হরতালের নামে কোনো পক্ষের বাড়াবাড়ি কাম্য নয়-আমরা উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত

কাল মঙ্গলবার বিএনপি আহূত হরতালকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে শান্তিকামী সব নাগরিকের সঙ্গে আমরাও উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত। বিরোধী দল যত অজুহাতই দেখাক না কেন, হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি পালনের কোনো যুক্তি নেই।


হরতালে সরকারের পতন হয় না, জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে, জাতীয় সম্পদ বিনষ্ট হয়, স্থবির হয়ে পড়ে অর্থনীতির চাকা। মাত্র কয়েক দিন আগেই দলীয় চেয়ারপারসনকে বাড়ি থেকে ‘উচ্ছেদ’-এর প্রতিবাদে বিএনপি এক দিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে। মাত্র ১৫-১৬ দিনের ব্যবধানে আবার হরতাল আহ্বান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিরোধী দল যে দাবিতে হরতাল পালন করে, মিছিল-সমাবেশ ডেকে জানাতে চায়, সে দাবি কেন সংসদে গিয়ে জানায় না?
যেকোনো হরতাল সামনে রেখে সরকার ও বিরোধী দল মুখোমুখি অবস্থানে থাকে। বিরোধী দল হরতালের পক্ষে এবং সরকার বিপক্ষে নানামুখী তৎপরতা চালায়। সেই সঙ্গে নেতা-নেত্রীদের উসকানিমূলক কথাবার্তা জনমনে ভীতির সঞ্চার করে। এবারও হরতাল সামনে রেখে সারা দেশে উত্তেজনা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিরোধী দল রাস্তাঘাট বন্ধ করে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও মিছিল করছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের মিছিলে পুলিশের বাধা এবং পাইকারি গ্রেপ্তারের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরতাল সামনে রেখে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে, তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের এই যুক্তি সর্বৈব সত্য নয়। বিরোধী দলের এসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে যদি আগে থেকেই মামলা থেকে থাকে, তাহলে এত িদন গ্রেপ্তার করা হলো না কেন? এর পাশাপাশি সরকার ‘নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে’ আনসার ভিডিপি নামিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করেছেন ঢাকার সাংসদদের সঙ্গে। রাস্তায় আনসার ভিডিপি নামিয়ে হরতাল ঠেকানো যায় না। সাংসদদেরও এ ব্যাপারে তেমন কিছু করার নেই। বিরোধী দল যদি রাস্তায় গাড়ি পোড়ায়, ভাঙচুর করে, হরতাল পালনে জবরদস্তি চালায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা অবশ্যই দমন করবে। তবে বাড়াবাড়ি কম্য নয়।
আমরা মনে করি, দেশের সব শ্রেণী ও পেশার মানুষ হরতাল-অবরোধের বিরোধী। ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী বিরোধী দলকে হরতালের বিকল্প কর্মসূচি নেওয়ার জন্য বলেছেন। বিরোধী দল সেই আহ্বান আমলে নেয়নি। তারা ঘন ঘন হরতাল ডেকে জনগণের আস্থা ও সহানুভূতি হারিয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে বিরোধী দল আবারও হরতাল ডাকার সুযোগ পায়। অতএব সরকারকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। জনজীবনে শান্তি রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চয়ই কঠোর ভূমিকা পালন করবে, কিন্তু কোনো আচরণ যাতে বিরোধী দলের প্রতি প্রতিহিংসামূলক না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশবাসী নৈরাজ্য বা বাড়াবাড়ি চায় না। তারা শান্তি চায়, অগ্রগতি চায়।

No comments

Powered by Blogger.