শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনভিপ্রেত ঘটনা-শিক্ষার্থীরা নিরাপদ হবে কবে

দুঃখজনকভাবে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের বিডিএস কোর্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আবিদুর রহমানের মৃত্যুর পর শুক্রবার কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি বৈঠক ডেকে কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মেডিক্যাল কলেজটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্থগিত করা হয়েছে কলেজের ছাত্র সংসদ ও রাজনীতি। এ সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে চলে গেছেন।


ক্যাম্পাসে এখন শিক্ষার্থীদের বদলে অবস্থান করছে পুলিশ। এ ঘটনা আরো একবার প্রমাণ করল, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক সহিংসতা কতটা তীব্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সর্বদা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সক্রিয় থাকবে, তা মোটেই কাম্য নয়; বরং অক্ষুণ্ন থাকতে হবে শিক্ষার পরিবেশ, যা আইনশৃঙ্খলাকে আপনাতেই স্বাভাবিক রাখবে। তাই প্রশ্ন আসে, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজসহ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ কতটা বজায় আছে? প্রতিষ্ঠানের দেখভাল করার দায়িত্ব যাঁদের ওপর বর্তেছে, তাঁরাই বা কতটা দায়িত্ব পালন করছেন? শনিবার রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) স্কুলে একটি মর্মান্তিক ঘটনায় শ্রেণীকক্ষেই ককটেল বিস্ফোরিত হয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর তিন কিশোর ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। প্রশ্ন আসে, একজন অভিভাবক এমন ঘটনার পর সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে কী করে নিশ্চিন্তে থাকবেন? তাহলে কি স্কুলও নিরাপদ স্থান নয়? গোটা দেশে এমন অসংখ্য স্কুল পরিলক্ষিত হয়, যেগুলো দিনের বেলায় স্কুল হিসেবে থাকলেও রাতে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। শিশু-কিশোরদের এসব স্কুলে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় অসামাজিক কার্যকলাপ। ধারণা করা যায়, এর ফলে স্কুলকক্ষে ককটেলের মতো ভয়ানক বস্তু পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল মিরপুরের স্কুলটিতে, যার খেসারত দিয়েছে নিষ্পাপ তিন কিশোর শিক্ষার্থী।
উলি্লখিত দুটি ঘটনাই অনভিপ্রেত ও হতাশাজনক। এ দুটি ঘটনাকেই বিরাজমান পরিস্থিতি হিসেবে গণ্য করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একটি শক্ত অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে; অপরাধী যে দলের বা পক্ষেরই সমর্থক, কর্মী বা ছাত্রনেতা হোক না কেন। শিক্ষার পরিবেশ নিষ্কণ্টক করতে না পারলে সরকার এর দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না। অন্যদিকে মিরপুরের ঘটনায় যারা ওই ককটেল রাখার সঙ্গে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। পুলিশের জন্য এটি খুব শক্ত কাজ বলে আমরা মনে করি না। সেই সঙ্গে দেশের সব স্কুলকে কড়া নির্দেশ দিতে হবে, যাতে কোনোক্রমে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ বা ব্যবহার করতে না পারে। অভিভাবকদের পক্ষ হয়ে এ ব্যাপারে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

No comments

Powered by Blogger.