয়েটি না-সূচক জবাব দিলে অরুণ বাঙালি যুবকের সঙ্গে বাংলায় কিছু কথা বলে। সেখানে ৩০ মিনিট এনজয়মেন্ট করার কথা আলাপ করছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত এ ঘটনার পরদিন মেয়েটি পুরো বিষয়টি সিটি ডেন্টাল কলেজের চেয়ারম্যান এএসএম বদরুদ্দোজাকে জানান। ৭ই এপ্রিল রাতে সিটি ডেন্টাল কলেজে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে প্রিন্সিপাল অরুণ চৌধুরী ও হাক্কানী ওরফে বাদশাকে জুতাপেটা করে বিষয়টি মীমাংসা করে। কিন্তু মেয়েটি ৮ই এপ্রিল এ বিষয়ে ঢাকার নেপাল অ্যাম্বাসিতে অভিযোগ দেয়। পরবর্তীতে নেপাল অ্যাম্বাসির পরামর্শে পরদিন ৯ই এপ্রিল সে রামপুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর অ্যাম্বাসির পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি জাভেদ পাটোয়ারীকে জানিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, মামলার পর দিনই রামপুরা থানা পুলিশ আসামি অরুণ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে। মেয়েটিকেও ওই দিন পুলিশ হেফাজতে নিয়ে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়। এদিকে অরুণকে প্রথমে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে চতুর অরুণ পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে। পরবর্তীতে আরও দুদিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এবারও অরুণ মেয়েটি মিথ্যা অভিযোগ করছে বলে দাবি করে। মেয়েটিকে এমবিবিএসে ভর্তি করানোর কথা ছিল। কিন্তু ডেন্টাল কলেজে ভর্তি করানোয় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এদিকে মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৯শে এপ্রিল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের একদিন পরই ঢাকা মেডিক্যাল থেকে মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদন আসে। এরপর ডিবির পক্ষ থেকে অরুণকে রিমান্ডের আবেদন করা হলেও আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেনি। উল্টো ২৯শে এপ্রিল অরুণ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে যায়। তদন্ত সূত্র জানায়, মামলা দায়েরের পরপরই মেয়েটিকে গাড়িতে যে জুস খেতে দেয়া হয়েছিল সেই জুসের বাকি অংশ পরীক্ষার জন্য মহাখালীর রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। গত ২৮শে এপ্রিল এই পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রুটিকা জুসের সঙ্গে বেনজোডায়াজিপিন যৌগ মেশানো ছিল। এটি একটি নেশাজাতীয় দ্রব্য। এছাড়া ডিবি পুলিশ মোহাম্মদপুরের অরুণের বাসা থেকে ১৪টি নিশাত সিলভার ট্যাবলেট, ৫টি নাইট ফাইটার ট্যাবলেট, ১টি স্যানোগ্রা ট্যাবলেট, জার্মানির তৈরি একটি নিউ সুপার ভেগা স্প্রে ও ৫টি সেডিল ট্যাবলেট উদ্ধার করে। সেডিল বাদে বাকি সব যৌন উত্তেজক ওষুধ বলে জানা গেছে। মেয়েটিকে অচেতন করতে সেডিল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামিনে বেরিয়ে আসার পরপরই অরুণ দেশ ছেড়ে নেপালে চলে যায় বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। যদিও তার পাসপোর্ট (নং ০৬৫০৮৩৮১) পুলিশ জব্দ করে রেখেছে। ঘটনার পরপরই অরুণের সহযোগী হাক্কানী ওরফে বাদশাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করে। সূত্র জানায়, হাক্কানী ওরফে বাদশা মোহাম্মদপুরের অরুণের বাসার পাশের বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকার ছিল। ওই বিল্ডিংটি শমরিতা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের হোস্টেল হিসেবে ব্যবহার হয়। ঘটনার পর সে চাকরি ছেড়ে পালিয়ে যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাব-ইন্সপেক্টর শরীফ রফিকুল ইসলাম জানান, তারা হাক্কানীর বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করে ফেলেছেন। যে কোন সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান তিনি। হাক্কানী গ্রেপ্তার হলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অরুণকে ধরতে ইন্টারপোলে আবেদন করা হবে: ভয়াবহ এ গণধর্ষণের ঘটনার মূল অভিযুক্ত নেপালি নাগরিক অরুণ কুমার চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। ইতিমধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ২৬শে আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে ইন্টারপোলে অরুণ কুমার চৌধুরীর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন। খুব শিগগিরই অরুণকে গ্রেপ্তার করতেও আবেদন করা হবে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অরুণের জব্দ করা পাসপোর্টের সূত্র ধরে জানা গেছে, অরুণ কুমার চৌধুরীর বাবার নাম যোগেন্দ্রনাথ চৌধুরী। তার স্থায়ী ঠিকানা হলো নেপালের মাইট্রি এলাকার দামাইমাদাই-২-এ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকায় বিদেশী নাগরিক ধর্ষিত হওয়ার ঘটনায় দেশের ইমেজ জড়িত। যদিও প্রধান অভিযুক্তও বিদেশী নাগরিক। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

বনশ্রীতে ১০ শিশু উদ্ধার নানা রহস্য

১০ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে তাদের বয়স। সংখ্যায় ওরা ১০ জন। সবাই গরিব পরিবারের সন্তান। এদের কেউ কেউ ছেলেবেলায় হারিয়েছে বাবা অথবা মাকে। কারও বাবা-মা’র ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার কারণে ছিল এতিমখানায়। কেউ বা নিখোঁজ হয়েছিল স্কুল বা মাদরাসা থেকে। এরপর কোন হদিস ছিল না তার। এমন ১০ শিশুকে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে একটি কথিত এনজিওর কার্যালয় থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত শিশুরা হলো- আব্বাস উদ্দীন (১০), আকাশ (১০), ফরহাদ (১০), ইব্রাহিম মণ্ডল (৯), বাবলু (১০), স্বপন হোসেন (১১), রফিক হোসেন (৯), মোবারক হোসেন (১০), আবদুল্লাহ আল মামুন (১৪) ও কাওসার হোসেন (১৪)। পুলিশের ধারণা, ওই শিশুগুলোকে পাচারের জন্য ওই বাড়িতে রাখা হয়েছিল। তবে অদম্য বাংলাদেশ নামে কথিত ওই এনজিও কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে শিশুদের পুর্নবাসনের উদ্দেশ্যে তাদের সেন্টারে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় এক মহিলাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলো: আরিফুর রহমান, জাকিরা সুলতানা, ফিরোজ আলম ও হাসিবুল হাসান। আরিফুর রহমান নিজেকে ‘অদম্য বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান ও জাকিরা সুলতানা নিজেকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এসময় ওই বাসা থেকে ৪টি কম্পিউটার, বিভিন্ন নথিপত্র ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সৈয়দ আনোয়ার হোসেন জানান, শনিবার দুপুর ১২টায় বনশ্রীর সি ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাড়ির ছয়তলায় ‘অদম্য বাংলাদেশ’ নামে একটি এনজিও থেকে অভিযান চালিয়ে ১০ শিশুকে উদ্ধার করা হয়। ওই সময় ওই শিশুদের সেখানে রক্ষণাবেক্ষণকারী এক মহিলাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত এক শিশুর অভিভাবকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। যাদেরকে সেখান থেকে আটক করা হয়েছে তারা ‘অদম্য বাংলাদেশ’ নামে একটি এনজিওর কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলে দাবি করেছে। ওই বাসাটিতে তারা শিশুদের রক্ষণাবেক্ষণ করতো। তিনি আরও জানান, তারা কিছু কাগজপত্র পুলিশের কাছে জমা দিয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত কয়েক শিশু পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে যে, তাদের সেখানে ঠোঙ্গা বানাতে দেয়া হতো। ওই শিশুদের কি উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল এবং তাদের ভবিষ্যতে কি করা হতো তা জানার জন্য আটককৃতদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, তদন্তে যদি এনজিও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অপরাধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে উদ্ধারকৃত শিশু মোবারকের চাচা মনির হোসেন বাদী হয়ে শিশু পাচারের অভিযোগে থানায় একটি মামলা করেছেন। আটককৃতদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। গতকাল বিকালে কথিত ওই এনজিওর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির অন্যান্য ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়ারা তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। ওই ভবনের ছয়তলায় শিশুদের রাখা হতো। তবে ওই ‘অদম্য বাংলাদেশ’ নামে কোন সাইনবোর্ড দেখতে পাওয়া যায়নি সেখানে। ফ্ল্যাটের ভেতরের পরিবেশ খুবই নোংরা।  ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে কর্মকর্তারা বসেন। একটি খাবারের কক্ষ। অপর আরেকটি কক্ষে ১০ শিশুকে রাখা হতো। পুলিশ ওই বাসাটি সিলগালা করে দিয়েছে। বাড়ির কেয়ারটেকার আনিসুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি প্রতিবেশীরাও এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। উদ্ধারকৃত শিশু মোবারক হোসেনের চাচা মাংস ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, তিনি পরিবারের সঙ্গে সবুজবাগের বাসাবোতে থাকেন। তার বড় ভাইয়ের ছেলে মোবারক খিলগাঁওয়ের উত্তর গোড়ানের বোরহান ঈদগাঁও মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। ছোটবেলায় তার বাবা মারা গেছে।  প্রায় ১ মাস আগে তাকে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার তিতাস থানার মওটুপি এলাকা থেকে ওই মাদরাসায় ভর্তি করি। তিনি আরও জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যার সময় ওই মাদরাসায় গেলে সেখানকার কয়েকজন ছাত্র জানায় যে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে একটি এনজিও তাকে পড়ালেখা করানোর জন্য নিয়ে গেছে। পরে ওই এনজিওয়ের ঠিকানা নিয়ে সেখানে যাই। ওই এনজিওর কার্যালয়ে গেলে তার ভাতিজা কান্নাকাটি করে। বলে, তাকে মারধর করা হয়। জোর করে ঠোঙ্গা বানাতে দেয়। নিয়মিত খাবার দেয়া হয় না। তিনি আরও জানান, ভাতিজার এমন কথা শুনে আমি ওই এনজিওয়ের এক কর্মকর্তাকে বলি যে, আমার ভাতিজা এখানে থাকতে চায় না। তাকে আমি নিয়ে যাবো। তখন ওই কর্মকর্তা আমাকে হুমকি-ধমকি দেয়। সেখান থেকে চলে যেতে বলে। আমি আসার সময় আমার ভাতিজা কান্নাকাটি শুরু করে। পরে আমি পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ সেখান থেকে তার ভাতিজাসহ ১০ জনকে উদ্ধার করে। মনির হোসেন অভিযোগ করেন, ওই ভুয়া এনজিওর অসৎ উদ্দেশ্য ছিল। বিষয়টি পুলিশকে তিনি খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেন। উদ্ধার হওয়া শিশু রফিক জানান, তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুরে। ছোটতে বাবা মারা গেছে। এখানে তাকে কে নিয়ে এসেছে প্রশ্ন করলে ‘জানি না’ বলে উত্তর দেয়। আরেক শিশু ফরহাদ জানান, তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জের মোল্লা পাড়ায়। মা ছোটবেলায় মারা গেছে। কার সঙ্গে ওই বাসাটিতে সে এসেছে প্রশ্ন করলে এক মহিলা তাকে ওই বাড়িতে দিয়ে গেছে। আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তার বাড়ি নরসিংদী এলাকায়। এলাকার এক বড় ভাই এখানে রেখে গেছে। ওই বাড়িতে শুধু কম্পিউটারে গেমস খেলতো বলে জানায় সে। বাড়ির বাইরে যেতে দেয়া হতো না। মাঝেমধ্যে খাবার দেয়া হতো না। একটি বাসে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হতো। ১ মাস আগে একবার চিড়িয়াখানায় আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে আমি কৌশলে পালিয়ে আসার চেষ্টা করছিলাম। পরে আমাকে মারধর করা হয়। রামপুরা থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান জানান, এনজিওর পক্ষ থেকে কিছু কাগজপত্র দেয়া হয়েছে। এসব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।