Thursday, March 27, 2014

এই চেতনা অমর হোক- লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত

বাংলাদেশের ৪৩তম স্বাধীনতাবার্ষিকীতে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রায় তিন লাখ মানুষের সমবেত হয়ে সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের ঘটনাটি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এতে দেশবাসীর আবেগময় অনুভূতিরও প্রকাশ ঘটেছে। ছাত্র-তরুণ-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাবেশস্থলটি হয়ে উঠেছিল নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রতীক।
সবার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আর মুখে সেই জাতীয় সংগীতের অমর সুরলহরি। তাই মহতী এই আয়োজনের উদ্যোক্তা, বিশেষ করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে আমরা অভিনন্দন জানাই। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার এই ঘটনা জাতি হিসেবে আমাদের অবস্থানকে আরও অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে। এর মাধ্যমে লাখো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের প্রতি দেশবাসীর গভীর আবেগ ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে। মূর্ত হয়ে উঠেছে আবহমান বাঙালি সংস্কৃতি তথা জাতীয় সংগীতের প্রতি আমাদের গাঢ় শ্রদ্ধাবোধ। উল্লেখ্য, কেবল জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডেই নয়, দেশের সর্বত্র, যে যেখানে ছিলেন, সেখান থেকেই জাতীয় সংগীত গেয়ে তাঁরা নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান যে সংগীত, তার প্রমাণ আমরা পাই ইতিহাসের পরতে পরতে।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে ক্ষুদিরামেরা গান গাইতে গাইতে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলেছেন। ষাটের দশকে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্রসংগীতের প্রচারণা নিষিদ্ধ করলে রাজপথে গান গেয়েই এ দেশের শিল্পী, কবিসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ সেই অন্যায় আদেশ রুখে দিয়েছেন।
স্বাধীনতা দিবসে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আমাদের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে যে মেলবন্ধন তৈরি হলো, তাকে আরও এগিয়ে নিতে হবে প্রতিদিনের চিন্তা-কর্মে ও দেশপ্রেমের অবিচল প্রত্যয়ে। আনুষ্ঠানিকতার বৃত্ত থেকে বের হয়ে এই কালজয়ী সংগীতের মর্মবাণীকে ছড়িয়ে দিতে হবে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি যে আমাদের গভীর ভালোবাসা আছে, প্রতিটি দিবসে ও ক্ষণে আমরা তা নিজেরা যেমন তার বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট থাকব, তেমনি অন্যদেরও করব উজ্জীবিত। এই গানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেশকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করে তার অঘ্রানের ভরা খেত দেখে যেমন মুখে হাসি ফোটানোর কথা বলেছেন, তেমনি তার বদনখানি মলিন হলে নয়ন জলে ভাসার বেদনাও প্রকাশ করেছেন।
জাতীয় সংগীতের মর্মবাণী হূদয়ে ধারণ করে মা-রূপ দেশের মুখে যেন সর্বদা হাসি ফুটে থাকে, যেন কখনো তার মুখ মলিন না হয়, সেই লক্ষ্যেই আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। দেশের স্বার্থকে দল ও মতের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। বিভেদ ও বৈরিতার বদলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে, সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা ছিল একাত্তরের প্রত্যয়।

নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি করতে হবে- পুরোনো নির্বাচনী সংস্কৃতি

যেমন আশঙ্কা করা হয়েছিল, তেমনটিই হয়েছে উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থ দফায়। প্রথম দফা নির্বাচনের তুলনায় সংঘাত-সহিংসতা, কারচুপির অভিযোগ ও ভোটকেন্দ্র দখল—সবই ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে পরবর্তী প্রতি দফায়। চতুর্থ দফায় তো তা রীতিমতো ‘কেন্দ্র দখলের’ নির্বাচনে পরিণত হয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের যে ধারা বাংলাদেশে সূচনা হয়েছিল, তা সম্ভবত এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আরও মুমূর্ষু হয়ে পড়ল।

চতুর্থ দফার নির্বাচনে ভোট হয়েছে ৯১টি উপজেলায়। এর মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪০টি উপজেলায়। মারা গেছেন চারজন। সিল মেরে ভোটের বাক্স ভরা, নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিনতাই ও আগুন দেওয়া, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ভোটকেন্দ্র দখল—যে বিষয়গুলো আমাদের নির্বাচনী সংস্কৃতি থেকে বিদায় নিয়েছে বলে আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছিলাম, তার সবকিছুরই পুনরাবির্ভাব ঘটল চতুর্থ দফা নির্বাচনে। এবারের উপজেলা নির্বাচনের এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি (?)! এর কৃতিত্ব (?) নির্বাচন কমিশনকে দিতেই হচ্ছে!
কোনো ধরনের নির্বাচনী সহিংসতা, প্রাণহানি, ভোটকেন্দ্র দখল বা কারচুপির অভিযোগ ছাড়াই অসংখ্য নির্বাচনের অভিজ্ঞতা দেশে রয়েছে। গত নির্বাচন কমিশন এর সূচনা করে নির্বাচনী সংস্কৃতিতে এই মৌলিক পরিবর্তনটি আনতে সক্ষম হয়েছিল। বর্তমান নির্বাচন কমিশনও শুরুতে তা বজায় রাখতে পেরেছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এ ধরনের নির্বাচন সম্ভব হলে বর্তমানে তা সম্ভব হচ্ছে না কেন? এই সময়কালে নির্দলীয় বা তত্ত্বাবধায়ক ধরনের সরকার যেমন ক্ষমতায় ছিল, তেমনি দলীয় সরকারও ক্ষমতায় ছিল। এখন পরিস্থিতি পাল্টাল কেন?
বাংলাদেশে নির্বাচনে পুরোনো সংস্কৃতি ফিরে আসার দায় প্রথমত নির্বাচন কমিশনের। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আগের চেয়ে শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তাঁর এই দাবির সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। ভোট যদি শান্তিপূর্ণই হবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটল কেন? এ রকম ‘শান্তিপূর্ণ’ ভোট কারোরই কাম্য নয়। নির্বাচনের সময় প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে বাধ্য। তারা যদি প্রশাসনকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাজে ব্যবহার করতে না পারে, সেটা তাদেরই ব্যর্থতা।
এটা ঠিক যে এবারের উপজেলা নির্বাচনে সরকারি দল ও তাদের সমর্থকদের শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি ক্রমাগত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কিন্তু আমরা মনে করি যে একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন দৃঢ় অবস্থান নিতে পারলে সরকার বা সরকারি দল বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে না। নির্বাচনে কেন সহিংসতা ও কারচুপি ফিরে আসছে, কেন আগাম আশঙ্কা সত্ত্বেও এসব ঠেকানো যাচ্ছে না, তার ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। যদি সরকারের অসহযোগিতার কারণে তা হয়ে থাকে, তবে সেটাও নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করে বলতে হবে। এটা না করতে পারলে ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন’ বর্তমানে যে মুমূর্ষু দশার মধ্যে রয়েছে, সেটিকে আর বাঁচানো যাবে না।

নাগরিক ফোরাম সরকারের প্রতিপক্ষ নয় by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

সম্প্রতি কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতা নাগরিক সমাজের নানা ফোরাম ও নেতার সমালোচনা করেছেন। সমালোচনা সঠিক তথ্যভিত্তিক না হলে তা সমাজে গ্রাহ্য হয় না।

‘আরও সাহসী’ গণমাধ্যম চাই? by মশিউল আলম

গত মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, গণতন্ত্র হচ্ছে গণমাধ্যমের অক্সিজেন। দেশে গণতন্ত্র থাকলে গণমাধ্যম আরও সাহসী হবে।

যে পথে আমেরিকা সে পথেই রাশিয়া! by কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান

পুতিন সর্বশেষ পেরেকটি বসিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমস-এর খবর অনুযায়ী ক্রিমিয়া দখলের সব আয়োজনই সমাপ্তির পথে। প্রেসিডেন্ট পুতিন ডিক্রি জারি করেছেন। ক্রিমিয়ার জনগণের স্বাধীনতার পক্ষের রায়কে পুতিন রাশিয়ার রাষ্ট্র দখলের লক্ষ্যে ব্যবহার করেছেন। রাশিয়ার পার্লামেন্টে প্রদত্ত ভাষণের মাধ্যমে ক্রিমিয়ার জনগণের শেষ ট্র্যাজেডি স্পষ্ট।

ক্ষমতাকেন্দ্রিক অসুস্থ প্রতিযোগিতা by ইফতেখারুজ্জামান

আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে অনেক দৃশ্যমান আশাজাগানিয়া অগ্রগতি হয়েছিল। নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা, ব্যাপক কারচুপি—এগুলো আমরা পার হয়ে এসেছি বলে সাধারণ মানুষ ভেবেছিল। কিন্তু এবার চার দফায় উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠান, বিশেষত চতুর্থ দফার ভোট গ্রহণকালে সহিংসতা, কারচুপি ইত্যাদি দেখে মনে হচ্ছে আমরা সেই অবস্থা থেকে সরে আসা নয়, আরও পেছনের দিকে যাচ্ছি। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য এটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। যদিও শুধু নির্বাচনই গণতন্ত্র নয়, কিন্তু নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটা মূল অংশ।

ভারতের নির্বাচন- পত্রিকার ‘নির্বাচনী ইশতেহার’ by এ কে এম জাকারিয়া

নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সামনে তাদের ইশতেহার তুলে ধরে। এতে দলের রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন থাকলেও মূল দিকটি হচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে দলটি দেশ ও জনগণের জন্য কী কী করবে, কোন কোন ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেবে, সেসব বিষয় ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়। ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আমরা লক্ষ করলাম। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি দেশটির সর্বাধিক প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়াও ‘নির্বাচনী ইশতেহার’ দিয়েছে; ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া মেনিফেস্টো: এন এজেন্ডা ফর দ্য নিউ গভর্নমেন্ট’।

সু চি কি পারবেন? by সোহরাব হাসান

সহযোগীদের নিয়ে দৃপ্ত পায়ে রেঙ্গুনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসছিলেন এক দলনেত্রী। কিছুক্ষণ আগে তিনি শহরের উপকণ্ঠে এক সমাবেশে বক্তৃতা করছিলেন। গ্রীষ্মের গরমের রেশ তখনো কাটেনি। বাড়িতে ফেরার জন্য দ্রুত তাঁরা পা ফেলছিলেন। শরীর দিয়ে ঘাম ঝরছিল। হঠাৎ একটি সামরিক যান তাঁদের সামনে এসে থামল। ঝটপট কয়েকজন সেনাসদস্য যান থেকে নেমে তাঁদের দিকে রাইফেল তাক করলেন। সেনাদলের ক্যাপ্টেন, তিনি চিৎকার করে বললেন, ‘রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াও। নইলে গুলি করব।’

বাংলাদেশ সরকার বিরোধী দলকে পঙ্গু করে দেয়ার চেষ্টা করছে by টবি ক্যাডমান

২০১৪’র ৪ঠা ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটরের কাছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করার আবেদন দাখিল করা হয়। বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ ধরনের পিটিশন দাখিল করার কোন আইনি সুযোগ নেই। ২০শে ফেব্রুয়ারি আইসিসি প্রসিকিউটর আনুষ্ঠানিকভাবে ওই আবেদনপত্র নিবন্ধিত করে এর জবাব দিয়েছেন। এখন তারা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হবে কিনা তা নিরূপণের জন্য বিস্তারিত সাক্ষ্যপ্রমাণ দাখিল করার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

ভারতের নির্বাচন- সামাজিক গণমাধ্যমের ভূমিকা by কাজী আলিম-উজ-জামান

এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে কয়েক দফায় ভারতের লোকসভা নির্বাচন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এখন নির্বাচনী প্রচারণায় উত্তাল। এবারের নির্বাচন বিশেষত দুটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এই নির্বাচন সামনে রেখে কয়েক মাস ধরে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে মূলত এ কারণে যে, এই দলটির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি। দলকে ছাপিয়ে গেছেন তিনি। ২০০২ সালে গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নেপথ্যের এই হোতা আবির্ভূত হয়েছেন দক্ষ প্রশাসক ও উন্নয়নকামী নেতা হিসেবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ আগাম বলে দিচ্ছেন, এবার ক্ষমতায় মোদিই আসছেন।

নাগরিক ফোরাম সরকারের প্রতিপক্ষ নয়

সম্প্রতি কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতা নাগরিক সমাজের নানা ফোরাম ও নেতার সমালোচনা করেছেন। সমালোচনা সঠিক তথ্যভিত্তিক না হলে তা সমাজে গ্রাহ্য হয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিশেষ একটি শ্রেণী বিরোধী দলের জন্য মায়াকান্না করছে।’ তিনি নতুন নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন, ‘দেশ আবার উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা কোনো কোনো মহলের পছন্দ না। তাদের কান্না জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির জন্য।’ (প্রথম আলো, ১৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী কারও নাম করে এ সমালোচনা করেননি। তবে অনুমান করি, তিনি নাগরিক সমাজকে উদ্দেশ করে এসব কথা বলেছেন। দেশের কোনো নির্দল নাগরিক ফোরাম কোনো বিরোধী দলের সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট কিছু বলেছে, এমন তথ্য জানা নেই। নাগরিক সমাজ বলেছে, ‘সব দলের অংশগ্রহণে একটি অর্থপূর্ণ নির্বাচন করা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দরকার।’ প্রায় এ রকম কথা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের বহু নেতাও বলেছিলেন। নাগরিক সমাজ নতুন কিছু তো বলেনি। তা ছাড়া সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিরোধী দল জিতবে, এমন কথা কে বলেছে? আওয়ামী লীগও তো জিততে পারে। নাগরিক সমাজ শুধু সব দলের অংশগ্রহণে, সব ভোটার যাতে ভোট দিতে পারেন, সে রকম নির্বাচনের দাবি তুলেছে।
এখানে শুধু বিরোধী দলের প্রসঙ্গ আসছে কেন? প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক বক্তৃতায় নির্বাচনের ইস্যুর সঙ্গে ‘জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের’ প্রসঙ্গ এক করে ফেলেছেন। যথাযথ নির্বাচন হলে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসী বা স্বাধীনতাবিরোধীরাই জিতবে—এই আশঙ্কা কেন প্রধানমন্ত্রীর? আওয়ামী লীগ ও ১৪-দলীয় জোটের জনপ্রিয়তার ওপর প্রধানমন্ত্রীর আস্থা এত কম কেন? প্রধানমন্ত্রী দেখাতে পারবেন জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের জন্য নাগরিক সমাজ কোথাও ওকালতি করেছে? ১৪-দলীয় জোট এখন ৩৪৮ জন সাংসদের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় সংসদে এ রকম শতভাগ সমর্থনের সরকার এর আগে কেউ দেখেনি। কাজেই সরকার আইন দিয়ে, প্রশাসন দিয়ে, বিচার দিয়ে যত জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী রয়েছে, তাদের দমন করছে না কেন? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো চলছেই। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী দমনে সরকারকে কেউ কি বাধা দিচ্ছে? কে বাধা দেবে? বিএনপি বা জামায়াত কি সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর চেয়ে শক্তিশালী? সংসদে শতভাগ সমর্থন ও বিরোধী দলবিহীন সরকার যদি জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের দমন করতে না পারে, তাহলে সরকারের সদিচ্ছা সম্পর্কে জনমনে সন্দেহ দেখা দেবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী জুজু দেখিয়ে সরকার ভারতের সমর্থন ও সহায়তা লাভ করছে। আমরা চাই, সরকার আইনি ও বিচার-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসমুক্ত করবে। যদি তা না পারে, তাহলে সরকার যেন এ ব্যর্থতা স্বীকার করে নাগরিক সমাজকে যেন এ জন্য অভিযুক্ত না করে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী পালনে নির্দল নাগরিক সমাজের কোনো ভূমিকা নেই। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে ‘জঙ্গিবাদ’ এক নতুন সমস্যা। একদিকে ধর্মীয় উন্মাদনা, অপরদিকে দারিদ্র্য অনেক ব্যক্তিকে জঙ্গিবাদে উদ্দীপিত করছে।
জঙ্গিবাদকে মোকাবিলা করতে হবে দুভাবে। ১. যারা জঙ্গিবাদের নামে নানা সন্ত্রাসী কাজকর্মে লিপ্ত, তাদের ধরে আইনের আশ্রয়ে আনা। এ ব্যাপারে আমাদের গোয়েন্দা বিভাগকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। জঙ্গিবাদের মূল উৎপাটন করতে হবে। ২. দেশ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে উদ্ভাবনী পন্থা বের করতে হবে। শিক্ষাবঞ্চিত তরুণ ও শিক্ষিত তরুণেরা যাতে বেকার না থাকেন, তার জন্য নানা প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্য কোনো আর্থিক প্রলোভনে পড়ে তরুণেরা যেন বিভ্রান্ত হয়ে জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে না পড়েন। জঙ্গিবাদ দূরীকরণে বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে শুধু অদৃশ্য শক্তির ওপর গদা ঘুরিয়ে জঙ্গিবাদ দূর করা যাবে না; মাঠ গরম করা যাবে মাত্র। জঙ্গিবাদ দূর করার নামে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করলে তাতে বিরোধী দলের আন্দোলন স্তিমিত হতে পারে, প্রকৃত জঙ্গিবাদ দূর হবে না। বর্তমান সরকারকে সংসদ ও সংবিধান সব ক্ষমতা দিয়েছে। তার পরও তারা দেশ থেকে জঙ্গিবাদ দূর করতে না পারলে বুঝতে হবে, সরকারই তার স্বার্থে ‘জঙ্গিবাদ’ টিকিয়ে রাখতে চায়। আগামী দিনের কোনো সরকারকে যেন জঙ্গিবাদ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আন্দোলন করতে না হয়। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই তার পরিসমাপ্তি ঘটুক।
দুই বিগত সংসদ নিয়ে টিআইবি সম্প্রতি যে জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা নিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সাংসদ সমালোচনামুখর। মনে হয়, এসব সাংসদ রিপোর্টটি ঠিকমতো পড়েননি। রিপোর্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে অনেক কথা রয়েছে। বরং সংসদে অনুপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার। এই রিপোর্টে সংসদে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে আইন পাসের প্রস্তাবও রয়েছে। আমাদের সাংসদেরা অধিবেশনের মোট সময়ের মাত্র ৮ দশমিক ২ শতাংশ সময় আইন প্রণয়নে দেন। সংসদে নষ্ট সময়ের আর্থিক মূল্য ১০৪ কোটি টাকা। নবম সংসদে খালেদা জিয়া মাত্র ১০ দিন উপস্থিত ছিলেন। এগুলো কি ভুল তথ্য? সাংসদেরা কি সুনির্দিষ্টভাবে বলবেন, রিপোর্টে টিআইবি কী কী ভুল তথ্য দিয়েছে? বিগত সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি যে সংসদে প্রায় আসেইনি, নাগরিক সমাজ তার বহু সমালোচনা করেছে। নাগরিক সমাজের বিভিন্ন ফোরাম গত সরকারের সময় সংসদে অনুপস্থিতি নিরুৎসাহিত করার জন্য নানা বিধি পরিবর্তন এবং প্রয়োজনবোধে এ ব্যাপারে আইন পাস করার জন্যও আবেদন জানিয়েছে। বিগত সংসদে সরকারি দল এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এবারও আওয়ামী লীগের সেই সুযোগ রয়েছে। বাগাড়ম্বর না করে এ ব্যাপারে যথাযথ আইন প্রণয়নে মনোযোগ দিলেই ভালো হবে। ইদানীং কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতাকে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি-জামায়াতের চেয়েও ‘সুজন’ ও টিআইবির সমালোচনায় বেশি মুখর।
সুজন ও টিআইবি তো আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ নয়। তারা ক্ষমতায় যাবে না। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তারা বিএনপি সরকারের নানা ভুলভ্রান্তি ধরেছিল। তারা যা করছে, তা প্রধানত দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও সুশাসনের পক্ষে। টিআইবি বা সুজন যদি দেশের আইন অমান্য করে কিছু কাজ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিন। অভিযোগ আদালতেই প্রমাণিত হোক। আশা করি, সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে ‘গাড়ি পোড়ানো’ বা ‘পুলিশ হত্যায় জড়িত’—এমন অভিযোগে মামলা দেবে না। আরেকটি বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আজকাল নানা উপলক্ষে জাতীয় সংসদের কতিপয় সদস্য ও মন্ত্রী সংসদে অনুপস্থিত (সাংসদ নন) ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাম ধরে সমালোচনা করেন, যা প্রত্যাশিত নয়। এ ক্ষেত্রে সমালোচিত ব্যক্তির লিখিত ‘জবাব’ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পড়ে শোনানো ও কার্যবিবরণীতে লিপিবদ্ধ করার কোনো ব্যবস্থা কি নেওয়া যায়? তা করা না হলে সমালোচিত ব্যক্তির প্রতি খুবই অবিচার হবে। তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত ‘অভিযোগ’ কার্যবিবরণীতে স্থান পেলে তা সংসদীয় দলিল হয়ে যাবে, যা খুবই গুরুতর। কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিলেও ‘অভিযোগটি’ টিভি ও বেতারে লাইভ সম্প্রচারিত হয়ে যায়। পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। মাননীয় স্পিকার এ ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করি।
তিন ২৬ মার্চ লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সরকারি উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। এর ফলে জনগণের মধ্যে, বিশেষ করে শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে একধরনের দেশপ্রেম জাগ্রত হতে পারে। কিন্তু এই অনুষ্ঠানটি শুধু একটি সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে হলেই ভালো হতো। সরকার এটা ‘আয়োজন’ করায় স্বতঃস্ফূর্ততা অনেকখানি নষ্ট হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের টাকা নিয়ে অনাবশ্যক বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে একটি টাকাও খরচ করার প্রয়োজন ছিল না। সরকার যদি বলত, ২৬ মার্চ বেলা ১১টায় প্রতিটি স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ও দেশের সর্বস্তরের জনগণ যার যার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাইবে। বড় বড় মাঠেও জনগণ সমবেত হতে পারত। গিনেস বুক রেকর্ড বাদ দিলে সমবেতভাবে ২৬ মার্চ জাতীয় সংগীত গাওয়ার ধারণা চমৎকার। এ কর্মসূচি প্রতিবছর হতে পারে। তবে তা হুকুমের আয়োজন না হয়ে স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজনই শ্রেয়।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: মিডিয়া ও উন্নয়নকর্মী।

পত্রিকার ‘নির্বাচনী ইশতেহার’

নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সামনে তাদের ইশতেহার তুলে ধরে। এতে দলের রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন থাকলেও মূল দিকটি হচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে দলটি দেশ ও জনগণের জন্য কী কী করবে, কোন কোন ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেবে, সেসব বিষয় ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়। ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আমরা লক্ষ করলাম। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি দেশটির সর্বাধিক প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়াও ‘নির্বাচনী ইশতেহার’ দিয়েছে; ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া মেনিফেস্টো: এন এজেন্ডা ফর দ্য নিউ গভর্নমেন্ট’। রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার প্রকাশের অর্থ ও উদ্দেশ্য পরিষ্কার। ইশতেহারটি জনগণের সামনে তুলে ধরে ভোট চাওয়া, ভোটারদের মন জয় করে ক্ষমতায় যাওয়া। একটি পত্রিকার নির্বাচনী ইশতেহারের বিষয়টি তবে কী? তাদের চাওয়া বা উদ্দেশ্যটিই কী? রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারের সঙ্গে একটি পত্রিকার ইশতেহারের পার্থক্য থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা দেখলাম, প্রথাগতভাবে রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে নিজেদের করণীয় ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে, সেখানে টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের ইশতেহারে তুলে ধরতে চেয়েছে নতুন সরকারের কাছে যে ইস্যু ও দিকগুলো গুরুত্ব পাওয়া উচিত, সেই দিকগুলো। এর সঙ্গে দেশ ও জনগণের চাওয়া-পাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।
পত্রিকাগুলো নিজেদের লেখালেখি বা সম্পাদকীয়র মাধ্যমে এ কাজ বরাবরই করে থাকে। কিন্তু টাইমস অব ইন্ডিয়া এই কাজটি করেছে নির্বাচন সামনে রেখে খুবই সংগঠিত এবং আনুষ্ঠানিকভাবে। পরে কয়েক দিন ধরে বিশিষ্টজনেরা যে এ সম্পর্কে নানা মত দিয়েছেন, সেগুলোও পত্রিকাটি প্রকাশ করেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার নির্বাচনী ইশতেহারের শুরুতে সম্পাদকের একটি নোট রয়েছে। সেখানে ভারতে বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে অর্থনৈতিক অবস্থা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথাযথ সাফল্য অর্জন করতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে। ‘বছর পাঁচেক আগে ভারতজুড়ে আমরা সবাই ভাবতে শুরু করেছিলাম যে দেশটি প্রায় নিশ্চিতভাবে একটি “সুপার পাওয়ার” হওয়ার পথে এগোচ্ছে। চীন ও ভারতের নাম তখন এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হতো। সেই আশা পরিষ্কারভাবেই ব্যর্থ হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ১০ থেকে কমে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দুর্নীতি মহামারি আকার ধারণ করেছে, যা দেশের আত্মাকে কুরে খাচ্ছে। ফলে এটা বলা যায় যে পরবর্তী সরকারের সবচেয়ে জরুরি বিবেচনার বিষয় হচ্ছে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং তা দুই অঙ্কের যতটা সম্ভব কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া। কিন্তু একমাত্র এটাই কি ভারতকে আবার সুপার পাওয়ারে পরিণত করার প্রতিযোগিতায় নিয়ে যেতে পারবে? যে দেশ তার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারে না, যেখানে লাখ লাখ লোক প্রতিদিন পেট পুরে খেতে পারে না, সেই দেশটি নিজেদের “উন্নত” বলে দাবি করতে পারে না। আমাদের আর্থসামাজিক অগ্রগতির সূচক হতাশাজনক। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকেও পিছিয়ে। আমরা খেলাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে আগ্রহী নয় (ক্রিকেট ছাড়া) কিন্তু অলিম্পিকে আমাদের লজ্জাজনক রেকর্ড আমাদের গভীর হতাশার দিকটিকেই তুলে ধরে।’ এত কিছু বলার পর সম্পাদক জানিয়েছেন, টাইমস অব ইন্ডিয়া যে ইশতেহারটি তৈরি করেছে, সেটি দেশের রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করুক এবং প্রয়োজনে দলগুলো তাদের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করুক, সেটাই তাদের চাওয়া। তিনি তাঁর নোটটি শেষ করেছেন এভাবে; ‘বিষয়টি এমন নয় যে আমরাই একমাত্র জ্ঞানের আধার। এমন অনেক ভারতীয় রয়েছেন যাঁরা ন্যায়নিষ্ঠ, যাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। কোনো নীতিনির্ধারণ বা আইন তৈরি করার আগে যাঁদের কথা শোনা উচিত। কিন্তু আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারব যদি আমাদের ইশতেহার একটি গভীর আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে। যেখানে স্থান পাবে জাতীয় স্বার্থ, যেখানে সংকীর্ণ বা দলীয় বিবেচনা প্রাধান্য পাবে না।’ এই সম্পাদকীয় বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আমরা পত্রিকাটির ইশতেহার প্রকাশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে একটি ধারণা পেলাম। ইশতেহারটি দীর্ঘ। ইশতেহারের নিচে টাইমস অব ইন্ডিয়ার নয়জন সাংবাদিকের নাম রয়েছে, যাঁরা এটি রচনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে মতামত, পরামর্শ বা তথ্য-উপাত্ত জুগিয়েছেন। একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী ইশতেহার যেমন হয় তেমনি। বিভিন্ন খাত ধরে আলোচনা, করণীয় দিক ও পরামর্শ রয়েছে। ইশতেহার শুরুর খাতটি হচ্ছে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পোদ্যোগ।
এরপর ধারাবাহিকভাবে রয়েছে আইন সংস্কার, বিচারব্যবস্থার সংস্কার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসনিক সংস্কার, কৃষি, জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি, নারী, বিদ্যুৎ, নগর উন্নয়ন, খেলাধুলা, পরিবেশ ও প্রতিবন্ধী নাগরিক প্রসঙ্গ। এ খাতগুলোকে বিভিন্ন উপখাতে ভাগ করে ব্যাখ্যা ও করণীয় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো এর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ভারতে অনেক বিশিষ্ট নাগরিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদসহ পেশাজীবীরা একে স্বাগত জানিয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইনে এসব প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হচ্ছে। নির্বাচন সামনে রেখে পত্রিকাটি সামনের সপ্তাহগুলোতে ‘মাই মেনিফেস্টো’ নামে বিশিষ্টজনের চিন্তাভাবনা তুলে ধরার ঘোষণা দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া খেটেখুটে দেশের যে খাতগুলোতে মনোযোগ দেওয়া দরকার, তা তুলে ধরে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছে, এই বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোযোগ চেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো এতে সাড়া দেবে কি না, সেটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু সেখানকার রাজনৈতিক দলগুলো টাইমস অব ইন্ডিয়ার এ ধরনের একটি ইশতেহার প্রকাশের উদ্দেশ্য বা এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সম্পাদক ইশতেহারের ভূমিকা বক্তব্যে ভারতের বর্তমান আর্থসামাজিক দশার যে পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন, যে সমালোচনা করেছেন, তার দায়টি অনেকটাই দৃশ্যত ক্ষমতাসীন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের ওপর গিয়ে পড়ে। এ ধরনের একটি মেনিফেস্টো প্রকাশ এবং গত পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক দুর্দশা বা ‘দুর্নীতির মহামারি’ প্রসঙ্গ তুললেও কংগ্রেস বা দলটির নেতারা কিন্তু পত্রিকাটির বিরুদ্ধে হামলে পড়েনি। পত্রিকাটিকে ‘বিজেপির সমর্থক’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেনি। এ ধরনের একটি ইশতেহার প্রকাশের পেছনে কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ খুঁজতে যায়নি। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে যে যে যার যার কাজ করে যায়, পত্রিকাগুলো তাদের কাজ করে। ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো টাইমস অব ইন্ডিয়ার চাওয়া অনুযায়ী এ ইশতেহার থেকে সরাসরি কিছু গ্রহণ করতেও পারে, আবার না-ও করতে পারে। কিন্তু যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো নিশ্চয়ই আলোচনায় এবং নানা পর্যায় থেকে নানা মতামত আসবে। অনেক কিছু বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে জনমত ও চাপ তৈরি হবে। রাজনৈতিক দলগুলো হয়তো এসব থেকে নানা কিছু গ্রহণও করবে। এভাবেই পরিবর্তন আসে, দেশ এগোয়, গণতন্ত্র জোরদার হয়। আমাদের দেশে এই প্রক্রিয়া লক্ষ করা যায় না। সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দেশ, রাজনীতি, কোনো ধরনের পরিবর্তন বা সংস্কার নিয়ে কথা বললে রাজনীতিবিদেরা তা সহজভাবে নেন না; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। চরিত্রহননের চেষ্টা করেন। গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য এই পরিস্থিতি শুধু হতাশার নয়, বিপজ্জনকও বটে। রাজনৈতিক মহল থেকে এ ধরনের অসহিষ্ণুতার কারণে সমাজে স্বাধীন মত দেওয়া, চিন্তা জাগানো কোনো ধারণা দেওয়া বা নতুন কিছু করার পরিবেশ সংকীর্ণ হয়ে আসছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আর যা-ই হোক, গণতন্ত্র সামনের পথে হাঁটতে পারে না, আর আমাদের যে উন্নয়ন-আকাঙ্ক্ষা, সেটাও কার্যকরী ফল দিতে পারবে না।
টাইমস অব ইন্ডিয়া একটি পত্রিকা হয়ে নির্বাচন সামনে রেখে যে ইশতেহার দিয়েছে, সেটা তারা তাদের দায়িত্ববোধ থেকে দিয়েছে, তাতে ভারতের জনগণের উন্নয়ন-আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ পেয়েছে। কোন পথে সেটা আসবে, তা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। রাজনীতির বাইরে আমাদের সমাজেও অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নানা কিছু করছে এবং করে যাচ্ছে একই উন্নয়ন-আকাঙ্ক্ষা থেকে। আমাদের রাজনীতিবিদেরা যদি এসবের মধ্যে ‘উদ্দেশ্য’ আর ‘ষড়যন্ত্র’ না খুঁজে এ ধরনের উন্নয়ন-আকাঙ্ক্ষাগুলোকে বিবেচনায় নিতে শুরু করেন, তবে সামনে এগোনোর পথ খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com

‘ওয়ার্নিং শট’ হাদিসের বুকে by জাবেদ রহিম বিজন

তারাগন গ্রাম থেকে মাইল খানেক দূরত্ব হবে ভারত সীমান্তের। সীমান্ত এলাকা বলে প্রতিনিয়তই এখানকার মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর। সহজ সম্পর্ক। কিন্তু সেই বাহিনী (বিজিবি) কেন এমন অ্যাকশনে গেল তার কোন হিসেব মেলাতে পারছেন না এ গ্রামের মানুষ। বাড়িঘরের টিনের বেড়া, মাটির দেয়াল জুড়ে গুলির চিহ্ন। ঘটনার ভয়াবহতা আর গুলির শব্দে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকেই।

রাবড়ির বিপক্ষে প্রার্থী তাঁর ভাই

রাবড়ি দেবী
ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিহারের সরন আসনে বোন রাবড়ি দেবীর বিপক্ষে প্রার্থী হচ্ছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সাবেক সাংসদ অনিরুদ্ধ প্রসাদ। তিনি সাধু যাদব নামেও পরিচিত।
সরন আসনে প্রার্থী সাধুর এভাবে প্রার্থী হওয়া বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীকে বিপদে ফেলতে পারে। লালুর পরিবারের ভোট ভাগ করার যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে সাধু যাদবের। এনডিটিভি।

জরিপকে পাত্তা দেবেন না: সোনিয়া

সোনিয়া গান্ধী
খাদ্যের অধিকার সুনিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির পর ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস এবার দেশের সব গরিব মানুষের জন্য বাসস্থান ও স্বাস্থ্য পরিষেবা সুনিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিল। আসন্ন লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে দলের নির্বাচনী ইশতেহারে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও সহসভাপতি রাহুল গান্ধী এই ইশতেহার প্রকাশ করেন। নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে সোনিয়া বলেন, ‘জনমত জরিপে অনেক কিছুই বলা হচ্ছে।
এসব জরিপকে পাত্তা দেবেন না। কারণ, ২০০৯ সালের জরিপেও কংগ্রেসের পক্ষে ভালো কিছু দেখানো হয়নি। কিন্তু সরকার গড়েছিল কংগ্রেসই।’ কংগ্রেসের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারের ‘ট্যাগ লাইন’ হলো ‘আপনার কণ্ঠ, আমাদের প্রতিশ্রুতি’। এই ট্যাগ লাইন বাছার কারণ হলো রাহুল গান্ধী গত কয়েক মাসে সমাজের বিভিন্ন স্তরের অন্তত ১০ হাজার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করেছেন। অনুষ্ঠানে সোনিয়া সেই কথা জানিয়ে বলেন, গরিব মানুষের জন্য বাসস্থানের বন্দোবস্ত করাটা দল জরুরি মনে করছে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। কংগ্রেসের সভানেত্রী বলেন, কোনো কোনো দলের কাছে নির্বাচনী ইশতেহার হলো ভোট পাওয়ার দাওয়াই। কংগ্রেস ইশতেহারকে সেই চোখে দেখে না। অনুষ্ঠানে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদিকে এক হাত নিতে ছাড়েননি কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, ‘আজকাল চারদিকে খুব গুজরাট মডেলের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু মডেল আছে একটাই। কংগ্রেসের মডেল। যে মডেলের সার কথা হলো সাম্যের সঙ্গে প্রবৃদ্ধি।’ মনমোহন বলেন, বিরোধীরা বলে কংগ্রেসের নীতি নাকি হোঁচট খেয়ে পড়েছে। কিন্তু কংগ্রেসের রেকর্ড তা বলছে না।
এনডিএ সরকারের আমলে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ইউপিএর দুই মেয়াদের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৮ দশমিক ৪ ও ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। মনমোহনের কথার রেশ ধরে রাহুল গান্ধী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলেন, ‘কংগ্রেস আবার সরকার গঠন করবে। ২০০৪ সালে “ইন্ডিয়া সাইনিং”য়ের মতো এবার বিজেপির নির্বাচনী প্রচারণার “বেলুন” ফুটো হয়ে যাবে।’রাহুল বলেন, ‘মোদি ক্ষমতায় এলে দেশের ক্ষতি হবে। তিনি সবাইকে নিয়ে চলার কথা ভাবতে পারেন না। একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনকে উসকে দেওয়া, বিভেদ সৃষ্টি করা তাঁর নীতি।’ রাহুল দাবি করেন, পাঁচ বছর আগে দলের নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার ৯০ শতাংশ পূরণ করা হয়েছে। জনমত জরিপকে উড়িয়ে দিয়ে রাহুল বলেন, নির্বাচনের ফলাফল সবাইকে ‘অবাক’ করে দেবে। সোনিয়া বলেন, ‘এবারের ভোটে ঠিক হবে, দেশের মানুষ অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে পারবে কি না। আমরা সেই ভারতের জন্য লড়ব, যেখানে বৈষম্য থাকবে না, যেখানে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র অটুট থাকবে।’

কাবাব বিক্রি করেন উত্তর কোরীয় নেতা!

রাস্তায় কাবাব বানাচ্ছেন নকল কিম জং-উন
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন চীনের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে একধরনের কাবাব (বারবিকিউ) বিক্রি করছেন! বাইরের কেউ প্রথম তাঁকে দেখলে এ রকমই ভেবে বসতে পারেন। তবে উত্তর-পূর্ব চীনের উত্তর কোরিয়া সীমান্তবর্তী শেনইয়াং শহরের মানুষ তাঁকে ভালো করেই চেনে। কারণ, তাঁকে দেখতে অনেকটা কিমের মতো লাগে। কিমের মতো দেখতে ওই চীনা কাবাব বিক্রেতার নাম জানা যায়নি। তাঁর চুলের ছাঁটও কিমের মতোই। তবে তিনি ধূমপানে আসক্ত। ওই ব্যক্তি রাস্তার পাশে প্লাস্টিকের টুলে বসে ধূমপান করছেন অথবা কাবাব বানাচ্ছেন ও বিক্রি করছেন—এমন দৃশ্য শেনইয়াংয়ের মানুষের কাছে খুবই পরিচিত। দেখলে কিমের মতো হলে কী হবে, স্বভাবের দিক থেকে পুরোই উল্টো এই চীনা কিম। সব সময় হাসি হাসি মুখের এই ব্যক্তি খুবই সাধারণ জীবনযাপন করেন।
সম্প্রতি কিমের মতো দেখতে চীনা কাবাব বিক্রেতার ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ শোরগোল উঠেছে। চীনের ইন্টারনেট ব্যবহাকারী মানুষ তাঁকে উপাধি দিয়েছেন ‘ফ্যাটিদ্য থার্ড’ অর্থাৎ তৃতীয় মোটা ব্যক্তি হিসেবে। কারণ, তিনি কিম জং-উন ও কিম জং-ইলের চেয়ে মোটা। বিশ্বে উত্তর কোরিয়ার যে কয়েকটি বন্ধুরাষ্ট্র রয়েছে, তার মধ্যে চীন অন্যতম। তবে প্রায়ই চীনাদের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখা যায়। উত্তর কোরিয়ার নেতারা প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চীনাদের সমালোচনার মুখে পড়েন। এএফপি।

১০ হাজার কোটি রুপি মুচলেকায় জামিন ভারতের সাহারাপ্রধানের

সুব্রত রায়
ভারতীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান সাহারা গ্রুপের প্রধান সুব্রত রায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন। গতকাল বুধবার তিনি এ জামিন পান। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাহারাকে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়ার (এসইবিআই) কাছে ১০ হাজার কোটি রুপি জমা দিতে হবে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার রুপি নগদ এবং বাকি অর্থ ব্যাংক জামিন হিসেবে দিতে হবে।
আদালত অবমাননার একটি মামলার শুনানিতে হাজির হতে ব্যর্থ হওয়ায় ৬৫ বছর বয়সী সুব্রতকে গত ২৮ ফেব্রুয়রি গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে ৪ মার্চ থেকে দিল্লির তিহার কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের কাছে কোটি কোটি রুপি ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এসইবিআই ও সাহারার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলছে। বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার একটি নতুন প্রস্তাব মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে পেশ করেছে সাহারা। এতে আগের প্রস্তাবের চেয়ে অতিরিক্ত তিন হাজার কোটি রুপি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। এনডিটিভি।