লোকমান হত্যাকাণ্ড-মন্ত্রীর ভাইয়ের আত্মসমর্পণ রিমান্ডে

রসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি সালাহ-উদ্দিন আহমেদসহ পাঁচজন আত্মসমর্পণ করেছেন। অন্য আসামিরা হলেন: এজাহারভুক্ত ছয় নম্বর আসামি মনোয়ার হোসেন খান ওরফে মঈন, সাত নম্বর আসামি হিরন মিয়া, ১৩ নম্বর আসামি আমির হোসেন ওরফে আমু ও ১৪ নম্বর আসামি মামুন মিয়া। প্রসঙ্গত, সালাহউদ্দিন আহমেদ ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদের ছোট ভাই।


গতকাল রোববার বেলা পৌনে ১১টায় তাঁরা নরসিংদীর মুখ্য বিচারিক হাকিম নিতাই চন্দ্র সাহার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের জামিনের আবেদন করেন। পাশাপাশি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদের পক্ষে আদালত পুলিশের উপপরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম তাঁদের প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। বিচারক তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সালাহউদ্দিন আহমেদ, হিরন মিয়া ও মামুন মিয়ার এক দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। আর মনোয়ার হোসেন ও আমির হোসেনের রিমান্ড নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানা যায়, আত্মসমর্পণের জন্য কয়েক শ নেতা-কর্মী ও সমর্থক নিয়ে গতকাল সকাল ১০টায় আদালতে প্রবেশ করেন সালাহউদ্দিন। পরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল বাসেদ ভূঁইয়ার কক্ষে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘লোকমান হোসেন আমার ছোট ভাই ছিল। আমি তাকে অনেক স্নেহ করতাম।’ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।’
পরে বেলা পৌনে ১১টায় সালাহউদ্দিন তাঁর পক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে মুখ্য বিচারিক হাকিমের কাঠগড়ায় ওঠেন। আর আত্মসমর্পণকারী অন্য আসামিরা সকাল ১০টা থেকেই এজলাসের মধ্যে অবস্থান করছিলেন বলে জানা যায়। এ সময় তাঁদের পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আসাদুজ্জামান, সহসভাপতি এস এ হাদীসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী তাঁদের নির্দোষ দাবি করে জামিনের আবেদন করেন। জামিনের আবেদনে তাঁরা বলেন, আসামিরা লোকমান হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁদের এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ সময় আদালত পুলিশের উপপরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে বলেন, এই মামলার গ্রেপ্তার হওয়া এজাহারভুক্ত আসামিদের জবানবন্দিতে তাঁদের সম্পৃক্ত থাকার তথ্য মিলেছে। তাই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই হত্যার মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সালাহউদ্দিন, মামুন ও হিরনকে এক দিনের রিমান্ড আর মনোয়ার হোসেন ও আমির হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে প্রয়োজনে কারাফটকে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে বলে আদালত জানান।
আদালত থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় সালাহউদ্দিনের সমর্থকেরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁর মুক্তি দাবি করেন। পরে তাঁরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন।
নরসিংদীর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন গত বছরের ১ নভেম্বর সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত লোকমানের ছোট ভাই কামরুজ্জামান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদের ছোট ভাই সালাহউদ্দিন আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। আসামিদের মধ্যে ১২ জন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত ১২ জন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ড শেষে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন আটজন। আর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ছয়জন।

No comments

Powered by Blogger.