Wednesday, October 27, 2010

রাজনৈতিক আলোচনা- 'কাশ্মীর কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়' — অরুন্ধতী রায়

বুকারজয়ী ভারতের প্রখ্যাত লেখক ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অরুন্ধতী রায় বলেছেন,
‘কাশ্মীর কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়। এটা ঐতিহাসিক সত্য, যা ভারত সরকারও মেনে নিয়েছে।’

স্বপ্নকথা- 'আত্মবিশ্বাসী মানুষই সফল হয়' by —বেনজির ভুট্টো

বেনজির ভুট্টো পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বেনজির ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।
 
এরপর ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত অক্সফোর্ডের লেডি মার্গারেট হল থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেন।

আবিষ্কার খবর- আমাজনে নতুন নতুন প্রজাতির সাপ ব্যাঙ মাছ

আমাজন জঙ্গলে নতুন নতুন প্রজাতির সাপ, মাছ, বিষাক্ত ব্যাঙ ও লম্বা তীক্ষ্ন দাঁতযুক্ত মাকড়সার সন্ধান মিলেছে।
প্রতি তিন দিনে সেখানে অন্তত একটি করে নতুন প্রজাতির প্রাণী বা উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে।

খবর- পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি ভরা শুরু করেছে ইরান

ইরান বুশেহর শহরে অবস্থিত পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি ভরানোর কাজ শুরু করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ কথা জানায়।

শেয়ারের জোগান, বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। বাজারে শেয়ারের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই এ ধরনের তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।
এসইসি বাজার পর্যালোচনা কমিটির সভায় গতকাল সোমবার এ ব্যাপারে আলোচনা হয়। এসইসির সদস্য মনসুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভা শেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, বাজার পর্যালোচনা কমিটির সভায় শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, মার্চেন্ট ব্যাংকার ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় বলা হয়, বাজারে প্রতিদিন যে হারে বিনিয়োগকারী আসছেন, সে হারে সরবরাহ না বাড়ায় বাজার ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় সরবরাহ বাড়ানো না গেলে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির মাত্রা বাড়বে। যেকোনো সময় তা বিনিয়োগকারীদের জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তাই শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাতের শেয়ার সরবরাহ বাড়াতে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে তাগিদ দেন এসইসির কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি এসইসি ৩০ কোটি টাকা মূলধনের (বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত) কোম্পানির বাজারে তালিকাভুক্তির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সভায় তাকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্চেন্ট ব্যাংকার্স, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিরা।

বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে ভারত-জাপান সম্মত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছেছেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে। তবে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতাবিষয়ক চুক্তির ক্ষেত্রে আরও সময় লাগবে বলে দুই নেতা জানিয়েছেন।
জাপানের রাজধানী টোকিওতে গতকাল সোমবার দ্বিপক্ষীয় এক বৈঠক শেষে উভয় নেতা এসব কথা জানান। বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান বলেন, ‘এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে জাপান ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্কের ব্যাপারে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।’ উভয় নেতা ঘোষণা দেন, এক দশকের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ৯৪ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে।
এই চুক্তি সই হলে সুজুকির মতো জাপানের গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্ক ছাড়া ভারতীয় বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। একইভাবে ভারতের ওষুধ তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলোও জাপানের বাজারে ঢুকতে পারবে।
বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেছিল ভারত। মনমোহন সিং বলেন, বেসামরিক পরমাণু জ্বালানি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা করা যেতে পারে। জাপান এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এ সংক্রান্ত চুক্তি সইয়ে আরও সময় প্রয়োজন।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে জাপানে অবস্থান করছেন। আজ মঙ্গলবার সে দেশের সাংসদদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। জাপান সফর শেষে তিনি যাবেন মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামে।

আমরা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নই: উইকিলিকস

উইকিলিকস ওয়েবসাইটের মুখপাত্র ক্রিস্টিন হ্রাফনসন বলেছেন, তাঁদের ওয়েবসাইট যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নয়। পাশাপাশি তিনি এ-ও জানিয়েছেন, প্রকাশ করার জন্য তাঁদের হাতে আরও তথ্য রয়েছে। গতকাল সোমবার বিবিসি রেডিও ফোরকে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ নিজের নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ইরাক যুদ্ধসংক্রান্ত চার লাখ গোপন দলিল প্রকাশ করে ওয়েবসাইটটি। ওই সব গোপন দলিলে ইরাক যুদ্ধের ধ্বংস ও নির্যাতনসংক্রান্ত অজানা তথ্য বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। এর আগে ওয়েবসাইটটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর আফগানিস্তান যুদ্ধসংক্রান্ত ৭০ হাজার গোপন দলিল প্রকাশ করে।
তাদের ওয়েবসাইট ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কাজ করছে না উল্লেখ করে ক্রিস্টিন হ্রাফনসন বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আমরা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নই। এমন অসংখ্য মানুষ উইকিলিকসকে সমর্থন করছে, যারা মার্কিন সমাজের মূলনীতি ও আদর্শকে অত্যন্ত পছন্দ করে। এটা কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে, গত কয়েক মাসে যেসব গুরুত্বপূর্ণ গোপন দলিল উইকিলিকসে প্রকাশ করা হয়েছে, তা মার্কিন সামরিক বাহিনী ও যুদ্ধ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।’ তিনি আরও জানান, মার্কিন কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে নিয়েছে, আফগানিস্তানের যুদ্ধসংক্রান্ত গোপন দলিল প্রকাশ করায় তাদের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।
ইরাক যুদ্ধসংক্রান্ত গোপন দলিল প্রকাশ করায় ওয়াশিংটন থেকে আপত্তি জানানোর বিষয় উল্লেখ করে হ্রাফনসন বলেন, ‘আমরা একই ধরনের অভিযোগের কথা এখন শুনছি। এসব দাবি পরীক্ষা করে দেখা হবে।’ উইকিলিকস সামনে আরও গোপন তথ্য প্রকাশ করবে এবং ওয়েবসাইটটিকে শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন দেশে সার্ভার বসানো হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে গত রোববার উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জ ইসরায়েলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেছেন, তিনি নিজের জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন না। তবে তিনি অতিরিক্ত নিরাপত্তার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের এক সাবেক কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন, তাঁর মনে হচ্ছে, এই গোপন দলিল প্রকাশের ঘটনায় মার্কিন প্রশাসন আমার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বোঝাপড়া করবে। তারা আমাকে ধরতে চাইবে।’
গত শুক্রবার পেন্টাগনের প্রেস সচিব জিওফ মোরেল বলেছিলেন, ‘আইন ভঙ্গের অভিযোগে উইকিলিকস ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ বা এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছি আমরা।’
উপসাগরীয় দেশগুলোর তদন্তের দাবি: উইকিলিকসে প্রকাশিত দলিলে ইরাক যুদ্ধে মানবতাবিরোধী যেসব অপরাধ সংঘটনের খবর জানা গেছে, সেগুলোর তদন্ত করতে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর সংস্থা গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)। জিসিসির মহাসচিব আবদুল রহমান আল-আত্তিয়াহ বলেন, ‘এসব গোপন দলিলে যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য জানা গেছে, সেগুলোর তদন্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। ইরাক যুদ্ধে মার্কিন সেনাসদস্যদের ঘটানো যেকোনো অপরাধকর্ম ও নির্যাতনের দায়দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের।’
চীনের পত্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা: চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পত্রিকা চায়না ডেইলিতে বলা হয়েছে, উইকিলিকস ওয়েবসাইটে ইরাক যুদ্ধসংক্রান্ত যেসব দলিল প্রকাশ করা হয়েছে, তা মানবাধিকারের রক্ষক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে নিষ্প্রভ করে ফেলেছে। সম্প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি কমিশনের প্রতিবেদনে চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতির সমালোচনা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে এই মন্তব্য করল চীনের পত্রিকাটি।

ব্লেয়ারের শ্যালিকা ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছেন

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের শ্যালিকা লরেন বুথ ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করেন। সময় পেলে মসজিদেও যান। ঘর থেকে বাইরে বের হলে মাথায় হিজাব পরেন। অদূর ভবিষ্যতে বোরকা পরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। সম্প্রতি ইরান ভ্রমণের পর বুথ ইসলামধর্ম গ্রহণ করেন। ডেইলি মেইল পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।
ব্লেয়ারের স্ত্রী শেরি ব্লেয়ারের সৎবোন লরেন বুথ (৪৩) পেশায় সাংবাদিক। তিনি ইরানের ইংরেজি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভির লন্ডন বুরোতে কাজ করছেন।
লরেন গত শনিবার ডেইলি মেইল পত্রিকাকে বলেন, ‘আপনাদের বলতে চাই, আমি লরেন বুথ একজন মুসলিম। এ জন্য আমি গর্ব বোধ করি।

ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট মেরাপিতে অগ্ন্যুৎপাতের ব্যাপারে সতর্কতা

মাউন্ট মেরাপি আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে নির্গত হচ্ছে ধোঁয়া
ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট মেরাপিতে যেকোনো মুহূর্তে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হতে পারে।
গতকাল সোমবার আগ্নেয়গিরির আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। স্থানীয় ভাষায় মেরাপি নামের অর্থ ‘অগ্নি-পর্বত’।সরকারি কর্মকর্তারা জানান, আগ্নেয়গিরির ভেতরে অগ্ন্যুৎপাত ঘটানোর মতো কম্পন ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। একই সঙ্গে ধোঁয়া ও লাভা উদ্গীরণের পরিমাণও বাড়ছে। রোববার পর্যন্ত অগ্ন্যুৎপাতজনিত পাঁচ শতাধিক ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়।গতকাল স্থানীয় সময় ভোর ছয়টায় আগ্নেয়গিরিবিষয়ক সরকারি কার্যালয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, শিগগিরই মাউন্ট মেরাপি থেকে লাভা উদ্গীরণ শুরু হতে পারে।আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ সুরোনো জানান, আগ্নেয়গিরির গলিত লাভা জ্বালামুখ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার নিচে অবস্থান করছে। ঘন ঘন ভূকম্পনজনিত বহির্মুখী শক্তির কারণে লাভা ক্রমে ওপরের দিকে উঠে আসছে। আগ্নেয়গিরিটির উচ্চতা দুই হাজার ৯১৪ মিটার। এর চতুর্দিকে ১০ কিলোমিটার এলাকাকে বিপজ্জনক বলে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রায় ১৯ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বাসিন্দা অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত নোংরা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আলোচনার উদ্যোগ বর্জন করার ডাক দিয়েছেন কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হুররিয়াত কনফারেন্সের প্রধান সৈয়দ আলী শাহ গিলানি। তিনি বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ভুল ধারণা দিতে আলোচনার নামে নোংরা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে কাশ্মীর-সংকট নিরসনে আলোচক হিসেবে একটি প্রতিনিধিদল নিয়োগ করেছে। কিন্তু আলোচক হিসেবে কাজ করে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভারতের উদ্দেশ্য পূরণে সহায়তা করা ঠিক হবে না। গতকাল সোমবার শ্রীনগরে গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় গিলানি এ কথা বলেন।
গিলানি বলেন, আগামী মাসে বারাক ওবামা ভারত সফরে আসছেন। ওবামার কাছে কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে ভারতের আন্তরিকতা জাহির করতেই ভারত তাদের আলোচক হিসেবে নিয়োগ করেছে। গিলানির অভিযোগ, মূলত কাশ্মীর সমস্যার সমাধান নয়, প্রকৃতপক্ষে ওবামাকে ভুল ধারণা দেওয়ার জন্যই এই আলোচনার নাটক সাজানো হয়েছে।
গত রোববার নয়াদিল্লি থেকে ফেরার পর গিলানিকে গৃহবন্দী করা হয়। এ ছাড়া দিল্লিতে জনসভায় ‘বিভাজনে ইন্ধন সৃষ্টিকারী বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়।
গিলানি তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে সরকার ৯০টি মামলা করেছে। এটা নিয়ে ৯১টি হলো।’ তিনি বলেন, গত ঈদের দিনই তাঁরা সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবিসংবলিত একটি প্রস্তাব দিয়েছেন এবং জম্মু ও কাশ্মীরবাসী সেই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এ কারণে নতুন করে সরকারের সঙ্গে দরকষাকষির কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দিল্লি যদি সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আন্তরিক হয়ে থাকে, তাহলে তার ওই পাঁচ দফা দাবি বিবেচনায় আনা উচিত এবং কাশ্মীর থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতার ব্যাপারে তদন্ত করতে সরকারের আলোচকদের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী কাশ্মীরিদের সঙ্গে কথা বলার কথা রয়েছে। গিলানি কারাগারে আটক ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওই আলোচকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলার আহ্বান জানান।
গিলানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ভারত সফর করার সময় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কারসাজিতে কাশ্মীরের ছত্তিসিংপোড়ায় পরিকল্পিতভাবে ৩৫ জন শিখকে হত্যা করা হয়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সামনে কাশ্মীরের আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে প্রমাণ করতে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভারত সফরের সময় আবার যাতে এমন কোনো ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তিনি কাশ্মীরবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের ভান্ডার যথেষ্ট নিরাপদ: ভি কে সিং

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ভি কে সিং বলেছেন, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের ভান্ডার যথেষ্ট নিরাপদ এবং এর নিরাপত্তা কোনো হুমকির মুখে নেই। গত রোববার দেশটির একটি বেসরকারি সংবাদ চ্যানেল এ খবর জানায়।
ভি কে সিং বলেন, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারের নিরাপত্তা নিয়ে সারা বিশ্বে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, তার যুক্তিসংগত কোনো কারণ নেই। সম্ভবত সারা বিশ্বের এই উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান তার পরমাণু অস্ত্রের নিরাপদ সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
কিছুদিন আগে জেনারেল সিং বলেছিলেন, পাকিস্তান ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

পাকিস্তানে মাজারের বাইরে বোমা হামলা নিহত ৬

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে একটি মাজারের বাইরে বোমা বিস্ফোরণে দুই নারীসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।
কর্মকর্তারা জানান, গতকাল সোমবার প্রাদেশিক রাজধানী লাহোর থেকে ১৯০ কিলোমিটার দূরে পাক পাত্তান শহরে প্রখ্যাত সুফি বাবা ফরিদের মাজারের একটি ফটকের কাছে বিস্ফোরণ ঘটে।

স্লোভেনিয়ায় প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র

পূর্ব ইউরোপের দেশ স্লোভেনিয়ার একটি শহরের মেয়র নির্বাচনে গত রোববার প্রথমবারের মতো একজন আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গ বিজয়ী হয়েছেন। ঘানার বংশোদ্ভূত পিটার বসম্যান নামের ওই ব্যক্তিই হলেন দেশটির প্রথম নির্বাচিত কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র। এ কারণে তাঁকে অনেকে ‘স্লোভেনিয়ার বারাক ওবামা’ বলেও অভিহিত করছেন।
স্লোভেনিয়ার উপকূলীয় পিরান শহর থেকে ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী তোমাজ গান্টারকে পেছনে ফেলে নির্বাচিত হন বসম্যান। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। ১৯৭৭ সালে সাবেক যুগোস্লোভিয়ায় বসম্যান ডাক্তারি পড়তে যান। তখন থেকেই তিনি সে দেশে অবস্থান করছেন। ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বোরুট পাহোরের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট পার্টির মনোনয়ন নিয়ে তিনি নির্বাচন করেন।
ফলাফল ঘোষণার পর বসম্যান বলেন, ‘আমি এ দেশকে ভালোবাসি। স্লোভেনিয়া আমার ঘর।’ তিনি বলেন, স্লোভেনিয়ায় যে উন্নত গণতন্ত্রচর্চা হচ্ছে, তাঁর বিজয়ই সেটা প্রমাণ করে।
১৯৯১ সালে যুগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীন হওয়া দেশ স্লোভেনিয়ার জনসংখ্যা ২০ লাখ। ২০০৪ সালে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত হয়।

ফ্রান্সে ধর্মঘটে এ পর্যন্ত ক্ষতি ৩০০ কোটি ইউরো

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি হুঁশিয়ার করেছেন, তাঁর সরকারের পেনশন সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ধর্মঘটের ফলে এ পর্যন্ত ৩০০ কোটি ইউরো ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পেনশন সংস্কার পরিকল্পনায় সরকারি কর্মচারীদের অবসর নেওয়ার বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করা হয়েছে। এই বিল এরই মধ্যে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে অনুমোদিত হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই বিলটি পার্লামেন্টে চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে আশা করছেন আইনপ্রণেতারা।
কিন্তু দেশের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পেনশন সংস্কারের বিরুদ্ধে আগামী বৃহস্পতিবার আরেক দফা ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। চলমান বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটিকে জ্বালানি তেলের সংকটে ফেলেছে।
গতকাল ইউরোপ ওয়ান রেডিওতে ভাষণ দেওয়ার সময় ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ক্রিশ্চিন লাগার্দে বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বিষয়টিকে এই আন্দোলনের মাধ্যমে দমিয়ে দিলে চলবে না। ফ্রান্সের অর্থনীতির জন্য তা বেদনাদায়ক। এটি বেশি বেদনায়ক ছোটখাটো ও মধ্যমসারির ব্যবসায়ীদের জন্য। তিনি বলেন, এই ধর্মঘটের ফলে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৪০ কোটি ইউরো ক্ষতি হচ্ছে।
লাগার্দে আরও হুঁশিয়ার করেন, দাঙ্গাপুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ও শিল্পকারখানা এলাকায় বিক্ষোভকারীদের অবরোধ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বে খবর প্রচারিত হওয়ায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এতে বাইরের বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন।

ইরানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে সাহায্য হিসেবে: কারজাই

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ইরানের কাছ থেকে তাঁর চিফ অব স্টাফের ‘অর্থ ভরা ব্যাগ’ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এর মধ্যে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য নেই। বন্ধুপ্রতিম একটি দেশের কাছ থেকে সাহায্য হিসেবে এই অর্থ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের কাছ থেকে আফগান প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ নগদ অর্থ নিচ্ছেন—পশ্চিমা গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশের এক দিন পর গতকাল সোমবার কারজাই এ কথা বলেন। কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট অফিসকে সাহায্য ও সরকারের ব্যয় মেটাতে অনেক বন্ধুপ্রতিম দেশের কাছ থেকে নগদ অর্থ-সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস শনিবার বলেছে, আফগান প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ উমর দাউদজাই ইরানের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নিয়ে আসছেন। এর মাধ্যমে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে তেহরান।
কারজাই বলেন, ‘ইরান সরকার বছরে এক-দুবার ইউরো দিয়ে আমাদের সাহায্য করে আসছে। এটা সম্পূর্ণ সরকারি সাহায্য। আমার নির্দেশেই দাউদজাই ইরান সরকারের কাছ থেকে এ সাহায্য গ্রহণ করছেন।’
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ইরানের সরকার গোপনে কোটি কোটি ডলার আফগানিস্তানে ঢালছে। প্রেসিডেন্ট কারজাই ও তাঁর চিফ অব স্টাফ এই অর্থ দেশটির আইনজীবী, উপজাতীয় নেতা ও তালেবান কমান্ডারদের আনুগত্য আদায়ে ব্যয় করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অপর একটি পত্রিকা দ্য টাইমস জানায়, কারজাই গত আগস্টে ইরান সফর শেষে দেশে ফেরার সময় কাবুলে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ফিদা হুসাইন মালিকি প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানে গিয়ে দাউদজাইয়ের হাতে একটি বড় প্লাস্টিকের ব্যাগ তুলে দেন। ওই ব্যাগটি ছিল ইউরোতে ভরা।

পশ্চিমা বিশ্ব তিনটি মারাত্মক ভুল করেছিল

কয়েক বছর আগে পশ্চিমা বিশ্ব তিনটি মারাত্মক ভুল করেছিল, যার পরিণতিতে দেখা দেওয়া সন্ত্রাসের হুমকি পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এখনো বহন করে চলেছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া সোসাইটির টেক্সাস সেন্টারে ভাষণ দেওয়ার সময় এ মন্তব্য করেন পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফ। গতকাল সোমবার দ্য নেশন-এ প্রকাশিত খবরে এ কথা জানা যায়।
পারভেজ মোশাররফ বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের ওই তিনটি ভুল এই এলাকায় সন্ত্রাসের হুমকির ব্যাপারে অবদান রেখেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আফগানিস্তানে সাবেক দখলদার সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মুজাহিদদের লড়াই করতে মদদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো। লড়াই করার জন্য মুজাহিদদের অস্ত্র্রও দিয়েছে তারা। তাদের এই পদক্ষেপের কারণে আফগানিস্তানে জঙ্গিবাদের উৎপত্তি। পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত সেনারা চলে গেলে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে পরিত্যাগ করে তারা।
মোশাররফ বলেন, তারা প্রথম ভুলটি করে ১৯৮৯ সালে। আফগান নাগরিকদের পুনর্বাসন বা বাস্তুসংস্থানের ব্যবস্থা না করায় প্রথমে আল-কায়েদা ও পরে তালেবানের উত্থান ঘটে।
আফগানিস্তানের তৎকালীন তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করে মোশাররফ বলেন, এ ক্ষেত্রে তাঁর লক্ষ্য ছিল পরিবর্তন আনা। তিনি চেয়েছিলেন ভেতর থেকে তালেবান বদলে যাক। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব কাজটি করতে ব্যর্থ হয়। এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় মারাত্মক ভুল।
মোশাররফের বক্তব্য অনুযায়ী তৃতীয় ভুলটি হচ্ছে আফগান পরিস্থিতির রাজনৈতিক সমাধানের সুযোগ হাতছাড়া করা। ৯/১১ হামলার পর জোট বাহিনী যখন সে দেশে প্রবেশ করে, তখন তাদের হাতে এই সমাধান ছিল।
পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক বলেন, ‘নিজ স্বার্থে পাকিস্তান সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জোট বেধেছে। এই বিষয়টির ওপর আমি এই কারণে গুরুত্ব দিচ্ছি, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের এখন আমাদের ব্যাপারে ধারণা জন্মেছে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা যথেষ্ট কিছু করছি না। এ ব্যাপারে আমাদের আগ্রহও তেমন নেই। আসলে এ ধারণা ভুল। পাকিস্তানের কোনো নাগরিকই চাইবে না পাকিস্তান তালেবানের দেশ হোক।’
মোশাররফ আরও বলেন, পাকিস্তান আল-কায়েদার সন্ত্রাসীদের হুমকি মোকাবিলা করছে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় আদিবাসী এলাকায় তারা অবস্থান করছে। তবে তারা সংখ্যায় কম।

‘নারী দালাই লামা হবেন অনেক বেশি কার্যকর’

ভবিষ্যৎ দালাই লামা হিসেবে নারীদের পছন্দ বর্তমান দালাই লামার। তিব্বতের এই আধ্যাত্মিক নেতা বলেছেন, দালাই লামার পদ একজন নারী অলংকৃত করলে তা হবে অনেক বেশি কার্যকর।
সম্প্রতি কানাডার টরন্টোতে এক অনুষ্ঠানে দালাই লামা এ কথা বলেছেন। সেখানে নতুন একটি তিব্বতি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে ১৫ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
দালাই লামা বলেন, মূলত দুটি কারণে নারী দালাই লামার পক্ষে তিনি। একটি হলো, পুরুষের তুলনায় নারীরা অন্যের দুঃখ-কষ্টের ব্যাপারে প্রকৃতিগতভাবেই বেশি সংবেদনশীল। অন্যটি হলো, নারী দালাই লামা হলে তিনি হবেন পুরুষ দালাই লামার চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয়।
ভবিষ্যৎ নারী দালাই লামার পক্ষে কথা বলে নিজের অবসরভাবনার কথাও জানিয়ে দিয়েছেন ১৪তম দালাই লামা। তিনি বলেন, ‘আমি অবসরের কথা ভাবছি। আমার মানবিক অধিকার থাকলে অবসরে যাওয়ার অধিকারও থাকা উচিত।’ রসিকতা করে ৭৫ বছরের এই আধ্যাত্মিক নেতা আরও বলেন, ‘হলফ করে বলতে পারি, আমি সেরা দালাই লামা নই। আবার নিকৃষ্টতমও নই। তবে এটুকু বলতে পারি, আমি একজন জনপ্রিয় দালাই লামা।’
শান্তি নিয়ে মানুষের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে দালাই লামা বলেন, ‘আকাশ থেকে শান্তি আসবে না। শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি আসতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিভাজন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রগুলো সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে।’
চীনা সরকারের হাতে নিজের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে দালাই লামা বলেন, ‘মাত্র ১৬ বছর বয়সে আমি আমার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলি। ২৪ বছর বয়সে দেশ হারাই। এই ৭৫ বছরে এসে আমি একটি জিনিসই শিখতে পেরেছি, আলোচনাই হলো শক্তি। এই আলোচনার চেতনা হলো দুটি পক্ষেরই জয়। কিন্তু এখানে কেউ হারবে কেউ জিতবে তা নয়। প্রকৃতপক্ষে সবারই আন্তরিক হতে হবে। অন্যদের ভালো-মন্দ বিবেচনা করতে হবে।’
তিব্বতি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন ছাড়াও দালাই লামা তিব্বতি-কানাডিয়ান একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও উদ্বোধন করেন। সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়ে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেন। তাঁদের বেশির ভাগই তিব্বতি

ফিরলেন হাডিন ও সিডল

পিঠের চোটের কারণে গত ফেব্রুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়া দলের বাইরে পিটার সিডল। ব্র্যাড হাডিন দলে নেই গত মে মাস থেকে, কারণ কনুইয়ের চোট। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে অবশেষে দুজনেই ফিরেছেন অস্ট্রেলিয়া দলে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টির ১২ জনের দলে রাখা হয়েছে সিডল ও হাডিনকে। নিয়মিতদের মধ্যে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে মাইক হাসি ও মিচেল জনসনকে। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরা ব্রেট লিকে অবশ্য নেওয়া হয়নি। প্রধান নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচ জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করে লিকে দলে নিতে চান না তাঁরা। ৩১ অক্টোবর পার্থে হবে টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি।

রুনি খুঁজবেন আসল রুনিকে

যাই যাই করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেই থেকে গেলেন। অনেকেই এটাকে দেখছে বেতন বাড়িয়ে নেওয়ার ধান্ধা হিসেবে! সেটা হোক আর না-ই হোক, সপ্তাহজুড়ে রুনির এই ম্যানইউ ছাড়া না-ছাড়ার নাটক, সংবাদমাধ্যমে নানা রসাল খবর মিলিয়ে তাঁর ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ম্লান হয়েছে।
আর এতে রুনির বাণিজ্যিক মূল্যে পড়েছে প্রভাব। এই যেমন সুইজারল্যান্ডের অভিজাত ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুবলট এই মাসে তাদের বিজ্ঞাপন থেকে রুনিকে বাদ দিয়েছে। পরিবর্তে নিয়েছে রুনিরই ম্যানইউ সতীর্থ দিমিতার বারবেতভ, নেমানিয়া ভিদিচ ও হাভিয়ের হার্নান্দেজকে।
ম্যানইউ রুনির সাপ্তাহিক বেতন এক ধাক্কায় বাড়িয়ে ৯০ হাজার থেকে ২ লাখ পাউন্ড করেছে। এই বাড়তি বেতনটা রুনিকে ব্যবহার করেই হয়তো তুলবে ম্যানইউ। রুনিকে সামনে রেখে বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি করবে তারা। তবে এটা করতে হলে রুনির মলিন ভাবমূর্তিটা উজ্জ্বল করতে হবে সবার আগে।
কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াবাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক সাইমন চ্যাডউইক বলেছেন, ‘ইউনাইটেডের অনেকগুলো কাজের একটা হতে পারে, রুনিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করেই তাঁকে দেওয়া বাড়তি বেতনটা পুষিয়ে নেবে। তবে হুবলট যেমন রুনিকে বাতিল করেছে, তেমনি নানা কারণেই রুনি-ব্র্যান্ডের আবেদন ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
তবে রুনি যেহেতু পরিবার অন্তঃপ্রাণ, তাই এই ক্ষতিটা সহজেই তিনি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলেও বিশ্বাস চ্যাডউইকের। বছর ঘুরতে না-ঘুরতেই রুনি আবার তাঁর বাণিজ্যিক চাহিদা বাড়িয়ে নিতে পারবেন বলেই মনে করেন তিনি।
রুনির ম্যানইউ ছেড়ে যাওয়ার দুর্মতি থেকে তাঁর বাণিজ্যিক চাহিদায় যে ধস নেমেছে, এর জন্য অ্যালেক্স ফার্গুসন দায়ী করেছেন তাঁর এজেন্টকে। রুনি যে প্রথমে ম্যানইউতে চুক্তি নবায়ন করতে চাইলেন না, সেটির কারণ কী ছিল জানতে চাইলে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে ম্যানইউ কোচ বলেছেন, ‘আপনাকে এখন এজেন্টের সঙ্গে কথা বলতে হয়। কারও সঙ্গে চুক্তি সই করতে হলে তা এজেন্টের মাধ্যমেই করতে হয়। এটা খুব কঠিন। খেলোয়াড়েরা নয়, কিছু এজেন্টই সমস্যা করে।’

ফেইনুর্দের জালে ১০ গোল

হল্যান্ডের লিগ জিতেছে তারা ১৪ বার। উয়েফা কাপ, উয়েফা সুপার কাপ তো আছেই। ইউরোপ-সেরার মুকুটও পড়েছে ফেইনুর্দ। কিন্তু সেই সুদিন এখন আর নেই হল্যান্ডের ক্লাবটির। ১৯৭০ সালে জেতা ইউরোপিয়ান কাপটিতে ধুলোই জমে গেছে।
লিগে সবচেয়ে বেশি গোলে হারের রেকর্ডের পাতায়ও ধুলো জমে ছিল। ডাচ লিগে এ নিয়ে আবার ঘাঁটাঘাঁটি হলো পরশু। কারণ পিএসভি আইন্দহোফেনের কাছে এদিন ১০-০ গোলে হেরেছে ফেইনুর্দ, নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়। এত দিন ১৯৮৩ সালে আয়াক্সের কাছে ৮-২ গোলে হারাটাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয়।
পিএসভির ইতিহাসে আবার এই জয়টি সবচেয়ে বড়। এর আগে দুবার মাত্র প্রতিপক্ষের জালে ১০ গোল দেওয়ার রেকর্ড ছিল তাদের। ১৯৭৩ সালে প্রতিপক্ষ ছিল ইগলস এবং ১৯৯৮ সালে প্রতিপক্ষ ছিল এফসি ভোলেনডাম।

অবশেষে আফগানদের ক্রিকেট মাঠ

শরণার্থী শিবিরে বসে ক্রিকেট খেলার সেই দিন আফগানিস্তান পার করে এসেছে। বুলেট, বোমা দূরে সরিয়ে আফগানিস্তান এখন ক্রিকেট গ্রহের ‘ছোটদের রাজা’ হতে চলেছে। তাতে অবশ্য যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির ক্রিকেট-বিষয়ক সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, তা নয়।
এখনো তাদের অনুশীলনের মাঠ খুঁজে পেতে সমস্যা হয়। এখনো তারা প্রতিবেশী পাকিস্তানে জাতীয় দলের ক্যাম্প করে। এখনো দেশটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন এক স্বপ্নের নাম।
সেই স্বপ্নপূরণের পথে পা বাড়াল আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। কাবুলের পশ্চিমে, পাকিস্তান সীমান্তের কাছের প্রদেশ নানগারহারে শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরির কাজ। গাজী আমানুল্লাহ খান শহরতলিতে নির্মিতব্য এই স্টেডিয়ামের জন্য ৩০ একর জায়গা দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী হাজি নাজিব জারাব।
এসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মাস পাঁচেকের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ। আগামী রমজান মাসে অনুষ্ঠেয় রমজান কাপ ক্রিকেট এই স্টেডিয়ামেই আয়োজনের পরিকল্পনা।
আপাতত স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণক্ষমতা ৭ হাজার; তবে বাড়িয়ে পরে ৬০ হাজারেরও বেশি করা সম্ভব হবে। আপাতত এই ধারণক্ষমতা নিয়েই দেশে দু-একটি বিদেশি দলকে আমন্ত্রণ জানাতে চায় এসিবি। এসিবির প্রধান নির্বাহী হামিদ শিনওয়ারি বলছিলেন, স্টেডিয়ামে থাকবে চারটি উইকেট, একটি ক্রিকেট একাডেমি এবং একাডেমি ক্রিকেটারদের জন্য হোস্টেল।
স্টেডিয়ামটি নানগারহারে করার একটি ভালো যুক্তিও আছে। এই প্রদেশটিকে বলা যায় আফগানিস্তানের ক্রিকেট রাজধানী। এই প্রদেশেই দেশের সর্বাধিক ১০ থেকে ১৫ হাজার তরুণ ক্রিকেটার সার্বক্ষণিক খেলার সঙ্গে যুক্ত আছেন। কারণ এই প্রদেশটিতেই ক্রিকেটাররা বারো মাস খেলার সুযোগ পান। বাকি প্রদেশগুলোয় বরফ আর ঠান্ডার জন্য গ্রীষ্মে ছাড়া ক্রিকেট খেলা সম্ভব হয় না।
আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের ২৮টি দল নিয়ে এই মাসেই কাবুলে শেষ হলো জাতীয় আন্তপ্রদেশ টুর্নামেন্ট। সে টুর্নামেন্টও জিতেছে নানগারহার। ফলে এই প্রদেশেই দেশের প্রথম বড় স্টেডিয়াম হবে, এটাই স্বাভাবিক। অবশ্য এসিবি বলছে, ৩৪ প্রদেশেই তারা পর্যায়ক্রমে এই মানের স্টেডিয়াম গড়ে তুলবেন।
আফগান ক্রিকেটারদের এটা কিন্তু প্রাপ্যই।

বর্তমানের শুধু টেন্ডুলকার

একবার শুধু ভাবুন, ব্যাটিং ওপেন করছেন জ্যাক হবস ও লেন হাটন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমজনের সেঞ্চুরি ১৯৯টি, পরের জনের ১২৯। দুজনেরই টেস্ট গড় ৫৬-এর ওপর। চাইলে বলা যায় এমন আরও অনেক কিছু, কিন্তু আর কিছু বলার প্রয়োজন কি আছে!
ধরা যাক, কোনোভাবে ব্যর্থ হলেন দুজনই। তাহলে পাওয়া যাবে আরও চমক। একসঙ্গে দেখা যাবে ক্রিকেটের দুই ‘ডন’কে—ডন ব্র্যাডম্যান আর ‘এ যুগের ডন’ শচীন টেন্ডুলকার। বোলারের নাভিশ্বাস তোলার জন্য এর পরও আছেন ভিভ রিচার্ডস, গ্যারি সোবার্স আর অ্যাডাম গিলক্রিস্ট।
নতুন বল হাতে দুই দিক থেকে আক্রমণ শুরু করবেন ডেনিস লিলি ও ওয়াসিম আকরাম। বল চকচকে থাকতেই চলে আসবেন ম্যালকম মার্শাল। পুরোনো হলেও বিপদের শেষ নেই, বল উঠবে শেন ওয়ার্নের হাতে! বল নতুন হোক কিংবা পুরোনো, প্রয়োজন হলে সোবার্স তো আছেনই!
একেকজন একেক যুগের সেরা, একেক ক্ষেত্রের সেরা। সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া তাই কেবল স্বপ্নেই সম্ভব। অসম্ভব সুন্দর স্বপ্নটাই বাস্তব হয়ে দেখা দিত, যদি মাঠে নামিয়ে দেওয়া যেত ক্রিকইনফোর সেরা একাদশটাকে। শীর্ষ টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর সর্বকালের সেরা একাদশ বাছাই করার পর এবার সর্বকালের সেরা একাদশ বাছাই করেছে ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইটটি। কয়েক যুগ ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবেই যেন একাদশে আছেন চার অস্ট্রেলিয়ান ও তিন ক্যারিবিয়ান। বর্তমানে খেলছেন এমন ক্রিকেটারদের সারি থেকে অনুমিতভাবেই আছেন কেবল শচীন টেন্ডুলকার।
শীর্ষ আট টেস্ট খেলুড়ে দেশের আট সাবেক অধিনায়ক ও চার ক্রিকেট ইতিহাস লিখিয়েকে নিয়ে গড়া জুরি বোর্ড বাছাই করেছে এই একাদশ। এঁদের মধ্যে আছেন ইয়ান চ্যাপেল, টনি গ্রেগ, ক্লাইভ লয়েড, জন রাইট, পিটার রোবাকরা। সব জুরির ভোট পেয়ে সর্বোচ্চ ৬০ পয়েন্ট পেয়েছেন তিনজন—ব্র্যাডম্যান, সোবার্স ও ওয়ার্ন।
টেন্ডুলকার পেয়েছেন ৫১ ভোট। সর্বকালের দ্বিতীয় সেরা একাদশও বাছাই করেছে ক্রিকইনফোর জুরি বোর্ড।
সেরা একাদশে সবচেয়ে বড় বিতর্কটা হতে পারে ওপেনিংয়ে সুনীল গাভাস্কারের না থাকা নিয়ে। মাত্র এক পয়েন্টের জন্য হবসের কাছে হেরেছেন গাভাস্কার। ‘ব্ল্যাক ব্র্যাডম্যান’ জর্জ হেডলির চেয়ে ২ পয়েন্ট বেশি পেয়ে পাঁচ নম্বরে জায়গা পেয়েছেন রিচার্ডস। গাভাস্কার-হেডলির জায়গা হয়েছে দ্বিতীয় সেরা একাদশে। বিতর্ক হতে পারে ওয়ার্ন-মুরালিকে নিয়েও। জুরিদের কাছে কিন্তু পাত্তাই পাননি ৮০০ টেস্ট উইকেটের মালিক মুরালিধরন, ৩৪ পয়েন্ট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ওয়ার্ন!
সোবার্সের পর সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার কে, এই বিতর্কেরও একটা সমাধান হয়তো দিয়েছেন ক্রিকইনফোর জুরিরা। কিথ মিলার, বোথাম, কপিল, রিচার্ড হ্যাডলিদের টপকে দ্বিতীয় সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন ইমরান খান।

প্রযুক্তি ফুটবলকে ‘প্লে স্টেশন গেমে’ পরিণত করবে: প্লাতিনি

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার এই যুগে নির্ভুলভাবে খেলা পরিচালনার জন্য টেনিস ও ক্রিকেটের মতো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলেও কেন প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে না, তা নিয়ে বিতর্ক চলেছে বহু দিন ধরেই। গত বিশ্বকাপ এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। বিশেষত কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের শট গোললাইন অতিক্রম করলেও রেফারি সেটাকে গোলের স্বীকৃতি না দেওয়ায় ফুটবলে গোললাইন প্রযুক্তি চালু করার জোর দাবি উঠেছিল।
বরাবরই বিরোধিতা করে এলেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে গোললাইন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছিল ফিফা। কিন্তু নিজের জায়গায় এখনো অনড় আছেন উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি। ফুটবলে প্রযুক্তি নিয়ে এলে এটা যে আর মানবীয় থাকবে না, তা খুব জোরের সঙ্গেই বলেছেন তিনি। প্লাতিনির ভাষায়, ফুটবল একটি মানবীয় খেলা, এখানে প্রযুক্তির ব্যবহার, এটিকে ‘প্লে স্টেশন গেমে’ পরিণত করবে।
গত সপ্তাহে ফিফার নীতিনির্ধারণী কমিটি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে গোললাইন প্রযুক্তির রূপরেখা তৈরি করতে বলেছে। এগুলো আগামী মার্চে ফিফার পরবর্তী বৈঠকের আগেই মাঠে পরীক্ষা করে দেখা হবে। কিন্তু ফিফার এই পরিকল্পনার সঙ্গে কোনোভাবেই একমত নন প্লাতিনি। প্রযুক্তি ব্যবহারের বদলে গোলবারের পেছনে দুজন অতিরিক্ত রেফারি রাখাকেই অনেক যুক্তিসঙ্গত সমাধান বলে মনে করেন তিনি।
‘একজন রেফারির পক্ষে পুরো খেলা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়’—এমনটি স্বীকার করলেও ফরাসি এই ফুটবল কিংবদন্তির মতে, বর্তমান সময়ে ফুটবল খেলা সম্প্রচারের জন্য মাঠে ২০টি ক্যামেরা থাকে, এই ক্যামেরাগুলো দিয়ে খেলার অনেক খুঁটিনাটিই ধরা পড়ে, কিন্তু রেফারির তো চোখ দুটি। তাঁর পক্ষে সব ব্যাপারে নজর রাখা স্বাভাবিক কারণেই সম্ভব হয় না। কিন্তু রেফারি কোনো ভুল করলে ক্যামেরাগুলো বারবার শুধু সে দিকেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে থাকে। এটা খুবই অন্যায়। ক্যামেরার মতো মাঠে যদি রেফারির সংখ্যাও বাড়ানো যায়, তাহলে খেলা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সুযোগ আরও বাড়বে।’
চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলাগুলোর জন্য এই মৌসুম থেকে গোলবারের পেছনে আরও দুজন অতিরিক্ত রেফারি যুক্ত করেছেন প্লাতিনি।

সাম্প্রাসের ‘৬৪’ ছুঁলেন ফেদেরার

৫২ জয়ের বিপরীতে ১২ হার, বছরজুড়ে ১৫টি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে ৭টির ফাইনালে উঠে শিরোপা মাত্র ৩টি! হাহাকার তোলা এই পরিসংখ্যান ঠিক তাঁর নামের সঙ্গে যায় না। তার পরও ২০১০ সালটিকে স্মৃতির কোলাজ থেকে সরিয়ে রাখতে পারবেন না ফেদেরার। বছরটি ফেদেরারকে ভুলে থাকতে দেবে না স্টকহোম ওপেনের স্মৃতি।
পরশু জার্মানির ফ্লোরিয়ান মায়ারকে ৬-৪, ৬-৩ গেমে হারিয়ে ফেদেরার জিতেছেন স্টকহোম ওপেনের শিরোপা। ১৬টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী তারকার জন্য এটি কোনো বড় শিরোপা নয়। কিন্তু এটি জিতেই যে কিংবদন্তি পিট সাম্প্রাসের আরেকটি কীর্তিতে ভাগ বসালেন ফেদেরার।
ক্যারিয়ারে সাম্প্রাস জিতেছিলেন ৬৪টি এটিপি শিরোপা। স্টকহোম ওপেন দিয়ে ফেদেরারেরও শিরোপাসংখ্যা হলো ৬৪। ওপেন যুগে সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ী তালিকায় সাম্প্রাসের সঙ্গে চতুর্থ স্থানে বসা ফেদেরারের সামনে আর আছেন কেবল তিনজন—যুক্তরাষ্ট্রের জিমি ও’কনোর্স (১০৯টি), ইভান লেন্ডল (৯৪টি) ও জন ম্যাকেনরো (৭৭টি)।
সাম্প্রাসের রেকর্ড ছোঁয়ার তৃপ্তি তো আছেই, আছে সুইডেনে প্রথম শিরোপা স্বাদের পরিতৃপ্তি। স্টকহোম ওপেন জয়ের মুহূর্তটি তাই ফেদেরারের কাছে হলো মহা আনন্দের উপলক্ষ, ‘যেকোনো শিরোপা জেতার অনুভূতিই দারুণ। কিন্তু এই অনুভূতিটি বিশেষ, কারণ আগে কখনোই আমি এখানে শিরোপা জয়ের সুযোগ পাইনি।’
আগের সপ্তাহে সাংহাই মাস্টার্সের ফাইনালে অ্যান্ডি মারের কাছে হেরে যাওয়া ফেদেরার পরশু মায়ারকে ধরাশায়ী করেছেন মাত্র ৬৩ মিনিটে। জার্মানদের বিপক্ষে এটি ফেদেরারের টানা ৩৬তম জয়। কোনো জার্মানের কাছে ফেদেরার সর্বশেষ হেরেছিলেন ২০০২ সালে, প্রতিপক্ষ ছিলেন নিকোলাস কেইফার।
এদিকে সেরেনাকে টপকে ক্যারোলিন ওজনিয়াকি ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ানের মুকুট মাথায় তুলেছেন আগেই। ড্যানিশ-কন্যার সামনে এখন আরেকটি কীর্তি গড়ার হাতছানি। আজ থেকে কাতারের দোহায় শুরু হচ্ছে সনি এরিকসন চ্যাম্পিয়নশিপ। এই টুর্নামেন্টে দুটি ম্যাচ জিতলেই বিশ্বের এক নম্বর তারকা হিসেবে বছর শেষ করতে পারবেন ওজনিয়াকি।

ফাইনালে আবাহনীর প্রতিপক্ষ শেখ জামাল

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের দিক থেকে এগিয়ে ছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি, আর দল হিসেবে এগিয়ে ছিল মুক্তিযোদ্ধা। তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের দিক থেকে নয়, দলগতভাবেই শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রেখেছে শেখ জামাল। মুক্তিযোদ্ধাকে ১-০ গোলে হারিয়ে আজ মঙ্গলবার ফাইনালে উঠে গেছে তারা। আগামী শনিবার শিরোপার লড়াইয়ে আবাহনীর মুখোমুখি হবে শেখ জামাল।
প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই। উভয় দল বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। কখনো গোলবারের পাশ দিয়ে, কখনো বা বারের ওপর দিয়ে বল চলে গেছে মাঠের বাইরে। দ্বিতীয়ার্ধেও একই অবস্থা, গোল হচ্ছিল না কিছুতেই। তবে ৮৫ মিনিটের মাথায় মুক্তিযোদ্ধার জালে বল জড়িয়ে দেন শেখ জামালের সবুজ। সেই গোল আর শোধ করতে পারেনি মুক্তিযোদ্ধা।