জুনায়েদ গোলায় বিধ্বস্ত শ্রীলংকা

ক্যারিয়ারই শুরু হলো মাত্র, এটাকে তো তাই আর ক্যারিয়ারসেরা বলা যায় না। তবে সারাজীবন মনে রাখার মতো পারফরম্যান্স করে ফেললেন জুনায়েদ খান। ১৪.১ ওভার বল করে ৩৮ রান দিয়ে নিলেন ৫ উইকেট। ক্যারিয়ারে আরও ভালো কোনো স্পেল হয়তো করবেন তিনি; তবে অনুপ্রেরণার মূল ভিত্তিটা কিন্তু তৈরি করে নিয়েছেন উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের এই পেসার। তার এই দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে পড়েই কাল আবুধাবিতে ১৯৭ রানে বিধ্বস্ত হলো শ্রীলংকা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৭ রান করেছে পাকিস্তান।


বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেকটা না হলে দারুণ একটি রেকর্ডের মালিক হয়ে যেতেন জুনায়েদ খান। অভিষেকে মাত্র ১ উইকেট পেয়েছিলেন; কিন্তু নিজের আসল জাতটা চেনালেন কাল। শ্রীলংকার বিপক্ষে নিলেন ৩৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট। উমর গুল আর আইজাজ চিমার সঙ্গে তিন নম্বর পেসার হিসেবে তরুণ জুনায়েদ খানের ওপরই আস্থা রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সে আস্থার প্রতিদান দিলেন তিনি। লংকান ব্যাটসম্যানদের ওপর একের পর এক গোলা নিক্ষেপ করে গেলেন। তাতেই দিশাহারা হয়ে গেল সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনে, দিলশানদের নিয়ে গড়া লাইনআপ। জুনায়েদ খানের সঙ্গে উইকেট নেওয়ার আনন্দে মেতেছিলেন অভিজ্ঞ উমর গুল, সাঈদ আজমল আর আইজাজ চিমারা। সাঈদ আজমলই প্রথম লংকান শিবিরে ধস নামাতে শুরু করেন। তরুণ ওপেনার লাহিরু থিরিমানেকে ২০ রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর সাঙ্গাকারাকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন আইজাজ ছিমা। জয়াবর্ধনে আর দিলশান মিলে কিছুক্ষণ ধরে খেলার চেষ্টা করলেও জুনায়েদের সামনে টিকতে পারেননি। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজই একমাত্র স্রোতের বিপরীতে ব্যাট করে ৫২ রানে ছিলেন অপরাজিত। বোলার সুরঙ্গা লাকমলকে সঙ্গে নিয়ে অষ্টম উইকেটে সর্বোচ্চ ৫৪ রানের জুটি গড়েন ম্যাথিউজ। ব্যাট করতে নেমে শেষ বিকেলে বিপদে পড়েনি পাকিস্তান। ১৭ রান নিয়ে হাফিজ এবং ৮ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন তৌফিক ওমর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর : শ্রীলংকা : ১৯৭/১০, ৭৪.১ ওভার (ম্যাথিউজ ৫২*, পারানাভিতানা ৩৭, জয়াবর্ধনে ২৮. থিরিমানে ২০, দিলশান ১৯, লাকমাল ১৮, ওলেগেদারা ১১, সাঙ্গাকারা ২, ফার্নান্দো ১, প্রসন্ন ০, হেরাথ ০; জুনায়েদ খান ৫/৩৮, উমর গুল ২/৩৭, আজমল ২/৫৬, চিমা ১/৫১)। পাকিস্তান : ২৭/০, ৮ ওভার (হাফিজ ১৭*, তৌফিক ৮*)।

No comments

Powered by Blogger.