Monday, May 27, 2019

ডিটিএইচ সেবা বদলে দেবে স্যাটেলাইট টিভি দেখার ধারণা by কাজী সোহাগ

দেশে প্রথমবারের মতো বিশ্বমানের ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) সেবা চালু করেছে বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড। গত রোববার থেকে ‘আকাশ’ ব্র্যান্ড নামে এ সেবা পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে। গ্রাহক পর্যায়ে এরইমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ থেকে ডিটিএইচ সেবা দিচ্ছে আকাশ। এর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার গৌরবময় সঙ্গী হলো বেক্সিমকো। দেশের ২০টি জেলায় আকাশ ডিটিএইচ বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। জেলাগুলো হলো-ঢাকা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং সুনামগঞ্জ।
শিগগিরই দেশের অন্যান্য জেলাতেও অনুমোদিত খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে এ ডিটিএইচ পাওয়া যাবে। বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লিমিটেড জানায়, বিশ্বব্যাপী পে-টিভি শিল্পে ডিটিএইচ একটি উচ্চতর প্রযুক্তি। বাংলাদেশী দর্শকদের প্রয়োজন মেটাতে দেশী-বিদেশী জনপ্রিয় চ্যানেল সম্প্রচারের বড় সংগ্রহ নিয়ে এসেছে আকাশ। দেশে টিভি দেখার স্বাদ ও অভিজ্ঞতা বদলে দেবে এ প্রযুক্তি। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের সব অঙ্গনে লেগেছে ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া। বাড়ছে তারহীন প্রযুক্তির ব্যবহার। কিন্তু ঘরোয়া বিনোদনের প্রধানতম মাধ্যম স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সংযোগ এখনও রয়ে গেছে তিন দশক পুরনো ক্যাবল নেটওয়ার্কের অধীনে। এর ফলে দর্শকরা অনেক চ্যানেল দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি যা দেখছেন তাও মানসম্পন্ন ছবি ও শব্দবিশিষ্ট নয়। এদিকে গত দুই দশকে নেটওয়ার্ক ও টিভি সেট প্রযুক্তিতে এসেছে অনেকগুলো বড় পরিবর্তন। প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ সারাবিশ্বে ডিটিএইচ প্রযুক্তি টিভি দেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিয়েছে।
একইসঙ্গে তারবিহীন এ প্রযুক্তি মুক্তি দিয়েছে ডিশের তারের জঞ্জাল থেকে। বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল সংযোগ পদ্ধতি আধুনিকায়ন না হওয়ায় একদিকে গ্রাহক মানসম্পন্ন সেবা পাচ্ছে না অন্যদিকে আধুনিক ও স্মার্ট টিভির সত্যিকারের স্বাদ ও অভিজ্ঞতা পাচ্ছে না। আবার ক্যাবল নেটওয়ার্কের তার চরাঞ্চলসহ শহরের বাইরে প্রত্যন্ত-বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে বিপুল জনগোষ্ঠী স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল দেখতে পারছেন না। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সেই সমস্যাটির সমাধান করবে। তিনি বলেন, ক্যাবল লাইনের সংযোগ ছাড়াই স্যাটেলাইট টিভি দেখার উন্নত প্রযুক্তি হচ্ছে ডিটিএইচ।
সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে সংকেত গ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখা যাবে ঘরের টিভিতে। ডিটিএইচ সংযোগে থাকে একটি ছোট ডিশ অ্যান্টেনা, একটি সেট টপ বক্স, একটি রিমোট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি। বাসা বা অফিসের ছাদে অ্যান্টেনা স্থাপন এবং টিভি সেটের সাথে সেট টপ বক্স সংযুক্ত করে গ্রাহক এ সেবা উপভোগ করতে পারেন। তিনি বলেন, ডিটিএইচ-এর অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে-গ্রাহকরা নিজেদের পছন্দের চ্যানেলগুলো নিজেরাই বাছাই করতে পারবেন। ক্যাবল অপারেটরের পছন্দ অনুযায়ী চ্যানেল দেখতে হবে না। ক্যাবল সংযোগে সিগন্যাল কেটে যায় বা ব্রেক হয়। ডিটিএইচ প্রযুক্তিতে তা হয় না বলে বিরক্তি ছাড়াই চ্যানেলের সব অনুষ্ঠান উপভোগ করা যায়। স্যাটেলাইট এ ক্ষেত্রে এক বিপ্লবী পরিবর্তন আনবে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের সুবিধা-ফিচার সর্বোচ্চ উপভোগ করার জন্য ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) প্রযুক্তির বিকল্প নেই। প্রচলিত ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের স্থান দখল করে নিবে তারহীন এ প্রযুক্তি। সে জন্য আমরা লাইসেন্স প্রদান করেছি। সংশ্লিষ্টরা জানান,অবাধ তথ্য প্রবাহের এ যুগে এখনও মানুষের বিনোদন এবং তথ্য পাওয়ার প্রধানতম মাধ্যম টেলিভিশন। স্যাটেলাইট টেলিভিশনগুলো সে চাহিদা পূরণ করছে অনেক দিন ধরেই।
২০১২ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১১ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার পরিবারে টেলিভিশন ছিল। এর পর গত আট বছরে দেশের আর্থ-সামাজিক ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ প্রবৃদ্ধির ধারায় টিভির সংখ্যাও নিশ্চিত বেড়েছে। টিভি থাকা সিংহভাগ পরিবারেই ডিশ সংযোগ রয়েছে। ক্যাবল অপারেটররা বলছেন, দেশে ডিশ সংযোগের গ্রাহক রয়েছেন সর্বোচ্চ ৪০ লাখ। তবে খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সংখ্যা তিন কোটির বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিশ অপারেটররা গ্রাহক সংখ্যা কম দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। ডিজিটালাইজড বা ডিটিএইচ সেবায় প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যা জানা যায়। ফলে এর মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির পথ বন্ধ করা যায়। এদিকে ডিশ সংযোগের তার বিদ্যুতের খুঁটিকে আশ্রয় করে ছড়িয়ে পড়ায় বড় ধরণের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ডিশের তার মনে করে বিদ্যুতের তারে হাত দিয়ে দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। ঝুলন্ত তার সড়ক-মহাসড়ক-গলির রাস্তায় জঞ্জাল তৈরি করেছে।
যা শহর কিংবা গ্রামের সৌন্দর্য্যও নষ্ট করছে। এদিকে গত প্রায় তিন দশকে টিভি সেটের প্রযুক্তিতে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সিআরটি টিভি অনেকটাই বাতিল হয়ে গেছে। এলসিডি, এলইডি, ওএলইডি, ইউএলইডিসহ এসেছে স্মার্ট টিভির নানা সংস্করন। আধুনিক টিভি সেটগুলোর অনেক ফিচার-বৈশিষ্ট্য ক্যাবল লাইনের সংযোগ দিয়ে উপভোগ করা যায় না। অর্থাৎ গ্রাহক টাকা দিয়ে টিভিসেট কিনেও সংযোগ প্রযুক্তির আধুনিকায়ন না হওয়ায় তার পুরো ব্যবহার করতে পারছেন না। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ২০০৩ সালে তারবিহীন উন্নত প্রযুক্তির ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) সেবা চালু হয়েছে। এর ফলে টিভি দেখার দারুণ অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন ওই দেশের জনগণ। স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল উপভোগকারী দর্শকরা বলছেন, বিদ্যমান ডিশ ক্যাবল সংযোগে ৭০টির বেশি চ্যানেল দেখা যায় না।

সেই দেড় ঘণ্টার পথ যেতে এখন লাগে ৬ মিনিট by আমির হুসাইন স্মিথ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দ্বিতীয় মেঘনা ও কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য শনিবার (২৫ মে) খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন সেতু দু’টি উদ্বোধন করেন।
এরপরই পাল্টে গেছে এই রুটে যানজটের চিরচেনা দৃশ্য। স্বস্তি ফিরে এসেছে ট্রাফিক পুলিশ, যাত্রী ও চালকদের মাঝে। আগে যেখানে সেতু পার হতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগতো, এখন সেখানে সময় লাগে ছয় থেকে আট মিনিট।
মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতুর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, চার লেনবিশিষ্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন এসে আগে উঠতো এক লেনবিশিষ্ট পুরাতন মেঘনা-গোমতী সেতুতে। তাছাড়া পুরাতন সেতু দু’টি বেশি ঢালু হওয়ায় ধীরগতিতে যান চলাচল করতো। ফলে বিভিন্ন উৎসব-পার্বণ ও সরকারি ছুটির দিনে তীব্র যানজট লেগে থাকতো। এতে করে ভোগান্তি পোহাতে হতো যাত্রী ও চালকদের। কিন্তু এবার ঈদের আগে দ্বিতীয় মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু খুলে দেওয়ায়, মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেতু দুটি চালু হওয়ায় এ রুটে চলাচলকারী গণপরিবহনের চালকরা ভীষণ খুশি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী শ্যামলী পরিবহনের চালক আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘এবার ঈদে যানজটের কোনও আশঙ্কা নেই। আগের সেতুটি ছিল এক লেনের এবং রাস্তা থেকে বেশ উঁচুতে। ফলে চার লেনের সড়ক থেকে ঢাল বেয়ে ধীরগতিতে গাড়িগুলো গিয়ে উঠতো এক লেনের সেতুতে। এতে যানজট লেগেই থাকতো। দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু চার লেনের। দুই লেনে গাড়ি যাবে এবং দুই লেনে গাড়ি আসবে। এতে করে সেতুতে কোনও যানজট হবে না।’
দ্বিতীয় মেঘনা সেতুর ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন
দ্বিতীয় মেঘনা সেতুর ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন
চট্টগ্রামগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের চালক এন্তেজার আলী বলেন, ‘আগে মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু পার হতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগতো। কিন্তু নতুন সেতু দুটি খুলে দেওয়ার পর, ছয় থেকে আট মিনিটে সেতু পার হতে পারছি।’ তিনি আশা করেন, এবার ঈদের আগে বা পরে মেঘনা টোল প্লাজা ও দাউদকান্দি টোল প্লাজার আগে ও পরে বা সেতুতে কোনও যানজট হবে না।
ট্রাকচালক আসাবুদ্দিন বলেন, ‘এই দুটি সেতুর দুই পারেই এত যানজট লেগে থাকতো যে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হিমশিম খেতে হতো। সেতু দুটি খুলে দেওয়ায় যানজট নেই, তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও পরিশ্রম কমে গেছে।’
যাত্রী সামসুল হক বলেন, ‘প্রতিটি উৎসবে এ দুটি সেতু পার হতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। গরমে বাসের মধ্যে বসে থাকা অসহ্য যন্ত্রণা। আশা করি, এবার দুর্ভোগ হবে না। মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবেন।’
শনিবার (২৫ মে) সেতু খুলে দেওয়ার পর, দ্বিতীয় মেঘনা সেতু দেখতে এসেছেন সোনারগাঁয়ের ইসলামপুর এলাকার দম্পতি সায়লা বেগম ও নূরনবী চৌধুরী। তারা বলেন, ‘সেতুতে এসে খুব ভালো লাগছে। সেতুর নির্মাণশৈলী চমৎকার। সড়কে অনায়াশে যানবাহন চলাচল করছে, কোনও যানজট নেই।’
দ্বিতীয় মেঘনা সেতুর ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন
দ্বিতীয় মেঘনা সেতুর ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন
মেঘনা সেতুতে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের কনস্টেবল ফরিদ মিয়া বলেন, ‘গত ঈদে এই সেতুতে ডিউটি করেছি। যানজট নিরসন করতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। এক মিনিটের জন্যও দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ পাইনি। সারাক্ষণ হ্যান্ড মাইকে ট্রাফিক কন্ট্রোল করতে হয়েছে। শনিবার নতুন সেতু দুটি খুলে দেওয়ার পর, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছি। গাড়ি এক মিনিটের জন্যও কোথাও থামছে না। দায়িত্ব পালনে কোনও কষ্ট হচ্ছে না।’ সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের (ওসি) কাইয়ুম আলী সরদার বলেন, ‘সেতু দুটি খুলে দেওয়ায় এ পথের মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবেন। সেতু চার লেনের হওয়ায় আমাদের পরিশ্রমও এবার কম হবে। গত বছর মহাসড়কে যে পরিমাণ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল, এবার তা করা লাগবে না।’
মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক শওকত আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘বাংলাদেশে এই প্রথম কোনও বড় প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের আগে সম্পন্ন হলো। এটি সম্ভব হয়েছে মূলত দুটি কারণে— সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মনিটরিং এবং জাপানের আধুনিক প্রযুক্তি ও তাদের কর্মদক্ষতা প্রয়োগ। এটি দেশের জন্য ও বর্তমান সরকারের জন্য একটি মাইফলক হয়ে থাকবে।’

আমার দেহের প্রতিটি কোষ জাতির জন্য নিবেদিত -নরেন্দ্র মোদি

ভূমিধস বিজয়ের পর উচ্ছ্বসিত নরেন্দ্র মোদি তাঁর দলের জয়ের জন্য ভারতের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বলেছেন, এটা ‘গণতন্ত্রের’ বিজয়। বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলকে সত্য প্রমাণ করে গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকা নিশ্চিত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
লোকসভা নির্বাচনের ৫৪৩টি আসনের মধ্যে মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৩৫০টি আসনে এগিয়ে। এর আগে ২০১৪ সাল দলটি ২৮২টি আসনে জয় পেয়েছিল। এনডিএ জোট পেয়েছিল ৩৩৬টি আসন। তিন দশকে ভারতের জাতীয় নির্বাচনে গতবার প্রথম কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন হয় ২৭২টি আসন।
এনডিটিভি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এ জয় ‘গণতন্ত্রের’। এ সময় তিনি জনগণের উদ্দেশে তিনটি প্রতিশ্রুতি দেন, ‘অসুস্থ উদ্দেশে কখনো কিছু করব না’, ‘ব্যক্তিগত ভাগ্য উন্নয়নে কখনো কিছু করব না’ এবং ‘দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আমার প্রতিটি রন্ধ্র, দেহের প্রতিটি কোষ বিরামহীন কাজ করে যাবে’।
এবারের নির্বাচনে বিজেপির জয় ২০১৪ সালের ফলকেও ছাড়িয়ে গেছে। গণনা শুরু করার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে জোটের আসন ৩০০ ছাড়িয়ে যায়। এখনো গণনা চলছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট প্রায় সাড়ে তিন শ আসনে এগিয়ে রয়েছে।
দলের বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটা নতুন উপাখ্যান রচনা করেছে। প্রতিটি দলের অন্তত দর্শন করা উচিত।
জাতিপ্রথাভিত্তিক রাজনীতির চর্চায় দেশটি বড় আকারে জড়িয়ে পড়েছে। মোদি বলেন, এখানে শুধু দুটি গোত্র অবশিষ্ট রয়েছে। এক, যারা দরিদ্র; দুই, যারা দারিদ্র্য নির্মূল করে।
উত্তর প্রদেশে দশকের পর দশক ধরে জাতিপ্রথা রাজনীতির মূল বিষয় হয়ে রয়েছে। সেখানের ভোটাররা বিজেপিকে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের জয় এনে দিতে যাচ্ছে। ওই রাজ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি এবং এর জোট আপনা দল ৮০টি আসনের মধ্যে ৭৩টিতে জয় পেয়েছিল। এবার মায়াবতী এবং অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টির বড় জোটের কাছে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে বিজেপি। এরপরও বিজেপি সেখানে ৬১ আসনে এগিয়ে রয়েছে। মায়াবতী–যাদবের জোট পিছিয়ে থাকা প্রান্তিক গোত্র ও মুসলিমদের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে ২০টি বা এর কম আসনে জয় পেতে যাচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লিতে দলের সদর দপ্তরে শত শত কর্মী–সমর্থকের উদ্দেশে মোদি বলেন, ‘আমরা জনগণের সিদ্ধান্ত জানতে তাদের কাছে গিয়েছিলাম। আজ কোটি মানুষ এই “ফকির কি ঝোলি” (গরিবের থলে) ভরে দিয়েছে। এটা গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ঘটনা।’
গরিবের থলের বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেছেন কংগ্রেসকে খোঁচা দিতে। দলের নতুন সদস্য শত্রুঘ্ন সিনহা প্রধানমন্ত্রীকে ব্যঙ্গ করে সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘এখন প্রধানমন্ত্রী মোদির সময় হয়েছে তাঁর থলে তুলে নেওয়া এবং চলে যাওয়া।’ অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া শত্রুঘ্ন সিনহা মোদির একটি পুরোনো বক্তব্যকে তুলে এনে এ মন্তব্য করেছিলেন।
২০১৬ সালে রাতারাতি বড় নোট (পাঁচ শ ও এক হাজার রুপির) নিষিদ্ধ করে দেয় মোদি সরকার। ঘটনাটি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। ওই সময় এক সমাবেশে মোদি বলেছিলেন, ‘আমার বিরোধীরা আমার কী করতে পারে? আমি ফকির। আমি আমার ঝোলা তুলে নেব এবং চলে যাব।’

ভারতের সঙ্গে সংলাপে তৈরি পাকিস্তান: শাহ মাহমুদ কুরেশি

শাহ মাহমুদ কুরেশির সঙ্গে সুষমা স্বরাজের বৈঠক
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেছেন,  ইসলামাবাদ ভারতের নয়া সরকারের সাথে সব অমীমাংসিত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। রেডিও পাকিস্তান সূত্রকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে প্রকাশ, গত শনিবার রাতে মুলতানে এক ইফতার পার্টিতে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ সংক্রান্ত মন্তব্য করেন।
কুরেশি বলেন,  ভারত ও পাকিস্তানের উভয় অঞ্চলের সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
লোকসভা নির্বাচনে গত ২৩ মে ভারতে বিজেপি পুনরায় ক্ষমতাসীন হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। তার আগেই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ওই বার্তা দেয়া হল।
লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার একদিন আগেই গত (বুধবার) কিরগিস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মধ্যে সাক্ষাৎ হলে উভয়েই পরস্পরের খোঁজখবর নেন। কুরেশি এসময় সুষমাকে সংলাপের মধ্য দিয়ে সমস্ত সমস্যার সমাধানের জন্য পাকিস্তানের ইচ্ছার কথা জানান।
অন্যদিকে, সুষমা স্বরাজ পাক মন্ত্রী মাহমুদ কুরেশিকে মিষ্টি উপহার দেন। মাহমুদ কুরেশি এ সম্পর্কে বলেন, ‘সুষমাজির একটা অভিযোগ ছিল, আমরা নাকি মাঝে মাঝে খুব তিক্ততার ভাব নিয়ে কথা বলি। আমরা যাতে মিষ্টি কথা বলতে পারি, তার জন্য উনি মিষ্টিও নিয়ে এসেছিলেন। আমরাও সুষমাজিকে বুঝিয়ে দিয়েছি, আমরা আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে চাই।’
এরআগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত (বৃহস্পতিবার) মোদির বিজয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং এই অঞ্চলের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ইমরান বলেন, ‘আমি বিজেপি ও সহযোগী জোটের বিজয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির অভিনন্দন জানাচ্ছি। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য তাদের সাথে কাজ করার জন্য আশাবাদী।’
পাল্টা জবাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘শুভেচ্ছা জানানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি সবসময় আমাদের অঞ্চলের উন্নয়ন ও শান্তিকে প্রাধান্য দিয়ে আসছি।’
লোকসভা নির্বাচনের আগে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চূড়ান্ত সংঘাতের পরিবেশ হলেও নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে দু’দেশের নেতাদের মধ্যে শুভেচ্ছা বার্তা বিনিময় ও সংলাপের বার্তা প্রদান তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বিজেপি সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে ভোটে জিতেছে: মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপি সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে ভোটে জিতেছে। হিন্দু- মুসলিমের মধ্যে ভাগাভাগি করে ভোটে জিতেছে। লোকসভা নির্বাচনের ফল পর্যালোচনা করতে গত শনিবার বিকেলে কোলকাতায় দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি ওই মন্তব্য করেন।
মমতা বলেন, ‘আমি ধর্মের ভিত্তিতে মানুষে মানুষে ভাগাভাগিতে বিশ্বাসী নই। আমি একা হয়ে গেলেও আমি বদলাবো না। এই দেশ সকলের। আমি ধর্মীয় মৌলবাদে বিশ্বাস করি না।’ 
তিনি নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েও বিচার পাইনি। নির্বাচন কমিশন আমাদের অভিযোগ শোনেনি। পাঁচ মাস ধরে রাজ্যের প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে ছিল। আমাদের কোনও কাজ করতে দেয়া হয়নি। পুরো জরুরী অবস্থার মতো ছিল। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করেছে, নির্বাচন কমিশন বিজেপির অংশ হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘(মোদির) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। পাকিস্তান, আমেরিকা, চায়না, ইসরাইল সবাইকে নিমন্ত্রণ করতে পারে। তাহলে নির্বাচনের সময়ে সবাইকে পাকিস্তানী বলা হচ্ছিল কেন? শত্রু বলা হচ্ছিল কেন? ‘পাকিস্তানের চর’ বলা হচ্ছিল কেন? অর্থাৎ নির্বাচনের সময় এক কৌশল, এখন নির্বাচনের সময় অন্য কৌশল। ওরা যা করে সব ঠিক, আমরা যা করি সব ভুল?’
মমতা বলেন, ‘এই নির্বাচনে বিজেপি যে টাকা খরচ করেছে, তা যে কোনো দুর্নীতিকে ছাড়িয়ে যাবে। বিজেপি সরকারি কর্মী, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে টাকা বিলিয়েছে। আমরা লড়াই করব। আমাদের লড়াই হবে গঠনমূলক, ধংসাত্বক নয়।’
লোকসভা নির্বাচনে বিরোধীদের কম আসন পাওয়া প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘টাকা দিয়ে ভোট কেনা না হলে বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধীরা এত কম আসন পেতে পারে না। আমি নিশ্চিত, কিছু সেটিং ছিল।’ এখানে অন্যান্য দেশের ভূমিকাও কাজ করেছে বলে মমতা সংশয় প্রকাশ করেন।
মমতা মুসলিম তোষণের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সাফ জানিয়ে দেন, প্রত্যেকবার তিনি ইফতারে যান এবারেও তিনি যাবেন।

আক্রমণে সক্ষম অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পেলো ভারত

আক্রমণ কাজে ব্যবহারের উপযোগী অত্যাধুনিক অ্যাপাচি গার্ডিয়ান হেলিকপ্টার পেয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। গত ১০ মে শুক্রবার ভারতের কাছে এই অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার হস্তান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ হেলিকপ্টার যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ভারতীয় বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে।
২০১৫ সালে বোয়িং'এর কাছ থেকে ২২টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার কেনার চুক্তি করেছিল ভারত। ভারতীয় চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার কিছু রদবদল করা হয়েছে। শুক্রবার ২২টি হেলিকপ্টারের প্রথম চালান ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আক্রমণের কাজে ব্যবহার উপযোগী বহুমুখী এ হেলিকপ্টার পার্বত্য অঞ্চলে সক্ষমতার প্রমাণ রেখেছে। মার্কিন সেনাবাহিনী এ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে মার্কিন হেলিকপ্টার চিনুক সিএইচ-৪৭এফ (আই)।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় বোয়িংয়ের কারখানা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) কাছে হেলিকপ্টারের প্রথম চালান হস্তান্তর করা হয়। এ সময় আইএএফ-র প্রতিনিধিত্ব করেন এয়ার মার্শাল এএস বুতোলা। তিনি বোয়িংয়ের কাছ থেকে হেলিকপ্টার বুঝে নেন। অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রশাসনেরও কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাপাচি কপ্টারগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। এগুলো প্রতিকূল আবহাওয়ায়; এমনকি ভূমিতে যেকোনও ধরনের হুমকি মোকাবিলা ও আক্রমণ করতে পারে। এতে রয়েছে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত সেন্সর করার ক্ষমতা ও নাইট ভিশন ব্যবস্থা। নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলো নিজেদের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রের সংগৃহীত ছবি শেয়ার করতে পারে।
আইএএফ’র একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ভারতীয় বিমান বাহিনীকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এএইচ-৬৪ই(১) এর সংযোজন এই বাহিনীর আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ চালানটি আসবে জুলাইয়ে। এজন্য ভারতীয় ক্রুদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফর্ট রুকার সামরিক ঘাঁটিতে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

প্রেমিকাকে চমকে দিতে চান বরিস জনসন

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পর ওই পদে যাওয়ার আশা করছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিসন জনসন (৫৪)। এক্ষেত্রে তিনি চমক দিতে চান ৩১ বছর বয়সী প্রেমিকা ক্যারি সায়মন্ডসকে। যদি তিনি নির্বাচিত হতে পারেন তাহলে বহুল কাঙ্খিত ওই ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাড়িতে তিনি এই প্রেমিকাকে বগলদাবা করে প্রবেশ করতে পারবেন। এ জন্য ২৫ বছরের দাম্পত্যজীবন কাটিয়েছেন যে স্ত্রীর সঙ্গে, তার সঙ্গে বিচ্ছেদতা দ্রুত সম্পন্ন করাতে চাইছেন।  এ খবর দিয়েছে বৃটেনের অনলাইন ডেইলি মেইল
জনসন আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে স্ত্রী মেরিনা হুইলারের সঙ্গে বিচ্ছেদটা চূড়ান্ত করতে চান। এরপর কনজার্ভেটিভ দলের স্পিন বিষয়ক ডাক্তার, ৩১ বছর বয়সী ক্যারি সায়মন্ডকে নিয়ে শুরু করতে চান নতুন জীবন। একটি সূত্র ডেইল মেইলকে বলেছেন, এ নিয়ে জনসন তাদের চার সন্তানের সঙ্গে এক নৈশভোজে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। এ সময় তিনি ছিলেন ভীষণ আবেগপ্রবণ। সন্তানরাও আবেগতাড়িত ছিলেন। তাদেরকে জনসন বলেছেন, তিনি সঠিক কাজটিই করতে চান। বিচ্ছেদ হলে মেরিনা হুইলার একটি হ্যান্ডসাম চুক্তির মধ্য দিয়ে সরে যাবেন। জনসন আশা করছেন আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে সেই বিচ্ছেদ ঘটবে।
উত্তর লন্ডনের ইলিংটনে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড দামের একটি বাড়ি রয়েছে জনসন ও মেরিনা হুইলার দম্পতির। সেই বাড়িটি বিক্রি করা হবে। বিচ্ছেদ হলে এই অর্থের বড় একটি অংশ পাবেন মেরিনা। এছাড়া তিনি জনসনের ভবিষ্যত বেতনের শতকরা ১৫ ভাগ পেতে পারেন। দু’জনের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটলেও বরিস জনসন একজন প্রধানমন্ত্রী হোন- তার এমন সুযোগ কখনো ধ্বংস করে দিতে চান না মেরিনা। গত বছর সেপ্টেম্বরে খবর প্রকাশ হতে থাকে যে, বরিস জনসন এবং মেরিনা হুইলার বিচ্ছেদের পরিকল্পনা করছেন। আরও খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, চার সন্তানের জনক জনসনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে মিসেস সায়মন্ডসের সঙ্গে। তারা যখন বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তখন বলেছিলেন, বন্ধু হিসেবে আমরা আমাদের সন্তানদের সামনের দিনগুলোতে সমর্থন দিয়ে যাবো।
বরিস জনসন এর আগে ১৯৮৭ সালে বিয়ে করেছিলেন অ্যালেগ্রা মোস্টিন ওয়েনকে। তিনি তার প্রথম স্ত্রী। এরপর জনসন প্রেমি জড়িয়ে যান মেরিনা হুইলারের। ১৯৯৩ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে তাকে ঘরে তোলেন। সেই স্ত্রীর সঙ্গে তিনি চারটি সন্তানের জনক। তাদের এই দাম্পত্যের মেয়াদ ২৫ বছর। এরপর জনসনের জীবনে এসেছেন ক্যারি সায়মন্ডস। 
বর্তমানে ক্যারি সায়মন্ডস বসবাস করছেন দক্ষিণ লন্ডনে ১০ লাখ পাউন্ড মূল্যের একটি বাড়িতে। এই বাড়িতে মাঝে মাঝেই অবস্থান করেন জনসন। এসব খবর প্রকাশ হচ্ছে এমন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, যখন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে সরে যাওয়ার পর তার পদে জনপ্রিয় যারা আছেন, তার মধ্যে অন্যতম বরিস জনসন। আগামী ৭ই জুন শুক্রবার পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন তেরেসা মে।
তার পরেই কনজার্ভেটিভ দলের নেতৃত্বের রণে নিজেকে হাজির করেছেন বরিস জনসন। এ পদে আরো বেশ কয়েকজন শক্তিশালী প্রার্থী আছেন। তাদের ভিতর থেকে দলীয় সদস্যরা ভোট দিয়ে একজন নেতা নির্বাচিত করবেন। নির্বাচিত ব্যক্তি একই সঙ্গে কনজার্ভেটিভ দলের প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন। ব্রেক্সিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন তেরেসা মে। ওদিকে সেই ব্রেক্সিট ইস্যুতে দৃঢ় একটি বক্তব্য রেখেছেন বরিস জনসন। তিনি বলেছেন, চুক্তি করে অথবা চুক্তি ছাড়া যেভোবেই হোক ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনের বেরিয়ে আসা উচিত ৩১ শে অক্টোবর।

আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলীর (আ.) জীবনের শেষ ক'টি দিন ও ঘণ্টা!

ইরাকের নাজাফ আল আশরাফে হযরত আলীর পবিত্র মাজারের একাংশ। পবিত্র কুরআন পড়ছেন অনুরাগীরা এই রমজানে
আজ ২১ রমজান হযরত আলীর শাহাদাত বার্ষিকী। ইসলামের ইতিহাসে চরমপন্থী হিসেবে বিবেচিত খাওয়ারেজ বা খারেজীরা আলী (আ.)-কে শহীদ করার ষড়যন্ত্র করেছিল এবং তাদের একজন ইবনে মুলজিম ১৯ রমজান কুফার মসজিদে নামাজে সিজদারত হযরত আলীর ওপর তরবারির আঘাত হানে যা তাঁর মাথায় বিদ্ধ হয়।
আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আ)’ যখন কুফার মসজিদে ১৯ রমজান ভোরবেলায় নামাজে সিজদারত অবস্থায় তাঁর মাথা-মুবারকে অভিশপ্ত খারিজি ইবনে মুজলিমের বিষ-মাখানো তরবারির আঘাতের শিকার হলেন তখন তিনি আহ্-উহ্ বা আর্তনাদ করেননি কিংবা কেঁদে ওঠেননি! বরং তিনি খুব শান্তভাবে বললেন: বিসমিল্লাহি ওয়া বিল্লাহি ওয়া ফি সাবিলিল্লাহি, ফুজতু ওয়া রাব্বিল কা’বা! অর্থাৎ মহান আল্লাহর নামে ও আল্লাহর মাধ্যমে ও আল্লাহর পথে, কাবার প্রভুর শপথ আমি সফল!.... কিছুক্ষণ পর ইমাম হাসান মুজতাবা (আ) আসলেন ও বাবার মাথাকে নিজের কোলে রাখলেন।...
হযরত আলীর মস্তক মুবারক থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল এবং তাঁর দাড়ি মুবারকও রক্ত-রঞ্জিত হল। ইমাম হাসান তাঁর বাবার দিকে তাকাচ্ছিলেন আর তাঁর চোখ দুটি অশ্রুতে ভরে যাচ্ছিল, তাঁর এক ফোটা অশ্রু এসে পড়ল হযরত আলীর চেহারা মুবারকে। তিনি চোখ খুলে বললেন, প্রিয় হাসান আমার! তুমি কাঁদছ!? কেঁদনা! আমি এ মুহূর্তে এমন অনেকের মধ্যে উপস্থিত যারা আমাকে সালাম করছেন!.. রাসুল (সা) এখানে আছেন, ফাতিমা জাহরা এখানে আছেন! ... হযরত আলীকে উঠিয়ে নেয়া হয়। এরপর ইমাম হাসান কুফার ওই মসজিদেই নামাজ পড়লেন। হযরত আলীও বসা অবস্থায় নামাজ পড়লেন।... তিনি কখনও একদিকে হেলে পড়তে যাচ্ছিলেন আবার কখনও নিজেকে সামলে নিচ্ছিলেন। অবশেষে তাঁকে নিজ ঘরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গীদের অনেকেই ও কুফাবাসী শুনলেন একটি গায়েবি আওয়াজ: আল্লাহর শপথ! হেদায়াতের স্তম্ভ ধ্বসে পড়েছে!... নিহত হয়েছে আলী!
 (পুরো বাক্যটি এমন: ‌ “ধর্ম বা দীনের স্তম্ভ ধ্বসে পড়েছে, তাকওয়ার ধ্বজা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, মজবুত বন্ধন ছিন্ন হয়ে পড়েছে, মুস্তাফা (সাঃ)’র চাচাতো ভাই ও ওয়াসীকে হত্যা করা হয়েছে, আলী মোর্তজা(আ.) নিহত হয়েছেন, তাঁকে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি হত্যা করেছে।”)
সবাই ছুটে আসল কুফার মসজিদের দিকে! চারদিকে শোকার্ত কলরব কোলাহল! মহানবীর ওফাতের দিনের মতই কুফাতে কান্নার রোল উঠল। শোকে নিমগ্ন হল গোটা কুফা। বর্ণনায় এসেছে, আলী (আ)কে আনা হল। কাছেই ইমাম হাসান। ইমাম হাসান এত বেশি কাঁদলেন যে তাঁর চোখের পলকগুলো ক্ষত-বিক্ষত হল।  কিন্তু হযরত আলীর চোখ হাসানের ওপর পড়ার পর তিনি বললেন, আমার হাসান কেঁদোনা! ধৈর্য ধর, শক্ত হও, এসব কিছুই না! এমনসব ঘটনা ঘটেই ও এসব অতিক্রম হয়ে যায়। তিনি বড় ছেলেকে এভাবে সান্ত্বনা দিলেন। 
হযরত আলীকে আনা হল তাঁর ঘরে, তাঁরই নামাজের স্থানে। তিনি নিজেই তাঁকে নামাজের এই জায়গায় আনতে বলেছিলেন। সেখানেই তাঁর জন্য বিছানা করা হল। তাঁকে সেখানে রাখা হল। হযরত আলীর কন্যারা সেখানে এলেন। এলেন  হযরত যাইনাব ও উম্মে কুলসুম। তারা বাবার পাশে বসলেন। এরপর কাঁদতে লাগলেন। ইমাম হাসানের কান্নার বেলায় তাকে ধৈর্য ধরার নসিহত ও সান্ত্বনা দেয়া সত্ত্বেও কন্যাদের কান্না আর সহ্য করতে পারলেন না। এবার তিনি নিজেও কেঁদে আকুল হলেন! হায়! মুমিনদের নেতা! আপনি এখানে যাইনাবের কান্না সহ্য করতে পারলেন না! আশুরার দিনে যাইনাবের কান্না ও বিলাপ যদি দেখতেন ও তাঁর শোকের মর্সিয়া যদি শুনতেন তাহলে কি করতেন?! 
হাবিব ইবনে আমরু থেকে আবু হামযা সুমালি বর্ণনা করেছেন: জীবনের শেষ ঘণ্টাগুলোতে সেই ২১ রমজানের রাতে আমিরুল মু’মিনিনকে দেখতে গেলাম! দেখলাম হযরতের একজন কন্যা সেখানে আছেন। সেই কন্যা কাঁদছিলেন! আমারও কান্না চলে আসল! কাঁদতে লাগলাম! কক্ষের বাইরে জড়-হওয়া মানুষেরাও আলী-তনয়ার কান্না শুনে কাঁদতে লাগল। আমিরুল মুমিনিন চোখ খুললেন। তিনি বললেন, আমি যা দেখছি তোমরাও যদি তা দেখতে তাহলে কাঁদতে না! আমি বললাম: হে আমিরুল মু’মিনিন! আপনি কি দেখছেন? তিনি বললেন, আমি আল্লাহর ফেরেশতাদের দেখছি, আকাশের ফেরেশতাদের দেখছি ও সব নবী-রাসুলকে দেখতে পাচ্ছি, তাঁরা সারিবদ্ধ হয়ে আমাকে সালাম করছেন ও আমাকে সম্বর্ধনা দিচ্ছেন বা স্বাগতঃ জানাচ্ছেন। মহানবীকে (সা) দেখছি যে তিনি আমার পাশে বসে আছেন ও বলছেন: প্রিয় আলী আরও জলদি চলে আস! আমি কাঁদলাম ও এরপর উঠে এলাম। তখনও হযরত আলীর ঘর থেকে পুরোপুরি বের হইনি আলীর পরিবারের ফরিয়াদ শুনে অনুভব করলাম যে তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন! (ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর একটি ভাষণ থেকে সংগৃহীত) 
হযরত আলী(আ.)’র শক্তিমত্তার একটি বর্ণনা (নাহজুল বালাগা থেকে)।  তিনি বলেছেন,
      لَمّا انزلَ ألله سبحانهُ قو لهالم احسبَ النَّاسُ ان یترکوا ان یقو لوا امنّا  و هم لا یفتنون٭ علمتُ انَّ الفتنة لا تنزلُ بنا و رسلُ الله (ص) بین اَظهرناَ
‘যখন এ আয়াত ‘মানুষ কি ভেবে নিয়েছে আমরা ঈমান এনেছি এ কথা বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না’ (আনকাবুত ১-২) নাযিল হলো তখন বুঝতে পারলাম রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মৃত্যুর পর এ উম্মতের জন্য ফেতনা ও কঠিন পরীক্ষা আসবে।
فَقُلتُ :یا رَسولُ الله (ص) ماهذهِ الفتنةٌ الّتی اخبرک الله تعالى بها
তখন রাসূলকে প্রশ্ন করলাম : হে রাসূলাল্লাহ্! এ আয়াতে আল্লাহ যে ফেতনার কথা বলছেন সেটা কি? তিনি বললেন :
یا علىُّ اِنِّ امتى سیفتنونَ من بعدی
‘হে আলী! আমার পর আমার উম্মত পরীক্ষার সম্মুখীন হবে।’ যখন আলী শুনলেন রাসূল মৃত্যুবরণ করবেন এবং তাঁর পরে কঠিন পরীক্ষা আসবে তখন ওহুদের যুদ্ধের কথা স্মরণ করে বললেন,
یا رسول الله اَوَ لیسَ قد قُلتَ لى یومَ اُحدٍ حیثُ استشهدَ مَنِ استشهدَ منَ المسلمینَ و حیّزتِ عنّى الشّهادةُ
‘ইয়া রসুলাল্লাহ্! ওহুদের দিনে যারা শহীদ হওয়ার তাঁরা শহীদ হলেন এবং শাহাদাত আমার থেকে দূরে চলে গেল, আমি এর থেকে বঞ্চিত হলাম এবং খুবই দুঃখ পেয়ে আপনাকে প্রশ্ন করলাম, কেন এ মর্যাদা আমার ভাগ্যে ঘটল না।আপনি বললেন,  ابشرُ فانّ الشّهادةَ مِن ورائک  যদিও এখানে শহীদ হওনি কিন্তু অবশেষে শাহাদাত তোমার ভাগ্যে ঘটবে।’ [আলী(আ.) এ সময় পঁচিশ বছরের যুবক ছিলেন এবং এক বছর হলো হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.)-কে বিবাহ করেছেন এবং এক সন্তানের জনক। এ বয়সের যুবক যখন জীবনকে সুন্দরভাবে সাজানোর স্বপ্ন দেখে তখন আলী(আ.) শাহাদাতের প্রত্যাশী।  উল্লেখ্য, ওহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের মধ্যে সত্তর জন শহীদ হয়েছিলেন যাদের নেতা ছিলেন হযরত হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব-রা. এবং আলী-আ. ওহুদের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধাদের একজন ছিলেন।] তারপর মহানবী (সা.) বললেন,
انَّ ذ'لک لکذ'لک فکیفَ صبرکَ اذن
‘অবশ্যই এমনটি হবে তখন তুমি কিভাবে ধৈর্যধারণ করবে। এখানে ধৈর্যের স্থান নয়, বরং শোকর করার স্থান।’ (নাহজুল বালাগাহ্, খুতবা নং ১৫৪)
রাসূল (সা.)-এর পবিত্র মুখ থেকে নিজের শাহাদাত সম্পর্কে যে খবর তিনি শুনেছিলেন সে সাথে বিভিন্ন আলামত যা তিনি দেখতেন, কখনো কখনো তা বলতেন যা তাঁর পরিবারের সদস্য এবং নিকটবর্তী শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাহাবীদের মধ্যে শঙ্কা ও কষ্ট বৃদ্ধি করত। তিনি আশ্চর্যজনক কিছু কথা বলতেন। এ রমযান মাসে নিজের ছেলে-মেয়েদের ঘরে ইফতার করতেন। প্রতি রাতে যে কোন এক ছেলে বা মেয়ের ঘরে মেহমান হতেন- কোন রাতে ইমাম হাসানের(আ.) ঘরে, কোন রাতে ইমাম হুসাইনের(আ.) ঘরে, কোন রাতে হযরত যয়নাবের(সা.) ঘরে (যিনি আবদুল্লাহ্ ইবনে জা’ফরের স্ত্রী ছিলেন)। এ মাসে অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম খাবার খেতেন। সন্তানরা এতে খুবই কষ্ট পেতেন। তাঁরা কখনো প্রশ্ন করতেন, ‘বাবা, কেন এত কম খান?’ তিনি বলতেন, ‘আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হতে চাই যে উদর ক্ষুধার্ত থাকে।’ সন্তানরা বুঝতেন তাঁদের পিতা কিছুর জন্য যেন অপেক্ষা করছেন। কখনো কখনো তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতেন, আমার ভাই ও বন্ধু রাসূল (সা.) আমাকে যে খবর দিয়েছেন তা অবশ্যই সত্য। তাঁর কথা কখনো মিথ্যা হতে পারে না। খুব শীঘ্রই তা সত্যে পরিণত হবে।’
১৩ই রমযান এমন কিছু বললেন যা অন্য সব দিনের চেয়ে পরিবেশকে বেশি ভারাক্রান্ত করে তুলল। সম্ভবত জুমআর দিন খুতবা পড়লেন। ইমাম হুসাইন (আ.)-কে প্রশ্ন করলেন, ‘বাবা এ মাসের কত দিন বাকি রয়েছে?’ উত্তর দিলেন, ‘হে পিতা, ১৭ দিন।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে আর দেরি নেই। এ মাথা আর দাড়ি রক্তে রঞ্জিত হবে। এ শ্মশ্রু শিগগিরই রঙ্গিন হবে।’
উনিশে রমযান আলী (আ.)-এর সন্তানরা রাতের একটি অংশ তাঁর সঙ্গে কাটালেন। ইমাম হাসান(আ.) নিজের ঘরে চলে গেলেন। আলী(আ.) জায়নামাজে বসলেন। শেষ রাতে উদ্বিগ্নতার কারণে ইমাম হাসান(আ.) বাবার নামাযের স্থানে গিয়ে বসলেন(অথবা প্রতি রাতই হয়তো এ রকম করতেন) । (ইমাম হাসান-আ. ও ইমাম হুসাইন-আ. হযরত ফাতেমা যাহরা-সা.’র সন্তান বলে ইমাম আলী-আ. এঁদের প্রতি আলাদা রকম স্নেহ করতেন। কারণ এঁদের প্রতি স্নেহকে রাসূলুল্লাহ-সা. ও ফাতেমা যাহরা-সা.’র প্রতি সম্মান প্রদর্শন বলে মনে করতেন) যখন ইমাম হাসান(আ.) তাঁর কাছে আসলেন তখন তিনি বললেন,
ملکتنی عینى و انا جالسٌ فسنح لى رسول الله (ص) فقلتُ یا رسول الله ماذا لقیتُ من امّتک من الاود واللددِ فقال ادعُ علیهم فقلتُ ابدلنى الله بهم خیراً منهم و ابدلهم بى شرَّ لهم منِّی
হে পুত্র, হঠাৎ স্বপ্নের মধ্যে রাসূলকে আবির্ভূত হতে দেখলাম। যখন রাসূলকে দেখলাম তখন বললাম : ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার এ উম্মতের হাতে আমার অন্তর রক্তাক্ত হয়েছে।’ প্রকৃতপক্ষে তাঁর সঙ্গে মানুষের অসহযোগিতা এবং তাঁর নির্দেশিত পথে চলার ক্ষেত্রে তাদের অনীহা আলী (আ.)-কে তীব্র যন্ত্রণা দিয়েছে। উষ্ট্রের যুদ্ধের বায়আত ভঙ্গকারীরা, সিফফিনে মুয়াবিয়ার প্রতারণা (মুয়াবিয়া অত্যন্ত ধূর্ত ছিল, ভালোভাবেই জানত কি করলে আলীর হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করা যাবে। আর সে তা-ই করত), সবশেষে খারেজীদের রূহবিহীন আকীদা-বিশ্বাস যারা ঈমান ও এখলাছ মনে করে আলী (আ.)-কে কাফের ও ফাসেক বলত। আমরা জানি না আলী(আ.)’র সঙ্গে এরা কি আচরণ করেছে! সত্যিই আলী(আ.)’র উপর আপতিত মুসিবতগুলো দেখে কেউই বিস্মিত না হয়ে পারে না। একটি পাহাড়ও এত ব্যাপক ও কঠিন মুসিবত সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না। এমন অবস্থা যে, আলী(আ.) তাঁর এইসব মুসিবতের কথা কাউকে বলতেও পারেন না। এখন যখন রাসূলে আকরাম (সা.)-কে স্বপ্নে দেখলেন তখন বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার এ উম্মত আমার হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। এদের নিয়ে আমি কি করব?’ তারপর ইমাম হাসানকে বললেন, ‘পুত্র, তোমার নানা আমাকে নির্দেশ দিলেন এদের প্রতি অভিশাপ দিতে। আমিও স্বপ্নের মধ্যেই অভিশাপ দিয়ে বললাম : “হে আল্লাহ! যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাকে মৃত্যু দান কর এবং এদের উপর এমন ব্যক্তিকে প্রভাব ও প্রতিপত্তি দান কর এরা যার উপযুক্ত।
বোঝা যায়, এ বাক্যের সাথে কতটা হৃদয়ের বেদনা ও দুঃখ জড়িয়ে রয়েছে! আলী (আ.) সুবহে সাদিকের সময় ঘর থেকে যখন বের হচ্ছিলেন বাড়ির হাঁসগুলো অসময়ে ডেকে উঠল। আলী বললেন,
دعوهنَّ فانّهنَّ صوائحُ تتبعها نوائح
‘এখন পাখির কান্না শোনা যাচ্ছে, বেশি দেরি নয় এরপর এখান থেকেই মানুষের কান্না শোনা যাবে।’ উম্মে কুলসুম আমিরুল মুমিনীনের সামনে এসে বাধা দিলেন। তিনি বললেন, ‘বাবা, আপনাকে মসজিদে যেতে দেব না। অন্য কাউকে আজ নামায পড়াতে বলুন।’ প্রথমে বললেন, ‘ (বোনের পুত্র) জুদাহ ইবনে হুবাইরাকে বল জামাআত পড়াতে।’ পরক্ষণেই আলী(আ.) বললেন, ‘না আমি নিজেই যাব।’ বলা হলো, অনুমতি দিন আপনার সঙ্গে কেউ যাক। তিনি বললেন, ‘না, আমি চাই না কেউ আমার সঙ্গে যাক।’
হযরত আলী(আ.)’র জন্য রাতটি ছিল অত্যন্ত পবিত্র । আল্লাহ জানেন তাঁর মধ্যে সে রাত্রে কেমন উত্তেজনা ছিল! তিনি বলছেন, ‘আমি অনেক চেষ্টা করেছি এ আকস্মিক শিহরণের রহস্য উদঘাটন করব।’ যদিও তাঁর ধারণা ছিল যে কোন বড় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। যেমন নাহজুল বালাগায় আলী (আ.) নিজেই বলছেন,
کم اطردت الایّام ابحثها عن مکنون هذا الامر فابى الله الا اخفاءهُ
‘অনেক চেষ্টা করেছি এ রহস্যের গোপনীয়তা উদঘাটন করব, কিন্তু আল্লাহ চাননি, বরং তিনি এটা গোপন রেখেছেন।’
নিজেই ফজরের আজান দিতেন। সুবহে সাদিকের সময় নিজেই মুয়াজ্জিনের স্থানে দাঁড়িয়ে (আল্লাহু আকবার বলে) উচ্চস্বরে আজান দিলেন। সেখান থেকে নামার সময় সুবহে সাদেকের সাদা আভাকে বিদায় জানালেন। তিনি বললেন, ‘হে সাদা আভা!  হে শুভ্র ভোর!  হে প্রভাত! যেদিন থেকে আলী এ পৃথিবীতে চোখ খুলেছিল তার পর এমন কোন ফজর কি আসবে যে, তোমার উদয় হবে আর আলী ঘুমিয়ে থাকবে?  অর্থাৎ  এবার আলীর চোখ চিরতরে ঘুমিয়ে পড়বে।’ যখন তিনি নেমে এলেন তখন বললেন,
خلّوا سبیلَ المومنِ المجاهدِ         فی الله ذی الکتبِ و ذی المشاهدِ
فی الله لا یعبدُ غیرَ الواحدِ          و  یوقظُ  النّاسَ الى  المساجدِ
‘এই মুমিন ও মুজাহিদের (আলীর) জন্য রাস্তা খুলে দাও যে গ্রন্থ ও শাহাদাতের অধিকারী,  যে একক খোদা ছাড়া আর কারো ইবাদত করেনি এবং মানুষকে মসজিদে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে জাগাতো।’
পরিবারের কাউকে অনুমতি দেননি বাইরে যাওয়ার। আলী (আ.) বলেছিলেন, ‘পাখিদের কান্নার পর মানুষের আহাজারি শুনতে পাবে।’ স্বাভাবিকভাবেই হযরত যয়নাব কোবরা (সা.), উম্মে কুলসুম (সা.) ও পরিবারের বাকী সদস্যরা উদ্বিগ্ন অবস্থায় ছিলেন, আজ রাতে কি ঘটতে যাচ্ছে?  হঠাৎ এক প্রচণ্ড চিৎকারে সবাই ঘটনা বুঝতে পারলেন। একটি আওয়াজ চারিদিকে  ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল-
تهدّمت واللهِ ارکان الهدى وانطمست اعلام التّقى و انفصمتِ العروةُ قتلَ ابنُ عمِّ المصطفى قُتِلَ الوصىُّ المجتبى قُتِلَ علىُّ المرتضى قَتَلَهُ اشقى الاشقیاء
‌ “ধর্ম বা দীনের স্তম্ভ ধ্বসে পড়েছে, তাকওয়ার ধ্বজা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, মজবুত বন্ধন ছিন্ন হয়ে পড়েছে, মুস্তাফা (সাঃ)’র চাচাতো ভাই ও ওয়াসীকে হত্যা করা হয়েছে, আলী মোর্তজা(আ.) নিহত হয়েছেন, তাঁকে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি হত্যা করেছে।” 
জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে ইমাম আলী (আ.)
আলী (আ.)-এর জীবনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও আশ্চর্যজনক সময় তাঁর জীবনের শেষ দু’দিন। তাঁর জীবনের কয়েকটি পর্যায় রয়েছে- তাঁর জন্ম থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত, রাসূলুল্লাহ (সা.)’র  নবুওয়াত থেকে হিজরত পর্যন্ত, হিজরত থেকে রাসূলের (সা.) ইন্তেকাল পর্যন্ত, রাসূলুল্লাহ(সা.)’র ইন্তেকাল থেকে নিজের খেলাফত প্রাপ্তির আগের ২৫ বছর এবং খেলাফত প্রাপ্তির পর সাড়ে চার বছর। এর বাইরেও তাঁর জীবনের আরেকটি পর্যায় রয়েছে যা তিন দিনেরও কম সময়ের, কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর মুহূর্তগুলো এখানে দেখা যায়। সেটা হলো আলী (আ.) যখন তরবারীর আঘাতে শয্যাশায়ী হলেন তখন থেকে শাহাদত পর্যন্ত। তিনি যে এক পূর্ণ মানুষ তা এখানেই প্রকাশিত হয়। তিনি যখন মৃত্যুর মুখোমুখি তখন মৃত্যুর প্রতি তাঁর প্রতিক্রিয়া কি ছিল? যখন তরবারী তাঁর কপালে আঘাত হানলো তখন তিনি দু’টি বাক্য বলেছেন। একটি ‘এ ব্যক্তিকে ধর’, অপরটি فُزْتُ وَ رَبّ الْکَعْبَة ‘কাবার প্রভুর শপথ! আমি সফলকাম হয়েছি- শাহাদাত আমার জন্য সফলতা’।
আলী (আ.)-কে এনে বিছানায় শোয়ানো হলো। চিকিৎসক আসির ইবনে আমর যিনি কুফায় আঘাত বিষয়ক খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ ছিলেন তিনি আমীরুল মুমিনীনের চিকিৎসার জন্য আসলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বুঝতে পারলেন, তরবারীতে বিষ মেশানো ছিল এবং বিষ তাঁর রক্তে প্রবেশ করেছে। তাই চিকিৎসায় লাভ হবে না এটা নিশ্চিত হয়ে নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করলেন। সাধারণত যে রোগীর আরোগ্যের সম্ভাবনা নেই তাকে এ কথা বলা হয় না। কিন্তু আসির জানতেন, আলী (আ.) অন্য দশজনের মতো নন। তাই তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “ আমীরুল মুমিনীন, যদি কোন অসিয়ত থেকে থাকে তাহলে তা ঘোষণা করুন।”
আলী(আ.)’র কন্যা হযরত উম্মে কুলসুম এ কথা শুনে ইবনে মুলজিমকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “আমার পিতা তোর কি ক্ষতি করেছিল যে, তাঁর প্রতি এ আচরণ করেছিস? আল্লাহ চাইলে আমার পিতা যদি সুস্থ হয়ে উঠেন, তোর চেহারা কলঙ্কিত করে দেবেন।” যখন উম্মে কুলসুম এ কথা বললেন তখন ইবনে মুলজিম (আল্লাহ তাঁর রহমত থেকে ইবনে মুলজিমকে বঞ্চিত করুন) জবাব দিল, “ আমি তরবারীটা এক হাজার দিরহাম দিয়ে কিনেছি, আর এক হাজার দিরহামের বিষ ওটাতে মাখিয়েছি। যে পরিমাণ বিষ ওটাতে মাখিয়েছি যদি কুফার সব মানুষের মাথায় আঘাত করি তাহলে তারা মৃত্যুবরণ করবে। তাই তোর বাবার বেঁচে থাকার কোন সম্ভাবনা নেই তা জেনে রাখ।”
আলী (আ.)-এর অলৌকিকত্ব এখানেই প্রকাশিত হয়। তিনি তাঁর অসিয়তে বলেন, বন্দির প্রতি সঠিক আচরণ কর।
یَا بَنِى عَبْدُ الْمُطَّلِب لا الفِیَنَّکُمْ تَخُوْضُوْنَ دِمَاءَ الْمُسْلِمِیْنَ خَوْضًا, تَقُوْلُوْنَ قُتِلَ امِیْرُ الْمُؤْمِنِیْنَ أَ لا لا تَقْتُلُنَّ بْنَ الا قَاتلى
“আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানেরা তোমরা এমন যেন না কর, যখন আমি পৃথিবী থেকে বিদায় নেব তখন মানুষের উপর হামলা করবে এ অজুহাতে যে, আমীরুল মুমিনীনকে শহীদ করা হয়েছে। অমুকের এটার পেছনে হাত ছিল, অমুক এ কাজে উৎসাহিত করেছে। এসব  কথা বলে বেড়াবে না, বরং আমার হত্যাকারী এ ব্যক্তি।” ইমাম হাসান (আ.)-কে বললেন, “বাবা হাসান! আমার মৃত্যুর পর এ বিষয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তোমার। যদি চাও আমার হত্যাকারীকে মুক্তি দেবে তাহলে মুক্তি দিও, যদি চাও কেসাস গ্রহণ করবে তাহলে লক্ষ্য রাখবে, সে তোমার পিতাকে একটি আঘাত করেছে, তাকেও একটি আঘাত করবে। যদি তাতে মৃত্যুবরণ করে তো করল, নতুবা ছেড়ে দেবে।” (নাহজুল বালাগাহ্, পত্র নং ৪৭)
তারপর আবার বন্দির চিন্তায় মগ্ন। বন্দিকে ঠিক মতো খেতে দিয়েছ তো? পানি দিয়েছ খেতে? ঠিক মতো দেখাশোনা কর ওর। কিছু দুধ তাঁর জন্য আনা হলে কিছুটা খেয়ে বললেন, বাকীটা বন্দিকে দাও। এটাই আলী (আ.)-এর আচরণ তাঁর শত্রুর সাথে। এ জন্যই মাওলানা রুমী বলেছেন,
সাহসিকতায় তুমি শেরে খোদা জানি
পৌরুষত্বে কি তুমি, জানেন শুধুই অন্তর্যামী।
এখানেই আলীর পৌরুষত্ব ও মানসিকতার সর্বোচ্চ স্তরের প্রকাশ ঘটেছে। আলী(আ.) মৃত্যুশয্যায় শায়িত, প্রতি মুহূর্তে তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটছে, বিষ তাঁর পবিত্র শরীরে প্রতিক্রিয়া করছে। তাঁর সঙ্গীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, সবাই কাঁদছে, চারিদিকে ক্রন্দনের শব্দ, কিন্তু আলী (আ.)-এর মুখ হাস্যোজ্জ্বল। তিনি বলছেন,
وَ اللَّهِ ما فَجَأنِى مِن الْمَوْتِ وَارِدٌ کَرِهْتُه وَ لا طَالِعٌ انْکَرْتُه وَ مَا کُنْتُ إِلا کَقَارِبٍ وَرَدَ, وَ طَالِبٍ وَجَد
“আল্লাহর শপথ! যা আমার কাছে এসেছে (মৃত্যু) এমন কিছু নয় যে, আমি তা অপছন্দ করি। আল্লাহর পথে শাহাদাত সব সময়ই আমার কাছে সবচেয়ে কাম্য সাধ ছিল, আমার জন্য শাহাদাত এমন বস্তু যেন কোন ব্যক্তি যার জন্য আকাঙ্ক্ষিত ছিল তা পেয়েছে। আমার জন্য এর চেয়ে উত্তম কি হতে পারে যে, ইবাদতরত অবস্থায় শহীদ হব?” (নাহজুল বালাগাহ্, পত্র নং ২৩)
وَ مَا کُنْتُ إِلا کَقَارِبٍ وَرَدَ, وَ طَالِبٍ وَجَد
এরপর এমন এক উদাহরণ এনেছেন যে উদাহরণের সঙ্গে আরবরা খুবই পরিচিত। আরবরা বেদুইনদের মতো যাযাবর জীবন যাপন করত। যতদিন কোন স্থানে পানি ও তাদের মেষ, উট ইত্যাদির জন্য ঘাস ও লতা জাতীয় উদ্ভিদ পেত ততদিন সেখানে থাকত; তারপর অন্য স্থানে পানি ও ঘাস পেলে সেখানে চলে যেত। যেহেতু মরুভূমিতে প্রচণ্ড গরম সেহেতু রাত্রিতে পানির সন্ধানে ঘুরে বেড়াত। قَارِب পানির অনুসন্ধানকারী ব্যক্তিকে বলা হয়। আলী তাঁর সহযোগীদের বলছেন, “ আমার সঙ্গীরা! গভীর রাতে পানির অনুসন্ধানকারী ব্যক্তি আকস্মিকভাবে পানির সন্ধান পেয়ে যেমন উল্লসিত হয় আমিও শাহাদাতের সুযোগ পেয়ে সে রকম আনন্দিত। আমার উদাহরণ সেই প্রেমিকের মত যে তার ভালবাসার বস্তুটি লাভ করেছে।”
আলী (আ.)-এর সবচেয়ে উষ্ণ  উক্তিগুলো যেন তাঁর জীবনের শেষ দু’দিনে উচ্চারিত হয়েছে। তিনি ১৯ রমযানের ফজরের ওয়াক্তের কিছু পরেই আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং ২১ তারিখের রাত্রির দ্বিপ্রহরে স্রষ্টার কাছে তাঁর পবিত্র আত্মার প্রত্যাবর্তন ঘটে।
শেষ মুহূর্তগুলোতে সবাই তাঁর চারপাশে সমবেত হয়েছে। বিষের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বারবার বেহুঁশ হয়ে পড়ছেন। কিন্তু যখনই জ্ঞান ফিরে পাচ্ছেন তখনই তাঁর কণ্ঠে হেকমতপূর্ণ উপদেশ ও নসিহত উচ্চারিত হচ্ছে। তাঁর শেষ উপদেশ যা অত্যন্ত উষ্ণতাপূর্ণ ও গুরুত্ববহুল তা তিনি বিশটি বাক্যে বর্ণনা করেছেন। প্রথমে ইমাম হাসান (আ.), এরপর ইমাম হুসাইন (আ.), তারপর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের লক্ষ্য করে বলেছেন। ইমাম হাসান, ইমাম হুসাইন (আ.), আলী (আ.)-এর অন্যান্য সন্তানসহ আমরা সকলেই, এমনকি কিয়ামত পর্যন্ত যারা আসবে আলী(আ.) তাদের উদ্দেশ্যে এ বক্তব্য দিয়েছেন। এ বাক্যগুলোতে তিনি ইসলামকে যেন পরিপূর্ণভাবে বর্ণনা করেছেন- সামগ্রিকভাবে উপস্থাপন করেছেন।
اَللَّه اَللَّه فِى الایتَام, اَللَّه اَللَّه فِى الْقُرْآن, اَللَّه اَللَّه فِى جیرانکُمْ, اَللَّه اَللَّه فِى بَیْتِ رَبِّکُمْ, اَللَّه اَللَّه فِى الصَّلَوةِ, اَللَّه اَللَّه فِى الزَّکَوةِ
(বিহারুল আনওয়ার, ৯ম খণ্ড, পৃ. ৭৪৬ ও নাহজুল বালাগাহ্, পত্র নং ৪৭)
তিনি একে একে সব বর্ণনা করছেন। “ আল্লাহ, আল্লাহ, ইয়াতীমদের ব্যাপারে সতর্ক থেক; আল্লাহ, আল্লাহ, কোরআনকে আঁকড়ে ধর; আল্লাহ, আল্লাহ, প্রতিবেশীদের ব্যাপারে দায়িত্বের কথা মনে রেখ; নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত... (এখানে “আল্লাহ আল্লাহ” শব্দগুলো বার বার ব্যবহার করেছেন কসম বা শপথ হিসেবে ও ব্যাপক গুরুত্ব দেয়ার জন্য)।” সবাই আলী (আ.)-এর মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। হঠাৎ লক্ষ্য করলেন তাঁর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে গেছে, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। সবাই কান পেতে আছে তিনি আর কি বলেন। সবাই দেখছেন আলী (আ.) উচ্চস্বরে পড়ছেন, “ আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ্।”

হাসপাতালে মাটির নিচে ওষুধ, তদন্তে দুই কমিটি

সাতক্ষীরা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ১৫ বস্তা ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর উদ্ধার হওয়া ওষুধ পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মো. বদিউজ্জানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, মেডিক্যাল কলেজ অধ্যক্ষের প্রতিনিধি এবং ইউএনও (সদর) দেবাশীষ চৌধুরী।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শাহজাহান আলী জানান, এ ঘটনায় ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রুহুল কুদ্দুসকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- ডা. প্রবীর কুমার বিশ্বাস ও ডা. আক্তারুজ্জামান। এ কমিটিকেও আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
হাসপাতাল চত্বরে মাটিতে পুঁতে রাখা ওষুধ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক ডা. শাহজাহান আলী বলেন,‘উদ্ধার হওয়া কোনও ওষুধের গায়ে সরকারি সিল নেই। এতে লাল সবুজ চিহ্নও নেই।’
এ ওষুধ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্টোরের নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘আমরা যে গজ ব্যান্ডেজ ব্যবহার করি তা থান কাপড়ের তৈরি। অথচ যা পাওয়া গেছে তা কাগজের। তাছাড়া স্টোরে থাকা কোনও ওষুধ খোয়া যায়নি। এ ব্যাপারে আমি স্টোর কিপার আহসান হাবিব ও স্টোর অফিসার বিভাস চন্দ্রের কাছ থেকে রিপোর্ট নিয়েছি।’
ডা.শাহজাহান আলী আরও বলেন, ‘ওষুধ কেনা বা পাওয়ার পর সার্ভে কমিটি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করানো হয়।সেসব তালিকা অনুসরণ করলে পরিষ্কার হবে যে এ ওষুধ সরকারি নয়।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনা যে বা যারাই ঘটিয়ে থাকুক তা ঘটেছে আমার যোগদানের আগে।’
উল্লেখ্য, গত ২৫ মে শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরের সেপটিক ট্যাংকের কাছ থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় ১৫ বস্তা ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এদিন ভোরে বৃষ্টির পানিতে ওষুধভর্তি বস্তাগুলো বেরিয়ে পড়লে তা সবার নজরে আসে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ওষুধ, ক্যানোলা, জিপসোনা, গজ ব্যান্ডেজ ও চিকিৎসা সামগ্রী।

ভুল করলেই চড়া মূল্য দিতে হবে শত্রুদেরকে: গোলাম আলী রাশিদ

ইরানের খাতামুল আম্বিয়া সামরিক ঘাঁটির কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম আলী রাশিদ শত্রুদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরানি জাতির ইচ্ছাশক্তি ও শক্তিমত্বার ব্যাপারে তারা যদি কোনো ভুল করে তাহলে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।
ইরাকের সাদ্দাম সরকারের চাপিয়ে দেয়া আট বছরের যুদ্ধে ইরানের শক্তিমত্বার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সামরিক ও প্রতিরক্ষা শক্তির দিক থেকে ওই যুদ্ধের সময়কার চাইতে আজকের ইরানের পার্থক্য এটাই যে সমুদ্র পথে আমাদের তেল ও পণ্যবাহী জাহাজে শত্রুরা হামলা চালানোর সাহস পাবে না এবং আমাদের চেয়ে শত্রুরা অনেক দুর্বল। তিনি আরো বলেন, ইরানের স্বার্থকে উপেক্ষা করে পারস্য উপসাগর ও হরমুজগান প্রণালীর মধ্য দিয়ে অন্য কোনো দেশ তেল রপ্তানি করতে পারবে না। শত্রুরা যদি এ বাস্তবতা অস্বীকার করে তাহলে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হতে পারে।
এদিকে, লেবাননের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদনান মানসুর বলেছেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানের নেতৃবৃন্দ ও দেশটির জনগণের আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনচেতা নীতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারেনি। কোনো কোনো দেশ মার্কিন হুমকি ও চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করলেও ওয়াশিংটনের এটা জেনে রাখা উচিত তেহরান তাদের মতো নয়।"
আমেরিকার অবসরপ্রাপ্ত ৭৬ জন সাবেক কূটনীতিক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে লেখা চিঠিতে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, "ভুল করে কিংবা পরিকল্পিত যেভাবেই হোক না কেন ইরানের সঙ্গে যেকোনো যুদ্ধ গোটা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং এ অঞ্চলকে আরো বেশি অস্থিতিশীল করে তুলবে। এর পাশাপাশি জান, মাল ও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে আমেরিকাকে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এমনকি আমেরিকাকে এর বাইরে আরো বড় ধরণের যুদ্ধের মোকাবেলা করতে হতে পারে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান যেকোনো আগ্রাসন মোকাবেলায় যেমন প্রস্তুত রয়েছে তেমনি যুদ্ধ যাতে না বাধে সেজন্য চেষ্টা করাকেও জরুরি বলে তেহরান মনে করে। সামরিক দিক থেকে ইরান যেমন অপ্রতিরোধ্য তেমনি আঞ্চলিক নীতি নির্ধারণী শক্তিতে পরিণত হয়েছে দেশটি। ইরান সবসময়ই এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিজ স্বার্থ রক্ষা এবং মজলুম জাতিগুলোর প্রতি সমর্থন দিয়ে এসেছে। কিন্তু ইরানের এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আমেরিকা মেনে নিতে পারছে না। তারা ইরানভীতি সৃষ্টি, চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানকে দুর্বল করে রাখার চেষ্টা করছে। আমেরিকা চায় মধ্যপ্রাচ্যে এখন যা ঘটছে ইরান যেন তাতে নাক না গলায়। অথচ আমেরিকার সমর্থন নিয়ে দখলদার ইসরাইল ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে। সেইসঙ্গে দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে লেলিয়ে দিয়ে এ অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে তেলআবিব।
ইরানভীতি ছড়িয়ে দিয়ে আমেরিকা আরব দেশগুলোর কাছে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্দানের কাছে অস্ত্র বিক্রির কথা উল্লেখ করে দাবি করেছেন, ইরানের হুমকি ঠেকানোই এসব অস্ত্র বিক্রির উদ্দেশ্য। ইরানের খাতামুল আম্বিয়া ঘাঁটির কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম আলী রাশিদ যেমনটি বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রসহ সামরিক ক্ষেত্রে ইরান শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে যাওয়ায় এবং স্বাধীন নীতি গ্রহণ করায় আমেরিকা দেশটির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী ‘যক্ষা রোগী’ ভাইরাল!

মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রদেশ পেরাকের রাজধানী ইপোতে সামাজিক যোগাযোগ মিডিয়ায় এক বাংলাদেশী টিবি আক্রান্তের কথিত পলায়ন নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। তা এতটাই ভাইরাল হয়েছে যে,  স্টেট হেলথ কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স সিভিল সোসাইটি ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশন এন্ড হিউম্যান রিসোর্স কমিটিকে রীতিমত সাংবাদিক সম্মেলন ডাকতে হয়েছে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে। 
রাজধানী ইপোতে গত ২৩ মে ওই কমিটির চেয়ারম্যান মি. শ্রীনিবাসন বলেন, এটি ফেইক নিউজ। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। তাতে বলা হয়, একজন বাংলাদেশী শ্রমিক অত্যন্ত ছোঁয়াচে ক্রনিক টিউবারকিউলোসিস (যক্ষা) রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। খবর রটে যে, চিকিৎসাধীন থাকা বাংলাদেশী মো. জয়াল (জয়নাল) হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন। আমরা তদন্ত করে দেখেছি যে, এ খবরটি ভুয়া।
এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলর শ্রীনিবাসন আরো ঘোষণা করেন,  হাসপাতালগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, ওই নামে কোন বাংলাদেশী রোগী ভর্তি ছিল না। স্টেট সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেন, কিন্তু স্থানীয়দের মধ্যে এই খবর আতঙ্ক ছড়ায় যে, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বলেছে, বাংলাদেশী শ্রমিক মোঃ জয়াল সহজে অত্যন্ত সংক্রমণ ঘটে এমন এক ধরনের বিরল যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত। হাসপাতালের একজন রোগী তার ওই পলায়ণ প্রত্যক্ষ করেন। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে টিবিতে আক্রান্ত এক ব্যক্তি তার এক বন্ধুর কাছে থাকতে গিয়েছিলেন।
ওই বার্তায় বলা হয়, হাসপাতালের স্টাফরা বলেছেন, কথিত ওই বাংলাদেশীর টিবি খুবই খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর সেটা ১৮+, যা ডাক্তারি পরিভাষায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সংক্রামক। তার কাছে যেই যাবে, সেই লোকই আক্রান্ত হতে পারে ।
শ্রীনিবাসন সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য দেন, ২৩ মে পর্যন্ত পেরাকের আশেপাশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৬৩৫ জন যক্ষা রোগী নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে ২২ জন বিদেশি। আক্রান্ত বিদেশিদের মধ্যে শুধু একজন বাংলাদেশী। বাকিদের মধ্যে ১৩ জন ইন্দোনেশীয়। তিনজন ভিয়েতনামি, নেপাল ও মিয়ানমারের দু’জন করে। এছাড়া রয়েছেন একজন ভারতীয়।
শ্রীনিবাসন বলেন, পেরাকের যক্ষা রোগীদের প্রায় ৮০ ভাগই লাংটিবি। এই আক্রান্তদের হাঁচি-কাশি যদি কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে আসে, তাহলে তিনি আক্রান্ত হতে পারেন। তিনি বলেছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। তার পূর্ণ চিকিৎসার দরকার হবে। আর যদি তা করতে কেউ ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
২৩ মে মালয়েশিয়ার দি সান ডেইলি-র এক খবরে বলা হয়েছিল, মো. জয়ালের স্থানীয় চাকরিদাতা দাবি করেন যে, তাদের বাংলাদেশী টিবি আক্রান্ত কর্মী জেলাপাংয়ের হেলথ ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তাকে ইপো জেনারেল হসপিটালে স্থানান্তর করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে  কথিত মতে তিনি পালিয়ে যান। এ সংক্রান্ত খবরের সঙ্গে কথিত জয়ালের বাংলাদেশী পাসপোর্টের ছবিও দেয়া হয়েছিল।
স্থানীয় মিডিয়ায় এ নিয়ে একটা হৈচৈ পড়ে গেলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেয়।  পেরাকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবস্থান কম নয়। সেখানে বাংলাদেশ সরকার নিয়োজিত অনারারি কনসাল জেনারেল শেখ ইসমাইল আলাউদ্দিন দি সান ডেইলিকে বলেছেন, আক্রান্ত বাংলাদেশীর পলায়নের খবর তার জানা নেই।
ওই খবরে বলা হয় যক্ষা বায়ুুবাহিত একটি রোগ। সাধারণভাবে মালয়েশিয়ায় যক্ষার প্রকোপ অনেক আগে থেকেই বেশি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন উপসর্গ নিয়ে এটির প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বলেছেন, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবাসী শ্রমিকদের আগমনের ফলে এর প্রকোপ আরো বেড়ে গিয়েছে। যারা অবৈধভাবে আসছেন তাদের মাধ্যমে এই রোগ ছড়াচ্ছে বেশি।

বৃষ্টিতেও দৃঢ় মনোবল টাইগারদের by ইশতিয়াক পারভেজ

কার্ডিফে গেল দু’দিন আকাশ ছিল ঝকঝকে। মেঘের কোনো আনাগোনা ছিল না। নরম রোদের আলোতে তাই অপেক্ষা ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের দারুণ এক প্রস্ততি ম্যাচের। এই ম্যাচ দিয়ে টাইগারদের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের স্বপ্নে বীজ বপন হতো সৌভাগ্যের সোফিয়া গার্ডেন মাঠে। কিন্তু এখানে আবহাওয়া নিয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা করা যায় না। সকাল থেকে মুখ গোমরা করা কার্ডিফের আকাশ ভেঙে শুরু হলো বৃষ্টি ।
মাঠে আসতে আসতে শঙ্কা ছিল মনে শেষ পর্যন্ত হয়তো খেলা হবে না। যদিও ম্যাচ রেফারিদের সিদ্ধান্ত ছিল স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ২ মিনিটে খেলা শুরু করার। তার মানে বাংলাদেশের দর্শকরা সেটি দেখতে পেতেন রাত ৮ টায়। না, শেষ পর্যন্ত আর হল না। মাঝে খানিকটা রোদ এসে উঁকি দিলেও শেষ পর্যন্ত প্রস্তুতি ম্যাচটি পরিত্যাক্তই ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। মাঠে আসা দর্শকরা হতাশ হয়ে ফিরে গেলেন অন্যদিনের আশায়। কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করে গেলেন কার্ডিফের যে আবহাওয়া তাতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিও বৃষ্টির শঙ্কাতে থাকবে। তবে বৃষ্টিতে প্রস্তুতি ম্যাচ ভেসে গেলেও মনোবল দারুণভাবে শক্ত রেখেছেন টাইগাররা। সংবাদ সম্মেলনে এসে সাব্বির রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন জানালেন সেই কথাই । মোসাদ্দেক বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি হল না, তাতে একটু খারাপ লাগছে। তবে আমি মনে করি না একটি ম্যাচ খেলতে না পেরে আমাদের প্রস্তুতিতে বড় কোনো ক্ষতি হয়ে গেল। বৃষ্টির উপর কারো হাত নাই। খেলাটা হলে ভালো হতো। সামনে আরো একটি ম্যাচ আছে সেখানে মনোযোগ দিতে হবে। যেন সেই ম্যাচটি ভালভাবে খেলে প্রস্তুতি নিয়ে যেতে পারি।’
অন্যদিকে নিয়ম অনুসারে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং ১১ জন করতে পারলেও খেলতে পারবেন স্কোয়াডে থাকা সবাই। কিন্তু গতকালের এই ম্যাচের জন্য সাকিব আল হাসানকে রাখা হয় দলের বাইরে। তাই তাকে ছাড়াই  ১৪ জনের দল ঠিক করে রাখে বাংলাদেশ। এমনকি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকেও বিশ্রাম দেয়ার চিন্তা ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। কারণ দলের তরুণদের একটু ঝালিয়ে দেখা। তাই বড় সুযোগ ছিল মোসাদ্দেক ও সাব্বিরদের সামনে। তবে সেটি হতে দেয়নি বেরসিক বৃষ্টি। এ নিয়ে মোসাদ্দেক বলেন, ‘আসলে আমি চেয়েছিলাম প্রস্তুতি ম্যাচে নিজের সেরাটা দিয়ে বিশ্বকাপের মূল ম্যাচের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে। তবে পরের ম্যাচে যদি সুযোগ পাই নিজের সেরাটাই দিতে চেষ্টা করবো ও নিজেকে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করে রাখবো।’
আয়ারল্যান্ডে মোসাদ্দেক হোসেন, সৌম্য সরকার , লিটন দাসসহ দলের প্রায় সব তরুণরাই সুযোগ পেয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন। শুধুমাত্র সাব্বির রহমান বাদে।
দলের এই মারকুটে ব্যাটসম্যানের কাছে দারুণ আশা অধিনায়ক মাশরাফিসহ টিম ম্যানেজমেন্টের। তাই সাব্বিরের জন্য এই প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুতি ম্যাচ না হওয়াতে তার জন্য অপেক্ষাটা আরো একটু দীর্ঘই হলো। এ বিষয়ে সাব্বির বলেন, ‘হ্যা, প্রস্তুতি ম্যাচটি আমাদের জন্য খুব প্রয়োজন ছিল। আপনারা জানেন যে শেষ কয়েকটি ম্যাচ আমি ব্যাটিংটা সেইভাবে করতে পারিনি। যদিও টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা দারুণ খেলায় আয়ারল্যান্ডে আমার ব্যাট করার সুযোগ কম ছিল। আর যেটা পেয়েছিলাম সেটি কাজে লাগাতে পারিনি। তাই এই প্রস্তুতি ম্যাচটি সত্যি আমার জন্য বেশ প্রয়োজন ছিল খেলা। এখন পরের ম্যাচটা  খেলতে পারবো।  তবে প্রস্ততিতে খুব একটা ক্ষতি হয়নি। কারণ দল একটি ভালো অবস্থানে আছে। আমার ফিটনেসও ঠিক আছে। আশা করি ভালো কিছুই হবে। দেখি কি হয়!’
সাব্বির নিজে আত্মবিশ্বাসী হলেও বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই নিজের সেরাটা দিতে হবে। কিন্তু তার জায়গা হাতছাড়া হতে পারে মোসাদ্দেক দারুণ ফর্মে থাকায়। তাই তার জন্য দলে থাকা কঠিন হয়ে গেছে বলা যায়। তবে সাব্বির জানিয়ে দিলেন কঠিনেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। সাব্বির বলেন, ‘আসলে আমি কঠিন পরিস্থিতিতে খেলতে পছন্দ করি। এতে আমার জন্য ভালো হয়। আমার বড় বিষয় হল প্রতিটি ম্যাচকেই আমি নিজের শেষ ম্যাচ  মনে করি। তাই চেষ্টা করবো যে ম্যাচে সুযোগ পাবো সেখানে নিজের সেরাটা দিয়ে পরের ম্যাচের জন্য নিজেকে তৈরি রাখার।’
কাল কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল।

সুপার ধনীদের হাতে ৯০ শতাংশ সম্পদ -আবুল বারকাত

গত চার দশকে দেশের সমাজ-অর্থনীতিতে বহুমুখী দারিদ্র্য যেমন বেড়েছে তেমনি বিপুল বিত্ত-সম্পদ গুটি কয়েক মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত হয়েছে। সেই ধনী গ্রুপে বর্তমানে সাড়ে ৪৩ লাখ মানুষ আছেন। তাঁদের মধ্যে স্বল্পসংখ্যক আবার সুপার ধনী, যাঁদের ১০ শতাংশ সমগ্র ধনিক শ্রেণির মোট সম্পত্তির ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। যদিও তাঁরা ধনী হয়েছেন লুণ্ঠন, দখল, বেদখল, জোর জবরদস্তি-মারপ্যাঁচের মাধ্যমে।
আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরার সময় সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত এই কথা বলেন। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গত শনিবার পঞ্চমবারের মতো বিকল্প বাজেট ঘোষণা করা হয়। সেখানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামালউদ্দিন আহমেদ।
সমিতির পক্ষে আবুল বারকাত ১২ লাখ ৪০ হাজার ৯০ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেছেন। আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিতে পারেন। সেই হিসাবে অর্থমন্ত্রীর চেয়ে দ্বিগুণ বড় বাজেট দিয়েছে অর্থনীতি সমিতি। সমিতির প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১০ লাখ ২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। যার মধ্যে ৬৯ শতাংশ প্রত্যক্ষ কর ও ৩১ শতাংশ হবে পরোক্ষ কর। অর্থাৎ মোট বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৮১ শতাংশের জোগান দেবে সরকারের রাজস্ব বিভাগ।
অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেটে খাতওয়ারি সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে। তারপর আছে জনপ্রশাসন, পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাত। সমিতি বলছে, বরাবরের মতো বাজেটের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ ও দুর্বল দিক হলো সময়মতো এবং মানসম্মত বাস্তবায়ন। সে জন্য বাজেট বাস্তবায়ন নীতিমালা প্রতি মন্ত্রণালয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সুচারুভাবে প্রতিপালন করতে হবে। অন্যথায় উপযুক্ত শাস্তির বিধান থাকতে হবে।
কৃষি ফসলের উৎপাদন অঞ্চল গঠন ও কৃষককে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য দেওয়ার প্রস্তাব করে আবুল বারকাত বলেন, চলতি বছর বোরো ধানে কৃষকের প্রকৃত লোকসান হবে মণপ্রতি ৫০০ টাকা। বিষয়টি নিয়ে সরকারের চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের ক্রয়মূল্য ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১ হাজার ২০০ টাকা করার প্রস্তাব করেন তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অর্থনীতি সমিতির সভাপতি বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান বৈষম্য সমাজ জীবনকে প্রগতি বিমুখ করছে। শুধু তা–ই নয়, ১৯৭৫ সালের পর গত ৪৩ বছরে অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে যে এখন বাংলাদেশে প্রতি ৩ জন ছাত্রের ১ জন মাদ্রাসাগামী—এটি শিক্ষা ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যর্থতার প্রত্যক্ষ ফল। এ ধরনের অবৈজ্ঞানিক ও বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা একদিকে যেমন দারিদ্র্য-বঞ্চনা-বৈষম্য পুনরুৎপাদন করছে অন্যদিক তা ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতা পরিপুষ্ট করছে। প্রবণাতাটি মারাত্মক। আমরা আশা করছি, আগামী বাজেটে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট উত্থাপিত বাস্তব বিষয়াদি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণসহ সমাধান-উদ্দিষ্ট পথ নির্দেশনা থাকবে।’

হালদা থেকে এবার ৯ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ by ইব্রাহিম খলিল ও আবু শাহেদ

এশিয়া মহাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী থেকে এবার ৯ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ হয়েছে। যার মূল্য প্রায় কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজহারুল আলম। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় বজ্রবৃষ্টির পর শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হালদা নদীতে ডিম ছাড়তে শুরু করে কার্প জাতীয় মা মাছ। এরপর থেকে ডিম সংগ্রহ শুরু হয়। রবিবার সকাল পর্যন্ত ডিম সংগ্রহকারীরা ৯ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করে বলে জানান তিনি। বলেন, প্রায় ৩৫০ নৌকা নিয়ে ডিম সংগ্রহকারী হালদা নদী থেকে এবার ডিম সংগ্রহ করেছেন। তারা প্রত্যেকে ২২-২৩ বালতি করে ডিম সংগ্রহ করেছেন। কেউ কেউ এর চেয়ে বেশিও করেছেন। রাত ২টার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার কেজির মতো ডিম সংগ্রহ হয়। রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ চলে। এই সময়ের মধ্যে আরো এক হাজার কেজির মতো ডিম সংগ্রহ হয়। মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজহারুল আলম, বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বজ্রসহ প্রবল বর্ষণের ফলে হালদা নদীর সাথে সংযুক্ত বিভিন্ন খাল ও ছড়ায় পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়। হালদা নদীতে ঢলের স্রোত বেড়ে যায়। এছাড়া অষ্টমী তিথির জো চলছে। এসময় ডিম ছাড়ে মা মাছ। ডিম আহরণকারীরা জানান, বাংলা বছরের চৈত্র ও বৈশাখ মাসে কাল বৈশাখী ও বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টিপাত হলে হালদার সাথে সংযুক্ত খাল ও ছড়ার ঢলের পানি হালদা নদীতে গিয়ে পড়ে। একইসাথে পাহাড়ি এলাকার বর্ষণের পানি হালদা নদীতে পড়ে প্রবল ঢলের সৃষ্টি হয়। এতে কর্ণফুলী ,সাঙ্গু, মাতামুহুরী, চেংখালী, সোনাইখাল, কুমারখালী, বোয়ালিয়া, সত্তাখালসহ প্রভৃতি এলাকা থেকে মা মাছ হালদায় আসে ডিম ছাড়তে।
তিনি আরো জানান, গত বছর ১৯শে এপ্রিল হালদায় মা মাছ ডিম দিয়েছিল। আদিকাল থেকে এই নদী থেকে কাতল, রুই, মৃগেল ও কালিবাউশ ডিম দেয়ার নজির থাকলেও গত কয়েক বছর থেকে রুই ও কালিবাউশ মাছের ডিম পাওয়া যাচ্ছে সামান্যই। বিগত এক দশকের মধ্যে ডিম পাওয়ার সর্ব্বোচ রেকর্ড গত বছরের হলেও ওই সময়ও ডিম থেকে উৎপাদিত রুই ও কালিবাউশ এর পোনা পাওয়া যায় কমই। আর এ বছর দেরীতে বজ্রবৃষ্টি হওয়ায় মা মাছেরাও ডিম ছাড়ে দেরীতে। ডিম আহরণকারী মৃদুল বড়ুয়া জানান, বজ্রবৃষ্টির পর তার লোকজন নিয়ে ডিম আহরণের জন্য নদীর আজিমারঘাট এলাকায় অবস্থান করেন। রাতে ভাটার সময় মা মাছ ডিম ছাড়ে। সেখান থেকে ২৪ বালতি ডিম সংগ্রহ করা হয়। যার ওজন ৩৬০ কেজি। এছাড়া হালদা নদীর অংকুরীঘোনা, পশ্চিম গহিরা, বিনাজুরী, কাগতিয়া, কাসেম নগর, আজিমের ঘাট, গোলজারপাড়া, মগদাই, নাপিতের ঘাট, পশ্চিম আবুরখীল, উরকিরচর, খলিফারঘোনা, সার্কদা, মোকামীপাড়া, কচুখাইন ও হাটহাজারীর গড়দুয়ারা, নয়াহাট, মাদার্সা, দক্ষিণ মাদার্সা, আমতুয়া, রামদাশ হাট, মাছুয়াঘোনা এলাকায় হালদা নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করে।
পশ্চিম গহিরা অংকুরীঘোনা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী বিধান বড়ুয়া জানান, তার তিনটি নৌকা নিয়ে নাপিতের ঘাট এলাকায় নদী থেকে ২৬ বালতি ডিম সংগ্রহ করেছেন। ডিম সংগ্রহকারী রূপম বড়ুয়া বলেন, ৪টি নৌকা নিয়ে নদী থেকে ২০ বালতি ডিম সংগ্রহ করেছি। নেপাল বড়ুয়া ৪ বালতি ডিম সংগ্রহের কথা জানান।
ডিম সংগ্রহের পর আহরণকারীরা রবিবার সকাল থেকে ব্যস্ত সময় পার করছেন হ্যাচারিগুলোতে। তবে এবার  ডিম সংগ্রহের পরও আরো কয়েকটি কুয়ো খালি পড়ে আছে। বেজায় খুশি ডিম আহরণকারীরা, বিশেষ করে কুয়ো নিয়ে গত বছর রেকর্ড পরিমাণ ডিম সংগ্রহ হলেও কুয়োর সংস্কারের অভাবে অধিকাংশ ডিম নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। যার জন্য দুষছিলেন হ্যাচারি কমিটির লোকদের। 
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হালদা থেকে সংগৃহীত ডিম থেকে রেনু ফোটানোর জন্য তিনটি হ্যাচারি, দশটি প্লাষ্টিকের কুয়া এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক মাটির কুয়া তৈরি করে রাখা হয়। হ্যাচারিগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগসহ রেণু ফোটানোর যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর হালদা নদীতে ৪০৫টি নৌকায় ২২ হাজার ৬৮০ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছিল। যা থেকে ৩৭৮ কেজি পোনা উৎপাদন করা হয়। ডিম সংগ্রহের এই রেকর্ডটি ছিল গত এক দশকের মধ্যে সর্ব্বোচ। এছাড়া মৎস্য বিভাগের তথ্যানুসারে ২০১৭ সালে ডিম সংগ্রহ হয়েছে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭২০ কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি, ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি, ২০১৩ সালে ৪ হাজার ২০০ কেজি, ২০১২ সালে ২১ হাজার ২৪০ কেজি, ২০১১ সালে ১২ হাজার ৬০০ কেজি এবং ২০১০ সালে ৯ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয় হালদা থেকে।
এভাবে ডিম সংগ্রহের পরিমাণ ক্রমেই হ্রাস পাওয়ায় এবার হালদা নদীর মা- মাছ রক্ষায় বিশেষ অভিযান চালায় হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন।  
তিনি বলেন, হালদা নদীর মা-মাছ রক্ষায় এবার ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অবৈধ জাল ও ইঞ্জিন চালিত নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে এবার গত বছরের সমপরিমাণ ডিম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আগামী বছর ডিম সংগ্রহের পরিমাণ বাড়বে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

চিকিৎসকদের আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান ডা. এ আর খানের

তত্ত্বাবধারক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ আর খান চিকিৎসকদের আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেন, তাদের একটু মিষ্টি কথায় মৃত্যুশষ্যাশায়ী একটি রোগীও সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দোহার নবাবগঞ্জ পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এ কথা বলেন। তিনি প্রিয় এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জ বহু বছরের পুরাতন সেতুবন্ধনে আবদ্ধ। আমারা একে অপরের আত্মার আত্মীয়। বিনাসুতায় গাঁথা একটি মালা। দোহার-নবাবগঞ্জ পেশাজীবী পরিষদের মাধ্যমে পুনরায় এর বহিঃপ্রকাশ ঘটায় আমি অন্তর থেকে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি। দোহারের কৃতী সন্তান বলেন, আপনারা এ সংগঠনকে লালন পালন করেন, আমি আপনাদের পাশে আছি। এত বয়স হয়েছে তারপরও মনের টানে আপনাদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আমি এই সংগঠনের সাফল্য কামনা করছি।
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইফতার উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক মো. রাশিম মোল্লার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী বলেন, আত্মার টানে সকলের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য চলে এসেছি। এমন একটি প্ল্যাটফরম আরো আগেই দরকার ছিল। তবে অনেক পরে হলেও যে হয়েছে সেজন্য আয়োজকদের প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। এই সংগঠনের কারণেই আজ আমরা সকলে এক কাতারে আসতে পেরেছি। সংগঠনের সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমার সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। এসোসিয়েশন ফর সোস্যাল সার্ভিসেস-এর চেয়ারপার্সন ও সংগঠনের উপদেষ্টা কেএম বাবর আশরাফুল হক বলেন,  দোহার নবাবগঞ্জ পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের এক কাতারে নিয়ে আসায় আমাদের যেকোনো সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারব। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বিবিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাসার তিনি  দোহার-নবাবগঞ্জবাসীকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান। নিজ নিজ কমিউনিটির সহায়তার মাধ্যমে বৃহৎ কিছু গড়ে উঠতে পারে। এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবুল মিয়া  বলেন,  এই সংগঠনের মাধ্যমে সকল  পেশার মানুষগুলো এক হলে মানবিক  সেবা প্রদান করা সম্ভব। তবে এই প্ল্যাটফরমকে রাজনীতি মুক্ত রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে ৭১ টিভির হেড অব নিউজ শাকিল আহামেদ বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার পর দোহার-নবাবগঞ্জ হবে একটি সম্ভাবনাময় স্থান। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক  প্রকৌশলী মো. সেলিম মিয়া বলেন, পেশাজীবীদের এত বড় জমায়েত এর আগে আমি দেখিনি। এ ছাড়া, আরো বক্তব্য রাখেন প্রধান মৎস্য কর্মকর্তা কৃষন্দু সাহা। সান করপোরেশনের সিও লুৎফর রহমান নাদিম ।
সংগঠনের সভাপতি মো. আনিসুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো. মোস্তাক আহমেদের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের কাযক্রম শুরু হয়। বিকাল ৫টার মধ্যেই রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাগিচা রেস্টুরেন্টের ক্রিস্ট্রাল হল ?রুমটি কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়।  অনুষ্ঠানে দোহার নবাবগঞ্জের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, ব্যাংকার ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়ায় ডাকসু ভিপি নুরের ওপর হামলা

বগুড়ায় শহরে একটি ইফতার ও দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে এসে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর ও তার সঙ্গীরা।  এ হামলায় আরও  ১৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ নুরকে উদ্ধার করে প্রথমে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার ছবি তোলায় যমুনা টিভির ক্যামেরাপারসন শাহনেওয়াজ শাওনকেও মারপিট করা হয়েছে।
২৬ মে রবিবার বিকালে শহরের পৌর পার্কের উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তন চত্বরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
বিকাল ৬টার দিকে নুরের সঙ্গে থাকা তার বন্ধু রুবেল বলেন, ‘স্থানীয় ছাত্রলীগের ক্যাডাররা এ ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে নুর অচেতন অবস্থায় আছেন। আমরা নুরকে ঢাকার দিকে নিয়ে যাচ্ছি।’
এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে ফোন না ধরায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস এবং দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ডাকসুর নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন এ হামলা চালিয়েছে।
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বগুড়া জেলা আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান রাকিব বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ওই ইফতার ও দোয়া মাহফিলে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী মিলনায়নের কাছে অবস্থান নেন। এর আগে পুলিশ দিয়ে অনুষ্ঠান না করতে হুমকি এবং ব্যানার সরিয়ে ফেলতে বলা হয়। বিকাল ৫টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে ১৩ সঙ্গী নিয়ে নুর অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ভিপি নুর ও অন্যদের বেধড়ক মারপিট করেন। কিল, ঘুষি, লাথি ও ইটপাটকেলের আঘাতে নুরসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।’
রাকিবুল আরও বলেন, ‘হামলার ভিডিওচিত্র ধারণ করায় যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন শাহনেওয়াজ শাওনকেও মারপিট করা হয়েছে। এ সময় স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজ হাসান রক্তাক্ত নুরকে উদ্ধার করে রিকশায় বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর নুর ও তার সফরসঙ্গীরা মাইক্রোবাসে ঢাকার দিকে রওনা হন।’
রাকিব ছাত্রলীগের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজ হাসান জানান, ভিপি নুর ও তার সফর সঙ্গীদের ওপর ৩০-৪০ জনের একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাউকে চিনতে পারেননি।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রোকাইয়া আকতার জানান, তার কাছে নুর, রাতুল, আপন ও ফারুক নামে চারজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ভিপি নুরের মুখ ও কপালে আঘাত করা হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, ভিপি নুর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। তার চোখের ওপর সামান্য আঘাত লেগেছে এবং দাঁত থেকে রক্ত বের হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান জানান, ডাকসু ভিপি নুরকে কে বা কারা মারপিট করেছে জানা যায়নি। তিনি সামান্য আহত হয়েছেন। তবে ডাকসু ভিপি বগুড়া আসছেন সে বিষয়ে থানা পুলিশ কিছু জানে না।

ভিপি নুরের ওপর হামলা, ‘হালকা ধাক্কাধাক্কি’ বলছে ছাত্রলীগ

ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে বগুড়ায় গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক। নুরের ওপর বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভিপি নুরসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
গতকাল শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ইফতার অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নূর।
রোববার বিকেলে বগুড়ার উডবার্ণ পাবলিক গ্রন্থাগারের মধ্যে নূরকে আহত করার এই ঘটনা ঘটেছে। আহত লোকজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ভিপি নুরুল হক, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাসুল ও বেসরকারি যমুনা টেলিভিশনের ভিডিওগ্রাফার শাহনেওয়াজ শাওন। ভিপি নুরকে প্রথমে বগুড়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা।
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেওয়ার জন্য ভিপি নুরুলসহ ১৮ জন ঢাকা থেকে গত শনিবার বিকেলে বগুড়ায় আসেন। উডবার্ণ সরকারি গ্রন্থাগার মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। তবে আয়োজকেরা জানান, বেলা দুইটার দিকে শহরের স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোস্তাফিজ হাসান নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা বলে তাঁদের এখানে কোনো অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করেন। পরিদর্শক মোস্তাফিজ হাসান নিষেধ করার পর পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সদস্য এসে তাঁদের অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করেন। এরপর তাঁরা অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ভিপি নুর ১৮ জনের একটি দল নিয়ে উডবার্ণ সরকারি গ্রন্থাগার চত্বরে আসেন। তবে পুলিশের লিখিত অনুমতি না থাকায় সেখানে অনুষ্ঠানের বাধা দেন সহকারী লাইব্রেরিয়ান রাজু আহম্মেদ। তাঁর সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলছিলেন নুর। এর কিছুক্ষণের মধ্যে বগুড়া ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি দল গ্রন্থাগার চত্বরে প্রবেশ করে। এরপর কোনো কথা বলার আগেই বগুড়া আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ ভিপি নুরকে ঘুষি মারেন। এরপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নুরের ওপর অতর্কিত হামলা করেন। মারপিট চলার সময় ভিডিও ধারণ বন্ধের হুমকি দিয়ে যমুনা টেলিভিশনের ফটোগ্রাফারকেও মারধর করেন ছাত্রলীগের সদস্যরা। সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা চলেও যাওয়ার পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভিপি নুরকে গ্রন্থাগারের প্রধান ফটকে ফেলে পেটান। এতে নুর ‘অজ্ঞান’ হয়ে গেলে তাঁকে রিকশায় তুলে দেন ছাত্রলীগের নেতা আবদুর রউফ। এরপর দলীয় স্লোগান দিতে দিতে ঘটনাস্থল থেকে খানিকটা দূরে টিটো মিলনায়তনে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইফতার মাহফিলে যোগ দেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইফতার উপলক্ষে বিকেলে থেকে টিটো মিলনায়তনে পুলিশের একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। হামলার পর পুলিশের সদস্যরা সেখানে গিয়ে উপস্থিত ছাত্রলীগের সদস্যদের সরিয়ে নেন।
পুলিশের এ দলে উপস্থিত ছিলেন স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোস্তাফিজ হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখানে অনুষ্ঠানের বিষয়টি আগেই নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও ভিপি নুর ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদস্যরা সেখানে ছিলেন। তবে ঘটনার খবর শুনে পুলিশ গ্রন্থাগার চত্বরে এসেছে। এখন আর কোনো ঝামেলা নেই।
গ্রন্থাগার চত্বরে অনুষ্ঠানের অনুমতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বগুড়া শাখার আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, হঠাৎ গতকাল শনিবার ইফতার মাহফিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ সদর থানাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এরপর পুলিশ আরও অনুমতি দেয়নি। এই কারণে অন্য এলাকায় ইফতারের আয়োজনের কথা চলছিল। এর মধ্যেই ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা এসে ভিপি নুরকে মারধর করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, গ্রন্থাগারের কাছেই আজকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইফতার মাহফিলের অনুষ্ঠান হচ্ছিল। কিন্তু এর মধ্য গ্রন্থাগার চত্বর থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এই কারণে ছাত্রলীগের সদস্যরা সেখানে গিয়ে দেখেন,গ্রন্থাগার চত্বরে ভিপি নুর এসেছেন। এই সময়ে ভিপি নুরের সঙ্গে হালকা ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। আর সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়টি দুঃখজনক।
বগুড়ায় ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন ডাকসুর ভিপি নুরুল ইসলাম। এতে তিনি আহত হন। অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। বগুড়া, ২৬ মে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের শেষ লাল রাজ্য কেরালায় নীলের উত্থান, গেরুয়া ঝড়ে লাগাম

ভারতের শেষ লাল রাজ্য বলে পরিচিতি কেরালায় এবারের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও তাদের জোট মিত্রদের ভোট দিয়েছে। ভারতজুড়ে হিন্দি বলয় ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ,  ওড়িশা ও বিহারে গেরুয়া ঝড় বয়ে গেলেও কেরালায় এসে স্থিমিত হয়ে পড়েছে। যদিও এবার কেরালার পাশাপাশি তামিল নাড়ু ও অন্ধ্র প্রদেশেও কোনও আসনে জয় পায়নি বিজেপি। তবে কেরালাতে এখন পর্যন্ত কোনও আসন জিততে পারেনি বিজেপি।
ভারতজুড়ে নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি বড় ধরনের জয় পেয়েছে। কেরালায় বিজেপি কোনও আসনে জয়ী হয়নি। এই রাজ্যে তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য তিরুভানান্থাপুরাম আসনে দ্বিতীয় স্থান অর্জনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দলটিকে। অথচ এনডিএ জোট ছাড়াই এককভাবে কেন্দ্রে সরকার গঠনের মতো যথেষ্ট আসন পেয়েছে।
২০ আসনের কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটি ফ্রন্ট (ইউডিএফ) ১৯ টি আসনে জয় পেয়েছে। ওয়ানাড় আসনে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধী সাড়ে ছয় লাখের বেশি ভোট পেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বি সিপিআই(এম) প্রার্থীর তুলনায় পেয়েছেন পাঁচ লাখের বেশি ভোট।
কেরালার এই ফল জাতীয় পর্যায়ের বিশ্লেষকদের অবাক করে দিতে পারে। কিন্তু এই রাজ্যটির নিজস্ব প্রয়োজনয়ীতা ও উদ্বেগ রয়েছে। ভোটের ফলে দেখা যাচ্ছে, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় তা সম্পূর্ণ আলাদা।
সিপিআই(এম) রাজ্য সভাপতি কদিয়েরি বালাকৃষ্ণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, কেরালাবাসীর অবস্থান ছিল মোদি ও তার বিভাজনের শাসন ও নীতির বিরুদ্ধে। রাজ্যে মোদির জনপ্রিয়তা একেবারে কম। সংখ্যাগরিষ্ঠ কেরালাবাসীর মনে ছিল: মোদির সঙ্গে লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত কে? যে দুই বিকল্প তাদের সামনে ছিল সেগুলোর মধ্যে সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন বাম জোটকে বাদ দিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটকে বেছে নিয়েছেন তারা।
এই বাম নেতার মতে, মোদির শাসনের অবসানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তারা জনগণকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন কিন্তু প্রত্যাশিত ফল নিজেদের অনুকূলে আনতে পারেননি। তিনি বলেন, প্রচারণার ফল গেছে ইউডিএফের ঝুলিতে। যারা মোদিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়নি তারা কংগ্রেসকেই ভোট দিয়েছে।
রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটারদের ক্ষেত্রেও এটা সত্য। কেরালায় খ্রিস্টান ও মুসলিমরা সংখ্যায় প্রায় অর্ধেক। বালাকৃষ্ণ স্বীকার করেন, ইউডিএফ উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় সংখ্যালঘুদের ভোট পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে বামপন্থীদের এই পরাজয় ‘সাময়িক’ এবং তাদের দল ‘শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে’।
অন্যদিকে, রাজ্যের কংগ্রেস নেতারা উদযাপনে ব্যস্ত। যদিও জাতীয় পর্যায়ে দলটির ভরাডুবি হয়েছে। কেরালা কংগ্রেসের সভাপতি মুল্লাপাল্লি রামচন্দ্র এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ঐতিহাসিক জয়ে দল ভীষণ খুশি। এই জয় সেক্যুলার শক্তির।
রাজ্যে ভোটের লড়াই চিরাচরিতভাবেই ইউডিএফ ও বাম জোটের মধ্যে। বিজেপি এবারও তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি ঘটাতে পারেনি। একটি আসন ছাড়া বিজেপি কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই আসতে পারেনি। তিরুভানান্থাপুরাম আসনে বিজেপির প্রার্থী কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের কাছে হেরেছেন প্রায় ৮৬ হাজার ভোটে।