বৈশাখী খেলনা-পালপাড়ায় সুখের প্রত্যাশা

বাঙালির ঘরে মাটির হাঁড়ি-পাতিল-কলসির দিন গিয়েছে। মাটির কলসির পানি গ্রীষ্মের দাবদাহেও শরীর শীতল করে_ প্রবীণদের এমন হা-হুতাশে এ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা দ্রুতই বলে উঠবে_ 'আমাদের তো ফ্রিজ আছে।' হঁ্যাঁ, আরও রয়েছে ঘরে ঘরে ভাত রান্নার জন্য অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি।


তবে এ ধাতুর তৈরি থালাবাসনের ব্যবহারও প্রায় নেই-ই। এর পরিবর্তে জাঁকিয়ে বসেছে ম্যালামাইন ও সিরামিকস সামগ্রী। বছরের খোরাকি হিসেবে ধান-চাল মজুদ রাখার জন্যও কেউ আর মাটির তৈরি সুবিশাল মটকা ব্যবহার করে না। কারণ হাতের কাছেই রয়েছে উপযুক্ত বিকল্প, যা মেলে সহজে এবং কম দামে। এর চেয়েও বোধকরি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা_ এসব তৈজসপত্র তো আর মাটির মতো ঠুনকো নয়। প্রযুক্তি বিপ্লবের সুবিধা গ্রহণ করার মানসিকতাও রয়েছে আমাদের শহর ও গ্রামের নারী-পুরুষ সবার মধ্যে। তবে মাটির তৈরি সামগ্রী একেবারে বিদায় নিয়েছে, সেটা বলা যাবে না। বুধবার সমকালের লোকালয় পাতায় 'বৈশাখী মেলা নিয়ে উৎসব পালপাড়ায়' শিরোনামের খবরেই মেলে এর প্রমাণ। মাদারীপুর ও কুড়িগ্রামের পালপাড়ায় গত কয়েকদিন ধরে বৈশাখের মেলাকে ঘিরে দারুণ কর্মব্যস্ততা। বাহারি ডিজাইনের ছোট-বড় খেলনা তৈরি করেছেন পাল পরিবারের শিল্পীরা। তারা পূর্বপুরুষের পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন। কুশলতার রয়েছে পরম্পরা। বৈশাখের বাজার বেশ বড় সেটা তারা জানেন। শহর-বন্দর ও গ্রাম সর্বত্র মেলায় বেজায় ভিড় জমে সব বয়সের মানুষের। যারা নিয়মিত বার্বি ফ্যাশন ডল কিনে গর্ব ও তৃপ্তিবোধ করেন, তারাও মাটির হাতি-ঘোড়া-বাঘ-সিংহ শিশুদের হাতে তুলে দেন বায়না মেটাতে গিয়ে। নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারেও এসব সামগ্রীর রয়েছে বিপুল চাহিদা। হাল আমলে রাজধানীর অভিজাত পরিবারগুলোয় ঘর সাজাতে মাটির শোপিসের ব্যবহার দেখা যায়। এর একটি ভালো বাজারও গড়ে উঠেছে। শত পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েও মাটির হাঁড়ি-পাতিল-কলসির চাহিদা ফেরানো যাবে না ঠিকই, কিন্তু গৃহসজ্জার জন্য বিচিত্র সামগ্রীর যে সম্ভাবনা তা কাজে লাগাতে অনেক কিছুই করা সম্ভব। এ জন্য ব্যাংকিং খাত এসএমইর আওতায় তৎপর হতে পারে। দেশের বাইরেও বাজারের সন্ধানে তৎপর হতে পারে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো। এমনটি ঘটলে পালপাড়ার শিল্পীরা আরেকটু স্বাচ্ছন্দ্য পেতে পারেন জীবনে, একটি ঐতিহ্যের ধারাও তাতে টিকে থাকে।

No comments

Powered by Blogger.