আবেদন মঞ্জুর-হাসপাতালে সাঈদীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সহযোগী থাকবেন

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে হাসপাতালে একজন সার্বক্ষণিক সহযোগী দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন।


ট্রাইব্যুনালে গতকাল সাঈদীর জন্য সার্বক্ষণিক সহযোগীর আবেদন উপস্থাপন করেন আইনজীবী তাজুল ইসলাম। শুনানিতে তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাঈদীর হূৎপিণ্ডে তিনটি টিউব (কৃত্রিম ধমনি) লাগানো হয়েছে। তাঁর শরীর খুব দুর্বল, তিনি একা হাঁটাচলা করতে, পোশাক পরতে বা অন্যান্য কাজ করতে পারছেন না। তাঁকে একা একটি কেবিনে রাখা হয়েছে। এতে যেকোনো সময় তাঁর দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা তাঁকে দেখাশোনা করতে একজন সহযোগী দরকার।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ-আল-মালুম বলেন, কারাবিধি ও হাসপাতালের নিয়ম মেনে সহযোগী দেওয়ার বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল বিবেচনা করতে পারেন।
পরে ট্রাইব্যুনাল আদেশে সাঈদীর ব্যক্তিগত সহকারী আবুল কালাম আজাদকে হাসপাতালে তাঁর সার্বক্ষণিক সহযোগী হিসেবে থাকার অনুমতি দেন। আদেশে বলা হয়, তাঁকে কারা কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শর্ত মেনে চলতে হবে।
সাঈদী ১৪ জুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৮ জুন এনজিওগ্রাম করা হলে তাঁর হূৎপিণ্ডে চারটি ব্লক ধরা পড়ে। ২০ জুন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে তাঁকে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে স্থানান্তর করা হলে সেখানে তাঁর হূৎপিণ্ডে টিউব লাগানো হয়। বর্তমানে তিনি ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিজামীর দুই আবেদনই খারিজ: একই ট্রাইব্যুনাল গতকাল জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে করা দুটি আবেদনই খারিজ করেন। আবেদন দুটি হলো: নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধেও অনুরূপ দুটি আবেদন এর আগে ট্রাইব্যুনাল খারিজ করেছিলেন।
খসে পড়ল ফলস সিলিংয়ের স্ল্যাব: দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হেলালউদ্দিনকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জেরার সময় সাক্ষীর কাঠগড়া ও সাঁটলিপিকারের মাঝখানের ছাদের ফলস সিলিং থেকে একটি স্ল্যাব খসে নিচে পড়ে। ফলস সিলিংয়ে জমে থাকা কিছু পানিও নিচে পড়ে। তবে এতে কেউ আহত হননি।
এ ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম মুলতবি করেন। পরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা এসে সিলিংয়ের খসে পড়া অংশ মেরামত করেন।
ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বৃষ্টিতে পানি জমে ভারী হয়ে যাওয়ায় স্ল্যাবটি খসে পড়ে। রাতে এজলাসের পুরো ফলস সিলিং পরীক্ষা করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার এই ট্রাইব্যুনালে মামলার কার্যক্রম নির্ধারিত রয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.