৫৮-এর যন্ত্রণাটা এখন আর নেই!

বিশ্বকাপের ৫৮ দগদগে ক্ষত হয়ে আছে অনেকদিন। কালকের ম্যাচ সেই ক্ষত অনেকটাই ভুলিয়ে দিল। সেদিনের হতাশ অধিনায়ক সাকিব কাল নেতৃত্ব দিলেন প্রতিশোধ মিশনে। ম্যাচসেরার পুরষ্কার নেয়ার পর গতকাল সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি সাকিবের কাছে ৫৮ প্রসঙ্গই তাই ঘুরে ফিরে আসল বারবার।প্রশ্ন : আজ চার উইকেট পেলেন, হলেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। নিজের বোলিংটা কেমন মনে হচ্ছে?সাকিব আল হাসান : বোলিংটা ভালো হচ্ছে। আমার তো মনে হয়, গত বেশ কয়েকটি ম্যাচ ধরে আমি ভালো বোলিং করছি। দু-একটি ম্যাচে হয়তো উইকেট পাইনি। তবে নিজের বোলিং ভালো হচ্ছে।প্রশ্ন : এমন পারফরম্যান্স টেস্টের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে নিশ্চয়!


সাকিব : তা তো অবশ্যই। যেহেতু আজ বোলিং করেছি, টেস্টের সময় এই অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস কাজে লাগবে।
প্রশ্ন : বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৫৮ রানে অল আউট হওয়ার সময় আপনি ছিলেন অধিনায়ক। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়তো আপনার হয়েছিল। এবার ওদের ৬১ রানে অল আউট করাটা এক ধরনের প্রতিশোধ কি না?
সাকিব : ওই রকম কিছু না। দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি, তাতেই খুশি।
প্রশ্ন : ওই সময়ের যন্ত্রণার কথাটা একটু বলবেন?
সাকিব : সেটি তখন ছিল, এখন না। অতটা আর না।
প্রশ্ন : আপনি আগে বলেছিলেন যে চট্টগ্রাম আপনার জন্য খুব একটা লাকি না। এবার কি সেটি পরিবর্তন হলো?
সাকিব : ব্যক্তিগতভাবে আমি সব সময় ব্যাটিংয়ে বেশি মনোযোগ দিই। তো এই চট্টগ্রামে আমার ব্যাটিং রেকর্ড খুব একটা ভালো না। এমন না যে এখানে বোলিং ভালো করিনি। এখানে মোটামুটি উইকেট পাই। ব্যাটিংয়ে রান পাচ্ছিলাম না বলে তেমন মনে হতো।
প্রশ্ন : একটু আগে বললেন, বিশ্বকাপে ৫৮ রানে অল আউট হওয়ার যন্ত্রণা তখন ছিল, এখন আর নেই। কেন?
সাকিব : মানুষ সব কিছু ভুলে যায় না! কথার কথা, ধরুন আমার কাছের কেউ মারা গেলে শুরুতে অনেক কষ্ট লাগবে। পরে আস্তে আস্তে সব ভুলে যাব। এগুলো সময়ের ব্যাপার।
প্রশ্ন : ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তো আজ (কাল) ৫৮ রানের মধ্যে আটকে দেওয়ার সুযোগ ছিল...
সাকিব : চিন্তা করলাম যে ওদের বেশি কষ্ট লাগবে, একটা ওয়াইড তাই দিয়ে দিই (হাসি)...। আমি আসলে উইকেটের জন্য বোলিং করছিলাম। আমার কাছে মনে হচ্ছিল উইকেট এক-দুই ওভারের মধ্যে পেয়ে যাব। হয় আমি পাব, নয় শুভ ভাই পাবেন। উইকেটের জন্য বোলিং করতে গিয়ে হয়তো কিছুটা রান হয়ে গেছে। নইলে ওদের আরো কম রানে অল আউট করা সম্ভব ছিল।

No comments

Powered by Blogger.